দোহার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের আরোগ্য কামনায় দোয়া

দোহারে শুক্রবার জুম্মার নামাযের পর উপজেলা জামে মসজিদে জাতীয়তাবাদী অনলাইন গ্রুপ, দোহার উপজেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া করা হয় ও তবারক বিতরণ করা হয়।বর্তমানে তিনি ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সিসিইউ তে চিকিৎসাধীন আছেন। উক্কত দোয়ার মাহফিলে এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সাবেক সভাপতি আবু হাশেম,সাবেক ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল আউয়াল আকন্দ,জয়পাড়া পূর্ব বাজার সভাপতি করিম বেপারী, জয়পাড়া কলেজের ভি.পি আতিকুর রহমান সুয়েম, ঢাকা জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরামের নেতা সুমন মৃধা, থানা ছাত্রদল সাধারন সম্পাদক সামীম আহম্মেদ টগর, ছাত্রদল কর্মি কবির,কাইয়ুম মোল্লা,মিশুক মনির, হাবিবুর রহমান ঠান্ডুসহ আরো অনেকে।এ সময় ৩৫০ প্যাকেট তবারক বিতরণ করা হয়।

দোহারে রুবেল হত্যার বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল

দোহারে শুক্রবার বিকালে ডিস ব্যবসায়ী  সায়মন ইসলাম রুবেল মোল্লার হত্যার বিচারের দাবীতে স্বজন ও এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলটি সুতারপাড়া বাজার হতে শুরু হয়ে দোহার বাজারে এসে শেষ হয়। এতে ঘন্টাব্যাপি যান চলাচল বন্ধ্ থাকে। মিছিলে সাবেক মহিলা সংরক্ষিত আসনের এমপি হেলেন জেরিন খান উপস্থিত ছিলেন। এ সময় দ্রুত তারা প্রধান আসামী বাদল চোকদারের গ্রেফতারে পুলিশ প্রশাসনের নিকট আকুল আবেদন জানান।

নবাবগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় নারী-বৃদ্ধসহ আহত ৪

 

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় নারী ও বৃদ্ধসহ চার জন আহত হয়েছেন। বুধবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের চন্দ্রখোলা বড়নগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

আহতরা হলেন- লাল চাঁন মাঝি (৮০), শ্যাম চাঁন মাঝি (৭৫), অজিত মাঝি (৩০), সাথী মাঝি (২৫)।

স্থানীয়রা জানান, জমি নিয়ে চন্দ্রখোলা বড়নগর এলাকার লাল চাঁন মাঝি ও ইতি বাড়ৈর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিকেলে লাল চাঁন মাঝি তার জমি থেকে সরিষা কেটে বাড়ি নিয়ে আসছিলেন। এসময় ইতি বাড়ৈ লাল চাঁনের ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে লাল চাঁন মাঝির ছোট ভাই শ্যাম চাঁন মাঝি, তার ছেলে অজিত মাঝি এবং ছেলের স্ত্রী সাথী মাঝি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

লাল চাঁন মাঝি ও শ্যাম চাঁন মাঝির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নবাবগঞ্জ থানার উপ পরির্দশক (এসআই) মো. কামরুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দোহারে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হামলা

গত সোমবার ১৭ জানুয়ারি দুপুরের দোহারপুরি গ্রামের সাধুরবাগে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রাব্বি মোল্লার (২২) উপর হামলা চালায় রফিক চোকদারের ছেলে রাফসান চোকদার ও তার সহকারীরা।

রাব্বির গায়ে মোটা সুয়েটার না থাকলে জখমের পরিমান আরো বাড়তো বলে মনে করেন কর্তব্য রত ডাক্তার। অপর দিকে কয়েক দিন আগে রুবেল মোল্লা হত্যার শোক ভুলতে না ভুলতেই রুবেলের আপন চাচাতো ভাই রাব্বি মোল্লাকে হত্যার অপচেষ্টায় এলাকায় বিভিন্ন গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম শেখ বলেন,আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য অভিযান অব্যাহত আছে। ইতি মধ্যে দোহার থানার তিনটি টিম মাঠে আছে । আসামী গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

রুবেল হত্যা মামলার দায়ীত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস আই আল-মামুন বলেন মামলার সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেফতার করে এবং রিমান্ডে এনে কোন তথ্য বা আলামত পাওয়া যায়নি তবে চেষ্টা অব্যাহত আছে। শিঘ্রিই গ্রেফতার হবে বলে আশা করেন ঐ পুলিশ কর্মকর্তা। এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

দোহারে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের দৌড়ঝাঁপ

 

ঢাকা দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে কয়েক হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা আবেদন পত্র জমা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা হাট বাজারে বিভিন্ন চায়ের দোকানে কথার ঝড় বয়ে তুলছে। যাদের ৭১ বয়স হবে ৭ থেকে ৮ বা প্রানের ভয়ে ঘর থেকে বাহির হয়নি তারা আজ তালিকায় নাম উঠাতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে।

জানা যায়, ৭১ এ মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা প্রানের মায়া ত্যাগ করে দেশটাকে স্বাধীন করেছে।  সেই সব বীর সন্তানদের নামের তালিকা সংগ্রহ করে তাদেরকে দেওয়া হয় সন্মানী ভাতা। যারা সেই তালিকা থেকে বাদ পরেছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদেরকে পূনরায় নামের তালিকা করার জন্য সুযোগ দিলে।

সেই সুযোগে এবারও আসল মুক্তিযোদ্ধাদের পিছনে ফেলে নকল মুক্তি যোদ্ধারা উচ্চ মহলের লোকদের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক্য গড়ে তুলে পৌছে গেছে উপজেলা মুক্তি যোদ্ধা কমোন্ডার রজ্জব আলী মোল্লা হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। তাই স্থানীয়রা বলে বেরাচ্ছে এবার ও আসল মুক্তি যোদ্ধারা বাদ পরবে এবং নকল মুক্তি যোদ্ধাদের নাম তালিকায় উঠবে।

স্থানীয় বাসিন্দা আঃ হামিদ খান (৭০) জানায়, যারা আবেদন করেছে তাদের অনেকের বয়স ৭১ সালে ৭ থেকে ৮ হবে। অন্য ব্যাক্তি রহিম শেখ (৫০) বলেন, বয়স দিয়ে কি হবে উপড় মহলে লোক আছে নাম তালিকায় উঠে যাবে। এই ব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমোন্ডার রজ্জব আলী মোল্লার সাথে যোগা যোগ করতে চাইলে তাকে পাওয়া যায়নি।

দোহারে ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে পদ্মা পাড়ি

 

ঢাকার দোহার থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে ফরিদপুরের কাওড়া কান্দি, পিয়াজ খালী ও ছিয়েমবি ঘাটে যাচ্ছে যাত্রীরা। ট্রলার গুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারনে যে কোন সময় ঘটতে পারে ট্রলার ডুবির ঘটনা জানায় যাত্রীরা।

জানা যায়, ঢাকার দোহার উপজেলার নারিশার ট্রলার ঘাট ও উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়ের মৈনট এবং বাহ্রা ঘাট থেকে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশুসহ কয়েক হাজার যাত্রী ট্রলারে পাড়ি দিচ্ছেন ফরিদপুরের কাওড়াকান্দি, পিয়াজখালী ও ছিয়েমবি ঘাটে।

স্থানীয় মৈনট ঘাটের ট্রলার চালক আব্দুল কুদ্দুস শেখ জানায়, অতিরিক্ত যাত্রী বহনে বিপদ ঘটতে পারে জানি। কিন্ত কিকরবো সারা দিনে দুই টিপ পাই তাই মালিককে দিতে হবে ঘাট জমা, তেল খরচ ও আমাদের তিন জনের ১৮ শত টাকা।

পিয়াজখালীর যাত্রী নাজমা বেগম (৩০) জানায়, দোহার থেকে অল্প সময়ে ফরিদপুর যাওয়া যায় এবং বিকেলে ফিরে আসা যায় তাই ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে যাচ্ছি। ট্রলার মালিক আঃ হালিম বেপারি জানায়, প্রতি এক ঘন্টা পর পর এই ঘাট থেকে ট্রলার ছাড়া হয় সকল যাত্রীরা জানে তবুও যাত্রীরা সময় বাঁচাতে ভরা ট্রলারে উঠে পড়ে। যাদের জীবন তাহারা কেউ ভাবেনা আমরা কি করবো।

পর্নোগ্রাফি দেখা কমছে?

0

 

পর্নো ওয়েবসাইট বন্ধের উদ্যোগসরকার দেশে পাঁচ শতাধিক পর্নোসাইট বন্ধের পরে ব্যান্ডউইথের ব্যবহারও কমেছে। যে পরিমাণ ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হতো পর্নোগ্রাফি দেখায় তার ৩০ ভাগেরও বেশি ব্যান্ডউইথের ব্যবহার কমেছে বলে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি সূত্রে জানা গেছে। সূত্র জানায়, দেশে পর্নোগ্রাফি দেখায় ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হতো ৭০ গিগারও (জিবিপিএস) বেশি। বর্তমানে এই ব্যান্ডউইথের ব্যবহার ৩০ শতাংশ বা ২১ গিগারও বেশি কমেছে।

প্রসঙ্গত, দেশে বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে ৩৫০ গিগা ব্যান্ডউইথ। এর ২০ শতাংশ ব্যান্ডউইথ অর্থাৎ ৭০ গিগা ব্যবহার হতো পর্নোগ্রাফির পেছনে। সরকার ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে ৫৬০টি পর্নোগ্রাফি সাইট বন্ধের ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণা কার্যকরের অব্যবহিত সময়ের পর থেকে ব্যান্ডউইথ ব্যবহার কমতে থাকে। যে পরিমাণ সাইট আগে দেখা হতো তার সিংহভাগ কমে যাওয়ায় (লিংক ব্লক) হওয়ায় এসব সাইট দেখাও কমেছে।

জানতে চাইলে আইএসপিএবির সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা তালিকার (বিটিআরসির পাঠানো) ৫৬০টির মধ্যে ৯০ শতাংশ সাইট বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি।’ তালিকার অবশিষ্ট ১০ শতাংশ সাইট বন্ধ করতে সময় লাগছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু সাইট ক্লাউডে হোস্ট করা। ফলে আইপি ধরে ধরে সেগুলো বন্ধ করতে হচ্ছে। দেখা গেল একটা আইপি ধরে বন্ধ করা হলো, সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি আইপির মাধ্যমে ওই সাইট চালু হয়ে গেল।’

তবে উল্লেখযোগ্য এবং বেশি পরিচিত সাইটগুলো বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি। এমদাদুল হক বলেন, ‘মেজর মেজর সাইট বন্ধ হওয়ার ফলে ৩০ শতাংশর বেশি ব্যান্ডউইথ ব্যবহার কমেছে। আমাদের কাজ চলছে। আগামী দিনে এই ব্যবহার আরও কমবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ব্যান্ডউইথের ব্যবহার কমায় (রাউটার ধরে পরীক্ষার ফলে) এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে পর্নোগ্রাফি দেখায় ব্যান্ডউইথ ব্যবহার কমেছে।

এমদাদুল হক আরও জানান, পর্নোগ্রাফি সাইট বন্ধে গঠিত কমিটি মনিটরিংয়ের কাজ করে যাচ্ছে। শিগগিরিই একটি বৈঠক ডাকা হবে। ওই বৈঠকে এই কাজের সর্বশেষ অগ্রগতি জানানো হবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ‘যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে তাতে করে পর্নোগ্রাফি সাইট হয়তো শতভাগ বন্ধ করা সম্ভব হবে না। কারণ প্রযুক্তি কখনও বন্ধ করা যায় না। দেখা যাবে বিকল্প পথেও মানুষ এসব সাইটে প্রবেশ করছে।’ তবে এই উদ্যোগ নিয়ে যে সবার মাঝে একটা বার্তা পৌঁছনো গেছে, সচেতনতা তৈরি করা গেছে— এটাই ভবিষ্যতে অনেক কাজে দেবে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফায় ৫৬০টি সাইট বন্ধের (দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে) তালিকা করা হলেও এখনও দ্বিতীয় দফার তালিকা করা হয়নি। তালিকা হাতে পেলে কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তালিকা চূড়ান্ত করে বন্ধের উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছে ওই সূত্র।

উল্লেখ্য, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিবের বরাবর ‘এক পিতার লেখা চিঠি’র সূত্র ধরে সরকার পর্নোগ্রাফি সাইট বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গত ২৮ নভেম্বর সচিবালয়ে অনলাইনে আপত্তিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক বৈঠকে পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট বন্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই বৈঠকে একটি কমিটিও গঠন করে দেওয়া হয়। ওই কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতেও বলা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ কাজ শুরু করে বলে জানা গেছে।

নবাবগঞ্জে ক্ষুধার্ত বানরের লোকালয়ে উৎপাত

 

ঢাকার নবাবগঞ্জের চুড়াইন ও মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরের খাহ্রা এবং মদনখালী এলাকায় ৫ শতাধিক ক্ষুধার্ত বানরের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে ওই অঞ্চলের মানুষ। ক্ষুধার জ্বালায় বানর গুলো হিংস্র হয়ে উঠেছে। বানরের কামড়ে সম্প্রতি মারা গেছে মদনখালী গ্রামের বাবুল (৩৫) নামে এক ভ্যান চালক। আহত হয়েছেন ঐ এলাকার অন্তত ২৫ জন নারী-পুরুষ।

এলাকাবাসী জানিয়েছে, ২ শতাধিক বছর আগে থেকে এ অঞ্চলে বানরের বসবাস। ঘণ জঙ্গলে নানা প্রজাতির ফলদ ও বনজ খাবার খেয়ে তারা বসবাস করতো। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দর্শনার্থীরা বানর দেখতে আসতেন এখানে। অনেকে খাবার নিয়েও আসতেন। এলাকায় দিন দিন মানুষের আবাস বেড়ে যাওয়ায় গাছপালাও অনেক কমে গেছে। এতে দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। আক্রমণের ভয় দেখিয়ে পথিকের খাবার সামগ্রী কেড়ে নিচ্ছে বানরগুলো। গত ৫ বছরে এবারই প্রথম তাদের মধ্যে হিংস্রতা দেখা দিয়েছে। ৫০/৬০টি বানরের দল বেঁধে বাড়িতে বাড়িতে হানা দিচ্ছে। জমিতে রোপণ করা ফসল নষ্ট করছে। মানুষ প্রতিরোধ করলে ২শ’ থেকে আড়াইশ বানর সংঘবদ্ধ হয়ে আক্রমণ করছে। কামড়ে আহত করছে পথচারীদের।

চুড়াইনের বাসিন্দা ও নবাবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএস সাইফুল ইসলাম বলেন, এখনো এ অঞ্চলের বয়োজেষ্ঠ্যরা দুষ্টু ছেলেদের ‘চুড়াইনের বানর’ নামে অভিহিত করেন। এক সময়ে বানরের অবাধ বিচরণ ছিল ওই এলাকা।  তিনি জানান, ক্ষুধার্ত বানরের জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে কিছু চাল দেয়া হয়েছে। যা ৫’শতাধিক বানরের জন্য একদিনের খাবারও নয়।

মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন মোড়ল জানান, গাছের পেঁপে, নারিকেল, কলা কিছুই রাখছে না। লাউয়ের ডগা ভাঙছে। ফুল খেয়ে সাবার করছে। কোন ফসল ফলিয়ে খেতে পাড়ছে না এলাকার মানুষ। বন্যপ্রাণী অধিদপ্তর জরুরি ব্যবস্থা না নিলে আমাদের বসবাস কঠিন হয়ে পড়বে। তাছাড়া, বানরগুলোর খাদ্যের ব্যবস্থা না করলে নির্ঘাত মারা যাবে।

এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নারায়ণ চন্দ্র সরকার জানান, এটি তার দপ্তরের কাজ নয়। বিষয়টি বন বিভাগের।

উপজেলা বন কর্মকর্তা এসএম মাহবুবুল আলম বলেন, সরকারিভাবে আমাদের এরকমের কোন বরাদ্দ দেয়া হয় না। তবুও বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে জানানো হবে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ বলেন, এর আগে বিষয়টি কেউ জানায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে বলা হচ্ছে।

নবাবগঞ্জে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে প্রশাসনের সভা

 

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা বাস মালিকদের সঙ্গে সভা করেছে উপজেলা প্রশাসন। কয়েক মাস ধরে ঢাকা নবাবগঞ্জ বান্দুরা সড়কে চলাচলকারী বাস সার্ভিসগুলো নানা অনিয়ম ও অসঙ্গতির কারণে প্রতিনিয়ত এক সার্ভিসের সঙ্গে অন্য সার্ভিসের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হচ্ছে।

এ সমস্যা সমাধানে গতকাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদের কার্যালয়ে ডেকে সব বাস সার্ভিসের মালিক, শ্রমিক নেতা, রাজনৈতিক নেতাদের সমন্বয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রতিটি বাসের মালিককে তাদের গাড়ির ফিটনেস, রোড পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রেখে বাস চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়।

এদিকে নবাবগঞ্জ বাস মালিক সমিতির নির্বাচন করতে এসিল্যান্ড শাহনাজ মিথুন মুন্নিকে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য আবদুল বাতেন মিয়া, নবাবগঞ্জ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল উদ্দিন, শ্রমিক নেতা আমির হোসেন কুটি প্রমুখ।

মৈনটে ঐতিহ্যবাহী গরু দৌড় প্রতিযোগিতা

 

পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে শনিবার বিকেলে ঢাকার দোহার উপজেলার মৈনট পদ্মা নদীর তীরে  ঐতিহ্যবাহী গরু দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর আয়োজনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ গরু দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলাসহ ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় জমায় মৈনট নদী পাড়ে। এর ফলে মৈনট এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এছাড়া বসে গ্রাম্য মেলা। উৎসুক জনতার ভীড়ে মৈনট এলাকার চারপাশ ভরে ওঠে। প্রায় হারিয়ে যাওয়া গরু দৌড় দেখতে মানুষের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো।

প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়রম্যান মো. আলমগীর হোসেন। প্রতিযোগিতা বিজয়ী গরুর মালিককের পুরুস্কার হিসেবে টেলিভিশন তুলে দেয়া হয়।