নবাবগঞ্জে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ অনুষ্ঠিত

 

উন্নত আগামীর জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এ প্রতিপাদ্য কে সামনে রেখে দুই দিন ব্যাপী নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন এর আয়োজনে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার নবাবগঞ্জ শহীদ মিনারে  আলোচনা ও পুরস্কার বিতরনীর মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছে ৩৮ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ-২০১৭।  সমাপনি দিনের প্রাধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, ঢাকা-১ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, তোমাদের এই বিজ্ঞান মনোস্কর ভাবই বলেদেয় তোমরা কতটা ক্ষুদে বিজ্ঞানী। একমাএ বিজ্ঞানচর্চাই আমাদের কুসংস্কারমুক্ত জাতি গঠনে সহায়তা করবে। তোমাদের নতুন নতুন আবিস্কারই নতুনকে জানার বুঝার ও সৃষ্টিকরার আগ্রহ তৈরি করবে।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ, নবাবগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মো: মোস্তাফা কামাল, উপজেলা মাধ্যমকি শিক্ষা অফিসার ফারুখ আহমদে, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক জালাল উদ্দিন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট মরিয়ম মোস্তাফা শিমু প্রমূখ।

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপজেলার ২টি কলেজ, ৪টি স্কুল এন্ড কলেজ ও ১৯ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রদর্শন করছেন। আমন্ত্রিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের এসব প্রকল্প ঘুরে ঘুরে দেখেছেন এবং খুদে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তার প্রশংসা করেছেন। এবারের মেলায় স্মার্ট এনার্জি সিস্টেম, বায়ু দূষণ মুক্তকরণ প্রক্রিয়া, কার্বন থেকে ল্যাম্প ও হিটার তৈরি, অনলাইন বেস শপিং সেন্টার, ডিজিটাল ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম, সোলার ড্রোন, উডেন জেনারেটর, জ্বালানি ছাড়া ইঞ্জিন নৌকা, হাইড্রো কনিক রাডার, হাইড্রলিক মুভার ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকল্প স্থান পেয়েছে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রযুক্তির জন্য তাদেরকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়।

দোহার-নবাবগঞ্জে ১০ কোটি টাকার কাজ করব; মাহবুবুর রহমান

আগামী ৫ বছরে দোহার-নবাবগঞ্জে ১০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করার ঘোষণা দিলেন ঢাকা জেলা পরিষদ নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান। গত ৩০ জানুয়ারি সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় নবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ নবাবগঞ্জ পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। গতকাল বিদ্যালয়ের মাঠে এ অনুষ্ঠান করা হয়। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজমুন আখতার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি মাহবুবুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত সোনার বাংলা গড়তে ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নে জননেত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় সংকল্প। এই ভিশন বাস্তবায়ন করতে আগামী ৫ বছরে দোহার নবাবগঞ্জে ১০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করতে চাই। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাকিল আহমেদ ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফারুক আহম্মেদ, জেলা পরিষদের প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম, বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের কো-অপ্ট সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন, নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তফা কামাল, আওয়ামী লীগ নেতা মো. ইব্রাহীম খলিল, জেলা পরিষদ সদস্য-ওয়াহিদুজ্জামান রনি প্রমুখ।

দোহার নবাবগঞ্জে বাড়ছে শিশুশ্রম;প্রতিরোধে নেই সরকারি কোনো উদ্যোগ

দোহার নবাবগঞ্জে আশংকাজনক হারে বাড়ছে নিষিদ্ধ ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম। ২০১৬ সালে শিশুশ্রম নিরসনে সরকারের অঙ্গিকার থাকলেও দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় এ কাজের নেই কোনো অগ্রগতি বা তৎপরতা । সরকারী ভাবে নেই কোনো সচেতনতা মূলক কার্যক্রম। সরকার দেশকে স্বয়ং সম্পূর্ণ ও উন্নত ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করলেও এ দুই জনপদের অনেক দরিদ্র শিশুরা এখনো শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত রয়েছে। অভাবের তাড়নায় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত হচ্ছে। সারা দিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করলেও তাদের ভাগ্যে জুটছে নামমাত্র মজুরি। শিশু শ্রমিকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ দারিদ্র্য, দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, পরিবারের অভিভাবকদের দায়িত্বহীনতা ও বেকারত্ব।

এ দুই উপজেলায় বসবাসের জন্য আসা শিশুরা এবং বিভিন্ন গ্রামের নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুরা স্কুল ব্যাগের পরিবর্তে বেছে নিচ্ছে বিভিন্ন পেশা। সরকার যেখানে প্রতিবছর পহেলা জানুয়ারি থেকে ৩৩ কোটি বই শিশুদের জন্য বিনা মূল্যে বিতরণের মাধ্যমে বই উৎসব পালন করছে। সেখানে দোহার নবাবগঞ্জের কিছু শিশুরা দুবেলা দুমুঠো খাবার জোগার করার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। গত পনের দিনের অনুসন্ধানে দোহার নবাবগঞ্জের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা মিলেছে অনেক কোমলমতী শিশু শ্রমিকের। এদের বেশিরভাগই কাজ করছে বিভিন্ন  হোটেল-রেস্তোরা, চায়ের দোকান, ইটভাটা, ওয়েলডিং কারখানা, ওয়ার্কশপ ও রিকশা ভ্যান চালানোর মতো বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণসব পেশায় । দোহারের লটাখোলা নতুন বাজার,বাংলা বাজার,বিলাসপুর বাজার,পালামগঞ্জ বাজার,নারিশা বাজার নবাবগঞ্জের খানেপুর বাজার,বারুয়াখালী বাজার,শোল্লা বাজার,গালিমপুর বাজার, দূর্গাপুর বাজারসহ কার্তিকপুর, মৈনট, মেঘুলা, নারিশা, ফুলতলা ও নারিশা পল্লিবাজারের হোটেল গুলোতে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করছে দশ থেকে ১২ বছরের শিশুরা। যে বয়সে তাদের হাতে থাকার কথা বই খাতা সেই বয়সে অভাবের সংসারে বাবাকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দোহারের মুকসুদপুর ইউনিয়নের পল্লীবাজারের জামাই হোটেলে গিয়ে দেখা যায়  সোহেল নামে ১০ বছর বয়সী একটি শিশু দুই বছর ধরে প্লেট ধোঁয়ার কাজ কাজ করছে। এছাড়া নারিশা বাজারে সাগর হোটেলে মনির (১১), মেঘুলা বাজারে সুমন (১২), জয়পাড়া ভাই বোন হোটেলে উজ্জল (১১), কার্তিকপুর সোমা হোটেলে করিম (১০) ও মৈনট ঘাটে রিমা হোটেলে আলী (১১) নামে শিশুরা কাজ করছে। এক হোটেল মালিকে সাথে কথা বললে তিনি জানায়, শিশুদের মাসিক ১৮ শত থেকে দুই হাজার টাকা বেতন দিলে ভোর থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত কাজ করানো যায়।

দোহারের মুকসদপুর ইউনিয়নের ফুলতলা বাজারের রিকশাচালক আলামিন। সবেমাত্র এগারোতে বছরে পা দেওয়া শিশুটি সারাদিন রিকশা চালায় ফুলতলা-বালাশুড়-শ্রীনগরের বিভিন্ন রোডে। কেন এত অল্প বয়সে এই পেশায় এসেছো জানতে চাইলে আলামিন বলে,” বাপ নাইক্য,বাড়িতে মা আর ছুটু ছুটু দুই বইন, রিকশা না চালাইলে খামু কি ? সারাদিন যে টেক্যা পাই তা দিয়েই সংসার চালান লাগে”।

নবাবগঞ্জের চা বিক্রেতা সুমনরে সঙ্গে কথা বলে জানা যায় সে নবাবগঞ্জে এসেছে জীবিকার তাদিগে। সুমন বলেন,”আমরা গরীব মানুষ লেখাপড়া করানের টেক্যা নাই তাই আব্বায় চা কফি বেচপার পাঠাইছে। আব্বায় রিকশা চালায় আর মায়ে মাইনষের বাড়িতে কাম করে। সবাই মিলা যে টেক্যা পাই তা দিয়্যেই আমাগো সংসার চলে”।

এছাড়াও নবাবগঞ্জের সাহেবগঞ্জ এলাকার ইটভাটায় কাজ করছে আট বছর বয়সী পলাশ। প্রতিদিন এক হাজার ইট বহনের কাজ করে সে মজুরি পায় মাত্র ১০০ টাকা। শুধু পলাশ নয়, পেটের দায়ে প্রতিদিন তার মতো অন্তত কয়েকশত শিশু দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় কাজ করছে। অথচ আইন অনুযায়ী ১২ বছরের কম বয়সের শিশুদের এ রকম কাজে নেওয়া নিষিদ্ধ। দোহার উপজেলার ইসলামপুর ইটভাটায় কাজ করে ৬ বছর শিশু মিরাজ। পেটের দায়ে বরিশাল থেকে মায়ের সঙ্গে এসেছে সে ইটের ভাটায় কাজ করতে। মিরাজ জানাল, এই ভাটার মালিক তাদের বাড়িতে গিয়ে তার মাকে ৩০ হাজার টাকা দাদন দিয়েছেন। দাদনের টাকা শোধ করতেই সে মায়ের সঙ্গে কাজ করতে চলে এসেছে। তার একটাই কথা ‘কাম না করলে খামু কি?’

দোহার-নবাবগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে অন্তত ২০টি ইটের ভাটা। সেসব ভাটায় কাজ করছে মিরাজ অথবা পলাশের মতো আরো অনেক মেয়ে ও ছেলে শিশু। শিশু শ্রমিকদের বিষয়ে জানতে চাইলে ইটভাটা মালিকেরা বলেন, বাবা-মায়ের সঙ্গেই এসব শিশু ভাটায় কাজ করতে আসে। তবে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা মজুরি নিয়েই সেখানে কাজ করছে। মিরাজ আরও জানাল, মাথায় করে শুকনো ইট খোলায় তুলে সে। পোড়া শেষ হলে ইট সাজিয়ে রাখে। কাজ বড় কষ্টের। অনেক সময়ে ইট মাথা থেকে পড়ে পায়ে ব্যথা পায়। কিন্তু শ্রমিক সরদার এগুলো দেখে না। একই রকম কষ্টের কথা জানায় নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ এলাকায় ইটভাটার এগার বছরের শ্রমিক শান্ত। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়। সেও মায়ের সঙ্গে ইটভাটায় কাজ করতে এসেছে।

জানা যায়, দোহার ও নবাবগঞ্জের ইটভাটাগুলোয় কর্মরত শিশুদের বেশিরভাগই এসেছে কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, বরিশাল, সাতক্ষীরা, সিলেট, হবিগঞ্জ, চাঁদপুর ও শরীয়তপুর থেকে। তাদের অভিভাবকদের অনেককে ভাটা-মালিকরা দাদন দিয়েছেন। এই টাকা পরিশোধ করতেই বাবা-মায়ের সঙ্গে তাদের শিশু সন্তানরাও কাজ করছে। কাজ শেষে এসব শিশু ভাটাতেই ঘুমায়। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেই শুরু হয় তাদের কাজ। মাঝে কিছু সময় বিরতির পর টানা কাজ করে বিকাল চারটা পর্যন্ত। নবাবগঞ্জের সাহেবগঞ্জ এলাকার ন্যাশনাল ব্রিক ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক নাসির উদ্দিন পান্নু জানান, মা-বাবার সঙ্গে সন্তানরাও ইটভাটায় আসে। তার ভাটায় শিশুদের দিয়ে কোনো কাজ করানো হয় না। তবে ওরা মাঝে-মাঝে ইট নিয়ে খেলে থাকে।

শিশুশ্রম বিষয়ে জানতে চাইলে নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহনাজ মিথুন মুন্নী জানান, “শিশুদের কাজ করানোর বিষয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম. আল-আমীন বলেন, “বিষয়টি তার জানা ছিল না। দ্রুতই খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে”।

একজন নাজমুল হুদা; ব্যক্তি না রাজনৈতিক আদর্শ

শিপন মোল্লাঃ
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী, বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য এবং পরবর্তীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ -সভাপতি ও ঢাকা জেলার বিএনপির সভাপতি, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা নিঃসন্দেহে একজন বড় মাপের দেশ বরেণ্য ব্যাক্তিত্ব। দেশ পরিচালনায় জনপ্রতিনিধি হিসাবে তার অভিজ্ঞতা ব্যাপক। আপাদ্মস্তক সম্ভ্রান্ত, প্রভাবশালী একজন রাজনৈতিক নেতা হুদা ভাই। তাকে নিয়ে কোন মূল্যায়ন করার সামর্থ্য আমার নেই, সেইটা শোভাও পায়না। হয়তো রাজনীতিতে অনেক হিসাব নিকাশ থাকে। তাই কোন প্ল্যানে কোন রাজনীতির গেম তিনি খেলছেন সেইটা হুদা ভাই-ই ভাল জানেন আর আল্লাহ ভালো জানেন তার মনে কি আছে। বর্তমানে তিনি বিএনপির রাজনীতি থেকে দূরে আছেন এবং নিজের দল তৃণমুল বিএনপি এবং রাজনৈতিক জোট বিএনএফ নিয়ে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি তার দীর্ঘ আয়ু ও সুস্থতা কামনা করি।
শনিবার তার মেয়ের বিয়েতে ঢাকা জেলার বিএনপির সিনিয়র নেত্রীবৃন্দ ও দোহারের সর্ব স্তরের বিএনপির নেতা কর্মী উপস্থিত ছিলেন। এই বিষয়টা নিয়ে এলাকায় বেশ আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে, যার ব্যাপ্তি হয়েছে ফেসবুকেও। অভিযোগ আছে হুদা ভাই বিএনপিকে থেকে চলে যাওয়ার পর দোহারের বিএনপির নেতা কর্মীরা এখনো তাদের সঠিক একজন রাজনৈতিক অভিভাবক খুজে পায়নি ।
এমন অবস্থায় দলের মধ্যে বিভিন্ন কোন্দল, দলাদলি আর গ্রুপিং হয়ে জাতীয়তাবাদী দল চরম এলোমেলো হয়ে আছে। কর্মীদের মাঝেও বিশ্বাস আর অবিশ্বাস থাকাতে; দোহারের বিএনপির রাজনীতির কোন কর্মকাণ্ডই নেই বললেই চলে। দোহারে বিএনপির বর্তমানে অনেক ইউনিটি এর কমিটিও নেই। যেসব কমিটি আছে তারাও মুখ থুবড়ে পরে আছে । দলের পক্ষে কার্যকারী কোন কর্মকাণ্ড চালাতে পারতেছে না। সবচেয়ে অবাক করার ব্যাপার হয়ছে দোহার বিএনপির বর্তমানে একটা পার্টি অফিস বা দলীয় কার্যালয় নেই। এই ব্যাপারে মনে হয় পার্টির কোন নেতার কোন গর্জও নেই, প্রয়োজনও আছে বলেও মনে হয় মনে করে না।
কিন্ত হুদা ভাইয়ের মেয়ের বিয়েতে বিএনপির সকল স্তরের নেতা কর্মীদের উপস্থিতিতে এইটা প্রমাণ হয়ে গেছে যে হুদা ভাই এখনো দোহার বিএনপির উপর প্রভাব রাখেন। এখনো দলের উপর তার প্রচ্ছন্ন প্রভাব রয়েছে; সে দলে থাক বা না থাক।
ভাবতে অবাক লাগে, কি স্যালুকাস! যেখানে বিএনপির দোহার নবাবগঞ্জের পাঁচজন নেতা কর্মী কোন সভা-সমাবেশে একত্রিত হতে পারে না তারাই কিনা গত শনিবার সবাই এক সাথে হয়েছে হুদা ভাইয়ের এক ডাকে। আমি মনে করি এতে গতকালই দোহারে বিএনপির বড় পরাজয় হয়েছে। যতোই তার বিরুদ্ধে কেউ কেউ হুম্বি-তম্বী করুক না কেন আদতে আসলে সবাই এখনো হুদা ভাইর লোকই হয়ে আছে। হয়তো এখনো শতভাগ বিএনপি হতে পারেনি। হয়তো এর মধ্যে কেউ কেউ আছেন আলাদা কিন্ত তাদের সংখ্যা খুব সামান্য।
আওয়ামীলীগের কোন দায়িত্বশীল নেতার কাছ থেকে আমার নেত্রী ও দলের বিরুদ্ধে মন্দ শুনবো সেইটাই স্বাভাবিক কিন্ত একসময় যার কাছ থেকে যেই দলের আদর্শের দীক্ষা নিয়েছি , সেই আদর্শের ব্যাপারে বিশ্বাস বড় করে মনে গেঁথে নিয়েছি সেই তার কাছ থেকে নিজ দল ও নেত্রীর সমালোচনা মন্দ শুনতে ভাললাগেনি ,কষ্ট পেয়েছি। সেই কষ্ট কি এই নেতাদের একটুও লাগেনি ?
২০১৫ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি ব্যাঃ নাজমুল হুদা প্রেসক্লাবে বলেন, খালেদা আত্মাহুতি দিলেও আলোচনার দরকার নেই ।
২০১৫ সালের ৮ই জুন নাজমুল হুদা বলেন, “বিএনপি যে নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে তার দলের শীর্ষ নেতাদের আচরণেই তা স্পষ্ট।”
২০১৫ সালের ১২ই ডিসেম্বর নাজমুল হুদা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার নেতাকর্মীকে সাক্ষী রেখে বলতে চাই- সংলাপের কোনো প্রয়োজন নাই। আলোচনার কোনো প্রয়োজন নাই। আপনি একাই দিতে পারেন, এই দেশের সকল সমস্যার সফল সমাধান। আপনি একক সিদ্ধান্ত দেবেন এবং আপনিই একক কৃতিত্ব নেবেন। এই কৃতিত্ব শেয়ার করার মতো দ্বিতীয় কোনো যোগ্য ব্যক্তি নাই।”
২০১৬ সালের ১৩ই জুন নাজমুল হুদা বলেন, “আজ তারা (বিএনপি) বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। ইসরায়েল ও মোসাদের সঙ্গে বৈঠক করে সরকার পতনের চক্রান্ত করছে। এজন্য যদি আমরা ১৪ দলীয় জোটকে শক্তিশালী করি, তবে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করা হবে।”
২০১৬ সালের ২৩ই নভেম্বর নাজমুল হুদা বলেন, প্রস্তাব মেনে নির্বাচন হলে শেখ হাসিনা ফের প্রধানমন্ত্রী।
আমাদের সাথে কি ব্যাক্তি নাজমুল হুদার পরিচয় আগে, না রাজনৈতিক হুদার পরিচয় আগে? আমি নিশ্চিত, হুদা ভাইয়ের সাথে আন্তরিকতার এই কারণ ছিল, তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম পুরোধা । আর এই কারণেই তার সাথে দোহারবাসীর যোগাযোগ বা সম্পর্ক। এখন বলতে ইচ্ছ্বে হয়, গতকাল যদি হুদা ভাইয়ের মেয়ের বিয়ের দাওয়াতে একজনও বিএনপির নেতা কর্মীরা না যেতেন তাহলে কি হতো? অবশ্যই এই ব্যাপারটা হুদা ভাইকে ভাবিত করতো। তিনিও কষ্ট পেতেন যে তার রাজনীতির সহ কর্মীরা তার আদরের মেয়ের বিয়েতে একজনও নেই। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে বলে হয়তো এ কারনে তার পূর্বের রাজনৈতিক দল এবং দলের ব্যাপারে মন্তব্য করতে তিনি সতর্ক থাকতেন। তারও অনুধাবন হয়ে যেতো যে, দোহারের মাটি আসলে জিয়ার ঘাঁটি। বিএনপির ক্ষতি করে বিএনপির মানুষকে পাশে পাওয়া যাবে না।
এই সব নেতারা হুদা ভাইকে এই ব্যাপারটা উপলুদ্ধি করার সুযোগ হাত ছাড়া করে বরং তারাই হুদা ভাইর কাছে ধরা দিলেন। আর হুদা ভাইও প্রমান করে দিলেন তিনিই দোহারের কিং । আবার যখন সে তুড়ি দিবে, সবাই তার কাছে গিয়ে – জি জাঁহাপনা করে লুটিয়ে পড়বে। এতে এটাই প্রমান হলো আমাদের নেতাদের দলের প্রতি কমিটম্যান শতভাগ মজবুত না।
তবে হুদা ভাইর তারিফ করতেই হয় সে শুধু দোহারের বিএনপিকে একই সুতায় গেঁথে ছিলেন। স্থানীয় ভাবে দোহার-নবাবগঞ্জে তিনি তার যোগ্য উত্তরসূরী না তৈরি করলেও, বিএনপির জন্যে ছিলেন তিনি কারিগর আজকের মীর্জা আব্বাস, আমানউল্লাহ্ আমান ভাই, তৈমুর আলম খন্দকার এরকম অনেক নেতার উঠে আসার পিছনে এই নেতার অবদান।


(শিপন মোল্লা; সাবেক সভাপতি জয়পাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদল। বর্তমানে বিদেশে প্রবাসী )

বৃদ্ধা ও গৃহবধূকে পিটিয়ে আহত:  অভিযোগের ১৫ দিনেও মামলা নেয়নি দোহার থানা পুলিশ

দোহারের নারায়নপুরে সীমানা বিরোধের জের দুই নারীকে মারপিটের ঘটনার ১৫ দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ। এঘটনায় ঐ দিনই মোহাম্মদপুর ফাঁড়ি পুলিশ শেখ গোপাল (৭০) ও আলী আহাম্মদ (২০) নামে দু’জনকে আটক করে। পরে তাদের ছেড়ে দেয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামের শেখ লাল মিয়ার বাগানের সীমানা নিয়ে প্রতিবেশী শেখ গোপালের পরিবারের বিরোধ চলছিল। গত ১১ জানুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাগানের সীমানার মাটি কাটায় বাঁধা দিতে গেলে কথা কাটাকাটি এ পর্যায়ে শেখ গোপালের পরিবারের লোকজন দেশিয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষ পরিবারে হামলা করে। এতে শেখ লাল মিয়ার পরিবারের বৃদ্ধা রয়মান বেগম (৬০) ও তার মেয়ে রেহানা বেগম (৩২) আহত হয়। গুরুতর আহত দু’জনকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে ১২ জানুয়ারি এ বিষয়ে দোহার থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। কিন্তু অভিযোগের ১৫ দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ ।

অভিযোগকারী শেখ খোকন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আহতদের সাথে কথাও বলেন। কিন্তু ঘটনার ১৫ দিনেও মামলা নথিভূক্ত করেনি থানা পুলিশ। উল্টো প্রতিপক্ষের অভিযোগ নিয়ে আমাদের হয়রানি করছেন। অপরদিকে, অভিযোগের পর ঘটনায় জড়িত শেখ গোপাল ও আলী আহাম্মদ নামে দু’জনকে আটক করেও তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

আহত বৃদ্ধা রয়মান বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ‘অরা আমারে পশুর মতো মারছে। পুলিশ সব দেইখ্যেও আমাগো জইন্যে কিছু করলো না। আমার আকুতি কি পুলিশের কানে যায় নাই? তার লিগ্যা এই বুড়া বয়সে এমন যন্ত্রনা সহ্য করণ লাগলো।

এব্যপারে স্থানীয় মাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন মুন্সি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই।

তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত দোহার থানার উপ-পরিদর্শক আতিকুর রহমান মামলা রেকর্ড করার বিষয়ে বলেন, বাদীর তদবির বেশি তাই মামলা রেকর্ড হয়নি। তবে এঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছিল কিনা আমার জানা নেই।

দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম মুঠো ফোনে প্রতিবেদককে বলেন, অভিযোগের বিষয়ে জানা নেই। বাদীকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিন। বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নিবো।

মরার আগ পর্যন্ত মানুষের সেবা করে যেতে চাই: শামীমা রাহিম শিলা

 

দোহার উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেত্রী শামীমা রাহিম শিলা বলেছেন, দুস্থ ও অসহায় মানুষের সেবা করে আত্মতৃপ্তি লাভ করা যায়। তাদের হাঁসিমাখা মুখ দেখলে নিজেকে ধন্য মনে হয়। মানবিক ও সামাজিক কর্মে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অসহায় মানুষের সেবা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। রবিবার সকালে নবাবগঞ্জ মহিলা এমিতখানা ও মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের সকল ধনী মানুষগুলো যদি গরীব ও অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতো তাহলে আমাদের দেশে গরীব ও অসহায় মানুষ থাকতো না।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের প্রধান কাজ পড়াশোনা করা। পাশাপাশি খেলাধুলাও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তাছাড়া বর্তমান যুগোপযোগী শিক্ষা গ্রহনে কারিগড়ি শিক্ষার দক্ষতা নিজেকে স্বাবলম্বি হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। তোমরা নিজেকে মেধাবী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করো। তবেই জীবনে সফলতা আসবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুধিজনদের উদ্দেশ্যে তিনি জানান, শারিরিক অসুস্থতার জন্য দীর্ঘদিন বিদেশে চিকিৎসা নিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরেছেন। তাঁর সুস্থতা কামনা করে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ মহিলা এতিমখানা ও মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ¦ সৈয়দ লুৎফুল করিম, সৈয়দ মারেফুল করিম, ছাত্রনেতা আব্দুল হান্নান, আবুল কাশেম, ফয়সাল আহম্মেদ, মহিলা নেত্রী রোজিনা আক্তার প্রমূখ।

দোহার-নবাবগঞ্জের ইটভাটায় শিশু শ্রম!

 

দোহার-নবাবগঞ্জের ইট ভাটায় কাজ করছে শিশু শ্রমিক। পেটের তাড়নায় প্রতিদিন অন্তত কয়েকশ শিশু শ্রমিক দোহার-নবাবগঞ্জের বিভিন্ন ইট ভাটায় কাজ করছে। অথচ আইন অনুযায়ী ১২ বছরের নিচের কোনো শিশু শ্রমিককে এ রকমের কাজে নেওয়ার কথা নয়।

 

নবাবগঞ্জের সাহেবগঞ্জ এলাকায় কাজ শুরু করেছে আট বছর বয়সী পলাশ। প্রতিদিন ১ হাজার ইট বহনের কাজ করে সে। মজুরি পায় মাত্র ১শ টাকা। দোহার-নবাবগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে ২০টি ইটের ভাটা। আর সেই ভাটায় কাজ করছে ১২ বছরের নিচের কয়েকশ মেয়ে ও ছেলে শিশু শ্রমিক। তবে কয়েকজন ভাটা মালিকের দাবি, বাবা-মায়ের সঙ্গেই তারা ভাটায় আসে। তবে ভাটাগুলোর শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা মজুরি নিয়েই সেখানে কাজ করছে।

 

দোহার উপজেলার ইসলামপুর ইটভাটায় কাজ করে ছয় বছরের শিশু মিরাজ। পেটের দায়ে বরিশাল থেকে মায়ের সঙ্গে এসেছে ইটের ভাটায় কাজ করতে। কথা হয় মিরাজের সাথে। সে জানায়, এ ভাটার মালিক আমাগো বাড়িতে গিয়ে মায়রে ৩০ হাজার টাকা দাদন দিছে। দাদনের টাকা শুধানের জন্যই মায়ের সঙ্গে আমিও চইল্যে আইছি, ভাটায় কাম করতে। কাম না করলে খামু কি? কি কাজ করো জানতে চাইলে মিরাজ বলে, মাথায় কইর্যে রোইদের শুকনা ইট খোলায় তুলি। পুড়া অইলে ওগুলা আবার নিয়া সাজাইয়্যা রাখি। বড় কষ্টের কাম। অনেক সময়ে ইট মাথায় থাইক্যা পায়ে পইড়া ব্যথা পাই।

 

এ দৃশ্য দোহার-নবাবগঞ্জের প্রায় সবগুলো ইটভাটার। প্রতিটি ইটভাটায় ১২ বছরের কম বয়সী অনেক শিশু কাজ করছে। ইট তৈরি ও টানার কাজ করে এসব শিশুরা। প্রত্যেক শিশু ২০ কেজি ওজনের সমান কাঁচা ইট মাথায় করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যায়। এই শিশু শ্রমিকদের অভিভাবকদের অনেককে ভাটার মালিকরা দাদন দিয়েছেন। শিশুদের বাবা-মা কারখানার মালিকদের কাছ থেকে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা নিয়েছেন। ওই টাকা নেওয়ার কারণে ইটের কারখানায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে এসব শিশুরা। কাজ শেষে এসব শিশু ভাটাতেই ঘুমায়। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেই শুরু হয় কাজ। মাঝে কিছু সময় বিরতির পর টানা কাজ করে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

 

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম আল-আমীন বলেন, এ বিষয়ে জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম.আল-আমীন

দোহার উপজেলার রাইপাড়া গ্রামের মাছ বিক্রেতা সুকুমার দাস। একার আয়ে সংসারের দৈনন্দিন চাহিদার খরচ মিটিয়ে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে। গত তিনমাস আগে মেয়ে সুস্মিতা দাসের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা যোগাড় না করতে পেরে শরণাপন্ন হয়েছিলেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম. আল-আমীনের নিকট। তখন ইউএনও সুস্মিতার স্কুলের প্রধান শিক্ষককে অনুরোধ করে কিছু টাকা কমিয়ে দিয়েছিলেন এবং কিছু টাকা সুকুমারের হাতে তুলে দিয়েছিলেন মেয়ের ফরম পূরণ সম্পন্ন করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য। আর সুকুমারের সাথে যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর রেখে দিয়েছিলেন নিজের মানিব্যাগে।

আকস্মিকভাবে গত ২৮ জানুয়ারি শনিবার রাতে স্থানীয় এক শিক্ষক নজরুল ইসলামের সাথে এসএসসি পরীক্ষার বিষয়ে কথা উঠলে মেয়েটির কথা মনে পড়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার। ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ১০টা। নিজের পকেটের মানিব্যাগের পকেটে সংরক্ষিত করে রাখা মোবাইল নম্বরটি বের করে মেয়েটির বাবা সুকুমারকে ফোন দেন এবং বাড়ির লোকেশন জেনে তাৎক্ষণিকভাবে ওই শিক্ষককে সাথে নিয়ে ছুটে যান সুস্মিতাদের বাড়িতে। বাড়িতে গিয়ে সুস্মিতার পড়ালেখার খোঁজ-খবর ও পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে জানেন। আসার সময় সুস্মিতার হাতে একটি খাম দিয়ে ইউএনও বলেন, “এটা রাখ মা, এটা তোমার জন্য উপহার। ”

এসময় অবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সুস্মিতার পুরো পরিবার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুকুমার দাস বলেন,  মানুষের কাছে শুনেছিলাম ইউএনও স্যার ভাল মানুষ। তাই উনার কাছে মেয়েকে নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু স্যার যে এত ভাল মানুষ জানা ছিলনা। আজ আমার বাড়িতে না আসলে তাকে পুরোটা চিনতে পারতামনা”।

সুস্মিতা দাস বলেন,  ইউএনও স্যারের কারণে আমি এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারছি। এটা আমি সারাজীবন মনে রাখব। পরীক্ষার চারদিন আগে আমার বাড়িতে এসে স্যার আমার খোঁজ নিলেন আমাকে টাকা উপহার দিলেন এটা আমার ভাল ফলাফলে প্রেরণা যোগাবে। দেশের সব সরকারি কর্মকর্তারা যদি আমাদের স্যারের মতো হতো।

এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমার জীবনে আমি কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে একেবারে কাছ থেকে দেখেছি। কিন্তু নিজের বেতনের টাকা সাধারণ মানুষের পাশে খরচ করেন এমন মানুষ কম দেখেছি। আমার দেখা মতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম, আল-আমীন একজন প্রকৃত জনবান্ধব কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম, আল-আমীন নিউজ ৩৯ কে বলেন, “ প্রশাসনকে জনবান্ধব করতে কাজ করে যাচ্ছি যে কারণে কিছু কাজ বিবেকের তাড়নায় করি। এখানে কিছু পাওয়ার আশা করে বরং আত্মতৃপ্তির জন্যই করি’’।

নবাবগঞ্জে পিঠা উৎসব পালিত

 

নবাবগঞ্জের মাঝিরকান্দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোগে পিঠা উৎসব পালিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  মো. শাকিল আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে এর উদ্বোধন করেন।

 

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সহ-সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শেখ হান্নান উদ্দিন, নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তফা কামাল, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আহমেদ।

 

উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন আহমেদ পান্নু, ঢাকা জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মোসলেম উদ্দিন, বান্দুরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সামছুল হক, উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি জাহিদ হায়দার উজ্জল, নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খালিদ হোসেন সুমন, দোহার নবাবগঞ্জ কলেজের সাবেক জিএস আমীর হোসেন খান বিপ্লব, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শারমিন সুলতানা, শিক্ষক অমলেস সরকার প্রমূখ। পরে অতিথিবৃন্দ মেলার ১৫টি স্টল ঘুরে দেখেন।

অপরদিকে, বুধবার সকালে নবাবগঞ্জ উপজেলা কোকিলপ্যারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান ও মিলাদ মাহফিল করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহ্আলম, পরিচালনা পরিষদের সদস্য- রফিকুল ইসলাম রয়েল, শহিদুল ইসলাম শাহীন, মাকসুদা বেগম প্রমূখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

জাতি গঠনে শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা প্রয়োজন;অ্যাডঃ সালমা ইসলাম এমপি

উন্নত জাতি গঠনে শিক্ষা ও খেলাধুলা দুটোরই প্রয়োজন রয়েছে। তাই ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলায় পারদর্শী হতে হবে। শনিবার দুপুরে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার চুড়াইন খেলার মাঠে তারিনীবামা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি এ কথা বলেন। সালমা ইসলাম এমপি বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের পথপ্রদর্শক। তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাদের মাদকের ভয়াবহতা থেকে পরিত্রাণ পেতে খেলাধুলার মতো সৃজনশীল কাজে মনোনিবেশ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয়, তা অনুসরণ করে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। স্বনির্ভর জাতি গড়তে তরুণদের মেধাবিকাশের বিকল্প নেই। সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম একই দিন নবাবগঞ্জের হরেকৃষ্ণ কুসুমকলি উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন। এ সময় তিনি প্রতিটি বিদ্যালয়ের উন্নয়ন খাতে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নগদ ৫০ হাজার করে এক লাখ টাকা অনুদান দেন। এ ছাড়া তিনি প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে কলাকোপা ইউনিয়নের শুরগঞ্জ-বালুচর সড়কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সালমা ইসলাম এমপি উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিভেদ না রেখে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ, আওয়ামী লীগ জাতীয় কমিটির নেতা আবদুল বাতেন মিয়া, ব্যারিস্টার এনায়েত বাতেন, প্রকৌশলী মো. শাজাহান, ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহীম খলিল, অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান, জাতীয় পার্টি নেতা হুমায়ুন কবির, জুয়েল আহমেদ, জাহাঙ্গীর চোকদার, প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র মণ্ডল, দেওয়ান মাকসুদ আলী, আবুল হোসেন মোড়ল, গাজী বেলায়েত হোসেন, এসএম সাইফুল ইসলাম, এমএ মজিদ, আসাদুজ্জামান রানা, আনোয়ার হোসেন মোড়ল, আবদুল গফুর, মো. সেলিম, শফিকুল ইসলাম স্বপন, সাহের মেম্বার, আসমা আক্তার রুমি, তাজমিনা আহমেদ, ইফতিয়াজ মাসুদ, ইমরান হোসেন, খলিল দেওয়ান, পনির মণ্ডল, সাগর মণ্ডল, শ্রীকৃষ্ণ সাহা, রাকিব হোসেন প্রমুখ।