নবাবগঞ্জে বসতঘর পুড়ে ছাই

 

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় জনশূন্য বসতঘর আগুন লেগে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত ২৮ জানুয়ারি শনিবার দুপুরে উপজেলার আগলা খানহাটি গ্রামে ইসলাম মিয়ার বসতবাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে স্বর্ণালংকার ও মালামালসহ পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যায়। প্রতিবেশীদের ধারণা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে। খানহাটি গ্রামের ইসলাম মিয়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এক সপ্তাহ আগে বেড়াতে যান। শনিবার দুপুরে প্রতিবেশীরা ইসলাম মিয়ার জনশূন্য ঘরে আগুন দেখতে পান। দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন প্রতিবেশীরা। ততক্ষণে ঘর, আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার, মালামাল, প্রয়োজনীয় মূল্যবান কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সংবাদ পেয়ে বিকালে ইসলাম মিয়া বাড়িতে ফেরেন। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নবাবগঞ্জ থানার গালিমপুর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক ফিরোজ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে কেউ থানায় জানায়নি।

নবাবগঞ্জে গরুদৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

কালের পরিক্রমায় অনেকটা হারিয়েই যেতে বসেছে গ্রাম-বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য গরুদৌড় প্রতিযোগিতা। প্রতি বছর বাংলা সনের পৌষ মাসের শেষ দিন সাকরাইন ও পৌষপার্বণ উপলক্ষে গরুদৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

এই হারিয়ে যাওয়া বাঙালির ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এবং আধুনিক এ যুগে গ্রাম-বাংলার মানুষকে খানিকটা আনন্দ-বিনোদন দিতে নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের বাংলাবাজার বন্ধুমহল সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় রশি ছেড়া ও গরুদৌড় প্রতিযোগিতা।
গত ২৭ জানুয়ারি শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে এ গরুদৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। নয়নশ্রীসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার নানা বয়সী মানুষ জড়ো হয় এই প্রতিযোগিতা উপভোগ করে। বিলুপ্ত প্রায় গরুদৌড় প্রতিযোগিতা এলাকায় উৎসবের আমেজের সৃষ্টি করে। গরুদৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল উদ্দিন এবং অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলা পরিষদের সদস্য ওয়াহিদুজ্জামান রনি।
এতে সভাপতিত্ব করেন নয়নশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টি নেতা মো. রিপন মোল্লা। উপস্থিত ছিলেন নয়নশ্রী ইউপি জাতীয় পার্টির সভাপতি শেখ রাকিব আহমেদ ওয়াসীম, আওয়ামী লীগ নেতা জালাল উদ্দিন ফরহাদ কবির, আনিসুল ইসলাম আনিস, শাহাদাৎ হোসেন, লিপি গোমেজ, হাবিব বেপারি আবদুল্লাহ হক প্রমুখ।

নবাবগঞ্জে পিঠা উৎসব

 

নবাবগঞ্জের মাঝিরকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোগে বুধবার পিঠা উত্সব হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাকিল আহমেদ উত্সবের উদ্বোধন করেন।  বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সহ-সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শেখ হান্নান উদ্দিন, নবাবগঞ্জ থানার ওসি মোস্তফা কামাল, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আহমেদ।

এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন আহমেদ পান্নু, ঢাকা জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মোসলেম উদ্দিন, বান্দুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সামছুল হক, উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি জাহিদ হায়দার উজ্জল, দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজের সাবেক জিএস আমীর হোসেন খান বিপ্লব, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শারমিন সুলতানা প্রমুখ।

স্ত্রীর কবরের পাশেই চিরশায়িত কুটি মনসুর

 

নবাবগঞ্জের দোহারে স্ত্রী জাহানারা বেগমের কবরের পাশেই চিরশায়িত করা হয়েছে স্বাধীনতা, দেশ ও লোকগানের অন্যতম পুরধা, একাধারে গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী কুটি মনসুরকে।

গতকাল বুধবার সকাল ৭টার দিকে রামপুরায় প্রথম জানাজা নামাজ আদায় শেষে নেওয়া হয় দোহারে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা নামাজ আদায় শেষে দাফন পর্ব শেষ করা হয়। দোহারে কুটি মনসুরের শ্বশুরবাড়ি। যেখানে কুটি মনসুরকে দাফন করা হয়েছে, সেটা তার শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক কবরস্থান। রামপুরায় পরিবারসহ তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাস করে আসছিলেন। কুটি মনসুরের ছোট সন্তান মো. মুজাহিদুল ইসলাম জাহিদ বুধবার বিকালে এ প্রতিবেদককে বলেন, বাংলাদেশ টেলিভিশন চেয়েছিল আরও একটি জানাজা আয়োজন করতে। কিন্তু দাফনের তাগিদ থাকা ও দূরবর্তীস্থানে দাফনের প্রস্তুতি থাকায় সেটা সম্ভব হয়নি। বুধবার সকালে রামপুরায় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ায় সঙ্গীত জগতের বিশিষ্ট তেমন কেউ আসতে পারেননি। যদিও মঙ্গলবার রাতে দেখতে এসেছিলেন কয়েকজন বলে জানান জাহিদ।

নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) সাপোর্ট প্রয়োজন হলেও শয্যা খালি না পেয়ে ওয়ার্ডেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে হয়েছে কুটি মনসুরকে। এমনদিন তার মৃত্যু ঘটল যেদিন তিনিসহ আরও ১২জন গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পীকে সংবর্ধনা দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ৯০ বছর বয়স্ক এই ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন মো. মুজাহিদুল ইসলাম।

গত ২২ ডিসেম্বর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে (ব্রেইনস্ট্রোক) আক্রান্ত হন কুটি মনসুর। ২৩ তারিখ তাকে ভর্তি করা হয় ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না ঘটায় ২৯ জানুয়ারি তাকে স্থানান্তর করা হয় ঢামেক হাসপাতালে।

জাহিদ জানান, সোমবার রাতে কুটি মনসুরের অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। এ সময় আইসিইউ সাপোর্ট পাওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। কিন্তু শয্যা খালি না থাকায় তা পাওয়া সম্ভব হয়নি। কুটি মনসুরের মূল নাম মো. মনসুর আলী খান হলেও তিনভাই দুই বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট হওয়ায় আদর করে মায়ের ডাকা নাম কুটি মনসুর নামেই তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

২৯ ডিসেম্বর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সংজ্ঞাহীন ছিলেন ১৯২৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর ফরিদপুর জেলার লোহারটেক গ্রামে জন্ম নেয়া কুটি মনসুর। কুটি মনসুরের পিতার নাম আবেদ আলী খান ও মাতার নাম আবেদুন্নেসা। ২০০২ সালে তার স্ত্রী জাহানারা বেগমের মৃত্যু ঘটে।

 

নবাবগঞ্জের শোল্লায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের সিংজোর গ্রামে সরকারি জমি দখল করে পাকা বসত ঘর নির্মাণের অভিযোগ পেয়ে প্রশাসন তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালায়। গত ২৩ জানুয়ারি সোমবার বিকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনাজ মিথুন মুন্নি পুলিশসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে দেয়। এ সময় দখলকারীরা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনাজ মিথুন মুন্নি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদের নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। দোষীদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। এবিষয়ে পুলিশকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এবিষয়ে অবৈধ দখলকারীদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করে হলে তাদের পাওয়া যায়নি।

দোহার-নবাবগঞ্জে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

যতদূর চোখ যায় শুধুই হলুদ রংয়ের সমাহার। এ বছর সরিষার বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকরা রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আর এ কারনে দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলার আড়িয়াল বিল, কোঠাবাড়ী বিল, চর অঞ্চল সহ বিভিন্ন এলাকা জুড়ে সরিষার ক্ষেত হলুদ ফুলে একাকার হয়ে গেছে। কৃষকেরা আশা করছেন এবার সরিষার বাম্পার ফলন হবে।

দুই উপজেলার চাষীরা এবার বিভিন্ন উন্নতমানের সরিষার বীজ ব্যবহার করেছেন। আর এ কারনে এই বছর এই দুটি উপজেলার প্রতিটি গ্রামাঞ্চলের মাঠে ইতিমধ্যে আগাম জাতের সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে।

বৃষ্টি না হবার কারনে এবার কীট-নাশকের খরচসহ বাড়তি কোন খরচ হয়নি। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর সরিষার আবাদে কোস পোঁকার আক্রমনও খুব একটা লক্ষ করা যায়নি।

তাছাড়া সময় মত সার, কীটনাশকের ব্যবহারের কারনে সরিষার আবাদ করতে কৃষকের কোন বেগও পেতে হয়নি। সব মিলিয়ে এবার সরিষার বাম্পার ফলন হবে এটাই কৃষকদের আশা।

দোহারের কোঠাবাড়ী চকের এক কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি এবার ৫ বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছেন, সব কিছু ঠিক থাকলে তিনি বিঘা প্রতি প্রায় চার থেকে পাঁচ মন সরিষা তুলতে পারবেন।

তাছাড়া এবার অনেক সুলভে সরিষা চাষ করতে পারছে কৃষকেরা। প্রতি বিঘা সরিষা চাষ করতে কৃষকদের খরচ হচ্ছে প্রায় ১০০০-১২০০ টাকা। তাই এবার সরিষা বিক্রি করে কৃষক লাভবান হবে এটাই সবার আশা।

কবর থেকে তোলা সানিয়ার লাশ ৫ দিন ধরে ঢামেক মর্গে

 

পুনঃময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলনের পর নবাবগঞ্জের গৃহবধূ সানিয়ার (২৩) মরদেহ ৫ দিন ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে। পুলিশের গাফিলতিসহ নানা জটিলতায় ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করতে পারছেন না।

ফরেনসিক সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে পুলিশের অসহযোগিতার কারণেই এমন ভোগান্তি।

এদিকে সানিয়ার পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ শুরু থেকেই তাদের সঙ্গে নানা ছলচাতুরী করে আসছে। পরিকল্পিতভাবে হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যায় রূপান্তর করা হয়েছে। এমনকি সানিয়া আত্মহত্যা করেছে মর্মে তার বাবা ছানু শেখের নামে ভুয়া কাগজ তৈরি করেছেন নবাবগঞ্জ থানার এসআই আজহারুল ইসলাম।

জানা গেছে, ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার শংকরখালী গ্রামের ছানু শেখ মেয়ে সানিয়াকে প্রায় চার বছর আগে একই গ্রামের হালেমের ছেলে রাসেলের সঙ্গে বিয়ে দেন। বিয়ের পর রাসেল বিদেশে চলে যায়। এরপর থেকে শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গেই ছিল সানিয়া। ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর রাতে গলায় ওড়না পেঁচানো সানিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। তাকে যে রুম থেকে উদ্ধার করা হয়, সেই রুমের দরজা বাইরে থেকে খোলা ছিল। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

সানিয়ার মা লাকি আক্তারের অভিযোগ, যৌতুকের জন্য সানিয়াকে তার শাশুড়ি রাশেদা নির্যাতন করতেন। মেয়ের শান্তির জন্য তারা ৫০ হাজার টাকাও দেন। এরপরও নির্যাতন থামেনি। ঘটনার দিন সানিয়াকে তার শাশুড়ি রাশেদা, দেবর সোহেলসহ অন্যরা মিলে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক করে। নবাবগঞ্জ থানার এসআই আজহারুল ইসলামকে বশীভূত করে সানিয়ার শ্বশুর পক্ষের লোকজন। এসআই আজহারুল তাদের পক্ষ নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চাতুরীর আশ্রয় নেন। তিনি সানিয়া আত্মহত্যা করেছে মর্মে একটি কাগজে তার বাবা ছানু শেখের সই নেন। ছানু শেখ বলেন, ‘আমি বেশি লেখাপড়া না-জানা লোক। পুলিশ কী লিখে নিয়ে কিসে আমার স্বাক্ষর নিয়েছে আমি বুঝতে পারিনি।’

এদিকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ থেকে সানিয়া আত্মহত্যা করেছে মর্মে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। এ রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে আদালতে আবেদন করায় পুনঃময়নাতদন্তের জন্য সানিয়ার মরদেহ প্রায় আড়াই মাস পর গত বৃহস্পতিবার কবর থেকে তোলা হয়েছে। ওই দিনই মরদেহ ঢামেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এদিকে এ মামলা তদন্ত করছেন গোয়েন্দা পুলিশ ঢাকা দক্ষিণের এসআই হাবিবুর রহমান। লাশ উত্তোলন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তিনি ঢামেক ফরেনসিক বিভাগে দেননি। তাই চিকিৎসকরা লাশের পুনঃময়নাতদন্ত সম্পন্ন করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন ঢামেক ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে অসহযোগিতা করা হচ্ছে। আদালতের আদেশনামাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না দেয়ায় লাশের পুনঃময়নাতদন্ত করতে দেরি হচ্ছে।’ সোমবার বিকালে তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ কাগজপত্র জমা দিলে আমরা মঙ্গলবার বোর্ড গঠন করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করব।’

এদিকে গোয়েন্দা পুলিশের এসআই হাবিবুর রহমান বলেন, কাগজপত্রের বাহানায় ফরেনসিক বিভাগ হয়রানি করছে। তিনি বলেন, ‘সদিচ্ছা থাকলে যেসব কাগজপত্র জমা দিয়েছি তা দিয়েই লাশের পুনঃময়নাতদন্ত করা সম্ভব।’

 

সানিয়ার নামে সনিয়ার ময়নাতদন্ত রিপোর্ট : সানিয়ার বাবা ছানু শেখ অভিযোগ করে বলেন, গত বছরের ৮ আগস্ট নবাবগঞ্জে সনিয়া নামে আরেক নারী আত্মহত্যা করে। অবৈধ সুবিধা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা ওই নারীর ময়নাতদন্ত রিপোর্ট সানিয়ার নামে চালিয়ে দিয়েছেন। নিহত সানিয়ার স্বামী রাসেলের পরিবারের সঙ্গে আঁতাত করে এমন সব অপকর্ম করেছেন নবাবগঞ্জ থানার এসআই আজহারুল ইসলাম।

এ ব্যাপারে এসআই আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘সানিয়া আত্মহত্যা করেছে মর্মে আমরা আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট দিয়ে দিয়েছি।’ সনিয়া আত্মহত্যা করেছিল কিনা, তার ময়নাতদন্ত রিপোর্ট সানিয়ার বলে চালানো হয়েছে কিনা- এ বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান। ছানু শেখের অন্যান্য অভিযোগের বিষয়গুলোও এড়িয়ে যান এসআই আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, এখন মামলার তদন্ত করছেন ডিবি দক্ষিণের এসআই হাবিবুর রহমান। এসব বিষয় তিনি ভালো বলতে পারবেন।

যে গ্রামে নেই শিক্ষার আলো

 

সারাদেশে শিক্ষার আলোতে উজ্জল হলেও ঢাকার দোহারের মানচিত্রে রয়ে গেছে একটি গ্রাম যে গ্রামে এখনও পৌঁছেনি শিক্ষার আলো। কোন এনজিও পৌঁছেনি এখনও সেই গ্রামে। ঢাকার দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর উপাড়ে মাঝের চর এমনই একটা গ্রাম।

বিশাল এই গ্রামটিতে কয়েকশত পরিবারের বসবাস। স্থানীয় বাসিন্দা মফিজদ্দিন হাওলাদার ( ৬০) জানায়, আমরা পদ্মার মাঝ খানের বাসিন্দা এক পাশে ঢাকার দোহার অন্য পাশে ফরিদপুর। বর্ষায় চারিদিকে অথৈ জলে নৌকার মধ্যে সকলকে নিয়ে থাকি আর বর্ষা শেষে আমদের ঘরবাড়ি জেগে উঠে।

তাসলিমা আক্তার (৩০) জানায়, কে মেম্বার, কে চেয়ারম্যান, এমপি ও মন্ত্রী জানিনা তবে আমরা যেখান বাস করি এটা দোহারে পরেছে।

আকমল কারাইল (৫০) জানায়, আমাদের গ্রামে কোন শিক্ষিত ছেলে বা মেয়ে নাই কোন সরকারি স্কুল ও নেই। কারও ছেলে হলে বাবার সাথে মাছ ধরার কাজে সাহায্য করে আর মেয়ে হলে তার মায়ের সাথে সংসারের কাজে সাহায্য করে। অনেক লোকই ট্রলারে পদ্মা পাড়ি দিয়ে এখানে আসে আমাদের দেখতে আবার তারা ট্রলার নিয়ে চলে যায়। কেউ কখনও বলেনি আমরা একটা স্কুল গড়ে দেই বা আমি আপনাদের ছেলে মেয়েদের ফ্রি ভাবে পড়াতে চাই। কেউ কি আছে আমাদের সন্তানদের শিক্ষার আলো দেখাবে।

ঘরে ঘরে কর্মী তৈরি করে জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করুনঃ সালমা ইসলাম 

 

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেছেন, দোহার-নবাবগঞ্জে প্রতিটি ঘরে ঘরে জাতীয় পার্টির কর্মী তৈরি করে সংগঠনকে তৃণমূলে শক্তিশালী করতে হবে। নিজেদের শক্তির ওপর ভিত্তি করে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। সেই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। মঙ্গলবার বিকালে নবাবগঞ্জের জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সোনাবাজু প্রাইমারি স্কুল মাঠে বিভিন্ন দল থেকে শতাধিক নেতাকর্মীর জাতীয় পার্টিতে যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেন, দোহার-নবাবগঞ্জের মানুষের পাশে থেকে উন্নয়ন করার যে প্রতিশ্র“তি দিয়েছিলাম তা বাস্তবায়নে শুরু থেকেই সচেষ্ট রয়েছি। এরই মধ্যে এ এলাকায় বহু রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্ট, স্কুল-কলেজের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। আশা করছি, বাকি সময়ের মধ্যে প্রত্যাশিত উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত করা সম্ভব হবে।

সালমা ইসলাম আরো বলেন, বর্তমান সরকারের সহযোগিতায় আমার নির্বাচনী এলাকায় জনগণের যেসব চাহিদা আছে সেগুলো পূরণে আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি। আপনাদের সহযোগিতা ও পরামর্শ অব্যাহত থাকলে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন শেষ করতে পারব, ইনশাআল্লাহ। অনুষ্ঠানে মালেক মোল্লা, কিরণ খান ও ইমরান হোসেনের নেতৃত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে শতাধিক নেতাকর্মী সালমা ইসলাম এমপির উন্নয়নের প্রতি আস্থা রেখে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন।

জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি মালেক মোল্লার সভাপতিত্বে যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জয়কৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান, সোনাবাজু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি নেতা জুয়েল আহমেদ, জাহাঙ্গীর চোকদার প্রমুখ।

নবাবগঞ্জে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

নবাবগঞ্জে ৫০ পিচ ইয়াবাসহ প্রশান্ত মন্ডল (২৪) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। গত ২৩ জানুয়ারি সোমবার তাকে আদলতে প্রেরণ করা হয়। প্রশান্ত নবাবগঞ্জের চন্দ্রখোলা গ্রামের খগেন মন্ডলের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়,গত ২২ জানুয়ারি রবিবার দুপুরে নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল মসজিদ সংলগ্ন মূল সড়ক থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তার দেহ তল্লাশি করে ৫০ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক রামকৃষ্ণ সাহা জানান,”গত সোমবার সকালে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে”।