শিক্ষক সংকটে নবাবগঞ্জের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়

শিক্ষার্থী আছে শিক্ষক নেই এক কক্ষেই চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর পাঠদান। মাত্র দুই জন শিক্ষক দিয়ে চলছে বারুয়াখালী ইউনিয়নের ৬ নং কাউনিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রথম শিফটে শিশু শ্রেণী, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি ক্লাস চলে থাকে। দ্বিতীয় শিফটে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস চলে। মাত্র দুই জন শিক্ষকের মধ্যে প্রতি শিক্ষক প্রথম শিফটে চার পিরিয়ড ও দ্বিতীয় শিফটে ছয় পিরিয়ড ক্লাস নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। যার ফলে ভালোভাবে পাঠদান দিতে পারেন না। এতে দিন দিন ছাত্র-ছাত্রীর সংখা কমে যাচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে এ স্কুল ছেড়ে অন্য স্কুলে ভর্তি হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ একেবারেই ভেঙে পড়েছে।

স্কুল সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে একটি পাক-প্রাথমিক পদ, প্রধান শিক্ষকের একটি পদ ও সহকারি শিক্ষকরে পাঁচটি পদসহ মোট সাতটি পদ রয়েছে। এর ভেতর গত ২৮ ফেব্রুয়ারী একজন শিক্ষক সেচ্ছায় অবসর গ্রহন করেন। বর্তমানে সহকারী শিক্ষকরে তিনটি পদ শূন্য রয়েছে। আবার দুই জন শিক্ষক মো: আবজাল হোসেন ও বিউটি সাহা ডেপুটেশনে রয়েছেন। এখন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পাক-প্রাথমিকের শিক্ষক মিলে বিদ্যালয়ের পাঠদানের কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রধান শিক্ষক মাসিক সমন্বয় মিটিং ও জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা সদরে গেলে তখন একজন শিক্ষক দিয়ে ক্লাস পরিচালনা করতে হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষার্থী থাকা সত্বেও শিক্ষক সংকটের কারণে নামমাত্র লেখাপড়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা আসে আর যায়। শিক্ষক না থাকায় ক্লাস চলাকালিন সময়ও তারা বাহিরে খেলাধূলা করছে। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আবির হোসেন বলেন, আমাগো স্যার নাই ঠিক মত লেখাপড়া করতে পারি না। স্যার নাই তাই ফোর আর ফাইভ একলগে ক্লাস করি। সামনে আমাগো পরিক্ষা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষাকা রাশিদা পারভীন নিউজ থার্টিনাইনকে জানান, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ১৩৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে দুই জন শিক্ষক হিসেবে পাঠদান দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনা। তাই বাধ্য হয়ে একই কক্ষে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর একত্রে পাঠদান দিচ্ছি।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন অভিবাবক বলেন, স্কুলে যদি স্যার না থাকে তাইলে আমাগো পোলাপানকে ক্যামনে লেহাপড়া হিকবো। এমনিই পোলাপান লেখাপড়া করতে চাই না তার ভিতর যদি স্যার না থাকে তাইলে তো আমাগো মতই আমাগো পোলাপান মূর্খ হইয়া থাকবো।

এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি কাজী সালাহ্ উদ্দিন বিদুৎ নিউজ থার্টিনাইনকে বলেন, আমি মৌখিক ও লিখিত ভাবে অনেক বার উপজেলা প্রথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আক্তারের নিকট অভিযোগ করেছি। শিক্ষক সংকটের কারনে এমনটা হচ্ছে বলে উপজেলা প্রথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দাবি করেন।

 

 

নবাবগঞ্জে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত

“দুর্যোগের প্রস্তুতি সারাক্ষণ, আসবে টেকসই উন্নয়ন”-এই প্রতিপাদ্যে নবাবগঞ্জে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত হয়েছে। গত ১০ মার্চ শুক্রবার বেলা ১১টায় উপজেলা থেকে একটি র‍্যালী বের হয়। পরে উপজেলা সভা কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ মিয়া সভায় সভাপতিত্ব করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগের জাতীয় কমিটির সাবেক সদস্য আব্দুল বাতেন মিয়া, ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহনাজ মিথুন মুন্নী, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল উদ্দিন, জাতীয়পার্টি নেতা জুয়েল আহমেদ, জাহাঙ্গীর চোকদার, নবাবগঞ্জ থানার ওসি মোস্তফা কামাল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার কবির, ঢাকা জেলা পরিষদ সদস্য এসএম সাইফুল ইসলাম প্রমূখ।

 

মুকসুদপুরে শামসুদ্দিন শিকদার বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতার জীবনী গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

ঢাকার দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের মুকসুদপুর শামসুদ্দিন শিকদার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আলহাজ্ব শামসুদ্দিন শিকদারের উপর লিখিত জীবন গ্রন্থ, ‘স্মৃতির আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র আলহাজ্ব শামসুদ্দিন শিকদার জীবন ও কর্ম’ নামক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

মোড়ক উন্মোচনের সময় বইয়ের মূলভাব বর্ণনা করে লেখক মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, মরহুম শামসুদ্দিন শিকদার ছিলেন একজন নীতিবান মানুষ। মানবসেবী ও সৎ মানুষটির জীবনের নানান সাফল্য, ব্যর্থতা ও তার জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে এই বইটিতে।

গত শুক্রবার সকালে মুকসুদপুর শামসুদ্দিন শিকদার উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গণে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কে এম আব্দুল মান্নান, অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুলতান আলম শিকদার। অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন অত্র স্কুলের প্রধান শিক্ষক আহসান হাবীব। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন শামসুল হক, কবির হোসেন, জাহিদ হোসেন, হেনা আক্তার প্রমুখ।

বিএনপি নির্বাচনে কি যাবে না যাবে না ?

0

স্টেশন এখনো অনেক দূর। তবে রাজনীতি এরইমধ্যে উঠে গেছে নির্বাচনি ট্রেনে। সরব মসনদের কাণ্ডারিরা। জবাব দিচ্ছেন বিরোধীরাও। প্রধান ইস্যু একটি- বিএনপি নির্বাচনে যাবে, যাবে না। সরকারি দলের নেতারা প্রতিদিনই বলছেন, নিবন্ধন বাঁচাতে বিএনপি নির্বাচনে আসবে। এবং সেটা শেখ হাসিনার অধীনেই। অন্যদিকে, বিএনপি নেতারা বলছেন, নিবন্ধন দিয়ে রাজনীতি হয় না। দলটির কোনো কোনো নেতা এও বলছেন, প্রয়োজনে কেয়ামত পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। তবুও শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি।
দৃশ্যত ভোট নিয়ে এক ধরনের প্রচারণা এরইমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। বিশেষ করে বিএনপির স্নায়ুর পরীক্ষাই যেন নেয়া হচ্ছে। বিএনপির নিবন্ধন আর নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা কথা বলছেন না, এমন দিন খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারি দলের ভেতরে এরইমধ্যে নির্বাচনি প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে। বগুড়ার জনসভায় নৌকায় ভোট চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগে ইশতেহার তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তৃণমূল পর্যায়ে কোন্দল নিরসনের। নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ব্যাপারে নেয়া হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। বিশেষকরে এমপিদের তাগাদা দেয়া হয়েছে নির্বাচনি এলাকায় দলের মধ্যে কোনো কোন্দল যেন না থাকে তা নিশ্চিত করতে। তাদের নির্বাচনি প্রস্তুতিরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে বর্তমান সংসদের কতজন এমপি আগামী নির্বাচনে দলীয় টিকিট পান তা নিয়েও চলছে আলোচনা। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাজনীতিতে নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে আওয়ামী লীগের। তবুও দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, বিএনপি নির্বাচনে আসলে তাদেরকে কিছুটা হলেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। যে কারণে পুরোদমে নিজেদের প্রস্তুত করছে আওয়ামী লীগ। তাছাড়া, রাজনীতিতে কখনো কখনো হঠাৎই বদলে যায় পরিস্থিতি। এমন কিছু যেন না হয় সে ব্যাপারেও সতর্ক ক্ষমতাসীনরা।

অন্যদিকে, বিএনপি শিবিরে এখন নানা দুশ্চিন্তা। আগামী নির্বাচন প্রশ্নে দলটির কার্যক্রম এখনো আলাপ-আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা এখন পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার মামলা নিয়েই চিন্তিত রয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের দু’টি মামলার বিচার কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ দুটি মামলার রায়ের ওপর বহুলাংশে নির্ভর করছে বিএনপির রাজনীতির ভবিষ্যৎ। খালেদা জিয়াকে যদি কারাগারে যেতে হয় সেক্ষেত্রে বিএনপির রাজনীতির প্রেক্ষাপট হবে একরকম। আর তিনি যদি মুক্ত অবস্থায় থাকেন সেক্ষেত্রে বিএনপির রাজনীতির প্রেক্ষাপট হতে পারে অন্যরকম। তবে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের অনেকে মনে করেন, খালেদা জিয়ার সাজা হলেও তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে সংবিধান বা আইনে কোনো বাধা নেই। বিএনপির ভেতরেই অনেকের আশঙ্কা রয়েছে, খালেদা জিয়াকে যদি কারাগারে যেতে হয়, তবে দলটির ভেতর এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। ভাঙন তৈরির সম্ভাবনাও অনেকে নাকচ করছেন না। আলোচনা রয়েছে, ভঙ্গুর সে অংশ নির্বাচনে অংশ নিতেও পারে। তবে পরিস্থিতি যাই হোক দলীয় ঐক্য জোরদারের দিকেই মনোনিবেশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। যদিও দলটি ঘিরে বিশেষকরে তার কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের ঘিরে ওঠা ধোঁয়াশা এখনো কাটেনি। এ ব্যাপারে তিনি কোনো পদক্ষেপও নেননি বা নিতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতেও ভবিষ্যৎ নির্বাচন নিয়ে কোনো কার্যকর প্রস্তুতি নেই বিএনপিতে।
জাতীয় পার্টি বাংলাদেশের গত কয়েকটি নির্বাচনে নানা চমক তৈরি করেছিলো। তবে আগামী নির্বাচনেও দলটি এমন চমক তৈরি করতে পারবে বলে তেমন কেউ মনে করেন না। তবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বসে নেই। জোট গঠনের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কয়েকটি ছোট দল নিয়ে তিনি চেষ্টা করছেন নির্বাচনি জোট গঠন করার। দুঃসময় কাটানো জামায়াত ইতিমধ্যে নিবন্ধন এবং প্রতীক দুটিই হারিয়েছে। আগামী নির্বাচনে দৃশ্যত জামায়াতের কোনো ভূমিকা থাকবে না বলেই মনে হচ্ছে।
যে যাই বলুক ভোটের রাজনীতি এরইমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। সামনের দিনগুলোতে এ রাজনীতি আরো জটিল হবে সে কথা এখনই হলফ করে বলা যায়।
উৎসঃ মানব জমিন

সংবাদ ও সাংবাদিকতা

News39 Journalism Training Centre : সংবাদ ও সাংবাদিকতা কী? সাংবাদিক কারা: সাংবাদিক বলা হয় কাদের? প্রেস কাউন্সিল এ্যাক্ট-এ সাংবাদিকের একটা সংজ্ঞা দেয়া আছে। এতে বলা হয়েছে : Working journalist means the activity or profession of writing for newspapers, magazines, or news websites or preparing news to be broadcast by a person who is employed as such in, or in relation to, any newspaper establishment and includes an editor, a leader writer, news editor, sub-editor, feature writer, reporter, correspondent, copy tester, cartoonist, news photography, caliograpist and proof reader.

তাহলে স্পষ্টত ধরে নেয়া যায়, সংবাদপত্র অফিসে কর্মরত সম্পাদক, উপ-সম্পাদকীয় লেখক, বার্তা সম্পাদক, সহ-সম্পাদক, ফিচার সম্পাদক, প্রতিবেদক, প্রতিনিধি, লিপিবদ্ধকার, কার্টুনিস্ট, আলোকচিত্রী ও প্রুফ রিডার-সকলেই সাংবাদিক। এঁরা খবরের সন্ধান করেন, খবরের পেছনে ছোটেন, খবর নির্বাচন করেন, সম্পাদনা করেন, সংশোধন করেন। সাংবাদিকরা যা করেন, তা হচ্ছে সাংবাদিকতা। অন্যদিকে সাংবাদিকতা হচ্ছে কাজ। এঁদের কাজ হচ্ছে তথ্য সংগ্রহ করা, প্রতিবেদন লেখা এবং সম্পাদনা করা।

খবর কাকে বলে:

খবর বা সংবাদ-এর নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা নেই। তবে এক কথায় বলা যায় সংবাদ হলো চলতি ঘটনার বস্তুনিষ্ঠ বিবরণ, যা পাঠকের আগ্রহ উদ্দীপিত করে। এ কথাটাকে একটু কঠিন করে বললে এভাবে বলা যায়: স্থিতাবস্থার পরিবর্তনে সৃষ্ট ঘটনা, যাতে সমাজে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় এবং যা অবশ্যই সত্য, বস্তুনিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ, তাকে খবর বা সংবাদ বলে। new হচ্ছে নতুন আর সেই new -এর বহুবচন হচ্ছে news। এজন্য সংবাদ বিশ্লেষকরা বলেন, news must be new।

খবরের বিশেষত্ব কী:

আমাদের মনে রাখতে হবে-যা দেখি, তা খবর; যা জানি, তা প্রেক্ষাপট (background) এবং যা অনুভব করি, তা মতামত। খবরের যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিশেষত্ব আছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে : ক. সংবাদ কোনো ঘটনা নয়, ঘটনার প্রতিবেদন মাত্র; খ. খবর সাধারণত কোনো নতুন বা সাম্প্রতিক ঘটনার প্রতিবেদন গ. সংবাদ অবশ্যই নির্ভুল হতে হবে ঘ. সংবাদের তথ্যগুলোকে অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে ঙ. প্রতিটি প্রতিবেদনই হবে নিরপেক্ষ বা ভারসাম্যপূর্ণ চ. সংবাদ হতে হবে সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট।

খবর সম্পাদনা :

খবর যাঁরা সম্পাদনা করেন তাঁদের বলা হয় সহ-সম্পাদক বা subeditor . Subbing মানে হচ্ছে বিন্যাস, আর editing মানে হচ্ছে সম্পাদনা। তাই খবর সম্পাদনা মানে পরিমার্জন, সংশোধন ও সংযোজন। রিপোর্টারদের বলা হয়ে থাকে রণক্ষেত্রের সৈনিক এবং সহ-সম্পাদকদের বলা হয় সংবাদপত্রের অভিনন্দিত নায়ক (Unseen Hero of Newspaper)। খবর নির্বাচন ও বাতিলের ক্ষেত্রে ‘নিউজ সেন্স’ (সংবাদ জ্ঞান)-ই মুখ্য ব্যাপার। সংবাদ জ্ঞানই সংবাদ মূল্য নির্ধারণ করে।

সাব-এডিটরের কাজ:

সাব-এডিটরের তিনটি কাজ। সেই তিনটি কাজ হচ্ছে তিনটি উ-এর মোকাবেলা। প্রথম ‘c’ carelfy : নাম, সংখ্যা, তথ্য, শব্দ, তারিখ ইত্যাদি নিরীক্ষণ। দ্বিতীয় ‘c’ checking : ভারসাম্য রক্ষা, স্পষ্ট বক্তব্য উপস্থাপন, বাহুল্য বর্জন, কম কথা, c (পরিভাষা) ও উফধডদণ্র (বারবার ব্যবহারের কারণে ধার নষ্ট হওয়া) এবং সর্বশেষ c’ condence : অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দেয়া এবং সাবলীল উপস্থাপনা।

সাব-এডিটরের দায়িত্ব:

সাব-এডিটরের দায়িত্ব অন্য অনেকের চেয়ে বহু বেশি। তাঁদেরকে বলা হয়ে থাকে last check post : (শেষ সীমান্ত ফাঁড়ি)। এজন্য সংবাদটি প্রেসে দেয়ার আগে ভালো করে পড়ে নিতে হবে এবং দেখতে হবে-খরবটি সংক্ষিপ্ত ও compact হয়েছে কিনা; ভুল ও বাহুল্য বর্জন করা হলো কিনা এবং অস্পষ্টতা দূর হয়েছে কিনা। খবরের ভালো lord cliff বা শিরোনাম দেয়াও সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব।

সংবাদপত্রের লক্ষ্য :

to infrom বলেছেন : ‘অভ্যাস ও কৌতূহলের কারণে মানুষ সংবাদপত্র পড়ে’। এজন্য সংবাদপত্রে কর্মরত সাংবাদিকদের সংবাদপত্রের লক্ষ্য সম্পর্কে সচেতন থাকতে হয়। আমরা জানি পত্রিকার লক্ষ্য তিনটি : ১. অবগত করা ২ বিনোদনের ব্যবস্থা (to recration) এবং ৩. শিক্ষিত করা (কম educated)। তবে সবক্ষেত্রে আমাদের সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করে অগ্রসর হতে হয়।

সাংবাদিকতার নীতিমালা:

সাংবাদিকতার নীতিমালা তৈরি হয় দেশের মানুষের মূল্যবোধ থেকেই। code of ethics (Ethics of journalism)-এ সাংবাদিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বলা থাকলেও আইনটা কোনো ব্যাপক নয়, দায়িত্ববোধই মূল ব্যাপার। সাংবাদিকের বিবেকই বলে দেবে-কোনটা ছাপবো, কোনটা ছাপবো না। সাংবাদিকদের সব সময় মনে রাখতে হয় সত্যই এ পেশার মানুষের একমাত্র লক্ষ্য। তবু নীতিমালায় যেসব বিষয় উল্লেখ আছে, তা এখানে সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরছি:

ক. ভাষাকে অবশ্যই শোভনভাবে উপস্থাপন করতে হবে
খ. অপরাধ সম্পর্কে লিখতে গিয়ে মনে রাখতে হবে যেন কদর্য বিষয় সংবাদে চলে না আসে
গ. সংবাদ যেন অতিরঞ্জিত না হয়
ঘ. অপরাধীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে
ঙ. ‘গুজব’-এর উপর নিউজ তৈরির আগে তা অবশ্যই যাচাই করতে হবে
চ. কারো ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা যাবে না। ব্যক্তিটি যদি পাবলিক ফিগার হয়, তাঁর জীবনের নানা বিষয়ে প্রশ্ন করা যাবে
ছ. অভিযুক্ত ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার আছে, তাই তাঁর বক্তব্য বা প্রতিবাদ ছাপানোর ব্যবস্থা করতে হবে
জ. আদালতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক অপরাধকে সবসময় নিরুৎসাহিত করতে হবে
ঝ. সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে
ঞ. সংবাদের কোনো তথ্য বা বক্তব্য যেন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না করে, সেদিকে নজর রাখতে হবে
ট. প্রভাবিত হয়ে কিংবা উদ্দেশ্যমূলকভাবে নিউজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে (junket)
ঠ. স্ব স্ব পত্রিকার সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করতে হবে।

সম্পাদকীয় নীতি :

সম্পাদকীয় নীতি বা editorial policy -তে কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এই বিষয়গুলোর উপর নির্ধারিত হয় সম্পাদকীয় নীতিযেমন :

১. প্রচলিত আইন : প্রতিটি কর্মরত সাংবাদিককে দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হয়।

২. মালিকের স্বার্থ : মালিকের ব্যবসায়িক স্বার্থ যেন অক্ষুণ্ন থাকে সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে।

৩. মালিকের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি : মালিকের ব্যবসায়িক স্বার্থের সাথে তাঁর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রাধান্য দিতে হয়। রাজনীতি বিষয়ে তিনি কী মত পোষণ করছেন, সেই মতানুসারে সংবাদের ট্রিটমেন্ট জড়িত।

৪. প্রেসার গ্রুপ : সংবাদপত্রে কাজ করতে গেলে কোনো সময় কোনো না কোনো গ্রুপের প্রেসারে থাকতে হয়। এই গ্রুপের সাথে যথাসাধ্য চেষ্টার মাধ্যমে সমঝোতা বজায় রেখে নিউজ ছাপতে হয়।

৫. পাঠকের চাহিদা : পাঠকই সংবাদপত্রের মূলধন। এদের চাওয়া-পাওয়া, ভাবনা-চিন্তার প্রতি সাংবাদিকদের শ্রদ্ধাশীল হতে হয়। এরা কী চায়-তা বুঝে নিয়ে পত্রিকাকে ওভাবে সাজাতে হয়।

সহ-সম্পাদকের গুণাবলী:

‘সাংবাদিকতার অন্য অর্থ-হচ্ছে সর্ব বিষয়ে ধারণা রাখা’-কথাটি আবুল মোমেনের। রাজনীতি-অর্থনীতি-সংস্কৃতি-সাহিত্য-ক্রীড়া-ভূগোল-ইতিহাস-সব বিষয়ে আগ্রহ থাকা এবং যথাসাথ্য এগুলো দখলে রাখা একজন সাংবাদিকদের জন্য জরুরি ব্যাপার। ১৯৯৭ সালে পিআইবির একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ ক্লাশ নেয়ার সময় বলেছিলেন : ‘সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় দরকার sense of responsibility(দায়িত্ব জ্ঞান) সমাজ, দেশ, জাতি ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ মনোভাব থেকে কাজ করতে হবে। আত্মমর্যাদাবোধ ও সততা থাকতে হবে’।

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান বলেছিলেন, “সাংবাদিকদের দ্বিমুখী মন ( bifocal mind ) থাকতে হবে এবং থাকতে হবে সমানুভূতি (empathy)।”

অন্যদিকে রফিকুল ইসলাম নাসিম সহ-সম্পাদকদের গুণাবলী সম্পর্কে বলেছিলেন,

ক. মানসিক আবেদন, অনুভূতি, রসবোধ, কোনো কোনো বিষয়ে মুক্তবুদ্ধি এবং বিষয়ের গভীরে যাওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে।
খ. সুবিন্যস্ত মনের শৃঙ্খলাবোধ থাকতে হবে।
গ. মাত্রাজ্ঞান থাকতে হবে।
ঘ. ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দেয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে
ঙ. দ্রুত অথবা নির্ভুল কাজ করতে হবে
চ. সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে
ছ. পাঠকের দৃষ্টিকোণ থেকে খবর পর্যালোচনা করতে হবে
জ. সত্য-মিথ্যা বিবেচনার ক্ষমতা থাকতে হবে
ঝ. সংবাদ বিষয়ক আইন ও নীতিমালা সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে এবং
ঞ. শারীরিক সুস্থতা থাকতে হবে।

আগামী বছরের নভেম্বর বা ডিসেম্বরে হবে সংসদ নির্বাচন

0

news39: সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের নভেম্বরের প্রথমে তফসিল ঘোষণা করে ডিসেম্বরের শেষভাগে নির্বাচন হতে পারে বলে মনে করছে ইসি।‘২০১৮ সালের ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের টার্গেট নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছে কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নবগঠিত নির্বাচন কমিশন (ইসি)।  সেই অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা তৈরির জোর প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে  ইসি সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ  বলেন, সংবিধান অনুযায়ী দশম সংসদের মেয়াদ শেষের ৯০ দিন আগে নির্বাচন করতে হবে। সেই হিসাবে আগামী বছরের ডিসেম্বর মাসকে টার্গেট করে নির্বাচনের প্রস্তুত গ্রহণ করা হচ্ছে।

ইসির তথ্য মতে, চলতি মার্চে তৈরি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী দুই বছর ধরে প্রস্তুতি নেবে কমিশন। প্রস্তাবিত রোডম্যাপে রাজনৈতিক দল, মিডিয়া সবার সঙ্গেই সংলাপের প্রস্তাবনা থাকবে। ইসির কর্মপরিকল্পনার মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থার নিবন্ধন, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা মুদ্রণ, ডিজিটাল ভোটিং মেশিনে (ডিভিএম) ভোট গ্রহণ, বিভিন্ন আইন-কানুন সংশোধন ও আলোচনার জন্য সম্ভাব্য সূচি থাকবে। সেই সঙ্গে সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করে কাজ শেষ করার বিষয়টি রোডম্যাপে অগ্রাধিকার পাবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় বিষয়ে রাজনৈতিক দলসহ সবার মতামত নেওয়ার পক্ষে এ মাসের শেষদিকে কমিশনের কাছে প্রস্তাব রাখবে ইসি সচিবালয়।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে পুনরায় সরকার গঠনের সুযোগ পায়। নির্বাচিত সংসদের মেয়াদ হয় সংসদ সদস্যরা শপথ নেয়ার দিন থেকে পরবর্তী ৫ বছর। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি সরকার গঠন করা হয়। সেই হিসাবে বর্তমান সংসদের মেয়াদ পূর্ণ হবে ২০১৯ সালের ১১ জানুয়ারি। সেক্ষেত্রে ২০১৯ সালের ১১ জানুয়ারির পূর্বের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা আছে। সংবিধানের ১২৩(৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান রয়েছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের মাঠ কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির কাজও হাতে নেয়া হচ্ছে। দফায় দফায় নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে কর্মকর্তাদের। সব উপজেলায় নিয়োগ দেয়া হচ্ছে নির্বাচন অফিসার। সেই সঙ্গে কর্মকর্তাদের মনোবল ধরে রাখতে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে যাদের বয়স ১৮ বছর হবে তাদেরও ভোটার করার জন্য আগাম তথ্য সংগ্রহ করেছে ইসি। এ ক্ষেত্রে ভোটার তালিকার কাজও অনেকটা এগিয়ে থাকছে।

দোহারে গাছে গাছে আমের মুকুল, ব্যাপক আম উৎপাদনের সম্ভাবনা

 

চলতি মৌসুমে ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় প্রতিটি গ্রামের আম গাছ জুড়ে আমের মকুলে ছেয়ে গেছে । প্রকৃতির নানা ধরনের ফুলের মতো সৌরভ ছড়াচ্ছে আমের মুকুল। আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে চারিদিক মুখরিত ।

আমের মুকুলের সেই সুমিষ্ট সুভাস আনন্দিত করে তুলছে মানুষের মন। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকেই গাছে মুকুল দেখা দিতে শুরু করেছে। এখন সময়ের ব্যবধানে তা আরো বাড়ছে। তবে ঢাকার দোহার উপজেলায় গত বছরের তুলনায় এ বছর গাছে মুকুলের পরিমাণ বেশি। এছাড়া বাগান করে আম চাষ কম হলে ও প্রতিটি ভিটে বাড়ির আঙ্গিনার চারপাশে আমের চাষ করা হয় বেশি। আর এসব আম গাছ গুলোতে শোভা পাচ্ছে আমের মুকুল। আম চাষি এবং উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবার আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন।

স্থানীয় বসতবাড়ীর আম চাষীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, আবহাওয়া ঠিক থাকলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোন ক্ষতি না হলে ও সময়মতো পরিচর্যা হলে গত বছরের তুলনায় এবছর চলতি মৌসুমে আমের ভালো ফলন হবে। এছাড়া দোহারের ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে বসতবাড়ি ও বাগানে আম চাষ করা হয়ে থাকে। তবে দোহারে বসত বাড়ীর আঙ্গিনার চারপাশ দিয়েই আম চাষ বেশি দেখা যায় ।

সালমান, মান্নান, নির্মল, তরুণ না হুদা কে হচ্ছেন ঢাকা-১ আওয়ামী লীগের প্রার্থী ?

নিউজ৩৯ স্পেশালঃ ঢাকা জেলায় মোট সংসদীয় আসন ২০ টি। আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ সদস্য রয়েছেন ১৪ জন। জাতীয় পার্টি ৩ জন, ওয়ার্কার্স পার্টি ১জন ,বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট ( বিএনএফ) ১ জন এবং স্বতন্ত্র ১জন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকার আসনগুলোতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন কারা পাচ্ছেন এবং জোট শরিকদের ক’টি আসনে ছাড় দিবে এনিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। রয়েছে নানা গুঞ্জণও। বিশেষ করে ঢাকা-১ আসন নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বেশ কৌতুহলে রয়েছেন।

ঢাকা- ১ আসনে সম্ভাব্য আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা সকলেই হেভিওয়েট। বিশ্বের শীর্ষ ধনিদের তালিকায় প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে স্থান পাওয়া সালমান এফ রহমানকে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী করতে পারে। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে হেরে যান। জয়ী হয়েছিলেন বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাজমূল হুদা। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা পদে রয়েছেন সালমান এফ রহমান।

২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী সাবেক বিমান মন্ত্রী আব্দুল মান্নানকে পরাজিত করে জয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও তৎকালীন দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান। ছাত্র ইউনিয়ন ১৬তম কমিটির সভাপতি ছিলেন আব্দুল মান্নান খান । বর্তমানে আব্দুল মান্নান খান আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। এছাড়া দোহার-নবাবগঞ্জ যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগে রয়েছে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় রাজনৈতিক ক্রান্তিকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যাক্তিগত আইনজীবী হিসাবে নিয়মিত আদালতে মামলা পরিচালনা করেছেন, করেছেন দলীয় প্রেস ব্রিফিংও।

১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন বর্তমানে ঢাকা জেলা প্রশাসক ও ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী মাহবুবুর রহমান। তৃণমূলে জনপ্রিয় এই নেতা পরিচিত দোহারের মাটি ও মানুষের নেতা হিসাবে। বর্তমানে ঢাকা জেলা প্রশাসক হওয়ায় জাতীয় নির্বাচনে তিনি অংশ নিবেন কি’না তা এখনো সুস্পষ্ট নয়। তবে বর্তমানে সালমান এফ রহমানের বিভিন্ন প্রোগ্রামে তাকে নিয়মিতই দেখা যায়।

বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ – সভাপতি ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহও রয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায়। দোহার – নবাবগঞ্জের প্রায় ৬০,০০০ হাজার হিন্দু ভোটে তার রয়েছে একক জনপ্রিয়তা। এছাড়া তত্বাবধায়ক সরকারের সময় রাজনৈতিক ক্রান্তিকালে আওয়ামীলীগ নেত্রি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রেফতার হলে, তার প্রতিবাদে প্রথম সরব ছিল স্বেচ্ছাসেবকলীগ। মিছিল থেকে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের কারণে পরবর্তীতে গ্রেফতার হোন শেখ হাসিনার আস্থাভাজন নির্মল গুহ। তিনি দোহারে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনেও সক্রিয়ভাবে জড়িত। দোহার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগেও তার রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা।

সম্ভাব্য আরেক প্রার্থী ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ। দোহার – নবাবগঞ্জ ছাত্রলীগের কমিটি গঠন দেখভাল অনেকটাই তার হাতে। এছাড়া তিনি ছিলেন আওয়ামী কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক । আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহি কমিটির সদস্য আব্দুল বাতেন , পনিরুজ্জামান তরুণের আপন বড় ভাই।

এরপর রাজনীতিতে ঘটেছে অনেক ঘটনা-অঘটনা। সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী নাজমূল হুদা বিএনপি ছেড়ে তৃণমূল বিএনপি গঠন করেছেন। বেশ কিছু ছোট দল নিয়ে জাতীয় জোট – বিএনএ গঠন করেছেন তিনি। এদিকে বৃহস্পতিবার নাজমূল হুদা জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকে তার জোটের প্রধান করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

সালমান এফ রহমান এবং নাজমূল হুদা সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। দীর্ঘদিন দু’জনের মধ্যে খুব বিরোধ ছিল। কয়েকদিন আগে অবশ্য চাচা-ভাতিজার বিরোধ মিটে যাওয়ার আভাষ মিলেছে। একই মঞ্চে বসে সভা করেছেন তারা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সভায় দাবি করেন, চাচা – ভাতিজার বিরোধ মিটে গেছে।

ঢাকা-১ আসনে বর্তমান এমপি জাপার অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুলের স্ত্রী তিনি। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খানকে পরাজিত করেন সালমা ইসলাম। জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য পদে রয়েছেন তিনি। এখন হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ বিএনএ জোটের প্রধান হলে জাতীয় পার্টি’র আনুকূল্য কে পাবেন – সালমা ইসলাম না ব্যাঃ হুদা? সে ব্যাপারেও রয়েছে কৌতূহল।

নাকি কখনো পরাজিত না হওয়া, পরপর ৩ বার জাতীয় সংসদে ঢাকা-১ আসনের প্রতিনিধিত্বকারী  ব্যাঃ হুদাই হবেন জোটগত ভাবে মহাজোটের প্রার্থী?

আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নুর আলীও রয়েছেন আলোচনায়। ২০০১ সালে তৎকালীন ঢাকা- ২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন তিনি। বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মান্নানের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন নুর আলী। বর্তমানে তিনি ঢাকা-১ আসনের ভোটার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত, এখন সময় ও রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহের উপর নির্ভর করছে সংসদীয় আসন ১৭৪, ঢাকা-১ দোহার-নবাবগঞ্জে কে হবেন মহাজোট তথা আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

জয়পাড়া বাজারে এক রাতে ৭ দোকানে চুরি

দোহারের জয়পাড়া বাজারে এক রাতে সাত দোকানে চুরি হয়েছে। ৯ মার্চ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টায় এ চুরি সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা। ৫ টি জুতার দোকান এবং দুইটি মোবাইলের দোকানে চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দোকান মালিকেরা। স্টাইল শো ষ্টোরের মালিক সাগর আহাম্মেদ নিউজ থার্টিনাইনকে বলেন,”গতকাল রাতে দোকান বন্ধ করে বাসায় যাই। আজ সকালে দোকান খুলতে এসে দেখি শাটারের তালা ভাংগা। ক্যাশ বাক্সে থাকা নগদ ১০ হাজার টাকা নেই। পরে শুনতে পাই রাতে আমার দোকানসহ আশে পাশের আরো ৬ দোকানে চুরি হয়েছে”।

চুরির খবর শুনে সকাল ১১ টায় পরিদর্শনে আসেন জয়পাড়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা। বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো.কুদ্দুস আহাম্মেদ নিউজ থার্টিনাইনকে বলেন,”কত টাকার মালামাল চুরি হয়েছে তার সঠিক পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। চুরি হওয়া দোকানগুলোর মালিকদের সাথে বিকেলে জরুরী সভার আহ্বান করা হয়েছে। সভায় বিস্তারিত জানা যাবে”।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চুরির বিষয়ে দোহার থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

 

 

দোহারে দুর্নীতি বিরোধী মানববন্ধন ও র‍্যালী অনুষ্ঠিত

দোহারের জয়পাড়ায় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে দুর্নীতি বিরোধী মানববন্ধন ও র‍্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১০ মার্চ শুক্রবার সকাল ১০ টায় দোহার উপজেলা পরিষদ থেকে একটি র‍্যালী বের করা হয়। র‍্যালীটি উপজেলা পরিষদ থেকে বের হয়ে রতন স্বাধীনতা চত্তর প্রদক্ষিণ করে উপজেলা প্রাঙ্গণে মানববন্ধন এ পথ সভার মাধ্যমে শেষ হয়।

উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সুধীর চন্দ্র পালের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম. আল-আমীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কমিশনার (ভূমি) মোজ্জামেল হোসেন রাসেল, উপজেলা দুর্নীতি কমিটির সহ-সভাপতি এবং ড্যাফোডিল স্কুলের শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিন, ইকরাশি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা দুর্নীতি কমিটির সাধারণ সম্পাদক একলাল উদ্দিন আহাম্মেদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দোহারের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম.আল-আমীন বলেন,” দুর্নীতিকে যেন নীতির কাছে পরাজিত করা যায় সে লক্ষে সকলেকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে’’।