ঢাকা জেলা পরিষদে দূর্নীতি মুক্ত উন্নয়ন হবে; মাহবুবুর রহমান

ঢাকা জেলা পরিষদে দূর্নীতি মুক্ত উন্নয়নের ঘোষণা দিলেন পরিষদের মাহবুবুর রহমান। গতকাল ৩০ মার্বৃচ হস্পতিবার বিকালে নবাবগঞ্জের বান্দুরা ইউনিয়নের হাসনাবাদ গ্রামে আয়োজিত আওয়ামীলীগের কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন।

মাহবুবুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ২৫বছর রাজনীতি করেছি। কোন কিছু পাওয়ার জন্য নয়। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি যতো দিন আছি, জেলা পরিষদের প্রকল্পে কোন রকমের অনিয়ম ছাড় দেয়া হবে না। তিনি বলেন, বিগত সময়ে জেলা পরিষদের অর্থ বরাদ্ব নিয়ে দূর্নীতি হয়েছে। নামে বেনামে অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে। তাই প্রতিটি প্রকল্পে তিনস্তরে তদন্ত টিম নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অনিয়মকারীরা সাবধান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ফ্রান্স আওয়ামীলীগের সাবেক উপদেষ্টা মো. হাসান ইকবাল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, নবাবগঞ্জ থানার ওসি মোস্তফা কামাল, কুসুমহাটি ইউপি চেয়ারম্যান, আমজাদ হোসেন আজাদ, আওয়ামীলীগ নেতা- সেলিম আহমেদ সেন্টু, মো. সাহাবউদ্দিন, সুকুমার হালদার, মো. আইয়ুব আলী, ছাত্রলীগ নেতা রাসেল পারভেজ, জিকু দেওয়ান, মো. উজ্জল প্রমূখ।

নবাবগঞ্জে স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত

নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের তাশুল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচনে শতস্ফুর্ত ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল ৩০ মার্চ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৮টি পদে ১৭জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দি¦তা করে। মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৮৫৫জন।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, নির্বাচনে দশম শ্রেণীর বিকাশ সরকার (৫১৮), নবম শ্রেণির ফয়সাল আহমেদ (৪৮৫), বৃষ্টি আক্তার (৩৫৯), অষ্টম শ্রেণির তৌহিদুর রহমান (৩৪৩), সপ্তম শ্রেণির নাজমুল হোসেন (৩৫৪), রোকেয়া আক্তার (৩১২), ষষ্ঠ শ্রেণির প্রমিলা বিশ্বাস (৩৩৯) ও আলী আব্বাস (৩২৩) ভোট পেয়ে কেবিনেট সদস্য নির্বাচিত হন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আকাশ মিয়া জানান, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন ও কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার বসাক বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে গণতন্ত্রের চর্চা হিসেবে সরকারের নির্দেশ মোতাবেক এই নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে।

নবাবগঞ্জে পিংকু হত্যা; চার লাখ টাকায় ভাড়া করা হয় খুনিদের

নবাবগঞ্জ উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের মালিকান্দা গ্রামের ব্যবসায়ী গোলাপ হোসেন পিংকু হত্যার বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। পিংকুকে হত্যা করতে চার লাখ টাকায় খুনিদের ভাড়া করা হয়। পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছেন মরিয়ম আক্তার নামে একজন নারী। সে ওই গ্রামের আবদুল লতিফ মাস্টারের মেয়ে। জব্দ করা মরিয়মের মোবাইলের মেমোরি কার্ড থেকে এসব তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এদিকে হত্যার ঘটনায় হাফিজ উদ্দিন নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

সূত্র জানায়, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে পিংকুর বিরোধ ছিল। তিন বছর আগে মরিয়মের বাবার বাড়িতে চড়াও হয়ে তাকে মারধর করে পিংকু। বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর নিয়ে পিংকুর সঙ্গে তাদের বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়। সেই সূত্র ধরে পুলিশ মরিয়মের বাসায় অভিযান চালায়। তার ব্যবহার করা মুঠোফোনের একটি মেমোরি কার্ড জব্দ করে যা  থেকে বেরিয়ে আসে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মরিয়ম তার ভাই অ্যাডভোকেট মতিউর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে পিংকুকে হত্যার পরিকল্পনার কথা আলোচনা করে। হত্যাকাণ্ড ঘটাতে চার লাখ টাকায় খুনি ভাড়া করা হয়। অন্য একটি গ্রুপ দুই লাখ টাকায় কাজ করতে রাজি হয় এমন বিষয় নিয়ে মরিয়ম তার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলছিল। এসব তথ্য জানার পর মতিউর ও তার বোন মরিয়মকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। দু’জনেই গা ঢাকা দিয়েছে।

 

নবাবগঞ্জে ভন্ড ফকিরের অপচিকিৎসায় প্রবাসীর মৃত্যু

নবাবগঞ্জের টুকনীকান্দা গ্রামে জব্বর মোল্লা নামে এক ভন্ড ফকিরের অপচিকিৎসায় সুক্কু মোল্লা (৫০) নামে এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকে জব্বর মোল্লা পলাতক রয়েছে।

নিহত সুক্কু মোল্লা বালুরচর গ্রামের মৃত ওয়াজ উদ্দিন মোল্লার ছেলে। তিনি হৃদরোগে ভোগছিলেন। গত আড়াই মাস পূর্বে সৌদি আরব থেকে তিনি দেশে আসেন। জব্বর মোল্লা টুকনীকান্দা গ্রামের মৃত হাসু ফকিরের ছেলে।

নিহত সুক্কু মোল্লার স্ত্রী সালমা বেগম জানান, গত আড়াই মাস পূর্বে সৌদি আরবে হৃদরোগে আক্রান্ত হন সুক্কু মোল্লা। সেখানে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেন। ৬/৭ বছর আগে সৌদিতে এক সাথে কাজ করতেন জব্বর মোল্লা ও সুক্কু মোল্লা। খবর পেয়ে প্রবাসী বন্ধুর বাড়িতে যায় ভন্ড কবিরাজ। সে হৃদরোগ সহ নানা রোগের চিকিৎসা দেন বলে তাকে আশ^স্ত করেন। কথায় বিশ^াস করে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর কবিরাজের কাছে যায় সে।

সালমা বেগম অভিযোগ করেন, সেখানে সুক্কু মোল্লাকে পায়ের নিচ দিয়ে হাত দিয়ে মাথা উঁচু করতে বলা হয়। এসময় ঘাড় বাঁকা করে জোরপূর্বক ধরে রাখে জব্বর ফকির। পরে ঐ অবস্থাতেই মাথায় তেল দিয়ে তিন ঘন্টা মালিশ করে। এক পর্যায়ে বুকে ব্যাথা অনুভব করে সুক্কু মোল্লা অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে ফকির বাঁধা দেয়। পরে স্বজনরা তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি ঘটলে রাত ৩টার দিকে তাকে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় স্বজনরা। ঐসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বুধবার সকাল ১০টায় সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুক্কু মোল্লার মৃত্যু হয়।

টুকনীকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ময়না বেগম অভিযোগ করেন, গত বছর তার মেয়ের জামাইকে চিকিৎসার জন্য এনেছিলেন। ১০ মাসে ১০হাজার টাকা হাদিয়া দিলেও সুফল পাওয়া যায়নি। জব্বর মোল্লা একজন ভন্ড ফকির।

বালুরচর গ্রামের উজ্জল মামুন শিপু জানান, গত ৬মাস আগে হৃদরোগের চিকিৎসার নিতে জব্বর মোল্লার কাছে যাই। চিকিৎসার শুরুতেই ৫০৫ টাকা, দেড় কেজি করে ৫ রকমের ফল ও মিষ্টি, আগর বাতি দিয়েছি। আমাকেও একই পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। অসুস্থ অনুভব করার পর থেকে আর সেখানে যাইনি।

এদিকে, দুপুর ১টার দিকে নিহতের লাশ গ্রামে আসে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনার পর থেকে ভন্ড ফকির জব্বর মোল্লা পলাতক রয়েছে।

এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক কামরুল হাসান বলেন, নিহতের পরিবার কোন অভিযোগ করেনি। তবে ভন্ড ফকিরের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী নানা অভিযোগ করেছেন। সেই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দোহারে ৮ জুয়াড়িকে আটক করেছে পুলিশ

দোহার উপজেলার নারিশা বাজারে জুয়া খেলার সময় আট জুয়াড়িকে আটক করেছে দোহার থানা পুলিশ। গত ২৮ মার্চ মঙ্গলবার রাতে দোহার থানা ওসি সিরাজুল ইসলামের নেত্বতে একটি বিশেষ দল উপজেলার নারিশা বাজারে অভিযান চালিতে তাদেরকে আটক করে বলে জানা গেছে।

আটকৃতরা হলেন উপজেলার নারিশা গ্রামের সুবল দাস (৪০) পিতা নিতাই দাশ, আবুল হাসেম (৪০) পিতা বদন মল্লিক গ্রাম নারিশা পশ্চিমচর, মনির হোসেন (৩৯) পিতা দানেশ শেখ গ্রাম মেঘুলা, কবির হোসেন (৪০) পিতা সামসু শেখ গ্রাম মেঘুলা, অলি উসমান (৪০) পিতা আয়ুব আলী গ্রাম নারিশা,খলিলুর রহমান (৪৫) পিতা কিয়ামুদ্দিন গ্রাম নারিশা বেলতলা, স্বপন মিয়া (৪৫) পিতা মোর্শেদ বেপারী গ্রাম শিমুলিয়া, নাছির উদিন (৪৫) পিতা মুসলেম উদ্দিন গ্রাম নারিশা।

পুলিশ জানায়, ২৮ মার্চ মঙ্গলবার রাতে উপজেলার নারিশা বাজারের ইব্রাহিম মৃধার মার্কেট পেছনে জুয়া খেলার সময় তাদেরকে আটক করে পুলিশ। পরদিন ২৯ মার্চ বুধবার সকালে কোর্টে প্রেরণ করা হয়।

এ বিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম শেখ বলেন, মঙ্গলবার রাতে থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল নিয়ে জুয়াড়িদের গ্রেফতার করি। তারপর নিয়মিত মামলায় গতকাল বুধবার সকালে তাদেরকে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে”।

 

 

দোহার থেকে আটককৃত তিনজন ‘নব্য জেএমবি’র সদস্য: সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব

মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) রাতে দোহার থেকে তিনজনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেয়ার খবর আসে। প্রাথমিক অবস্থায় কারা তাদের আটক করেছে তা জানা যায় নি। আজ বুধবার র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক এএসপি মিজানুর রহমান জানান মঙ্গলবার রাতে তাদের আটক করা হয়। এবং বুধবার দুপুর ১২টায় কারওয়ানবাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

কাওরান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন র‌্যাব ১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর। সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের ভাষ্য, সারোয়ার-তামিম গ্রুপের জঙ্গি সদস্যরা ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ ও দোহার থানা এলাকায় আত্মগোপনে থেকে পুনরায় সংগঠিত হয়ে নাশকতার মাধ্যমে সংগঠনকে চাঙা করার পরিকল্পনা করছিলেন।

গ্রেপ্তার হওয়া চারজন হলেন দোহার মৌড়া এলাকার আবু বকর বাবুলের দুই ছেলে মিজবাহ (১৯) ও মাহফুজ (১৬)। মিজবাহ নবাবগঞ্জ সোনাহাজরা মাদ্রাসার ছাত্র। মাদ্রাসায় পড়ার ফাঁকে একটি মোবাইল সার্ভিসিং দোকানে মেকানিক হিসেবে কাজ করে। তাঁর ভাই মাহফুজ জয়পাড়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া তাইবুর রহমান (১৮) নারিশা সাকিন এলাকার সোহরাব তালুকদারের ছেলে। তিনি মাদ্রাসার ছাত্র। মিজবাহ ও কথিত বড় ভাইয়ের প্ররোচণায় উগ্র ধর্মীয় ভাবাদর্শে উদ্বুদ্ধ হন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গত ২০ মার্চ র‍্যাব রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সারোয়ার-তামিম গ্রুপের দুই ইঞ্জিনিয়ারসহ মোট পাঁচ জঙ্গি সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। ওই জঙ্গিদের কাছ থেকে বিস্ফোরক ও জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় বাড্ডা থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় র‍্যাব-১০ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকীর নেতৃত্বে একটি দল দোহার মৌড়া এলাকা থেকে মিজবাহ ও তাঁর ভাই মাহফুজকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কক্ষ থেকে জঙ্গি প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ কাজে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ এবং বিছানার নিচ থেকে মাহফুজের হাতে তৈরি দেশীয় অস্ত্র ডেগার উদ্ধার করা হয়।

ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে মিজবাহর কাছ থেকে তথ্য নিয়ে জেএমবির আরেক সদস্য তাইবুর রহমানকে গতকাল দোহার নারিশা সাকিন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই তিনজনের দেওয়া তথ্য অনুসারে বুধবার ভোর ছয়টায় কেরানীগঞ্জ থেকে ফয়সাল আহমেদ সানিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফয়সালের বাড়ি থেকে জঙ্গিবাদী বই উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত ডিআইজি ও র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া চারজন জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের সেলফোন পরীক্ষা করে জেএমবির পলাতক সদস্যদের সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। চারজনই সারোয়ার-তামিম গ্রুপের সদস্য। প্রায় দুই বছর ধরে তাঁরা এক হয়েছেন। দলের সব সদস্যরা ইন্টারনেট পরিচালনা, টেলিগ্রাম আইডি ও ট্রিমা অ্যাপস ব্যবহারে পারদর্শী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইসলাম অবমাননাকারী বিভিন্ন স্ট্যাটাস ভাইরাল আকারে পোস্ট করে সহানুভূতি ও সমর্থন আদায়ের উদ্দেশে প্রচারণা চালাতেন। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংগৃহীত আরবি ভাষায় লেখা বিভিন্ন উগ্রবাদী মতাদর্শ বাংলায় অনুবাদ করে ছড়িয়ে দিতেন।

আটক চারজনকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানান তিনি।

পূর্বের খবর: দোহারে আইন শৃংখলা বাহিনীর পরিচয়ে ৩ ছাত্রকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

সময় টিভি’র খবর

দোহার থানা পুলিশের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে জুয়াড়িদের ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ!

দোহার উপজেলায় পুলিশ ৫ জুয়াড়িকে আটক করে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, গত ২৩ মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুরে দোহার থানার এসআই তানভির মোর্শেদ ও এসআই সুরুজজামান এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ লটাখোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাশি, আনু, কালা, হোসেন পাল ও মোস্তাককে লটাখোলা গ্রামের আমির উদ্দিন মেম্বারের বাড়ি থেকে জুয়া খেলার সময় তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাদেরকে ৩০ হাজার টাকার বিনিমিয় ছেড়ে দিয়েছে বলে জানা যায়। হুমকি দিয়ে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়ার এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে জুয়াড়িদের বিশেষ সখ্য ও সহযোগিতা থাকায় বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে জুয়ার স্পট ও মাদক ব্যবসা। এর ফলে এলাকায় চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। অপর দিকে,  উপজেলার নারিশা বাজার  ইব্রাহিম মৃধার মার্কেটের পিছনে একটি বাড়িতে দীর্ঘদিন থেকে প্রকাশ্যে জুয়া ও মাদক ব্যবসা চলে আসছে বলে এলাকাবাসি জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আটক ব্যক্তিদের কয়েকজন বলেছেন, কাজের ফাঁকে সময় পেলে তারা তাঁস খেলেন। স্থানীয় ব্যক্তিরা জানলেও তাঁদের বাধা দিত না। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার এসআই  তানভির  এবং সুরুজ্জামান তাঁদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। এরপর বিভিন্ন মামলায় আসামি করার হুমকি দিয়ে তাঁদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। পরে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে তারা ছাড়া পান।

এ বিষয়ে দোহার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তানভির মোর্শেদ এবং এসআই সুরুজ্জামান  ৫ জন জুয়াড়িকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওসি (তদন্ত) সোহেল রানা স্যার তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছে। দোহার থানার ওসি (তদন্ত) সোহেল রানা বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

নবাবগঞ্জে কুপিয়ে হত্যার মামলায় আটক ১

নবাবগঞ্জ উপজেলায় গোলাপ হোসেন পিংকু বেপারী (৪৫) নামে এক মাটির ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে নাম জানায়নি পুলিশ। নবাবগঞ্জ থানার ওসি মোস্তফা কামাল জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিহতের ভাই এরশাদ বেপারী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে ২৫/২৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ওসি মোস্তফা কামাল আরো জানান, এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ রবিবার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার কৈইলাল ইউনিয়নের মালিকান্দা গ্রামের মিয়াজান বেপারীর ছেলে গোলাপ হোসেন পিংকু বেপারীর (৪৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ইটভাটায় মাটি সরবরাহের ব্যবসা করতেন।

 

দোহারে আইন শৃংখলা বাহিনীর পরিচয়ে ৩ ছাত্রকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

গতকাল ২৮ মার্চ মঙ্গলবার সকালে দোহার উপজেলার দক্ষিণ জয়পাড়া মাঝিবাড়ি এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ৩ শিক্ষার্থীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে দোহার থানা পুলিশ ও র্যাকব-১১ এর কাছে জানতে চাইলে তারা কিছুই জানেন না বলে জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে দু’টি মাইক্রো সাদা গাড়িতে সাদা পোশাকে অস্ত্রধারী ১৮-২০ জন নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে সৌদি প্রবাসী আবুবকরের বাড়িতে ঢুকে তার দুই ছেলে মেসবাহ উদ্দিন (২২) ও তার ভাই মো: মাহফুজ (১৮) এবং তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসা খালাতো ভাই মো: হাসিবুলকে (২০) তুলে নিয়ে যায়। এই বাড়িতে সোমবার রাতে বেড়াতে এসেছিলেন তাঁদের খালাতো ভাই মো. হাসিবুল। তিনি দোহারের নারিশা খালপাড় এলাকার আহম্মদ আলীর ছেলে। তাঁর বাবা জাহাজের ব্যবস্থাপক হিসেবে চাকরি করেন।

এ তিন শিক্ষার্থী হলেন নবাবগঞ্জের সোনহাজরা মাদরাসার ফাজিল প্রথম বর্ষের ছাত্র মেসবাহ উদ্দিন (২২), তাঁর ভাই দোহারের জয়পাড়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কম্পিউটার বিভাগের ছাত্র মো. মাহফুজ (১৮) ও বেড়াতে আসা তাঁদের খালাতো ভাই দোহারের পদ্মা ডিগ্রি কলেজের স্নাতক (পাস) প্রথম বর্ষের ছাত্র মো. হাসিবুল।

ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া আলো জানান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দেওয়া ওই দল একটি সাদা গাড়িতে করে তিন ছাত্রকে নিয়ে চলে যায়। যাওয়ার সময় তাঁকে বলে যায়, এই বাড়ির সদস্যরা জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁরা যেন বাড়িটি ছেড়ে দিয়ে অন্য কোথাও চলে যান। এ সময় তিন শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত কক্ষ থেকে ইন্টারনেট সংযোগের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও ধর্মীয় বইসহ বেশ কিছু জিনিসপত্র নিয়ে যায় তারা। প্রত্যক্ষদর্শীরা এ তথ্য জানিয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, মাঝিবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আবু বকরের স্ত্রী মাকসুদা খানম ও মাকসুদার বোন কাকলী আক্তারসহ অন্য নারীরা পর্দানশিন। ভদ্র। কিন্তু কেউ এসবে জড়িত কিনা জানেন না।

মেসবাহ ও মাহফুজের মা মাকসুদা খানম বলেন, ‘আমার ছেলেরা অনেক ভদ্র। আমার ছেলেরা জঙ্গিবাদে জড়িত থাকতে পারে না। ওরা কাজ না থাকলে সারাক্ষণই ঘরে থাকে, মোবাইলে ও ইন্টারনেটে কাজ করে। কারা এ কথা বলে তুলে নিয়ে গেল কিছু বুঝতে পারছি না।

হাসিবুলের মা কাকলী আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলে কলেজে পড়ে। ও গতকালই (সোমবার) খালার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। কিভাবে কী হয়ে গেল কিছু বুঝতে পারছি না। কারা ওদের নিয়ে গেল তা সুস্পষ্টভাবে জানতে চাই।

এ বিষয়ে দোহার থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম শেখ বলেন, ‘তিন শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার বিষয়ে মৌখিকভাবে জেনেছি। কিন্তু কারা তাদের তুলে নিয়ে গেছে সে বিষয়ে এখনো কিছু জানি না। বিষয়টি জানার চেষ্টা করছি। ’

দোহারে তিন ছাত্র গ্রেফতারের আপডেট: র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক এএসপি মিজানুর রহমান জানিয়েছেন আজ (২৯ মার্চ) দুপুর ১২টায় কারওয়ানবাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

আপডেট: মূল ধারার জেএমবির একটি অংশ বিভক্ত হয়ে নতুনভাবে সংগঠিত হয়েছে যার প্রধান ছিলেন নিহত জঙ্গি তামিম হোসেন চৌধুরী। পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটি) ইউনিটে এই গ্রুপটিকে নব্য জেএমবি নামে নামকরণ করে।

তবে র‍্যাব দাবি করছে, নতুন এই গ্রুপের প্রধান সারোয়ার ওরফে আব্দুর রহমান, যিনি র‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন। এই গ্রুপটিকে সারোয়ার-তামিম গ্রুপ বলে সম্বোধন করে র‍্যাব।

নবাবগঞ্জে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

নবাবগঞ্জ উপজেলার মালিকান্দা গ্রামে মো. গোলাপ হোসেন পিংকু ( ৪৫) নামে এক ব্যাক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করছে দুর্বৃত্তরা। আজ ২৬ মার্চ রবিবার বিকাল ৪ টার দিকে উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের মালিকান্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত পিংকু উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের মালিকান্দা গ্রামের  মিয়াজান বেপারীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, পিংকু ইট ভাটার মালিকদের সাথে মাটির ব্যবসা করতো । প্রতিদিনের মতো আজও সে বিকালে  ইটভাটায় মাটি দেওয়ার জন্য মালিকান্দা ব্রিজ এলাকায় গেলে দুর্বৃত্তরা তার হাত,পায়ের রগ কেটে  হত্যা করে পালিয়ে যায়। তার পরিবারের সদস্যদের দাবী, তাকে পরিকল্পীত ভাবে  হত্যা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিউজ থার্টিনাইনকে বলেন, “লাশ সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া  চলছে। পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে  ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে”।