দোহারে ডিএনএসএমের স্বাধীনতা দিবসের র‍্যালী অনুষ্ঠিত

দোহার উপজেলায় মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে র‍্যালী করেছে দোহার নবাবগঞ্জ সোশাল মুভমেন্ট। আজ ২৬ মার্চ রবিবার বিকেল ৪ টায় উপজেলার রতন স্বাধীনতা ভাস্কর্যের সামনে থেকে একটি র‍্যালী বের করা হয়।

দোহার নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্ট (ডিএনএসএম) এর সভাপতি তারেক রাজীবের সভাপতিত্বে র‍্যালীতে উপস্থিত ছিলেন দোহার নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্টের সহ-সভাপতি এবং দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজীব শরীফ, দোহার প্রেস ক্লাবের সভাপতি এবং সাপ্তাহিক এশিয়া বার্তার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল হাসান,

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আবু সাইদ, জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরীফ হাসান, দোহার নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্টের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি শহিদুর রহমান সুমন ও সহ-সভাপতি মাহামুদুল হাসান সুমন এবং ডিএনএসএমের দুইশতাধিক কর্মী। অনুষ্ঠান ।

র‍্যালীটি উপজেলা রতন স্বাধীনতা ভাস্কর্যের সামনে থেকে বের হয়ে জয়পাড়া ওয়ান ব্যাংকের মোর ঘুরে দোহার উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

দোহার-নবাবগঞ্জে উৎসব মুখর পরিবেশে স্বাধীনতা দিবস পালিত

দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় যথাযথ মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা দুটির প্রধান স্মৃতিস্মম্ভে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্বরণে পুস্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। সকালে দিবসটি উপলক্ষে দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। দোহারে আলোচনা অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম আল-আমিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১ ( দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট আব্দুল মান্নান খান, ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, আইজিআর খান আব্দুল মান্নান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা রাহিম শিলা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার রজ্জব আলী মোল্লা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোজাম্মেল হক রাসেল, জেলা পরিষদের সদস্য শাহজাহান মোল্লা, দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) সিরাজুল ইসলাম শেখ।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সুরুজ আলম সুরুজ, নারিশা ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন দরানী, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান আকন্দ, মহিলা লীগ নেত্রী আনার কলি পুতুলসহ উপজেলা ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার।

আলোচনা অনুষ্ঠানের আগে দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন স্বাধীনতা শোভাযাত্রা, কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শনী, পুরস্কার বিতরন, শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত, এতিখানায় উন্নতমানের খাবার বিতরণ, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী, প্রীতি ভলিবল ও ফুটবল খেলা এবং  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাটকের আয়োজন করে।

অপরদিকে, নবাবগঞ্জে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১ ( দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এড.সালমা ইসলাম এমপি। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহম্মেদ,উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন ঝিলু,সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন প্রমূখ।

মহান স্বাধীনতা দিবস আজ

আজ ৪৭তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। আজ থেকে ৪৬ বছর আগে ১৯৭১ সালের এই দিনটিতেই আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটেছিল বাঙালির সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের। ডাক এসেছিল হানাদারদের কবল থেকে মাতৃভূমিকে মুক্ত করার। ওই ডাকে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানি শোষকের হাত থেকে প্রিয় দেশকে মুক্ত করতে রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বাংলার দামাল ছেলেরা। যেদিন শুরু হয়েছিল এক সর্বাত্মক জনযুদ্ধ। ২৬৬ দিনের সেই রক্তক্ষয়ী জনযুদ্ধের সফল পরিণতিতে বিশ্বের বুকে জন্ম নিয়েছিল একটি নতুন রাষ্ট্র, আমরা পেয়েছিলাম স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ, প্রিয় বাংলাদেশ।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বাণী দিয়েছেন। পৃথক বাণীতে তারা দেশবাসীকে স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

একাত্তরের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বলেন, ‘এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা। আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন।’  বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বীর বাঙালি মাতৃভূমিকে হানাদারমুক্ত করতে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রশিক্ষণহীন নিরস্ত্র বাঙালিরা যেভাবে একটি সুশৃঙ্খল অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল, পৃথিবীর ইতিহাসে তেমন সংগ্রামের দৃষ্টান্ত বিরল। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষের আত্মদান, ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম আর বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় বিজয়। বাঙালি লাভ করে চিরকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। পৃথিবীর মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের।

বরাবরের মতো গোটা জাতি আজ শোক ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে অবনতচিত্তে স্মরণ করছে স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের। দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হবে। বাঙালি জাতির জীবনে স্বাধীনতা দিবস একই সঙ্গে আনন্দ ও বেদনার দিন।

আজ সরকারি ছুটি। প্রত্যুষে রাজধানীতে ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। সূর্যোদয়ের ক্ষণ ভোর ৫টা ৫৭ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাদল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন অমর শহীদদের প্রতি। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বসাধারণের শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণে ফুলে ফুলে ভরে উঠবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ।

দিনটিতে সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ছাড়াও সব সড়ক ও সড়কদ্বীপ সাজানো হয়েছে জাতীয় পতাকা ও রঙিন পতাকায়। গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোতে থাকছে আলোকসজ্জা।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরুর পর  ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেফতারের আগ মুহূর্তে স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়ে শত্রুসেনাদের বিতাড়িত করতে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করতে দেশবাসীকে নির্দেশ দেন। তৎকালীন ইপিআরের ওয়্যারলেস থেকে সে বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয় দেশের সর্বত্র। বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণায় সেদিনই ঐক্যবদ্ধ সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে গোটা জাতি। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ। প্রথমে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হান্নান বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা পাঠ করেন। ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় অষ্টম বেঙ্গল রেজিমেন্টের উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণাটি পাঠ করেন। তাই এই ঘোষণা দেশের জনগণের সঙ্গে সেনাবাহিনীর একাত্মতার বার্তা হিসেবে দেশবাসীকে উজ্জীবিত করে।

এরপর ১৭ এপ্রিল তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার নিভৃত এক আমবাগানে শপথ নেয় নবগঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, তার অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে গঠিত এই সরকারের নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধ আনুষ্ঠানিক কাঠামো লাভ করে। তাদের নেতৃত্বে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে আত্মপ্রকাশ করে।

প্রতি বছরের মতো এবারও স্বাধীনতা দিবসটি সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে জাকজমকপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করছে। বিটিভি, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারের কর্মসূচি নিয়েছে। সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করছে বিশেষ ক্রোড়পত্র।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে থাকছে শিশু-কিশোর সমাবেশ ও কুচকাওয়াজ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সারাদেশের স্মৃতিসৌধগুলোতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পাশাপাশি জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কুচকাওয়াজ, মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা সভা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দল ও সংগঠন এসব কর্মসূচি পালন করছে।

রাষ্ট্রপতির বাণী: মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী: বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এবং উন্নয়ন ও গণতন্ত্রবিরোধীদের যে-কোনো অপতৎপরতা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

 

দোহারে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে স্মৃতিসৌধে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন

আজ ২৬ মার্চ, বাংলাদেশের ৪৭তম মহান স্বাধীনতা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে দোহার উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহাদাৎ বরণকারী সকল শহিদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে দোহার উপজেলা পরিষদসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন। শুরুতেই ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিনের সূচনা করে দোহার উপজেলা পরিষদ। এরপর একে একে দোহার থানা

, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা রাহিম শিলা,

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড,

বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশন অব দোহার,

ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২,

উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি,

উপজেলা যুবলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগ,জয়পাড়া কলেজ ছাত্রলীগ, উপজেলা বিএনপি, জয়পাড়া কলেজ ছাত্রদল, উপজেলা জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন সামাজিক এবং রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানোর মাধ্যমেই দিনের প্রথম পর্ব শেষ হয়।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জয়পাড়া পাইলট হাই স্কুল মাঠে স্বাধীনতা দিবসের দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে।

সাংবাদিক সুমন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক নির্বাচিত

নবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাব ও ঢাকা জেলা (দক্ষিণ) টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, দৈনিক মানবজমিন এবং মোহনা টেলিভিশন দোহার-নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি সাংবাদিক খালিদ হোসেন সুমন ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর পরিচালক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। গত ২৩ মার্চ বৃহস্পতিবার ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রথম সদস্য সভায় নির্বাচনী বোর্ড নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। জানা যায়, সাংবাদিক সুমন মাঝিরকান্দা ইসলামিয়া হাফিজিয়া এতিমখানা ও মাদরাসার সাধারণ সম্পাদক এবং নবাবগঞ্জ উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। উপজেলার বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠন ও শিক্ষাবিদ খবিরউদ্দিন মৃধা এবং শিক্ষাবিদ খালেদা বেগমের বড় ছেলে তিনি।

 

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় দোহারের ২ জনসহ নিহত ৩

সৌদি আরবের জিজান থেকে রিয়াদে আসার পথে ওয়াদি আল দরুস নামক এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দোহারের দুইজনসহ তিন জন নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। নিহতরা হলেন দোহার উপজেলার জয়পাড়া এলাকার মো.সেলিম, মাহমুদপুর ইউনিয়নের মুসলিম মোল্লা এবং অপর একজন মানিকগঞ্জের আব্দুর রশীদ। এছড়াও ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার মো.হারুন নামে একজন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, আজ ২৪ মার্চ শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় স্থানীয় কয়েকজন বাংলাদেশী সৌদি আরবের জিজান থেকে রিয়াদে আসার সময় ওয়াদি আল দরুস নামক এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ীর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই তিন জন মারা যায়।

এ বিষয়ে ফলোআপ জানতে সাথে থাকুন নিউজ থার্টিনাইনের।

নবাবগঞ্জে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান, আকাশে মেঘ দেখলেই ছুটি

নবাবগঞ্জ উপজেলার আওনা এম. মুহীয়্যুদ্দীন  ভূঞা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা গাছতলায় পাঠগ্রহন করছেন। আকাশে মেঘ দেখলেই ছুটির ঘন্টা বেঁজে উঠছে। গত ৫ মার্চ রাতের ঝড়ে স্কুলঘরটি বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়া তারা খোলামাঠে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে নিদারুন কষ্টে ক্লাস করছে বিদ্যালয়ের ১১৯জন শিক্ষার্থী।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত ৭৮০জন শিক্ষার্থী রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে শ্রেণি কক্ষের সংকট চলছিল বিদ্যালয়টিতে। সেই সাথে প্রতিবছরই বাড়ছিল শিক্ষার্থীর সংখ্যা। তাই বাধ্য হয়ে এক কক্ষে গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীরা বসতো। এমতাবস্থায়, গত জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি টিনকাঠের ঘর নির্মান করেন কর্তৃপক্ষ। গত দু’মাস ঐ ঘরে ক্লাস করছিল ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণির (খ) শাখার ১১৯জন শিক্ষার্থী। কিন্তু গত ৫ মার্চ রাতে হঠাৎ ঝড়ে বিদ্যালয়ের টিনকাঠের ঘরটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এতে বিপাকে পড়ে বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ঠরা। শ্রেণি কক্ষের সংকট দেখা দেয়। বাধ্য হয়ে গাছতলায় পাঠদান শুরু করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের টিনকাঠের আধাপাকা ১টি ঘরের ৬টি কক্ষের ৫টি শ্রেণি কক্ষ ও একটিতে নৈশপ্রহরীর থাকার ঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অপরদিকে, দু’তলার একটি পাকা ভবনে ৫টি কক্ষের মধ্যে ৩টি শ্রেণি কক্ষ, ১টি কম্পিউটার রুম। অপরটিতে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকরা ব্যবহার করছেন। ঐ কক্ষই ব্যবহৃত হচ্ছে বিজ্ঞানাগার, লাইব্রেরী হিসেবে। ৭ম শ্রেণির (খ) শাখার শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে খোলা মাঠে পাঠ গ্রহন করছেন।

শ্রেণি শিক্ষক রণজিত ম-ল জানান, বাধ্য হয়েই গাছতলায় পাঠদান করছি। প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি স্কুল হলেও গত কয়েক বছরে শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রুত বিষয়টি সমাধান না হলে আমাদের কঠিন সমস্যায় পড়তে হবে। ৭ম শ্রেণির (খ) শাখার শিক্ষার্থী জুলিয়া আক্তার (রোল নং-১) বলেন, প্রতিদিনই রোদের তাপে পুড়তে হয়। বৃষ্টি হলেই ক্লাস বন্ধ থাকে। এতে আমাদের শিক্ষাগ্রহনে ব্যঘাত ঘটছে। একই ক্লাসের শিক্ষার্থী মো. নোমান (রোল নং-৬) বলেন, খুব কষ্ট করে ক্লাস করতে হয়। এভাবে লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ. হক ফুয়াদ জানান, এমনিতেই শ্রেণি কক্ষ সংকট চলছিল। তার উপর প্রাকৃতিক দূর্যোগ আমাদের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের খুবই বিপাকে ফেলেছে। অতিদ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষা বিপর্যয় দেখা দিতে পারে আমাদের বিদ্যালয়ে।

এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, বিষয়টিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে উচ্চ পর্যায়ে জানানো হয়েছে। সমস্যা সমাধানে প্রক্রিয়া করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাকিল আহমেদ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই তবে যথা শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

দোহারের কুসুমহাটি ইউনিয়নের চার গ্রামে ডাকাত-আতঙ্ক

দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের শিলাকোঠা, সুন্দরীপাড়া, চরপুরুলিয়া ও দেওভোগ গ্রামে হঠাৎ ডাকাত-আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গত তিন দিনে শিলাকোঠা তিনটি বাড়িতে ডাকাত দল হানা দেয়। এ ঘটনায় দোহার থানার পুলিশ গতকাল ২৩ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেলে শিলাকোঠা ঈদগাহ মাঠে গণসচেতনতামূলক সভা করেছে। জানা গেছে, গত ২০ মার্চ সোমবার রাতে শিলাকোঠা গ্রামের তসিমুদ্দিন মণ্ডলের বাড়ির দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে ১৪-১৫ জনের ডাকাত দল। এরপর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় ডাকাত দলটি। পরদিন মঙ্গলবার একই গ্রামের প্রবাসী আ. ওহাব শিকদারের বাড়ির দরজা ভেঙে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় ডাকাতেরা। বুধবার রাতে শিলাকোঠা ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন প্রবাসী আইয়ুব আলীর ভবনের ছাদের দরজা ভাঙার চেষ্টা করে ডাকাতেরা। বাড়ির লোকজনের চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে ডাকাত দল পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিলাকোঠা, সুন্দরীপাড়া, চরপুরুলিয়া ও দেওভোগ গ্রামের মানুষেরা ডাকাত-আতঙ্কে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।

শিলাকোঠা গ্রামের রেজাউল বিশ্বাস (৩০) বলেন, ‘তিন দিনে তিন দফা আমাদের গ্রামে ডাকাত দল হানা দেওয়ায় ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারছি না। রাত কাটছে আতঙ্কে।’ সুন্দরীপাড়া গ্রামের সোহেল শরীফ (২৯) বলেন, ‘কয়েক মাসের জন্য বিদেশ থেকে বাড়িতে এসেছি। এখন শান্তিতে ঘুমাতে পারছি না। সবাইকে রাত জেগে পাহারা দিতে হচ্ছে। চরপুরুলিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী আবদুস সামাদ (৩১) বলেন, ‘আমাদের পাশের গ্রামে তিন দিন ডাকাতি হওয়ায় আমরা আতঙ্কে আছি। রাত জেগে থাকি ভয়ে, এই বুঝি ডাকাত আইলো।’
এ বিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম শেখ  বলেন, “ডাকাতদের প্রতিরোধ করার জন্য শিলাকোঠাসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া এসব গ্রামে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে”।

 

দোহারের শিলাকোঠায় দুই বাড়িতে ডাকাতি

দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের শিলাকোঠা গ্রামে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ মার্চ সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে দোহারের শিলাকোঠা গ্রামের তসিমুদ্দিন মণ্ডলের বাড়িতে ১৪-১৫ জনের একদল ডাকাত হানা দেয়। তারা বাড়ির কলাপসিবল গেট ভেঙে ঘরে ঢুকে পরিবারের লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। পরে এক ভরি স্বর্ণালংকার, একটি রঙিন টেলিভিশন এবং পাঁচ হাজার টাকা লুট করে। বাড়ির লোকজন চিৎকার করলে গুলিবর্ষণ ও বোমা ফাটিয়ে ডাকাত দল পালিয়ে যায়।

এ ছাড়া গত ২১ মার্চ মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে একই গ্রামের প্রবাসী ওহাব শিকদারের বাড়িতে ১৭-১৮ জনের ডাকাত দল প্রবেশ করে। তারা ঘরের দরজা ভেঙে পরিবারের লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও ১৬ হাজার টাকা লুট করে।

এ বিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম শেখ বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।

নবাবগঞ্জে বিশ্ব পানি দিবস পালিত

নবাবগঞ্জ উপজেলায় “পানি ও বর্জ পানি” এই প্রতিপাদ্যের আলোকে বিশ্ব পানি দিবস উৎযাপন করেছে উপজেলা প্রশাসন। দিবসটি উপলক্ষ্যে আজ বুধবার সকাল  ১১ টায়  উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালী বের করা হয়। র‍্যালী টি উপজেলা ভূমি অফিস পযন্ত গিয়ে, ওয়াছেক মিলনায়তনে ফিরে আসে।

এ সময় নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ উপস্থিত সকলের উদেশ্যে বলেন, আমাদের সবাইকে পানির সংকট কমাতে হলে নদী ,পুকুরসহ যেখানে সেখানে  বর্জ ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। তবেই আমরা প্রয়োজনে নিরাপদ পানি ব্যবহার করতে পারবো।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শাহনাজ মিথুন মুন্নী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল উদ্দিন,  ইছামতি বাঁচাও আন্দোলন কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) সুধীর সাহা, শামসুন নাহার, শফিকুল ইসলাম স্বপন, আবুল খায়ের হিটু, গোলাম মোস্তফা প্রমূখ।