নবাবগঞ্জে ঝড়ে লন্ডভন্ড শতাধিক গ্রাম;ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎ বিছিন্ন

নবাবগঞ্জ উপজেলায় অচমকা ঝড়ে শতাধিক গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বিধ্বস্ত হয়ে গেছে প্রায় সহ¯্রাধিক কাচা-পাকা ঘরবাড়ি। ঝড়ের পর থেকে সারা নবাবগঞ্জে বিদ্যুৎ বিছিন্ন রয়েছে। গত ৩ এপ্রিল সোমবার সন্ধ্যায় অচমকা এক ঝড়ে এ সব ক্ষয়ক্ষতি হয়।

জানা গেছে, নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়াকান্দা, মালিকান্দা, মাসাইল, শোল্লা, শিকারীপাড়া, বান্দুরা, বারুয়াখালীসহ শতাধিক গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাস্তায় গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলার নয়াকান্দা গ্রামের ইউনুস চৌধুরী, এছাক চৌধুরী ও আলী হোসেন চৌধুরীর বসত ঘরের উপর একটি ৩০ বছরের পুরনো শিমুল গাছ ভেঙ্গে পড়ে ৩টি ঘর দুমরে মুচরে যায়। এতে তাদের ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর দাবি। ঝড়ের সময় ঘর থেকে বাইরে আসার সময় আমিন চৌধুরী নামে এক বৃদ্ধা আহত হয়েছে।

ঢাকা পল্লী বিদ্যুত সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার মো. আলমগীর হোসেন কোথাও কোথাও বিধবংসের কথা স্বীকার করে বলেন, কর্মীরা কাজ করছে খুর শীঘ্রই ঠিক হয়ে যাবে।

দোহার-নবাবগঞ্জে চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা

ঢাকার দক্ষিণের দুই উপজেলা দোহার এবং নবাবগঞ্জ। উপজেলা দুটিতে মোট জনসংখ্যা প্রায় ৭ লক্ষ। আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে উন্নয়নের অনেক ছোঁয়া লেগেছে এ দুই উপজেলায়। প্রবাসী অধ্যুষিত এই দুই উপজেলায় বর্তমানে মাদক এক ভয়াবহ সমস্যার নাম। বিভিন্ন প্রকার মাদকের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে উপজেলায় দুটিতে। এখানে হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যায়। প্রতি ১ কি.মি. রাস্তায় ২-৩টি করে মাদকের স্পট রয়েছে। মাদকাসক্তের কারণে এলাকার আইনশৃংখলা, পারিবারিক কলহ, খুনের ঘটনা বেড়ে চলছে বলে আশংকা প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।

প্রায় প্রতিদিনই দোহার এবং নবাবগঞ্জ থানায় বিভিন্ন রকম মাদক দ্রব্যসহ ধরা পড়ছে মাদক ব্যবসায়ীরা। চলতি সপ্তাহেই মাত্র একদিনের ব্যবধ্যানে গত ৩০ মার্চ বৃহস্পতিবার রাতে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ দোহার থানার এস আই সুরুজ্জামানের হাতে ধরা পড়ে দুইজন । পরদিন ৩১ মার্চ শুক্রবার রাতে নবাবগঞ্জ থানার এস আই মহির উদ্দিন ৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটক করেন একজনকে। এর আগে ২০১৬ সালের মে মাসে দোহার উপজেলার নারিশা থেকে ৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে আটক করে দোহার থানা পুলিশ। বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবস্যাকে কেন্দ্র করে প্রায়ই ঘটছে মারামারি এমনকি খুনের মতো ঘটনা।

পরিসংখ্যান বলছে মাদক ব্যবস্যাকে কেন্দ্র করে নবাগঞ্জের চেয়ে দোহারে খুনের সংখ্যা বেশি। সম্প্রতি চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের বাবুডাঙ্গী এলাকায় মিন্টু শেখ (২৩) নামে এক ব্যক্তি খুন হয়েছেন। যার নেপথ্যে রয়েছে মাদক ব্যবসা। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে। মাদক ব্যবস্যা নিয়ে খুনের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও ঘটেছে মাদক ব্যবস্যাকে কেন্দ্র করে ঘটেছে বেশ কয়েকটি খুনের ঘটনা। ২০১৬ সালের ১৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকালে দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের রুইতা গ্রাম থেকে মো. সেলিম (২৬) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে দোহার থানা পুলিশ। পুলিশ জানায় এ হত্যাকন্ডের পেছনেও ছিল মাদক ব্যবস্যা। ২০১৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে নবাবগঞ্জ উপজেলার বক্তারনগর গ্রামে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের কোপে ইয়ারন বেগম (৩৫) নামে এক নারী নিহত হন । আহত হন তার স্বামী মোতা (৪৫) ও নাতনি রিয়া আক্তার (৮) ।  আহত অবস্থায় ইয়ারনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তবরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ জানায় এ ঘটনার পেছনে রয়েছে  মাদক সেবন ও বেচাকেনায় বাধা দেয়া। এত গেল খুনের ঘটনা। এছাড়াও প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে মাদক ব্যবস্যাকে কেন্দ্র করে মারামারি, ইভটিজিং, পারিবারিক কলহের মতো নানা ঘটনা।

মদ, গাজা, আফিম, ঝাটকি, ফেন্সিডিল, হেরোইন, ইয়াবা সহ নেশার সকল প্রকার মাদকই পাওয়া যায় এখন দোহার নবাবগঞ্জের বিভিন্ন স্পটে। এক সময় ফেন্সিডিল,হেরোইনের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে ইয়াবা সেবনের সংখায়ই সবচেয়ে বেশি।

গত এক মাসের অনুসন্ধানে জানা গেছে দোহার নবাগঞ্জে সাধারণত পাওয়া যায় তিন ধরনের ইয়াবা। প্রথম ধরনের ইয়াবা ট্যাবলেটের বেশির ভাগ সবুজ বা গোলাপি রঙের হয়। এর ঘ্রাণ অনেকটা বিস্কুটের মত হয়ে থাকে। দ্বিতীয় ধরনর ইয়াবা ট্যাবলেট এর দাম তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু এটিও নেশাসৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। তৃতীয় ধরনের ট্যাবলেটি আরও সস্তা এবং নেশায় আষক্তদের নিকট এটি ভেজাল বলে পরিচিত। ইয়াবা সেবনকারীদের মধ্যে প্রচলিত ধারণা অনুসারে, চিতা নামের পিলটি সবচেয়ে নিম্নমানের ইয়াবা ট্যাবলেট হিসেবে গণ্য হয়। এর গায়ে ক্ষুদ্র চিহ্ন থাকে। অন্যদিকে গোলাপ জল নামের ইয়াবা পিলকে উচ্চ মানের ট্যাবলেট হিসেবে গণ্য করা হয়। ইয়াবা ট্যাবলেটের গায়ে ইংরেজি ডাব্লিউ ওয়াই (WY) লেখা থাকে। ওয়াই (Y) লেখার ধরন দীর্ঘ হলে এবং ইয়াবার রঙ পুরোপুরি গোলাপি হলে ধারণা করা হয় সেটি ইয়াবা হিসেবে ভাল মানের।

নবাবগঞ্জের বাসিন্দা চলচ্চিত্র অভিনেতা জামিলুর রহমান শাখা বলেন, এক সময় ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন উচ্চবিত্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল কিন্তু এখন তা সবার হাতের নাগালে। এ কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত যুবকদের মধ্যেও মাদকের বিস্তার ঘটছে। দোহার-নবাবগঞ্জে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল, বাংলামদসহ নেশাজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করে আসক্ত হয়ে পড়ছে তরুণ সমাজ। মাদকের ছোবল থেকে শিশু, কিশোর, তরুণ, যুবক, বৃদ্ধ কেউ বাদ যাচ্ছে না।

দোহার-নবাবগঞ্জ মাদকে ছড়াছড়ি হলেও এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনেকটাই হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। নবাবগঞ্জ উপজেলা সদরের আশপাশের তিনটি গ্রামের প্রায় শতাধিক যুবক ও ছাত্র মাদকাসক্ত হয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। এর মধ্যে ১০-১৫ জন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তায় রাস্তায়  ঘুরছে। দোহার-নবাবগঞ্জের পুরুষ অধিবাসীদের শতকরা প্রায় ৮০ জন প্রবাসী। ছেলে-মেয়েদের উঠতি বয়সে মা বাবার শাসন থেকে তারা মুক্ত। ছেলে-মেয়েরা তাদের সহজ-সরল মাকে স্কুল-কলেজের বেতন কিংবা পোশাক-প্রসাধনী কেনার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিয়ে নেশাখোর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠছে। ফলে নিজের অজান্তেই মাদকের বিষাক্ত থাবায় নিজেকে সঁপে দিচ্ছে ।

অনুসন্ধানী সূত্রে জানা যায়, দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলায় মাদকের প্রধান স্পট প্রায় ৬০টি। এদের মাঝে ভাসমান স্পটের সংখ্যাই প্রায় দুই শতাধিক। এসব জায়গায় হাত বাড়ালেই ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন, ফেনসিডিল, বাংলা মদ পাওয়া যায়। জানা গেছে মোটরসাইকেল, রিকশা এমনকি চলন্ত বাস এবং ইজিবাইকে ও মাদকের বেচাকেনা হয়ে থাকে। কিছু স্থানে মাদক ব্যবসার পিছনে জড়িত আছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনেক কর্মী। যাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে গড়ে উঠছে মাদকের নিরাপদ আখড়া।

দোহারের জয়পাড়ার বেগম আয়েশা পাইলটের শিক্ষক মাহামুদুল হাসান সুমন বলেন, মাদকের ভয়াবহতায় ছেলে-মেয়েদের স্কুল-কলেজে পাঠাতেও ভয় হচ্ছে। মাদক প্রতিরোধে প্রশাসনকে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

গোপন সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় সীমান্ত থেকে পাচার হয়ে বাংলাদেশের ভেতরে যেসব মাদক রাজধানী ঢাকায় প্রবেশ করে এসব ট্রলারঘাট তারই নিরাপদ রুট। দোহার উপজেলার মুকসেদপুর ট্রলারঘাট, নারিশা ট্রলারঘাট, মৈনট ট্রলারঘাট, বাহ্রা ট্রলারঘাট দিয়ে দোহারে মাদকের বড় বড় সব চালান প্রবেশ করে । এর পর তা ডিলারদের মাধ্যমে এসব মাদক ছড়িয়ে যায় সারা দোহার নবাবগঞ্জে ।

সূত্র আরো জানায়, দোহার উপজেলার মেঘুলা বাজার, জয়পাড়া বাজারের ভূতের গলি, বাহ্রা ঘাট, মৈনট আবাসন প্রকল্প, দক্ষিণ শিমুলিয়া,কাচারীঘাট, রাইপাড়া, খালপাড়, বৌ-বাজার, লটাখোলা বিলের পাড়,বাঁশতলা, জামালচর, নিকড়া, রসূলপুর, অরঙ্গবাদসহ বিভিন্ন স্থানে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মাদক সরবরাহ ও বিক্রি করে থাকে।

অপরদিকে নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের সাবেক এক জনপ্রতিনিধি বলেন, এখানকার রুপার চর গ্রামকে মাদকের শহর বলা হয়ে থাকে। কাশিয়াখালী বেড়িবাঁধ এলাকা, বারুয়াখালী, নবগ্রাম,আলালপুর,খানেপুর, পুরাতন বান্দুরা, নতুন বান্দুরা, গালিমপুর, চুড়াইন, আগলা, কৈলাইল, বলমন্তচর, আলগীরচর, আজিজপুর, মাদকের কেনা-বেচা অন্যতম স্পট। কারো কারো কছে এসব এলাকা মাদকের হাট নামেও পরিচিতি রয়েছে বলে জানা যায়।

দোহার উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান আকন্দ জানান, প্রশাসনের একার পক্ষে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অভিবাবকদেরকে আরো সচতেন হতে হবে। লক্ষ রাখতে হবে তাদের সন্তান কার সাথে মিশছে।

প্রায়ই বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় দেখা যায় দোহার নবাবগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদক ব্যবসায়ীদের নানা মেয়াদে সাঁজা দিতে। কিছু মাদক কারবারিকে নিয়মিত মামলায় আদালতে পাঠায় পুলিশ। এর প্রায় কয়েক মাস পরে জেল খেটে এসেই শুরু করে পুরনো সেই মাদক ব্যবসা।

মাদক ব্যবসায়ীদের অল্পদিনের মধ্যেই বের হয়ে আসার কারন হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট আবদুল্লাহ আবু সাইদ বলেন, আইনের অনেক ফাঁক ফোঁকর দিয়ে এরা সহজেই বের হয়ে আসে। ফলে প্রশাসনের পক্ষে এদের শাস্তি দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম শেখ জানান, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। কোন মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড় দেওয়া হবেনা।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল নিউজ থার্টিনাইনকে বলেন, মাদকের সঙ্গে কোনো আপস নেই। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে বর্তমানে নবাবগঞ্জের পরিস্থিতি অনেক ভাল।

০৩ এপ্রিল দোহারে র‍্যাবের জঙ্গিবিরোধী অভিযানের ভিডিও

সোমবার বিকেলে দোহার উপজেলার দক্ষিণ জয়পাড়া মাঝিপাড়া এলাকায় মেজবাহ ও মাহফুজের বাড়ীতে র‍্যাবের এডিশনাল এসপি মহিউদ্দিন ফারুকীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা হয়। এসময় মেজবাহর বাড়ীর ছাঁদ সহ বিভিন্ন স্থানে তল্লাশী চালিয়ে ১টি ল্যাপটপ, ৪টি মোবাইল ফোন, ৭টি জেহাদী বই, বেশ কিছু সরকার বিরোধী লিফলেট, ৫টি চাপাতি, ২ টি ছোড়া, ২ টি ধারালো ডেগার ও একটি গ্র্যানডিং মেশিন উদ্ধার করেন।

এর আগে গত ২০ মার্চ র‍্যাবের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, র‍্যাব রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সারোয়ার-তামিম গ্রুপের দুই ইঞ্জিনিয়ারসহ মোট পাঁচ জঙ্গি সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। ওই জঙ্গিদের কাছ থেকে বিস্ফোরক ও জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় বাড্ডা থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় র‍্যাব-১০ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকীর নেতৃত্বে একটি দল দোহার মৌড়া এলাকা থেকে মিজবাহ ও তাঁর ভাই মাহফুজকে গ্রেপ্তার করে।

আগের সংবাদ
দোহারে আটককৃত নব্য জেএমবির সদস্য মেজবাহ ও মাহফুজের বাড়ীতে র‍্যাবের অভিযান, অস্ত্র উদ্ধার
দোহার থেকে আটককৃত তিনজন ‘নব্য জেএমবি’র সদস্য: সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব

দোহারে আটককৃত নব্য জেএমবির সদস্য মেজবাহ ও মাহফুজের বাড়ীতে র‍্যাবের অভিযান, অস্ত্র উদ্ধার

ঢাকার দোহারে আটককৃত জেএমবির সদস্যের তথ্যের ভিত্তিতে মেজবাহ ও মাহফুজের বাড়ীতে র‍্যাব অভিযান চালিয়ে দেশী অস্ত্র, কম্পিউটার সহ জিহাদী বই উদ্ধার করেছে।

আজ সোমবার বিকেলে দোহার উপজেলার দক্ষিণ জয়পাড়া মাঝিপাড়া এলাকায় মেজবাহ ও মাহফুজের বাড়ীতে র‍্যাবের এডিশনাল এসপি মহিউদ্দিন ফারুকীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা হয়। এসময় মেজবাহর বাড়ীর ছাঁদ সহ বিভিন্ন স্থানে তল্লাশী চালিয়ে ১টি ল্যাপটপ, ৪টি মোবাইল ফোন, ৭টি জেহাদী বই, বেশ কিছু সরকার বিরোধী লিফলেট, ৫টি চাপাতি, ২ টি ছোড়া, ২ টি ধারালো ডেগার ও একটি গ্র্যানডিং মেশিন উদ্ধার করেন।

র‍্যাব জানায় ২১ মার্চ বাড্ডা থানার নাশকতা মামলা ২৪, সন্ত্রাস বিরোধী আইনের আসামীদের দেয়া তথ্য মতে কেরাণীগঞ্জে, দোহার থেকে মেজবাহ ও তার সহোদর মাহফুজ, ও কেরানীগঞ্জ থেকে ফয়সাল আহমেদ তাইবুর (১৮) কে গ্রেপ্তার করা হয়।

দোহারে আটককৃত নব্য জেএমবির সদস্য মেজবাহ ও মাহফুজের বাড়ীতে র‍্যাবের অভিযান, অস্ত্র উদ্ধার

আদালতে সোপর্দ্দ পরবর্তী রিমান্ডের আবেদনের পর আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করে। রিমান্ডে মেজবাহ ও তার ভাই মাহফুজের নিজ হাতে দেশী অস্ত্র তৈরী করে বাড়ীতে গ্যালুকিয়ে রেখেছে জানালে র‍্যাব অভিযান পরিচালনা করে।  আসামীদের দেয়া তথ্য মতে তার তৈরী অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরীর সরঞ্জামাদী উদ্ধার করে।  র‍্যাব আরও জানায়, আসামীদের পরিকল্পনা ছিল তাদের তৈরী অস্ত্র অপরাপর জঙ্গীসহযোগীদের সরররাহ করে নাশকতা কার্য সম্পাদন করা।

উল্লেখ্য মেজবাহ’র সহযোগীতায় অপর আসামী ফয়সালকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব

ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়লেন খোদেজা

একজন আলোকিত মানুষের পরশে অন্যরাও যে প্রভাবিত হয় সেটির উদাহরণ অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি। তার মমতা, ভালোবাসা ও প্রত্যক্ষ সহায়তায় এবার দোহারের বটিয়া গ্রামের খোদেজা বেগম নামে এক হতদরিদ্র নারী ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে কাজ করে জীবন নির্বাহ করার প্রতিজ্ঞা করেছেন।

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামকে শুধু জনপ্রতিনিধি পরিচয় দিলে তার অনন্য মানবিক গুণাবলী পেছনে পড়ে যায়। দোহার-নবাবগঞ্জের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে নিরন্তর তার পথচলা। দরিদ্র-অসহায়-নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো তার আজন্ম প্রয়াস। কারও কোনো সমস্যার কথা কানে এলে তাৎক্ষণিক সমাধান দেয়ার চেষ্টা করেন। সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষা না করে বহু মানুষকে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সহায়তা করে এরই মধ্যে প্রশংসিত হয়েছেন। অজপাড়াগাঁয়ে অসহায়ের বাড়িতে হেঁটে গিয়ে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। ব্যক্তি জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও আরাম-আয়েশকে উপেক্ষা করে দোহার-নবাবগঞ্জের মানুষের ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তিনি রাজনীতিতে আসেন। নির্বাচিত হওয়ার পর সালমা ইসলাম এমপির জনবান্ধব বহু কর্মসূচি-পদক্ষেপ এরই মধ্যে মানুষের হৃদয়ে গেঁথে গেছে। তার অকৃত্রিম ভালোবাসা-মমতায় বহু মানুষের জীবন বদলে গেছে। ওইসব ব্যক্তির একজন দোহারের বটিয়া গ্রামের স্বামীহারা খোদেজা বেগম।

জানা গেছে, খোদেজার স্বামী বহু আগে মারা গেছেন। বাড়িঘর কিছুই নেই। একমাত্র মেয়েকে নিয়ে অন্যের বাড়িতে থাকেন। ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চালাতেন খোদেজা। সম্প্রতি ওই বাড়ির মালিক তাকে তাড়িয়ে দেন। মেয়েকে নিয়ে কোথায় উঠবেন তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন খোদেজা। একটু আশ্রয় খুঁজতে শরণাপন্ন হন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম আল আমিনের কাছে। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেন দোহার-নবাবগঞ্জের নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের সঙ্গে। এ দু’জনের সম্মতি পেয়ে ইউএনও ৮ শতাংশ সরকারি জমি গৃহহীন খোদেজার নামে বরাদ্দ দেন। জেলা প্রশাসক ওই জমিতে ঘর তুলতে টিন কিনে দেন। সালমা ইসলাম এমপির আহ্বানে সাড়া দিয়ে দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান এবং বিলাশপুর ইউপি চেয়ারম্যানও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। দোহার প্রেস ক্লাবের সংবাদ কর্মীরাও কিছু আর্থিক সহায়তা করেন। বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয় দোহার পল্লী বিদ্যুৎ।

গত ১ এপ্রিল শনিবার বেলা ১১টায় দোহারের বটিয়া গ্রামে খোদেজার বাড়িতে হঠাৎ গিয়ে হাজির হন সালমা ইসলাম এমপি। একজন হতদরিদ্রের গৃহে এমপির আসার খবরে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ মানুষজন সেখানে ভিড় করেন। এসময় সালমা ইসলাম এমপি তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে খোদেজাকে সহায়তা করেন। এসময় সালমা ইসলামকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন খোদেজা। তার জন্য প্রাণ ভরে সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করেন। খোদেজা বেগমকে উদ্দেশ করে সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সালমা ইসলাম এমপি বলেন, ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে হাতের কাজ শিখে সংসার চালাতে হবে।

 

ঘুষের হাট নবাবগঞ্জ ভূমি অফিস; নেতৃত্বে এসি ল্যান্ড শাহানাজ মিথুন মুন্নী

ঢাকার পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলা অফিসে ঢুকতেই চোখে পড়বে গ্রামের সাধারণ মানুষকে সচেতন করার নানান উদ্যোগ। দালাল থেকে দূরে থাকুন, নামজারির ক্ষেত্রে সরকারি ফি সাড়ে ১১শ’ টাকার বেশি কাউকে দিবেন না। রসিদ বুঝে টাকা জমা দিন ইত্যাদি। কিন্তু ভূমি অফিসটির ভেতরের চিত্র একেবারেই উল্টো। বাস্তবতা হল এখানে প্রতিদিন রীতিমতো ঘুষের হাট বসে। প্রকাশ্যে চলে ঘুষ লেনদেন। দালাল ছাড়া রেকর্ড সংশোধনের কোনো ফাইল জমা হয় না। খোদ এসি ল্যান্ড (সহকারী কমিশনার, ভূমি) শাহানাজ মিথুন মুন্নীর নেতৃত্বে চলে ঘুষ লেনদেন। তবে তিনি সরাসরি কোনো ঘুষ নেন না। তার পক্ষে ঘুষ আদায়ে নিয়োজিত আছেন কানুনগো, নাজির, সার্ভেয়ার, তহশিলদারসহ একদল দালাল। এখানে ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইলের মুক্তি মেলে না। নামজারি ফাইলে ঘুষের রেট বেশি। এসি ল্যান্ডের জন্য মোটা অংকের ভাগ রেখে দিয়ে অন্যরা ফাইলের ম্যারিট ও মক্কেল বুঝে টাকা হাতিয়ে নেন

দালালরা ধারণা দিয়েছেন, কোনো কোনো মাসে কোটি টাকার ওপরে ঘুষ লেনদেন হয়। শুধু ভূমি অফিসের দালালি করে এখানে অনেকে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছেন। অথচ ওপরে সবাই নিজেকে সৎ ও সাহসী অফিসার বলে দাবি করেন। কিন্তু সন্ধ্যা হলে ঠিকই ঘুষের খাতা কল করে কড়ায়-গণ্ডায় নিজের পাওনা বুঝে নেয়া হয়। যুগান্তরের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ঘুষ লেনদেনের ভয়াবহ সব চিত্র। নমুনা হিসেবে কয়েকটি ঘটনার অডিও-ভিডিও রেকর্ড সংরক্ষিত আছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার পার্শ্ববর্তী উপজেলা হওয়ায় দোহার-নবাবগঞ্জের জমি অন্যান্য স্থানের তুলনায় অনেক মূল্যবান। প্রায় প্রতিটি বাড়ির কেউ না কেউ বিদেশে থাকেন। আছেন অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তি। এই সুযোগে জমির প্রকৃত মালিকদের জিম্মি করে নামজারিসহ নানা খাতে বিপুল পরিমাণ টাকা ঘুষ আদায় করেন এখানকার হর্তাকর্তারা। এ সুবাদে এখানে গড়ে উঠেছে দালালদের একটি শক্ত গ্রুপ। যারা ভূমি অফিসের কর্মচারীদের মতো ফাইলপত্রের কাজ করেন। অথচ তারা ভূমি অফিসের কেউ নন। মূলত এদের মাধ্যমে ঘুষের দরকষাকষি হয়। আবার কোনো কর্মকর্তা নিজেই প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনে অভ্যস্ত। সেবাপ্রার্থী সেজে যে কেউ গেলে এমন দৃশ্য অহরহ চোখে পড়বে।

দালাল দিয়েই শুরু : নিয়মানুযায়ী জমির প্রকৃত মালিক নামজারির রেকর্ডপত্র সংশোধন কিংবা মিসকেসের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবরে সরাসরি আবেদন করেন। ভূমি অফিসের বাইরে বড় একটি সাইনবোর্ডে এ বিষয়ে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি টানানো আছে। ওই সাইনবোর্ডে ‘মিউটেশন (নামজারি), জমাভাগ ও জমা একত্রীকরণ সংক্রান্ত নিয়মাবলী’তে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা দেয়া আছে। নামজারিতে সরকারি খরচের একটি হিসাবও আছে দৃশ্যমান। যেখানে আবেদনে ২০ টাকার কোর্ট ফি, নোটিশ জারির ফি ৫০, রেকর্ড সংশোধন ও পর্চা ফি ১ হাজার এবং প্রতি কপি মিউটেশন খতিয়ান সরবরাহ বাবদ ১০০ টাকা। সর্বমোট ১ হাজার ১৭০ টাকা। এছাড়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী মালিকানা বিষয়ে কোনো বিতর্ক না থাকলে ৪৫ দিনের মধ্যে মিউটেশন কেস নিষ্পত্তি হবে। এ সময়ের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি না হলে এবং উল্লিখিত খরচের অতিরিক্ত ফি কেউ দাবি করলে সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অথবা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলা হয়। কিন্তু নবাবগঞ্জ ভূমি অফিসে দালাল ছাড়া কোনো আবেদন করা যায় না। আবার সরাসরি কোনো উপকারভোগী নথিপত্র জমা দিলেও রহস্যজনকভাবে তা হারিয়ে যায়। তাই বাধ্য হয়েই জমির প্রকৃত মালিক দালালদের সহায়তা নেন। এসব দালালের আবার রাজনৈতিক পরিচয়ও আছে। দালালদের মাধ্যমে রেকর্ডপত্র জমা হলে এর একটি হিসাব রাখা হয়। নামজারিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) চূড়ান্ত স্বাক্ষরের পর কোন দালালের মাধ্যমে ফাইলটি জমা হলো, সেই হিসাব অনুযায়ী ঘুষের টাকা আদায় করা হয়। দিনশেষে এ টাকা ভাগাভাগি করা হয়। এজন্য একটি খাতাও মেইনটেন করা হয়। তাই ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ও ঢাকা জেলা পরিষদের সদস্য মো. ওয়াহিদুজ্জামান রনি বলেন, ‘ভূমি অফিসে সবই অনিয়ম-দুর্নীতি। কোনো কিছুই টাকা ছাড়া হয় না। মানুষ তার প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ কারণে সুপারিশ করাতে আমার কাছে অনেকে আসেন। গরিব মানুষ যারা টাকা দিতে পারেন না, তাদের পক্ষে আমাকে কথা বলতে হয়।’ তিনি বলেন, ‘নতুন এসিল্যান্ড যোগদান করার পর মনে করেছিলাম ঘুষের রেট হয়তো কমবে। কিন্তু কমেনি। আমি এমনও দেখেছি, যিনি টাকা-পয়সা দেন না, তার মিসকেসের রায়ও হয় না।’ এক প্রশ্নের জবাবে নবনির্বাচিত এ জনপ্রতিনিধি বলেন, ‘একটি খারিজ ফাইলে শতভাগ নথিপত্র ঠিক থাকলেও এসিল্যান্ড, তহশিলদার, সার্ভেয়ার, কানুনগো এবং পিয়নকে মোটা অঙ্কের টাকা দেয়া রেওয়াজে পরিণত হয়েছে।’

এ সময় ভুক্তভোগী একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে বলেন, ‘আরে ভাই না, না। বর্তমান এস্যিল্যান্ড ফাইলপ্রতি ঘুষের রেট আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘ভূমি অফিসে সরাসরি কোনো খারিজ ফাইল জমা নেয়া হয় না। জমা দেয়া হলেও তা হারিয়ে যায়। এ কারণে বাধ্য হয়েই মানুষ দালালের শরণাপন্ন হন।’ তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে জেলে পাঠানোর ভয় দেখান এসিল্যান্ড শাহানাজ মিথুন মুন্নী। দালালদের মাধ্যমে যেসব নথি জমা হয় সেসব নথির পেছনের পৃষ্ঠায় বিশেষ সংকেত দেয়া হয়। যেগুলো দ্রুত গতিতে নিষ্পত্তি হয়। প্রতিদিন ফাইল হিসাব করেই ঘুষের টাকা নেয়া হয়। এরপরই একসঙ্গে ভাগাভাগি করা হয়।’ নথির পেছনের পৃষ্ঠায় বিশেষ সংকেতের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা যায়, নামজারির জন্য জমা হওয়া শত শত নথির শেষ পৃষ্ঠায় দালালদের স্বাক্ষর করা রয়েছে। কোনো কোনো নথিতে দালালদের মোবাইল নম্বরও দেয়া আছে।

ঘুষের সাক্ষী : অভিযোগ অনুসন্ধানে সরেজমিন দেখা যায়, ভূমি অফিসটির ঘুষ বাণিজ্য ওপেন সিক্রেট। কানুনগো আবুল কালাম আজাদ, সার্ভেয়ার মস্তফা জামান আব্বাছি, জাকারিয়া আহমেদ, সহকারী নাজির গৌর গোপাল সাহাসহ অফিসের পিয়নকেও নির্দিষ্ট হারে ঘুষ দিতে হয়। ২১ মার্চ ছিল মিসকেস শুনানির নির্দিষ্ট তারিখ। ওই দিন নবাবগঞ্জ ভূমি অফিসে গিয়েই দেখা যায়, সার্ভেয়ার জাকারিয়া আহমেদ স্থানীয় এক সেবাপ্রত্যাশীর কাছ থেকে নামজারির জন্য প্রকাশ্যে ঘুষ নিচ্ছেন। আবার পাশের রুমে নিজের টেবিলে বসা নাজির গৌর গোপাল সাহাকেও ঘুষ দিচ্ছেন কইলাইল গ্রামের দালাল আইয়ুব আলী। ২৭ মার্চ প্রকাশ্যে ঘুষ বাণিজ্যের এমন চিত্র প্রতিদিনের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রভাবশালী দালাল উপজেলার মাদবপুর খন্দকার হাটির শাহজাহান কোনোরকম রাখডাক না রেখেই বলেন, ‘আমি প্রতি ফাইলে বেশি টাকা দেই। পরিমাণ ১০-১২ হাজার। এর কম আমি দেই না। কারণ আমার কাজটা ঝটপট। আমি ১০ দিন দেরি করবার পারুম না। তাদের কাছে আমার কথাই থাকে; আমার কাছ থেকে টাকা নিবেন, কিন্তু ২২ দিন অপেক্ষা করবার পারুম না। আবার ২২ দিনের কথা কইয়া যদি তিন মাসও ঘুরায় তাহলে আমি বইলাই দেই, আমার টাকাটা ১০ দিনেই ফেরত দিবেন।’ তিনি বলেন, ‘এ চায়, ও চায়, আমি কিয়ারে ঘুরবার যামু মানুষের কাছে। আমারে এসিল্যান্ড কয়, আপনে নিজে করবার পারেন না?’ আমার একটা মান-সম্মান নাই? আমি একটা সেকেন্ড ক্লাস অফিসার ছিলাম।’ আপনি এত টাকা দেন কেন জানতে চাইলে শাহজাহান বলেন, ‘দেই ওগো একটা হক আছে না(!) আমি ২৫ হাজার টাকা দিয়াও খারিজ করাইছি। ওরা (কর্মকর্তারা) কয় আমাগো কিছু থাকে না, তো আমি কী করমু? সাংবাদিকরা এইটা দেখে না?’ জমি খারিজ করতে যে টাকা লাগে তা প্রমাণ করতে শাহজাহান প্রতিবেদকের সামনে ডেকে আনেন আরেক দালাল কিরণজি গ্রামের নুরুল হককে। তিনি একটি খারিজের বিষয়ে বলেন, ‘১০ হাজার টাকা তো লাগবেই।’ এরপর শাহজাহান বলেন, ‘এ অফিসে পাঁচজন পিয়ন। আর এই ৫ জন পিয়নের কর্মচারী আরও ৭ জন। এদের প্রত্যেকের নামে টাকা আদায় করা হয়। এসি ল্যান্ড শাহানাজ মিথুন মুন্নীর ওমেদার (বেসরকারি) আক্কাছ বলেন, ‘নতুন এসি ল্যান্ড এসে ঘুষের রেট বাড়িয়ে দিয়েছেন।’ রেট কত জানতে চাইলে আক্কাছ বলেন, ‘ম্যাডামকেই দিতে হয়…. টাকা’। এ ছাড়া তহশিলদার এক হাজার টাকার নিচে ফাইল ছাড়তে চান না। কানুনগো, সার্ভেয়ারের টাকা আলাদা।’ এসি ল্যান্ডকে টাকা না দিলে হয় না এমন প্রশ্নের জবাবে আক্কাস বলেন, ‘তিনি তো এই টাকা একা পান না। অফিসে একটা খরচা আছে না! ওপরেও দিতে হয়।’ এ প্রসঙ্গে দালাল নুরুল হক বলেন, ‘পুলিশের কাছে যত আইনের ধারা, ভূমি অফিসেও আইনের তত ব্যাখ্যা। এসি ল্যান্ড ফাইল আটকায়া দিলে কী করবেন?’ এসি ল্যান্ড টাকা সরাসরি নেন কিনা জানতে চাইলে পাশ থেকে জালাল নামে আরেক দালাল বলেন, ‘যে কর্মকর্তার মাধ্যমে ফাইল জমা হয় সেই কর্মকর্তাই ঘুষের টাকা আদায় করেন। আর টাকা নেয়ার কয়েকজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে আছেন সার্ভেয়ার আব্বাছি, জাকারিয়া ও সহকারী নাজির গৌর গোপাল সাহা। তাদের মাধ্যমেই ঘুষের টাকা আদায় করা হয়।

ওদের অনেক টাকা : সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহানাজ মিথুন মুন্নীর বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ ভূমি অফিসের দ্বিতীয় শ্রেণীর একজন কর্মকর্তা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এসি ল্যান্ড ম্যাডাম কাজ বোঝেন না। বুঝতেও চান না। এমন কর্মকর্তা দীর্ঘ চাকরিজীবনে পাইনি।’ তিনি বলেন, ‘ভূমি অফিসে দু-একটা টাকা সবাই নেন। কেউ কম নেন, আবার কেউ বেশি। কিন্তু প্রকাশ্য দিবালোকে দালাল সিন্ডিকেট করে মানুষের পকেট থেকে টাকা নেয়ার রেওয়াজ আমি দেখিনি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সার্ভেয়ার মস্তফা জামান আব্বাসী টানা চার বছর এখানে কাজ করেছেন। দুই মাস না যেতেই আবার এখানেই পোস্টিং নিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর স্ট্রিম রোলার চালাতে শুরু করেছেন। একইভাবে সার্ভেয়ার জাকারিয়ার বিরুদ্ধেও মানুষের অভিযোগের শেষ নেই। এদের মাধ্যমেই ম্যাডাম সব করাচ্ছেন। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা তাদের সম্পদের হিসাব নিলেই সব বের হয়ে যাবে। দুদক এদের চোখে দেখে না?’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ওদের অনেক টাকা। এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকার পরও ম্যাডাম তাদেরকে দিয়েই জমির সরেজমিন তদন্ত করান। এমনকি বাদী ও বিবাদী দু’পক্ষেরই তদন্ত একজনকে দিয়ে করানোর নজির রয়েছে।’ আপনার বিরুদ্ধেও ঘুষ নেয়ার অভিযোগ আছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ওদের মতো আমি টাকা নিই না। খুশি হয়ে যদি কেউ দেয় সেটা নিই।’

পিয়নদের ৭ পিয়ন : নবাবগঞ্জ ভূমি অফিসে সরকারিভাবে ৫ জন এমএলএসএস কর্মরত আছেন। তারপরও এখানে অতিরিক্ত আরও ৭ জন পিয়ন হিসেবে কাজ করেন। সরকারিভাবে কর্মরতরা হলেন : কাশেম, জাহাঙ্গীর, জিকু, সুফিয়ান ও সালাম। অন্যদিকে স্বেচ্ছায় কর্মরতদের মধ্যে আছেন মামুন, রবিন, মহিউদ্দিন, ইউসুফ, কাওছার, সোহেল, আরিফ ও আক্কাস। ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা যে টাকা ঘুষ নেন তাদের মধ্য থেকে হাতে গোনা কিছু টাকা এদের দেয়া হয়। আর ফাইল তল্লাশি বা অন্য কোনো সহযোগিতা করে নথি জমাকারীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকেন। এসব পিয়নের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে এই ভূমি অফিসে। এদের মধ্যে আক্কাছ এসি ল্যান্ড শাহানাজ মিথুন মুন্নীর বাসায় কাজ করেন। তিনি যখন অফিস করেন তখন আক্কাছও অফিসে ডিউটি করেন। আর অন্য সবাইকে পিয়নের পিয়ন হিসেবেই সবাই জানেন।

এসি ল্যান্ডের বক্তব্য : উল্লিখিত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসি ল্যান্ড শাহানাজ মিথুন মুন্নী বলেন, ‘আমার অফিসের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আমার জানা নেই। আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। যদি কেউ এসব কাজ করে থাকে তা আমার অজ্ঞাতসারে। বিষয়টি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঘুষ নেয়ার বিষয়ে কানুনগো আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘খুশি হয়ে কেউ দিলে আমি নিয়ে থাকি। তবে ফাইল আটকিয়ে কোনো টাকা-পয়সা নিই না।

সার্ভেয়ার মস্তফা জামান আব্বাছি বলেন, কারও কাছে চেয়ে ঘুষ নেয়া হয় না। সারা দিন জমি ডিমারকেশন করলে উপকার পেয়ে মানুষ কিছু দিতে পারে।’ বারবার ঘুরেফিরে কেন আপনি নবাবগঞ্জেই পোস্টিং নেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ আমাকে বারবার দেয়। এ পর্যন্ত দু’বার আমাকে এখানে বদলি করেছে।’

সহকারী নাজির গৌর গোপাল সাহা বলেন, ‘মানুষ এভাবে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে চাকরি ছেড়ে দেব। আসলে আমি সহকারী নামজারিকারক। জোর করে আমাকে সহকারী নাজিরের দায়িত্ব দেয়া হয়।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কর্মচারীদের বেতন দিতে গেলে তো টাকা লেনদেন হবেই।

 

নবাবগঞ্জে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১

নবাবগঞ্জে উত্তর বাহ্রা প্রাইমারী স্কুল মাঠ থেকে শুক্রবার রাতে পাঁচশ পিচ ইয়াবাসহ মো: ইসহাক (৩৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত ইসহাক নয়নশ্রী ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ গ্রামের মৃত ইসমাইলের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উত্তর বাহ্রা প্রাইমারী স্কুলের মাঠে মাদক বেচাকিনি হচ্ছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মহিরউদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ইসহাককে আটক করে। এ সময় তার দেহ তল্লাশী করে ৫০০ পিচ ইয়াবা ও ইয়াবা বিক্রির ৫০৮০ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ইসাকের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করেছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক আজাহারুল ইসলাম বলেন, শনিবার সকালে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আসামীকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

দোহার থানা আওয়ামীলীগের নতুন কমিটি এখন সময়ের দাবিঃ পর্ব ১

হামিদুর রহমান পলাশঃএখনও নাড়ির টান রয়েছে পদ্মার বিস্তীর্ণ জলরাশি, জল জোছনা মিশ্রিত প্রকৃতির নৈসর্গিক রূপের সঙ্গে। ছেলেবেলা, শিশুকাল ও যৌবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে পদ্মার ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালী করে। এ যেন একটি মানবিক জীবনের সহজ-সরল স্মৃতিময় অভিব্যক্তি। অনেক দিন রাজনৈতিক বিশ্লেষন মুলক কোন লেখা লিখি না। তেমন সময়ও পাই না। প্রবাস জীবনে সময় খুবই মুল্যবান। তারপরও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই কিছু সময় বের করি। ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মাহবুবুর রহমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হবার পর ভেবেছিলাম রাজনীতির গুনগত কিছু পরিবতন হবে। কিন্তু এখনও তা দৃশ্যমান নয়। তিনি অনেকটা নিরব আর বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান অতিথি হওয়া নিয়ে ব্যস্ত সাথে উন্নয়ন কাজের প্রতিশ্রুতি। তার পাশাপাশি অন্য নেতারাও পিছিয়ে নেই। তারাও ব্যস্ত নিজেদের অবস্থানের জানান দিতে। জানিনা এ অসম প্রতিযোগীতা কত দিন চলবে ?

এক সময় এই পদ্মাপাড়ের জনপদের জীবন সুখের ছিল! গোলাভরা ধান ছিল, পুকুরে মাছ ছিল, আদর্শের রাজনীতি ছিল। নিম্নমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা নিরাবরণ, সরল, সাদামাটা জীবনে অভ্যস্ত রাজনীতিবিদ যাদের পেশা ছিল আইনজীবী থেকে শিক্ষক, অথবা সমাজের সাধারণ মানুষ – রাজনীতি ছিল তাদের হাতে। নেতারা ছিলেন নেতাদের জায়গায়, কর্মীরা ছিলেন সুশৃঙ্খলভাবে তাদের পেছনে। সেই আদর্শিক মূল্যবোধের রাজনীতির অবক্ষয় সমাজ জীবনে ক্যান্সারের মতো ভাইরাস ছড়িয়ে রাজনীতিবিদদের হাতছাড়া হয়ে মানবকল্যাণ ও রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শন রাজনীতি দেখতে দেখতে চলে গেল ব্যবসায়ী, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক ও বেসামরিক আমলাদের হাতে। এ বিবর্তনে রাজনীতিতে যেমন রক্ত সঞ্চালন ঘটেনি, তেমনি রাজনীতি হারিয়েছে তার জৌলুস।

স্থানীয় রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতি পর্যন্ত গোটা রাজনৈতিক অঙ্গনে মেধা, যোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতায় তারকাখ্যাতি নিয়ে উঠে আসা রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর উৎসস্থল ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ কিন্তু আজ রাজনীতি হয়ে গেছে খেলার মাঠের খেলোয়ারের মত যার পেশি শক্তি বেশি সেই এখন বড় নেতা। এতে করে স্থানীয় গৌরবময় রাজনীতির ঐতিহ্যের ধারাটি শুধু হোঁচট-ই খায়নি, মানুষের আস্থা ও সম্মানের জায়গা থেকেই সরে যায়নি, জাতীয় রাজনীতিকেও তা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। রাজনীতি দিনে দিনে রূপহীন, বর্ণহীন, গন্ধহীন হতে হতে যৌবনই হারায়নি; ভঙ্গুর হয়েছে।

যারা দোহার থানায় সুস্থধারার রাজনীতির গৌরব ও ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারিত্ব দেখতে চান, পুনঃপ্রতিষ্ঠা চান, তারা কেউই যোগ্যতাহীন নয়।

সবাই চায় মেধাবী, সৃজনশীল, আদর্শবান, গণমুখী রাজনৈতিক নেতা-কর্মী তৈরির জন্য নিয়মিত কমিটি গঠন। সবাই চায়, নিয়মিত রাজনীতিবিদদের মধ্য থেকে মেধাবী নেতৃত্ব নির্বাচিত হোক দোহার থানার নেতৃত্বে। এতে যেমন আদর্শিক সুস্থ ধারার, নির্লোভ, দেশপ্রেমিক তারুণ্য প্রতিষ্ঠিত হবে তেমনি রাজনীতির গুনগত পরিবর্তনসহ   তরুন প্রজন্ম রাজনীর প্রতি আকৃষ্ট হবে। সম্ভবনাময় তরুন প্রজন্মের সমন্ময়ে সংগঠনকে গতিশীল করলে সাংগঠনিকভাবে নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতায় হৃষ্টপুষ্টই হবে না; রাজনীতির চারণ কবিদের মতো রাজনীতি হবে আলোকিত। মানুষের কল্যাণে যে রাজনীতি সেটিও হবে গতিময়।

দোহার থানার রাজনীতির এক সময় যৌবন ছিল স্রোতস্বিনী নদীর মতো। যা এখন অনেকটা মলিন। নিয়মিত কমিটি না হওয়ার কারনে এখন আর খুঁজে ১০ জন জনপ্রিয় তরুণ নেতা পায় না দোহার থানা আওয়ামীলীগ। আর এর কারণ দোহারের রাজনীতি অনেকাংশে অরাজনৈতিকদের হাতে চলে গেছে। এতে কমিটি বাণিজ্যের রমরমা ব্যবসায়ই নয়, রাজনীতির সঙ্গে জড়িত অযোগ্যরাই টেন্ডারবাজি, ঠিকাদারি, তদবির বাণিজ্যসহ লোভ-লালসার নানা পথে জড়িয়ে তিন নেতার তোষামোদি করছে এতে কলঙ্কিত হচ্ছে অতীতের রাজনীতির ঐতিহ্য। অযোগ্য নেতা-কর্মিরা দোহার থানার আওয়ামীলীগে তাদের পদ রক্ষায় সকালে এক নেতা বিকালে এক নেতা আর রাতে আর নেতার কাছে দেন দরবারে ব্যস্ত। কিভাবে এ কমিটি চিরস্থায়ী করা যায়, তা নিয়ে ভাবনা নেই। দোহার থানা আওয়ামীলীগের নতুন কমিটি এখন সময়ের দাবি।

দোহারে ১৫০ পিচ ইয়াবাসহ আটক ২

দোহার উপজেলায় ১৫০ পিচ ইয়াবাসহ দুই জনকে আটক করেছে দোহার থানা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়,গত ৩০ মার্চ বৃহস্পতিবার রাতে দোহার থানার এস আই সুরুজ্জামানের নেত্বতে একটি দল উপজেলার নিকড়া চকের বক্স এলাকায় টহল দিচ্ছিল। এ সময় একটি মোটর সাইকেলকে করে আসা দুই আরোহীকে সন্দেহ হলে তাদেরকে তল্লাশি করে ১৫০ পিচ ইয়াবা আটক করে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন,উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের চর লটাখোলা গ্রামের আনসার মুন্সির ছেলে মো. আজিজুল (২৬) এবং কুসুমহাটি ইউনিয়নের বাস্তা গ্রামের বাদল মিয়ার ছেলে সজিব মিয়া (২০) ।

আজ শুক্রবার তাদেরকে নিয়মিত মামলায় আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

এ বিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম শেখ বলেন,”এরা দুজনেই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। রিমান্ডে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যাবে”।

সংগীতে একুশে পদকপ্রাপ্ত পদকপ্রাপ্ত রহমত উল্লাহকে সংবর্ধনা

নবাবগঞ্জ উপজেলায় সংগীতে একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী রহমতউল্লাহ আল মাহমুদ সেলিমকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।

আজ ৩১ মার্চ শুক্রবার বিকালে উপজেলার বক্সনগর ইউনিয়ন পরিষদে এ অনুষ্ঠান করা হয়। বক্সনগর ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া এতে সভাপতিত্ব করেন। উদিচী শিল্পী গোষ্ঠির সংগঠক রহমত উল্লাহ আল মাহমুদ সেলিম নবাবগঞ্জের বক্সনগর ইউনিয়নের সন্তান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব আশীষ কুমার সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ। আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুন, কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক সুরুজ আলম প্রমূখ।