দোহারে দশ জুয়াড়িকে আটক

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় দশ জুয়াড়ি’কে আটক করেছে দোহার থানা পুলিশ।দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়ন থেকে তাদের আটক করা হয়।

এ বিষয়ে জানা যায়,গত রবিবার নারিশায় অবস্থিত মৃধা মার্কেটের একটি খালি কক্ষে ভাড়াটিয়া খালেকের রুমে নগত ৮,৮৬০ টাকা ও দুই সেট (প্লেডিং কার্ড)তাস্ সহ তাদের আটক করা হয়।তারা হলো দোহার উপজেলা ঝনকি নিবাসী আনোয়ার(৪১)পিতা শুকুর বেপারি,মেঘুলা নিবাসী দেলোয়ার(৪০)পিতা হাশেম,নারিশা নিবাসী জয়নাল(৫০)পিতা আমির শেখ,বানাঘাটা নিবাসী আরমান(২২)পিতা আব্দুর রাজ্জাক,নারিশা নিবাসী শাহাদাৎ হোসেন(৫২)পিতা আলী আহম্মদ,মেঘুলা নিবাসী জাফর(২৮)পিতা শামসু,নারিশা নিবাসী অলি আহম্মেদ(৪০)পিতা আইয়ুব আলী মীর,নারিশা নিবাসী সেলিম(৪৫)পিতা লাল মিয়া বেপারি,নারিশা নিবাসী আবুল হাশেম(৫৫)পিতা মৃত মদন খলিফা,নারিশা পশ্চিম চর নিবাসী খলিলুর রহমান(৫৫)পিতা মৃত কিয়ামুদ্দিন বেপারী নামে এই দশ জন জুয়াড়ি’কে আটক করে দোহার থানা পুলিশ।

পরে রাত ৮:৩৫ মি:এ তাদের বিরুদ্ধে ১৮৬৭ সনের জুয়া আইনের ৪ ধারা মামলা করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।যার মামলা নং-০৩(০৭)১৭ খ্রি: ধারা-১৮৬৭ সনের জুয়া আইনের ৪ নংধারা।

দোহার থানা এস আই ইমরুল হক জানায়,তারা অনেক দিন যাবত ওই ভাড়া নেওয়া রুমে টাকার বিনিময়ে তাস খেলতো।এমনই একটি পূর্ব গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্তের মাধ্যমে আসামিদের নগত টাকা ও দুই সেট তাস্ সহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।পরে তাদের উপযুক্ত শাস্তির জন্য বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হয়।

পুত্রকে শাসন করায় দোহারে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের হাতে শিক্ষক লাঞ্চিত

0

রবিবার দুপুরে ঢাকা জেলার দোহারে উপজেলার মেঘুলা মালিকান্দা স্কুলে নারিশা ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক এক শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় ক্রুদ্ধ হয়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার বেলা ৩টার দিকে ছাত্র-ছাত্রীরা  ঢাকা-দোহার সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেয় এবং বিক্ষোভ করে। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা এই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত থেকে জানা যায়, দোহার উপজেলার মালিকান্দা মেঘুলা স্কুল এন্ড কলেজের স্কুল বিভাগের বিজ্ঞান বিষয়ক শিক্ষক মো. সোলায়মান পঞ্চম শ্রেণিতে পাঠদান করছিলেন। এ সময় পড়া না পারায় নারিশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সালাহউদ্দিন দরানীর পুত্র নাবিলকে থাপ্পর দেন ওই শিক্ষক।

বিষয়টি সালাহউদ্দিন দরানীকে জানতে পেরে প্রতিষ্ঠানে এসে অধ্যক্ষ এর কক্ষে ঐ শিক্ষককে ডেকে এনে শিক্ষার্থীদের সামেনই শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা এবং ঘটনার সুষ্ঠূ তদন্ত দাবী করে বিচার চাইতে থাকে তারা।  এ সময় হাজার খানেক শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ করতে শুরু করে। বেলা ৩টার দিকে তারা ঢাকা-দোহার সড়ক অবরোধ করে দেয়। এ সময় সড়কটির দু’পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

বিকাল ৪টার দিকে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে কে এম আল-আমিন ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে অবরোধ তুলে নিতে বলেন। তৎক্ষণাৎ শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ধরনের ঘটনা এ প্রতিষ্ঠানে এই প্রথম।

ঘটনার জন্য তাক্ষণিকভাবে ইউপি চেয়ারম্যান দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মা হীন একটি শিশুর উপর প্রহারকে তিনি মেনে নিতে পারেননি বলে জানান স্বজনেরা। তাই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।

নিউজ৩৯ এর পক্ষ থেকে মালিকান্দা মেঘুলা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ অজয় কুমার রায়ের কাছে ঘটনা জানতে চাওয়া হলে, এ বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে কথা বলবেন বলে জানান।

এ বিষয়ে জানতে নারিশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন দরানী নিউজ৩৯কে বলেন, আমার ছেলে মাতৃহীন। যে কারণে ও একটু অন্যায় করলেও আমি সহজে কিছু বলি না। আজ স্কুলে স্যারের কাছে পিটুনি খেয়ে এসে অঝরে কাঁদছিল তখন আমার মাথা ঠিক ছিল না ছেলের কান্না দেখে। যে কারণে আমি ওই শিক্ষকের ওপর চড়াও হয়েছিলাম। আসলে আমার ভুল ও অন্যায় হয়েছে যে কারনে আমি তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষমাও চেয়েছি।

এ বিষয়ে শিক্ষক সোলায়মানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, ঘটনার প্রভাবে বিহবলিত হয়ে পড়া শিক্ষক সোলায়মান অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এই অপমান তাকে তীব্রভাবে মানসিক আঘাত দিয়েছে বলে স্বজনেরা জানান। তাই তিনি কথা বলার মতো যথেষ্ট সুস্থ নন বলে নিউজ৩৯ কে জানানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল-আমিন বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলার পর ওরা অবরোধ তুলে নিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে এই ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক সহ সর্বত্র আলোচনা – সমালোচনার ঝড় বইছে।

ঘুরে আসুন “বাহ্রা ঘাট”

ঢাকা শহরের খুব কাছেই দোহার উপজেলার অবস্থান। এই উপজেলার একেবারে পশ্চিমে নয়াবাড়ী ইউনিয়নটি পুরোটাই পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত। যেখানে কিছুদিন আগেও ছিল পদ্মার ভায়াবহ ভাঙ্গন এবং সাথে ছিল মানুষের ভিটেমাটি হারানোর কান্না ও হাহাকার। গত বছর ভাঙ্গন রক্ষায় সারে ৩ কি:মি: বাধের জন্য একনেক বৈঠকে ২১৭ কোটি টাকার বাজেট পাশ হয়। বর্তমানে চলছে সেই কাজের প্রাথমিক ডাম্পিং এর কাজ। ডাম্পিং প্রায় শেষ পর্যায়ে। কাজ শুরুর সাথে সাথে এলাকাটি হয়ে উঠেছে মানুষের বিনোদনের কেন্দ্রবিন্দু। পদ্মা পাড়ের পুরো সারে ৩ কি: মি: এলাকা বালুর বস্তা ডাম্পিং করায় নদীর তীর দিয়ে মানুষ পুরো এলাকা হেটে যেতে পারে। তাই নগরজীবনের ব্যস্ততা ও কর্মব্যস্তময় টানা সপ্তাহ কাটানোর পর একটু প্রশাস্তির  জন্য  প্রকৃতির খুব কাছ থেকে পদ্মা নদীর উত্তাল ঢেউ উপভোগ, স্প্রিটবোর্ট, ট্রলার ও নৌকায় ভ্রমণ করতে  চাইলে  আপনি ঘুরে আসতে পারেন পরিবার, বন্ধুবান্ধবসহ নয়াবাড়ী “বাহ্রা ঘাট” থেকে। পদ্মার অপরূপ বিস্তর্ণ জলরাশি এবং নদীর বুকে জলেদের সারি সারি নৌকার ছুটে চলা দেখলে মনে হবে আপনি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে অবস্থান করছেন। আবার এখান থেকে আপনি সূর্যাস্তও দেখতে পাবেন।

“বাহ্রা ঘাট” এর কিছু কথা

এই “বাহ্রা ঘাট” এর কথা কিছুদিন আগেও তেমন কেউ জানত না। এখন ভ্রমণপিপাসু সকল পর্যটকদের মুখে মুখে বাহ্রাপোর্টের নাম শোনা যায়। বর্তমানে জনপ্রিয় পর্যটন স্থানে পরিণত হয়েছে নয়াবাড়ী ইউনিয়নের “বাহ্রা ঘাট”। এখানে খুব সকালবেলা আসলে দেখতে পাবেন পদ্মার বুক থেকে সারারাত ধরে জেলেদের ধরা ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন প্রকার মাছের বাজার। আপনি চাইলে সেই তরতাজা টাটকা মাছ কিনতেও পারবেন।

বাহ্রাপোর্টের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করবার উপযুক্ত সময় হলো বর্ষাকাল। তবে শুকনা মৌসুমেও এর সৌন্দর্যের কমতি নেই। চিরচেনা সেই উত্তাল পদ্মা  দেখা না গেলেও এখন দেখা যাবে পদ্মা নদীর শান্ত রূপ। সন্ধ্যায় পদ্মার পাড়ে বসে সূর্যাস্ত উপভোগ করলে আপনার বাহ্রাপোর্টে আসা সার্থক মনে হবে। মূলত এ কারণেই হয়তো অনেকে কুয়াকাটার সাথে তুলনা করে থাকেন।

বাহ্রা ঘাটে কীভাবে আসবেন

ঢাকা শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকেই গুলিস্থান যাওয়ার সরাসরি বাস পেয়ে যাবেন। গুলিস্থানের সুন্দরবন স্কায়র মার্কেট এর সামনে ওভার ব্রিজ এর নিচে থেকে নগর পরিবহনে সরাসরি বাহ্রাপোর্টে আসতে পারবেন ভাড়া প্রতিজন ৯০ টাকা। আবার গোলাপ শাহর মাজারের সামনে থেকে কার্তিকপুরের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন ছেড়ে যায় যমুনা পরিবহন। ভাড়া জনপ্রতি ৮০ টাকা। কার্তিকপুর থেকে ৩ কি:মি: পশ্চিমে বাহ্রাপোর্টে আসতে অনেক গাড়ী পাবেন। ঢাকা থেকে বাসে বাহ্রাপোর্টে আসতে সময় লাগে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা।

এ ছাড়া ঢাকার বাবুবাজার ব্রীজ এর গোড়া থেকে কেরানীগঞ্জের  কদমতলী হয়ে সিএনজি নিয়েও যাওয়া যায় । জনপ্রতি ১৫০-২০০ টাকা ভাড়া। কার্তিকপুর বাজার আসে। এরপর অটোরিকশাতে জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়ায় সোজা বাহ্রাপোর্টে। রিকশায় গেলে ৩০ টাকা। প্রাইভেট কার বা মাইক্রো বা বাইক নিয়েও যাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে বাবুবাজার ব্রিজ পার হয়ে কদমতলী থেকে নবাবগঞ্জের রুট ধরে টিকরপুর-গালিমপুর হয়ে দোহারের বাশতলা হয়ে সোজা বাহ্রা ঘাটে আসা যায়। মানিকগঞ্জ থেকেও সরাসরি আসা যায় বাহ্রা ঘাটে। আর ব্যক্তিগত বাহন হলে তো আপনার স্বাধীন মতোই চলে যেতে পারবেন। আর যদি কেউ একেবারে ব্যাকপ্যাক ভ্রমণ করতে চান তাহলে ২০০-৩০০ টাকায়ও ঘুরে আসা সম্ভব বাহ্রা ঘাট থেকে। বাহ্রা ঘাটে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রো পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা আছে।

বাহ্রা পোর্ট

বাহ্রা ঘাটে যা দেখবেন

বাস বা গাড়ি থেকে বাহ্রা ঘাটে নেমে কিছু সময় নিয়ে একটু ঘুরে নিতে পারেন বাহ্রা ঘাটের পরিবেশ ও সৌন্দর্য পর্যবেক্ষণে। আমার মনে হয় সময়ের অভাবে যারা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে যেতে পারেন না তাদের একবার হলেও এই জায়গায় আসা দরকার। এত সুন্দর জায়গাটার বর্ণনা লিখে হয়তো সেভাবে বোঝানো যাবে না। এখানে আসার পর ট্রলার বা নৌকা নিয়ে আপনি চর শালিপুর সহ বিভিন্ন খোলা চরের নানান জায়গায় ঘুরে বেরাতে পারবেন। সেই সব চরে আছে জনবসতি। মনে হয় সুনিবিড় একটি স্থান। সেই চর গুলোতে সময় কাটানোর পর বেশ ফ্রেশ লাগবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

বাহ্রা পোর্ট

ঢাকার পাশে হওয়ার কারণে প্রচুর মানুষ এখানে ঘুরতে আসে। খেয়ানৌকা, ট্রলার অথবা স্পিডবোট নিয়ে বিশাল পদ্মার বুকে ভেসে বেড়াতে পারবেন আপনি। ঘাটের পাশাপাশি দেখে যেতে পারবেন মিনি কক্সবাজার মৈনট ঘাট, আদনান প্যালেস পার্ক, নবাবগঞ্জের জজবাড়ি, উকিলবাড়ি, আনসার ক্যাম্প,  খেলারাম দাতারবাড়িসহ আরও কিছু দর্শনীয় স্থান। ঘাটে গিয়ে একটু এগোলেই দেখতে পাবেন সুন্দর ভাবে গোছানো সারি সারি নৌকা ও স্পিডবোট বেঁধে রাখা আছে। পদ্মার মাঝে অপার সৌন্দর্য নিয়ে জেগে ওঠা চরে যাওয়ার জন্য। মূলত জেগে ওঠা চরই আসল সৌন্দর্য। আর তাই নৌকা দরদাম করে উঠে পড়ুন, এক ঘণ্টা চুক্তিতে খেয়ানৌকা ছোট ৩০০-১০০০ টাকা বা ট্রলার ৬০০-১৫০০  টাকা আর স্পিডবোট ১৮-২০ মিনিটের জন্য ২০০০ টাকা । আর ১০ মিনিটের জন্য ১০০০ টাকা। অবশ্যই দামাদামি করে নেবেন। এ ছাড়া স্পিডবোটে বাহ্রা ঘাট থেকে ফরিদপুরের হাজিগঞ্জ যেতে হলে জনপ্রতি ১৬০ টাকা করে গুনতে হবে। ১০ থেকে ১২ জন নিয়ে চলতে পারবে। কয়েকজন মিলে শেয়ারে ভাড়া করলে সবচেয়ে ভালো হবে।

বাহ্রা পোর্ট

কোথায় থাকবেন

পর্যটকদের থাকার জন্য বাহ্রা ঘাটের সাথেই বোর্ডিং আছে তবে পরিবেশ খুব ভালো নয়। আবার স্থানীয় কোনো বাসিন্দার বাড়ি ম্যানেজ করতে না পারলে দিনে এসে দিনেই ফিরে যেতে হবে। তাই ঢাকা বা দেশের যেকোনো স্থান থেকে বেড়াতে গেলে বাহ্রা ঘাটে থাকার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে।

কোথায় খাবেন

বাহ্রা ঘাটে এসে রুপালি ইলিশ খাওয়ার স্বাদ নিতে ভুলবেন না। বেশির ভাগ মানুষেরই ইচ্ছে থাকে পদ্মার তীরে বসে পদ্মার রুপালি ইলিশ খাওয়ার। বাহ্রা ঘাটের পাশেই বেশ কিছু  ভালো মানের ভাতের হোটেল আছে। এসব খাবার দোকানে বড় সাইজের রুপালি ইলিশ খেতে চাইলে আগেই অর্ডার দিতে হবে। প্রতি পিস ইলিশের দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বোয়াল ৮০-১০০ টাকা, চিংড়ি ৮০-১০০ টাকা, পদ্মার নদীর বিভিন্ন ধরনের গুড়া মাছ ৬০-৯০ টাকা। প্রতি প্লেট ভাত ১০ টাকা। আর নৌকা ভ্রমনের পর খাওয়াটা এককথায় অসাধারণ লাগবে।

যেভাবে ঢাকায় আসবেন

ঢাকা থেকে অনায়াসেই দিনে গিয়ে দিনেই আবার ফিরে আসা যাবে বাহ্রা ঘাট থেকে। বাহ্রাঘাট  থেকে ঢাকার উদ্দেশে শেষ বাসটি ছেড়ে যায় সন্ধ্যা সারে ৭ টায়। যদি আপনি সারে ৭ টায় বাসে চড়েন রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে ঢাকায় ফিরে যেতে পারবেন।

বাহ্রা পোর্ট

সতর্কতা

বাহ্রা ঘাট এখন যথেষ্ট কোলাহলময়। তবে হ্যাঁ এখানে ছিনতাই হওয়ার মতো ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম। তবুও সতর্কভাবে থাকাই ভালো। সাঁতার না জানলে গোসল করার সময় বেশি গভীর পানিতে যাবেন না। খাবারের প্যাকেট অথবা সিগারেট প্যাকেট, পানির বোতল বা ড্রিংন্সের বোতল অথবা যেকোনো প্রকার ময়লা যেখানে সেখানে ফেলবেন না। আর যেকোনো ধরনের সাহায্যের জন্য পাশেই অবস্থিত মোহাম্মদপুর পুলিশ ফাঁড়িতে যোগাযোগ করতে পারেন।

দোহারে সাংবাদিককে প্রানে মারার হুমকি

ঢাকার দোহারে মোঃ জাকির হোসেন (৩৫) নামে এক সাংবাদিককে প্রানে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করার অভিযোগ উঠেছে। এই সন্ত্রাসী বাহিনী উপজেলার বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত আছে বলে স্থানীয়রা জানায়। মোঃ জাকির হোসেন দৈনিক তৃতীয় মাত্রার দোহার ও বিডিসারাদিন.কম এর জেলা প্রতিনিধি।

জানা যায়, শুক্রাবার সকালে জামাল হোসেন (২০) নামে এক যুবককে দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের মধুরখোলা গ্রামের সালাম মৃধ্যার ছেলে সুমন (৩০), আকবর মৃধ্যার ছেলে ওবাদুল (৩৫), বাতেনের ছেলে আক্কাস (২৫), কপিল শেখের ছেলে আলামিন (২৫) ও সিদ্দিকের ছেলে সাইফুলসহ অজ্ঞাত ৮-১০ যুবক বাড়ি থেকে মইতপাড়া বিলে ডেকে নিয়ে হাত বেঁধে নির্যাত করে। সন্ধ্যায় স্থানীয়দের সহযোগীতায় জামালকে উদ্ধার করে দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করে। সংবাদকর্মী মোঃ জাকির হোসেন রাত সাড়ে ৮ টায় হাসপালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সন্ত্রাসী সুমন, আক্কাস, আলামিন ও সাইফুলসহ অজ্ঞাত যুবকরা উপজেলার বালুরচক গ্রামে সাংবাদিক মোঃ জাকির হোসেনের বাড়িতে গিয়ে খোঁজতে থাকে। জাকিরের পিতা শাহজাহান বেপারী জাকির বাড়িতে নেই বললে তারা জবাবে বলে আপনার ছেলেকে বলে দিবেন এই নিউজ যেন না করে। যদি নিউজ করে তবে আপনার ছেলেকে প্রাণে মেরে ফেলব। আমাদের নামে মামলা করলে আপনার ছেলে লাশ ও খোঁজে পাবেন না। কথাটা মনে রাখবেন নয়লে ছেলে হারাবেন। এরকম দুই একটি খুন করেছি কোন আইন বা কেউ আমাদের কিছু করতে পারে নাই।

মধুরখোলায় চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে আহত

দোহারের মুকসুদপুর ইউনিয়নের মধুরখোলা গ্রামের জামাল হোসেন (২১) নামে এক যুবককে চোর সন্দেহে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। আহত জামাল দোহার উপজেলার উত্তর মধুরখোলা গ্রামের শেখ মোঃ হযরত আলীর(৫৫)ছেলে।

ঘটনার সূত্রপাতে জানা যায় বেশ কিছুদিন আগে সুমনদের বাড়িতে কিছু টাকা চুরি হয়। সেই চুরির সাথে জামালকে যুক্ত সন্দেহ করে সুমন সহ তার সহযোগীরা মারধর করে জামালকে মারধোর করে। কিন্তু এই চুরি সম্বন্ধে কিছুই জানেন না বলে নিউজ৩৯কে জানান জামাল হোসেন।

ঘটনার স্বীকার জামাল হোসেনের পিতা শেখ হযরত আলী নিউজ৩৯কে জানান,গতকাল শুক্রবার সকাল ৮:০০ টায় তার ছেলে কাজে যায়। পরে কাজের স্থান থেকে সকাল ১১:০০টার সময় একই এলাকার সালাম মৃধার ছেলে সুমন,আকবর মৃধার ছেলে ওবাইল, শেখ সিদ্দিকের ছেলে সাইফুল,আব্দুল বাতেনের ছেলে আক্কাস ও কপিল শেখের ছেলে আলামিন নামক কিছু যুবক এসে জামালকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় ও মারধর করে। পরে দুপুর সাড়ে ১২ টায় জামালের পরিবার আশেপাশের লোকদের কাছ থেকে ছেলের সন্ধান জানতে পেরে মইতপাড়া কাঠবাগানে নিজ ছেলেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে।

পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগীতায় আহত জামালকে দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এই ব্যাপারে আহত জামালের পিতা শেখ হযরত আলী নিজ বাদী হয়ে দোহার থানায় সুমন, ওবাদুল, আলামিন, আক্কাস ও সাইফুলসহ অজ্ঞাত ৭/৮ জনের নামে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। তবে ঘটনার পরপরই জড়িতরা পলাতক আছে বলে জানান শেখ হযরত আলী।

এ বিষয়ে দোহার থানা এসআই নূরুল আমিন জানায়, এ বিষয়ে আহতর বাবা নিজ বাদি হয়ে দোহার থানায় একটি অভিযোগ করা করছেন।পরে অভিযোগ পত্রটি ফুলতলা তদন্ত কেন্দ্রে প্রেরণ করা হয়েছে। দোষীদের গ্রেফতার করে জরুরি ভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দোহারের নতুন আকর্ষণ বাহ্রা বাঁধ

0

গত কয়েক বছরের ক্রমাগত ভাঙনে পদ্মা নদী ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার বাহ্রা বাজারের অনেকটাই খেয়ে নিয়েছে। এলাকাবাসীর আন্দোলনে, দাবীতে বালির বস্তা দিয়ে তিন কিলোমিটারের বেশি একটা বাঁধ দেয়া হয়েছে। আর এতে সৃষ্টি হয়েছে দোহার ও আশেপাশের এলাকার মানুষের বেড়ানোর নতুন যায়গা। যেখানে কয়েকদিন আগেও ভাঙন আতংকে মানুষ দিন গুনত, সেখানে এখন হাসিখুসি পর্যটকের ভীর। বিশেষ করে এখানকার সূর্যাস্ত মানুষকে ভীষণ ভাবে আকৃষ্ট করে।

১# অনেকেই পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন

দোহারের নতুন আকর্ষণ বাহ্রা বাঁধ২# মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়েছে সূর্য

মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়েছে সূর্য৩# চোখজুড়ানো সূর্যাস্ত দেখতে চাইলে থাকতে হবে সন্ধ্যা পর্যন্ত

দোহারের নতুন আকর্ষণ বাহ্রা বাঁধ৪# এতো মানুষের চাপে এই বালির বস্তার বাঁধটির কোনো ক্ষতি হবে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা উচিৎ

দোহারের নতুন আকর্ষণ বাহ্রা বাঁধ৫# নদীর কাছে, পানির কাছে

দোহারের নতুন আকর্ষণ বাহ্রা বাঁধ৬# বাঁধের পশ্চিম অংশ

দোহারের নতুন আকর্ষণ বাহ্রা বাঁধপেছনে ফিরে দেখা:

২০১২ সালের বাহ্রা ঘাট, ভাঙনে পদ্মা কাছে চলে এলেও তখনও অক্ষত ছিল বাহ্রা বাজার।

দোহারের নতুন আকর্ষণ বাহ্রা বাঁধবাহ্রা বাজারের উত্তর দিকের ভাঙন, ২০১২

দোহারের নতুন আকর্ষণ বাহ্রা বাঁধ

সৌদি আরবে ইমামের ছেলেকে বাচাতে গিয়ে নিহত দোহারের যুবক

সৌদি আরবের জেদ্দায় সানাইয়া শহরের একটি মসজিদে এসি বিস্ফোরণে ফেরদৌস খন্দকার (৪৫) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছ। তাঁর বাড়ি ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার দোহার গ্রামে। সে ওই গ্রামের মৃত আনু খন্দকারের ছেলে।

নিহতের চাচা নিপু খন্দকার জানান, আজ বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টার দিকে জেদ্দার সানাইয়া শহরের একটি মসজিদে নামাজ আদায় শেষে বেরুতে থাকেন ফেরদৌস। এমন সময় ওই মসজিদের ইমামের আবাসিক কক্ষে বিকট শব্দে এসির বিস্ফোরণ হয়। তখন ওই কক্ষে থাকা ইমামের ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে যান ফেরদৌসসহ কয়েকজন মুসল্লি। এ সময় গুরুতরভাবে আহত হয় সে। ঘটনাস্থলেই ফেরদৌসের মৃত্যু হয় তবে ওই কক্ষে থাকা ঈমামের ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

এদিকে, ফেরদৌসের মৃত্যুর সংবাদ মুঠোফোনে তাঁর পরিবারের সদস্যরা আজ দুপুরে জানতে পেরে বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বামীর মৃত্যু সংবাদ কিছুতেই মানতে পারছেন না স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার আর বাবার কথা মনে করে শুধুই কাঁদছেন দুই ছেলে মো. ইমু খন্দকার (২০) ও ইশতি খন্দকার (৭)। অন্যদিকে, ছেলের মৃত্যুর কথা শুনে পাগলপ্রায় মা ঝর্ণা খন্দকার।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফেরদৌস খন্দকার ১৫ বছর ধরে সৌদি আরবে প্রবাস যাপন করছেন। সবশেষ দুই বছর আগে ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন। সে সানাইয়া শহরের একটি থাই-এলমুনিয়াম তৈরির কোম্পানিতে চাকরি করতেন।

দোহার কি ঢাকা জেলার ছিটমহল??

‘দোহার’ শব্দটা শুনলেই বুকের গভীরে একটা অন্যরকম টান অনুভব করি সব সময়। আমাদের শিকড় আছে এখানে। ঢাকা জেলার অন্তর্গত ছোট্ট এই উপজেলা নিয়ে আমাদের গর্ব অনেক। বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মীদের কাছে নিজেকে দোহারের ছেলে অর্থাৎ ঢাকার স্থানীয় ছেলে হিসেবে পরিচয় দিতে আমাদের বুক গর্বে ফুলে ঊঠে। আমরা ঢাকা-১ নির্বাচনী আসনের বাসিন্দা। আহা কী অপার আনন্দ! এই সুখে আমরা অনেকেই বিভোর।

ঢাকার কথা সামনে আসলেই ভেসে ঊঠে সকল নাগরিক সুবিধা পূর্ণ মেগা শহর, কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য সেখানে আমাদের প্রিয় দোহারকে বানিয়ে রাখা হয়েছে রাজধানী ঢাকা থেকে বিচ্ছিন্ন কোন নির্বাসিত এলাকা হিসেবে। রাজধানী হতে মাত্র ৪২ কিলোমিটার দুরত্বের (বাস্তবিক ২৯ কিলোমিটার) এই এলাকা যেতে সময় লাগে কমপক্ষে ২ ঘন্টা অথচ সুদূর ময়মনসিংহ কিংবা কুমিল্লা যেতে এই ২ ঘন্টা লাগে। ঢাকার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার এই বেহাল দশা আমি গত দেড় যুগ ধরে অপরিবর্তিত দেখছি। এই সময়ে বিভিন্ন সরকারের দলীয় বড় বড় মন্ত্রী-এমপি ছিলেন দোহারের অনেক গর্বিত সন্তান। কিন্তু তাদের কেউই কি কারনে এলাকার মূল যোগাযোগের উন্নয়নে মনযোগ দেননি তা আমার বোধগম্য নয়। কেউ কেউ এলাকার ভিতরের রাস্তা ঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন বলে আমরা অনেকেই তা নিয়ে আত্মতুষ্টিতে আছি। মাঝে মাঝে আমি ভাবি আসলেই কি দোহার ঢাকা জেলায় অবস্থিত না মুন্সিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। কাগজে কলমে দোহারকে ঢাকা জেলার অংশ হিসেবে রাখা হলেও বাস্তবে এটাকে মনে হয়  মুন্সিগঞ্জের ভিতরে  ঢাকার ছিটহল।

আমার এক বন্ধু অনেক আক্ষেপ নিয়ে একদিন এক ব্যাংক কর্মকর্তার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলেছিল। ঘটনাটা ছিল এইরকম- এক ব্যাংক কর্মকর্তা ঢাকায় বদলির জন্য অনেক দৌড়াদৌড়ি, নানা তদ্বির করে শেষ পর্যন্ত ঢাকার দোহারে পোস্টিং পেলেন। তিনি খোঁজ নিয়ে জানলেন তার নতুন কর্মস্থান জয়পাড়া, দোহার, ঢাকা। নতুন ব্রাঞ্চ থেকে তাকে জানান হল দোহারে আসার জন্য তাকে গুলিস্থান হতে আরাম পরিবহনে করে জয়পাড়া যেতে হবে। ত যথারীতি ভদ্রলোক আরাম পরিবহনে উঠলেন এবং বাসে কন্ডাক্টরকে বলেন, “ভাই আমি জয়পাড়া যাব। আমাকে সঠিক জায়গায় নামিয়ে দিয়েন।’’ বাস জয়পাড়া, ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করল। আধা ঘন্টা পর ভদ্রলোক দেখল বাস মুন্সিগঞ্জ জেলায় দিয়ে যাচ্ছে। একঘণ্টা পার হয়ে যাচ্ছে বাস মুন্সিগঞ্জ জেলায় দিয়ে চলছে। দেড় ঘন্টা হয়ে যাচ্ছে তারপরও বাস মুন্সিগঞ্জ জেলা থেকে বের হচ্ছে না। তখন ভদ্রলোক বাসের কন্ডাক্টরকে ডেকে প্রচন্ড রেগে গিয়ে বলল, “আমি বললাম ঢাকা, দোহার যাব, আমি জায়গাটা চিনি না । তারপর ও আপনি আমাকে মুন্সিগঞ্জে নিয়ে এসেছেন। আমাকে নামিয়ে দেন। আমি মুন্সিগঞ্জ যাব না।‘’ তখন বাসের কন্ডাকটর তাকে কিছুতেই বোঝাতে পারছে নে যে, তিনি সঠিক বাসেই উঠেছেন এবং এই বাস ঢাকাই যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত অন্যান্য যাত্রীদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে ঐ ব্যাংক কর্মকর্তা তার কাঙ্খিত ঢাকা দোহারে পৌছে ছিলেন ঠিকই। কিন্তু হিসেব মিলাতে পারেন নি যেই ঢাকা যেতে মুন্সিগঞ্জ দিয়ে দেড় ঘন্টা চলতে হয় সেই এলাকা ঢাকা হয় কিভাবে???

এই হল আমাদের গর্বের ঢাকা-১ আসন। নারায়নঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গাজিপুরবাসীরা যেখানে অন্য জেলার বাসিন্দা হয়ে প্রতিদিন নিজের বাড়ির খাবার খেয়ে একঘন্টায় রাজধানী গিয়ে ব্যাবসা-বানিজ্য, পড়াশুনা করতে পারছে অনায়াসে সেখানে আমরা দোহারবাসী ঢাকার অধিবাসী হয়েও মেসে থেকে বুয়াদের অখাদ্য রান্না খেয়ে ব্যাবসা-বানিজ্য, পড়াশুনা করতে হচ্ছে। জিপিও থেকে মাত্র ২৯ কিলোমিটার দূরে কিন্তু যেতে শ্রীনগর হয়ে ৫৮ কিলোমিটার আর কেরাণীগঞ্জ দিয়ে গেলে ৪২ কিলোমিটার ঘুরে। এর চেয়ে কষ্ট, এর চেয়ে অপমান আর হতে পারে না! এই দুর্ভোগের শেষ কবে?

বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি উন্নয়ন খাত বিষয়ক উপদেষ্টা, বর্তমান ও সাবেক এমপি-মন্ত্রী, সব দলের নেতা কর্মী সহ দোহারের প্রত্যেককের এই বিষয়ে মনোযোগী হওয়ার এখনই সময়। আমার বিশ্বাস আপনারা একটু মনোযোগী হলে, পরিবহন নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রনে কার্যকর ভূমিকা রাখলে এখনই এক ঘন্টায় ঢাকা যাওয়া–আসা সম্ভব। সেক্ষেত্রে আমারা বাড়িতে থেকেই রাজধানীতে পড়াশুনা, ব্যাবসা-বানিজ্য করতে পারব। আমাদের অন্য কোন চাওয়া নেই। আমরা মুন্সিগঞ্জের ভেতর ঢাকার ছিটমহল হিসেবে থাকতে চাই না।  আমাদের একটাই দাবী-

ঘুরাও উন্নয়নের চাকা,

দোহারকে বানাও সত্যিকারের ঢাকা।

 

লেখক: আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ, অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট

শ্রীনগরে উল্টো রথ যাত্রা সম্পন্ন

শ্রীনগরে সনাতন ধর্মীয় শ্রী শ্রী ঐতিয্যবাহী উল্টোরথ যাত্রা সম্পন্ন হয়েছে । সোমবার দুপুরে উপজেলা হিন্দু,বৌদ্ধ,খ্রিষ্ঠান ঐক্য পরিষদ ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ সহ সনাতন ধর্ম অনুসারীরা এই রথযাত্রার র‌্যালীতে অংশগ্রহন করেন। উল্লেখ্য গত রবিবার রথটিকে শ্রীনগর কেন্দ্রীয় শম্মানঘাট সংলগ্ন শ্রী শ্রী জগন্ন্াথ দেবের মন্দির থেকে দেউলভোগ শ্রী শ্রী কালী মন্দির প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে ৭ দিন ব্যাপী নামকির্ত্তন ও ভোগ আরথী সহ ধর্মীয় রীতি অনুসারে পুজারীরা জগন্নাথ দেবের আরাধনা শেষে আজ দুপুরে রথটিকে পুনরায় সুসজ্জিত করে জগন্নাথ দেবের মন্দিরে প্রাঙ্গনে নিয়ে আসা হয়। পরিশেষে রথযাত্রায় অংশগ্রহণ কারীদের মাঝে প্রসাদ বিতরন করা হয়।

 

২৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট শুরু

চলতি বছর হজ ফ্লাইট শুরু হবে আগামী ২৪ জুলাই থেকে। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ (জিএসিএ) এ ঘোষণা দিয়েছে। জিএসিএ কর্তৃপক্ষ বলছে, ১ জিলকদ থেকে হজযাত্রীদের বহনকারী হজ ফ্লাইট আসা শুরু হবে। সৌদি প্রেস এজেন্সি এক প্রতিবেদনে বলছে, জেদ্দা কিং আবদুল আজিজ বিমানবন্দরে হজের শেষ ফ্লাইট অবতরণ করবে ২৬ আগস্ট। গত চার বছরের চেয়ে চলতি বছর হজযাত্রীদের সংখ্যা ২ লাখ ৬০ হাজার বেশি হতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে আরোপ করা হজ কোটা প্রত্যাহার করে নেয়ার কারণে হজযাত্রীর সংখ্যা বাড়তে পারে। সৌদি সাধারণ পরিসংখ্যান কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ১৮ লাখ ৬২ হাজার ৯০৯ জন হজ সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে বিশ্বের ১৬৯ দেশ থেকে এসেছেন ১৩ লাখ ২৫ হাজার ৩৭২ জন।