বাহ্রা-অরঙ্গবাদ বাঁধের নাম-বিতর্ক প্রসঙ্গে

0

প্রেক্ষাপট ২০০৮ সাল। বাহ্রাঘাট থেকে পদ্মা নদীর তখনও দুরত্ব প্রায় ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার। বাহ্রাঘাট থেকে ধুধু চরের সীমা শুরু। কখনও কখনও রিক্সা যেত আবার কখনো যেত না। বালির সাগরে রিক্সা নিয়ে যাওয়াটাও ছিল কষ্টকর। কখনও রিক্সার চাকা দেবে যেত বালিতে, ফলে চালক আর আরোহী দুই জনের জন্যই ছিল সেটা চরম ঝুকিপূর্ন যাত্রা। সেই বছর থেকেই শুরু হলো এই অঞ্চলের নদী ভাঙন।

প্রেক্ষাপট ২০১০। ২০০৮ সালে যে পদ্মা দুই থেকে ৩ কিলোমিটার দুরে ছিল সেটা আজ বাহ্রাঘাটের দ্বারপ্রান্তে। ঘাট থেকে নামলেই পদ্মা নদী। সেই ধুধু বালুর চরের কোন অস্তিত্বই আজ নেই। এক সময়ের বাহ্রা ঘাটের হাসিখুসি মানুষগুলোর চেহারায় আজ পদ্মার রুদ্ররোষের চিন্তায় শোকার্ত ছাপ।

ঐদিকে এই অঞ্চলের অন্যতম সমৃদ্ধ জনপদ অরঙ্গাবাদে শুরু হয়েছে পিতৃপুরুষের ভিটা হারানোর কান্না। চোখের সামনে পদ্মার গর্ভে চলে যাচ্ছে শৈশবের স্মৃতি বিজড়িত অরঙ্গাবাদ বাজার, কালী মন্দির, অরঙ্গাবাদ মাঠ। চোখের জল আর নদীর জল এক হয়ে মুছে দিচ্ছে নিজের শেষ সম্বল ভিটার স্মৃতিটুকু। জন প্রতিনিধি থেকেও নেই। পদ্মাবাধেঁর প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছেন জন প্রতিনিধিরা। বেশ কয়েকজন মন্ত্রী আসলেন ভাঙ্গন পরিস্থিতি দেখতে। আসলেন, দেখলেন, চলে গেলেন এবং ভুলে গেলেন। উদ্বাস্তু হলো অরঙ্গাবাদ গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার। নাড়িছাড়া হলো হাজার বিশেক মানুষ। নিজের আপন ঠিকানা ভুলে, আত্মীয়তার বন্ধন ছিঁড়ে চলে গেলেন বিভিন্ন জন বিভিন্ন স্থানে। এ যে যুদ্ধের চেয়েও ভয়ানক পরিস্থিতি। যুদ্ধেতো যাই হোক ঠিকানা থাকে আর এখানে যে নেই নিজের সাকিন, নিজের ভূমি, নিজের হারানো সব স্মৃতি।

আছিফুর রহমান
আছিফুর রহমান

প্রেক্ষাপট ২০১৩ সাল। পদ্মা ভাঙ্গন খুবই খারাপ ও নাজুক অবস্থায় চলে এসেছে। বাহ্রা গ্রামের একাংশ ভেঙ্গে গেছে। হুমকির মুখে বাহ্রাঘাট। ইতিমধ্যে মানচিত্র থেকে মুছে ইতিহাসের পাতার স্থান নিয়েছে সমৃদ্ধ জনপদ অরঙ্গাবাদ। তারও আগেই গিয়েছে ইব্রাহীমপুর। ভেঙ্গে গেছে পানকুন্ড গ্রামের অধিকাংশ অঞ্চল।

ধোয়াইর বাজারের দ্বারগোড়ায় নদী। ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে ধোয়াইর বাজারের দিকে। কিন্তু তারপরও মানুষের কোন আশা নেই। নেই নদী তীর রক্ষার কোনো প্রচেষ্টা। যাদের আর্থিক অবস্থা ভাল তারা চলে যাচ্ছেন সাভার বা গাজীপুরের দিকে। নিজের পিতৃভূমি হারিয়ে এই মানুষগুলো এখন নতুন আশ্রয়ে চলে যাচ্ছে। হারিয়ে ফেলছে দোহারের সাথে তার শেষ সম্পর্ক, শেষ যোগাযোগটুকু। যাদের আর্থিক অবস্থা খারাপ তারাও চলে যাচ্ছে দূর দূরান্তে। মানুষের সাথে মানুষের যে আত্মীক সম্পর্কটা তৈরি হযেছিল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে, তারা আজ বিচ্ছিন্ন। এই কীর্তিনাশা, সর্বনাশা পদ্মা সেই সম্পর্ক নষ্ট করে দিয়েছিল মাত্র ২ বছরে। তারপরেও মানুষের মাঝে তৈরি হয়নি কোন সচেতনতা। মানুষ তাকিয়ে আছে আল্লাহর রহমতের দিকে। অথচ সেই রহমতের প্রত্যাশায় নেই কোন প্রচেষ্টা। এর কি আশু কোন সমাধান হবে না? এরই মাঝে চলে এসেছে আরেকটি নির্বাচন। নির্বাচন-২০১৪। পদ্মাবাধেঁর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি এই অঞ্চলের সংসদ সদস্য।

প্রেক্ষাপট ২০১৪। ফেসবুকে সবার সাথে সবার যোগাযোগের জন্য ২০১৩ এর প্রথম দিকে শুরু হয়েছিল ‘দোহারের আড্ডা’ নামে ছোট্ট এক ফেসবুক গ্রুপের। সেই গ্রুপ তৈরি হওয়ার কারনে কিছু মেধাবী, তরুন এবং মানবতাবাদী কিছু মানুষের সাথে পরিচয়ও হয়েছিল। সেই সময় গ্রুপের সদস্যদের মাঝে বেশ আড্ডা হতো। সেটা অনলাইনে হোক বা অফলাইনে হোক। ঢাকার রবীন্দ্র সরোবরে বা জয়পাড়ার রতন ভাস্কর্যের নিচে।

এরকম এক আড্ডায় উঠে আসে পদ্মা বাধেঁর দাবিতে কি করা যায়। সেই সময় কথা উঠলো পদ্মা বাধেঁর দাবিতে কেউ কিছু যেহেতু করছেই না তাহলে আমরা তরুন সমাজ কিছু করছি না কেন। আমার ভাগ্য ভালো সেই আড্ডায় আমি ছিলাম।

যেই কথা সেই কাজ। খোলা হলো পদ্মা বাধের দাবিতে ইভেন্ট। সারা দোহারের সব মেধাবী, শিক্ষিত তরুনেরা সেখানে জমায়েত হয়েছিল। নয়াবাড়ি থেকে জাকির হোসেন, নাহিদুল ইসলাম দ্বীপ, রাজু আহসান কুসুমহাটি থেকে আদনান দোহারী, আবু নাইম দোহারী, তৌহিদুল ইসলাম, রায়পাড়া থেকে মো: জামান, শামীম ইসলাম, আসাদুর রহমান শিপন, আমিনুল ইসলাম মানিক, বিলাসপুর থেকে তৌহিদুল ইসলাম, শেখ সম্রাট হোসেন, হেলাল আহমেদ, হাবিবুর রহমান ঠান্ডু জয়পাড়া বানাঘাটা থেকে ইমরান, সোহাগ, সাজু, মোস্তাকসহ আরো অনেক তরুন সেই দিন এসে উপস্থিত হয়েছিল। সাথে আগে থেকেই ছিল মাহমুদুল হাসান সুমন, মাসুম পারভেজ রবিন, অভিষেক পাল অন্তু, তারেক রাজিব, কামরুল ইসলাম, এডভোকেট আবু সাইদ কাঞ্চন, রাজু আহমেদ, শামীম ইসলাম সহ আরো অনেকে।

সেই দিনই আমরা দোহারের ইতিহাসে প্রথম বাধেঁর দাবিতে মিছিল করি। সেই দিনই শুরু হয়েছিল এক নতুন দিনের। দোহারের তরুন সমাজের গর্জে উঠার দিন। সেই দিন আমাদের সাথে ছিলেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির সিনিয়র রিপোর্টার শিমুল বাশার ভাই। সেই দিনের পর আরো বেশ কয়েকবার আমরা গর্জে উঠেছিলাম বাধেঁর দাবিতে। তারপর আমরা বেশ কয়েকবার মানববন্ধন থেকে শুরু করে মিছিল সবই করেছি। করেছি নিজের ভিটে-মাটি বাঁচানোর তাগিদে।

দোহারের ইতিহাসে সম্ভবত আমাদের এই আন্দোলন সর্ব প্রথম টিভিতে লাইভ সম্প্রচার হয়েছে। যা আমরা করেছিলাম দোহার-নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্টের ছায়ায় দাড়িয়ে। সেদিন আমাদের এই তরুনদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল দোহারের সর্বসাধারন মানুষ। মানুষের প্রাণের দাবিতে সেদিন আমাদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল মেঘুলা-মালিকান্দা গ্রামবাসী। আমাদের পাশে এসে দাড়িয়েছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজ, বর্তমান নারিশা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন দ্বরানীসহ সচেতন রাজনীতিবিদরা। সেইদিন তারা একই পতাকার তলে এসে দাড়িয়েছিলেন সাধারন মানুষ হয়ে।

প্রেক্ষাপট ২০১৬। অবশেষে ১১ বছর পর সালমান এফ রহমান আসলেন দোহারে। সালমান এফ রহমানের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে শুরু হলো পদ্মা বাঁধের কাজ। তিনি নিজে দায়িত্ব নিয়ে শুরু করলেন এই বাধেঁর কাজ। বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে ঢাকা থেকে নিয়ে আসলেন এই বাধেঁর কাজ দ্রুত যেন শুরু হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে। পরিকল্পনা মন্ত্রী মোস্তফা কামালকে কে নিয়ে হেলিকপ্টার ও টাগবোটে ঘুরে বেড়ালেন  মেঘুলা থেকে অরঙ্গাবাদ পর্যন্ত। সরেজমিনে দেখলেন পরিস্থিতি। দোহারে নিয়ে আসলেন পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে। অবশেষে সালমান এফ রহমানের প্রতক্ষ্য চাপে শুরু হলো পদ্মা বাঁধের প্রাথমিক কাজ। ২১৭ কোটি টাকার বাজেট নিয়ে শুরু হলো দোহার বাঁচানোর পদ্মা বাধেঁর কাজ।

প্রেক্ষাপট ২০১৭। পদ্মা বাধেঁর প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে। শেষ হয়েছে বস্তা ফেলার কাজ। পদ্মা বাঁধ সংলগ্ন অঞ্চল ধারণ করেছে অসাধারণ সৌন্দর্য। পাড় থেকে পদ্মার বুকে সূর্যের ডুবে যাওয়া দেখতে দোহার-নবাবগঞ্জ থেকে ছুটে আসছে হাজারো ভ্রমণপিপাসু। কিন্তু এই ঘাটের নতুন করে নামকরণ নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন খেলা। বেশ কয়েকভাগে বিভক্ত হয়েছে এই অঞ্চলের কিছু মানুষ। ফেসবুকে চলছে তুমুল প্রচার। এক ভাগ এর নামকরণ করতে চাচ্ছে মৈনটের অনুকরণে “মিনি পতেঙ্গা”। কেউ চাচ্ছে এর নাম হোক “নয়াবাড়ি রিভারভিউ”। কেউ দিচ্ছে “বাহ্রাপোর্ট”।

কিন্তু কেউ মনে রাখছে না অরঙ্গাবাদের ১০ হাজার মানুষের চোখের পানির মূল্য। কেউ ভাবছে না পদ্মায় বিলীন হয়ে যাওয়া বাহ্রা-নয়াডাঙ্গি-ধোয়াইর গ্রামের ভাঙন কবলিত মানুষগুলোর চোখের পানিকে। হয়তো একদিন এই নামকরণের আড়ালে হারিয়ে যাবে অরঙ্গবাদ গ্রামের পাঠাবলির মেলার আনন্দগুলোর গল্প। হারিয়ে যাবে অরঙ্গবাদের বাবুর বাড়ির ইতিহাস। হারিয়ে যাবে হয়তো অরঙ্গাবাদ মাঠের ফুটবল খেলার স্মৃতি। সেই সাথে হারিয়ে যাবে এই অঞ্চলের মানুষগুলোর স্মৃতি, যারা সব হারিয়ে আজ সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা তাদের সাথে এই অঞ্চলের শেষ সম্পর্কটুকু।

তাই বলতে চাই, শুধু অনুকরণ নয়। এই অঞ্চলের মানুষের চোখের পানি আর আত্মত্যাগের মূল্যও দেয়া হোক। নাম নিয়ে কোন বিভেদ, দলাদলি না হোক।

আছিফুর রহমান, ছাত্র, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

দোহারে ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ

ঢাকার দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভুল চিকিৎসায় সিজান ভূইয়া নামে আড়াই বছরের এক ছেলে শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার দুপুর ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিজান মারা যায়।

ঘটনার পরই উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছুটে যান। নিহত সিজান ভূইয়া উপজেলার পূর্ব সুতারপাড়া গ্রামের বোরহান উদ্দিন ভূইয়ার ছেলে।

নিহতের পরিবার ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র সূত্র জানায়, রবিবার সকালে ডায়রিয়া রোগ নিয়ে ভর্তি করা হয় শিশু সিজানকে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফাহমিদা লস্কর রোগীর ব্যবস্থাপত্র দেন। ব্যবস্থাপত্রের ওষুধ কিনে এনে খাওয়ানোর কিচ্ছুক্ষণ পর সিজানের মৃত্যু হয়।

সিজানের বাবা বোরহান উদ্দিন ভূইয়া অভিযোগ করেন, চিকিৎসকের ভুল ব্যবস্থাপত্রে ছেলের মৃত্যু হয়েছে। আমার পরিবার সঠিক বিচার চায়।

এব্যাপারে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জসিম উদ্দিন ভুল চিকিৎসার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জন্ম-মৃত্যু আল্লাহর হাতে। আমাদের চিকিৎসায় কোনো ভুল ছিল না।

দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম বলেন, স্বজনদের অভিযোগ না থাকায় লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

দোহার থানা বিএনপির নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন

সারা দেশে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ নবায়ন ও নতুন সদস্যপদ সংগ্রহ অবিযান। ইতিমধ্যে সারাদেশেই পৌছে গেছে এই সদস্য সংগ্রহ অভিযানের ফর্ম ও ভিশন-২০৩০ এর বক্তব্য সংবলিত বই। এরই ধারাবাহিকতায় দোহার থানা ও পৌর বিএনপির প্রাথমিক সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান – ২০১৭ এর শুভ উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আব্দুল মান্নান।

দোহার থানা বিএনপির নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন

নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে দোহার থানার ৮ ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ড ও পৌরসভার সকল ওয়ার্ডে সদস্য ফরম ও ভিশন- ২০৩০ এর বক্তব্য সংবলিত বই বিতরন করা হয় ।এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন দোহার থানা ও পৌর শাখা বিএনপি ও অংগসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 

চর কুসুমহাটিতে লীজের নামে ভূমিহীনের জমি দখলের চেষ্টা

দোহার উপজেলায় মাহমুদপুর ইউনিয়নের চর কুসুমহাটি গ্রামের মাহমুদপুর পুলিশ ফাড়িঁ সংলগ্ন প্রায় ২৭ শতাংশ জমি যা ভুমিহীনদের জন্য বরাদ্ধকৃত সম্পত্তি দুই ইউপি সদস্য সামাদ মৃধা,মনিরা বেগম ও ইউএনও’র সহকারি নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে দখলের অভিযোগ করেছে ভুমিহীনরা।

এ বিষয়ে দোহার থানায় অভিযোগ করেও দখল চলাকালীন সময়ে কোন সহযোগীতা পাননি বলে জানান ভূমিহীনদের পক্ষে অভিযোগকারী মো.ফরহাদ মিয়া।

ভূমিহীনদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক একর সম্পত্তি নদী ভাঙ্গনের ফলে সম্পত্তিগুলি উপজেলা ভুমি অধিদপ্তরের আওতায় রয়েছে। ফলে কুসুমহাটি মৌজার আর-এস ৫৯৭ নং দাগে ২৭ শতাংশ জমি ভুমিহীনদের নামে বরাদ্ধ দেন উপজেলা প্রশাসন। কৌশলে উক্ত সম্পত্তি দোহারের ইউএনও’র সহকারি নজরুল ইসলাম তার নিকট এক আত্মীয়ের নামে বরাদ্ধ নেন। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার উক্ত বরাদ্ধকৃত সম্পত্তিতে মাহমুদপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সামাদ মৃধা ও দোহারের ইউএনওর সহকারি নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক লোকজন শাবল,কুড়াল,বড় হ্যামার,কুদাল নিয়ে দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মান করছিলেন।

বিষয়টি স্থানীয় সংবাদ কর্মিদের নজরে পড়লে ইউপি সদস্য সামাদ মেম্বারের নেতৃত্বে নির্মান করা সীমানা প্রাচীরের একাংশ শুক্রবার বেলা ১০টার দিকে লোকজন নিয়ে ভেঙ্গে ফেলে।এ সময়ে সংবাদ কর্মীদের দেখতে পেয়ে জমিতে বসত করা নদী ভাঙ্গনের শিকার বাদশা মেম্বারের পরিবাররা সহ প্রতিবেশী ও আশে পাশের শতাধিক পরিবার জানান,বৃহস্পতিবার সকালে দোহারের ইউএনও’র সহকারি নজরুল তাদেরকে বলে আপনারা যারা এখানে টাকা-পয়সা দিয়ে ঘর-বাড়ি তুলেছেন অতি শীঘ্রই তা সরিয়ে নিন।টাকা-পয়সা যা খরচ করেছেন তার দ্বিগুন দেওয়া হবে।

ইউএনও’র সহকারি নজরুলের মুখে একথা শুনে তারা দোহার থানায় অভিযোগ করলে কর্তব্যরত এ এস আই নুরুল আমীন মাহমুদপুর পুলিশ ফাড়িঁ ইনচার্জ মো.আরব আলীকে অবহিত করতে বলেন অভিযোগকারী ফরহাদকে।

এ বিষয়ে মাহমুদপুর পুলিশ ফাড়িঁ ইনচার্জ মো.আরব আলী জানান,উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার সকালে পুলিশ ফাড়িঁ এলাকায় উভয়পক্ষকে নিয়ে বসা হবে।

এ বিষয়ে দোহারের ইউএনও’র সহকারি নজরুল ইসলাম জানান,বিষয়টিতে তিনি কিছুই জানেন না এবং দুই পক্ষের কাউকে তিনি চিনেন না। এ বিষয়ে মাহামুদপুর ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সামাদ মৃধার সাথে তার মোবাইল ফোনে ০১৭১২০৬০৯৫৪ নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করলে বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে মাহামুদপুর ১/২/৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য মনিরা বেগম জানান,আমি দোহার থানা মহিলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সংরক্ষিত ইউপি সদস্য। আমার জানা মতে এই এলাকার সম্পত্তি দখলস্বত্ত ও ষ্টাম্পে বিক্রি হয়ে থাকে।

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা সহকারী(ভুমি)কমিশনার ইমরুল হাসান কায়েস জানান,বিষয়টি আমার জানা ছিল না। সরেজমিনে গিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এ বিষয়ে দোহারের ইউএনও কে এম আল-আমিন জানান,বিষয়টিতে এখন জানতে পারলাম। রোববার অভিযুক্ত বিষয়ে তদন্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। উক্ত এলাকার ভূমিহীন অসহায় গরিব দুঃখীদের মাঝে চাপা উত্তেজনা ও ভয়ভীতি বিরাজ করছে।

কাতারের প্রতি সমর্থন প্রবাসী বাংলাদেশিদের

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে জল, স্থল ও আকাশপথে আরব দেশগুলো কাতারের ওপর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। তা সত্ত্বেও তেল-গ্যাসসমৃদ্ধ উপসাগরীয় এই ছোট্ট দেশটির চোখ ঝলসানো শপিং মল ও বিলাসবহুল হোটেলগুলোতে অবরোধের চিহ্ন খুব কমই চোখে পড়ছে।

রাজধানী দোহায় আগের মতোই ভিড় জমাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নামিদামি লোকজন। ভিড় জমাচ্ছে বিভিন্ন ফুটবল দলের খেলোয়াড়েরা। গত সপ্তাহেই দোহার একটি জমকালো মলে ভক্তদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন বিখ্যাত ফুটবল দল বার্সেলোনার খেলোয়াড় জেরার্ড পিকে, সার্গিও বাসকেটস ও জর্ডি অ্যালবা। কাতারেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট।

কাতারজুড়ে শোভা পাচ্ছে জাতীয় পতাকা। দেশটির ৩৭ বছর বয়সী আমির শেখ তামীম বিন হামাদ আল থানিকে সমর্থন জানিয়ে বিশাল বিলবোর্ড টাঙানো। তা থেকে বাদ পড়েনি বাংলাদেশও।

কাতারের প্রতি সমর্থন ও ভালোবাসা ব্যক্ত করেছেন বহু প্রবাসী বাংলাদেশি। তেমনই একজন তৌফিক চৌধুরি। কাতারের প্রতি ভালোবাসা জানাতে দু’হাতে কাতার-বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছেন।

তৌফিক বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা কোনো পার্থক্য অনুভব করছি না। বরং সর্বত্রই একটা উৎসবের আমেজ মনে হচ্ছে। বরং সৌদি জোটের অবরোধের কারণে ছোট্ট এই দেশটি বিশ্বের কাছে আরো পরিচিতি লাভ করেছে।

গত জুন মাসের শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সন্ত্রাসবাদ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগে কাতারের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে কাতারকে একঘরে রাখার পদক্ষেপ নেয় সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিশর।

সন্ত্রাসবাদ সমর্থনের অভিযোগ অস্বীকার করে কাতার তার প্রতি অবরোধ আরোপের নিন্দা জানায়। পাশাপাশি সৌদি জোটের অবরোধকে কাতারের সার্বভৌমত্বের প্রতি আক্রমণ বলে অভিহিত করে।

দোহারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেল ৩ গরু

ঢাকার দোহার উপজেলায় ইকরাশী সড়কপাড় এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। এতে খামারি পাঁচ লক্ষাধিক টাকা ক্ষতির শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।

জানা যায়, বুধবার বিকেলে উপজেলার ইকরাশী সড়কপাড় এলাকার বাদশা দেওয়ানের ছেলে সুমন দেওয়ানের গরুর খামারের ঘর মেরামতের কাজ করার সময় ওয়েল্ডিং মেশিনের তার ছেঁড়া থাকায় পুরো ঘরে বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যেই তিনটি গর্ভবতী গরু মারা যায়। এ সময় বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে দিলে প্রাণে বেঁচে যায় খামারের অন্য গরুগুলো।

খামারি সুমন দেওয়ান বলেন, সাভার যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার পর দু’টি গরু দিয়ে খামার শুরু করেছিলাম। খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে আটটি গরু ছিল। দুর্ঘটনায় আমার খামারের বড় ও বিদেশী দুধালো জাতের মূল্যবান তিনটি গরু মারা গেছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে তিনটি গাভীরই বাচ্চা প্রসব করার কথা ছিল।

বিএনপির কাছে জামায়াত চায় ৪৩ আসন

0

নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন না থাকলেও আগামী একাদশ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে থেমে নেই জামায়াতে ইসলামী। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন বিরোধী জামায়াত বেশ আগে-ভাগেই নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। আগামী নির্বাচনে অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি আসন ২০-দলীয় জোটের কাছে চাইবে দলটি। এরই মধ্যে ৪৩টি আসনে প্রাথমিকভাবে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জামায়াত সূত্র নিশ্চিত করেছে। জানতে চাইলে জামায়াত আমির মকবুল আহমাদ সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য আন্দোলনে আছি। এটা অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, জামায়াতের নির্বাচনী প্রস্তুতি রয়েছে। জামায়াতকে নির্বাচনের জন্য আলাদা প্রস্তুতি নিতে হয় না। দল নিষিদ্ধ হলে নতুন সংগঠন করবেন কিনা এমন প্রশ্নে মকবুল আহমাদ বলেন, জামায়াতের নিবন্ধনের বিষয়টি এখনো উচ্চ আদালতে বিবেচনাধীন। আর দল হিসেবে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার আইনি ও নৈতিক অধিকার সরকারের নেই।

সূত্র জানায়, রাজনৈতিক স্বকীয়তা অক্ষুণ্ন রেখেই জামায়াত নির্বাচনী মাঠে লড়াই করবে। তারা ভিন্ন কোনো রাজনৈতিক দলে মিশবে না। নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পেতে আইনি লড়াই দলটি অব্যাহত রাখবে। এক্ষেত্রে কোনো সুযোগ তৈরি না হলে স্বতন্ত্র পরিচয়েই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে দলটি। জোটের সঙ্গে আলোচনা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড় করাবে তারা। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীকও যাতে একই থাকে সে জন্যও তারা পরিকল্পনা করে রেখেছে, যাতে প্রতীক দেখে জামায়াতের অস্তিত্ব বোঝা যায়। দলের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির নেতাদের বেশিরভাগই কারাগারে। বাকিরা পলাতক। দলীয় নিবন্ধন আদালতের রায়ে অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। এ অবস্থায় বিএনপি জামায়াতকে এতগুলো আসন দেবে কি না জানতে চাইলে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা বলেন, আন্দোলনে জামায়াত সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে। জান ও মাল দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আগামী দিনের আন্দোলনেও জামায়াত সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করবে। ত্যাগের বিবেচনায় ৬০ আসন কিছুই নয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রণয়নের কাজ করছে। ২০-দলীয় জোট থেকেই নির্বাচনের বিষয়টি চূড়ান্ত রেখে প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া অনেকটাই গুছিয়ে এনেছে জামায়াত। এক্ষেত্রে ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৩৯টি আসনে নির্বাচন করলেও এবার এই সংখ্যাটি বাড়িয়ে নিতে চাইছে দলটির নীতিনির্ধারকরা। ২০০১ সালের নির্বাচনে ৩০টি আসনে জোটের মনোনয়ন পায় জামায়াত। আর চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিএনপি-জামায়াত দুই দলেরই প্রার্থী ছিল। এবারও দাবি করা আসনে জোটের মনোনয়ন না পেলে ছাড় দেবে না জামায়াত। যে ৪৩টি আসনে জামায়াতের প্রার্থিতা চূড়ান্ত হয়েছে সেগুলো এম এ হাকিম ঠাকুরগাঁও-২, মোহাম্মদ হানিফ দিনাজপুর-১, আনোয়ারুল ইসলাম দিনাজপুর-৬, মনিরুজ্জামান মন্টু নীলফামারী-২, আজিজুল ইসলাম নীলফামারী-৩, হাবিবুর রহমান লালমনিরহাট-১, শাহ হাফিজুর রহমান রংপুর-৫, নূর আলম মুকুল কুড়িগ্রাম-৪, আবদুল আজিজ গাইবান্ধা-১, নজরুল ইসলাম গাইবান্ধা-৩, আবদুর রহিম সরকার গাইবান্ধা-৪, নুরুল ইসলাম বুলবুল চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, মো. লতিফুর রহমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, আতাউর রহমান রাজশাহী-৩, রফিকুল ইসলাম খান সিরাজগঞ্জ-৪, আলী আলম সিরাজগঞ্জ-৫, মতিউর রহমান নিজামীর পরিবারের কোনো সদস্য পাবনা-১, মাওলানা আবদুস সোবহান পাবনা-৫, ছমিরউদ্দিন মেহেরপুর-১, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান চুয়াডাঙ্গা-২, মতিয়ার রহমান ঝিনাইদহ-৩, আজিজুর রহমান যশোর-১, আবু সাইদ মুহাম্মদ সাদাত হোসাইন যশোর-২, অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াদুদ বাগেরহাট-৩, শহীদুল ইসলাম বাগেরহাট-৪, মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনা-৫, শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুছ খুলনা-৬, ইজ্জতউল্লাহ সাতক্ষীরা-১, আবদুল খালেক মণ্ডল সাতক্ষীরা-২, মুফতি রবিউল বাশার সাতক্ষীরা-৩, গাজী নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা-৪, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী অথবা তার দুই ছেলে পিরোজপুর-১ ও ২, শফিকুল ইসলাম মাসুদ পটুয়াখালী-২, মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ছেলে হাসান ইকবাল শেরপুর-১, অধ্যাপক জসিমউদ্দিন ময়মনসিংহ-৬, ফরীদউদ্দিন সিলেট-৫, মাওলানা হাবিবুর রহমান সিলেট-৬, ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের কুমিল্লা-১১, শামসুল ইসলাম চট্টগ্রাম-১৪, হামিদুর রহমান আযাদ কক্সবাজার-২ ও শাহজালাল চৌধুরী কক্সবাজার-৪। এ আসনগুলোর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, সিরাজগঞ্জ-৫, ময়মনসিংহ-৬, সাতক্ষীরা-১, পটুয়াখালী-২, কক্সবাজার-৪ এই ছয়টি আসনে জামায়াত নতুন করে লড়তে যাচ্ছে। গত নির্বাচনে এ আসনগুলোতে জামায়াতের প্রার্থী ছিল না। তবে ময়মনসিংহ-৬ আসনে ২০০১ সালে জামায়াত প্রার্থী জোটের মনোনয়ন পেয়েও পরাজিত হন। সিরাজগঞ্জ-৫ ও কক্সবাজার-৪ আসনে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান। এ কারণেই আসন দুটিতে ছাড় দিতে নারাজ তারা।

আওয়ামী লীগের যেসব হেভিওয়েট মনোনয়ন পাচ্ছেন না

0

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বর্তমান ও সাবেক অনেক মন্ত্রী বা হেভিওয়েট প্রার্থীরাও মনোনয়ন বঞ্চিত হতে পারেন। নির্বাচন করার সুযোগ হারাতে যাচ্ছেন তারা। দলের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করে এ আভাস পাওয়া গেছে। দলের জরিপ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাঠ রিপাের্ট ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার ভোটযুদ্ধের রণকৌশল থেকেই এমনটি করা হচ্ছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কঠিন নির্বাচন ধরেই শেখ হাসিনা দলের ঐক্য এবং মনোনয়নের ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।

শেখ হাসিনার দু’টি মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে যারা সংসদে রয়েছেন, তাদের এক তৃতীয়াংশই মনোনয়ন পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে হাইকমান্ড এসব সংসদ সদস্যের আসনে বিকল্প প্রার্থী যাচাই বাছাই করছেন। নির্বাচনে বিকল্প প্রার্থী হিসাবে অনেককে সবুজ সঙ্কেতও দেয়া হয়েছে। বর্তমান মন্ত্রিসভার অন্ততপক্ষে ৪/৫ জন প্রবীণ সদস্য আছেন, যারা স্বেচ্ছায় মনোনয়ন দৌঁড় থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। একাধিক প্রবীণ মন্ত্রী নিজ নিজ পুত্রের পক্ষে মনোনয়ন পাইয়ে দেয়ার চেষ্টায়রত রয়েছেন। ১৯৯৬-০১ এবং ২০০৮-১৩ মেয়াদের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যেও বেশ ক’জন নিজ নিজ এলাকায় উত্তরাধিকারী তৈরিতে দৌড়ঝাঁপ অব্যাহত রেখেছেন।

পাশাপাশি ওই দুই মেয়াদের মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে যারা সর্বশেষ নির্বাচনে মনোনয়ন হাতছাড়া করেছেন তাদের অনেকে আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ইতোমধ্যেই বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে যোগ্যদের মূল্যায়ণের কথা জানিয়েছেন। মন্ত্রিসভায়ও যোগ-বিয়োগের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই মন্ত্রিসভাকে ঢেলে সাজাবেন। যাদের অযোগ্য ও বিতর্কিত মনে করবেন তাদের বাদ দেবেন। তিনি বলেন, বিতর্কিত কাউকেই আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে না।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই অনেক দূর এগিয়েছে। খসড়া তালিকা যাচাই বাছাই চলছে এমন কথা জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনেরর একটি প্রার্থী তালিকা আগেবাগেই তৈরি করে রাখবে।

এদিকে দায়িত্বশীল সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য উপাত্তে দেখা যায়, সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন এজেন্সির মাঠ পর্যায়ের সরেজমিন প্রতিবেদনে বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীদের পাশাপাশি সম্ভাব্য বিকল্প প্রার্থীদের অবস্থানও ফুটে উঠেছে। প্রতিবেদনে প্রায় এক তৃতীয়াংশ মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় সংসদ সদস্য হিসাবে অবস্থান অত্যন্ত শোচনীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা যায়, এসমস্ত আসনে বিকল্প প্রার্থীদের বিষয়েও সুপারিশ রাখা হয়েছে। পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনগুলোর তথ্যচিত্র প্রধানমন্ত্রীকেও হতাশ করেছে। সর্বশেষ আরেক দফা সমীক্ষার পর সংসদীয় বোর্ড বসবে। হাইকমান্ড স্বয়ং পরীক্ষা নিরীক্ষার পর তিনশত আসনে প্রার্থীদের একটি খসড়া তালিকা তৈরি করে রাখা হচ্ছে।

গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ ফারুক খান এবং গোপালগঞ্জ-২ আসনরর সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম দু’জনই সাবেক মন্ত্রী।

১৯৯৬-০১ টার্মে দেড় বছরের মাথায় হওয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম, গোপালগঞ্জ-১ আসনে একক প্রার্থী হলেও গোপালগঞ্জ-২ আসনে এবার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে নাম লেখাবেন বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা। ফলে শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মেয়াদের বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী ফারুক খানের আসনটি হাতছাড়া হচ্ছে। অবশ্য কর্নেল ফারুক খানকে ঢাকা-১৭ আসনে প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যথারীতি প্রার্থী হবেন গোপালগঞ্জ-৩ আসনে।

মাদারীপুর-৩ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাসিম। এখানে অতীতে ১৯৯১ থেকে প্রতিটি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসা সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন সর্বশেষ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হন। কানাডার আদালত থেকে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় বিভিন্ন রাজনীতিবিদসহ সমাজের নানা অংশ তার প্রতি সহানুভূতিই প্রকাশ করেননি মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দেয়ারও দাবি জানিয়েছেন। সূত্র জানায়, আগামী মন্ত্রিসভার রদবদলে তাকে আবার মন্ত্রী করা হচ্ছে।

শরীয়তপুরের তিনটি আসনের মধ্যে শরীয়তপুর-২ আসনে বারবার নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী। বয়সের কারণে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাচ্ছেন না তিনি। এ আসনে মনোনয়ন পাচ্ছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম।

ফরিদপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী নিজ থেকে নির্বাচন না করার চিন্তাভাবনা করছেন। তার আসনে পুত্র আয়মন আকবর চৌধুরীকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন। আরমান এলাকায়কাজওকরছেন।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ঢাকা-১৮ আসনে এবার মনোনয়নবঞ্চিত হতে পারেন। চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীরে ভাগ্যেও এবার মনোনয়ন বিপর্যয় ঘটতে পারে। পাবনা-১ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা কম সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুরও। এখানে অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে ফিরিয়ে এনে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। বি. বাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক এবার মনোনয়ন পাচ্ছেন না। এই আসনে মনোনয়ন পেতে পারেন এটিএম মনিরুজ্জামান সরকার। জামালপুরের দুটি আসনে সাবেক দুই মন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা ও আবুল কালাম আজাদ এবার মনোনয়ন বঞ্চিত হতে পারেন। আবুল কালাম আজাদের জায়গায় নূর মোহাম্মদ ও রেজাউল করিম হীরার আসনে ইঞ্জিনিয়ার মোজাফফর হোসেন অথবা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাকী বিল্লাহ মনোনয়ন পেতে পারেন।

পাবনা-১ আসন থেকে নির্বাচিত বর্তমান ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু, নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক ডাক টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দীন আহমেদ রাজু মনোনয়ন দৌঁড়ে নেই। রাজিউদ্দীন আহমেদ রাজু তার পুত্রকে প্রার্থী হিসাবে দেখতে চাইছেন। কিন্তু এখানে মেধাবী ব্যরিষ্টার তৌফিকুর রহমানকে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

চট্টগ্রাম-১০ আসনে মনোনয়ন পাচ্ছেন না সাবেক মন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিন। তার আসনে প্রার্থী করা হতে পারে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে ফিরে আসা সাবেক চট্টগ্রাম সিটি মেয়র মঞ্জুরুল আলমকে। গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ডেপুটি স্পীকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বীও এবার মনোনয়ন হারাতে পারেন। তার আসনে প্রার্থী হতে পারেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হোসেন রিপন।

খুলনা থেকে নির্বাচিত সাবেক প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানেরও মনোনয়ন হাতছাড়া হতে পারে। মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপনও মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রবীন নেতা অ্যাডভোকেট রহমত আলী এবার মনোনয়ন না পেলে তার পুত্রের জন্য মনোনয়ন চাইবেন।

সাবেক সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মোজাম্মেল হোসেন বাগেরহাট-৪ আসনে মনোনয়নবঞ্চিত হতে পারেন। এখানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এ‌্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ মনোনয়ন প্রত্যাশী।

বেকার হয়ে যাচ্ছে দোহার থানার পুলিশ!

কাজ নেই দোহার থানা পুলিশের! মামলা নেই। তাই নেই তদন্তের ঝামেলাও। যে কারণে কাজকর্মেও নেই বাড়তি চাপ। এক ধরনের ফুরফুরে মেজাজেই রয়েছেন এখানকার পুলিশ সদস্যরা। মামলার অভাবে বলতে গেলে দৃশ্যত অবসর সময়ই কাটছে তদন্তকারীদের।

হটাৎ করেই মামলার সংখ্যা কমে যাওয়ায় ঠিক উল্টো চিত্র এখন থানাজুড়ে। এসব কারণে একদিকে নাগরিক জীবনে যেমন স্বস্তি, তেমনি আবার উল্টো দিকে মাথায় হাত পড়েছে অনেকের।

সেটা আবার কাদের? ‘এই যেমন ধরুন, রাইটার, দালাল, তদবিরবাজ, কথিত গণমাধ্যমকর্মী, স্বার্থোদ্ধারকারী আইনজীবী, মুহুরী, আদালতের কর্মচারী, ধান্ধাবাজ। থানার অপরাধ প্রবণতার ওপর নির্ভরশীল এমন অনেক পেশার মানুষরাই দৃশ্যত পড়েছেন কর্মসংকটে’— অপরাধ চিত্রের খতিয়ানের পৃষ্ঠা উল্টে সহাস্যে এমনটিই বলছিলেন দোহার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান।

‘এই সফলতার চিত্রে জেলা পুলিশের কর্মকর্তাদের মুখে এখন চওড়া হাসি। আর এই সাফল্যের চিত্রটাকেই মডেল ধরে এখন অন্যান্য থানায় তা কার্যকরের কথা ভাবা হচ্ছে। আসলে সাহস আর সততা। এই দুয়ের সমন্বয়ে ভালো যা কিছু হয়। সেটারই প্রমাণ করেছেন এসপি শাহ মিজান শাফিউর রহমান স্যার’— বলছিলেন মাহবুবুর।

দোহার থানায় অপরাধ চিত্রের খতিয়ান ঘেঁটে দেখা যায়, গত জুন মাসে সর্বসাকুল্যে এই থানায় মামলা হয়েছে মাত্র দু’টি। যার একটি মোটরসাইকেল চুরি। অন্যটি মাদক উদ্ধারের মামলা।

যে থানা এক সময় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি আর খুনের জন্য রীতিমতো ছিল আতংকের। কী করে সেই থানার চিত্র এভাবে পাল্টা গেলো?

‘সবই সিস্টেম। গুণগত নেতৃত্ব। সাহসী সিদ্ধান্ত। এককথায় গুড পুলিশিং। যে সফলতার নেপথ্যে আমাদের পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান স্যার’— বলছিলেন দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম শেখ।

‘বলতে পারেন স্যারের নেতৃত্বে জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পৃক্ততা তৈরির মাধ্যমেই এই সফলতা। আগে মানুষ থানায় যেতে ভয় পেতো। এখন জনগণই থানার পুলিশকে ভাবছে বন্ধু। যারা অপরাধী তাদের সামাজিকভাবে জনগণ বয়কট করছে। প্রতিবাদ করছে। প্রতিহত করছে। এক কথায় সফল কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কারণেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই পাল্টে যাওয়া চিত্র’— যোগ করেন সিরাজুল ইসলাম শেখ।

দোহার থানাকে অনেকেই চেনেন ‘ভিভিআইপি থানা’ হিসেবে। খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের জন্মস্থান এই দোহার। এছাড়া আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য, তৃণমূল বিএনপি ও বাংলাদেশ জাতীয় জোটের (বিএনএ) চেয়ারম্যান ব্যরিস্টার নাজমুল হুদার নির্বাচনী এলাকাও দোহার।

যে কারণে এই থানায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির হেরফের হলেই থানার ওসির চেয়ারেও লাগে ঝাঁকুনি। তবে এখন উল্টো পরিস্থিতি।

‘আগে খুনের মতো অপরাধ হলেও কে কার দলের। কার কাছের লোক। প্রভৃতি বিষয় মাথায় রাখতে হতো। আবার মামলার চার্জশিট দিতে গেলেও রাঘববোয়ালদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো। সেসব দিনগুলোতে পুলিশকে ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’র মতো বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতো। তবে অপরাধপ্রবণতা প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনায় সেসবের আর বালাই নেই’— বলছিলেন দোহারে দায়িত্ব পালন করা মাঝারি গোছের একজন কর্মকর্তা।

ঢাকার রমনা জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) থেকে শাহ মিজান শাফিউর রহমান ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব নেন গত বছরের ১৬ জুন।

এর আগে কেবল সততা আর সাহসকে আশ্রয় করেই সন্ত্রাসের জনপদ বলে পরিচিত ফেনীর গড ফাদারদের রাজত্ব ভেঙে দিয়ে সেখানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে পথে এনে আলোচনায় আসেন পুলিশের ২০তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা।

পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই ছক কষেন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের পাশাপাশি তা টেকসই করার।

‘অপরাধ সংগঠনের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’ নীতি সামনে রেখে পদক্ষেপ নেন সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচির। ‘পুলিশ হবে জনগণের প্রকৃত বন্ধু। আবার জনগণই পুলিশ’ এই ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করতে পাড়া-মহল্লায় চলে কমিউনিটি পুলিশের নানা পদক্ষেপ।

‘আর ফলাফলটাও আসতে শুরু করে অল্প সময়ের ব্যবধানে। দোহার থানাকে নিয়ে আমরা গর্ব করি। আমরা বলি দোহার এখন শান্তির থানা। যারা সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন তারাও কাজ করছেন শান্তি আর স্বাচ্ছন্দ্যে’— বলছিলেন পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান।

খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা বলেই কি বাড়তি কোনো পদক্ষেপ? ‘আসলে তা নয়। আমাদের শুরুটা এখান থেকে। ফলটাও আসতে শুরু করেছে দোহার থেকে। জেলার অপরাধপ্রবণতা প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অপরাধের ধরন, এমনকি অপরাধের গতি-প্রকৃতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। যে কারণে অপরাধ সূচক বলতে গেলে গোটা জেলাতেই নিম্নগামী।’

২০১৬ সালের জুন মাসে এই থানায় মামলা হয়েছে ১৪টি। ঠিক তার আগের বছর ২০১৫ সালের জুন মাসে মামলা হয়েছে ১১টি। আর চলতি বছরের জুনে মামলা হয়েছে মাত্র দু’টি। তার একটি আবার মাদক উদ্ধারের মামলা।

‘এই যে পরিবর্তন। এটাকেই মডেল ধরে আমরা ছড়িয়ে দিতে চাইছি অন্যান্য থানায়। যার ধারাবাহিকতায় লাগোয়া নবাবগঞ্জ থানায় মামলার সংখ্যা কমে গেছে।

এই যে মামলার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এটার মানে এই নয় যে, মামলা গ্রহণে নিরুৎসাহিত করা বা কাউকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা যাচাই করে দেখেছি, প্রকৃত অর্থেই মামলা কমে গেছে। ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’ এই বার্তাটাই আমরা পৌঁছে দিতে পেরেছি। আর এভাবেই আমরা এগিয়ে চলেছি’— বলেন পুলিশ সুপার।

শাহ মিজান শাফিউর রহমানের আশাবাদ, ‘আমরা স্বপ্ন দেখি, দোহারের মতো জেলার অন্যান্য থানাগুলোও হবে সন্ত্রাস, মাদক, সর্বোপরি মামলামুক্ত।’

মৈনট যেভাবে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত হল

0

মৈনট বা মৈনট ঘাট ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত পদ্মা পাড়ের একটা ঘাট যা দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। নিয়মিতই ঢাকা সহ বিভিন্ন যায়গা থেকে পর্যটকরা আসছে দেখতে। এই সাধারণ অখ্যাত একটি ঘাট মৈনট যেভাবে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত হল সেই ইতিহাস আমরা তুলে ধরেছি।

অখ্যাত ঘাট:

মৈনট মূলত ফরিদপুর থেকে ঢাকা যাওয়া আসার পথে পদ্মার পুরোনো এক ঘাট। ফরিদপুরের মানুষ পদ্মা পাড়ি দিয়ে মৈনটে এসে এপাড়ে উঠেন। তারপর ঢাকার বাস ধরে ঢাকায় যেতেন। তবে মৈনট এখনকার মত ব্যাপক পরিচিত আগে ছিল না। ভূ-প্রকৃতিও এমন ছিল না। বহুবছরের ভাঙাগড়ার ভেতর দিয়ে সৃষ্টি হয় আজকের মৈনট।

মৈনট প্রথম নজরে আসে যখন ২০০৫-০৬ সালের দিকে কার্তিকপুর থেকে মৈনটে যাবার রাস্তা তৈরী করা হয়। মৈনটে রাস্তা বানানো দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত ছিল। তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রীর লক্ষ্য ছিল এখানদিয়েই পদ্মা সেতু করার।

মৈনট
২০০৮ সালের মৈনট

তখন দোহারের স্থানীয় ভ্রমণপিপাসুরা ঘুরতে যেতেন মৈনটে। বর্ষায় এক অপরুপ সৌন্দর্য্য সৃষ্টি হত সেখানে। দুই পাশে বিস্তীর্ণ জলরাশি, তার মাঝ চিরে চলে যাওয়া পিচঢালা সড়ক। কিছু পর পর ছোট ছোট সেতু। সেখানে রাস্তার উপর রেস্তোঁরা বসেছিল।  কিন্তু সেই রাস্তা টিকেনি। কয়েক বর্ষায় পদ্মার প্রবল স্রোতে ভাসিয়ে নিয়ে যায় সড়ক, সেতুগুলি পর্যন্ত।

আবার মৈনট:

রাস্তা ভাঙলেও ঘাটের ব্যবহার ঠিকই ছিল। পরবর্তীতে আবার তৈরী করা হয় সড়ক। যমুনা পরিবহন পদ্মা পাড়ি দেয়া মানুষজনকে ঢাকা আনা নেয়ার কাজ করে। মৈনট থেকে কার্তিকপুর, আর কার্তিকপুর থেকে বাশতলার সড়ক ছিল ভয়াবহ খারাপ। বাশতলা থেকে কার্তিকপুর যাওয়ার স্মৃতি দোহারের পশ্চিমাঞ্চলের মানুষদের জন্য দুঃস্বপ্ন। এই নিয়ে নিউজ৩৯.নেট সহ পত্র-পত্রিকায় প্রচুর লেখালেখি হয়। সম্প্রতি রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে।

ছোট কক্সবাজার:

মৈনটকে জাতীয়ভাবে পরিচিত করার পুরো কৃতিত্ব যার তিনি হলেন প্রয়াত মাহমুদ হাসান খান। তিনিই মৈনটকে “ছোট কক্সবাজার” নাম দিয়েছিলেন। মাহমুদ হাসান খান তার দলবল নিয়ে দেশের নানা প্রান্তে ঘুরে বেড়াতেন, তার সবই খ্যাতিমান পর্যটন স্পট ছিল না, তিনি গ্রামাঞ্চলে অখ্যাত সব যায়গায় যেতেন। ঘুরতে ঘুরতে তিনিই মৈনটের খোঁজ পান। মৈনটের ছোট্ট সৈকত দেখে তিনি নাম দেন ছোট কক্সবাজার।

তারপর ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারী তার দল নিয়ে প্রথম অফিশিয়াল ভ্রমণ করেন। তারপর থেকেই পরিচিতি পেতে থাকে “ছোট কক্সবাজার”। একই বছর ২৪ অক্টোবর আবার আসেন মৈনটে

২০১৬ সালে বাংলা ট্রিবিউনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন,

আমি নিজেই দেশের বেশ কয়েকটি আনকমন জায়গাকে ট্যুর করে পরিচিত করেছি। এখন অন্য অনেকে সেখানে ঘুরতে যাচ্ছে। দোহারের মৈনট ঘাট নামে একটি জায়গা রয়েছে।  ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন হিসেবে সেখানে ঘুরে যাওয়া যেতে পারে এই চিন্তা বোধ হয় আমি প্রথমে করেছি। বছর তিনেক আগে আমি সেখানে বড় একটি গ্রুপ নিয়ে যাই। তারা স্থানটাকে খুবই পছন্দ করেন। আমরা স্থানটার নাম দিয়েছি ছোট কক্সবাজার।  জায়গা অনেকটা সমুদ্র সৈতকের মতো। পরে আমি একাধিকবার সেখানে লোকজন নিয়ে গিয়েছি। এখন দেখছি প্রত্যেক সপ্তাহেই অনেকেই সেখানে যাচ্ছেন।

এছাড়া তিনি মেঘনার মায়াদ্বীপ, পিরোজপুরের ভাসমান পেয়ারা বাগান, বরিশালের উজিরপুর সাতলার শাপলা বিলকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত করেন।

এসময়ের পর্যটন আকর্ষণ মৈনট
২০১৬ সালে মৈনট, দোহার, ঢাকা
জাতীয় পরিচিত:

বেড়াই বাংলাদেশের টৃপে ঘুরে আসা মানুষদের শেয়ার করা ছবিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভ্রমণপিপাসুদের নজরে আসে। শুরু হয় মৈনট নিয়ে লেখালেখি। মৈনটে কীভাবে যাওয়া যায়, সেখানে কী আছে দেখার এসব নিয়ে লেখালেখি। মৈনটে যাবার বিস্তারিত বিবরণ নিয়ে লেখা প্রতিবেদন ভাইরাল হয় মিডিয়ায়। বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশ হতে থাকে মৈনট নিয়ে লেখা। দিনে দিনে বাড়তে থাকে ঢাকা থেকে আসা পর্যটক। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি পত্রিকায় মৈনট নিয়ে অন্তত একটি লেখা আছে।

মৈনট এখন দোহারের আইকন। ঢাকা জেলার এক নাম্বার উপজেলা হয়েও যে দোহার আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভুগত, মৈনট সেই দোহারকে এনে দিয়েছে জাতীয় পরিচিতি। মৈনটের কল্যাণে এখন সবাই দোহারকে চিনে। বলা যায় ভ্রমণপিপাসুরা অন্তত একবার হলেও দোহারে এসেছেন।

মৈনটের আসল সৌন্দর্য হল সূর্যাস্ত, কিন্তু ঢাকা শহর থেকে আসা পর্যটকরা দিনের আলো থাকতেই রওনা দেন। যার কারণে তারা পদ্মার মোহনীয় সূর্যাস্ত থেকে বঞ্চিত হন। ঢাকা যাবার পথ আরও নিরাপদ ও আরও কম সময় লাগলে তারা এই সৌন্দর্য উপভোগ করে যেতে পারতেন।  আগামীতে হয়তো সেটিও হবে।