মহাবিশ্বের উৎপত্তি হয়েছিল যেভাবে

 

এই জগতে বিদ্যমান বিভিন্ন ঘটনা ব্যাখ্যা করতে আমরা ইন্দ্রিয়ের সাহায্য নেই। চোখে দেখলে বা কানে শুনলে বা ত্বকে অনুভূত হলে আমরা সিদ্ধান্ত নেই সেখানে আসলেই কিছু না কিছু একটা আছে কিংবা কিছু না কিছু একটা অবশ্যই ঘটছে। তবে জগতের সবকিছুই যে আমাদের ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে বিচার-বিশ্লেষণ করা যাবে এমন নয়। ভৌত জগতের অনেক কিছুই আছে যা স্বাভাবিকভাবে ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে অনুভব করা যায় না। তবে সরাসরি অনুভব করা না গেলেও ভিন্ন একটি উপায়ে বিজ্ঞানীরা বিশেষ ঐ ঘটনার ব্যাপারে সিদ্ধান্তে উপনীত হন।

 

বাস্তব জগতের কোনো ঘটনা কেমন হবে তা যদি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা না যায়, তাহলে বিজ্ঞানীরা তা ব্যাখ্যা করার জন্য ‘মডেল‘ প্রদান করেন। প্রদত্ত মডেল তার দাবীর সত্যতার পক্ষে কিছু ভবিষ্যদ্বাণী করবে। যদি ভবিষ্যদ্বাণী সত্য বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে ঐ মডেল সঠিক বলে বিবেচিত হবে। আর ভবিষ্যদ্বাণী যদি মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তাহলে সেই মডেল বাতিল বলে গণ্য হবে কিংবা মডেলকে সংশোধন করে আবার নতুনভাবে উপস্থাপন করতে হবে।

ইন্দ্রিয়ের স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার বাইরের ঘটনা ব্যাখ্যা করতে বিজ্ঞানীরা মডেল প্রদান করে থাকেন। ছবি: লার্ন টু প্লে

 

মহাবিশ্বের উৎপত্তি কখন ও কীভাবে হয়েছিল সে সম্বন্ধে আমাদের ইন্দ্রিয় কিছু বলতে পারবে না। কারণ এই ঘটনা ঘটে গেছে অনেক অনেক আগে। তাই মহাবিশ্বের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করতে হলে অবশ্যই কোনো না কোনো মডেলের দ্বারস্থ হতে হবে। বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্বন্ধে দুটি মডেল প্রচলিত ছিল। মডেল দুটি ছিল একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী এবং বক্তব্যের দিক থেকেও ছিল পরস্পর বিপরীতমুখী। এদের একটি হচ্ছে ‘স্টিডি স্টেট’ বা ‘স্থির মহাবিশ্ব’ মডেল আর অপরটি হচ্ছে ‘বিগ ব্যাং’ বা ‘বৃহৎ বিস্ফোরণ’ মডেল। তখনকার সময়ের প্রেক্ষিতে স্থির মহাবিশ্ব মডেলই ছিল সবচেয়ে অভিজাত ও যুক্তিপূর্ণ মডেল। কিন্তু অভিজাত হলেও পরবর্তীতে তা ভুল বলে গণ্য হয়, কারণ এই মডেল মহাবিশ্ব সম্পর্কে যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল তা ভুল প্রমাণিত হয়।

 

স্থির মহাবিশ্ব মডেল অনুসারে মহাবিশ্বের কোনো সূচনা বা শুরু ছিল না। মহাবিশ্ব সবসময়ই অস্তিত্বমান ছিল। এটি এখন যেমন আছে, আগেও তেমন ছিল, ভবিষ্যতেও তেমনই থাকবে। অন্যদিকে বিগ ব্যাং মডেল অনুসারে মহাবিশ্ব একটি নির্দিষ্ট সময় আগে অদ্ভুত রকমের এক বিস্ফোরণের মাধ্যমে উৎপত্তি লাভ করেছিল। বিস্ফোরণের পর থেকে মহাবিশ্ব প্রসারিত হয়েই চলছে। স্থির মহাবিশ্ব মডেলের সাথে যখন এর দ্বন্দ্ব, তখন এটিকে বেশি যুক্তিপূর্ণ বলে মনে হয়নি। কিন্তু তারপরেও এই মডেলকে সকল বিজ্ঞানীই গ্রহণ করে নিয়েছিল। কারণ এই মডেলের দেয়া ভবিষ্যদ্বাণী মহাবিশ্বের পর্যবেক্ষণলব্ধ তথ্যের সাথে মিলে যায়।

স্থির মহাবিশ্ব মডেল অনুসারে মহাবিশ্ব এখন যেমন আছে আগেও এমন ছিল ভবিষ্যতেও এমনই থাকবে (উপরে, সবসময় ঘনত্ব সমান)। অন্যদিকে বিগ ব্যাং মডেল অনুসারে মহাবিশ্ব সদা প্রসারিত হচ্ছে (নিচে, ঘনত্ব সবসময় সমান নয়)।

 

বিগ ব্যাং মডেলের আধুনিক ভার্সন অনুসারে আজ থেকে ১৩ বা ১৪ বিলিয়ন বছর আগে পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বের সকল বস্তু একটি মাত্র ক্ষুদ্র বিন্দুতে আবদ্ধ ছিল। বিশাল এক বিস্ফোরণের মাধ্যমে ক্ষুদ্র বিন্দু চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং পদার্থবিজ্ঞানের কিছু নিয়ম মেনে আজকের গ্রহ নক্ষত্র তৈরি করে। এখানে ‘পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্ব’ কথাটি কেন বললাম? পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্ব বলতে বোঝায় দৃশ্যমান আলোয় আমাদের চোখে দেখা, টেলিস্কোপের মাধ্যমে এক্স-রে বা অবলোহিত আলোর মাধ্যমে দেখা মহাবিশ্ব।

 

মোদ্দা কথা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যেভাবেই হোক মহাবিশ্বের যে পরিমাণ এলাকা মানুষের পক্ষে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব তা-ই পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্ব। বিশাল বিস্তৃত মহাবিশ্বের এমন অংশও তো থাকতে পারে যা কোনোপ্রকার যন্ত্রপাতি দিয়েই মানুষ পর্যবেক্ষণ করতে পারে না। এমনও তো হতে পারে মহাবিশ্বের বাইরে অন্য একটি মহাবিশ্ব আছে যেটি সম্বন্ধে আমরা কোনোভাবেই জানতে পারবো না।

পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্ব (কালো অংশ)-এর বাইরেও থাকতে পারে বিশাল এক জগত। ছবি: ক্যারি হুয়াং ও মাইকেল হুয়াং

অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে নিজেদের মহাবিশ্বের বিস্তৃতি সম্পর্কেই আমরা ভালো করে জানি না। এ তো গেল নিজেদের মহাবিশ্বের কথা, কোনো কোনো বিজ্ঞানী মনে করেন এই মহাবিশ্বের বাইরে আরো অনেক অনেক মহাবিশ্ব আছে। আমাদের মহাবিশ্ব সহ অন্যান্য সকল মহাবিশ্বকে একত্রে ‘মাল্টিভার্স’ বা ‘অগণন মহাবিশ্ব’ বলা হয়। মাল্টিভার্সের মধ্যে থাকা মহাবিশ্বগুলো ফেনার মধ্যে থাকা বুদবুদের মতো। একেকটা বুদুবুদ একেকটা মহাবিশ্বকে প্রতিনিধিত্ব করে। অসংখ্য বুদবুদের মাঝে আমাদের সমগ্র মহাবিশ্বটিও একটি বুদবুদ। কিন্তু এসব মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমরা পর্যবেক্ষণলব্ধ কোনো তথ্য পাই না। তাই এগুলো পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বের অন্তর্ভুক্ত নয়। এ কারণেই ‘পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্ব’ কথাটি উল্লেখ করা হয়েছিল। বিগ ব্যাংয়ের মাধ্যমে ১৪ বিলিয়ন বছর আগে আমাদের এই পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বের যাত্রা শুরু হয়েছিল।

হতে পারে বুদবুদ সদৃশ অসংখ্য মহাবিশ্বের মাঝে আমাদের মহাবিশ্ব একটি। ছবি: স্কোপ/পিন্টারেস্ট

 

বিভিন্ন বিজ্ঞানীকে বলতে শোনা যায় সময়েরও একটি শুরু আছে বা সময়েরও জন্ম আছে। বিগ ব্যাংয়ের পর থেকে মহাবিশ্বে সময়ের শুরু হয়েছিল। তাই বিগ ব্যাংয়ের আগে কী ছিল এমন প্রশ্ন করলে প্রশ্নটা হয়ে যায় সময়ের শুরুর আগে কী ছিল? ঋণাত্মক সময় বলতে কিছু নেই। তাই সময়ের শুরুর আগে কী ছিল বলে প্রশ্ন করলে সেটি প্রশ্ন বলেই গণ্য হবে না। কেউ যদি উত্তর মেরুর উত্তরে কী আছে প্রশ্ন করে তাহলে যেমন কোনো উত্তর পাওয়া যাবে না, তেমনই মহাবিশ্ব শুরুর আগে বা সময়ের শুরুর আগে কী ছিল বললেও কোনো উত্তর পাওয়া যাবে না।

 

বুঝতে কষ্ট হচ্ছে? আসলে প্রথমদিকে এই ব্যাপারটা অনুধাবন করতে একটু সমস্যা হয়ই। পরে ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যায়। এক্ষেত্রে ধরে নিতে হবে আমাদের আশেপাশের স্থান যেমন একধরনের মাত্রা, তেমনই সময়ও একধরনের মাত্রা। বিগ ব্যাংয়ের পরে যেমন স্থানের মাত্রার জন্ম হয়েছিল, তেমনই সময়ের মাত্রারও জন্ম হয়েছিল। তাই বিগ ব্যাংয়ের আগে কী ছিল এমন প্রশ্নও আসলে কোনো প্রশ্ন নয়। শুধু এটা অনুধাবন করা জরুরী যে, একটি নির্দিষ্ট সময় আগে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছিল।

 

কীভাবে সবকিছুর শুরু হয়েছিল তা ব্যাখ্যা করতে গেলে প্রথমেই জানতে হবে গ্যালাক্সি সম্বন্ধে। কারণ গ্যালাক্সির প্রসারণের ঘটনা থেকেই বিগ ব্যাং মডেলের পক্ষে বড় ধরনের প্রমাণ এসেছিল। গ্যালাক্সির ভেতরে থাকা নক্ষত্রগুলোর মাঝে অবিশ্বাস্য পরিমাণ ফাঁকা স্থান বিদ্যমান। গ্যালাক্সির বিশালতার তুলনায় নক্ষত্র বলতে গেলে কিছুই না। লক্ষ লক্ষ নক্ষত্র নিয়ে এক একটি গ্যালাক্সি গঠিত হয়। এক গ্যালাক্সি থেকে আরেক গ্যালাক্সির দূরত্ব কল্পনাতীত পরিমাণ বেশি। এখানে চারটি গ্যালাক্সির একটি ছবি দেয়া হলো। ছবির গ্যালাক্সিগুলোতে সর্পিলাকার প্যাটার্ন লক্ষ্য করা যায়। রেখার মতো দেখতে এসব সর্পিল প্যাটার্নগুলো আসলে কোটি কোটি নক্ষত্রের সমন্বয়ে গঠিত। নক্ষত্রের পাশাপাশি আছে ধূলি ও গ্যাসের বিস্তৃত মেঘ।

এরকমই একটি গ্যালাক্সি হচ্ছে মিল্কিওয়ে এবং আমাদের সূর্য মিল্কিওয়ের মাঝে বিদ্যমান অনেকগুলো নক্ষত্রের মাঝে একটি। এই গ্যালাক্সিকে মিল্কিওয়ে কেন বলা হয় তার পেছনে কারণ আছে। রাতের পরিষ্কার আকাশে এই গ্যালাক্সিটির একটি অংশবিশেষ দেখতে পাওয়া যায়। অংশটি দেখতে একটি প্রণালি বা পথ (ওয়ে) এর মতো। এজন্য একে বাংলায় ছায়াপথ বা ইংরেজিতে মিল্কিওয়ে বলা হয়।

 

এটিকে পথ বা প্রণালির মতো দেখা যায় কারণ আমরা এর সামান্য একটি অংশ মাত্র দেখতে পাই। সামগ্রিকভাবে এটি দেখতে মোটেও পথের মতো নয়। যদি কোনো একভাবে অন্য কোনো গ্যালাক্সিতে অবস্থান করে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির দিকে তাকাতে পারতাম তাহলে এটিকে সর্পিলাকার হিসেবে দেখতে পেতাম। নিচের ছবিতে সর্পিলাকার গ্যালাক্সির মাঝে একটি অংশে গোল চিহ্নিত করা আছে, এখানেই আমাদের সূর্যের অবস্থান। এই ক্ষুদ্র একটি বিন্দুই সমগ্র সূর্য ও অন্যান্য গ্রহ নক্ষত্র তথা সমগ্র সৌরজগতকে প্রতিনিধিত্ব করছে। গ্রহগুলো এত বিশাল হওয়া সত্ত্বেও এবং সূর্যের সাথে এদের দূরত্ব এত বেশি হওয়া সত্ত্বেও গ্যালাক্সির আকারের তুলনায় এই ‘বিশাল’ দূরত্ব কিছুই নয়। তাই ছবিতেও এদেরকে আলাদা করে দেখানো সম্ভব হয়নি।

মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সিতে ক্ষুদ্র সূর্য। ছবি: স্লাইড প্লেয়ার

 

নিচে আরো একটি ছবি তুলে দেয়া হলো। এটি কোনো শিল্পীর কল্পনায় আঁকা নয়, টেলিস্কোপের মাধ্যমে তোলা বাস্তব ছবি। ছবিতে ফুটে ওঠা প্রত্যেকটি ফুটকীই একেকটি গ্যালাক্সির প্রতিনিধিত্ব করছে। ছোট হোক বড় হোক যতগুলো বিন্দু আছে সবগুলোই একেকটি গ্যালাক্সি, আর প্রতিটি গ্যালাক্সিতে আছে বিলিয়ন বিলিয়ন পরিমাণ নক্ষত্রের সমাবেশ। চমৎকার এই ছবিটিতে যতবারই তাকাই ততবারই অভিভূত হয়ে যেতে হয়। ছবিটি দেখে মনে হয় এই মহাবিশ্বের বিশালত্ব কল্পনাতেও ধারণ করা অসম্ভব। ব্যাখ্যা করতে না পেরে এতটুকুই বলা যায়, আমাদের পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্ব অনেক অনেক অনেক বিশাল।

প্রত্যেকটি বিন্দুই একেকটি গ্যলাক্সি। ছবি: নাসা

 

বিংশ শতকের শুরুর দিকে এডউইন হাবল নামে একজন বিজ্ঞানী পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দেখান গ্যালাক্সিগুলো একে অপর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সরে যাওয়াটা এলোমেলোভাবে যাচ্ছেতাই দিকে নয়, একটি নির্দিষ্ট হারে সরছে। যে গ্যালাক্সির দূরত্ব যত বেশি তার সরে যাওয়ার হার তত বেশি। যেহেতু একটি আনুপাতিক হারে গ্যালাক্সিগুলো দূরে সরে যাচ্ছে তার মানে উল্টো করে পেছনের দিকে গেলে দেখা যাবে একসময় সকল গ্যালাক্সি একত্রে পুঞ্জীভূত অবস্থায় ছিল। এই পুঞ্জীভূত সকল পদার্থ একটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে সমগ্র মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে প্রসারিত হতে থাকে। ঐ বিস্ফোরণটিকেই আমরা বিগ ব্যাং বলে অভিহিত করে থাকি। বৈজ্ঞানিকভাবে বিগ ব্যাং মডেলই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মডেল। এই মডেল অনুসারে বিগ ব্যাংয়ের পর থেকেই মহাবিশ্বের সূচনা ঘটেছিল।

মৃত্যুপুরী মৈনট: এক বছরে ঝরে গেল ১০ প্রাণ

দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের কার্তিকপুর সংলগ্ন মৈনট আজ ইন্টারনেটের কল্যানে ঢাকার অন্যতম এক পর্যটন স্পটে পরিনত হয়েছে। এপারে ঢাকা ওপারে ফরিদপুর জেলাকে সংযুক্ত করা পদ্মা তীরবর্তী এই স্থানটি আজ ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় একটি বিনোদন স্পট। চরভদ্রাসন উপজেলা আর এপাড়ে ঢাকার দোহার উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা মৈনট। পদ্মা নদীই মূলত পৃথক করেছে এ দু’টি জেলাকে।

এক যুগ আগে দোহারের মৈনটঘাট থেকে চরভদ্রাসনের গোপালপুর ঘাটের মাধ্যমে যাত্রী পারাপার শুরু হলে ধীরে ধীরে মৈনটের নাম পরিচিতি পেতে থাকে। মৈনট ট্রলারঘাট দিয়ে ফরিদপুর জেলার দু’টি উপজেলার মানুষ পারাপার হয়ে থাকেন। তারপরও ভরা বর্ষায় এ পথে যাতায়াত কমে যায় অনেকাংশে। মৈনট ট্রলার ঘাট দিয়ে স্থানীয়রা বিকেলে বেড়াতে এলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে এটাকে অনেকে মিনি কক্সবাজার হিসেবে চিনেন। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার মানুষজন একটু বিনোদনের জন্য এখানে স্বস্তির নিস্বাস ফেলতে চলে আসেন এই মৈনটে। পদ্মা নদী বছরের বেশির ভাগ সময়ই উত্তাল থাকে। পদ্মার তলদেশ অসমতল ও উচুঁনিচু। পদ্মা নদীর এ বৈশিষ্ট্য জানা না থাকা সত্ত্বেও ঢাকার দর্শনার্থীরা মৈনটে পদ্মার পানিতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। অথচ এটি অনুমোদিত কোনো পর্যটন এলাকা নয়। সাঁতার জানা ও না জানা উভয় শ্রেণীর দর্শনার্থীদের জন্য মৈনট একটি মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। গত এক বছরে মৈনটের পদ্মায় পড়ে মারা গেছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ ১০ জন। স্থানীয় প্রশাসন নানা উদ্যোগ নিলেও তা মানছেন না অনেক পর্যটক।

গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ১৪ জন শিক্ষার্থী মৈনটে বেড়াতে আসেন। তারা কেউ সাঁতার জানতেন না। পানিতে নেমে গোসল করার সময় স্রোতের তোড়ে ভেসে যায় পাঁচ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে স্থানীয়রা দু’জনকে জীবিত উদ্ধার করলে আবরার তাজোয়ার, আহমেদ হাসান ও নির্ঝর এই তিনজনের লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে ১৫ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকার গেণ্ডারিয়া এলাকার দুই শিক্ষার্র্থী মিরাজ ও তালহা পানিতে তলিয়ে গেলে একদিন পর দু’জনের লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। এ বছরের ১০ ফেরুয়ারি মৈনটঘাটের অদূরে জেগে ওঠা বালুচরে ফুটবল খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যান প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান মিন্টু ও শাওন সরকার।

 ঈদুল ফিতরের এক দিন পর মঙ্গলবার ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে পাঁচ শিক্ষার্থী ঘুরতে আসেন মৈনটে। দুপুরে ওই পাঁচ শিক্ষার্থী গোসল করতে পদ্মায় নামেন। কিন্তু সাঁতার না জানায় একপর্যায়ে স্রোতে ভেসে যান পাঁচ শিক্ষার্থী। স্থানীয়দের সহযোগিতায় অপূর্ব ও ফাহিমকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও সালমান বিন জামাল, ইশতিয়াক আহমেদ মহিন ও সুপ্রিয় ঢালী নিখোঁজ হন। পরের দিন বুধবার বেলা ১১টায় নৌবাহিনীর একটি দল ইশতিয়াক মহিনের লাশ উদ্ধার করে। তবে সাত দিনেও সন্ধান মেলেনি অন্য দু’জনের। ঘটনার পর থেকে নদীর পাড়ে অপেক্ষা করছেন নিখোঁজের স্বজনেরা। একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও পদ্মার পানিতে নামা থামেনি। এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল আমিন বলেন, গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার পর থেকে কোনো দর্শনার্থী যাতে পানিতে নেমে গোসল করতে না পারেন এ জন্য মাইকিংসহ অন্যান্য সচেতনতামূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ সত্ত্বেও এক শ্রেণির মানুষ তা অমান্য করে পানিতে গোসল করতে গেলে এসব দূর্ঘটনা ঘটছে।

দোহারে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

দোহার উপজেলার রসুলপুর গ্রামে পানিতে ডুবে আরাফাত হোসেন নামে দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

নিহত আরাফাত হোসেন উপজেলার রসুলপুর গ্রামের আলমগির হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়,পরিবারের অসাবধানতা বসত আরাফাত বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বিকেল ৫ টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরাফাতকে মৃত ঘোষনা করে।

এ বিষয়ে দোহার থানার ডিউটি অফিসার উপ পরিদর্শক আলমগির হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের কাছে কোন অভিযোগ নেই

পদ্মার তলদেশে আরেকটা পদ্মা : সেতু নির্মানে অনিশ্চয়তা

0

নদীর তলদেশে মাটির গঠনগত বৈচিত্রের কারণে পদ্মা সেতুর পিলারের দৈর্ঘ্য কত হবে, তা নির্ধারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। প্রকৌশলীরা বলেছেন পদ্মার তলদেশের নিচে আরেকটা পদ্মার অস্তিত্ব রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। কারন কোনভাবেই পিলার গাথা যাচ্ছে না।
এ পর্যন্ত পিলার গাথার জন্য যতবার চেষ্টা করা হয়েছে ততবারই ব্যর্থ হয়েছেন প্রকৌশলীরা। জানা গেছে পিলার গাথার জন্য যখন পদ্মার তলদেশের মাটির গভীরে পিলার গাথা হচ্ছে েসেসব পিলার কোথঅয় যে হারিয়ে যাচ্ছে তারও কোন হদিস নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন , পদ্মার নিচে আরেকটা পদ্মার অস্তিত্ব রয়েছে বলে মনে হচ্ছে ।

ফলে মাওয়া প্রান্তে পুরোদমে পাইলিংয়ের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। তবে প্রকল্প পরিচালক বলছেন, সম্প্রতি দেশি বিদেশি পরামর্শকরা এ সমস্যার সমাধান করতে পেরেছেন।
শিগগিরই নদীর দুই প্রান্তে একসাথে পুরোদমে পাইলিংয়ের কাজ শুরু হবে। এছাড়া বিশ্বের সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি হ্যামার যোগ হওয়ায় কাজে গতি আসবে বলে আশাবাদী তারা।
পদ্মা সেতুর কাজ চলছে। সেতুর অন্য প্রকল্পগুলোর কাজ যখন সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে প্রায় শেষের দিকে, যেখানে নদীর স্রোত এবং তলদেশের মাটির স্তরের গঠনসহ নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে এগিয়ে চলেছে মূল সেতুর পাইলিংয়ের কাজ।
৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুতে পিলার থাকবে ৪২টি। এক একটি পিলারের প্রাথমিক দৈর্ঘ্য ধরা হয় প্রায় ১২০ মিটার। তবে শুরু থেকেই নদীর মাওয়া প্রান্তে মাটির তলদেশের গঠন বৈচিত্রের কারণে দৈর্ঘ্য নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। এই প্রান্তে ৬ ও ৭ নম্বর পিলারের কাজ ধরা হলেও পরে তা অর্ধসমাপ্ত রেখেই কাজ সরিয়ে নেয়া হয় জাজিরা প্রান্তে।
এখানে ৩৬ থেকে ৪২ নম্বর পিলার পর্যন্ত কাজ চলছে পুরোদমে। মাওয়া প্রান্তে ১ নম্বর এবং ৬ থেকে ১২ নম্বর পিলারের দৈর্ঘ্য কত হবে তা এখন পর্যন্ত নির্ধারণ করা যায় নি। ফলে অন্য পিলারগুলোতে কাজ ধরা হলেও বন্ধ আছে এ কয়টি পিলারের কাজ। তবে সম্প্রতি সমস্যার সমাধান হয়েছে বলে জানালেন পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম।
পদ্মায় যোগ হয়েছে বিশ্বের সর্বোচ্চ ৩ হাজার কিলোজৌল ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন একটি হ্যামার। জার্মানিতে তৈরি এ হ্যামার প্রায় দেড়মাস সমুদ্র পাড়ি দিয়ে জুন মাসে মাওয়ায় এসে পৌঁছে। এটিকে এখন জাজিরা প্রান্তে পাইলিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হবে। আগের দুটি হ্যামার এখন তাই ব্যবহার হবে মাওয়া প্রান্তে। সব কিছু মিলে পুরো নদী জুড়েই পাইলিংয়ের কাজে গতি আসার ব্যাপারে আশাবাদী প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা ।
এখন পর্যন্ত মূল সেতুর কাজ ৫২ শতভাগ কাজ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ হয়েছে ৪৪ ভাগ।

৩৬ ঘন্টা পরেও সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর

দোহার উপজেলার মৈনট ঘাটে পদ্মায় নৌকাডুবিতে নিখোঁজ এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন দুইজন। গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় মহিমের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। এখনও নিখোঁজ রয়েছে সালমান (২৪) ও সুপ্রিয় (২২) নামে দুই শিক্ষার্থী ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা থেকে দোহারের মৈনট ঘাটে বেড়াতে আসা পাঁচ বন্ধু পদ্মা নদীতে গোসল করতে নামে। দুই ছাত্র অপূর্ব ও ফাহিমকে স্থানীয়রা উদ্ধার করলেও স্রোতের টানে ডুবে যায় সালমান, সুপ্রিয় এবং মহিম।

সুপ্রিয় ঢালী, পিতাঃ নাসির উদ্দিন ঢালী তার গ্রামের বাড়ী মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে। সুপ্রিয় মিরপুর কমার্স কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

নিখোঁজ আরেকজন সালমান(২০)।পিতাঃ ডক্টর মো, জালাম উদ্দিন তার গ্রামের বাড়ী ২৭ টঙ্গী গাজিপুর।

সারাদিন ফায়ার সার্ভিস, কোষ্টগার্ড এবং নৌবাহিনীর ডুবুরী দল চেষ্টা করেও সালমান এবং সুপ্রিয় কারোই কোন সন্ধান করতে পারেনি। পরে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল- আমিন এবং ওসি সিরাজুল ইসলাম শেখ ঘটনাস্থলে গিয়ে গতকালের মতো উদ্ধার অভিযান সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আজ সকাল থেকে আবার উদ্ধার অভিযান চলছে।

দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম শেখ জানান, সকালে ঘটনাস্থল থেকে দুই কিলোমিটার দূরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল মহিমের মরদেহ উদ্ধার করে। সে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার শাহ আলমের ছেলে। এখনও নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর সন্ধানে অভিযান চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল-আমিন নিউজ থার্টিনাইনকে জানান, নিখোঁজদের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চলবে।

মৃত্যুর আগে মহিমের ফেইসবুক স্ট্যাটাস

‘মানি ব্যাগে ১৫ হাজার টাকা, কিন্তু ঈদের কোনও প্ল্যান নাই এইবারও। ঘুম ছাড়া কোনও ওয়ে নাই’,নিজের ফেসবুক ওয়ালে গত ২৫ জুন ৬টা ৩৪ মিনিটে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন ইশতিয়াক আহমেদ মহিম। সেই মহিম আসলেই ঘুমের দেশে চলে গেলেন ঈদের দ্বিতীয় দিনে।

ঢাকার দোহার উপজেলায় অবস্থিত মৈনট ঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া তিন নিহত শিক্ষার্থীর একজন এই ইশতিয়াক আহমেদ মহিম। বুধবার (২৮ জুন) সকাল আটটার দিকে মহিমের মৃতদেহ উদ্ধার করে উদ্ধারকারী দল। মৃতদেহটি ঝাউকান্দা এলাকায় নদীর তীরে ভেসে উঠেছিল। নিহত ইশতিয়াক আহমেদ মহিম ছিল  ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র।

মহিমের সঙ্গে নিখোঁজ হওয়া অন্য দুজন হলেন মণিপুর কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. সালমান বিন জামাল ও মিরপুর কমার্স কলেজের সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সুপ্রিয় ঢালী। তাদের বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার ঈদের পরদিন মহিমসহ এই তিনজন ঢাকা থেকে দোহারে বেড়াতে যান। মৈনট ঘাট থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে ঝাউকান্দা এলাকায় বিকাল পাঁচটার দিকে তারা গোসল করতে নদীতে নামেন। নদীর তীব্র স্রোতে পাঁচ জনের মধ্যে মহিমসহ তিন জন তলিয়ে যান। মহিমের মৃতদেহ উদ্ধার হলেও জামাল ও সুপ্রিয় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। আর বুয়েটের শিক্ষার্থী ফাহিম ও অপূর্বকে ঘটনার পরপরই এলাকাবাসী জীবিত উদ্ধার করে।

আজ  (বুধবার) সকালে মহিমের মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার সংবাদ গণমাধ্যমে দেখে তার ফেসবুক ওয়ালে বন্ধুরা স্মৃতিচারণ করেছেন। এমন একটি হাসিখুশী তরুণের মৃত্যু তারা মেনে নিতে পারছেন না।

মহিমের স্কুলবন্ধু জিহাদ হাওলাদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওর মতো হাসিখুশী ছেলে আমরা কেউ না, যেকোনও পরিস্থিতিতে সে হাসতে পারতো। আমাদের কারও কখনও মন খারাপ হলে আমরা ওর কাছে আসতাম, মন ভালো করার জন্য। অথচ আজ আমরা ওর জন্যই কাঁদছি, সেটা দেখার জন্যও মহিম আমাদের মধ্যে থাকলো না।’

চঞ্চল আর উচ্ছ্বল মহিম সবার সঙ্গে মুহূর্তের মধ্যেই মিশে যেতে পারতো জানিয়ে জিহাদ বলেন, ‘সবার সঙ্গে মিশে যাবার এক অদ্ভুত ক্ষমতা ছিল ওর। আমাদের বন্ধুদের মধ্যে সবচেয়ে মিশুক ছেলেটিই আজ নাই হয়ে গেল।’

এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে মহিম ছিল বড়। ওর ছোট বোনটি কাল রাত থেকে ভাইকে খুঁজছে জানিয়ে জিহাদ বলেন, ‘ভাইয়ের সঙ্গে সবসময় ঝগড়া করা বোনটি কাল রাত থেকে বলছে, ভাইয়ার সঙ্গে আর ঝগড়া করবো না, ভাইয়াকে এনে দাও।’

ফেসবুকে নিজের ঘুমের কথা বলে দেওয়া শেষ স্ট্যাটাসটিতে ইতোমধ্যেই ভরে গেছে কমেন্টের পর কমেন্টে। সায়মা জাহান নামের একজন লিখেছেন, ‘তোমার ঘুম আর ভাঙলো না!’

তানভীর রহিম নামের এক বন্ধু সেখানে লিখেছেন, ‘সারাজীবনের জন্য ঘুমাইয়া গেলিরে।’ মৃত্যুঞ্জয়ীতা অনন্যা নামের আরেক বন্ধু লিখেছেন, ‘বিশ্বাসই করতে পারছি না- তুই নাই। তোকে অনেক জ্বালাইসি, মাফ করে দিস দোস্ত। একদিন আমরাও তোর কাছে আসছি।’

শারমীন মালিহা নামের আরেক বন্ধু লিখেছেন, ‘এতই ঘুমানোর ইচ্ছা ছিল তোমার, তাই বলে এভাবে ঘুমাতে চলে যেতে হবে? তোমার কি এভাবে চলে যাওয়াটা ঠিক হয়েছে? সবাইকে কাঁদিয়ে কেন না ফেরার দেশে চলে গেছো? ’

মহিমের বন্ধু মারজিয়া কাশফিন বলেন, ‘গত ১৩ এপ্রিল খোলা ছাদের কার্নিশে দাঁড়িয়ে ফেসবুকে সেলফি পোস্ট করে মহিম লিখেছিল, ‘ওয়ান স্টেপ বিহাইন্ড ফ্রম ডেথ (One Step Behind From Death)। সেই মহিম যে এভাবে চলে গেল, ভাবতেই পারছি না।’

মহিমের মৃতদেহ ইতোমধ্যেই ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে জানিয়েছেন বন্ধু জিহাদ। বাদ আসর মিরপুরে বাসার পাশেই মহিমের জানাজা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মহিমকে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

 

পদ্মায় নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর একজনের মরদেহ উদ্ধার

দোহার উপজেলার মৈনট ঘাটে পদ্মায় নৌকাডুবিতে নিখোঁজ এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ১০টায় মহিমের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। এখনও নিখোঁজ রয়েছে সালমান (২২) ও সুপ্রিয় (২২) নামে দুই শিক্ষার্থী ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা থেকে দোহারের মৈনট ঘাটে বেড়াতে আসা পাঁচ বন্ধু পদ্মা নদীতে গোসল করতে নামে। দুই ছাত্র অপূর্ব ও ফাহিমকে স্থানীয়রা উদ্ধার করলেও স্রোতের টানে ডুবে যায় সালমান, সুপ্রিয় এবং মহিম।

দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম শেখ জানান, সকালে ঘটনাস্থল থেকে দুই কিলোমিটার দূরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল মহিমের মরদেহ উদ্ধার করে। সে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার শাহ আলমের ছেলে। এখনও নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর সন্ধানে অভিযান চলছে।

আবারও মৈনটে নিখোঁজ ৩ জনঃ নির্বিকার প্রশাসন

মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে ঢাকার দোহার উপজেলার মিনি কক্সবাজার খ্যাত মৈনট ঘাটে পদ্মায় ডুবে তিন কলেজ শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছে। তাদের সহপাঠি দুইজনকে উদ্ধার করেছে স্থানীয় জনতা। এদিকে বরাবরের মতো নির্বিকার উপজেলা প্রশাসন। ঘটনা ঘটার পর তাদের টনক নড়ে। কিন্তু ঈদ উপলক্ষ্যে আগে থেকে সেখানে প্রসাশনে কোন পূর্ব প্রস্তুতি বা সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা দেখা যায়নি। এই নিয়ে গত ১ বছরে প্রায় ১০ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটলো।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার ঢাকা থেকে আগত দর্শনার্থীরা দোহারের মৈনট ঘাটে ঘুরতে আসে। এসময় তারা পদ্মা নদীতে গোসল করতে নামে। ৫ বন্ধু এক সাথে পানিতে নামলে স্রোতের টানে তিনজন ডুবে যায়। অন্য দুইজন তাদেরকে তুলতে গেলে তারাও ডুবে যেতে থাকলে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় – বুয়েটের ছাত্র অপূর্ব ও ফাহিম জানান, তাদের তিন সঙ্গী মনিপুরী কলেজের এইচএসসি ২য় বর্ষের ছাত্র মো. সালমান (১৮), ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির বিবিএ ১ম বর্ষের ছাত্র মহিম (২১) ও মিরপুর কর্মাস কলেজ অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র সুপ্রিয় (২২) নিখোঁজ রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে মাহিন, সুপ্রিয়, সালমান, অপূর্ব ও ফাহিম এই পাঁচ বন্ধু ঢাকা থেকে একটি প্রাইভেটকার নিয়ে মৈনট বেড়াতে আসে। বেলা ৪টার দিকে মাহিন, সুপ্রিয় ও সালমান মৈনট ঘাটের অদূরে পদ্মা নদীতে গোসল করতে থাকে। ৫ বন্ধু এক সাথে পানিতে নামলে স্রোতের টানে তিনজন ডুবে যায়। অন্য দুইজন তাদেরকে তুলতে গেলে তারাও ডুবে যেতে থাকলে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে।
খবর পাওয়া মাত্র দোহার থানা পুলিশ ঘটনাস্খলে এসে ফায়ার সার্ভিসের ডুবরিদের দিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। রাত ১০ টার দিকে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয় নৌবাহিনী ও কোষ্ট গার্ডের ডুবরিরা। খবর পেয়ে ঢাকা ঘটনাস্থলে ছুটে আসে নিখোঁজ ওই তিন শিক্ষার্থীর স্বজনরা। ঘটনাস্থলে আসেন দোহার উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি। স্বজনদের আহাজারিতে সেখানে শোকার্ত পরিবেশ বিরাজ করছে।
ফায়ার সার্ভিস সদর দফতর বলছে, জীবিত অথবা মৃত যে কোনো অবস্থাতে নিখোঁজদের উদ্ধারের জন্য ডুবুরিদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দোহার ফায়ার সার্ভিস দফতরের এর সাথে যোগাযোগে তারা জানান, আমাদের পাঁচ ডুবুরি অব্যাহতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নিখোঁজ কোনো ছাত্রের সন্ধান মেলেনি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলার দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম এবং ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের স্টেশন অফিসার আল মাসুদ।
দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম নিউজ৩৯কে বলেন, ঢাকার মিরপুর এলাকার ওই ছাত্ররা একসঙ্গে বেড়াতে এসে ঢাকার দোহারের পদ্মা নদীর মৈইনট ঘাটের ঝাউকন্দা এলাকায় গোসল করতে নামে। কিন্তু তাদের কেউ সাঁতার জানেন না। পদ্মার পানির স্রোতে তিন ছাত্র ভেসে যান। বাকি দুই বন্ধুকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে। খবর পেয়ে নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত ডুবুরিদের চেষ্টায় কোনো নিখোঁজ ছাত্রের সন্ধান মেলেনি।

 

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশি কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপির ডেভেলপমেন্ট পলিসি অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ডিভিশনের প্রধান হিসেবে কর্মরত বাংলাদেশি হামিদুর রশিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতি ও গৃহকর্মীকে মজুরি না দেয়ার অভিযোগে উঠেছে।

স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জাতিসংঘ কর্মকর্তা  হামিদুর রশিদ (৫০) কে ম্যানহাটন ফেডারেল কোর্টে হাজির করা হয়। তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস-এর ওয়েব সাইটে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাওয়া গৃহকর্মীর সাথে ভিসা জালিয়াতি, কর্মী নিয়োগ চুক্তি জালিয়াতি এবং সেই কর্মীর পরিচয় জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে হামিদুর রশীদ নামে ইউএনডিপির এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ওই গৃহকর্মীর জন্যে প্রযোজ্য জি-৫ ভিসার নিয়ম অনুযায়ী যে মজুরি দেবার অঙ্গীকার করেছিলেন তা পরবর্তীতে আর মানা হয়নি।

প্রতি সপ্তাহে ৪২০ ডলার মজুরিতে গৃহকর্মী নিয়োগের চুক্তিপত্র পররাষ্ট্র দপ্তরে দাখিল করা হলেও ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে গৃহকর্মী যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালে তার কাছ থেকে নতুন একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

নতুন চুক্তিপত্রে সাপ্তাহিক মজুরি দেখানো হয় ২৯০ ডলার। এছাড়া চুক্তি অনুযায়ী গৃহকর্মীকে সাপ্তাহিক ৪০ ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করানোর অভিযোগও আনা হয়। এ বিষয়টি নিয়ে হামিদুর ও ইউএনডিপি থেকে প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। হামিদুর রশিদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মেধাবী কর্মকর্তা এবং একজন অর্থনীতিবিদ। তিনি জাতিসংঘের ডেভেলপমেন্ট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্সে কর্মরত। তিনি ঢাকায় পররাষ্ট্র দপ্তরে মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি লিয়েনে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রোগ্রাম ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ মিশনে কর্মরত একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এ ধরনের একের একের পর ঘটনা রহস্যজনক। মনে হচ্ছে, বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য একটি মহল সচেষ্ট। তিনি এ ধরনের ঘটনাকে ‘স্যাবোটাজ’ বলে মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, শ্রমিক পাচার, গৃহপরিচারককে নির্যাতন, বেতন না দেওয়ার অভিযোগে গত ১২ জুন নিউ ইয়র্কের ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল ইসলাম গ্রেপ্তার হন। পরদিন ৫০ হাজার ডলার জামিননামা দিয়ে ছাড়া পান তিনি। এর আগে ২০১৪ সালে নিউ ইয়র্কের তৎকালীন কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রায় একই ধরনের অভিযোগ আনেন তার গৃহকর্মী। অভিযোগ দাখিলের দিনই খবর পেয়ে সপরিবারে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেন মনিরুল ইসলাম। ওই গৃহকর্মী পরবর্তীতে আমেরিকায় স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

পদ্মার চরে এক গার্মেন্টস কর্মীকে ধর্ষণ

মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের পদ্মার চরে নিয়ে এক গার্মেন্টস কর্মীকে ধর্ষণ করেছে স্পিডবোট চালক ও তার সহকারী । রোববার স্বামীকে ডাক্তার দেখিয়ে বরিশাল থেকে ঢাকায় ফেরার পথে স্পিডবোটে পদ্মা নদী পার হওয়ার সময় স্পিডবোট চালক তাকে চরে নিয়ে ধর্ষণ করে।

লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) প্রানবন্ধু চন্দ্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশসূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাত আনুমানিক ১০টায় ভিকটিম তার স্বামীর বাড়ি বরিশালের কাউনিয়া উপজেলার পলাশপুর গ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

ফেরিতে করে লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ঘাটে আসার জন্য রাত ১২টা নাগাদ তিনি কাঠালবাড়ি ঘাটে এসে পৌঁছান।

ফেরিটি দেরি করায় ওই গার্মেন্টসকর্মীসহ আরো কয়েকজন কাঠালবাড়ি ফেরি ঘাট থেকে একটি স্পিডবোটে উঠে পদ্মা পাড়ি দেয়। স্পিডবোটটি শিমুলিয়া ঘাটে পৌঁছলে অন্য যাত্রীরা তাদের নির্ধারিত ভাড়া দিয়ে নেমে যান।

পাচঁশ টাকা নোটের ভাংতি না থাকায় মেয়েটিকে দেরি করায় স্পিডবোট চালকসহ আরো একজন যুবক।

লোকজন দূরে চলে গেলে স্পিডবোট চালক সেটিকে ঘুরিয়ে মেয়েটিকে নিয়ে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে পদ্মার চরে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ভয়ভীতি দেখিয়ে চর থাপ্পড় মেরে চরে নামিয়ে ধর্ষণ করে তারা।

এক ঘণ্টা পর রাত আড়াইটায় মেয়েটিকে শিমুলিয়া ঘাটে নামিয়ে দিয়ে ধর্ষক দু’জন স্পিডবোটটিকে ঘাটে রেখে পালিয়ে যায়।

মেয়েটিকে অসুস্থ অবস্থায় এক রিকশাচালক লৌহজং থানায় নিয়ে আসে।

মেয়েটির বর্ণনা অনুযায়ী লৌহজং থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাদা রঙ্গের স্পিডবোটটিকে শিমুলিয়া ঘাট থেকে জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশ ধর্ষক দু’জনের পরিচয়ও উদ্ধার করেছে। একজন স্পিডবোট চালক লৌহজংয়ের কুমাভোগ ইউনিয়নের ওয়ারী গ্রামের মজিদ কম্পানীর ছেলে রাজিব কম্পানী অপরজন উপজেলার মেদিনীমন্ডল ইউনিয়নের চন্দ্রের বাড়ি গ্রামের আব্দুল মালেক শিকদারের ছেলে মিঠু শিকদার।

পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এই বিষয়ে মেয়েটি নিজে বাদি হয়ে সোমবার লৌহজং থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মুন্সিগঞ্জে পাঠিয়েছেন।