নাফ নদে সুচির নোবেলের মৃত্যু

0

নেট দুনিয়ায় নানা ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে। এবং এই ঘুরে বেড়ানো নতুন কিছু নয়। কারোরই রেহাই মেলেনি। গর্ভবতী মা। মাতৃগর্ভের শিশু। গুলি খাও, না হয় আগুনে পুড়ে মরো। ধর্ষণ যেন মামুলি ব্যাপার। বাঁচতে চাইলে পালাও। এবার অবশ্য পালাতে গেলেও গুলির মুখে পড়তে হচ্ছে। এই লেখা শুরুর সঙ্গেই সঙ্গেই নজরে এলো হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্ট। স্যাটেলাইটে পাওয়া ছবিতে ধরা পড়েছে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরতার চিহ্ন। গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এক শ’ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে একই দৃশ্য। গত বছরও গ্রামের পর গ্রামে আগুন দিয়েছিল সরকারি বাহিনী। এবারের ঘটনা আরো ভয়াবহ।
মানবাধিকার শব্দ নিয়ে অনেক বাকওয়াজ। এটা চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরেই। যদিও দুনিয়ায় এর বেঁচে থাকা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। মিয়ানমারের দৃশ্যপটের দিকে তাকালে সে সন্দেহ অবশ্য অনেকটা কেটে যায়। নাফ নদে শুধু জীবিত, মৃত মানুষই ঘুরে বেড়াচ্ছে না, সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে মানবতা। তবে এই দৃশ্য এর চেয়েও বেশি মৃত্যু ঘোষণা করেছে এক নারীকে দেয়া নোবেল শান্তি পুরস্কারের। দুই যুগের কিছু বেশি সময় আগে অং সান সুচিকে যখন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয় তখন দৃশ্যপট কেমনই না ছিল। সাধারণ এক গৃহবধূ থেকে রাজনীতিবিদ, পরে গণতন্ত্র আর মানবাধিকারের জন্য বিরামহীন লড়াই। কত যন্ত্রণা আর নিপীড়নই না সইতে হয়েছে তাকে। নিজ ঘরে বন্দি ছিলেন দিনের পর দিন। কেড়ে নেয়া হয়েছিল তার সব অধিকার। সেসময় সুচির পক্ষে দাঁড়িয়েছিল সারা দুনিয়া। সোচ্চার ছিলাম আমরাও। নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক বহুদিনের। এ পুরস্কারে রাজনীতিকরণ হয়ে গেছে তাও অনেকদিন হলো। কিন্তু সুচির নোবেল নিয়ে তেমন কোনো প্রশ্ন তখনই ওঠেনি। কিন্তু হায় ক্ষমতা। ক্ষমতায় যাওয়ার পরই বদলে গেলেন শান্তি কন্যা। দেখা গেলো তার নতুন রূপ। ভয়ঙ্কর। তার সরকারের সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতন যে তিনি শুধু চোখ বুজে দেখলেন তাই নয়। তিনি তা অনুমোদন করলেন প্রকাশ্যে। তিনি মুখ খুললেন। তার এই মুখ খোলা হলো গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে, মানবাধিকারের বিরুদ্ধে। মানবতাবাদী মানুষ ধিক্কার জানালেন তাকে। কিন্তু তাতে কী? তার চাই রক্ত আর ক্ষমতা। হাতে রক্তের দাগ নিয়ে তিনি বললেন, রোহিঙ্গারাই রোহিঙ্গাদের হত্যা করছে। সেখানে কোনো জাতিগত নিধন হয়নি। মুনীর চৌধুরী লিখে গেছেন, মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়, কারণে-অকারণে বদলায়। কিন্তু কেউ কেউ যে, বেঁচে থেকেও পচে যায় অং সান সুচি তার সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ।
গত বছরই দাবিটি উঠেছিল। হাজার হাজার মানুষ সই করেছিলেন সেই দাবিতে। নোবেল কমিটির প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল অং সান সুচির নোবেল শান্তি পুরস্কার যেন প্রত্যাহার করা হয়। কারণ তার এই পুরস্কার শান্তিকামী মানুষের জন্য অবমাননা। সে দাবির প্রতি এখনো পর্যন্ত সাড়া দেয়নি নোবেল কমিটি। হয়তোবা এর কোনো নজির নেই বলেই তারা নীরবতা পালন করছেন। কিন্তু পৃথিবীতে নজিরবিহীন অনেক ঘটনাই ঘটছে। অং সান সুচি যে এতটা বদলে গেছেন তা কি নজিরবিহীন নয়। মানবাধিকারের প্রতি, মানুষের প্রতি যে বর্বর আচরণ তার, তা শুধু তাকে নয়, লজ্জায় ফেলেছে নোবেল শান্তি পুরস্কারটিকেও। বিতর্ক সত্ত্বেও এ পুরস্কারের যেটুকু মর্যাদা রয়েছে তাও কলঙ্কিত হচ্ছে সুচির কারণে। তার হাতে এ পুরস্কার বড্ড বেমানান। সুচির কাছ থেকে এই পুরস্কার কেড়ে নেয়া প্রয়োজন। সেটা শুধু পুরস্কারটির মর্যাদা রক্ষার জন্যই নয়, বরং যারা এ পুরস্কার পেয়েছেন বা ভবিষ্যতে যারা পাবেন তারা যেন মানবতার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে প্রতারণা করার আগে অন্তত ভাবেন সেজন্য হলেও এ সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন।
নেট দুনিয়ায় ভেসে বেড়ানো ছবির কথা আগেই বলেছি। বহু ছবি। হত্যা, ধর্ষণের শিকার লাশের বীভৎস ছবি। আহত মানুষের আর্তনাদ। ফেসবুকের দেয়ালে দেয়ালে ঘুরে বেড়াচ্ছে নিহত শিশুর লাশের ছবি। আশ্রয়ের খোঁজে পানিতে ভেসে বেড়াচ্ছে মানুষ। যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কথা বলা হয়, তারা কি নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন। মিয়ানমারের কথিত গণতন্ত্রের নেত্রীর ওপর তারা কি কোনো চাপ প্রয়োগ করছেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। নির্যাতিতদের ধর্ম পরিচয় কী মুখ্য হয়ে উঠছে। জাতিসংঘ অবশ্য সার্টিফিকেট দিয়েই তাদের কাজ অনেকটা সেরেছে। রোহিঙ্গারা পৃথিবীর সবচেয়ে নিপীড়িত জাতি এ সার্টিফিকেট  দেয়া কম কিসে। আনান কমিশনও কিছু সুপারিশ করেছে। সুপারিশেই সার। কিন্তু পরিস্থিতি কিছুই বদলায় নি। সুপারিশের পরপরই উপলক্ষকে উসিলা বানিয়ে রোহিঙ্গাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নির্মম নিষ্ঠুর নির্যাতনের পথই বেঁচে নিয়েছে তারা। এই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোও পরিচয় দিয়েছে নিদারুণ ব্যর্থতার। তাদের সব সামরিক জোট যেন কেবল নিজ স্বার্থ রক্ষায়। আর এসব দেশের নেতাদের বেশি আনাগোনা অবকাশ কেন্দ্রে। রোহিঙ্গা মুসলিমরা থাকুক নদীতে। আর বিশ্ব নেতারা থাকুক অবকাশ কেন্দ্রে। এ এক চমৎকার দৃশ্য।

source:mzamin

জয়পাড়া পাইলট ও নবাবগঞ্জ পাইলট জাতীয়করণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

0

২৪শে অগাস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্য্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন করে আরও ১৪৮টি বিদ্যালয় জাতীয়করণে সম্মতি প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এবার এই তালিকায় স্থান পেয়েছে দোহারের জয়পারা মডেল (পাইলট) স্কুল, নবাবগঞ্জ উপজেলায় নবাবগঞ্জ পাইলট স্কুল, ধামরাইয়ে হার্ডিঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়। এর আগে কেরাণিগঞ্জের শাক্তা উচ্চ বিদ্যালয় ইতঃপূর্বে মনোনীত হয়। এখন এই স্কুলগুলো পরিদর্শনের পর  “ডীড অব গিফট” সম্পন্ন হওয়ার পর জিও ( গভর্ণমেণ্ট অর্ডার) অর্ডার জারি হবে।

জাতীয়করণে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ সাজ্জাদুল হাসান স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট চিঠিটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরে পাঠানো হয়।

ইতঃমধ্যে দোহারের পদ্মা কলেজের সকল প্রক্রিয়া সহ  “ডীড অব গিফট” সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্য্যালয়ের সূত্র জানিয়েছে, পদ্মা কলেজসহ ২৬০টি কলেজের অর্থ মণত্রাণালয়ের  অর্থ ছাড় ও শিক্ষা মন্ত্রাণালয়ের পরিদর্শন সহ সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন; প্রধানমন্ত্রীর  সাম্প্রতিক বিদেশ সফর শেষে সকল কলেজ যাদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে তা জিও জারি হবে।।

জানা গেছে, দেশর সব উপজেলায় একটি করে সরকারি বিদ্যালয়-কলেজ প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় নতুন করে ১৪৮টি জেলার ১৪৮টি উপজেলায় একটি করে বিদ্যালয় জাতীয়করণের সম্মতি দেয়া হয়েছে।

https://www.jagonews24.com/education/news/332944

দোহার – নবাবগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবকলীগের ত্রাণ বিতরণ

স্বেচ্ছাসেবকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহের নেতৃত্বে ও সার্বিক তত্বাবধায়নে দোহারের নয়াবাড়ী ও কুসুমহাটি ইউনিয়নে এবং নবাবগঞ্জের জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে প্রায় ৫০০ বন্যা দূর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছে কেন্দ্রীয় ও ঢাকা জেলা সেচ্ছাসেবকলীগ। এ সময় উক্ত ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে চাল,ডাল, আলু,চিনি, বিস্কুট ও শুকনা খাবার বিতরন করা হয়।


এ সময় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল মান্নান খান। তিনি বলেন, বন্যা চলাকালীন ও পুনর্বাসন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এবং সরকার বন্যার্ত মানুষের পাশে থাকবে। বিএনপি নেতারা বন্যা নিয়ে ঘোলা পানিতে রাজনীতি করার পায়তারা করছে। বন্যায় যারা ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়ে ঘর-বাড়ি হারিয়েছেন তাদের এখন ও ভবিষতেও সহযোগিতা করা হবে। আর এটাই হচ্ছে আওয়ামী লীগের রাজনীতি।


বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারন সম্পাদক পংকজ দেব নাথ(এম.পি.)। তিনি বলেন, সরকারের হাতে প্রচুর খাদ্য মজুদ রয়েছে। তা বিতরণেরও সক্ষমতা রয়েছে। কাজেই ত্রাণ নিয়ে কোনও প্রকার ঘাটতি অথবা গাফেলতি হবে না। তবে কোথাও কোনও অনিয়ম হলে তা সহ্য করা হবে না। তিনি দোহার নবাবগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতা- কর্মিদের বিগত দিনের মতো এবারও বন্যা দূর্গত মানুষের পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং আগামীতেও জনগণের পাশে দাড়ানোর আহবান জানান।
স্বেচ্ছাসেবকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগ বিগত দিনে সব সময় আপনাদের পাশে ছিল। আগামীদিনেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পাশে থাকবে। তিনি দোহার-নবাবগঞ্জের নেতা-কর্মিদের বিগত কয়েকদিন যাবত বন্যা দূর্গতদের পাশে থেকে ত্রাণ বিতরণ করায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি সকলকে ঈদের আগাম শুভেচ্ছা জানান।

চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের নতুন রূপ দোহার পৌরসভা

0

জনগনের চোখে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখিয়ে ২০০০ সালে পথ চলতে শুরু করে ছিল আমাদের দোহার পৌরসভা। ইউনিয়ন থেকে পৌরবাসিন্দা হয়ে তখন আমরা অনেকেই ছিলাম গর্বিত।

৯ টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই পৌরসভার প্রথম বারের নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরগন নেয়ার পর এলাকার উন্নয়নে নামমাত্র যেসব ভূমিকা রেখে যাচ্ছে তাতে আমরা ইউনিয়নবাসী হতে পৌরবাসী হয়ে কি লাভ বা সুবিধা পেলাম তা না এখনো বুঝতে পারি নি। কিন্তু উচ্চ পৌর করের কষাঘাত ভালমতই টের পাচ্ছি।

নানা সমস্যায় জর্জরিত আমরা এলাকাবাসী দাঁতে দাঁত চেপে অপেক্ষার প্রহর গুনছি কবে পৌর নির্বাচন হবে, তখন অযোগ্য প্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে আমরা নতুন যোগ্য পৌর প্রতিনিধি নির্বাচিত করব। কিন্তু জনপ্রতিনিধি পরিবর্তনের হাতিয়ার পৌর নির্বাচন আজ যেন সোনার হড়িনে রূপ নিয়েছে। যার পিছনে শুধু ছুটে চলা যায় কিন্তু ধরা যায় না।

প্রচলিত আছে যে, সুচিন্তিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচণায় কিছু লোক “সীমানা সংক্রান্ত জটিলতায়” উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করে আবং সেই মামলা বিচারাধীন থাকায় বহুদিন ধরে ঝুলে আছে আমাদের অনেক কাঙ্খিত পৌরনির্বাচন। কিন্তু সেই মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রশাসনের কার্যকর কোন ভূমিকা নেই, স্থানীয় সংসদ সদস্যও নিশ্চুপ। অথচ মামলার অজুহাতে সাড়ে সতের বছরের মেয়াদ উত্তীর্ণ মেয়র-কাউন্সিলরদের দিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে দোহার পৌরসভার কার্যক্রম। যার কারনে আমরাএলাকাবাসী বঞ্ছিত হচ্ছি নানা পৌর সুবিধা থেকে। ব্যাহত হচ্ছে এলাকার কাংক্ষিত উন্নয়ন।

সময় মত নির্বাচন না হওয়ায় পৌর প্রতিনিধিদের নেই জনগনের নিকট কোন জবাবদিহিতা। প্রতিনিধিদের স্বেচ্ছাচারি মনোভাবে পৌর এলাকা আজ সমস্যা জর্জরিত জনপদ।

দোহার পৌরসভা প্রথম শ্রেণিতে উন্নিত হলেও পৌরবাসীর নাগরিক সুবিধা রয়ে গেছে সেই নিম্ন শ্রেণিতেই। এখনো একটু বৃষ্টিতে পৌরবাসী পানি-বন্দী থাকে, শিশুদের জন্য নেই কোন বিনোদন পার্ক, নেই পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা, হয়নি এলাকার কাঙ্খিত অবোকাঠামোগত উন্নয়ন ইত্যাদি।

সময়ের পরিক্রমায় সরকার পরিবর্তন হয়, সংসদ সদস্য পরিবর্তন হয়, দোহার পৌরসভার দ্বিতীয় নির্বাচনের সময় হয়েও এক যুগ পেরিয়ে গেছে কিন্তু কী এক অজানা কারণে নির্বাচন হয় না। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে স্বার্থান্বেষী মহলও গিরগিটির মত রঙ বদলে মিশে যায় সরকারের রঙ্গে। থেমে থাকে নির্বাচন প্রক্রিয়া। জনগনের ভোটাধিকার হয়ে থাকে বাক্সবন্দি। মাঝে মাঝে মনে হয় আমাদের পৌরসভাকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে।

জনগনের কাধে সিন্দাবাদের ভূত হয়ে বসে থাকা মেয়াদ উত্তীর্ন মেয়র-কাউন্সিলরদের দিয়ে যুগের পর যুগ খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলবে আমাদের পৌরসভা। আমরা শুধু অসহায় চোখে তা তাকিয়ে থাকব……!!!!

লেখক: আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

ছবি: জয়পাড়া বাজারের ফাইল ফটো

দোহারে পদ্মায় ৪৭টি গরুসহ ট্রলার ছিনতাই

ঢাকার দোহারে পদ্মা নদীতে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী কোরবানির ৪৭টি গরুবোঝাই একটি ট্রলার ছিনতাই হয়েছে। এ সময় পাইকার ও ট্রলার চালককে হাত-পা বেঁধে পদ্মার একটি চরে ফেলে রেখে যায় ছিনতাইকারীরা।

সোমবার সকাল ৯টায় ঢাকার উদ্দেশে ৪৭টি গরুবোঝাই ট্রলার সিরাজগঞ্জ ছেড়ে আসে। মৈনটঘাট সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছলে ডাকাত দল হামলা চালায় এবং গরুসহ ট্রলারটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। ৫ লাখ টাকা মূল্যের ট্রলারটিতে অর্ধকোটি টাকার কোরবানির পশু ছিল। গরুর বেপারিদের উদ্ধৃতি দিয়ে দোহার পুলিশ জানায়, ডাকাতরা গরুসহ ট্রলারটি মাওয়া এলাকা থেকে ছিনতাই করে এবং ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার নারকেলবাড়ি চরে নিয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে বরিশালের দিকে রওনা হয়। দোহার থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, ছিনতাইকৃত ট্রলারটির দাম প্রায় ৫ লাখ টাকা হবে বলে ট্রলার মালিক তাকে মুঠোফোনে জানিয়েছেন। বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন। সদরপুর থানার ওসি হারুনুর রশিদ বলেন, দোহার ও সদরপুর উপজেলার পদ্মার সিমান্তবর্তী এলাকায় ডাকাতরা গরুবোঝাই ট্রলারটি ছিনতাই করে। পরে কাওড়াকান্দির দিকে নিয়ে যায় বলে তিনি শুনেছেন।

নবাবগঞ্জে গৃহবধূর নগ্ন ছবি ইন্টানেটে দেয়ার হুমকি; চাঁদা দাবী

ঢাকার নবাবগঞ্জের মাঝিরকান্দা এলাকায় এক গৃহবধূর গোপনে নগ্ন ছবি তুলে ইন্টানেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করেছে স্থানীয় বখাটেরা। এ ঘটনায় ভুক্তাভোগী গৃহবধূর স্বামী সুমন চৌধুরী বাদী হয়ে মালিকান্দা পরান চৌধুরীর ছেলে বিকাশ (১৬) ও নয়াকান্দা গ্রামের আনোয়ার হোসেন ওরফে আয়নাল হোসেনের ছেলে আসিফ ওরফে বাবু বেপারীর (১৬)-এর বিরুদ্ধে মামলা করলে আসামির আত্মীয়স্বজন তাদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় একমাত্র আসিফ বেপারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য আসামি বিকাশ গৃহবধূর চাচাতো দেবর। গতকাল সাংবাদিকদের এই সব তথ্য জানান ভুক্তাভোগী গৃহবধূ ও তার স্বামী।

গৃহবধূর পরিবার ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ১লা আগস্ট ওই গৃহবধূ গোসল করার সময় প্রতিবেশী বিকাশ তার বন্ধু আসিফকে নিয়ে সুযোগ বুঝে সুকৌশলে গোপনে গৃহবধূর নগ্ন ছবি তুলে। এরপর আসামিরা গৃহবধূর চাচাতো জা’র কাছে গৃহবধূর নগ্ন আনুমানিক ৮-১০টা ছবি পাঠিয়ে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। কিন্তু বখাটেদের দাবিকৃত টাকা পরিশোধ না করায় আসামিরা তাদের ব্যবহ্নত দুটি বাংলালিংক নম্বর থেকে গৃহবধূর স্বামীর মোবাইলের ইমু নম্বরে তার স্ত্রীর নগ্ন ছবি পাঠায় এবং ১৫ হাজার টাকা দাবি করে। এই সময় তারা টাকা পরিশোধের জন্য বিকাশের একটি নম্বরও দেয়। দাবিকৃত টাকা না দিলে গৃহবধূর নগ্ন ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়া হবে বলে হুমকি দেয় বখাটেরা। এই ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী বাধ্য হয়ে আসিফ বেপারী ও বিকাশকে আসামি করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা করেছে। ওইদিন রাতে আসিফ বেপারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই ঘটনার পর আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে আসামি বিকাশ এবং আসিফের স্বজনরা। তারা অনবরত মামলা উঠানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন গৃহবধূ ও তার স্বামীকে। বাধ্য হয়ে গৃহবধূর স্বামী ১৯শে আগস্ট নিজের ও স্ত্রীর জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নবাবগঞ্জ থানায় বিকাশের বাবা পরান ও নয়াকান্দা (আমবাগান) গ্রামের এমএ রশিদের পুত্র মেহেদী হাসান জেকি’র বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেন।

গৃহবধূর স্বামী সুমন চৌধুরী জানান, ওদের জ্বালায় এখন আমাদের বাঁচাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত মামলা উঠানো হুমকি দিচ্ছে। এতদিনে শুধু মাত্র একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে পুলিশ। সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান তিনি।

ভুক্তাভোগী গৃহবধূ বলেন, আমি প্রথমে ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু আমার স্বামী আমাকে সাহস দিয়েছেন। তার সহযোগিতায় আমি প্রতিবাদ করতে সাহস পেয়েছি। আমি চাই অপরাধীদের কঠোর শাস্তি হোক। আমার মতো আর কাউকে যেন এই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মো. জালালউদ্দিন বলেন, মামলা হওয়ার পরপরই ১নং আসামি আসিফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করি দ্রুত সব আসামিকে আইনের আওতায় আনতে পারবো।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে অবৈধ পশুর হাট ভেঙে নেওয়ার নির্দেশ এসপির

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অবৈধ পশুর হাট ভেঙে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান। রবিবার দুপুর ১২টায় ঢাকার দোহার থানা অডিটরিয়ামে আয়োজিত ঈদুল আজহা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মতবিনিময়সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।

দোহারে আরও দুটি অবৈধ পশুর হাট বসানো হচ্ছে বৈধ ইজারাদারদের সভায় এমন অভিযোগ করলে পুলিশ সুপার এ নির্দেশ দেন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফজলুল হক, দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রজ্জব আলী মোল্লা, দোহার থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম, প্রেসক্লাব সভাপতি কামরুল হাসান প্রমুখ।

দোহারের সাতভিটায় রাস্তার বেহাল দশা

 

 

ঢাকার দোহারের নারিশা ইউনিয়নের সাতভিটার বেশিরভাগ যাতায়াত সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে ওঠেছে। খাড়াখন্ড, গর্ত, ভাঙ্গা রাস্তার ফলে স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

 

সাতভিটার গাবতলা থেকে রুইথা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার জুরে রাস্তার বেহাল দশা। গর্ত এবং ভাঙ্গা রাস্তার কারনে যানবাহনে চলাচলে তীব্র কষ্ট পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীর। দীর্ঘদিন সাতভিটার রাস্তাঘাট সংস্কার না করা এবং বর্তমানে চলমান বন্যার কারনে এখানকার রাস্তাঘাটে যাতায়াত করা অনেকটাই কঠিন বিষয় হয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মো: রাশেদুল ইসলাম বলেন, সাতভিটার প্রায় প্রতিটি সড়কে ভাঙ্গা এবং গর্ত আছে যার ফলে প্রায়সময়ই ঘটছে নানান সড়ক দুর্ঘটনা। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাতভিটাবাসীর কষ্ট আরো দীর্ঘায়ু হবে।

 

এবিষয়ে সাতভিটা ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আ: মজিদ মোড়লের সাথে জানতে চাইলে তিনি রাস্তার বেহাল দশার কথা স্বীকার করে দ্রুত রাস্তা সংস্কার করার জন্য উপজেলা প্রশাসনকে আহবান জানান।

 

বন্যা ও কোরবানি সামনে রেখে দোহারে বাড়ছে পেয়াজ-রসুনের দাম

0

ঢাকার দোহারে বন্যা এবং কোরবানিকে সামনে রেখে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর। ইতোমধ্যে সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে পেয়াজের দাম। গত দুইমাসে পেয়াজের দাম বৃদ্ধির বর্তমান অবস্থা সাধারণ মানুষকে কিছুটা চিন্তাবিদ করে তোলেছে। দোহারের কয়েকটি বাজার পরিদর্শনে দেখা যায় ৪৫-৫০ টাকায় প্রতি কেজি পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে। যা অল্পকিছুদিন আগে ছিলো ২০-৩০ টাকার মধ্যে।

নারিশা বাজারের পাইকারি কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো: সালাউদ্দিন জানান, বর্তমানে পেয়াজের পাইকারি ৪২-৪৩ টাকা যা খুচরা বিক্রি করা হয় ৪৮-৫০ টাকায়। পেয়াজের দাম হঠাৎ বৃদ্ধিতে ক্রেতার সংখ্যা কমেছে অনেক। চাহিদার চেয়ে যোগান বেশি থাকা সত্তেও দাম বৃদ্ধির ফলে ক্রেতার সংখ্যা কমেছে।

অন্যদিকে আদার পূর্ব মূল্য ছিলো, চায়না আদা ১৩০-১৪০ টাকা যা বর্তমানে ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং দেশি আদা ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেয়াজের দাম উর্ধ্বমুখী হলেও আদার দামে রয়েছে কিছুটা স্বস্তি।

পেয়াজ ও আদার দাম পরিবর্তিত হলেও স্থিতিশীল রয়েছে রসুনের বাজারদর। বর্তমানে দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭০-৮০ টাকায় এবং ভারতীয় রসুন বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকায়।

কোরবানি ঈদ এবং বন্যার কারনে কাঁচাবাজারের বাজারদর কিছুটা বৃদ্ধি হওয়াতে শঙ্কিত আছে দোহারের সাধারণ ক্রেতাসাধারণ।

দোহারে বন্যা কবলিতদের মাঝে আব্দুল মান্নানের ত্রান বিতরন

দোহারের বন্যা কবলিত অসহায় মানুষদের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরন করেছেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান। ২৮ আগস্ট সকাল থেকে তিনি দোহারের বিভিন্ন স্থানে ত্রান বিতরন করেন।

পদ্মা তীরবর্তী দোহারের বন্যা কবলিত নারিশা, মেঘুলা, বিলাশপুর, মাহমুদপুর ও নবাবগঞ্জের বন্যা কবলিত জয়কৃষ্ণপুরে তিনি এই ত্রান বিতরন করেন। এই সময় প্রায় দুই হাজার মানুষের মাঝে এই ত্রান বিতরন করা হয়।

এই সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আব্দুল মান্নান বলেন, সহায়ক সরকার ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। আর জনগণও ভোট দিতে কেন্দ্রে আসবে না। কারণ বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে।

আব্দুল মান্নান আরও বলেন, দফায় দফায় বন্যার কারণে দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিন্তু বন্যার্তদের জন্য আওয়ামী লীগ সরকার তেমন কিছুই করতে পারেনি। এর বিচার বিশ্লেষণ জনগণই করবে।

ত্রাণ বিতরণকালে ঢাকা জেলা বিএনপি ও দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।