দোহারের চরকুশাই গ্রামে নদীতে গোসল করতে নেমে ২ শিশু নিখোঁজ

দোহার উপজেলার চরকুশাই গ্রামে পদ্মার শাখা নদীতে গোসল করতে নেমে মাহিদুল ( ৮) ও জিদাহ (৭) নামে দুই শিশু নিখোঁজ হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে দোহার উপজেলার চরকুশাইর চর এলাকার নীল চাঁদ ব্যাপারীর বাড়িতে বেড়াতে আসে নীল চানের ছেলের ঘরের নাতি মাহিদুল ইসলাম ও মেয়ের ঘরের নাতি মো: জাহিদ। গতকাল মংগলবার দুপুরে  মাহিদুলের বাবা পলাশ ব্যাপারীর সাথে বাড়ির পাশের পদ্মার শাখা নদীতে গোসল করতে নামে তারা ।

নদীতে তীব্র স্র্রোতের কারণে পানিতে তলিয়ে যায় মাহিদুল ও সজিব। এ সময় স্থানীয়রা দুইজকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। ঘটনার তিন ঘণ্টা পর ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে সন্ধ্যা ৬টায় অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এখনো তাদের উদ্ধার করা যায়নি।

আওয়ামীলীগের তৃণমূল কখনো বিভ্রান্ত হয় না – নির্মল রঞ্জন গুহ  

সোমবার দোহার উপজেলা আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম (আসাফো) কর্তৃক এক ঈদ পূণর্মিলনী সভায় বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বের মর্যাদার আসনে আসীন হয়েছে এবং বাংলাদেশ হয়েছে উন্নয়নের রোল মডেল। আগামী নির্বাচনের আগে দলের প্রতিটি সম্মেলন কেন্দ্রের নির্দেশ মোতাবেক সফল করতে হবে। নতুন নেতৃত্ব আনতে হবে। যারা পরিক্ষীত আগামী নির্বাচনে তাদের নাম কেন্দ্রে পাঠাবেন। কারণ আওয়ামীলীগের তৃণমূল কখনো বিভ্রান্ত হয় না।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, দোহার উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলি হাসান খোকন শিকদার আওয়ামীলীগ নেতা জামাল উদ্দিন, ঢাকা জেলা আসাফো সভাপতি শেখ নুর ইসলাম মানিক, যুগ্ম দাশারণ সম্পাদক মো : শামীম হোসন শিবলুসহ আসাফোর সদস্য অ নেতৃবৃন্দ। আয়োজক ছিলেন স্থানীয় আসাফো নেতা হাসান আলী।

আবার সুযোগ পেলে ঢাকা-১ হবে বাংলাদেশের মডেল উপজেলা – মান্নান খান

দোহারের নারিশা ইউনিয়ন যুবলীগের উদ্যোগে ঈদের আগের ত্রাণ বিতরণ করেছেন সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এড. আব্দুল মান্নান খান।ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আবার ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পেলে ঢাকা-১ হবে বাংলাদেশের মডেল উপজেলা। তিনি দলের একতা ধরে রাখতে এবং হটাত যেন কেউ দলে উড়ে এসে জুড়ে না বসে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে আহবান জানান।

এ ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগ নেতা ফজলুর রহমান, দোহার উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল হক বেপারী, নারিশা ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি শাহাদাত হোসেন দ্বীপ, মাহাবুব ব্যাপারী সহ প্রায় অর্ধ শতাধিক নেতা-কর্মি উপস্থিত ছিলেন।

দোহারে ইউএনও’র উদ্যেগে আশ্রয়ন প্রকল্পের অসহায়দের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ

দোহার উপজেলার মাহমুদপুর আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাস করেন নদী ভাঙনে নিঃস্ব অসহায় ২৪০টি পরিবার। কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য তো দূরে থাক, ঈদের দিনে সন্তানের মুখে একটু মাংস তুলে দিতে বাড়ি বাড়ি ঘুরতে হয় তাদের। সে মাংস রান্না করে সন্তানের মুখে তুলে দিতে হয়তো বিকেল গড়িয়ে রাত নামে। ততক্ষণে ছোট্ট ছোট্ট ছেলে-মেয়ের ঈদের আনন্দই হয়তো ফিকে হয়ে যায়। কিন্তু ইউএনওর উদ্যোগে এ বছর অন্যরকম ঈদ কেটেছে আশ্রয়নের বাসিন্দাদের।

ঈদের দিন সকালে বড় আকারের তিনটি গরু কোরবানি দেওয়া হয় আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায়।

সে মাংস সমভাবে প্রকল্পের বাসিন্দাদের মাঝে নিজ হাতে বণ্টন করেন ইউএনও কে এম আল-আমিন। শুধু তাই নয় সেখানে ঈদের নামাজ আদায় করার পাশাপাশি কোরাবানির যাবতীয় প্রক্রিয়া ও মাংস বণ্টনের তদারকি করেন তিনি। ইউএনওর আহ্বানে এমন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেন বিদেশি একটি সংস্থা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন। ঈদের সকালে মাংস হাতে পেয়ে ও তা সন্তানের মুখে তুলে দিতে পেরে প্রকল্পের বাসিন্দাদের মুখে মুহূর্তেই হাসি ফুটে ওঠে।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল-আমিন বলেন, আসলে উৎসব শুধু আনুষ্ঠানিকতার নয়, উৎসব আবেগের, উৎসব অনুভূতির, উৎসব পরিচয়ের। আমি নিজের চিন্তাধারা থেকে কাজটি করার চেষ্টা করেছি। অন্তত ২৪০টি গরিব অসহায় পরিবারের সদস্যদের মাঝে ঈদের হাসি ফোটাটে পেরেছি এটাই আমার কর্মকাণ্ডর স্বার্থকতা। এ কাজে আমার আহ্বানে কুয়েতি একটি সংস্থা সাড়া দিয়েছে তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।

একই সাথে ধন্যবাদ জানাই মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেনকে। তাদের সহযোগিতা ছাড়া এ কাজটি করা কষ্টসাধ্য হয়ে যেত।

 

দোহারের বিলাসপুরে রাশেদ ও আলতাব চোকদারের ত্রাণ বিতরণ

দোহার উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের রাধানগর আলম বাজারে আজ ৩ সেপ্টেম্বর রবিবার দুপুর ১২ টায় দোহার উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা আলতাব চোকদার এবং বিলাসপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি রাশেদ চোকদারের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বিলাসপুর ইউনিয়নের বন্যাদুর্গত অসহায় ১৫০ টি পরিবারের মাঝে ৮ কেজি করে চাউল, ১ কেজি ডাল এবং ১ কেজি করে লবণ বিতরণ করা হয়।

উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা আলতাব চোকদার বলেন, “আমরা দুইভাই আমাদের সাধ্যমতো বন্যাদুর্গত অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর চেস্টা করেছি”।

এ সময় রাশেদ চোকদার বলেন, “আমরা অতীতেও অসহায় মানুষদের পাশে ছিলাম এখনো আছি এবং ভবিষতেও থাকবো ইনশাল্লাহ”।

ইভটিজিং কারী সেই নেতা সজল এখনো স্বপদে বহাল

২০১৫ সালে গৃহবধুকে ইভটিজিং করার দায়ে ছয় মাসের কারাদ- প্রাপ্ত আসামী ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সজল আহম্মেদ এখনো স্বপদে তবিয়তে বহাল রয়েছেন। নিজের অবস্থান শক্ত করতে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর নিজ গ্রামে (ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী এলাকায়)  আয়োজন করেছেন নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা। যেখানে অতিথী করা হয়েছে ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমন ও ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. পনিরুজ্জমান তরুণকে। এমন ঘটনায় হতবাক স্বয়ং উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা ছাত্রলীগের সুনাম নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন। এছাড়াও দাওয়াতি কার্ডে ব্যবহার করা হয়েছে ঐ ছাত্রলীগ নেতার নাম ও পদবী। এ ঘটনায় আরও ক্ষিপ্ত হয়েছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

জানা যায়, ২০১৩ সালে ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে স্থান পায় ঢাকা জেলার  নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের খানেপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে সজল আহম্মেদ। এরপর ২০১৫ সালে তার গ্রামের এক গৃহবধুকে প্রেমের প্ররোচনায় ফেলে ধর্ষণ করে। পরে ঐ গৃহবুধর পরিবারের অভিযোগে ভিত্তিতে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতার করে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আদলতে হাজির করলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে ।

এ বিষয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, “এখনো অনেক ভাল-ভাল ছেলে আছে যারা ছাত্রলীগে কোন পদে এখনো আসতে পারেনি। সজলের মতো এরকম খারাপ ছেলে-পেলেকে দল থেকে বহিস্কার করে দলে নতুনদের জায়গা করে দিতে হবে।”

এ বিষয়ে নয়নশ্রী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরু উদ্দিন পত্তনদার ইভটিজিং কারি সজলের ঘটনাটি সত্য বলে স্বীকার করে বলেন, “বিষয়টি ছাত্রলীগের তাই আমাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই। তবে এ রকম খারাপ ছেলে-পেলেকে দল থেকে বাদ দেয়া একান্ত দরকার। তা না হলে দলের সুনাম ক্ষন্ন হবে।”

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইকরামুন নবী ইমু ও সাধারণ সম্পাদক মো. রাজিবের মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি। তবে সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ তানজিল হোসেন অপু বলেন, “সজলের অপকর্মের কথা শুনেছি। তাকে দল থেকে বহিষ্কার করার প্রক্রিয়া চলছে।”

দোহারে ৮ হাজার পরিবারের মাঝে ইঞ্জিনিয়ার মেহবুব কবিরের ত্রাণ বিতরণ

দোহার উপজেলায় ৮ হাজার পরিবারের মাঝে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ইঞ্জিনিয়ার মেহবুব কবির।

“সন্ত্রাসমুক্ত, মাদকমুক্ত সমাজ চাই, শিক্ষিত ও দক্ষ জনবল চাই” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের বন্যাকবলিত ৮ হাজার পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।

এ সময় তিনি বলেন, আমি আপনাদের মাঝে অতিতেও ছিলাম এখনো আছি এবং ভবিষতেও থাকবো। আপনাদের যে কোন সমস্যার কথা আমাকে বলবেন আমি সাধ্যমতো তা সমাধানের চেষ্টা করবো।

এ সময় তিনি বিলাসপুর ইউনিয়নের একটি ভাঙ্গা ব্রিজ নিজ অর্থায়নে মেরামতের ঘোষণা দেন। পরে তিনি মাহমুদপুর ইউনিয়নে গিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে আরো ৪৫০ টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।

এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন বিলাসপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লা, মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।

মানিকগঞ্জে শত বছরের নৌকার হাট এখনো জমজমাট

মানিকগঞ্জে নদ নদীর পানি কমতে শুরু করলেও বর্ষার পানি থৈ থৈ করছে চারদিকে। বর্ষা এলেই নৌকার চাহিদা বেড়ে যায়, তাই নৌকা তৈরিতে শ্রমিকরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

জেলার ৭টি উপজেলার ৬৫টি ইউনিয়নই এখন বর্ষার পানিতে নিমজ্জিত। আর বন্যার পানি না থাকলেও পদ্মা ও যমুনা, ধলেশ্বরী, কালিগঙ্গা ও ইছামতি নদীর তীরবর্তী মানুষদের নৌকা ছাড়া চলাচলের অন্য কোন মাধ্যম নেই। অপর দিকে চলতি বন্যায় জেলার ২ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

পানিবন্দি মানুষের বাহন নৌকা তৈরির কারখানার শ্রমিকরা এখন নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। আর জেলার হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকার শতবর্ষী নৌকার হাটও জমে উঠেছে।

এ নৌকার হাটে জেলার ঘিওর, হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা ছাড়াও ঢাকার দোহার নবাবগঞ্জ উপজেলাসহ পদ্মা ও যমুনার তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষ নৌকা কিনতে ভিড় জমাচ্ছে। প্রতিদিনই ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এ নৌকার হাট।

সরেজমিনে জানা গেছে, জেলার অধিকাংশ অঞ্চল চলতি বন্যায় তলিয়ে গিয়েছে পানিতে। অনেকে বন্যার পানি দ্রুত সরে যাবে ভেবে এতোদিন নৌকা না কিনে অন্যের নৌকায় অথবা কলাগাছের ভেলায় চলাচল করেছে। আবার কয়দিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। সকলের সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামে আসতে শুরু করেছে লোকজন। তাই এ সময় চারদিকে পানি থাকায় নৌকার কদর বেড়ে গেছে। পানি স্থায়ী হওয়ায় নৌকা কিনতে ঝিটকায় শতবর্ষী নৌকার হাট ও ঘিওরে বৃহত্তম নৌকার হাটে ভিড় করছে অনেকেই।

ঘিওরের ঈদগা মাঠে সপ্তাহের প্রতি বুধবার ও ঝিটকায় প্রতি শনিবার হাটের দিন হলেও বন্যার কারণে সপ্তাহ জুড়েই ব্যাপক বিক্রি হচ্ছে নৌকা। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্রেতারা নৌকা সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখে হাটে।

কড়ই, চাম্বুল, ওরিয়ান, লোহা, রেইন ট্রি, কদম, জিকা কাঠের ১০-১২ হাতের নৌকা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এ হাটে ডিঙ্গি বা কোষা নৌকার চাহিদাই সবচেয়ে বেশি।

ঝিটকা বাজারের নৌকা তৈরির শ্রমিক লিয়াকত আলী জানান, একটি নিম্নমানের কাঠের নৌকা একদিনেই তৈরি করতে পারলেও উন্নত মানের কাঠের নৌকা তৈরিতে সময় লাগে ২-৩ দিন। এ হাটে নৌকা সরবরাহ করার জন্য হরিরামপুর উপজেলার ২০-২৫ টি নৌকা তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানায় প্রায় ২ শতাধিক নৌকা তৈরির শ্রমিক কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, সাভার থেকেও বেপারীরা নৌকা আনেন এ হাটে। সারা বছর অন্য কাজে ব্যস্ত থাকলেও বর্ষার ৩

মাস তারা নৌকা তৈরির কাজ করে লাভবান হয় বেশি।

ঝিটকা হাটের নৌকা বেপারী রেজাউল করিম জানান, ঝিটকার হাটের দিন ৫ থেকে ৬ শতাধিক নৌকা বিক্রি হয়। তাছাড়া এ বছর বন্যার পানি বেশি থাকায় হাট ছাড়াও প্রতিদিন নৌকা ভালো বিক্রি হচ্ছে।

হরিরামপুর উপজেলার গৌরিনাথপুর গ্রাম থেকে নৌকা কিনতে আসা রেজাউল করিম বলেন, “বাড়ির চারদিকেই পানি, নৌকা ছাড়া কোথাও যাওয়া যায় না। তাই নৌকা কিনতে আসলাম।”

নৌকা ব্যবসায়ী মুন্নু জানান, চলতি বছরে ১০ থেকে ১২ হাতের কোষা নৌকার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। নিম্নমানের এই নৌকা ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যেই পাওয়া সম্ভব।

এছাড়া ৫ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে ভালো মানের নৌকা পাওয়া যায় বলেও জানান তিনি।

ঝিটকার নৌকা হাটে ক্রেতা ও বেপারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যারা প্রতি বছর বর্ষায় পানিবন্দি হয়ে পড়েন এ ধরনের ক্রেতারা বেশি দামের নৌকা কেনেন। আর যারা অতিরিক্ত বন্যা হলে পানিবন্দি হয়ে পড়েন তারা এক মৌসুমের জন্য কম দামের নৌকা কিনেন।

নৌকার তৈরির মহাজন সাইদুর বলেন, “১২ বছর ধরে নৌকা তৈরির ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করি। এ বছর বন্যার পানি বেশি হওয়ায় নৌকা বেশি বিক্রি হচ্ছে।”

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা ছাড়াও ঘিওর উপজেলায়ও নৌকার হাট জমে উঠেছে। জেলায় বর্ষা মৌসুমে নৌকার চাহিদা মিটায় হরিরামপুরের ঝিটকা ও ঘিওর উপজেলার নৌকার হাট। মানিকগঞ্জ জেলার বৃহত্তম নৌকার হাট ঘিওরে মানুষ ভিড় করছে নৌকা কিনতে।

ঘিওর উপজেলার চার ইউনিয়নের ২০ গ্রাম ও দৌলতপুরের দুর্গম এলাকায় বর্ষায় নৌকা ছাড়া চলাফেরা করা সম্ভব নয়। উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় এখনো পারাপারে পুরোদমে ব্যবহার হচ্ছে ডিঙ্গি নৌকা। নৌকাশিল্পের জন্য বিখ্যাত ঘিওরের কারিগরদের তৈরি নৌকা এ উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি হচ্ছে হরিরামপুর, শিবালয়, দৌলতপুরসহ বিভিন্ন এলাকায়। নৌকা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটছে মিস্ত্রিপাড়ার নারী-পুরুষদের।

অন্যান্য বছরের মতো এবারও বর্ষার ঘিওর উপজেলা সদরের প্রধান ঈদগাহ মাঠের নৌকা বিক্রির হাট জমজমাট হয়ে উঠেছে। ওই হাটে ক্রেতাদের জন্য থরে থরে সাজানো রয়েছে বাহারি কয়েক শ’ নৌকা।

ঘিওর বাজারের কাঠমিস্ত্রি রবি সূত্রধর, নিলকমল সূত্রধর, মাসুদ ও হারেছ জানান, বর্ষা মওসুমে তারা নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত। সপ্তাহে তাদের কারখানা থেকে ৮ থেকে ১০টি নৌকা ঘিওর, দৌলতপুর, বরংগাইল, তরা এবং মহাদেবপুর হাটে বিক্রি করা হয়। বর্তমানে লোহা ও কাঠের দাম বেড়ে যাওয়ায় নৌকা তৈরিতে খরচ বেড়েছে। নৌকার আকার ও প্রকারভেদে তিন থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। তবে লাভের অংশ আগের থেকে কমে গেছে।

ঘিওর হাটে নৌকা বিক্রেতা খগেন সূত্রধর জানান, ১০ হাত লম্বা এবং দুই হাত প্রস্থের একটি নৌকার মূল্য তিন হাজার থেকে তিন হাজার ২০০ টাকা। এরকম ১১/৩ সাইজের নৌকা চার হাজার, ১২/৩ সাইজের সাড়ে চার হাজার, ১৩/৩ সাইজের পাঁচ হাজার, ১৪/৩ সাইজের সাড়ে পাঁচ হাজার এবং ১৫/৩ সাইজের নৌকা বিক্রি করেন ছয় হাজার টাকায়। এ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের স্টিলের নৌকা বিক্রি করেন তিনি।

দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা এলাকার সিরাজ প্রামাণিক জানান, প্রতি বছর বর্ষায় তার একটি করে নৌকা কিনতে হয়। তবে এ বছর নৌকার চাহিদা বেশি থাকায় দাম একটু বেশি বলে জানান তিনি।

বন্যার্তদের মাঝে শাহ্‌জালাল ব্যাংকের ত্রাণ বিতরণ

নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যায় ও পদ্মা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ১০০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে শাহ্‌জালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড। মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) ব্যাংকের পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান আক্কাচ উদ্দিন মোল্লা এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরমান আর চৌধুরী উপস্থিত থেকে অসহায় পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।

ত্রাণ সামগ্রী হিসেবে শাহ্‌জালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড মোট ১৫ মে. টন চাল, ২ মে. টন ডাল, ১ মে. টন লবণ এবং ১ মে. টন  চিনি বিতরণ করেছে। প্রত্যেক পরিবারকে ১৫ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ১ কেজি লবণ এবং ১ কেজি চিনি ত্রাণ হিসেবে প্রদান করা হয়। সর্বমোট ১০০০ পরিবারকে ত্রাণ সামগ্রী প্রদান করা হয়।

ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে হরিরামপুর থানার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) সামছুদ্দিন, ব্যাংকের জনসংযোগ ও ব্যাংক ফাউন্ডেশনের প্রধান মো. সামছুদ্দোহা সিমু, ব্যাংকের নবাবগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান, ব্যাংকের বারুয়াখালী শাখার ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল মজিদ, ব্যাংকের মুরাক্বিব মাওলানা মো. ফরিদ উদ্দিনসহ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানগণ উপস্থিত ছিলেন।

দোহারে আব্দুল মান্নান খানের ত্রাণ বিতরন

ঢাকার দোহারে সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরন করেছেন। দোহারের বিলাসপুর, নয়াবাড়ি ইউনিয়ন এ ত্রাণ বিতরন করা হয়। এই সময় তিনি বন্যা দুর্গত প্রায় ২০০০ পরিবারের মাঝে এই ত্রান বিতরন করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে দোহার উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর পানিতে বন্দী দশায় থাকায় বানভাসিদের মাঝে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভাপতি মন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান ত্রাণ বিতরন শুরু করেন। এসময় আব্দুল মান্নান খান বলেন, আমি আপনাদের বন্ধু বা ভাইয়ের মত। আমি সব সময় আপনাদের পাশে ছিলাম এবং এখনও আছি। যতদিন বাঁচবো আপনাদের সুখে দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করবো। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি হুকুম আলী চোকদার, হুমায়ন কবির, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাজিব শরীফ দোহার উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ অঙ্গসংগঠেন নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।