স্কুলছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করায় এক ব্যক্তির কারাদণ্ড

নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার দায়ে শেখ মুক্তার (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (১৩ই সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তোফাজ্জল হোসেন এ দণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মুক্তার উপজেলার বাহ্রা ইউনিয়নের শুভরিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

নবাবগঞ্জ থানার সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) মো. হাসান জানান, সকাল ১০টার দিকে স্কুলের সামনে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকরা তাকে ধরে পুলিশে দেন। পরে দুপুরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। এসময় তিনি দোষ স্বীকার করায় বিচারক তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন।

দোহারে বন্যার্তদের মাঝে ‘জাগ্রত জনতা’র ত্রাণ বিতরণ

0

দোহার উপজেলার নারিশা এলাকায় নারিশা যুবক সমিতি মাঠে আজ শুক্রবার সকাল ১০ টায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ২৫০ টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে ঢাকার দোহার থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক জাগ্রত জনতা পত্রীকা পরিবার।

পত্রীকাটির সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি বিল্লাল হোসেনের সভাপতিত্বে ত্রাণ বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মেহবুব কবির, ঢাকা জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহজাহান মোল্লা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার, থানা যুবলীগের সদস্য ফারুখ হোসেন নারিশা ইউপি আওয়ামীলীগের সাংগথনিক সম্পাদক কাউছার খালাসী, বিজি নেভিগেশনের এমডি জাহাঙ্গীর হোসেন, জাগত জনতার সম্পাদক আতাউর রহমান সানী, স্টাফ রিপোর্টার মো, যুবায়ের, মোস্তফা কুদ্দুস, এবং স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ ।

নবাবগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বক্সনগর ইউপির দিঘিরপাড় খালপাড় এলাকায় সোমবার সকালে আব্দুল মান্নান ভূইয়া (৪৫) নামে এক কৃষকের বজ্রপাতে মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। সে খালপাড় গ্রামের লালমদ্দিনের ছেলে।

এলাকাবাসী জানায়, মান্নান সকাল ৮ টায় গবাদী পশুর জন্য আড়িয়াল বিল সংলগ্ন এলাকায় ঘাস কাটতে গেলে বৈরী আবহাওয়ায় হঠাৎ বজ্রপাতের সূত্রপাত হলে ঘটনা স্থলে তার মৃত্যু হয়। পরে নিহতের স্বজনরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মান্নানকে মৃত ঘোষনা দেন।বাদ আসর  জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।

নবাবগঞ্জ থানার উপপরির্দশক (এস.আই) মো. সুজন বলেন, বজ্রপাতের মৃত্যুর বিষয়  আমাদের কেউ বলে নি। ঘটনা স্থল পরির্দশে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে।

নবাবগঞ্জে আফজাল হত্যাকারীর ফাঁসি দাবিতে মানববন্ধন

 

ঢাকার নবাবগঞ্জে আফজাল হোসেন বাবুর হত্যাকারী মিজানের ফাঁসি চেয়ে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। রোববার দুপুরে ঢাকা-বান্দুরা মহাসড়কে নবাবগঞ্জ উপজেলা কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

বুধবার রাতে বক্সনগর ইউনিয়নের দীঘিরপাড় গ্রামে আফজাল হোসেন বাবুর (২৬) ঘরে ঢোকে একই গ্রামের মিজান। সে ইয়াবা সেবন করতে চায়। তাতে বাবু বাধা দিলে মিজান তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। বাবুর চিৎকার শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে মিজান পালিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মহির উদ্দিন জানান, আসামি পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নগ্ন ছবি তুলে টাকা দাবিঃ নবাবগঞ্জে মামলা করায় প্রাণনাশের হুমকিতে সংখ্যালঘু গৃহবধূ

ঢাকার নবাবগঞ্জের কৈলাইল ইউনিয়নের মালিকান্দা গ্রামের এক সংখ্যালঘু গৃহবধূ বখাটেদের বিরুদ্ধে মামলা করে বিপাকে পড়েছেন। ৪ আগস্ট নবাবগঞ্জ থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা করার পর থেকে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে আসামিরা। এরা হল- মালিকান্দা গ্রামের আনোয়ার হোসেন আয়নালের ছেলে আসিফ ওরফে বাবু ও পরান চৌধুরীর ছেলে মো. বিকাশসহ অজ্ঞাত কয়েকজন। এর মধ্যে পুলিশ বখাটে আসিফকে গ্রেফতার করেছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১ আগস্ট বাসায় গোসল করার সময় গোপনে গৃহবধূর নগ্ন ছবি তুলে মোবাইল অ্যাপ ইমোর মাধ্যমে পাঠায় বখাটেরা। এরপর ইন্টারনেটে ছবি ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তিন লাখ টাকা দাবি করে। পরে তারা ১৫ হাজার টাকা দিলে সব ছবি মুছে ফেলার কথা জানায়। বিকাশে টাকা পাঠাতে ০১৮১৩৬৮১৬৮৩ নম্বরটি দেয়া হয়। পরে গৃহবধূ তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা করেন।

এদিকে বখাটে আসিফকে গ্রেফতারের পর তার স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে মামলা তুলে নিতে গৃহবধূ ও তার স্বামীকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। এতে গৃহবধূর স্বামী ১৯ আগস্ট নিজের ও স্ত্রীর জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নবাবগঞ্জ থানায় বখাটে বিকাশের বাবা পরান চৌধুরী ও বিকাশের সহযোগী নয়াকান্দা আমবাগান এলাকার মেহেদী হাসান জেকির বিরুদ্ধে জিডি করেন। মেহেদী স্থানীয় প্রভাবশালী এমএ রশিদের ছেলে।

ঘুষের টাকার জন্যই বাবা মারা গেল দোহারের লোকমান আলী

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লাগেজ আনতে গিয়ে দোহারের ইসলামপুর গ্রামের লোকমান আলী (৫৫) নামের এক ব্যক্তি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। লাগেজ ছাড়াতে কাস্টমস কর্মকর্তাদের সময়মতো ঘুষ দিতে না পারায় লোকমানকে প্রাণ হারাতে হয়েছে বলে তাঁর স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।রবিবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের শাক্তা এলাকায় সিএনজিচালিত দুটি অটোরিকশার সংঘর্ষে তিনি আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

লোকমানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লোকমানের স্ত্রী মিনজু আক্তার সৌদি আরবে থাকেন। ঈদুল আজহার কয়েকদিন আগে উড়োজাহাজে করে পরিবারের সদস্যদের জন্য একটি লাগেজ পাঠান। ওই লাগেজে নতুন-পুরোনো কিছু জামা কাপড়, ১২ কেজি খেজুর, দুটি পুতুল, একটি কুকারসহ বাচ্চাদের জন্য কিছু খেলনা ছিল। এরপর গত ২ সেপ্টেম্বর শনিবার ঈদুল আজহার দিন সৌদি আরব থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন মিনজু আক্তার। ওই লাগেজ নিতে মিনজু ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা কাস্টমসে যান। কিন্তু কাস্টমসের এক কর্মকর্তা এ জন্য ৩২ হাজার ২৪০ টাকা দাবি করেন। তাঁদের কাছে সেই পরিমাণ টাকা ছিল না।

লাগেজে এত টাকার জিনিসপত্রও ছিল না। এ কারণে তাঁরা লাগেজ নেবেন না জানিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে আসেন। তখন কাস্টমস কর্মকর্তা তাঁদের আপাতত এক হাজার টাকা বিকাশ করতে বলেন। ওই টাকা বিকাশ করার পর কাস্টমস কর্মকর্তা আরো ২২ হাজার টাকা দিয়ে লাগেজ নিয়ে যেতে বলেন।

ওই লাগেজ ছাড়াতে আজ দোহার থেকে বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন মিনজুর স্বামী লোকমান। তিনি বসেছিলেন সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশায়। পথে অপর অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন তিনি। দুর্ঘটনার পর অটোরিকশা চালক নিজেই তাঁকে ঢাকায় জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) নিয়ে আসেন। কিন্তু সেখান থেকে তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর লোকমানকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ব্যাপারে জানতে চাইলে নিহত লোকমানের ছেলে রাজীব বলেন, ‘৩২ হাজার ২৪০ টাকা ঘুষ দিতে না পারায় কয়েক দফায় চেষ্টা করেও আমরা আমাদের ল্যাগেজ আনতে পারিনি। তারপর চলে আসি বাসায়। আজ সর্বশেষ আমার বাবা তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচ্ছিলেন বিমানবন্দর, যদি কোনোভাবে ছাড়ানো যায় সেই ব্যবস্থা করতে। আর সেই লাগেজ আনতে গিয়েই আজ আমার বাবা চিরতরে চলে গেলেন।’

কাঁদতে কাঁদতে রাজীব বলেন, ‘শেষমেশ এই ঘুষের টাকার জন্যই আমার বাবা মারা গেল। এই ঘুষ, এই কাস্টমসই দায়ী আমার বাবার মৃত্যুর জন্য! আমি এর বিচার চাই।’

নিহত লোকমানের মেয়ের জামাই মজ্জেল তালুকদার বলেন, ‘আমি, আমার ছোট শালা আর আমার শাশুড়ি দুই দিন গিয়েও ফিরে এসেছি। প্রথম দিন ৩২ হাজার ২৪০ টাকার কথা বললেও পরে ২২ হাজার টাকায় লাগেজ দিতে রাজি হয় কাস্টমস কর্মকর্তা। তারপর তো আজ আমার শ্বশুরকেই চলে যেতে হলো পৃথিবী ছেড়ে।’

বন্যার্তদের মাঝে লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা ফ্রিডমের ত্রাণ বিতরণ

লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা ফ্রিডমের উদ্যোগে বন্যার্ত এক হাজার পরিবারের মাঝে ত্রান বিতরণ করা হয়েছে। গত
৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দূপুরে ঢাকার দোহারের চর বিলাসপুর, নারিশা জোয়ার, কৃষ্টদেবপুর ও ফরিদপুরের চর নারিকেলবাড়িয়া ও চর নাসিরপুরে এক হাজার পরিবারের মাঝে ১০কেজি চাল, ১কেজি মশুরের ডাল, ১কেজি তেল, ২কেজি আলু, ১কেজি টোষ্ট বিস্কুট, ১কেজি লবন ওরস্যালাইন, মোমবাতি, ম্যাচ ও নগদ টাকা বিতরণ করা হয়।

লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা ফ্রিডমের চার্টার্ট প্রেসিডেন্ট লায়ন আব্দুস সালাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লায়ন জেলা ৩১৫এ-১ এর গভর্ণর লায়ন রবিউল হক, সেক্রেটারি ফরিদুল হক, ট্রেজারার আজিজুল হাসান হীরা, ইউসুফ আলী খান, নজরুল ইসলাম সিকদার, আশ্রাফউদ্দিন বকসি, আরিফউদ্দিন মিয়া, কামাল হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার শাহআলম, রেফাতউল্লাহ, আনিছুর রহমান, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

দোহারের গ্রামগুলোতে তাঁতের শব্দ শোনা যায় না

এক সময় গ্রামের ভিতর দিয়ে হেঁটে গেলে শোনা যেত তাঁতকলের খট খট শব্দ। সেইসঙ্গে কাজের তালে তালে কারিগরদের কণ্ঠে জারি-সারি আর ভাটিয়ালি গান। কিন্তু সেই গ্রামগুলোতে আজ আর তাঁতের শব্দ শোনা যায় না, শোনা যায় না চিরচেনা খটখট।

আজ তাঁতপল্লীর অধিকাংশ তাঁতকল বন্ধ হয়ে গেছে। ঠিক তেমনি প্রয়োজনীয় মূলধন, কাঁচামালের অভাবে প্রশাসনিক জটিলতা এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলারও কয়েক হাজার তাঁত শিল্প আজ ধ্বংস হতে চলছে। প্রচুর সম্ভাবনা থাকা সত্যেও দোহার নবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী এ শিল্প আজ বিলীন হওয়ার পথে। বেশকিছু তাঁতি পরিবার এখনও তাদের পৈত্রিক ব্যবসাকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।

দোহার-নবাবগঞ্জের কারিগরদের সূত্রে জানা গেছে, এক সময় এ অঞ্চলের তৈরি তাঁতের কাপড় সারাদেশে ব্যাপক চাহিদা ছিল। এমনকি এখানকার লুঙ্গি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রফতানি করা হতো। যা কিনা জয়পাড়ার লুঙ্গি নামে সারা বিশ্বে পরিচিত কিন্তু ভারতের তৈরি কাপড়ে বাজার সয়লাব ও দেশি কাপড়ের ব্যবহার কমে যাওয়ায় এ অঞ্চলে অধিকাংশ তাঁতকল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে কারিগররা কাজের অভাবে পূর্ব পুরুষের পেশা ছেড়ে ঝুঁকছে অন্য পেশায়।

স্থানীয় কারিগরদের অভিযোগ, সুতার মূল্য ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় বেড়ে গেছে উৎপাদন খরচ। সে হিসেবে বাড়ে নি লুঙ্গির দাম। বছরে দুই ঈদ ছাড়া এ ব্যবসায় সুবিধা করতে পারছেন না তাঁতশিল্প মালিকরা। এ শিল্পে দক্ষ শ্রমিকেরও যথেষ্ট অভাব রয়েছে। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও পাওয়ারলুম স্থাপনের কারণে জয়পাড়া এলাকার অনেক তাঁতি পরিবারই তাঁতের কাজ ছেড়ে দিয়েছেন।

রবিবার সরেজমিনে কথা হয় দোহার উপজেলার রাইপাড়া গ্রামের তাঁত ব্যবসায়ী মো. মুজিবুর বেপারী সাথে তিনি জানান, বর্তমান লুঙ্গির বাজার খুবই খারাপ। এক সময় লুঙ্গি তৈরি করে খুবই সচ্ছল ছিল তাঁতিরা। বর্তমান সুতার দাম বেড়ে যাওয়ায় ও সেই সঙ্গে লুঙ্গির দাম কমে যাওয়ায় এখন কোনমতে টিকে আছে এ শিল্প।

নবাবগঞ্জ উপজেলা তাঁতিলীগের সভাপতি মো. হাবিবুব রহমান হাবিব জানান, দোহার-নবাবগঞ্জের ঐতিহ্য তাঁত শিল্পকে বাঁচাতে হলে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে কারিগরদের মাঝে ঋণ প্রদান করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে এ শিল্প দোহার-নবাবগঞ্জ থেকে হারিয়ে যাবে।

দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম আল-আমিন বলেন, সরকারি অনুদান ছাড়া আমাদের কোন কিছু করার নেই। সরকার থেকে তাঁতশিল্পের জন্য যদি কোন বরাদ্দ থাকে তাহলে আমরা দিতে পারবো।

নবাবগঞ্জে মাদক নিতে বাধা দেয়ায় এক ব্যক্তি খুন

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় নিজের ঘরে মাদকের আসর বসতে না দেওয়ায় আফজাল হোসেন বাবু (২৫) নামে এক দিনমজুরকে মিজান (৩২) নামের এক ব্যক্তি ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত বুধবার রাতে উপজেলার বক্সনগর ইউনিয়নের দীঘিরপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মাদকসেবী মিজান একই গ্রামের মিনাজ উদ্দিনের ছেলে বলে জানা যায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, বুধবার রাতে বাবুর খালি ঘরে ঢুকে ইয়াবা সেবন করছিল মাদকসেবী মিজান। বাবু ঘরে ঢুকে মিজানকে বকাঝকা করলে তাকে শাড়ী কাপড় দিয়ে হাত-পা, মুখ বেঁধে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালায়। পরে এলাকাবাসী তাকে আহতাবস্থায় নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে কর্তব্যরত চিকিত্সক বাবুকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত বাবুর মামাতো ভাই আল মিরাজ জানান, বাবুকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে মিজান। আমি হত্যাকারীর বিচার চাই।
নবাবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনসারী জিন্নাত আলী জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানা গেছে। এব্যাপারে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।

চরকুশাইয়ে নদীতে নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার

ঢাকার দোহার উপজেলার চর কুশাই গ্রামে নদীর পানিতে ডুবে নিখোঁজ দুই ভাইয়ের মধ্যে একজনের লাশ একদিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ।

দোহার থানার চর মোহাম্মদপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. আরব আলী জানান, বুধবার দুপুরে উপজেলার চর লটাখোলা এলাকার একটি খাল থেকে শিশুটির লাশ তারা উদ্ধার করেন। মৃত মাইদুল ইসলাম (৮) ওই এলাকার পলাশ বেপারীর ছেলে।

পলাশের বোনের ছেলে মো. জিহাদ (৭) এখনও নিখোঁজ রয়েছে। তার বাড়ি মানিকগঞ্জে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পরিবারের বরাত দিয়ে এসআই আরব বলেন, ঈদের ছুটিতে জিহাদ তার মায়ের সঙ্গে দোহারে মামার বাড়ি বেড়াতে আসে। মঙ্গলবার দুপুরে পলাশ তার ছেলে মাইদুল ও ভাগ্নে জিহাদকে নিয়ে বাড়ির পাশে পদ্মার শাখা নদীতে গোসল করতে যান।

“নদীর পাড়ে তাদের দাঁড় করিয়ে গোসলে নামেন তিনি। এক পর্যায়ে মাইদুল ও জিহাদ নদীতে নামলে পানিতে তলিয়ে যায়।”

তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস,পুলিশ ও স্থানীয়রা অনেক খোঁজাখুঁজি করলেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বুধবার ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে মাইদুলের লাশ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়।

কোন অভিযোগ না থাকায় লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে বুধবার রাত পর্যন্ত জিহাদের সন্ধান মেলেনি বলে জানান এসআই।