নবাবগঞ্জে দুর্নীতির অভিযোগে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ অপসারণ

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার সোনাহাজরা মুফিজিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা অধ্যক্ষ কেএম মাহমুদুল হাসানকে অবশেষে দুর্নীতির দায়ে অপসারণ করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ক্লাস বর্জনের ৮ দিন পর বৃহস্পতিবার শ্রেণিকক্ষে ফিরলেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, গত ১৪ সেপ্টেম্বর দৈনিক যুগান্তরে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ কেএম মাহমুদুল হাসানের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে পদে বহাল থেকে আর্থিক দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে তার অপসারণ দাবি করে আসছিলেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক প্রতিনিধি ও এলাকাবাসী। অধ্যক্ষ অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকরা কর্মবিরতি ঘোষণা করেন। ওইদিন থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাদ্রাসাটিতে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। বুধবার রাতে সুপারের অপসারণের ঘোষণার পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে শ্রেণিকক্ষে ফেরেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

সূত্র জানায়, বিষয়টি সমাধানে বুধবার বিকালে মাদ্রাসার শিক্ষক মিলনায়তনে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসে মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসন। ওই কক্ষে অধ্যক্ষ কেএম মাহমুদুল হাসানকেও রাখা হয়। দীর্ঘ সাড়ে ৩ ঘণ্টা কাগজপত্র পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করা হয়। বিকাল থেকে মাদ্রাসা উঠানে উপস্থিত এলাকার সহস্রাধিক লোক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে পরিচালনা পরিষদের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু মাইকে উপস্থিত সবার উদ্দেশে বৈঠকের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তিনি জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রেরিত চিঠির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধ্যক্ষকে অপসারণ করা হল। যে চিঠিটি এতদিন লুকিয়ে রাখা ছিল। একই সঙ্গে সহকারী প্রভাষক হাফেজ মো. বজলুর রহমানকে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়া হল। তাছাড়া সাবেক অধ্যক্ষের অনিয়মের অভিযোগগুলো ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেবে। প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দেন নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ, নবাবগঞ্জ থানার ওসি মোস্তফা কামাল।

দোহারে সাড়ে সাতকোটি টাকার কারেন্ট জাল ধ্বংস

0

ঢাকার দোহারে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস বিভাগের যৌথ অভিযানে সাড়ে সাতকোটি টাকার কারেন্ট জাল উদ্ধার করেছে। উপজেলার জয়পাড়া বাজার থেকে এই জাল উদ্ধার করা হয় বলে জানায় স্থানীয়রা।

জানা যায়,বুধবার সকাল সাড়ে দশটায় দোহার উপজেলার জয়পাড়া বাজারের দুটি ভবন থেকে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করে দোহার উপজেলা প্রশাসন ও মৎস বিভাগ কর্মকর্তা আঃ মান্নান খান। যার বাজার মূল্য ৭ কোটা ৫০ লাখ টাকা।

উপজেলা মৎস কর্মকর্তা আঃ মান্নান খান জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে দোহার উপজেলা প্রশাসন ও মৎস কর্মকর্তার যৌথ উদ্যোগে জয়পাড়া বাজারের দুটি ভবনের কয়েকটি কক্ষে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করে আগুনে দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। যার বাজার মূল্য সাড়ে সাত কোটি টাকা।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় উপজেলার মৈনট পদ্মার পাড়ে উদ্ধার করা জাল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কে, এম, আল -আমীন, সহকারী কমিশনার ভূমি আঃ মান্নান খান, কোষ্টগার্ড প্রধান মোঃ ইমরুল হাসান ও কোষ্টগার্ডের ত্রিশ সদস্যের দল।

বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী : পরাজয় নয়, আছে জয়ের ইতিহাস

0

The soldier above all others prays for peace, for it is the soldier who must suffer and bear the deepest wounds and scars of war- General of the US Army MacArthur

‘যদি শান্তি চাও তবে যুদ্ধের প্রস্তুতি নাও’। বাংলাদেশীরা জাতিগতভাবেই শান্তিপ্রিয়। তবে আমাদের সশস্ত্রবাহিনী যুদ্ধ করতে পারে কি না, তা জানার জন্য গবেষক হওয়ার প্রয়োজন নেই। শান্তিবাহিনীকে জিজ্ঞেস করলেই জানা যাবে, দীর্ঘ দুই যুগ ন্যূনতম সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কিভাবে বৃহৎ শক্তি আশ্রিত শান্তিবাহিনীকে রুখে দাঁড়িয়েছিল। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের রেকর্ড ঘাটলে দেখা যাবে, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অফিসার সৈনিকেরা জীবন পণ করে কিভাবে যুদ্ধ করেছে লাহোরসহ অন্যান্য সেক্টরে।

ওই যুদ্ধে প্রথম ইস্ট বেঙ্গলে কর্মরত তদানীন্তন মেজর জিয়াউর রহমান পাক সশস্ত্রবাহিনীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব হিলাল-ই জুরাত পেয়েছিলেন (অবশ্য বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি আর সেই খেতাব কখনো ব্যবহার করতেন না)। লেফটেন্যান্ট মাহমুদুল হাসান যে ভারতীয় ট্যাংকটি ধ্বংস করেছিলেন, তা আজো ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে ‘ওয়ার বুটি’ হিসেবে।

পাকিস্তান বিমানবাহিনীর কথা বললে আরো অবাক হতে হবে। আরমানিটোলা স্কুল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র স্কোয়াড্রন লিডার এম এম আলম জেট যুগে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন মাত্র ৩০ সেকেন্ডের আকাশ যুদ্ধে পাঁচটি ভারতীয় হকার হান্টার জঙ্গি বিমান ভূপাতিত করে। একই যুদ্ধে তিনি লাভ করেন সিতারা-ই জুরাত খেতাব পরপর দুই বার। ঢাকার বিখ্যাত চিকিৎসক ডাক্তার টি আহমেদের পুত্র স্কোয়াড্রন লিডার আলমগীর আহমেদ ছিলেন পাকিস্তান বিমানবাহিনী অ্যাকাডেমি- রিসালপুর থেকে সোর্ড অফ অনার প্রাপ্ত। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে তিনি অসামান্য সাহস দেখিয়ে শহীদ হন ও তাকে ভূষিত করা হয় সিতারা-ই জুরাত খেতাবে।

তদানীন্তন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট সাইফুল আজম ভারতীয় জঙ্গি বিমান ভূপাতিত করায় তাকেও দেয়া হয় সিতারা-ই জুরাত মেডেল। পরে ১৯৬৭ সালে জর্ডান বিমানবাহিনীতে প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত থাকার সময় আরব-ইসরাইল যুদ্ধে তিনি তিনটি ইসরাইলি জঙ্গি বিমান ধ্বংস করেন ও জর্র্ডান এবং ইরাক থেকে বীরত্বসূচক খেতাবে ভূষিত হন। তিনিই পৃথিবীর একমাত্র জঙ্গি বিমান পাইলট, যিনি তিনটি দেশের বীরত্বসূচক খেতাব লাভ করেছেন ও দুর্ধর্ষ ইসরাইলি বিমানবাহিনীর তিনটি জঙ্গি বিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছেন। বিমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় থেকে আজ পর্যন্ত জঙ্গি বিমান চালকদের যে র‌্যাংকিং মার্কিনিরা করেছে, তাতে এই উপমহাদেশ থেকে একমাত্র সাইফুল আজমের নাম আছে শীর্ষ ১৫ তে। এ ছাড়াও উল্লেখ করা যায়, স্কোয়াড্রন লিডার সরফরাজ আহমেদ রফিকী, গ্রুপ ক্যাপ্টেন শওকতের নাম। স্কোয়াড্রন লিডার রফিকী ছিলেন রাজশাহীর সন্তান। তিনিও ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে শহীদ হন। দু’টি অপারেশনে তার অসাধারণ বীরত্বের জন্য পাক বিমানবাহিনী তাকে শুধু হিলাল-ই জুরাত ও সিতারা-ই জুরাত খেতাবই দেয়নি, বরং তাদের একটি বিমান ঘাঁটির নামকরণ করেছে পিএএফ রফিকী হিসেবে। গ্রুপ ক্যাপ্টেন (তদানীন্তন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট) শওকতও আরব-ইসরাইল যুদ্ধে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে ইসরাইলি বিমানবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন।

এবার আসা যাক আমাদের সবচেয়ে গৌরবের ইতিহাসে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরু করার পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থিত পাঁচটি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট বিদ্রোহ করে ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। মেজর জিয়াউর রহমান স্ত্রী-পুত্রের নিরাপত্তার দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে বিদ্রোহ করেন, যার সাথে ছিলেন অন্যতম মেধাবী মেজর মীর শওকত আলী। তিনি পাকিস্তান মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে সিনিয়র আন্ডার অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন যা অত্যন্ত কঠিন এক ব্যাপার। ট্যাকটিকস্- এ অসামান্য দক্ষতা ছিল বলে পাক সেনাবাহিনীতে জুনিয়র অবস্থাতেই মীর শওকতকে বলা হতো ট্যাকটিকস-এর জাদুকর। মেজর শফিউল্লাহ তার কোর্সমেট মেজর জিয়ার সাথে পাক মিলিটারি অ্যাকাডেমি- পিএমএতে প্লাটুন কমান্ডার ছিলেন। অত্যন্ত মেধাবী ও যোগ্য কর্মকর্তারাই কেবল মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ পেয়ে থাকেন। অপর মেধাবী কর্মকর্তা মেজর খালেদ মোশাররফও পাক আর্মিতে পরিচিত ছিলেন যুদ্ধকৌশলের একজন দক্ষ হাত হিসেবে।

পাক সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল কামাল মতিনউদ্দিন তার ‘ ট্র্যাজেডি অব এরর’ বইতে লিখেছেন- ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে জিএইচকিউ (জেনারেল হেড কোয়ার্টার্স) পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও যুদ্ধকৌশল কার্যোপযোগী করার জন্য মেজর খালেদ মোশাররফকে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করতে বলে। সে সময় মেজর খালেদ কোনো একটি ব্রিগেডে ব্রিগেড মেজর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বলা বাহুল্য, ব্রিগেড মেজর পদেও নিয়োগ পান কেবল তীক্ষè বুদ্ধিসম্পন্ন কর্মকর্তারাই। যা হোক, মেজর খালেদ মোশাররফ যে দিকনির্দেশনামূলক পেপার তৈরি করে সাবমিট করেছিলেন পাক সদর দফতরে ঠিক সেটিকেই তারা পূর্ব পাকিস্তানে যুদ্ধকৌশল হিসেবে অনুমোদন করে। জে. মতিনউদ্দিন দুঃখ করে বলেছেন- খালেদ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তারই প্রণীত যুদ্ধকৌশল চমৎকারভাবে প্রয়োগ করেন যা পাক বাহিনী তখনো আত্মস্থ করতে পারেনি! মেজর এম এ মঞ্জুর ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানে একটি ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর। তিনি ওই ব্রিগেডের পুরো অপারেশনাল প্লান নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী এই কর্মকর্তা ছিলেন পুরো যুদ্ধকালে সাহসিকতার প্রতীক। মেজর আবু তাহের ছিলেন পাকিস্তানের দুর্ধর্ষ কমান্ডো বাহিনী এসএসজির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। কমান্ডো ব্যাটালিয়নে উপ-অধিনায়ক থাকাকালীন তার অধিনস্থ কর্মকর্তা ছিলেন ক্যাপ্টেন পারভেজ মোশাররফ, যিনি পরবর্তীকালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। কর্নেল তাহের হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তাকে পাক সেনাবাহিনী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রেঞ্জার্স কোর্স করতে পাঠায়। সেখানে তার কোর্স রিপোর্টে বলা হয়- পৃথিবীর যেকোনো সেনাবাহিনীতে, যেকোনো স্থানে, যেকোনো পরিস্থিতিতে ও যেকোনো আবহাওয়ায় কাজ করতে সক্ষম মেজর আবু তাহের।

এরকম কত জনের নামই না উল্লেখ করা যায় বাংলাদেশী জাতির শ্রেষ্ঠ যোদ্ধাদের তালিকায়। মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী, মেজর হাফিজ, শহীদ লে. কর্নেল এম আর চৌধুরী, ক্যাপ্টেন শমসের মুবিন চৌধুরী, মেজর জেনারেল আনোয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল আজিজুর রহমান, মেজর জেনারেল আমিন আহমদ চৌধুরী, মেজর জেনারেল হারুন আহমদ চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিনুল হক, কর্নেল জিয়াউদ্দিন, কর্নেল জাফর ইমাম, কর্নেল অলি আহমদ, মেজর জেনারেল ইমামুজ্জামান, মেজর জেনারেল সি আর দত্ত, মেজর এম এ জলিল, লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাসিম, মেজর জেনারেল আইনউদ্দিন এমনি ক’জন মুক্তিযোদ্ধা যারা ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন মাতৃভূমির স্বাধীনতায় বিদ্রোহের ঝুঁকি নিয়ে।

যোদ্ধা হিসেবে মেজর জেনারেল জামিল ডি আহসানের পারিবারিক ইতিহাস আবার বিস্ময়কর। তার বড় ভাই ছিলেন পাক বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট জিয়া ডি হাসান। ফ্লাইং অফিসার থাকাকালে তিনি ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে অর্জন করেছিলেন সিতারা-ই জুরাত খেতাব। আর তার ছোট ভাই জামিল ডি হাসান অর্জন করেছেন বীর প্রতীক খেতাব একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে। ফ্লাইট লে. জিয়া ডি হাসান মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে পারেননি, কারণ তার আগেই তিনি এক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন।

একই পরিবারের দুই সন্তান দুই দেশের বীরত্বসূচক খেতাবে ভূষিত হয়েছেন এমন নজির পৃথিবীর কোথায় আছে? মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে পড়ার সময় পুরো পূর্ব পাকিস্তানে মানবিক বিভাগ থেকে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন। তিনি চাইলেই পৃথিবীর নামজাদা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হতে পারতেন। কিন্তু যোগ দিয়েছিলেন সেনাবাহিনীতে এবং পাকিস্তান মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে তার কোর্সে অধিকার করেন প্রথম স্থান। সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট থাকাবস্থায় দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাথে যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে। সে সময় পাক সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কোরে কর্মরত অনেকেই সুযোগ পাননি সীমান্ত অতিক্রম করে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়ার। তবে ওইসব তীক্ষ্ণধী কর্মকর্তাদের সুনাম অক্ষুণ্ন ছিল তাদের চাকরি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত।

মাত্র কয়েকজন কর্মকর্তা ইচ্ছে করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে থেকে যান বা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেননি। এদের একজন ছিলেন প্রফেসর কবীর চৌধুরী, প্রফেসর মুনীর চৌধুরী ও ফেরদৌসী মজুমদারের আপন ভাই কর্নেল কাইয়ুম চৌধুরী, যিনি পাক মিলিটারি অ্যাকাডেমি থেকে সোর্ড অফ অনার লাভ করেছিলেন প্রথম বাংলাভাষী হিসেবে। তিনি কেন মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেননি তা আজও সঠিকভাবে জানা যায়নি। তবে বেঁচে থাকাবস্থায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখত একজন মেধাবী মানুষ হিসেবে।

এ দিকে বিমানবাহিনীর কথা যদি বলি, তবে এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ, এয়ার ভাইস মার্শাল সদরুদ্দিন, গ্রুপ ক্যাপ্টেন শামসুল আলমের অকল্পনীয় ঝুঁকিপ্রবণ ও সাহসিকতার অপারেশনগুলোকে যুদ্ধের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখতে হবে। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান তো তার অসম সাহসিকতার উদাহরণ স্থাপন করে অর্জন করেছেন বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি।

একসময় ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলাভাষীদের সশস্ত্র বাহিনীতে খুব একটা নেয়া হতো না। তাদের ডকট্রিনেই বলা ছিল, বাংলাভাষীরা নন মার্শাল রেস। দেখতে ছোটখাটো, উজ্জ্বল বর্ণের না হওয়ায় সইতে হয়েছিল এই বদনাম। ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় যেদিন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রথম ইনডিজিনিয়াস বা নিজস্ব রেজিমেন্ট হিসেবে প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট গঠিত হয় সেদিন থেকেই বাংলাভাষীরা ঝাঁপিয়ে পড়েন নন মার্শাল রেসের বদনাম ঘুঁচাতে। তারা তা সাফল্যের সাথেই করেছেন দীর্ঘকায়, উজ্জ্বল বর্ণের সহকর্মীদের সাথে পাল্লা দিয়ে। এই উপমহাদেশের সামরিক ইতিহাস যখন পড়ানো হয়, বিশ্লেষণ করা হয় তখন সঙ্গতকারণেই বাংলাভাষীদের নাম মোছা যায় না। বরং তাদের নাম ও সামরিক দক্ষতা ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে ধ্রুবতারার মতো।

আমাদের বর্তমান সশস্ত্রবাহিনী ১৯৭১ সালের পর কোনো কনভেনশনাল যুদ্ধে জড়িত না হলেও তাদের রয়েছে দীর্ঘ দুই যুগ পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিবাহিনীর সাথে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা। কাউন্টার ইন্সার্জেন্সি অপারেশন্স কোনো মামাবাড়ির আবদার নয়। এটি অত্যন্ত জটিল ও রক্তক্ষয়ী। সেখানে আমাদের সেনাবাহিনী ন্যূনতম সাজ-সরঞ্জাম নিয়ে সফলতার সাথে শুধু যুদ্ধই করেনি, বরং শান্তিবাহিনীকে প্রায় ধ্বংসের মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে; যার পরিপ্রেক্ষিতেই সাধিত হয় শান্তি চুক্তি। পার্বত্য চট্টগ্রামে আমাদের বহু সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিক দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অকাতরে জীবন দান করে গেছেন। মুক্তিযুদ্ধের পর অপারেশনাল খাতে একমাত্র বীর উত্তম শহীদ লেফটেন্যান্ট মুশফিকের আত্মদানের কাহিনী হয়তো অনেকেই জানে না। তবে আমাদের সামরিক ইতিহাসে তা এক অবিস্মরণীয় ঘটনা।

যে বা যারাই আজ বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীকে চোখ রাঙানোর চেষ্টা করবে বা করছে তাদের খুব ভালো করে মনে রাখা উচিত আমাদের রয়েছে সম্মুখ সমরের অভিজ্ঞতা, সাফল্যের সাথে বিচ্ছিন্নতাবাদ দমনের অদম্যতা। আমাদের আছে জয়ের ইতিহাস, কোনো পরাজয়ের লজ্জা নয়। আমরা সবসময় জয়ী হয়েছি, আমাদের ভদ্রতা বা নমনীয়তাকে কেউ দুর্বলতা ভাবলে ভুল করবে। হয়তো সমর-সরঞ্জাম ও অস্ত্রশস্ত্রে আমরা এখনো আধুনিকতাকে স্পর্শ করতে পারিনি, তবে ‘ইটস দ্য ম্যান বিহাইন্ড গান হুইচ ম্যাটারস’। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যেভাবে নির্দেশ দেবে সশস্ত্রবাহিনীকে তা পালন করতে হবে- এটাই রীতি। কোনো সশস্ত্রবাহিনী নিজে আগ বাড়িয়ে যুদ্ধ করতে পারে না। তাদের চলতে হয় সরকারের নির্দেশনা মেনে।

এর অর্থ এই নয় যে, বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী যুদ্ধ করতে জানে না। শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্যই সশস্ত্রবাহিনী এতদিন ধারাবাহিকভাবে কঠোর প্রশিক্ষণ অর্থাৎ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে। একে কেউ ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করলে সেটার দায় তার, সশস্ত্রবাহিনীর নয়। সুপ্রশিক্ষিত যোদ্ধারা কখনো যুদ্ধের উসকানি দেয় না। তবে যুদ্ধে গেলে বুঝিয়ে দেয় তারা কারা।

মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রশান্ত মহাসাগর এলাকার কমান্ডার জেনারেল অফ দ্য আর্মি ম্যাকআর্থার বলেছিলেন- ‘There is no substitute for victory’ অর্থাৎ জয়লাভের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী জয়ী হয়েই এতদূর এসেছে। তারা জানে তারা জয়ী হবেই যদি কোনো শকুন তাদের দিকে কুদৃষ্টি দেয়।

আবু রুশদ

লেখক : সাবেক সেনা কর্মকর্তা, সাংবাদিক

 

সরকারি হলো ১২ মডেল কলেজ

0

১২টি বেসরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজকে সরকারি করা হয়েছে। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ বিষয়ে আদেশ জারি করা হয়েছে। সরকারি হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকার মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রূপনগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লালবাগ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং শ্যামপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

এছাড়া চট্টগ্রাম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজশাহী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, খুলনা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিলেট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড মডেল কলেজ, যশোর শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজকে সরকারি করা হয়েছে।

এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অন্যত্র বদলি হতে পারবেন না বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। যে সব উপজেলায় সরকারি কলেজ নেই সেখানে একটি করে সরকারি কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত রয়েছে সরকারের। পরিদর্শনের পর পর্যায়ক্রমে কলেজ সরকারিকরনের আদেশ জারি করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

নবাবগঞ্জ উপজেলার সাবেক ইউএনওকে বিদায় সংবর্ধনা

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদকে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছে উপজেলা পরিষদ ও অফিসার্স ক্লাব। সম্প্রতি পদোন্নতি পেয়ে তিনি অন্যত্র বদলি হয়েছেন। সোমবার সকাল ১০টায় সদ্য যোগদানকরা ইউএনও তোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা ও সুধীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সদ্যবিদায়ী নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এ উপজেলায় দ্রুত বাস্তবায়নে সার্বক্ষণিক সহায়তা করেছেন। দলমত নির্বিশেষে সবার পাশে থেকেই কাজ করার প্রয়াস জুগিয়েছেন।

বিদায়ী ইউএনও শাকিল আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, দোহার ও নবাবগঞ্জের সর্বোচ্চ জনপ্রতিনিধি অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপির নেতৃত্বে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আপনারা সব ধরনের সহযোগিতা করবেন- এই প্রত্যাশা আমার।

উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ জাতীয় কমিটির সদস্য আবদুল বাতেন মিয়া, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মহসিন রহমান আকবর, মরিয়ম জালাল শিমু, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহনাজ মিথুন মুন্নি, ওসি মোস্তফা কামাল, উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহজাহান, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল আমীন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল উদ্দিন, আবেদ হোসেন, আবদুল ওয়াদুদ মিয়া, হাজী ইব্রাহীম খলিল প্রমুখ।

নবাবগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ঝরে গেল আরো এক কলেজ ছাত্রের প্রান

বেপরোয়া মোটর সাইকেল ড্রাইভিং এর নতুন বলি হলো দোহার নবাবগঞ্জ কলেজের ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্র ইমন হোসেন। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় আহত ইমন চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যু গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রবিবার নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক কামরুল ইসলাম জানান, রাজধানীর জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর পর রবিবার লাশ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়েছে। নিহত ইমন উপজেলার আলহাদিপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। দোহার নবাবগঞ্জ কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ১ম বর্ষের ছাত্র ছিল সে।

এঘটনায় একই এলাকার বাসিন্দা রিয়াজ (১৬) ও আশরাফ (১৭) নামে আরো দুই কিশোর আহতাবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। হতাহতরা সবাই মোটরসাইকেল আরোহী ছিল।

১৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে ইমন, রিয়াজ ও আশরাফ ঢাকা-বান্দুরা সড়কে মোটর সাইকেল যোগে সাদাপুর ব্রীজের উপরে উঠলে মোটর সাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারালে একটি হায়েস গাড়ির সাথে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে তারা গুরুতর আহত হয়।

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দিলে আহতদের পরিবারের লোকজন জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার গভীর রাতে ইমনের মৃত্যু হয়।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সরকার সহযোগীতা করছেঃ সালমা ইসলাম এমপি

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সরকার সহযোগীতা করছে সব সমস্যা কাটিয়ে আবার ঘুরে দাড়াতে হবে। জীবন সংগ্রামে লড়তে হবে। আজ দেখেন সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে রোহিঙ্গা সমস্যায়। তাদের পাশে দাড়িয়ে মানবতার পরিচয় দিন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার দোহারের ৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বন্যা দূর্গতদে মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সব দু:খ কষ্ট মোকাবেলা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বন্যা নদী ভাঙন এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবে যাবে। তার মধ্যে আমাদের টিকে থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার সাহসিক পদক্ষেপে যেমন বন্যার সময় মানুষ সহায়তা পেয়েছে। কেউ না খেযে থাকেনি। যাদের ঘরে খাবার নেই সরকার তাদের ব্যবস্থা করবে।  তিনি( প্রধানমন্ত্রী) শুধু দেশ নয়, আজ মায়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিষয়ে জোর প্রতিবাদ ও তাদের পাশে দাড়িয়েছে। আসুন মানতার দৃষ্টিতে সকলেই নির্যাতিত মুসলিম নরনারীদের পাশে দাড়াই। কারণ একদিন আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এমন সংকট পার করেছি। তখন এ দেশের অনেক মানুষ মারা গেছে। অন্য দেশেও আশ্রয় নিয়েছে।  সেই সময়ের কথা ভেবে রোহিঙ্গাদের পাশে দাড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

সাংসদ সালমা ইসলাম দুপুর ১২টা পর্যন্ত নয়াবাড়ী, কুসুমহাটি, মাহমুদপুর, রাইপাড়া ও দোহার পৌরসভায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় দেড় হাজার পরিবারের মাঝে তার প্রচেষ্টায় বিশেষ বরাদ্ধের সরকারী ত্রাণ বিতরণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম আল আমিন,দোহার সার্কেলের এএসপি মাহবুবুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ মিয়া, দোহার পৌর মেয়র আব্দুর রহিম, জাতীয় পার্টি নবাবগঞ্জ উপজেলা সদস্য সচিব শরফুদ্দিন আহমদে শরীফ, ঢাকা জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ, ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন, আমজাদ হোসেন আজাদ, শামীম আহমেদ হান্নান, জাতীয় পার্টি নেতা খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন,খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর চোকদার, মুরাদ মিয়া, ডা. আলাউদ্দিন আল আজাদ, আব্দুল আলীম, ইয়াকুব মাতবর, আফজাল শিকদার, কফিল মেম্বার, আব্দুল গফুর, একেএম আব্দুল হালিম, এমএ মজিদ, লোকমান হোসেন,আব্দুল মতিন, তাজুল ইসলাম, হাজী মনির, যুসংহতির নেতা এসএম মোস্তারীম মিথুন, বোরহান হোসেন, কিরণ খান, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির নেতা মো. সেলিম, ফয়সাল হোসেন, ছাত্র সমাজের রাজিব খান, জুবায়ের হোসেন, খলিল দেওয়ান, পনির মন্ডল, মনির হোসেন প্রমুখ।

টি.কে.এম উচ্চবিদ্যালয়ের গভনিংবডির সভাপতি নাসির উদ্দিন আহামেদ ঝিলু

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শিকারীপাড়া টি.কে.এম উচ্চবিদ্যালয়ের গভনিংবডির ২য় বারের মত সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন নাসির উদ্দিন আহমেদ (ঝিলু)। তিনি ক্ষমতাসীনদল উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি।

আজ ১৩ই সেপ্টেম্বর বুধবার বিদ্যালয়ের সভাকক্ষে প্রিজাইডিং অফিসার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফারুক আহামেদের নেত্রীত্বে ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেনের উপস্থিতিতে স্বচ্ছ রঙ্গিন ব্যালট পেপার ও  ৭ জন গভনিংবডির সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এরা হলেন এ.কে বুলবুল খান, হারুনর রশিদ, সালমা আক্তার, মো. জসীম উদ্দিন, মো. রফিকুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন খান, ও সন্তুস বসাক। উল্লেখ্য মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সদস্যদের কোনো প্রতিদ্বন্ধী না থাকায় তারা বিনা প্রতিদ্বন্ধীতায় বিজয়ী হয়। কিন্তু প্রাথমিক শাখায় প্রতিদ্বন্ধী থাকায় সদস্যরা ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন।

গভনিংবডির সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু বিডি মনিংকে বলেন, আমি গতবার সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার ফলে বিদ্যালয়ের অনেক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও আমাকে নির্বাচিত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন বিদ্যালয়ের কোনো নিয়ম শৃঙ্খলা ছিলো না। আমি সেটা ফিরিয়ে এনেছি। বিশেষ করে বিদ্যালয়ে শিক্ষারমান আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। সভাপতি অরো বলেন বিদ্যালয়টিরতে একটি ভবনের অভাব ছিলো ইতিমধ্যেই সে অভাব দূর হতে যাচ্ছে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ভবনের টেন্ডার হবে।

নবাবগঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় ইউপি সদস্য গ্রেফতার

নবাবগঞ্জ উপজেলায় জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য রাশেদ সম্রাট (৪৫) নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় গ্রেফতার হয়েছে। রোববার রাতে উপজেলার ঘোষাইল গ্রামে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। রাশেদ সম্রাট  ঐ গ্রামের মৃত রকমানের ছেলে বলে জানা গেছে।

নবাবগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিন্নাৎ আলী জানায়, জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য রাশেদ সম্রাটকে গত রোবার রাতে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার  করা হয়। তার বিরুদ্ধে  নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা রয়েছে। মঙ্গলবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

উল্লেখ্য, গত ৭ মে সকালে উপজেলার তিতপালদিয়া গ্রামের পপি আক্তার (১৫) কে স্থানীয় জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ১,২,৩ নং সদস্য রওশনারা বেগম বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। এরপর তাকে খোঁজে পাওয়া যায়না। পরে ঐ দিনই  ইউনিয়নের ৩নং ও ৬সং ওয়ার্ডের মেম্বার  রাশেদ স¤্রাট ৬নং  ও মকবুল ৩নং পপির বাবা হান্নান শেখকে মোবাইল ফোনে জানায় পপিকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে পেতে হলে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে বলে দাবি করেন। বিষয়টি জানাজানি করলে পপিকে জীবিত পাওয়া যাবেনা বলেও হুমকী দেয় তারা।

পরে এঘটনায় ২২ মে ঐ তিন মেম্বারের বিরদ্ধে আদালতে অপহরনের মামলা করে পপির বাবা হান্নান শেখ। ২৭ মে নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরির্দশক আশরাফুল আলম তালুকদার তাদের মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে ঢাকার আশুলিয়া থেকে পপিকে উদ্ধার করতে পারলেও আসামীদের গ্রেফতার করতে পারেনি।

দোহার-নবাবগঞ্জে দুই শতাধিক মণ্ডপ

ঘরে ঘরে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। আর কিছুদিন পর শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচাইতে বড় ধর্মীয় উত্সব দুর্গাপূজা। দেবী দুর্গাকে স্বাগত জানাতে মূর্তি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃত্ শিল্পীরা। সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে তাদের ব্যস্ততা। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠী পূজা। মণ্ডপ থেকে মণ্ডপে বেজে ওঠবে ঢাকঢোল আর কাঁসার শব্দ। পাঁচ দিনের উত্সবের পর ৩০ সেপ্টেম্বর প্রতিমা বিসর্জনের পর ঘটবে এর সমাপ্তি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে মহালয়ার দিন থেকে দেবীর আগমনী উত্সব শুরু হয়। আর এবারের মহালয়া ১৯ সেপ্টেম্বর।

বুধবার সরেজমিনে দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, কাদা-মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিল তিল করে গড়ে তোলা হয়েছে দেবী দুর্গার প্রতিমা। নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের ছোট গোবিন্দপুর ইয়ুথ ক্লাবের মাঠের দুর্গা মণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, মাটির কাঠামো নির্মাণের মূল কাজ ইতিমধ্যেই শেষ করেছেন শিল্পীরা। এখন বাকি রং তুলির ছোঁয়ায় প্রতিমার সৌন্দর্যবর্ধনের মূল কাজ। তবে মৃত্ শিল্পীরা জানান, বৃষ্টি এবং মেঘলা আবহাওয়ার জন্য প্রতিমা শুকাতে না পেরে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তারা। তারা বলেন, আবহাওয়ার উন্নতি না হলে তা আমাদের জন্য অনেক বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা পূজা উত্যাপন পরিষদের সভাপতি নিতাই চাঁদ তালুকদার বলেন, নবাবগঞ্জ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে এ বছর ১৬৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, উপজেলা পূজা উত্যাপন পরিষদের পক্ষ থেকে সকল মণ্ডপে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

দোহার উপজেলা পূজা উত্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমিতাপ পাল অপু বলেন, এবছর আমাদের এই উপজেলায় ৩৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। আমাদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে দুর্গা মণ্ডপগুলোতে।

নবাবগঞ্জ থানার ওসি মোস্তফা কামাল বলেন, ইতোমধ্যে শান্তি শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে বসানো হবে সিসি ক্যামেরা ও হ্যাজাক লাইট। এছাড়াও তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সাদা পোশাকের পুলিশ এবং গোয়েন্দা বাহিনীও মাঠে কাজ করবে। এছাড়াও যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে থানা পুলিশের পাশাপাশি থাকবে আনসার ও গ্রাম পুলিশ সেচ্ছাসেবী সদস্য।