রোহিঙ্গা নারীদের বিভীষিকাময় বর্ণনা, এ কেমন বর্বরতা?

0

বালুখালির অস্থায়ী শরণার্থী ক্যাম্প। বাঁশ আর ত্রিপলে তৈরি আশ্রয়স্থানের ভেতর প্লাস্টিকের ম্যাটের ওপর বসে আয়েশা বেগম। বয়স ২০। নিবিড় স্নেহে কোলে আগলে রেখেছেন এক বছর বয়সী ছেলেকে। একটু পরপর ছেলের মুখে ফু দিচ্ছেন। অসহনীয় গরমে ছেলেকে কিছুটা স্বস্তি দেয়ার চেষ্টা। কয়েকদিন আগে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা এই শরণার্থী বলছিলেন, ‘১৩ দিন আগে ধর্ষণের শিকার হয়েছি।’ আয়েশার বাড়ি ছিল মিয়ানমারের বুথিদাউং শহরের তামি গ্রামে। পাশবিকতার বিভীষিকাময় বর্ণনা দিলেন আয়েশা।
পরিবারের অপর চার নারী সদস্যের সঙ্গে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। এমন সময় তাদের গ্রামে হামলা চালায় সেনারা। তাদের ঘরে ঢুকে নারীদের একটি ঘরের মধ্যে যেতে বাধ্য করে। আয়েশার শিশু সন্তানকে তার কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে তাকে ‘ফুটবলের মতো’ লাথি মারে। সেনারা নারীদের বিবস্ত্র করে ফেলে। এক সেনা তার গলায় ছুরি রেখে তাকে ধর্ষণ করা শুরু করে। বারো জন সেনা পালাক্রমে প্রত্যেক নারীর ওপর ধর্ষণযজ্ঞ চালায়। আয়েশার ধারণা কয়েক ঘণ্টা চলেছে ওই বিভীষিকা।
আয়েশা বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। ভয় হচ্ছিল, আমার ছেলে মনে হয় মারা গেছে।’ এ কথা বলতে গিয়ে ছেলের মাথায় মমতামাখা হাত বুলালেন আয়েশ। তিনি যখন ওই রাতের বর্ণনা দিচ্ছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন তার মা, ভাই, বোন ও স্বামী। বাংলাদেশে হেঁটে আসতে আট দিন সময় লেগেছে তাদের।
আয়েশার সঙ্গে ধর্ষণের শিকার হওয়া পরিবারের অপর দুই নারী রাস্তায় মারা যান। আয়েশা বলেন, ‘ওরা এতো দূর্বল ছিল যে মারাই গেল।’
এক মাসের বেশি সময় ধরে রাখাইনে নাগরিকত্ব প্রত্যাখ্যাত রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্মম সামরিক অভিযান চালাচ্ছে মিয়ানমার আর্মি। ২৫শে আগস্ট নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সশস্ত্র একটি গোষ্ঠীর হামলার জবাবে এই অভিযান শুরু করেছে বার্মিজ সামরিক বাহিনী। সেই ৭০ এর দশক থেকে কয়েক বার এ ধরণের নির্যাতন চালিয়েছে মিয়ানমার আর্মি। প্রতিবারই রোহিঙ্গারা ধর্ষণ, নিপীড়ন, অগ্নিসংযোগ আর হত্যার অভিযোগ করেছে। জাতিসংঘ সাম্প্রতিক এই সামরিক অভিযানকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ আখ্যা দিয়েছে। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমার থেকে ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে ২৫শে আগস্ট থেকে।
এসব শরণার্থীদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। বহু নারী ও মেয়ের ওপর ধর্ষণ আর যৌন নির্যাতন চালিয়েছে মিয়ানমারের সেনারা।
প্রাণে বেঁচে আসা আর প্রত্যক্ষদর্শী শরণার্থীদের মুখে ধর্ষণযজ্ঞের যে বর্ণনা উঠে এসেছে তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। নারী আর মেয়েদের ধর্ষণ করে বাড়ির ভেতর তালাবদ্ধ করে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে।
তামি গ্রাম থেকে আসা ২০ বছর বয়সী আরেক রোহিঙ্গা শরণার্থী মোহসিনা বেগম। তিনি বলেন, ‘সেনারা আমাদের বাড়িতে ঢুকে আমার বোনকে নিয়ে যায়। সে অনেক সুন্দরী ছিল। তাকে যৌন হয়রানী করতে থাকে সেনারা। ধর্ষণের চেষ্টা করে। গ্রামের চেয়ারম্যান বাধা দিলে ক্ষান্ত হয় সেনারা।’ মোহসিনা ও তার পরিবার যখন পালাচ্ছিলেন তখন দেখতে পান ১৯ বছর বয়সী ওই বোনের মরদেহ পড়ে আছে। কিন্তু তাকে দাফন করার জন্য সময়ক্ষেপণের সুযোগ ছিল না তাদের হাতে।
আরেক শরণার্থী রাজুমা বেগম (২০) তুলাতলী গ্রামে হত্যাযজ্ঞ থেকে বেঁচে যান ৩০শে আগস্ট। সেখানে যা ঘটেছে তা বার্মিজ সেনাদের বর্বরতম নির্যাতনের নজির বলে অভিহিত করা হচ্ছে। গ্রামবাসীদের নদীর ধারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পুরুষদের নারী ও শিশুদের থেকে আলাদা করে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নির্যাতন করা হয় বেয়নেট দিয়ে।
রাজুমা তার ছেলেকে কোলে আকড়ে ধরে রেখেছিলেন। চার-পাঁচজন সেনা পাঁচ-সাত জন করে নারীদের দফায় দফায় নিয়ে যাওয়া শুরু করে।
বলেন, ‘তারা আমাকে ও আরো চার নারীকে একটি বাড়ির মধ্যে নিয়ে যায়। আমার কোল থেকে ছেলেকে ছিনিয়ে নিয়ে মাটিতে ছুড়ে ফেলে। এরপর তার গলা কেটে ফেলে।’ এ পর্যন্ত বলে করুণ সুরে বিলাপ করে করে ওঠেন রাজুমা। কাঁদতে কাঁদতে নিজেকে সামলিয়ে নেয়ার ব্যর্থ চেষ্টার মাঝে বলতে থাকেন- ‘কারো মুখে মা ডাক শোনার জন্য আমি তড়পাচ্ছি। ১০ বছরের এক ছোট ভাই ছিল আমার। আমি ওর কাছে ক্ষমা চাই যে তাকেও সেনারা নিয়ে গেছে আর আমি তাকে বাঁচাতে পারিনি।’
রাজুমাকে যে ঘরে রাখা হয়েছিল সেখানে তার সঙ্গে আরো তিন মা ছিলেন। আর ছিলেন ৫০ বছরের এক বৃদ্ধা এবং এক তরুণী। সেনারা ওই বৃদ্ধাকে বাদে বাকি সবাইকে ধর্ষণ করে। রাজুমাকে দুইজন ধর্ষণ করে। রাজুমার কাছে মনে হয়েছে কমপক্ষে দুই তিন ঘণ্টা ধরে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চলেছে।
এরপর নারীদের লাঠি দিয়ে মারতে থাকে সেনারা। তাদের চোখে কয়েকবার টর্চের আলো দিয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করে মারা গেছে কিনা। পরে তাদের বাড়ির ভেতর তালাবদ্ধ রেখে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনের তাপে জ্ঞান ফেরে রাজুমার। বাঁশের দেয়াল ভেঙে বাইরে এসে পালাতে সক্ষম হয় সে। একটি পাহাড়ে একদিন লুকিয়ে থাকে রাজুমা। পরে পাহাড়ের অপর দিক দিয়ে বের হয়ে তার গ্রামের আরো তিন নারী ও একজন অনাথের সঙ্গে দেখা হয় তার।
পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের রেখে যাওয়া কাপড় পরে সম্ভ্রম ঢাকে বিবস্ত্র রাজুমা। সীমান্ত পেরুনোর পর এক বাংলাদেশি তাকে কুতুপালংয়ে পৌঁছাতে সাহায্য করে। সেখানে এক ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয় তাকে। বাংলাদেশে এসে স্বামী মোহাম্মদ রফিকের (২০) সঙ্গে পুনর্মিলন হয় তার। তুলাতলীতে হত্যাযজ্ঞ শুরু হওয়ার আগে নদী সাতরে পালাতে সক্ষম হন রফিক।
রাজুমা বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে। আমি, আমার ভাই আর আমার স্বামী এখানে আছি। আমি পুরো বিশ্বকে এই ঘটনা জানাতে চাই যেন তারা কিছুটা শান্তি আনতে পারে। সেনারা আমার পরিবারের সাত জনকে মেরে ফেলেছে। আমার মা, সুফিয়া খাতুন (৫০), রোকেয়া বেগম ও রুবিনা বেগম যাদের একজনের বয়স ১৮, আরেকজনের ১৫, আমার দুই বোনকেই সেনারা নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করার পর হত্যা করেছে। মুসা আলি আমার ভাই, ১০ বছর বয়স। আমার ধারণা সেও মারা গেছে। আমার নিকটাত্মীয় খালিদার বয়স ২৫ আর তার ছেলে রুজুক আলি যে মাত্র আড়াই বছরের আর আমার ছেলে মোহাম্মদ সাদিক যার বয়স ছিল এক বছর চার মাস।’
রাজুমা বলেন, ‘আমাদের গল্প মানুষের জানাটা গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গা হওয়ার কারণে আমাদের সঙ্গে যা ঘটেছে সেটা।’
ওদিকে, বালুখালি ক্যাম্পে আয়েশা বলছিলেন, বাংলাদেশে আসার তিনদিন পর স্বামী আসাদুল্লাহকে খুঁজে পেয়েছেন তিনি।
আসাদুল্লাহ বললেন, তার ভেতরে এখন শুধুই ক্ষোভ। তার ভাষায়, ‘আমি ভেতরে ভেতরে খুব বাজে অনুভূতি নিয়ে চলছি। আমি তাদের কিছু করতে পারবো না। এ কারণে আমার স্ত্রীর সঙ্গে যা ঘটেছে তা নিয়ে আমার কোন অভিযোগ নেই। আমি তাকে ভালোবাসি।’
তীক্ষè চাহুনি দিয়ে আয়েশা বললেন, ‘আমরা বিচার চাই। আমি চাই বিশ্বের সবাই জানুক- আমরা ন্যায়বিচার চাই।’ বাঁশ আর প্লাস্টিক শিটের দেয়ালের ওপার থেকে আরেক নারী চিৎকার করে বললেন, ‘আমরা বিচার চাই।’

[কক্সবাজার থেকে আল জাজিরা ইংলিশ অনলাইনের প্রযোজক ও সাংবাদিক অ্যানেট একিনের সরজমিন প্রতিবেদন ‘রোহিঙ্গা রিফিউজিস শেয়ার স্টোরিজ অব সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স’ অবলম্বনে] mzamin

দোহারে ফেসবুকে কোরআন অবমাননা: যুবক আটক

ঢাকার দোহার উপজেলায় মুসলিমদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরিফ সম্পর্কে আপত্তিকর শব্দ ও গালিগালাজ করার অভিযোগে এক যুবক কে গ্রেফতার করেছে দোহার থানা পুলিশ। তার নাম শুভ্রত মোদক। সে দোহার উপজেলার বৌ-বাজার এলাকার ও জয়পাড়া বাজারের ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী শম্ভু মোদকের ছেলে।

জানা যায়, শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মনির খান নামক এক ব্যাক্তির পোস্টে সে কোরআন কে অশ্লীল গালিগালাজ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী ও এলাকাবাসী। শনিবার রাতে তার বাড়ীর সামনে উত্তেজিত জন-সাধারণ জড়ো হতে থাকে তার বিচারের দাবীতে।   খবর পেয়ে দোহার থানা পুলিশ রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ঘটনাস্থলে এসে যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এদিকে কোরআন অবমাননার প্রতিবাদে রোববার সকাল ১০.৩০ টায় জয়পাড়া  কলেজের সামনে কিছু বিক্ষুব্ধ জনতা জড়ো হলে পুলিশ তাদেরকে সরে যেতে বলে । এ সময় তারা উত্তেজিত জনতাকে তার গ্রেফতারের খবর জানিয়ে মানববন্ধন করতে অনুমতি দেয়নি।

এই ব্যাপারে দোহার থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে শুভ্রত মোদক নামে এক যুবকে আটক করা হয়েছে। প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করে আদালতে পাঠানো হইয়েছে।

 

দোহারে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক

0

দোহার উপজেলার মুকসদপুর ইউনিয়নের দুবলী গ্রাম থাকে ৯৫ পিচ ইয়াবাসহ  সাইফুল (২৫) এবং সুমন (২২) নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে শাইনপুকুর তদন্ত কেদ্রের পুলিশ।

আটককৃত সাইফুল উপজেলার মুকসদপুর ইউনিয়নের দুবলী গ্রামের তোফাজ্জল মিয়ার ছেলে এবং সুমন একই গ্রামের জাফর মিয়ার ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত ৮ টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাইনপুকুর তদন্ত কেদ্রের ইনচার্জ সাইফুল ইসলামের নেত্বতে একদল পুলিশ দুবলী এলাকা থেকে তাদেরকে ইয়াবাসহ আটক করে দোহার থানায় নিয়ে আসে।

এ ব্যাপারে শাইনপুকুর তদন্ত কেদ্রের ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদেরকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়, আজ সকালে মাদক দ্রব্য আইনে মামলায় তাদেরকে কোর্টে পাঠানো হয়েছে।

গুগল অ্যাডসেন্সে যুক্ত হলো বাংলা ভাষা

0

জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগলের অ্যাড নেটওয়ার্ক ‌‘গুগল অ্যাডসেন্স’। এবার এই অ্যাডসেন্সে যুক্ত হলো ‘বাংলা ভাষা’।  মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে গুগল তাদের নেটওয়ার্কে বাংলা ভাষা যুক্ত করেছে বলে গুগল ব্লগ সূত্রে জানা গেছে।

২০০৩ সালে চালু হওয়া ‘গুগল অ্যাডসেন্স’ এর শুরু থেকেই বিজ্ঞাপন সুবিধা থেকে পিছিয়ে ছিল বাংলা ভাষার ওয়েবসাইটগুলো। এই অ্যাডসেন্স চালুর ফলে অনেক লাভবান হবে বাংলাদেশ।

গুগল ব্লগে অ্যাডসেন্স টিমের ওই পোস্টে বলা হয়েছে, ‌‘আমরা অত্যন্ত আনেন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, বাংলাদেশ, ভারতসহ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের বাংলা ভাষাকে অ্যাডসেন্স পরিবারের সঙ্গে যুক্ত করা হলো। গত কয়েক বছরে বাংলা কনটেন্টের প্রতি মানুষের আগ্রহ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। অ্যাডসেন্স সহজ উপায়ে কনটেন্ট থেকে নগদ অর্থ উপার্জনে প্রকাশকদের একটি মাধ্যম। ক্রমবর্ধমান বাংলা ভাষার পাঠকদের কাছে বিজ্ঞাপন সহজে পৌঁছানোর জন্য বিজ্ঞাপনদাতাদের সহায়তা করবে।’

বাংলা ভাষার যেকোনো ওয়েবসাইট অ্যাডসেন্সে যুক্ত করার জন্য গুগল অ্যাডসেন্সের অ্যাকাউন্ট করে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। আবেদনের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গুগল অ্যাডসেন্স কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের অনুমতি দেবে।

নবাবগঞ্জে দিনমজুরকে হত্যার দায় স্বীকার

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় দিনমজুর আফজালকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন মিজান। গত শনিবার ঢাকার একটি আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। নবাবগঞ্জ থানার এসআই মহিরউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এসআই মহিরউদ্দিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার থেকে মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শনিবার বিকালে ঢাকার একটি আদালতে হাজির করা হয় তাকে। সেখানে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি। জবানবন্দি শেষে আদালত মিজানকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

সব ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে দুর্গোৎসব পালন করুন: সালমা ইসলাম  

সব ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করুন। আমি এবং প্রশাসন আপনাদের পাশে আছি। যে কোনো পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে সনাতন ধর্মের সবচেয়ে বৃহৎ এ উৎসব পালন হোক- এটাই প্রত্যাশা করি। শনিবার দুপুরে ঢাকার দোহারে উপজেলা মিলনায়তনে দুর্গা মন্দিরে সরকারি ও ব্যক্তিগত অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও দোহার-নবাবগঞ্জের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এ কথা বলেন।

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেন, বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। এখানে জাতিগত কোনো সহিংসতা নেই। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার এ নীতিতে অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনার ভিত্তিতে সবাই বসবাস করছি। নিরাপত্তার সঙ্গে পূজা সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যাতে সার্বক্ষণিক আপনাদের পাশে থাকে সে ব্যবস্থা করা হবে। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নয়, আনন্দঘন পরিবেশে সবাই মিলে উৎসব পালন করুন।

তিনি আরও বলেন, দোহার-নবাবগঞ্জবাসী আজ অনেক শান্তিতে বসবাস করছেন। কোনো হানাহানি, দখল, চাঁদাবাজি নেই। বিগত দিনে অনেকেই এটা করেছেন। আপনাদের সুখে আমি সুখী। যে কোনো প্রয়োজনে আমাকে ডাকলেই পাবেন।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্গোৎসব সুষ্ঠুভাবে পালনে আপনাদের পাশে থেকে প্রতিবছরই সহায়তা করছেন। দেশে আজ রোহিঙ্গা সংকট যেভাবে সৃষ্টি হয়েছে সেটাও তিনি মোকাবেলা করতে বিশ্ব নেতাদের কাছে প্রশংসিত হয়েছেন। লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে খাবার ও স্বাস্থ্য রক্ষায় তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন।

সালমা ইসলাম এমপি অনুষ্ঠানে দোহারের ৩৪টি পূজামণ্ডপের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের হাতে সরকারিভাবে অর্ধটন চাল ও ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নগদ ৩ হাজার করে টাকা অনুদান দেন।

অনুষ্ঠানে দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইমরুল হাসানের সভাপতিত্বে উপস্থিত চিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ মিয়া, ওসি সিরাজুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা সুরুজ আলম, উপজেলা পূজা কমিটির সভাপতি মিহির কান্তি দে, ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন, আমজাদ হোসেন আজাদ।

দোহার-নবাবগঞ্জে এবার ২১২টি পূজা মণ্ডপ

হিন্দু সমপ্রদায়ের সব চাইতে বড় ধর্মীয় উত্সব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার ২১২টি মণ্ডপে পূজার প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে দোহার থানার ৭টি ইউনিয়নে ৩৪টি এবং নবাবগঞ্জ থানার ১৪টি ইউনিয়নের ১৭৮টি মণ্ডপে পূজার প্রস্তুতি ব্যাপকভাবে চলছে।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শাহ্ মিজান শাফিউর রহমান বলেন, দোহার-নবাবগঞ্জসহ ঢাকা জেলার সব কয়টি মণ্ডপের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি একাধিক টিম মাঠে কাজ করবো। আশা করছি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবার পূজা উদ্যাপিত হবে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার সরকার বলেন, এ বছরও মা দুর্গাকে বরণ করতে আমাদের আয়োজনের কোনো কমতি থাকবে না। ইতোমধ্যে আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি। তিনি আরো বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের জন্য আমরা প্রতিটি পূজা মণ্ডপের জন্য একটি শান্তি রক্ষা কমিটি করেছি। তাদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উপজেলা ছাত্র-যুব-ঐক্য পরিষদের সভাপতি অনুপম দত্ত নিপু বলেন, নবাবগঞ্জের ১৪টি ইউনিয়নে আমাদের ছাত্র-যুব-ঐক্য পরিষদের কমিটি রয়েছে। আমরা নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সর্বক্ষণ মায়ের মন্দিরে কাজ করে যাবো, সেই সাথে মন্দিরে আগত ভক্তদের আপ্যায়ন করবো।

শিশুকিশোরদের জন্য বই ডাউনলোড করুন বিনামূল্যে

0

একালে শিশুরা কথা বলা শেখার আগে হাতে উঠে যায় মোবাইল সেট, বাবা-মা গর্বিত হয়ে বলেন “আমার বাচ্চা মোবাইল চালাতে জানে।“ অসময়ে কোনো কিছুই ঠিক নয়, তবে বাচ্চারা যখন একটু বড় হয়ে উঠে, পড়তে শিখে তখন পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি গল্প, ছড়া, জ্ঞান-বিজ্ঞানের বইও তুলে দিতে হবে, নয়তো শিশু আগামী পৃথিবীর জন্য পরিপক্ক হয়ে উঠবে না।

টাকা খরচ না করে বিনামূল্যে বই পাওয়ার উপায় আছে, এবং তা মোবাইলে করে যেখানে সেখানে নিয়েও যাওয়া যায়- একে বলে ই-বুক। কিন্তু এই ই-বুক সংগ্রহ করবেন কোথায় থেকে। শিশুকিশোর.অর্গ দিচ্ছে বিনামূল্যে ই-বুক পাওয়ার সুবিধা। ইপাব, মোবি, পিডিএফ, এই তিন ফরম্যাটে ডাউনলোড করা যাবে। ওয়েব সাইটের ঠিকানা: www.books.shishukishor.org

হাতের কাছে ইন্টারনেট সংযোগ আছে এমন যে কোন মোবাইল, ট্যাবলেট কিংবা কম্পিউটার দিয়ে শিশু-কিশোর.অর্গ থেকে বই ডাউনলোড করা যাবে।

তবে শিশুকিশোরদের বাইরে আরও বড়দের জন্যেও কিছু বই আছে। এছাড়া এন্ড্রয়েড এ্যাপস ডাউনলোড করে বই পড়তে পারবেন। এ্যাপস ডাউনলোডে করতে এখানে ক্লিক করুন

নবাবগঞ্জে গ্রামবাসীর উদ্যোগে মাদক বিরোধী সভা

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বাগমারা, জালালপুর, বৈকন্ঠপুর ও আমীরপুর এলাকাবাসীর উদ্যোগে পৃথক দুটি মাদক বিরোধী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় জালালপুর গ্রামে ও সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় আমীর গ্রামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কলাকোপা ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহীম খলিল এতে সভাপতিত্ব করেন।

গ্রাম থেকে মাদক ব্যবসা নির্মূল করাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য বলে জানান এলাকাবাসী। সভায় বাগমারা, জালালপুর, বৈকন্ঠপুর ও আমীরপুর এলাকার শতাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তব্য রাখেন, নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তফা কামাল, স্থানীয় বাসিন্দা ও জাতীয়পার্টির ঢাকা জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ, নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ সালাহ্উদ্দিন বাচ্চু, বাগমারা বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান সেন্টু, সমাজকর্মী কেরামত মাদবর, আওয়ামীলীগ নেতা মাসুদ আলম প্রমূখ।

সভায় ওসি মোস্তফা কামাল এলাকার মাদক ব্যবসা নির্মূলে এলাকাবাসীর সহযোগীতা চান। একই সাথে পুলিশের খাতায় থাকা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের নাম উল্লেখ করে বলেন, চিহ্নিত মাদক কারবারীদের এলাকায় দেখা মাত্র আমাদের জানান।

সেলফি তুলতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় প্রান গেল নবাবগঞ্জের সাদিকুলের

 ২২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড রেলক্রসিং এলাকায় মোবাইল ফোনে ‘সেলফি তুলতে গিয়ে’ ট্রেনের ধাক্কায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। পকেটে থাকা ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই যুবকের নাম মো. সাদিকুল ইসলাম। তিনি ঢাকার নবাবগঞ্জের সমসাবাদ গ্রামের সুরুজ মিঞার ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে কমলাপুরগামী একটি ট্রেনের ধাক্কায় কয়েক ফুট দূরে ছিটকে পড়েন সাদিকুল। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত নুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, “ট্রেন আসার সময় রেল লাইনের উপরে দাঁড়িয়ে মোবাইলে সেলফি তুলছিল ছেলেটা। একটা ট্রেন তখন বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিল, আরেকটা যাচ্ছিল কমলাপুরের দিকে। ট্রেনের ড্রাইভার অনেক হুইসেল দিছে। আমরাও এখান থেকে চিল্লাইছি। কিন্তু সে শোনেনি।”

ওই সময় তার কানে হেডফোন লাগানো ছিল জানিয়ে আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, সাদিকুলের সঙ্গে থাকা দুটি ফোন থেকে তার পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন তারা।

ঢাকা জিআরপি থানার ওসি মো. ইয়াসিন বলেন, ট্রেনের ধাক্কায় এক যুবকের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছেন তারা।

পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।