শিক্ষা বোর্ডেকে বৃদ্ধাংগুলিঃ দোহারে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় হচ্ছে দ্বিগুন টাকা

দোহারের বিভিন্ন স্কুল কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০১৮ সালের ভর্তির সেশন ফি নামে আদায় করা হচ্ছে দ্বিগুন টাকা। নবম শ্রেণি থেকে উত্তীর্ণ হয়ে দশম শ্রেণিতে জানুয়ারী মাসে ভর্তি হলেও নতুন করে আবার আদায় করা হচ্ছে ভর্তির টাকা ও সেশন ফি। ফলে একই শ্রেণিতে দুইবার ভর্তি হতে হচ্ছে দোহার-নবাবগঞ্জের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। স্কুলগুলোতে জোর করে আদায় করা হচ্ছে এই টাকা। ফলে একই দিকে শিক্ষার্থীরা যেমন অতিরিক্ত টাকা দিচ্ছে এবং হয়রানী হচ্ছে ঠিক একইভাবে অভিভাবকদের উপরে পড়ছে নতুন অর্থনৈতিক চাপ।

সরজমিনে দেখা যায়, দোহারের প্রায় প্রতিটি স্কুল সম্মেলিত ভাবে আদায় করছে এই অনৈতিক টাকা। দশম  শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী জানুয়ারী মাসেই সেশন ফি ক্লিয়ার করে প্রথম সাময়িক ও প্রাক নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করছে। সেই শিক্ষার্থীকেই আবার নির্বাচনী পরীক্ষার সময় নতুন করে সেশন ফি পরিশোধ করা হচ্ছে। স্কুল কতৃপক্ষ বলছে তারা এই সেশন ফি ২০১৮ সালের জন্য গ্রহন করছে যদিও দশম শ্রেনীর  টেস্ট অর্থাৎ নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কোন শিক্ষার্থী ২০১৮ সালে আর কোন ক্লাস করবে না। তারপরও এক প্রকার জোর করে এই সব শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে এই সেশন ফি। আর  এই ফির কোন রশিদ দিচ্ছে না কোন স্কুল।

এদিকে বোর্ড নীতিমালা অনুযায়ী নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী শুধুমাত্র ফরম ফিলাপের জন্য ১২৩৫ টাকা ব্যবহারিক ব্যয় বাবদ জমা দিবে। আর স্কুল কতৃপক্ষ যদি কোন শিক্ষার্থী চায়, তবে তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ কোচিং ক্লাশ দিবে প্রতি বিষয় ১০০টাকার বিনিময়ে। আর যদি নিয়মিত কোন ক্লাশ হয় সেক্ষেত্রে শুধু ১০০ টাকা জানুয়ারি মাসের জন্য টিউশন ফি নিতে পারবে।

এক্ষেত্রে স্কুলগুলো কৌশল করে সেশন ফি নামক একটি ফি নিচ্ছে ২০১৮ সালের জন্য। একই সাথে সারা বছরের বেতন-তো নেয়া হচ্ছেই। এরপর নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের কাছ থেকে আবার নেয়া হবে ফরম ফিলাপ ফি। কোন কোন স্কুল কোচিং ফি, মার্কশীট, সার্টিফিকেট ও প্রসংসা ফি ও এসবের সাথে নেয়া হয়।

আর যারা নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে না তাদেরকেও নতুন করে সেশন ফি দিতে হবে না। অথচ তাদের কাছ থেকেও আবার টাকা নেয়া হলো। এই নৈরাজ্য দীর্ঘদিন হয়ে এলেও তা প্রতিরোধ হয়নি।

এই বেপারে সরজমিনে নারিশা গার্লস স্কুল পরিদর্শনে গেলে এর সত্যতা পাওয়া যায়। স্কুল কতৃপক্ষ সব শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করলেও তার বিপরিতে কোন রশিদ দেয় নি শিক্ষার্থীদের।

এই ব্যাপারে নারিশা গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি সংবাদ মাধ্যমের সাথে কোন কথা বলতে চান নি।

এই ব্যাপারে মধুরখোলা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক এস এম খালেক নিউজ৩৯ এর সাথে কথা বলেন, তিনি নিউজ৩৯কে বলেন, তারা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দুইবার করে কোন ভর্তি ফি নিচ্ছেন না। এবং ২০১৮ সালের কোন সেশন ফিও গ্রহন করছে না। তিনি আরও বলেন তারা রশিদ ছাড়া কোন লেনদেনও করেন না।

এই ব্যাপারে নারিশা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিম খান নিউজ৩৯এর সাথে এই ব্যাপারে কোন কথা বলতে চান নি। স্কুলের ফির নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ব্যাপারেও কোন কথা বলতে চান নি।

দোহারে শিক্ষার্থীদের মাঝে এই অতিরিক্ত ফি আদায়ের নামে হরিলুট চললেও জয়পাড়া পাইলট হাই স্কুল ও বেগম আয়েশা গার্লস স্কুল সরকার নির্ধারিত ফিই আদায় করছে বলে জানা যায়।

দোহারে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি আদায়ের নামে এই নৈরাজ্য নিয়ে নিউজ৩৯ কথা বলে দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের সাথে। তিনি নিউজ৩৯কে বলেন, আমি এখন ঢাকা আছি, দোহারে এসে আমি ইউএনও ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নিব।

এ ব্যাপারে দোহার উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা কে এম আল-আমিন কে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি। ফোনে রিং হলেও তিনি ধরেননি।

ইতঃমধ্যে ব্যাপারটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয়ে উঠেছে।

 

রাস্তার মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি, বিড়ম্বনায় পথচারীরা

ঢাকার দোহার উপজেলার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জয়পাড়া বাজার। স্কুল, কলেজ, উপজেলা, থানা, হাসপাতাল, ক্লিনিক, বাজার, মসজিদ, মন্দির, ব্যাংক-বীমা কোম্পাানির অফিস, শপিংমল, রেস্টুরেন্ট থেকে শুরু করে সকল রকম বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে এখানে। প্রায় ৩০টি ব্যাংকের শাখা রয়েছে এখানে। তাই প্রতিদিনই নানা প্রয়োজনীয় কাজে দোহারের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসেন জয়পাড়ায়। সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে সাত দিনই ব্যস্ত থাকে জয়পাড়া। ব্যস্ততম এই জয়পাড়ায় রাস্তার মাঝখানে রয়েছে পল্লীবিদুতের খুঁটি।

সম্প্রতি জয়পাড়াকে ঘিরে চারপাশে ড্রেনসহ রাস্তা নির্মাণ করেছে দোহার পৌরসভা। রাস্তা নির্মাণকাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হলেও রয়ে গেছে এক কিলোমিটার রাস্তার সীমানায় ওপর বিছিন্নভাবে পল্লীবিদ্যুতের ২০টি খুঁটি। জয়পাড়া থানার মোড় থেকে লটাখোলা কমর আলীর মোড় হয়ে জয়পাড়া বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় খুঁটিগুলো রাস্তার ওপর ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। রাস্তার ওপর এসব খুঁটি অপসারণ না করায় চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে পথচারীদের।

পথচারী টিপু প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, রাস্তার মাঝখানে পল্লীবিদুতের এসব খুঁটির কারণে আমাদের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। আশা করছি অতিদ্রুত কর্তৃপক্ষ এসব অপরাসণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা পল্লীবিদুৎ সমিতি-২ এর প্রকৌশলী কামাল হোসেন নিউজ৩৯কে বলেন, ‘এর আগে দোহার পৌরসভা কিছু টাকা দিয়েছিল তা দিয়ে কিছু খুঁটি অপসারণ করা হয়েছে। পৌরসভা থেকে আবারো আবেদন করে টাকা দেওয়া হলে বাকি কাজ করা হবে।’

এ বিষয়ে দোহার পৌরসভার মেয়র আব্দুর রহীম মিয়া নিউজ৩৯কে বলেন, ‘পর্যাযক্রমে রাস্তার মাঝখানে পল্লীবিদ্যুতের সব খুঁটি অপসারণ করা হবে।’

দোহারে চলছে ছাত্রলীগের সাংগাঠনিক প্রস্তুতি সভা

আসন্ন ২৮ অক্টোবর ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দোহারে চলছে দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের প্রস্তুতি সভা। দোহার থানা ছাএলীগের সাধারন সম্পাদক রাজীব শরীফের নেতৃত্বে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও কলেজে চলছে প্রস্তুতি ও মতবিনিময় সভা।

বৃহস্পতিবার দোহারের রাইপাড়া ইউনিয়নে ছাত্রলীগের প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার, ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক সুরুজ আলম সুরুজ সহ ইউনিয়নের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

শুক্রবার মুকসুদপুর ও নারিশা ইউনিয়নের প্রস্তুতি ও মোটর শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন  ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজীব শরিফ, ঢাকা জেলা ছাএলীগের আইন বিষায়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শরীফ হাসান, ঢাকা জেলার ছাএলীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী তন্ময় তুহিন সহ ছাএলীগের  বিভিন্ন স্তরের কর্মীবৃন্দ।

শান্তিতে নোবেলের অংশীদার বাংলাদেশের দুই সংগঠনও

0

এ বছর শান্তিতে নোবেল জিতেছে পারমাণবিক অস্ত্র বিলোপে প্রচারণাকারী সংগঠনগুলোর জোট ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবলিশ নিউক্লিয়ার উইপনস (আইসিএএন)। মোট ১০১টি দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী এই জোট সংগঠনটির সঙ্গে বাংলাদেশেরও দু’টি সংগঠন কাজ করে। সংগঠন দু’টি হলো, সেন্টার ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ (বাংলাদেশ অধ্যয়ন কেন্দ্র) ও ফিজিসিয়ান্স ফর সোস্যাল রেসপনসিবিলিটি।এই সম্পর্কে ফিজিসিয়ান্স ফর সোস্যাল রেসপনসিবিলিটি’র প্রেসিডেন্ট ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর ও প্রফেসর কামরুল হাসান খান বলেন,
‘এই পুরস্কারে মাধ্যমে বিশ্বশান্তির পথে বাংলাদেশ একধাপ এগিয়ে গেলো। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নোবেল কমিটিকে অভিনন্দন। বাংলাদেশের মানুষ শান্তির পথে যুক্ত আছে। সেটাই আমরা প্রমাণ করেছি। বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে, সে প্রত্যাশা রইলো।’এদিকে সেন্টার ফর বাংলাদেশ স্টাডিজের সাধারণ সম্পাদক অরূপ রাহী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২০১৪ সাল থেকে এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছে বাংলাদেশ অধ্যয়ন কেন্দ্র।

পরমাণু প্রযুক্তির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান আছে। বিধ্বংসী ব্যবহারকে ক্রিটিক্যালি দেখি। বাংলাদেশের হয়ে শান্তির পক্ষে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনে ছিলাম। শান্তির পক্ষে যুদ্ধের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ছিল। বিশ্বে আমরা সেটা জানাতে চেয়েছি। পরমাণু অস্ত্রের বিরুদ্ধে গ্লোবাল আন্দোলন থেকে নিজেরা শিখতেও চাই। কেন পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধ করা উচিত, এই নামে আমাদের একটা প্রকাশনা আছে। ওইটাই আমাদের প্রথম কাজ ওই সংগঠনের সঙ্গে।’
উল্লেখ্য, পুরস্কার ঘোষণার পর অরূপ রাহী ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এ বছর শান্তিতে নোবেল বিজয়ী আইক্যান (International Campaign to Abolish Nuclear Weapons—Ican) জোটের সদস্য বাংলাদেশ অধ্যয়ন কেন্দ্র। নোবেল পুরস্কার কোনও অবিসংবাদিত পুরস্কার নয়। কিন্তু শান্তির পক্ষে, পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার জন্য আইক্যানের নোবেল প্রাপ্তি বিশ্বকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার বৈশ্বিক আন্দোলনে যে ইতিবাচক প্রভাব রাখবে, এতে কোনও সন্দেহ নেই।’
ফেসবুকে অরূপ রাহী আরও লিখেছেন, ‘আমরা আইক্যানের সব উদ্যোক্তা-সমর্থককে অভিনন্দন জানাই। বাংলাদেশে যারা পরমাণু অস্ত্রমুক্ত দুনিয়া গড়ার আন্দোলনের সমর্থক, তাদের অভিনন্দন জানাই। পরমাণু অস্ত্র নিরোধ চুক্তি সই করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ আর অভিনন্দন জানাই। নোবেল কমিটিকেও ধন্যবাদ জানাই। তাদের এই সিদ্ধান্ত ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বাংলাদেশ অধ্যয়ন কেন্দ্রের সব বন্ধু-শুভাকাঙ্ক্ষী-সহযোদ্ধাকে অভিনন্দন জানাই।’
বাংলাদেশ অধ্যয়ন কেন্দ্রের অবস্থান যুদ্ধের বিরুদ্ধে উল্লেখ করেন অরূপ রাহী আরও লিখেছেন, ‘সে কারণেই, পরমাণু অস্ত্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পারমাণবিক বিদ্যুৎ—দুইয়ের বিরুদ্ধেই অবস্থান বাংলাদেশ অধ্যয়ন কেন্দ্রের। কেন এই অবস্থান, কেন সবারই এই অবস্থান নেওয়া দরকার, কেন সারা দুনিয়ায় শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অংশ হিসেবে পরমাণু অস্ত্র উৎপাদন ও এর বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সবাই মিলে কাজ করা দরকার, সে ব্যাপারে সমাজে আলোচনা, ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা, সরকার ও রাষ্টগুলোকে পরমাণু প্রযুক্তির ধ্বংসাত্মক ব্যবহারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে সম্মত করার জন্যে কাজ করে আইক্যান।
সেই কাজে অংশ নিতে, বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতে এবং শান্তির পক্ষে বাংলাদেশের সমাজের সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক ফোরামে স্বর হাজির করার জন্য ২০১৪ সালে আইক্যানের সদস্যপদ নেয় বাংলাদেশ অধ্যয়ন কেন্দ্র।’ তিনি লিখেছেন, ‘আসুন, সবাই মিলে এই বিশ্বকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করি।যুদ্ধ, অবিচার, শোষণ-বৈষম্যবিহীন, শান্তি আর ন্যায়ের দুনিয়া গড়ি।’এর আগে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, পারমাণবিক অস্ত্র বিলোপে প্রচারণা চালানো সংগঠন আইসিএএন ১০০টিরও বেশি দেশে তৃণমূল-পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
প্রথম অস্ট্রেলিয়ায় কার্যক্রম শুরু করলেও সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০০৭ সালে ভিয়েনায়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সদর দফতর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়।পুরস্কার জয়ের পর ফেসবুকে একটি বিবৃতি দিয়েছে আইসিএএন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আণবিক যুগ শুরুর পর থেকে যারা পারমাণবিক অস্ত্র রোধে সোচ্চার থেকেছেন, এসব অস্ত্র রাখার বৈধ উদ্দেশ্য নেই দাবি করে যারা সরব থেকেছেন এবং বিশ্ব থেকে এ ধরনের অস্ত্র বিলোপ করতে যারা সোচ্চার থেকেছেন, সেই লাখ লাখ ক্যাম্পেইনার ও বিশ্বের উদ্বেগী মানুষদের পুরস্কারটি উৎসর্গ করা হচ্ছে।’

banglatribune

নবাবগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু

নবাবগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মো. জয়নাল আলী (৬০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার পাতিলঝাপ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ঐ কৃষক পাতিলঝাপ গ্রামের মৃত ইমান আলীর ছেলে। পেশায় তিনি একজন কৃষক বলে এলাকাবাসী জানান।

স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গাছের ডাল পড়ে বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে পথের উপরে পড়ে ছিল। দুপুরে জয়নাল জমি থেকে পাট কেটে মাথায় নিয়ে বাড়ির দিকে আসছিলেন। পথিমধ্যে বিদ্যুতের তারে পা জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে স্থানীয়রা তার পরিবারকে সংবাদ দেয় সংবাদ পেয়ে নিহতের ভাতিজা মো. আল-আমিন তার পরিবারের অনন্য সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। পরে দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান তার অনেক আগেই মৃত্যু হয়েছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক দত্ত বাবু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার সহকারী উপ-পরির্দশক (এএসআই) মানুন বলেন, থানায় কেউ কোন অভিযো করেনি।

মৈনটঘাটে পদ্মায় গোসল করতে নেমে কলেজ ছাত্র নিখোঁজ

দোহার উপজেলার মিনি কক্সবাজার খ্যাত মৈনটঘাটের পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে মাহফুজুর রহমান রাকিব (১৯) নামে এক কলেজ ছাত্র নিখোঁজ রয়েছে।

আজ শুক্রবার দুপুরে এ দূর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ মাহফুজ ধানমন্ডির শংকর এলাকার চেয়ারম্যান গলির মৃত মাহবুবুর রহমানের ছেলে। সে মিরপুর বাংলা কলেজের বাণিজ্য বিভাগ থেকে এবছর এইচএসসি উত্তীর্ণ হয়েছে বলে জানা যায়। তার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের তালতলায়। 

একই সাথে বেড়াতে আসা মাজেদা নেটওয়ার্ক লিমিটেডের প্রকৌশলী মোতালেব হোসেন জানান, শুক্রবার দুপুরে তাদের ১৩ জনের একটি দল মৈনটঘাটে বেড়াতে আসেন। এ সময় তারা কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বিকাল ৪ টার দিকে মাহফুজসহ কয়েকজন পদ্মা নদীতে গোসল করতে নামে। গোসলের এক পর্যায়ে সে তলিয়ে যায়। সবাই উদ্ধারের চেষ্টা ব্যর্থ হলে স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়।

দোহার থানার কুতুবপুর নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ ফরহাদ আলম জানান, দূর্ঘটনার পর পরই দোহার ফায়ার সার্ভিস, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল ঢাকা থেকে রওনা হয়েছেন।

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা কমিশনার (ভুমি) ইমরুল হাসান জানান, নিখোঁজের কোন খোঁজ পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলবে।

ইট বালু ব্যবসায়ীদে দখলে নষ্ট হচ্ছে  মৈনটের সৌন্দর্য

ইতি মধ্যেই  হাজার  হাজার পর্যটকের মন কেরে নিচ্ছে মিনি কক্সবাজার খ্যাত মৈনট ঘাট। ঢাকার খুব কাছাকাছি হওয়াই প্রতিদিনই হাজার হাজার পর্যটকের সমাগম  ঘটে এই মৈনট ঘাটে।

ভ্রমণ পিয়াসি পর্যাটকে মনে মৈনটের সৌন্দর্য  দখল  করতেছে ঠিক তখনই, ইট বালু ব্যবসায়ীরা সারা মৈনট বীচ জুড়ে ইট বালু ফেলে নষ্ট করছে বীচের সৌন্দর্য। মৈনটের শুশিতল বাতাস পর্যটকদের মন শিতল করার পরিবর্তে দিচ্ছে যন্তনা। কেননা বাতাসে বালু্ উড়ে এসে নষ্ট করছে পর্যটকদের পরিধিত কাপড় চোপড়। বালু চোখে লেগে দিচ্ছে অসহ্য যন্ত্রণা। এমতাবস্থায় অনতিবিলম্বে বীচ থেকে বালু সরিয়ে রাখার দাবী জানিয়েছ  পর্যটক গণ। সেই সাথে প্রশাসকে নজরে আনার দাবী করেছে পর্যাটকরা।  ইট বালু বহনকারী ট্রাক তৈরি করছে যানজট। বালু বহনকারী ট্রাক গুলোতে বালু ঢেকে না নেয়ায়  রাস্তায় তৈরি হচ্ছে বালুর আবরণ। তাতে বৃ্ষ্টি নামলে হচ্ছে কাদা,প্রয় প্রতিদিনই ঘটছে দূর্ঘটনা।

সুন্দরী প্রতিযোগিতা চায় মেয়েদের কর্পোরেট যৌনদাসী বানাতে

এ কেমন প্রতিযোগিতা যার বিভিন্ন ইভেন্টে শরীরের মাপ দিতে হয়, তাও সে মাপ আবার পুরুষদের নির্ধারিত মাপের ছকেই। স্তনকে বাধ্য করতে হবে ৩৬ ইঞ্চি থাকতে, কোমর হতে হবে ২৬ ইঞ্চি, নিতম্বকেও বেপরোয়া হলে চলবে না, ঠিক ৩৬ ইঞ্চিই চাই তোমার। সভ্যতার এতটা পথ পাড়ি দিয়ে এসে, বস্ত্র সভ্যতার এতকাল পেরিয়ে, মঞ্চে হাঁটতে হবে আধ নেংটো হয়ে। ফটোস্যুটের জন্য পোজ দিতে হবে, তাও অর্ধ-উলঙ্গ হয়েই। ব্রা-পেন্টি পড়ে। সারা দুনিয়াজুড়ে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় এমনটাই রীতি, যা পুরুষেরা তৈরি করেছে।

আমার ত্বক উজ্জ্বল, চোখ বাদামী, ঠোঁট আকর্ষণীয়- নিজের সম্পর্কে লোকের মুখে এমন মন্তব্য শুনে আমি অভ্যস্থ অনেককাল। নারী-পুরুষ অনেকেই আমার চেহারাও শারীরিক গঠনের সৌন্দর্যে আকর্ষণবোধ করেন, প্রশংসা করেন। এই সৌন্দর্যে আমার কোন হাত নেই, ভূমিকা নেই। প্রকৃতি প্রদত্ত। প্রকৃতি একেক মানুষকে একেক রকম করে তৈরি করেছে। এই যে বৈচিত্র্য, এটাই সৌন্দর্য। আমি তো মনে করি, প্রতিটি মানুষই সুন্দর। স্রষ্টার অপরুপ সৃষ্টি। এই সৌন্দর্য নিয়ে প্রতিযোগিতায় কী আছে? যাতে আমার কোন অর্জন নেই, ভূমিকা নেই, তা কেন হতে যাবে প্রতিযোগিতার বিষয়।

‘আমি চাই মেয়েরা আসুক, মঞ্চে দাঁড়াক, জীবনের মঞ্চে, তবে তা কাপড় খুলে নয়- কাপড় পরে, সম্মান নিয়ে, মাথা উঁচু করে দাঁড়াক, মানুষের মত।’

মানুষ নিজে চর্চার মধ্যে দিয়ে যা অর্জন করে, জ্ঞান, মেধা, প্রজ্ঞা, প্রত্যুৎপন্নমতিতা তা নিয়ে প্রতিযোগিতা হতে পারে, এমনটাই হওয়া উচিত সভ্য দুনিয়ায়।

আমি সবসময় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা, সুন্দরী প্রতিযোগিতার ঘোর বিরোধী। আমি কোর্ট প্যান্ট পরা একটি মানুষ। হঠাৎ করে আমাকে যদি শরীরের প্রায় সব কাপড় খুলে, শুধু ‘আন্ডারওয়ার’ পরে লোকের সামনে, আলো ঝলমলে মঞ্চে হাঁটতে হয়, নিজেকে আকর্ষণীয় প্রমাণ করতে, কখনও কখনও যেই আন্ডারওয়ারকে যদি আবার ডানে বামে, উপরে নিচে নামিয়ে ছবি তুলতে হয়, ভাবা যায় ব্যাপারটা কী ভয়ঙ্কর! পণ্য সভ্যতার বিকট থাবা থেকে মুক্তি নেই মানুষের। পণ্য মানুষকেও পণ্য করে তোলে তার স্বার্থে। বিক্রি হতে হবে প্রসাধন সামগ্রী। সাবান, শ্যাম্পু, লোমনাশক ক্রিম। সে সব বিক্রি করতে নারীকেও পণ্য করে তোলা হচ্ছে দুনিয়াব্যাপী। নির্ধারিত মাপ দিয়ে দেয়া হচ্ছে মেয়েদের জন্য। স্তনের মাপ, নিতম্বেও মাপ।

নির্দিষ্ট ছাচে পড়লেই তুমি সুন্দরী। বিশ্ব সুন্দরী। বোকা বুদ্বু মেয়েরাও ছুটে ‘সেই ফিগার’ গড়ে তুলতে। ‘জিরো ফিগার’ চাই। যে করেই হোক, মাপে আসতে হবে ফিগারকে। প্রয়োজনে ডায়েটিং করো, না খেয়ে থাকো। ইউরোপেও যে কত মেয়ে না খেয়ে ‘এনিমিয়া’, ‘বুলিমিয়ার’ মত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। পশ্চিমে গত কয়েক বছরে বেশ ক’জন মডেল ওভার ডায়েটিংয়ে মারাও গেছেন। মেয়েরা ছুটছে পার্লারে, জিমে। পার্লার থেকে বেরিয়ে আসা মেয়েগুলোকে দেখতে মনে হবে, সবাই একই ছাচে গড়া। সুন্দরী প্রতিযোগিতার ‘গ্রুমিং সেশনের’ মেয়েদের মত, গ্রুমিং শেষে সবাই একই রকমভাবে হাঁটে, বসে, কথা বলে, মনে হয় ‘পাপেট’ এই মেয়েরা সকলে।

মিডিয়া সুন্দরী প্রতিযোগিতার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা ও প্রচারে বিভোর সবসময়ই। মিডিয়া ভীষণ নারীবান্ধব, মানবিক সবসময় এমনটা ভাববার কোন কারণ নেই। বাণিজ্যিক মিডিয়ার প্রভু পুঁজি। ফলে সে যাকে বিকোতে পারে, যা বিকোনো যায়, তা নিয়ে ব্যস্ত থাকবে স্বাভাবিক। পণ্য হিসেবে, নারীর চেয়ে কম বিনিয়োগে অধিক মুনাফা আর কোন পণ্যের নিশ্চয়তা আছে? ফলে বাণিজ্যিক মিডিয়া মেধাবী, প্রতিভাবান মেয়েদের চেয়ে অমেধাবী, অপ্রতিভাবানদেরই খোঁজে বেশি। ফলে শুধুমাত্র খোলামেলা হবার যোগ্যতা নিয়ে নায়লা নাইম তারকা হয়। মিডিয়ায় ‘সাহসী মেয়ে’ বলে একটি টার্ম চালু রয়েছে। প্রায়ই দেখা যায়, শরীর সর্বস্ব, গা খোলা মেয়েদের সাহসী বলে সমর্থন জোগাতে।

দাঁত উঁচু, লিকলিকে, স্তনহীন এমন মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো ফলাফল করলেও তার চেয়ে মেধাশুন্য গা খোলা, ভরাট শরীরের মেয়েদেরই মিডিয়া প্রচার দেয়, দু’দিনেই তারকা বানাতে অস্থির হয়ে উঠে। আর এই মেয়েরাও খোলামেলা হয়ে, অর্ধ নেংটো হয়ে পোজ দিয়ে, ছবি তুলে নিজেকে ‘কথাকথিত তারকা’ ভেবে এক ধরনের মিথ্যে আত্মতৃপ্তিতে ভোগে। পর্ন তারকাদেরও যেমন ‘তারকা’ বলে ধারণা দেয়া হয়, নেহাত বাণিজ্যিক কারণে। তারাও যেমন কে কত বেশি যৌন হেনস্থা, যৌন নির্যাতিত হবার যোগ্যতা রাখে, সেই নিরিখে ‘বড় তারকা’ ভাবে নিজেকে, এই মেয়েরাও তেমনি নিজেকে মূল্যবান ভাবতে থাকে, পুরুষতান্ত্রিকতার ফাঁদে পড়ে।

একটি বারের জন্যও সে ভাবে না, মানুষের মূল্য আসলে কিসে? সে যে একটি যৌনবস্তু হয়ে উঠছে, ভোগ্য বস্তু হয়ে উঠছে, তাতে তার কোন ভাবাবেগ নেই। প্রতিটি সুন্দরী প্রতিযোগিতা, আয়োজন, আয়োজক কোন না কোন নারীবাণিজ্যের নেটওয়ার্কেও সঙ্গে যুক্ত, এ কথা ঐতিহাসিকভাবে সত্য। পণ্য হতে আসা, কাপড় খুলতে আসা, পতিতা হতে আসা মেয়েদের পুরুষতন্ত্র চিরকালই বুঝিয়েছে- ‘এটা তোমার স্বাধীনতা, এটা নারী স্বাধীনতা, তুমি অনেক বেশি স্বাধীন, তুমি চাইলেই খুলতে পারো, ছুতে পার, শুতে পারো যে কারো সঙ্গে।

স্বাধীনতা ও নারীবাদের অসম্ভব ভুল ব্যাখ্যা এই মেয়েদের মস্তিষ্কের নিউরনে বিল্ট-ইন করে দেয়া হয়েছে নেহাত বাণিজ্যিক স্বার্থে। অথচ নারীবাদ, মানবতাবাদ ও নৈতিকতাবাদ সেটাই, যেটা নারীকে পুরুষতন্ত্রের বাণিজ্যিক চাহিদার বিপরীতে দাঁড়িয়ে বলতে শেখাবে, আমি নারী, আমি স্বাধীন, আমি সম্পূর্ণ মানুষ। চাইলেই আমি খুলতে বাধ্য নই, আমি বাধ্য নই যাকে তাকে ছুতে, যার তার সঙ্গে শুতে। দানবীয় পুঁজির হাতে বন্দি সবাই- মানুষ, মানবিকতা, যৌনতা। তাই প্রাচীন যৌনদাসীর বদলে, আধুনিক চকচকে কর্পোরেট যৌনদাসীই বানাতে চায় কর্পোরেট পুঁজি। নাম দেয় বিউটি হান্ট, ফান্ট নানান কিছু। ভেতরে বাণিজ্য, বাইরে সৌন্দর্য। যৌনবাণিজ্যেই যদি শেষাবধি লক্ষ্য উদ্দেশ্য না হবে তবে ‘ভার্জিনিটি’ই বা খোঁজা কেন?

অসহায়, নির্বুদ্ধিমান মেয়েরা পুঁজি আর পুরুষতন্ত্রের ফাঁদে পড়ে এই সব তথাকথিত প্রতিযোগিতার মঞ্চে এসে দাঁড়ায়।

আমি চাই মেয়েরা আসুক, মঞ্চে দাঁড়াক, জীবনের মঞ্চে, তবে তা কাপড় খুলে নয়- কাপড় পরে, সম্মান নিয়ে, মাথা উঁচু করে দাঁড়াক, মানুষের মত।

লেখক : সম্পাদক, আজ সারাবেলা। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, মিডিয়াওয়াচ। পরিচালক, বাংলাদেশ সেন্টার ফর ডেভলপমেন্ট জার্নালিজম অ্যান্ড কমিউনিকেশন। সদস্য, ফেমিনিস্ট ডটকম, যুক্তরাষ্ট্র।

নবাবগঞ্জে মায়ের মাদকের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে বড় ছেলে কামাল

নবাবগঞ্জ উপজেলায় ৫৭ পিছ ইয়াবা সহ কামাল নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। আটককৃত কামাল উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের বিলপল্লী গ্রামের আবুল কালাম জীবনের বড়ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা যায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর আনুমানিক রাত ৮টার দিকে উপ-পরিদর্শক  মুন্সী আশিকুর রহমানের নেত্রীত্বে সঙ্গীয় ফোর্স সহ গোপন সংবাদের ভিত্তীতে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ির রাস্তা থেকে তাকে আটক করা হয়।

নাম প্রকাশে অনচ্ছুক স্থানীয় এক এলাকাবাসী জানায়, কামাল আমাদের এলাকার একটি অভিশাপ। রাত দিন সে নেশা করে ও বিক্রি করে। কামালের মা ধন্ধি ছিলো বাংলা মদ বিক্রেতা। প্রায় ২৫ বছর ধরে সে প্রশাসনকে হাত করে এই মদ বিক্রি করতো। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন  মাদকের উপর করা নজর থাকায় সে দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যায়।

কিন্তু ধন্ধি পালিয়ে যাওয়ার পরেও আমরা গ্রামবাসী এই মাদকের হাত থেকে রক্ষা পাইনি। তার বড় ছেলে কামাল এই ব্যবসার খেয়াল রাখছে। তার কারনে আমাদের এলাকার অনেক ছেলেপেলে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। আমরা এখন আমাদের সন্তানদের নিয়ে খুবই  চিন্তিত। কখন যে তারা কামালের আড্ডায় পড়ে নষ্ট হয়ে যায় আল্লাহই জানে। পুলিশ তাকে আটক করেছে শুনে আমরা খুব খুশি হয়েছি। আমরা তার শাস্তি দাবি করছি।

নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক কামরুল হাসান ঘটনার সত্যতা শিকার করে বলেন, কামাল একজন তালিকাভোক্ত চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। শুধু তাই নয় তার পুরো পরিবারই মাদক সহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত এবং বিভিন্ন মামলার আসামি। উপ-পরিদর্শক আরো বলেন কামালের মা শাহানা ওরফে ধন্ধি ছিলো একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী । সে প্রকাশ্যে মাদক (বাংলা মদ) বিক্রি করতো। কিন্তু হঠাৎ করে ধন্ধি বিদেশে (জর্দান) যাওয়ায় মায়ের মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে বড় ছেলে কামাল এ তথ্য জানতে পেরে আমরা অভিযান চালাই এবং তাকে ইয়াবা সহ আটক করি। কামালের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করে কোর্টে পাঠানো হয়েছে।

দোহারে মা ইলিশ ধরায় ৪ জেলের কারাদন্ড

দোহার উপজেলার মৈনটঘাটে পদ্মা নদীতে নিষেধ অমান্য করে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে মা ইলিশ মাছ ধরায় ৪ জেলেকে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার মৈনটঘাটে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে. এম. আল-আমীন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: ইমরুল হাসান এ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ৪ হাজার মিটার কারেন্ট জালসহ ৪ জেলেকে আটক করা হয়। পরে তা পুড়িয়ে ধংস্ব করে প্রশাসন। প্রত্যেক জেলেকে ৩ দিন করে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমান আদালত। সাজা প্রাপ্ত জেলেরা হচ্ছেন উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের খালের পাড় গ্রামের আবু কালাম মাতাবরের ছেলে মো. আলম (২৭), মধুরচর গ্রামের হাকিম হওলাদারের ছেলে মো. ছোরহাব (৩৮), খালের পাড় গ্রামের বাতেন মোল্লার ছেলে মাসুদ (২০) এবং একই গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে মো. মাহফুজ আলী (২১)।