সৌদি আরবে বেকার দোহারের দশ হাজার যুবক

ঢাকা দোহারের প্রায় দশ হাজার যুবক সৌদি আরবে বেকার হয়ে আছে বলে সংবাদ পাওয়া গেছে। অনেক যুবকই বাবা-মা ও স্বজনদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন বলে জানায় ভুক্তভোগিরা।

জানা যায়, সংসারের দুঃখ ও ভাগ্যের চাকা বদল করার আশা নিয়ে বসতভিটা, আবাদি জমির দলিল এনজি এবং ব্যাংকে জমা রেখে লোন নিয়ে অনেক আশায় মাতৃভূমি ত্যাগ করে দোহার উপজেলার প্রায় ২৫ হাজার যুবক। এর মধ্যে ১৫ হাজার যুবক সৌদিআরবের বিভিন্ন স্থানে কর্মসংস্থানে কর্মরত থাকলেও ভাগ্য বদল হয়নি প্রায় দশ হাজার যুবকের।

সৌদি দাম্মামের আল- খোয়ার এলাকা থেকে দোহার উপজেলার হুইরা গ্রামের শেখ রশিদের ছেলে

আলম হোসেন জানান, এক বছর আগে বসতভিটা ব্যাংকে বন্ধক রেখে ফ্রি ভিসায় সৌদি আরব আসি আজ পর্যন্ত ইকামা হাতে পেলাম না এবং কপিল ( মালিক) কেমন চোখে দেখলাম না। বাড়ি থেকে বাবা-মা টাকা চাইছে ঋন সুদ করার জন্য, আমি নিজেই অনাহারে থাকি টাকা দিব কোথা থেকে তাই বাড়ির সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছি।

দাম্মাম এলাকার জুয়েল জানান, সৌদি আরবের দাম্মাম, রিয়াদ, জেদ্দা, মক্কা, আল-বাহাসহ সব প্রদেশেই দোহারের দশ হাজার যুবক কাজ না থাকায় বেকার হয়ে আছে। কোন কোন যুবক সৌদি আরবে আসার পর থেকে ইকামা ও কপিল খুঁজে পাচ্ছে না।

জেদ্দা থেকে দোহার উপজেলার জালালপুর এলাকার মোবারক জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোন কাজ না পেয়ে বেকার হয়ে আছি। কোন টাকা বাংলাদেশে পাঠাতে পারিনা তাই বাবা-মা মনে করছে টাকা শ্বশুড়বাড়িতে পাঠাচ্ছে আর বউ মনে করছে জোয়া খেলে, নেশা করে টাকা পয়সা নষ্ট করে ফেলছে। শুধু আমি নয় আমার মত বহু যুবক স্বজনদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে।

বাহ্রা এলাকার সমশের আলী জানান, দেড় বছর হয় বড় ছেলে রাসেলকে সৌদি পাঠাইছি অনেক আশা নিয়ে, আজ পর্যন্ত আমাকে দেড়টা টাকাও পাঠাতে পারে নাই। সব টাকা শ্বশুড়বাড়িতে পাঠায়। অর দেনা শোধ করার জন্য বাড়ির পাশের জমিটা বিক্রি করে দিয়েছি।

নবাবগঞ্জে গৃহবধূকে ধর্ষণ 

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় এক গৃহবধূকে আপন ফুপাত ভাই কর্তৃক ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলায় বান্দুরা ইউনিয়নের গৃহবধূর ঘরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ফুপাত ভাই আতাউল হক একই ইউনিয়নের নয়ানগর গ্রামের আরশেদের ছেলে। এদিকে, এ ঘটনার পর গৃহবধূকে গ্রহণে স্বীকৃতি জানিয়েছেন তার প্রবাসী স্বামী।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় গৃহবধূ ঘরে একা থাকার সুযোগে আপন ফুপাত ভাই তাকে কুপ্রস্তাব দেয়। গৃহবধূ রাজি না হওয়ায় তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর গৃহবধূ কোনো রকমে মুখের কাপড় খুলে পাশের ঘরের ভাবিকে ডেকে ঘটনাটি জানান। পরে তাকে গুরুতর অবস্থায় প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বান্দুরা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড মেম্বর রাজ্জাক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানা সেকেন্ড অফিসার এস আই সুমন জানান, ধর্ষনকারী আতাউল এর নামে নবাবগঞ্জ থানায় একটি ধর্ষন মামলা হয়েছে। ঘটনার সত্যানুসন্ধানের মাধ্যমে দোষীকে গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দোহার-নবাবগঞ্জসহ ১৪ উপজেলায় সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা

ঢাকার দক্ষিনের পদ্মা ঘেষা দুই উপজেলা দোহার, নবাবগঞ্জসহ দেশের ১৪টি উপজেলায় গ্রাম ও শহর মিলিয়ে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার উদ্যোগ নিয়েছে নগর উন্নয়ন অধিদফতর। জাতীয় উন্নয়ন নীতিমালা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার প্রতিফলন ঘটিয়ে এ ধরনের ভূমি ব্যবহারভিত্তিক পরিকল্পনা দেশে এটিই প্রথম। বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে গণপূর্ত অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে ‘গৃহায়ণ নীতিমালা : সাধ্যের আবাস’ শীর্ষক আলোচনা সভায় নগর গবেষণা কেন্দ্রের সাম্মানিক সচিব ড. নুরুল ইসলাম নাজেম এ তথ্য জানান।

তিনি ‘মানব বসত, ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন।

১৪ উপজেলার মধ্যে রয়েছে- ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ ও দোহার, মাদারীপুরের শিবচর, নরসিংদীর শিবপুর ও রায়পুরা, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ, ফরিদপুর সদর, রাজশাহীর বাগমারা, মেহেরপুরের গাংনী, গাইবান্ধার সাঘাটা, বগুড়ার সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি, কক্সবাজারের রামু এবং চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া।

আগামী বছরের জুনের মধ্যে ‘প্রিপারেশন অব ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান ফর ফোরটিন উপজেলাস’ প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি প্যাকেজে এ উন্নয়ন পরিকল্পনার কাজ সম্পন্ন হবে বলে নগর উন্নয়ন অধিদফতরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এরপরই এটি দেশের সব উপজেলায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে।

সভায় নুরুল ইসলাম নাজেম বলেন, ‘১৯৭৩-৭৪ সালে মোট ভূমির ৬০ শতাংশ ছিল নিট কর্ষিত ভূমি। ২০১০-১১ সালে তা কমে হয়েছে ৫৩ শতাংশ। পতিত জমির পরিমাণও কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। এই একই সময়ে বসতভূমির পরিমাণ ১৮ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৫ শতাংশ। এই হারে কৃষি জমি কমতে থাকলে বাংলাদেশ বিভিন্ন ঝুঁকির মুখে পড়বে।’

সার্বিক উন্নয়নে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও শহরভিত্তির পরিকল্পনার নানা ত্রুটি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গ্রামের বসতি, উৎপাদন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিশেষ করে কৃষির উন্নতি, পানি ব্যবস্থাপনা, বনজসম্পদ বৃদ্ধি, গ্রামের মানুষের জন্য কর্মসংস্থান ও সেবা দেয়ার বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা অতীতে নেয়া হয়নি। সম্প্রতি নগর উন্নয়ন অধিদফতর ১৪টি উপজেলায় গ্রাম ও শহর মিলিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার উদ্যোগ নিয়েছে। এই উন্নয়ন পরিকল্পনা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।’

তিনি বলেন, ‘এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হচ্ছে কৃষি জমি সুরক্ষা, বিনিয়োগ আকর্ষণ, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, গ্রাম-শহরের মধ্যে অধিকতর সংযোগ ও ভারসাম্য আনা এবং উন্নয়নে গতি সঞ্চার করা। এর মাধ্যমে গ্রামের মানুষকে গ্রামে রাখা যাবে।’

বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলাকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে পারলে সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা সহজ হবে বলেও মনে করেন নুরুল ইসলাম। তিনি জানান, পাঁচটি স্তরে উপজেলাভিত্তিক এই উন্নয়ন পরিকল্পনার কাজ সম্পন্ন হবে।

কৃষি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে জানিয়ে সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘১৪টি উপজেলায় যে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, সব উপজেলায় এটা করতে হবে। পরিকল্পিত আবাসন করতে হবে।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ১৪ জেলায় যে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে এটি উৎসাহব্যঞ্জক। সঠিকভাবে এটি বাস্তবায়ন করা গেলে এটি একটি নতুন ধারণার সূচনা করবে। টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আসবে। কিন্তু এটি বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক আইনি কাঠামো কোথায়? সেটা দরকার।

ইনসস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) সভাপতি এ কে এম এ হামিদ বলেন, ‘বড় লোকদের বাগানবাড়ি করার প্রবণতা রাষ্ট্রীয়ভাবে বন্ধ করতে হবে। এখন ১৪ উপজেলায় উন্নয়ন পরিকল্পনা শুরু হয়েছে, সারাদেশে করতে সময় লাগবে। কিন্তু দেশের সব উপজেলায় একজন করে জুনিয়র আর্কিটেক্ট নিয়োগ দিয়ে কাজটি এখনই শুরু করা যায়।’

নগর উন্নয়ন অধিদফতরের পরিচালক খুরশীদ জাবিন হোসেন তৌফিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার। অনুষ্ঠানে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক আবু সাদেক, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামান, গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, স্থাপত্য অধিদফতরের প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক আকতার মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

সৌদিতে বেকার হাজার হাজার বাংলাদেশি

0

ঝিনাইদহের মাহফুজ। সৌদি গেছেন সাড়ে ৬ মাস আগে। ‘আমেলে মনজিল’ নামে একটি ভিসা দিয়ে তাকে ওই দেশে পাঠানো হয়েছে। এ ভিসার পরিধি হচ্ছে, নির্দিষ্ট মালিকের অধীনে বাসাবাড়ির কাজ। কিন্তু তিনি যে মালিকের অধীনে কাজে গেছেন আজ পর্যন্ত সেই মালিকেরই দেখা পাননি। যারা তাকে নিয়ে গেছে তারাও মালিকের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেননি। তবে সংশ্লিষ্ট সৌদি মালিক জানেন তার বাসায় কাজ করতে একজন বাংলাদেশি এসেছেন। কিন্তু ওই জানা পর্যন্তই শেষ। তিনি তাকে কাজে নিতে চান না। অজুহাত দেখান, তার কাজের লোকের দরকার নেই। তাই বেতনও দিতে পারবেন না। উল্টো আকামা করে দেয়া বাবদ প্রতিবছর তাকে একটি নির্দিষ্ট হারে টাকা দিতে হবে। এই টাকার পরিমাণ ৩০ হাজার থেকে ৮০ হাজার পর্যন্ত। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তাকে অন্য কোথাও কাজ ম্যানেজ করতে হচ্ছে। যদিও বাসাবাড়ির বাইরে এ ভিসায় অন্য কোথাও কাজ করার সুযোগ নেই। এদিকে কয়েক জায়গায় কাজ জুটালেও বেতন মেলেনি মাহফুজের। ফলে এক দুুর্বিষহ সময় পার করছেন তিনি। বেঁচে থাকার তাগিদে তাই মাঝেমধ্যে দেশে থাকা পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিতে হয়। শুধু মাহফুজ নয়, এমন অবস্থা সৌদি আরবে কাজের সন্ধানে যাওয়া হাজার হাজার বাংলাদেশির।

মাহফুজ জানান, সাড়ে ৬ মাস আগে রাতুল ট্রেডিং ওভারসিজ নামে একটি রিক্রটিং এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরব গেছেন। তাকে পাঠানো হয়েছে দেশটির নাজরানা এলাকায়। একই কোম্পানির মাধ্যমে তারা একসঙ্গে গেছেন ২০০ জন। যাদের বেশিরভাগই গেছেন ‘আমেলে মনজিল’ ভিসায়। তার ভাষ্যমতে তাদের সকলের ভাগ্যেই একই ঘটনা ঘটেছে। এ ভিসায় গিয়ে কাজ না পাওয়া বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি কর্মী জানান, নির্দিষ্ট এই ভিসার কারণে বাসাবাড়ির বাইরে তাদের কাজ করার সুযোগ নেই। ফলে তাদেরকে অন্য কোথাও কাজ করতে দেখলে পুলিশ ধরে দেশে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু অনেকে ভিটেমাটি বিক্রি করে আসায় কষ্ট হলেও পালিয়ে বেড়ায়। পুলিশের কাছে ধরা দিতে চায় না। তারা আরো জানায়, এই ভিসায় তাদের যে এলাকায় পাঠানো হয়, সে এলাকার বাইরে গিয়ে নিজ ইচ্ছায় কাজ করারও সুযোগ নেই। কেবল সংশ্লিষ্ট মালিক অনুমতি দিলেই যেতে পারেন। তবে মালিকরা এমন অনুমতি দেন না। এছাড়া ফ্রি ভিসার নামে গিয়েও হাজার হাজার কর্মী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তারা আরো বলেন, ‘আমেলে মনজিল’ ভিসায় গিয়ে সংশ্লিষ্ট মালিকের বাসায় কাজ তো পাওয়াই যায় না, উল্টো প্রতিবছর তাদের নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হবে। তাদের দাবি, এই ভিসায় আসা ৩-৪ লাখ বাংলাদেশি কাজ না পেয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। তবে তাদের এই দাবির সত্যতা যাচাই করা যায়নি। কর্মহীন বাংলাদেশিরা বলেন, ‘আমেলে মনজিল’ ভিসায় এসে শতকরা ৯৯ ভাগ মানুষ কাজ পায় না। মাহফুজ বলেন, তিনি যে এলাকায় আছেন, সে এলাকায় ৩০০-৪০০ লোক বেকার। কাজ না থাকায় কয়েকবার বাড়ি থেকে টাকা এনেও বাসাভাড়া এবং খাওয়া খরচ চালিয়েছেন। বর্তমানে লুকিয়ে নাজরানা থেকে রিয়াদে গিয়ে একটি কোম্পানিতে গোপনে কাজ শুরু করেছেন। তবে বেতন পাবেন কিনা তার নিশ্চয়তা নেই। তার ভাষ্য, আগে থেকে যারা কাজ করতো তাদেরও অনেকেই ইতিমধ্যে কর্মহীন হয়ে পড়েছে।

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার কানাইনগর গ্রামের আলমগীর হোসেনও ৬ মাস আগে কাজ নিয়ে গেছেন রিয়াদের মেসার্স মাযায়া আল দোহা কনস্ট্রাকশন নামে একটি কোম্পানিতে। এরপর কোম্পানি তাকে জেদ্দার সাফারি ক্যাম্পে পাঠায়। সেখানে ৫ মাস কাজ করার পরও বেতন দেয়নি। এমনকি খাওয়াও দিতো না ঠিকমতো। একপর্যায়ে পালিয়ে তার এলাকার এক প্রবাসীর কাছে গিয়ে ওঠেন। ওই প্রবাসী তাকে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। আলমগীর জানান, কোনো কাজ নেই। কিন্তু দেশেও ফিরতে পারছি না। কারণ যে ৬ লাখ টাকা খরচ করে এসেছি তার পুরোটাই ঋণের। এখন যদি বাড়ি যাই, তাহলে তার ওপর চাপ আরো বাড়বে। কিভাবে চলছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যার দিকে বালতি হাতে করে রাস্তায় দাঁড়ায়। যদি একটি গাড়ি ধুতে পারি তাহলে কিছু আয় হয়। কিন্তু সবদিন হয়ও না। ফলে কোনোরকম চলছি। তার মতো শত শত বাংলাদেশির একই অবস্থা বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে রিয়াদে মেসার্স মাযায়া আল দোহা কোম্পানির সোলায় ক্যাম্পে থাকা একজন বাংলাদেশি জানান, বর্তমানে সেখানে ৩ শতাধিক বাংলাদেশি কাজ না পেয়ে ক্যাম্পে বেকার দিন কাটাচ্ছে। তাদেরকে এক বেলা খাবার দেয়া হচ্ছে। এর আগে গত ২৭শে জুলাই রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলরের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল (শ্রম উইং) জানান, রিয়াদের মেসার্স মাযায়া আল দোহা কনস্ট্রাকশন কোম্পানির পাঠানো ১৮২ জন কর্মী জেদ্দার আল-সাফারি ক্যাম্প, মোহাত্তা রহমানিয়ার নিকটবর্তী এলাকায় ইকামা ও কর্মহীন জীবনযাপন করছে। ওই চিঠিতে জানানো হয়, গত সাড়ে চার মাস আগে তারা সৌদি আরবে আসেন। দেড়মাস রিয়াদে কর্ম ও বেতনবিহীন অবস্থানের পর তাদেরকে জেদ্দাস্থ একটি কোম্পানিতে কাজ দেয়া হয়। কিছুদিন কাজ করার পর আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে তাদের কাজের কোনো ব্যবস্থা নেই। সৌদি আরব আগমনের পর থেকে এ পর্যন্ত তারা কোনো বেতন পাননি। চিঠিতে আরো বলা হয়, এইসব কর্মীরা বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স আল বশির লিমিটেড, মেসার্স সেন্ডার ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স ইস্টল্যান্ড নেটওয়ার্ক, মেসার্স জাহরাত এসোসিয়েটস সহ আরো কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরব গমন করেন। এদিকে সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে ফিরে আসা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, দেশটিতে ফ্রি ভিসার নামে যারা গেছেন, তাদের প্রায় সবাই বেকার অবস্থায় দিন পার করছেন। এছাড়া আর্থিক মন্দার কারণে বিভিন্ন কোম্পানি থেকেও তাদের ছাঁটাই করা হচ্ছে। এদিকে কর্মহীন কর্মীদের বেশ কয়েকজন জানান, বাংলাদেশের গ্যালাক্সি ট্রাভেলস্‌, আমান এন্টারপ্রাইজ, আইডিএল এন্টারপ্রাইজ, জাহার এন্টারপ্রাইজ সহ বেশকিছু রিক্রুটিং এজেন্সি সম্প্রতি যেসব কর্মী পাঠিয়েছেন তাদের অনেকেই বেকার জীবনযাপন করছেন। অনেকে সেখানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ ব্যাপারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আজহারুল হক বলেন, ফ্রি ভিসার কারণে সেখানে বেকার বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়েছে। তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে ফ্রি ভিসা নামে কোনো ভিসা নেই। ফ্রি ভিসার নামে যে ভিসা দেয়া হয় তাতে নির্দিষ্ট কোনো ক্ষেত্র বা কোম্পানিতে কাজের উল্লেখ থাকে না। ফলে অনেকে এ বিষয়টি না বুঝে সেদেশে গিয়ে বিপাকে পড়েন। এজন্য আমরা ক্যাম্পেইন করছি। কেউ ডিমান্ড আনলে সেটা সঠিক কিনা তা যাচাই করার জন্য দূতাবাসের দ্বারা সত্যয়ন করার প্রক্রিয়াও চালু করা হয়েছে। এতে করে জানা যাবে, যেখানে কর্মী পাঠানো হচ্ছে সেখানে আদৌ কাজ আছে কিনা।

যৌবন হারা ইছামতি, শুস্ক মৌসুমে প্রায় ১০ লাখ লোকের ঝুঁকিতে বসবাস !

 এক সময়ের প্রমক্তো ইছামতি আজ যৌবন হারা মৃত প্রায়। এই ইছামতির মূল উৎস পদ্মা থেকে। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার সৈয়দপুর থেকে নদীটি পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়ে মানিকগঞ্জ থেকে আগত কালিগঙ্গা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। এক সময় গোয়ালন্দ থেকে রাজধানীতে বড়-বড় লঞ্চ চলাচল করত, এখন সেখানে নৌকাও ঠিকমতো চলাচল করতে পারছেনা।

কিছু-কিছু এলাকায় নদীতে একদম পানি থাকে না আবার কিছু-কিছু এলাকায় হাঁটুপানি থাকলেও কচুরিপানায় ঢেকে থাকে। কচুরিপানার পচনে সৃষ্টি হচ্ছে দূর্গন্ধ। এতে বেশ কিছু স্থানে মশার বসতি। ইছামতি নদীর ওপর কার্তিকপুর এলাকায় রাস্তা নির্মাণ করায় লঞ্চ চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। কাশিয়াখালি এলাকায় বেড়িবাঁধ দেয়ায় ওই পথেও ইছামতি নদীতে পানি আসা বন্ধ।

নানা জায়গায় বাঁধ নির্মানের ফলে ধীরে ধীরে এই নদী আর যৌবন ধরে রাখতে পারছে না। বষা মৌসুমে সামান্য প্রবাহ ফিরে পেলেও শুস্ক মৌসুমে মৃত প্রায়। কোথাও ধূঁধূঁ করে বালি আর বালি। মুন্সিগঞ্জের সিরাজদি খান , শ্রীনগর ও টঙ্গীবাড়ি, ঢাকা জেলার দোহার ও নবাবগঞ্জ এবং মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার নদী তীরবর্তী মানুষের ইছামতির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রায় দেড় যুগ যাবৎ। অথচ এক সময় এই অঞ্চলের মানুষগুলোর যাতায়াতের একমাত্র উপায় ছিলো ইছামতি। শুস্ক মৌসুমে পানি শূন্য হওয়ায় মাছের পরিমান হ্রাস পায়। ফলে মাছের উপর নিভরশীল পশু পাখি কমে যায়- এর ফলশ্রুতিতে গাছ পালা কমে যায়। কৃষকরা পানির জন্য গভীর নলকুপের উপর নিভরশীল হয়ে পড়ে। ক্রমাগত পানির উত্তোলনের ফলে পানির স্তরও নীচে নেমে যাচ্ছে। একদিকে বৃক্ষশূন্যের সাথে জীব বৈচিত্রের ক্রমাগত হ্রাস এবং পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এই অঞ্চলটি মারাত্বক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ইদানিং ভূপৃষ্ট উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। নদী তীরবর্তী মানুষ সহ কৃষি, মৎসের উপর নিভরশীল মানুষগুলোর অস্থিত্ব রক্ষার জন্য এবং এই অঞ্চলটির পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য ইছামতি নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।

তিন জেলার ৬টি উপজেলায় নাড়ের মতো পেঁচিয়ে আছে ইছামতিঃ ইছামতির নদীর শাখা মুন্সীগঞ্জের ভেতর দিয়ে সবচেয়ে বেশী প্রবাহিত হয়েছে। যা অন্য কোন নদীর ক্ষেত্রে দেখা যায় না। বিশেষ করে সিরাজদিখান, শ্রীনগর ও টঙ্গীবাড়িতে এর অসংখ্য শাখা বিভিন্ন গ্রামে ঢুকেছে। স্বাধীনতার পর থেকে নদী পরিবেশ নষ্ট হতে থাকে। নদীতে পলি ও বালি পড়ে নাব্যতা হ্রাস পেতে থাকে। বর্ষা এলে আবার নদী ফুলে-ফেপে ওঠে।এ সময় নদীটিকে সাপের আঁকাবাঁকা শরীরের মতো দেখা যায়। জলপ্রবাহ মওসুমী প্রকৃতির । ডিসেম্বর-মার্চ পর্যন্ত পানির প্রবাহ থাকে না। আগস্টে সবচেয়ে বেশি প্রবাহ হয় । এর পর পানির প্রবাহ কমতে থাকে। ক্রমাগত পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার বিরুপ প্রভাব পড়ছে ঢাকা জেলার দোহার-নবাবগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান,শ্রীনগর ও মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বাসিন্দারের উপর। বিশেষ করে নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলার প্রায় ৫ লক্ষাধিক বাসিন্দাদের পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।

মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার যমুনা নদী থেকে বের হয়ে ঘিওর, শিবালয়, হরিরামপুর, নবাবগঞ্জ, দোহার হয়ে ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী সিরাজদিখান উপজেলার রাজানগর-সৈয়দপুর ইউনিয়নের ফুলহার নামক স্থান দিয়ে মুন্সীগঞ্জে এর অনুপ্রবেশ। হযরতপুর (গোপালপুর), গণশেমপুর ও শেখনগর এখানে এসে ইছামতি নদীটি দু’ভাগ হয়ে একটি আলমপুর, বিল আড়িয়াল, ষোলগর, শ্রীনগর ও লৌহজং উপজেলার হলদিয়া দিয়ে পদ্মার সাথে মিলিত হয়েছে। অপরটি শিকারপুর, নিমতলা, কালারচর, ব্রজেরহাটি, বাসাইল, রামানন্দ, উত্তর রাঙ্গামালিয়া, চোরমদ্দন, সিরাজদিখান, রাজদিয়া, টেঙ্গুরিয়া পাড়া, বাহের ঘাটা, ছোট পাউলদিয়া, দোসর পাড়া, জামাই হাঁটি, চৌদ্দগড়, বয়রাগাদি, ফুরশাইল, তালতলা বাজার, টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পূর্ব রায়পুর, উত্তর বেতকা.বৃন্তসার, সেলিমাবাদ, সদর উপজেলার ইমামচর, তেলখিরা, কুমারিয়া হয়ে তিলার্দ্দি নামক স্থান দিয়ে ধলেশ্বরীতে পতিত হয়েছে।

ইছামতির যৌবন ফিরে পেতে যা যা করা প্রয়োজনঃ ইছামতির যৌবনকে ফিরিয়ে আনতে তরুন সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। সামাজিক সংগঠনগুলোক সচেতন হতে হবে এবং জনগণকে সচেনতা বৃদ্ধি করতে হবে।বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় জলাশয়, হাওর, বিল, ছোট বড় ২৫০-৩০০ খাল উদ্ধার করতে হবে। ছোট বড় বিলগুলোকে কোন অবস্থায় পানি বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। নদীতে পানির নিস্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। পুরাতন খালগুলোক খনন করতে হবে। আঁড়িয়ালবিল কুঠাবাড়ী , বাহ্রা, কৈইলাল, খৈশ্শার বিল, হরিকুলের বিল সহ আরো ছোট বড় বিলের সাথে ইছামতির পানি নিস্কানের ব্যবস্থা করতে হবে- যাহাতে বৃষ্টিসহ ঢলের পানি ইছামতিতে গড়িয়ে পড়ে। েইছামতিকে খননের ব্যবস্থা করতে হবে। খননের পাশপাশি নদী পরিস্কার ও দখলমুক্ত রাখতে হবে। ইছামতির বেশ কয়েকটি মুখে সুইন্স গেটের ব্যবস্থা করতে হবে। কার্তিকপুর, কলাকোপা, কাশিয়াখালী দোহার অভিমুখে সুইন্স গেটের ব্যবস্থা করতে হবে। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে যে খালগুলো ইছামতির সাথে সংযুক্ত ছিলো তাকে উদ্ধার করে নদীর সাথে সংযুক্ত করতে হবে- যাহাতে শুস্ক মৌসুমেও ইছামতিতে পানি প্রবাহ থাকে। ইছামতির সাথে ধলেশ্বরী ও কালিগঙ্গা নদীকেও নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে- তাহলে পানি প্রবাহ টেকসই হবে। শুধু ইছামতি খনন এবং সুইন্স গেট লাগালে ইছামতির যৌবন ফিরিয়ে আনা সম্ভবপর হবে ন।

গভীর নলকুপে বন্ধ করে নদীর মাধ্যমে কৃষকের সেচকায পরিচালনা করতে হবে। জায়গায় জায়গায় বাঁধ দিয়ে পানির গতিরোধ করা যাবে না। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। মাছের পরিমান বৃদ্ধি পেলে জীব বৈচিত্র বৃদ্ধি পাবে এবং জীব বৈচিত্র বৃদ্ধি পেলে গাছ গাছলার পরিমান বৃদ্ধি পাবে। এই অঞ্চলটি সবুজে শ্যামলে ভরে উঠবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে। নদী তীরবর্তী মানুষগুলো আবার ফিরে পাবে তাদের হারানো জীবকা।

ইছামতি নিয়ে এই কমযজ্ঞ শুরু হোক, তরুনরা এগিয়ে আসুক, সামাজিক সংগঠনগুলো জনগণকে সচেতন করে তুলোক- কৃষক ও মৎসজীবীরা আবার ফিরে পাক তাদের হারানো ্ঐহিত্যকে- এই কামনাই করছি।

দোহারে পদ্মায় ডুবে আলতাফ চোকদারের মৃত্যু

দোহারের বিলাসপুরের পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নৌকা ডুবে দোহার উপজেলা প্রজন্মলীগের সাধারন সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ নেতা আলতাফ চোকদারের মৃত্যু হয়েছে। আলতাফ চোকদার দোহার উপজেলা য়াওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি বাশার চোকদারের ভাই, বিলাশপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি রাশেদ চোকদার ও  বিলাশপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান হুকুম আলী চোকদারের ভাতিজা।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১টার দিকে ৪/৫ জন সহযোগী নিয়ে উপজেলার বিলাসপুর পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে যান আলতাফ। বৈরি আবাহাওয়ার কারনে নদী কিছুটা উত্তাল থাকায় তাদের বহনকারী নৌকাটি ডুবে যায়। এসময় তার সাথে থাকা সহযোগীরা সাঁতরে তীর উঠতে সক্ষম হলে নদীতে ডুবে যায় আলতাফ চোকদার। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নবাবগঞ্জ শিক্ষা সহায়কের যাত্রা শুরু

ঢাকার নবাবগঞ্জে ‘শিক্ষা সহায়ক’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়েছে । রবিবার সন্ধার পর উক্ত সংগঠনের উপদেষ্টা ঢাকা জেলা পরিষদের সদস্য ওয়াহিদুজাম্মান রনির উপস্থিতে নবাবগঞ্জের বাগমারা হলিডে পার্টি সেন্টারে এক আলোচনা সভার মাধ্যমে সংগঠনের সকল সদস্যদের নিয়ে এ সংগঠনের উদ্বোধনী যাত্রা শুরু করেন।

এ সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য থাকবে নবাবগঞ্জ উপজেলায় গরীব এবং অসহায় ছাত্রছাত্রীরা যারা টাকার অভাবে স্কুল কলেজে পড়াশোনা করতে পারে না তাদের পাশে থাকা, বিনামূল্যে বই বিতরণ করা , ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাদানে সহয়াতা করা, যারা মাদক সেবন করে তাদের এই নেশা থেকে মুক্তি করে শিক্ষায় উদ্বৃত্ত করা, সহ শিক্ষা ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের সহযোগীতা করাই থাকবে তাদের মূল উদ্দেশ্য।

সংগঠনের উপদেষ্টা ওয়াহিদুজাম্মান রনি বলেন, শিক্ষা জাতি মেরুদণ্ড. বর্তমান সমাজে একজন মানুষকে শিক্ষিত জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে হলে প্রথমেই শিক্ষালাভের প্রয়োজন। আর এই শিক্ষালাভ থেকে নবাবগঞ্জ অনেক ছেলে মেয়ে বঞ্চিত। কারন টকার অভাবে অনেক ছাত্রছাত্রীদের বাবা-মা স্কুল কলেজে তাদের ছেলে মেয়েদের পড়াতে পারছে না এবং পরীক্ষা দিতে পারছে না। তাই এই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য থাকবে সংগঠনের সকল সদস্যরা সকল দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের পাশে থেকে তাদের পড়াশোনার ব্যাপারে অার্থিক ভাবে সহযোগিতা করা।

এসময় সংগঠনের সভাপতি হিসেবে মো: আব্দুল হান্নান, সহ-সভাপতি মো: রাসেল, সাধারন সম্পাদক তাসদীদ আহম্মেদ, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক প্রশান্ত দাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রিয়াজুল করিম অঞ্জন, কোষাধ্যক্ষ জাহিদ হোসেন। সদস্যঃ মো: শহিদুল ইসলাম, বাসুদেব রায়,  সুমন পাল,  মাসুদ রানা সহ পূর্ন কমিটি ঘোষনা করা হয়।

মঙ্গল গ্রহে পানির সন্ধান পেয়েছে নাসা !

দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর মঙ্গল গ্রহে পানির চিহ্ন আবিষ্কার করল নাসা।  মঙ্গল গ্রহের দক্ষিণ দিকে এরিদানিয়ায় সমুদ্র থাকার চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে ৷  নাসার মার্সরেকনাইসেন্স অর্বিটার এই তথ্য দিয়েছে ৷

মঙ্গলের দক্ষিনে এরিদানিয়ায় প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন বছর আগে সমুদ্র ছিল বলেও মনে করা হচ্ছে ৷ কারণ এখানে সমুদ্রের তলার হাইড্রোথার্মাল অ্যাক্টিভিটির নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে ৷ গবেষকরা জানিয়েছেন যে, পানি গরম হয়ে বাস্পীভূত হয়ে এই জায়গার সৃষ্টি হয়েছে ৷

নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের পল নাইলস জানিয়েছেন, জায়গাটি সেখানে সমুদ্র থাকার প্রমাণ দিচ্ছে ৷ পৃথিবীতে যেমন সমুদ্রের গভীরে জলবিদ্যুৎ শক্তি আছে, তেমনই এখানেও পাওয়া গিয়েছে ৷ প্রাণ থাকার উপযুক্ত পরিবেশও এখানে আছে ৷ জীবনের জন্য কোনও অসাধারণ আবহাওয়া দরকার হয় না ৷ শুধু মাটি, তাপ ও পানি হলেই চলে৷ সম্প্রতি মঙ্গলের ওই অঞ্চলে তার প্রতিটি উপাদানই পাওয়া গিয়েছে

গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, মঙ্গলের এরিদানিয়ায় যে পানির চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে, তা মোটেও কম নয় ৷ প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার কিলোমিটার জুড়ে সমুদ্র থাকার প্রমাণ মিলেছে৷ এমনকি ধাতব মিশ্রণও এখানে পাওয়া গিয়েছে ৷ অভ্র ও কার্বোনেটের প্রমাণ মিলেছে ৷ সেগুলো যেভাবে ছড়িয়ে আছে, তাতে পানি থাকার সম্ভবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না ৷

মঙ্গলের এই এলাকায় লাভার চিহ্নও পাওয়া গিয়েছে ৷ লাভার প্রমাণ পাওয়ার পর এইটুকু স্পষ্ট যে এখানে আগ্নেয়গিরির অস্তিত্ব ছিল ৷ নাইলস জানিয়েছেন, মঙ্গলে নতুন অ্যাস্ট্রোবায়োলজিকাল টার্গেটের প্রমাণ দিল এরিদানিয়া ৷

এরিদানিয়ায় পাওয়া এই সব প্রমাণ শুধু মঙ্গলের ক্ষেত্রে নয়, পৃথিবীর ক্ষেত্রেও একটি নতুন দরজা খুলে দিয়েছে ৷ পৃথিবীতে জীবন কীভাবে এল সেদিকেও একটা নতুন দিশা দেখাতে পারে মঙ্গল ৷

চে গুয়েভারা; ভালবাসতেন বিপ্লব ও কবিতা  

বিশ্ব পুঁজিবাদের আতঙ্কের নাম আর্নেস্টো চে গুয়েভারাকে নির্মমভাবে হত্যা করে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ভেবেছিল, তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সমাজতন্ত্রের সংগ্রাম শেষ হয়ে যাবে লাতিন আমেরিকায় | কিন্তু যুগে যুগে চে’র আদর্শের মৃত্যু হয়নি। লাতিন আমেরিকা সহ বিশ্বের দেয়ালে দেয়ালে চে’র ছবি | লাতিন আমেরিকা জুড়ে সংগ্রামী নেতা চে গুয়েভারা এ অঞ্চলের কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন | যেখানে শ্রমজীবী, মেহনতি মানুষের সংগ্রাম সেখানে চের ছবি হয়ে ওঠে সংগ্রামের অনুপ্রেরণা |

কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেয়া এই বিশ্ব বিপ্লবীর জন্ম আর্জেন্টিনার রোসারিওতে ১৯২৮ সালের ১৪ই জুন | একজন আর্জেন্টিনীয় মার্কসবাদী , বিপ্লবী, ডাক্তার, লেখক, বুদ্ধিজীবী, গেরিলা নেতা, কূটনীতিবিদ, সামরিক তত্ত্ববিদ এবং কিউবায় বিপ্লবের প্রধান ব্যক্তিত্ব | তার বাবা ছিলেন মুক্তমনের অধিকারী | ধর্মীয় অনুশাসন মানতেন না | আর মা ছিলেন শতভাগ মার্কসবাদী সংগঠক | সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারার পরিবারে বেড়ে ওঠার কারণে অল্প বয়সেই তিনি রাজনীতি সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান লাভ করেন | সাংস্কৃতিক আবহে বেড়ে ওঠা চের পরিবারে ছিল তিন হাজারেরও বেশি বই | যা চে’কে করে তোলে একজন জ্ঞান পিপাসু ও সমাজ সচেতন পাঠক | তার বাবা ছিলেন স্পেনের গৃহযুদ্ধে রিপাবলিকানদের একজন গোড়া সমর্থক | মেহনতি, নির্যাতিত মানুষকে ভালোবাসতে শেখা পরিবারের মধ্য দিয়ে | বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদী, লুটেরা, ধনিক শ্রেণীর আতঙ্কের নাম ‘চে’ আর মেহনতি, শ্রমজীবী, সংগ্রামী মানুষের বন্ধু চের ছিল বর্ণাঢ্য জীবন | তিনি তার সেই জীবনের কিছু অংশ ‘মোটরসাইকেল ডায়েরি’, ‘বলিভিয়ার ডায়েরি’ ও ‘ডাক দিয়ে যাই’ নামক তিনটি গ্রন্থে লিখে গেছেন |

চে গুয়েভারা ১৯৪৮ সালে বুয়েনস আয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাক্তারি বিষয়ে লেখাপড়ার জন্য ভর্তি হন | ১৯৫১ সালে লেখাপড়ায় এক বছর বিরতি দিয়ে আলবার্টো গ্রানাডো নামক এক বন্ধুকে সাথে করে মোটর সাইকেলে দক্ষিণ আমেরিকা ভ্রমনে বেরিয়ে পড়েন যার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল পেরুর সান পেবলোর লেপার কলোনিতে (কুষ্ট রোগীদের জন্য বিশেষ কলোনি) স্বেচ্ছা সেবক হিসেবে কয়েক সপ্তাহ কাজ করা | মাচু পিচ্চুর যাওয়ার পথে তিনি প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র কৃষকদের চরম দারিদ্রতা দেখে ভীষণভাবে মর্মাহত হন | এ কৃষকরা ধনী মহাজনদের অধিনে থেকে ছোট ছোট জমিতে কাজ করত | তাঁর ভ্রমণের পরবর্তি সময়ে তিনি লেপার কলোনিতে বসবাসকারী মানুষের মাঝের ভাতৃত্ব ও সহচার্য দেখে অভিভূত হন | এই অভিজ্ঞতা থেকে তাঁর ডায়েরীতে(The Motorcycle Diaries,) তিনি লিখেছেন, ‘মানব সত্ত্বার ঐক্য ও সংহতির সর্বোচ্চ রুপটি এ সকল একাকী ও বেপরোয়া মানুষদের মাঝে জেগে উঠেছে’ | এই ভ্রমণ তাকে নিয়ে যায় আর্জেন্টিনা, চিলি, পেরু, ইকুয়েডর, কলম্বিয়া, ভেনিজুয়েলা, পানামা ও মিয়ামির মধ্য দিয়ে বুয়েনস আয়ার্সের এর দিকে | ভ্রমণের শেষ দিকে তিনি এই মত পোষণ করেন যে দক্ষিণ আমেরিকা আলাদা আলাদা দেশের সমষ্টি নয় বরং এক অভিন্ন অস্তিত্ব যার প্রয়োজন মহাদেশব্যপী স্বাধীনতার জাগরণ ও স্বাধীনতার পরিকল্পনা | পরবর্তিতে তাঁর নানা বিপ্লবী কর্মকান্ডে এই একক, সীমানাবিহীন আমেরিকার চেতনা ফিরে আসে বার বার | লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে খনি মালিকদের নির্যাতন, নিপীড়িত শ্রমিকদের প্রতি ধীরে ধীরে একাত্ম হয়ে ওঠেন তিনি | এ ভ্রমণকালে তাঁর অর্জিত অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষনের ভিত্তিতে তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈষম্যের স্বাভাবিক কারণ হলো পুঁজিবাদ, নব্য ঔপনিবেশিকতাবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ। আর এর একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখেন বিশ্ববিপ্লব |

তার প্রধান স্বপ্ন লাতিন আমেরিকাকে স্বৈরাচার ও সাম্রাজ্যবাদী শৃঙ্খলমুক্ত করা | এই বিশ্বাসের বশবর্তী হয়েই চে রাষ্ট্রপতি জাকোবো আরবেনজ গুজমানের নেতৃত্বাধীন গুয়েতামালার সামাজিক সংস্কার আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন | ১৯৫৪ সালের শুরুর দিকে চে মেক্সিকোতে আসেন এবং সদর হাসপাতালে এলার্জি বিভাগে চাকুরি গ্রহণ করেন | পাশাপাশি ন্যাশনাল অটোনোমাস ইউনিভির্সিটি অব মেক্সিকোতে মেডিসিন বিষয়ে প্রভাষক এবং লাতিনা সংবাদ সংস্থার চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করেন | ১৯৫৫ সালের জুন মাসে তার বন্ধু নিকো লোপেজ রাউল কাস্ত্রোর সাথে তার পরিচয় করান এবং পরে তার বড় ভাই ফিদেল কাস্ত্রোর সাথে পরিচিত হন | কাস্ত্রোর সাথে তার প্রথম সাক্ষাতে দীর্ঘ আলাপচারিতা হয় এবং চে বলেন যে কিউবার সমস্যা নিয়ে তিনি চিন্তিত | এক পর্যায়ে মাত্র ১৭ জন বিপ্লবী, চে ও ফিদেল মিলে সংগঠিত হয়ে টানা আড়াই বছর গেরিলা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী বাতিস্তা সরকারকে উচ্ছেদ করে বিপ্লব সফল করেন |

কিউবার মুক্তি সংগ্রামে তার অবিস্নরণীয় অবদানের জন্য নাগরিকত্ব লাভ করেন | কিউবার বিপ্লবের পর চে নতুন সরকারে একাধিক গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন | এর মধ্যে ছিল বিপ্লবী আদালতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, শিল্পমন্ত্রী হিসেবে খামার সংস্কার আইন প্রবর্তন, কিউবার জাতীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, সামরিক বাহিনীর ইন্টারন্যাশনাল ডিরেক্টরের ভূমিকা পালন ও কিউবার সমাজতন্ত্রের প্রচারে বিশ্বভ্রমন | চে সোভিয়েত ইউনিয়নসহ ইউরোপ, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা, চীন, মিশর ও অন্যান্য দেশ ঘুরে কিউবায় শিল্প গড়ে তোলার চেষ্টা করেন এবং সফল হন | এ ছাড়াও চে গ্রেনেড তৈরির কারখানা, রুটি সেকার চুল্লী প্রস্তুত, নিরক্ষর সঙ্গীদের লেখাপড়ার জন্য পাঠশালা, স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, সামরিক প্রশিক্ষণের কর্মশালার আয়োজন এবং তথ্য সরবরাহের জন্য পত্রিকা প্রচারের ব্যবস্থা করেন | এ সব কারণে টাইম ম্যাগাজিন চে’কে “ক্যাস্ট্রোর মস্তিস্ক” বলে আখ্যায়িত করেছিলেন | কিন্তু যার চোখ, মন পড়ে আছে সারা পৃথিবীর নিপীড়িত মানুষকে মুক্ত করার জন্য তার কিউবার শিল্পমন্ত্রী থাকাটা বেশিদিন স্থায়ী থাকে না | ১৯৬৫ সালের ২৪ এপ্রিল তিনি, তার সেকেন্ড কমান্ড ভিক্টর বার্ক এবং ১২ জন সহচরী নিয়ে কঙ্গোয় পৌছান | তার কিছু দিনের মধ্যে প্রায় ১০০ জন আফ্রো-কিউবান তাদের সাথে যোগ দেন | এখানে তিনি কঙ্গোর গৃহযুদ্ধে অংশ নেয়া লুমুম্বা ব্যাটেলিয়ন সংগঠনের দায়িত্ব নেন | ১৯৬৬ সালের শেষের দিকে বন্ধু ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে কথা বলেই কিউবার কয়েক কমরেডকে সঙ্গে নিয়ে গোপনে বলিভিয়ায় আসেন চে গুয়েভারা | বলিভিয়ায় মার্কিন মদদপুষ্ট স্বৈরাচারী সরকারকে উৎখাত করে শ্রমজীবী, নিপীড়িত মানুষের সরকার গঠনের প্রস্তুতি নেন চে গুয়েভারা | কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কিছু অসহযোগিতার কারণে সফল হননি | ১৯৬৭ সালের ৯ই অক্টোবর মার্কিন মদদপুষ্ট বলিভিয়ার বাহিনীর হাতে কিছু গেরিলা যোদ্ধা সহ ধরা পড়েন এবং নির্মম হত্যার শিকার হন | কমরেড চে তোমায় লাল সালাম |

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাষায় চে গুয়েভারাকে নিয়ে যত কবিতা, প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা, তথ্যচিত্র, গান, চলচ্চিত্র, শোকগাথা রচিত হয়েছে তা সত্যিই বিরল | এত লেখালেখি হয়ত আর কোন বিপ্লবীকে নিয়ে হয়নি | চিলির বিপ্লবী কবি পাবলো নেরুদা তাঁর স্মৃতিকথায় লিখেছেন ‘চে’কেই আমরা দেখি বিষণ্ন এক যোদ্ধার প্রতিকৃতিতে, যিনি ভালবাসতেন বিপ্লব আর ভালবাসতেন কবিতা | যার অস্ত্রের পাশেই থাকত কবিতা |’ তার মৃত্যুর পর নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছিল, ‘একজন মানুষের সঙ্গে সঙ্গে একটি রূপকথাও চিরতরে বিশ্রামে চলে গেল |’ মৃত্যুর পর প্রায় অর্ধ শতাব্দী পরেও টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত বিংশ শতাব্দীর সর্বসেরা প্রভাবশালী একশ ব্যক্তির তালিকায় রয়েছে তাঁর নাম |

নায়ক জসিম: নবাবগঞ্জের এক তারকার গল্প

নায়ক জসিম। এই তারকার আসল নাম আবদুল খায়ের জসিম উদ্দিন। জন্ম ১৯৫০ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকার নবাবগঞ্জের বক্সনগর গ্রামে। লেখাপড়া করেন বিএ পর্যন্ত। তার প্রথম স্ত্রী ছিলেন ড্রিমগার্ল খ্যাত নায়িকা সুচরিতা। পরে তিনি ঢাকার প্রথম সবাক ছবির নায়িকা পূর্ণিমা সেনগুপ্তার মেয়ে নাসরিনকে বিয়ে করেন। জসীমের তিন ছেলে রাতুল, রাহুল ও সামি। তারা তিনজনই ব্যান্ড সঙ্গীতের সঙ্গে জড়িত।

ঢাকাই সিনেমার আকাশে জ্বলজ্বল করা এক নক্ষত্র। ছিলেন একাধারে নায়ক ও খলনায়ক। স্বাধীনতার পর আধুনিক বাংলা চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নেয়ার পেছনে তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অ্যাকশন ধারার প্রবর্তন এবং ‘ফাইটিং গ্রুপ’ বিষয়টার শুরু জসিমের হাত ধরে।

১৯৭৩ সালে জহিরুল হকের ‘রংবাজ’ ছবিতে খলনায়ক চরিত্রের মধ্য দিয়ে অভিনেতা হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন মুক্তিযোদ্ধা জসিম। ছবিটির অ্যাকশন দৃশ্যগুলো ছিল তার নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা জ্যাম্বস ফাইটিং গ্রুপের করা।

নিজের কাজের প্রতি নায়ক জসিম কতোটা নিবেদিত ছিলেন তার উদাহরণ দেওয়ান নজরুলের ‘দোস্ত দুশমন’ ছবিতেই পাওয়া যায়। ‘দোস্ত দুশমন’ হিন্দি সাড়াজাগানো ছবি ‘শোলে’র রিমেক। ছবিতে জসিম গব্বার সিংয়ের চরিত্রটি করেছিলেন। আসল চরিত্রটি করা ভারতীয় খলনায়ক আমজাদ খান পর্যন্ত ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন জসিমের।

জসিমের মৃত্যুর পর এফডিসির সর্ববৃহৎ ২ নম্বর ফ্লোরকে তার নামে নামকরণ করা হয়। তিনি শুধু বাংলা চলচ্চিত্রের একজন জনপ্রিয় নায়কের নাম নয়, তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের সাফল্য ও পরিবর্তনের একটি অধ্যায়ের নাম।

তার উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলো ছিল- ‘সবুজ সাথী’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’, ‘ছোটবৌ’, ‘মোহাম্মদ আলী’, ‘রকি’, ‘হিরো’, ‘অশান্তি’ , ‘বৌমা’ , ‘স্বামীর আদেশ’ , ‘টাকা পয়সা’ , ‘অভিযান’, ‘পরিবার’, ‘সারেন্ডার’, ‘ভাই আমার ভাই’, ‘ভাইজান’, ‘গর্জন’, ‘বিজয়’, ‘লালু মাস্তান’, ‘অবদান’, ‘ন্যায় অন্যায়’ , ‘লোভ লালসা’, ‘আদিল’, ‘কাজের বেটি রহিমা’ , ‘উচিৎ শিক্ষা’, ‘লক্ষ্মীর সংসার’, ‘মাস্তান রাজা ‘ , ‘কালিয়া’, ‘ওমর আকবর’, ‘ দাগি সন্তান’, ‘ সম্পর্ক’ , ‘শত্রুতা’, ‘নিষ্ঠুর’ , ‘পাষাণ’, ‘হিংসা’, ‘ভাইয়ের আদর’, ‘হাতকড়া’, ‘ডাকাত’, ‘বাংলার নায়ক’, ‘রাজাবাবু’, ‘রাজাগুণ্ডা’, ‘ঘাত প্রতিঘাত ‘ ‘স্বামী কেন আসামী’ ইত্যাদি।

৮ অক্টোবর বাংলা চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তির ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯৮ সালের এই দিনে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে মারা যান তিনি।