ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ

0

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয়, তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া, গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণে পিছিয়ে পড়া- এ তিন কারণে বাংলাদেশ ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পড়েছে বলে মত দিয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, মিয়ানমার-বাংলাদেশ, ভারত-বাংলাদেশ, চীন-বাংলাদেশ এবং রাশিয়া-বাংলাদেশের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেদিক বিবেচনায় বাংলাদেশ বর্তমানে একটা স্পর্শকাতর অবস্থানে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হলেও ভূ-রাজনৈতিক, ভূ-কৌশলগত দিক থেকে বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বিষয়ে শুরু থেকেই রাশিয়া বিষয়টিকে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের ‘অভ্যন্তরীণ সংকট’ বলে অভিহিত করেছে। একই সুরে সুর মিলিয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী চীনও। তবে চীনের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার সরকারের নীতিকে প্রভাবিত করার আশ্বাস দেয়া হয়েছে বাংলাদেশকে।

প্রতিবেশী ভারত প্রথমে মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিলেও বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় তাদের অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে। গত সপ্তাহে ঢাকা সফরকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ মিয়ানমার সরকারের উদ্দেশ্যে বলেছে, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া ও পুনর্বাসন করা হবে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান।

এদিকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সফরে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, রোহিঙ্গা ইস্যুর মূলে রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক, ভূ-কৌশল ও ভূ-অর্থনৈতিক কারণ। এ কৌশলের অংশ হিসেবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গভীর সমুদ্র বন্দর হতে যাচ্ছে। পাকিস্তানে গভীর সমুদ্র বন্দর হয়েছে আবার ভারতে গভীর সমুদ্র বন্দর আছে। গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ে যাচ্ছে, যা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা একটা ঝুঁকিপূর্ণ চ্যালেঞ্জিং পজিশনে আছি। মিয়ানমারের যে অবস্থান সেটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং চীনের জন্যও। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, সে ঘটনায় নিশ্চুপ থাকার সুযোগ নেই। বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা চলে এসেছে, তাদের ফেরত পাঠাতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই।

‘উভয় সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ। একদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে যেমন মিয়ানমারের সম্পর্কটা গুরুত্বপূর্ণ, একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের মানবিক বিপর্যয়ও গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে বাংলাদেশ এ দুটি ক্ষেত্রে সতর্কতার সঙ্গে বিশ্বে উপস্থাপন করেছে। বাংলাদেশের সমস্যা এবং রোহিঙ্গাদের সমস্যা একাকার হয়ে গেছে। বাংলাদেশের অবস্থানের পেছনে কূটনৈতিক একটা ইতিবাচক দিক আছে। সাময়িকভাবে মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের জায়গায় একটা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে, এ সংকট মোকাবেলার মাধ্যমে বাংলাদেশের আরও শক্তিশালী অবস্থানে যাওয়ার সুযোগ আছে।’

কূটনৈতিক এ বিশ্লেষক বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত বা চীনের অবস্থান আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হচ্ছে। বাংলাদেশও স্পর্শকাতর অবস্থানে আছে। বাংলাদেশের মানুষ রোহিঙ্গা ইস্যুকে আবেগ দিয়ে দেখছে। আবেগ অবশ্যই থাকবে, কিন্তু রাষ্ট্রের জন্য আমাদের নিজস্ব যে ভূ-রাজনৈতিক, ভূ-কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক যে দিকগুলো আছে তা বিবেচনা করতে হবে। বাংলাদেশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে। মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ককে আমরা হাইলাইট করছি। এ পরিস্থিতির ভালো-মন্দ দুটো দিকই আছে। বিশ্বব্যাপী আমাদের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল হয়েছে। মানবিক সাহায্যের জন্য আমরা যে ধরনের হাত বাড়িয়ে দিয়েছি তাতে বোঝা যায় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের বিষয়ে দেশের জনগণের মধ্যে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আছে। আবার ভারত ও চীনের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের জায়গাটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, রাখাইনে পোর্ট (বন্দর) হওয়ায় অবশ্যই তা বাংলাদেশের পোর্টগুলোতে প্রভাব ফেলবে। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে আমরা পিছিয়ে পড়ব। আমরা বসে থাকলেও, কেউ তো আর বসে থাকবে না। সোনাদীয়া গভীর সমুদ্র বন্দর, মংলা গভীর সমুদ্র বন্দর, এগুলো যত দেরি হবে, ততই আমরা পিছিয়ে যাব। আমাদের গভীর সমুদ্র বন্দরের গুরুত্ব হয়ত থাকবে, কিন্তু এখান থেকে যতটা বেনিফিটেড হওয়ার কথা, সেটা নাও হতে পারি। যখন একাধিক পোর্ট হবে তখন অনেক প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি হবে।

‘কৌশলগত দিক থেকে, অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দিক থেকে যত দেরি হবে ততই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব। যারা এখানে বিনিয়োগ করবেন, তারা এখান থেকে সর্বোচ্চ মুনাফা নেয়ার চেষ্টা করবেন। আমরা যেভাবে কালক্ষেপণ করছি তাতে আমাদের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে’- যোগ করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের প্রয়োজনেই গভীর সমুদ্র বন্দর দরকার। চীন যদি মিয়ানমারে গভীর সমুদ্র বন্দর করে সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে হয়ত চীনের আগ্রহ কমে যাবে। সেক্ষেত্রে অন্য জায়গা থেকে হয়ত অর্থ সংগ্রহ করতে হবে।

ভূ-রাজনৈতিক কৌশল সম্পর্কে তিনি বলেন, আগেকার দিনে জলের সঙ্গে স্থলের সম্পর্ক তৈরির একটা বিষয় ছিল। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সেটা হয়ত তেমন গুরুত্ব বহন করে না। আমাদের চীনের প্রয়োজন নেই। এ ধরনের নৌবন্দরের বিষয়ে গুরুত্বটা হবে অর্থনৈতিক। দিন দিন জাহাজের আয়তন বাড়ছে, বড় বড় জাহাজ তৈরি হচ্ছে এখন। বিভিন্ন দেশে পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। ফলে জলের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কারণ এ পথে পণ্য পরিবহন নিরাপদ, খরচও কম। সেই হিসেবে অর্থনৈতিক বিষয়টি বড়, নিরাপত্তার বিষয়টি বর্তমান প্রযুক্তিতে খুব একটা গুরুত্ব বহন করে না।

সাবেক রাষ্ট্রদূত রাশেদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, জাতীয় স্বার্থে আমাদের পোর্টটা (বন্দর) করতে হবে। এখন এটা আমাদের চ্যালেঞ্জ। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে এটা আমাদের করে ফেলতে হবে। ভারত, চীনের ওপর আমাদের নির্ভরতা কমাতে হবে। আমাদের কিছু কৌশলগত বিষয় আছে, আমরা মেরিটাইম ল্যান্ড বাউন্ডারি জিতেছি। এখন মধ্য আয়ের দেশ হতে হলে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আমাদের গভীর সমুদ্র বন্দর করা দরকার।

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যদি দেখেন তাহলে একাধিক গভীর সমুদ্র বন্দর গড়ে উঠলেও তা বাংলাদেশে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।

অবিভক্ত বাংলার জাতীয় নেতা শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক

0

শের-ই-বাংলা একে ফজলুল হক এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য আমৃত্যু সংগ্রাম করেছেন। দেশ এবং জাতির কল্যাণে অবদানের জন্য ইতিহাসের পাতায় তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এ দেশের কৃষক শ্রমিক তথা মেহনতি মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে তার অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। এ কে ফজলুল হকের অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। স্বাধীনতার চেতনা ও গনতান্ত্রীকতাবোধের সৃষ্টিতে তার অসামান্য অবদানের কথা এদেশের মানুষের মন থেকে কোনদিনই বিস্মৃত হবে না।

বাংলার ধূলোমাটি ছিল যাঁর গৌরব, বাংলার মানুষের জন্যে অসীম ভালবাসা ছিল যাঁর প্রাণের সৌরভ, বাংলার মানুষের সেবার জন্যে আজীবন সংগ্রাম ছিল যাঁর জীবনের লক্ষ্য, নীতির প্রশ্নে যিনি ছিলেন আপোষহীন, তিনি হচ্ছেন আমাদের শের-এ-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক। বাঙালী জাতির গর্বের উৎস এবং কেন্দ্র আমাদের শের-এ-বাংলা। যুগযুগ ধরে ত্যাগ তিতিক্ষার দ্বারা বাঙালিদের জীবনের সর্বক্ষেত্রে সর্বস্তরে জ্ঞান ও কর্ম সাধনার যে আদর্শ তিনি স্থাপন করে গেছেন, তা চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক বাংলার বাঘ ছিলেন।

শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। দেশের কৃষক শ্রমিক তথা মেহনতি মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এ কে ফজলুল হকের অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে।ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার জন্য তিনি ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তার আদর্শ যদি আমরা অনুসরণ ও বাস্তবায়ন করতে পারতাম তাহলে জাতি হিসেবে আজ অনেক দূর এগুতে পারতাম। বাঙ্গালি মুসলিম সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক হিসেবে শেরে বাংলা জাতির কাছে চিরস্মরণীয়। জাতি হিসেবে আমরা যে সবাই বাঙালি এই ঐতিহাসিক সত্যের মূল ভিত্তি তিনিই রচনা করেছিলেন।

শেরে বাংলা আমৃত্যু ছিলেন শোষিত ও বঞ্চিত জনগণের অতি আপনজন। একমাত্র প্রেসিডেন্টের পদটি ছাড়া সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদ ছিল না, যা তিনি কোনো এক সময় অলঙ্কৃত করেননি। এ অঞ্চলের মানুষের শিক্ষা, রাজনীতি, সমাজ সংস্কার ইত্যাদি ক্ষেত্রে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন শেরে বাংলা। অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ফজলুল হক এ অঞ্চলের মানুষের শিক্ষা, রাজনীতি, সমাজ সংস্কার ইত্যাদি ক্ষেত্রে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।

সালিশী বোর্ড গঠনের মাধ্যমে এদেশের কৃষককুলকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে উদ্ধার করতে সামর্থ্য হয়েছিলেন। প্রজাস্বত্ব¡ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তিনি ভূমির ওপর এদেশের কৃষক সমাজের অধিকার আদায়ে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেন। বাংলার কৃষক ও মেহনতি জনতার অকৃত্রিম বন্ধু শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুর হকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনের ফলেই দেশে প্রজাস্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। বাঙালি কৃষক সমাজ সামন্তবাদের শোষণ থেকে মুক্ত হয়। বাংলার গরীব-দুঃখী মানুষের জন্য এ কে ফজলুল হকের অসীম মমত্ববোধ এ দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে। তাঁর উদ্যোগে বঙ্গীয় চাকরি নিয়োগবিধি, প্রজাস্বত্ব আইন, মহাজনী আইন, দোকান কর্মচারী আইন পাশ হয়। ফলে এ অঞ্চলের অবহেলিত কৃষক-শ্রমিক উপকৃত হন। তিনি বহুগুণের অধিকারী ছিলেন, বাংলার মানুষের কাছে তিনি শের-ই বাংলা হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন।

জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর বরিশালের রাজাপুর থানার সাতুরিয়া গ্রামে। বিপুল ঐশ্বর্যশালী পিতার একমাত্র সন্তান হলেও ফজলুল হক বাল্যকাল থেকেই বহু সদগুণের অধিকারী ছিলেন। তেমনি শৃঙ্খলা ও আদর্শের প্রতি অনুরক্ত করেই গড়ে তোলা হয়েছিল তাঁকে।শের-এ-বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের বাল্যকাল থেকেই তেজস্বিতা, তীক্ষ্ণ মেধা ও প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায়। ঘরেই তাঁর আরবী, ফারসি ও উর্দু শিক্ষা শুরু হয়। ১৪ বছর বয়সে বরিশাল জেলা স্কুল থেকে প্রথম শ্রেণীর বৃত্তি এবং পরিতোষিকসহ ঢাকা বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে ১৮৮৯ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষা পাস করেন। ১৮৯১ কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এফএ পাস করেন। ১৮৯৩ সালে তিনি গণিত, রসায়ন ও পদার্থ বিদ্যায় প্রথম শ্রেণীতে বি.এ.পাস করেন। এবং ইংরেজি বিভাগে এম.এ ক্লাশে ভর্তি হন। ১৮৯৭ সালে তিনি লর্ড রিপন কলেজে ভর্তি হয়ে বি.এল. পাস করেন।

আশুতোষ মুখার্জির হাত ধরে শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯০০ সালে তিনি ওকালতিতে যোগদান করেন এবং ১৯০১ সালে তিনি বরিশালে ফিরে আসেন। ১৯০৩-১৯০৪ সাল পর্যন্ত তিনি বরিশাল বারের সহকারী সম্পাদক হিসেবে জয় লাভ করেন। ১৯০৬ সালে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্টেটের চাকরি গ্রহণ করেন। কিন্তু তেজস্বী হক সাহেব সরকারের সাথে মতবিরোধ হওয়ায় ১৯১১ সালে চাকরি ছেড়ে আবার আইন ব্যবসায়ে নেমে পড়েন এবং একই সময়ে নবাব স্যার সলিমুল্লাহর সঙ্গে মুসলিম লীগ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯১২ সালে তিনি মুসলিম লীগে যোগ দেন। ১৯২৪ সালে অবিভক্ত বাংলা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী হন। ১৯০৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত নিখিন ভারত মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে তিনি অংশ নেন। ১৯১৩ সাল থেকে ১৯২০ সাল পর্যন্ত তিনি বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার সদস্য ছিলেন। ১৯২০ থেকে ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত মন্টেগু-চেমসফোর্ট কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে কাজ করেন। ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ কংগ্রেসের যুক্ত অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।

১৯১৮ সালে ফজলুল হক লিখিত ভারত মুসলিম লীগের দিল্লী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। সেখানে সভাপতি হিসেবে তাঁর দেওয়া ভাষণ ইতিহাসের এক স্বর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে। ১৯১৮ সালে শেরে বাংলা যখন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক, তখন ভারতের মহান নেতা মতিলাল নেহরু ছিলেন কংগ্রেসের যুগ্ম সম্পাদক।

শেরে বাংলা ফজলুল হকই প্রথম বাঙালি হিসেবে অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিশাল রাজনৈতিক গৌরব অর্জনে সক্ষম হয়েছিলেন। ১৯২৮ সালে তিনি নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সভাপতি ও নিখিল ভারত জাতীয় কংগ্রেসে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। শেরে বাংলা একে ফজলুল হক নবাব আব্দুল লতিফ সি আই ই-এর পৌত্রী খুরশিদ তালাত বেগমের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কর্মজীবন বঙ্গীয় আইন পরিষদ ১৯১৩ সালে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে এ. কে. ফজলুক হক বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯১৫ সালে পুনরায় ঢাকা বিভাগ থেকে বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। নিখিল ভারত মুসলিম লীগ ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ নিয়ে বাংলার জনগণ বিভক্ত হয়ে পড়লে, নবাব স্যার সলিমুল্লাহ উপলব্ধি করেন মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি সংগঠন দরকার। এই চিন্তা থেকেই ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর নবাব সলিমুল্লাহ ঢাকায় অল ইন্ডিয়া মুসলিম এডুকেশন কনফারেন্স আহবান করেন। এই কনফারেন্সে নবাব সলিমুল্লাহ নিখিল ভারত মুসলিম লীগ নামে রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তাব পেশ করেন ও সেই প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। অবশেষে ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের সূত্রপাত ঘটে। নিখিল ভারত কংগ্রেস ১৯১৪ সালে ফজলুল হক নিখিল ভারত কংগ্রেসে যোগ দেন। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম লীগ ও কংগ্রেস দলের নেতা হয়ে উঠেন। ১৯১৮ তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সেক্রেটারি জেনারেল নির্বাচিত হন।

খেলাফত আন্দোলন এ. কে. ফজলুক হক খেলাফত আন্দোলনেও অংশগ্রহণ করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর খেলাফত আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। এ. কে. ফজলুক হক নিখিল ভারত খেলাফত কমিটির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলার শিক্ষামন্ত্রী এ. কে. ফজলুক হক ১৯২২ সালে মহাত্মা গান্ধী অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিলে এ. কে. ফজলুক হক খুলনা উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতা করেন এবং নির্বাচিত হন। ১৯২৪ সালে খুলনা অঞ্চল থকে তিনি পুনরায় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং এ সময় বাংলার গভর্ণর ছিলেন লিটন ফজলুল হককে বাংলার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিয়োগ করেন।

কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচন ১৯৩৫ সালে এ. কে. ফজলুক হক কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। তিনিই কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র। কৃষক রাজনীতি ১৯২৪ সালে শিক্ষামন্ত্রীর পদে ইস্তফা দেয়ার পর থেকে আবুল কাশেম ফজলুল হক সম্পূর্ণরূপে জড়িয়ে পড়েছিলেন কৃষকদের রাজনীতি নিয়ে। ১৯২৯ সালে নিখিল বঙ্গ প্রজা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় কলকাতায়। ঢাকায় প্রজা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৩৪ সালে। এই সম্মেলনে এ. কে. ফজলুক হক সর্বসম্মতিক্রমে নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। এই প্রজা সমিতির মধ্য দিয়েই পরবর্তিতে কৃষক-প্রজা পার্টির সূত্রপাত ঘটে। ফজলুল হক কৃষকদের অর্থনৈতিক মুক্তির আন্দোলন করেছিলেন। তিনি কৃষক প্রজা পার্টি গঠন করে কৃষকদের অধিকার আদায়ে ছিলেন সোচ্চার। তিনি বলেন, ফজলুল হক ১৯৩৭ সালে ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে কৃষকপ্রজা পার্টি থেকে নির্বাচিত হন। ১৯৩৭ সালের নির্বাচন ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে কৃষক প্রজা পার্টি ৩৯টি আসন ও মুসলীম লীগ ৩৮ টি আসন লাভ করে। নির্বাচনে মুসলিম লীগের সথে সমঝোতায় গিয়ে এ. কে. ফজলুক হক ১১ সদস্য বিশিষ্ট যুক্ত মন্ত্রী পরিষদ গঠন করেন। বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেরে বাংলা।

১৯৩৭ সালের নির্বাচনে সকল নির্বাচনী দল তাদের ইশতিহারে বাংলাকে কচুরিপানার অভিশাপ-মুক্ত করার অঙ্গীকার করেছিলেন। শের-ই-বাংলা একে ফজলুল হক নির্বাচনে বিজয় লাভ করে কচুরিপানার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছিলেন। পঁচানো কচুরিপানা উৎকৃষ্ট সার। কৃষকরা এই সার জমিতে ব্যবহার করা শুরু করলেন। অপরদিকে ভূমিহীন কৃষকরা কচুরিপানা জমিয়ে ভাসমান কৃষিজমি তৈরি করা শুরু করে দিলেন। ব্যস ! ১৯৪৭ সালে এসে দেখা গেল বাংলার জলাশয়গুলো কচুরিপানার বদ্ধতা থেকে মুক্ত!! সেবার বাংলাকে কচুরিপানার অভিশাপ থেকে প্রায় মুক্ত করার এই সাফল্যের পিছনের প্রধান কারণ ছিল বাংলার দামাল ছেলেদের অবিশ্বাস্য কর্মতৎপরতা।

১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন। এই লাহোর প্রস্তাবই “পাকিস্তান প্রস্তাব” হিসেবে পরবর্তীকালে আখ্যায়িত হয়।তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয় শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ বাংলার বাঘ। সে থেকে তিনি শের-ই-বাংলা নামেই পরিচিত। ১৯৩৭ সালে শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক অবিভক্ত বাংলার প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হন। ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘকালের প্রধানমন্ত্রীত্বকালে তিনি বহু জনকল্যাণমূলক কাজ করেন। এ সময়ে তিনি ‘ঋণ সালিশী বোর্ড’ গঠন করেন। এর ফলে দরিদ্র চাষীরা সুদখোর মহাজনের কবল থেকে রক্ষা পায়।পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর তিনি ১৯৫২ সালে সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের এডভোকেট জেনারেল নিযুক্ত হন। ১৯৫৪ সালে দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে বিপুল ভোটাধিক্যে জয়লাভ করেন। তিনি পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে তিনি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত হন। ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর-অব-ল এবং ১৯৫৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তানী প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান তাঁকে ‘হিলাল-ই-পাকিস্তান’ উপাধিতে ভূষিত করেন।শের-এ-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এদেশের সাধারণ মানুষের জন্যে যা করেছেন, অন্য কোন জনদরদী নেতার পক্ষে এ যাবৎ তা সম্ভব হয়নি।

এদেশের মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষার ব্যাপক প্রসারের জন্যে তিনিই সর্বপ্রথম অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করেন। ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার সাধনা ছিল তাঁর আজীবনের। তাঁরই প্রচেষ্টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ, লেডী ব্রাবোর্ণ কলেজ, তাঁর স্বগ্রাম চাখারে ফজলুল হক কলেজ এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কৃষকপ্রজা আন্দোলন, বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন ও ঋণ সালিশী বোর্ড প্রবর্তনের জন্যে তিনি বাংলার দারিদ্র্য-নিপীড়িত কৃষক সমাজের কাছে চির স্মরণীয় হয়ে আছেন।ব্যক্তিগত দানের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন হাতেম তাই। তাঁর গোপন দানে কত দুঃস্থ কন্যাদায় গ্রস্ত পিতা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে, কত ছাত্র পরীক্ষার ফি দিয়ে নিশ্চিন্তে পরীক্ষা দিয়েছে, তাঁর দানে যে কত সেবাশ্রমের প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, কত পীড়িতের দুঃখমোচন হয়েছে তার হিসেব নেই। তাঁর জীবনে আরও যে কত সৎগুণের সমাবেশ ঘটেছিল, ইতিহাসও তার সব খবর রাখেনি।

মুসলিম লীগে যোগদান ১৯৪৬ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গীয় আইন পরিষদের নির্বাচনে বরিশাল অঞ্চল ও খুলনার বাগেরহাট অঞ্চল থেকে প্রার্থী হয়ে তিনি নির্বাচিত হন। কিন্তু, দলীয় ভাবে পরাজিত হলে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মন্ত্রীসভা গঠন করেন ও বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই নির্বাচনের পর দলীয় নেতাকর্মীদের চাপে হক সাহেব মুসলিম লীগে যোগ দেন। কিন্তু দলের সদস্য হিসেবে তিনি ছিলেন নীরব। কৃষক শ্রমিক পার্টি গঠন ১৯৫৩ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের সময় তার বাসভবনে কৃষক-প্রজা পার্টির কর্মীদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে দলের নাম থেকে প্রজা শব্দটি বাদ দিয়ে ‘কৃষক শ্রমিক পার্টি’ গঠন করা হয়। আবদুল লতিফ বিশ্বাসকে সাধারণ সম্পাদক করে এই পার্টির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এ. কে. ফজলুক হক। যুক্তফ্রন্ট গঠন ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর এ. কে. ফজলুক হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে নিয়ে গঠিত হল যুক্তফ্রন্ট। এই নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে মুসলিম লীগ ৯ টি আসন লাভ করে। ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল এ. কে. ফজলুক হক চার সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করেন। পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিপরিষদ গঠন করা হয় ১৫ মে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেরে বাংলা।

পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এ. কে. ফজলুক হক যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচি ছিল। যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিপরিষদ এই ২১ দফা বাস্তবায়নের জন্য তৎপর হন। তাদের গৃহিত উল্লেখ্যযোগ্য কর্মসূচিগুলো হলো:

১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার সুপারিশ। ২. ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে সরকারী ছুটির দিন ঘোষণা। ৩. ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতিতে ‘শহীদ মিনার’ নির্মাণ। ৪. বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখকে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা। ৫. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বর্ধমান হাউসকে বাংলা ভাষা গবেষণা কেন্দ্র বা বাংলা একাডেমি ঘোষণা করা। ৬. জমিদারি ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে উচ্ছেদের ব্যবস্থা নেওয়া।

১৯৫৫-এর নির্বাচন ১৯৫৫ এর ৫ জুন সংখ্যাসাম্যের ভিত্তিতে পুনরায় গণপরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং কোয়ালিশন সরকার গঠিত হয়। মুসলিম লীগের চৌধুরী মোহাম্মদ আলী কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন। এ. কে. ফজলুক হক ছিলেন এই সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। হোসেন সোহরাওয়ার্দী ছিলেন বিরোধী দলের নেতা। পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর ১৯৫৬ সালের ২৪ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সালের ১ এপ্রিল পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকার তাকে গভর্ণরের পদ থেকে অপসারণ করে। এরপরই তিনি তার ৪৬ বছরের বৈচিত্রময় রাজনৈতিক জীবন থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। শের-এ-বাংলা এ, কে, ফজলুল হক তার ভক্তবৃন্দের কাছে একটি গল্প বললেন। শের-এ-বাংলার গল্পটি শুনুন। “এক গ্রামে এক দরবেশ এলেন। দরবেশের গায়ে সবুজ রঙের এক চাদর ছিলো। দরবেশের কাছে কেউ এলে আরোগ্য কিংবা সমস্যার সমাধান হয়েই যায়। তিনি কারো কাছ থেকে কোনো হাদিয়া নেন না। এই দরবেশের সাফল্যে গ্রামের আগের মোল্লা ও ভন্ড ফকিরগণ ঈর্ষায় জ্বলতে থাকলো কারণ তাদের কাছে এখন আর কেউ আসে না। দিন দিন দরবেশের কেরামতী বাড়তে থাকলো। দরবেশ ভুলেও কখনও তার গায়ের চাদরটি ছাড়া চলেন না। মোল্লা ও ভন্ড ফকিরগণ ভাবলেন দরবেশের কেরামতি তার চাদরের মধ্যে। তাই তারা তার ঐ সবুজ রঙের চাদরটির দিকে লোভ দিলো। তারা দরবেশের কাছে অনুরোধের সুরে চাদরটি চাইলেন। দরবেশ না করলেন। তাতে ভন্ডদের চাদরের জন্য আরও আগ্রহী হয়ে উঠলেন। তারা কেরামতী করার আশায় একদিন দরবেশের চাদরটি চুরি করলেন। দরবেশ ঐ গ্রাম ছেড়ে চলে গেলেন। ভন্ডরা ঐ চাদরের দোহাই দিয়ে পুর্ণউদ্দ্যমে কাজ করে গেলেন। কিন্তু রোগী ভাল হওয়া তো দুরের কথা আরও খারাপ হতে লাগলো। আসলে কেরামতী ঐ চাদরে ছিলো না ছিলো দরবেশের মধ্যে ” শের-এ-বাংলা এই গল্পটি বলেছিলেন তাকে যখন মুসলিম লিগ থেকে বেড় করে দেয়া হয় তখন। কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ তখন মুসলিম লিগের বড় নেতা ছিলেন। আর পাকিস্তানের জাতীর পিতার করা দল মুসলিম লীগের জন্ম হয়েছিলো এই বাংলায়, ঢাকার নবাব বাড়ীতে।এই গল্পটি বর্তমান সময়ও প্রসঙ্গিক। মৃত্যু ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল শুক্রবার সকাল ১০ টা ২০ মিনিটে এ. কে. ফজলুক হক ৮৬ বছর ৬ মাস বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। ২৮ এপ্রিল সকাল সাড়ে দশটা পর্যন্ত তার মরদেহ ঢাকার টিকাটুলি এলাকায় তার ২৭ কে. এম. দাস লেনের বাসায় রাখা হয়। সেদিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ঢাকার পল্টন ময়দানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তাকে সমাহিত করা হয়। একই স্থানে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও খাজা নাজিমুদ্দিনের কবর রয়েছে। তাদের তিনজনের সমাধিস্থলই ঐতিহাসিক তিন নেতার মাজার নামে পরিচিত। রেডিও পাকিস্তান সেদিন সব অনুষ্ঠান বন্ধ করে সারাদিন কোরআন পাঠ করে। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রেখে তার প্রতি সম্মান দেখানো হয়। ৩০ এপ্রিল সোমবার পাকিস্তানের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্কুল কলেজে ছুটি ঘোষণা করা হয়। আমাদের জাতীয় ইতিহাসে ফজলুল হক ছিলেন এক অনন্য প্রতিভার অধিকারী। স্বাধীনতার চেতনা ও গণতান্ত্রিকবোধ সৃষ্টিতে তার অসামান্য অবদানের কথা এদেশের মানুষের মন থেকে কোনোদিনই বিস্মৃত হবে না।শের-ই-বাংলা এ কে এম ফজলুল হক অবিভক্ত বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনার জন্য সংগ্রাম করেছিলেন।

তিনি ছিলেন মুসলিম জাতীয়তাবাদের অগ্রনায়ক। আবার অন্যদিকে ছিলেন বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদী চেতনার ধারক বাহক। শের-ই-বাংলার নামে স্মারক গ্রন্থ প্রকাশে করে তিনি কি করেছিলেন তা বর্তমান প্রজন্মের জানা প্রয়োজন আছে। তার জীবনের স্মরণীয় দিকগুলো তুলে নিয়ে আসতে হবে। এই ধরনের অবিসংবাদিত নেতা একটি জাতির ইতিহাসে খুব অল্পই জন্মে।আমরা অতীব ভাগ্যবান যে আমরা একই সময়ে এই ধরনের বেশ কয়েকজন নেতাকে(সোহরাওয়ার্দী,মওলানা ভাসানী) সাথে পেয়েছিলাম যেকারণে বৃটিশ শাসকদের থেকে মুক্ত হতে না হতেই আমরা অতি দ্রুত একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি। শেরে বাংলা স্বাধীন বাংলার স্বপ্ন দেখতেন। আসুন এই মহান নেতার জন্মদিনে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিবেদিত হবার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই।

সৌদিতে কাজের ভিসার মেয়াদ কমল

0

সৌদি আরবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজের ভিসার ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ দুই বছর থেকে কমিয়ে এক বছর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির শ্রম ও সমাজ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়। আজ মঙ্গলবার সৌদি গ্যাজেট এ খবর প্রকাশ করে।

সৌদির শ্রম ও সমাজ উন্নয়নমন্ত্রী আলি আল-গাফিস এক নির্দেশনায় জানান, ভিসার এই নতুন নিয়ম সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং গৃহকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

সৌদির শ্রম আইন অনুযায়ী, শ্রম বাজারে দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজন মনে করলে শ্রম মন্ত্রণালয় এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।

সৌদি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, শ্রম মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে নতুন এই আইন বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে দিয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা শেষ : পদ্মায় ইলিশের বন্যা

ইলিশ আহরণের বাইশ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। গতকাল মধ্যরাত থেকে পদ্মা- মেঘনায় ইলিশসহ সব ধরনের ধরছে জেলেরা। পহেলা অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর এ বাইশ দিন ইলিশের সর্বোচ্চ প্রজনন মৌসুম হওয়ায় সরকার পদ্মা-মেঘনার ১০০ শত কিলোমিটার এলাকা মাছের অভয়াশ্রম ঘোষণা দিয়ে সব রকম মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে। এ ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রতিবছর প্রশাসন অভিযান চালায়। কাল রাতে এই নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেই ঝাকে ঝাকে ইলিশ ধরা পড়ছে জেলেদের জালে। ফলে ইলিশে ইলিশে সয়লাব হয়ে গেছে দোহার-নবাবগঞ্জের মাছের বাজার। ইলিশ ছাড়া অন্য মাছ যেন উধাও হয়ে গেছে দোহার-নবাবগঞ্জের বাজার থেকে।

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় দোহারের পদ্মায় মাছ ধরা বন্ধ থাকলেও অবৈধভাবে অনেকেই ইলিশ মাছ ধরেছেন এবং প্রশাসনের হাতে গ্রেফতারও হয়েছেন। দোহারে এই সময় ইলিশ ধরার অভিযোগে সাজা পেয়েছেন ৯ জন জেলে এবং ২০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ধ্বংস করেছে উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু গতকাল রাতে মাছ ধরার জন্য পদ্মা আবার উন্মুক্ত হলে পেশাদারে জেলেসহ অপেশাদার অনেকেই জাল নিয়ে নেমে পড়েছিলেন প্রমত্ত পদ্মায়। পদ্মা কাউকে হতাশ করে নি। ফলে ঝাকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়েছে তাদের জালে। যার প্রভাব পড়েছে ইলিশের বাজার দরেও। আকৃতি ভেদে ইলিশের দাম নেমে এসেছে ২০০-৩০০ টাকার মাঝে। দোহারের বাহ্রাঘাট, মৈনট, বিলাশপুর, মেঘুলা, নারিশা, মুকসুদপুরসহ সব জায়গায় দেখা যাচ্ছে ইলিশের ছড়াছড়ি। এই ইলিশে একদিকে যেমন জেলেদের মুখে ফুটেছে হাসি ঠিক তেমনি সাধারন মানুষও খুশি কমদামে ইলিশের স্বাদ পেয়ে।

দোহার-নবাবগঞ্জে হারবাল ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসার নামে প্রতারনা

ঢাকার নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলায় প্রতিনিয়ত হারবাল ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসার নামে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টি প্রতিষ্ঠান জনগন ও ঔষুধনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুল প্রর্দশন করে প্রতারনা মূলক ব্যবসা করে চলেছে। সকল রোগের চিকিৎসায় দিতে প্রস্তুত এসব প্রতিষ্ঠান নিন্মমানের হারবাল ও আয়ুর্বেদ কোম্পানী ট্যালেট, বোতলজাত ঔষুধ অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে চলেছে বছরের পর বছর। প্রশাসন দেখেও নিশ্চুপ অভিযোগ এলাকাবাসীর।

ভোক্তভোগী রোগীদের অভিযোগ,দোহার ও নবাবগঞ্জের স্থানীয় ক্যাবল টিভিতে বিভিন্ন হারবাল প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রচার হচ্ছে প্রতিদিন। প্রতিষ্ঠান গুলোর নামের প্রথম অংশে রয়েছে বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, নেপাল, কোলকাতা,ফ্রান্স. ঢাকা, চট্রগ্রাম,আদি,প্রথম। এসব চটকদারী নাম দেখে বুঝার উপায় নেই যে কোনটা আসল আর কোনটা নকল।

নবাবগঞ্জের আসমা আক্তার (ছদ্দনাম) তিনি মুঠোফোনে বলেন, বেশ কয়েক বছর যাবত শরীরটা ভালো যাচ্ছিলো না দিনে দিনে পাতলা ও চিকোন হয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ ক্যাবল টিভিতে প্রচারিত একটি হারবাল প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দেখে ফোনে তাদের সাথে যোগাযোগ করি। তারা আমাকে তাদের প্রতিষ্ঠানে আসতে বলেন। অমি গিয়ে তাদের কাছ থেকে প্রায় ১২ হাজার টাকার ট্যাবলেট ও বোতলজাত ঔষুধ খাই। কিন্তু শরীরে কোন পরির্বতন হয়নি। তাদের এ বিষয়ে অভিযোগ করলে কোন টাকা পয়সা ফেরত দেয়নি। স্থানীয় মাস্তান দিয়ে আমাকে ধমকায়। মান সম্মানের ভয়ে আমি চুপ হয়ে যাই। আমার মতো অনেক পুরুষ-মহিলা প্রতিদিন এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতারিত হলেও কেউ এগিয়ে আসেন না।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা সদরসহ দোহার ও নবাবগঞ্জের প্রতিটি হাট বাজারে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন নামে এসব হারবাল ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসা কেন্দ্র। প্রবাসী যুবকরাও বিভিন্ন রোগের ট্যাবলেট ও ঔষুধ খেয়ে প্রতারিত হয়েছেন। বেশ কয়েকটি দোকানে হাকিম বা কবিরাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে কোন সঠিক উত্তর পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে কোন সনদপাপ্ত হেকিম বা কবিরাজ নেই। সবাই বলেন, সে ঢাকা থেকে আসেন। চলে গেছেন। পরে আর একদিন আপনি আসেন। কিছু প্রতিষ্ঠান শক্তি, কুন্ডেশ্বরী ও সাধনা ঔষুধালয়ের বোতলজাত ট্যাবলেট ও ঔষুধ আলমারীতে সাজিয়ে রেখেছে কয়েক বোতল। তাদের এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, আমাদের গুদাম ঘরে ট্যালেট ও ঔষদ আছে। খোজ নিয়ে দেখা গেছে, নিন্মামানের ট্যাবলেট ও ঔষুধ প্রশাসনের চোঁখকে ধুলা দিতেই সরিয়ে রাখা হয়। রোগী আসলে ও ফোনে অর্ডার পেলে লোক দিয়ে এনে রোগীকে দেওয়া হচ্ছে। আর এভাবেই দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় প্রতিনিয়ত জনগণকে স্বাস্থ্য সেবার নামে প্রতারনা। সুধু জনগণ নয় চটকদার এসব হারবাল প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ সরকারী স্বাস্থ্য ও ঔষুধনীতিতে বৃদ্ধাঙ্গুল প্রর্দশন করে ঔষুধ সংশ্লিষ্ট দপ্তরকেও ধোকা দিচ্ছে বছরের পর বছর। নেই কোনঔষুধ বিক্রির অনুমোদন।

দোহার চরলটাখোলা গ্রামের সৌদি প্রবাসী আলী আজম সম্প্রতি দেশে এসেছেন। তিনি বলেন, আমি সৌদির রিয়াদে থাকি জয়পাড়া বাজারের একটি হারবাল প্রতিষ্ঠানের ফেসবুকে এ্যাড দেখে তাদের সাথে কথাবলি তারা ডাকযোগে ঔষদ পাঠায়। বাংলাদেশী টাকার প্রায় ১৪ হাজার টাকা খরচ। কিছু দিন খাওয়ার আমার শরীর ও মুখে পানি আসে ও শরীর ফুলে যায়। পরে আর ঔষধ খাইনি।

ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ এহসানুল করিম বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান দেখভাল করে ইউনানী এন্ড আয়ুর্বেদ বোর্ড। বাংলাদেশ ইউনানী এন্ড আয়ুর্বেদ বোর্ডের চেয়ারম্যান ও রেজিষ্টারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়।

 

দোহারে এক কিলোমিটার রাস্তায় ২০টি বিদ্যুতের খুঁটি

ঢাকার দোহার উপজেলা সদরের প্রধান সড়কে অন্তত ২০টি বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে। এতে বিড়ম্বনা পোহাচ্ছে পথচারীরা।

সূত্র জানায়, রাজধানী মতিঝিলের পর দ্বিতীয় ব্যাংকপাড়া হিসেবে খ্যাত উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র জয়পাড়া বাজার অত্যন্ত ব্যস্ততম এলাকা। ছোট বড় প্রায় ৩০টি ব্যাংকের শাখা রয়েছে এখানে। এছাড়াও স্কুল, কলেজ, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, হাসপাতাল, ক্লিনিক, শপিংমল, রেস্টুরেন্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সোম ও বৃহস্পতিবার হাটের দিন থাকলেও সপ্তাহের সাত দিনই ব্যস্ত থাকে উপজেলা সদর জয়পাড়া। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার লোকের সমাগম ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, ব্যস্ততম এই বাণিজ্যিক এলাকায় জনগণের সুবিধার জন্য সম্প্রতি রাস্তার দু’পাশে পয়ঃনিষ্কাশন নালাসহ রাস্তা সম্প্রসারণ নির্মাণ কাজ করেছে দোহার পৌরসভা। রাস্তা নির্মাণ কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। এতে করে এক কিলোমিটার রাস্তার সীমানায় উপর বিচ্ছিন্নভাবে রয়ে গেছে পল্লী বিদ্যুতের ২০টি খুঁটি। জয়পাড়া থানার মোড় থেকে লটাখোলা কমর আলীর মোড় হয়ে জয়পাড়া বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানেই দেখা যায় খুঁটিগুলো। যা রাস্তার উপর ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে।

অপরদিকে, পথচারীদের স্বাচ্ছন্দে চলাচলের জন্য ফুটপাত নির্মাণ করা হলেও তা হকারদের দখলে চলে গেছে। রাস্তার উপর এসব খুঁটি অপসারণ না করায় চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে পথচারীদের।

দোহার পৌরসভার মেয়র আব্দুর রহীম মিয়া বলেন, সুন্দর রাস্তা করা হয়েছে জনসাধারণের জন্য। জনগণের স্বার্থে কলেজ মোড়ের ২টি খুঁটি অপসারণের প্রক্রিয়া শেষ হযেছে। বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে অপসারণে পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা পল্লী বিদুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, রাস্তা সম্প্রসারণের আগে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করেননি। আমরা বিষয়টি পরে জেনেছি। এ বিষয়ের আবেদন আমাদের কাছে পৌঁছেছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হটাৎ ঝড়; দোহার-নবাবগঞ্জে বিদ্যুৎ বিপর্যয়

অসময়ের ঝড়ে দোহার-নবাবগঞ্জের বিদ্যুৎ পরিস্থিতিকে পুরোপুরিই বিপর্যস্ত করে দিয়ে গেছে। টানা দুই-দিনের বৃষ্টি আর ঝোড়ো বাতাসে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ এর তার ও খূটি উপরে দোহার-নবাবগঞ্জের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে পুরোপুরিই বিপর্যস্ত হয়েছে। ফলে দোহার-নবাবগঞ্জের সাধারন মানুষের দুর্ভোগ এখন চরম আকার ধারন করছে।

তার চেয়ে বেশী কস্ট হচ্ছে পল্লি বিদ্যুৎ বিভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ দিতে না পারার কারনে মোবাইল চার্জ থেকে শুরু করে ইন্টারনেট, টিভি,ফ্রিজ, ইন্টারনেট লাইন সহ নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় কাজ পর্যন্ত করতে পারছে না। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ঔষধ ব্যবসায়ীরা। যেসব ঔষধ ফ্রিজে রেখে সংরক্ষন করতে হয় বিদ্যুৎ না থাকায় সেই সব ঔশুধ এখন নষ্ট হওয়ার

এব্যাপারে ঢাকা জেলা পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি ২ এর (নবাবগঞ্জের অফিস) সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার কামাল হোসেন জানান, বৈরি আবহাওয়ার কারনে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। বার বার লাইন ট্রিপ করছে , কোথাও কোথাও তারের খুটি ঝুকে পড়ে তার ছিড়ে গেছে, ৩৩০০০, ১১০০০ ভোল্টেজ এর লাইনে গাছপালা ভেঙ্গে পড়াতে এবং মুশলধারা বৃষ্টি হওয়াতে ভাঙ্গা গাছপালা অপসারণ করতে সমস্যা হচ্ছে। আমাদের ১৩/১৪ টি টিম ৪ টি লাইনে বিরতিহীন ভাবে কাজ করছে। রাতের মধ্যে ২/১ একটি লাইন ঠিক হয়ে যাবে এবং কালকের মধ্যে সবকটি লাইন ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা করি। সরজমিনে ঘুরে দেখা যায় বিভিন্ন অভিযোগ কেন্দ্রের অপারেটর লাইনম্যান,হেলপার বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করার জন্য ত্রুটিপূর্ণ এলাকায় ছুটাছুটি করছে।

এদিকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিহীন অবস্থায় রয়েছে দোহারের অন্যতম বানিজ্যিক এলাকা মেঘুলা। তবে বিদ্যুৎ অফিসের থেকে জানা গেছে রবিবার সন্ধার মাঝেই মেঘুলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।

দোহারে বন্যায় বিধ্বস্ত রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেই

এবার স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় উপজেলার আটটি ইউনিয়নে প্রায় সবকয়টি রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাস্তাঘাটগুলো এখন পর্যন্ত সংস্কার না হওয়ায় চরম জনদুর্ভোগে পড়েছে এলাকার ব্যবসায়ী, রোগী এবং শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন রাস্ত-ঘাট ঘুরে দেখা যায়, যানবাহন ও পায়ে হেঁটে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উপজেলার নারিশা পশ্চিম চরের ধোপাবাড়ি মাঠ, নারিশা বাজার থেকে নদীর পাড়, সুতারপাড়া বাজারের পশ্চিম থেকে সালাম মোহরির বাড়ি, কাজীরচর মোড় থেকে বিলাশপুর, সুতারপাড়া থেকে মোল্লাবাড়িÍ, জয়পাড়া থানার মোড় থেকে বিলাশপুর, বিলাশপুর থেকে মাঝিরচর, মাহমুদপুর থেকে চরবৈতা পর্যন্ত রাস্তা ছাড়াও দোহার পৌরসভার সড়কগুলো সংস্কার না করা হয়নি।

এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার অধিকাংশ সড়ক বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে যাওয়ায় ভেঙে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এসব রাস্তাঘাট দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। বিভিন্ন সময় সড়ক দুর্ঘটনাও ঘটছে। তবুও রাস্তাঘাট সংস্কারে কর্তৃপক্ষের নেই কোনো উদ্যোগ।

কথা হয় নারিশা গ্রামের আবদুল মান্নান বলেন, নারিশা সড়ক দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী। এরমধ্যে আবার এবার বন্যায় রাস্তটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বিশেষ করে বন্যার পানি জমে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই রাস্তাটি দিয়ে নারিশাসহ প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামের লোকজন চলাফেরা করে।

বিলাশপুর গ্রামের শেখ আবদুল জলিল বলেন, জয়পাড়া থানার মোড় থেকে বিলাসপুর পর্যন্ত এবং বিলাশপুর থেকে মাঝিরচর পর্যন্ত সড়ক দুটিতে এবার বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে করে এলাকার লোকজন চরম দুর্ভোগে পড়েছে কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা এগুলো দেখেও দেখে না। তিনি আরও বলেন অসুস্থ রোগীদের নিয়ে উপজেলা হাসপাতালে যেতে বিপাকে পড়তে হয়। বিশেষ করে গর্ববতী মায়েদের অনেক কষ্ট হয়। অথচ এই জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো সংস্কারের জন্য কারো কোনো মাথা ব্যাথা নেই।

বিলাশপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লা বলেন, এবার বন্যায় আমার এই বিলাশপুর ইউনিয়নের রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন রাস্তা-ঘাটগুলো পরির্দশন করেছে।

এ ব্যাপারে দোহার উপজেলা প্রকৌশলী সুশিল চন্দ্র সরকার বলেন, এবার বন্যায় উপজেলার আটটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা এগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চাহিদাও দেয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। আশা করি দ্রুত বরাদ্দ পাবো এবং এসব সড়ক সংস্কার কাজ শুরু করতে পারবো।

নবাবগঞ্জে কালী গঙ্গার ভাঙনে বিলিন হচ্ছে বসতবাড়ি

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে প্রবাহমান কালী গংঙ্গা নদীর তীরবর্তী জনসাধারণ অপ্রত্যাশিতভাবে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।হঠাৎ করে নদীর ভাঙন বৃদ্ধি পাওয়ায় শোল্লা, কৈলাইল, মদন মোহনপুর, কোন্ডা ও পাড়াগ্রাম বাজারসহ সংলগ্ন নদীর তীরবর্তী বসতবাড়ি, কৃষি জমি প্রতিনিয়ত নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে জনসাধারণ  ভয়াবহ আতংকের মধ্যে রাত ও দিন পার করছেন।

নদী তীরবর্তী মানুষের দাবী, প্রচন্ড বৃষ্টির ফলে এ বছর  বর্ষা মৌসুম থেকেই হঠাৎ  ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। ইতিমধ্যে বেশ কিছু বসত বাড়ি, কৃষি জমি, পুরাতন গাছপালা ও নদীর পাড়ে অবস্থিত হাট বাজারের স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকান পাট নদী গর্ভে  চলে গেছে। বসতবাড়ি নদীতে চলে যাওয়ায় অনেকে এখন ভূমিহীন। এসব মানুষেরা এখন স্থায়ী ঠিকানা বিহীন।

ভাঙন কবলিত পাড়াগ্রামের বাসিন্দা বাংলাদেশ কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেন বলেন, কালীগঙ্গা নদী শত  বছর ধরে ভেঙ্গে চলেছে তার ইচ্ছা মতো। আমাদের পূর্ব পুরুষসহ অসংখ্য মানুষের জমি জমা ও বসতবাড়ি চলে গেছে এই নদী গর্ভে। বেশ কয়েক বছর ভাঙন এত প্রকট ছিলো না। হঠাৎ  ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই অঞ্চলের মানুষের একটাই দাবী, দ্রুত নদীর ভাঙন থেকে এই অঞ্চলকে রক্ষায় কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

সরেজমিনে দেখা যায়,কালীগংঙ্গা নদীর তীরবর্তী শোল্লা ইউপির কোন্ডা, চক সিংজুরসহ কৈলাইল ইউপির পাড়াগ্রাম হাট বাজার সংলগ্ন এলাকার ব্যাপক অংশ নদীতে ভেঙ্গে যাচ্ছে। সাথে বিলিন হচ্ছে বহু অসহায় মানুষের শেষ সম্বল নিজ বসতভিটা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও স্কুলসহ বিভিন্ন ধর্মীও প্রতিষ্ঠানে জমিজমা। যথা সময়ে ভাঙন প্রতিরোধে  ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বিশাল এলাকা নদীতে বিলিন হয়ে যাবে বলে মনে করেন ভাঙন কবলিত জনগন।

শোল্লা ইউনিয়নের কোন্ডা গ্রামের বাসিন্দা জাতীয় পার্টির নেতা শরফুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, কালীগংঙ্গার ভাঙন প্রতিরোধে আমরা স্থানীয় সাংসদ সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যডভোকেট সালমা ইসলামের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মহাদয়ের দৃষ্টি আর্কষন করছি।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, বাংলাদেশ একটি নদী মার্তৃক দেশ। প্রাকৃতিকভাবে নদী তার গতিপথ  বেছে নেয়। তবুও আমরা বিষয় সরেজমিনে দেখে স্থানীয় সাংসদ ও যথাযথ  কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে  সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করবো।

নবাবগঞ্জে যমুনা-এন মল্লিক মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ২

ঢাকা জেলা নবাবগঞ্জের মাঝিরকান্দা এলাকায় যমুনা বাস ও এন,মল্লিক বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন যাত্রী আহত হয়েছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায় ঢাকা গুলিস্তান থেকে আগত যমুনা ডিলাক্স প্রাইভেট লিঃ বাসটি এবং বান্দুরা থেকে এন মল্লিক বাসটি রওয়ান হয়ে ঢাকার উদ্দেশ যাওয়ার পথে নবাবগঞ্জ উপজেলার মাঝিরকান্দা বাসস্টপেজ থেকে ২০০ মিটার দুরে সাদাপুর মিনিব্রিজ পার হওয়ার সময় এই মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দূর্ঘটনাটি ঘটে।

এসময় যমুনা বাসের হেলপার সহ দুইজন আহত হয়।বাকি যাত্রীদের অনেকেরই ছোটখাটো চোট লাগে। তারপর স্থানীয়রা আহত দুইজনকে নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

এই দুর্ঘটনায় যমুনা বাসের হেলপারের একটি পা ভেঙ্গে গেছে, বাকিজনের অবস্থা তার শরীরের বিভিন্ন যায়গায় মারাত্মকভাবে চোট লেগেছে, উভয়ই নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছে।

এব্যাপারে যমুনা বাসের সিনিয়র সুপারভাইজার মোঃ মোশারফের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, এন মল্লিক পরিবহনের চালকের ভুলের কারনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।