দুনিয়া কাঁপানো সেরা ১০ গোয়েন্দা সংস্থা

0

কোন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা সবচেয়ে দুর্ধর্ষ-এমন কৌতূহল অনেকের মধ্যে আছে। তবে ইন্টারনেটের বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে বিশ্বের গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ে সার্চ করলে বিগত পাঁচ বছরের যেসব তালিকা পাওয়া যায় সেগুলোর বেশির ভাগই করেছে কয়েকটি অখ্যাত ও ভুঁইফোড় সংস্থা। এছাড়া ভিডিও শেয়ারিংয়ের ওয়েবসাইট ইউটিউবে রয়েছে অসংখ্য প্রামাণ্যচিত্র যেগুলোতে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য না পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তবে ফরেন পলিসি, এবিসি নিউ পয়েন্ট, এক্সপার্ট সিকিউরিটি টিপস, দি মেশ নিউজ, জিনিউজ এবং স্টোরি পিক নামক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে করা কয়েকটি তালিকা পাওয়া যায়, যেখানে উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্তে বেশ মিল রয়েছে। এসব সূত্রের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বর্তমান সময়ের বিশ্বের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ ১০ গোয়েন্দা সংস্থার এই তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে।

মোসাদ
বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার নাম মোসাদ (MOSSAD)। এটি ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা, যা দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সরাসরি পরিচালিত হয়ে থাকে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সংস্থাটির প্রধান। পৃথিবীর সব জায়গাতে যেকোনো পরিস্থিতিতে অপারেশন চালানোর সক্ষমতা রাখে ইসরাইল সরকারের এই বিশেষ এলিট বাহিনী।

মোসাদ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর। মোসাদের এই কাজের বাজেটও কারও জানা নেই। মোসাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এমএসএস, এফএসবি, এমআইএসআইআরআই, হিজবুল্লাহ এবং হামাস।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের বিখ্যাত অপারেশনগুলো হচ্ছে- ১৯৬০ সালে আর্জেন্টিনায় আইখম্যান হান্ট, ১৯৬৫ সালে হেবাররত চুকারস হত্যা, ১৯৬৩-৬৬ সালের অপারেশন ডায়মন্ড, ১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ, ১৯৯০ সালের অপারেশন জেরাল্ড বুল কিলিং, ১৯৯২ সালের আতেফ বেইসো হত্যাকাণ্ড, ২০১০ সালের মোহাম্মদ আল মাবহু হত্যাকাণ্ড।

সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা সিআইএ
সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এবং অন্যতম তুখোর গোয়েন্দা সংস্থা যা সিআইএ (CIA) নামে বেশি পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাধীন একটি বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা। এটি একটি স্বাধীন সংস্থা, যার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উচ্চপদস্থ নীতিনির্ধারকদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করা।

সিআইএর প্রাথমিক কাজ হচ্ছে বিদেশি সরকার, সংস্থা ও ব্যক্তিদের সম্বন্ধে তথ্য সংগ্রহ করা এবং তা জাতীয় নীতিনির্ধারকদের কাছে তা সরবরাহ ও পরামর্শ প্রদান করা। সিআইএ এবং এর দায়বদ্ধতা ২০০৪ সালে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।

এমআইসিক্স
এমআইসিক্স ব্রিটিশ মিলিটারির ইন্টেলিজেন্স এর একটি বিশেষায়িত শাখা। সংস্থাটির অফিসিয়াল নাম সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এসআইএস)। ১৯০৯ সালের অক্টোবরে সিক্রেট সার্ভিস ব্যুরো নামে এটি গঠিত হয়। ওই সময়ে ব্যুরো নেভাল ও আর্মি সেকশন নামে দুটি বিভাগে কাজ করত। নেভাল বিভাগের কাজ ছিল অন্য দেশে গোয়েন্দাগিরি। অন্যদিকে আর্মি বিভাগের কাজ ছিল অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস দমন। পরে নেভাল বিভাগের নাম দেয়া হয় এমআই সিক্স আর আর্মি বিভাগের নাম দেয়া হয় এমআই ফাইভ।

এমআই সিক্সের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশে হামলা ও হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার। এজন্য সংস্থাটি ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ, যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ’র সহযোগিতা নিয়েছে আবার কখনো সহযোগিতা করেছে। বিভিন্ন ইস্যুতে এ তিনটি সংস্থা একসাথেই কাজ করেছে বলে জানা যায়।

.  এমএসএস
চীনের গোয়েন্দা সংস্থা গওজিয়া অ্যাংকেন বু অথবা মিনিস্ট্রি অব স্টেট সিকিউরিটি। এটি বিশ্বজুড়ে এমএসএস (MSS) নামে পরিচিত।

চীনা এমএসএসের অনেক কিছুই সাধারণ মানুষের অজানা। আর এর কর্মী সংখ্যা পৃথিবীর সব গোয়েন্দা সংস্থার তুলনায় সবচেয়ে বেশি বলে ধারণা করা হয়।

২০০৫ সালের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, শুধু অস্ট্রেলিয়াতেই এমএসএস এর এক হাজার ইনফর্মার রয়েছে। এমএসএসের সদর দপ্তর চীনের রাজধানী বেইজিংএ অবস্থিত। এর জবাবদিহিতা স্টেট কাউন্সিল অব চায়নার কাছে। এমএসএসের সংস্থা প্রধান চেন ওয়েনকিং।

এমএসএসের অনেক নামকরা এজেন্ট রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ল্যারি উ তাইচিন, ক্যাট্রিনা লেউং, পিটার লি, চি মাক, কো সুয়েন মো। ১৯৯৬ সালে এফ-১৫, বি-৫২সহ বহু সামরিক প্রযুক্তি পাচারের অভিযোগে ডং ফ্যাং চ্যু নামে বোয়িং কোম্পানির এক ইঞ্জিনিয়ার ধরা পড়েন। পৃথিবীর অন্যসব গোয়েন্দা সংস্থাকেই এমএসএস তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে।

এফএসবি
রাশিয়া এফএসবির মূল নাম ফেডারেলনায়া সুলঝবা বেজপাসনোস্তি রাশিস্কয় ফেডেরাটসি। সংক্ষেপে এটি এফএসবি (FSB) নামে পরিচিত। এটি স্থাপিত হয় ১৯৯৫ সালের ৩ এপ্রিল। তবে এত অল্প বয়স দিয়ে এফএসবির কার্যকারিতার প্রভাব ও ভয়াবহতার কথা মোটেও অনুমান করা যাবে না। অনুমান করতে হবে এর পূর্বসূরি সংস্থার কথা মাথায় রেখে।

এফএসবির কর্মী সংখ্যা লক্ষাধিক। এফএসবির সদর দপ্তর রাশিয়ার মস্কো শহরের ল্যুবিয়াঙ্কা স্কোয়ারে। এর জবাবদিহিতা করতে হয় প্রেসিডেন্ট রাশিয়ান ফেডারেশন।

এফএসবির সংস্থা প্রধান আলেকজান্ডার বর্টনিকভ। এফএসবির সাহায্যকারী সংস্থার নাম গ্রু। এফএসবির মোট ১০টি বিভাগ রয়েছে। এফএসবির নামকরা এজেন্টের নাম আন্না চ্যাপম্যান। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এফএসবির গোয়েন্দারা যারা নিয়মিত এফএসবিকে গোপন তথ্য সরবরাহ করে যাচ্ছে। এফএসবির সর্বমোট কর্মকর্তার সংখ্যা এবং এদের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেটের পরিমাণ এদের নিজস্ব কৌশল হিসেবে গোপন রাখা হয়।

বিএনডি
জার্মানির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার নাম জার্মান ভাষায় বুন্দেসন্যাচরিচটেনডিয়েনস্ট বা বিএনডি (BND)। ইংরেজিতে ফেডারেল ইনটেলিজেন্স সার্ভিস। জার্মান চ্যান্সেলরের অফিস থেকে সংস্থাটি সরাসরি নিয়ন্ত্রিত হয় এবং চ্যান্সেলরের কাছে জবাবদিহি করে। এটা ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা।

১৯৫৬ সালের ১ এপ্রিল বিএনডি প্রতিষ্ঠিত হয়। মেজর জেনারেল রেইনহার্ডরের নেতৃত্বে সংস্থাটি নির্মিত হয়েছিল। শুরুতে এটা যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সহযোগী হিসেবে কাজ করে।

এই সংস্থাটি জার্মানিতে ও বিশ্বের যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকে।   বিএনডি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস, মাদক সন্ত্রাস, প্রযুক্তির অবৈধ পাচার, অস্ত্র পাচার, সংঘবদ্ধ সন্ত্রাস সম্পর্কে গোপন তথ্য সংগ্রহ করে।

আইএসআই
বিশ্বের সবচেয়ে বিতর্কিত গোয়েন্দা সংস্থার নাম পাকিস্তানের আইএসআই (ISI)। বিতর্কের দিক থেকে এই গোয়েন্দা সংস্থা বিশ্বের প্রথম। ‘সরকারের ভেতরে সরকার’ পাকিস্তানের মাটিতে এই নামে বহুল পরিচিত ও সবচেয়ে ক্ষমতাধর সংস্থাটির নাম আইএসআই।

১৯৪৮ এর মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত অস্ট্রোলীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ আর্মি অফিসার ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল রবার্ট চাওথামের পরামর্শে ও তত্ত্বাবধানে আইএসআই তৈরি হয়।

প্রাথমিকভাবে এর কাজ তিন বাহিনীর প্রাপ্ত তথ্য যাচাই বাছাই করে সমন্বয় সাধন করা হলেও ১৯৫০ সাল থেকে একে আদালা করে শুধুমাত্র পাকিস্তান রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, স্বার্থ রক্ষা ও অখণ্ডতা বজায় রাখার দায়িত্ব দেয়া হয়।

দেশে-বিদেশে সংস্থাটির সম্ভাব্য সদস্য সংখ্যা ২৫ হাজারের বেশি এবং এর মধ্যে অনেক তথ্য প্রদানকারীও রয়েছে। এই সংস্থার প্রধান কাজ পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও অখণ্ডতা রক্ষা করা।

রিসার্চ অ্যান্ড এনালাইসিস উইং ‘
আলোচিত এই গোয়েন্দা সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাসাল ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৬৮ সাল। নয়া দিল্লি হচ্ছে র’য়ের (RAW) কেন্দ্রবিন্দু। আনীল দশমনা এজেন্সির নির্বাহী প্রধান। র এর প্রধান এজেন্সি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। র ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা।

১৯৬৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর প্রাক্তন ব্রিটিশ ইন্টেলিজেন্স অফিসার ও আইবির ডেপুটি ডাইরেক্টর আর.এন.কাও র নেতৃত্বে ভারতে প্রতিষ্ঠা লাভ করে Research and Analysis Wing।

ডিজিএসই
ডিজিএসই (DGSE) ফ্রান্সের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা। প্রতিষ্ঠিত হয় ২ এপ্রিল  ১৯৮২। ডিজিএসই ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চলে।

বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক প্রভাব এবং কাউন্টার ইন্টেলিজেন্ট অপারেশনে ডিজিএসই ডিজিএসআই নামক আরেকটি সংস্থার সাথে একসাথে কাজ করে। এর প্রধান কাজ হলো বাইরের দেশের বিভিন্ন সূত্র থেকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং তা মিলিটারি এবং নীতিনির্ধারকদের সরবরাহ করা।

ডিজিএসইতে কাজ করেন পাঁচ হাজারের বেশি কর্মকর্তা। এর সদর দপ্তর প্যারিসে।

১০অস্ট্রেলিয়ার এএসআইএস
এএসআইএস (ASIS) অস্ট্রেলিয়ার সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা যার কাজ হলো গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা, কাউন্টাল ইন্টেলিজেন্স কার্যক্রম এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাথে সহায়তামূলক কাজ করা।

প্রতিষ্ঠিত হয় ১৩ মে ১৯৫২। প্রধান কার্যালয় ক্যানবেরাতে। বর্তমান ডিরেক্টর নিক ওয়ার্নার। এই সংস্থাটি ২০ বছর পর্যন্ত গোপন ছিল এমনকি অস্ট্রেলিয়ার সরকারও এই এজেন্সি সম্পর্কে জানতো না। এর প্রধান কাজ হলো এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ।

সরকারি হচ্ছে পদ্মা কলেজ-ই

অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে জয়পাড়া কলেজের রীট মামলার স্টাটাস কো বা স্থিতি অবস্থা খারিজ করে দিয়েছে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে দোহার উপজেলায় একমাত্র পদ্মা কলেজই সরকারিকরণ হচ্ছে।

১৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার ২০১৭ বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের কার্য তালিকায় ১ নাম্বারে থাকা জয়পাড়া কলেজের স্টে অর্ডার সংক্রান্ত রীট আবেদনটি খারিজ করে দেয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আব্দুল ওয়াহাব মিঞার নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্য বিশিষ্ট আপিল বেঞ্চ। তবে মামলাটি নিয়মিত বেঞ্চে চলবে।

উল্লেখ্য জয়পাড়া কলেজে তাদের রীট মামলায় দাবী করে, ২০০৮ তত্বাবধায়ক সরকারের শাসন আমলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা  দোহারস্থ জয়পাড়া বড় মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রতিশ্রুতি দেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে জয়পাড়া কলেজকে সরকারি করা হবে। বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিতে এনে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চেয়ে ৬ মার্চ, ২০১৭ তারিখে রীট করেন দোহার উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও জয়পাড়া কলেজের সাবেক ভিপি আলমাসউদ্দিন, দোহার উপজেলা যুবলীগ সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহমান আকন্দ এবং দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রাজীব শরিফ।

জয়পাড়া কলেজের পক্ষে মামলাটিতে অংশ নেন সাবেক এটর্নি জেনারেল হাসান আরিফ এবং পদ্মা কলেজের পক্ষে মামলাটিতে অংশ নেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি বর্তমান এটর্নী জেনারেল মাহবুবে আলম।

উল্লেখ্য বিভিন্ন যাচাই-বাছাই ও তদন্ত শেষে পদ্মা কলেজ জাতীয়করনের জন্য, মাননীয় প্রধানমত্রী ঘোষিত একটি স্কুল ও একটি কলেজ সরকারি করনের জন্য, মনোনীত হয়। ইতিমধ্যে কলেজটির সকল প্রকার ইন্সপেকশন সম্পন্ন হয় এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ সংক্রান্ত ডিড অব গিফট সম্পন্ন হয়েছে।

বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে ২৮৬ টি কলেজের সাথে পদ্মা কলেজও রাষ্ট্রিয় প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষায় রয়েছে। রায়কে স্বাগত জানিয়ে পদ্মা কলেজ কতৃপক্ষ মহান সৃষ্টি কর্তাকে শুকরিয়া জ্ঞাপনসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল এ আর খান ও মহাপরিদর্শক নিবন্ধন বিভাগ ড. খান মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানসহ দোহারবাসীকে ধন্যবাদ জানান।

শারজায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দোহারের যুবকের মৃত্যু

দুবাইয়ের শারজা শহরে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে সায়েদুল বারি নামের এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি ঢাকার দোহার উপজেলার চর কুসুমহাটি গ্রামে।তিনি ওই গ্রামের শাহজাহান ফকিরের ছেলে।

সায়েদুলের সঙ্গে একই বাসায় বসবাসকারী হাবিবুর রহমান নামে  তার এক সহকর্মী দুবাই থেকে জানান, বুধবার দুবাই সময় বেলা ১২টার দিকে শারজা শহরে নিজ কর্মস্থলে গ্রিলের কাজ করছিলেন সায়েদুল। এ সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অন্তত ১২ ফুট উঁচু থেকে নিচে পড়ে যান তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে তার লাশ শারজা আল কাশিম হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। তিনি আজমান শহরে একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন।

১২ বছর ধরে দুবাইতে থাকতেন সায়েদুল। সর্বশেষ তিন বছর আগে তিনি ছুটিতে বাড়ি গিয়েছিলেন। বাড়িতে তার স্ত্রী ও সাড়ে তিন বছরের একজন কন্যা সন্তান রয়েছে।

নবাবগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিশু খাদ্য তৈরীর অপরাধে ২ লাখ টাকা জরিমানা

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ চৌকিঘাটা গ্রাম থেকে নোংরা ও অস্বা¯’্যকর পরিবেশে নাটোরের বিখ্যাত কাচা গোল্লা ও নিলয় মিল্ক টফি নামে  নকল চকলেট তৈরীর অপরাধে বাসুদেব সাহা (৫২) ও নিটু সাহা  (৫০) নামে দুই ভাইকে ২ লাখ টাকা  জরিমানা করেছে  ভ্রাম্যমাণ আদালত। তারা ঐ  গ্রামের মৃত মহাদেব সন্যাসীর ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার দক্ষিণ চৌকিঘাটা গ্রামে অভিযান চালিয়ে বাসু ও নিটু আটক করে পুলিশ। পরে দুপুর ২ টা ৩০ মিনিটে  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। এসময় আদালত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪৩ ধারা অনুযায়ী ১ লক্ষ টাকা করে দুজনকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, উপজেলা আইন শৃংখলা উন্নয়ন কমিটির সভায় নিলয় ফুড প্রোডাক্টস নামের নকল শিশু খাদ্য তৈরীর কারখানার বিষয় অলোচনা হয়। তার প্রেক্ষিতে তাদেরকে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা আটক করে আদালতে হাজির করে, পরে তাদের জরিমানা করা হয় এবং নকল খাদ্য পণ্য আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

ভেড়ার লোমের কম্বল: একটি বিলুপ্ত-প্রায় শিল্প

0

বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে কত না বিচিত্র ধরনের শিল্প একদা চর্চিত হতো এবং এখনো হয় কিছু কিছু। কিন্তু তার খবর আমাদের মতো শহুরে কিংবা নাগরিক মানুষের কাছে কতটুকু আর পৌঁছায়! প্রান্তজনের শিল্প কখনো কখনো আমরা নাগরিক পরিসরে আলোচিত হতে দেখি বটে কিন্তু এর একটা অংশ ক্রমশ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে- এই সত্য অস্বীকার করা মুশকিল। এমন একটি বিলুপ্ত-প্রায় শিল্প হলো ভেড়ার লোমের কম্বল ।

বইপুস্তক ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতায় পশুর লোমের প্রচলন ছিল। প্রাচীন সাহিত্যিকসূত্র ঋগ্বেদ-এ এই শিল্পের অর্থাৎ পশম বা লোম দিয়ে বস্ত্রবয়ন এবং সেই বস্ত্র ধৌতকরনের উল্লেখ আছে। তবে বর্তমান বংলাদেশ ভূখন্ডে খুব বেশি মানুষ ভেড়ার লোমকেন্দ্রিক এই বয়নশিল্পের সাথে জড়িত ছিল বলে মনে হয় না। প্রধানত গারলী সম্প্রদায়ের মানুষ এই কাজের সাথে যুক্ত ছিল বলে জানা যায়। তারা নিজেদের উত্তর ভারত থেকে আগত বলে পরিচিয় দিতো। বাংলাদেশের কিছু কিছু অঞ্চলে এই সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করতো এবং তারাই প্রধানত ভেড়ার লোম সংগ্রহ করে তা থেকে সুতা তৈরি করে প্রাচীন তাঁতযন্ত্র ব্যবহার করে কম্বল জাতীয় মোটা বস্ত্র তৈরি করতো।

১৯২৯ সালে বঙ্গীয় শিল্প বিভাগের প্রতিবেদনে রাজশাহী, নোয়াখালী, নদীয়া এবং বর্ধমান জেলায় এই কাজের প্রচলন ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে, রাজশাহীর কেশবপুর-ভেড়ীপাড়া অঞ্চলে অন্তত বারো-পনেরোটি পরিবার এই কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে ১৯২৯ সালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু তারপর?

খোঁজ-খবর করে জানা গেল, এখন রাজশাহী শহরের ভেড়ীপাড়ায় ভেড়ার লোম দিয়ে কম্বল বানানোর কারিগরদের কোনো নিশানা খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে ২০০৮ সালের মার্চ মাসের শেষে যখন আমরা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভেড়ার লোমের শিল্পের খোঁজখবর করতে যাই, তখন সেখানে কয়েক ঘর মানুষ ভেড়ার লোমের কম্বল তৈরির সাথে জড়িত ছিলেন। কিন্তু ২০১৭ সালের শেষার্ধে যখন আমরা পুরনো নোটখাতার পাতা থেকে আমাদের লোকজশিল্পের গল্প খোঁজার চেষ্টা করছি, তখন, পুনরায় তাদের খোঁজখবর করতে গিয়ে জানা গেল, জীবন ও জীবিকার তাগিদে বছর পাঁচেক আগে তারা তাদের পেশা পরিবর্তন করেছেন! এ সংবাদ আমাদের খুব বেশি খুশি করতে পারলো না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিডিআর ক্যাম্প আর হর্টিকালচার সেন্টার পেরিয়ে মহানন্দা নদীর তীরের নয়াগোলা নামক ছোট্ট গ্রামটির একটি বাড়িতে প্রায় নয় বছর আগে দেখা এক সত্তোরোর্ধ বৃদ্ধের চেহারায় চোখ আটকে রইলো আমাদের। দৃশ্যের পর দৃশ্য ভেসে এলো। ‘এটাকে লরদ কহে’ কম্বল বোনার তাঁতের কোন যন্ত্রাংশের কী নাম সেটা জানতে চাইলে তবারক আলী বলতে শুরু করেছিলেন এভাবেই। তারপর জমে ওঠে গল্প। সুতার পর সুতা সাজিয়ে যেমন একখানা পুরো কম্বল তৈরি হয়, তেমনি তবারক আলীর গল্পের পর গল্প থেকে এই পুরো গ্রামের একটা মৌখিক ইতিহাসের ধারণা/ অবকাঠামো বুঝতে পেরেছিলাম আমরা। সেই গল্পে আছে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, দেশান্তর আর জীবন ও জীবিকার প্রশ্ন। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের বরোজ গ্রামের মোহাম্মদ আলী ছিলেন খলিফা (দর্জি)। একই এলাকার গারলীপাড়ার অন্য ধর্মাবলম্বী ‘গারলী’ সম্প্রদায়ের লোকজন ভেড়ার লোমের কম্বল তৈরি করতো। মোহাম্মদ আলীর ছেলে ফজলুর রহমান এই গারলীদের কাছ থেকে কম্বল তৈরি করা শেখেন তার প্রথম জীবনে। দেশ বিভাগের কিছু আগে/পরে জঙ্গিপুরের বাপ-দাদার ভিটা ছেড়ে ফজলুর রহমান ভাগ্নে মওলানা নূর মোহাম্মদের পরিবারকে সাথে নিয়ে অন্য অনেকের সাথে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের চাঁপাইনবাবগঞ্জের নয়াগোলা গ্রামে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেন। নতুন জায়গায় এসে জীবিকার প্রয়োজনেই গারলী সম্প্রদায়ের কাছ থেকে শিখে আসা কাজ আঁকড়ে ধরেন ফজলুর রহমান এবং তার ভাগ্নে নূর মোহাম্মদ। পরবর্তীকালে, এই নূর মোহাম্মদের ছেলে হাসমত উল্লা ও সালামত উল্লা এবং একরামুল হক এর ছেলে আবদুল খালেকের পরিবার দীর্ঘদিন ভেড়ার লোমের কম্বল তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন আকারের কম্বল, আসন, জায়নামাজ ইত্যাদি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করেছেন তারা দিনের পর দিন। বিপণনের জন্য যোগাযোগ করেছিলেন ঢাকার বিভিন্ন বুটিকশপে, রংপুর আর রাজশাহীর সিল্ক ফ্যাক্টরীগুলোতে- যারা সিল্কের কাপড়ের ব্লক প্রিন্টের কাজ করতে এক সময় ভেড়ার লোমের ছোট ছোট আসন ব্যবহার করতো। কিন্তু হতাশাই বেড়েছে দিনে দিনে।

জীবন ও জীবিকার প্রশ্নে উল্লেখযোগ্য কোন পরিবর্তন আসেনি ভেড়ার লোমের কম্বল তৈরির কারিগর পরিবারগুলোতে। নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ার জন্য বাংলাদেশের স্থানীয়ভাবে এই কম্বলের চাহিদা তৈরি হয়নি কখনো। তাই এর স্থানীয় বাজারও তৈরি হয়নি। এমনকি, খুব বেশি মানুষ জানেও না যে বাংলাদেশে ভেড়ার লোম দিয়ে কম্বল তৈরি হয়। কোন প্রতিষ্ঠান এই শিল্পের উন্নয়নে পৃষ্ঠপোষকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে- এমন সংবাদ জানা যায় না। এইসব কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভেড়ার লোমের শিল্পকে এখন বলা যেতে পারে একটি বিলুপ্ত-প্রায় শিল্প। খুব সম্ভবত কিছুদিন পর এটা ‘বিলুপ্ত শিল্প’ হয়ে যাবে। তখন এর নিশানা মিলবে শুধু ইতিহাসের পাতায় কিংবা কোনো জাদুঘরে।

লেখা: যথাশিল্প

রচনাসূত্র: https://www.facebook.com/jothashilpa/posts/1371666966289258

আলোকচিত্র: ওয়াহেদ আশরাফ রনি, নয়াগোলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ২০০৮

দোহারে মৌসুমি জেলেরা পোয়াবারো

ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ঢাকা জেলার দোহারের পদ্মা নদীতে মা ইলিশ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তারা।  ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি,উন্নয়ন ও মা-ইলিশ নিধন রোধে এই রায় জারি করে প্রশাসন।

১লা অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় সরকারী তালিকাভূক্ত জেলেরা নিষেধাজ্ঞা মানলেও, মানছে না মৌসুমি জেলেরা। তারা এক শ্রেণির অসৎ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নদী থেকে ইলিশ ধরে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে দেদারছে বিক্রি করে চলছে।  অথচ তালিকাভুক্ত জেলে পরিবারগুলো দিন কাটছে খেয়ে না খেয়ে।  এ অবস্থা চলছে দোহার উপজেলাসহ আশপাশ এলাকার পদ্মা পাড়ের জেলেদের।

এ অঞ্চলের জেলেরা নিষিদ্ধ মৌসুমে সরকারি কোন খাদ্য সহায়তা পায়না।  নিষিদ্ধকালীন সময় খাদ্য সহায়তা  হিসেবে এলাকার জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হলেও অনেক জেলেদের জন্য জন্য এ সহায়তার আওতায় আনা হয়নি।  এ উপজেলার নারিশা জোয়ার, বিলাশপুর, মধুরচর, পদ্মা নদীর ওপর নির্ভরশীল অসংখ্য জেলে পরিবার চরম দুর্দশার মধ্যে পড়েছে।

দোহার উপজেলা অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান খান জানান, আমরা ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকা, মা-ইলিশ মাছ সহ ৭ জেলেকে কারাদন্ড দিয়েছি এবং অভিযান অব্যাহত রেখেছি।  সরকার জেলেদের অভিযানকালীন সময় খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে।  এলাকার সকল জেলেদের সহায়তার আওতায় আনতে সরকারি উচ্চ পর্যায়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

দোহারে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে পিতা প্রহত

ঢাকার দোহারে মোঃ কালাম ফকির (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে তার মাদকাসক্ত ছেলে পিটিয়ে আহত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কালাম ফকির দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের মইতপাড়া বিল এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে দশটায় বড় ছেলে মিলন ( ২২) তার বাবা কালাম ফকিরকে ঘুম থেকে উঠিয়ে ৫শত টাকা চায়। তার পিতা কালাম বলে আমার কাছে টাকা নেই সব টাকা বাজারে খরচ হয়ে গেছে। সকালে জোগাড় করে দিব এখন ঘুমাতে যাও। মিলন টাকা না পেয়ে ঘরের জিনিসপাতি ভাঙচুর করলে কালাম ফকির বাঁধা দেওয়ায় ঘরে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে পিতাকে পেটাতে থাকে। কালামের চিৎকারে প্রতিবেশিরা এগিয়ে আসলে ছেলে মিলন পালিয়ে যায় এবং তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা সেবা দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ফজল জানান, প্রায় দিনই পিতার কাছে টাকা দাবী করে আর টাকা না পেলেই পিতাকে মারধর করে।

অন্য বাসিন্দা তারাভান বেগম জানান, কালাম ফকিরের স্ত্রী আয়েশা বেগমের জন্য ছেলে মাদকাসক্ত হয়েছে। সে ওমানে কর্মরত অবস্থায় স্বামীর কাছে টাকা না পাঠিয়ে ছেলের নামে পাঠিয়েছে আর ছেলে মাদক সেবন করে সব টাকা শেষ করে ফেলেছে।

ঢাকা-দোহার-নবাবগঞ্জে সড়ক পরিবহনে যমুনা ডিলাক্সের নৈরাজ্য

ঢাকার দোহারের মৈনট ঘাট থেকে নবাবগঞ্জ হয়ে গুলিস্তান গোলাপ শাহ (রহ.) মাজার এলাকায় চলাচলরত যমুনা ডিলাক্স পরিবহন প্রাইভেট লি. নামের বাস সার্ভিস সেক্টরে বেপরোয়া নৈরাজ্য চলছে। যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও সড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করছে একটি সিন্ডিকেট। তারা মালিক সমিতির নামে প্রতিদিন গাড়িপ্রতি প্রায় ১৭শ’ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সাধারণ মালিকরা ক্ষুব্ধ ও হতাশা প্রকাশ করেছে। তারা এসব কথিত সমিতি ও শ্রমিক নেতার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। পথে পথে চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পেতে সম্প্রতি যমুনা বাসের বেশ কিছু মালিক নবাবগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করে এ অভিযোগ করেন।

যমুনা বাস মালিকদের অভিযোগ, দোহার নবাবগঞ্জ তথা ঢাকার দক্ষিণ অঞ্চলের সড়কপথে যমুনা ডিলাক্স পরিবহনের স্বঘোষিত সিন্ডিকেট প্রধান চন্দন বাবু শ্রমিক মালিক সমিতির নামে চাঁদাবাজি করছেন। বাসপ্রতি ১৩শ’ টাকা দৈনিক জমা না দিলে রাস্তায় বাস চালাতে দেয়া হয় না। কেরানীগঞ্জের একজন বাস মালিক বলেন, আমরা লাখ লাখ টাকা দিয়ে গাড়ি কিনে দিনে ১ হাজার টাকা থাকে না। অথচ চন্দনকে দিতে হয় ১৩শ’ টাকা। এছাড়া ৪শ’ টাকা নানা খাতে ব্যয় হচ্ছে।

দোহারের এক বাসচালক বলেন, চন্দন কিছুদিন আগেও বাসের হেলপার ও ড্রাইভার ছিল। বর্তমানে কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে গেছে সে। তার নিজের ২টি বাস আছে এই সড়কে। অতিরিক্ত টাকা চাঁদা দিতে হয় বলে দোহার ও নবাবগঞ্জের যমুনা পরিবহনের কিছু মালিক গাড়ি বিক্রি করে এখন অন্য ব্যবসা করছে। কেউ আবার প্রবাসে চলে গেছে।

নবাবগঞ্জের বাহ্রা গ্রামের এক বাসচালক বলেন, আমাদের মতো সাধারণ শ্রমিকরা সারা দিন কষ্ট করে গাড়ি চালিয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পাই, যা দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে কোনোভাবে বেঁচে আছি। আমরা টাকা না পেলেও তাদের নির্ধারিত চাঁদা দিতে হবে। চন্দন মণ্ডলের সঙ্গে এসব চাঁদাবাজিতে জড়িত রয়েছে ঢাকার কবির হোসেন ও দোহারের মোশারফ হোসেন। ঢাকা সড়কের দোহাই দিয়ে তারা প্রতিদিন এ চাঁদা আদায় করছে। চাঁদার একটি সিংহভাগই সড়ক পরিবহনের নেতা খন্দকার এনায়েত উল্লাহকে দিতে হয় বলে চন্দন ও কবির মালিকদের বলে থাকেন। তা না হলে তাদের বাস রাস্তায় চলতে পারবে না বলে হুমকি-ধমকি দেয়া হয়।

খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, আমরা কোনো সার্ভিস থেকে এক টাকাও নিই না। আমার জানা মতে, শ্রমিক সমিতির নির্ধারিত ৭০ টাকার বাইরে কোনো টাকা নেয়া হয় না। তবে কেউ যদি সড়কের নাম ভাঙিয়ে বাস মালিকদের কাছ থেকে কোনো টাকা আদায় করে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না।

নবাবগঞ্জের যন্ত্রাইল গ্রামের বাসিন্দা মাছুদ বলেন, জমি সংক্রান্ত মামলায় প্রতি মাসে ৩-৪ বার ঢাকায় যেতে হয়। ৬০-৬৫ টাকা ভাড়া নেয় যমুনা বাস কর্তৃপক্ষ। রাস্তায় টিকরপুর, মৈনট ঘাট, ও গুলিস্তানে চাঁদা আদায়কারীদের কারণে সময় মতো আদালতে পৌঁছাতে পারি না। কথিত পরিবহন মাস্তানদের কারণে যাত্রীদের অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। বিশেষ করে যমুনা পরিবহনে এ অবস্থা চলছে বহুদিন ধরে, যা দেখার কেউ নেই। স্থানীয় বাস মালিক ও শ্রমিকদের দাবি, চন্দনের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র নবাবগঞ্জ দোহারের পরিবহন সেক্টরে চরম বিশৃঙ্খলা বাধিয়ে রেখেছে, যার দ্রুত অবসান প্রয়োজন। এ সার্ভিসের আওতায় প্রতিমাসে ১৫-২০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় হয় বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত চন্দন বাবুকে ১৩শ’ টাকা চাঁদা আদায় সম্পর্কে মুঠোফোনে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, মৈনট ঘাটে বালু ফেলে বাসস্ট্যান্ড তৈরি করতে ১১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে আমার। ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীকে প্রতিদিন টাকা দিতে হয়। এছাড়া ঢাকার গুলিস্তানে শ্রমিক ইউনিয়ন, মালিক সমিতির নেতারা বাসপ্রতি দৈনিক ৪শ’ টাকা করে নেয়। সুপারভাইজার আছে, তাদের বেতন দিতে হয়।

ঢাকার দোহার সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মাহবুবুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করা হলে দোহার থানার ওসিকে বিষয়টি দেখার জন্য আমি বলব।

নটর ডেম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বেঞ্জামিন কস্টা আর নেই

0

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও নটর ডেম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ফাদার বেনজামিন কস্টা (সিএসসি)  শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) বিকালে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬। জানা গেছে, বেনজামিন কস্টা ফুসফুসে প্রদাহের কারণে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

তিনি কিছুদিন নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের  ভারপ্রাপ্ত ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার মৃত্যুতে নটর ডেম কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, ফাদার বেনজামিন কস্টার মৃত্যুতে নটর ডেম কলেজের একটি উজ্জ্বল যুগের সমাপ্তি ঘটল।

ব্লু হোয়েল থেকে ফিরে এলো নবাবগঞ্জের রিফাত

পুত্র রিফাত (১৬) যখন ব্লু হোয়েল গেমসে ঢুকে প্রথম ধাপ শুরু করেছেন। তারপর থেকে বাড়ির লোকজনদের সাথে কথা বলেনা। পুত্রের আচরণ বুঝতে পেয়ে চিকিৎসা দিয়ে মরণঘাতী ব্লুহোয়েল গেমস নেশা থেকে ফেরাতে পেরেছেন বলে জানান ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা সদর কলাকোপা ইউনিয়নের শুরগঞ্জ গ্রামের প্রবাসী সালাউদ্দিন রিপনের স্ত্রী সাথী বেগম।

সাথী বেগম জানান, রিফাতের বয়স ১৬ সে নবম শ্রেনীতে পড়ছেন। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে রিফাত বাড়ির লোকজনের সাথে কথাবলা বন্ধ করে দেয়। এমনকি তার সাথেও কথা বলেন না। ছেলের এমন অস্বাভাবিক আচরণ বুঝতে পেয়ে রিফাতকে প্রশ্ন করে তুমিকি ব্লুহোয়েল গেমসে ঢুকে ছিলে ? রিফাত চুপ করে থাকে । তার প্রশ্নের জবাব না পেয়ে পাশের বাড়ির আলম নামে এক যুবককে ডেকে বিষয়টি জানান। আলম ঘঁটনটি শুনে বুঝতে পেয়ে রিফাতকে নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে চিকিৎসকরা রিফাতের সমস্যা জানতে চাইলে রিফাত জানায় যে সে ব্লুহোয়েল গেমসের প্রথম ধাপ শুরু করেছেন। এসময় প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে রিফাতকে বাড়ি নিয়ে আসেন এবং রিফাতের প্রতি খেয়াল রাখেন। রিফাত এখন সুস্থ্য আছেন বলেও জানান তিনি।

রিফাতের সাথে কথা বললে সে জানায়, শনিবার দুপুরে ইন্টানেটের মাধ্যমে সে ব্লুহোয়েল গেমসে ঢুকে পড়ে। এসময় মেসেজ অফশনে ঢুকে পড়লে জানতে পারে রাত ১২ টার দিকে গেমসটি ডাউনলোড করতে হবে। সোমবার রাতে সে ব্লুহোয়েল গেমসটি ডাউনলোড করেন। এসময় ঐ সফটয়ারটিতে তার ই-মেইল আইডি, ফোন নাম্বার ও তার বিস্তারিতঠিকানা চায়। সে সেগুলো দিলে মেসেজে তাকে জানানো হয় সে তখন থেকে ঐ গেমসের সদস্য হয়েছেন। এরপর তাকে ব্লুহোয়েলের প্রথম ধাপ পালন করতে ৯ অক্টোবর রাত ১২ টা থেকে ১০ অক্টোবর রাত ১২ টা প্রর্যন্ত কারো সাথে কথা বলা যাবে না। সকালে ঘুম থেকে উঠে রাত ১২ টা পর্যন্ত প্রতি ঘন্টায় সে কি করছেন তা লিখে মেসেজ পাঠাতে হবে তাকে। এ শর্ত পূরণ করলে ১০ অক্টোবর রাত ১২ টায় গেমেসের ২য় শর্ত দেয়া হবে বলে মেসেজে জানানো হয়। সে প্রথম শর্ত পালন করতে ছিলো এমন সময় তার অভিভাবকরা বুঝতে পেয়ে মরনঘাতী খেলা থেকে ফিরে আসতে পেরেছে সে ।

রিফাত আরো জানায় সে আর কখনো এমনটি করবেন না। অতি উৎসাহিত হয়ে আমার মতআর কেউ যেন এমন মরণ খেলা না খেলে।