লটাখোলায় ঢাকা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উদ্ভোদন

দোহার উপজেলার লটাখোলা করম আলীর মোরে ঢাকা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে নতুন একটি প্রাইভেট ক্লিনিকের উদ্ভোদন করা হয়েছে। আজ ১ নভেম্বর বুধবার দুপুর ২ টায় এর শুভ উদ্ভোদন করা হয়।

ঢাকা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেয়ারম্যান শেখ আলিমের সভাপতিত্বে উদ্ভোদন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিইউও কে এম সানাউল্লাহ, পরিচালক মোঃ পারভেজ হোসেন, পরিচালক মোঃ শাকিল আহম্মেদ প্রমুখ।

ভেন্ট্রিলোকুইস্ট ও মিনিমালিস্ট- বাংলায় আন্তর্জাতিক মানের মৌলিক থ্রিলার

আমাদের দেশের থ্রিলার পাঠকরা যখন “ড্যান ব্রাউন”র বইগুলো পড়ে এবং ভালো লেগে যায়, তখন আপনা-আপনিই একটা আক্ষেপ মনের মনে আসে। “ইশ, আমাদের দেশে কোনো লেখক যদি এই রকম বাংলায় বিশ্বমানের মৌলিক থ্রিলার লিখতো!”

কিন্তু আমাদের আক্ষেপ করার দিন শেষ। বেশ কয়েকজন লেখক, আন্তর্জাতিক মানের থ্রিলার লিখে যাচ্ছেন কয়েকবছর ধরে। তারমধ্যে মাশুদুল হক একজন। আজ কথা বলবো লেখকের এমন দু’টি বই নিয়ে, যে বইগুলো পড়লে মনে হবে যেন ড্যান ব্রাউনের বা আন্তর্জাতিক কোনো লেখকের বই পড়ছি!

ভেন্ট্রিলোকুইস্ট:

ভেন্ট্রিলোকুইস্ট ও মিনিমালিস্ট- বাংলায় আন্তর্জাতিক মানের মৌলিক থ্রিলার

জহিরের বিয়ের অনুষ্ঠানে অনেকদিন পর দেখা হয়ে যায় পুরনো বন্ধুদের সাথে। দুই বন্ধু — নৃতত্ববিদ মারুফ এবং পত্রিকার ফিচার এডিটর রুমী, বন্ধুদের সাথে কথা প্রসঙ্গে জানতে পারে তাদেরই আরেক বন্ধু শওকত পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে ভেন্ট্রিলোকুইজম। যেই সহপাঠী একসময় বাকশক্তি হারিয়ে বোবা হয়ে গেছিল, সে’ই নাকি এখন কণ্ঠের কারিশমা দেখাচ্ছে!

কৌতুহলী হয়ে তারা দুজনে শওকতের সাথে দেখা করতে গিয়ে দেখলো শওকতের এক অস্বাভাবিক আচরণ, আর উত্তেজনার বশে তাদেরই সহপাঠিনী রুনু সম্পর্কিত এমন কিছু কথা বলে ফেলে যা দুজনকে করে তোলে আরো কৌতুহলী।

রহস্যময় কথাগুলোর মর্মার্থ অনুসন্ধান করতে গিয়ে ওরা জড়িয়ে পড়ে দারুণ রহস্যময় এক অনুসন্ধানে, বেরিয়ে আসে ভয়ঙ্কর আর শিউরে ওঠার মত সব সত্য, যেন কেঁচো খুঁড়তে একেবারে জীবন্ত ডায়নাসোর, সাধারণ মানুষকে কখনই জানতে দেয়া হয় না এমন সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর বহু বছর আগে হারিয়ে যাওয়া এক সম্প্রদায়ের কথা, যার পদে পদে ওদের জন্য ওৎ পেতে আছে মৃত্যু, বিপদ, জড়িয়ে আছে ঘনিষ্ঠ কিছু মানুষের জীবন।

বেরিয়ে আসে ডাক্তার রুশদী, রুশদীর মানসিক হাসপাতালের আড়ালের ভয়ঙ্কর কিছু সত্য।

ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে হাসান, মারুফের বোন বিনু, প্রেক্ষাপটে বেরিয়ে আসে এক সিক্রেট মিশনের এজেন্ট মিলি, প্রায় মফস্বল এলাকার মত একটি গ্রামের খুব লাজুক ছেলে লোকমান।

বেরিয়ে আসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন জাপানের শিরো ইশির এক ভয়ঙ্কর কালো অধ্যায়, হিটলারের এক অ্যান্থ্রপলজিস্ট ও বিভিন্ন গা শিউরে ওঠা বিষয়।

সাথে যুক্ত হয় ধর্মতত্ত্ব, বাহাই, বাবি, স্যাটানিক, আব্রাহামিক ধর্মের বিভিন্ন বিষয়।

“ভেন্ট্রিলোকুইস্ট” শুধু একটি উপন্যাসই নয়, পাঠকদের জন্য ইতিহাস, স্থাপত্য, গণিত, ধর্মতত্ত্ব আর বিজ্ঞানের এক অভূতপূর্ব যাত্রা।

বইটি পড়ে অনেক অনেক ভালো লেগেছে। দারুণ এক থ্রিলার, বৈচিত্র্যময় কাহিনী। সাসপেন্স, মিস্ট্রি, থিওলজি, সাইন্স এলিমেন্ট, হালকা হরর আবহ- সবই আছে বইয়ে। বি-শা-ল পরিসরে ঝড়ের বেগে চলেছে কাহিনী। বেশ টানটান উত্তেজনাময় ছিলো পুরো বইটি। কী নেই বইয়ে? প্রাচীন ধর্মতত্ত্ব, বিজ্ঞান, ইতিহাস, মেডিকেল সাইন্স, মনস্তত্ত্ব, প্রেতচর্চা, আধুনিক স্থাপত্যের খুঁটিনাটি, বাহাই ও বাবি ধর্মের ইতিহাস, গণিতবিদ্যা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রক্তাক্ত এবং লুকিয়ে ফেলা কিছু অধ্যায় এবং কিছু চরিত্রের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু আলো আঁধারী অধ্যায়।

পড়াশুনা ও গবেষণার মাধ্যমে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ঘাটতি যে পেছনে ফেলে দেয়া যায় তার প্রমাণ দেখিয়েছেন লেখক এই বইয়ে। বইটি লিখতে লেখককে যে কী পরিমাণ পরিশ্রম করতে হয়েছে সেটাই আমি ভাবছি শুধু পড়তে পড়তে। এত এত তথ্যের মিশেলে এত জটিল একটা প্লট, যেই সেই কাজ না। দারুণ এক কাজ দেখিয়েন লেখক। পাঠক অনেক অনেক তথ্য পাবে পড়তে পড়তে, কিন্তু এত তথ্য ধারণ করতে পাঠকের ক্লান্তি আসবে না।

গল্পটি উত্তম পুরুষে হবার সুবাদে মনে হচ্ছিলো আমিই মারুফ, আমার সাথেই ছিল রুমী। আমার সাথেই যেন সবকিছু ঘটে চলছে, আমিই বর্ণনা করছি ঘটনাগুলো। বর্ণনাভঙ্গীটা এতোই বাস্তবিক যে, মারুফ-রুমীর সাথে যা হচ্ছে, তার সবই আমি নিজেই অনুভব করছি। সাধারণত থ্রিলার গল্প-উপন্যাসগুলো তৃতীয় পুরুষে লেখা হয়, রহস্য ধরে রাখার জন্যে। কিন্তু লেখক উত্তম পুরুষে বইটি লিখে বেশ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।

লেখক শুরু থেকে রহস্যের জাল যেভাবে ছড়িয়েছে, ঠিক সেভাবেই ধীরে ধীরে রহস্যের জাল গুটিয়েছেন। রহস্যের সমাধানের মাধ্যমে দারুণ তৃপ্তি দিতে পেরেছেন। পাঠককে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখার মত একটি বই।

বইটির নামকরণও যথার্থ লেগেছে, শুরুতে ভেন্ট্রিলোকুইস্ট শওকতকে মনে হলেও কাহিনীর মূল ভেন্ট্রিলোকুইস্ট আরেকজন। তার পুতুল হয়েই সবাই চলছে। সেই দিক থেকেই নামকরণেও লেখক দারুণ খেল দেখিয়েছে।

মারুফের চরিত্রকে কিছুটা অন্ধকারে রেখেছেন লেখক, সেটা হয়তো গল্পটি মারুফের জবানীতে বলার কারণেই। দুয়েকটা বানান আর বিরামচিহ্ন বাদে বইয়ে নেগেটিভ দিক বলতে আর কিছুই নেই।

মিনিমালিস্ট:

ভেন্ট্রিলোকুইস্ট ও মিনিমালিস্ট- বাংলায় আন্তর্জাতিক মানের মৌলিক থ্রিলার

দীর্ঘ চার বছর পর আবার রুমি ও মারুফ একসাথে জড়িয়ে পড়লো এক অদ্ভুদ ঘটনায়। দু’টো লক্ড রুম মিস্ট্রিতে। পড়ে গেল এক অদ্ভূত রহস্য মীমাংসায়, এক সুদীর্ঘ অনুসন্ধানে। যে অনুসন্ধানে মিশে আছে সহস্রবছর ব্যাপী গোপনে উচ্চারিত প্রশ্ন, মূল্যবান শত শত জীবন এবং অবিশ্বাস্য ঐতিহাসিক সব স্মারক।

কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে ছোটখাটো সাপ না শুধু, একেবারে অ্যানাকোন্ডার ডেরা। ঘটনা প্রবাহে বের হয়ে আসে দেশের এক বিত্তশালী ব্যক্তি, আতিক সাহেব। ঘটনায় বেরিয়ে আসে আতিক সাহেবের নাতনী জিনান। ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে ভারতীয় এক গোয়েন্দা, রমেন্দ্রদা।

গল্পটি শিখদের নিয়েও। তাদের ঐতিহ্যের, সংস্কৃতির। আবার গল্পটি শিখদের আড়ালে অন্য কারোরও। হ্যাঁ, গল্পটি এক মাস্টারমাইন্ড উন্মাদেরও; যে ক্ষমতা, প্রতিশোধ ও রাজনীতির জন্য যে কোনো কিছু করে বসতে পারে।

গল্পটি প্রচলিত-অপ্রচলিত, প্রাচীন-অপ্রাচীন কতগুলো ধর্মবিশ্বাসের।

গল্পটি মিনিমালিজমের। মিনিমালিস্টদের জীবনবোধের। তাদের ইতিহাসের।

গল্পটি ঈসা, মুসা, আব্রাহামিক বিভিন্ন নবীর ও বিভিন্ন ধর্মপ্রচারকদের। বিভিন্ন ধর্মীয় ঐতিহাসিক স্থানের।

হ্যাঁ, গল্পটি পৃথিবীর মানব-ইতিহাসের দুই প্রাচীন রত্নেরও।

এছাড়াও গল্পটি আরো অনেকের। বাংলাদেশ, ভারত বা ভারতবর্ষ ছাড়াও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলের। আরো অনেকে রাজনীতির। অনেক সংগ্রামের। অনেক আলো-আঁধারী অধ্যায়ের।

এর সুবিস্তৃত বিশাল পটভূমিতে মারুফ-রুমি খুঁজে ফেরে এমন এক সত্য যা ধামাচাপা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মিথ্যা আর ছলনায় মোড়া দৈত্যাকার মহীরুহ।

কান পেতে শুনতে চেষ্টা করুন। কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। নানা ঘটনা, উপঘটনার সুদীর্ঘ যাত্রা। যার উপলক্ষ্য খুব খারাপ কিছু এবং বৃহৎ ও মহতী এক বোধের।

মাশুদুল হক এর “মিনিমালিস্ট” পাঠককে এক অদ্ভুত দর্শনের দিকে টেনে নিয়ে যাবে।

এই বইটিও পড়ে অনেক অনেক ভালো লেগেছে। দারুণ এক কাল্ট থ্রিলার। সাসপেন্স, মিস্ট্রি, থিওলজি, সাইন্স এলিমেন্ট, হিস্টোরি, মিথ সবই আছে বইয়ে। বিশাল ও আন্তর্জাতিক পরিসরে ঝড়ের বেগে চলেছে কাহিনী। বেশ টানটান উত্তেজনাময় ছিলো পুরো বইটি। প্রাচীন ধর্মতত্ত্ব, কিছু নতুন ধর্ম, মিথ, বিজ্ঞান, দর্শন, ইতিহাস, রাজনীতি, কিছু অমূল্য রতনের ইতিহাস, শিখ ধর্ম, সাবমিশন, মিনিমালিজম এর ইতিহাস, ইতিহাস থেকে লুকিয়ে ফেলা অনেক অনেক অধ্যায় এবং আরো অজানা অনেক কিছু আছে বইয়ে।

পড়াশুনা ও গবেষণার মাধ্যমে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ঘাটতি যে পেছনে ফেলে দেয়া যায় তার প্রমাণ দেখিয়েছিলেন লেখক তার আগের বই “ভেন্ট্রিলোকুইস্ট”-এ। এই বইতে লেখক সেটিকে আরো পাকাপোক্তভাবে দেখিয়ে দিয়েছেন। বইটি লিখতে লেখককে যে কী পরিমাণ পরিশ্রম করতে হয়েছে, ভাবতে ভাবতে আমি হয়রান! অনেক অনেক তথ্য পেয়েছি পড়তে পড়তে, কিন্তু এত তথ্য ধারণ করতে একটুও ক্লান্তি আসেনি। সত্যি কথা বলতে, এত এত তথ্যসমৃদ্ধ থ্রিলার আমার খুব পছন্দের। অনেক অজানা তথ্য নতুন করে জানতে পারলাম, বেশ কয়েকবার পড়ার ফাঁকে ফাঁকে গুগল, উইকি ও বিভিন্ন ব্লগেও ঢুঁ মেরছি আরো বিস্তারিত জানার জন্য বিষয়গুলো।

লেখক দারুণ এক এক্সপেরিমেন্ট করেছেন বইয়ে। একেকটি অধ্যায় একেক পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে দেখিয়েছেন। প্রত্যেকটি অধ্যায় আলাদা চরিত্রের জবানীতে বর্ণনা করেছেন। প্রত্যেকটা চরিত্রের দিক থেকেই ঘটনা প্রবাহ দেখিয়েছেন। গল্পটি যখন মারুফ বর্ণনা করছিল তখন নিজেকে মারুফ মনে হচ্ছিলো, আবার যখন রুমি বর্ণনা করছিল তখন রুমি, আবার কখনও জিনান, কখনও বা জসওয়ান্ত, মোটকথা একেক অধ্যায়ে নিজেকে একেকজন চরিত্র মনে হচ্ছিলো।

বইটি ভেন্ট্রিলোকুইস্ট এর সিক্যুয়াল হলেও, যারা ভেন্ট্রিলোকুইস্ট পড়েনি, এই বইটির কাহিনী বুঝতে একটুও সমস্যা হবে না। কারণ এই বইয়ে “ভেন্ট্রিলোকুইস্ট” এর মারুফ আর রুমি ব্যতিত বাকি সবাই’ই নতুন। নতুন চরিত্র, নতুন প্রেক্ষাপট, নতুন ঘটনা।

বইয়ে দৃশ্যায়ন, সংলাপ, হালকা-পাতলা অ্যাকশন এবং খুঁটিনাটি বর্ণনা করা হয়েছে খুব সুন্দরভাবে। প্রতিটা জায়গার এত ডিটেইল বর্ণনা দিয়েছেন, মনে হচ্ছিলো লেখক আমাকে নিয়ে ওখানে ঘুরতে গিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে জায়গাগুলোর বর্ণনা দিচ্ছেন খুব সন্দরভাবে।

নন-লিনিয়ার স্টোরিটেলিং এর কারণে শুরুর দিকে একটু খাপছাড়া লাগতে পারো কারো কারো। তবে “ভেন্ট্রিলোকুইস্ট”-এ লেখক যেই আকর্ষণ করেছেন তার লেখায়, সেটার কারণে থেমে থাকা সম্ভব না।

অনেক অনেক চরিত্রের কারণে অনেক পাঠকের কাছে বিরক্ত লাগতে পারে, আমারও কিছুটা লেগেছিলো। কিছু কিছু চরিত্রকে লেখক কিছুটা অন্ধকারে রেখেছেন। ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট কিছুটা কম হলেও যতটুকু করেছেন সেটা ভালোই লেগেছে। সাবমিটদেরকে ডেভেলপ লাগেনি অতটা।

বেশকিছু বানান ও বিরামচিহ্ন ভুল বা মুদ্রণজনিত ছিল, কিন্তু কাহিনীর যেই গতি ছিল, এসব অতটা চোখেই আটকায়নি।

দু’টি বইয়ের গল্পে ধর্ম, ইতিহাস, বিজ্ঞান, মিথ এসব থাকায় অনেকেরই মনে হতে পারে ড্যান ব্রাউনীয় প্রভাব আছে বইয়ে। কিন্তু এটা আসলে এই সিরিজেরই স্টাইল। লেখকের সিগনেচার স্টাইল’ই হয়তো এটা। যাই হোক, যারা ড্যান ব্রাউনীয় টাইপের বই পড়তে পছন্দ করেন, তাদের জন্য অবশ্যপাঠ্য বাংলায় লেখা মৌলিক থ্রিলার দুটো।

প্রধানমন্ত্রীর অভিলাষে পদ্মা কলেজ সরকারি হয়েছে, হবে জয়পাড়াওঃ আইজিআর খান মান্নান

শনিবার দোহারে পদ্মা কলেজের একাডেমী কার্যক্রমের পর্যালোচনা উপলক্ষ্যে আয়োজিত রোভার স্কাউটের গার্ড অব অনারে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহানিবন্ধন পরিদর্শক , সাবেক দায়রা জজ ও পদ্মা কলেজ এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ড. খান মোঃ আব্দুল মান্নান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা জাতীয়করণের অধিগ্রহণ নীতিতে পদ্মা কলেজ সরকারি হয়েছে, হবে জয়পাড়া কলেজও। ইতঃমধ্যে জয়পাড়া পাইলট স্কুলও সরকারি করণের পথে রয়েছে। আগামীতে এইভাবে দোহারের বিভিন্ন খ্যাতিমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারিকরণ করা হবে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ১৯৭২সালে দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন জয়পাড়া কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে আমার পরিবারের পক্ষ থেকে ৫০০ টাকা দান করি। আমি যেমন পদ্মা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা তেমনি জয়পাড়া কলেজেরও। শিক্ষা বিকেন্দ্রীকরণ নীতির আওতায় প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক উপজেলায় একটি কলেজ সরকারি করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত জুন ও আগস্টে দুটি তালিকা প্রকাশ হয়। নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে নম্বর দিয়ে গ্রেডিং করে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। গ্রেডিং করার সময় সবচেয়ে বেশি নম্বর পাওয়া কলেজকে এক নম্বরে এবং তার চেয়ে কম পাওয়া কলেজকে দুই নম্বরে রাখা হয়। এভাবে একটি উপজেলার সর্বোচ্চ ৪-৫টি কলেজকে তালিকাভুক্ত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। গ্রেডিং করার সময় শিক্ষক, শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষার্থীর সংখ্যা, কলেজের ফলাফলের পরিসংখ্যান, ঐতিহ্যবাহী, নিজস্ব জমিসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় দেখা হয়। আর এসব প্রক্রিয়ায় দোহার উপজেলার প্রথম যোগ্য কলেজ হিসাবে পদ্মা কলেজেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তালিকাভূক্তির নির্দেশ দেন। এটি সরকারি সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অভিলাষ।

তিনি আরও বলেন, এবার আমরা সবাই জয়পাড়া কলেজসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও সরকারিকরনে গুরুত্ব দিব। তিনি পদ্মা বাঁধ নির্মাণসহ পদ্মা কলেজ ও জয়পাড়া মডেল স্কুল সরকারি হওয়ায় এবং দোহার নবাবগঞ্জবাসীর জীবন মান পরিবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা রাখায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান একই সাথে আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষম্মতায় দেখতে চান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশনের সভাপতি আজিজুর রহমান বাবুল, প্রকৌশলী আবুল কাশেম, ফ্যামস স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন সোহাগ, মুকসুদপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, পদ্মা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মুজিবুল হায়দার, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জালাল হোসেন সহ শিক্ষক, কর্মচারি সহ অনেকে।

এরপর আইজিআর ড. কে এম মান্নান উপস্থিত কলেজের সকল ছাত্র ছাত্রীদের কে সকালের নাস্তা খাওয়ান।

সুতারপাড়ায় প্রয়াত ছাত্রনেতা নাহিদের শোক সভা পালন

প্রয়াত ছাত্রনেতা মোঃ নাহিদ এর স্মরণে এক শোক সভা পালন করেছে সুতারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ। শুক্রবার দুপুরে দোহার উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের হলের বাজারে কেন্দ্রীয় ছত্রলীগ নেতা তুহিন হুসাইন এর সভাপতিত্বে ছাত্রনেতা নাহিদের শোক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক গৃহায়ন ও গনপুর্ত প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর প্রেসিডিয়াম সদস্য এড. আব্দুল মান্নান খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মান্নান খান প্রয়াত নাহিদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বলেন,যে মানুষ শুধু  মানুষের জন্য কাজ করে,সে মৃত্যুর পরেও বেচে থাকে । তাই দেশের মানুষের কল্যানে কাজ করতে হবে।

শোক সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগ এর সিনিয়র সহ সভাপতি বাবু নির্মল রজ্জন গুহ,ছাত্র নেতা নাহিদ সহ যে সকল আওয়মী লীগ কর্মী ইতিমধ্যে মৃত্যু বরন করেছে তাদের সকলের আত্মার মাগফেরাত কমনা করেন। তিনি ছাত্রলীগ কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন নিজের জন্য নয় দলের জন্য সকলকে কাজ করতে হবে।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন,ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মোঃ ফজলুর রহমান, দোহার উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোঃ আলমাছ উদ্দিন, উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক হাবিবুর রহমান,দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রাজীব শরীফ, জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি এড.তন্ময় তুহিন, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড.শরিফ হাসান, দোহার পৌরসভা ছাত্রলীগের সভাপতি দ্বীন ইসলাম ,সাধারন সম্পাদক কামরুজ্জামান, সিনিয়র সহ সভাপতি আরিফুল ইসলাম,সহ সভাপতি কানন, কলেজ শাখা সাংগঠনিক সম্পাদক উদয় হোসেন সহ সুতারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের রাছেল,শাহিন,সারোয়ার প্রমুখ।

 

দোহারে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ বোরহান আর নেই

দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রবীন নেতা ও জয়পাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আক্কেল আলী চেয়ারম্যানের ছোট ভাই শেখ বোরহান উদ্দিন কাল রাত ৯টার সময় নিজ বাসায়  ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নাল্লিলাহী অ ইন্নাল্লিলাহী রাজীউন। শেখ বোরহান উদ্দিন দোহার উপজেলা সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আওয়ামী মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনারকলী পুতুলের ছোট চাচা।

জয়পাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আক্কেল আলী চেয়ারম্যানের ছোট ভাই হিসাবেও তার ছিল একটি আলাদা পরিচিতি। তিনি ঢাকা জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহ সভাপতি হিসাবে তার নাম প্রস্তাব করেছিল ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন আব্দুল মান্নান খান, বাবু নির্মল রঞ্জন গুহসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা।

নবাবগঞ্জের বিএনপির সাবেক সভাপতি ইফতেখার আল ফারুকীর মৃত্যু

নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ঢাকা জেলা বিএনপির সহসভাপতি ইফতেখার আল ফারুকী ২৬ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে রাতে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহী অ ইন্নাল্লিলাহী রাজীউন। বিএনপির রাজনীতির অন্যতম প্রবীন এই নেতার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দোহার-নবাবগঞ্জ বিএনপি নেতা কর্মীদের মাঝে।

রাজনীতিবিদ ছাড়াও শিক্ষা অনুরাগী এই রাজনীতিবিদ দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ গভর্নিংবডি’র অভিভাবক প্রতিনিধি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন।

ষাটের দশকে কমরেড তোহার হাত ধরে রাজনীতিতে হাটতে শেখা, অব্শ্য সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস দীর্ঘস্থায়ী হয়নি,আশির দশকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে হাত রেখে জাতীয়তাবাদীর রাজনীতি শুরু করেন। সেই যে শুরু ক্লান্ত হয়নি তিনি। সাবেক মন্ত্রী মরহুম আতাউদ্দিন খান, সাবেক মন্ত্রী ক্যাপ্টিন (অবঃ) নূরুল হক, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক নেতা ব্যারিষ্টার নাজমূল হূদা,সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান এবং ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক ভাই বিএনপির সকল স্তরের নেতা-কর্মীই তাকে একটু ভিন্ন ভাবেই মুল্যায়ন করতেন।

তার এই প্রয়ানে শোক প্রকাশ করেছেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক খন্দকার আবু আসফাক, ঢাকা জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক এদভোকেট মনির হোসেন রানাসহ ঢাকা জেলা বিএনপির নেতা কর্মীরা।

নবাবগঞ্জ-ঢাকার রাস্তায় রাজত্ব দুই পরিবহনের

ঢাকা থেকে নবাবগঞ্জ শহরের দূরত্ব মাত্র ৩৬ কিলোমিটার। কিন্তু এই ৩৬ কিলোমিটারের মধ্যে দাপিয়ে বেরাচ্ছে এন মল্লিক ও যমুনা পরিবহন নামে দুটি বাস মালিক পরিবহন।

বলতে গেলে নবাবগঞ্জে চলছে এই দুই পরিবহনের  রাজত্ব। এ রাজত্বের যাতা কলে পড়েনি নবাবগঞ্জে এমন শ্রেণীর লোক পাওয়া বিড়ল। সরকার নির্ধারিত ভাড়া না মানা, পরিবহনে ভাড়ার তালিকা না থাকা, কাউন্টার সার্ভিসের স্বল্প দূরত্বে গেলেও দূরবর্তী স্থানের ভাড়া আদায় এবং যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দের তোয়াক্কা  না করেই যেনো রাজধানীর অতি নিকটে ঢাকা-বান্দুরা রোডে চলাচলকারী  এন মল্লিক ও যমুনা পরিবহনের নিয়ম হয়ে দাড়িয়েছে।

পরিবহন মালিকদের এই নৈরাজ্যে জিম্মী হয়ে পড়েছেন যাত্রীরা। যাত্রীদের অভিযোগ পরিবহন খাতে যে সব  সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তার বেশির ভাগই যায় মালিকদের পক্ষে। সরকার কেবল বাস চলার অনুমতি দেওয়া এবং ভাড়া নির্ধারণ করা ছাড়া কিছুই করছে না। ফলে যাত্রী সার্থ হচ্ছে উপেক্ষিত। আর এ কারণে প্রতিবাদকারী যাত্রীদের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে ঝগড়া-হাতাহাতি করা বাংলাদের প্রায় সব রাস্তায় এখন নিত্যদিনের ঘটনা।

ঢাকা-বান্দুরাগামী পরিবহনেও এর ব্যতিক্রম নয়। প্রায় সময় শুনা যায় আজ এন মল্লিককের যাত্রীদের সাথে হেল্পপারের তুমুল জগড়া হয়েছে। আবার অল্প যায়গার দূরত্বে এসেও যমুনা বাসের হেল্পারের সাথে যাত্রীদের  হাতাহাতি হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায় এর প্রধান কারণ দূরত্ব অনুযায়ী বেশি ভারা আদায়। তবে এসব দেখার কেউ নেই। সরকার প্রতি কিলোমিটার প্রতি এক টাকা ষাট পয়শা (১.৬০) ভাড়া নির্ধারন করে দিয়েছে। সরজমিনে দেখা যায় এ শর্ত এই দুই পরিবহনের কেউই মানছে না।

বান্দুরা থেকে গুলিস্তান এন মল্লিক কাউন্টার পর্যন্ত দূরত্ব ৪২ কিলোমিটার। সরকারি নির্ধারিত ভাড়া আসে ৭১ টাকা, সেখানে যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৮০টাকা। অতিরিক্ত ৯ টাকা বেশি আদায় করা হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে এক হাজার (১০০০) যাত্রী আসা যাওয়া করে অর্থাৎ প্রতিদিন অতিরিক্ত আয় হয় ৯ হাজার টাকা, মাসে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা, বছরে আয় হবে ৩২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

মাঝিরকান্দা থেকে গুলিস্তান এন মল্লিক ও যমুনা পরিবহনের কাউন্টার পর্যন্ত দূরত্ব ৩৯ কিলোমিটার। সরকারি নির্ধারিত ভাড়া আসে ৬৬ টাকা ৩০ পয়সা, কিন্তু যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ৭৫ টাকা। এখানে অতিরিক্ত ৮ টাকা ৭০ পয়সা বেশি আদায় করা হচ্ছে। গড়ে এ স্থান থেকে  প্রতিদিন ৪০০ জন যাত্রী আসা যাওয়া করে। অর্থাৎ প্রতিদিন অতিরিক্ত আয় হয় ৩ হাজার ৪শ ৮০ টাকা, মাসে ১ লাখ ৪ হাজার টাকা ৪শ টাকা, বছরে আয় হবে ১২ লাখ ৫২ হাজার ৮শ টাকা।

নবাবগঞ্জ থেকে গুলিস্তান এন মল্লিক ও যমুনা পরিবহনের কাউন্টার পর্যন্ত দূরত্ব ৩৬ কিলোমিটার। সরকারি নির্ধারিত ভাড়া হবে ৬১ টাকা ২০ পয়সা, কিন্তু যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ৬৫ টাকা। এখানে অতিরিক্ত  ৩ টাকা ৮০ পয়সা বেশি আদায় করা হচ্ছে। গড়ে এ স্থান থেকে প্রতিদিন ৬০০ জন যাত্রী আসা যাওয়া করে। অর্থাৎ প্রতিদিন অতিরিক্ত আয় হয় ২ হাজার  ২শ ৮০ টাকা,  মাসে ৬৮ হাজার ৪শ টাকা, বছরে আয় হবে  ৮লাখ ২০ হাজার ৮শ টাকা।

টিকরপুর থেকে গুলিস্তান এন মল্লিক ও যমুনা পরিবহনের কাউন্টার পর্যন্ত দূরত্ব ২৮ কিলোমিটার। সরকারি নির্ধারিত ভাড়া হবে ৪৭ টাকা ৬০ পয়সা। কিন্তু যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ৫৫ টাকা। এখানে অতিরিক্ত  ৭ টাকা ৪০ পয়সা বেশি আদায় করা হচ্ছে। গড়ে এ স্থান থেকে প্রতিদিন  ৩০০ জন যাত্রী আসা যাওয়া করে। অর্থাৎ প্রতিদিন অতিরিক্ত আয় হয় ২ হাজার ২শ ২০ টাকা,  মাসে ৬৬হাজার ৬শ টাকা, বছরে আয় হবে প্রায় ৮ লাখ  টাকা।

আবার অল্প দূরত্বে গেলেও গুনতে হয় সম্পূর্ণ ভাড়া। বান্দুরা থেকে রামের কান্দা বাস স্ট্যান্ডের দূরত্ব ২৯ কিলোমিটার এবং কোনাখোলার দূরত্ব ৩৩ কিলোমিটার কিন্তু সেখানে নামলেও দিতে হয় পুরো ৪২ কিলোমিটারের ভাড়া।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস আগে  ঢাকা-বান্দুরা রোডে বেসরকারি ভাবে নবকলি নামে একটি পরিবহন আসে কিন্তু এই দুই পরিবনের তোপে বেশিদিন টিকতে পারেনি নবকুলি পরিবহন। শুধু তাই নয় সরকারি পরিবহন বিটিআরছিও এই দুই পরিবহনের কাছে হার মেনে চলে যায়। অনুসন্ধানে দেখা যায় রাজনৈতিক ক্ষমতা  ও টাকার কাছে অসাহায় হয়ে তাদের চলে যেতে হয়েছে।

ঢাকার বাইরে এবং ভিতরে বাস চলাচলের অনুমতি দেয় মহানগর পুলিশ কমিশনারের নেত্রীত্বে একটি কমিটি (মেট্রো আরটিসি)। এই কমিটিতে বাংলাদেশ  সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষসহ (বিটিআরসি) সরকারের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি,  একাধিক মালিকও  শ্রমিক সমিতির নেতারা থাকলেও  যাত্রীদের কোনো প্রতিনিধি নেই।

বর্তমানে নবাবগঞ্জে শিক্ষার হার শতকরা ৮০ ভাগ। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত ৪০ ভাগ, ফলে এদের মধ্য বেশির ভাগ লোকই ঢাকায় চাকরি করেন এবং দূরত্ব অল্প থাকায় প্রতিদিনই নিজ বাড়ি থেকে অফিসে আসা যাওয়া করেন। কিন্তু তাতে রয়েছে বড় সমস্যা। দূরত্ব কম থাকার ফলেও তারা প্রায়দিনই ঠিক সময় মত অফিসে যেতে পারে না। কারণ রাস্তায় যমুনা পরিবহনের প্রতিবন্ধকতা।

শিকারী পাড়া গ্রামের আবজাল বলেন ভাই আমরা আছি বিপদে ১ ঘন্টা ২০ মিনিটের রাস্তায় যাইতে সময় লাগে ৩ ঘন্টা। অল্প বেতনে চাকরী করি ঢাকায় থেকে যে অফিস করবো সেই কপাল নেই।  প্রায় সময় অফিসে পৌঁছাতে দেরি হয়, এর ফলে বসের গালি শুনতে হয়। বাসায় থেকে বের হওয়ার আগে  আল্লাহর কাছে দোয়া করে বের হয়। কি দোয়া করে বের হন জিজ্ঞেস করলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন আল্লাহ আজ যেনো যমুনা বাসের পিছনে না পরি।

বান্দুরা থেকে ঢাকাগামী একমাত্র পরিবহন হচ্ছে এন মল্লিক। বান্দুরা এলাকার রাইমন বলেন আমি ঢাকার গুলিস্থান এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরী করি। যেখানে যাইতে সময় লাগে দেড় ঘন্টা। সপ্তাহে চার দিন আমার ঢাকায় যাইতে হয়। কিন্তু যে দিন মাঝির কান্দা থেকে যমুনা বাসের পিছে পরি  মাঝিরকান্দা থেকে টিকরপুর  যাইতেই সময় লাগে দেড় ঘন্টা।  মাঝিরকান্দা থেকে টিকরপুরের দুরত্ব ১১ কিলোমিটার।  আর সে দিন ঢাকা যাইতে সময় লাগে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘন্টা।

এছাড়া নবাবগঞ্জে অনেক ব্যবসায়ী রয়েছেন তাদের সপ্তাহে তিন-চার দিন ঢাকায় আসা যাওয়া করতে হয়। নাম প্রকাশে অনচ্ছুক বাগমারা বাজারের এক ব্যবসায়ী বিডিমনিংকে  বলেন ভাই আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হাতে ধরে মাল আনা যায় এমন মালের  জন্যও আমাদের অতিরিক্ত টিকেট কাটতে হয়। ফলে মালের খরচ অনেক বেড়ে যায় এর ফলে কম দামের জিনিস হলেও বিক্রি করতে হয় বেশি দামে।

নবাবগঞ্জের অনেক ছাত্র ছাত্রীরা উচ্চ শিক্ষার জন্য ঢাকার বিভিন্ন কলেজ গুলোতে পড়াশুনা করছে। ঢাকা তেজগাও কলেজে পড়ুয়া নবাবগঞ্জের অমিত বলেন ভাই আমরা ছাত্র মানুষ ঢাকার প্রায় সকল বাসই আমাদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেয় কিন্তু আমাদের অত্র এলাকার পরিবহন আমাদের কাছ থেকে সাধারণ যাত্রীদের মতনই পুরো ভাড়া নেয়। কম দিতে চাইলে হেল্পপাররা আমাদের সাথে রাগারাগি করে এবং অনেক সনয় বাস থেকে নেমে যেতে বলে। ফলে বাধ্য হয়ে পুরো ভাড়া দিয়েই আসতে হয়।

অনুসন্ধানে উঠে আসে পরিবহন গুলির আরেক চিত্র। যে কোনো উৎসব এলেই  এই  দুই পরিবহনের দৌড়াত্ব দ্বীগুন বেড়ে যায়।

পাঞ্জীপহরী গ্রামের কতুব বলেন, যে কোনো তেহার আসলেই এই বাস মালিকরা ভাড়া বাড়ায় দেয়। তখন ৮০ টাকার ভাড়া হয় ১০০-১৫০ টাকা। তিনি আরো বলেন, গত ঈদুল আযাহার ঈদে ৮০ টাকার ভাড়া যখন ১২০ টাকা চাচ্ছে আমি তখন তাদের বললাম এটা তো অন্যায় ৮০ টাকার ভাড়া কি করে ১২০ টাকা হয়। কথায় কথায় এক পর্যায় আমার সাথে তাদের ঝগড়া লেগে যায়। তাদের এককথা আমাগো কইয়া লাভ নাই মালিকের হুকুম।  গেলে যান না গেলে না যান। রাত অনেক হয়ে যাওয়ার ফলে বাধ্য হয়ে ৮০ টাকার ভাড়া ১২০ টাকা দিয়ে আসলাম। কার্তিকপুর গ্রামের ইয়াজদ্দিন বলেন ঢাকা থেকে কার্তিকপুর এলাকার নিয়মিত ভাড়া ১০০ টাকা। কিন্তু ঈদের আগের দিন বাধ্য হয়ে ১০০ টাকার টিকেটে ২০০ টাকা দিয়ে আসতে হলো।

মুন্সিনগর গ্রামের রকিব মিয়া বলেন ঈদের ৫ম দিন ঢাকায় মেয়ের বাসায় বেড়াতে যাবো কাউন্টারের টিকেট কিনতে গিয়ে দেখি ৭৫ টাকার টিকে ১০০ টাকা। ভাড়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে বলে আমরা কিছু জানি না। মালিকের হুকুম।

নাম প্রকাশে অনইচ্ছু  এন মল্লিক পরিবহনের এক বাস হেল্পার এই প্রতিবেদক কে বলেন ভাই প্রায় দিনই ভাড়া লইয়া আমাগো হাতে যাত্রীগো ঝগড়া লাগে। মালিক তো সুখে আছে,  মালিক যা বলে আমাগো তাই করতে হয়। অনেক সময় যাত্রীরা মা, বাপ তুইলা গালি দেয়। কন ভাই আমাগো কি দোষ মালিক তো আমাগো অবস্থা বুঝে না। একদিন যদি হেল্পপারি করতো সে দিন বুঝতো কত লাত্তি, গুতা, গালি খাইয়া এই কাম করতাছি।

নাম প্রকাশে অনইচ্ছু যমুনা পরিবহনের এক বাস হেল্পার বলেন ভাই আমরা কি করুম মালিক কইছে এন মল্লিকরে কোনো সাইড দিবি না। যদি কোনো ড্রাইভার ইচ্ছা কইরা এন মল্লিকরে সাইড দেছ তাইলে ঐ বাস তিন টিভ বন্ধ থাকবো। আমাগোরে মালিকরা মৈনট ঘাট থেইক্কা মাঝির কান্দা আসা পর্যন্ত  ১৫ মিনিট সময় দিছে। এতো অল্প সময়ে আসতে আমাগো খুব কষ্ট হয়। ফলে ওস্তাদ গাড়ি জোড়ে চালায়। এতে কইরা আমরা অনেক একসিডেন্ট করছি, এমন কি আমাগো বাসের ধাক্কায় মানুষও মারা গেছে। যদি কোনো বাস এই ১৫ মিনিটের মধ্যে না আসতে পারে এর পর থেইক্কা  ১ মিনিটের জন্য ৫০ টাকা ফাইন ধরা হয়। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো যদি ১০ মিনিট লেট করা হয় সাথে সাথে সে উত্তর দেয় ৫০০ টাকা ফাইন। তবে অনেক সময় ১০ মিনিট হলে কাউন্টারে কিছু  টাকা দিয়া ৫ মিনিট কইরা নেই।

এ ব্যাপারে  নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেন,  আমি নব জয়েন করেছি। আপনি যে অভিযোগটি দিলেন তা যদি সত্য হয় তবে তদন্ত সাপেক্ষ্যে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো। কোনো পরিবহনই সরকার নির্ধারণ করা ভাড়ার চেয়ে বেশি নিতে পারবে না।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। যদি কেউ কোনো অভিযোগ দেয় তবে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. সাইদুর রহমান বলেন, আমরা আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম নবাবগঞ্জে এই দুই পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। সে ক্ষেত্রে আমরা এই দুই পরিবহনের বিরুদ্ধে খুব তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা গ্রহন করবো এবং পরিবহন ও ট্রাফিক বিভাগকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিবো।

এন মল্লিক পরিবহনের মালিক নার্গীস মল্লিক বলেন, আমরা সড়ক পরিবহনের সাথে কথা বলে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫ থেকে ১০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করছি। এছাড়া ৭৫ টাকার টিকেটে ৮০ টাকা আদায়ের ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমরা আমাদের পরিবহনের জন্য লাখ লাখ টাকার টিকেট ছাপিয়ে থাকি ফলে আমরা ভাড়া বাড়ানোর কারনে নতুন করে আর টিকেট না ছাপিয়ে সেই টিকেটের ওপর সিল মেরে দিচ্ছি।

এদিকে সড়ক পরিবহনের কোন কর্মকর্তা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫ থেকে ১০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করার জন্য অনুমতি দিয়েছে তা জানার জন্য যোগাযোগ করলে কাউকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক সড়ক ও পরিবহন কর্মকর্তা বলেন আসলে কাউকে এ ধরণের অনুমতি দেওয়া হয় না যে আপনি সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫ থেকে ১০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করুন। তারা বিভিন্ন কর্মকর্তাকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে থাকে।

যমুনা পরিবহনের মালিক  চন্দন বলেন, আমরা অন্যান্য পরিবহনের চেয়ে কম ভাড়া নিচ্ছি। আমরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছি না।

 

দোহারে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ড্রেজার পুড়িয়ে ধ্বংস

দোহারে পদ্মা নদীতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে বালু তোলার মেশিন পুড়িয়ে ধ্বংস। ঢাকার দোহারে পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু তোলার অভিযোগে ড্রেজার মেশিন পুড়িয়ে ধ্বংস করেছে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের দেবিনগর এলাকা সংলগ্ন পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু তোলার কাজে ব্যবহত ড্রেজার পাইপ কেটে বিনষ্ট করা হয়। পরে মুকসুদপুর এলাকার পদ্মা নদীতে থাকা একটি বালু তোলার অবৈধ ড্রেজার মেশিন পুড়িয়ে ধ্বংস করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম.আল-আমীনের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত। তবে কে বা কারা এই ড্রেজার পরিচালনা করে তা বলতে পারেনি দোহার থানা পুলিশ।

এলাকাবাসী জানায়, প্রায় মাস খানেক সময় ধরে রাতের আধাঁরে একটি চক্র পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে বিক্রি করে আসছে।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, একটি অশুভ চক্র রাতের আধাঁরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিলো। এলাকাবাসীর অভিযোগে তা নির্মূল করা হলো। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের সাহস না পায়।

দোহার-নবাবগঞ্জে ব্যয় হবে ১১৫ কোটি টাকা

গ্রামে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ‘বৃহত্তর ঢাকা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন-৩ প্রকল্পে’ সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে দোহার নবাবগঞ্জ। স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের প্রচেষ্টায় ঢাকার পার্শবর্তী এই দুই উপজেলার জন্য ১১৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার। এর মধ্যে নবাবগঞ্জে ব্যয় হবে ৯৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং দোহারে ২২ কোটি ৪ লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় মঙ্গলবার এ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এজন্য প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোসহ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম।

একনেক বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বৃহত্তর ঢাকা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ৩ প্রকল্পে ৬ জেলার ৩৪টি উপজেলায় মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলার উন্নয়নে প্রায় ১১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের আওতায় উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামের সড়ক উন্নয়ন, রাস্তা মেরামত, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ, হাটবাজার পুনর্বাসন এবং বৃক্ষ রোপণের কাজ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে একদিকে যেমন গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হবে, তেমনি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে বেশ কিছু মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এই অঞ্চল তো বটেই, সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। চলতি অর্থবছরে শুরু হওয়া প্রকল্পটি শেষ হবে ২০২২ সালে।

জানতে চাইলে ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম (এমপি) বলেন, ‘প্রকল্প একনেকে পাস হওয়ায় আমি আনন্দিত। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে অবহেলিত দোহার নবাবগঞ্জ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই চিন্তা করেছিলাম, কীভাবে এই অঞ্চলের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করা যায়। তাই প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে প্রকল্পটির জন্য রাস্তা নির্বাচন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটারের মাধ্যমে তা সাবমিট করি। এই অনুমোদনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং পরিকল্পনামন্ত্রীকে অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’

নবাবগঞ্জ : প্রকল্পের আওতায় নবাবগঞ্জে সিরাজপুর হাট হতে মাহতাবপুর ফেরিঘাট পর্যন্ত সড়ক কার্পেটিং হবে। এছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি রাস্তা কার্পেটিং হবে। এগুলো হল- বালেঙ্গা বেড়িবাঁধ হতে ইব্রাহিমের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক কার্পেটিং, বালেঙ্গা বেড়িবাঁধ জয়নাল মেম্বারের বাড়ি হতে কবরস্থান হয়ে নাছির মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন, নতুন বান্দুরা কবরস্থান হতে নূর নগর স্ট্যান্ড ভায়া ভাঙা মসজিদ, তালতলা ও বারদুয়ারী মসজিদ সড়ক কার্পেটিং, টিকরপুর আর এইচ ডি ওমরের বাড়ি হতে দুর্গাপুর ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক কার্পেটিং, আগলা বাজার থেকে সমীজ দেওয়ানের (বেবি দেওয়ান) বাড়ি পর্যন্ত সড়ক (অবশিষ্ট অংশ) কার্পেটিং, বারুয়াখালী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে জমির দেওয়ানের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক কার্পেটিং, শংকরখালী-শান্তির বাজার-মেঘুলা সড়ক কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন। (সোনাহাজরা তোফিজ মেম্বারের বাড়ি হতে শংকরখালী মিজানের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক তৈরি, মদনমোহনপুর পাকা রাস্তা হতে হজরত আবু বকর (রা.) মসজিদ হয়ে হালিমের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক কার্পেটিং, পাড়াগ্রাম কবরস্থান হতে মালিকান্দি ফেরিঘাট পর্যন্ত সড়ক কার্পেটিং, ছোট কাউনিয়াকান্দি হতে গোদারাঘাট হতে বড় কাউনিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ছোট কাউনিয়াকান্দি-কসাইকাটা কাউনিয়াকান্দি নদী ঘাট) পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন, বাড়–য়াখালী হতে সুলতান খানের বাড়ি হতে ভাঙাপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন এবং কান্দাবাড়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে আলালপুর ভোটের ঘাট হতে ওসমান মেমোরিয়াল হাসপাতাল পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নে ব্যয় হবে। এছাড়াও প্রকল্পের আওতায় কুমারবাড়িল্লা কবরস্থান হতে ইছামতি নদীর ঘাট পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন, যন্ত্রাইল ইউপি হতে নবাবগঞ্জ পাড়া গ্রাম হাট ইউ জেড আর সড়ক-বাডড়া ইউপি হতে কান্দামাত্রা ইন্দ্রাখালী পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন, নওয়াপাড়া গ্রাম হতে (নওয়া মাইলাল রোড) পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন, শিকারীপাড়া কলেজ-হাগডাদি পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন, ভাঙাভিটা ফেরিঘাট হতে নবাবগঞ্জ পাড়াগ্রাম হাট হয়ে মাশাইল ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন, গোশাইল বাজার হতে দুলসুরা ইউপি অফিস রোড হতে আলী আকবর চেয়ারম্যানের বাড়ি ইব্রাহিমপুর স্কুল গাঙ্গাপুর বাজার পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন, বাগমারা ব্রিজ-আলগিচর খেলার মাঠ ভায়া লেট নাজিম উদ্দিন মেম্বার এবং ডাক্তার সিরাজুল ইসলামের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন, ডাক্তার সিরাজুল ইসলাম-আলগিচর কবরস্থান ভায়া মিয়াবাড়ি মসজিদ হতে মৃত আবদুল ওয়াদুদ বাড়ি পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন, মৃত মতিয়ার রহমান বাড়ি-মিয়াবাড়ি ভায়া মৃত ডাক্তার আবদুল ওয়াহিদ এবং শহীদ আবদুুল কাদির জিলানী চৌধুরী কবরস্থান পর্যন্ত রাস্তা উন্নয়ন, মৃত ডাক্তার মতিয়ার রহমান বাড়ি আলগিচর কবরস্থান এবং আবদুল ওহাব খান বাড়ি ১১৮নং আলগিচর জিপিএস সড়ক, বাড়–য়াখালী ভেড়ামুড়িয়া বোরহান মোল্লার বাড়ি হতে দড়িকান্দি জালালের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন এবং বাড়–য়াখালী দীর্ঘ গ্রাম আদম আলীর বাড়ি হতে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন করা হবে। এছাড়াও এই প্রকল্পের আওতায় বাড়–য়াখালী হাইস্কুল-পানকৌড় ইমবানক্যামেন্ট ভায়া নবগ্রাম কালীমন্দির সড়ক তৈরি, নবাবগঞ্জ-পাড়াগ্রাম ইউজেডআর-সোনাপুর শোল্লা-আউনা ইউপি রোড পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন, চন্দখোলা ইউজেডআর-বোয়ালী আউনা-মাতাবপুর সড়ক উন্নয়ন, নবাবগঞ্জ-পাড়াগ্রাম রাস্তা সিংজোড় আউনা বাজার পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন, পাড়াগ্রাম সুলতানপুর হতে আউনা পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন এবং যন্ত্রাইল ইউপি অফিস অধ্যক্ষ মানবেন্দ্র দত্তের বাড়ি-যন্ত্রাইল পাকা রাস্তা ভায়া শিবমন্দির, ইঞ্জিনিয়ার সালাউদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন করা হবে।

দোহার : এই প্রকল্পের মধ্যে দোহারের পুষ্পখালী- জয়মঙ্গল-চরকুশাই-জিসি রাস্তা পুনর্বাসন ও কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন, পরানখালী সোহরাবের দোকান-মানিক ফকিরের বাড়ি-মধুখানের বাড়ির রাস্তা (পরানখালী ব্রিজ-পান্নুর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা) কার্পেটিং, চরকুশাই-ভূঁইয়াবাড়ি রাস্তা (চরকুশাই মেনই রোড-চরকুশাই প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তা) কার্পেটিং, দেবীনগর নুরুল হক মেম্বারের বাড়ি-দেবীনগর ব্রিজ-ফুলছড়ি আলম মার্কেট রোড (রাধানগর শফি মুন্সী রোড-দেবীনগর নুরুল হক মেম্বারে বাড়ি-দেবীনগর ব্রিজ-আলম মার্কেট রাস্তা) কার্পেটিং, দেবীনগর আজর আলী মোল্লার বাড়ি-হাসেম মাদবরের বাড়ি-করিম মোল্লার বাড়ি রাস্তা (দেবীনগর ব্রিজ-কৃষ্ণদেবপুর রহিম মোল্লার বাড়ির রাস্তা) কার্পেটিং এবং হাতিরপাড়া (ফুলতলা)-ছকিল উদ্দিন হাজীর মসজিদ-সোহরাব মুন্সীর বাড়ি-আকনপাড়া মোল্লা বাড়ি-সিকদার বাড়ির রাস্তা (পালামগঞ্জ লন্ডন জলিলের বাড়ি-মোস্তার হোসেনের বাড়ি-কালভার্ট পর্যন্ত রাস্তা) কার্পেটিং করা হবে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় দোয়াইর বাড়ি-সিরাজুল ইসলাম ভুলু-মোফিয়েল বাড়ি-পূর্বর দোয়াইর চর রোড উন্নয়ন, মুকছুদপুর ইউনিয়নে অবস্থিত পদ্মা কলেজের ছাত্রাবাস (শহীদ মাহফুজ হোস্টেল একাডেমিকা) থেকে শান্তিনগর রাস্তা পর্যন্ত সংযোগ সড়ক উন্নয়ন, মেঘুলা প্রাথমিক বিদ্যালয় আর এইচ ডব্লিউ-দক্ষিণ শিমুলিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়-ধীৎপুর পদ্মা বাইপাস সড়ক পর্যন্ত উন্নয়ন, উত্তর মোড়াবুচির বিল-কালু দেয়ানের বাড়ি-হুরার বিল-ইমরানের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন, চরকুশাই নুর মোহাম্মদের বাড়ি (আমিনা ডাক্তারের বাড়ি)-দেওভোগ প্রাথমিক বিদ্যালয়-আলালের বাড়ি (খালেকের বাড়ি-করিম ব্যাপারির বাড়ি-মনসুরের বাড়ি) পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন, মাহমুদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চরকুশাই মাহমুদপুর আশরাফুল উলুম মাদ্রাসা থেকে ইসমাইল ফকিরের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন, নয়াবাড়ি ইউনিয়নের মধ্য দোয়াইর ৮ নং ওয়ার্ডের হারুনের দোকান হতে সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের বাড়ি হয়ে যুগ্ম সচিব মিজানের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন, সুতার পাড়া আউয়াল মেম্বারের বাড়ির মোড়-শাহীন মাস্টারের বাড়ি-কৃষি অফিস আমিনুলের বাড়ি হয়ে নায়াবাড়ি পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন, মুকসুদপুর ইউপির পূর্ব মোড়া সামসু মাঝির বাড়ি থেকে রফিকের বাগান পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন এবং মুকসুদপুর ইউপির শাইনপুকুর-বড়বাড়ি কবরস্থান-শাহী মসজিদ পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন করা হবে।

পদ্মার ইলিশে ডিম বোঝাই

 

দীর্ঘ ২২ দিন বন্ধ থাকার পর দোহার ও শ্রীনগরের পদ্মা নদীসহ দেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে মাছ ধরা শুরু হলেও জেলেদের জালে ধরা পড়া বেশির ভাগ ইলিশ মাছে ডিমবোঝাই। এক দিকে ডিমবোঝাই মাছ ধরা পড়ছে অপর দিকে অবৈধ কারেন্ট ও ছালা জাল ব্যবহারের ফলে ধরা পড়ছে সদ্য ডিম ফোটা ইলিশের পোনা ও জাটকা। নদীজুড়েই ব্যবহার এসব অবৈধ জাল।

বাজারগুলোতেও যে সব ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় প্রতিটি মাছেই রয়েছে ডিম। ফলে সরকারের কাক্সিক্ষত লক্ষ্য পূরণ হওয়া নিয়ে চরম সংশয় দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় জেলেদের পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা বাড়ানোর দাবি উঠেছে খোদ জেলেদের কাছ থেকেই।

সরেজমিন পদ্মা নদী ঘুরে একাধিক সূত্রে জানা যায়, মা-ইলিশ মাছ রক্ষায় মাছ আহরণে সরকার গত ১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত নিষেধজ্ঞা জারি করে।

নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন ইলিশ রক্ষায় পদ্মা নদীর দোহার অংশে উপজেলা-জেলা প্রশাসন, মৎস্য দফতর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চালিয়ে ইলিশ শিকারিদের জেল-জরিমানা করে। পদ্মা নদীর দোহার অংশের মাত্র ১২ কিলোমিটার জলসীমাসংলগ্ন শরীয়তপুরের জাজিরা, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং, ফরিদপুরের সদরপুর অংশের বিশাল পদ্মা নদীতে ২৩ অক্টোবর ভোর থেকেই শুরু হয়েছে ইলিশ শিকার। দীর্ঘ ২২ দিন পর পদ্মা নদীসহ দেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে ইলিশ মাছ ধরা শুরু হলেও জেলেদের জালে ধরা পড়া মাছগুলোর অনেকাংশেই ডিম বোঝাই। ছোট থেকে বড় মাপের সব ধরনের ইলিশই ধরা পড়ছে জালে। এর সাথে অবৈধ কারেন্ট ও ছালা জাল ব্যবহারের ফলে ধরা পড়ছে সদ্য ডিম থেকে ফোটা ইলিশের পোনা ও জাটকা।

স্থানীয় জেলে কালাম বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় আমরা পদ্মায় ইলিশ ধরা বন্ধ রেখেছিলাম। এখন আমার ইলিশ ধরা শুরু করেছি তবে নদীতে মাছ কম পাচ্ছি। আর যে সব মাছ পাচ্ছি তার মধ্যে বেশির ভাগই ডিম বোঝাই। আর অনেক জেলেই কারেন্ট জাল ও ছালা জাল দিয়ে ইলিশের পোনাসহ সব মাছের পোনা ধরে ফেলছে।

আরেক জেলে রহমান বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের চাল দেয়ার কথা থাকলেও আজো তা আমরা পাইনি। আমাদেরও জীবিকা নির্বাহ করতে হবে। সরকার আমাদের সহযোগিতা করলে প্রয়োজনে আমরা ইলিশের ডিম ছাড়া পর্যন্ত নদীতে জাল ফেলবো না।

ক্রেতা ফারুক হোসেন বলেন, বাজারে যে সব ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে তার প্রতিটি মাছেই ডিম বোঝাই। আর গুঁড়া যে সব মাছ বিক্রি হচ্ছে তার মধ্যে প্রচুর জাটকা মাছ রয়েছে।