মাহমুদুল হাসান, দোহার (ঢাকা): ঢাকার দোহার উপজেলার সুতারপাড়া গ্রামে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে আনুমানিক ৭টার দিকে এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারীও রয়েছেন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন। জমিসংক্রান্ত এই বিরোধ স্থানীয় আদালত, সালিশ এবং সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত হলেও এখনো এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সংঘর্ষের বিবরণ ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আরিফ হোসেন গং এবং শেখ মনির-শেখ জাহেদুল গংয়ের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার সকালে এই বিরোধ সহিংস রূপ নেয়।
শেখ মনির ও জাহেদুল গংয়ের পক্ষে রুপা আক্তার (৩২) অভিযোগ করেন, “সকাল সাতটার দিকে আরিফ, শাওনসহ ১০-১২ জন দেশীয় অস্ত্রসহ আমাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।”
“তারা একটি ভেকু মেশিন নিয়ে এসে ঘরের বেড়া ও স্থাপনা ভাঙচুর করে। এ হামলায় আমার বড় জা শম্পা (৪০) ও আমার মেয়ে আহত হন, বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন।”
তিনি আরও জানান, জমিটি তাদের দাদা শ্বশুর ও শ্বশুর খরিদসূত্রে মালিক। তারা জমি নিয়ে আদালতে মামলা করেছিলেন এবং মামলার রায় তাদের পক্ষে আসে।
তিনি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গত ২৬ মার্চ তাদের বাড়িতে ডাকাতির অভিযোগও করেন। রুপা আক্তার প্রতিপক্ষ আমেনার আহত হওয়ার অভিযোগ মিথ্যা বলে অস্বীকার করেন।
অন্যদিকে, আরিফ হোসেন ভিন্ন দাবি করে বলেন,
“গত বছরের ১৬ রমজান থেকে প্রতিপক্ষ আমাদের ওপর হামলা ও জমি দখলের চেষ্টায় লিপ্ত। বিষয়টি সাংবাদিক, গণমাধ্যম এবং প্রশাসন জানে।
তিনি জানান, “২৬ রমজানে আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল ও সমালোচিত হয়। তবুও আমরা প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো প্রকার সহায়তা পাইনি।”
তাঁর দাবি, “সুতারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ব্যাপারী, স্থানীয় বিএনপি নেতা জলিল সওদাগর, আব্দুল করিম বেপারিসহ স্থানীয় সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে আমাদের জমি বুঝিয়ে দেয়া হয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আমরা জমি পুনরুদ্ধারে গেলে আজ সকালে কাদের খার ছেলে করিম, শেখ মনিরের স্ত্রী ও তার মেয়ে, আজিজুলের স্ত্রী কর্তৃক হামলার শিকার হই।”
আরিফ হোসেন জানান, “আমার খালা আমেনাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে , তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এমনকি এক হামলাকারী আমাদের একজনের হাত কামড়ে যখম করে।”
আরিফ হোসেন তাঁর বিরুদ্ধে ‘ডাকাতি’র অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার একটি পা নেই, আমি কীভাবে ডাকাতি করব? আমি অটো চালাই। মামলাটি কোর্টে খারিজ হয়েছে বলেও তিনি দাবী করেন।” তিনি দাবি করেন জমিটি তাদের পৈতৃক, যদিও আরএস রেকর্ডে ওঠেনি। তবে প্রতিপক্ষের নামেও রেকর্ড নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উভয় পক্ষই প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। এ বিষয়ে দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: হাসান আলী জানান, “জমির মূল বৈধতা তার কাগজপত্র। আজকের ঘটনাটি আমি জেনেছি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অফিসারসহ পুলিশের গাড়ি সেখানে পাঠিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “ভুক্তভোগী যে কেউ চাইলেই মামলা করতে পারে।”
এলাকাবাসীর মতে, জমির মালিকানা নিয়ে আইনি জটিলতা, স্থানীয় সালিশ এবং সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা চললেও প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ ছাড়া এই বিরোধ আরও তীব্র হতে পারে এবং পরিস্থিতি অবনতির আশংকা রয়েছে।
