সালমা ইসলাম এমপি যে উন্নয়ন করেছেন, তা ৫০ বছরেও কেউ করে নি – নুরুল ইসলাম বাবুল

শনিবার ঢাকার নবাবগঞ্জের চুড়াইনে মরহুম জাকির হোসেন মেমোরিয়াল চ্যালেঞ্জ গোল্ডকাপ ও মরহুম আহসান উল্লাহ মোড়ল স্মৃতি রানার্সআপ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে আমার ওয়াদা ছিল, দোহার উপজেলাকে মডেল থানা হিসেবে সারা দেশের কাছে পরিচিত করব। হিসাব কষে দেখবেন, বিগত সাড়ে তিন বছরে সালমা ইসলাম এমপি এখানে যে উন্নয়ন করেছেন, তা ৫০ বছরেও কেউ করতে পারেনি। আরেকটি ওয়াদা ছিল- এলাকায় চুরি-ডাকাতি থাকবে না, থাকবে না মাদকের ভয়াল গ্রাস। কেউ অন্যের সম্পত্তিও দখল করতে পারবে না। সালমা ইসলামের নিজস্ব বাহিনীও থাকবে না। তিনি সবার কাছে সমান থাকবেন। সে কথা নিশ্চয় তিনি রাখতে পেরেছেন। বাংলাদেশে ৩০০ আসনের মধ্যে সালমা ইসলামের নির্বাচনী এলাকায় অর্থাৎ দোহার-নবাবগঞ্জের মানুষ সবচেয়ে বেশি শান্তিতে বসবাস করছেন। এখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। সবাই একটি পরিবার হিসেবে বসবাস করছে। তাই আগামী নির্বাচনে আপনারা সালমা ইসলামের সঙ্গে থাকবেন বলে আশা করি।

তিনি বলেন, আজ থেকে ৭০ বছর আগে কামারখোলা গ্রামে আমার জন্ম হয়েছে। মানুষ হিসেবে জন্ম যখন নিয়েছি, তখন একদিন মরতে হবে। তবে যত দিন বেঁচে থাকব তত দিন দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাব।

তিনি আরও বলেন, আগে মন্ত্রী-এমপি তো দূরের কথা চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সঙ্গে মানুষ কথা বলতে ভয় পেত। এখন রাত ১২টা বাজলেও সালমা ইসলাম আপনাদের ফোন রিসিভ করেন। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের যত ওয়াদা দিয়েছি, তার সবই করেছি। সুযোগ পেলে আরও কাজ করব। আমার দরজা এই এলাকার মানুষের জন্য সব সময় খোলা। পৃথিবীর যে দেশেই থাকি না কেন আপনাদের কথা মনে করে মাটির টানে এখানে চলে আসি।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয় তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আগে এই গ্রাম থেকে ঢাকায় যেতে ১০-১২ ঘণ্টা সময় লাগত। এখন এক থেকে দেড় ঘণ্টায় ঢাকায় যাতায়াত করা যায়। ১৯৯৬ সালে এই গ্রামে প্রথম বিদ্যুৎ এনেছি। এবার সালমা ইসলাম নদীভাঙন ঠেকাতে ২১৭ কোটি টাকা এনেছেন। ঢাকা-দোহারের সড়ক উন্নয়নে ৪৭০ কোটি টাকার বরাদ্দ এনেছি। গত সাড়ে তিন বছরে এ আসনের ২২টি ইউনিয়নের জন্য ২২৫ কোটি টাকার কাজ করেছি। তার মধ্যে শুধু চুড়াইনে ১৫ কোটি টাকার কাজ করেছি।

স্বাধীনতার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরে বিশিষ্ট এই শিল্পপতি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। ৩০ লাখ শহীদ ও আড়াই লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছি, পেয়েছি লাল-সবুজের পতাকা। এটা আমাদের গৌরব। আর সবকিছু সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুর কারণে।

চুড়াইন সাংস্কৃতিক সংঘকে ১০ লাখ টাকা অনুদান : এদিকে ফাইনাল খেলার মধ্য বিরতির সময় চুড়াইন সাংস্কৃতিক সংঘের শীর্ষস্থানীয় কর্তাব্যক্তিদের হাতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দেন যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম। চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে আগলা খানহাটি ডায়মন্ড ক্লাব দেড় লাখ টাকা ও চ্যাম্পিয়ন ট্রুফি এবং রানারআপ দল মরিচপট্টি সোনালি সংঘকে ৯০ হাজার টাকা ও রানারআপ ট্রুফি তুলে দেয়া হয়।

চুড়াইন সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি আলহাজ বদিউল আলম সহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন, ঢাকা জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মোড়ল, চুড়াইন ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বেপারি, ঢাকা জেলা পরিষদের সদস্য এসএম সাইফুল ইসলাম, চুড়াইন সাংস্কৃতিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি আমির হোসেন গফুর, মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন মোড়ল ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল বাসেত প্রমুখ।

নিবিড় পর্যবেক্ষনে নির্মল রঞ্জন গুহ

বুকে ব্যাথা নিয়ে ৬ ডিসেম্বর বুধবার বারডেমে ভর্তি হয়েছেন দোহারের কৃতি সন্তান ও বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বাবু নির্মল রঞ্জন গুহ। বুধবার সকালে বুকে ব্যাথা অনুভব করলে তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই কর্মীকে নিয়ে বারডেমে এসে উপস্থিত হন। সেই সময় তার শরীরের অবস্থা বিবেচনা করে ডাক্তার তাকে হাসপাতালে পরযাবেক্ষনে রাখেন এবং এনজিও গ্রাম করানোর নির্দেশ দেন। বারডেমের চিকিৎসক ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ লিয়াকত আলী নিউজ৩৯কে বলেন, তিনি এখন নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও বিশ্রামে থাকবেন। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তার চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বাবু নির্মল রঞ্জন গুহ, নিউজ৩৯ এর মাধ্যমে নেতাকর্মী ও দোহার-নবাবগঞ্জ বাসীর নিকট তার সুস্থতা কামনা করে দোয়া চেয়েছেন।

বাবু নির্মল রঞ্জন গুহের শারীরিক অবস্থা জানার জন্য ইতিমধ্যে হাসপাতালে সাক্ষাৎ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসেডিয়াম সদস্য ও সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান ও তার স্ত্রী হাসিনা মান্নান খান,  ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি কাউসার মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ এমপি, সহ-সভাপতি আব্দুল মতিন তার সাথে দেখা করেছেন এবং তার পক্ষে দেশ বাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

প্রতি সপ্তাহের গল্পঃ প্রেতাত্তার লেখা গল্প

0

প্রতি সপ্তাহের গল্পঃ প্রেতাত্তার লেখা গল্প

লেখকঃ আসাদুর রহমান শিপন 

তুই আমার রুম থেকে বের হ বিভোড় , তানা হলে তোর খবর আছে । যত্তসব আবুল তাবুল প্যাচাল নিয়ে তোর আমার কাছেই আসতে হয় ছাগল । যা ভাগ ।

বিভোর মাঝে মাঝেই এইভাবে রাইসা কে ডিস্টার্ব করে , রাইসা এইধরনের মজা একদমই পছন্দ করে না । কোথা থেকে হটাৎ এসে ভয় দেখানো । আচ্ছা এটা কি ঠিক ??? তাই তো এইভাবে বকাবকি করে রাইসা বিভোরকে ।

বিভোর মুচকি হাসে , আর কিছু বলে না । সে চুপ করে লাইট বন্ধ করে দিয়ে বারান্দায় চলে যায়। বারান্দার দেয়াল ঘেসে বসে থাকে সে। বাইরে আকাশে চাঁদ নেই, ঘুটঘুটে অন্ধকার। কিন্তু রাস্তায় হলুদ বাতি জ্বলছে। এখন আর নিয়ন বাতি নেই । এখন ঢাকার রাস্তাগুলো আরও আলোকিত দেখায় কিন্তু বিভোরের মনে হয় এই ফ্লুরোসেন্টের বাতির আলোয় কি যেন নেই। নিয়নের মাঝে এক অদ্ভুত সৌন্দর্য ছিল যা ফ্লুরোসেন্টে পাওয়া যায় না। “আচ্ছা রাইসা কি ফ্লুরোসেন্ট হয়ে গেছে আর আমি নিয়ন হয়েই পরে আছি, সেই পুরাতন?” নাহ এখন এসব ভাবার সময় নেই। বিভোর দেয়ালে পিঠ রেখে বসে থাকে। একটা দুইটা রিক্সা যাচ্ছে।মাঝে মাঝে পাহারাদারের বাশির শব্দ বেজে উঠে , দূরে কোথাও দুই একটা কুকুর জোরে ডেকে উঠছে। হয়তো কোন এক অনাকাঙ্ক্ষিত আগন্তুককে দেখে চিৎকার করছে কুকুরগুলো।

লিমন প্রায় দিনের মত আজ আবারও বাইরে বের হয়েছে। ঘুটঘুটে অন্ধকার বাইরে। এই অন্ধকার রাত তার খুব পছন্দ। সবাই যখন ঘুমিয়ে পরে সে তখন সিগারেটের প্যাকেটটা আর ক্যামেরাটা নিয়ে বের হয়ে পরে। লিমন নিজের কোন ফটোশটের জন্ন্য নয় , হয়তো কোন নিঃস্ব বৃদ্ধের পাশে অথবা অসহায় একজন ছোট্ট শিশুর পাশে গিয়ে ছবি তুলে আর আসার সময় হাতে কিছু টাকা দিয়ে চলে আসে। কিন্তু কোন এক অদ্ভুত কারণে সে শুধুমাত্র রাতেরাধারে ঘোরাঘুরি করে আর কোন এক বিশেষ একজঙ্কে খুজে যার সে ছবি তুলবে। অচেনা অজানা কাউকে। যাকে না পেয়ে আজও এই অন্ধকার রাস্তায় একা একা হেঁটে বেড়ায় সে।

দিনগুলো পালটে গেছে মানুশ আর আগের মত নেই , সবাই কেমন যেন হিংস্র হয়ে গেছে । যে যাকে পারছে তেমন করে মারছে । সরকারি দল নির্বিচারে বিরোধিদল মারছে , আর বিরোধিদল গাড়ী পোড়াচ্ছে । কি হবে দেশটার ? নিজের সাথে নিজেই কথা বলতে থাকে লিমন। হাঁটতে হাঁটতে অনেকটা রাস্তা পার হয়ে সরু একটা গলি দিয়ে বের হতেই একটা বড় রাস্তায় এসে পরল লিমন।

“দুই পয়সা আয় করনের মুরদ নাই, ঘরে বইসা খালি বাপ-মায়ের মাথা গিলস। কুত্তার বাচ্চারে কইলাম একটা গ্যারেজে যা, কাম কর। না, নবাবের ব্যাটা হইছে। ঠ্যাং এর উপর ঠ্যাং তুইল্যা খাইব। তোর বাপের নবাবী পাইছস। বাপ- দাদায় তো খানদানি সম্পত্তি রাইখ্যা গেছে। সবাই মরে আমি মরি না ক্যা। এই আজাতরে কোন পাপে যে জন্ম দিছিলাম কে জানে? তোর বাপের মত লম্পটই তো হবি আর কি হবি। বান্দী পাইছিল আমারে। বিয়া কইরা রাইখ্যা পালায় গেছে গা, আর রাইখ্যা গেছে তোর মত কুলাঙ্গাররে। এত কষ্ট কইরা ভাবলাম তোরে কিছু কাম শিখামু, টাকাও জমাইলাম কিন্তু তুই সব টাকা দিয়া জুয়া খেললি, মদ খাইলি। আরেহ কুত্তার বাচ্চা টাকা দেখছস জীবনে। এক টাকা কামাই করার মুরোদ আছে!…..

“ ঐ কত ট্যাকা লাগবো তোর?”, কামরুল ঠান্ডা মাথায় কথা বলে।

“এ্যাহ নবাবে ব্যাটার ঢং দেখো ……”

“আমি জিগাইছি, কত লাগবো তোর?”

“তুই ট্যাকা কই ত্থেকা পাবি?”

“তোর হেডি দিয়া কি কাম? কত লাগব?”

“৫০০ ট্যাকা আইনা দে। বাসায় বাজার নাই।”

“আইচ্ছা চুপ কইরা বইয়া থাক। নড়বি না। আর মুখ দিয়া একডা কথা বাইর যাতে না হয়।”

কামরুলের মা চুপ করে বসে থাকে। চোখ দিয়ে পানি পরতেছে তার। ছেলেটা তার খারাপ না। মদ জুয়া সে ছুঁয়েও দেখে না। কিন্তু ছেলেটা বেকার। অনেক চেষ্টা করেও কাজ খুঁজে পায় নি। ছোট বেলা থেকে মানুষের সাথে মিশতে পারে না। “মনু হারামি”র ছেলে শোনার ভয়ে বাইরে বের হত না। হালিমা মানুষের গালি, মাইর খেয়ে যা আয় করার নিয়ে আসত। কিন্তু কামরুল খুপরি থেকে বের হত না। কখনও ভুল করে বেড়িয়ে পরলে লিটন, ওপুরা তাকে ক্ষেপাত, আর সে প্রতিবাদ করলে সবাই মিলে তাকে পেটাত। কামরুল তাই আর কোনদিন দিনের বেলা খুপরির বাইরে বের হয় নি। আর তাই চাকরি কিংবা কাজ করার যোগ্যতাও তার হয় নি। আর সবচেয়ে অবাক করা বিষয় কামরুল কিভাবে যেন সকালে দেখতে পায় না ভালো করে, ঝাপসা দেখে কিন্তু রাতে ঠিকই সব কিছু তার কাছে পরিষ্কার। যত বেশি অন্ধকার তত তীক্ষ্ণ তার দৃষ্টি। আর তাই এখন যা করার সে রাতের বেলাই করে….

লিমন রাস্তা ধরে হাটছে । একা একা , রাস্তাটা একটু ফাকাই বটে । কিছুদুর হাটার পর হটাৎ মনে হলো কে জেনো তার পিছু পিছু হাটছে । পিছে ফিরে দেখে কেউ নেই , তবে কেউ আছে সেটা লিমন অনুভব করতে পারছে । আবার হাটা দেয় । কাধে হাত রাখে কেউ একজন , লিমন পিছু না ফিরে সে তার নিজের হাত দিয়ে কাধে রাখা হাতটা স্পর্স করে । হাত টা খুব শিতল , লোম গুলো খুব বড় বড় । এবার সে পিছে তাকায় , কিন্তু এবারো কিছু দেখাগেলো না । একটু ভয়ই পেয়ে গেলো বোধহয় ছেলেটা । আবার এগুলো , পকেট থেকে ১টা সিগারেট বের করে ধরালো । এবার সেই আগের অনুভব টা নাই , পিছনে আর কেউ নাই ।

বিভোর বসে আছে বারান্দায় , আর ভাবছে রাইসা কি কখনো আমাকে বুঝবে না ? কখনই কি আমাকে ভালোবাসবে না ?

রাইসা বিভোরের ফ্রেন্ড । ফেসবুক থেকে পরিচয় । রাইসা বিভোরের চেয়ে কিছুদিন বড় । ৮মাস হয় ও ওর বয়ফ্রেন্ড কে খুজে পাচ্ছে না । বিভোর জানে না কি হয়েছিল , রাইসা এই ব্যাপারে ওকে আর কিছুই বলে নাই । আর একট জানে সেটা হলো রাইসার সাথে প্যারা নরমাল কিছু ১টা হয়েছিল । তারপর থেকে রাইসা বিভোরদের বাসায় থাকে মাঝে মাঝে ।

লিমনের হাতের সিগারেট শেষ । তার কিছুখন পর আবার মনে হলো পিছু কেউ হাটছে । এবার সুধু হাটাই না । পিছন থেকে ঢিল ছুরছে । এমা লাং দিয়ে ফেলে দিলো , পরে গেলো লিমন । মনে হচ্ছে কয়েকজন ওরা । লিমন কে এলোপাথারি মারছে কিন্তু সে কাউকে দেখতে পাচ্ছে না । মার খেয়ে অজ্ঞান হওয়ার অবস্থা প্রায় , এমন সময় দূর থেকে ১টা সাদা থ্রিপিস পরা ১টা মেয়ে ছুটে আসে লিমনের দিকে , এসে জরিয়ে ধরে লিমনকে । লিমন অবাক হয়ে যায় , এখন আর সে আঘাত পাচ্ছে না । মেয়ে টা লিমন কে ছেরে দেয় । তারপর সামনের দিকে হেটে যেতে থাকে ।

লিমন কিছুখন থেকে চুপ করে দারিয়ে থেকে মেয়েটার দিকে দৌড় দেয়

লিমনঃ শুনুন আপনি ।

আগুত্তক মেয়ে: জি ।

লিমনঃ আপনি কে ?

আগুত্তক মেয়েঃ আপনি এতো রাতে বাইরে কি করেন ? এতো রাতে বাইরে থাকা ভালো না ।

লিমনঃ আমি প্রায় রাতেই বের হই । এখান দিয়ে প্রায় হাটাহাটি করি ।

আগুত্তক মেয়েঃ হ্যা আমি আপনাকে আগেও দেখিছি । তবে আজ রাত টা ভালো না ।

লিমনঃ আজ রাতে কি ? আর আপনি কে ?

আগুত্তক মেয়েঃ আজ পূর্ন পূর্নিমার রাত । এই রাতে ভূত পেতের উৎপাত বেশি থাকে ।

লিমনঃ ধুর কি যে বলেন । ভুত পের বলতে কিছু আছে নাকি ?

আগুত্তক মেয়েঃ তাহলে যারা আপনাকে মারছিলো, তারা কারা ? আর আমিই বা কে ?

লিমনঃ হ্যা তাই তো , ওরা কারা ছিলো আর কেনো বা আমাকে মারছিলো ?

আগুত্তক মেয়েঃ তুমি হাটার সময় ওদের পাস দিয়ে হাটার সময় ধাক্কা দিয়েছিলা । তাই খেপে গিয়েছিল।

লিমনঃ তুমি কে ?

আগুত্তক মেয়েঃ আমি মুমু । আমিও ভুত । কিছুদিন আগে আমাকে মেরে ফেলেছে ।

লিমনঃ কি ? কেন তোমাকে মারছে ? কে মারছে ?

আগুত্তক মেয়েঃ ফ্রেন্ড এর বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে রাতে বাসায় ফিরছিলাম । হটাৎ কোথা থেকে এক ছেলে এসে আমার গলায় গয়নায় হাত দিয়ে টান দেয় । আমি বাধা দিলে আমার গলায় ছুরি দিয়ে রগ কেটে ফেলে । আর আমি মারা যাই । তারপর থেকে আমি এখানে …………

লিমনঃ ছিনতাই কারি ছিল মনে হয় । আচ্ছা মরলে কি সব মানুশ ভুত হয় ?

আগুত্তক মেয়েঃ আরে না । যাদের জানাজা হয় না , অপমৃত্য এই সব ভুত হয় ।

লিমনঃ আচ্ছা তুমি খুব সুন্দর ছিলে তাই না ?

আগুত্তক মেয়েঃ কেন , এখন কি আমি সুন্দর নেই ?

লিমনঃ এখন ও সুন্দর । তবে জামা কাপর গুলো নোংরা । একটু পরিস্কার জামার আর চুল গুলো বাধলেই তোমাকে পড়ির মত লাগবে ।

আগুত্তক মেয়েঃ সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় থাকি , সুতরাং জামাকাপর ময়লা হবেই । আর হা আমি দেখতে পরির মত , রাজপুত্রের মত ১টা ছেলে ভুত পেলেই পড়ীর দেশে গিয়ে হাজির হবো ।

লিমনঃ হা হা হা । মজা করো ?

আগুত্তক মেয়েঃ মোটেও না । আমি সত্ত্যি বলছি । সারাজিবন কি আর সবাই ভুত থাকে । যারা ভালো ভুত তারা জীন-পড়িদের দেশ কলংকপুরে যেতে পারে ।

কথা বলার এই পর্যায়ে মসজিদ থেকে আজান ভেষে আসে , আর উধাও হয়ে যায় মুমু । লিমন কিছুখন খোজাখুজির পর বাসায় ফিরে আসে । ফ্রেস হয়ে ঘুম দেয় ।

বিভোর নিজের অজান্তেই ঘুমিয়ে পরে বারান্দায় । রাইসা বারান্দায় এসে দেখে বিভোর ঘুমে । রাইসা নিজেকে নিজে প্রশ্ন করে , কেন এই ছেলেটা আমাকে এত ভালোবাসে ? কেন আমাকে সব সময় হাসিখুশি রাখতে চায় ? ও তো জানে ওভিকে আমি ভালোবাসি , তারপরোও কেনো ? রাইসা বিভোরে কপালে আলতো করে ১টা চুপু দেয় । তারপর ওকে জাগিয়ে তুলে ওর রুমে পাঠিয়ে দেয় ।

সকালে ঘুম থেকে উঠে বিভোরদের বাসা থেকে বের হয়ে যায় রাইসা কাউকে কিছু না বলে । রাইসা আগেও এমন করেছে কয়েবার । তাই বিভোর আর তেমন কিছু না ভেবে নাস্তা সেরে কলেজে চলে যায় ।

ঘুম থেকে উঠে লিমনের কেমন জেনো লাগছে । মুমু মেয়েটার কথা মনে পরছে , তার জন্ন্য খারাপ ও লাগচে । ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে এতো সুন্দর ১টা মেয়ে ভুত । যদি সে বেচে থাকতো তাহলে হয়তো খুব সুন্দর ১টা সংসার থাকতো তার । কোন অভাগা যে এই সুন্দর মেয়েটা কে মেরেছে সে আল্লাহই ভালো জানে ।

নাস্তা করে বেরিয়ে পরে লিমন , সারাটা দিন খুবই বাজে কেটেছে লিমনের । সুধু মুমুর কথা মনে পরছে । কেন জানি তার মনে হচ্ছে মুমুর সাথে কথা বলতে পারলে ভালো লাগতো তার ।

আজ রাতেও লিমন বের হলো , সাথে ক্যামেরা নিয়ে । আচ্ছা মুমু কি আমাকে ছবি তুলতে দিবে ? তার সাথে বসে কি আজও মুমু কিছু খন গল্প করবে ?

রাস্তা দিয়ে হাটছে লিমন । তবে আজ আর কারো ছবি তুলছে না । তার ২চোখ আজও কাকে জেনো খুজছে , তাবে আগের খোজা টা ছিল অন্ন্য রকম আর আজকের খোজা টা কোন একজন নিদ্রষ্ট ব্যাক্তি কে সেটা বুঝা যাচ্ছে ।

বিভোর রাইসার বাসায় গিয়ে দেখে রাইসা বাসায় ফিরেনি । রাইসার ২/৩ ফ্রেণ্ডের বাসায় গিয়েও রাইসা কে পাওয়া গেলো না । কোথাও না পেয়ে গভির রাতে বাড়ি ফিরে এলো বিভোর । বাসাইয় ঢুকে দেখে রাইসা চলে এসেছে । বিভোর রাইসার আচে গিয়ে জোরে থাপ্পর দিয়ে কিছুখন পর বারান্দায় চলে যায় । রাইসা কাদছে , বিভরের চোখেও পানি ।

লিমন সারা রাত খোজাখুজি কোরেও মুমুর দেখা না পেয়ে ফিরে যায় বাসায় । মন টা খুব খারাপ হয়ে আছে । খুব করে কাদতে ইচ্ছে করছে তার ।

সকালে ঘুম থেকে উঠে বিভোর রাইসার ঘুম ভাঙ্গাতে গিয়ে দেখে পুরো বিছানা জুরে রক্ত । রাইসা হাত কেটেছে আর সেই রক্ত । বিভোর চিৎকার করে , বাসার সবাই এসে রাইসা কি হাসপাতালে নিয়ে যায় । তবে রাইসা তার আগেই সকলের মায়া ছেরে চলে গেছে ।

বিভোর ব্যাপাটা মেনে নিতে পারে না । ও যদি থাপ্পরটা না দিত তাহলে হয়তো রাইসা আজ বেচে থাকত । বিভোর এরপর নিজেকে শেষ করার প্রায় সব অপচেষ্টা করে । সে এখন সবসময় এডিকটেড থাকে ।

কাম্রুল সারাদিন বাসায় থাকে আর রাতে বের হয় । সে রাতে কাজ করে , ভালো টাকাই ইনকাম করে । কি করে সেতা কেউ জানে না । শান্তশিষ্ট ছেলেটার পিছে দিনের বেলায় সবাই লেগে থাকে ।

বিভোরের সাথে লিমনের কথা হয় । ও বলা হয় নাই । লিমন আর বিভোর জানের জিগার দোস্ত । রাইসা মারা যাবার পর লিমন বিভোরের কাছে আসে তার সংগ দেওয়ার জন্ন্য । লিমন বিভোরকে মুমুর কথা বলে । বলে মুমুর পড়ির দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা । লিমন বিভোরের সাথে কথা বলে চলে আসে । বাসায় ফেরার একটু পরেই শুনে বিভোর সুইসাইড করছে । ঠিক যেভাবে রাইসা নিজেকে শেষ করেছিল বিভোরও সেই একইভাবে নিজেকে শেষ করে চলে গেলো রাইসার কাছে ।

বিভোরের মৃত্যর কথা শুনে লিমন খুব ভেঙ্গে পরেছে । দাফন কাফন শেষ করে লিমন বাসায় না গিয়ে মুমুর সাথে দেখার উদ্দেশ্যে রাস্তায় হাটতে থাকে । একসময় মুমু পিছন থেকে এসে লিমন কে ডাক দেই ।

মুমুঃ তোমার মন খুব খারাপ তাই না ?

লিমনঃ হ্যা । আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ টি আজ চলে গেলো আমাকে ছেরে ।

মুমুঃ বিভোর ভালো আছে । ও এখন ওর রাইসার কাছে আছে । ওড়া পড়ির দেশে চলে যাবে । আমার পোড়া কপাল ।

লিমনঃ সত্ত্যি বলছো তুমি ?

কথা বলার একপর্যায় পিছন থেকে ১টা ছেলে লিমনের গলায় ছুড়ি ধরে বলে

ছিনতাইকারিঃ যা আছে দিয়ে দেন । নাইলে মাইরালাম ।

লিমনঃ অই কে তুমি ? ছারো আমাকে , কেটে যাবে গলা , ছারো ।

ছিনতাইকারিঃ যা আছে দিয়া দে , ছাইরা দিমু ।

মুমুঃ (মুমু কে ছিন্তাইকারি দেখতে পাচ্ছে না) লিমন ওকে ছেরও না , ও আমাকে মেরে ফেলছে । ওর জন্ন্য আমি আজ এইখানে , ওকে ছাইরো না ।

লিমনঃ কি বলছো তুমি এইসব ?ও তোমাকে

ছিন্তাইকারিঃ ওই বেটা তুই কার সাথে কথা কস ? মজা লস আমার সাথে ?

এর পর লিমন কৌশলে ছিন্তাইকারি কে নিজের কবলে নিয়ে এসে কাবু করে ফেলে /

লিমনঃ তোর নাম কি ? কেন তুই রাইসা কে মারছিস ?

ছিনতাইকারিঃ ভাই ছাইরা দেন আমারে , আমি গরিব মানুষ । আমি কামরুল , বস্তিতে থাকি । ছাইরা দেন ভাই /

মুমুঃ লিমন তুমি ওকে ছাইরো না প্লিজ , ওকে মারো ।

লিমনঃ কাম্রুল তোকে আমি ১টা শর্তে ছারতে পারি । যদি তুই আমার কথা শুনিস ।

ছিনতাইকারিঃ আমি সব শুনুম ভাই । কন

লিমনঃ ১টা মেয়ের গলার চেন নেওয়ার সময় মেয়েটাকে যেভাবে মারছিলি আমাকেও সেভাবে মার । আর আমার কাছে দামি মোবাইল , টাকা আছে এগুলো সব তোর ।

মুমুঃ এই কি বলছো তুমি ? পাগল হয়ে গেছো নাকি? পাগলামি করে না প্লিজ ? (কেদে কেদে বলে মুমু)

লিমনঃ আমি তোমার পাগল হয়ে গেছি , আমি তোমার কাছে আসতেছি । তোমাকে নিয়ে যাবো তোমার পড়ির দেশ কলংকপুর ।

কাম্রুল লিমনকে মেরে সব নিয়ে পালিয়ে যায় । কিছুখন পর লিমনের আত্তা তার লাশ থেকে বের হয় । রাইসা এসে জরিয়ে ধরে কেদে দেয় । চলে যায় ওরা কলংকপুরে । সেখানে গিয়ে দেখা হয় বিভোর আর রাইসার সাথে । আরো বেশি অবাক হয় একজন কে দেখে কে সে জানেন কলুংকপুরের রাজা আর রানি কে দেখে । রাজা কে সবাই প্রেতাত্তা আর রানি কে পেত্নি বলে ডাকে । আরা এই ২জন লিমন আর বিভোরের অনেক কাছের মানুশ । পেত্নী হলো রোদেলা , আর প্রেতাত্তা কে সেটা আপনারা সবাই জানেন । আমিই রাজা এতোখন আপনারা আমার সাথেই ছিলেন , আমিই সেই দুপুর । আপনাদের সবাই কে আমন্ত্রন আমার কলঙ্কপুরে । ভালো থাকবেন ।

 

প্রতি সপ্তাহের গল্পঃ প্রেতাত্তার লেখা গল্প

লেখকঃ আসাদুর রহমান শিপন

মাহবুবুর রহমানকে সংবর্ধনা দিবে দোহার সমিতি

ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মাহবুবুর রহমানকে সংবর্ধনা দিবে দোহার উপজেলা সমিতি। দোহার উপজেলা সমিতি এর পক্ষ থেকে আগামী ৮ই ডিসেম্বর শুক্রবার, সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন অডিটোরিয়ামে  এই সংবর্ধনা দেয়া হবে।

এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, উদ্বোধক থাকবেন প্রধানমন্ত্রীরর বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সভাপতিত্ব করবেন আই জি আর ও সাবেক সিনিয়র জেলা জজ ড. খান মোঃ আব্দুল মান্নান।

বিশেষ অতিথি হিসাবে থাকবেন সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার আব্দুল মান্নান খান, সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যা: নাজমুল হুদা, তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব) ডাঃ এ আর খান, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ এর সভাপতি বেনজির আহমেদ এমপি সহ সকল মেম্বার ও দোহারবাসী।

পাঁচ হাজার অতিথি আপ্যায়ন!

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী গ্রামে দুই গাছ- বট ও পাকুড়ের অভিনব বিয়ের ১২তম বিবাহবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় এ উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার পাঁচ হাজার লোককে দাওয়াত করে খাওয়ালেন স্থানীয় কমল পাল নামে এক ব্যক্তি। বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে বসেছে ৪ দিনব্যাপী গ্রাম্য মেলা।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিন দেখা যায়, খাওয়া-দাওয়ায় ব্যস্ত লোকজন। স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর বাংলা অগ্রহায়ণ মাসের ১৮ তারিখে বট-পাকুড়ের বিয়েবার্ষিকী উপলক্ষে স্থানীয়রাসহ দোহার , নবাবগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ উপজেলা থেকে কয়েক হাজার লোক এখানে আসেন। এটি শুধু বট-পাকুড় বিবাহবার্ষিকী নয়, হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানদের মহামিলন মেলা। এবারের মেলায় অবিবাহিত যুবক-যুবতীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। মেলায় আসা অতিথিদের খিচুিড়-পায়েস দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের আয়োজক কমল পাল জানান, আমি স্থানীয় রাহেন সাধুর ভক্ত ছিলাম। তিনি মুসলমান ধর্মাবলম্বী ছিলেন। তার আদেশে ৩৮ বছর আগে ইছামতি নদীর পাড়ে একটি বট ও একটি পাকুড় গাছ রোপণ করি। ২০০৬ সালের দিকে বাড়িতে বিয়ের বয়সী চার ছেলে-মেয়ে ছিল কিন্তু তাদের বিয়ে হচ্ছিল না কিছুতেই। এক রাতে আমি স্বপ্নে দেখলাম ওই বট-পাকুড় গাছের বিয়ে দিলে আমার ছেলে-মেয়েদের বিয়ে হবে। ওই বছরের বাংলা সনের ১৮ অগ্রহায়ণ বট-পাকুড়ের বিয়ে দিলাম। বিয়ে দেয়ার পরই আমার ভাগ্য খুলে গেল। ওই বছরই আমার বড় ছেলে বাবুল পালের বিয়ে হয়। পরের বছর বড় মেয়ে কল্যানী পালের। এভাবে সব ছেলে-মেয়ের বিয়ে হয়েছে। সেই থেকে দীর্ঘ ১২ বছর যাবত এ উৎসব পালন করে আসছেন তিনি। স্থানীয় লোকজনও তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করছেন

অনুষ্ঠানে আসা মালতী রানী জানান, পরিবারের মঙ্গল কামনায় প্রতি বছর আমি এ অনুষ্ঠানে এসে থাকি। বট-পাকুড়ের জন্য মানতের কাপড়, মিষ্টি, সিঁদুর দিয়ে গেছি। আমরা বিশ্বাস করি এখানে এসে কিছু মানত করলে পাওয়া যায়। মো. ফারুক নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এখানে ঝাড়ফোঁক করা হয় না। মানত করে যে যা দিয়ে যায়। এ অনুষ্ঠান এলাকায় উৎসবে পরিণত হয়েছে।

রাহুতহাটি গ্রামের হেনা বেগম জানান, গত বছর অসুস্থ ছিলাম। মানত করে গিয়েছিলাম, সুস্থ হলে নতুন কাপড় দিব। তাই এ বছর নতুন কাপড় দিয়ে গেলাম। এবারো একটা মানত করেছি দেখি মনের বাসনা পূরণ হয় কিনা।

নয়নশ্রীর বাসিন্দা সাবেক তাঁতী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, এলাকার সকল ধর্মের লোকজন একত্রিতভাবে এই মেলার আয়োজন করেন। আমরা তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করার চেষ্টা করি।

দোহারে পরীক্ষা হলে শিশুর স্ট্রোক

দোহারের জয়পাড়া মডেল স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষাকালীন ব্রেইন স্ট্রোক করেছে মো. বায়েজিদ নামের স্কুলছাত্র।তার বাড়ী দোহারের উত্তর জয়পাড়া গ্রামে। বাবা – সৌদি প্রবাসী আবুল কালামের। সে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

জয়পাড়া মডেল স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক নজরুল ইসলাম খান নিউজ৩৯কে ফোনে বলেন, মঙ্গলবার বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা ছিল বায়েজিদের। ওর কক্ষেই দায়িত্ব পালন করছিলাম আমি। হঠাৎ ওকে অসুস্থ দেখে আমি ওর শারিরিক অবস্থা জিজ্ঞাসা করি, সে কিছুই বলতে পারে না। ছেলেটির এমন অবস্থা দেখে দ্রুত আমি ওকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখানে দায়িত্বে থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ছেলেটির সার্বিক অবস্থা দেখে ব্রেইন স্ট্রোকের কথা জানান। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। অভিভাবকরা ছেলেটিকে নিয়ে ঢাকায় রওনা দিয়েছেন।

সিনিয়র শিক্ষক নজরুল ইসলাম খান আরো বলেন, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বায়েজিদ এখন মোটামুটি ভাল আছে। আজকে কোন টেস্ট করাতে পারি নি। কাল সকালে টেস্ট করা হবে।

সিনিয়র শিক্ষক নজরুল ইসলাম খানের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে অভিভাবকেরা তাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

 

দোহারে গাজাসহ দুই যুবক আটক

দোহারের শাইনপুকুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পাশে থেকে গাঁজাসহ দুই যুবককে আটক করে দোহার থানা পুলিশ। পরে ভ্রামমাণ আদালত আটককৃত দুই যুবককে ছয় মাসের কারাদ- দিয়েছেন। পুলিশ জানায়, শনিবার ভোরে দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম শেখ-এর নেতৃত্বে সাইনপুকুর তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আব্দুল জলিলসহ পুলিশের একটি দল সাইনপুকুর তদন্ত কেন্দ্রের সামনে থেকে ৫০ গ্রাম গাঁজা সহ দুই যুবককে আটক করেন।

দোহারের রাইপাড়া থেকে সাজাপ্রাপ্ত আসামী আটক

সোমবার বিকালে দোহার থানার পি এস আই নুর হোসেনের নেতৃত্বে দোহার থানা পুলিশ রাইপাড়া ইউনিয়নের লক্ষীপ্রসাদ এলাকা থেকে সাজাপ্রাপ্ত আসামী সাগর মন্ডলকে আটক করেছে। সে সময় তার কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সাগর দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক ছিল। সে একটি মামলায় দুই বছরের সাজা সহ চারটি মামলায় ওয়ারেণ্টভুক্ত আসামী। সে একজন চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দোহারের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী একাধিক মামলার ও সাজাপ্রাপ্ত আসামী সাগর দীর্ঘদিন যাবত মাদক ব্যবসা করে আসছে। সে অনেক দিন ধরেই পালিয়ে এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিলো। পুলিশ বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে তাকে ধরতে পারেনি।

এলাকাবাসী জানায়, সাগর দীর্ঘদিন যাবত দোহারে একটি বাহিনী তৈরী করে মাদক ব্যবসা, ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে আসছে। তার বাহিনী রাইপাড়া, বাঁশতলা, লক্ষীপ্রসাদ, বউ বাজার, পালামগঞ্জ, ইকরাশি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। সাগরের নাম শুনলে এলাকার মানুষের মাঝে আতংক দিন কাটতো।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সিরাজুল ইসলাম বলেন, সাগর একাধিক মামলার আসামী। সে একটি মামলায় ২বছরের সাজাপ্রাপ্ত। পুলিশ তাকে দীর্ঘদিন যাবতই গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে আসছিলো।

নির্বাচন কেন্দ্রীক নতুন জোট ‘যুক্তফ্রন্ট’: চেয়ারম্যান বি. চৌধুরী, নেই ড. কামাল

0

সোমবার রাতে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসায় সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে চেয়ারম্যান করে চারটি ছোট রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে একটি রাজনৈতিক জোট। দলগুলো হলো—বিকল্প ধারা, জেএসডি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও নাগরিক ঐক্য। তবে এই জোটে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম নেই।

জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন জানান, ‘এর আগে জেএসডি সভাপতি আসম আবদুর রবের বাসায় বৈঠকে বসেন ছোট চারটি দলের শীর্ষ নেতারা। তৃতীয় একটি জোট গঠনের লক্ষ্যে এই ধারাবাহিক আলোচনার অংশ হিসেবেই এ বৈঠক। বৈঠকে অংশ নিতে এরই মধ্যে রবের বাসায় পৌঁছেছেন বিকল্প ধারা সভাপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। এছাড়া আসম রব ও আবদুল মালেক রতন উপস্থিত আছেন বৈঠকে।’

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এই জোটে নেই। জোট গঠন করা হয়েছে, এটি খুব ভালো খবর। আশা করি ভবিষ্যতে আরও বড় জোট হবে।’

‘জয় বাংলা’ কেন জাতীয় স্লোগান নয়: হাইকোর্ট

0

‘জয় বাংলা’ কেন জাতীয় স্লোগান নয় তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একটি রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মাদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার (৪ ডিসেম্বর) এ রুল জারি করেন।

এর আগে রবিবার (৩ ডিসেম্বর) আইনজীবী ড. বশির আহমেদ সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জনস্বার্থে রিট আবেদনটি দায়ের করেন। সোমবার প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেন। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব ও শিক্ষা সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

২০ নভেম্বর আরেকটি রিটের বিষয়ে এই আদালত বলেন, “১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ছিল সবার, সব শ্রেণি-পেশার মানুষের। কিন্তু এখন ‘জয় বাংলা’ বললে সবাই বলে রাজনৈতিক।”

৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ভাষণের স্থানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণ, জাতীয় জাদুঘর স্থাপন ও দিনটিকে ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করা হয়েছিল।

আদালত বলেন, ‘জয় বাংলা স্লোগানই ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে জনগণকে একত্র করেছিল। যার ফলে আমরা পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করতে পেরেছি।’

ড. বশির আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, “জয় বাংলা’ হচ্ছে আমাদের জাতীয় প্রেরণার প্রতীক। পৃথিবীর ৭টি দেশে জাতীয় স্লোগান আছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভাগ্য যে আমরা আমাদের চেতনার সেই ‘জয় বাংলা’কে স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর্যন্ত জাতীয় স্লোগান হিসেবে পাই নাই। জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে যেভাবে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালিত হয়েছিল, আমরা আদালতকে বলেছি, যাতে এটিকে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আমরা আগামী ১৬ ডিসেম্বর জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান হিসেবে বিজয় দিবস পালন করতে পারি।”