খালেদা জিয়া আতঙ্কে সরকার নার্ভাসঃ ঢাকা জেলা মহিলা দলের সম্মেলনে আমির খসরু

রবিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের হল রুমে ঢাকা জেলা মহিলা দলের কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘খালেদা জিয়া’ আতঙ্কে সরকার নার্ভাস হয়ে পড়েছে। আমীর খসরু বলেন, ‘অনির্বাচিত সরকারের ভাবনা-চিন্তায় সামনে এখন একটি পথ উন্মুক্ত আর সেটি হচ্ছে খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে আইনের মধ্যে রেখে ক্ষমতা দখল করে রাখা।

তিনি বলেন, ‘একটি অগণতান্ত্রিক দেশে যত বাধা তার চেয়ে বেশি বাধা ও প্রতিবন্ধকতার মাধ্যমে সরকার ক্ষমতা ধরে রেখেছে, দেশে ভয়ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এর বড় কারণ হচ্ছে খালেদা জিয়া ও তার জনপ্রিয়তা’।

তিনি তার বক্তব্যে আরও বলেন, ‘সরকারকে একটি কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই, খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে নির্বাচনী ফসল ঘরে তুলতে পারবেন না। এটা করতে চাইলে আপনাদেরকে উচ্চমূল্য দিয়ে বিদায় নিতে হবে। তবে আমরা চাই না আপনারা উচ্চমূল্য দিয়ে বিদায় নেন’।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই আওয়ামী লীগ দেশে স্বাভাবিক রাজনীতি করুক। তবে তার আগে জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠনের সুযোগ দিতে হবে।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিকে একটি অসমচুক্তি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকার দেশের মানুষকে ধোকা দিয়েছে, প্রতারণা করেছে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে শেখ হাসিনার এ চুক্তি ধোকাবাজি ছাড়া আর কিছু নয়। এ চুক্তির মাধ্যমে প্রতিবেশীকে খুশি করা হয়েছে। তাই চুক্তির সময় এবং এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়নি। শুধু তাই নয়, সরকার কেবলমাত্র বাংলাদেশ বিক্রি করছে না বরং দেশের আত্মাও বিক্রি করে দিচ্ছে।’

আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক সাবিনা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে কর্মীসভায় আরও বক্তব্যে দেন মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. দেওয়ান সালাহ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক খন্নদকার আবু আশফাক প্রমুখ।

বট গাছ কাটা হবে আর গুজব উঠবেনা তা কি হয়!

গাজী নাদিম মাহমুদ,নিউজ৩৯ঃ বট গাছ কাটা হবে আর গুজব উঠবেনা তা কি হয়! দোহারের মুকসুদপুরে পদ্মা কলেজের পূর্বপাশে অবস্থিত অর্ধশত বছরের পুরানো বট গাছ –কে কেন্দ্র করে বিস্তৃত হয়েছে গুজবের ডালপালা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস গাছটি কাটার  সময় নাকি ২ টি শিব মূর্তি ভেসে উঠেছে। আর এই গুজব কে কেন্দ্র করে সেখানে চলছে পূজা-অর্চনা। আর এই গুজবকে কেন্দ্র করে জমছে মানুষের জটলা।

এই ব্যাপারে স্থানীয় সনাতন ধর্মালম্বী শ্রীবাস বৈদ্য নিউজ৩৯কে জানান, অনেকদিন আগে এখানে হিন্দুদের কালি মন্দির ছিল এবং প্রতিদিন সকালে তারা পূজা করতেন প্রায় এক যুগ  আগে এ মন্দিরের স্থান পরিবর্তন করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে গোড়াবন মোড়ে।

এই ব্যাপারে জানতে চাইলে উদ্ভিদ বিজ্ঞানী গাজী আসমত নিউজ৩৯ কে জানান, গাছের প্রস্বেদন ও রেচন প্রক্রিয়ার এটি একটি স্বাভাবিক ঘটনা। এছাড়া গাছ কাটার কারণে তার তরুক্ষীর টিস্যুর অতিরিক্ত ক্ষরণে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এটি একটি স্বাভাবিক, প্রাকৃতিক ঘটনা। এখানে অতিরহস্যময়তা বা অতিপ্রাকৃত ঘটনা বলে কিছু নেই।

উৎসবে গ্রামীণ জনতার প্রাণোচ্ছলতায় খেজুর রসের উপাখ্যান

নজরুল ইসলাম তোফা# হেমন্তের শেষে শীতের ঠান্ডা পরশে মাঝেই বাঙালির কাছে খেজুর গাছের রসে নিজেকে ডুবিয়ে নেওয়ার সুন্দর এক মাধ্যম আবহমান বাংলার চাষী। একঘেয়েমি যান্ত্রিকতার জীবনে অনেক পরিবর্তন এনে থাকে শীত ঋতুচক্র। বৈচিত্র্যপূর্ণ গ্রামীণ সংস্কৃতির এই শৈল্পীক ঐতিহ্যের চরম প্রাণোচ্ছলতায় আসলেই ঋতুচক্র বছর ঘুরেই দেখা দেয় বারবার। এই শীত কাল গ্রামীণ মানুষের জীবন-জীবিকার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, গ্রামীণ জীবনে শীত আসে বিশেষ করে চাষীদের কাছে সে তো বিভিন্ন মাত্রায় রূপ নিয়ে। স্বপ্ন আর প্রত্যাশায় তাদের অনেক খানি খেজুর গাছের সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গি বসবাস হয়ে যায়। নানা ভাবে জড়িত চাষীর জীবন সংগ্রামে বহু কষ্টের মাঝে অনেক প্রাপ্তিই যুক্ত হয় বাংলার এই জনপ্রিয় তরুবৃক্ষ খেজুর গাছের সঙ্গে।

ভূমিহীন চাষী, প্রান্তিক চাষী বা দারিদ্রক্লিষ্ট মানুষের জন্য এই সময়টা হয় অনেক আনন্দদায়ক। কারণ, গাছই তো চাষীর অন্নদাতা। তাদের খেজুর গাছের যত্ন-আত্তি না করলে যে রস মিলবে না। আর রস না মিললে গুড় হবে কি করে। পাটালি না দেখলে যেন ঘুম আসে না চাষীর। চাষী তাদের মেয়ে বা বউয়ের হাতের কাঁচা সুপারির কচি পান গালে ভরে বাঁশের ডালি মাথায় করে গঞ্জে বা দূর্বতী হাটে যাবেই বা কি করে। পাটালি গুড়ের মিষ্টিমধুর গন্ধে চাষীরা বিক্রয় কাজে না থাকলে পেটে ভাতে বাঁচবে কি করে। শীত আমেজে প্রকৃতির মাঝ হতে সংগীহিত খেজুর রস চাষীরা যেন চষে বেড়ায় সকাল, বিকেল ও সন্ধ্যায় মেঠো পথ ধরে, তারই বহিঃপ্রকাশে যেন চমৎকার নান্দনিকতা এবং অপরূপ দৃশ্য অনুভব করে, তা যেন অবশ্যই এক শৈল্পীকতার নিদর্শন। এমন শৈল্পীক আস্থা ও বিশ্বাসকে নিয়ে প্রকৃতির মাঝে বিশাল আকৃতির এক কুয়াশা চাদরে মুড়ি দিতে হয়। এই শীতেকালে রূপ সৌন্দর্যের আর একটি উপাদেয় সামগ্রী খাঁটি শরিয়া তেল, যা শরীরে মালিশ করে অনেকাংশেই ত্বকের মশ্রিণতা এবং ঠান্ডা দূর করে খেজুর গাছে উঠতে। গ্রামে খুব ভোরে খেজুর গাছ হতে রসের হাড়ি নামিয়ে আনতে ব্যস্ত হন চাষী। রাতের এ হিমশীতল রস ভোরে হাড় কাঁপানি ঠান্ডায় গাছ থেকে নামিয়ে খাওয়ার যে স্বাদ তা একেবারেই যেন খুব আলাদা। আসলে ভোর বেলায় রস খেলে শীত আরো অনেক জাঁকিয়ে বসে। আবার শীতে শরীর কাঁপানির এক স্পন্দন যেন চরম মজা দায়ক। শীত লাগে লাগুক না কেন, তবুও রস খাওয়ার কোন বিরাম নেই। এক গ্লাস, দুই গ্লাস খাওয়ার পরপরই কাঁপতে কাঁপতে যেন আরও এক গ্লাস মুড়ি মিশিয়ে মুখে তুলে চুমক দেয়া আর রোদ পোহানো সে যে কি আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা দূরহ। এই শীতের কুয়াশা ঢাকা সকালে গ্রামের ছেলে মেয়েরা ঘুম থেকে খুব ভোরে উঠে হাত মুখ ধুয়ে খড় কুটোয় আগুন জ্বেলে হাত পা গরম করে এবং অপেক্ষা করে কখন রোদের তেজ প্রখর হবে। তাদের রোদ পোহানোর আরামের সঙ্গে আরও অপেক্ষা, তা হলো তাদের প্রিয় খেঁজুর রস। কখন যে আসে আর তখনই খাবে। সে রস আসলে যথা সময়ে হাজির হলে তাদের কাছে যেন আনন্দ উল্লাসের কোনই কমতি হয়না। গ্রামবাংলার অভাবী মেয়েরা রংবে রংয়ের যেসব খেজুর পাতায় খেজুর পাটি তৈরী করে তার উপরই যেন চলে রস খাওয়ার আসর। উপার্যনের জন্যই খেজুর পাতা শুকিয়ে তা দিয়ে খেজুর পাটি তৈরী পর বিক্রয় করে সংসারের কিছুটা অর্থ সংকোলান হয়। সুতরাং এই খেজুরের পাটিতেই গ্রামের অনেক পরিবার ঘুমানো কাজে তা ব্যবহার করে। খেজুর পাতায় এক ধরনের সাহেবী টুপিও তৈরি হয়। খেজুরের পাতা, ডাল এবং গাছ শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। আর মোরুব্বা তৈরিতেও খেজুর কাটার ব্যবহার প্রচলিত আছে। এক কথায় বলা চলে খেজুর গাছের পাতার ও ডাল সেতো কবর পর্যন্ত চলে যায়।

খেজুর গাছ ছয় সাত বছর বয়স থেকে রস দেওয়া শুরু করে। পঁচিশ থেকে ত্রিশ বছর পর্যন্ত রস দেয়। গাছ পুরনো হয়ে গেলে রস কমে যায়। আর পুরনো খেজুর গাছের রস খুব মিষ্টি হয়। মাঝ বয়সী গাছ থেকে সবচেয়ে বেশি রস পাওয়া যায়। বেশি রস সংগ্রহ করা গাছের জন্য অবার অনেক ক্ষতিকর। রস সংগ্রহের জন্য কার্তিক মাসে খেজুর গাছ কাটা শুরু হয়। কার্তিক মাস থেকেই রস পাওয়া যায়। রসের ধারা চলতে থাকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত। শীতের সঙ্গে রস ঝরার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। শীত যত বেশি পড়বে তত বেশি রস ঝরবে। রসের স্বাদও তত মিষ্টি হবে। অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ মাস হলো রসের ভর মৌসুম। অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত একটি খেজুর গাছে মাসে ৪০ কেজি রস পাওয়া যেতে পাবে। খেজুর গাছ শুধু রস দিয়েই ক্ষান্ত হয় না। শুকনো খেজুরে ভেষজ গুন অনেক রয়েছে, খেজুরের বীজগুলো বাহির করে নিয়ে দুধে খেজুর গুলো মিশিয়ে ভাল ভাবে ফুটিয়ে গরম করে এই দুধ, খেজুর ঠান্ডা করে শিশুকে খাওয়ালে শক্তি বাড়ে৷ আবার একটি শুকনো খেজুরের ফলের পুষ্টি মান তুলে ধরে বলা যায়, প্রায় ৭৫-৮০% শর্করা, ২% আমিষ এবং প্রায় ২.৫% স্নেহজাতীয় পদার্থ থাকে। ১০০ গ্রাম শাঁসে ২০ ভাগ পানি, ৬০-৬৫ ভাগ শর্করা, ২ ভাগ আমিষ এবং খুব সামান্য কপার, সালফার, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন এ, বি-১, বি-২ এবং খনিজ লবণ খোঁজে পাওয়া যায়।

চাষীরা দিনের বেশির ভাগ সময় কাটান এ গাছে থেকে সে গাছে। মাটিতে পা ফেলার ফুরসতটুকুও পায় না অভাবী এই মানুষ গুলো। শীত আসা মাত্রই খেজুর গাছ ‘তোলার জন্য’ অনেক আগে থেকেই সকাল-সন্ধ্যায় যেন লেগে থাকে চাষী। খেজুর গাছ বিশেষ কায়দায় কাটতে হয়। আর এই গাছ গুলো কাটে যারা তাদেরকে ‘গাছি’ বলা হয়। তারা বিভিন্ন উপকরণ সমন্বয়ে গাছি নাম ধারি মানুষ পরিচ্ছন্ন ভাবে গাছ কাটার জন্য ব্যস্ত হয়ে যান। তারা গাছ কাটতে ব্যবহার করেন দা, দড়ি, এক টুকরো চামড়া বা পুরনো বস্তা আবার দা রাখার জন্য বাঁশ দিয়ে তৈরি থলি বা ঝাঁপি। সে ঝাঁপি গাছিরা রশি দিয়ে খুব যত্নে দা রেখে এ গাছ থেকে সে গাছে উঠা, নামা করে সুবিধা পায়। আবার কোমরে বেশ কিছু চামড়া বা বস্তা বেঁধে নেয় যেন গাছে উঠা নামায় কোন প্রকার সমস্যা না। গাছ কাটার জন্য গাছি শরীরের ভারসাম্য রক্ষার সময় কোমর বরাবর গাছের সঙ্গে দড়ি বেঁধে নেয়। দড়িটা বিশেষভাবে তৈরি করা হয়। এই দড়ির দুই মাথায় বিশেষ কায়দায় গিট দেওয়া থাকে। গাছে উঠার সময় গাছি অতি সহজে মুহূর্তের মধ্যে গিঁট দুটি জুড়ে দিয়ে নিজের জন্য গাছে উঠার নিরাপদ ব্যবস্থা করে নেয়।

রস জ্বাল দিতে যে পরিমাণ জ্বালানির প্রয়োজন তা পাওয়া যায় না এমন আক্ষেপে চাষীর বউ ঝগড়া করলেও চালের আটায় তৈরি ভাপা পিঠা খেজুরের গাঢ় রসে ভিজিয়ে খাওয়ার পর যেন সব রাগ মাটি হয়ে যায়। আবার কখনও সখনও চাষীর বউকে এক প্রকার সান্তনা দিয়ে বলে অভাবের সংসারে যা আছে তা দিয়ে এ পেশা চালালে বাঁচা যাবে কি করে। বছরে পাঁচ মাস ধরেই তো খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহ করা হয় আর তা খড়কুটার জ্বালানিতে গুড় বানিয়ে বাজারে বিক্রি হয় বলেই কোন মতে পেট চলছে। বউ আবার মুচকি হাসি দিয়েই বলে, সংসার চলছে তো ভালোই কিন্তু মেয়ের বিয়ের জন্য ভাবো কিছু। তার তো বিয়ের বয়স হয়েছে, এমন কথাও চলে আসে খেজুর গাছির ছোট্ট পরিবারে। চাষীর খেয়াল তো আছে বৈকি তবে আরও পরিশ্রম ও কষ্ট করার প্রয়োজন হবে, সামনের শীতে চাষীর ইচ্ছা আরোও বেশ কিছু খেজুর গাছ বর্গা নিলেই মেয়ের বিয়ের কিছু টাকা হাতে আসবে। এমন কথা সচরাচর শুনা যায় খেজুর চাষির কন্ঠে। চাষির আদরের বিবাহিত মেয়ে জামাইকে দাওয়াত দিয়ে খেজুর রসের পিঠা পায়েসের তৈরী আয়োজনে চরম ধুম পড়ে। চাষীর মেয়ে, বউ ঝিয়েরা খেজুরের রস বা গুড় তৈরিতে অত্যন্ত ব্যস্ত সকালের মনোরম পরিবেশে উপভোগ করে। এমন এক চমৎকার দৃশ্য বড়ই শৈল্পিক উপাখ্যান। শুধুই কি তাই, শীতের এই সকালে রস বা পাটালি গুড় তৈরীতে জ্বালানীর পাশে বসে অথবা লেপমুড়ি দিয়ে চিড়া, মুড়ির মোয়া খাওয়ার মজার পরিবেশ চাষীর পরিবারের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সহ আদরের মেয়ে জামাই ভুল করে না। তাদের শীতের উপাদেয় খাবার খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত চাষীরা এ গাছ থেকে ও গাছে খেজুর রস সংগ্রহে শীত কাঁপানি কন্ঠে গান ধরে।

রস জ্বাল দিয়ে তৈরি হবে গুড়। সেই গুড়ের আবার রকমফের আছে। যেমন, পাটালি গুড়, ঝোলা গুড়। এ সব গুড় বিভিন্ন ভাবে খাওয়া হয়। শীতের খেজুর গাছের রস হতে যে গুড়ে তৈরি তা দিয়ে দুধের পিঠা, পুলিপিঠা, সেম পিঠা আরো কত কিযে পিঠা তৈরী হয় তা না খেলে একেবারে জীবনই বৃথা। পাটালি গুড় দিয়ে মুড়ির মোয়া খাওয়া ও ঝোলা গুড়ের সহিত মচমচে মুড়ি খাওয়ার জনপ্রিয়তা গ্রামীণ শুধুই মানুষের রয়েছে। এমনিতেই তারা খেজুর গুড় গ্রামের অনেকেই খায়। তবে খেজুরের রস দিয়ে তৈরি রসের পিঠা খুবই সুস্বাদু হয়ে থাকে। আর খেজুর গুড়ের প্রচলিত সন্দেশ হয় তার স্বাদ অপূর্ব। শখ করে অনেক চাষিরা চা খাওয়ার নেশায় ঘরেই চা বানিয়ে খায় খেজুর গুড়কে উপজীব্য করে।

শীত তার বিচিত্র রূপ ও রস নিয়ে হাজির হয় গ্রাম বাংলায়। নবান্ন উৎসব কিংবা শীতের পিঠা পায়েশ তৈরির উৎসব শীতে ঘটা করেই হয়। শীতে চিরায়ত যা কিছু সৃষ্টির নিয়ামত, তা উপলব্ধি করতে চাইলে অবশ্যই গ্রামে যেতে হবে। শীতের নিরবতার অস্তিত্ব সৌন্দর্য মন্ডিত বাংলাদেশের ষড় ঋতুর এক ঐতিহ্য হিসেবে প্রতিয়মান হয় খেজুর গাছ। আশ্বিনের শুরু থেকেই চাষীরা খেজুর গাছ তোলা এবং পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এই উপযুক্ত সময় তারা নির্ধারণ করে মাঘের ‘বাঘা শীতে’ গুড় বিক্রিয় এবং তৈরীর প্রক্রিয়া যেন শেষ হয়। তাদের প্রক্রিয়াজাত খেজুর গুড়, পাটালি বা রস সারা বছর সংগ্রহ করে রাখে কোন কোন গ্রামের গৃহস্থ পরিবার। গ্রামের বাজার গুলোতেও জমজমাট হয়ে ওঠে খেজুর রস এবং গুড়ে। প্রকৃত পক্ষেই শীতে উৎসব মুখর হয়ে উঠে গ্রামবাংলা। জলাভূমি এবং কিছু পাহাড়ি ভূমি বাদে এদেশে এমন কোনো অঞ্চল নেই, যেখানে খেজুর গাছ জন্মে না। তবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমা অঞ্চলে খেজুর গুড় বাণিজ্যিকভাবেই উৎপাদিত হয়।

গাছ কাটার জন্য গাছের মাথার এক দিকের শাখা কেটে চেঁছে পরিষ্কার করে সেই কাটা অংশেরই নিচ বরাবর দুটি খাঁজ কাটার প্রয়োজন পড়ে। সে খাঁজ থেকে কয়েক ইঞ্চি নিচে একটি সরু পথ বের করা হয়। এই সরু পথের নিচে বাঁশের তৈরি নলী বসানো হয়। এই নলী বেয়ে হাড়িতে রস পড়ে। নলীর পাশে বাঁশের তৈরি খিল বসানো হয়। সে খিলেই মাটির হাড়ি টাঙিয়ে রাখা হয়। বিকেল থেকে হাড়িতে রস জমা হতে হতেই সারা রাত্রিতে হাড়ে পূর্ণ হয়। গাছ কাটার পর দুই তিন দিন রস পাওয়া যায়। প্রথম দিনের রসকে বলে জিরান কাট। জিরান কাট রস খুবই সুস্বাদু। প্রথম দিনের রস থেকে ভালো পাটালি গুড় তৈরি হয়। দ্বিতীয় দিনের রসকে বলে দোকাট। তৃতীয় দিনের রসকে বলে তেকাট। রসের জন্য খেজুর গাছে একবার কাটার পর আবারও পাঁচ ছয় দিন পর কাটতে হয়। গাছের কাটা অংশ শুকানোর জন্য এসময় দেওয়া প্রয়োজন পড়ে। খেজুর গাছ কাটা অংশ শুকানোর সুবিধার জন্যই সাধারণত পূর্ব ও পশ্চিম দিকে গাছ কাটা হয়। যাতে সূর্যের আলো সরাসরি কাটা অংশে পড়ে।

গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য মাটির হাড়ি ব্যবহার করা হয়। হাড়িকে আবার অনেকে বলে ভাঁড়। ঠিলা হিসেবেও হাড়ির নাম ব্যবহার হয়। যে যাই বলুক না কেন, ভাঁড়টি আসলেই খুব ছোট আকৃতির কলসের মতো হয়ে থাকে। মাঝারি আকৃতির দশ বা পনেরো ভাঁড় রস জ্বাল দিয়েই এক ভাঁড় গুড় হয়। সেই এক ভাঁড় গুড়ের ওজন ছয় থেকে আট কেজির মতো বলা চলে। গুড় তৈরির জন্য রস জ্বাল দেওয়া হয় মাটির জালায় বা টিনের তাপালে। খুব সকালে রস নামিয়ে এনেই জ্বালানো হয়। জ্বাল দিতে দিতে এক সময় রস ঘন হয়ে গুড় হয়ে যায়। এ গুড়ের কিছু অংশ তাপালের এক পাশে নিয়ে বিশেষ ভাবে তৈরি একটি খেজুর ডাল দিয়ে ঘষতে হয়। ঘষতে ঘষতে এই অংশটুকু শক্ত হয়ে যায়। আর শক্ত অংশকেই আবার কেউ কেউ বীজ বলে থাকে। বীজের সঙ্গে তাপালের বাকি গুড় মিশিয়ে স্বল্পক্ষণের মধ্যে গুড় জমাট বাঁধতে শুরু করে। তখন এ গুড় মাটির হাঁড়ি বা বিভিন্ন আকৃতির পাত্রে রাখার প্রয়োজন পড়ে। সে গুড় দেখলে বুঝা যাবে, একেবারে জমাট বেঁধে পাত্রের আকৃতি ধারণ করেছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বহুকাল ধরে পেশাদার খেজুর গাছ কাটিয়ে আছে। স্থানীয় ভাষায় এদের বলা হয় গাছি। কার্তিক মাসের শুরু হতে চৈত্রের শেষ পর্যন্ত তারা খেজুর গাছ কাটায় নিয়োজিত থাকে। যেসব চাষির স্বল্প সংখ্যক খেজুর গাছ আছে নিজেরাই তারা তা কাটে থাকে। তারাই রস পাড়ে ও বাড়িতে নিয়ে এসে জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করে। শীতের এ প্রকোপ যত বেশি হয়, রসও তত বেশি পান চাষী। রস গাছে যখন কমে যায় তখন সে রসের স্বাদ যেন বেশী হয়। এ রসকে ‘জিরান কাট’ রস বলে, গন্ধেও এ রস হয় সবচেয়ে উত্তম। এই ‘জিরান কাট’ রস নামানোর পর আবারও রসের ভাঁড় বা কলস গাছে টাঙালে তখন এই খেজুর গাছ হতে যে রস পাওয়া যাবে তা ‘উলাকাটা’ রস। গ্রাম বাংলায় এই শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশে যারা খেজুর বনের চাষ করে তারাই তো গভীব রাতে খেজুর রস নামিয়ে উনুনের আগুনে জ্বালাতে ব্যস্ত হয়। সত্যিই এমন দৃশ্য দেখা যায় খেজুর বনের পাশে উঁচু ভিটায়। এমন নিবিড় স্তব্ধতার মধ্যেও যেন জীবন সংগ্রামে তাদের মজার স্পন্দন উপলব্ধি হয়। উনুনের পাশেই থাকে গাছি বা শ্রমিক মজুর, তাদের থাকবার জন্য বানায় কুঁড়ে ঘর, খেজুরের পাতা কিংবা বিচালি দিয়ে ছাওয়া হয়। কান পাতলে শোনা যায়, গাছিয়া নিঃসঙ্গতা কাটাতে গ্রাম এলাকায় প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের গান গেয়ে থাকে। তাদের সুরে আছে অদ্ভুত প্রাণময়তা ও আবেগ, সহজেই হূদয়ে ছুঁয়ে যাওয়ার মতো।

পত্রবৃন্তে আবৃত খেজুরের কাণ্ডটি সরল, গোলাকৃতি এবং ধূসর বর্ণের হয়। মাথায় মুকুটের মতো ছড়ানো পাতা গুলো উর্ধ্বমুখী ও ছুরির ফলার মতো তীক্ষ্ণ। খেজুরের ‘ভিন্নবাসী’ গাছে স্ত্রী ফুল ও পুরুষ ফুল আলাদা ভাবেই গাছে জন্মায়। খেজুর গাছের পুং পুষ্পমঞ্জরী খাটো, ফুল সাদা মোচার মত বা ঘিয়ে রঙের মতো দেখতে হয়। খেজুর গাছের পরিপক্ক এ ফুলের মোচায় ঝাকুনি দিলেই ধুলার মতো পুংরেণু বাহির হতে দেখা যায়। আবার স্ত্রী পুষ্প মঞ্জরী লম্বা এবং ফুলের রং হালকা সবুজ হয়ে থাকে। স্ত্রী গাছে অজস্র ফল হয়ে থাকে তা অনেক উজ্জ্বল দেখায়। একটা মজ্ঞরীতে অনেক স্ত্রী ফুল ফোটে, যা থেকে একটি কাঁদি তৈরী হয়। খেজুর গাছের মাথায় খুব সূচালো অসংখ্য কাঁটার সমন্বয়ে ঝোপের মতো হয়ে সৃষ্টি এ গাছ। খেজুর গাছের পাতার গোড়ার দিকের প্রতিটি পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয়। সাধারনত এই পাতা ৩ মিটার লম্বা এবং নীচের দিকে বিশেষ করে বাঁকানো হয়। খেজুর গাছ সারা বছর একই রকমেই থাকে। পাকা ফল দেখতে পার্পেল-লাল রঙের এবং তা সুমিষ্ট হয়, খাওয়াও যায়। পাখিদেরও প্রিয় এটি।

শীত কালে খেজুরের রস সবারই রসনা তৃপ্ত করে। আর খেজুর গাছের মাথার কচি অংশ তো দারুন লাগে খেতে। খেজুর গাছ ছয় সাত বছর বয়স থেকে রস দেওয়া শুরু করে। পঁচিশ থেকে ত্রিশ বছর পর্যন্ত রস দেয়। গাছ পুরনো হয়ে গেলে রস কমে যায়। পুরনো গাছের রস খুব মিষ্টি হয়। মাঝ বয়সী গাছ থেকে সবচেয়ে বেশি রস পাওয়া যায়। বেশি রস সংগ্রহ করা গাছের জন্য ক্ষতিকর। রস সংগ্রহের জন্য কার্তিক মাসে খেজুর গাছ কাটা শুরু হয়। কার্তিক মাস থেকেই রস পাওয়া যায়। রসের ধারা চলতে থাকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত। শীতের সঙ্গে রস ঝরার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। শীত যত বেশি পড়বে তত বেশি রস ঝরবে। রসের স্বাদও তত মিষ্টি হবে। অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ মাস হলো রসের ভর মৌসুম। একবার গাছ কাটার পর দুই তিন দিন রস পাওয়া যায়। প্রথম দিনের রসকে বলে জিরান কাট। জিরান কাট রস খুবই সুস্বাদু। প্রথম দিনের রস থেকে ভালো পাটালি গুড় তৈরি হয়। দ্বিতীয় দিনের রসকে বলে দোকাট। তৃতীয় দিনের রসকে বলে তেকাট। রসের জন্য গাছ একবার কাটার পর পাঁচ ছয় দিন পর আবার কাটা হয়। গাছের কাটা অংশ শুকানোর জন্য এসময় দেওয়া হয়। কাটা অংশ শুকানোর সুবিধার জন্যই সাধারণত পূর্ব ও পশ্চিম দিকে গাছ কাটা হয়। যাতে সূর্যের আলো সরাসরি কাটা অংশটুকুতে পড়ে। রস পেতে হলে খেজুর গাছ বিশেষ কায়দায় কাটতে হয়। যারা গাছ কাটে তাদের বলা হয় গাছি। গাছিদের গাছ কাটার জন্য কয়েকটি উপকরণ দরকার হয়। যেমন-দা, দা রাখার জন্য একটি ঝাঁপি, দড়ি এবং এক টুকরো চামড়া বা পুরনো বস্তা। গাছি যে ঝাঁপি ব্যবহার করে তা বাঁশ দিয়ে তৈরি। গাছে উঠার সময় গাছি এই ঝাঁপিতে দা রাখে। কোমরে বেঁধে নেয় চামড়া বা বস্তা। গাছ কাটার সময় শরীরের ভারসাম্য রক্ষার জন্য গাছি কোমর বরাবর গাছের সঙ্গে দড়ি বেঁধে নেয়। দড়িটা বিশেষভাবে তৈরি করা হয়। এই দড়ির দুই মাথায় বিশেষ কায়দায় গিট দেওয়া থাকে। গাছে উঠার সময় গাছি অতি সহজে মুহূর্তের মধ্যে গিঁট দুটি জুড়ে দিয়ে নিজের জন্য গাছে উঠার নিরাপদ ব্যবস্থা করে নেয়।গাছ কাটার জন্য গাছের মাথার এক দিকের শাখা কেটে চেঁছে পরিষ্কার করা হয়। কাটা অংশের নিচের দিকে দুটি খাঁজ কাটা হয়। খাঁজ থেকে কয়েক ইঞ্চি নিচে একটি সরু পথ বের করা হয়। এই সরু পথের নিচে বাঁশের তৈরি নলী বসানো হয়। এই নলী বেয়ে হাড়িতে রস পড়ে। নলীর পাশে বাঁশের তৈরি খিল বসানো হয়। এই খিলে মাটির হাড়ি টাঙিয়ে রাখা হয়। এই হাড়িতে রস জমা হয়।গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য মাটির হাড়ি ব্যবহার করা হয়। এই হাড়িকে বলে ভাঁড়। কোথাও বলে ঠিলা। ভাঁড় দেখতে ছোট আকৃতির কলসের মতো। খেজুর রস মাঝারি আকৃতির দশ থেকে পনেরো ভাঁড় রস জ্বাল দিলে এক ভাঁড় গুড় হয়। এই এক ভাঁড় গুড়ের ওজন হয় ছয় থেকে আট কেজির মতো।খেজুরের রস হতে তৈরি গুড়। মিষ্টি জাতীয় খাবার। বাংলাদেশে বেশ প্রসিদ্ধ। শীতকালে তৈরি হয় এবং সারা বছরই পাওয়া যায়। প্রচুর খনিজ ও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। গুড় তৈরির জন্য রস জ্বাল দেওয়া হয় মাটির জালায় বা টিনের তাপালে। খুব সকালে রস নামিয়ে এনেই জ্বালানো হয়। জ্বাল দিতে দিতে এক সময় রস ঘন হয়ে গুড় হয়ে যায়। এ গুড়ের কিছু অংশ তাপালের এক পাশে নিয়ে বিশেষভাবে তৈরি একটি খেজুর ডাল দিয়ে ঘষতে হয়। ঘষতে ঘষতে এই অংশটুকু শক্ত হয়ে যায়। এই শক্ত অংশকে বীজ বলে। বীজের সঙ্গে তাপালের বাকি গুড় মিশিয়ে দেওয়া হয়। স্বল্পক্ষণের মধ্যে গুড় জমাট বাঁধতে শুরু করে। তখন এই গুড় মাটির হাঁড়ি বা বিভিন্ন আকৃতির পাত্রে রাখা হয়। গুড় জমাট বেঁধে পাত্রের আকৃতি ধারণ করে। এই খেজুর গুড় যারা বানায়, তাদের ঐতিহ্যগত পরিচয় তারা গুড়-শিল্পী বা শিউলি। এই শিউলিরা আদতে খেতমজুর। বর্ষার দিনে অনেক অঞ্চলে চাষাবাদের পর ভূমিহীন খেত মজুরদের কোনও কাজ থাকে না। অনাহার-অর্ধাহারে তাদের দিন কাটাতে হয়। সেই সময় শিউলিরা দাদন নেয় মহাজনের কাছ থেকে খেজুর গাছ। বিনিময়ে তারা মহাজনের নির্ধারিত দামে তাদের কাছেই অনেক সময় গুড় বিক্রি করতে বাধ্য হয়। খেজুর গুড় সারা বাংলাদেশেই পাওয়া যায়। খেজুর গাছ আরবের মেসোপটেমিয়াই আদি জন্মস্থান হিসেবে বিবেচিত।এদেশে যেসব খেজুর চাষ হয় তার নাম Phoenix sylvestris। এই খেজুর গাছের উচ্চতা ১০ থেকে ১৫ মিটার হয়ে থাকে। গ্রামবাংলার এই জাতটিকে বুনো জাত হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়।

নজরুল ইসলাম তোফা,’টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক’।

বিশ্বে সবচেয়ে সস্তায় জাহাজ ভাঙা হয় চট্টগ্রামে, মূল্য দিতে হয় শ্রমিককেঃ The Guardian

0

বাংলাদেশি জাহাজ ভাঙার একটি ওয়ার্কশপে মোহাম্মদ ইদ্রিসের জীবন শেষ হয়ে যায় ২০১৫ সালের ১১ এপ্রিল, শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায়। ৩৮ বছরের এই কাতুরি (লোহা কাটার শ্রমিক) কাজ করছিলেন শতাধিক শ্রমিকের সঙ্গে। চট্টগ্রামে ফেরদৌস স্টিল করপোরেশনের শিপইয়ার্ডে তারা কাজ করছিলেন ১৯ হাজার ৬০০ টনের কনটেইনার জাহাজ ইউরোস লন্ডন-এ। এমন সময়েই তার জীবনের ভয়াবহ বিপর্যয়টি সংঘটিত হয়।
ইদ্রিসের কাজ ছিল আগুনের শিখা (ব্লো টর্চ) দিয়ে ৪০ টনের প্রপেলার কেটে ফেলা। কাদায় প্রপেলারের পতন ঠেকাতে সেখানে বড় ধরনের একটি লোহার পাটাতন তৈরি করা হয়। এটা দেখেই ইদ্রিসের মনে আশঙ্কা জাগে। তিনি বলেন, আমি সুপারভাইজরসহ আরও দু’জনকে বলি, এটা বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ যখন প্রপেলারটি নিচের দিকে পড়তে শুরু করবে, তখন তা লোহার পাটাতনে পড়ে লাফিয়ে ওপর দিকে উঠতে পারে।
কিন্তু তাকে নির্দেশ মেনে কাজ করতে হয়েছে এবং প্রায় মারা যাচ্ছিলেন। প্রপেলারটি কাটার পর মুক্ত হয়ে লোহার পাটাতনে ধাক্কা খেয়ে তার আশঙ্কা মতোই ওপর দিকে উঠে যায়। হাঁটুর নিচে তার পা কেটে ফেলে, একটি চোখ অন্ধ হয় এবং তার পিঠ প্রায় ভেঙে যায়।
কোম্পানির পক্ষ থেকে হাসপাতালের খরচ বহন করা হয়। ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এছাড়া দুর্ঘটনার পর ৯ মাস প্রতি সপ্তাহে তাকে ৪৬০ টাকা করে দেওয়া হয়। যে সাত সদস্যের পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী মানুষ ছিলেন ইদ্রিস, সেই পরিবারকে বন্ধু ও স্বজনদের সহযোগিতায় চলতে হচ্ছে। কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ায় ইউরোস লন্ডন জাহাজটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা লন্ডনভিত্তিক জাহাজ কোম্পানি জোডিয়াক ম্যারিটাইমকে দায়ী করা যেত।
এভাবে প্রতিবছর জাহাজ ভাঙার কাজে দুর্ঘটনায় অনেক বাংলাদেশি, ভারতীয় ও পাকিস্তানি নিহতের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ, আমেরিকান ও ইউরোপিয়ান জাহাজ মালিক ও ব্যবস্থাপককে দায়ী করা যেত। ইদ্রিসের পক্ষ হয়ে যুক্তরাজ্যের আইনি প্রতিষ্ঠান লেই ডে অবহেলার জন্য জোডিয়াকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। লেই ডে’র দাবি, ইসরায়েলি জাহাজব্যবসায়ী স্যামি অফারের ছেলে ইয়াল অফার জোডিয়াক কোম্পানির মালিক এবং কোম্পানিটি দেড় শতাধিক বড় জাহাজের ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত। তারা যখন নগদে বা মধ্যস্বত্বভোগী মার্কিন কোম্পানি জিএমএস-এর কাছে জাহাজ করে তাদের জানা উচিত চট্টগ্রামে জাহাজ ভাঙা কতটা বিপজ্জনক।
লেই ডে প্রতিষ্ঠানের এক পরিচালক মার্টিন ডে বলেন, জোডিয়াক জানে অথবা তাদের জানা উচিত যে, নগদে ক্রেতার মাধ্যমে যখন তারা চট্টগ্রামের কোনও প্রতিষ্ঠানের কাছে জাহাজ বিক্রি করে, সেখানে যারা কাজ করে, তারা শারীরিক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
পরিবেশবাদী ও ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নতুন আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন। কারণ শ্রমিকদের মৃত্যু ও আহত হওয়ার সংখ্যা বাড়ছেই।


দুর্ঘটনায় পা হারানো আহত জাহাজ ভাঙা শ্রমিক ইদ্রিস। ছবি-গার্ডিয়ান
এক হিসেবে বিশ্বের সবচেয়ে ‘সবুজবান্ধব’ নবায়নযোগ্য শিল্প হচ্ছে জাহাজ ভাঙা। এতে প্রতিটি নাট, বল্টু ও লোহার শিটকে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করা হয়। বিশ্বের কয়েকটি দরিদ্র দেশের কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয় এই খাতে। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, জাহাজ মালিকরা শ্রমিকদের দুর্ভোগ হবে জেনেও এশিয়ার সৈকতে জাহাজ ভাঙার জন্য পাঠাচ্ছে। গত দুই বছরে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো ২৮টি জাহাজ পাঠিয়েছে এশিয়ায়। এর মধ্যে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে ছয়টি। গত সপ্তাহেই জোডিয়াকের ব্যবস্থাপনায় ভাঙার জন্য অপেক্ষায় ছিল দু’টি জাহাজ।
ব্রাসেলসভিত্তিক পরিবেশবাদী, মানবাধিকার ও শ্রমিক সংগটনের জোট শিপব্রেকিং প্লাটফর্মের পরিচালক ইংভিল্ড জেনসেন বলেন, নগদ অর্থে জাহাজ বিক্রি করে জাহাজ মালিকরা দায় গ্রহণ থেকে নিজেদের রক্ষা করছে। পুরনো জাহাজের ব্যবসায়ীরা সর্বোচ্চ দাম প্রস্তাবকারীর কাছে জাহাজ বিক্রি করে দেয়। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে যেসব জাহাজ পৌঁছায়, সেগুলো নগদ ক্রেতাদের মাধ্যমেই যায়। আর নগদে ক্রেতারা সর্বোচ্চ দাম প্রস্তাবকারীর কাছে বিক্রি করে দেয়।
জেনসেন জানান, প্রতিবছর আট শতাদিক জাহাজ এশিয়ায় ভাঙা হয়। জাহাজের মালিকরা এশিয়ার শিপ ইয়ার্ডে নগদ ক্রেতাদের মাধ্যমে বিক্রির ফলে ১০ থেকে ৪০ লাখ ডলার বেশি মুনাফা করে। যদি উচ্চমানের শিপ ইয়ার্ডে তা বিক্রি হতো তাহলে এই অতিরিক্ত মুনাফা তারা পেতো না। তিনি বলেন, কেউ তাদের সেখানে (এশিয়া) জাহাজ পাঠাতে বাধ্য করেনি। তারাই এসব জায়গা নির্বাচন করে।
ইদ্রিস ১৪ বছর বয়সে চট্টগ্রামে আসেন। দুর্ঘটনায় পড়ার আগ পর্যন্ত সপ্তাহে ছয়দিন ১৪ ঘণ্টা করে কাজ করতেন। প্রতিদিন তার আয় হতো প্রায় সাড়ে তিনশ টাকা। ১৯৬০ সালের দিকে শুরু হওয়া জাহাজ ভাঙা শিল্পে কাজ করা কয়েক হাজার শ্রমিকের মধ্যে একজন তিনি। দুর্ঘটনায় নিহতদের সরকারি কোনও তথ্য নেই। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর মতে, গত দশ বছরে ১২৫ জনের বেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
চট্টগ্রাম এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ ভাঙার স্থান। গত বছর এখানে ২৩০টি জাহাজ ভেঙে রিসাইকেল করা হয়েছে। এতে প্রায় ১ কোটি টন স্টিল পাওয়া গেছে। এসব স্টিলের ৬০ শতাংশই বাংলাদেশে ব্যবহার করা হয়। এখানে কাজ করা শ্রমিকদের বেশিরভাগই গ্রামীণ এলাকা থেকে আসা। ইয়ার্ডের পাশে অতিরিক্ত মানুষের সঙ্গে বাস করে তারা। ফেরদৌস ইয়ার্ডের মতো এগুলোর অবস্থা প্রায় এক। হাতুড়ি ও লোহা কাটার দিয়ে বড় ধরনের একটি জাহাজ ভাঙতে তরুণদের প্রায় একমাস লেগে যায়।
বাংলাদেশে শিপব্রেকিং প্লাটফর্মের সমন্বয়কারী মুহাম্মদ আলী শাহীন বলেন, চট্টগ্রামে সবচেয়ে সস্তায় জাহাজ ভাঙা হয় কিন্তু মূল্য দিতে হয় দুর্ভোগ শিকার করে। এ বছর ৯জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এসব মানুষের জীবনের জন্য কেউ দায় নিতে রাজি নয়। আইনে তেমন কোনও সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এশিয়ায় জাহাজ ভাঙা নিষিদ্ধ করেছে আইন করে। কিন্তু মালিকরা সহজেই জাহাজের মালিকানার দেশ পরিবর্তন করে ফেলতে পারে।
শ্রমিক সংগঠনগুলোর চাপে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা সংস্থা ২০০৯ সালে হংকং কনভেনশন (এইচকেসি) পাস করেছে। এইচকেসি অনুসারে, কোনও জাহাজ মালিক বা দেশ মানুষের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারবে না। কিন্তু শিপব্রেকিং প্লাটফর্মের মতে, এইচকেসি কার্যকর হচ্ছে না। কারণ এই নিয়ম বাস্তবায়ন করার জন্য ১৫ দেশ ও বিশ্বের জাহাজ মালিকদের ৪০ শতাংশকে এতে স্বাক্ষর করতে হবে।
জিএমএস কোম্পানি অ-নির্বাহী পরিচালক নিকোস মিকেলিস বলেন, হংকং মান ধীরে ধীরে এই খাতে গ্রহণ করা হচ্ছে। আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে কনভেনশনটি কার্যকর হতে পারে। অনুস্বাক্ষর ও এইচকেসির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে না।
নিকোস দাবি করেন, শিপব্রেকিং প্লাটফর্ম শিশু সুলভ এবং তারা জাহাজ ভাঙা শিল্পের বাতিল চায়। যা কয়েকটি দরিদ্র দেশে কয়েক হাজার শ্রমিকের জীবিকা ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।
জিএমএস’র এই কর্মকর্তা পরিস্থিতির উন্নতি দেখছেন। তিনি বলেন, ভারত ও জাপান এই খাতের উন্নয়নের জন্য ১০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে। ভারত ও জাপানের ১২০টি ইয়ার্ড এইচকেসির মান সম্পন্ন এবং আরও ১৫টি নিরাপদ কাজের পরিবেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে মাত্র একটি কোম্পানি (পিএইচপি শিপব্রেকিং) আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন।
মিকেলিস জানান, মায়েরস্ক-এর মতো বড় বড় কোম্পানিরগুলোর সরাসরি ইয়ার্ডের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে। তিনি বলেন, এই শিল্প উন্নতি চায় কিন্তু এ জন্য বিনিয়োগ প্রয়োজন।
জোডিয়াক-এর বিষয়ে মার্টিন ডে দাবি করেন, চট্টগ্রাম জাহাজ গলানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে তারা জানে। অনিরাপদ পরিবেশে তা ভাঙা হবে জেনেও তারা ইউরোস লন্ডনকে বিক্রি করেছে সেখানে। তিনি বলেন, নগদ ক্রেতা বা ঠিকাদারের মাধ্যমে বাংলাদেশে জাহাজ বিক্রি না করা তাদের দায়িত্ব।
এক বিবৃতিতে জোডিয়াক জানায়, তৃতীয় পক্ষের কাছে জাহাজ বিক্রির চার মাস পর দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এর ফলে ‘ইদ্রিস যে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে তার দায় আমরা অস্বীকার করছি এবং এই দাবিতে আপত্তি জানাচ্ছি’।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘যে ইয়ার্ডে ইদ্রিস কর্মরত ছিলেন তা জোডিয়াকের ঠিকাদারের নয় এবং জোডিয়াক জাহাজ গলানোর জন্য ইয়ার্ডটি নির্বাচন করেনি। জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ডে কাজের পদ্ধতির বিষয়ে জোডিয়াকের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। অবহেলার যে কোনও আইনি এখতিয়াবহির্ভূত এই দাবি। এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আইন প্রযোজ্য।’
যেকোনও দুর্ঘটনার প্রভাব শ্রমিকের পরিবারের দুর্যোগ বয়ে আনে। ইদ্রিসের পরিচিত এক ব্যক্তি বলেন, তার (ইদ্রিস) কোনও সঞ্চয় নেই। তিনি ক্ষুব্ধ। বন্ধু ও আত্মীয়দের দয়ার উপর সে সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। তার ছেলেমেয়েরা আতঙ্কিত কারণ সে ব্যথা ও যন্ত্রণায় আর্তচিৎকার করেন প্রায় সময়েই।
ইদ্রিসের কথায়, ‘নিজেকে মৃত বলে মনে হয়। আমার কোনও আশা নেই। আমি কখনও আর কাজ করতে পারব না। আমার শরীরে স্টিলের টুকরা রয়েছে। শুধু লাঠিতে ভর দিয়ে আমি চলতে পারি। খুব যন্ত্রণার মধ্যে আছি। আমি একটি দোকান খুলতে চাই। কিন্তু এজন্য পাঁচ লাখ টাকা প্রয়োজন।’
জাহাজ ভাঙার কাজে পঙ্গু হওয়া ইদ্রিস আরও বলেন, ‘অনেক মানুষকে মরতে ও আহত হতে দেখেছি আমি। এটা খুব বিপজ্জনক কাজ। মানুষকে সেখানে কাজ না করার জন্য বলি আমি।’
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন

নয়াবাড়িতে ইউপি সদস্যের উপর সন্ত্রাসী হামলা

ঢাকার দোহার উপজেলার নয়াবাড়ি ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আরব আলীর উপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা।  আন্তা গ্রামে পাখি মেম্বারের বাড়ির সামনে শনিবার বেলা এগারোটার দিকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে  হামলা হয়।

আরব আলীর স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, হকিস্টিক দিয়ে আরব আলীকে পিটিয়ে জখম করেছে একই এলাকার মো. সজিব,   মো. রাব্বি, মো. কাশেম ও তার ছেলে সহ অন্তত ৮/৯ জন।

আহত মেম্বার আরব আলীকে দেখতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান দোহার থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম পিপিএম, নয়াবাড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শামীম আহমেদ হান্নান ও অন্যান্যরা। এ ঘটনায় এলাকায় উভয়পক্ষের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ইছামতি নদীতে নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিক কুনাল কুন্ডুর লাশ উদ্ধার

১ ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুরে নবাবগঞ্জের কুলঘেষে যাওয়া নদী ইছামতিতে নিখোঁজ হন ভারতীয় নাগরিক কুনাল কুন্ড। সারাদিন ইছামতি নদীতে তল্লাসীর শুক্রবার সন্ধা ৬টার দিকে কুনাল কুন্ডের লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবরিরা। কুনাল সাঁতার জানতো না বলে জানা গেছে।

জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে একইসঙ্গে নদীতে গোসল করতে নামেন ভারতীয় নাগরিক কুনাল কুন্ডু (২৪) ও বিশ্বজিৎ সাহা (২৫)। তাদের মামা বাড়ি নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা রাজারামপুরে বেড়াতে এসেছিল তারা।

বিশ্বজিৎ সাহা জানায়, গত ২৬ নভেম্বর ১ মাসের ভ্রমন ভিসায় আমার মা, কুনাল, কুশল ও আমি কলাকোপা রাজারামপুরে বেড়াতে আসি। ওরা দুজন আমার খুব কাছের বন্ধু। কুনাল ও কুশল নিকট আত্মীয়। আজ দুপুর সাড়ে ১ টার দিকে তিন বন্ধু মিলে ইছামতি নদীর পোদ্দার বাজার ঘাটে গোসল করতে নামে। এসময় নদীর পানি জোয়ার শেষে ভাটার টানে নামছিল। গোসলের এক সময়ে কুনাল ভাটির টানে পানিতে ডুবে যায়। আমাদের দু’জনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলেও কুনালকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

নিহত যুবক কুনাল কুন্ডু ভারতের কলকাতার শিয়ালদহ রেল স্টেশন সংলগ্ন বেলেঘাটা এলাকার বাসুদেব কুন্ডুর ছেলে বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নবাবগঞ্জ থানার ওসি মোস্তফা কামাল ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ডুবুরি দলকে খবর দেন।

মুকসুদপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি মঈনুল আকন্দের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন

ঢাকার দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মঈনুল আকন্দের জানাজা মুকসুদপুরের রজ্জব আলী ক্বারী সাহেব সংলগ্ন মাদ্রাসা মাঠে সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার বাদ জুম্মা  তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান, ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, ইনস্পেক্টর জেনারেল অব রেজিষ্ট্রেশন খান মো. আব্দুল মান্নান, দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, ঢাকা জেলা পরিষদের সদস্য শাহজাহান মোল্লা, মুকসুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম সহ এলাকার বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানাজায় শরীক হন। জানাজা শেষে মুকসুদপুর কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়।

উল্লেখ্য যে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১:৩০ মিনিটে রাজধানীর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঈনুল আকন্দের মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৪২ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও এক কন্যা সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সে মুকসুদপুরের হাশেম আকন্দের ছেলে।

শাইনপুকুর থেকে গাঁজাসহ আটক দুই

ঢাকার দোহার উপজেলার শাইনপুকুর তদন্ত কেন্দ্রের সামনে থেকে গাঁজাসহ দুই যুবককে আটক করে দোহার থানা পুলিশ। পরে আটককৃত দুই যুবককে ছয়মাসের কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রামমান আদালত। সাজা প্রাপ্তরা হলেন, বরিশালের হিজলা থানার শ্রীপুর গ্রামের আব্দুল কালামের ছেলে মো. আরমান ও একই জেলার মুলাটী থানার মৌলা গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে আরিফ হোসেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোর চারটার দিকে দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম শেখ-এর নেতৃত্বে সাইনপুকুর তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আব্দুল জলিল সহ পুলিশের একটি দল সাইনপুকুর তদন্ত কেন্দ্রের সামনে থেকে ৫০ গ্রাম গাঁজ সহ দুই যুবককে আটক করেন।

আটককৃতদের উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের দু’জনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।

ইট ভাটার শিশুদের জন্য শুরু হলো বর্ণমালা স্কুল

নবাবগঞ্জের মাঝিরকান্দা ইটভাটার শিশুদের সমাজের সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে শুরু হলো বর্ণমালা স্কুলের কার্যক্রম। বর্ণমালা বিদ্যালয়ের অঙ্গীকার, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার অধিকার এই স্লোগানকে সামনে রেখে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার চালনাইতে শুক্রবার বিকাল ৪টায় বর্ণমালা বিদ্যালয়ের শুভ উদ্বোধন হয়। দোহার নবাবগঞ্জের তরুণ প্রজন্মের উদ্যোগে নবাবগঞ্জের চালনাই চকের তিনটি ইটভাটার শতাধিক সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো পৌছিয়ে দিতে ও নিরক্ষতা দূর করতে বর্ণমালা বিদ্যালয়ের স্বাক্ষরতা কার্যক্রম শুরু করে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন।

নবাবগঞ্জের মাঝিরকান্দা ইটভাটার শিশুদের সমাজের সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে শুরু হলো বর্ণমালা স্কুলের কার্যক্রম। বর্ণমালা বিদ্যালয়ের অঙ্গীকার, সুবিধাবঞ্চিত

দোহার-নবাবগঞ্জের তরুণ প্রজন্মের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, এই ধরনের একটি কার্যকমে বাংলাদেশ থেকে নিরক্ষরতা হার দূর হবে। শিক্ষা থেকে কোন শিশু বঞ্চিত হবে না। শিশুদের পড়ালেখার পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্য বিষয়েও সচেতন করতে হবে। এই উদ্যোগ এখানেই সীমাবদ্ধতা রাখলে হবে না। প্রতিটি গ্রামে ছড়িয়ে দিতে হবে। একটি শিশুও যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়। আর তাদের অভিবাবকদের সচেতন করে তুলতে হবে যাতে শিশুদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কোন কাজ না করানো হয়।

তিনি বর্ণমালা বিদ্যালয়ের শিশুদের সান্ধকালীন খাবার দেয়ার কথা জানান। সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।

বর্ণমালা স্কুলের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা মোঃ জামান বলেন, সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো বিস্তার করতেই আজ এই স্কুল। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন দোহারে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো বিস্তার করতে দোহার-নবাবগঞ্জের সবাই এগিয়ে আসবে।

নবাবগঞ্জের মাঝিরকান্দা ইটভাটার শিশুদের সমাজের সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে শুরু হলো বর্ণমালা স্কুলের কার্যক্রম। বর্ণমালা বিদ্যালয়ের অঙ্গীকার, সুবিধাবঞ্চিত

বিশেষ অতিথি ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম জালাল শিমু, দোহার উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামিমা রাহিম শিলা, কাটাখালি মিছের খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অহিদুল ইসলাম খান প্রমূখ। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বাহান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পটভূমির উপর ভিত্তি করে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়

চলে গেলেন স্বপ্নের চেয়েও বড় এক স্বপ্নের ফেরিওয়ালা

0

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন দুই ভাগ হওয়ার পর থেকেই মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা পোস্টারে পোস্টারে ছেঁয়ে দেয় রাজধানীর অলিগলি। তার এমন পোস্টার চোখে দেখেনি রাজধানীবাসী। সরব কোনো আয়োজনও ছিল না। খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই নাকি ফোন করে নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সে নির্দেশনা আশীর্বাদ ছিল বলে একাধিক প্রোগ্রামে উল্লেখ করেছিলেন। আশীর্বাদ জেনে উন্নয়নের পথে এলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন। স্বপ্নজয়ের সিঁড়িতে ভর করেছিলেন সবে। স্থবির হয়ে পড়া রাজধানীর গতিও ফিরিয়েছিলেন খানিক। কিন্তু এই অবেলায় তার গতি থেমে যাবে, তা কে জানতো?

পেশীশক্তির রাজনীতিতে পা রাখেননি। নষ্ট রাজনীতির কাদা গায়েও লাগননি তিনি। বরং রাজনীতির নামে যারা অপরাজনীতি করছেন, তাদের জন্যও ইতিবাচক উদাহরণ সৃষ্টি করেছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মেয়র আনিসুল হক। তার চলে যাওয়ায় কাদঁছেন নগরবাসী। কাঁদছেন অরাজনৈতিক-রাজনৈতিক মঞ্চের মানুষেরাও।

ভয়কে জয় করে উন্নয়নের মাঠ প্রসারিত করার নাম আনিসুল হক। যে দলের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে জিতলেন, উন্নয়ন প্রশ্নে সেই দলের মানুষেরাই পথ আগলে ধরেন। অবরুদ্ধও হলেন। তবে নিরাশ হননি। সব বাধা পায়ে মাড়িয়েই স্বস্তি দিতে চেয়েছিলেন নগরে। দৃঢ় মনোবল আর সাহসিকতা দিয়েই তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডের রাস্তা দখলমুক্ত করেছিলেন। দায়িত্ব নেয়ার দুই বছরেই ঢাকা উত্তরের রূপ বদলে দেন। সততা আর সাহসিকতার জন্য প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন নানা মহলের।

মেয়র আনিসুল হকের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল সিটি কর্পোরেশন কেন্দ্রিক টেন্ডার বাণিজ্য বন্ধ করে ক্রয় খাতে স্বচ্ছতা আনা। তাতে সক্ষমও হয়েছিলেন। আর তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদ, গাবতলীতে অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা এবং সর্বশেষ দূতাবাসপাড়ায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা তার যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করা হয়।

সদ্য প্রয়াত এই মেয়রের আরও কিছু সফল পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়ন; উন্মুক্ত স্থান, খেলার মাঠ ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ; সড়কবাতি স্থাপন, সড়ক ও ফুটপাত নির্মাণ, সংস্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখা, জলাবদ্ধতা নিরসনে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা।

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নানা রংবেরঙের বিলবোর্ড সরানো ছিল যে কোনো মেয়রের জন্য চ্যালেঞ্জ। রাস্তার পাশে, ভবনের ছাদে কিংবা দেয়ালে হাজার হাজার বিলবোর্ড শহরের সৌন্দর্য ম্লান করে দিয়েছিল। সেই চিরচেনা রূপ বদলে দিয়েছিলেন আনিসুল হক। প্রায় ২০ হাজার বিলবোর্ড অপসারণ করে তিনি। গাবতলী আর আমিনবাজারের অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ করে গতি দিয়েছিলেন এখানকার সড়কে।

আনিসুল হকের আমলেই চলন্ত সিঁড়ি দেখতে পেলেন রাজধানীবাসী। গত দুই বছরে দুটি চলন্ত সিঁড়িসহ ৫৫টি ফুট ওভারব্রিজ, দুটি আন্ডারপাস এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক জেব্রা ক্রসিং নির্মাণ করা হয়েছে। ১০টি উন্নতমানের আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে, যা সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ব্যবহার করতে পারবে।

উন্নত নাগরিকসেবার জন্য ‘নগর’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ চালু হয়েছে তার সময়ই। নিরাপদ ঢাকা গড়ার প্রত্যয়ে এরই মধ্যে ৬৪২টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এতে জননিরাপত্তা বেড়েছে বহুগুণ। নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে তার এলাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ বাস সার্ভিস ‘ঢাকা চাকা’ চালু করেন। উত্তরায় ৩২ হাজার গাছের চারা রোপণ করেন। আরও ১০ লাখ গাছের চারা লাগানোর পরিকল্পনা চলছে।

আনিসুল হক ৬৬টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণ করেছিলেন, যেখান থেকে গড়ে প্রতিদিন দুই হাজার ৪০০ টন বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে সফলতার সিঁড়িতে হাঁটতে গিয়ে বারবার বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল মেয়র আনিসুল হককে। মোটেও সহজ ছিল না রাজনীতির আকাশে অরাজনীতিক এই ব্যক্তির কেতন উড়ানো। ‘ইচ্ছা থাকলেও নগরের উন্নয়ন করা যাচ্ছে না’ এমন অতৃপ্তির কথাও শুনিয়েছিলেন বারবার। তবুও থেমে থাকেননি। সরকারের সর্বোচ্চ মহলের সহযোগিতাই তাকে অনুপ্রাণিত করেছিল বারবার। এত স্বপ্ন নিয়েও মৃত্যুর কাছে হেরে গেলেন হস্যময়ী আনিসুল হক।

‘আগামী এক বছরের মধ্যেই উত্তরের ফুটপাত এমনভাবে গড়া হবে যেন, অন্ধজনও সহজে চলতে পারেন।’

চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) সদ্যপ্রয়াত মেয়র আনিসুল হক নগরীর ফুটপাতের সংস্কার করে অন্ধজনদের চলাচলের জন্য ফুটপাত তৈরির এ স্বপ্নের কথা জানিয়েছিলেন।

নগরীর ফুটপাতের বেহালদশা দেখে দৃঢ় ইস্পাত কঠিন কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘মোটরসাইকেল ফুটপাতে উঠলেই তাকে ধরে পুলিশে দিন। অনেক প্রাইভেটকার ফুটপাতে চাকা তুলে দেয়। এমন দেখলেও পুলিশে দিন। এখন থেকে আর এসব চলতে দেয়া হবে না।’

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তরের নগরপিতা নির্বাচিত হন আনিসুল হক। ৬ মে শপথগ্রহণ ও ১৪ মে থেকে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। একসময়ের বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সফল উপস্থাপক ও পরবর্তীতে সফল ব্যবসায়ী নেতা মেয়র হিসেবে কতটুকু সফলতা পাবেন তা নিয়ে অনেকেই শঙ্কিত ছিলেন।

নির্বাচনের আগেই ‘আমরা ঢাকা’ শিরোনাম দিয়ে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, আলোকিত ও মানবিক ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন আনিসুল। ‘সমস্যা চিহ্নিত, এবার সমাধানযাত্রা’ স্লোগান দিয়ে নিরাপদ স্বাস্থ্যকর ঢাকা, সচল ঢাকা, মানবিক উন্নয়নের ঢাকা, স্মার্ট ও ডিজিটাল ঢাকা, অংশগ্রহণমূলক ও সুশাসিত ঢাকা গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এছাড়াও তিনি মশামুক্ত, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিকীকরণ, স্মার্ট কার্ড প্রদান, ফরমালিনমুক্ত ও নিরাপদ বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, মাদক ও সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ, সড়কগুলোকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা, স্কুলে হেলথ প্রোগ্রাম চালু, সাংবাদিক, শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মীদের জন্য মিডিয়া সেন্টার করাসহ বিভিন্ন স্বপ্ন দেখান।

মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি ডিএনসিসিকে নিয়ে আকাশ ছোঁয়া স্বপ্নের বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেন। নানা হুমকি-ধামকিকে উপেক্ষা করে যত্রতত্র বিলবোর্ড অপসারণ, তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড সংলগ্ন সড়ক থেকে অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ ও কল্যাণপুর থেকে গাবতলী পর্যন্ত সড়ক ও মহাখালী বাসস্ট্যান্ড সড়ককে পার্কিংমুক্ত করেছেন।

এছাড়া ময়লা-আবর্জনা সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষণের জন্য মিনি ট্রান্সফার স্টেশন নির্মাণ, মশা নিয়ন্ত্রণে হস্তচালিত স্প্রে মেশিন ও ফগার মেশিন, জলাবদ্ধতা দ্রুত করতে অত্যাধুনিক মেশিন কেনেন।

অনেক স্বপ্নের কিছু স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন আবার কিছু কিছু করতে পারেননি। অনেক স্বপ্ন বাস্তবায়ন না করেই বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে না ফেরার দেশে চলে গেলেন স্বপ্নবাজ এই নগরপিতা। নিউজ৩৯ তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত করছে এবং এই শোককে শক্তিতে পরিণত করার জন্য প্রার্থনা করছে।