ঢাকা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান গুরুতর অসুস্থঃ চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে

ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সেখানে তিনি চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।ধারণা করা হচ্ছে, তিনি মাইল্ড স্টোকে আক্রান্ত হয়েছেন।

নিউজ৩৯কে মাহবুবুর রহমানের একান্ত সচিব হাবিবুর রহমান জানান, মঙ্গলবার শারিরিকভাবে তিনি অসুস্থতা বোধ করেন। সেই অবস্থায় গত দুই(২) দিন তিনি বিভিন্ন জনসংযোগ ও উন্নয়ন কর্মকান্ডে অংশ নেন। বৃহস্পতিবার সকালে বুকে তীব্র ব্যাথা অনুভব করলে, তাকে দ্রুত হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেকার চিকিৎসক তাকে ভর্তি হয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার পরামর্শ দেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।

মাহবুবুর রহমান নিজে ও তার পরিবার নিউজ৩৯ এর মাধ্যমে দেশবাসী বিশেষত দোহার-নবাবগঞ্জের সকল জনসাধারণের নিকট দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন।

দোহারে খেলা নিয়ে জমজমাট জুয়া

অবশেষে শেষ হলো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। সেই সাথে শেষ হলো দোহারের এক অলিখিত জুয়ার আসরের একটি ছোট্ট অংশ। সারা দেশেই ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠা এই বিপিএলকে কেন্দ্র করে সারাদেশের মতো দোহার-নবাবগঞ্জেও জমজমাট ছিল স্থানীয় জুয়ার আসরগুলো।

দোহার বা নবাবগঞ্জে জুয়া খেলতে কোন জুয়ার আসরে জেতে হয় না। নিজের বাজারের চায়ের দোকাঙ্গুলোই হয়ে উঠেছে অস্থায়ী জুয়ার আসর।  দোহারে জনপ্রিয় এই টোয়েন্টি-টোয়েন্টি ফরমেটের ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে চলছে জুয়া খেলা। বিপিএলের আসরকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করেছে স্থানীয় জুয়াড়িরা। প্রতিদিন প্রায় প্রতিটি বাজারে কয়েক লাখ টাকার জুয়া খেলা হচ্ছে এ লিগকে ঘিরে। বাজির টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে নানা রকম অপরাধে।

দোহারে জুয়ার আসরের শীর্ষে থাকা এলাকাগুলো মধ্যে প্রথম স্থান দখল করে রেখেছে জয়পাড়া বাজারের ব্রিজের ঢালে অবস্থিত পুরাতন কাঠের মার্কেট এবং ভূতের গলির পেছনের অংশ। এছাড়াও জয়পাড়া বাজারের স্বর্ণকার পট্টি, কাঠ পট্টি এবং জয়পাড়া কিছুক্ষণ হল রোডের বিভিন্ন চায়ের দোকানে খেলা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চলে রমরমা জুয়ার আসর।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জুয়াড়ি বলেন, গত ৮ ডিসেম্বর শুক্রবার ঢাকা ডাইনামাইটসের সঙ্গে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের খেলায় মাত্র পাঁচশ’ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে জয়পাড়া আসি। কয়েকজনের সঙ্গে জিতে ২৭ হাজার টাকা ক্যাশ করে বাড়ি যাই।

কার্ত্তিকপুর বাজারের বিভিন্ন খাবার হোটেলেও চলে জুয়ার আসর। প্রতিটি হোটেলে রয়েছে টিভি যাতে চলে খেলা। আর সেখানে জুয়াড়িরা চায়ের চুমুকের সঙ্গে সঙ্গে খেলে জুয়া।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাবাজারের এক হোটেল মালিক জুয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, হোটেলের বেচাকেনার স্বার্থে আমরা ওদের তাড়াতেও পারি না। তবুও চেষ্টা করি হোটেলের ভেতরে এসব যাতে না খেলতে পারে।

এছাড়াও দোহারের নয়াবাড়ীর ধোয়াইর হাজার, কুসুমহাটির বাংলাবাজার, মুকসুদপুরের ফুলতলা বাজার, মুকসুদপুর বাজার, নারিশা বাজার, মেঘুলা বাজার, জয়কৃষ্ণপুরের পাম তলার বাজার, বারুয়াখালী বাজার, শিকারীপাড়া বাজার, বান্দুরা বাজার, নবাবগঞ্জ বাজারেও চলে রমরমা জুয়ার আসর।

জয়পাড়া কিছুক্ষণ হল রোড়ের এক চায়ের দোকানি জানান, প্রতিদিন এই জায়গাতে জুয়ার আসর বসে। ছোট বড় সব বয়সের মানুষ এই আসরে অংশগ্রহণ করে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে এই জায়গাটিতে জুয়ার আসর বসার ফলে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকার যুব সমাজ ও আমাদের ব্যবসায়ী পরিবেশ। এদের প্রতিরোধ করা যায় না। কারণ তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচয়ধারী। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কে বা কোন দল জিতবে তার ওপর বাজি লাগায় জুয়াড়িরা।

বিপিএল শেষ হয়েছে, তাই বলে জুয়ার আসর যে শেষ হয়ে যাবে ব্যাপারটা সেরকম না। নতুন মৌসুম শুরু হচ্ছে হিরো ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের। কয়েকদিনের বিরতির পর আবার জমজমাট হয়ে উঠবে ইন্ডিয়ার এই ফুটবল লীগকে কেন্দ্র করে।

৯ বছর ভাঙ্গা ভাঙ্গাপাড়ায় সেতু

প্রায় ৯ বছর ধরেই ভাঙ্গা ভাঙ্গাপাড়া সেতু। ৯ বছর ধরে সেতুটি বেহাল দশায় পড়ে রয়েছে তবে সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই। ফলে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। সেতুটি ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের ভাঙ্গাপাড়া গ্রামেই অবস্থিত।

জানা যায়, বারুয়াখালী ও জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ছত্রপুর, করপাড়া, ভাঙ্গাপাড়া, দীর্ঘগ্রাম, জৈনতপুর, ঘোষাইলসহ প্রায় ১০টি গ্রামের লোকজনকে এই সেতুটি দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। সেই হিসেবে প্রতিদিন সেতুটি দিয়ে কয়েক হাজার লোক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাড়াপার হতে হচ্ছে। ইজিবাইক, ভ্যান ও রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন এই ভাঙা সেতু দিয়েই চলাচল করতে হয়। সবচেয়ে ভোগান্তিতে পড়ে অসুস্থ মানুষজন। কারন ভাঙ্গাপাড়া সেতুর পাশাপাশি এর রাস্তার অবস্থা ও খুব খারাপ। সেতুর দু’পাশে রেলিং না থাকার ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০০২ সালে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের মাত্র ৬ বছরের মাথায় সেতুর দুপাশের রেলিং ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ সেতুটি নির্মাণের সময় নিম্মমাণের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিলো য়ার ফলে অল্প দিনেই রেলিং ভেঙে যায়। এরপর দীর্ঘ ৯ বছর অতিবাহিত হলেও এর সংস্কার করা হয়নি। নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা এর সংস্কারের আশ্বাস দিলেও নির্বাচনের পর তা কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। স্থানীয়রা প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হলেও জনপ্রতিনিধিরা নির্বাক।

করপাড়ার ব্যবসায়ী আতিকুর ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, এত টাকা খরচ করে সেতু নির্মাণ করা হলো আর ব্যবহার করা হলো দুই নম্বর ইট-বালু। অতি দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার না করলে যদি এটা সম্পূর্ণ ভেঙ্গে যায় তাহলে স্থানীয়রা খুব সমস্যায় পড়ে যাবে।

স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া জানান, কয়েকমাস আগে মারুফ নামের ৪ বছরের এক শিশু সেতু থেকে পড়ে আহত হয়। কিছুদিন পর পরই ঘটছে ছোট ছোট দুর্ঘটনা। তিনি আরো জানান, সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইক, বাইসাইকেল চলাচল করে, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ার ফলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

বারুয়াখালী স্কুলের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা নুসরাত জাহান নাফিসা বলেন, আমাদেরকে প্রতিদিন এই ভাঙা সেতু দিয়েই স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। দু’পাশে রেলিং না থাকায় মাঝে মাঝে দুর্ঘটনা ঘটে। সেতুটি পাড় হওয়ার সময় আমাদের খুব আতঙ্কে থাকতে হয়। তাই বড় কোনো দুর্ঘটনার আগেই সেতু সংস্কার করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বারুয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান আরিফ সিকদার বলেন, এই পাকা সেতুটি ছাড়াও আমার বারুয়াখালী ইউনিয়নের বেশ কিছু কাজ একনেকে বাজেটে জমা রয়েছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহজাহান বলেন, সেতুটি দিয়ে প্রতিনিয়ত নছিমন, রিকসাসহ বিভিন্ন বড় যানবাহন চলাচল করে রেলিংগুলো ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। তাছাড়াও সেতুটি বাতিল হয়ে গেছে তবে ঐ স্থানে খুব শীঘ্রই নতুন সেতু তৈরি করা হবে।

দোহার ওষুধ ব্যবসায়ী সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা

দোহারের জয়পাড়া বাজারে দোহার উপজেলা ওষুধ ব্যবসায়ী সংগঠনের পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে। মতিউর রহমান (মঞ্জু) কে সভাপতি ও জামাল আহমেদ-কে সাধারন সম্পাদক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটি ঘোষনা করা হয়।

কমিটিতে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আশিকুর রহমান (সোহেল) ও পরিমল পাল, যুগ্ম সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কাদের ইমানী, কোষাধ্যক্ষ হরেকৃঞ্চ সরকার ও বিকাশ কৃষ্ণ, প্রচার সম্পাদক মো. পারভেজ ও লক্ষন সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক মো. খলিল। কমিটির কার্যকরী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন শিমুল পাল, মো. নুরজ্জামান,মো. আওলাদ হোসেন আজাদ মো. সবুজ হোসেন।

এছাড়া কমিটিতে উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন আব্দুল হালিম খান, মো. আব্দুর রউফ, চন্দ্র শেখর সরকার, বিনয় কৃঞ্চ দাস ও আব্দুল মামুন।

নবাবগঞ্জে ৩০ হাজার গ্রামবাসীর ভরসা একটি বাঁশের সাঁকো

শুধু মাত্র ইছামতী নদীর উপর একটা বাঁশের সাঁকোর উপর নির্ভর করে আছে নয়নশ্রী ও বারুয়াখালীর ৩০ হাজার জন সাধারন। ঢাকার নবাবগঞ্জের নয়নশ্রী ইউনিয়নের তুইতাল আর বারুয়াখালী ইউনিয়নের বকচর গ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে ইছামতি নদী। বর্ষাকালে নৌকা, আর শুষ্ক মৌসুমে নদীর উপর বাঁশের সাঁকোই গ্রামবাসীর ভরসা। স্থানীয় এলাকাবাসীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটেনি বলে মন্তব্য করেন তাঁরা। দুর্ভোগই যেন তাদের নিয়তি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা ও জানা যায়, জীর্ণ বাঁশের সাঁকোটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সাঁকো দিয়ে মানুষ পারাপার সম্ভব হলেও যানবাহন চলাচল করা সম্ভব নয়। তবুও ব্যবসা-বাণিজ্য, হাট-বাজার, কৃষি কাজের জন্য দু’পারের মানুষ সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার হচ্ছেন। তাইতো বাংলাবাজার হয়ে দাউদপুর দিয়ে ৮ কিলোমিটার ঘুরে যানবাহন নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। সড়কের অবস্থাও নাজুক। ফলে কৃষকের উত্পাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে কোমলমতি শিশু-কিশোর ও গর্ভবতী এবং বৃদ্ধাদের।

এলাকাবাসী জানান, দু’পারের ১৫ গ্রামের ৩০ হাজার মানুষের ভরসা এই বাঁশের সাঁকোটি। স্থানীয় প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র তুইতাল বাজারে এলাকাবাসীর যাতায়াত প্রতিদিনের। রয়েছে খ্রীস্টান ধর্মপল্লী তুইতাল গির্জা। তাছাড়া বকচর উচ্চ বিদ্যালয়, তুইতাল বালিকা উচ্চ বিদ্যলয়, বকচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যলয়, তুইতাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যলয়ের হাজারো শিক্ষার্থী প্রতিদিন এ সেতুদিয়ে চলাচল করে থাকেন। বর্ষাকালে নৌকা পারাপার, আর শুস্ক মৌসুমে এই বাঁশের সাঁকোই তাদের প্রধান বাহন। তার উপর দু’পারের কাঁচা সড়কে পায়ে হেটে চলাচল করেন এলাকাবাসী। তাঁরা বলেন, জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগে অনেকেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবুও স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি কেউ।

তুইতাল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সিস্টার রিনা কিস্টেল বলেন, মেয়েরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়। তাই অনেকে সাঁকো পারাপারের ভয়ে স্কুলে আসতে চায় না। ছাত্রীদের বেশি কষ্ট হয় বৃষ্টির দিনে। এই সময় পা পিছলে নিচে পরে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে অনেক। স্থানীয়দের জন্য সেতুটি অত্যন্ত জরুরি। অতিসত্বর সেতু নিমার্ণের দাবি জানান তিনি।

নয়নশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান রিপন মোল্লা বলেন, এলাকাবাসীর সেতুর দাবি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চলমান বলে জেনেছি। নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহ্জাহান বলেন, বিষয়টি জানা রয়েছে। সেতুর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া উচ্চ পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে।

দোহার – নবাবগঞ্জ ঐক্য ফ্রন্ট আহবায়ক কমিটি গঠন

ইতালীর ভেনিস প্রবাসী দোহার – নবাবগঞ্জ বাসীদের নিয়ে সমাজ সেবা মুলক সংগঠন দোহার – নবাবগঞ্জ ঐক্য ফ্রন্ট ভেনিস নামে নতুন একটি সংগঠন এর আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল রাতে ভেনিসের মেসএে তে একটি হল রুমে আমিনুল ইসলাম কে আহবায়ক ও আব্দুল নাছির কে সদস্য সচিব ও সদস্য কবির আহমেদ, সেখ লিটন, সওকত মোল্লা সহ ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। সে সময় নেতৃবৃন্দ জানান, প্রবাসের মাটিতে একে অপরকে সহযোগীতা করা, সামাজিক ও জনহিত কর কাজে নিজেদের আত্বনিয়োগ করাই তাদের মূল লক্ষ।

আগামী দুই মাসের মধ্যে সংগঠন টি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হবে বলে জানান। সে সময় বক্তব্য রাখেন মনির হোসেন নবী, আইয়ুব রানা, এমারত সেখ, সাইফুল ইসলাম, সালাম মোল্লা, বিপ্লব সেখ, সালাম খান, লিংকন খালাসী, সেখ শিপন, সাজ্জাদ হোসেন খালাসী, শামিম খান প্রমুখ ।

ইতালীতে দোহার ভেনিস ঐক্য পরিষদ গঠিত

জলকন্যা খ্যাত ইতালীর ভেনিস নগরী তে বসবাসরত ঢাকা জেলার দোহার বাসী দের নিয়ে দোহার ভেনিস ঐক্য পরিষদ গঠন করা হয়েছে। শনিবার রাতে ভেনিসের মেসের ভিয়া দানতের একটি হল রুমে ভেনিসে বসবাসরত দোহার বাসী দের উপস্থিতিতে আলোচনা সভা শেষে কমিটি গঠন করা হয়।

মোঃ তরিকুল ইসলামের প্রানবন্ত উপস্থাপনায় সর্ব সম্মতিক্রমে নয় জন উপদেষ্টা সহ কাজি রফিকুল ইসলাম কে সভাপতি ও মোঃ নূর আলি পাঠান কে সাধারন সম্পাদক করে ৫৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের উপদেষ্টা আবুল কালাম, সহ সভাপতি মোঃ নূর আজম লিটন, সহ সাধারন সম্পাদক মীর মোস্তাক, সাংগঠনিক সম্পাদক জাওয়ার মোড়ল, প্রচার সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম রিপন, কোষাধক্ষ মোঃ মহিউদ্দিন খান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক গাজী আকবর, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক লায়লা আক্তার, উজ্জল পাঠান প্রমুখ।

সংগঠন টির পক্ষথেকে জানানো হয়, সংগঠনটি প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির জন্য কাজ করবে। সামাজিক, সাংকৃতিক কাজ ছাড়াও মৃত্যু ব্যক্তি র লাশ দেশে পাঠাতে আর্থীক সহযোগীতার আশ্বাস দেন সংগঠনটির পক্ষ থেকে।

অগ্রহায়ণের শেষ বৃষ্টিতে দোহার-নবাবগঞ্জ-কেরাণিগঞ্জে যাতায়াত ও জন-জীবনে দুর্ভোগ

শাকিল আহমেদ, নিউজ৩৯ঃ নিম্নচাপের প্রভাবে শুক্রবার রাত থেকেই সারাদেশে গুরি গুরি বৃস্টি শুরু হয়েছে । সেই ধারাবাহিকতাই বৃষ্টি হচ্ছে দোহার- নবাবগঞ্জে-কেরাণনীগঞ্জেও।  শনিবার ও রবিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় দোহার নবাবগঞ্জ এর রাস্তাঘাট প্রায় শুনশান নীরব। যানবাহন এর সংখ্যাও হাতে গোনা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে ঘুরে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম।

কিন্তু সবথেকে বেশি দুর্ভোগের শিকার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিক্ষার্থীরা। পরিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলার সময় তারা জানায় যে তাদের পরিবহনের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। বিশেষ করে কাচামাল পণ্যের ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পরিমান বেশি। আবার বৃষ্টির কারনে বন্ধ রেখেছে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান।

নিউজ৩৯ এর পক্ষ থেকে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায় আগামীকাল সোমবারের মধ্যে নিম্নচাপের প্রভাব কমে আসায় আবহাওয়া স্বাভাবিক হবে। আর ২/১ দিনের মাঝেই কমবে তাপমাত্রা, বাড়বে শীতের প্রকোপ।

কালীগঙ্গা নদীর পাড় পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠবে কৃষি ও শিল্পভিত্তিক কলকারখানা – সালমা ইসলাম এমপি

দীর্ঘদিনের অবহেলিত ও নদীভাঙন কবলিত মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে আমাদের কাজ করতে হবে। কালীগঙ্গা নদীর উত্তর পারের অবহেলিত অঞ্চল ঢেলে সাজানো হবে, তবেই নবাবগঞ্জের পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন সম্ভব হবে। কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলে এক সময় গড়ে উঠবে কৃষি ও শিল্পভিত্তিক কলকারখানা। শনিবার বিকালে নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের আটকাহনিয়া মাদ্রাসা মাঠে জাতীয় পার্টিতে যোগদান ও কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন কালীগঙ্গা পারের মানুষ অবহেলা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছেন। যারা বিভিন্ন সময়ে এ অঞ্চলের মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রী, এমপি ও বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি হয়েছেন, তারা নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। কিন্তু যাদের ভোটে তারা নেতা-মন্ত্রী হয়েছিলেন তাদের উন্নয়নের জন্য কিছু করেননি, জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করেছে। আপনারা আমাকে ভোটের মাধ্যমে এমপি নির্বাচিত করে আপনাদের প্রতিনিধি করে সংসদে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন, এজন্য আপনাদের কাছে আমি চিরঋণী। আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য আপনাদের ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাওয়া। আগামী দিনে আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতার হাত অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলের উন্নয়নে আমি সব রকমের চেষ্টা চালিয়ে যাব।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালমা ইসলাম এমপি এ সময় আরও বলেন, দেশের কৃষক সমাজই আমাদের মূল চালিকা শক্তি। প্রখর রোদে পুড়ে তারা আমাদের জন্য খাদ্য উৎপাদন করেন। অথচ তারাই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত আমাদের সমাজে, সময় এসেছে তাদের জন্য কাজ করার। তাই আসুন দলমত নির্বিশেষে সবাই মিলে কৃষি অধ্যুষিত নবাবগঞ্জ ও দোহারের উন্নয়নে কাজ করি। সবাই মিলে দেশের কল্যাণে কাজ করি।

অনুষ্ঠানে জয়নাল আবেদীন চঞ্চলের নেতৃত্বে প্রায় তিন শতাধিক নারী-পুরুষ সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম এমপির হাতে ফুল দিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন। স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতা আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা খন্দকার নুরুল আনোয়ার বেলাল, উপজেলা সদস্য সচিব শরফুদ্দিন আহমেদ শরীফ, ঢাকা জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন দিলু, উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর চোকদার সহ নেতা-কর্মিরা।

ঘুষ গ্রহণ মামলার পুনঃশুনানি চলবে : নাজমুল হুদার রিট খারিজ

ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার খালাসের রায় বাতিল করে পুনঃশুনানির জন্য আপিল বিভাগের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট (সামারিলি) সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।রোববার হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

রিটের শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আপিল বিভাগের কোনো আদেশের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্ট শুনানি করতে পারেন না।

দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের মামলায় গত ৮ নভেম্বর ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে বিচারিক আদালতের দেয়া সাত বছরের কারাদণ্ডের সাজা কমিয়ে চার বছরের কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত তাকে ৪৫ দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

একই মামলায় তার স্ত্রী সিগমা হুদার কারাগারে থাকার সময়টি সাজা বলে গণ্য করে তিন বছরের কারাদণ্ড থেকে বাকিটা মওকুফ করেন আদালত। আপিলের পুনঃশুনানি শেষে বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

২০০৭ সালের ২৭ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ আদালত মামলাটির রায়ে নাজমুল হুদাকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং আড়াই কোটি টাকা জরিমানা করেন। তার স্ত্রী সিগমা হুদাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে নাজমুল হুদা ও সিগমা হুদা আপিল করলে ২০১১ সালের ২০ মার্চ তাদের খালাস দেন হাইকোর্ট।

পরে দুদক আপিল করলে ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর খালাসের রায় বাতিল করে হাইকোর্টে পুনঃশুনানির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। এরপর হাইকোর্টে এ মামলার পুনঃশুনানি হয়। পুনঃশুনানির আপিল বিভাগের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন নাজমুল হুদা।

নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রী সিগমা হুদার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২১ মার্চ দুদকের উপ-পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম ধানমন্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করেন।