দোহার–নবাবগঞ্জ আসন আলাদা চাই, চাই নাঃ নিউজ৩৯ কে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎকারঃ পর্ব – ২

দীর্ঘদিন ধরেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে চলেছে নিউজ৩৯। আসনটি পূণর্বিন্যাসে বিভিন্নজনের রয়েছে বিভিন্ন মত। আগামী ২৫শে এপ্রিল বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে ৪০টি আসনের পূণর্বিন্যাস ও চার শতাধিক পিটিশনের উপর রয়েছে শুনানী। তাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ঢাকা-১ তথস দোহস্র – নবাবগঞ্জবাসী। ইতঃমধ্যে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার এই বিষয়ের উপর জরিপও চলছে বলে জানা গেছে। এইবার দ্বিতীয় পর্বে রয়েছে অন্যান্য খ্যাতিমান জনপ্রতিনিধি, শিল্পপতি ও রাজনীতিবীদদের মতামত ও প্রত্যাশা।

ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাক নিউজ৩৯কে আসন বিন্যাস নিয়ে বলেন, পূর্বে আসনটা তো আলাদাই ছিল। আমি মনে করি আসনটা পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনাই ভাল। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটা গোষ্টি এই আসনকে এক করেছিল। তারা জনগনের উন্নয়নের কথা মাথায় আনে নি, মাথায় আনে নি এই দুই উপজেলার সার্বিক উন্নয়নের কথা। তারা রাজনৈতিক স্বার্থে এই দুই আসনকে আলাদা করেছিল। আমি মনে করি জনগনের স্বার্থে, উন্নয়নের স্বার্থে এই দুই আসনকে আগে অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া উচিত।

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রিয় উপকমিটির সাবেক সহ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুন নিউজ৩৯কে ঢাকা-১ সংসদীয় আসনের পুন বিন্যাস নিয়ে বলেন, ঐতিহ্যগত ভাবেই এই দুই উপজেলা আলাদা। এই দুই উপজেলাকে এক করে এক সময় নতুন করে ঢাকা-১ সংসদীয় আসন গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের দাবির প্রেক্ষিতে এটাই দুই উপজেলাকে আসন পূর্নবিন্যাস করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া দরকার। যদি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া যায়  তাহলে দুই উপজেলার গ্রামীন উন্নয়ন যেমন বৃদ্ধি পাবে, ঠিক একই সাথে এই দুই উপজেলার সাধারন মানুষের উন্নয়নের গতিও ত্বরান্বিত হবে।

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাখাওয়াত হোসেন নান্নু নিউজ৩৯কে ঢাকা-১ সংসদীয় আসনের পুন বিন্যাস নিয়ে বলেন, এই দুই আসনের পূর্ন বিন্যাস এখন সময়ের দাবি। তাই উন্নয়নের সার্থে, এউ দুই উপজেলার সাধারন মানুষের স্বার্থে ঢাকা-১ সংসদীয় আসন পূর্নবিন্যাস করা উচিত। এবং দোহার এবং নবাবগঞ্জকে আগের আসন বিন্যাসে ফেরত নেয়া উচিত।

নবাবগঞ্জ উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেত্রী মরিয়ম জালাল শিমু নিউজ৩৯কে আসন বিন্যাস নিয়ে বলেন, এই দুই উপজেলার আসন ভাগ করা এখন সময়ের দাবি। এটা একই সাথে যেমন রাজনৈতিক ঠিক তেমনিভাবে উন্নয়নের সাথেও সম্পৃক্ত। ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দোহারের, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ক্যান্ডিডেট দোহারের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দোহারের। ফলে নবাবগঞ্জ উন্নয়নের মাপকাঠিতে যেমন এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল সেভাবে এগোতে পারছে না। উন্নয়নের মাপকাঠিতে নবাবগঞ্জ দোহারের থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। আর রাজনৈতিক ভাবেই এউ উপজেলায় বড় কোন নেতা তৈরি হচ্ছে না।  তাই আমাদের আশা এই দুই উপজেলা আলাদা আসন হবে। এবং নবাবগঞ্জের উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে।

দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল নিউজ৩৯কে আসন বিন্যাস নিয়ে বলেন, আমরা চাই এই দুইটা আসন আলাদা হোক। দোহারের উন্নয়নের জন্য, নবাবগঞ্জের উন্নয়নের জন্য এই দুইটা আসন আলাদা করা সময়ের দাবি। তবে একই সাথে আমরা সব সময় চাই আওয়ামী লীগ সরকার পরিচালনা করুক। সেই হিসাবে সরকার যেই ভাবেই সংসদীয় আসন বিন্যাস করবে সেই ভাবেই মেনে নিতে আমাদের কোন আপত্তি নেই।

দোহার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাসুদ পারভেজ নিউজ৩৯কে আসন বিন্যাস নিয়ে বলেন, এতো বড় একটা আসন হতে পারে না। ১/১১ পরবর্তী সরকার শুধু মাত্র একটি বিশেষ দলকে রাজনৈতিক সুবিধা দেয়ার জন্য এই দুই আসনকে আলাদা করেছিল। যা কোন ক্রমেই ঠিক হয় নি। এতে শুধু দুই উপজেলার জন্য উন্নয়নের স্থবিরতা নেমে এসেছে। আমি চাই আসন ভাগ হোক এবং সেটা অতি দ্রুতই হোক।

নারিশা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন দ্বরানী নিউজ৩৯কে আসন বিন্যাস নিয়ে বলেন, ঢাকা-১ একটি অনেক বড় সংসদীয় আসন। নির্বাচন কমিশন যেভাবে শুধুমাত্র জনসংখ্যার বিত্তিতে আসন বিন্যাস করেছে সেটা ঠিক হয় নি। এই রকম আসন বিন্যাসের ফলে এই অঞ্চলে একটা উন্নয়ন স্তবিরতা দেখা দিয়েছে। তাই সকলের উন্নয়নের জন্য, দোহার-নবাবগঞ্জ সম ভাবে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এই সংসদীয় আসন বিন্যাস করা অতিব জরুরি।

ঢাকা জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ মোল্লা নিউজ৩৯কে আসন বিন্যাস নিয়ে বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতার সময় যেভাবে এই এলাকার আসন বিন্যস্ত ছিল ঠিক একই ভাবে এই অঞ্চলের আসন বিন্যস্ত করা উচিত। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে আসন আলাদা করার ফলে দোহার ও নবাবগঞ্জে যেভাবে উন্নয়নের কথা ছিল সেভাবে উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে না। ফলে উন্নয়নের স্বার্থে, এই অঞ্চলের সাধারন মানুষের স্বার্থেই এই আসনকে আলাদা করে নতুন করে আসন বিন্যস্ত করা উচিত।

সাবেক সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ও বিসিবির সাবেক পরিচালক ফাহিমা হোসেন জুবলি নিউজ৩৯কে আসন বিন্যাস নিয়ে বলেন, রাজনৈতিক ভাবে এবং উন্নয়নের স্বার্থে এই দুইটা আসনকে আলাদা করা উচিত। দেখা যায় বিএনপির সময় নবাবগঞ্জে এমপি আবার আওয়ামী লীগের সময় দোহারের এমপি। ফলে উন্নয়নটা সমাজের সকল স্তরে পৌছাচ্ছে না। তাই আমি চাই দোহার এবং নবাবগঞ্জের আসন বিন্যাস পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হোক।

ঢাকা-১ আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি শহীদ খন্দকার নিউজ৩৯কে আসন বিন্যাস নিয়ে বলেন, দোহার ও নবাবগঞ্জের জন্য আসন আলাদা হয়ে যাওয়াই ভাল। আসন এক থাকার কোন যৌক্তিক কারনই থাকতে পারে না। আসন আলাদা হলে দোহার-নবাবগঞ্জের উন্নয়ন আরো বেগবান হবে বলে আমি মনে করি।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সদস্য নুরে আলম উজ্জ্বল নিউজ৩৯কে ঢাকা-১ সংসদীয় আসনের পুন বিন্যাস নিয়ে বলেন, আগে তো দুই ভাগই ছিল। আগের আসন বিন্যাসে ফিরে যাওয়াই ভাল। দুইটি আসন হলে দুই জন এমপি হবে, এলাকার উন্নয়নে বরাদ্ধ বাড়বে। বাড়বে এই দুই উপজেলার মানুষের সাথে মানুষের সম্প্রীতি। তাই উন্নয়নের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে আসন দুইটি আলাদা করাই উচিত।

বিশিষ্ট শিল্পপতি ইঞ্জিনিয়ার মেহবুব কবির নিউজ৩৯কে ঢাকা-১ সংসদীয় আসনের পুন বিন্যাস নিয়ে বলেন, সার্বিক ভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য না রেখে দুটি আসন ভাগ করলে আমাদের সকলেরই সুবিধা হবে।

নবাবগঞ্জ উপজেলার গালিমপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তপন মোল্লা নিউজ৩৯কে ঢাকা-১ সংসদীয় আসনের পুন বিন্যাস নিয়ে বলেন, ২০০৯ সালেই নির্বাচন কমিশনে আমি ও সাবেক মন্ত্রী বর্তমান বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল মান্নান এই বিষয়ে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু শুনানিতে নির্বাচন কমিশন আমাদের মনে হয়েছে তারা প্রভাবিত হয়ে আবেদনটি বাতিল করে। আমরা সব সময় আসনটি পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাক।

উল্লেখ্য নবাবগঞ্জের সাবেক এমপি হারুনুর অর রশিদ এবং গ্রাজ্যুয়েট এসোসিয়েশন অব দোহারের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মোঃ আইয়ুব আলী গত ৬ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে ঢাকা – ০১ সংসদীয় আসন পূণার্বিন্যাস শিরোনামে আবেদন করেন। ডাইরী নং – ১৭২৬। এই ব্যাপারে নিউজ৩৯ ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ বিস্তারিত প্রতিবেদন করে।

দোহার–নবাবগঞ্জ আসন আলাদা চাই, চাই নাঃ নিউজ৩৯ কে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎকারঃ পর্ব – ১

আগাম জামিনের পরও আবু আশফাককে গ্রেফতারের চেষ্টাঃ পুলিশের  নাকচ

আছিফুর রহমান সজল,নিউজ৩৯ঃ ঢাকা জেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক ও নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাকের বাড়ি ও নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদে তার অফিস ঘিরে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি মামলা হওয়ার পর, খন্দকার আবু আসফাক বেশ কিছু দিন ধরেই অপ্রকাশ্য থেকেই দলীয় ও স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। বিভিন্ন সামাজিক ও যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি নেতা-কর্মিদের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। মামলার কারনে পুলিশের গ্রেফতারের তালিকাতে শীর্ষ চাহিদা সম্পন্ন ছিলেন তিনি।

কিন্তু গতকাল বুধবার হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে তিনি আবার নবাবগঞ্জ আসেন বৃহস্পতিবার।  এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় উপস্থিত থাকার কথা ছিল খন্দকার আবু আশফাকের। সেই হিসাবে আজ তিনি নবাবগঞ্জ উপজেলায় এসে উপস্থিত হলে, অনেকটা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি। তাকে গ্রেফতার করতে তার বাসা ও নবাবগঞ্জ উপজেলা অফিস পুলিশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।

এই ব্যাপারে নিউজ৩৯ এর সাথে কথা হয় খন্দকার আবু আশফাকের। তিনি নিউজ৩৯কে খন্দকার আবু আসফাক বলেন, ঢাকা থেকে আশা পুলিশ ও ডিবি অফিসাররা তার বাসা ও অফিস ঘিরে রেখেছে। তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে আজ নিজের অফিসে উপস্থিত হয়েছেন। আগাম জামিন থাকা সত্বেও তাকে হয়রানি করতে আজ তার বাসায় ও অফিস পুলিশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।

এই ব্যাপারে নিউজ৩৯ এর সাথে কথা নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তফা কামাল। তিনি মোস্তফা কামাল নিউজ৩৯কে বলেন, পুলিশের কি কোন কাজ নেই যে তারা খন্দকার আবু আশফাকের বাসা ঘিরে রাখবে। নবাবগঞ্জ থানা এই ধরনের কোন কাজ করছে না। ঢাকায় থেকে কেউ আসলে তার ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই।

ঢাকা জেলা বিএনপি সাধারন সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাকের গ্রামের বাড়ী ও অফিসে পুলিশী তান্ডবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা জেলা বিএনপি। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনির হোসেন রানা ঢাকা জেলা বিএনপির পক্ষে এই প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।

নেটিজেনের সাথে চুক্তিবদ্ধ হলো কাঠালিঘাটা মাসুম মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়

বাংলাদেশের অন্যতম তথ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নেটিজেন বাংলাদেশের সাথে চুক্তিবদ্ধ হলো ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার কাঠালিঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়। তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী প্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বারের প্রতিষ্ঠান নেটিজেন বাংলাদেশ’র সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার কারনে স্কুলের অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে যোগাযোগের ন্তুন একটা মাধ্যম সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মাসুম মিয়া। এর ফলে এখন থেকে ছাত্রছাত্রীর অভিভাবকরা বাড়িতে থেকেই বিদ্যালয়ের যেকোন তথ্য পাবেন। বিদ্যালয় বন্ধের ঘোষনা, শিক্ষার্থীদের ফলাফল, ক্লাসে তাদের উপস্থিতি ও বিদ্যালয়ের সাথে ছাত্রছাত্রীদের পাওনার তথ্য তাদের মোবাইলেই পেয়ে যাবেন অভিভাকরা।  ফলে এই চুক্তি দোহারের শিক্ষা ক্ষেত্রে গুনগত একটা পরিবর্তনের সুচনা হলো দোহারে। যার শুরু হলো  কাঠালীঘাটা মাসুম মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাধ্যমে।

মায়ের চিকিৎসার টাকা মা দেবে, আমারে বলেন কেন?

0

মনটা কদিন ধরেই ভালো নেই। অবশ্য যে অদ্ভুত দেশে বসবাস করি সেদেশে মনমেজাজ একটানা ভালো থাকবে সেটাও অস্বাভাবিক। মন খারাপ হলে আপনারা কে কী করেন সেটা জানি না, তবে আমি কি করি-সেটা বলতে পারি।

প্রথমেই মোবাইলটা অফ করি, মাঝে মাঝে রমনা পার্কের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে বসে থাকি, কিছু বাদাম ছড়িয়ে দিলে দুয়েকটা কাঠবিড়ালী চলে আসে, এরা কী আশ্চর্য সুন্দর করে বাদামগুলো দুহাতে ধরে নিয়ে খায়! এদের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলে মনটা আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে আসে।

মন খারাপের ব্যক্তিগত নানা ঘটনা বাদ থাকুক, চিকিৎসক হিসেবে যে কারণে মন খারাপ -সে ঘটনাটা বলি…

সেই দিনটার কথা আমার স্পষ্ট মনে আছে। সকাল সকাল এক যুবক সাথে করে এক বয়স্ক মহিলা ও এক তরুণীকে নিয়ে আমার চেম্বারে প্রবেশ করলেন। বয়স্ক মহিলাটি হাই-প্রেশারের রোগী, বিষয়টা নিয়ে যুবক ও তরুণী বেশ উদ্বিগ্ন। প্রেশার চেক করলাম, একটু বাড়তির দিকে। বয়স্ক মহিলাটি প্রেশারের ওষুধ খাচ্ছেন, ডোজটা বাড়িয়ে দিয়ে কি করতে হবে আর কি করা যাবে না সে ব্যাপারে কিছু কথা বলে রোগীটি দেখা শেষ করলাম।

যুবকটি আমার প্রতিটা কথা বেশ দায়িত্ব নিয়ে বুঝে নিলেন, আমার সামনেই বেশ তরল গলায় বয়স্ক মহিলাকে কয়েকবার ‘মা’, ‘মা’ডেকে তাকেও বুঝিয়ে দিলেন। তাদের কথোপকথনে বুঝতে পারলাম বয়স্ক মহিলাটি তার শাশুড়ি, তরুণীটি তার স্ত্রী।

যুবকের রেসপনসিবিলিটিতে আমিও তখন বেশ মুগ্ধ, এমনকি মহিলার সামনেই বলে ফেললাম, ‘আপনার ভাগ্য তো বেশ ভালো! এমন জামাই কি সবার ভাগ্যে জোটে?’

মহিলা ও তরুণী হাসিমাখা মুখে সেটা স্বীকারও করে নিলেন।

যুবকটি ভিজিট দিয়ে বের হয়ে যাবার সময় আমাকে জানালেন ঘন্টাখানেক পর যুবকটির মা’ও আসবেন, আমি যেন একটু দেখে দেই…

যুবকটির মায়ের কথা রোগী দেখতে দেখতে ভুলে গেলাম। চেম্বার শেষ করে উঠতে যাবো, এমন সময় এক বৃদ্ধ মহিলা রুমের দরজা ও দেয়াল ধরে ধরে আমার রুমে ঢোকার চেষ্টা করলেন। আমার মনে আছে ঐ বৃদ্ধা বেশ দুর্বল ছিলেন, উনাকে চেয়ারে বসানোর জন্য আমাকে উঠে যেতে হয়েছিলো।

এই বৃদ্ধা আসলে ঐ যুবকটির মা। ডায়াবেটিস, হাই প্রেশার, শ্বাসকষ্ট আগে থেকেই ছিলো, ইদানিং পায়ে পানি চলে আসছে, সে কারণেই ডাক্তারের কাছে আসা। অনিয়মিতভাবে চিকিৎসা নিতেন। প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লিখে কিডনী সংক্রান্ত দু’তিনটা পরীক্ষা দিতে হলো। ভিজিট দেবার সময় উনি একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়লেন, অবাক হয়ে বলেছিলেনঃ ” আমার বাজান কি টাকা দিয়া যায় নাই!”

আমাকে বলতে হয়েছিলোঃ ” আপনার ছেলের মনে হয় ভুল হয়েছে। সমস্যা নেই, পরেরবার আসলে আপনার ছেলে থেকে নিয়ে নিব…”

তবে ছেলে যে ভুল করেনি সেটা পরে বুঝতে পেরেছিলাম। বুঝতে পেরেছিলাম ছেলের ভিজিট না দেয়াটা ছিল ইচ্ছাকৃত…

মাসদুয়েক পর যুবক আবারও এসেছিলেন তার শাশুড়িকে নিয়ে, আগের মতই শাশুড়ির চিকিৎসা নিয়ে তিনি ছিলেন বেশ উদ্বিগ্ন। চলে যাবার সময় একান্তে ডেকে তার মায়ের ভিজিটের কথা বললাম। উনি উষ্মার স্বরে যে উত্তর দিয়েছিলেন সেটা আপনাদের শোনাইঃ “মায়ের চিকিৎসার টাকা মা দিবে, আমারে বলেন কেন?”

অপেক্ষাকৃতভাবে সুস্থ শাশুড়িকে নিয়ে স্ত্রী সমেত যুবকটি হাজির হতে পারলেও ছানি পড়া অধিকতর দুর্বল নিজের জন্মদাত্রীকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে আসার সময় যুবকটির হয় নি। শাশুড়ির ক্ষেত্রে ভিজিট দিতে যুবকটি কার্পণ্য করেনি, কৃপণতা তিনি দেখিয়েছেন তার জন্মদাত্রীর প্রতি…

বৃদ্ধা মহিলা পরবর্তীতে আরো দু’বার সম্পূর্ণ একা একাই আমার কাছে এসেছিলেন, একা না এসে উপায়ও নেই, স্বামী মারা গিয়েছে অনেকদিন আগে। ততদিনে পায়ের ফোলা আরো বেড়েছে, তেমন কোন ওষুধও নেন নি, পরীক্ষাগুলোও করান নি। কেন ওষুধ ঠিকমত নেন না জিজ্ঞেস করাতে বলেছিলেন, ‘বাজান তো ওষুধ কিন্যা দেয় না। ওর কি দোষ কন! বউ-বাচ্চা নিয়া কত খরচের সংসার!’

বৃদ্ধা এর পরে যে দু’বার এসেছিলেন সে দু’বারই সর্বমোট ২০০-৩০০ টাকা হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছিলেন, আমার ভিজিটটাও দিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, “বাজান” কে হয়ত ভিজিট সংক্রান্ত ব্যাপারে ডাক্তারের সামনে আর অপমানিত হতে দিতে চাননি। আমার সঙ্গেবৃদ্ধার আর দেখা হয় নাই…

এসব ঘটনার পর সাত-আট মাস পার হয়েছে। গত শুক্রবার ঐ যুবক আবারো তার শাশুড়ি আর স্ত্রীকে নিয়ে এসেছিলেন। শাশুড়ি সংক্রান্ত ব্যাপারে উনার তৈলাক্ত ভাব আরো বেড়েছে। প্রেসক্রিপশন লেখা শেষে কৌতুহল বশত একবার জিজ্ঞেস করলাম: ‘আপনার মা কেমন আছেন?’ উনি আনন্দিত চেহারা নিয়ে বললেন (I repeat, উনি আনন্দিত চেহারা নিয়েই কথাটা বলেছিলেন): “মা তো মারা গেছে আরো মাস চারেক আগে! মারা গিয়া অবশ্য ভালোই হইছে, তার জন্যে সবার অনেক কষ্ট হইতেছিলো”

আমার বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো, ক্ষণিকের জন্য থমকে গেলাম। আহারে! যে মা তাকে “বাজান” ছাড়া কখনও সম্বোধন করেন নাই, সেই “বাজানে”র কথাটা কি ঐ মা পরপার থেকে শুনতে পেয়েছেন? ঐ মা কি শুনতে পেয়েছেন যে মৃত্যুর আগমুহূর্তে তার জন্য নাকি সবার কষ্ট হচ্ছিলো? “বাজান”-কে কষ্ট থেকে মুক্ত করতেই কি তিনি তাড়াতাড়ি ওপারে চলে গেলেন? আমার চিন্তার রাজ্য কেমন যেন এলোমেলো হয়ে গেলো।

প্রেসক্রিপশন নিয়ে বৃদ্ধার ছেলে হাসিমুখে তার শাশুড়িকে নিয়ে চলে যাচ্ছেন। মনে অনেক কথা ছিলো, মুখে কিছু বলতে পারলাম না। ক্লান্ত পথিকের মত ঝিম মেরে তাদের গমন পথের দিকে চেয়ে রইলাম, পথিক শুধু দেখে যায়, কিছু বলা তার শোভা পায় না…

চিকিৎসক হিসেবে সবচেয়ে কঠিন কাজ কি জানেন? মানুষের সঙ্গে সঙ্গেমানুষরূপী কিছু অমানুষের চিকিৎসাও আমাদের করতে হয়। সে বড় কঠিন কাজ!

চিকিৎসকদের আপনারা পশু বলেন, অমানুষ বলেন–তাতে এখন খুব একটা কষ্ট পাই না, আপনারা মানুষ থাকলেই আমরা অনেক খুশি। দিনের পর দিন শত-সহস্র সত্যিকার মানুষদের চিকিৎসা দিতে আমরা চিকিৎসকরা কিন্তু ক্লান্ত হই না, “মানুষরূপী অমানুষ”দের চিকিৎসা দিতে আমাদের যে বড্ড কষ্ট হয়…

লেখক:ডা. জামান অ্যালেক্স, বিসিএস মেডিকেল অফিসার

কনটেন্ট ক্রেডিট: মেডিভয়েস
সূত্র: যুগান্তর

নবাবগঞ্জে ২৭ বিএনপি নেতা-কর্মির জামিন নামঞ্জুর

রবিবার ঢাকা জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এবং নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাক  এর অনুসারী নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ২৭ জন নেতৃবৃন্দের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করে নিম্ন আদালত । এই  মামলায় গ্রেফতার নেতৃবৃন্দরা হলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক খন্দকার কালাম, নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতা ও জয়কৃষ্ঞপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বুলবুল, নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতা ও বারুয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মামুন, নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতা রাছেল, নবাবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পবন, নবাবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জুয়েল, নবাবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দূর্জয় মাহমুদ, নবাবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরী, দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আওয়াল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান মোড়ল।

দোহারে আন্তঃস্কুল বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ খেলা অনুষ্ঠিত

শাকিল আহমেদ,নিউজ৩৯ঃ “ক্রীড়াই শক্তি ক্রীড়াই বল” এই থীম কে সামনে রেখে ৬ই এপ্রিল শুক্রবার আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা জেলা ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও গ্রামীন খেলা। উক্ত প্রতিযোগিতার ভেন্যু হিসেবে নির্বাচন করা হয় দোহার উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘মধুরখোলা উচ্চ বিদ্যালয়’ কে।

দিনের প্রথমভাগে সকাল ৯:৩০ মিনিটে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে শুরু হয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা। পতাকা উত্তোলন করেন মধুরখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মো. মুন্নাফ। বালকদের তিনটি দলে( বড়,মধ্যম, ছোট) এবং বালিকাদের দুইটি দলে (বড়, ছোট) বিভক্ত করে মোট ৩১ টি ইভেন্টে অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত প্রতিযোগিতায় মধুরখোলা উচ্চ বিদ্যালয়, মুকসুদপুর শামসুদ্দিন শিকদার উচ্চ বিদ্যালয়, ফ্যামস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ, মুকসুপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,মৌড়া এমদাদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়,নারিশা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,নারিশা উচ্চ বিদ্যালয়, কবি নজরুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ইসলামাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়, সুতারপাড়া আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয়, কাটাখালি মিসের খান উচ্চ বিদ্যালয়, জয়পাড়া মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় সহ দোহারের প্রায় সব স্কুল অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারকারীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।

পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার ক্রীড়া কর্মকর্তা তরিকুজ্জামান নান্নু, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকবৃন্দ, সহকারী শিক্ষকবৃন্দ, ক্রীড়া শিক্ষকবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

ইস্কাটনে জোড়া খুন মামলায় এমপি পিনু খান পুত্রের রায় ঘোষণা ৮ মে

রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে জোড়া খুনের মামলার রায় ঘোষণার জন্য ৮ মে দিন ধার্য করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ বিচারক আল মামুন যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন। এই মামলার একমাত্র আসামি সংসদ সদস্য পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনি।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুস সাত্তার দুলাল বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছেন। মামলায় ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি কাজী নজিবুল্লাহ হিরু আসামির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে রনির বেকসুর খালাস দাবি করেন।
এর আগে, সোমবার (৯ এপ্রিল) রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুস সাত্তার দুলাল যুক্তি উপস্থাপন করে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিল রাত পৌনে ২টার দিকে বখতিয়ার আলম রনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে প্রাডো গাড়ি থেকে তার পিস্তল দিয়ে চার-পাঁচটি গুলি ছোঁড়েন। এতে দৈনিক জনকণ্ঠের অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী ও রিকশাচালক আবদুল হাকিম আহত হন। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ এপ্রিল হাকিম ও ২৩ এপ্রিল ইয়াকুব মারা যান।
এ ঘটনায় নিহত হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে রমনা থানায় ১৫ এপ্রিল একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ডিবি পুলিশ দৈনিক জনকণ্ঠের ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটজে দেখে প্রাডো গাড়ির মালিক ও রনির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়।
ওই বছরের ৩০ মে এলিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে বখতিয়ার আলম রনিকে আটক করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন। তিনি অসুস্থতার কথা বলে চার দফায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রিজন সেলে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকেরা তার কোনও রোগ খুঁজে পাননি।
এই মামলাটিতে ২০১৫ সালের ২১ জুলাই ডিবি পুলিশের এসআই দীপক কুমার দাস রনির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ২০১৬ সালের ৬ মার্চ রনির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ সামছুন নাহার। মামলায় ৩৭ সাক্ষীর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ২৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

দোহার-নবাবগঞ্জ আসন সীমানা পুনর্বিন্যাস অভিযোগ-আপত্তির শুনানি ২৫শে এপ্রিল

দোহার-নবাবগঞ্জ আসন সীমানা পুনর্বিন্যাস অভিযোগ-আপত্তির শুনানি ২৫শে এপ্রিল। উল্লেখ্য নবাবগঞ্জের সাবেক এমপি হারুনুর অর রশিদ এবং গ্রাজ্যুয়েট এসোসিয়েশন অব দোহারের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মোঃ আইয়ুব আলী গত ৬ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে ঢাকা – ০১ সংসদীয় আসন পূণার্বিন্যাস শিরোনামে আবেদন করেছেন। ডাইরী নং – ১৭২৬। 

আর সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসের খসড়ার ওপর অভিযোগ-আপত্তির শুনানি আগামী ২১শে এপ্রিল থেকে ২৫শে এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ৩০শে এপ্রিলের মধ্যে সংসদীয় আসনের সীমানা চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হবে। গতকাল নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসির সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ। সচিব জানান, ৩০০ আসনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন যে ৪০টি সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের খসড়া প্রকাশ করেছিল সেগুলোর শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ৪০টি আসন ছাড়াও আরো ২০টি আসনে পরিবর্তনের জন্য আবেদন ইসির কাছে এসেছে। খসড়ার ওপর অভিযোগ জানিয়ে ৪০৭টি আবেদন এসেছে।
অপরদিকে খসড়ার পক্ষে ২২৪টি আবেদন এসেছে। মোট ৬০টি আসনের বিপরীতে সর্বসাকুল্যে ৬৩১টি আবেদন এসেছে। ইসির খসড়া তালিকায় থাকা ৪০টি আসনের ওপর মূলত শুনানি হবে। বাকিগুলোর ওপর শুনানি হলেও তার সিদ্ধান্ত কমিশন নেবে। হেলালুদ্দীন আহমেদ জানান, ২১শে এপ্রিল থেকে সীমানা পুনর্বিন্যাসের খসড়ার ওপর অভিযোগ-আপত্তির শুনানি শুরু হবে। ওই দিন রংপুর, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের আসনগুলোর ওপর শুনানি হবে। ময়মনসিংহ, সিলেট ও খুলনা বিভাগের আসনের ওপর শুনানি হবে ২৩শে এপ্রিল। ২৪শে এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রামের আসনগুলোর ওপর শুনানি হবে। ঢাকা বিভাগের মানিকগঞ্জ, ঢাকা, নরসিংদী, ফরিদপুর, শরীয়তপুর জেলাতে আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করা হবে ২৫শে এপ্রিল। এরপর নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করবে। যার ভিত্তিতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৩০শে এপ্রিলের মধ্যে সীমানা পুনর্বিন্যাসের সকল কাজ শেষ হবে। কমিশন সভায় সীমানা পুনর্বিন্যাস ছাড়াও আইন সংশোধন নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানান ইসি সচিব। সচিব বলেন, আইন ও বিধি সংশোধনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে আরপিও সংশোধনের বিষয়ে কিছু প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলোর ওপর আলোচনা হয়েছে। কিন্তু সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিশন সভা মুলতবি করা হয়েছে। আগামী ১২ই এপ্রিল এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তিনি বলেন, আরপিওতে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি সংশোধনীর প্রস্তাব আনা হয়েছে। আচরণবিধি নিয়ে আলোচনা হয়নি। ১২ই এপ্রিল যে সভা অনুষ্ঠিত হবে সেখানে আলোচনা হতে পারে।

নবাবগঞ্জে ১০ শয্যার মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র চাইঃ সংসদে সালমা ইসলাম

নবাবগঞ্জের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র চান জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম।

সোমবার জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি তৈরি করা খুবই জরুরি। ইতিমধ্যে এ জন্য ৫০ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। কিন্তু এখনও স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার নারী ও শিশুর জীবনমান উন্নয়নে অনেক ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে। মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার লাঘব করতে যত দ্রুত সম্ভব এই কেন্দ্রটি তৈরি করার দাবি জানান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম।

মুক্তি পেয়েছেন যুবদল নেতা আবুল হাশেম

৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সালে ঢাকার সুন্দরবন স্কোয়ার মার্কেটের নিজের প্রতিষ্ঠান থেকে আটক করা হয়েছিল দোহার উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আবুল হাশেমকে। দীর্ঘ দুই মাস পর ৮ এপ্রিল জামিনে মুক্তি পেয়েছেন এই যুবদল নেতা। গত ৮ এপ্রিল রবিবার জামিনে মুক্তি পান এই যুবদল নেতা। জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি এখন ঢাকাতেই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।