সৌদি আরবে সিনেমা হলের প্রথম ছবি ব্ল্যাক প্যানথার

সৌদি আরবের মানুষ সর্বশেষ সিনেমা দেখেছিলেন ১৯৭০ সালে। সে সময় দেশটির কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতাদের চাপে সিনেমা হলগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। ৩৫ বছরর ধরে সেখানে কোন সিনেমা হল ছিল না। প্রায় সাড়ে তিন দশক পেরে আবারও সিনেমা হল হচ্ছে সৌদি আরবে। ১৮ই এপ্রিল থেকে মারভেলের সুপারহিরো ‘ব্ল্যাক প্যানথার’ দেখবেন সৌদির সিনেমা প্রেমিরা। সৌদি তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিনেমা প্রদর্শন শুরুর তারিখসহ এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

রাজধানী রিয়াদের কিং আবদুল্লাহ ফিন্যান্সিয়াল জেলায় গানের কনর্সাটের জন্য বানানো একটি হলে প্রথম এই সিনেমা প্রদর্শন করা হবে। এই হলে পাঁচশটি আসন থাকবে। এবার গ্রীষ্মেই আরও তিনটি পর্দা যুক্ত হবে এখানে।

বিবিসি সূত্রে জানা গেছে,সৌদি আরব সিনেমা বা বিনোদন উন্মুক্ত করে রক্ষণশীল সমাজ থেকে যে বেরিয়ে আসতে চাইছে, তাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সৌদি আরবের প্রধান আর্থিক তহবিল পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড সিনেমা প্রদর্শনের জন্য বিশ্বের সবচাইতে বড় সিনেমা হল চেইন আমেরিকান মুভি ক্লাসিক বা এএমসির সাথে চুক্তি করেছে।

এই চুক্তি অনুযায়ী, দুই পক্ষ আগামী পাঁচ বছরে সৌদি আরবের ১৫টি শহরে ৪০টি সিনেমা হল বা প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ করবে। এর পরের সাত বছরে ২৫টি শহরে ৫০ থেকে একশটি সিনেমা হল নির্মাণ করবে।

এখন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দেশটিতে অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি ভিশন-২০৩০ ঘোষণা করেছেন। তিনি সৌদি আরবকে রক্ষণশীল সমাজ থেকে বের করে আনতে চাইছেন বলে বলা হচ্ছে।

তবে সৌদি জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশ পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী। তারা অনেক আগে থেকেই স্যাটেলাইট টেলিভিশন, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্নভাবে পশ্চিমা অনুষ্ঠান দেখে থাকেন। এখন অ্যাকশন মুভি ব্ল্যাক প্যানথার দিয়ে সেখানে প্রকাশ্যে পশ্চিমা সিনেমা দেখা শুরু হচ্ছে।

নবাবগঞ্জের পশ্চিমাঞ্চলবাসীর চাওয়া পাওয়ার ফিরিস্তি

একটি অবহেলিত জনপদের নাম নবাবগঞ্জের পশ্চিমাঞ্চল। চারটি ইউনিয়ন  নয়নশ্রী, বারুয়াখালী, জয়কৃষ্ণপুর ও শিকারিপাড়া যেটি নিয়ে গঠিত। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই উন্নয়নের সুষম বন্টনের শিকার এ কয়েকটি ইউনিয়ন যা কোনক্রমেই অস্বীকার করার উপায় নেই। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে উন্নয়নের ছোঁয়া  আসে মুলত এমপি হারুনুর রশিদ ও বোরহান উদ্দিনের প্রচেষ্টায় যাহা মূলত কৃষিকাজে বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে, এবং তার পরবর্তী সময়ে বিএনপির ব্যানারে দোহার আসন থেকে এমপি ও নৌপরিবহন মন্ত্রী হয়ে আসা (অবঃ) ক্যাপ্টেন নুরুল হকের মাধ্যমে। নদীর নাব্যতা, নদী তীরবর্তী মানুষের গৃহস্থালি কর্মকান্ড, পরিবেশ ভারসাম্যহীনতা রক্ষা, কৃষিকাজ ও ব্যবসায়ীক সুবিধার্থে ইছামতি নদী খনন শুরু হয়। বান্দুরা হতে বারুয়াখালী হয়ে শিকারিপাড়ার সড়ক নির্মান ও প্রশস্থকরণ, বান্দুরা হতে আলালপুর হয়ে শিকারীপাড়া রাস্তা নির্মান শুরু হয় তৎকালীন সময়ে। এ রাস্তা ও নদীখনন মুলত ছিল ক্যাপ্টেন নুরুল হকের সংগে চুক্তির ফসল যাহার প্রস্তাবনায় ছিলেন তৎকালীন বারুয়াখালী ইউনিয়নের সুযোগ্য প্রাক্তন চেয়ারম্যান মরহুম শাহাদত হোসেন খান এবং পরবর্তী চেয়ারম্যান আলালপুর নিবাসী মরহুম সিরাজুল ইসলাম। তাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এমপি ও নৌপরিবহন মন্ত্রী (অবঃ) ক্যাপ্টেন নুরুল হকের মাধ্যমে এ পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ কিঞ্চিত পরিমাণ হলেও উন্নয়নের স্বাদ পায় যা কেরানীগঞ্জের সাথে তুলনায় বিশাল তফাৎ ছিল। পরবর্তী সময়ে আবার বিএনপির ব্যানারে আসা তৎকালীণ ঢাকা-১ আসনে দোহারের ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার সময়েও ঐ চুক্তির ফাঁদেই আমাদের থাকতে হলো। নবাবগঞ্জ থেকে নির্বাচিত এমপি থাকলেও মূলত এ অঞ্চলবাসীর পাওয়ার ভান্ডার ছিল বলতে গেলে হতাশাজনক। নির্ভরতা ঐ দোহারের এমপি সাহেবের উপর। উন্নয়ন বঞ্চিত থাকার কারণ হচ্ছে ভোটের সময় আমাদের পশ্চিমাঞ্চলের এ ইউনিয়নগুলোকে দোহারের সঙ্গে জুড়ে দেয়া আবার ভোট শেষে বেড় করে দেয়া। এতে আমাদের হতে হয় অবিভাবকহীন “নাম কা ওয়াস্তের” পাবলিকের মত। আজ পশ্চিমাঞ্চলের জনগন বলতে গেলে অবিভাবকহীন। ভোটের পর আর আমরা নেতাদের সুনজরেও আসি না। নবাবগঞ্জের এমপি জনাব আব্দুল মান্নান সাহেবের তৎপরতায় দুই বান্দুরার সংযোগ সেতু তৈরি হলেও তাতে ছিল সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনার অভাব যা এখন বিকল্প আরো একটি সেতুর প্রয়োজনকে স্মরণ করিয়ে দেয়। দীর্ঘদিন চাহিদা ও প্রয়োজনের সাথে যুদ্ধ করে হলেও নুরনগরে দৃষ্টিনন্দন প্রশস্থ সেতু তৈরী বর্তমান সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার স্বাক্ষর বহন করে তাতে দ্বিমতের অবকাশ নেই। মরে যাওয়া ও মাছের খামার হিসেবে খ্যাত বর্তমান ইছামতি নদীর উপর নির্মীত শিকারিপাড়া সেতু সেটাও সুদূর প্রসারী পরিকল্পনার উদাহরণ হিসেবে মুল্যায়ন করা যায়। আরো গুটিকয়েক কাজ যা বর্তমানে শুরু হয়েছে তাও এ অঞ্চলের জনগনের দ্বারা মঞ্চায়িত বিভিন্ন নাটকের সাড়ায় চলছে তা না হলে যে আগামী নির্বাচনের বাজারে “সেরা” উপহার পেতে ঘাম ঝড়াতে হবে। নাটকটি মঞ্চস্থ না হলে হয়তো কপালে সেটিও জুটতো কিনা সন্দেহ আছে। পশ্চিমাঞ্চলই নয় মূলত ঢাকার “মরণ ফাঁদ” নামে আতঙ্ক “কাশিয়াখালী বেড়ীবাঁধ” অস্থায়ী সংস্কারের কাজও চলমান রয়েছে, সেটাও সেই “মানববন্ধন” থেকে ‘গোলযোগের সম্ভাবনা আছে” নামক ছোট বাক্যের প্রতি সম্মান রেখে “ক্যাম্পেইন” নামের ছোট নাটিকার ফল। এ ছোট নাটিকা মঞ্চস্থ না হলে এবং সাধারণ জনতা সোচ্চার না হলে কারো কোনো সুনজরে ধরা পরতো কিনা সন্দেহ। এ বেড়ীবাঁধের সাথে যার অবদান সরকারী দলের সেই আঞ্চলিক নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা আলীমোর রহমান খান পিয়ারা যিনি বর্তমানে শিকারিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, তৎকালীন সংসদসদস্য প্রার্থী ও শিল্পপতি জনাব নূর আলী সাহেবের তাৎক্ষনিক আর্থিক সহায়তায় তড়িৎ গতিতে ভাঙনের কবল থেকে জনগনের জানমাল রক্ষায় পদ্মার পরবর্তী আগ্রাসন রোধ করেন। তৎকালীণ প্রয়াত পানিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের  হস্তক্ষেপে দ্রুত অনুমোদনের মাধ্যমে অপরিকল্পিত হলেও বাঁধ নির্মীত হয়। এ সব কাজ কোনো সংসদ সদস্যই প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরে স্বেচ্ছায়, স্বপ্রণোদিত হয়ে করেননি, অর্জন যা কিছু তা মূলত এ অঞ্চলের মানুষের সোচ্চারের কারণে বলা যায়।

এ অঞ্চলের প্রাণ হচ্ছে স্রোতস্বিনী ইছামতি, যে নদীর সাথে এ অঞ্চলের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। এটাকেও পরিকল্পিত ভাবে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে, কোনো স্থানে দখলের “আগ্রাসন” হানা দিয়েছে, কোথাও ময়লার ভাগারে পরিণত হচ্ছে যাহা অপ্রত্যাশিত। বর্তমান সংসদ সদস্যের প্রতিশ্রুত “হাদিস” গুলোর কয়টা আমরা পেলাম আর কয়টা পেলামনা তার জন্যও “হালখাতা” খোলা রাখি।

আগামী ভোটের মৌসুম ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এখনই মৌমাছিদের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। আমাদের গানের সুর ভেসে আসছে। মৌসুমি পাখি যিনিই যে দলেরই হোক না কেন আমাদের এ অঞ্চলের গণমানুষের “ভিক্ষা” বেশী নয় মাত্র তিনটি এই তিনটি “প্রত্যাশিত ভিক্ষা” পুরণ করতে পারলেই আমরা আমাদের এলাকার উন্নয়ন ঘটাতে পারবো বলে আশা রাখি।

(১) আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে বেড়ীবাঁধের প্রয়োজনীয় স্থানে পরিকল্পনানুযায়ী স্লুইচ গেট স্থাপন সহ বাঁধের স্থায়ীসংস্কার ও মেরামতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

(২) ইছমতির নাব্যতা রক্ষায় স্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করা ও বয়ে চলা নদীর বেশ কয়েকটি বাঁকা গতিপথ রয়েছে সেখানে সম্ভাব্য ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করা।

(৩) বান্দুরা হতে বারুয়াখালী হয়ে ধুলশুরা ও কাশিয়াখালী বেড়ীবাঁধ পর্যন্ত রাস্তাটি স্থায়ী ভাবে দুই লেনের টেকসই উন্নয়ন করা।

কৈলাইলের ভাংঙ্গাভিটা এখন বাঙ্গির হাট বাজার

ঢাকার নবাবগঞ্জের কৃষি অধ্যুষিত কৈলাইল ইউপি’র ভাংঙ্গাভিটা গ্রামটি এখন সুস্বাদু বাঙ্গি ফলের বহাট বাজারে পরিণত হয়েছে। সল্প দামে ক্রয় করা যায় বলে দেশের সকল মানুষের কাছে বাঙ্গি ফলটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। কম পুজিতে বেশী মুনাফা তাই স্থানীয় চাষিরা বাঙ্গির চাষ হয়ে আসছে বছরের পর বছর। সারাদেশে নবাবগঞ্জের ভাংঙ্গাভিটা গ্রামটি এখন মৌসুমী ফল বাঙ্গির জন্য বিখ্যাত অঞ্চলে পরিনত হয়েছে।

ভাংঙ্গাভিটায় উর্বর কৃষি জমি বাঙ্গির চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তাই জীবন জীবিকার জন্য প্রধান ফলস হিসেবে এখানে প্রায় ৬০/৭০ বছর ধরে বাঙ্গি চাষ করে অথনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেক কৃষক।

বছরের পর বছর  ভাগ্যের পরিবর্তনের লক্ষে প্রতিনিয়ত  লড়াই-সংগ্রাম করে উৎপন্ন করছেন সোনালী ফল  বাঙ্গি। এছাড়া বাঙ্গির  পাশাপশি একি জমিতে লাউ, কুমড়া, বেগুন খিরাইসহ অন্যান্য ফসল চাষাবাদ করছেন তারা।

 দেশে বিভিন্ন প্রজাতির বাঙ্গির দেখা মিললেও এই ভাংঙ্গাভিটা বাঙ্গির রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য । স্বাদে গন্ধে অতুলনীয় ভাংঙ্গাভিটা বাঙ্গি।ফলে মানুষের কাছে ভাঙ্গাভিটার বাঙ্গির চাহিদাও বেশ।

শীতকালে বাঙ্গি চাষের জন্য বীজ বপন করা হলেও গ্রীস্মকালীন ফল হিসেবে হাট-বাজার গুলোতে দেখা মিলে হলুদ বর্ণের মিষ্টি জাতীয় রসালো ফল বাঙ্গি। দাম কম কিন্তু পুষ্টিগুন বেশি থাকায় বছরের অন্তত একবার এ ফলে স্বাদ নিয়ে থাকেন সবাই।

ভাংঙ্গাভিটার বাসিন্দা দয়াময় বাড়–ই বলেন, এ বছর ভাঙাভিটা এলাকায় প্রায় ১শ’ থেকে দেড়’শ  বিঘা জমিতে বাঙ্গি চাষ করা হয়েছে। ফলন ভাল হয়েছে এ বছর। বেশির ভাগ বাঙ্গিচাষী কমপক্ষে ১০ বিঘা জমিতে বাঙ্গি চাষ করে থাকেন। এখানে উৎপাদিত ভাঙির হাট বসে নদীর পাড়ে প্রতিদিন ভোর থেকে সকাল বেলা ১২ টা পর্যন্ত। বিভিন্ন এলাকা থেকে খুচরা ও পাইকারী বাঙ্গি কিনতে আসেন অসংখ্য মানুষ। যা দেখে কৃষকের মূখে হাসি ফুটে উঠে।

বাঙ্গিচাষী খগেন বাবু বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ১০/১২ হাজার টাকা খরচ হয়। বিক্রিও হয় ভালো

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল আমীন বলেন, নদীর তীরবর্তি কৈলাইল ইউপি’র ভাংঙ্গাভিটা গ্রামটি স্বাদে গন্ধে অতুলনীয় বাঙ্গি ফলের জন্য। এই এলাকার কৃষকরা খুব পরিশ্রমী যার কারনে এত ভালো ফল উৎপাদন করা সম্ভব হয়।

এলাকার উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবেঃ সালমা ইসলাম

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় পার্টিকে আরও শক্তিশালী করতে নেতাকর্মীদের এখনই মাঠে নামার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি। তিনি বলেন, আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই। আগামী নিবার্চনে নিজেদের শক্তির ওপর ভর করেই লড়াই করতে হবে। রোববার নবাবগঞ্জ উপজেলা উপজেলা শহরের পাশে বর্ধনপাড়া এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে কর্মিসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং ঢাকা-১ দোহার নবাবগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম বলেন, ‘এলাকার উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। সংগঠনকে শক্তিশালী করাসহ সাধারণ মানুষের কাছে দোহার ও নবাবগঞ্জের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরতে হবে। তবেই আমরা পুনরায় এ অঞ্চলের মানুষের সেবা করার সুযোগ পাব।’

সালমা ইসলাম আরও বলেন, ‘আমি  দোহার ও নবাবগঞ্জের উন্নয়নের স্বার্থে রাজনীতিতে এসেছি। এ অঞ্চলকে একটি আধুনিক এলাকায় রূপ দেয়ার লক্ষ্যে দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। আসুন আমরা রাজধানীর নিকটবর্তী অবহেলিত এলাকাটিকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে গড়ে তুলি।’

তিনি বলেন, ‘সামাজিক সচেতনতা ও শিক্ষার  ব্যাপক প্রসারের মাধ্যমে ইভটিজিং, মাদক, বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যধি দূর করতে প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। তাই আর বসে না থেকে ঘরে ঘরে মানুষের  ভালোমন্দের খবর নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।’

অনুষ্ঠানে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে জাতীয় পার্টিকে ঢেলে সাজাতে উপজেলা আহ্বায়ক কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে আরও সাতজনকে সম্পৃক্ত করা হয়। তারা হলেন- নয়নশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান রিপন মোল্লা, এসএম ওসমানী হেন্টু, ওমর ফারুক, আবুল হোসেন আজাদ, জাকির হোসেন, সেলিম শিকদার এবং সাহিদুল হক খান। এছাড়া আবদুর রাজ্জাক মাস্টারকে উপজেলা জাতীয় পার্টির উপদেষ্টা এবং  জিনিয়া আফরিনকে উপজেলা মহিলা পার্টির সহ-সভানেত্রী করা হয়। সভায় নবনির্বাচিত যুগ্ম আহ্বায়করা ফুল দিয়ে সংসদ সদস্য সালমা ইসলামকে শুভেচ্ছা জানান।

প্রতিদিনের হাদিসঃ পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার

0

হাদিস নং ৬২৬৯: কুতায়বা ইবনু সাঈদ ইবনু জামীল ইবনু তারীফ সাকাফী ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কছে এলো এবং সে প্রশ্ন করল,ইয়া রাসুলাল্লাহ! মানুষের মধ্যে আমার সদ্ব্যবহারের সর্বাধিক ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে বলল, এরপর কে? তিনি বললেন, এরপরও তোমার মা। সে বললঃ এরপর কে? তিনি বললেন, এরপরও তোমার মা। সে বলল, এরপর কে? তিনি বললেন, তোমার পিতা। আর কুতায়বা বর্ণিত হাদীসে “আমার সদ্ব্যবহার পাওয়ার সর্বাপেক্ষা যোগ্য কে” এর উল্লেখ আছে। তিনি তাঁর বর্ণনায় (النَّاسَ) মানুষ শব্দটি উল্লেখ করেননি।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

পুনঃনিরীক্ষণঃ

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)

অধ্যায়ঃ ৪৭/ সদ্ব্যবহার, আত্নীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও শিষ্টাচার (كتاب البر والصلة والآداب)

হাদিস নং ৬২৭০: আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনু আ’লা হামদানী (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! মানুষের মধ্যে সদ্ব্যবহার পাওয়ার সর্বাপেক্ষা যোগ্য কে? তিনি বললেন তোমার মা। এরপরও তোমার মা। এরপরও তোমার মা। এরপর তোমার পিতা। এরপর তোমার নিকটবর্তী জন। এরপর তোমার নিকটবর্তী জন।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

পুনঃনিরীক্ষণঃ

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)

অধ্যায়ঃ ৪৭/ সদ্ব্যবহার, আত্নীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও শিষ্টাচার (كتاب البر والصلة والآداب)

হাদিস নং ৬২৭৬: সাঈদ ইবনু মানসুর (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুুূল আস (রাঃ) খেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এল। এরপর সে বলল, আমি আপনার হাতে হিজরত ও জিহাদের জন্য বায়আত গ্রহণ করব। এতে আমি আল্লাহর কাছে পুরস্কার ও বিনিময় আশা করি। তিনি বললেনঃ তোমার মাতা-পিতার মধ্যে কেউ জীবিত আছে কি? সে বলল, হ্যাঁ উভয়ে জীবিত আছেন। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি আল্লাহর কাছে বিনিময় আকাঙ্খা করছ? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি তোমার মাতা-পিতার কাছে ফিরে যাও এবং তাদের দু’জনের সঙ্গে সদাচরণপূর্ণ জীবন যাপন কর।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

পুনঃনিরীক্ষণঃ

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)

অধ্যায়ঃ ৪৭/ সদ্ব্যবহার, আত্নীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও শিষ্টাচার (كتاب البر والصلة والآداب)

ফিরে দেখা বিশ্বকাপ : ‘মন্টেভিডিও, গড ব্লেস ইউ’

0

১.

জুন ৮, ১৯৩০।

বিশ্বকাপের বাকি ৩৫ দিন।

রোমানিয়ায় রাজার মুকুট পরলেন দ্বিতীয় কার্লো। নতুন রাজার আগমনে রোমানিয়াজুড়ে উৎসব তো ছিলই, কোথাও কোথাও ছিল সংশয়ের মেঘও । সেটি অবশ্য রাজাকে নিয়ে নয়, দেশের ফুটবল পাড়াতেই সীমাবদ্ধ। ফিফার ৪২ সদস্যের একটি রোমানিয়া। পরের মাসে বিশ্বকাপ, ফিফার কাছ থেকে আমন্ত্রণ এসেছে অনেক আগেই। আমন্ত্রণপত্রে অবশ্য তেমন গৌরবের কিছু নেই, ফিফার সব সদস্যের কাছেই গেছে এই চিঠি।

রোমানিয়া আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলা শুরু করেছে মাত্র ৮ বছর আগে,  কার্লো  যেদিন ক্ষমতায় বসলেন, ঠিক সেইদিনেই। জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, স্পেনের মতো দল বিশ্বকাপকে না করে দিয়েছে আরও আগে। কিন্তু রোমানিয়ার রাজা সেই অভাবনীয় কাজটাই করলেন- দলকে বিশ্বকাপে পাঠাবেন তিনি। রাজা হিসেবে এটাই যেন তার প্রথম কাজ, দায়িত্বও বটে!

অথচ রোমানিয়া দলের মূল খেলোয়াড়রা নানান কারণে এতোদিন নিষিদ্ধ ছিল ফুটবল থেকেই। নতুন রাজার হুকুমে এক নিমিষেই সবার নিষেধাজ্ঞাও হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। কোচ নয়, বিশ্বকাপে রোমানিয়ার দল বাছাই করলেন রাজা কার্লো নিজেই।

সেই দলের অনেকের আবার বিশ্বকাপে যাওয়া নিয়েও দ্বিমত ছিল। দলের অনেকেই পেশাদার ফুটবলার নন, কাজ করেন ইংলিশ তেল কোম্পানিতে। যে করে খনিতে শ্রম, তারে যেন ডরে যম- এই মন্ত্র সেখানে কাজে দিল না। কোম্পানির কাছে তিন মাসের ছুটি তো মিলছিলই না, আবার উরুগুয়ে গেলে চাকরিতে থেকে ছাঁটাই করে দেওয়ার নোটিশও জারি হয়ে গিয়েছিল। ফিরে এসে খাবেন কি তারা? এখানেও রাজামশায় হাজির। এক ডাকে শায়েস্তা সবাই, রোমানিয়া বিশ্বকাপেই যাচ্ছে।

২.

১৯০৪ সালে ‘ফিফা’ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ফুটবলের বৈশ্বিক একটা টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা চলছিল। তখনও পর্যন্ত অলিম্পিকে সোনা জেতাই ছিল ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের সূচক। ১৯২০ থেকে অলিম্পিকে ফুটবলের পুরো আয়োজনের কর্তৃত্ব পায় ফিফা। টানা তিন আসর ফিফা আর অলিম্পিক কমিটি কাজও করছিল কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে। এরপরই বিপত্তিটা বাঁধে দুই পক্ষের। ফিফাও মন দেয় বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের দিকে। খসড়া অনুযায়ী ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ নির্ধারণ করা হয় আয়োজক দেশের নাম উহ্য রেখেই। নেদারল্যান্ডস, স্পেন, ইতালি, সুইডেনের সঙ্গে বিশ্বকাপ আয়োজকদের আগ্রহীদের তালিকায় উরুগুয়ের নামও ছিল। উরুগুয়ে বাদে বাকি ইউরোপিয়ান দেশগুলোই এগিয়ে ছিল প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজনের দৌড়ে। কিন্তু ১৯২৯ সালে অনেকটা আচমকা সেই উরুগুয়েই বাকিদের টপকে পেয়ে যায় বিশ্বকাপ আয়োজনের ভার! নাকি সম্মান?

ফিফার এমন সিদ্ধান্তে শুরু থেকেই বাধ সেধেছিল ইউরোপিয়ান দেশগুলো। বিশ্বকাপের আগেই আগ্রহী বাকি ৪ দেশ একরকম বিদ্রোহ করেই বর্জন করে বিশ্বকাপ, সঙ্গে যোগ দেয় হাঙ্গেরিও। অস্ট্রিয়া, জার্মানি, সুইজারল্যান্ডও আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে ফুটবল দল পাঠাবে না উরুগুয়েতে। ফিফা প্রেসিডেন্ট জুলে রিমের দেশ ফ্রান্সও শুরুতে ‘না’ করে দিয়েছিল। পরে জুলে রিমের অনুরোধে প্রথমে রাজি হয় ফ্রান্স ,পরে বেলজিয়াম।

সবকিছুর আগেই অবশ্য ভ্রমণকারী দলের সবরকম খরচ নিজেরাই বহন করার ঘোষণা দিয়ে রেখেছিল উরুগুয়ের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সেটাও মন গলাতে পারেনি ইতালি, জার্মানির। উরুগুয়ের বিশ্বকাপ নিয়ে অনুমিতভাবেই আমেরিকার দলগুলোর তেমন কোনো আপত্তি ছিল না। আর নিজেদের ফুটবলের ধারক-বাহক দাবি করে আসা ব্রিটেন তো ততোদিনে উলটো পথে যাত্রা শুরু করেছে, ফিফা থেকে বেরই হয়ে গেছে তারা! উরুগুয়ে অবশ্য তবুও চেষ্টাটা চালিয়েছিল, সদস্য না হয়েও ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ খেলার আমন্ত্রণ পাঠিয়েছিল তারা। সেই চিঠি লন্ডন পৌঁছাতে পাড়ি দিয়েছে বহুপথ, কিন্তু ইংলিশ এফএর কাছে নাকচ হতে সময় নেয়নি একেবারেই!

তাই দক্ষিণ আমেরিকার ৭ দেশ, সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো; ইউরোপের চার  আর আফ্রিকার একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে মিশর নিশ্চিত করল বিশ্বকাপ। ১৪ দল নিয়েই উরুগুয়েতে নামবে প্রথম বিশ্বকাপের পর্দা, সঙ্গে খেলার দিনক্ষণও ঠিক হয়ে গেল।

৩.

উরুগুয়ের পথে রোমানিয়ার যাত্রা শুরু ইতালির জেনোয়া থেকে। দুইদিন ট্রেনে ভ্রমণ করে নিজেদের দেশ থেকে ইতালি পৌঁছেছে রোমানিয়া ফুটবল দল। সেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল বিলাসবহুল জাহাজ কন্তে ভার্দে। জেনোয়া থেকে রোমানিয়ার ২১ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা আরম্ভ করে জাহাজ  ভিড়ল মার্শেইতে। ডি আজুর বন্দর থেকে উঠল পুরো ফ্রান্স দল আর ম্যাচ পরিচালনার জন্য তিনজন রেফারি। সঙ্গে উঠলেন আরও একজন। ধূসর স্যুট, কালো টাই পরা সাদা চুলের এক ভদ্রলোক, হাতে তার একটা চামড়ার স্যুটকেস।

ফিফা প্রেসিডেন্ট জুলে রিমে, আর হাতের ব্যাগটায় রাখা সেই শিরোপা।

বার্সেলোনার বন্দরে জাহাজের জন্য অপেক্ষা করছিল আরেকদল, বেলজিয়াম। সেখান থেকে তাদের উঠিয়ে নিয়ে তিন দল মিলেই রওয়ানা হল উরুগুয়ের দিকে।

ইউরোপের আরেক দল যুগোস্লাভিয়া সিদ্ধান্তটা নিতে দেরি করে ফেলেছিল বেশ কিছুদিন। ততোদিনে কন্তে ভার্দের সব সিট বুক হয়ে গেছে। তাই আলাদা করে আরেকটা জাহাজ ভাড়া করতে হল তাদের। মার্শেইতে মিশরকে নিয়ে একসঙ্গে রওয়ানা হওয়ার কথা ছিল তাদের। কিন্তু ঝড়ে আটকা পড়ে আফ্রিকা থেকে রওয়ানা দিতেই দেরি হয়ে গেল তাদের। উপায় না দেখে মিশরকে ছাড়াই যাত্রা শুরু করল যুগোস্লাভিয়া। সেই বিশ্বকাপে আর খেলাই হলো না মিশরের। বিশ্বকাপে দলের সংখ্যাটাও হয়ে গেল বেঢপ, ১৩।

৪.

“ট্যাকটিকস নিয়ে কোনো কথাই হচ্ছিল না, না ফুটবল কোচিং নিয়ে। ডেকের ওপর দৌড়ানো আর নিচে গিয়ে স্ট্রেচিং করা, সিঁড়ি বেয়ে ওঠা নামাও ছিল অনুশীলনের ভেতর। ওখানে একটা সুইমিং পুলও ছিল। শীত পড়ার আগ পর্যন্ত আমরা ওখানে সাঁতার কাটতাম। বিনোদনের ব্যবস্থাও ছিল। পুরো ব্যাপারটা অনেকটা ছিল হলিডে ক্যাম্পের মতো। আমাদের জন্য একটা অভিজ্ঞতা। উরুগুয়ে যাওয়ার সময়ও এই যাত্রার মাহাত্ম্য আমরা বুঝতে পারিনি। অনেকদিন পর যখন ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছি তখন বুঝেছি। আসলে আমরা কিছু তরুণ যুবক জাহাজে আনন্দ করছিলাম। কন্তে ভার্দেতে করে পৌঁছাতে আমাদের সময় লেগেছিল ১৫ দিন। ওই ১৫ দিন ছিল সুখের ১৫ টা দিন।“ – ফ্রান্স ফুটবলার লুসিয়েন লরেন্টের ভাষায় জাহাজে কাটানো দিনগুলো।

জলযাত্রাটা যে একেবারে মন্দ ছিল না সেটা তো স্পষ্টই। তিন দল এক জাহাজে অথচ সেখানে ফুটবল বাদে হয়েছে বাকিসব কিছুই। খেলার জায়গা থাকলে হয়ত প্রস্তুতি ম্যাচগুলোও সেরে নেওয়া হত সেখানেই! দুই সপ্তাহের বেশি জাহাজ ভ্রমণের পর খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা কেমন দাঁড়ায় সেটা নিয়েও সংশয় ছিল। তাই কোচরা খেলার চেয়ে বরং শারীরিক অনুশীলনের দিকেই মন দিয়েছিলেন বেশি।

উরুগুয়ে যাওয়ার পথে জাহাজ আরও একবার থামলো মাঝপথে। এবার রিও ডি জেনিরোতে। সেখান থেকে ব্রাজিল দলকে তুলে আরও একদিন লাগল উরুগুয়ে পৌঁছাতে।

স্বাগতিক উরুগুয়ের অবশ্য এসব ভ্রমণের চিন্তা ছিল না। আসলে প্রতিপক্ষকে নিয়েও খুব বেশি ভাবতে হয়নি তাদের। আগের দুইবারের অলিম্পিকে সোনাজয়ী দল তারা। ঘরের মাঠে তো বটেই, পরের মাঠে বিশ্বকাপ হলেও উরুগুয়েই থাকত পরিষ্কার ফেভারিট। তবে ইউরোপের দলগুলো না থাকায় উরুগুয়ের প্রতিবেশি আর্জেন্টিনাও ছিল সম্ভাব্য বিশ্বকাপ জয়ী তালিকায় ঠিক পরের স্থানেই।

৫.

বিশ্বকাপটা সেবার আসলে যত না উরুগুয়েতে হয়েছিল, তার চেয়ে বেশি মন্টেভিডিওতে। উরুগুয়ের রাজধানী শহরেই আয়োজন, তিন স্টেডিয়ামেই শেষ সবার খেলা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম আর সেবারই শেষ- এক শহরেই সব খেলা।

প্রথম ম্যাচে গ্যালারি ছিল কানায় কানায় ভরা, উরুগুয়ের ম্যাচগুলোতেও একই অবস্থা। কিন্তু অন্যদলগুলোর খেলা ঠিক সেভাবে টানল না দর্শকদের। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিল আর্জেন্টিনার খেলাগুলো। মাঠের ফুটবল নয়, বরং বিতর্কের খোঁজেই উরুগুইয়ানরা দেখতে যেতেন আর্জেন্টিনার ম্যাচ।

১৪ জুলাই, ১৯৩০। পরদিন আর্জেন্টিনার ম্যাচে, ফ্রান্সের বিপক্ষে। আগের দিন মন্টেভিডিওর ফরাসি অধিবাসীদের বাস্তিল উৎসব। মাঝরাত পর্যন্ত আতশবাজি ফুটিয়ে সেই উৎসব পালন হল মন্টেভিডিওতে। আরেকটু নির্দিষ্ট করে বললে আর্জেন্টিনার হোটেলের সামনের রাস্তায়। রাতে ঘুমটা যে ঠিকঠাক হয়নি আর্জেন্টাইনদের, সেটা বোঝা গেল পরেরদিন খেলার মাঠে। লরেন্টকে শুরুতেই ফাউল করেছিলেন আর্জেন্টিনার লুইস মন্টি। তিনি পুরো ম্যাচ খেললেন খুঁড়িয়ে। বিশ্বকাপের প্রথম গোলদাতা, তাঁকে তুলে নেওয়ার সাহস দেখাননি ফ্রান্স কোচ। এরপর গোলরক্ষকও অসুস্থ হলেন। ৯ জন সুস্থ খেলোয়াড় নিয়েই ফ্রান্সের লড়াই চলল। ৮১ মিনিটে সেই মন্টি ফ্রি কিক থেকে গোল করলে দুর্গ ভাঙে ফ্রান্সের। কিন্তু জবাবটা এরপরও দিয়ে যাচ্ছিল ফরাসিরা। মিনিট তিনেক পরই দারুণ এক আক্রমণ নিয়ে ফ্রান্স চলে গিয়েছিলে আর্জেন্টিনার ডিবক্সের ভেতরও, গোলটাও প্রায় নিশ্চিত। তখনই রেফারি বাজিয়ে দিলেন ম্যাচ শেষের বাঁশি! ঘড়িতে তখন কেবল ৮৪ মিনিট! দুই দল মাঠ ছাড়ার পরে ভুলটা বুঝতে পারলেন রেফারি, আবার ডেকে নিয়ে এসে বাকি ৬ মিনিট খেলালেনও তাদের। কিন্তু ফ্রান্সের সেই তেজ ততোক্ষণে উবে গেছে।

ম্যাচের পর মাঠে ঢুকে গিয়েছিলেন দর্শকেরা, ফ্রান্স খেলোয়াড়দের কাঁধে করে নিয়ে নেচেছিলেনও তারা। আর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়েছিলেন দর্শকদের ইট-পাটকেল খেয়ে! বিজয়ীর কেমন দশা!

পরের ম্যাচ ছিল মেক্সিকোর সঙ্গে, রেফারি বলিভিয়ার কোচ উলিসেস সাউসেদো আর্জেন্টিনাকে দিলেন গুণে গুণে ৫টি পেনাল্টি! ওই ম্যাচেই বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিক করলেন গিলের্মো স্তাবিলে। অথচ তার বিশ্বকাপে খেলারই কথা ছিল না। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ম্যানুয়েল ফেরেরা ছিলেন দলের প্রথম পছন্দের স্ট্রাইকার। তার ল পরীক্ষার সময়ই কী না শুরু হলো বিশ্বকাপ। কী আর করা। অগত্যা পরীক্ষার জন্যই তিনি থেকে গেছেন দেশে। তার জায়গায় নামলেন যিনি তিনিও করলেন হ্যাটট্রিক! বিতর্ক ঘিরে ধরলেও আর্জেন্টিনাকে তাই আটকে রাখা যায়নি। উরুগুয়ের সঙ্গে ফাইনালেও তাই জায়গা করে নিল আর্জেন্টিনা। দুই দলই সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষকে হারাল ৬-১ গোলে। কিন্তু আর্জেন্টাইনরা সেমিতে ফুটবলের সঙ্গে জিতেছে কুস্তিতেও। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের পর যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়দের কয়েকজন মাঠ ছেড়েছিলেন হামাগুড়ি দিয়ে, কেউ হারিয়েছেন দাঁত, পেট ব্যাথা নিয়ে ম্যাচের পরই একজনকে ভর্তি হতে হয়েছিল হাসপাতালে।

আর উরুগুয়ে সমর্থকদের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে আর্জেন্টিনা দল ততোদিনে হোটেলবন্দী। বিশ্বকাপ শুরুর আগে যে রাস্তায় উৎসব দেখেছিলেন আর্জেন্টাইনরা, ফাইনালের আগে সেখানেই পাহারা দিতে হল পুলিশকে। সাধারণ মানুষের অতি অপছন্দের আর্জেন্টাইনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের দায়িত্ব!

ফিরে দেখা বিশ্বকাপ : 'মন্টেভিডিও, গড ব্লেস ইউ'

৬.

৩০ জুলাই। মন্টেভিডিও। এস্টাদিও সেন্টানারিও।

ফাইনালের দিন সকাল ৯টায় খুলে দেওয়া হলো স্টেডিয়ামের গেট। ১ লাখ মানুষ একসঙ্গে খেলা দেখতে পারেন সেন্টানারিওতে। কিন্তু বিপদের কথা মাথায় রেখে সাত হাজার দর্শক কমিয়ে আনা হলো ফাইনালে। রিভার প্লেট পাড়ি দিয়ে উরুগুয়েতে ঢোকা কয়েক হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থকেরাও ঢুকলেন স্টেডিয়ামে।

দুপুর দুইটায় দুই দলকে নিয়ে যখন মাঠে ঢুকলেন রেফারি, গ্যালারির  উত্তেজনা ততোক্ষণে স্ফুলিঙ্গ হয়ে গোটা মন্টেভিডিওতে দাবানল ছড়িয়ে দিয়েছে। খেলাটা আর্জেন্টিনার সঙ্গে, বিপত্তি না বেঁধে উপায় কি? এবার অবশ্য ম্যাচের আগেই ঝামেলা লাগল। কোন বল দিয়ে খেলা হবে বিশ্বকাপ ফাইনাল? আর্জেন্টিনা এতোদিন খেলেছে নিজেদের নিয়ে আসা বল দিয়ে। আর উরুগুয়ের ম্যাচ হয়েছে তাদের বলে। শেষ পর্যন্ত দুই দলকে রাজি করাতে পারলেন রেফারি। প্রথমার্ধ খেলা হবে আর্জেন্টিনার বলে, পরের অর্ধে ব্যবহার হবে উরুগুয়ের বল।

আর বল বদলের সঙ্গে বদলে গেল খেলার ফলও। প্রথমার্ধে ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। পরের অর্ধে উরুগুয়ে ম্যাচটা জিতে গেল ৪-২ গোলে!

ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠের দখল চলে গেল দর্শকদের কাছে। রেফারি আর লাইনসম্যানরা আগে থেকেই নিরাপত্তা চেয়ে রেখেছিলেন, তারা মাঠ ছাড়তে পারলেন ঠিকঠাক। উরুগুইয়ানদের আর ভয় কীসের, নিজেরই তো লোক। আর আর্জেন্টাইনরা যে যার মতো বেরিয়ে পড়লেন মাঠ থেকেই, দিগ্বিদিক। একজন তো সোজা চলে গিয়েছিলেন সমুদ্রপাড়ে, আর্জেন্টিনাগামী জাহাজ ধরতে। কিন্তু উরুগুয়ের বিশ্বকাপ জয় উদযাপনে ব্যস্ত জাহাজের মাল্লারাও। কয়েকদিন তাই জাহাজের ডেকে লুকিয়েই পার করতে হয়েছিল একজনকে।

বিশ্বকাপ জয়ের পরদিন উরুগুয়েতে ঘোষণা করা হয়েছিল সাধারণ ছুটি।  আর আর্জেন্টিনায় তখন রাজ্যের নীরবতা। সেই নীরবতা বিস্ফাোরিত হলো ক্রোধে। নিজেদের দলের হার সহ্য করতে না পেরে বুয়েনস আইরেসে আর্জেন্টাইনরা ভাঙচুর করেছিলেন উরুগুইয়ান দূতাবাসে। সেই ঘটনা পরে গড়িয়েছিল আরও বহুদূর।

পুরো টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার খেলার ধরনই বুমেরাং হয়েছিল সেদিন। ফাইনালে উরুগুইয়ানদের মারমুখী আচরণ নিয়ে পরের কয়েকদিন পত্রিকাতেও লেখা হয়েছিল। পরে আর্জেন্টাইনরা খেলোয়াড়রা বলেছিলেন, ম্যাচটা জিতলে হয়ত মাঠ থেকে জীবিতই ফেরা হত না তাদের। মাঠে থাকতেই নাকি তারা আঁচ করতে পেরেছিলেন সেটা। তাই জীবন নিয়ে দেশে ফিরতে পারাটাই সেবার বিশ্বকাপের চেয়ে বেশি কিছু নিয়ে ফেরার মতোই দাঁড়িয়েছিল আর্জেন্টাইনদের জন্য।

ফিরে দেখা বিশ্বকাপ : ‘মন্টেভিডিও, গড ব্লেস ইউ’

৭.

ইউরোপের বাকি দেশগুলো বাড়ি ফেরার রাস্তা ধরেছে ফাইনালের পরই। যেভাবে জাহাজে করে তারা এসেছিল উরুগুয়ে, সেই পথেই আবারও ম্যারাথন যাত্রা। কিন্তু ফেরার সময় ঘটল আরেক ঘটনা। রোমানিয়ার খেলোয়াড় আলফ্রেড ফেরারু লম্বা সমুদ্রযাত্রায় পড়লেন অসুস্থ্য হয়ে। পরে জানা গেল নিউমোনিয়া হয়েছে তার। জাহাজ জেনোয়া পৌঁছানোর পর তাই তাঁকে রেখেই দেশে ফেরার ট্রেন ধরেছিল রোমানিয়া দল।বুখারেস্টে পুরো দলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন স্বয়ং রাজাও। কিং কার্লোর সঙ্গে জড়ো হয়েছিলেন রোমানিয়ার মানুষও। দলের সঙ্গে ফেরারুকে না দেখতে পেয়ে রটে গেল গুজব। মারা গেছেন ফেরারু!

সেই গুজবের মাত্রা এতোই ভয়াবহ ছিল যে ফেরারুর পরিবারও বিশ্বাস করেছিল তাদের ছেলে আর নেই। ফেরারুর বাবা স্মরণসভার আয়োজনও করেছিলেন ছেলের জন্য। কিন্তু জেনোয়ায় ততোদিনে সেরে উঠেছেন ফেরারু। স্মরণসভার আগেই যখন দেশে ফিরে গেলেন, রোমানিয়ানদের সেই উৎসব দেখে মনে হল বিশ্বকাপই বোধ হয় জিতে গেছে তারা!

মন্টেভিডিওর বিশ্বকাপ ততোদিনে কাঁপিয়ে দিয়েছে বিশ্বকে। অলিম্পিক বাদেও যে কোনো একটা নির্দিষ্ট খেলার আসর নিয়ে এতো হৈ চৈ হতে পারে সেটা প্রথম আসরেই দেখিয়ে দিয়েছিল মন্টেভিডিও।  সেই বিশ্বকাপের শতবর্ষ পূরণ হতে বেশিদিন নেই আর। তবুও প্রতি চার বছর পর পর নতুন বিশ্বকাপ এলেই যেন আরও একবার ফিরে আসে মন্টেভিডিও। সবকিছুর শুরুটা তো সেখান থেকেই!

রিফাত মাসুদ

সুরুজ আলম সুরুজ আওয়ামীলীগের উপ-কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সদস্য

ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক দোহারের মেধাবী ছাত্রনেতা সুরুজ আলম সুরুজ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপ-কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সদস্য মনোনীত হয়েছেন।

রবিবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক উপকমিটির প্রথম সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিতিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর সাধারন সম্পাদক এবং যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী জনাব,ওবায়দুল কাদের (এম.পি)। সুরুজ আলম সুরুজ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে বিভাগের একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন।

ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক সুরুজ আলম সুরুজ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপ-কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সদস্য নির্বাচিত হয়া নিয়ে নিউজ৩৯ এর কাছে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, শেখ হাসিনা তাকে একটি দায়িত্ব দিয়েছেন সেই দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করবেন ইনশায়াল্লাহ। এবং আগামী নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে জয়যুক্ত করার জন্য জানপ্রান দিয়ে লড়ে যাবার প্রত্যয় তিনি ব্যক্ত করেন।

কোটার পরিমাণ ৫৬ শতাংশ থেকে কমানোর দাবীতে শাহবাগ-টিএসসি রণক্ষেত্র

0

শাহবাগ-টিএসসি রণক্ষেত্র: এর আগে সরকারি চাকরিতে কোটার পরিমাণ ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করাসহ ৫ দফা দাবিতে গণপদযাত্রা শেষে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ করে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের শাহবাগ থেকে সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় শাহবাগ-টিএসসি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে থমথমে পরিবেশ।

৮ এপ্রিল, রবিবার শাহবাগ মোড়ে অবস্থানরত আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হটানোর জন্য রাত ৮টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ শুরু করে।

আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ছবি: স্টার মেইল

ঘটনাস্থলে থাকা মামুন তুষার নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের জানান, রাত ৮টার পরে পুলিশ হামলা করে। এতে সবাই ছত্রভঙ্গ হয়ে টিএসসির দিকে চলে আসে।

আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। ছবি স্টার মেইল 

রাশেদ খান নামে এক আন্দোলনকারী জানান, এ ঘটনায় অনেকে আহত হয়েছেন। অনেককে আটকও করেছে পুলিশ।

আন্দোলনকারীদের কয়েকজনকে পুলিশ আটক করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছবি: স্টার মেইল  

এর আগে সরকারি চাকরিতে কোটার পরিমাণ ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করাসহ ৫ দফা দাবিতে গণপদযাত্রা শেষে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা।

শাহবাগ মোড়ে বিকেল থেকে অবস্থান করা আন্দোলনকারীদের রাতে সরিয়ে দেয় পুলিশ। ছবি: স্টার মেইল 

বিকেল ৩টার দিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হন। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে আসেন।

পুলিশ হামলা চালিয়েছে অভিযোগ করে পতাকা ও বঙ্গবন্ধুর ছবি হাতে প্রতিবাদ জানান আন্দোলনকারীরা। ছবি: স্টার মেইল

পরে তারা গণপদযাত্রায় অংশ নেন। গণপদযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে শুরু হয়ে দোয়েল চত্বর হয়ে জাতীয় শহিদ মিনার, ফুলার রোড, পলাশী, নীলক্ষেত, কাঁটাবন হয়ে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেয়। সে সময় তারা কোটা সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন এবং দাবি সম্বলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন।

আন্দোলনকারীদের শাহবাগ মোড় থেকে সরাতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য। ছবি: স্টার মেইল  

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ শাহবাগ মোড়ে আন্দোলনকারীদের অবস্থানের কারণে যানচলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে আন্দোলনকারীদের পদযাত্রা। ছবি: প্রতিবেদক 

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কারসহ ৫ দফা দাবিতে আন্দোলন করছে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক লাখ শিক্ষার্থী।

আন্দোলনকারীদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজকের এ গণপদযাত্রা কর্মসূচি কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও জেলা-উপজেলা শহরেও পালিত হওয়ার কথা রয়েছে।

কোটা সংস্কারকারীদের অন্যান্য দাবি গুলোর মধ্যে আছে- কোটার যোগ্য প্রার্থী না পেলে শূন্যপদে মেধায় নিয়োগ, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেওয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অভিন্ন বয়সসীমা, নিয়োগ পরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার না করা।

সূত্রঃ প্রিয়.কম

জয়পাড়া বাজার নির্বাচন : আজাদ সভাপতি, দেলোয়ার সেক্রেটারি

শরীফ হাসান নিউজ৩৯ঃ সভাপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আজাদ হোসেন খান নির্বাচিত, তার প্রতিক ছিল ছাতা, সহ সভাপতি নির্বাচিত পদে নির্বাচিত  হয়েছেন সহিদুজ্জামান খন্দকার – সদস্য নং ২৪২-মার্কা(আনারস) প্রাপ্ত ভোট ৪৯৯, সাধারণ সম্পাদক পদে  দেলুয়ার হেসেন মাঝি সদস্য নং ১০০ নির্বাচিত হয়েছেন – মার্কা (টেবিল) প্রাপ্ত ভোট ৪৩৬, মোঃ আরিফ সদস্য নং ৬৪৫ যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত মার্কা (মাছ) প্রাপ্ত ভোট ২৬৪, দেওয়ান মাহাবুবুর রহমান সদস্য নং ৪২২ কোষাধক্ষ্য নির্বাচিত মার্কা(হারিকেন) প্রাপ্ত ভোট ৫৫৩, নিছাক আহাম্মেদ সদস্য নং ২১৭ সদস্য নির্বাচিত মার্কা(গরুর গাড়ি) প্রাপ্ত ভোট ৫৫০ স্থান ১ম, আহাম্মেদ আলি সদস্য নং ৮৬৫ সদস্য নির্বাচিত মার্কা(হাতপাখা) প্রাপ্ত ভোট ৫২০ স্থান ২য়, আবুল হোসেন মোল্লা সদস্য নং ৬৮ সদস্য নির্বাচিত মার্কা (কাঁঠাল) প্রাপ্ত ভোট ৪৮৩ স্থান ৩য়, মোঃ আওলাদ হোসেন সদস্য নং ১৩০০ সদস্য নির্বাচিত মার্কা(ফুটবল) প্রাপ্ত ভোট ৪২৯ স্থান ৪র্থ, মোঃ শাহজাহান সদস্য নং ৬৩০ সদস্য নির্বাচিত মার্কা(আম) প্রাপ্ত ভোট ৪২ স্থান ৫ম, নাসির উদ্দিন (জমসের) সদস্য নং ৯১০ সদস্য নির্বাচিত মার্কা(হাঁস) প্রাপ্ত ভোট ৩৮৩ স্থান ৬ষ্ঠ, মোঃ মামুন হোসেন সদস্য নং ৮৫৬ সদস্য নির্বাচিত মার্কা(গোলাপ ফুল) প্রাপ্ত ভোট ৩৫৬ স্থান ৭ম,

প্রতিদিনের হাদিসঃ ঝগড়া বিবাদের আপোষ

0

পরিচ্ছদঃ ৪৪/১. ঋণগ্রস্তকে স্থানান্তরিত করা এবং মুসলিম ও ইয়াহূদীর মধ্যকার ঝগড়ার আপোষ।

২৪১২. আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপবিষ্ট ছিলেন, এমন সময় এক ইয়াহূদী এসে বলল, হে আবুল কাসিম! আপনার এক সহাবী আমার মুখে আঘাত করেছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কে? সে বলল, একজন আনসারী। তিনি বললেন, তাকে ডাক। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি ওকে মেরেছ? সে বলল, আমি তাকে বাজারে শপথ করে বলতে শুনেছিঃ শপথ তাঁর, যিনি মূসা (আঃ)-কে সকল মানুষের উপর ফযীলত দিয়েছেন। আমি বললাম, হে খবীস! বল, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উপরও কি? এতে আমার রাগ এসে গিয়েছিল, তাই আমি তার মুখের উপর আঘাত করি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা নবীদের একজনকে অপরজনের উপর ফযীলত দিও না। কারণ, কিয়ামতের দিন সকল মানুষ বেহুঁশ হয়ে পড়বে। তারপর জমিন ফাটবে এবং যারাই উঠবে, আমিই হব তাদের মধ্যে প্রথম। তখন দেখতে পাব মূসা (আঃ) আরশের একটি পায়া ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। আমি জানি না, তিনিও বেহুঁশ লোকদের মধ্যে ছিলেন, না তাঁর পূর্বেকার (তুর পাহাড়ের) বেহুঁশীই তাঁর জন্য যথেষ্ট হয়েছে। (৩৩৯৮, ৪৬৩৮, ৬৯১৬, ৬৯১৭, ৭৪২৭, মুসলিম ৪৩/৪২, হাঃ ২৩৭৪)  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ  ২২৫২)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)