পহেলা বৈশাখে নবাবগঞ্জের দাউদপুর বাজারে অগ্নিকান্ড

বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শিকারীপাড়া ইউনিয়নের দাউদপুর বাজারে অগ্নিকান্ডে ২টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই সময় দোকান দুটির প্রায় ২৩ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

জানা যায়, শনিবার সকাল ১০ টার দিকে লতিফের চা স্টোর দোকানের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। এ সময় মুহূর্তেই পাশের দোকানে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে।

এতে পাসের ইলেকট্রনিক্স ও স্যানেটারির দোকান  এবং লতিফের চা স্টোর সম্পন্ন পুড়ে যায়। এ সময় স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে প্রায় ২ ঘন্টা আগুন নিভানোর চেষ্টা করার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আর এ সময়ের মধ্যেই মহিউদ্দিনের ইলেকট্রনিক্স ও স্যানেটারির দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। দোহার ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিস পৌছতে প্রায় ২ ঘন্টা সময় লাগে। ততক্ষণে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ক্ষতিগ্রস্ত ইলেকট্রনিক্স ও স্যানেটারি ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন জানান, এ অগ্নিকান্ডের ফলে তার প্রায় ২৩ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আমি এখন পথে নেমে গেছি।

দোহার ফায়ার সার্ভিস স্টোশন অফিসার আব্দুল মান্নান বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়ে আগুনে লেলিহান শিখা আশপাশের দোকান গুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রতিদিনের হাদিসঃ শপথের কাফফারা

0

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অধ্যায়ঃ ৭২/ শপথের কাফফারা

আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ এরপর এর কাফফারা দশজন দরিদ্রকে (মধ্যম ধরনের) আহার্য দান (৫ঃ ৮৯) যখন এ আয়াত নাযিল হল, তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) যে হুকুম দিয়েছিলেন তা হচ্ছেঃ ফিদইয়া এর মধ্যে সাওম, সাদকা অথবা কুরবানী করা। ইবন আব্বাস, আতা ও ইকরামা থেকে বর্ণিত আছে যে, কুরআন মাজীদ যেখানে أَوْ أَوْ (অথবা অথবা) শব্দ আছে কুরআনের অনুসারীদের জন্য সেখানে ইখতিয়ার রয়েছে। নবী (সাঃ) কা’ব (রাঃ) কে ফিদইয়া আদায়ের ব্যাপারে ইখতিয়ার দিয়েছিলেন।

হাদিস নং ৬২৫১: আহমাদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) … কাব ইবনু উজরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন তিনি বললেনঃ কাছে এসো। আমি তার নিকটে গেলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমাকে কি তোমার উকুন যন্ত্রণা দিচ্ছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) অথবা সাদাকা অথবা কুরবানী করে ফিদইয়া আদায় কর। ইবনু আউন আইউব থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) হচ্ছে তিন দিন, কুরবানী হল একটি বকরী আর মিসকীনের সংখ্যা হল ছয়।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

মহান আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহ তোমাদের শপথ হতে মুক্তি লাভের ব্যবস্থা করেছেন। আল্লাহ তোমাদের সহায় আর তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময় (৬৬ঃ ২) আর ধনী ও দরিদ্র কখন কার উপর কাফফারা ওয়াজিব হয়

হাদিস নং ৬২৫২: আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক ব্যাক্তি এসে বলল, আমি ধবংস হয়ে গেছি। তিনি বললেনঃ তোমার কি অবস্থা? লোকটি বলল, রমযানে আমি আমার স্ত্রীর সাথে (দিনের বেলা) সহবাস করেছি। তিনি বললেনঃ তুমি কি একটি গোলাম আযাদ করতে সক্ষম? লোকটি বলল, না। তিনি বললেনঃ তাহলে কি তুমি দু’মাস লাগাতার সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতে পারবে? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ তা হলে কি তুমি ষাটজন মিসকীনকে খানা খাওয়াতে সক্ষম হবে? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ বস। লোকটি বসল। তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক ‘আরক’ আনা হলো যাতে ছিল খেজুর। আর ‘আরক’ হচ্ছে বড় ধরনের পরিমাপ পাত্র। তিনি বললেনঃ এটা নিয়ে যাও এবং তা সাদাকা করে দাও। লোকটি বলল, এটা কি আমার চাইতে অধিকতর অভাবীকে প্রদান করব? তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে ফেললেনঃ এমন কি তার মাড়ির দন্ত মুবারক পর্যন্ত দেখা গেল। তিনি বললেনঃ এটা তোমার পরিবারকে খাওয়াও।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৬২৫৩: মুহাম্মাদ ইবনু মাহবুব (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি বললেনঃ কি ব্যাপার? লোকটি বলল, রমযানে (দিনের বেলা) আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করে ফেলেছি? তিনি বললেনঃ তুমি কি একটি গোলাম আযাদ করতে সক্ষম? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ তাহলে কি তুমি দু’মাস লাগাতার সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতে সক্ষম? সে বলল, না। তবে কি তুমি ষাটজন মিসকীনকে খানা খাওয়াতে পারবে? লোকটি বলল, না। রাবী বলেনঃ এমন সময় এক আনসার ব্যাক্তি একটি ‘আরক’ নিয়ে উপস্থিত হল। আর আরক হচ্ছে পরিমাপ পাত্র; তার মাঝে খেজুর ছিল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটা নিয়ে যাও এবং তা সাদাকা করে দাও। সে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার চেয়ে যে অভাবী তাকে কি দান করব? সে আরও বললঃ কসম ঐ মহান সত্তার, যিনি আপনাকে হকের (দ্বীনের) সাথে প্রেরণ-করেছেন; মদিনার দু’উপত্যকার মধ্যবর্তী স্থানে আমার চেয়ে অধিক অভাবগ্রস্ত আর কেউ নেই। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যাও এগুলি তোমার পরিজনকে নিয়ে আহার করাও।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৬২৫৪: আবদুল্লাহ ইরন মাসলামা (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, আমি তো ধংস হয়ে গিয়েছি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার কি অবস্থা? লোকটি বলল, রমযানে (দিনের বেলায়) আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করেছি। তিনি বললেনঃ একটি গোলাম আযাদ করার মত কি তোমার কাছে কিছু আছে? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ তবে কি তুমি দু’মাস লাগাতার সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতে পারবে? সে বলল, না। বললেনঃ তাহলে কি তুমি ষাটজন মিসকীনকে আহার করাতে পারবে? সে বলল, আমার কাছে এখন কিছু নেই। এমন সময় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে একটি আরক আনা হল যাতে খেজুর ছিল। তখন তিনি বললেনঃ এটা নিয়ে নাও এবং তা সাদাকা করে দাও। সে বলল, আমার চেয়ে যে অধিকতর অভাবী তাকে কি দেব? সে আরও বললঃ এখানকার দু’টি উপত্যকার মাঝে আমাদের চেয়ে অভাবী তো আর কেউ নেই। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটা নিয়ে যাও এবং তোমার পরিবারকে আহার করাও।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

সকল সরকারি সেবা ৩৩৩ উদ্বোধন

সরকারি বিভিন্ন তথ্য সেবা, কর্মকর্তাদের তথ্য, বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার প্রতিকার এবং পর্যটন ও জেলা সম্পর্কিত যেকোন তথ্য যেকোন সময় সকল নাগরিকদের পৌঁছে দিতে চালু হল কল সেন্টার ৩৩৩। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টা সজীব আহমেদ ওয়াজেদ প্রধান অতিথি হিসেবে এই সেবার (৩৩৩) উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

দোহারে যুবলীগ নেতা আলমগিরের মৃত্যু

দোহার উপজেলা যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল মান্নান খানের ঘনিষ্ঠজন জহু-আলমগির খ্যাত মোঃ আলমগির শনিবার রাত ৩টায় অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা নেওয়ার পথে মৃত্যু বরণ করেছেন।তার মৃত্যুতে আওয়ামীলীগ ও সংগঠনের নেতা-কর্মিদের মাঝে নববর্ষ ১৪২৫ এর প্রথম দিনে শোকের পরিবেশ নেমে আসে। তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৪৮ বছর।  মৃত্যুকালে তিনি ২ স্ত্রী, ২পুত্র ও ১ কন্যা রেখে গিয়েছেন।  শনিবার যোহরের নামাজের পর জয়পাড়া বড় মাঠে তার নামাযের জানাযা হওয়ার কথা রয়েছে।

নবাবগঞ্জের শোল্লায় পুকুরে ২ নারীর অর্ধগলিত লাশ

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের চকের মাঝের এক পুকুর থেকে দুই নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ।

নবাবগঞ্জ থানার এসআই মো. শফিকুল ইসলাম সুমন জানান, উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের চকের মাঝখানের একটি পুকুর থেকে শুক্রবার তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এলাকাবাসী লাশ দেখে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন – উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের আজীজপুর গ্রামের মো. জামালের স্ত্রী ময়না আক্তার (৫০) ও যন্ত্রাইল এলাকার মো. ইমান আলীর স্ত্রী নার্গিস আক্তার (৪৫)।

মো. শফিকুল ইসলাম সুমন  নিউজ৩৯কে জানান “তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। দুবৃর্ত্তরা হত্যার পর লাশ গুম করার জন্য পুকুরে ফেলে দেয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতদের পরিবারের বরাতে তিনি বলেন, গত ৯ এপ্রিল থেকে তারা নিখোঁজ ছিলেন। কিন্তু এ বিষয়ে থানায় কেউ জানায়নি। কোনো অভিযোগ বা জিডিও কেউ করেনি।”

পরিবার কেন থানায় জানায়নি এসব বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে জানিয়ে এসআই শফিকুল বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

প্রতিদিনের হাদিসঃ উত্তম ব্যবহার

0

প্রতিদিনের হাদিস ৫৫৪৯:  পিতা-মাতার প্রতি উত্তম ব্যবহারকারীর দু’আ কবুল হওয়া

সাঈদ ইবনু আবূ মারইয়াম (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনজন লোক হেঁটে চলছিল। তাদের উপর বৃষ্টি শুরু হলে তারা এক পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নেয়। এমন সময় পাহাড় থেকে একটি পাথর তাদের গুহার মুখের উপর গড়িয়ে পড়ে এবং মুখ বন্ধ করে ফেলে। তাদের একজন অপরজনকে বললঃ তোমরা তোমাদের কৃত আমলের প্রতি লক্ষ্য করো, যে নেক আমল তোমরা আল্লাহর জন্য করেছ; তার ওসিলায় আল্লাহর নিকট দু’আ করো। হয়তো তিনি এটি সরিয়ে দিবেন।

তখন তাদের একজন বলল ইয়া আল্লাহ! আমার বায়োবৃদ্ধ মাতাপিতা ছিল এবং ছেটি ছোট শিশু ছিল। আমি তাদের (জীবিকার) জন্য মাঠে পশু চরাতাম। যখন সন্ধায় ফিরতাম, তখন দুধ দোহন করতাম এবং আমার সন্তানদের আগেই পিতামাতাকে পান করতে দিতাম। একদিন সেগুলো দূরে বনের মধ্যে চলে যায়। ফলে আমার ফিরতে রাত হয়। ফিরে দেখলাম তারা উভয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন। আমি যেমন দুধ দোহন করতাম, তেমনি দোহন করলাম। তারপর দুধ নিয়ে এলাম এবং উভয়ের মাথার কাছে দাড়িয়ে রইলাম। ঘূম থেকে তাদের উভয়কে জাগানো ভাল মনে করলাম না। আর তাদের আগে শিশুদের পান করানোও অপছন্দ করলাম। আর শিশুরা আমার দু’পায়ের কাছে কান্নাকাটি করছিল। তাদের ও আমার মাঝে এ অবস্থা চলতে থাকে। অবশেষে ভোর হয়ে গেল। (ইয়া আল্লাহ) আপনি জানেন যে, আমি কেবল আপনার সন্তানটির জন্যই একাজ করেছি। তাই আপনি আমাদের জন্য একটু ফাঁক করে দিন, যাতে আমরা আকাশ দেখতে পাই। তখন আল্লাহ তাদের জন্য একটু ফাঁক করে দিলেন, যাতে তারা আকাশ দেখতে পায়।

দ্বিতীয় ব্যাক্তি বললঃ ইয়া আল্লাহ! আমার একটি চাচাতো বোন ছিল। আমি তাকে এতখানি ভালবাসতাম, যতখানি একজন পুরুষ কোন নারীকে ভালবাসতে পারে। আমি তাতে একান্তভাবে পেতে চাইলাম। সে অসম্মতি জানাল, যতক্ষণ আমি তার কাছে একশ দ্বীনার উপস্থিত না করি। আমি চেষ্টা করলাম এবং একশ স্বর্ণমুদ্রা জোগাড় করলাম। এগুলো নিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করলাম। যখন আমি তার দু’পায়ের মধ্যে বসলাম, তখন সে বলল, হে আবদুল্লাহ! আল্লাহকে ভয় করো; আমার কুমারিত্ত নষ্ট করো না। তখন আমি উঠে গেলাম। ইয়া আল্লাহ! আপনি জানেন যে, কেবল আপনার সন্তুষ্টির জন্যই আমি তা করেছি। তাই আমাদের জন্য এটি ফাঁক করে দিন। তখন তাদের জন্য আল্লাহ আরও কিছু ফাঁক করে দিলেন।

শেষের লোকটি বললঃ ইয়া আল্লাহ! আমি একজন মজদুরকে এক “ফারক” চাউলের বিনিময়ে কাজে নিয়োগ করেছিলাম। সে তার কাজ শেষ করে এসে বলল, আমার প্রাপ্য দিয়ে দিন। আমি তার প্রাপ্য তার সামনে উপস্থিত করলাম কিন্তু সে তা ছেড়ে দিল ও প্রত্যাখ্যান করলো। তারপর তার প্রাপ্য আমি ক্রমাগত কৃষিকাজে খাটাতে লাগলাম। তার দ্বারা অনেকগুলো গরু ও গাধা জমা করলাম। এরপর সে একদিন আমার কাছে এসে বললঃ আল্লাহকে ভয় কর, আমার উপর যুলম করো না এবং আমার প্রাপ্য দিয়ে দাও। আমি বললামঃ গরু ও রাখালের কাছে চলে যাও। সে বললঃ আল্লাহকে ভয় করো, আমরে সাথে উপহাস করো না। আমি বললাম তোমার সঙ্গে আমি উপহাস করছি না। তুমি ঐ গরুগুলো ও তার গাধা নিয়ে যাও। তারপর সে ওগুলো নিয়ে চলে গেল। (ইয়া আল্লাহ) আপনি জানেন যে, তা আমি আপনার সন্তুষ্টি লাভের জন্যই করেছি, তাই আপনি অবশিষ্ট অংশ উন্মুক্ত করে দিন। তারপর আল্লাহ তাদের জন্য তা উন্মুক্ত করে দিলেন।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

প্রতিদিনের হাদিস ৫৫৫৫:  মুশরিক ভাইয়ের সঙ্গে সৌজন্যমূলক ব্যবহার করা

মূসা ইবনু ঈসমাঈল (রহঃ) … ইবনু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা উমর (রাঃ) এক জোড়া রেশমী ডোরাদার কাপড় বিক্রি হতে দেখেন। এরপর তিনি (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে) বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি এটি খরিদ করুন, জুমুআর দিনে, আর আপনার কাছে যখন প্রতিনিধি দল আসে তখন আপনি তা পরবেন। তিনি বললেনঃ এ সে-ই পরতে পারে, যার জন্য কল্যানের কোন অংশ নেই। এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ জাতীয় কিছু কারুকার্যময় কাপড় আসে। তিনি তা থেকে এক জোড়া কাপড় (হুল্লা) উমর (রাঃ) এর নিকট পাঠিয়ে দেন। তিনি (এসে) বললেনঃ আমি কিভাবে এটি পরবো? অথচ এ বিষয়ে আপনি যা বলার তা বলেছেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমাকে এটি পরার জন্য দেইনি, বরং এ জন্যই দিয়েছি যে তুমি ওটা বিক্রি করে দেবে অথবা অন্যকে পরতে দেবে। তখন উমর (রাঃ) তা মক্কায় তার এক ভাইয়ের কাছে পাঠিয়ে দেন, যে তখনও ইসলাম গ্রহন করে নি।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)

অধ্যায়ঃ ৬৫/ আচার ব্যবহার (كتاب الأدب)

নবাবগঞ্জ’র লিয়াকত লাকী আবারো শিল্পকলা’র মহাপরিচালক

নবাবগঞ্জ’র লাকী আবারো শিল্পকলা’র মহাপরিচালক
চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পেয়েছেন লিয়াকত আলী লাকী। দায়িত্ব পেয়ে উচ্চাসিত লাকী বলেন, ‘জেলায় জেলায় শিল্পকলা একাডেমির কাজকে আমরা বেগবান করতে চাই। সেইসঙ্গে আমরা প্রবেশ করতে চাই উপজেলা পর্যায়েও। তার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।
অভিন্ন্দন ও শুভ কামনা ঢাকা সাংবাদিক ফোরাম ও নবাবগঞ্জ বাসীর পক্ষ থেকে।

সাংস্কৃতিক অঙ্গণে অনন্য এই ব্যালক্তির গ্রামের বাড়ি ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার আগলা টিকরপুর গ্রামে। তার বাবা শেখ সাদেক আলী এবং মা মাজেদা আলী। লিয়াকত আলী লাকী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে সম্মানসহ মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ডিপ্লোমা অর্জন করেন গ্রন্থাগার বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পাশাপাশি জাপান দূতাবাস থেকে এক বছরের জাপানি ভাষা শিক্ষা কোর্স সম্পন্ন করেন। সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগী লিয়াকত আলী লাকী বুলবুল ললিতকলা একাডেমী থেকে উচ্চাঙ্গ সংগীতে ৫ বছরের সার্টিফিকেট কোর্স সম্পন্ন করেন। পরে বিভিন্ন সময় একাধারে নতুন নতুন সুর সৃষ্টি, সংগীত রচনা করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সবার হৃদয়ে।
১৯৬৪ সালে নিজ গ্রামের স্কুলে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ার সময় থেকে নাটক করতে শুরু করেছেন। শিশুকাল থেকে নাটকের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্রপাত ঘটে নিজেদের পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে অভিনয়ের মাধ্যমে। পরে স্কুলের সহপাঠী ও অন্যান্য স্থানীয় বন্ধু-বান্ধবকে একত্রিত করে দল করে কিশোর লাকী গ্রামে ঈদ-পার্বণসহ বিভিন্ন উৎসবে নাটকের নির্দেশনা দেন ও অভিনয় করেন। এভাবে গড়ে তোলেন নিজস্ব নাট্যদল ‘বাসন্তী নাট্য সংঘ’। ১৯৬৪ থেকে ১৯৭৪ পর্যন্ত প্রায় ২৫টি নাটকে অভিনয় করেছেন এবং ২৩টি নাটকে নির্দেশনা দিয়েছেন। শৈশবে নাটক তৈরিতে কাহিনী সংগ্রহ করতেন নিজেদের পাঠ্যপুস্তকের বিভিন্ন গল্প-কবিতা থেকে।

১৯৮১ সালের ৬ জুলাই একদল শিক্ষিত তরুণ নিয়ে নাট্যদল প্রতিষ্ঠা করেন। আজ অবধি তিনি লোক নাট্যদলের অধিকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। বাংলাদেশের নাটককে আন্তর্জাতিক আসরে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, নাটকের মাধ্যমে শিক্ষা ও সচেতনতা তৈরি করা, দেশে প্রথমবারের মতো একটি নাট্যতথ্য ব্যাংক স্থাপনসহ ৬টি কর্মসূচিকে সমন্বয় করতে ১৯৯০ সালে পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন।
আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে লিয়াকত আলী লাকীর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তিনি ১৯৮৪ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত গান্ধী শান্তি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশের যুব সাংস্কৃতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি ১৯৯৩ সালে মোনাকোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নাট্য উৎসব, ওয়ার্কশপ এবং ২১তম আন্তর্জাতিক থিয়েটার কংগ্রেসে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৯২ ও ১৯৯৩ সালে ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক থিয়েটার অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৯৭ সালে মোনাকোতে অনুষ্ঠিত ২৩তম আন্তর্জাতিক থিয়েটার কংগ্রেসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বসহ আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৯৮ সালের জুলাই মাসে কানাডার রাজধানী মন্ট্রিলে অনুষ্ঠিত আইএটিএর আর্টিস্টিক স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় যোগদান করেন। ১৯৯৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কোরিয়ার চুনচুন সিটি ও জাপানের তইয়ামায় আন্তর্জাতিক সেমিনার ও নাট্যোৎসবে যোগদান করেন। ২০০০ সালে জার্মানিতে এক্সপো হ্যানোভার ২০০০-এর কালচারাল ফেস্টিভালে এবং বার্লিনের ডাহলেম মিউজিয়াম অডিটরিয়ামে তার নির্দেশিত ‘তাসের দেশ’ ও ‘বাজাও বিশ্ববীণা’ বিপুলভাবে প্রশংসিত হয়। একই বছর জাপানের তইয়ামায় অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ আন্তর্জাতিক শিশু নাট্যোৎসব ‘রূপ বদলের রূপকথা’ ও ‘বাজাও বিশ্ববীণা’ বিপুল প্রশংসা অর্জন করে। ২০০১ সালে তুরস্কের ডেনিজলিতে অনুষ্ঠিত ১৭তম আন্তর্জাতিক অ্যামেচার থিয়েটার উৎসবে ‘রথযাত্রা’ বিপুলভাবে প্রশংসিত হয়।

তিনি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমানে সহসভাপতি। ইন্টারন্যাশনাল অ্যামেচার থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ কেন্দ্রের প্রধান লিয়াকত আলী লাকী এশিয়ান রিজিওনাল কমিটির সহসভাপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তিনি আইটিআই বাংলাদেশ কেন্দ্রের অনুষ্ঠান সম্পাদক। লিয়াকত আলী লাকী ২০০২ সালে তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে নির্বাচিত হন।

ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাংবাদিক ইব্রাহীম খলিল

নবাবগঞ্জের কলাকোপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, নবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাব সভাপতি, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ দপ্তর সম্পাদক  ইব্রাহীম খলিল ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় ইউ এন ও জনাব মোঃ তোফাজ্জল হোসেন এর হাত হতে ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কেষ্ট গ্রহন করেন কলাকোপা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান  ইব্রাহীম খলিল। এ সময় উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম জালাল শিমু উপস্থিত ছিলেন।  উল্লেখ্য  স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো আওয়ামীলিগের কোন প্রার্থী ইব্রাহীম খলিল এর মাধ্যমে কলাকোপা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হন।

দোহার-গালিমপুর সংযোগ সড়কে কার-নসিমন মর্মান্তিক সংঘর্ষঃ হাত কাটা পড়লো ড্রাইভারের

নিউজ৩৯,মেহেদিঃ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দোহার-গালিমপুর সংযোগ সড়কের আড়িয়াল বিল চকে এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় ডান হাত হারিয়েছেন প্রাইভেট কার চালক সুমন আহমেদ। তার বয়স আনুমানিক ২৫। সুমনের বাবার নাম আব্দুর রহিম। বাড়ী দোহারের বটিয়া গ্রামে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিক আড়িয়াল বিল চকে ঢাকা থেকে দোহারগামী এবং দোহার থেকে নবাবগঞ্জের গালিমপুরগামী একটি বেপোরয়া নসিমনের সংঘর্ষ হয়। এতে নসিমনটি প্রাইভেট কারের উপরে উঠে যায়, ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ প্রাইভেট কার চালক সুমনের ডান হাত কাটা পড়ে। এ সময় আশেপাশ থেকে লোকজন ও টহল পুলিশ এসে সুমনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকাস্থ মিডফোর্ড হাসপাতালে পাঠায়।  সেখানে সে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। পরে সুমনের ছোটভাই মামুন এসে কাটা হাতটি নিয়ে যায়, কিন্তু মিডফোর্ড হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক হাত আর জোড়া দেয়া সম্ভব নয় বলে জানান।

প্রতিদিনের হাদিসঃ ঈমান

0

হাদিস নং ০৯: নাবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীঃ ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত।

وَهُوَ قَوْلٌ وَفِعْلٌ وَيَزِيدُ وَيَنْقُصُ قَالَ اللهُ تَعَالَى : }لِيَزْدَادُوا إِيمَانًا مَعَ إِيمَانِهِمْ وَزِدْنَاهُمْ هُدًى{ }وَيَزِيدُ اللهُ الَّذِينَ اهْتَدَوْا هُدًى{ }وَالَّذِينَ اهْتَدَوْا زَادَهُمْ هُدًى وَآتَاهُمْ تَقْوَاهُمْ{ وَقَوْلُهُ }وَيَزْدَادَ الَّذِينَ آمَنُوا إِيمَانًا{ وَقَوْلُهُ }أَيُّكُمْ زَادَتْهُ هَذِهِ إِيمَانًا{ فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا فَزَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَقَوْلُهُ جَلَّ ذِكْرُهُ }فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَانًا{ وَقَوْلُهُ تَعَالَى }وَمَا زَادَهُمْ إِلاَّ إِيمَانًا وَتَسْلِيمًا{ وَالْحُبُّ فِي اللهِ وَالْبُغْضُ فِي اللهِ مِنَ الإِيْمَانِ وَكَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ إِلَى عَدِيِّ بْنِ عَدِيٍّ إِنَّ لِلْإِيمَانِ فَرَائِضَ وَشَرَائِعَ وَحُدُودًا وَسُنَنًا فَمَنْ اسْتَكْمَلَهَا اسْتَكْمَلَ الإِيْمَانَ وَمَنْ لَمْ يَسْتَكْمِلْهَا لَمْ يَسْتَكْمِلْ الإِيْمَانَ فَإِنْ أَعِشْ فَسَأُبَيِّنُهَا لَكُمْ حَتَّى تَعْمَلُوا بِهَا وَإِنْ أَمُتْ فَمَا أَنَا عَلَى صُحْبَتِكُمْ بِحَرِيصٍ وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ صلى الله عليه وسلم }وَلَكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِي{ وَقَالَ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ اجْلِسْ بِنَا نُؤْمِنْ سَاعَةً وَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ الْيَقِينُ الإِيْمَانُ كُلُّهُ وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ لاَ يَبْلُغُ الْعَبْدُ حَقِيقَةَ التَّقْوَى حَتَّى يَدَعَ مَا حَاكَ فِي الصَّدْرِ وَقَالَ مُجَاهِدٌ }شَرَعَ لَكُمْ{ مِنْ الدِّينِ أَوْصَيْنَاكَ يَا مُحَمَّدُ وَإِيَّاهُ دِينًا وَاحِدًا وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ }شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا{ سَبِيلاً وَسُنَّةً

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বাণীঃ ইসলামের স্তম্ভ হচ্ছে পাঁচটিঃ মুখে স্বীকার এবং কাজে পরিণত করাই হচ্ছে ঈমান এবং তা বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়।* আল্লাহ্ তা‘আলা বলেনঃ ‘‘যাতে তারা তাদের ঈমানের সঙ্গে ঈমান মজবুত করে নেয়- (সূরাহ্ ফাত্হ ৪৮/৪)। আমরা তাদের সৎ পথে চলার শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছিলাম- (সূরাহ্ কাহাফ ১৮/১৩)। এবং যারা সৎপথে চলে আল্লাহ্ তাদের অধিক হিদায়াত দান করেন- (সূরাহ্ মারইয়াম ১৯/৭৬)। এবং যারা সৎপথ অবলম্বন করে আল্লাহ্ তাদের হিদায়াত বাড়িয়ে দেন এবং তাদের সৎপথে চলার শক্তি বাড়িয়ে দেন- (সূরাহ্ মুহাম্মাদ ৪৭/১৭)। যাতে মু’মিনদের ঈমান বেড়ে যায়- (সূরাহ্ মুদ্দাসসির ৭৪/৩১)। আল্লাহ্ তা‘আলা আরো বলেন, এটা তোমাদের মধ্যে কার ঈমান বাড়িয়ে দিল? যারা মু’মিন এ তো তাদের ঈমান বাড়িয়ে দেয়- (সূরাহ্ আত্-তাওবাহ ৯/১২৪)। এবং তাঁর বাণী, ‘‘সুতরাং তোমরা তাদের ভয় কর; একথা তাদের ঈমানের দৃঢ়তা বাড়িয়ে দিল’’- (সূরাহ্ আলে-ইমরান ৩/১৭৩)। ‘‘এতে তাদের ঈমান ও আনুগত্য আরও বৃদ্ধি পেল’’- (সূরাহ্ আহযাব ৩৩/২২)।

আর আল্লাহর জন্য ভালবাসা ও আল্লাহর জন্য ঘৃণা করা ঈমানের অংশ। ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয (রহ.) ‘আদী ইবনু ‘আদী (রহ.)-এর নিকট এক পত্রে লিখেছিলেন, ‘ঈমানের কতকগুলো ফার্য (ফরয), কতকগুলো হুকুম-আহকাম, বিধি-নিষেধ এবং সুন্নাত রয়েছে। যে এগুলো পরিপূর্ণরূপে আদায় করে তার ঈমান পূর্ণ হয়। আর যে এগুলো পূর্ণভাবে আদায় করে না, তার ঈমান পূর্ণ হয় না। আমি যদি বেঁচে থাকি তবে অচিরেই এগুলো তোমাদের নিকট ব্যক্ত করব, যাতে তোমরা তার উপর ‘আমল করতে পার। আর যদি আমার মৃত্যু হয় তাহলে জেনে রাখ, তোমাদের সাহচর্যে থাকার জন্য আমি আকাঙ্ক্ষিত নই।’

ইবরাহীম (‘আ.) বলেন, ‘তবে এ তো কেবল চিত্ত প্রশান্তির জন্য’- (সূরাহ্ আল-বাক্বারাহ ২/২৬)। মু‘আয (রাঃ) বলেন, ‘‘এসো আমাদের সঙ্গে বস, কিছুক্ষণ ঈমানের আলোচনা করি।’’ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) বলেন, ‘ইয়াকীন হল পূর্ণ ঈমান।’ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, ‘বান্দা প্রকৃত তাকওয়ায় পৌঁছতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত সে, মনে যে বিষয় সন্দেহের সৃষ্টি করে, তা পরিত্যাগ না করে।’ মুজাহিদ (রাঃ) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘‘অর্থাৎ হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি আপনাকে এবং নূহকে একই ধর্মের আদেশ করেছি’’- (সূরাহ্ শূরা ৪২/১৩)। ইবনু ‘আববাস (রাঃ) বলেন, ‘‘অর্থাৎ পথ ও পন্থা’’- (সূরাহ্ আল-মায়িদাহ ৫/৪৮)।

}قُلْ مَا يَعْبَأُ بِكُمْ رَبِّي لَوْلاَ دُعَاؤُكُمْ{ وَمَعْنَى الدُّعَاءِ فِي اللُّغَةِ الإِيْمَانُ.

এ মর্মে আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘বলে দিন, আমার প্রতিপালক তোমাদের একটুও পরোয়া করবেন না যদি তোমরা ‘ইবাদাত না কর’’- (সূরাহ্ আল-ফুরক্বান ২৫/৭৭)। অভিধানে দু‘আর অর্থ করা হয়েছেঃ ‘‘ঈমান’’।

৮. ইবন ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ইসলামের স্তম্ভ হচ্ছে পাঁচটি। ১. আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল-এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা। ২. সালাত কায়িম করা। ৩. যাকাত আদায় করা। ৪. হাজ্জ সম্পাদন করা এবং ৫. রমাযানের সিয়ামব্রত পালন করা। (৪৫১৪; মুসলিম ১/৫ হাঃ ১৬, আহমাদ ৬০২২, ৬৩০৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭)

* কোন কোন ফকীহদের নিকট ঈমান বাড়েও না কমেও না। বরং সমান থাকে। তাদের নিকট একজন নবীর ঈমান ও ইবলিসের ঈমান এক সমান। তাদের এই ‘আকীদাহ কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী। এটা মুরজি’আহ সম্প্রদায়ের ভ্রান্ত ‘আকীদাহর অন্তর্ভুক্ত।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

পুনঃনিরীক্ষণঃ

বর্ণনাকারী রাবীঃ আবদুল্লাহ ইব্‌ন উমর (রাঃ)

হাদিস নং ০১১:  ২/৩. ঈমানের বিষয়সমূহ

وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى: }لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَآتَى الْمَالَ عَلَى حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّائِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلاَةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِينَ الْبَأْسِ أُولَئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَأُولَئِكَ هُمْ الْمُتَّقُونَ{ وَقَوْلِهِ }قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ{ الآيَةَ.

আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘কোন পুণ্য নেই পূর্ব এবং পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফেরানোতে; কিন্তু পুণ্য আছে কেউ ঈমান আনলে আল্লাহর উপর, আখিরাতের উপর, ফেরেশতাদের উপর, সকল কিতাবের উপর, আর সকল নাবী-রাসূলদের উপর, এবং অর্থ দান করলে আল্লাহ প্রেমে আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতিম, মিসকীন, মুসাফির, সাহায্যপ্রার্থী এবং দাস মুক্তির জন্য, সালাত কায়িম করলে, যাকাত দিলে, কৃত প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করলে আর অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধ বিভ্রাটে ধৈর্যধারণ করলে। এরাই হল প্রকৃত সত্যপরায়ণ, আর এরাই মুত্তাকী’’- (আল-বাক্বারাহ ২/১৭৭)। ‘‘অবশ্যই সফলতা লাভ করেছে মুমিনগণ’’- (সূরাহ্ মুমিনূন ২৩/১)।

৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঈমানের ষাটেরও অধিক শাখা আছে। আর লজ্জা হচ্ছে ঈমানের একটি শাখা। (মুসলিম ১/১২ হাঃ ৩৫, আহমাদ ৯৩৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

পুনঃনিরীক্ষণঃ

বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)