প্রতিদিনের হাদিসঃ রাষ্ট্রক্ষমতা ও প্রশাসন

0

হাদিস নং ৪৫৫০: আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা ইবনু কানাব, কুতায়বা ইবনু সাঈদ, যুহায়র ইবনু হারব ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “জনগণ এর বিষয়ে (প্রশাসনিক ব্যাপারে) কুরায়শদের অনুসারী। মুসলিমরা তাদের মুসলমানদের এবং কাফেররা তাঁদের কাফেরদের (অনুসারী)।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৪৫৫১: মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’ (রহঃ) … হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে যে সকল হাদীস রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেন তন্মধ্যে একটি হল যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকজন এই ব্যাপারে কোরায়শের অনুসারী মুসলিমরা মুসলিমদের অনুসারী এবং কাফেররা কাফেরদের অনুসারী।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৪৫৫৪: কুতায়বা ইবনু সাঈদ ও রিফা’আ ইবনু হায়সাম ওয়াসেতী (রহঃ) … সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি আমার পিতার সঙ্গে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলাম। তখন আমরা তাঁকে বলতে শুনলাম, শাসন ক্ষমতার ব্যাপারটা চলতে থাকবে যতক্ষন না উম্মাতের মধ্যে বারজন খলীফা অতিবাহিত হবেন। তারপর তিনি কিছু বললেন, যা আমার কাছে অস্পষ্ট ছিল। তখন আমি আমার-পিতাকে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বললেন? তিনি বললেন যে, তিনি বলেছেন, তাদের সকলেই হবে কুরায়শ বংশোদ্ভূত।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৪৫৮০: উকবা ইবনু মুকাররাম আম্মী (রহঃ) … আবূল আসওয়াদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, মা’কিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) পিড়িত হলেন। তখন উবায়দুল্লাহ ইবনু যিয়াদ তাঁকে রোগ শয্যায় দেখতে যান। অবশিষ্ট অংশ মা’কিল থেকে হাসান (রহঃ) এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৪৫৮১:  শায়বান ইবনু ফাররুখ (রহঃ) … হাসান (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জনৈক সাহাবী আ’ইয ইবনু আমর (রাঃ) একদা উবায়দুল্লাহ ইবনু যিয়ার এর কাছে গেলেন। তখন তিনি তাকে লক্ষ্য করে বললেন, বৎস! আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি নিকৃষ্টতম রাখাল (দায়িত্বশীল ও প্রশাসক) হচ্ছে অত্যাচারী শাসক। তুমি তাদের অন্তর্তুক্ত হওয়া থেকে সাবধান থাকবে। তখন সে বললো, বসে পড়! তুমি হচ্ছো নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণের ভূষি স্বরূপ। জবাবে তিনি বললেন, তাঁদের মধ্যেও কি ভূষি রয়েছে? ভূষি তো তাদের পরবর্তীদের এবং অন্যান্যদের মধ্যে।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৪৫৮২:  যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যে (ভাষণ দিতে) দাঁড়ালেন এবং (আমানতের ও গনীমতের) মাল আত্মসাৎ প্রসঙ্গে আলোচনা করলেন। তিনি বিষয়টিকে ভয়াবহ ও অতি ভয়ংকর রূপে উপস্থাপন করলেন। তারপর বললেনঃ আমি তোমাদের কাউকে কিয়ামত দিবসে যেন এমন অবস্থায় উপস্থিত না পাই যে, আওয়াজকারী উট তার ঘাড়ের উপর সাওযার আর সে বলছে (ফরিয়াদ করছে) ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে সাহায্য করুন! আমি তখন বলবোঃ তোমার ব্যাপারে আমার কিছু করার ক্ষমতা নেই। আমি (এর পূর্বেও) তোমাকে (এ ব্যাপারে) জানিয়ে দিয়েছি।

আমি যেন কিয়ামত দিবসে তোমাদের কাউকে এমন অবস্থায় না পাই যে, ভ্যাঁ ভ্যাঁ কারী ছাগল তার ঘাড়ে রয়েছে। সে বলছে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে সাহায্য করুন। তখন আমি বলবোঃ তোমার ব্যাপারে আমার কিছু করার ক্ষমতা নেই, আমি তো তোমাকে আগেই জানিয়ে দিয়েছি। আমি তোমাদের কাউকে যেন কিয়ামত দিবসে এমন অবস্থায় উপস্থিত না পাই যে, কোন আর্তনাদরতকে সে বয়ে নিয়ে আসছে আর ফরিয়াদ করবে, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে সাহায্য করুন। আর আমি বলবোঃ তোমার ব্যাপারে আমার কিছু করার ক্ষমতা নেই। আর আমি (ইতিপূর্বেই তা) তোমার নিকট প্রচার করেছি। আমি তোমাদের কাউকে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় যেন উপস্থিত না পাই যে, তার ঘাড়ের উপর পতপত করে কাপড় উড়ছে আর সে ফরিয়াদ করছে, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে সাহায্য করুন। আমি বলবো যে, তোমার ব্যাপারে আমার কিছু করার ক্ষমতা নেই। আমি তো (ইতি পুর্বেই তা) তোমাকে জানিয়ে রেখেছি। আর এমন যেন না হয় যে, কিয়ামতের দিন তোমাদের মধ্যকার কাউকে এ অবস্থায় পাই যে, তার ঘাড়ে স্বর্ণ, রৌপ্য নিয়ে আসবে আর ফরিয়াদ করবে, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে সাহায্য করুন। আর আমি বলবোঃ আমার তোমাকে সাহায্য করার কোন সাধ্য নেই, আমি তো (পূর্বেই সে বিষয়ে) তোমাকে অবহিত করে এসেছি।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)

অধ্যায়ঃ রাষ্ট্রক্ষমতা ও প্রশাসন

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ঢাকা-১ এর আসন ভাগের শুনানি আজ বুধবার

বহুল আলোচিত ঢাকা-১ সংসদীয় আসন ভাগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে আজ বুধবার শুনানির দিন নির্ধারন করা হয়েছে। দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১ সংসদীয় আসন আলাদা করার জন্য আজ সকাল ১০টায় শুনানির দিন ধার্য করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।

আসন ভাগ করার জন্য আবেদনকারী গ্র্যাজুয়েট এস্যোসিয়েশন অব দোহারের প্রতিষ্ঠাকালিন সভাপতি আইয়ুব আলী ও ঢাকা-২ এর সাবেক সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ নিউজ৩৯ এ এই তথ্য জানান। বুধবার সকাল ১০ টা থেকে শুরু হওয়া এই শুনানিতে অংশ গ্রহন করার জন্য দোহার-নবাবগঞ্জের সকল নাগরিকদের আহবান জানিয়েছেন  আইয়ুব আলী ও হারুন অর রশিদ।

গাড়ির ধাক্কায় ভেঙ্গে পড়েছে দোহার উপজেলা সীমানা প্রাচীর

জয়পাড়া থেকে গালিমপুর হয়ে ঢাকার দিকে চলে যাওয়া সড়কের কলেজের পুকুরের সামনে বাস ও গাড়ী রাখাটা যেন একটা স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিনত হয়েছিল।  এই রোডে নিয়মিতভাবে জয়পাড়া পরিবহনের বাস ও বিভিন্ন জনের ট্রাক রাখার কারনে জয়পাড়া কলেজ মোড়ের যানজটের অন্যতম প্রধান কারন হয়ে দাড়িয়েছিল। উপজেলা সীমানা প্রাচীর ঘেষে রাখা বাসের ধাক্কায় অবশেষে ভেঙ্গে পড়লো দোহার উপজেলা সীমানা প্রাচীর।

সম্প্রতিক সময়ে দোহার জয়পাড়া কলেজের সামনে উপজেলা সীমানা প্রাচীর ঘেষে অস্থায়ীভাবে চালু হইয়াছে অনস্ট্রিট পার্কিং ব্যবস্থা। এই রাস্তাটি দোহারে জয়পাড়ার  অতি পরিচিত এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে আর এই রাস্তার পাশ দিয়ে অটো, সি এন জি, বাস ইত্যাদি পার্কিং করে রাখা হয়। যার কারনে এখান দিয়ে জয়পাড়া টু ঢাকা গামী বাস গুলো যেতে কষ্ট হয়ে যায় আর এই কারনে জয়পাড়া কলেজ মোড়ের যানজট প্রাই লেগে থাকে। ফলে এই সড়ক দিয়ে যাতায়েত কারী হাজারো মানুষ প্রতিনিয়ত পড়ছে ভোগান্তিতে।

আর এই পার্কিং ব্যবস্থার কারনে রাস্তার পাশে উপজেলার ওয়ালটি ভেঙ্গে যায় কিছু দিন আগে। এই অযথা পার্কিং এর কারনে ওয়ালটি ধসে পরে যায় কয়েকদিন আগে। এ রাস্তায় যত্রতত্র পার্কিংয়ের জন্য সৃষ্ট যানজটে জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে স্কুল ও কলেজ এর শিক্ষার্থীরা।

নবাবগঞ্জে স্বামীকে বিষপান করিয়ে হত্যা; স্ত্রী আটক

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় স্বামীকে শরবতের সাথে বিষপান করিয়ে হত্যার অভিযোগে স্ত্রীকে আটকের পর পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় বারুয়াখালী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে নবাবগঞ্জ থানার বারুয়াখালী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিহতের স্ত্রীকে একমাত্র আসামি করে একটি হত্যার অভিযোগ দায়ের করেছেন নিহতের বড় ভাই কাদের বেপারী।

এসআই কামরুল বলেন, শুক্রবার সকালে উপজেলার শিকারীপাড়া ইউনিয়নের চর সোনাতলা গ্রামে শরবতের সাথে বিষ মিশিয়ে তার স্বামী মান্নান বেপারীকে (৪২) পান করিয়ে আটককৃত রুনা আক্তার (২৬) হত্যা করে বলে শনিবার পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।

নিহত মান্নান বেপারী (৪২) ঐ গ্রামের সামিজ উদ্দিন বেপারীর ছেলে।

এলাকাবাসী জানায়, শনিবার সকালে মান্নান তার স্ত্রীর কাছে পানি চাইলে স্ত্রী রোনা শরবত তৈরি করে স্বামীকে দেন। শরবত খাওয়ার পর তিনি যন্ত্রণায় ছটফট করে চিৎকার করেন। এ সময় মান্নানের স্বজনরা তাকে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে প্রেরণ করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকালে তার মৃত্যু হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মৃতের এক নিকট আত্মীয় জানান, মান্নান দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে চাকরি করছিলেন। কিছুদিন আগে ৪ মাসের ছুটিতে বাড়িতে আসেন। দীর্ঘদিন ধরে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক দন্দ চলছিলো বলে জানান তিনি।

আটককৃত রুনা নিহত মান্নানের স্ত্রী ও ঐ ইউনিয়নের মধ্য সোনাবাজু গ্রামের মৃত তাইজউদ্দীনের মেয়ে।

এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। মামলার পর আটক রুনাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার আদালতে পাঠানোর কথা রয়েছে বলে জানান এসআই কামরুল।

মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ায় নবাবগঞ্জে কলেজ ছাত্রের উপর হামলা

মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে নবাবগঞ্জ উপজেলায় মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় নাফিউল আরেফিন সানজিল (২১) নামে এক কলেজ ছাত্র আহত হয়েছে। শনিবার দুপুরে নবাবগঞ্জ থানায় এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

আহত সানজিল উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। সে দোহার নবাবগঞ্জ কলেজে বিবিএসের প্রথম বর্ষের ছাত্র। গত ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় উপজেলার কলাকোপা উকিল বাড়ির সামনে এঘটনা ঘটে।

অভিযোগে জানা যায়, ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় সানজিল আলহাদিপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বাড়ি ফিরছিল। পথে আলহাদিপুর গ্রামের ইব্রাহীম, ইউসূফ, ইমন, শিপনসহ ১০-১২জন মিলে দেশি অস্ত্র দিয়ে সানজিলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এতে সানজিল গুরুতর আহত হয় এবং মুখের সামনের তিনটি দাঁত ভেঙে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।

নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক আশরাফুল আলম তালুকদার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দোহারে মাদক ব্যবসায়ী আটক

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্যসহ মোহাম্মদ শাহীন (৪০) নামে এক মাদক বিক্রেতাকে আটক করেছে র‍্যাবের সদস্যরা। শনিবার (২১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এসময় তার কাছে ৫০ পিস ইয়াবা, ২৪ গ্রাম হেরোইন, মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত ২টি মোবাইল ফোন ও মাদক বিক্রির ৯৫ হাজার ৪শ জব্দ করা হয়েছে। রাত ১২টার দিকে র‍্যাব-১১ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১১ মুন্সিগঞ্জ এর একটি দল কোম্পানী কমান্ডার এএসপি মো. মহিতুল ইসলাম এর নেতৃত্বে শাহিনের লটাখোলা বিলেরপাড়ের বসত বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময়  ২৪ গ্রাম হিরোইন ও ৫০ পিস ইয়াবাসহ তাকে আটক করে। এই সময় মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহ্নত ২টি মোবাইল সেট ও নগদ ৯৫৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

উক্ত আসামীর বিরুদ্ধে দোহার থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান র‍্যাব-১১।

বই পড়ি, জীবন গড়ি- আজ বিশ্ব বই দিবস

আজ ২৩ এপ্রিল, সোমবার, বিশ্ব বই দিবস। জাতিসংঘের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কোর উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছরর প্রতিবছর এই দিবসটি পালন করা হয়। বই দিবসের এবারের মূল প্রতিপাদ্য হলো, ‌’বই পড়া, বই ছাপানো, বইয়ের কপিরাইট সংরক্ষণ করা ইত্যাদি বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো।’

বিশ্ব বই দিবসের মূল ধারণাটি আসে স্পেনের লেখক ভিসেন্ত ক্লাভেল আন্দ্রেসের কাছ থেকে। ১৬১৬ সালের ২৩ এপ্রিল মারা যান স্পেনের আরেক বিখ্যাত লেখক মিগেল দে থের্ভান্তেস। আন্দ্রেস ছিলেন তার ভাবশিষ্য। নিজের প্রিয় লেখককে স্মরণীয় করে রাখতেই ১৯২৩ সালের ২৩ এপ্রিল থেকে আন্দ্রেস স্পেনে পালন করা শুরু করেন বিশ্ব বই দিবস।

এরপর ১৯৯৫ সালে ইউনেস্কো দিনটিকে বিশ্ব বই দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং পালন করতে শুরু করে। সে থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিবছর ২৩ এপ্রিল বিশ্ব বই দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

এই দিবসকে কেন্দ্র করে সোমবার বিকেলে ঢাকায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে ’আলোকিত প্রজন্মের জন্য সৃজনশীল বই পড়ার গুরুত্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এ সভায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২৩ এপ্রিল শুধু বিশ্ব বই দিবসই নয়, শেক্সপিয়র, সত্যজিৎ রায়, ইনকা গার্সিলাসো ডে লা ভেগাসহ প্রমুখ খ্যাতিমান সাহিত্যিকদের জন্ম ও প্রয়ান দিবসও। আর তাই ২৩ এপ্রিলকে বিশ্ব বই দিবস হিসেবে পালনের এটিও অন্যতম একটি কারণ বলে মনে করেন অনেকেই।

 মনিষীদের মতে নীচের দশটি কারণে প্রতিটি মানুষেরই নিয়মিত বই পড়া দরকার-

১) মানসিক উদ্দীপনা বাড়াতে-স্থবির মনের উদ্দীপনা বাড়াতে বইয়ের চেয়ে ভালো আর কিছুই হতে পারেনা।

২) স্ট্রেস কমানো- খুবই মানসিক চিন্তায় আছেন। সুন্দর একটি বই পড়া শুরু করুন। দেখবেন অবসাদ কমে যাচ্ছে।

৩)জ্ঞান বাড়াতে- কথা একটাই বই হলো জ্ঞানের ভাণ্ডার।

৪) শব্দভান্ডার বিস্তার- একমাত্র বই পড়ার মাধ্যমেই আপনি নতুন শব্দভাণ্ডারে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পারেন।

৫)স্মৃতি উন্নয়ন-বই আপনার স্মরণশক্তি বাড়াতে দারুন এক কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

৬) বিশ্লেষণাত্মক চিন্তার দক্ষতা- বই পড়ার মাধ্যমে আপনার যেকোনো একটা বিষয়ে বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা অথবা দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

৭)চিন্তার উৎকর্ষতা – শুধু যে আপনি ভালো বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা অর্জন করবেন তা না। ভালো বই পাঠ চিন্তার উৎকর্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে।

৮)ভাল লেখার ক্ষমতা- বই পড়লে শুদ্ধ করে, সুন্দর শব্দ চয়নে লিখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৯)প্রশান্তি- মানসিক প্রশান্তি বাড়াতে বই এর চেয়ে ভালো আর কিছুই হতে পারেনা।

১০) বিনোদন-নির্জনতায় নিজের মতো করে শব্দহীন বিনোদন চান। নিজের মাঝে নির্মল পরিবেশের সুন্দর একটি আবহ তৈরী করতে চান। তবে বই, বই আর বই।

আজ বিশ্ব বই দিবসে লেখক, পাঠক, মুদ্রাকর, ছাপাকর্মী, বইয়ের বিপণনকারী এক কথায় বইয়ের সাথে সম্পৃক্ত সবাইকে বিশ্ববই দিবসের শুভেচ্ছা। বই পড়ি, জীবন গড়ি।

প্রতিদিনের হাদিসঃ ভাগ্য পরীক্ষা বা ভাগ্য গননা

0

হাদিস নং ৩৮৬৪: মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) – – – আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন গণকের নিকট যায়; রাবী মূসা বলেনঃ আর সে ব্যক্তি তার কথায় বিশ্বাস করে; অথবা সে তাঁর স্ত্রীর নিকট গমন করে। রাবী মুসাদ্দাদ (রহঃ) বলেনঃ অথবা সে তার স্ত্রীর পশ্চাদদ্বারে সংগম করে; সে যেন আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর নাযিলকৃত দীন হতে মুক্ত (অর্থাৎ গুমরাহ) হলো।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩৮৬৬: কা’নাবী (রহঃ) – – – যায়দ ইবন খালিদ জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়াতে আমাদের সঙ্গে ফজরের সালাত আদায় করেন। তখন রাত্রিতে কিছু বৃষ্টি হওয়ার চিহ্ন বাকী ছিল। সালাত শেষে তিনি লোকদের বলেনঃ তোমরা কি জান, তোমাদের রব কি বলেছেন? সাহাবীগণ বলেনঃ এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেছেন, ফজরের সময় আমার কিছু বান্দা মু’মিন এবং কিছু সংখ্যক কাফির হয়ে গেছে। যারা এরূপ বলেছেঃ আমরা আল্লাহর রহমত ও বরকতে পানি পেয়েছি, তারা তারা তো আমার প্রতি বিশ্বাসী এবং তাঁরার প্রভাবের প্রতি অবিশ্বাসী। পক্ষান্তরে যারা এরূপ বলেছেঃ অমুক অমুক তারা আমার অস্বীকারকারী এবং তারার প্রতি বিশ্বাসী।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩৮৬৮: ইবন বাশশার (রহঃ) – – – মুহাম্মদ ইবন জা’ফর (রাঃ) থেকে বর্ণনা। তিনি বলেনঃ আওফুল-ইয়াফা’ হলো- ভাল-মন্দ নির্ধারণের জন্য পাখী উড়িয়ে দেওয়া এবং ‘তুরুক’ হলো- জ্যোতিষীদের মাটিতে দাগ কেটে শুভ-অশুভ নির্ণয়ের প্রথা।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩৮৬৯: মুহাম্মদ ইবন কাছীর (রহঃ) – – – আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার বলেনঃ পাখীর শুভাশুভ নির্ণয় করা শিরক। এ ব্যাপারে যদি কারো মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়, তবে তা মহান আল্লাহ তাঁর প্রতি তাওয়াককুলের কারণে দূর করে দেবেন।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩৮৭১: মুহাম্মদ ইবন মুতাওয়াক্কিল (রহঃ) – – – আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন রোগ ছোঁয়াচে নয়, কোন বস্তুতে শুভাশুভের কোন প্রভাব নেই, না সফর মাস অমঙ্গলের মাস এবং না কোন মৃতের খুলিতে পেঁচার প্রভাব আছে। তখন জনৈক আরাবী বলেনঃ যদি এরূপ অবস্থা হয়, তবে মরুভূমির উটদের ব্যাপারে কি? যারা হরিণের মত সুস্থ হয়, পরে যখন তাদের সাথে কোন খোস- পাঁচড়া উট মিলিত হয়, তবে সবই ঐ রোগে আক্রান্ত হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তবে প্রথম উটটি কিরূপ খোস- পাঁচড়া বিশিষ্ট হয়?

রাবী মুআম্মার(রহঃ) বলেন, ইমাম যুহরী বলেছেনঃ আমার নিকট এক ব্যক্তি আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেন, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  কে বলতে শোনেনঃ অসুস্থ উটকে সুস্থ উটের সাথে পানি পান করানোর জন্য আনা যাবে না। ঐ ব্যক্তি আবূ হুরায়রা (রাঃ) –এর কাছে গিয়ে বলেনঃ আপনি কি এ হাদীছ আমাদের কাছে বর্ণনা করেন নি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন রোগ ছোঁয়াচে নয়, সফর মাসে অমঙ্গলের মাস নয়, আর না মৃতের খুলিতে পেঁচার প্রভাব আছে? তিনি (আবূ হুরায়রা রা) বলেনঃ আমি তো এরূপ হাদীছ বর্ণনা করিনি।

 ইমাম যুহরী (রহঃ) বলেনঃ হাদিছটি আবূ সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত। অথচ হাদীছটি আবূ হুরায়রা (রাঃ) নিজেই বর্ণিত করেন, (কিন্তু পরে তিনি তা ভুলে যান)। রাবী বলেনঃ আমি এ হাদীছ ছাড়া আর কোন হাদীছ সম্পর্কে শুনিনি যে, আবূ হুরায়রা (রা) ভুলে গেছেন।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩৮৭৫: মুহাম্মদ ইবন মুসাফফা (রহঃ) – – – রাবীআ’ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি মুহাম্মদ ইবন রাশিদ (রাঃ) –কে জিজ্ঞাসা করি যে, নবী (রাঃ) –এর কথা ‘হাম’ শব্দের অর্থ কি? তিনি বলেন : জাহিলী যুগে লোকেরা এরূপ মনে করতো যে, মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর তার আত্মা পেঁচার রূপ ধারণ করতো। এরপর আমি জিজ্ঞাসা করি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর ‘সফর’ শব্দের অর্থ কি? তিনি বলেন : জাহিলী যুগে  লোকেরা সফর মাসকে অমঙ্গলের মাস হিসাবে বিবেচনা করতো, এজন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ না, সফর মাস এরূপ নয়।

মুহাম্মদ ইবন রাশেদ বলেনঃ আমরা শুনেছি, কোন কোন লোক এরূপ বলতো যে, সফর মাসে এক ধরনের  পেটের ব্যথা হতো, যে জন্য তারা বলতো, এটি ছোঁয়াচে রোগ। এ করনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ না, সফর মাস এরূপ নয়, যেরূপ তোমরা ধারণা কর।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থ:সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)

পাবলিশার:ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মেহেরপুরের মোমিনুলের আর্সেনিকমুক্ত প্লান্ট আবিস্কার

মেহেরপুর সদর উপজেলার উজ্জলপুর গ্রামের টিউবয়েলের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল গ্রামটির প্রতিটি টিউবয়েলে লাল চিহ্ন দিয়ে পানিপানে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে গত দেড়যুগ আগে। গ্রামের এক প্রান্তে সেভ দি চিলড্রেণ আর্সেনিকমুক্ত পানির রিমুভ্যাল প্লান্ট স্থাপন করেছে। সেখান থেকে গ্রামের মানুষকে অর্থের বিনিময়ে সুপেয় পানি সংগ্রহ করতে হয়। গ্রামের দুস্থ পরিবারগুলো সেখান থেকে পানি সংগ্রহ করতে পারেনা। গ্রামের মানুষকে সুপেয় পানি দিতে ওই গ্রামেরই এক যুবক মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক দূর করার কাজে ফিল্টার আবিস্কার করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এখন গ্রামের মানুষ তার বাড়ি থেকে আর্সেনিকমুক্ত সুপেয় পানি সংগ্রহ করছে। মৃত লুৎফর রহমান এর ছেলে মোমিনুল ইসলাম এ প্লান্ট আবিস্কার করায় তাকে এখন সকলেই সমীহ করে।

সরেজমিনে উজ্জলপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় গ্রামের নারী পুরুষ সেখান থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছে। মোমিনুল জানায়- প্রটোটাইপটি তৈরি করতে একটি টিনের ড্রাম আর ড্রামের মাঝখানে একটি ফিল্টার বসানো হয়েছে। তবে এতে বিদ্যুৎ ও কেমিক্যালের ব্যবহার করা হয়নি। মর্ধাকর্ষণ শক্তিকে কৃত্রিম শক্তিতে রূপান্তর করে কাজ করা হয় ফিল্টারটিতে। ফিল্টারের মধ্যে বালি ও কাঠ কয়লা নির্দিষ্ট পরিমাণে ব্যবহার আছে। ফিল্টারেশনের কারণে পানিতে যে ময়লা জমা হয় তা একটি পাইপের মাধ্যমে উপর দিয়ে বের হয়ে ডাস্ট পটে জমা হয়। তার পাশেই রয়েছে নিরাপদ পানি বের হওয়ার পাইপ। যার মাথাই দুটি সুইচ ব্যবহার করা হয়েছে। সুইচের মাধ্যমে পানির প্রবাহকে বাড়ানো কমানো যায়। আর্সেনিকের পাশাপাশি আয়রন ম্যঙ্গানিজ, টারবেডিটি, রং দুর্গন্ধসহ অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান ও ব্যাক্টেরিয়া দূর করতে সক্ষম ফিল্টারটি। আবিস্কৃত এই যন্ত্রে প্রতিদিন ৮০ লিটার পানি ফিল্টার করতে সক্ষম। কিন্তু আর্থিক সংকটে সে বৃহৎ আকারে কাজ শুরু করতে পারছে না। বৃহৎ আকারে কাজ শুরু করলে সাকুল্যে ৪শ টাকা খরচ করে এ প্লান্ট বাজারজাত সম্ভব বলে আশা করছেন মোমিনুল।

২০০৬ সালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ গ্রামটিতে নলকূপের পানি পরীক্ষা করে অতিরিক্ত আর্সেনিকের কারণে ভূগর্ভস্থ থেকে টিউবয়েলে তোলা পানিপানে নিষেধ করে। এসময় মোমিনুল পেপসির বোতল আর মাটির কলসে আর্সেনিক ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বানিয়ে খেলা করে। মোমিনুল ২০১৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে মাস্টার্স শেষ করে গ্রামে ফিরে আসে। এসময় গ্রামের মানুষকে সুপেয় পানি দিতে গবেষণা শুরু করে। ফলপ্রসু হতে তার তিনবছর সময় লাগে। ইতোমধ্যে মেহেরপুর সদর উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মাকবুলার রহমানের সহায়তায় উদ্ভাবকের প্রতিবেশীর অগভির নলকূপ ও প্রোটাইপের পানির নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ঝিনাইদহ জেলার আঞ্চলিক পানি গবেষণাগারে ওই পানির পরীক্ষা করা হলে আশাব্যঞ্চক ফল পাওয়া যায়। নলকূপের পানিতে ০.২১৮ মিলিগ্রাম প্রতি লিটারে আর্সেনিক পাওয়া গেলেও প্রটোটাইপে পাওয়া যায় ০.০১ মিলিগ্রাম পরে ওই আঞ্চলিক পানি গবেষণা কেন্দ্রে উদ্ভাবকের নলকূপের পানি ও প্রটোটাইপ ফিল্টারের পানি পরীক্ষা করে। নলকূপের পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা ০.৩৯৬ মিলিগ্রাম, আয়রন ১৩.০৬ মিলিগ্রাম, ম্যঙ্গানিজ ১.০২ মিলি গ্রাম পাওয়া যায়। অথচ ফিল্টার করার পরে ওই পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা ০.০৬৯ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৭৪ মিলিগ্রাম, ম্যঙ্গানিজ ০.০৫ মিলি গ্রাম পাওয়া যায় । পরবর্তীতে প্রটোটাইপটি কিছুটা উন্নত করা হলে ওই আর্সেনিকের মাত্রা ০.৩৯৬ থেকে ০.০০৯ মিলিগ্রাম, আয়রন ১৩.০৬ থেকে ০.০০ মিলিগ্রাম পাওয়া যায় । কিছুদিন পর অন্য প্রতিবেশী মোঃ মোস্তাকিন শাহ্ এর নলকূপের পানি ও উক্ত পানি ফিল্টার করে পরীক্ষা করা হয়। এতে আর্সেনিকের মাত্রা আসে ০.১৮১ মিলিগ্রাম থেকে ০.০০৭ মিলিগ্রাম পাওয়া যায় । জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঝিনাইদহ জেলার আঞ্চলিক পানি গবেষণা কেন্দ্রের জুনিয়র কেমিস্ট কানাই লাল দাস ও নজরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত টেস্ট রিপোর্ট থেকে এর সত্যতা পাওয়া যায়।

মেহেরপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল গফুর মোল্লা জানান, হাউজহোল্ড ফিল্টার ও কৃত্তিম কূপটি যথাযথভাবে মূল্যায়ণ করা দরকার। বাজারে যে সব ফিল্টার পাওয়া যায় সেগুলো আয়রন ফিল্টার করতে পারলেও আর্সেনিক ফিল্টারে কার্যকরী নয়। মোমিনুলের ফিল্টারটি বাজারজাত হলে ভুক্তভোগীরা ব্যবহার করে নিরাপদ পানি পেতে পারেন।

প্রতিদিনের হাদিসঃ মানুষ ও জীবের প্রতি দয়া

0

হাদিস নং ৬০১০: আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  একবার সালাতে দন্ডায়মান। আমরাও তাঁর সঙ্গে দন্ডায়মান হলাম। এ সময় এক বেদুঈন সালাতের মাঝেই বলে উঠলোঃ হে আল্লাহ! আমার ও মুহাম্মাদের উপর দয়া করো এবং আমাদের সঙ্গে আর কারো উপর দয়া করো না। নাবী  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফিরানোর পর বেদুঈন লোকটিকে বললেনঃ তুমি একটি প্রশস্ত ব্যাপারকে সংকুচিত করেছো অর্থাৎ আল্লাহর দয়া। আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৭২)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৬০১১: নু‘মান ইবনু বাশীর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বলেছেনঃ পারস্পরিক দয়া, ভালবাসা ও সহানুভূতি প্রদর্শনে তুমি মু’মিনদের একটি দেহের মত দেখবে। যখন শরীরের একটি অঙ্গ রোগে আক্রান্ত হয়, তখন শরীরের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রাত জাগে এবং জ্বরে অংশ নেয়। [মুসলিম ৪৫/১৭, হাঃ ২৫৮৬, আহমাদ ১৮৪০১] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৭৩)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৬০১২: আনাস ইবনু মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিম যদি গাছ লাগায়, আর তাত্থেকে কোন মানুষ বা জানোয়ার কিছু খায়, তবে তা তার জন্য সদাকাহ্য় পরিগণিত হবে। [২৩২০] আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৭৪)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৬০১৩: জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে সৃষ্টির প্রতি) দয়া করে না, আল্লাহর পক্ষ থেকে) তার প্রতি দয়া করা হয় না। [৭৩৭৬; মুসলিম ৪৩/১৫, হাঃ ২৩১৯] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৭৫)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদাত কর, কিছুকেই তাঁর শরীক করো না এবং মাতা-পিতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম অভাবগ্রস্ত, নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী, সাথী, মুসাফির এবং তোমাদের আয়ত্তাধীন দাস-দাসীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ ঐ লোককে ভালবাসেন না, যে অহংকারী, দাম্ভিক। (সূরাহ আন্-নিসা ৪/৩৬)

হাদিস নং ৬০১৪: ‘আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি নাবী  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাকে জিব্রীল আঃ) সর্বদা প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসীয়ত করতে থাকেন। এমনকি, আমার ধারণা হয়, শীঘ্রই তিনি প্রতিবেশীকে ওয়ারিস করে দিবেন। [মুসলিম ৪৫/৪২, হাঃ ২৬২৪, আহমাদ ২৪৩১৪] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৭৬)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৬০১৫:  ইবনু ‘উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বলেছেনঃ জিবরীল আঃ) সর্বদা আমাকে প্রতিবেশীর ব্যাপারেঅসীয়ত করে থাকেন। এমনকি আমার ধারণা হয় যে, শীঘ্রই তিনি প্রতিবেশীকে ওয়ারিস করে দিবেন। [মুসলিম ৪৫/৪২, হাঃ ২৬২৫, আহমাদ ২৬০৭২] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৭৭)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৬০১৬:  আবূ শুরায়হ্ থেকে বণিত। নাবী  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বলছিলেনঃ আল্লাহর শপথ! সে ব্যক্তি মু’মিন নয়। আল্লাহরশপথ! সে ব্যক্তি মু’মিন নয়। আল্লাহর শপথ! সে ব্যক্তি মু’মিন নয়। জিজ্ঞেস করা হলোঃ হে আল্লাহর রাসূল! কে সে লোক? তিনি বললেনঃ যে লোকের প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে না। [মুসলিম ১/১৮, হাঃ ৪৬, আহমাদ ৮৮৬৪] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৭৮)

ভিন্ন সূত্রে অনুরূপ একটি হাদীস আবূ হুরাইরাহ  হতেও বর্ণিত হয়েছে।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)

অধ্যায়ঃ ৭৮/ আচার-ব্যবহার (كتاب الأدب)

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন