প্রতিদিনের হাদিসঃ যুলম ও কিসাস

0

হাদিস নং ২২৭৮: ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মু’মিনগণ যখন জাহান্নাম থেকে নাজাত পাবে, তখন জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে এক পুলের উপর তাদের আটকে রাখা হবে। তখন পৃথিবীতে একের প্রতি অন্যের যা যা জুলুম ও অন্যায় ছিল, তার প্রতিশোধ গ্রহণের পরে যখন তারা পরিচ্ছন্ন হয়ে যাবে, তখন তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। সেই সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, নিশ্চয়ই তাদের প্রত্যেকে পৃথিবীতে তার আবাসস্থল যেরূপ চিনত, তার চাইতে অধিক তার জান্নাতের আবাসস্থল চিনতে পারবে।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২২৭৯: মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … সাফওয়ান ইবনু মুহরিয আল- মাযিনী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আমি ইবনু উমর (রাঃ) এর সাথে তাঁর হাত ধরে চলছিলাম। এ সময় এক ব্যাক্তি এসে বলল, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর মু’মিন বান্দার একান্তে কথাবার্তা সম্পর্কে আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কি বলতে শুনেছেন? তখন তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা’আলা মু’মিন ব্যাক্তিকে নিজের কাছে নিয়ে আসবেন এবং তার উপর স্বীয় আবরণ দ্বারা তাকে ঢেকে নিবেন। তারপর বলবেন, অমুক পাপের কথা কি তুমি জানো? তখন সে বলবে, হ্যাঁ, হে আমার প্রতিপালক। এভাবে তিনি তার কাছ থেকে তার পাপগুলো স্বীকার করিয়ে নিবেন। আর সে মনে করবে যে, তার ধ্বংস অনিবার্য। তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, আমি পৃথিবীতে তোমার পাপ গোপন করে রেখেছিলাম। আর আজ আমি তা মাফ করে দিব। তারপর তার নেকের আমলনামা তাকে দেওয়া হবে। কিন্তু কাফির ও মুনাফিকদের সম্পর্কে স্বাক্ষীরা বলবে, এরাই তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে মিথ্যা বলেছিল। সাবধান, জালিমদের উপর আল্লাহর লা’নত।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২২৮০: ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু বুকাইর (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলমান মুসলমানের ভাই। সে তার উপর জুলুম করবে না এবং তাকে জালিমের হাতে সোপর্দ করবে না। যে কেউ তার ভাইয়ের অভাব পুরণ করবে আল্লাহ তার অভাব পূরণ করবেন। যে ব্যাক্তি (পৃথিবীতে) কোন মুসলমানের বিপদ দূর করবে, আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন তার বিপদসমূহ দূর করবেন। যে ব্যাক্তি কোন মুসলমানের দোষ গোপন করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন করবেন।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২২৮১: উসমান ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমার ভাইকে সাহায্য কর, সে জালিম হোক অথবা মাজলুম (অর্থাৎ জালিম ভাইকে জুলুম থেকে বিরত রাখবে এবং মাজলুম ভাইকে জালিমের হাত থেকে রক্ষা করবে)।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২২৮২:  মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমার ভাইকে সাহায্য করো, সে জালিম হোক অথবা মাজলুম। তিনি (আনাস) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মাজলুমকে সাহায্য করব, তা তো বুঝলাম। কিন্তু জালিমকে কি করে সাহায্য করব? তিনি বললেন, তুমি তার হাত ধরে তাকে বিরত রাখবে (অর্থাৎ তাকে যুলুম করতে দিবে না)।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২২৮৩: সাঈদ ইবনু রাবী (রহঃ) … বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সাতটি বিষয়ে আদেশ দিয়েছেন এবং সাতটি বিষয়ে নিষেধ করেছেন। তারপর তিনি উল্লেখ করেলেন, পীড়িতের খোঁজখবর নেওয়া, জানাযার অনুসরণ করা, হাঁচির জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ্‌ বলা, সালামের জওয়াব দেওয়া, মাজলুমকে সাহায্য করা, আহবানকারীর প্রতি সাড়া দেওয়া, কসমকারীকে দায়িত্ব মুক্ত করা।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২২৮৪: মুহাম্মদ ইবনু আলা (রহঃ) … আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক মু’মিন আর এক মু’মিনের জন্য ইমারত তুল্য, যার এক অংশ আর এক অংশকে সুদৃঢ় করে। আর তিনি তাঁর এক হাতের আঙ্গুল আর এক হাতের আঙ্গুলে প্রবেশ করিয়ে দেখালেন।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২২৮৫: আহ্‌মদের ইবনু ইউনুস (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যুলম কিয়ামতের দিন অনেক অন্ধকারের রূপ ধারন করবে।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২২৮৬: ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু মূসা (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুআয (রাঃ) কে ইয়মানে পাঠান এবং তাকে বলেন, মাজলুমের ফরিয়াদকে ভয় করবে। কেননা তার ফরিয়াদ এবং আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২২৮৭: আদম ইবনু আবূ ইয়াস (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি তার ভাইয়ের সম্ভ্রম হানী বা অন্য কোন বিষয়ে জুলুমের জন্য দায়ী থাকে, সে যেন আজই তার কাছ থেকে মাফ করায়ে নেয়, সে দিন আসার পূর্বে যে দিন তার কোনো দ্বীনার বা দিরহাম থাকবে না। সে দিন তার কোনো সৎকর্ম থাকলে তার জুলুমের পরিমাণ তা তার নিকট থেকে নেওয়া হবে আর তার কোনো সৎকর্ম না থাকলে তার প্রতিপক্ষের পাপ থেকে নিয়ে তা তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।

আবূ আবদুল্লাহ‌ (ইমাম বুখারী) (রহঃ) বলেন, ইসমাঈল ইবনু উয়াইস (রহঃ) বলেছেন, সাঈদ আল-মাকবুরী (রহঃ) কবরস্থানে পার্শ্বে অবস্থান করতেন বলে তাকে আল-মাকবুরী বলা হত। আবূ আবদুল্লাহ‌ (ইমাম বুখারী) (রহঃ) এও বলেছেন, সাঈদ আল-মাকবুরী হলেন, বনূ লাইসের আযাদকৃত গোলাম। ইনি হলেন সাঈদ ইবনু আবূ সাঈদ। আর আবূ সাঈদের নাম হলো কায়সান।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)

অধ্যায়ঃ  যুলম ও কিসাস

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইতালিতে ছিনতাইকারীর হাতে নবাবগঞ্জের যুবক খুন

ইতালির বাণিজ্যিক নগরী মিলানে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে শামসুল হক স্বপন নামে (২৩) এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, গত বৃহস্পতিবার কাজ সেরে সিনিসেল্লো বালসামো থেকে সেন্ট্রালের দিকে বাসায় ফিরছিলেন স্বপন। পথে মিলানোর সেত্তেমবিরিনি নামক একটি রাস্তার পিয়াচ্ছা কাইয়াচ্ছোতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে মৃত্যু বরণ করে।(ইন্না নিল্লাহী ওয়া ইন্না ইলাহী রাজিউন)। স্থানীয় সময় আনুমানিক রাত ২টা ৩৫ মিনিট এ ঘটনা ঘটে। নিহত স্বপনের বাড়ি ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী গ্রামে।  এর পিতা আনোয়ার হোসাইন।

স্বপন ইতালির মিলানে দীর্ঘ ৫বছর যাবত থাকতেন।তিনি পিয়াচ্ছা দোমোর করদোসিওতে একটি রেষ্টুরেন্টে কাজ করতেন।

এ ঘটনায় মরক্কোর দুই নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত চলছে। নিহত স্বপন এক বছর আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

এ ঘটনায় ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভেতর আতঙ্ক বিরাজ করছে, এবং মিলন কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে । জানা গেছে মিলানোস্থ নিগোয়ারদা হাসপাতালে তার লাশ রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য ইতালির বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতেই ঘটনাটি বাঙালি কমিউনিটির দৃষ্টি গোছর হয়েছে। এবিষয়ে বাংলাদেশী কমিউনিটির পক্ষ থেকে বিচারের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচীর উদ্যোগ গ্রহন করেছে।

প্রতিদিনের হাদিসঃ জান্নাত

0

হাদিস নং ২৫২৩:  আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতে এক বিশাল গাছ আছে, যার ছায়াতলে যে কোন যাত্রী একশত বছর ধরে চলতে থাকবে (কিন্তু তা অতিক্রম করে যেতে পারবে না)। সহীহঃ বুখারী (৩২৫২)।

আনাস ও আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২৫২৪: আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতে এমন একটি গাছ আছে, যার ছায়াতলে যে কোন যাত্রী একশত বছর ধরে চলতে থাকবে কিন্তু তা অতিক্রম করে যেতে পারবে না। আর এটাই হলো (কুরআনে বর্ণিত) “সম্প্রসারিত ছায়া”। (সূরা ওয়াকিআহ ৩০) সহীহঃ বুখারী, মুসলিম।

আবূ ঈসা বলেনঃ আবূ সাঈদ (রাঃ)-এর বর্ণনা হিসেবে হাদীসটি হাসান গারীব।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২৫২৫: আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতের প্রতিটি গাছের কাণ্ডই স্বর্ণ দ্বারা নির্মিত।

সহীহ, তা’লীকুর রাগীব (৪/২৫৭)।

আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আবূ সাঈদের বর্ণনা হিসেবে গারীব।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২৫২৬: আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল আমাদের কি হলো যে, আমরা দুনিয়ার প্রতি উদাসীন হয়ে যাই এবং আমাদেরকে পরকালবাসীদের অন্তর্ভুক্ত মনে করতে থাকি। তারপর আপনার কাছ থেকে সরে গিয়ে পরিবার-পরিজনের নিকট ফিরে গিয়ে দুনিয়াবী কাজে জড়িয়ে পড়ি এবং সন্তানাদির সুগন্ধ পেতে থাকি, তখন আমাদের অবস্থা সম্পূর্ণ উল্টো হয়ে যায়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা যে অবস্থায় আমার নিকট হতে বেরিয়ে যাও, সবসময় যদি সেই অবস্থায় থাকতে তাহলে ফেরেশতারা তোমাদের বাড়ীতে গিয়ে তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ করতো। আর তোমরা অপরাধ না করলে আল্লাহ তা’আলা নতুন প্রাণী সৃষ্টি করতেন। যাতে তারা অপরাধ করে আর তিনি তাদেরকে ক্ষমা করেন।

আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি প্রশ্ন করলামঃ হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! কি দিয়ে প্রাণী সৃষ্টি করা হয়েছে? তিনি বললেনঃ পানি দিয়ে। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, কি দিয়ে জান্নাত তৈরি করা হয়েছে? তিনি বললেনঃ সোনা-রুপার ইট দিয়ে। একটি রূপার ইট, তারপর একটি সোনার ইট, এভাবে গাথা হয়েছে। এর গাথুনির উপকরণ (চুন-সুরকি-সিমেন্ট) সুগন্ধি মৃগনাভি এবং কংকরসমূহ মণি-মুক্তার ও মাটি হলো জাফরান। জান্নাতে প্রবেশকারী লোক অত্যন্ত সুখ-স্বাচ্ছন্দে থাকবে, কোন দুঃখ-কষ্ট ও অভাব-অনটন তাকে স্পর্শ করবে না। সে অনন্তকাল এতে অবস্থান করবে আর মৃত্যুবরণ করবে না। না তার পরনের পোশাক পুরাতন হবে আর না তার যৌবনকাল শেষ হবে (অনন্তযৌবনা হবে)।

তিনি পুনরায় বললেনঃ তিনজনের দু’আ ফিরিয়ে দেয়া হয়নাঃ ন্যায়পরায়ণ শাসকের দু’আ, রোযাদারের ইফতারের সময়কালীন দু’আ এবং মাযলুমের দু’আ আল্লাহ তা’আলা একে (মায়ালুমের দু’আ) মেঘমালার উপর তুলে নেন, তার জন্য আকাশের দরজাসমূহ উন্মুক্ত হয়ে যায় এবং আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ আমার ইজ্জাত ও সম্মানের শপথ! কিছু দেরিতে হলেও আমি তোমাকে সাহায্য করবো।

“কি দিয়ে প্রাণী সৃষ্টি করা হয়েছে” অংশটুকু ব্যতীত হাদীসটি সহীহ, সহীহাহ (২/৬৯২-৬৯৩), গাইয়াতুল মারাম (৩৭৩)।

আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসের সনদ খুব একটা মজবুত নয়। আর আমার মতে এর সনদসূত্র মুত্তাসিল (পরস্পর সংযুক্ত) নয়। এই হাদীসটি অন্য সনদেও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২৫২৭: আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতের প্রাসাদগুলো এমন হবে যে, এর ভিতর থেকে বাইরের সবকিছু দেখা যাবে এবং বাইরে থেকে ভিতরের সবকিছু দেখা যাবে। এক বেদুঈন উঠে দড়িয়ে প্রশ্ন করলে, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসব প্রসাদ কাদের জন্য? তিনি বললেনঃ যারা উত্তম ও সুমধুর কথা বলে, ক্ষুধার্তকে খাবার দেয়, প্রায়ই রোযা রাখে এবং লোকেরা রাতে ঘুমিয়ে থাকাবস্থায় জাগ্রত থেকে আল্লাহ তা’আলার জন্য নামায আদায় করে তাদের জন্য। হাসানঃ তা’লীকুর রাগীব (২/৪৬), মিশকাত (১২৩৩)।

আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি গারীব। কোন কোন হাদীস বিশারদ আবদুর রাহমান ইবনু ইসহাকের স্মৃতিশক্তির সমালোচনা করেছেন। তিনি কুফার বাসিন্দা। অন্যদিকে আবদুর রাহমান ইবনু ইসহাক আল-কুরাশী মাদীনার অধিবাসী। ইনি প্রথম ব্যক্তির চাইতে বেশি নির্ভরযোগ্য।

হাদিসের মানঃ  হাসান (Hasan)

হাদিস নং ২৫২৮: আবদুল্লাহ ইবনু কাইস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতে দুটি বাগান আছে, যার সকল পাত্রসমূহ ও অন্যান্য সামগ্রী রুপা দিয়ে নির্মিত এবং আরো দুটি বাগান আছে, যার পাত্রসমূহ ও এতে যা কিছু আছে সবই স্বর্ণ দিয়ে নির্মিত। আর আদন নামক জান্নাতে মানুষ ও তাদের পালনকর্তার সাক্ষাতের মাঝে মহাপরাক্রমশালীর গৌরবের চাদর ছাড়া আর কিছুই অন্তরাল থাকবে না। “সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (১৮৬), বুখারী, মুসলিম।

একই সনদে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ জান্নাতে মণি-মুক্তা দিয়ে নির্মিত একটি তাবুর প্রস্থ ষাট মাইল। এর প্রতিটি কোণে এক একজন করে হুর থাকবে। অন্যরা তাকে দেখতে পাবে না। ঈমানদারগণ তাদের (নিজ নিজ হুরের) নিকট যাতায়াত করবে। সহীহঃ বুখারী (৩২৪৩), মুসলিম (৮/১৪৮)।

আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ ইমরান আল-জাওনীর নাম ‘আবদুল মালিক ইবনু হাবীব। আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রাহঃ) বলেন, আবূ বকর ইবনু আবূ মূসার নাম অজানা। আবূ মূসা আল-আশ’আরী (রাযিঃ)-এর নাম ‘আবদুল্লাহ ইবনু কাইস। আবূ মালিক আল-আশ’আর (রাযিঃ)-এর নাম সা’দ ইবনু তারিক ইবনু আশইয়াম।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২৫২৯: আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতের একশত স্তর (ধাপ) রয়েছে। প্রত্যেক দু স্তরের মাঝখানে রয়েছে একশত বছরের ব্যবধান। সহীহঃ সহীহাহ (৯২২), মিশকাত (৫৬৩২)।

আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান গারীব।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত]

অধ্যায়ঃ জান্নাতের বিবরণ

পাবলিশারঃ হুসাইন আল-মাদানী

মুকসুদপুরে নছিমন চাপায় রিক্সা চালক আহত

দোহারের মুকসুদপুরে ট্রাক্টর-ইঞ্জিনচালিত নছিমনের চাপায় রিক্সা চালক ফজলু (৫০) নামে এক রিকশাচালক গুরতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুকসুদপুরের গোড়াবন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা নিউজ৩৯ কে জানান,রিকশাচালক ফজলু রাস্তার সাইট দিয়ে তার রিকশাচালিয়া যাচ্ছিলেন কিন্তু নছিমন চালক পিছন দিক দিয়ে রিকশা ধাক্কা দিয়ে উলটে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু এলাকাবাসি নছিমন চালক রাসেদুলকে আটক করে থানায় সোপোর্দ করে।  রাসেদুল নবাবগঞ্জের পুরান বান্দুরার ইউনুস বেপারীর ছেলে। আহত রিকশাচালক ফজলু(৫০) কে স্থানীয় আব্দুর রাজ্জাক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

কর্তব্যরত ডাক্তার নিউজ৩৯ কে বলেন, ফজলু(৫০) এর বুকের (কলারবোন) হার ভেঙে গিয়েছে, এবং তাকে ভর্তি রাখা হয়েছে। শুক্রবার বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তারা পরবর্তী পদেক্ষেপ গ্রহন করবে।

প্রতিদিনের হাদিসঃ বিবাহ

0

অধ্যায়ঃ বিবাহ করার ফযীলাত।

হাদিস নং ১৮৪৫: ‘আলক্বামাহ ইবনু কায়েস (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ)-এর সাথে মিনায় উপস্থিত ছিলাম। ‘উসমান (রাঃ) এসে তাঁর সাথে একান্তে কথা বলেন। আমিও তার নিকটেই বসলাম। ‘উসমান (রাঃ) তাঁকে বলেন, আমি কি তোমার সাথে এক কুমারী মেয়ের বিবাহ দিবো, যে তোমার অতীত যৌবনের কথা স্মরণ করিয়ে দিবে? ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) যখন দেখলেন যে, তার উদ্দেশ্য কেবল বিবাহ করার উৎসাহ প্রদান করা, তখন তিনি আমাকে হাতের ইশারায় ডাকলেন। আমি তার নিকটে গেলাম এবং তিনি তখন বলছিলেন, তুমি যদি এ কথায় রাযী হয়ে যেতে। কেননা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যার বিবাহ করার সামর্থ্য আছে, সে যেন বিবাহ করে। কেননা তা দৃষ্টিশক্তিকে সংযতকারী এবং লজ্জাস্থানের হেফাজতকারী। আর যার এ সামর্থ্য নেই, সে যেন রোযা রাখে। কেননা এটি তার জন্য জৈবিক উত্তেজনা প্রশমনকারী।

সহীহুল বুখারী ১৯০৫, ৫০৬৫, ৫০৬৬, মুসলিম ১৪০০, তিরমিযী ১০৮১, নাসায়ী ২২৩৯, ২২৪০, ২২৪১, ২২৪২, ২২৪৩, ৩২০৬, ৩২০৭, ৩২০৮, ৩২০৯, ৩২১১, আবূ দাউদ ২০৪৬, আহমাদ ৩৫৮১, ৪১০১, দারেমী ২১৬৫, ২১৬৬, ইরওয়াহ ১৭৮১, সহীহ আবী দাউদ ১৭৮৫, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ১৮৪৬ : ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)  থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিবাহ করা আমার সুন্নাত। যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত মোতাবেক কাজ করলো না সে আমার নয়। তোমরা বিবাহ করো, কেননা আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্যান্য উম্মাতের সামনে গর্ব করবো। অতএব যার সামর্থ্য আছে সে যেন বিবাহ করে এবং যার সামর্থ্য নেই সে যেন রোযা রাখে। কারণ রোযা তার জন্য জৈবিক উত্তেজনা প্রশমনকারী।

হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। সহীহাহ ২৩৮৩। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী ঈসা বিন মায়মুন সম্পর্কে আবু বকর আল বায়হাকী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি মিথ্যার সাথে অভিযুক্ত। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইমাম তিরমিযি বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল ছিলেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী ও ইমাম যাহাবী তিনি দুর্বল। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল, তিনি মুনকার। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৬৬৭, ২৩/৪৮ নং পৃষ্ঠা) উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।

হাদিসের মানঃ  হাসান (Hasan)

হাদিস নং ১৮৪৭: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু’জনের পারস্পরিক ভালোবাসা স্থাপনের জন্য বিবাহের বিকল্প নেই।

হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। সহীহাহ ৬২৪। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন মুসলিম সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আলী আল-জুরজানী বলেন, তিনি সালিহ। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি প্রত্যেক অবস্থায় দুর্বল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে মুখস্ত হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৬০৪, ২৬/৪১২ নং পৃষ্ঠা)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ১৮৪৮: সা‘দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উসমান ইবনু মাযঊন (রাঃ)-এর স্ত্রী সংসর্গ ত্যাগ করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি তাকে অনুমতি দিলে আমরা অবশ্যই নপুংসক হয়ে যেতাম।

সহীহুল বুখারী ৫০৭৪, মুসলিম ৪০০২, তিরমিযী ১০৮৩, নাসায়ী ৩২১২, আহমাদ ১৫১৭, ১৫২৮, ১৫৯১, দারেমী ২১৬৭, ২১৬৯, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু মারওয়ান মুহাম্মাদ বিন উসমানী সম্পর্কেআবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন ও সিকাহ রাবীর বিপরীত হাদিস বর্ণনা করেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইমাম বুখারী তাকে সত্যবাদী বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৪৫৪, ২৬/৮১ নং পৃষ্ঠা)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ১৮৪৯: সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রী সংসর্গ ত্যাগ করতে নিষেধ করেছেন। যায়দ ইবনু আখ্যামের বর্ণনায় আরো আছেঃ ক্বাতাদাহ (রহ.) এ আয়াত তিলাওয়াত করেন (অনুবাদ) ‘‘আর আমি তোমার আগে রসূল পাঠিয়েছিলাম এবং তাদেরকে স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দিয়েছিলাম’’ (সূরা রাদঃ ৩৮)।

তিরমিযী ১০৮২, নাসায়ী ৩২১৪, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ্। উক্ত হাদিসের রাবী ১. বিশর বিন আদাম সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি সত্যবাদী। আবু হাতিম আর-রাযী ও ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬৭৭, ৪/৯০ নং পৃষ্ঠা) ২. মু’আয বিন হিশাম সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, আমি তার একটি মজলিসে ১৭ টি হাদিস ব্যাতিত তার থেকে কোন হাদিস গ্রহন করিনি। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো সন্দেহ করেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হুজ্জাহ নয়। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬০৩৮, ২৮/১৩৯ নং পৃষ্ঠা)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ১৮৫০: মুআবিযা বিন হাইদাহ (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলো, স্বামীর উপর স্ত্রীর কী অধিকার রয়েছে? তিনি বলেনঃ সে আহার করলে তাকেও (একই মানের) আহার করাবে, সে পরিধান করলে তাকেও একই মানের পোশাক পরিধান করাবে (অথবা তোমাদের ভরণপোষণের সাথে তাদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করবে এবং তোমাদের পোশাক-পরিচ্ছদের ব্যবস্থা করার সাথে তাদের পোশাক পরিচ্ছেদেরও ব্যবস্থা করবে)। কখনও তার মুখমন্ডলে আঘাত করবে না, অশ্লীল গালমন্দ করবে না এবং নিজ বাড়ি ছাড়া অন্যত্র তাকে একাকী ত্যাগ করবে না।

আবূ দাউদ ২১৪২, ইরওয়াহ ২০৩, মিশকাত ৩২২৯, সহীহ আবী দাউদ ১৮৫৮-১৮৬১। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ১৮৫১:  ‘আমর ইবনুল আহ্ওয়াস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বিদায় হাজ্জে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে উপস্থিত ছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করেন এবং ওয়াজ-নসীহত করেন। এরপর তিনি বলেনঃ তোমরা নারীদের সাথে উত্তম ব্যবহারের উপদেশ শুনে নাও। কেননা তারা তোমাদের নিকট আবদ্ধ আছে। এর অধিক তাদের উপর তোমাদের কর্তৃত্ব নাই যে, তারা যদি প্রকাশ্য অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়, সত্যিই যদি তারা তাই করে, তবে তোমরা তাদেরকে পৃথক বিছানায় রাখবে এবং আহত হয় না এরূপ হালকা মারধর করবে। অতঃপর তারা তোমাদের অনুগত হয়ে গেলে তাদের উপর আর বাড়াবাড়ি করো না। স্ত্রীদের উপর তোমাদের যেমন অধিকার রয়েছে, তোমাদের উপরও তাদের অধিকার আছে। তোমাদের স্ত্রীদের উপর তোমাদের অধিকার এই যে, তারা তোমাদের শয্যা তোমাদের অপছন্দনীয় লোকেদের দ্বারা মাড়াবে না এবং তোমাদের অপছন্দনীয় লোকেদেরকে তোমাদের ঘরে প্রবেশানুমতি দিবে না। সাবধান! তোমাদের উপর তাদের অধিকার এই যে, তাদের ভরণপোষণ, পোশাক-পরিচ্ছদ ও সজ্জার ব্যাপারে তোমরা তাদের প্রতি শোভনীয় আচরণ করবে।

তিরমিযী ১১৬৩, ৩০৮৭, ইরওয়াহ ১৯৯৭-২০২০। আদাবুয যিফাফ ১৫৬ তাহকীক আলবানীঃ হাসান।

হাদিসের মানঃ  হাসান (Hasan)

গ্রন্থঃ সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায়ঃ বিবাহ

পাবলিশারঃ বাংলা হাদিস

দোহারে মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় মারা গেলো শিশু ফাতিমা

শরিফ হাসান,নিউজ৩৯ঃ সকালে আনন্দ আর খুশি নিয়ে হাসিমুখে বের হয়েছিল ফাতিমা। উদ্দেশ্য দোহারের নারিশা পশ্চিম চরে খালার বাড়ী। পশ্চিম চরে পৌঁছে অটো রিকশা থেকে নেমেওছিলো হাসিমুখে। কে জানতো পিছন থেকে যমদূত এসে ঐ হাসিমুখে এনে দিবে মৃত্যুর কালো ছায়া। সবাইকে এভাবে বাকরুদ্ধ করে চলে যাবে স্রষ্টার কাছে। কে জানতো?

অনিয়ন্ত্রিত ও ব্রেকহীন অটোরিক্সার কারণে দোহার উপজেলায় অটোরিকশার ধাক্কায় ফাতেমা আক্তার (০৮) নামে একটি শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। বুধবার(২৫ এপ্রিল ) দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলার নারিশা  পশ্চিম চর  নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফাতেমা   দোহারের কুশুমহাটি ইউনিয়নের আরিতা গ্রামের মোঃকামাল হোসেনের মেয়ে।সে আওলিয়াবাদ সঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেনীর ছাত্রী।

শিশুটির ফুফু নিউজ৩৯কে জানান, ফাতেমার খালার বাড়ি নারিশা বেড়াতে যাওয়ার সময়  অটোরিকশা থেকে নামতে গেলে পিছন দিক থেকে আরেকটি অটোরিকশা তাকে ধাক্কা দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দোহার আনা হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

এই ব্যাপারে দোহার থানার ডিউটি অফিসার এস এই সিদ্দিক মামলার ব্যপারে জিজ্ঞেস করলে নিউজ৩৯ কে বলে যে এখনো পর্যন্ত কোন মামলা হয় নাই আর এই ব্যপারে হয়তো পরিবার কোন মামলা করবে না।

বাহ্রা ও কার্তিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

ঢাকার জেলার দোহার উপজেলার সর্ব পশিমের নয়াবাড়ি ও কুসুমহাটির দুটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও কার্তিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে মূল্যায়ন পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থী ছাড়াও স্বয়ং ঢাকা জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান দোহারে তার সফরের সময় তিনি এই অভিযোগের সত্যতা পেয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবাকে যথযথ ব্যবস্থা নিতে বলেন।

জানা যায়,  শিক্ষাবোর্ডের কোনের ধরনের নির্দেশনা না থাকলেও এই দুই বিদ্যালয়ে ত্রৈমাসিক মূল্যায়ন পরীক্ষা শুরু হয়। এ পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয় এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ২০০ টাকা এবং নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীর জন্য যথাক্রমে ৩৭০ ও ৪৭০ টাকা ফি ধার্য করা হয়। জানা গেছে, বিদ্যালয় দুটিতে দুই হাজারের অধিক ছাত্রছাত্রী রয়েছে।

কুসুমহাটি ইউনিয়নের কার্তিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে নেওয়া হচ্ছে মূল্যায়ন পরীক্ষা। বিদ্যালয়টিতে রয়েছে হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে মূল্যায়ন পরীক্ষার ফি।

কার্তিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ফারুক-ই-আজম নিউজ৩৯কে বলেন, মূল্যায়ন পরীক্ষা নিতে বাঁধা নেই। আর ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার মানের উন্নয়নের জন্যই এই মূল্যায়ন পরীক্ষা। আর পরীক্ষার খাতা কেনা, প্রশ্ন তৈরি করতে টাকার প্রয়োজন। তাই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি নেওয়া হয়েছে। এটা দোষের কিছু নয়।

এছাড়া দোহার উপজেলার নয়াবাড়ি ইউনিয়নের বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়েও নেয়া হচ্ছে মূল্যায়ন পরীক্ষা। এ ব্যপারে বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরজ কুমার বলেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্দেশে এই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। আর শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের আরো ভালভাবে মূল্যায়ন করতে পারে সেজন্যই এই পরীক্ষা। এতে খারাপের কি আছে বুঝতে পারছি না।

প্রতিদিনের হাদিসঃ কলহ ও বিপর্যয়

0

 

হাদিস নং ২১৫৮: আবূ উমামা ইবনু সাহল ইবনু হুনাইফ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উসমান (রাঃ) বিদ্রোহীদের দ্বারা বাড়ীতে অবরুদ্ধ থাকাকালে (বিদ্রোহীদের) বলেন, আমি আল্লাহর শপথ করে তোমাদেরকে বলছিঃ  তোমরা কি জান যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ  “তিনটি অপরাধের কোন একটি ব্যতীত মুসলমান ব্যক্তিকে খুন করা হালাল নয়? বিয়ে করার পর যিনা করা, ইসলাম কুবুল করার পর ধর্মত্যাগী হওয়া এবং কোন ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে খুন করা। এগুলোর যে কোন একটি অপরাধের কারণে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা যায়”। আল্লাহর শপথ। আমি জাহিলী আমলেও যিনা করিনি এবং ইসলাম কুবুলের পরেও নয়। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যেদিন আনুগত্যের শপথ (বাই’আত) গ্রহণ করেছি সেদিন হতে ধর্মত্যাগীও হইনি। আর এরূপ কোন প্রাণও আমি হত্যা করিনি যার হত্যা আল্লাহ তা’আলা অবৈধ করেছেন। আমাকে কি কারণে তোমরা হত্যা করবে।(সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৫৩৩), বুখারী, মুসলিম)

আবূ ঈসা বলেন, ইবনু মাসউদ, আইশা ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান। এ হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ হতে হাম্মাদ ইবনু সালামা মারফুরূপে বর্ণনা করেছেন। আর এ হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ হতে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তানসহ একাধিক বর্ণনাকারী মাওকুফভাবে বর্ণনা করেছেন, মারফুভাবে নয়। উসমান (রাঃ)-এর বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একাধিকসূত্রে এ হাদীসটি বর্ণিত আছে।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

 

হাদিস নং ২১৫৯: সুলাইমান ইবনু আমর (রাহঃ) হতে তার বাবা আমর (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বিদায় হজ্জে জনগণের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ  এটা কোন দিন? জনগণ বলল, বড় হাজের দিন। তিনি বললেনঃ  আজকের এ দিন ও তোমাদের এ শহর যেমন হারাম (মহাপবিত্র) অনুরূপভাবে তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের সন্ত্রম পরস্পরের জন্য হারাম। সাবধান! অপরাধী তার অপরাধের জন্য নিজেই দায়ী। সাবধান! সন্তানের প্রতি জনকের অপরাধ এবং জনকের প্রতি সন্তানের অপরাধ বর্তায় না। জেনে রাখো, শাইতানের কোন ইবাদাত তোমাদের এ নগরে কখনো হবে না, সে এ ক্ষেত্রে নিরাশ হয়ে গেছে। তবে তোমরা যে সকল কাজকে তুচ্ছ মনে কর অতি শীঘ্রই সে সকল কাজে তার অনুসরণ করা হবে এবং সে তাতে সন্তুষ্ট হবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৫৫)

ইবনু আমর আস-সাদী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। যাইদাও একইরকম হাদীস শাবীব ইবনু গারকাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র শাবীব ইবনু গারকাদার সূত্রেই জেনেছি।

 

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

 

হাদিস নং ২১৬০: সাইব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) হতে তার বাবার সূত্রে তার দাদা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ  তোমাদের কোন ব্যক্তি তার ভাইয়ের লাঠিতে ঠাট্টাস্বরূপ বা প্রকৃতই যেন হাত না দেয়। যদি কোন ব্যক্তি তার ভাইয়ের লাঠি নিয়ে যায় তাহলে সে যেন তাকে তা ফেরত দেয়।

 

সহীহ, লিগাইরিহি, সহীহাহ (৯২১)।

 

আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ বিষয়ে আমাদের ইবনু আবী যিবের বর্ণনা ব্যতীত আর কিছু জানা নেই। সাইব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচার্য্য পেয়েছেন। তিনি নাবালেগ থাকাকালীন সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে অনেক হাদীস শুনেছেন। সাইব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুকালে সাত বছরের বালক ছিলেন। তার বাবা ইয়াযীদ ইবনুস সাইব (রাঃ) ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যতম সাহাবী। তিনি কয়েকটি হাদীস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন নামিরের বোনের ছেলে।

 

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

 

হাদিস নং ২১৬৫: ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ‘জাবিয়া’ (সিরিয়ার অন্তর্গত) নামক জায়গায় উমর (রাঃ) আমাদের সামনে খুতবাহ দেয়ার উদ্দেশ্যে দাড়িয়ে বলেনঃ  হে উপস্থিত জনতা! যেভাবে আমাদের মাঝে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাড়াতেন, সেভাবে তোমাদের মাঝে আমিও দাড়িয়েছি। তারপর তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ  আমার সাহাবীদের ব্যাপারে আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি (তাদের যমানা শ্রেষ্ঠ যমানা), তারপর তাদের পরবর্তীদের যমানা, তারপর তাদের পরবর্তীদের যমানা, তারপর মিথ্যাচারের বিস্তার ঘটবে। এমনকি কাউকে শপথ করতে না বলা হলেও সে শপথ করবে, আর সাক্ষ্য প্রদান করতে না বলা হলেও সাক্ষ্য প্রদান করবে।

 

সাবধান! কোন পুরুষ কোন মহিলার সাথে নির্জনে মিলিত হলে সেখানে অবশ্যই তৃতীয়জন হিসাবে শাইতান অবস্থান করে (এবং পাপাচারে প্ররোচনা দেয়)। তোমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বসবাস কর। বিচ্ছিন্নতা হতে সাবধান থেকো। কেননা, শাইতান বিচ্ছিন্নজনের সাথে থাকে এবং সে দুজন হতে অনেক দূরে অবস্থান করে। যে লোক জান্নাতের মধ্যে সবচাইতে উত্তম জায়গার ইচ্ছা পোষণ করে সে যেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকে (মুসলিম সমাজে)। যার সৎ আমল তাকে আনন্দিত করে এবং বদ্‌ আমল কষ্ট দেয় সেই হলো প্রকৃত ঈমানদার।

 

সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৩৬৩)।

 

আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব। এ হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনু সূকার সূত্রে ইবনুল মুবারাকও বর্ণনা করেছেন। একাধিক সূত্রে উমার (রাঃ)-এর বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীসটি বর্ণিত আছে।

 

 

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত]

অধ্যায়ঃ ৩১/ কলহ ও বিপর্যয়

পাবলিশারঃ হুসাইন আল-মাদানী

নবাবগঞ্জে শিক্ষাবীদ আনিস উদ্দিনের ইন্তেকালঃ নিউজ৩৯ এর শোক

নবাবগঞ্জের খানেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ও দৈনিক আমাদের সময়ের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের পিতা আনিস উদ্দিন আহমেদ আর নেই (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন) । মঙ্গলবার রাজধানীর গ্রীণ লাইফ হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।অবহেলিত সমাজের জন্য নিবেদিত এই মানুষটি গত ১৫ দিন ধরে রাজধানী ঢাকার গ্রিণ লাইফ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। তার মৃত্যুতে নিউজ৩৯ পরিবার তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও শোক প্রকাশ করেছে। একই সাথে মহান আল্লাহ সুবহানুতায়ালা তাকে জান্নাত নসীবের দোয়া করেছে।

মৃত্যুকালে জনাব আনিস উদ্দিন এক ছেলে ও ৪ মেয়ে সহ অসংখ্য গুনীজণ রেখে গেছেন। প্রবীন এ শিক্ষাগুরুর মৃত্যুতে ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সালমা ইসলাম, সামাজিক সংগঠন সেভ দ্য সোসাইটি এন্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের সভাপতি এডভোকেট সাইদুর রহমান মানিক ও ঢাকা সাংবাদিক ফোরামের নেতৃবৃন্ধসহ বিভিন্ন সুধীমহল গভীর শোক প্রকাশ ও নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। মরহুমের জানাজা আগামীকাল তার গ্রামের বাড়ি নবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত হবে। প্রবীন এ শিক্ষাগুরু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাশ করে আলোকিত সমাজ গড়ার জন্য নিজ গ্রামে নির্মাণ করেছেন খানেপুর উচ্চ বিদ্যালয় নামে একটি স্কুল।
শুধু প্রতিষ্ঠা করেই ক্ষান্ত হননি।শুরু থেকেই বিনা পয়সায় প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আলো ছড়িয়েছেন অকাতরে। যিনি আনিস মাস্টার নামে পরিচিত। পরিচিত গ্রামীন সমাজের আলোকবর্তীকা হিসেবেও।

নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের মাঠে তৎপর ঢাকা-১ এর সম্ভাব্য প্রার্থীরা

বাংলাদেশের অন্যতম আলোইত সংসদীয় আসনগুলোর একটা ঢাকা-১ সংসদীয় আসন। হেভিওয়েট প্রার্থী দিয়ে বোঝাই এই সংসদীয় আসনের দিকে নজর সারা বাংলাদেশের। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক কৌতুহল।

২০০৮ সালে সীমানা পুনর্বিন্যাসে পর দোহার ও নবাবগঞ্জ দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত হয় (ঢাকা-১) আসন। এর আগের নির্বাচনে দোহার ও নবাবগঞ্জ পৃথক আসনে নির্বাচন হয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনটিতে আওয়ামী লীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট আবদুল মান্নান খান বিএনপি প্রার্থী সাবেক বিমান ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল মান্নানকে পরাজিত করেন। কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচনে সারা দেশে আওয়ামী লীগ মনোনীত মহাজোটের প্রার্থীরা নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হলেও এ আসনে মান্নান খান জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট সালমা ইসলামের কাছে পরাজিত হন। আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রচার রয়েছে- দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।

গত ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১, দোহার থেকে বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ও ঢাকা-২, নবাবগঞ্জ উপজেলা থেকে সাবেক বিমান প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান টানা তিনবার নির্বাচিত হয়েছিলেন। সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট সালমা ইসলাম জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন । ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ এডভোকেট সালমা ইসলামকে সমর্থন দেয়। ফলে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট মান্নান খান এই আসনে পরাজিত হন।

বর্তমান সময়ে এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ঢাকা-১ আসনের এমপি এডভোকেট সালমা ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কর্তব্য পালন করে আসছেন। এলাকায় তার জনপ্রিয়তাও পূর্বের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে গুরুত্বপূর্ণ এ আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এ আসন থেকে বারবার নির্বাচিত বিএনপি।

অপরদিকে জাতীয় পার্টিও আসনটি হাতছাড়া করতে চায় না। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির দুজন, আওয়ামী লীগের তিনজন ও জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী মাঠে নেমেছেন।

বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক বিমান প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক। অপরদিকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট আবদুল মান্নান খান, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট শিল্পপতি সালমান এফ রহমান, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ। বিএনপি থেকে একাধিকবার নির্বাচিত ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করায় দোহার-নবাবগঞ্জ আসনে আগামী নির্বাচনে তার চাচা সালমান এফ রহমানকে সমর্থনের ঘোষণা দেন বলে বিভিন্ন মহল থেকে জানা যায়। তিনি ঢাকা গুলশান থেকে নির্বাচন করবেন বলেও শোনা যাচ্ছে। অপরদিকে যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুলের সহধর্মিণী এডভোকেট সালমা ইসলাম ও সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকার ভোটাদের সঙ্গে যোগাযোগ অক্ষুন্ন রেখে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া এলাকায় তিনি সরকারি ও বেসরকারিভাবে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছেন। যার ফলে দোহার ও নবাবগঞ্জে তার ব্যক্তিগত ইমেজ বৃদ্ধি পেয়েছে।

নির্বাচনের ক্ষণ যতই এগিয়ে আসছে প্রার্থীরা মাঠের রাজনীতিতে মনোনিবেশ করছেন। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন।

বিএনপির প্রার্থী আবদুল মান্নান, খন্দকার আবু আশফাক। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে এডভোকেট আবদুল মান্নান খান নিয়মিত এলাকায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী তিন প্রার্থীর মধ্যে এডভোটেক আবদুল মান্নান খান, সালমান এফ রহমান ও নির্মল রঞ্জন গুহের বাড়ি ঢাকার দোহার উপজেলায়। অপর প্রার্থী পনিরুজ্জামান তরুণের বাড়ি নবাবগঞ্জ উপজেলার কোমরগঞ্জ। অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী দুজনেরই বাড়ি নবাবগঞ্জ উপজেলায়। ভোটের ক্ষেত্রে নিজ এলাকার প্রার্থীদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার প্রবণতাও রয়েছে এলাকার সাধারণ ভোটারের মধ্যে।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট শিল্পপতি সালমান এফ রহমান বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য সব নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে সভা করছি।

ঢাকা-১ আসনের বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সার্বিক সহায়তায় আমি এই অঞ্চলের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে দোহারের পদ্মার ভাঙনরোধ, বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক সংস্কার, তৈরি, নদীতে ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ ও মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা, কবরস্থানে সৌর বিদ্যুৎ দিয়ে এই অঞ্চলে উন্নয়ন করেছি। আমার ভূমিকা কতটুকু তা এই অঞ্চলের মানুষ বলবে।

তা ছাড়া আমি আগামীতেও এই এলাকার জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে এমপি নির্বাচিত করবে বলে আমি মনে করি। আগামী দিনে এই অঞ্চলে উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় শরিক হতে চাই। এ জন্য সব শ্রেণিপেশার মানুষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করি।