দোহারে মুক্তিযোদ্ধাদের মানব বন্ধন

0

সরকারি চাকরি ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের প্রতিবাদে মানব বন্ধন করেছে দোহার উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা। দোহার উপজেলা প্রশাসনের সামনে বৃহস্পতিবার এই মানব বন্ধনের আয়োজন করা হয়।

সরকারি চাকরি ক্ষেত্রে কোটা প্রথা সংস্কারের জন্য আন্দোলনের ফলে কোটা বাতিলের ঘোষনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর ফলে চাকরি ক্ষেত্রে কোটা প্রথা আর কোন কাজে আসবে না। এর প্রতিবাদে সারা দেশের মতো দোহারেও মানব বন্ধন দোহার উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা।

দোহারে মুক্তিযোদ্ধাদের মানব বন্ধন

প্রবাসীদের ভোটার করার ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রধান সমস্যা : সিইসি

0

প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভোটার করার ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকত্বই হচ্ছে প্রধান সমস্যা। কারণ পৃথিবীর অনেক দেশে দ্বৈত নাগরিকত্বের বৈধতা নেই।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর এক হোটেলে ‘প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান ও ভোটাধিকার প্রয়োগ’ শীর্ষক এক সেমিনারের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) খান মো. নূরুল হুদা বলেন, ‘প্রবাসীরা বর্তমানে প্রক্সি ভোট ও পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারেন। আগামী নির্বাচনের আগে এসব পদ্ধতি নিয়ে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালানো হবে।’

সিইসি বলেন, বাংলাদেশের এক কোটিরও বেশি নাগরিক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন। তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিতে দীর্ঘদিন ধরে দাবি রয়েছে।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম আগামী নির্বাচনে সীমিত আকারে পরীক্ষামূলকভাবে প্রবাসীদের ভোট দেয়ার বিষয়ে সুপারিশ করেন। ওই পরীক্ষার আলোকে সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে পরে সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে।

মূল প্রবন্ধে সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রবাসে ভোট গ্রহণের সুবিধা-অসুবিধার বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর প্রবাসে ভোট গ্রহণের বিষয় বিবেচনা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’ তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে প্রতিটি দূতাবাসে একটি লোকাল সার্ভার স্থাপন, প্রবাসীদের সংখ্যানুপাতে রেজিস্ট্রেশন টিম তৈরি করে কাজ এগিয়ে নেয়া এবং নিবন্ধন কাজের জন্য যন্ত্রপাতি ও দক্ষ আইটি কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রবাসে ভোটগ্রহণে প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, বিপুল সংখ্যক ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যয়, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত, সহিংসতা ঠেকানো, পোস্টাল ব্যালটের স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা রক্ষা করা’। তিনি বিদেশেই প্রবাসীদের ভোট দেয়ার ব্যবস্থা, প্রাথমিকভাবে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ ও সচেতনতা বৃদ্ধিসহ আইনি কাঠামো তৈরি করার সুপারিশ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে উন্নত বিশ্বে অবস্থান করছেন, তাদের একটি বড় অংশ সে দেশেরও নাগরিকত্ব নিয়েছেন। আবার তারা বাংলাদেশের নাগরিকত্বও বাদ দেননি।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের ভোট দেয়ার অধিকার, তাদের কীভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা যায় সেটা আলোচনা করা দরকার। পোস্টাল ভোট বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কতটুকু কার্যকর হবে তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ পদ্ধতিতে কে ভোট দিয়েছেন তা শনাক্তকরণ দুরূহ বিষয়।’

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে সেমিনারে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাখাওয়াত হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (কনস্যুলার) নাহিদা রহমান সুমনা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ইয়েমেন আকবরী, ইতালীতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আব্দুস সোবহান শিকদার, সৌদিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শফিকুল ইসলাম, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ অংশ নেন।

সেমিনারে বিশিষ্টজনরা প্রবাসে বাংলাদেশীদের ভোটের ব্যবস্থা করা সম্ভব না হলেও ভোটার করার সঙ্গে সঙ্গে অন্তত জাতীয় পরিচয়পত্র দ্রুত দেয়ার সুপারিশ করেন। সেক্ষেত্রে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) যাদের রয়েছে তাদের অগ্রাধিকার দেয়া যেতে পারে বলে তারা উল্লেখ করেন।

চূড়াইন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক জিয়াউর রহমানের মৃত্যু

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার চুড়াইন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়ন (৪৫) মৃত্যু বরন করেছেন(ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ধাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি মৃত্যু বরন করেন।

ডায়বেটিকসে আক্রান্ত জিয়াউর রহমান জিয়ন অসুস্থ হয়ে এপ্রিলের প্রথম দিকে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি হন।  তার অবস্থা আরো খারাপের দিকে গেলে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই তিনি মৃত্যু বরন করেন।মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও তিন ছেলে রেখে গেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাদ মাগরিব তার জম্মস্থান মরিচপট্টিতে তাকে দাফন  করা হয়।

প্রতিদিনের হাদিসঃ জুমাআ

0

হাদিস নং ১৮২৪: ইয়াহয়া ইবনু ইয়াহয়া তামিমী, মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ ইবনু মুহাজির ও কুতায়বা (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তোমাদের কেউ জুমু’আর সালাতে যেতে ইচ্ছা করলে সে যেন গোসল করে নেয়।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ১৮২৮: হারামালা ইবনু ইয়াহয়া (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাঃ) জুমু’আর দিনে সমবেত লোকদের সামনে খুৎবা প্রদান করছিলেন। এমন সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের মধ্য হতে জনৈক ব্যাক্তি মসজিদে প্রবশে করলেন। উমর (রাঃ) তাকে জোরে ডেকে বললেন, এটা কোন সময়? ঐ ব্যাক্তি বললেন, আমি আজ কাজে ব্যস্ত ছিলাম, ঘরে ফিরে না যেতেই আযান শুনতে পেলাম, তাই আমি উযূ (ওজু/অজু/অযু)র অতিরিক্ত কিছুই করতে পারি নি। উমর (রাঃ) বললেন; শুধুমাত্র ওযুই করেছ। অথচ তোমার জানা আছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসল করে আসার জন্য আদেশ করতেন।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ১৮৩৩: আমর ইবনু সাওয়াদ আমিরী (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক সাবালক ব্যাক্তির উপর শুক্রবারে গোসল করা ও মিসওয়াক করা কর্তব্য এবং সামর্থ অনুযায়ী সুগন্ধি ব্যবহার করবে। তবে বুকায়র আবদুর রহমানের নাম উল্লেখ করেন নি এবং সুগন্ধির ব্যাপারে বলেছেন, নিজের স্ত্রীর সুগন্ধি হলেও।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ১৮৩৭: কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি জুমুআর দিনে জানাবাতের মত গোসল করবে, অতঃপর দিনের প্রথমভাগে মসজিদে গমন করবে, সে যেন আল্লাহর পথে একটি উটনী কুরবানী করল। আর যে ব্যাক্তি পরবর্তী সময়ে গমন করল সে যেন গাভী কুরবানী করল। যে ব্যাক্তি তারপর গমন করল সে যেন একটা ভেড়া কুরবানী করল। যে ব্যাক্তি তারপর গমন করল সে যেন একটা মুগরী কুরবানী করল। যে ব্যাক্তি তারপর গমন করল সে যেন একটি ডিম কুরবানী করল। ইমাম যখন খুৎবা প্রদানের জন্য বের হন তখন ফিরিশতাগণ মনোযোগ সহকারে খুতবা শোনার জন্য উপস্থিত হন।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ১৮৪২: ইয়াহয়া ইবনু ইয়াহয়া ও কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু’আর দিন সম্পর্কে আলোচনা করলেন এবং বললেন, তাতে এমন একটি মুহূর্ত আছে, কোন মুসলিম বান্দা সালাতরত অবস্থায় সে মুহূর্ত পেয়ে আল্লাহর নিকট কিছু প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে তা দিবেন। কুতায়বা বর্ণিত রিওয়ায়াতে এটুকু অতিরিক্ত রয়েছে যে, হাত দ্বারা ইশারা করে সময়ের স্বল্পতা বুঝিয়েছেন।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ১৮৫৩: কুতায়বা ইবনু সাঈদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদের আগমন সবার শেষে। কিন্তু আমরা কিয়ামতের দিবসে থাকব সবার প্রথমে। আমরা জান্নাতে প্রবেশকারীদের মধ্যে অগ্রগামী থাকব। তবে তাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে আমাদের পূর্বে এবং আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে তাদের পর। তারা মতবিরোধ করেছে, আর আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে সেই সত্যের হিদায়াত দিয়েছেন যা নিয়ে তারা মতভেদ করেছে। এটাই সেই দিন — যে সম্পর্কে তারা মতবিরোধ করেছে এবং আল্লাহ আমাদেরকে এ ব্যাপারে হিদায়াত করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের জন্য জুমুআর দিন। ইয়াহুদীদের পরের দিন, নাসারারা তারও পরে।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)

অধ্যায়ঃ ৮/ জুমু’আ (كتاب الجمعة)

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

দোহারের সন্তান চৈতি গুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলর নির্বাচিত

0

দোহারের কৃতি সন্তান  ড. সঞ্চিতা গুহ চৈতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কাউন্সিল নির্বাচনে নীল দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি ও সংস্কৃত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তিনি বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ দোহারের কৃতি সন্তান, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহের ছোট বোন।

নিউজ৩৯ এর পক্ষ থেকে একাডেমিক কাউন্সিলর নির্বাচিত দোহারের বোন চৈতি গুহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

দোহারে আনোয়ার হত্যা মামলার আরেক আসামি গ্রেফতার

শরিফ হাসান,নিউজ৩৯ঃ দোহার থানা পুলিশ আলোচিত আনোয়ার হত্যা মামলার অন্যতম আসামী সিয়ামকে গতকাল সন্ধ্যায় গ্রেফতার করেছে। তার পিতার নাম সোহরাব কবিরাজ।  দোহার থানার পুলিশ এস আই হাফিজ নিউজ৩৯কে বলেন, সোর্সের মাধ্যমে তারা খবর পান যে,  আনোয়ার হত্যা মামলার ২য় আসামি সিয়াম কার্তিকপুরস্থ রাজ্জাক ডাইভার এর বাসায় আবস্থান করতেছে। পরে তাকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় কার্তিকপুর বাজার থেকে স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগীতায় আটক করা হয়। তাকে খুব শীঘ্রই আদালতে হাজির করে রিমান্ড শুনানি চাওয়া হবে বলে জানান, এই আই হাফিজ।

সিয়ামকে গ্রেফতারের খবরে শুক্রবার সকালে এলাকাবাসী একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জয়পাড়ার বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে দোহার থানার সামনে এসে সমবেত হয়। এ সময় মিছিল থেকে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে ও কোন প্রকার অনুকম্পা না দেখানোর জন্য দাবী করা হয়।

উল্লেখ্য, ১২ মার্চ রাত ৮টায় দোহারের চর লটাখোলা এলাকার ভাঙা ব্রিজের সামনে স্থানীয় দুর্বৃত্তরা ওই গ্রামের খোরশেদ বেপারির ছেলে আনোয়ারকে হাতুরি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। ঢাকার মেট্রোপলিটন হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ১৫ মার্চ বিকালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. খোরশেদ বেপারি, নয় জনের নামে দোহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

0

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী ‘টাইম’ ২০১৮ সালে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার টাইমের প্রকাশিত এই ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নবাবগঞ্জে দুই নারীকে হত্যাঃ সাত হাজার টাকার জন্য হত্যা করে ফকির মোকলেস

নবাবগঞ্জে আলোচিত ২ নারী হত্যার তথ্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। নবাবগঞ্জ  উপজেলায় ৭ হাজার টাকার জন্য মোকলেছ নামে এক ভণ্ড ফকিরের হাতে খুন হয় নার্গীস আক্তার (৪০) ও তার সাথে থাকা বান্ধবী ময়না বেগম (৫৫)। হত্যাকারী মোকলেছের আদালতে স্বীকারোক্তিতে বেড়িয়ে আসে দুই নারীর খুনের মূল রহস্য।

এ মামলার তদন্ত অফিসার নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান জানান, ৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় মা নার্গীস আক্তার ও তার মায়ের সাথে থাকা ময়না বেগকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে ১০ এপ্রিল ছেলে তানভীর আহমেদ থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন। ১৩ এপ্রিল ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকার আওনা  চকের পুকুরে এক মহিলা পানি আনতে গিয়ে দুই নারীর লাশ দেখে পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ঐ দুই নারীর লাশ উদ্ধার করে। এরপর থেকে পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটনসহ আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা চালায়।

মামলার বাদী নার্গীস আক্তারের ছেলে তানভীর আহমেদ পুলিশকে জানায় ৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় মা নার্গীস আক্তারকে কে বা কারা মোবাইল ফোন করে ডেকে নিয়ে যায়। এসময় ময়না বেগম তার সাথে যায়। এ সূত্র ধরে তথ্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য পেয়ে ১৫ এপ্রিল সকালে উপজেলার মাতাপপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে মোকলেছ মিয়াকে (৩২) আটক করে পুলিশ। আটকের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন মোকলেছ। ১৬ এপ্রিল মোকলেছকে আদালতে পাঠালে সিনিয়র ডিভিশন ম্যাজিস্ট্রেট শাহীনুর রহমানের আদালতে হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মোকলেছ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য ও হত্যার দায় স্বীকার করে থানায় ও আদালতে বলেছেন, অবাধ্য স্বামীকে বাধ্য (বস) করতে নার্গীস আক্তার চর দরি কান্দা গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে মো. কাউছার উদ্দিন ফকিরের স্মরণাপন্ন হোন। কাউছারের কাছে কয়েকদিন ঘুরাফেরা করে নার্গীস। এক পর্যায়ে এ কাজ করতে পারবে না বলে কাউছার অপারগতা জানিয়ে বলেন আপনার স্বামীকে বাদ্য করতে চাইলে মোকলেছ ফকিরের কাছে যেতে হবে। নার্গীস কাউছারের কাছে মোকলেছ ফকিরের  ঠিকানা জানতে চায়।

ঘটনার ১ মাস আগে নার্গীস আক্তারকে সহযোগী কাউছার চরদরি কান্দা গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে মোকলেছ ফকিরের কাছে নিয়ে তাকে পরিচয় করে দেন। স্বামীকে বাদ্য (বস) করতে হলে ৭ হাজার টাকা দিতে হবে বলে নার্গীসের কাছে দাবী করেন মোকলেছ। সে ৭ হাজার টাকা দেয়। মোকলেছের ফকিরি কেরামতিতে কোন ফল না পেয়ে নার্গীস টাকা ফেরত চায়। মোকলেছ টাকা ফেরত দিতে অপরাগতা জানায়। এসময় নার্গীস থানা পুলিশ ও  রাজনৈতিক নেতা তার এক খালাতো ভাইকে জানাবে বলে মোকলেছকে হুমকি দেয় ।

মোকলেছ বিষয়টি নিয়ে চিন্তায় পড়ে এবং একপর্যায়ে ৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় মোকলেছ টাকা ফেরত দিবে বলে লোকমান নামে এক ইজি বাইক চালকের মোবাইল ফোন নিয়ে নার্গীসকে ফোন দেয়। ফোন দিয়ে তাকে আওনার চকে আসতে বলে। এ সময় নার্গীস বলে এখন যদি টাকা ফেরত দাও তাহেলে আমি সেখানে আসবো। মোকলেছ রাজি হলে নার্গীস ও ময়না আওনার চকে একটি পুকুর পারে আসে। এ সময় মোকলেছ হাতুরী দিয়ে নার্গীসের মাথায় একাধিক আঘাত করে নার্গীসকে হত্যা করে। এঘটনা দেখে ফেললে  নার্গীসের সাথে থাকা ময়নাকে মোকলেছ পানিতে চুবিয়ে হত্যা করে।

এ সব তথ্য দেন মামলার তদন্ত অফিসার নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান।

 কামরুল হাসান আরো জানায়, মোকলেছের সহযোগী কাউছার উদ্দিনকেও আটক করেছে পুলিশ। নিহত নার্গীসের মোবাইলের শেষ মোবাইল কলটি ছিলো ইজিবাইক চালক লোকমানের। লোকমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে লোকমান জানায় তার কাছে থেকে মোবাইল নিয়ে মোকলেছ নামে এক ব্যাক্তি ফোন দিয়েছিলো। সেই সূত্রে মোকলেছকে আটক করি। মোকলেছ ওই দুই নারীকে নিজেই হত্যা করেছে বলে স্বীকার করলে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে মোকলেছ ওই পুকুর থেকে হত্যার আলামত হাতুরী দুই নারীর পরিহিত বোরকা ও নার্গীস আক্তারের সেলোয়ার বের করে দেন। লোকমানকে মামলার স্বাক্ষী রাখা হয়েছেও বলে জানান কামরুল হাসান।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আরো জানান, ঘটনার বিষয় আরো তদন্ত অব্যহত থাকবে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আরো কেউ আছে কি-না তা পুলিশ খতিয়ে দেখছেন বলে তদন্ত অফিসার জানায়।

উল্লেখ্য ১৩ এপ্রিল লাশ উদ্ধারের পর নিহত নার্গীসের ছেলে তানভীর আহমেদে জানান, ৯ বছর যাবত মায়ের সাথে বাবার দ্বন্দ্ব চলছে। সে এ বাড়িতে থাকেন না। গত ৫ বছর আগে বাড়িতে এসে তার মাকে বাবা ইমান আলী বালিশ চাঁপা দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। এসময় সে দেখতে পেয়ে মাকে বাঁচায়। বাবা মায়ের এই পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিয়ে লজ্জায় অন্য কাউকে জানান না। তবে একাধিকবার তার মাকে বাবা হত্যার হুমকি দিয়েছে বলে বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে সে।

দোহারের মুকসুদুপুরে মোটর বাইক দূর্ঘটনাঃ নিহত ১

গাজী নাদিম,নিউজ৩৯ঃ দোহার উপজেলার মুকসুদপুরে বুধবার দুপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় ১ জন নিহত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা যায়, বুধবার দুপুরে মুকসুদপুরে লঞ্চ ঘাটের সামনের ঢাকা-দোহার রাস্তায় বিপরীত দিক থেকে তীব্র গতিতে আসা ২টি বাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে সুজন(৩২) নামে RTR বাইকের চালাক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। তার বাড়ী মুকসুদপুরের মইতপারা গ্রামে। সে ২ সন্তানের জনক। গুরুতর আহত অপর বাইক চালক নুর আলমকে ঢাকা পংগু হাসপাতালে রাতে অপারেশন করা হয়, সেখানে তার ৫ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয় বলে, তার আত্মীয় আলমগির হোসেন নিউজ৩৯কে জানান। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল।

প্রশিক্ষণবিহীন এবং ফাকা রাস্তায় বেপোরোয়া ড্রাইভিং এ মোটরসাইকেল দূর্ঘটনা দোহারে একটি নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে। প্রশাসনের আইন প্রয়োগে শীথিলতা ও অভিভাবকদের চরম উদাসীনতাইয় মোটর বাইক দূর্ঘটনা এড়াতে পারছেনা বলে এলাকাবাসীর অভিমত।

প্রতিদিনের হাদিসঃ ঈমান

0

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বাণীঃ ইসলামের স্তম্ভ হচ্ছে পাঁচটিঃ মুখে স্বীকার এবং কাজে পরিণত করাই হচ্ছে ঈমান এবং তা বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়।* আল্লাহ্ তা‘আলা বলেনঃ ‘‘যাতে তারা তাদের ঈমানের সঙ্গে ঈমান মজবুত করে নেয়- (সূরাহ্ ফাত্হ ৪৮/৪)। আমরা তাদের সৎ পথে চলার শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছিলাম- (সূরাহ্ কাহাফ ১৮/১৩)। এবং যারা সৎপথে চলে আল্লাহ্ তাদের অধিক হিদায়াত দান করেন- (সূরাহ্ মারইয়াম ১৯/৭৬)। এবং যারা সৎপথ অবলম্বন করে আল্লাহ্ তাদের হিদায়াত বাড়িয়ে দেন এবং তাদের সৎপথে চলার শক্তি বাড়িয়ে দেন- (সূরাহ্ মুহাম্মাদ ৪৭/১৭)। যাতে মু’মিনদের ঈমান বেড়ে যায়- (সূরাহ্ মুদ্দাসসির ৭৪/৩১)। আল্লাহ্ তা‘আলা আরো বলেন, এটা তোমাদের মধ্যে কার ঈমান বাড়িয়ে দিল? যারা মু’মিন এ তো তাদের ঈমান বাড়িয়ে দেয়- (সূরাহ্ আত্-তাওবাহ ৯/১২৪)। এবং তাঁর বাণী, ‘‘সুতরাং তোমরা তাদের ভয় কর; একথা তাদের ঈমানের দৃঢ়তা বাড়িয়ে দিল’’- (সূরাহ্ আলে-ইমরান ৩/১৭৩)। ‘‘এতে তাদের ঈমান ও আনুগত্য আরও বৃদ্ধি পেল’’- (সূরাহ্ আহযাব ৩৩/২২)।

আর আল্লাহর জন্য ভালবাসা ও আল্লাহর জন্য ঘৃণা করা ঈমানের অংশ। ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয (রহ.) ‘আদী ইবনু ‘আদী (রহ.)-এর নিকট এক পত্রে লিখেছিলেন, ‘ঈমানের কতকগুলো ফার্য (ফরয), কতকগুলো হুকুম-আহকাম, বিধি-নিষেধ এবং সুন্নাত রয়েছে। যে এগুলো পরিপূর্ণরূপে আদায় করে তার ঈমান পূর্ণ হয়। আর যে এগুলো পূর্ণভাবে আদায় করে না, তার ঈমান পূর্ণ হয় না। আমি যদি বেঁচে থাকি তবে অচিরেই এগুলো তোমাদের নিকট ব্যক্ত করব, যাতে তোমরা তার উপর ‘আমল করতে পার। আর যদি আমার মৃত্যু হয় তাহলে জেনে রাখ, তোমাদের সাহচর্যে থাকার জন্য আমি আকাঙ্ক্ষিত নই।’

ইবরাহীম (‘আ.) বলেন, ‘তবে এ তো কেবল চিত্ত প্রশান্তির জন্য’- (সূরাহ্ আল-বাক্বারাহ ২/২৬)। মু‘আয (রাঃ) বলেন, ‘‘এসো আমাদের সঙ্গে বস, কিছুক্ষণ ঈমানের আলোচনা করি।’’ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) বলেন, ‘ইয়াকীন হল পূর্ণ ঈমান।’ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, ‘বান্দা প্রকৃত তাকওয়ায় পৌঁছতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত সে, মনে যে বিষয় সন্দেহের সৃষ্টি করে, তা পরিত্যাগ না করে।’ মুজাহিদ (রাঃ) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘‘অর্থাৎ হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি আপনাকে এবং নূহকে একই ধর্মের আদেশ করেছি’’- (সূরাহ্ শূরা ৪২/১৩)। ইবনু ‘আববাস (রাঃ) বলেন, ‘‘অর্থাৎ পথ ও পন্থা’’- (সূরাহ্ আল-মায়িদাহ ৫/৪৮)।

এ মর্মে আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘বলে দিন, আমার প্রতিপালক তোমাদের একটুও পরোয়া করবেন না যদি তোমরা ‘ইবাদাত না কর’’- (সূরাহ্ আল-ফুরক্বান ২৫/৭৭)। অভিধানে দু‘আর অর্থ করা হয়েছেঃ ‘‘ঈমান’’।

হাদিস নং ৮ঃ ইবন ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ইসলামের স্তম্ভ হচ্ছে পাঁচটি। ১. আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল-এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা। ২. সালাত কায়িম করা। ৩. যাকাত আদায় করা। ৪. হাজ্জ সম্পাদন করা এবং ৫. রমাযানের সিয়ামব্রত পালন করা। (৪৫১৪; মুসলিম ১/৫ হাঃ ১৬, আহমাদ ৬০২২, ৬৩০৯)

* কোন কোন ফকীহদের নিকট ঈমান বাড়েও না কমেও না। বরং সমান থাকে। তাদের নিকট একজন নবীর ঈমান ও ইবলিসের ঈমান এক সমান। তাদের এই ‘আকীদাহ কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী। এটা মুরজি’আহ সম্প্রদায়ের ভ্রান্ত ‘আকীদাহর অন্তর্ভুক্ত।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ আবদুল্লাহ ইব্‌ন উমর (রাঃ)

পরিচ্ছদঃ ২/৩. ঈমানের বিষয়সমূহ

আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘কোন পুণ্য নেই পূর্ব এবং পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফেরানোতে; কিন্তু পুণ্য আছে কেউ ঈমান আনলে আল্লাহর উপর, আখিরাতের উপর, ফেরেশতাদের উপর, সকল কিতাবের উপর, আর সকল নাবী-রাসূলদের উপর, এবং অর্থ দান করলে আল্লাহ প্রেমে আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতিম, মিসকীন, মুসাফির, সাহায্যপ্রার্থী এবং দাস মুক্তির জন্য, সালাত কায়িম করলে, যাকাত দিলে, কৃত প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করলে আর অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধ বিভ্রাটে ধৈর্যধারণ করলে। এরাই হল প্রকৃত সত্যপরায়ণ, আর এরাই মুত্তাকী’’- (আল-বাক্বারাহ ২/১৭৭)। ‘‘অবশ্যই সফলতা লাভ করেছে মুমিনগণ’’- (সূরাহ্ মুমিনূন ২৩/১)।

হাদিস নং ৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঈমানের ষাটেরও অধিক শাখা আছে। আর লজ্জা হচ্ছে ঈমানের একটি শাখা। (মুসলিম ১/১২ হাঃ ৩৫, আহমাদ ৯৩৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

হাদিস নং ১৮ঃ ‘উবাদাহ ইবনু সামিত (রাযি.) যিনি বাদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ও লায়লাতুল ‘আকাবার একজন নকীব ‘উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাযি.) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পাশে একজন সহাবীর উপস্থিতিতে তিনি বলেনঃ তোমরা আমার নিকট এই মর্মে বায়‘আত গ্রহণ কর যে, আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছুকে অংশীদার সাব্যস্ত করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, কারো প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করবে না এবং সৎকাজে নাফরমানী করবে না। তোমাদের মধ্যে যে তা পূর্ণ করবে, তার পুরস্কার আল্লাহর নিকট রয়েছে। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হলো এবং দুনিয়াতে তার শাস্তি পেয়ে গেলে, তবে তা হবে তার জন্য কাফ্ফারা। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং আল্লাহ তা অপ্রকাশিত রাখলে, তবে তা আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তিনি যদি চান, তাকে মার্জনা করবেন আর যদি চান, তাকে শাস্তি প্রদান করবেন। আমরা এর উপর বায়‘আত গ্রহণ করলাম।

(৩৮৯২, ৩৮৯৩, ৩৯৯৯, ৪৮৯৪, ৬৭৮৪, ৬৮০১, ৬৮৭৩, ৭০৫৫, ৭১৯৯, ৭২১৩, ৭৪৬৮; মুসলিম ২৯/১০ হাঃ ১৭০৯, আহমাদ ২২৭৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

পরিচ্ছদঃ ২/১৮. যে বলে ‘ঈমানই হচ্ছে ‘আমাল।

আল্লাহ্ তা‘আলার এ বাণীর পরিপ্রেক্ষিতঃ এটাই জান্নাত, তোমাদেরকে যার অধিকারী করা হয়েছে তোমাদের কর্মের ফলস্বরূপ। (সূরাহ্ যুখরুফ ৪৩/৭২)

সুতরাং শপথ আপনার প্রতিপালকের আমি তাদের সকলকে জিজ্ঞেস করবই সে বিষয়ে, যা তারা করে- (সূরাহ্ হিজ্র ১৫/৯০)। আল্লাহর এ বাণী সম্পর্কে আলিমদের এক দল বলেন, لآ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ   এর স্বীকারোক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ এরূপ সাফল্যের জন্য ‘আমলকারীদের উচিত ‘আমাল করা। (সূরাহ্ সাফ্ফাত ৩৭/৬১)

হাদিস নং ২৬ঃ আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করা হল, ‘কোন্ ‘আমলটি উত্তম?’ তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের উপর বিশ্বাস স্থাপন করা।’* জিজ্ঞেস করা হলো, ‘অতঃপর কোনটি?’ তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।’ প্রশ্ন করা হল, ‘অতঃপর কোনটি?’ তিনি বললেনঃ ‘মাকবূল হাজ্জ সম্পাদন করা।’‘ (১৫১৯; মুসলিম ১/৩৬ হাঃ ৮৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫, .ফা. ২৫)

* মুরজি’আহদের নিকট শুধু অন্তরে বিশ্বাসের নাম ঈমান। মুখে স্বীকার করা রুকন বা শর্ত নয় এবং আমল ঈমানের হাকীকাতের বাইরে। ঈমান আনার পর গুনাহর কাজ ক্ষতিকর নয় এমনকি কবীরা গুনাহ করলেও নয়। (মিরআত ৩৬ পৃষ্ঠা)।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

পরিচ্ছদঃ ২/১৯. ইসলাম গ্রহণ যদি বিশুদ্ধ না হয় বরং বাহ্যিক আনুগত্য প্রদর্শনের জন্য বা হত্যার আশংকায় হয়, তবে তাঁর ইসলাম গ্রহণ।

মহান আল্লাহর এ বাণী অনুযায়ী হবেঃ ‘‘আরব মরুবাসীরা বলে, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করলাম; আপনি বলে দিন, ‘‘তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করনি; বরং তোমরা বল, ‘আমরা বাহ্যিক দৃষ্টিতে মুসলিম হয়েছি।’’ (সূরাহ্ হুজরাত ৪৯/১৪)

আর ইসলাম গ্রহণ খাঁটি হলে তা হবে আল্লাহ্ তা‘আলার এ বাণী অনুযায়ীঃ ‘‘নিশ্চয়ই ইসলাম আল্লাহর মনোনীত একমাত্র দ্বীন’’- (সূরাহ্ আলে ‘ইমরান ৩/১৯)। ‘‘আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন অন্বেষণ করবে তবে তা গৃহীত হবে না।’’ (সূরাহ্ আলে ‘ইমরান ৩/৮৫)

হাদিস নং ২৭ঃ সা‘দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল লোককে কিছু দান করলেন। সা‘দ (রাযি.) সেখানে বসেছিলেন। সা‘দ (রাযি.) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের এক ব্যক্তিকে কিছু দিলেন না। সে ব্যক্তি আমার নিকট তাদের চেয়ে অধিক পছন্দের ছিল। তাই আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক ব্যক্তিকে আপনি বাদ দিলেন কেন? আল্লাহর শপথ! আমি তো তাকে মু‘মিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ না, মুসলিম। তখন আমি কিছুক্ষণ নীরব থাকলাম। অতঃপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি, তা (ব্যক্ত করার) প্রবল ইচ্ছা হলো। তাই আমি আমার বক্তব্য আবার বললাম, আপনি অমুককে দান থেকে বাদ রাখলেন? আল্লাহর শপথ! আমি তো তাকে মু‘মিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ ‘না, মুসলিম?’ তখন আমি কিছুক্ষণ নীরব থাকলাম। তারপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি তা (ব্যক্ত করার) প্রবল ইচ্ছা হলো। তাই আমি আবার বললাম, আপনি অমুককে দান হতে বাদ রাখলেন? আল্লাহর শপথ! আমি তো তাকে মু’মিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ ‘না, মুসলিম?’ তখন আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম। তারপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি তা (ব্যক্ত করার) প্রবল ইচ্ছা হলো। তাই আমি আমার বক্তব্য আবার বললাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় সেই একই জবাব দিলেন। তারপর বললেনঃ ‘সা‘দ! আমি কখনো ব্যক্তি বিশেষকে দান করি, অথচ অন্যলোক আমার নিকট তার চেয়ে অধিক প্রিয়। তা এ আশঙ্কায় যে (সে ঈমান থেকে ফিরে যেতে পারে পরিণামে), আল্লাহ্ তা‘আলা তাকে অধোমুখে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করবেন।

এ হাদীস ইউনুস, সালিহ, মা‘মার এবং যুহরী (রহ.)-এর ভ্রাতুষ্পুত্র যুহরী (রহ.) হতে বর্ণনা করেছেন। (১৪৭৮; মুসলিম ১/৬৮ হাঃ ১৫০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ সা’দ বিন আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)

 অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন