দোহারের শাকিল হত্যাকান্ড, স্বাভাবিক মৃত্যু বলে চালিয়ে দিয়েছিল পুলিশঃ কিছু শিখবে কি দোহার নবাবগঞ্জবাসী?

নিউজ৩৯,বিশেষ প্রতিবেদনঃ দোহারের আলোচিত শাকিল হত্যাকান্ড, একটি হত্যাকাণ্ডকে স্বাভাবিক মৃত্যু উল্লেখ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ।প্রবাসী স্ত্রীদের পরকীয়ায় জড়িয়ে যাওয়ার যে সামাজিক ব্যাধি দোহার নবাবগঞ্জে শুরু হয়েছে, যেভাবে বিয়ের অনুষ্ঠান্সহ অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানে মদ, বিদেশি বোতল ও ইয়াবার বিস্তার মহামারী আকার ধারণ করেছে তা থেকে কি শিখবে কিছু দোহার-নবাবগঞ্জবাসী। না’কি স্বাভাবিক ঘটনার মতোই ভুলে যাবে সবকিছু।নিউজ৩৯ এর অনুসন্ধানে তুলিয়ে ধরা হয়েছে কিভাবে একজন স্ত্রী’র জীবনে ৩ পুরুষ এলো, কিভাবেই বা একজন স্বামীর অনুরক্ত স্ত্রী বিরক্ত হয়ে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে।

শাকিল হত্যাকান্ডে তার বাবা বাদীর নারাজির পর মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তের দায়িত্ব পায়। পুলিশের নতুন এই তদন্ত বিভাগ ছয় মাস তদন্ত শেষে জানতে পারে এটি হত্যাকাণ্ড। তারা দুই আসামিকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।পিবিআই’র অভিযানে মো. ইব্রাহিম ও আলেয়া আক্তার আলোকে গ্রেপ্তারের পর জানা গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইতিমধ্যে ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিও দিয়েছে আলো। গ্রেফতার ইব্রাহীম যুবলীগ নেতা মিল্কী হত্যার সাত নম্বর নামীয় আসামি। তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজী ও হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

আলোর জীবনে এসেছে তিন পুরুষ। তারমধ্যে একজনকে জীবন দিতে হয়েছে। নিহত মির্জা শাকিলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল কৈশোর থেকেই। ঢাকার দোহারের দক্ষিণ জয়পাড়ার মির্জা পরিবারের ছেলে শাকিল। একই গ্রামের দরিদ্র পরিবারের মেয়ে আলো। একই এলাকায় বসবাসের সুবাদে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে তাদের। এরমধ্যেই আলেয়ার বিয়ে হয় সিঙ্গাপুর প্রবাসী কোরবান খানের সঙ্গে। কিন্তু প্রেমের পথে এই বিয়ে কোনো বাধা হতে পারেনি। কোরবান খান দেশের বাইরে যাওয়ার পর শাকিল ও আলোর সম্পর্ক আরো গভীর হয়। ঢাকার বিভিন্নস্থানে চুটিয়ে প্রেম করতো তারা। স্বামী বিদেশে থাকায় এতে তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। এরমধ্যে দুটি সন্তানের জন্ম হয় আলোর গর্ভে। সন্তান, সংসার কোনো কিছুই তাকে দমাতে পারেনি শাকিলের প্রেম থেকে। যদিও পাড়া-প্রতিবেশীদের সমালোচনার শিকার হচ্ছিলো এই প্রেমিকজুটি। ২০১৫ সালের শেষের দিকে এক সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে দোহার থেকে প্রেমিকের হাত ধরে ঢাকায় আসে আলো। মির্জা শাকিলের সঙ্গে ঘর বাঁধে দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী এলাকায়। ইতিমধ্যে আগের স্বামীকে ডিভোর্স দেয়। কিন্তু ডিভোর্স লেটার তাকে পাঠানো হয়নি।

যাত্রাবাড়ীতে শাকিলের ভাড়া বাসাতে সাবলেট হিসেবে উঠে তার বন্ধু ইব্রাহিম। মাদারীপুরের শিবচরের মাতবরের চর গ্রামের ইব্রাহিম থাকতো ঢাকার বড় মগবাজারের চেয়ারম্যান গলিতে। মাদকসহ নানা অপরাধে জড়িত ইব্রাহিম। সাবলেট থাকার সুবাধে অল্পদিনেই শাকিলের প্রেমিকা কথিত স্ত্রী আলোর দিকে নজর পড়ে ইব্রাহিমের। সাড়া দেয় আলোও। শাকিলের অলক্ষ্যে জন্ম হয় আরেকটি পরকীয়া প্রেমের। আদালতে দেয়া আলোর স্বীকারোক্তি অনুসারে, রাত-বিরাতে তাদের বাসায় হতো মদের আড্ডা। মদ পান করতো ইব্রাহিম, শাকিল ও আলো। মদ পান করিয়েই ‘হত্যা’ করা হয় শাকিলকে। ২০১৬ সালের ২৫শে জানুয়ারি রাতে দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর ওই বাসায় শুরু হয় মদের আড্ডা। এতে শাকিল, ইব্রাহিম, আলো ছাড়াও অংশ নেয় ইব্রাহিমের বন্ধু রবিন ও নাহিদ। রাত ২টার দিকে রবিন, নাহিদ চলে যায়। এদিকে, আড্ডা শেষ হতে না হতেই অসুস্থ হয়ে যায় শাকিল। একের পর এক বমি করতে থাকে। মুখ দিয়ে লালা বের হয়।

আলো জানিয়েছে, ২৭শে জানুয়ারি শাকিলকে একটি ওষুধ সেবন করায় ইব্রাহিম। তারপর শাকিলের অবস্থার আরো অবনতি ঘটে। এসময় বাইরে থেকে কেচি গেইট বন্ধ করে পালিয়ে যায় ইব্রাহিম। আলো জানিয়েছে, শাকিলের অবস্থা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে গেলে চিৎকার করে কান্না করছিলো সে। এসময় আশেপাশের লোকজন বাসার কেচি গেইটের তালা ভেঙে দিলে শাকিলকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে যায় আলো।

অবশ্য পিবিআই’র তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক হুমায়ূন ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই শাকিলের মৃত্যু হয়েছে। শাকিলের লাশ ঢামেকে রেখে ইব্রাহিমের সঙ্গে পালিয়ে যায় আলো। শাকিলকে ‘হত্যা’র পর ঢাকাতেই স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করতো আলো ও ইব্রাহিম। মগবাজারের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থেকেছে প্রায় ছয় মাস। তারপর ইব্রাহিমের সঙ্গে সম্পর্ক টিকেনি। এই সম্পর্কের ইতি টেনে প্রথম স্বামী প্রবাসী কোরবানের কাছে ফিরে যায় আলো ওরফে আলেয়া।

শাকিলের পিতা নুরুল ইসলাম জানান, শাকিলের লাশ ঢামেক হাসপাতালে রেখে যাওয়ার পরপরই অজ্ঞাত একজন ফোনে জানায় তার ছেলের লাশ ঢামেকে। খবর পেয়ে তিনি ছুটে যান সেখানে। নিহত শাকিলের মুখ দিয়ে তখনও লালা ঝরছিলো। নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে মদের সঙ্গে বিষাক্ত বা ওষুধ জাতীয় কিছু সেবন করিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে হত্যার অভিযোগে ২০১৬ সালের ৮ই মার্চ যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নুরুল ইসলাম। ওই মামলায় থানা পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। গত ২৮শে এপ্রিল সকালে দোহারের দক্ষিণ জয়পাড়ার কোরবান খানের বাড়ি থেকে আলেয়া ওরফে আলোকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তার দেয়া তথ্যানুসারেই পরদিন ধোলাইপাড় থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ইব্রাহিমকে।

নিহত শাকিলের বড় ভাই মির্জা মহসিন নিউজ৩৯কে বলেন, ‘শাকিল যে যাত্রাবাড়ীর বাসায় ভাড়া ছিল, সেটি আমাদের পরিবারের কেউ জানতো না। আমরা জানতাম তার এক বন্ধুর সঙ্গে সে থাকতো। বাড়ি থেকে টাকা নিতো। ফোনে কথা হতো তার সঙ্গে। দোহায় বেশি একটা যেত না।’

তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি দুপুরের দিকে আমার বোন জামাইকে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন দিয়ে জানানো হয় শাকিল মারা গেছে। তখন পরিবারের সবাই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসেন। এরপর আমার বাবা যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের সঙ্গে ওই বাসাটিতে যান। সেখানে তখন কেউ ছিল না। এরপর ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফন করা হয়।’

শাকিলের বাবার দায়ের করা হত্যা মামলাটি তদন্ত করেন যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নয়ন কারকুন। তবে কোনও আসামিকে তিনি গ্রেফতার করেনি। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে শাকিলের মৃত্যুর কোনও কারণ লেখা হয়নি। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা নয়ন কুরকান আসামিদের অব্যাহতি দিয়ে ২০১৭ সালের ৩১ মে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দাখিল করেন। যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ মামলাটি এক বছর দুই মাস তদন্ত করে। তাদের ফাইনাল রিপোর্টের বিরুদ্ধে মামলার বাদি আদালতে নারাজি দেন। আদালত ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর মামলাটি পিবিআই’কে তদন্তের নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশের পর পিবিআই ঢাকা মেট্রোর উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবির মোল্লা মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান। তিনি পাঁচ মাস ধরে মামলাটি তদন্ত করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পান।

পিবিআই ঢাকা মেট্রোর বিশেষ পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন,  ‘এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। শাকিলকে পরিকল্পনা করেই হত্যা করা হয়। এতে সহযোগিতা করে আলেয়া। হাসপাতালে শাকিলকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণার পরই ইব্রাহীমের সঙ্গে আলেয়া পালিয়ে যায়। তারাই অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন দিয়ে আবার শাকিলের পরিবারকে মৃত্যুর খবর জানায়।’

ঘটনার পর কিছুদিন আলেয়া পালিয়ে থাকলেও পুনরায় সে তার আগের স্বামীর সঙ্গে গিয়ে থাকা শুরু করে।  গত ২৮ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাকে দোহারের দক্ষিণ জয়পাড়া থেকে গ্রেফতার করে পিবিআই। আদালতে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধি দেয়। পরদিন ২৯ এপ্রিল পিবিআই সদস্যরা ইব্রাহীমকে যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, ‘আমরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করেছি। এদের মধ্যে আলেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধি দিয়েছে। ইব্রাহীম দুই দিনের রিমান্ডে আছে। এছাড়াও নাহিদ নামে অপর একজন সাক্ষী দিয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আসামির স্বীকারোক্তিতে তাই মিলছে এখন পযন্ত।’

এ রকম হত্যাকাণ্ড যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের তদন্তে কেন আসলো না? জানতে চাইলে মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ও যাত্রাবাড়ী থানার এসআই নয়ন কারকুন বলেন, ‘আমি ময়নাতদন্তের ওপর ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছি। হত্যার বিষয়ে কিছু পাইনি। এখন যদি তদন্তে কিছু পায় তাহলে তো ভালো। পিবিআই আমাদের একটি ইউনিট।’

যাত্রাবাড়ী থানার এই তদন্ত কর্মকর্তা ফাইনাল রিপোর্টে লিখেছেন, মৃত্যুর কোনও সঠিক কারণ জানা যায়নি। বাদি ভুল বুঝে মামলাটি করেছে। এটি তথ্যগত ভুল। আসলে তার মৃত্যু ছিল স্বাভাবিক।

নিহত শাকিলের পরিবারের প্রশ্ন, যদি শাকিল মদ খেয়ে মারা যায়, তাহলেও তা ময়নাতদন্তে আসা উচিৎ ছিল। কিন্তু কোনও কারণই আসেনি। তাদের কাছে বিষয়টি সন্দেহজনক হিসেবে প্রতীয়মান হয়। কারণ যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ মামলাটির তদন্তে উল্লেখযোগ্য কিছুই করেনি।

জয়পাড়া থেকে দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার দক্ষিণ জয়পাড়া হতে ৫৬ পিছ ইয়াবা সহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে দোহার থানা পুলিশ। গ্রেফতার কৃত মাদক ব্যবসায়ীরা হচ্ছেন আমজাদ হোসেন(৩৫) ও শেখ ইউনুছ (২৩)।

পুলিশ সুত্রে জানা যায়,মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সিরাজুল ইসলাম শেখ এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযানে দোহারের দক্ষিণ জয়পাড়া একটি পাকা রাস্তার উপর হতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারকৃত আমজাদ ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানার মাথাভাঙ্গা গ্রামের হানেফ আলীর ছেলে ও ইউনুছ ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার কলেজপাড় গ্রামের শেখ রুস্তম এর ছেলে।

আসামীদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।

নবাবগঞ্জের ১০ বিএনপির নেতা পুলিশ রিমান্ডে

নবাবগঞ্জ থেকে আটক বিএনপির ১০ নেতা কর্মীকে ১ দিনের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করেছে গতকাল ঢাকা জেলার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। গতকাল ৩০ এপ্রিল তাদের ঢাকা জেলার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।

আটককৃত বিএনপি নেতাকর্মীরা হচ্ছেন নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতা আবুল কালাম খন্দকার, বিএনপি নেতা ও বারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মামুন খান, জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এ.কে.এম.বুলবুল খান, যুবদল নেতা পবন মাহামুদ সহ নবাবগঞ্জ থানা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতা-কর্মী।

বিজ্ঞ আদালতে রাষ্ট্র পক্ষের শুনানী শেষে আসামী পক্ষের শুনানী করেন ঢাকা আইনজীবি সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা খান এবং তাঁর সাথে সহযোগীতায় ঢাকা জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনির

ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডাঃ দেওয়ান মোঃ সালাউদ্দিন ও সাধারন সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছা বাস্তবায়নের জন্য আদালতকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন অবৈধ সরকারের শেষ সময়ে ব্যাপক হারে আদালতকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যাবহার করা হচ্ছে। তাঁরা আদালতকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত না হবার জন্য অনুরোধ করেন এবং আদালতকে জনতার প্রতিপক্ষ হিসাবে দাড় করানোর সরকারী চক্রান্তের তীব্র নিন্দা জানান।

পরকীয়ার বলি শাকিল, দোহার থেকে গ্রেফতার শাকিলের স্ত্রী

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মির্জা শাকিল হত্যাকাণ্ডের আড়াই বছর পর রহস্যের জট খুলেছে। পরকীয়ার জন্য শাকিলের স্ত্রী তার প্রেমিককে নিয়ে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে। দুই জনকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

২৭ জানুয়ারি শাকিলকে হত্যা করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ফেলে রেখে যায় গ্রেপ্তারকৃতরা। সোমবার পিবিআইয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৮ এপ্রিল ঢাকা জেলার দোহার থানার জয়পাড়া এলাকা থেকে শাকিলের স্ত্রী আলো আক্তার ওরফে আলেয়া ও ২৯ এপ্রিল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার ধোলাইপার এলাকা মো. ইব্রাহীমকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইব্রাহীম এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী।

পিবিআই জানায়, ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি মির্জা শাকিলকে অতিরিক্ত মদপান করায় ইব্রাহীম ও তার সহযোগিরা। ইব্রাহীম ছিল শাকিলের বন্ধু। ইব্রাহিম শাকিলের ফ্ল্যাটে তাদের সঙ্গেই থাকত। এক সময় আলেয়ার সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত হয় ইব্রাহিম। এ কারণে শাকিলের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয় ইব্রাহিম ও আলেয়ার। এক পর্যায়ে শাকিলকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে তারা। পরিকল্পনা ২৫ জানুয়ারি শাকিলকে সঙ্গে নিয়ে আলেয়া ও ইব্রাহিম মদ পান করে। অতিরিক্ত মদ পান করায় শাকিল একাধিকবার বমি করে। সারাদিন তার মুখ দিয়ে লালা বের হলে চিকিৎসার নাম করে ফার্মেসি থেকে সিরাপ জাতীয় ওষুধ খাওয়ায় ইব্রাহীম। অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে ঢামেকে নেওয়া হলে চিকিৎসক শাকিলকে মৃত ঘোষণা করেন। ইব্রাহিম ও আলেয়া কৌশলে লাশ ঢামেকে রেখে পালিয়ে যায়।

সোমবার বিকেলে যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমরাও তখন পরকীয়ার বিষয়টি সন্দেহ করি। কিন্তু আসামিরা পলাতক থাকায় তদন্তে আর বেশিদূর এগোতে পারেনি।’

২৫ সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তন; আলাদা হয় নি দোহার-নবাবগঞ্জ

দোহার নবাবগঞ্জ এর সাধারন মানুষের অন্যতম প্রাণের দাবি ঢাকা-১ সংসদীয় আসন পূর্নবিন্যাসের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এই অনলের রাজনীতিবিদের ও সাধারন মানুষের দাবিকে কোন আমলে না নিয়ে এই সংসদীয় আসনকে এক রাখার কথাই বলেছে নির্বাচন কমিশন। তবে পরিবর্তন করেছে ২৫টি সংসদীয় আসনের সীমানা।

আগামী অক্টোবরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৫ আসনের সীমানায় পরিবর্তন এনেছে ইসি। গতকাল সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে সোমবার কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, আগামী অক্টোবরে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। তবে অক্টোবরের কত তারিখে তফসিল ঘোষণা করা হবে এবং কবে ভোটগ্রহণ করা হবে- সেটা কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। রফিকুল ইসলাম জানান, ৩০০ আসনের সীমানা গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।

২৭৫টি আসনের ক্ষেত্রে দশম সংসদের সীমানাই বহাল থাকছে। বাকি ২৫টি আসনে পরিবর্তিত সীমানায় ভোট হবে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, পরিবর্তিত ২৫ আসন হচ্ছে- নীলফামারী-৩, ৪; রংপুর-১ ও ৩; কুড়িগ্রাম ৩ ও ৪; সিরাজগঞ্জ ১ ও ২; খুলনা ৩ ও ৪; জামালপুর ৪ ও ৫; নারায়ণগঞ্জ ৪ ও ৫; সিলেট ২ ও ৩; মৌলভীবাজার ২ ও ৪; ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৫ ও ৬; কুমিল্লা ৬, ৯ ও ১০; এবং নোয়াখালী ৪ ও ৫।

সংশোধিত আসন সীমানার চূড়ান্ত গেজেট সোমবারই প্রকাশের কথা জানিয়েছেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। গত ২১শে এপ্রিল থেকে ২৫শে এপ্রিল পর্যন্ত সংসদীয় আসনের শুনানি চলে। এবার ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ৪০টি আসনে পরিবর্তন এনে খসড়া প্রকাশ করে ইসি। বাকি ২৬০টি আসনে দশম সংসদের সীমানা বহাল রাখা হয়। কিন্তু আপত্তি আবেদন আসে ৬০টি আসন থেকে। ইসি সূত্র জানায়, ৬০টি আসনের সীমানা পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের আপত্তি চেয়ে ৪০৭টি আবেদন পড়ে। বাকি ২২৪টি আবেদন ইসি’র প্রস্তাবিত সীমানার পক্ষে সমর্থন জানিয়ে আসে। সীমানা পরিবর্তন চেয়ে আবেদনের মধ্যে রংপুরে ৬২টি, রাজশাহীতে ৪৫টি, খুলনায় ৪৩টি, বরিশালে ৮টি, ঢাকায় ৮২টি, সিলেটে ১৩২টি ও চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে ৩২টি আবেদন আসে। তবে ময়মনসিংহে কোনো আপত্তি আবেদন আসেনি। গত ২১ থেকে ২৫শে এপ্রিল এসব আপত্তির ওপর শুনানি শেষে ৬০টি আসনের মধ্যে ৩৫টির আপিল মঞ্জুর করে ইসি। ফলে সেসব আসনে দশম সংসদের সীমানাই বহাল থাকছে। বাকি ২৫টির আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় সেখানে পরিবর্তন আসছে। ইসির সঙ্গে সংলাপে বিএনপি নতুন আইন করে ২০০১ সালে সংসদীয় আসনের যে সীমানা ছিল, সেটি ফিরিয়ে আনতে দাবি জানিয়েছিল। কারণ, ২০০৮ সালে অধিকাংশ আসন পরিবর্তন করে ইসি। বিএনপির অভিযোগ, ২০০৮ সালে তাদের আসনগুলোকে ভেঙে দলকে বিপদে ফেলা হয়েছে। কারণ যে এলাকায় বিএনপির দুটি আসনে ভালো সমর্থক ছিল, সেখানে একটি করা হয়েছে। ফলে দলীয় একটি আসন কমে গেছে। অন্যদিকে ইসির সঙ্গে সংলাপে আওয়ামী লীগ চেয়েছে, বর্তমান আইন দিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচন। অর্থাৎ ছিটমহলগুলোকে যুক্ত করে ২০১৩ সালের সীমানা দিয়ে নির্বাচন করতে।

ইসি’র তথ্য মতে, এর আগে ২০০১ সালেও ১৯৯৫ সালের সীমানার গেজেট বহাল রাখা হয়েছিল। ১৯৮৪ ও ১৯৯১ সালের পর ২০০৮ সালে সংসদীয় আসনে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়। এক এগারো পরবর্তী ড. শামসুল হুদার কমিশন সারা দেশের পার্বত্য তিন জেলা বাদে ২৯৭ আসনেই পরিবর্তন নিয়ে আসে। এর মধ্যে ১৩৩টিতে পরিবর্তন আনা হয় বড় পরিসরে। এ ব্যাপক সীমানায় ভাঙচুর ও তছনছ করার মাধ্যমে ঢাকায় আসন বেড়ে হয় ১৮টি। আর কয়েকটি জেলায় কমে যায় আসন সংখ্যা। সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, বরগুনা, বরিশাল ও ফরিদপুরে একটি করে আসন কমে। ২০০৮ সালের সীমানা বহাল রেখে ২০১৩ সালে অল্প কিছু আসনে পরিবর্তন এনে দশম সংসদ নির্বাচন দেয় ইসি।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কেনাকাটা শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। গত এপ্রিল থেকে কেনাকাটা শুরু করেছে ইসি। জুনের মধ্যে সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপারের কাগজসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাকাটা শেষ করবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। নির্বাচনী মালামালের মধ্যে ব্যালট পেপারের কাগজ, স্ট্যাম্প প্যাড, অফিশিয়াল সিল, মার্কিং সিল, ব্রাস সিল, লাল গালা, আম কাঠের প্যাকিং বাক্স, অমোচনীয় কালি, বিভিন্ন ফরম, প্যাকেট, সুই-সুতা, খাম, মোমবাতি রয়েছে। ইসি’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনের প্রধান উপকরণ ব্যালট পেপার। এ জন্য বিভিন্ন ধরনের কাগজের প্রয়োজন হয়, তা ভোটের কয়েক মাস আগে সংগ্রহ না করলে সংকটও দেখা দিতে পারে। তাই জুনের মধ্যে কেনাকাটা শেষ করবে ইসি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে হবে ৩০শে অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারির মধ্যে। এ নির্বাচনের জন্য প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার রিম কাগজ প্রয়োজন হবে। যা জুন মাসের মধ্যে সংগ্রহ করতে চায় ইসি। একাদশ সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপারের জন্য প্রায় ৩৫ কোটি টাকা লাগছে বলেও জানিয়েছে ইসি। নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত ‘নির্বাচনী সংলাপ ২০১৭’ বইটির শুরুতেই বলা হয়েছে, দশম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ২৯শে জানুয়ারি। সে অনুযায়ী ২০১৯ সালের ২৮শে জানুয়ারির মধ্যে একাদশ জাতীয় নির্বাচন করার সংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

কলাকোপা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি গঠন

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নবাবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রানা ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শান্ত এই কমিটি ঘোষনা করেন। নতুন কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন শেখ সাহিদুল রহমান তন্ময় ও সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ফারহান। ১ (এক) বছরের জন্য এই কমিটির অনুমোদন দেইয়া হয়েছে।

এছাড়া কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন সহ-সভাপতি মিঠুন সূত্রধর, শেখ আকাশ আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক অলীভ শেখ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাহিদ, মেহেদী হাসান চঞ্চল, প্রচার সম্পাদক ফাহিম আহম্মেদ।

প্রতিদিনের হাদিসঃ সহিহ বুখারীর প্রথম সাতটি হাদিস

সহিহ বুখারীর প্রথম সাতটি হাদিস

হাদিস নং ১: ‘আলক্বামাহ ইবনু ওয়াক্কাস আল-লায়সী (রহ.) হতে বর্ণিত। আমি ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছিঃ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ [কাজ (এর প্রাপ্য হবে) নিয়্যাত অনুযায়ী। আর মানুষ তার নিয়্যাত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে। তাই যার হিজরাত হবে ইহকাল লাভের অথবা কোন মহিলাকে বিবাহ করার উদ্দেশে- তবে তার হিজরাত সে উদ্দেশেই হবে, যে জন্যে, সে হিজরাত করেছে।] (৫৪, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিম ২৩/৪৫ হাঃ ১৯০৭, আহমাদ ১৬৮) ( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১)

শারী‘আহ্‌র মূল উৎস হচ্ছে ওয়াহী। ওয়াহী দু’ প্রকার। ওয়াহী মাতলু (আল-কুরআন) ও ওয়াহী গাইরে মাতলু (সুন্নাহ ও হাদীস)। এবং দ্বীনে ইলাহীর ভিত্তি শুধুমাত্র দু’টি জিনিসের উপর প্রতিষ্ঠিত। ইজমা‘ ও কিয়াস কোন শার‘ঈ দলীল নয়। বরং যে কিয়াস এবং ইজমা‘ ওয়াহীর পক্ষে অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহ মুতাবিক হবে তা গ্রহণযোগ্য এবং যেটা বিপক্ষে যাবে সেটা পরিত্যাজ্য ও অগ্রহণযোগ্য। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলার বাণী ঃ

(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً) (النساء:৫৯)

(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَلا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ) (محمد:৩৩)

কিন-ু বাতিল ফির্কার লোকেরা ইজমা‘ ও কিয়াসকে ওয়াহীর আসনে বসিয়েছে এবং বলে থাকেঃ শারী‘আহ্‌র ভিত্তি চারটি বিষয়ের উপর। কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা‘ ও কিয়াস। বড় আশ্চর্যের বিষয় এই যে, সহাবায়ে কেরাম যাদের উপর আল্লাহ তা‘আলা তার সন্তুষ্টির ঘোষণা দিয়েছেন, তাদেরকে সত্যবাদী বলে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে এবং মুসলিম উম্মাহ এ ব্যাপারে সকলেই একমত। অথচ তারা সহাবায়ে কেরামকে দু’ ভাগে ভাগ করেছেন। (১) ফকীহ (২) গাইরে ফকীহ। আর বলেছেন যে সকল সহাবী ফকীহ ছিলেন তারা যদি কিয়াসের বিপরীতে হাদীস বর্ণনা করেন তবে তা গ্রহণযোগ্য কিন্তু যে সকল সহাবী গাইরে ফকীহ অর্থাৎ ফকীহ নন তাঁরা যদি কিয়াসের খেলাফ হাদীস বর্ণনা করেন তাহলে তা গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে না।

প্রকৃতপক্ষে এটা উম্মাতে মুহাম্মাদিয়াহকে সিরাতে মুস্তাকীমের পথ হতে সরিয়ে দেয়ার একটা বড় অস্ত্র এবং পরিকল্পনা। কেননা তাঁরা কিয়াসকে মূল এবং হাদীসকে দ্বিতীয় স্থানে রেখেছেন। সকল সহাবীর উপর আল্লাহ তা‘আলা সন্তুষ্ট কিন্তু তারা খুশী নন। সকল সহাবীর ব্যাপারে উম্মাতের ঐকমত্য রয়েছে। কিন্তু তাদের নিকট গাইরে ফকীহ সহাবীগণ ‘আদিল নন।

ধোঁকাবাজীর কিছু নমুনাঃ তারা বলেন, ফকীহ সহাবীগণ কিয়াসের খেলাফ হাদীস বর্ণনা করলে তা গ্রহণীয় হবে। কিন্তু গাইরে ফকীহ সহাবীগণ কিয়াসের খেলাফ হাদীস বর্ণনা করলে তা বাতিল হয়ে যাবে এবং কিয়াসের উপর ‘আমল করতে হবে।

বাই‘য়ি মুসারাহ এর হাদীস আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত এবং তা কিয়াসের খেলাফ। এই জন্য তা বাতিল। এবং কিয়াসের উপর ‘আমালযোগ্য। অথচ এই হাদীস ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাযি.) হতেও বর্ণিত হয়েছে।

(দেখুন সহীহ বুখারী ২৮৮ পৃষ্ঠা রশিদিয়া ছাপা)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২: উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। হারিস ইবনু হিশাম (রাঃ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নিকট ওয়াহী কিরূপে আসে?’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ [কোন কোন সময় তা ঘণ্টা বাজার মত আমার নিকট আসে। আর এটি-ই আমার উপর সবচেয়ে বেদনাদায়ক হয় এবং তা শেষ হতেই মালাক (ফেরেশতা) যা বলেন আমি তা মুখস্থ করে নেই, আবার কখনো মালাক মানুষের রূপ ধারণ করে আমার সাথে কথা বলেন। তিনি যা বলেন আমি তা মুখস্থ করে নেই।] ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি তীব্র শীতের সময় ওয়াহী নাযিলরত অবস্থায় তাঁকে দেখেছি। ওয়াহী শেষ হলেই তাঁর ললাট হতে ঘাম ঝরে পড়ত। (৩২১৫; মুসলিম ৪৩/২৩, হাঃ ২৩৩৩, আহমাদ ২৫৩০৭, ২৬২৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩: উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট সর্বপ্রথম যে ওয়াহী আসে, তা ছিল নিদ্রাবস্থায় বাস্তব স্বপ্নরূপে। যে স্বপ্নই তিনি দেখতেন তা একেবারে প্রভাতের আলোর ন্যায় প্রকাশিত হতো। অতঃপর তাঁর নিকট নির্জনতা পছন্দনীয় হয়ে দাঁড়ায় এবং তিনি ‘হেরা’র গুহায় নির্জনে অবস্থান করতেন। আপন পরিবারের নিকট ফিরে এসে কিছু খাদ্যসামগ্রী সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার পূর্বে- এভাবে সেখানে তিনি এক নাগাড়ে বেশ কয়েক দিন ‘ইবাদাতে মগ্ন থাকতেন। অতঃপর খাদীজাহ (রাঃ)-এর নিকট ফিরে এসে আবার একই সময়ের জন্য কিছু খাদ্যদ্রব্য নিয়ে যেতেন। এভাবে ‘হেরা’ গুহায় অবস্থানকালে তাঁর নিকট ওয়াহী আসলো। তাঁর নিকট ফেরেশতা এসে বললো, ‘পাঠ করুন’। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ [‘‘আমি বললাম, ‘আমি পড়তে জানি না।] তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ [অতঃপর সে আমাকে জড়িয়ে ধরে এমনভাবে চাপ দিলো যে, আমার খুব কষ্ট হলো। অতঃপর সে আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললো, ‘পাঠ করুন’। আমি বললামঃ আমি তো পড়তে জানি না।’ সে দ্বিতীয়বার আমাকে জড়িয়ে ধরে এমনভাবে চাপ দিলো যে, আমার খুব কষ্ট হলো। অতঃপর সে আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললোঃ ‘পাঠ করুন’। আমি উত্তর দিলাম, ‘আমি তো পড়তে জানি না।’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অতঃপর তৃতীয়বারে তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন। তারপর ছেড়ে দিয়ে বললেন, ‘‘পাঠ করুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত পিন্ড থেকে, পাঠ করুন, আর আপনার রব অতিশয় দয়ালু’’- (সূরাহ্ ‘আলাক্ব ৯৬/১-৩)।

অতঃপর এ আয়াত নিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -প্রত্যাবর্তন করলেন। তাঁর হৃদয় তখন কাঁপছিল। তিনি খাদীজাহ বিন্তু খুওয়ায়লিদের নিকট এসে বললেন, ‘আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত কর’, ‘আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত কর।’ তাঁরা তাঁকে চাদর দ্বারা আবৃত করলেন। এমনকি তাঁর শংকা দূর হলো। তখন তিনি খাদীজাহ (রাঃ)-এর নিকট ঘটনাবৃত্তান্ত জানিয়ে তাঁকে বললেন, আমি আমার নিজেকে নিয়ে শংকা বোধ করছি। খাদীজাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম, কখনই নয়। আল্লাহ্ আপনাকে কখনও লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সদাচরণ করেন, অসহায় দুস্থদের দায়িত্ব বহন করেন, নিঃস্বকে সহযোগিতা করেন, মেহমানের আপ্যায়ন করেন এবং হক পথের দুর্দশাগ্রস্তকে সাহায্য করেন। অতঃপর তাঁকে নিয়ে খাদীজাহ (রাঃ) তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকাহ ইবনু নাওফাল ইবনু ‘আবদুল আসাদ ইবনু ‘আবদুল ‘উযযাহ’র নিকট গেলেন, যিনি অন্ধকার যুগে ‘ঈসায়ী ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ইবরানী ভাষায় লিখতে পারতেন এবং আল্লাহর তাওফীক অনুযায়ী ইবরানী ভাষায় ইনজীল হতে ভাষান্তর করতেন। তিনি ছিলেন অতিবৃদ্ধ এবং অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। খাদীজাহ (রাঃ) তাঁকে বললেন, ‘হে চাচাতো ভাই! আপনার ভাতিজার কথা শুনুন।’ ওয়ারাকাহ তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ভাতিজা! তুমি কী দেখ?’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা দেখেছিলেন, সবই বর্ণনা করলেন। তখন ওয়ারাকাহ তাঁকে বললেন, এটা সেই বার্তাবাহক যাঁকে আল্লাহ মূসা (আঃ)-এর নিকট পাঠিয়েছিলেন। আফসোস! আমি যদি সেদিন থাকতাম। আফসোস! আমি যদি সেদিন জীবিত থাকতাম, যেদিন তোমার কওম তোমাকে বহিষ্কার করবে।’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, [‘তারা কি আমাকে বের করে দেবে?’] তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, তুমি যা নিয়ে এসেছো অনুরূপ (ওয়াহী) কিছু যিনিই নিয়ে এসেছেন তাঁর সঙ্গেই বৈরিতাপূর্ণ আচরণ করা হয়েছে। সেদিন যদি আমি থাকি, তবে তোমাকে জোরালোভাবে সাহায্য করব।’ এর কিছুদিন পর ওয়ারাকাহ (রাঃ) ইন্তিকাল করেন। আর ওয়াহীর বিরতি ঘটে। (৩৩৯২, ৪৯৫৩, ৪৯৫৫, ৪৯৫৬, ৪৯৫৭, ৬৯৮২; মুসলিম ১/৭৩ হাঃ ১৬০, আহমাদ ২৬০১৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৪: জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ্ আনসারী (রাঃ) ওয়াহী স্থগিত হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একদা আমি হাঁটছি, হঠাৎ আসমান হতে একটি শব্দ শুনতে পেয়ে আমার দৃষ্টিকে উপরে তুললাম। দেখলাম, সেই ফেরেশতা, যিনি হেরা গুহায় আমার নিকট এসেছিলেন, আসমান ও যমীনের মাঝে একটি আসনে উপবিষ্ট। এতে আমি শংকিত হলাম। অবিলম্বে আমি ফিরে এসে বললাম, ‘আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত কর, আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত কর।’ অতঃপর আল্লাহ্ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন, ‘‘হে বস্ত্রাবৃত রাসূল! (১) উঠুন, সতর্ক করুন; আর আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন; এবং স্বীয় পরিধেয় বস্ত্র পবিত্র রাখুন; (৫) এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকুন।’’ (সূরাহ্ঃ মুদ্দাস্সির ৭৪/১-৫) অতঃপর ওয়াহী পুরোদমে ধারাবাহিক অবতীর্ণ হতে লাগল। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহ.) ও আবূ সালেহ্ (রহ.) অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। হিলাল ইবনু রাদ্দাদ (রহ.) যুহরী (রহ.) থেকেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইউনুস ও মা’মার فواده -এর স্থলে بَوَادِرُهُ শব্দ উল্লেখ করেছেন।

(৩২৩৮, ৪৯২২, ৪৯২৩, ৪৯২৪, ৪৯২৫, ৪৯২৬, ৪৯৫৪, ৬২১৪; মুসলিম ১/৩৮ হাঃ ১৬১, আহমাদ ১৫০৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩ শেষাংশ)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৫: ইবনু ‘আববাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘ওয়াহী দ্রুত আয়ত্ত করার জন্য আপনি ওয়াহী নাযিল হওয়ার সময় আপনার জিহবা নাড়বেন না।’’ (সূরাহ্ কিয়ামাহ ৭৫/১৬)-এর ব্যাখ্যায় ইবনু ‘আববাস বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াহী অবতরণের সময় তা আয়ত্ত করতে বেশ কষ্ট করতেন এবং প্রায়ই তিনি তাঁর উভয় ঠোঁট নড়াতেন।’ ইবনু ‘আববাস (রাযি.) বলেন, ‘আমি তোমাকে দেখানোর জন্য ঠোঁট দুটি নাড়ছি যেভাবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নড়াতেন।’ সা‘ঈদ (রহ.) (তাঁর শিষ্যদের) বলেন, ‘আমি ইবনু ‘আববাস (রাযি.)-কে যেরূপে তাঁর ঠোঁট দুটি নড়াতে দেখেছি, সেভাবেই আমার ঠোঁট দুটি নড়াচ্ছি।’ এই বলে তিনি তাঁর ঠোঁট দুটি নড়ালেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ্ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেনঃ ‘‘ওয়াহী দ্রুত আয়ত্ত করার জন্য আপনি ওয়াহী নাযিল হবার সময় আপনার জিহবা নড়াবেন না, এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমার’’- (সূরাহ্ ক্বিয়ামাহ ৭৫/১৬)।

ইবনু ‘আববাস (রাঃ) বলেন, ‘‘এর অর্থ হলোঃ তোমার অন্তরে তা হেফাযত করা এবং তোমার দ্বারা তা পাঠ করানো। ‘‘সুতরাং আমি যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন’’- (সূরাহ্ কিয়ামাহ ৭৫/১৮)। ইবনু ‘আববাস (রাঃ) বলেন, অর্থাৎ মনোযোগ সহকারে শুন এবং চুপ থাক। ‘‘তারপর এর বিশদ বর্ণনার দায়িত্ব তো আমারই’’- (সূরাহ্ কিয়ামাহ ৭৫/১৯)। অর্থাৎ তুমি তা পাঠ করবে, এটাও আমার দায়িত্ব। তারপর যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট জিবরীল (‘আ.) আসতেন, তখন তিনি মনোযোগ দিয়ে কেবল শুনতেন। জিবরীল চলে যাবার পর তিনি যেমন পাঠ করেছিলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ও তদ্রূপ পাঠ করতেন।

(৪৯২৭, ৪৯২৮, ৪৯২৯, ৫০৪৪, ৭৫২৪; মুসলিম ৪/৩২ হাঃ ৪৪৮, আহমাদ ৩১৯১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪-এর শেষাংশ)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৬: ইবনু ‘আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল রমাযানে তিনি আরো অধিক দানশীল হতেন, যখন জিবরীল (আঃ) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। আর রমাযানের প্রতি রাতেই জিবরীল (আঃ) তাঁর সাথে দেখা করতেন এবং তাঁরা একে অপরকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন। নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রহমতের বায়ু অপেক্ষাও অধিক দানশীল ছিলেন।

(১৯০২, ৩২২০, ৩৫৫৪, ৪৯৯৭; মুসলিম ৪৩/১২ হাঃ ৩২০৮, আহমাদ ৩৬১৬, ৩৪২৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৭: ‘‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আববাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, আবূ সুফইয়ান ইবনু হরব তাকে বলেছেন, রাজা হিরাক্লিয়াস একদা তাঁর নিকট লোক প্রেরণ করলেন। তিনি তখন ব্যবসা উপলক্ষে কুরাইশদের কাফেলায় সিরিয়ায় ছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে সময় আবূ সুফইয়ান ও কুরাইশদের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সন্ধিতে আবদ্ধ ছিলেন। আবূ সুফইয়ান তার সাথী সহ হিরাক্লিয়াসের নিকট আসলেন এবং তখন হিরাক্লিয়াস জেরুযালেমে ছিলেন। হিরাক্লিয়াস তাদেরকে তাঁর নিকটে ডেকে পাঠালেন। তাঁর নিকটে তখন রোমের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিল। অতঃপর তাদের নিকটে ডাকলেন এবং দোভাষীকে ডাকলেন। অতঃপর জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই যে ব্যক্তি নিজেকে নাবী বলে দাবী করে-তোমাদের মাঝে বংশের দিক হতে তাঁর সবচেয়ে নিকটাত্মীয় কে’? আবূ সুফইয়ান বলেন, ‘আমি বললাম, বংশের দিক দিয়ে আমিই তাঁর নিকটাত্মীয়।’ তিনি বললেন, ‘তাঁকে আমার অতি নিকটে আন এবং তাঁর সাথীদেরকেও তার পেছনে বসিয়ে দাও।’

অতঃপর তাঁর দোভাষীকে বললেন, ‘তাদের বলে দাও, আমি এর নিকট সে ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করব, যদি সে আমার নিকট মিথ্যা বলে, তখন সঙ্গে সঙ্গে তোমরা তাকে মিথ্যুক বলবে। আবূ সুফ্ইয়ান বলেন, ‘আল্লাহর কসম! আমার যদি এ লজ্জা না থাকত যে, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলে প্রচার করবে, তবে আমি অবশ্যই তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা বলতাম।’

অতঃপর তিনি তাঁর সম্পর্কে আমাকে সর্বপ্রথম যে প্রশ্ন করেন তা হলো, ‘বংশমর্যাদার দিক দিয়ে তোমাদের মধ্যে সে কিরূপ?’ আমি বললাম, ‘তিনি আমাদের মধ্যে খুব সম্ভ্রান্ত বংশের।’ তিনি বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে এর পূর্বে আর কখনো কি কেউ এরূপ কথা বলেছে?’ আমি বললাম, ‘না।’ তিনি বললেন, ‘তাঁর পূর্বপুরুষের মধ্যে কেউ কি বাদশাহ ছিলেন?’ আমি বললাম, ‘না।’ তিনি বললেন, ‘সম্ভ্রান্ত মর্যাদাবান শ্রেণীর লোকেরা তাঁর অনুসরণ করে, নাকি দুর্বল লোকেরা?’ আমি বললাম, ‘দুর্বল লোকেরা।’ তিনি বললেন, ‘তাদের সংখ্যা কি বাড়ছে, না কমছে?’ আমি বললাম, ‘তারা বেড়েই চলেছে।’ তিনি বললেন, ‘তাঁর ধর্মে ঢুকে কেউ কি অসন্তুষ্ট হয়ে তা ত্যাগ করে?’ আমি বললাম, ‘না।’ তিনি বললেন, ‘তার দাবীর পূর্বে তোমরা কি কখনো তাঁকে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছ?’ আমি বললাম, ‘না।’ তিনি বললেন, ‘তিনি কি সন্ধি ভঙ্গ করেন?’ আমি বললাম, ‘না। তবে আমরা তাঁর সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সময়ের সন্ধিতে আবদ্ধ আছি। জানি না, এর মধ্যে তিনি কী করবেন।’ আবূ সুফ্ইয়ান বলেন, ‘এ কথাটি ব্যতীত নিজের পক্ষ হতে আর কোন কথা যোগ করার সুযোগই আমি পাইনি।’ তিনি বললেন, ‘তোমরা তাঁর সঙ্গে কখনো যুদ্ধ করেছ কি?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, ‘তাঁর সঙ্গে তোমাদের যুদ্ধের পরিণাম কি হয়েছে?’ আমি বললাম, ‘তাঁর ও আমাদের মধ্যে যুদ্ধের ফলাফল কুপের বালতির ন্যায়।’ কখনো তাঁর পক্ষে যায়, আবার কখনো আমাদের পক্ষে আসে।’ তিনি বললেন, ‘তিনি তোমাদের কিসের আদেশ দেন?’ আমি বললাম, ‘তিনি বলেনঃ তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাঁর সঙ্গে কোন কিছুর অংশীদার সাব্যস্ত করো না এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরা যা বলে তা ত্যাগ কর। আর তিনি আমাদের সালাত আদায়ের, সত্য বলার, চারিত্রিক নিষ্কলুষতার এবং আত্মীয়দের সঙ্গে সদাচরণ করার নির্দেশ দেন।’

অতঃপর তিনি দোভাষীকে বললেন, ‘তুমি তাকে বল, আমি তোমার নিকট তাঁর বংশ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি। তুমি তার জবাবে উল্লেখ করেছ যে, তিনি তোমাদের মধ্যে সম্ভ্রান্ত বংশের। প্রকৃতপক্ষে রাসূলগণকে তাঁদের কওমের উচ্চ বংশেই পাঠানো হয়ে থাকে। তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, এ কথা তোমাদের মধ্যে ইতিপূর্বে আর কেউ বলেছে কিনা? তুমি বলেছ, ‘না।’ তাই আমি বলছি, পূর্বে যদি কেউ এরূপ বলত, তবে আমি অবশ্যই বলতাম, ইনি এমন এক ব্যক্তি, যিনি তাঁর পূর্বসূরীর কথারই অনুসরণ করছেন। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, তাঁর পূর্বপুরুষের মধ্যে কোন বাদশাহ ছিলেন কি না? তুমি তার জবাবে বলেছ, ‘না।’ তাই আমি বলছি যে, তাঁর পূর্বপুরুষের মধ্যে যদি কোন বাদশাহ থাকতেন, তবে আমি বলতাম, ইনি এমন এক ব্যক্তি যিনি তাঁর বাপ-দাদার বাদশাহী ফিরে পেতে চান। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি-এর পূর্বে কখনো তোমরা তাঁকে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছ কিনা? তুমি বলেছ, ‘না।’ এতে আমি বুঝলাম, এমনটি হতে পারে না যে, কেউ মানুষের ব্যাপারে মিথ্যা পরিত্যাগ করবে আর আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা বলবে। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, সম্ভ্রান্ত লোক তাঁর অনুসরণ করে, না সাধারণ লোক? তুমি বলেছ, সাধারণ লোকই তাঁর অনুসরণ করে। আর বাস্তবেও এই শ্রেণীর লোকেরাই হন রাসূলগণের অনুসারী। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, তারা সংখ্যায় বাড়ছে না কমছে? তুমি বলেছ, বাড়ছে। প্রকৃতপক্ষে ঈমানে পূর্ণতা লাভ করা পর্যন্ত এ রকমই হয়ে থাকে। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, তাঁর দ্বীনে প্রবেশ করে কেউ কি অসন্তুষ্ট হয়ে তা ত্যাগ করে? তুমি বলেছ, ‘না।’ ঈমানের স্নিগ্ধতা অন্তরের সঙ্গে মিশে গেলে ঈমান এরূপই হয়। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, তিনি সন্ধি ভঙ্গ করেন কিনা? তুমি বলেছ, ‘না।’ প্রকৃতপক্ষে রাসূলগণ এরূপই, সন্ধি ভঙ্গ করেন না। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, তিনি তোমাদের কিসের আদেশ দেন? তুমি বলেছ, তিনি তোমাদের এক আল্লাহর বন্দেগী করা ও তাঁর সঙ্গে অন্য কিছুর অংশীদার স্থাপন না করার নির্দেশ দেন। তিনি তোমাদের নিষেধ করেন মূর্তিপূজা করতে আর তোমাদের আদেশ করেন সালাত আদায় করতে, সত্য বলতে ও সচ্চরিত্র থাকতে। তুমি যা বলেছ তা যদি সত্য হয়, তবে শীঘ্রই তিনি আমার এ দু’পায়ের নীচের জায়গার অধিকারী হবেন। আমি নিশ্চিত জানতাম, তাঁর আবির্ভাব হবে; কিন্তু তিনি যে তোমাদের মধ্য হতে হবেন, এ কথা ভাবতে পারিনি। যদি জানতাম, আমি তাঁর নিকট পৌঁছতে পারব, তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য আমি যে কোন কষ্ট সহ্য করে নিতাম। আর আমি যদি তাঁর নিকট থাকতাম তবে অবশ্যই তাঁর দু’খানা পা ধৌত করে দিতাম। অতঃপর তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সেই পত্রখানি আনার নির্দেশ দিলেন, যা তিনি দিহ্ইয়াতুল কালবী (রাঃ)-কে দিয়ে বসরার শাসকের মাধ্যমে হিরাক্লিয়াসের নিকট প্রেরণ করেছিলেন। তিনি তা পড়লেন। তাতে (লেখা) ছিলঃ

বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম (পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে)। আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পক্ষ হতে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের প্রতি। – শান্তি (বর্ষিত হোক) তার প্রতি, যে হিদায়াতের অনুসরণ করে। তারপর আমি আপনাকে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছি। ইসলাম গ্রহণ করুন, শান্তিতে থাকবেন। আল্লাহ্ আপনাকে দ্বিগুণ প্রতিদান দান করবেন। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেন, তবে সকল প্রজার পাপই আপনার উপর বর্তাবে।

‘‘হে আহলে কিতাব! এসো সে কথায় যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে এক ও অভিন্ন। তা হল, আমরা যেন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত না করি , কোন কিছুকেই যেন তাঁর শরীক সাব্যস্ত না করি এবং আমাদের কেউ যেন কাউকে পালনকর্তারূপে গ্রহণ না করে আল্লাহকে ত্যাগ করে। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমরা বল, ‘‘তোমরা সাক্ষী থাক, আমরা তো মুসলিম।’’ (সূরাহ্ আলে-‘ইমরান ৩/৬৪)

আবূ সুফইয়ান বলেন, ‘হিরাক্লিয়াস যখন তাঁর বক্তব্য শেষ করলেন এবং পত্র পাঠও শেষ করলেন, তখন সেখানে হট্টগোল শুরু হয়ে গেল, চীৎকার ও হৈ-হল্লা চরমে পৌঁছল এবং আমাদেরকে বের করে দেয়া হলো। আমাদেরকে বের করে দিলে আমি আমার সাথীদের বললাম, আবূ কাবশার* ছেলের বিষয় তো শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, বনূ আসফার (রোম)-এর বাদশাহও তাকে ভয় পাচ্ছে! তখন থেকে আমি বিশ্বাস রাখতাম, তিনি শীঘ্রই জয়ী হবেন। অবশেষে আল্লাহ্ তা‘আলা আমাকে ইসলাম গ্রহণের তাওফীক দান করলেন।

ইবনু নাতূর ছিলেন জেরুযালেমের শাসনকর্তা এবং হিরাক্লিয়াসের বন্ধু ও সিরিয়ার খৃস্টানদের পাদ্রী। তিনি বলেন, ‘হিরাক্লিয়াস যখন জেরুযালেম আসেন, তখন একদা তাঁকে অত্যন্ত মলিন দেখাচ্ছিল। তাঁর একজন বিশিষ্ট সহচর বলল, ‘আমরা আপনার চেহারা আজ এত মলিন দেখছি, ইবনু নাতূর বলেন, হিরাক্লিয়াস ছিলেন জ্যোতির্বিদ, জ্যোতির্বিদ্যায় তাঁর দক্ষতা ছিল। তারা জিজ্ঞেস করলে তিনি তাদের বললেন, ‘আজ রাতে আমি তারকারাজির দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলাম, খতনাকারীদের বাদশাহ আবির্ভূত হয়েছেন। বর্তমান যুগে কোন্ জাতি খাতনা করে’? তারা বলল, ‘ইয়াহূদ জাতি ব্যতীত কেউ খাতনা করে না। কিন্তু তাদের ব্যাপারে আপনি মোটেও চিন্তাগ্রস্থ হবেন না। আপনার রাজ্যের শহরগুলোতে লিখে পাঠান, তারা যেন সেখানকার সকল ইয়াহূদীকে কতল করে ফেলে।’ তারা যখন এ ব্যাপারে ব্যতিব্যস্ত ছিল, তখন হিরাক্লিয়াসের নিকট জনৈক ব্যক্তিকে হাযির করা হলো, যাকে গাস্সানের শাসনকর্তা পাঠিয়েছিল। সে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে খবর দিচ্ছিল। হিরাক্লিয়াস তার কাছ থেকে খবর জেনে নিয়ে বললেন, ‘তোমরা একে নিয়ে গিয়ে দেখ, তার খাতনা হয়েছে কি-না।’ তারা তাকে নিয়ে গিয়ে দেখে এসে সংবাদ দিল, তার খাতনা হয়েছে। হিরাক্লিয়াস তাকে আরবদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সে জওয়াব দিল, ‘তারা খাতনা করে।’ অতঃপর হিরাক্লিয়াস তাদের বললেন, ‘ইনি [আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ] এ উম্মতের বাদশাহ। তিনি আবির্ভূত হয়েছেন।’ অতঃপর হিরাক্লিয়াস রোমে তাঁর বন্ধুর নিকট লিখলেন। তিনি জ্ঞানে তাঁর সমকক্ষ ছিলেন। পরে হিরাক্লিয়াস হিমস চলে গেলেন। হিমসে থাকতেই তাঁর নিকট তাঁর বন্ধুর চিঠি এলো, যা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আবির্ভাব এবং তিনিই যে প্রকৃত নাবী, এ ব্যাপারে হিরাক্লিয়াসের মতকে সমর্থন করছিল। তারপর হিরাক্লিয়াস তাঁর হিমসের প্রাসাদে রোমের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের ডাকলেন এবং প্রাসাদের সকল দরজা বন্ধ করার আদেশ দিলে দরজা বন্ধ করা হলো। অতঃপর তিনি সম্মুখে এসে বললেন, হে রোমের অধিবাসী! তোমরা কি মঙ্গল, হিদায়াত এবং তোমাদের রাষ্ট্রের স্থায়িত্ব চাও? তাহলে এই নাবীর বায়’আত গ্রহণ কর।’ এ কথা শুনে তারা বন্য গাধার ন্যায় দ্রুত নিঃশ্বাস ফেলতে ফেলতে দরজার দিকে ছুটল, কিন্তু তারা তা বন্ধ দেখতে পেল। হিরাক্লিয়াস যখন তাদের অনীহা লক্ষ্য করলেন এবং তাদের ঈমান থেকে নিরাশ হয়ে গেলেন, তখন বললেন, ‘ওদের আমার নিকট ফিরিয়ে আন।’ তিনি বললেন, ‘আমি একটু পূর্বে যে কথা বলেছি, তা দিয়ে তোমরা তোমাদের দ্বীনের উপর কতটুকু অটল, কেবল তার পরীক্ষা করছিলাম। এখন তা দেখে নিলাম।’ একথা শুনে তারা তাঁকে সাজদাহ করল এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হলো। এটাই ছিল হিরাক্লিয়াসের সর্বশেষ অবস্থা।

আবূ ‘আবদুল্লাহ [বুখারী (রহ.)] বলেন, সালিহ ইবনু কায়সান (রহ.), ইউনুস (রহ.) ও মা’মার (রহ.) এ হাদীস যুহরী (রহ.) থেকে রিওয়ায়াত করেছেন। (৫১, ২৬৮১, ২৮০৪, ২৯৪১, ২৯৭৮, ৩১৭৪, ৪৫৫৩, ৫৯৮০, ৬২৬০, ৭১৯৬, ৭৫৪১ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬)

* আবূ কাবশা : এ নামে জনৈক ব্যক্তি প্রতিমা পূজার বিরোধী ছিল বলে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তার ছেলে অর্থাৎ আবূ কাবশা বলা হয়েছে। এ মর্মে আরও কয়েকটি বর্ণনা রয়েছে।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)

অধ্যায়ঃ ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন

পলাশ বাহিনীর গ্রেফতার দাবি এলাকাবাসীর

 

শান্তির জনপদ ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার মানুষ এখন আর শান্তিতে নেই। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. পলাশের নেতৃত্বাধীন ‘পলাশ বাহিনী’র তাণ্ডবের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সরকারি দলের অনেক রাজনীতিবিদ পর্যন্ত।

ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ, একের পর এক জমি দখল, সালিশ, জমিজমার বিচার ও হামলা-মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং চাঁদাবাজিসহ পলাশ ও তার বাহিনীর নানা অপকর্মে অতীষ্ঠ এলাকাবাসী।

এ বাহিনীর থাবা থেকে কেউই রেহাই পাচ্ছে না। থানা-পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে দহরম-মহরম থাকায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা নেয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকে।

এলাকাবাসীর দাবি, পলাশ ও তার বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচার করতে হবে। না হলে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে, যার প্রভাব পড়বে আগামী সংসদ নির্বাচনে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নবাবগঞ্জের এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, মাধ্যমিকের গণ্ডি না পেরোলেও তার রয়েছে বিশাল অফিস ও নেটওয়ার্ক।

নদী থেকে রাতের আঁধারে ও প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন, জোর করে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করা এবং ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক বিক্রি করে থাকে পলাশ ও তার বাহিনী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দলীয় পদ-পদবি ব্যবহার করে ও গুরুত্বপূর্ণ এক মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে চলে পলাশ। চলাফেরা করে পাজেরো গাড়িতে, কোমরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মতো করে পিস্তল রাখে সে।

নবাবগঞ্জে গড়ে তুলেছে সংঘবদ্ধ এক বিশাল ক্যাডার বাহিনী। পথচারী, রিকশাচালক, হকার থেকে শুরু করে সব শ্রেণী ও পেশার মানুষ আতঙ্কে থাকেন, এই বুঝি পলাশের লোক এলো মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে।

এতসব অপকর্মের পরও কীভাবে একাধিক অস্ত্রের লাইন্সেস পেল- সে প্রশ্ন করেন স্থানীয়দের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারাও।

বক্সনগর ইউপির কোমরগঞ্জের এক সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা পলাশের নিজ গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ একাধিক ব্যক্তি বলেন, ঈমান আলীর ছেলে পলাশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রাজনীতি ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে নিজ নামে বাহিনী গড়ে তোলে।

এতে একদিকে যেমন সাধারণ জনগণ আতঙ্কে থাকে, অন্যদিকে বর্তমান সরকারের চরম দুর্নাম হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে গালিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুর রহমান আজিম বলেন, সন্ত্রাসী পলাশ ও তার বাহিনী আমার বাড়িতেও হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করেছে।

থানা-পুলিশ সে মামলাও নেয়নি। তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তি দেয়া হোক- আমি সেটাই কামনা করছি।

পাঠানকান্দা গ্রামের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম বলেন, সন্ত্রাসী পলাশ আমার ছেলের চোখ তুলে নিয়েছিল। আমার ছেলে এখন অন্ধপ্রায়।

পলাশ ও তার বাহিনীর ভয়ে সব সময় আতঙ্কে থাকি। দ্রুত পলাশ ও তার বাহিনীকে গ্রেফতার না করলে এলাকায় থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

থানা পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে তার দহরম-মহরম সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তারা বলেন, ঢাকা উত্তরের ২৭নং ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও কমিশনার ফরিদুর রহমান খান ইরানের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে পলাশ ও তার বাহিনী নবাবগঞ্জে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের অপকর্ম থেকে রেহাই পাচ্ছে না সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ও।

এ বিষয়ে ফরিদুর রহমান ইরান যুগান্তরকে বলেন, কেউ যদি আমাকে ব্যবহার করে অন্যায় কিছু করে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা বলছেন, দ্রুত পলাশ ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে দলীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে শান্তির জনপদ নবাবগঞ্জে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক শূন্যের কোঠায় চলে যাবে।

ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা যুগান্তরকে বলেন, কিছুদিন আগে বক্সনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মিসভায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার কবিরের ওপর হামলা করে পলাশ ও তার বাহিনী।

এ ঘটনায় দেলোয়ার কবির গুরুতর আহত হন। এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বর্ধনপাড়ায় মহিউদ্দিন নামে এক ক্ষুদ্র মুদি ব্যবসায়ীর বসতবাড়িসহ ২১ শতাংশ জমি দখল করে নেয় পলাশ বাহিনী।

এ বিষয়েও গত তিন দিনে মামলা নেয়নি থানা পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে ফুঁসে উঠেছেন এলাকাবাসী। তারা পলাশ ও তার বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে।

২০১৬ সালের ১৯ নভেম্বর বর্ধনপাড়ায় ক্যাবল ব্যবসা দখলে নিতে মিঠু কাজী ও তার ছেলেকে কুপিয়ে আহত করে পলাশ ও তার বাহিনীর লোকজন।

তখনও মামলা নেয়নি পুলিশ। এলাকাবাসী বলছেন, নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকাই পলাশকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পলাশ ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। সে ছিনতাইসহ একাধিক মামলার আসামি।

পুলিশের পিবিআই শাখায় পলাশ ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে- ঢাকা জেলার সিআর মামলা নং ২৫৭/১৭ (নবাবগঞ্জ) তাং ২৮/৮/১৭ইং ৩২৩/৩২৪/৩০৭/৩৮৫/৫০৬/৩৪/১০৯দঃবিঃ, স্মারক নম্বর পিবিআই/ঢাকা জেলা/২৭১৯/ তারিখ ০৯/১০/১৭।

এ মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে। এ ছাড়া আরও একটি মামলা রয়েছে যার নং- ৯৩/২০১৮।

প্রতিদিনের হাদিসঃ ঈমান

0

হাদিস নং ১৮: ‘উবাদাহ ইবনু সামিত (রাযি.) যিনি বাদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ও লায়লাতুল ‘আকাবার একজন নকীব ‘উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাযি.) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পাশে একজন সহাবীর উপস্থিতিতে তিনি বলেনঃ তোমরা আমার নিকট এই মর্মে বায়‘আত গ্রহণ কর যে, আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছুকে অংশীদার সাব্যস্ত করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, কারো প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করবে না এবং সৎকাজে নাফরমানী করবে না। তোমাদের মধ্যে যে তা পূর্ণ করবে, তার পুরস্কার আল্লাহর নিকট রয়েছে। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হলো এবং দুনিয়াতে তার শাস্তি পেয়ে গেলে, তবে তা হবে তার জন্য কাফ্ফারা। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং আল্লাহ তা অপ্রকাশিত রাখলে, তবে তা আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তিনি যদি চান, তাকে মার্জনা করবেন আর যদি চান, তাকে শাস্তি প্রদান করবেন। আমরা এর উপর বায়‘আত গ্রহণ করলাম।

(৩৮৯২, ৩৮৯৩, ৩৯৯৯, ৪৮৯৪, ৬৭৮৪, ৬৮০১, ৬৮৭৩, ৭০৫৫, ৭১৯৯, ৭২১৩, ৭৪৬৮; মুসলিম ২৯/১০ হাঃ ১৭০৯, আহমাদ ২২৭৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ১৯: আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সেদিন দূরে নয়, যেদিন মুসলিমের উত্তম সম্পদ হবে কয়েকটি বকরী, যা নিয়ে সে পাহাড়ের চূড়ায় অথবা বৃষ্টিপাতের স্থানে চলে যাবে। ফিতনা হতে সে তার ধর্ম সহকারে পলায়ন করবে। (৩৩০০, ৩৬০০, ৬৪৯৫, ৭০৮৮) (১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২০:  ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহাবীদের যখন কোন কাজের নির্দেশ দিতেন, তাঁদের সামর্থ্য অনুযায়ী নির্দেশ দিতেন। একবার তাঁরা বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল্! আমরা তো আপনার মত নই। আল্লাহ্ তা‘আলা আপনার পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন।’ তা শুনে তিনি রাগ করলেন, এমনকি তাঁর চেহারায় রাগের চিহ্ন ফুটে উঠল। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাদের চেয়ে আমিই আল্লাহ্কে অধিক ভয় করি ও বেশী জানি। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২১:  আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি গুণ যার মধ্যে বিদ্যমান, সে ঈমানের স্বাদ পায়- (১) যার নিকট আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অন্য সকল বস্তু হতে অধিক প্রিয়; (২) যে একমাত্র আল্লাহরই জন্য কোন বান্দাকে ভালবাসে এবং (৩) আল্লাহ্ তা‘আলা কুফর হতে মুক্তি প্রদানের পর যে কুফর-এ প্রত্যাবর্তনকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হবার মতোই অপছন্দ করে। (১৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২২:  আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বেহেশতবাসীরা জান্নাতে এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। অতঃপর আল্লাহ্ তা‘আলা মালাকদের বলবেন, যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণও ঈমান আছে, তাকে জাহান্নাম হতে বের করে আনো। তারপর তাদের জাহান্নাম হতে এমন অবস্থায় বের করা হবে যে, তারা (পুড়ে) কালো হয়ে গেছে। অতঃপর তাদের বৃষ্টিতে বা হায়াতের [বর্ণনাকারী মালিক (রহ.) শব্দ দু’টির কোনটি এ সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন] নদীতে নিক্ষেপ করা হবে। ফলে তারা সতেজ হয়ে উঠবে, যেমন নদীর তীরে ঘাসের বীজ গজিয়ে উঠে। তুমি কি দেখতে পাও না সেগুলো কেমন হলুদ বর্ণের হয় ও ঘন হয়ে গজায়? উহাইব (রহ.) বলেন, ‘আমর (রহ.) আমাদের নিকট الْحَيَا এর স্থলে لْحَيَاةِ এবং خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ এর স্থলে خَرْدَلٍ مِنْ خَيْرٍ বর্ণনা করেছেন। (৪৫৮১, ৪৯১৯,৬৫৬০,৬৫৭৪,৭৪৩৮,৭৪৩৯; মুসলিম ১/৮২ হাঃ ১৮৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২৩: আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.)-কে বলতে শুনেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একবার আমি নিদ্রাবস্থায় (স্বপ্নে) দেখলাম যে, লোকদেরকে আমার সামনে আনা হচ্ছে। আর তাদের পরণে রয়েছে জামা। কারো জামা বুক পর্যন্ত আর কারো জামা এর নীচ পর্যন্ত। আর ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযি.)-কে আমার সামনে আনা হল এমন অবস্থায় যে, তিনি তাঁর জামা (অধিক লম্বা হওয়ায়) টেনে ধরে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সহাবীগণ আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এর কী তা’বীর করেছেন? তিনি বললেনঃ (এ জামা অর্থ) দ্বীন। (৩৬৯১, ৭০০৮, ৭০০৯; মুসলিম ৪৪/২ হাঃ ২৩৯০, আহমাদ ১১৮১৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২৪: আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। একদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আনসারীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। তিনি তাঁর ভাইকে তখন (অধিক) লজ্জা ত্যাগের জন্য নাসীহাত করছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ ওকে ছেড়ে দাও। কারণ লজ্জা ঈমানের অঙ্গ। (৬১১৮; মুসলিম ১/১২ হাঃ ৩৬, আহমাদ ৪৫৫৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ২৫: ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি লোকদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য নির্দেশিত হয়েছি, যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, আর সালাত প্রতিষ্ঠা করে ও যাকাত আদায় করে। তারা যদি এগুলো করে, তবে আমার পক্ষ হতে তাদের জান ও মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করলো; অবশ্য ইসলামের বিধান অনুযায়ী যদি কোন কারণ থাকে, তাহলে স্বতন্ত্র কথা। আর তাদের হিসাবের ভার আল্লাহর উপর অর্পিত। (মুসলিম ১/৮ হাঃ ২২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)

অধ্যায়ঃ ঈমান (বিশ্বাস)

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন

দোহারে অগ্নিকান্ডে দুই দোকান পুড়ে ছাই

ঢাকা জেলা দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের মালিকান্দা শ্বশাণ ঘাট সংলগ্ন এলাকার মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ ও আমেনা ট্রেডার্স নামে দুই দোকানে শনিবার রাতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে  প্রায় ৬ লাখ টাকার মালামাল পুরে ছাই হওয়ার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়,রাত আনুমানিক ২ টার দিকে হঠাৎ আগুনের সুত্রপাত হয়।গভীর রাত হওয়ায় আশে পাশে কোন মানুষজন না থাকায় মূহুর্তেই আগুন নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দোহার থানা পুলিশ ও দোহার ফায়ার সার্ভিস ছুটে যায় এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এক ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। ততক্ষনে সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

দোহার ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন অফিসার, মোঃ আব্দুল মান্নান জানান,আমরা আগুন লাগার খবর পেয়ে সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পৌছাই এবং প্রায় এক ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হই। বৈদ্যতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করছেন ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন অফিসার, মোঃ আব্দুল মান্নান।