নবাবগঞ্জে পাশের হার ৮৬.৫১ শতাংশ 

দোহারের তুলনায় অসাধারন ভাল রেজাল্ট করেছে নবাবগঞ্জ উপজেলার শিক্ষার্থীরা। নবাবগঞ্জ উপজেলার ৪টি কেন্দ্রের ফলাফল বিশ্লেষন করে দেখা গিয়েছে এই উপজেলায় পাশের হার ৮৬.৫১ শতাংশ। যা দোহারের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি। এবার নবাবগঞ্জ উপজেলায় মোট এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল ৩৭৩১ জন। এর ভিতরে পাশ করেছে ৩২২৮ জন।  অকৃতকার্য হয়েছে ৫০৩ জন। এই উপজেলা থেকে এবার জিপিএ ৫ পেয়েছে

৬৭ জন শিক্ষার্থী। এর মাঝে শতভাগ পাশ করার গৌরব অর্জন করেছে হরেকৃষ্ণ কুসুমকলি উচ্চ বিদ্যালয়। সবচেয়ে বেশি জিপিএ৫ পেয়েছে নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এই স্কুল থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ অর্জন করেছে।

নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ১৩৬

অকৃতকার্যঃ ০৩

জিপিএ-৫ঃ ১১জন

নবাবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ১৪৮

অকৃতকার্যঃ ০৬

জিপিএ-৫ঃ ৫ জন

কলাকোপা কে.পি.উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ১২০

অকৃতকার্যঃ ৯

জিপিএ-৫ঃ ০৬ জন।

বান্দুরা হলিক্রশ উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ১৮৯

অকৃতকার্যঃ ১৯

জিপিএ-৫ঃ ৭ জন

বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ১৫

অকৃতকার্যঃ ৩৯

জিপিএ-৫ঃ ০

বক্সনগর উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ৮১

অকৃতকার্যঃ ২৭

জিপিএ-৫ঃ ১

বাহ্রা ওয়াসেক মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ৬৪

অকৃতকার্যঃ ৩৩

জিপিএ-৫ঃ ০

পি.কে.বি. উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ১০১

অকৃতকার্যঃ ২৯

জিপিএ-৫ঃ ১

দাউদপুর উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ৯৮

অকৃতকার্যঃ ১৫

জিপিএ-৫ঃ ২

তাশুল্লা উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ৯৬

অকৃতকার্যঃ ২৮

জিপিএ-৫ঃ ০

বারুয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ১৩০

অকৃতকার্যঃ ২

জিপিএ-৫ঃ ৩

সেন্টইউফ্রেজি’স বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ

কৃতকার্যঃ ২১৯

অকৃতকার্যঃ ২২

জিপিএ-৫ঃ ৭ জন

বেগম হাসিবা উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ৯৬

অকৃতকার্যঃ ৯

জিপিএ-৫ঃ ০

হরেকৃষ্ণ কুসুমকলি উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ৭৪

অকৃতকার্যঃ ০

জিপিএ-৫ঃ ২

শিকারীপাড়া টি.কে.এম. উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ১৬৭

অকৃতকার্যঃ ১৪

জিপিএ-৫ঃ ৩

সেন্টথেকলা’স বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ৫৭

অকৃতকার্যঃ ৭

জিপিএ-৫ঃ ০

ঘোষাইল উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ৬৫

অকৃতকার্যঃ ১৩

জিপিএ-৫ঃ ২

তুইতাল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ৩৯

অকৃতকার্যঃ ৭

জিপিএ-৫ঃ ০

খানেপুর উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ৬৮

অকৃতকার্যঃ ৩

জিপিএ-৫ঃ ০

মহব্বতপুর উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ৬০

অকৃতকার্যঃ ১০

জিপিএ-৫ঃ ০

বকচর তুইতাইল উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ২৫

অকৃতকার্যঃ ২

জিপিএ-৫ঃ ০

মহাকবি কায়কোবাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ৩৬

অকৃতকার্যঃ ০৮

জিপিএ-৫ঃ ০

গালিমপুর সোনাবান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ৬৩

অকৃতকার্যঃ ৫

জিপিএ-৫ঃ ৩

চুড়াইন তারিণী বামা উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ৭৭

অকৃতকার্যঃ ২২

জিপিএ-৫ঃ ২

গালিমপুর রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ১৪২

অকৃতকার্যঃ ৪০

জিপিএ-৫ঃ ১

আগলা চৌকিঘাটা জনমঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ১৩৫

অকৃতকার্যঃ ৯

জিপিএ-৫ঃ ১

মেলেং উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ৮৩

অকৃতকার্যঃ ২৪

জিপিএ-৫ঃ ০

দুধঘাটা বালুখন্ড উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ৮২

অকৃতকার্যঃ ৬

জিপিএ-৫ঃ ২

কৈলাইল ইউনিয়ন টেকনিক্যাল উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ৬১

অকৃতকার্যঃ ২৪

জিপিএ-৫ঃ ০

এম. মহিউদ্দিন ভুইয়াঁ উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ৬৬

অকৃতকার্যঃ ৩৩

জিপিএ-৫ঃ ১

পাতিলঝাপ উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ৯৬

অকৃতকার্যঃ ২৩

সিংহরা উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ৫০

অকৃতকার্যঃ ৮

জিপিএ-৫ঃ ১

শোল্লা বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ৯৯

অকৃতকার্যঃ ২২

জিপিএ-৫ঃ ৩

আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ৮৫

অকৃতকার্যঃ ৬

জিপিএ-৫ঃ ৩

মুন্সিনগর উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ৪৮

অকৃতকার্যঃ ৩

জিপিএ-৫ঃ ০

উত্তর বালুখন্ড P G উচ্চ বিদ্যালয়

কৃতকার্যঃ ২৪

অকৃতকার্যঃ ৬

জিপিএ-৫ঃ ০

দোহারে পাশের হার ৭৩.৫২ শতাংশ

২০১৮ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১০ বোর্ডে গড় পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আজ রবিবার সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পাসের হারসংক্রান্ত তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। দোহারে এবার পাশের হার ৭৩.২৪ শতাংশ।

২০১৮ সালে দোহারে এসএসসি মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২৪০৮ জন। এর মাঝে পাশ করেছে ১৭৬৮ জন। দোহারে পাসের হার ৭৩.৪২%। দোহারের বিদ্যালয়গুলির মধ্যে সবচেয়ে  ভাল ফলাফল করেছে কবি নজরুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বিদ্যালয়ে পাশের হার ৯৫.৩১%, এর পর রয়েছে মুকসুদপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় , পাশের হার ৯৪.৫৫%। সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল বেগম আয়েশা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে, ৩৬১ জন, পাশ করেছে সর্বাধিক সংখ্যক ২৭৭জন।

মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে জয়পাড়া আলিয়া মাদ্রাসার পাশের হার ৭৪.৭৯ এই মাদ্রাসায় ৪৪ জন পাশ করেছে৩৫ জন।

বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়

পরীক্ষার্থীঃ ১৯৬ পাশঃ ১৩৩ পাশের হারঃ ৬৭.৮৬% জিপিএ ৫: ৪

বেগম আয়েশা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়

পরীক্ষার্থী: ৩৬১ পাশ: ২৭৭ পাশের হারঃ ৭৬.৭৩% জিপিএ ৫: ১২

ইসলামাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়

পরীক্ষার্থী: ১৬১ পাশ: ১১২ পাশের হারঃ ৭৪.১৭% জিপিএ ৫:১

জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়

পরীক্ষার্থী: ২৩৭ পাশ: ১৬০ পাশের হারঃ ৬৭.৫১% জিপিএ ৫: ৮

কবি নজরুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

পরীক্ষার্থী: ১২৮ পাশ: ১২২ পাশের হারঃ ৯৫.৩১% জিপিএ ৫: ৫

কার্তিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়

পরীক্ষার্থীঃ ২১৮ পাশঃ ১৫৬ পাশের হারঃ ৭৬.১৫% জিপিএ ৫: ২

আজাহার আলী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়

পরীক্ষার্থী: ১১৩ পাশঃ ৬৭ পাশের হারঃ ৫৯.২৯% জিপিএ ৫: ১

লটাখোলা উচ্চ বিদ্যালয়

পরীক্ষার্থী: ৪৩ পাশঃ ৩৬ পাশের হারঃ ৮৩.৭২%।

মধুরখোলা উচ্চ বিদ্যালয়

পরীক্ষার্থী: ৭৬ পাশঃ ৪৬ পাশের হারঃ ৬০.৫৩%জিপিএ ৫: ১

মালিকান্দা মেঘুলা উচ্চ বিদ্যালয়

পরীক্ষার্থী: ১৯৪ পাশঃ ১৫১ পাশের হারঃ ৭৭.৮৪% জিপিএ ৫: ৪

মুকসুদপুর উচ্চ বিদ্যালয়

পরীক্ষার্থী: ৫৫ পাশঃ ৫২ পাশের হারঃ ৯৪.৫৫%।

নারিশা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

পরীক্ষার্থী: ৬৩ পাশঃ ৪৯ পাশের হারঃ ৭৭.৭৮% জিপিএ ৫: ২

নারিশা উচ্চ বিদ্যালয়

পরীক্ষার্থী: ৭৭ পাশঃ ৬১ পাশের হারঃ ৭৯.২২% জিপিএ ৫: ১

শিলাকোঠা উচ্চ বিদ্যালয়

পরীক্ষার্থীঃ ৭৭ পাশঃ ৬৩ পাশের হারঃ ৮১.৮২ % জিপিএ ৫: ২

সুতারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়

পরীক্ষার্থী: ৯৫ পাশঃ ৮১ পাশের হারঃ ৮৫.২৬% জিপিএ ৫: ৫২

মাদ্রাসা বোর্ড:

জয়পাড়া আলিয়া মাদ্রাসা

পরীক্ষার্থী: ৪৪ পাশঃ ৩৫ পাশের হারঃ ৭৯.৫৫%।

মইতপাড়া আলিয়া মাদ্রাসা

পরীক্ষার্থী: ৩৩ পাশঃ ২৬ পাশের হারঃ ৭৮.৭৯।

শাইনপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়

পরীক্ষার্থী: ১৬ পাশঃ ১৪ পাশের হারঃ: ৮৭.৫%।

কাটাখালী মিছের খান উচ্চ বিদ্যালয়

পরীক্ষার্থী: ১৫৮ পাশঃ ১২৭ পাশের হারঃ  ৮০.৩৮% জিপিএ ৫: ৩

দোহার উপজেলা ও পৌরসভা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা

ঢাকা জেলা ছাত্রলীগ দক্ষিনের সর্ব সম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা জেলা ছাত্রলীগ দক্ষিনের অধিনস্ত দোহার উপজেলা ছাত্রলীগ ও দোহার পৌরসভা ছাত্রলীগের কমিটিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে। ৫ মে ২০১৮ তারিখে ঢাকা জেলা ছাত্রলীগ দক্ষিনের প্যাডে সভাপতি গিয়াসউদ্দিন সোহাগ ও সাধারন সম্পাদক এছলান আরাফ অনিকের স্বাক্ষরিত এক ঘোষনায় এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। কমিটি বিলুপ্তির কারন হিসাবে কোন কিছু স্পস্ট না করা হলেও মুলত নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্রলীগে নতুন সেটআপ তৈরি করা এই কমিটি বিলুক্তির অন্যতম কারন হিসাবে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এই ব্যাপারে দোহার উপজেলা ছাত্রলীগ ও দোহার পৌরসভা ছাত্রলীগের কোন প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায় নি।

প্রতিদিনের হাদিসঃ শিষ্ঠাচার

হাদিস নং ৩৬৫৮: আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কার সাথে সদাচরণ করবো? তিনি বলেনঃ তোমার মায়ের সাথে। তারা বললেন, অতঃপর কার সাথে? তিনি বলেনঃ তোমার মায়ের সাথে। তারা বলেন, অতঃপর কার সাথে? তিনি বলেনঃ তোমার পিতার সাথে। তারা বলেন, অতঃপর কার সাথে? তিনি বলেন, অতঃপর পর্যায়ক্রমে নিকটবর্তীদের সাথে।

বুখারী ৫৯৭১, মুসলিম ৪৬২১, আহমাদ ৮১৪৪, ৮৮৩৮, ৮৯৬৫, ইরওয়া ২১৬৯, গায়াতুল মারাম ২৭৬, রাওদুন নাদীর ৮৬৫। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩৬৫৯: আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন সন্তান তার পিতার হক আদায় করতে সক্ষম নয়। তবে সে যদি তাকে দাসরূপে পায় এবং তাকে খরিদ করে আযাদ করে দেয় (তাহলে কিছু হক আদায় হয়)।

মুসলিম ১৫১০, তিরমিযী ১৯০৬, আবূ দাউদ ৫১৩৭, আহমাদ ৭১০৩, ৭৫১৬, ৮৬৭৬, ৯৪৫২, ইরওয়া ১৭৪৭। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী সুহায়ল বিন আবু সালিহ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সাঈদ বলেন, তিনি সিকাহ। সুফইয়ান বিন উয়াইনাহ বলেন, সাবত। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার বর্ণিত হাদিস সহিহ নয়। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইবনু আদী বলেন, তার খবর মাকবুল বা গ্রহণযোগ্য। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে অন্যত্র বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৬২৯, ১২/২২৩ নং পৃষ্ঠা)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩৬৬১: মিকদাম ইবনেমাদীকারিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের মায়েদের সম্পর্কে তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন। একথা তিনি তিনবার বলেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের পিতাদের সম্পর্কে উপদেশ দিচ্ছেন। নিশ্চয় আল্লাহ পর্যায়ক্রমে তোমাদের নিকটবর্তীদের সম্পর্কে তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন (সদাচারের)।

আহমাদ ১৬৭৩৩, ১৬৭৩৬, সহীহাহ ১৬৬৬। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী ইসমাঈল বিন আয়্যাশ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, আহলে শাম থেকে হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনুল মাদীনী, ইবনু আবু শায়বাহ, আমর ইবনুল ফাল্লাস ও দুহায়ম বলেন, শাম শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় তিনি সিকাহ কিন্তু অন্য শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৭২, ৩/১৬৩ নং পৃষ্ঠা)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩৬৬৩: আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেনঃ পিতা হলো জান্নাতের দরজাসমূহের মধ্যবর্তী দরজা। অতএব তুমি ঐ দরজা নষ্টও করতে পারো অথবা তার হেফাজতও করতে পারো।

তিরমিযী ১৯০০, আহমাদ ২১২১০, ২৬৯৬৫, ২৬৯৮০, ২৭০০৪। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আতা ইবনুস সায়িব সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তিনি শেষ বয়সে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেছেন। আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম আন-নায়সাবুরী বলেন, তিনি শেষ বয়সে হাদিস বর্ণনায় পরিবর্তন করেছেন। আয়্যুব বিন আবু তামিমাহ আস-সাখতিয়ানী বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে শেষ বয়সে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৯৩৪, ২০/৮৬ নং পৃষ্ঠা)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩৬৬৫: আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কতক বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললো, আপনারা কি আপনাদের শিশুদের চুমু দেন? সহাবীগণ বলেন, হ্যাঁ। তারা বললো, কিন্তু আল্লাহর শপথ! আমরা চুমু দেই না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ যদি তোমাদের অন্তর থেকে দয়ামায়া তুলে নিয়ে থাকেন তাহলে আমি আর কী করতে পারি।

সহীহুল বুখারী ৫৯৯৮, মুসলিম ২৩১৭, আহমাদ ২৩৭৭০, ২৩৮৮৭। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩৬৬৬: ইয়ালা আল-আমেরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাসান ও হোসাইন (রাঃ) দৌড়াতে দৌড়াতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আসলেন। তিনি তাদেরকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেনঃ সন্তান মানুষকে কাপুরুষ ও দুর্বল বানিয়ে দেয়।

আহমাদ ১৭১১১, মিশকাত ৪৬৯১, ৪৬৯২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার (كتاب الأدب)

পাবলিশারঃ বাংলা হাদিস

প্রতিদিনের হাদিসঃ অসুস্থ মানুষকে দেখতে যাওয়া

 

অধিকাংশ লেখকবৃন্দ এর মধ্যে মুহাদ্দিসগণ ও ফুকাহারা জানাযাহ্ পর্বকে সলাতের পরে এনেছেন। কেননা মৃত ব্যক্তির সাথে গোসল, কাফন ইত্যাদি ক্রম করা হয় বিশেষ করে তার ওপর সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করা হয় যেখানে তার জন্য ক্ববরের ‘আযাব হতে মুক্তি পাওয়ার উপকারিতা বিদ্যমান থাকে। কারো মতে মানুষের দু’ অবস্থা একটি জীবিত অপরটি মৃত অবস্থা আর প্রত্যেকটির সাথে সম্পর্ক থাকে ‘ইবাদাত ও মু‘আমিলাতের হুকুম-আহকাম। আর গুরুত্বপূর্ণ ‘ইবাদাত হচ্ছে সলাত। সুতরাং যখন জীবিতকালীন সম্পর্কিত হুকুম-আহকাম হতে মুক্ত হল তখন মৃত্যুকালীন সম্পর্কিত বিষয়াদি আলোচনা করা হল তন্মধ্যে সলাত ও অন্যান্য বিষয়।

 

কারো মতে, জানাযার সলাত শুরু হয়েছে হিজরীর প্রথম বৎসরে, সুতরাং যারা মাক্কায় মারা গেছে তাদের ওপর সলাত আদায় হয়নি।

 

হাদিস নং ১৫২৩: আবূ মূসা আল আশ্‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্ষুধার্থকে খাবার দিও, অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যেও, বন্দী ব্যক্তিকে মুক্ত করার ব্যবস্থা করো। (বুখারী)

[1] সহীহ : বুখারী ৫৩৭৩, ৫৬৪৯, আবূ দাঊদ ৩১০৫, আহমাদ ১৯৫১, সুনানুল কুবরা লিল নাসায়ী ৮৬১৮, ইবনু হিব্বান ৩৩২৪, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৫৭৫।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

 

 

হাদিস নং ১৫২৪: আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক মুসলিমের ওপর আর এক মুসলিমের পাঁচটি হক বর্তায়। (১) সালামের জবাব দেয়া, (২) রোগ হলে দেখতে যাওয়া, (৩) জানাযায় শামিল হওয়া, (৪) দা‘ওয়াত গ্রহণ করা ও (৫) হাঁচির জবাব দেয়া। (বুখারী, মুসলিম)

[1] সহীহ : বুখারী ১২৪০, মুসরিম ২১৬২, আহমাদ ১০৯৬৬, সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী ৯৯৭৮, আমালুল ইওয়ামে ওয়াল লায়লাহ্ ২২১, ইবনু হিব্বান ২৪১, সহীহ আত্ তারগীব ২১৫৬, সহীহ আল জামি‘ ৩১৫০।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

 

হাদিস নং ১৫২৫: আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে এ হাদীসটিও বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমের ওপর মুসলিমের ছয়টি হক (অধিকার) আছে। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! এ অধিকারগুলো কি কি? জবাবে তিনি বলেন, (১) কোন মুসলিমের সাথে দেখা হলে, সালাম দেবে, (২) তোমাকে কেউ দা‘ওয়াত দিলে, তা কবূল করবে, (৩) তোমার কাছে কেউ কল্যাণ কামনা করলে তাকে কল্যাণের পরামর্শ দেবে, (৪) হাঁচি দিলে তার জবাব ইয়ারহামুকাল্ল-হ বলবে, (৫) কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দেখতে যাবে, (৬) কারো মৃত্যু ঘটলে তার জানাযায় শরীক হবে। (মুসলিম)

[1] সহীহ : মুলিম ২১৬২, আহমাদ ৮৮৪৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১০৯০৯, শু‘আবুল ঈমান ৮৭৩৭, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪০৫, সহীহ আদাবুল মুফরাদ ৯৯১, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪৯৪, সহীহ আল জামি‘ ৩১৫১।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

 

 

হাদিস নং ১৫২৬: বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সাতটি আদেশ ও সাতটি কাজ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদেরকে আদেশ করেছেন- (১) রোগীর খোঁজ-খবর নিতে, (২) জানাযায় শরীক হতে, (৩) হাঁচির আলহামদুলিল্লা-হ’র জবাবে ইয়ারহামুকাল্ল-হ বলতে, (৪) সালামের জবাব দিতে, (৫) দা‘ওয়াত দিলে তা কবূল করতে, (৬) কসম করলে তা পূর্ণ করতে, (৭) মাযলূমের সাহায্য করতে।

এভাবে তিনি আমাদেরকে (১) সোনার আংটি পরতে, (২) রেশমের পোশাক, (৩) ইস্তিবরাক [মোটা রেশম], (৪) দীবাজ [পাতলা রেশম] পরতে, (৫) লাল নরম গদীতে বসতে, (৬) ক্বাস্‌সী ও (৭) রূপার পাত্র ব্যবহার করতে। কোন কোন বর্ণনায়, রূপার পাত্রে পান করতে নিষেধ করেছেন। কেননা যে ব্যক্তি দুনিয়াতে রূপার পাত্রে পান করবে আখিরাতে সে তাতে পান করতে পারবে না। (বুখারী, মুসলিম)

[1] সহীহ : বুখারী ১২৩৯, ২৪৪৫, ৫১৭৫, ৫৬৩৫, ৫৬৫০, ৫৮৪৯, ৬২২২, মুসলিম ২০৬৬, আত্ তিরযিমী ২৮০৯, নাসায়ী ১৯৩৯, ৫৩০৯, আহমাদ ১৮৫০৪, সহীহ আদাবুল মুফরাদ ৯২৪, সুনানুল কুবরা লিল নাসায়ী ২০৭৭, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৫৮৪৬।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

 

 

হাদিস নং ১৫২৭: সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিম তার অসুস্থ কোন মুসলিম ভাইকে দেখার জন্য যখন চলতে থাকে, সে ফিরে আসা পর্যন্ত জান্নাতের ফল আহরণ করতে থাকে। (মুসলিম)

[1] সহীহ : মুসলিম ২৫৬৮, আত্ তিরমিযী ৯৬৭, আহমাদ ২২৪৪৪, ইবনু হিব্বান ২৯৫৭, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪৭৫, সহীহ আল জামি‘ ১৯৪৮।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)

অধ্যায়ঃ জানাযা

পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি

দোহারে আমীনকে আটকে রেখে হত্যা চেষ্টা

দোহার উপজেলায় আমির হোসেন (৪৫) নামে এক গ্রাম্য আমীনকে পিটিয়ে হত্যা চেষ্টার সময় বিল্লাল মোড়ল (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত বিল্লাল দোহার ও নবাবগঞ্জ থানার ডাকাতিসহ কয়েকটি মামলার আসামি বলে পুলিশ জানায়। গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের দক্ষিণ শিমুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আটককৃত বিল্লাল মোড়ল দক্ষিণ শিমুলিয়া গ্রামের মৃত রউফ মোড়লের ছেলে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রিপন মোড়লসহ অজ্ঞাত আরো ২/৩ জন পালিয়ে যায়। এ সময় তারা আমীর হোসেনকে মারধর করে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় বলে অভিযোগে করা হয়।

এ ঘটনায় দোহার থানায় আমির হোসেন নিজে বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এতে বিল্লাল মোড়ল ও রিপন মোড়লসহ অজ্ঞাত আরো ২/৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। দোহার থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটককৃত বিল্লাল মোড়ল দোহার ও নবাবগঞ্জ থানার একাধিক ডাকাতি মামলার আসামি। তাছাড়াও তার নামে একাধিক মামলা রয়েছে। এতদিন সে আদালতের জামিনে ছিল। ওসি সিরাজুল ইসলাম শেখ আরো বলেন, গত সোমবারের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এতে বিল্লাল মোড়ল ও রিপন মোড়লসহ অজ্ঞাত আরো ২/৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বিল্লালকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

চোরাই তেলসহ নবাবগঞ্জের দুই যুবক আটক

৩৪ ব্যারেল চোরাই তেলের ড্রামসহ তিনজনকে আটক করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। এসময় চোরাই তেল বহনকারী একটি পিকআপও আটক করা হয়েছে।

৩০ এপ্রিল সোমবার সন্ধায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার উপ-পরিদর্শক এসআই দিদারুল আলম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দাপা ইদ্রাকপুর রুপচাঁন ব্যাপারীর ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের উপরোক্ত চোরাই তেল ও পিকআপসহ আটক করেন।

ধৃতরা হলেন ফতুল্লা থানাধীন ফাজেলপুর এলাকার রহমত ভান্ডারীরর ছেলে রনি, ঢাকার  নবাবগঞ্জ উপজেলার মৃত আব্দুল মন্নাফ মিয়ার ছেলে সেলিম ভূইয়া ওরফে খোকন ভূইয়া ও একই উপজেলার হাসনাবাদ গ্রামের মো: ইয়ার আলীর ছেলে পিকআপ চালক মো: হাসেম।

অভিযানের নেতৃত্বদানকারী এসআই দিদারুল আলম এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আটকৃত তেলের সবগুলো চোরাই নয়। এর মধ্যে কিছু বৈধভাবে কেনা তেলও আছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পঞ্চবটির যমুনা ডিপোর কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় তারাই চোরাই তেলগুলো সংগ্রহ করেছেন।

তবে ডিপো এলাকার একটি সুত্র বলছে যমুনা ডিপোর কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজস করে চোরাই তেলের ব্যবসাটি পুরাপুরি নিয়ন্ত্রন করেন সালাউদ্দিন ও রহমত উল্লাহ ভান্ডারী। এক অজানা রহস্যে তারা সব সময় রয়ে যায় ধরা-ছোয়ার বাইরে।

মহাবিশ্বের তুলনায় আমরা ঠিক কতটা ক্ষুদ্র?

১৯৯৫ সালের শীতের কোনো এক রাত, রাতের আকাশের তারাদের মিছিলে লুকিয়ে থাকা রহস্যের সমাধান করতে হাবল টেলিস্কোপের মুখ ফিরিয়ে দেওয়া হলো লক্ষ কোটি আলোকবর্ষ দূরের ঐ আলোকবিন্দুদের দিকে। সপ্তর্ষি মণ্ডলের কাছাকাছি আকাশের অগণিত তারার থেকে একটু দূরে যেখানে তুলনামূলকভাবে তারার সংখ্যা কম এবং পার্শ্ববর্তী তারাদের কারণে সৃষ্ট আলোক দূষণ কম সেদিকেই ফিরিয়ে দেওয়া টেলিস্কোপটিকে।

মহাবিশ্বের তুলনায় আমরা ঠিক কতটা ক্ষুদ্র?

অনেকেই ধারণা করেছিলেন যে, হয়তো কিছুই দেখা যাবে না, কিন্তু টানা দশ দিন ধরে ১৫০ ঘন্টার পর্যবেক্ষণে যে ফলাফল উঠে আসে তা জ্যোর্তিবিদদের বেশ বড়সড় ধাক্কা দেয়। সেই পর্যবেক্ষণে থেকে উঠে আসা ‘ডিপ ফিল্ড ইমেজ’ বিশ্লেষণের পর কম করে হলেও ১,৫০০ আলাদা গ্যালাক্সির অস্তিত্ব পাওয়া যায়!

তবে এই ডিপ ফিল্ড ইমেজগুলো অনেকটা টাইম মেশিনের মতো কাজ করে। কারণ আমাদের মনে হতে পারে এই ডিপ ফিল্ড ইমেজটি গ্যালাক্সিগুলোর তাৎক্ষণিক অবস্থার প্রতিচ্ছবি। ব্যাপারটি মোটেও সেরকম নয়, ডিপ ফিল্ড ইমেজ আসলে বিলিয়নখানেক বছর আগে এই গ্যালাক্সিগুলো কেমন ছিলো তা দেখতে পাই। একই কথা আমাদের চোখের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, আমরা যখন আকাশের দিকে তাকাই আমরা আসলে অতীতের দিকে তাকিয়ে থাকি। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা শুধু এই ডিপ ফিল্ড ইমেজেই থেমে যাননি। এই ছবি নেওয়ার এক দশকের মাথায় মহাকাশকে আরো ভালোভাবে জানবার লক্ষ্যে আরো ক্ষমতাশালী টেলিস্কোপকে মহাকাশের দিকে তাক করেছিলেন। চার মাস ধরে টেলস্কোপিক বিশ্লেষণের পরে জ্যোতির্বিদদের হাতে আসে ‘এক্সট্রিম ডিপ ফিল্ড ইমেজ’। এই ছবিতে দৃশ্যমান হয় প্রায় দশ হাজার গ্যালাক্সি। অনেক বছর ধরে নেওয়া ডিপ ফিল্ড ইমেজগুলো মানুষকে মহাবিশ্বের বিশালত্ব সম্পর্কে অনেকগুণ সচেতন করে তুলেছে।

মহাবিশ্বের তুলনায় আমরা ঠিক কতটা ক্ষুদ্র?

সাধারণ একটি তুলনার জন্য বলে নেওয়া যেতে পারে, সৌরজগত ‘মিল্কিওয়ে’ বা ‘আকাশগঙ্গা’ নামক মাঝারি সাইজের একটি গ্যালাক্সির অতি ক্ষুদ্র অংশ। মাঝারি সাইজের এই আকাশগঙ্গা গ্যালাক্সিতে কম করে হলেও ১০০-৪০০ বিলিয়ন তারার বসবাস!

আকাশের বুকে একটি বলপয়েন্ট কলম ধরলে, এর ঠিক অগ্রভাগে যতদূর জায়গা দখল করে থাকে ঠিক ততটুকু জায়গাকেই শুরুতে বিশ্লেষণ করেছিলো হাবল টেলিস্কোপ। check বিশাল মহাকাশের দুই মিলিয়ন ভাগের একভাগ হিসেবে ধরে নেওয়া এই ক্ষুদ্র জায়গাটিতেই আছে হাজারখানেক গ্যালাক্সি। তাহলে একবার চিন্তা করে দেখা যাক, তাহলে পুরো মহাকাশজুড়ে কী পরিমাণ গ্যালাক্সি আছে?

তের বিলিয়ন বছরের চেয়ে অধিক সময় পার করে আসা এই মহবিশ্বের মাত্র তিরানব্বই বিলিয়ন আলোকবর্ষ এলাকাকেই পর্যবক্ষেণযোগ্য মনে করা হয়।  জ্যোতির্বিদদের ধারণা, এর বাইরেও বিশাল এলাকা থাকতে পারে, যা পর্যবেক্ষণ করা আপাতত সম্ভব নয়। আর তাই বিশাল বিস্তৃত বিশ্বের ভাগ্যে জুটেছে ‘অসীম’ উপাধি। আমাদের পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্ব এলাকায়ই আছে তিনশত সেক্সট্রিলিয়ন তারা। একের পরে একুশটি শূন্য দিলে যে সংখ্যা পাওয়া যায় সেটিই ‘এক সেক্সট্রিলিয়ন’। তাই আমাদের মহাবিশ্ব যে কত বিশাল তা অনুধাবন করতেই আরেকটি প্রশ্ন আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়, এই মহাবিশ্বের তুলনায় আমরা ঠিক কতটা ক্ষুদ্র, আমরা কি আসলেই এই মহাবিশ্বের উল্লেখযোগ্য কোনো অংশ?

কাগজে কলমে হিসেব করলে আমাদের ক্ষুদ্রতার ব্যপারটি আরো পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়, পৃথিবীর বুকে চড়ে বেড়ানো মানুষের গড় উচ্চতা প্রায় ১.৭ মিটার। আর পৃথিবীর ব্যাস প্রায় ১২,৭০০ কিলোমিটারের কাছাকাছি। তাই এই পৃথিবীর ব্যাসের এই দূরত্বের সাথে তুলনা করতেই প্রায় ৭৫ লক্ষ গড় উচ্চতার মানুষ দরকার।

যাকে কেন্দ্র করে আমাদের এই পৃথিবী ঘুরছে সেই মাঝারি আকারের নক্ষত্র সূর্যের ব্যাস পৃথিবীর ব্যাসের ১১০ গুণ অর্থাৎ প্রায় ১.৪ মিলিয়ন কিলোমিটারের কাছাকাছি। একধাপ এগিয়ে যদি আকাশগঙ্গার কথা চিন্তা করা যায় তাহলে সেখানে আমাদের সূর্যের মতো আরো প্রায় ১০০-৪০০ বিলিয়ন নক্ষত্র আছে। তাহলে আরেকবার সেই ডিপ ফিল্ড ছবিতে ফিরে যাওয়া দরকার যেখানে ১,৫০০ আলাদা গ্যালাক্সির অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিলো এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসেবানুযায়ী সেই গ্যালাক্সির প্রত্যেকটিতে গড়ে বিলিয়নখানেক তারা তো আছেই!

বিশাল এই মহাবিশ্বে আমাদের সৌরজগত কিংবা গ্রহ তো দূরে থাক, আমাদের গ্যালাক্সি আকাশগঙ্গাকে নস্যির কৌটার সাথে তুলনা দিতেও ভয় পান জ্যোতির্বিদেরা। আর আমাদের অপরিসীম এই  ক্ষুদ্রত্ব পীড়া দিয়েছে বিজ্ঞানী, কবি, সাহিত্যিক কিংবা দার্শনিক সবাইকে।

মহাবিশ্বের তুলনায় আমরা ঠিক কতটা ক্ষুদ্র?

বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্ল স্যাগানের মতে, “মহাবিশ্বে আমাদের অবস্থা অনেকটা সকালের আকাশে উড়তে থাকা ধুলিকণার মতোই।” তের বিলিয়ন বছরেরও অধিক সময় পার করে আসা এই মহাবিশ্বে মানুষকে সাধারণ একটি রাসায়নিক যন্ত্রের চেয়ে বেশি কিছু ভাবতে পারেন না সদ্যপ্রয়াত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং, তার মতে মানুষের শত কোটি গ্যালাক্সির এক কোণে আমাদের এই আমার এই সৌরজগত মোটেও উল্লেখযোগ্য কোনো কিছু নয়!

তাই রাতের আকাশে অসংখ্য তারা দেখে আবেগে উদ্বেলিত হওয়ার পাশাপাশি এটি মানুষকে দিয়েছে চিন্তার খোরাক। মানুষের ক্ষুদ্রত্ব নিয়েও চিন্তার সুত্রপাত ঠিক সেখান থেকেই। প্রখ্যাত ফরাসি গণিতবিদ প্যাসকেল এই নিয়ে বলেছিলেন, “যখন আমি আমার জীবনের ক্ষুদ্র সময়ের কথা চিন্তা করি, তা যেন মহাকালের গভীরে হারিয়ে যায়। মহাবিশ্বের বিশালত্বের মধ্যে আমার এবং পুরো মানবজাতির স্থানটি যেন কিছুই না। বিশাল মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমরা তো কিছুই জানি না, মহাবিশ্বের এই অধরা নীরবতা আমাকে পীড়া দেয়।”

মহাবিশ্বের আর কোথাও কোনো বুদ্ধিমান প্রাণী আছে কিনা সেই ব্যাপারে আমাদের আগ্রহের কারণ কী? আমরা কি মহাজগতিক একাকীত্বে আক্রান্ত হয়েই বুদ্ধিমান কাউকে খুঁজি? উপন্যাসিক জোসেফ কনরাড আমাদের এই একাকীত্বের অনুভূতির নাম দিয়েছেন ‘awful loneliness’ হিসেবে। রাতের আকাশের লক্ষ কোটি জ্বলজ্বল করতে থাকা তারা আর মহাবিশ্বের বিশালত্ব নিয়ে আমাদের চিন্তা এই নিদারুণ একাকীত্বকে বারবার উসকে দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা দিনের পর দিন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে নানাধরনের তরঙ্গ আর সংকেত পাঠিয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন, সৌরজগতের বিশাল অংশ চষে বেড়িয়েছেন কিন্ত আমাদের নিদারুণ একাকীত্ব কাটেনি। এখনো পর্যন্ত সৌরজগতে মানুষই একমাত্র বুদ্ধিমান এই তথ্য আমাদের যতটা না স্বস্তি দিয়েছে তার চেয়ে হয়তো বেশি একা করে দিয়েছে। যদিও সৌরজগত তো বটেই তার বাইরেও পুরোদমে প্রাণের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন  জ্যোতির্বিদরা।

এই ধারণার বিপরীতেও যুক্তি কম নয়। বারট্রান্ড রাসেল নামক প্রখ্যাত দার্শনিকের মতে, আকার-আকৃতির বন্দনা নিতান্তই অর্থহীন। স্যার আইজ্যাক নিউটন তো অতিকায় জলহস্তীর চেয়ে অনেকগুণ ছোট ছিলেন, কিন্তু তাই বলে তার গুরুত্ব কি মানব সমাজে কমে গেছে। রাসেলের মতে, ঠিক একই যুক্তিতে মহাজাগতিক স্কেলে আমাদের আকৃতি আমাদের মধ্যে হীনমন্যতার জন্ম দিতে পারে না, কারণ এই আকার-আকৃতি শুধুই একটি রুপক। মানুষের মস্তিষ্কের মধ্যেই বিশালাকৃতির বস্তুর জন্য একধরনের অদ্ভুত ভালোবাসা বাস করে। এ কারণেই হয়তো আমরা বিশালাকার দালানকোঠা নির্মাণে অধিকতর আগ্রহী। তবে দিনশেষে আপনাকে যখন বিশাল খড়ের গাদা আর একটি ডায়মন্ডের আংটির মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বলা হবে, আপনি অবধারিতভাবেই অতি ক্ষুদ্র ডায়মন্ডের আংটিই বেছে নিবেন। তাই মহাজাগতিক মাপকাঠিতে আমরা যতই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্রই হই না কেন, আমাদের গুরুত্ব মোটেই কম নয়!

প্রতিদিনের হাদিস: রাসুলুল্লাহের লুঙ্গি

রাসুলুল্লাহের লুঙ্গি তথা পোশাক বিষয়ক হাদিস:

হাদিস নং ৯০: আবু বুরদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আয়েশা (রাঃ) আমাদের সামনে একটি তালিযুক্ত চাদর ও একটি মোটা লুঙ্গি বের করে আনেন। তারপর তিনি বললেন, ওফাতের সময় রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এ দুটি কাপড় পরিহিত ছিলেন।

[1] সহীহ বুখারী, হা/১৮৫৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪০৮৩; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৪২০৬।

হাদিসের মান: সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৯১:

আশ’আস ইবনে সুলায়েম (রহঃ) বলেন, আমি আমার ফুফু হতে হাদীস শুনেছি। তিনি তাঁর চাচা (উবাইদ ইবনে খালিদ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি একবার মদিনা যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে একজন লোক পেছন থেকে আমাকে চিৎকার করে বলে উঠলেন, তোমার কাপড় উপরে উঠাও; কারণ, তা অধিকতর (ধূলাবালি হতে) হেফাযতকারী ও স্থায়িত্বদানকারী। আমি পেছনে তাকিয়ে দেখলাম তিনি আর কেউ নন, স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এ তো সাদা ডোরা কালো কাপড় (এতে আবার অহংকার করার কি আছে?) তিনি বললেন, আমার মধ্যে কি তোমার জন্য অনুকরণীয় আদর্শ নেই? তখন আমি লক্ষ্য করলাম, তাঁর লুঙ্গি অর্ধ গোছ (হাটুর নিচে ও গোড়ালীর উপর) পর্যন্ত ঝুলন্ত।

[1] সুনানুল কুবরা লিল নাসাঈ, হা/৩৬০৩; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩০৭৯; মুসনাদুত তায়ালাসী, হা/১২৮৬; শু’আবুল ঈমান, হা/৫৭৩৭।

হাদিসের মান: সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৯২:

হুযায়ফা ইবনে ইয়ামান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পায়ের গোছা অথবা (রাবীর সন্দেহ) পায়ের নলার গোশত ধরে বললেন, এ-ই হলো লুঙ্গি পরিধানের নিম্নতম স্থান। তুমি যদি এটাতে তৃপ্তিবোধ না কর তাহলে সামান্য নিচে নামাতে পার। এতেও যদি তুমি তৃপ্তিবোধ না কর, তাহলে জেনে রেখো, লুঙ্গি টাখনুর নিচে পরিধান করার কোন অধিকার তোমার নেই।[1]

[1] ইবনে মাজাহ, হা/৩৫৭২; মুসনাদে আহমাদ হা/২৩৪৫০।

হাদিসের মান:  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থ: সহীহ শামায়েলে তিরমিযী
অধ্যায়: রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর লুঙ্গির বিবরণ
প্রকাশক: ইমাম পাবলিকেশন্স লিমিটেড

দোহারের সকল ভালো’র সাথে থাকবে গ্রীণ আর্মি।

দোহার গ্রীন আর্মির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত। “যা কিছু ভালো সবটুকু করিব বরণ যা কিছু খারাপ সবকিছু করিব বর্জন” – এই স্লোগানকে সামনে রেখে জনাব কাজী মারুফুল হাসান এর সভাপতিত্বে গত ০১/০৫/২০১৮ খ্রিঃ তারিখ মঙ্গলবার বিকেল ৪.০০ ঘটিকায় জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে এক সাধারন আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তিনি বলেন, আমরা কতিপয় নাগরিক ঐক্যমতের ভিত্তিতে একটি অলাভজনক ও অরাজনৈতীক সেচ্ছাসেবী সমাজকল্যান সংস্থা “দোহার গ্রীন আর্মি” – এর মাধ্যমে জনকল্যানমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে যাচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি তরুনদের ঝংকার ও ক্রমবর্ধমান সক্রিয় প্রচেষ্টাই পারে দোহারকে শান্তি ও নিরাপদ বাসযোগ্য হিসেবে পূনরায় রিপ্রেজেন্ট করতে। উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে অনেকেই তাদের নিজ নিজ মতামত তুলে ধরেন। উক্ত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- জনাব এ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান সোহান ,মোঃ আওলাদ হোসেন , মোঃ আরমান হোসেন অপু ,তাজিন আহমেদ তন্ময় , ইমরান হোসেন , জুবায়ের ইসলাম জুয়েল , শেখ তানভীর তৌহিদ ইমন , মাহমুদুর রহমান মুগ্ধ , আসিফ ইমন , রাশেদুল হাসান, জাহিদুল রাব্বি , উচ্ছাশ , পিয়াস নূর আঁকন্দ সহ প্রায় শতাধিক সদস্যবৃন্দ।