জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান দিবসে নবাবগঞ্জে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত

রাকিব খান (নবাবগঞ্জ): ২ নভেম্বর জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান দিবস উপলক্ষে নবাবগঞ্জে এক সচেতনতামূলক বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন— নবাবগঞ্জ ব্লাড ডোনার্স ক্লাব এবং নবাবগঞ্জ মানবতায় রক্তদান সংগঠন যৌথভাবে এই র‍্যালির আয়োজন করে।

র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, প্রতি বছর রক্তের অভাবে অসংখ্য মানুষ মৃত্যুর মুখে পড়ে। তাই স্বেচ্ছায়, নিয়মিত ও বিনামূল্যে রক্তদানের অভ্যাস গড়ে তুলতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা। পাশাপাশি রক্তদান নিয়ে সমাজে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা দূর করারও আহ্বান জানানো হয়।

নবাবগঞ্জ ব্লাড ডোনার্স ক্লাব-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রামীণ পর্যায়ে এই ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম রক্তদানকে আরও সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে নবাবগঞ্জ মানবতায় রক্তদান সংগঠনের আহ্বায়ক বলেন,

> “স্বেচ্ছায় রক্তদান শুধু একটি জীবন বাঁচায় না, এটি সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে।”

র‍্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবীরা অংশগ্রহণ করেন।

আজ জেলহত্যা দিবস

0

আজ ৩ নভেম্বর, জেলহত্যা দিবস। রাতের আঁধারে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর হত্যা করা হয় মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে। দিনটি জাতির ইতিহাসে একটি বেদনাবিধুর দিন।

এই নির্মম ঘটনার ঠিক আগে একই বছরের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যার পর তার ঘনিষ্ঠ এই চার সহকর্মীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। ষড়যন্ত্র, ক্ষমতার পাল্টাপাল্টি দখলের ধারাবাহিকতায় রাতের আঁধারে কারাগারে বন্দি অবস্থায় হত্যা করা হয় জাতীয় এই চার নেতাকে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলা জেলহত্যা মামলা নামে পরিচিতি পায়।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা ৮। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তিনজন। সাজাপ্রাপ্ত এই ১১ আসামির মধ্যে ১০ জনই ধরাছোঁয়ার বাইরে।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাতেও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দেশে ফেরার পর ২০২০ সালের এপ্রিলে তিনি ধরা পড়েন এবং ওই মাসেই তার ফাঁসি কার্যকর হয়।

জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনায় ১৯৭৫ সালের ৪ নভেম্বর তৎকালীন কারা উপমহাপরিদর্শক কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলার তদন্ত থেমে ছিল ২১ বছর। ১৯৯৬ সালের জুন মাসে আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। ২৯ বছর পর ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন।

তুলশীখালী ও মরিচা সেতুর টোল বন্ধে ডিসিকে চিঠি সাংবাদিক রাশিম মোল্লার

নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকা-নবাবগঞ্জ-দোহার সড়কে অবস্থিত তুলশীখালী ও মরিচা সেতুর টোল আদায়ের ইজারা বন্ধের দাবিতে ঢাকা জেলা প্রশাসককে (ডিসি) চিঠি দিয়েছে নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক রাশিম মোল্লার নেতৃত্বে রোববার বেশ কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এই চিঠি হস্তান্তর করা হয়।

📝 চিঠিতে যা বলা হয়েছে:

দীর্ঘদিনের টোল আদায়: চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা-নবাবগঞ্জ-দোহার সড়কের এই দুটি সেতুতে প্রায় ৩০ বছর ধরে টোল আদায় করা হচ্ছে। কৃষকদের কথা বিবেচনা করে অবিলম্বে ইজারা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সেতুর পরিচিতি ও অবস্থান: মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার তুলশীখালীতে ধলেশ্বরী নদীর ওপর সাড়ে ৩ শ’ মিটার দীর্ঘ এবং এর প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে মরিচায় ইছামতি নদীর ওপর একই দৈর্ঘ্যের মহাকবি কায়কোবাদ সেতু দুটি ২০০৫ সালের ৫ অক্টোবর উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের প্রথম দিন থেকেই টোল আদায় শুরু হয়।

ব্যবহারকারী ও ব্যয়: সেতু দুটির অবস্থান মুন্সীগঞ্জ জেলায় হলেও ঢাকা জেলার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন। সেতু দুটির নির্মাণ ব্যয়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টোল ইতোমধ্যে আদায় হয়ে গেছে।

কৃষকদের সমস্যা: সেতু দুটির ওপারে বহু মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। এই অঞ্চলের উৎপাদিত সবজি রাজধানী ঢাকার চাহিদা পূরণ করে।

অতিরিক্ত উৎপাদন খরচ: কৃষকদের পর্যাপ্ত কাজের লোক না থাকায় চড়া মূল্যে ফসল ফলাতে হয়।

পরিবহন খরচ বৃদ্ধি: রাজধানীতে সবজি আনার জন্য পর্যাপ্ত গণপরিবহন না থাকায় অধিক মূল্যে ট্রাক ভাড়া করতে হয়। এর সঙ্গে সেতু দুটির টোল যোগ হওয়ায় সবজির মূল্য অনেক বেড়ে যায়।

গণআন্দোলনের সাফল্য: এই ছোট আকারের সেতু দুটির টোলমুক্ত করার দাবিতে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনগুলো মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। অবশেষে গত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন আন্দোলনের সময় প্রশাসন টোল আদায় বন্ধ করতে বাধ্য হয়।

ঐক্যবদ্ধ দাবি: এই অঞ্চলের প্রায় সব সামাজিক সংগঠন এই দুটি সেতুর টোল আদায় স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ব্যাপারে একাত্মতা ঘোষণা করেছে।

দোহারে ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত

0

মাকসুমুল মুকিম : ‘সাম্য ও সমতায়, দেশ গড়বে সমবায়’—এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে ঢাকার দোহার উপজেলায় ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (০১ নভেম্বর) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও সমবায়ের যৌথ আয়োজনে দিবসটি উদযাপিত হয়। আলোচনা সভাটি দোহার-নবাবগঞ্জ উইভার্স কো-অপারেটিভ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইউনিয়ন লিমিটেডের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

সমবায় দিবস উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দোহার-নবাবগঞ্জ উইভার্স কো-অপারেটিভ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইউনিয়ন লিমিটেডের কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহার থানা অফিসার ইনচার্জ মো. হাসান আলী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. তুরাগ এবং বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মো. নাফিজ উদ্দিন চৌধুরী।
দোহার-নবাবগঞ্জ উইভার্স কো-অপারেটিভ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইউনিয়ন লিমিটেডের সহকারী পরিদর্শক মিরাজুল আলম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পল্লি উন্নয়ন কর্মকর্তা সাত্তার হোসেন, দোহার-নবাবগঞ্জ উইভার্স কো-অপারেটিভ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইউনিয়ন লিমিটেডের সহকারী পরিদর্শক সুমন দত্তসহ বিভিন্ন সমবায় সমিতির সদস্যবৃন্দ।
দিনের কর্মসূচির শেষে সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে ৩০ জন দরিদ্র সদস্যকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘তারুণ্যের স্বপ্ন’-এর উদ্যোগে আলোচনা সভা

0

এম সোহেল: দোহার-নবাবগঞ্জ: মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং সমাজের যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের উদ্যোগে এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করে সামাজিক সংগঠন ‘তারুণ্যের স্বপ্ন’। গত ৩১ তারিখ সন্ধ্যায় মইতপাড়া মাদরাসা মাঠে এই সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা তরুণ প্রজন্মকে সমাজ পরিবর্তনে এগিয়ে আসার এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠায় কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের তারিফ আহমেদ। এ সময় তারুণ্যের সহযোদ্ধা সাইদ মুসুল্লি, ফিরোজ মেম্বার, রাজু আহমেদ, শাওন আহমেদ, হৃদয় খান, সম্রাট আকন, শিহাব খান, সজল খান, মৃদুল আহমেদ, সজিব খন্দকার, সাজ্জাদ, জুবায়ের নিঝুম, ফজলে রাব্বি, নুরুজ্জামান, আবু সুফিয়ান, রেজুয়ান, সুজান, শাহ আলম, সাইফুল্লাহ, জেমস সহ এলাকার আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: মাসুদুর রহমান আদনান, আমির হোসেন নীল, এ আর শিপন, সোহেল বেপারী, রাকিব দেওয়া, আব্দুল্লাহ সহ আরও অনেকে।
তারিফ আহমেদ তার বক্তব্যে ঘোষণা করেন যে, স্বপ্নের দোহার-নবাবগঞ্জ গড়ার লক্ষ্যে দোহার ও নবাবগঞ্জের সকল সামাজিক সেবামূলক সংগঠনকে একত্রিত করে একটি বৃহত্তর সেবামূলক সংগঠন গড়ে তোলা হবে।
আলোচনা সভায় সোহেল বেপারী বলেন,
“তরুণ প্রজন্মের কাজ হবে সবাইকে সচেতন করা এবং তাদের অধিকার বিষয়ে জাগ্রত করা। সমাজকে পরিবর্তন করতে হলে পড়াশোনার বিকল্প নেই। মাদক থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে বিভিন্ন সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রমে তাদের যুক্ত করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতা সমাজ পরিবর্তন করতে চায় না, তবে তরুণ প্রজন্মই সমাজ পরিবর্তনে কাজ করে। এর প্রমাণ ইতিমধ্যে দোহারের তরুণ প্রজন্মের গড়ে তোলা সামাজিক সেবামূলক সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে ফুটে উঠেছে। আমরা দোহারের স্বার্থে সবসময় ন্যায় প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাব।”
মাসুদুর রহমান আদনান সমাপনী বক্তব্যে বলেন,
“নতুন বাংলাদেশে আর কোনো নোংরা রাজনীতি হতে দেওয়া হবে না। সমাজে যে কালো হাত অন্যায়, অত্যাচার, ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনে কাজ করবে, সেই কালো হাত তরুণ প্রজন্ম ভেঙে দেবে। দোহারের তারুণ্য ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। মুকসুদপুর থেকে নয়াবাড়ি পর্যন্ত প্রত্যেকটি জায়গায় সচেতন ইউনিট তৈরি করা হবে, যা যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়বে।”
বক্তারা দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, এই লড়াইয়ে সমাজের সকল সচেতন মানুষকে সহযোদ্ধার কাতারে পাওয়া যাবে।

দোহারে ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি: “সমবায়ে গড়বো দেশ, উন্নয়ন হবে সর্বশেষ” — এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শনিবার (১ নভেম্বর) ঢাকার দোহারে পালিত হয়েছে ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস ২০২৫। এ উপলক্ষে দোহার-নবাবগঞ্জ উইভার্স কো-অপারেটিভ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইউনিয়ন লিমিটেডের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) তাসফিক সিবগাত উল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. হাসান আলী, অফিসার ইনচার্জ, দোহার থানা; মো. তুরাগ, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার, দোহার; এবং মো. নাফিজ উদ্দিন চৌধুরী, সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন ফেডারেশন ও বিশিষ্ট সমবায়ী ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: আব্দুস সাত্তার ও দেওয়ান শাহজাহান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সমবায় অফিসার মো. নাসির উদ্দিন। বক্তারা বলেন, সমবায় হলো গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণ, যা সামাজিক ঐক্য ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আলোচনা সভায় উপজেলার বিভিন্ন সমবায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, কৃষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

দিবসটি উপলক্ষে সকালে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়, যা জয়পাড়া বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।

আয়োজনে ছিল উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমবায় কার্যালয়, দোহার, ঢাকা।

মধ্যরাত থেকে জাটকা ইলিশ শিকারে ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু

0

ডেস্ক রিপোর্টারঃ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও টেকসই সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে আজ ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী জাটকা ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা। আগামী ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চলবে এই ৮ মাস মেয়াদি নিষেধাজ্ঞা।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং মৎস্য অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় ২৫ সেন্টিমিটারের ছোট ইলিশ (জাটকা) আহরণ, পরিবহণ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

এর আগে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর ২০২৫ (১৯ আশ্বিন থেকে ৯ কার্তিক ১৪৩২ বঙ্গাব্দ) পর্যন্ত ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে প্রজননক্ষম ইলিশ রক্ষায় ‘ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৫’ বাস্তবায়ন করা হয়। ওই সময়ে ডিমওয়ালা ইলিশ থেকে নিঃসৃত ডিমের পরিস্ফুটনের মাধ্যমে উৎপাদিত পোনা বর্তমানে উপকূলীয় নদ-নদী ও মোহনাসমূহে বিচরণ করছে। এসব পোনা নিরাপদে বেড়ে উঠতে পারলেই ভবিষ্যতে দেশের ইলিশ উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।

মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধিত) আধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৮৫ অনুযায়ী, উক্ত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে অনধিক ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তর সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ, র‌্যাব, ও স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতায় কঠোরভাবে এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করবে।

ওমরাহ ভিসা নিয়ে সৌদির নতুন সিদ্ধান্ত

ওমরাহ ভিসা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব। এখন থেকে এই ভিসার কার্যকারিতা তিন মাস থেকে কমিয়ে এক মাস করা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভিসা ইস্যুর তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যেই সৌদি আরবে প্রবেশ করতে হবে। ১ নভেম্বর থেকে নতুন এ নিয়ম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়।

তবে সৌদিতে প্রবেশের পর অবস্থানকাল আগের মতোই তিন মাস বহাল থাকছে। অর্থাৎ, ভিসা ইস্যুর তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে প্রবেশ করতে হবে কিন্তু দেশে প্রবেশের পর সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত অবস্থান করা যাবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভিসা ইস্যুর ৩০ দিনের মধ্যে সৌদি আরবে প্রবেশ না করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আহমেদ বাজায়েফার জানান, গ্রীষ্মকাল শেষে শীতল আবহাওয়া শুরু হওয়ায় পবিত্র মক্কা-মদিনায় বিপুলসংখ্যক ওমরাহযাত্রী আগমনের প্রস্তুতি হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

চলতি বছরের জুনে শুরু হওয়া ওমরাহ মৌসুমে এরই মধ্যে রেকর্ড ৪০ লাখের বেশি বিদেশি হাজি সৌদি আরবে পৌঁছেছেন, যা আগের বছরের পুরো মৌসুমের তুলনায়ও বেশি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ওমরাহ পালনকারীর এ অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে পবিত্র ভূমি সফরের আগ্রহ বাড়ারই প্রমাণ বহন করছে। সূত্র : সৌদি গ্যাজেট

দোহারে ওয়ার্ড মাস্টার প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

মাকসুমুল মুকিম, দোহার-নবাবগন্জ (ঢাকা): বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের ভাষাগত দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে অবদান রাখছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা গুড নেইবারস্ বাংলাদেশ। এর ধারাবাহিকতায়, দোহারের সিডিপি আয়োজিত “ওয়ার্ড মাস্টার প্রতিযোগিতা ২০২৫” অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ২৯ অক্টোবর ২০২৫ (বুধবার)  দোহার উপজেলা অডিটোরিয়ামে ১৮টি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত ৫৪ জন প্রতিযোগী এদিনের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেন।

গুড নেইবারস্ দোহার সিডিপি’র সহকারী ব্যবস্থাপক মি. উৎসব বৈরাগী প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি বলেন, “ইংরেজি ভাষা শেখা সত্যিই আত্মবিশ্বাস ও মানবিকতা গড়ে তোলার একটি মাধ্যম।” তিনি শিক্ষার্থীদের সামাজিক নৈতিকতা এবং মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতন করেন এবং জানান, “শিক্ষা মানে শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়, এটি দায়িত্বশীলতার পরিচয়।”

বেলা১১টায় শুরু হয় লিখিত প্রতিযোগিতা, যা পরিচালনা করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট শিক্ষক কমিটি। প্রতিযোগিতার পর অনুষ্ঠিত হয় একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন নিয়ে আলোচনা করেন।

গুড নেইবারস্ বাংলাদেশের কার্যক্রম তুলে ধরে মি. ম্যাথিউ সুজন মন্ডল বলেন, “২০০৯ সাল থেকে আমরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছি। শিক্ষার্থীদের মানবিকতা ও সমাজসেবার ক্ষেত্রেও এগিয়ে আসতে হবে।” তিনি ‘Hope Box’ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন, যা তাদের মধ্যে সহমর্মিতা গড়ে তুলছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দোহার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মি. তাসফিক সিবগাত উল্লাহ। তিনি বলেন, “ইংরেজি শেখা আজ প্রয়োজনীয় দক্ষতা, যা ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।” এ বছর প্রতিযোগিতার বিশেষ আকর্ষণ ছিল— প্রধান অতিথির পাশে একটি ছাত্র প্রতিনিধিকে মঞ্চে আসন প্রদান, যা নেতৃত্বের বিকাশে সহায়তা করে।

অনুষ্ঠানের শেষে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণ করেন  তাসফিক সিবগাত উল্লাহ। দোহার সিডিপি’র কর্মকর্তা, শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এই আয়োজনে সহায়তা করেন। স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকগণের মতে, গুড নেইবারস্ বাংলাদেশের এই উদ্যোগ দোহারের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি দক্ষতা, মানবাধিকার সচেতনতা ও নেতৃত্বের বিকাশে একটি মাইলফলক স্থাপন করেছে।

মসজিদুল বাকী’র নতুন ভবনের ছাদ ঢালাই উদ্বোধন অনুষ্ঠিত

মাহমুদুল হাসান সুমন : দোহার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মসজিদ “মাসজিদুল বাকী”-র নতুন ভবনের ছাদ ঢালাই উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ধর্মীয় ও আনন্দঘন পরিবেশে।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও টিসিএল গ্রুপের কর্ণধার জনাব তানভীর আহমেদ সানু মোল্লা। মসজিদটি জয়পাড়া সরকারি পাইলট হাই স্কুলের পশ্চিমে, নদীর পাড়ে অবস্থিত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় ৩১ অক্টোবর শুক্রবার বিকালে।

মরহুম আলহাজ্ব আব্দুল বাকী মিয়া ১৯৩৯ সালে এই মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মসজিদুল বাকী’র বর্তমান সভাপতি মিজানুর রহমান লিপু, এবং উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মহসিন উদ্দিন খান মাসুম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান মনির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিপন আহমেদ মোল্লা, প্রধান উপদেষ্টা আব্দুস সালাম মিয়া, উপদেষ্টা ডা. শরিফুল ইসলাম মামুন, মু. মেহেদী আরিফ, ডা. শফিউদ্দিন আহমেদ,জুলহাস উদ্দিন,কাজী জাফর,শুকুর মাদবরসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় সাতটি মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনগণ।

প্রধান অতিথি তানভীর আহমেদ সানু মোল্লা তার বক্তব্যে বলেন— “মাসজিদুল বাকী শুধু নামাজের স্থান নয়; এটি আমাদের ধর্মীয়, নৈতিক ও সামাজিক ঐক্যের প্রতীক। আলহাজ্ব আব্দুল বাকী মিয়া ১৯৩৯ সালে এই মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য। আজ আমরা তাঁর স্বপ্নকে আধুনিক রূপ দিতে পেরেছি—এটাই আমাদের সৌভাগ্য।

নতুন ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের মাধ্যমে আমরা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছি একটি স্থায়ী ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদ গড়ার পথে। আমি সকল দাতা, কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও এলাকাবাসীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আল্লাহ যেন এই কাজ কবুল করেন এবং আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখেন।”

উদ্বোধনী পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত, পরিচালনা করেন উক্ত জামে মসজিদের খতিব। মোনাজাতে মসজিদুল বাকীর প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আলহাজ্ব আব্দুল বাকী মিয়া, তাঁর পরিবারের সদস্যবৃন্দ, দাতা ও মুসল্লিদের জন্য দোয়া করা হয়।

অনুষ্ঠানে এলাকাবাসীর বিপুল উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে সবাই একসঙ্গে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হন।