জিয়াকে প্রথম প্রেসিডেন্ট বলায় ঢাবি’র সাবেক রেজিস্ট্রার চাকরিচ্যুত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মরণিকায় বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে জিয়াউর রহমানের নাম লেখায় চাকরিচ্যুত হয়েছেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সৈয়দ রেজাউর রহমান। এছাড়া, জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করে পত্রিকায় নিবন্ধ লেখায় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক মোর্শেদ হাসান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আজ (সোমবার) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সিন্ডিকেট সভায় তাদের বিরুদ্ধে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক কবি মুহাম্মদ সামাদসহ সিন্ডিকেট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২০১৬ সালের ১ জুলাই প্রকাশিত স্মরণিকায় উদ্‌যাপন কমিটির সদস্যসচিব রেজাউর রহমান ‘স্মৃতি অম্লান’ শিরোনামে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের পরিচিতি তুলে ধরতে গিয়ে লিখেন, ‘জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি, সাবেক সেনাপ্রধান ও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।’

ওই সময় রেজাউর রহমান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ছিলেন। এই লেখার প্রতিবাদে ছাত্রলীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা রেজিস্ট্রারকে তাঁর কার্যালয়ে তালাবদ্ধ করে রাখেন। বিক্ষোভ জানাতে গিয়ে তৎকালীন ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের গাড়িতে থাকা অবস্থায় তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করেন। তারা ভিসির বাসভবনের ফটকেও তালা ঝুলিয়ে দেন। বিক্ষোভের মুখে রেজাউর রহমানকে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে টিএসসির ছাত্র নির্দেশনা ও পরামর্শদান দপ্তরে ফেরত পাঠানো হয়। ওই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও ট্রাইব্যুনাল শেষে তাঁকে সিন্ডিকেট থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকাশনার কাজে সহযোগিতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার রিফাত আমিনকে পদাবনতি দেয়া হয়।

এছাড়া, নয়াদিগন্ত পত্রিকায় ‘জ্যোর্তিময় জিয়া’শিরোনামে এক নিবন্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কটূক্তি ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির ঘটনায় মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক মোর্শেদ হাসান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিবন্ধে মোর্শেদ হাসান খান বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক বলে দাবি করেন। তিনি লিখেন, ‘ওই সময় আওয়ামী লীগের নেতারা অধিকাংশই পরিবার-পরিজন নিয়ে পালিয়ে যান, এমনকি বঙ্গবন্ধুও।’ অবশ্য পরে অধ্যাপক মোর্শেদ ওই পত্রিকাতেই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে লেখাটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বঙ্গবন্ধু-সংশ্লিষ্ট অংশটুকু প্রত্যাহার করে নেন।

ওই নিবন্ধ প্রকাশের পরদিন ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করার দাবিতে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ করেন। ওই শিক্ষককে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। ছাত্রলীগের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়। এবার সিন্ডিকেটে ওই বিষয়ে প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক কবি মুহাম্মদ সামাদকে আহ্বায়ক করে তদন্ত কমিটি করল। অন্যান্য সদস্যরা হলেন- আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্সের ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মাকসুদ কামাল, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক হাসানুজ্জামান, বাহালুল মজনুন চুন্নু ও অধ্যাপক রহমত উল্লাহ। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ঘটনার প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এতিমদের নিয়ে ইফতার করলেন শামীমা রাহিম শীলা

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বটিয়ার কাশেমুল উলুম মাদ্রাসার এতিম শিশু ও ছাত্রদের সাথে ইফতার করেছেন দোহার উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা রাহিম শীলা। ১১ রমজান ২৯ এপ্রিল সোমবার তিনি মাদ্রাসার ছাত্রদের সাথে তিনি এই ইফতার মাহফিলে অংশ গ্রহন করেন।

প্রতি বছরই দোহারের বিভিন্ন মাদরাসা ছাত্রদের সাথে ইফতারে অংশ গ্রহন করেন দোহার উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা রাহিম শীলা। তারই ধারাবাহিকতায় এবার তিনি ইফতার করেন দোহার উপজেলার বিলাশপুরের বটিয়ার কাশেমুল উলুম মাদ্রাসায়। ইফতারে মাদ্রাসা ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক ছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা বিএনপি ও এর অংগ অংগঠনের নেতা কর্মীরা। এই সময় দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দোয়া করা হয়।

শামীমা রাহিম শীলা

প্রতিদিনের হাদিসঃ জ্ঞান অর্জন

হাদিস নং ৩৬৪১: কাসীর ইবনু কায়স (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন একদা আমি আবূ দারদা (রাঃ)-এর সঙ্গে দামেশকের মাসজিদে বসা ছিলাম। তখন তার নিকট এক ব্যক্তি এসে বললোম হে আবূ দারদা! আমি একটি হাদীসের জন্য সুদূর মদীনাতুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এসেছি। জানতে পারলাম, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেন। এ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে আমি আসিনি। আবূ দারদা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি জ্ঞানার্জনের জন্য কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার পরিবর্তে তাকে জান্নাতের পথসমূহের মধ্যে কোনো একটি পথে পৌঁছে দেন।

ফিরিশতারা জ্ঞান অন্বেষণকারীর সন্তুষ্টির জন্য নিজেদের ডানা বিছিয়ে দেন। জ্ঞানীর জন্য আসমান ও যমীনে যারা আছে তারা আল্লাহর নিকট ক্ষমা ও দু‘আ প্রার্থনা করে, এমন কি পানির গভীরে বসবাসকারী মাছও। আবেদ (সাধারণ ইবাদাতগুজারী) ব্যক্তির উপর ‘আলিমের ফাযীলাত হলো যেমন সমস্ত তারকার উপর পূর্ণিমার চাঁদের মর্যাদা। জ্ঞানীরা হলেন নবীদের উত্তরসুরি। নবীগণ কোনো দীনার বা দিরহাম মীরাসরূপে রেখে যান না; তারা উত্তরাধিকার সূত্রে রেখে যান শুধু ইলম। সুতরাং যে ইলম অর্জন করেছে সে পূর্ণ অংশ গ্রহণ করেছে।

তিরমিযী, ইবনু মাজাহম দারিমী, আহমাদ। ইমাম তিরমিযী বলেনঃ আমরা এটি কেবল ‘আসিম ইবনু রাজার হাদীস থেকে জেনেছি। এটি আমার নিকট মুত্তাসিল নয়।’

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩৬৪৩: আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তি ইলম অর্জনের জন্য কোনো পথ অবলম্বন করলে তার বিনিময়ে আল্লাহ তার জান্নাতের পথ সুগম করে দেন। যার আমল তাকে পিছিয়ে রেখেছে, তার বংশ গৌরব তাকে এগিয়ে দিতে পারে না।

মুসলিম, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, আহমাদ। ইমাম তিরমিযী বলেনঃ হাদীসটি হাসান।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩৬৪৫: যায়িদ ইবনু সাবিত (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ইয়াহুদীদের লেখা (ভাষা) শিখার আদেশ দিলেন। আমি তদনুযায়ী ইয়াহুদীদের লেখা শিখলাম। তিনি বললেনঃ আল্লাহর শপথ! ইয়াহুদীরা আমার পক্ষ থেকে সঠিক লিখবে বলে আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। বর্ণনাকারী বলেন, পনেরো দিন যেতে না যেতেই আমি তাদের লেখা আয়ত্ত করে ফেললাম। তিনি চিঠি পত্র লেখানোর ইচ্ছা করলে আমি লিখে দিতাম এবং তার নিকট চিঠিপত্র এলে আমি তা তাঁকে পড়ে শুনাতাম।

বুখারী, তিরমিযী, আহমাদ। ইমাম তিরমিযী বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩৬৪৬: আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যা কিছু শুনতাম লিখে রাখতাম। মনে রাখার জন্যই আমি এরূপ করতাম। কুরাইশরা আমাকে সবকিছু লিখতে বারণ করলেন এবং বললেন, তুমি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে শোনা সবকিছুকেই লিখে রাখো? তিনি তো একজন মানুষ, রাগ ও শান্ত উভয় অবস্থায় কথা বলে থাকেন। সুতরাং আমি লেখা স্থগিত রাখলাম। আমি এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উল্লেখ করলাম। তিনি আঙ্গুল দিয়ে তাঁর মুখের দিকে ইশারা করে বললেনঃ তুমি লিখে রাখো, সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, এ মুখ থেকে সর্বাবস্থায় সত্য ব্যতীত অন্য কিছু বের হয় না।

দারিমী, আহমাদ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সুনান আবূ দাউদ

অধ্যায়ঃ জ্ঞান

পাবলিশারঃ আল্লামা আলবানী একাডেমী

ইতালিতে নিহত স্বপনের বাড়িতে শোকের মাতম

ইতালির বাণিজ্যিক নগরী মিলান শহরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের ব্রাহ্মণখালী গ্রামের যুবক শামসুল হক স্বপনের লাশ গ্রামের বাড়িতে আনা হয় রবিবার। সকালে তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মিলানোর মালপেনছা বিমানবন্দর থেকে তার লাশ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছে। সেখান থেকে এ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ নিয়ে আসা হয় নবাবগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে। এসময় পুরো গ্রামজুড়েই শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। গ্রামের ভাল ছেলে হিসেবে পরিচিত স্বপনকে একনজর দেখতে শত শত মানুষ বাড়িতে জড়ো হয়। ছেলের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা সালমা বেগম ও বাবা আব্দুস সালাম। আর মৃত্যুর খবরের পর থেকে অসুস্থ স্ত্রী আইভি আক্তার কফিনে মোড়ানো স্বামীর লাশ দেখেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

কান্নাজড়িত কন্ঠে স্বপনের মা সালমা বেগম বলেন, ‘গত মাসের ২৬ তারিখে আমার বাবাটার সাথে কথা হইল। বৃষ্টির কারণে কথা বুঝতাছিলাম না। আমার বাবা কইলো, মা কাইল সকালে ফোন দিমু। সকাল বিকাল সন্ধ্যা, এরপর কতদিন কাইটা গেল আমার বাবা তো আর ফোন দিলো না। আমার এহনো মনে হয় এই বুঝি আমার বাবাডা ফোন দিব। ও এভাবে চইলা যাইতে পারে না। তোমরা আমার সোনাটারে আইনা দেও।’

ইতালিতে নিহত স্বপনের বাড়িতে শোকের মাতমস্বপনের বাবা আব্দুল সালাম জানান, পাঁচ ছেলের মধ্যে স্বপনই সবার বড়। সে পরিবারের হাল ধরায় প্রবাস থেকে পাকাপাকি ভাবে দেশে ফিরেছেন তিনি। এখনো খানিকটা ঋণের তলে আছে তার পরিবার। তারপরও একপাশ থেকে আগলে রেখে ছোট ভাইদের দাঁড় করানোর চেষ্টা করছিলেন স্বপন। সমস্ত প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ওঠার আগেই এই দূর্ঘটনায় আমাদের সবশেষ হয়ে গেল।

বছরখানেক হয় বিয়ে হয়েছে স্বপন ও আইভির। হাতের মেহেদির রং না শুকাতেই স্বামীর এমন মৃত্যু কিছুতেই মানতে পারছেন না আইভি। রোববার লাশ দেখার পর থেকেই বাকরুদ্ধ তিনি। কোন সান্তনাই তাকে সুস্থ করতে পারছেনা।   প্রতিবেশিরা জানান, ২০০৫ সালে এইচএসসি শেষে ঢাকার তেজগাঁও কলেজ পড়ালেখা শুরু করেন স্বপন। পরিবারের কথা চিন্তা করে ২০০৯ সালে প্রথমে ইংল্যান্ড, পরে ইতালিতে প্রত্যাবর্তন করে রেস্টুরেন্টে কাজ করছিলেন। স্থানীভাবে অত্যন্ত স্বজ্জন, মিশুক, পরোপকারি যুবক হিসেবে পরিচিতি ছিল তাঁর।

স্বপনের মরদেহ বাড়িতে আসছে এমন সংবাদে সকাল থেকে নিহতের বসতবাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জের বারুয়াখালী ইউনিয়নের ব্রাহ্মণখালী গ্রামে ভিড় করতে থাকে আত্মীয় স্বজনরা। এছাড়া অনেক অপরিচিত মানুষও  স্বপনকে এক নজর দেখতে ছুটে আসে তার বাড়িতে। মা-বাবার চোখের সামনে বসত ঘরের পাশে তৈরি করা হয় কবর। বেলা সাড়ে ১২টায় নিহতের কফিনে মোড়ানো মরদেহ বাড়ির সামনে এসে পৌঁছলে কান্নার আওয়াজে ভারী হয়ে উঠে বাতাস। হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসে এক নজর দেখতে সবার আদরের স্বপনকে। স্বপনের মা-বাবা, স্ত্রী ও ছোট ভাইয়ের কান্না দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি কেউ। জোহরের নামাযের পর নিজ বসতভিটায় জানাযা শেষে চিরদিনের জন্য শায়িত করা হয় স্বপনকে। এসময় সবাইকে আক্ষেপ করে বলতে শোনা যায় ‘এমন ছেলে এলাকায় আর হবে না’।

উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল শুক্রবার ইতালির বাণিজ্যিক নগরী মিলান সেন্ট্রাল স্টেশন সংলগ্ন সেত্তেমবিরিনি নামক রাস্তায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে বাংলাদেশি যুবক শামসুল হক স্বপন নিহত হন। দীর্ঘ এক মাস পর তুর্কি এয়ার লাইন্সের একটি ফ্লাইটে মিলানোর মালপেনছা বিমান বন্দরে থেকে তার লাশ রোববার সকালে বাংলাদেশ বিমান বন্দরে এসে পৌছায়। এর আগে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৫টায় ইতালির মিলানো ভিয়া পোনছিও মর্গ প্রাঙ্গনে স্বপনের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিদিনের হাদিসঃ সাহাবীদের মর্যাদা

হাদিস নং ৩৬৪৯: আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, লোকেদের উপর এমন এক সময় আসবে যখন তাদের বিরাট সৈন্যবাহিনী জিহাদের জন্য বের হবে। তখন তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন কি যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য লাভ করেছেন? তাঁরা বলবেন, হাঁ আছেন। তখন তাদেরকে জয়ী করা হবে। অতঃপর জনগণের উপর পুনরায় এমন এক সময় আসবে যখন তাদের বিরাট বাহিনী যুদ্ধে লিপ্ত থাকবে। তখন তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন কি যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য প্রাপ্ত কোন ব্যক্তির সাহচর্য লাভ করেছেন? তখন তারা বলবেন, হাঁ আছেন। তখন তাদেরকে জয়ী করা হবে। অতঃপর লোকদের উপর এমন এক সময় আসবে, যখন তাদের বিরাট বাহিনী জিহাদে অংশগ্রহণ করবে। তখন তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন কি, যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহাবীগণের সাহচর্য প্রাপ্ত কোন ব্যক্তির সাহচর্য প্রাপ্ত হয়েছেন? বলা হবে আছেন। তখন তাদেরকে জয়ী করা হবে। (২৮৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৩৮৪)

* সাহাবায়ি কিরাম [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম] এর মর্যাদা বিষয়কঃ

এখান থেকে কয়েক পৃষ্ঠা পরেই নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সম্মানিত সহাবীদের মান-মর্যাদা বিষয়ক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। যাতে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কয়েকজন বিশিষ্ট সহাবী ও সমগ্র সহাবায়ে কেরামদের মর্যাদা, তাঁদের প্রতি সাধারণ মু’মিন মুসলমানদের ভক্তি-শ্রদ্ধা, মর্যাদাবোধ ইত্যাদি বিষয়ে একান্ত আবশ্যিক আলোচনা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সমগ্র সহাবীগণই সম্মান ও মর্যাদা পাওয়ার হকদার। সমগ্র সহাবীদের মধ্যে ৪ খলীফা মর্যাদা পাওয়ার দিক দিয়ে অন্যান্য সহাবীদের চেয়ে বেশী হকদার এ কথা প্রত্যেক বিবেকবান লোক স্বীকার করতে একান্ত বাধ্য। উক্ত সার্বজনীন স্বীকৃত ইসলামী শরীয়াতের রীতি-নীতি প্রাথমিক যুগের মুসলিম মনীষীগণ যেমন শ্রদ্ধা ভরে মেনে নিয়েছিলেন, তেমনি পরবর্তী যুগের ইসলামী মনীষীগণও উপরোক্ত বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করে আসছেন। রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহাবীগণ সকলেই দ্বীনের ব্যাপারে ছিলেন ইনসাফকারী। যেমন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রত্যেক সহাবীদেরকেই ইনসাফকারী বলে আখ্যায়িত করে গেছেন। যথা নবাী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين الهمديين وكلهم عدول متفق عليه

তোমাদের উপর আমার রেখে যাওয়া সুন্নাহ্ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত পথপ্রদর্শনকারী খলীফাগণের সুন্নাত অবশ্যই গ্রহণযোগ্য এবং উক্ত খলীফাগণের প্রত্যেকেই ইনসাফকারী। অন্যত্র আছে, যার সানাদও সহীহ বটে, আর তা এই যে, আমার সব সহাবীই ইনসাফকারী। ইমাম বুখারীর বর্ণনায় উক্ত সহীহ বুখারীর মধ্যেই كتاب فضائل الصحابة নামক অধ্যায়ের ৩৬৬৫ নং হাদীসে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, তোমরা (পরবর্তীকালে) আমার সহাবীদেরকে গালি-গালাজ করো না।

عن أبي سعيد الخدري (رض) قال قال النبي صلى الله عليه وسلم لا تسبوا أصحابي

উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় সহীহ বুখারীর বিশ্বখ্যাত ভাষ্যকার ইমাম ইবনু হাজার আস্কালানী বলেছেন, যারা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে নিজ চোখে দেখেনি, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নৈকট্য লাভের সৌভাগ্য যাদের হয়নি, এমন সকলের জন্যেই উপরোক্ত নিষেধবাণী প্রযোজ্য হবে। (ফতহুল বারী ৭ম খণ্ড, ৪২ পৃষ্ঠা)

প্রকাশ থাকে যে, পরবর্তীকালে খারিজী, রাফিজী, মু’তাজিলা, জায়েদিয়া, আশারিয়া, ইসমা‘ঈলিয়া তথা শিয়া মাযহাবের লোকজন নিজেদের ভ্রান্ত-ধারণার বশবর্তী হয়ে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহাবীদের বিরুদ্ধে অনেক অনেক অপবাদ দেয়ার মতো ধৃষ্টতা ও অপরাধপূর্ণ সমালোচনায় লিপ্ত হয়ে মুসলিম জাতিকে পারস্পরিক বিভেদ ও বিচ্ছেদের প্ররোচনা দিয়েছে। যা প্রতিটি বিবেকবান মুসলমানের নিকট অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত বটে।

শার‘ঈয়তের বিধিবিধানকে সস্পষ্ট করার জন্য এবং সঠিকভাবে মান্য করার জন্য সাহাবীগণ যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, উম্মাতে মুহাম্মাদিয়াকে তার উপর বহাল থাকতে হবে। যেমন কুরআন একত্রিকরণ, খালীফাহ নির্ধারণ, ‘উসমান < কর্তৃক তৎকালীন পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাজারের মধ্যে জুমু‘আহর দিন দ্বিতীয় আযান চালু করা। (বর্তমানে মাইকের আযান দূর দূরান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত বিধায় এখন এ আযান নিষ্প্রয়োজন।

বুখারী كتاب فضائل الصحابة পর্বে সহীহ সানাদে হাদীসসমূহে আছে, আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) একজন স্বীয় ঘরে অবস্থান করছিলেন, এমন সময় আবূ মূসা আল আশআরী বলেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম )-কে নিবেদন করলাম, হে আল্লাহ্র রসূল! আবূ বাকর অনুমতি চায় (প্রবেশের জন্য)। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) বললেন, তাঁকে অনুমতি দেয়া হলো এবং তাঁকে বেহেশতের সুসংবাদ দিয়ে দাও। অতঃপর ‘উমার অনুমতি চাইলে তাঁকেও এমনই বলে সুসংবাদ দেয়া হলো। (বুখারী হাঃ ৩৬৭৩, বিস্তারিত বাখ্যা- ফতহুল বারী ৭ম খণ্ড, ২৫ পৃষ্ঠা)

এভাবেই ৪ খলীফাহ সহ জলীলুল ক্বদর কয়েকজন সহাবী সম্পর্কে আল্লাহ্র রসূল বিভিন্ন সময় অনেক সুসংবাদ জাতীয় ভবিষদ্বাণী করেছেন আল্লাহর আদেশক্রমে। এ জাতীয় জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সহাবীদের সংখ্যা ১০ জন।

এতদ্ব্যতীত অন্যান্য সহাবীদের ব্যাপারেও নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) স্বীয় পবিত্র মুখে চমৎকার মন্তব্য ক’রে তাদেরকে বিশ্ববাসীর নিকট সম্মানিত করেছেন। সুতরাং সহাবীদের ব্যাপারে মন্তব্য করতে সতর্কতা অবলম্বন আবশ্যক। অতীব পরিতাপের ও দুঃখের বিষয় এই যে, শিয়া মাযহাবের লোকজন ইসলামের উক্ত সম্মানিত ১ম থেকে ৩য় খলীফা দেরকে জবরদস্তিমূলক খিলাফত দখলকারী, অন্যায়কারী, অত্যাচারী পর্যন্ত বলার মতো ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। পক্ষান্তরে ‘আলী এর প্রতি অতিরিক্ত মর্যাদা দিতে গিয়ে তারা তাঁকে পায় নবুয়্যাতের কাছাকাছি বা সম মর্যাদায় নিয়ে গেছে। আর কেউ কেউ শিয়াদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে গিয়ে মহামতি ইমাম হুসাইন কে গদীলোভী, অযথা রাষ্ট্রীয় শৃংখলা বিনষ্টকারী হিসেবে আখ্যায়িত করার মতো দুঃসাহস দেখিয়েছে। ইমাম হাসান, হুসাইন আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত, আর আহলে বাইতদের প্রতি মুহাব্বাত রাখার নির্দেশ সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। পবিত্র কুরআনেও তাদের পবিত্রতা এভাবে ঘোষিত হয়েছে

(إِنَّمَا يُرِيْدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيْراً) (الأحزاب: من الآية৩৩)

সবশেষে সহাবীদের ব্যাপারে সমীহ ভাবপ্রদর্শন ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন প্রতিটি মুসলিমের ঈমানী দায়িত্ব।

ফাযীলাতঃ

১ সহাবায়ি কিরাম [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম] এর মর্যাদা বিষয়ক ঃ

এখান থেকে কয়েক পৃষ্ঠা পরেই নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম )-এর সম্মানিত সহাবীদের মান-মর্যাদা বিষয়ক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। যাতে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম )-এর কয়েকজন বিশিষ্ট সহাবী ও সমগ্র সহাবায়ে কেরামদের মর্যাদা, তাঁদের প্রতি সাধারণ মু’মিন মুসলমানদের ভক্তি-শ্রদ্ধা, মর্যাদাবোধ ইত্যাদি বিষয়ে একান্ত আবশ্যিক আলোচনা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম )-এর সমগ্র সহাবীগণই সম্মান ও মর্যাদা পাওয়ার হকদার। সমগ্র সহাবীদের মধ্যে ৪ খলীফা মর্যাদা পাওয়ার দিক দিয়ে অন্যান্য সহাবীদের চেয়ে বেশী হকদার এ কথা প্রত্যেক বিবেকবান লোক স্বীকার করতে একান্ত বাধ্য। উক্ত সার্বজনীন স্বীকৃত ইসলামী শরীয়াতের রীতি-নীতি প্রাথমিক যুগের মুসলিম মনীষীগণ যেমন শ্রদ্ধা ভরে মেনে নিয়েছিলেন, তেমনি পরবর্তী যুগের ইসলামী মনীষীগণও উপরোক্ত বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করে আসছেন। রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম )-এর সহাবীগণ সকলেই দ্বীনের ব্যাপারে ছিলেন ইনসাফকারী। যেমন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) প্রত্যেক সহাবীদেরকেই ইনসাফকারী বলে আখ্যায়িত করে গেছেন। যথা নবাী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) ইরশাদ করেছেন ঃ عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين الهمديين وكلهم عدول متفق عليه

তোমাদের উপর আমার রেখে যাওয়া সুন্নাহ্ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত পথপ্রদর্শনকারী খলীফাগণের সুন্নাত অবশ্যই গ্রহণযোগ্য এবং উক্ত খলীফাগণের প্রত্যেকেই ইনসাফকারী। অন্যত্র আছে, যার সানাদও সহীহ বটে, আর তা এই যে, আমার সব সহাবীই ইনসাফকারী। ইমাম বুখারীর বর্ণনায় উক্ত সহীহ বুখারীর মধ্যেই كتاب فضائل الصحابة নামক অধ্যায়ের ৩৬৬৫ নং হাদীসে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, তোমরা (পরবর্তীকালে) আমার সহাবীদেরকে গালি-গালাজ করো না।

عن أبي سعيد الخدري (رض) قال قال النبي صلى الله عليه وسلم لا تسبوا أصحابي

উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় সহীহ বুখারীর বিশ্বখ্যাত ভাষ্যকার ইমাম ইবনু হাজার আস্কালানী বলেছেন, যারা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম )-কে নিজ চোখে দেখেনি, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম )-এর নৈকট্য লাভের সৌভাগ্য যাদের হয়নি, এমন সকলের জন্যেই উপরোক্ত নিষেধবাণী প্রযোজ্য হবে। (ফতহুল বারী ৭ম খণ্ড, ৪২ পৃষ্ঠা)

প্রকাশ থাকে যে, পরবর্তীকালে খারিজী, রাফিজী, মু’তাজিলা, জায়েদিয়া, আশারিয়া, ইসমা‘ঈলিয়া তথা শিয়া মাযহাবের লোকজন নিজেদের ভ্রান্ত-ধারণার বশবর্তী হয়ে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম )-এর সহাবীদের বিরুদ্ধে অনেক অনেক অপবাদ দেয়ার মতো ধৃষ্টতা ও অপরাধপূর্ণ সমালোচনায় লিপ্ত হয়ে মুসলিম জাতিকে পারস্পরিক বিভেদ ও বিচ্ছেদের প্ররোচনা দিয়েছে। যা প্রতিটি বিবেকবান মুসলমানের নিকট অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিতও বটে।

শার‘ঈয়তের বিধিবিধানকে সস্পষ্ট করার জন্য এবং সঠিকভাবে মান্য করার জন্য সাহাবীগণ যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, উম্মাতে মুহাম্মাদিয়াকে তার উপর বহাল থাকতে হবে। যেমন কুরআন একত্রিকরণ, খালীফাহ নির্ধারণ, ‘উসমান (রাঃ) কর্তৃক তৎকালীন পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাজারের মধ্যে জুমু‘আহর দিন দ্বিতীয় আযান চালু করা। (বর্তমানে মাইকের আযান দূর দূরান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত বিধায় এখন এ আযান নিষ্প্রয়োজন।

বুখারী كتاب فضائل الصحابة পর্বে সহীহ সানাদে হাদীসসমূহে আছে, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) একজন স্বীয় ঘরে অবস্থান করছিলেন, এমন সময় আবূ মূসা আল আশআরী বলেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম )-কে নিবেদন করলাম, হে আল্লাহ্র রসূল! আবূ বাকর অনুমতি চায় (প্রবেশের জন্য)। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) বললেন, তাঁকে অনুমতি দেয়া হলো এবং তাঁকে বেহেশতের সুসংবাদ দিয়ে দাও। অতঃপর ‘উমার < অনুমতি চাইলে তাঁকেও এমনই বলে সুসংবাদ দেয়া হলো। (বুখারী হাঃ ৩৬৭৩, বিস্তারিত বাখ্যা- ফতহুল বারী ৭ম খণ্ড, ২৫ পৃষ্ঠা)

এভাবেই ৪ খলীফাহ সহ জলীলুল ক্বদর কয়েকজন সহাবী সম্পর্কে আল্লাহ্র রসূল বিভিন্ন সময় অনেক সুসংবাদ জাতীয় ভবিষদ্বাণী করেছেন আল্লাহর আদেশক্রমে। এ জাতীয় জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সহাবীদের সংখ্যা ১০ জন।

এতদ্ব্যতীত অন্যান্য সহাবীদের ব্যাপারেও নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) স্বীয় পবিত্র মুখে চমৎকার মন্তব্য ক’রে তাদেরকে বিশ্ববাসীর নিকট সম্মানিত করেছেন। সুতরাং সহাবীদের ব্যাপারে মন্তব্য করতে সতর্কতা অবলম্বন আবশ্যক। অতীব পরিতাপের ও দুঃখের বিষয় এই যে, শিয়া মাযহাবের লোকজন ইসলামের উক্ত সম্মানিত ১ম থেকে ৩য় খলীফাদেরকে জবরদস্তিমূলক খিলাফত দখলকারী, অন্যায়কারী, অত্যাচারী পর্যন্ত বলার মতো ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। পক্ষান্তরে ‘আলী (রাঃ) এর প্রতি অতিরিক্ত মর্যাদা দিতে গিয়ে তারা তাঁকে পায় নবুয়্যাতের কাছাকাছি বা সম মর্যাদায় নিয়ে গেছে। আর কেউ কেউ শিয়াদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে গিয়ে মহামতি ইমাম হুসাইন <-কে গদীলোভী, অযথা রাষ্ট্রীয় শৃংখলা বিনষ্টকারী হিসেবে আখ্যায়িত করার মতো দুঃসাহস দেখিয়েছে। ইমাম হাসান, হুসাইন (রাঃ) আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত, আর আহলে বাইতদের প্রতি মুহাব্বাত রাখার নির্দেশ সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। পবিত্র কুরআনেও তাদের পবিত্রতা এভাবে ঘোষিত হয়েছে

(إِنَّمَا يُرِيْدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيْراً) (الأحزاب: من الآية৩৩)

সবশেষে সহাবীদের ব্যাপারে সমীহ ভাবপ্রদর্শন ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন প্রতিটি মুসলিমের ঈমানী দায়িত্ব।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী

অধ্যায়ঃ সহাবীগণ [রাযিয়াল্লাহ ‘আনহুম]-এর মর্যাদা

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন

দোহারে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম

দোহার উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন রসুকে কুপিয়ে জখম করেছে দূর্বৃত্তরা। শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে তারাবির নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচন্ডি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, শনিবার রাতে তারাবির নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে মসজিদে যাবার সময় দূর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন তিনি। গুরুত্বর আহত অবস্থায় দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। রসুর উপর হামলার খবর যুবলীগের শত শত নেতাকর্মী রাতেই হাসপাতালে আসেন এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ জানাতে পারেনি পুলিশ। সালাহউদ্দিন রসু উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচন্ডি গ্রামের মানিক খানের ছেলে।

প্রতিদিনের হাদিসঃ কবিতা

হাদিস নং ৫৬৮৯: আমর আন-নাকিদ ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) … আমর ইবনু শারীদ (রহঃ) সুত্রে তার পিতা [শারীদ (রাঃ)] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন (একদিন) আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (বাহনে) আরোহী হলাম। তিনি বললেন, তোমার স্মৃতিতে (কবি) উমাইয়া ইবনু আবূস-সালত-এর কবিতার কোন কিছু আছে কি? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, চালাও (শুনাও)। আমি তখন তাঁকে একটি পংক্তি আবৃত্তি করে শোনালাম। তিনি বললেন, চালাও। তখন আমি তাঁকে আর একটি শ্লোক আবৃতি করে শোনালাম। তিনি বললেন, চালাও। শেষ পর্যন্ত আমি তাঁকে একশটি পংক্তি আবৃত্তি করে শোনালাম।

যুহায়র ইবনু হারব ও আহমদ ইবনু আবদা (রহঃ) … শারীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাঁর (বাহনে) পিছনে সহ-আরোহী বানালেন ……। এরপর তারা পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ননা করেছেন।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৫৬৯০: ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) … আমর ইবনু শারীদ তাঁর পিতা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কবিতা আবৃত্তি করে শোলাতে বললেন, এরপর (উপরোল্লেখিত) রাবী ইবরাহীম ইবনু মায়সারা (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। আর এছাড়াও তিনি অধিক বলেছেন, তিনি (নাবী) বললেনঃ সে তো মুসলমান হয়ে গিয়েছিল প্রায়। আর (অন্য সনদের) রাবী ইবনু মাহদী (রহঃ) বর্নিত হাদীসে রয়েছে, তিনি বললেন, সে তো তার কবিতায় মুসলমান হওয়ার কাছাকাছি পৌছে গিয়েছিল।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৫৬৯৬: আবূ বাকর আবূ শায়বা, আবূ কুরায়ব ও আবূ সাঈদ আশাজ্জ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির উদর এভাবেও পুঁজে ভর্তি হয়ে যাওয়া যা তার পেট পচিয়ে নষ্ট করে দেয়, তা কবিতায় ভর্ভি হওয়ার চাইতে উত্তম। রাবী আবূ বকর (রহঃ) বলেনঃ তবে (আমার উস্তাদ রাবী) হাফস (রহঃ) এর রিওয়ায়াতে يَرِيهِ পচিয়ে নষ্ট করে দেয়, কথাটি বলেননি।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৫৬৯৮: কুতায়বা ইবনু সাঈদ সাকাফী (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ‘আরজ’ এলাকায় সফর করছিলাম। তখন এক কবি কবিতা আবৃতি করতে করতে আসতে লাগল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ শয়তানটাকে ধরে ফেল কিংবা (বর্ণনা সন্দেহ, তিনি বললেন) শয়তানটাকে রুখে দাও। কোন লোকের পেট পুঁজে ভর্তি হয়ে যাওয়া কবিতায় ভর্তি হওয়া থেকে উত্তম।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম

অধ্যায়ঃ কবিতা

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অফলাইনে জিমেইল ব্যবহার করবেন যেভাবে

 

ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়া অর্থাৎ অফলাইনে থাকা অবস্থায়ও এখন থেকে জিমেইল ব্যবহার করা যাবে। সম্প্রতি অফলাইন সাপোর্ট ফিচার চালু করেছে গুগল। এই ফিচার ব্যবহার করে এখন থেকে মেইল পড়ার পাশাপাশি তা সংরক্ষণ করা, মুছে ফেলা, লেখা এবং খুঁজে বের করা যাবে।

গুগল আইও কনফারেন্সের আগে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসা হয় জিমেইলে। এরপর জনপ্রিয় এই মেইলিং সেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আরও কিছু ফিচারও যোগ করা হয়। আর সর্বশেষ এতে যোগ করা হলো এই অফলাইন ফিচার।

জিমেইলের অফলাইন ফিচার ব্যবহার করতে হলে ক্রোম ব্রাউজারের ৬১ ভার্সন প্রয়োজন হবে। এরপর নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম অনুসরণ করলেই এ সেবা পাওয়া যাবে। যেভাবে পাবেন অফলাইন জিমেইল সেবা–

১। প্রথমেই গুগল ক্রোমের ৬১ ভার্সন ডাউনলোড করে নিতে হবে।

২। ব্রাউজার থেকে জিমেইলে প্রবেশ করে ডান কোনায় থাকা সেটিংস আইকনের মতো যে আইকনটি রয়েছে তাতে ক্লিক করতে হবে।

৩। এ পর্যায়ে বেশ কয়েকটি অপশন আসবে। সেখান থেকে সেটিংস লেখা অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে।

৪। এবার অনেক অপশন আসবে। এখান থেকে ওপরের দিকে ডান কোনায় থাকা অফলাইন নামের ফিচারটি নির্বাচন করতে হবে।

৫। সবশেষে এনাবল অফলাইন মেইল অপশন সিলেক্ট করলেই কার্যকর হবে অফলাইন মুড।

সূত্র: গেজেটস নাউ।

নবাবগঞ্জে জাতীয় পার্টির নেতা ও তার স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গালিমপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি মিজানুর রহমান (৪০) ও তার স্ত্রী সম্পা বেগমকে (৩০) কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষ। শুক্রবার ( ২৫ মে) রাত পৌনে ৯টার দিকে গালিমপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। মিজানুর রহমান সংকরখালী গ্রামের হাসেম বেপারির ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে মিজানুর ও তার স্ত্রী ছেলে সিয়ামকে (৮) গালিমপুর বাজারে ডা. বাদলের কাছে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। কাজ শেষে চিকিৎসকের চেম্বার থেকে বের হলে একই গ্রামের আসলাম, সুজন, আশিফ, রাজুসহ কয়েকজন মিলে মিজানকে চাপাতি দিয়ে ১৫ থেকে ২০টি কোপ দেন। এসময় মিজানুরের স্ত্রী তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকেও কোপায় তারা। একপর্যায়ে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা মিজান ও তার স্ত্রীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় মিজানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সম্পা বেগম জানান, কিছুদিন আগে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আসলাম, সুজন, আশিফ, রাজুর সঙ্গে মিজনের তর্ক হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতে তাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন তারা।

নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজহারুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইসলাম অবমাননা করে ফেসবুকে কমেন্ট, ডিএন কলেজের ছাত্র গ্রেপ্তার

ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করে ফেসবুকে কমেন্ট করার অভিযোগে সনাতন (হিন্দু) ধর্মাম্বলী এক কলেজছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার রাতে নবাবগঞ্জ উপজেলার নতুন বান্দুরা এলাকা থেকে ওই কলেজ ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান নবাবগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মো. শফিকুল ইসলাম সুমন।

গ্রেপ্তার বিকাশ সাহা (২৪) ওই এলাকার ভক্ত সাহার ছেলে ও দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজের বিবিএস তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।

এসআই শফিকুল জানান, ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করে কুৎসা রটনা করে ফেসবুকে কমেন্টের অভিযোগে ওই ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বাগমারা এলাকার বাসিন্দা মোয়াজাদ্দিদ হোসেন খান (৩০) বাদী হয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ (সংশোধিত আইন ২০১৩) এর ৫৭ (২) ধারায় ফেসবুক বা ইলেকট্রনিক্স বিন্যাসের মাধ্যমে ধর্মকে অবমাননা করে কুৎসা রটনা করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টার অপরাধে মামলা দায়ের করেন।

পরে দুপুরে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ওই কলেজ ছাত্রকে আদালতে পাঠানো হয়।

মামলার বিষয়ে মোয়াজাদ্দিদ হোসেন খান জানান, ফেসবুকে বিকাশের কমেন্ট আমার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনায় আমি একজন মুসলমান হিসাবে মামলাটি দায়ের করেছি।