নবাবগঞ্জে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা আমিরপুর এলাকা থেকে ৫৭পিচ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ উজ্জল ওরফে টেরা উজ্জল (৩২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ।

সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে আমিরপুর তিন রাস্তার মোড় সংলগ্ন এলাকা থেকে উজ্জলকে আটক করা হয়। সে ঐ এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে আমিরপুর তিন রাস্তার মোড় সংলগ্ন এলাকায় মাদক বেচাকেনা করার সময় উজ্জলকে আটক করে পুলিশ। এসময় তার দেহ তল্লাশি করে ৫৭পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। পরে ইয়াবাসহ তাকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো.আশরাফুল আলম তালুকদার বলেন,উজ্জল দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে উপজেলার কৈলাইল, শোল্লা, যন্ত্রাইল ও কলাকোপা এলাকার বিভিন্ন গ্রামে নিজে ও বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে মাদক বিক্রি করতো। সোমবার গভীর রাতে ইয়াবাসহ আটক করার পর মঙ্গলবার মাদক আইনে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ধরাছোঁয়ার বাইরে দোহার নবাবগঞ্জের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় অভিযান জোরদার হলেও শীর্ষ মাদক কারবারিরা থেকে যাচ্ছে আড়ালেই। ধরা পড়ছে শুধু মাদকসেবী ও খুচরা বিক্রেতারা। এখন দুই উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে। গত দুই সপ্তাহে র‌্যাব-পুলিশের অভিযানে দোহারে অন্তত ১৬ জন ও নবাবগঞ্জে অন্তত ২৫  জন গ্রেপ্তার হলেও এই তালিকায় নেই শীর্ষ কোনো ইয়াবা বা মাদক কারবারির নাম।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও র‌্যাব-পুলিশ মাদক কারবারিদের আলাদা তালিকা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও এলাকাভিত্তিক কারবারিদের তালিকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এসব তালিকায় দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার উল্লেখযোগ্য বেশ কয়েকজন মাদক কারবারির নাম রয়েছে।

অভিযানের খবরে ইতোমধ্যে গা-ঢাকা দিয়েছেন ৪-৫ জন মাদক কারবারি। অভিযানে যাদের নাগাল পাচ্ছে না পুলিশ ও র‌্যাব। অনুসন্ধানে জানা যায়, দোহার-নবাবগঞ্জে বড় দুই-তিনজন মাদক কারবারি বিভিন্ন সময় ধরা পড়লেও আইনি ত্রুটি কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবে তদন্তে দুর্বলতার কারণে তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে যায়। এমনকি মামলা থেকে খালাসও পায়। বারবার জামিন পাওয়ার পর প্রভাব খাটিয়ে তারা সাক্ষীদের আদালতে হাজির হওয়া থেকে বিরত রাখে অথবা তাদের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে বাধা সৃষ্টি করে। এভাবে আসামিরা শেষ পর্যন্ত খালাস পেয়ে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দোহারের রাইপাড়া, জামালচর, শিলাকোঠা, বাহ্রা, নাগেরকান্দা, করিমগঞ্জ, চরকুশাই, খানবাজার, পালামগঞ্জ, পোদ্দারবাড়ী, লক্ষ্মীপ্রসাদ, লটাখোলা বিলের পাড়, বেলদারপট্টি, চর জয়পাড়া, ওয়ান ব্যাংক সড়ক, অবকাশ সিনেমা হলের গলি, ভূতের গলি, থানার মোড়, ঋষিপাড়া, ইকরাশি চটপটির দোকানের সামনে, চালনাই সড়ক, খাড়াকান্দা, উত্তর জয়পাড়া চৌধুরিপাড়া, ঝনকি, মধুরচর, বিলাসপুর, মৈনট ঘাট, সুতারপাড়া, নিকড়া, নারিশা, উত্তর ও দক্ষিণ শিমুলিয়া, ফুলতলা, মুকসুদপুরসহ বেশ কয়েকটি স্থানে মাদকের কয়েকটি সিন্ডিকেট রয়েছে।

এলকাগুলো থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সারা দিনই এসব এলাকাগুলোতে মাদকসেবী ও খুচরা বিক্রেতাদের আনাগোনা থাকলেও সন্ধার পর থেকে তা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। মাদকের এ বিকিকিনি ও সেবন চলে রাত ১০-১১ টা পর্যন্ত। এলাকার লোকজন ভয়ে মুখ খুলতে চাননা। এসব এলাকার ঘরের আড়ালে বা গলির ভেতর ঢুকে মাদক বিকিকিনি চলে দেদার। বিষয়টা এমন, ‘যারা খাচ্ছে তারাই বিক্রি করছে। বিক্রি করা মাদকের লাভের টাকায় নিজের মাদক সেবনের খরচ তুলে নিচ্ছে।’

অনুসন্ধানে জানা যায়, দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের পাইনা সুমন, মাহমুদপুর ইউনিয়নের ইসমাইল কাজী, চর লটাখোলা এলাকার মো. আজিজুল, বিলাসপুর ইউনিয়নের পূর্ব চরের মো. আজাদ, বাঁশতলা এলাকার আনোয়ারুল আজিম, চরকুসাই এলাকার ফালু দফাদার, আমির সাধু, রাইপাড়া এলাকার মো. সাগর মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে যার যার এলাকায় সুপরিচিত। যাদের মধ্যে অনেকেই র‌্যাব, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরেও রয়েছেন। এছাড়া এরা সবাই মাদকসহ  বিভিন্ন মামলায় জড়িত আছেন। যাদের অনেকেই একাধিকবার মাদকের ছোট-বড় চালান সহ ধরা পরেছে। এদের বিরুদ্ধে কলম ধরতেও অনেক মিডিয়া কর্মী সাহস পায় না। কেউ কেউ আবার পুলিশের কাছে সম্প্রতি মাদক অভিযানে ধরা পড়েছে আবার অনেকেউ রয়েছে পুলিশের নাগালের বাইরে। কেউ কেউ আবার গা ঢাকা দিয়েছে সম্প্রতি। দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম শেখ বলেন, ‘বিদ্যমান আইনে মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কারণ কারো কাছে মাদক না পাওয়া গেলে সে যত বড় কারবারিই হোক, তাকে ধরা যায় না। তবে আমরা বড় কারবারিদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছি। পুলিশ ও র‌্যাব বিশেষ অভিযান শুরু করেছে।’

অপরদিকে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, নবাবগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে অন্তত ২৫ জন আটক হয়েছে। যাদের মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করেছি।

দোহার কেন্দ্রীয় শ্মশান মন্দির সড়ক: উপজেলা-পৌরসভা দন্দ্বে বিপাকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা  

ঢাকার দোহারে উপজেলা কেন্দ্রীয় শ্মশান মন্দিরে প্রবেশের মূল সড়ক দখল করে গড়ে উঠা দোকানপাট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। দোহার পৌরসভা থেকে ভাড়া নিয়ে এখন তারা উপজেলা প্রশাসনের কাছে চিহ্নিত হচ্ছেন অবৈধ দখলদার হিসাবে।

জানা যায়, উপজেলার ঠিক প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শ্মশান মন্দিরে যাবার সড়ক থাকলেও তা ছিল ভাঙাচোরা। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সম্প্রতি দোহার পৌরসভা ড্রেনের ব্যবস্থা সহ ২৬ ফুট প্রশস্থ ৩৫০ ফুট দৈর্ঘ্য নতুন একটি সড়ক নির্মাণ করে। যে সড়কটি শ্মশান মন্দির পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়েছে। মন্দিরে প্রবেশ ছাড়াও আশপাশের বাসিন্দারা সড়কটি ব্যবহার করে যাতায়াতের ক্ষেত্রে। সম্প্রতি সড়কটির কাজ শেষ হতে না হতেই তার পাসে দোকান বরাদ্দ দেয় দোহার পৌরসভা। ইতোমধ্যে অন্তত ২০টি দোকান নির্মাণ করা হয়েছে সড়কটির দুই পাশে। দখল করে নেয়া হয়েছে সড়কটির ২৬ ফুটের অন্তত ১৮ ফুট। আর সড়কের বাকিটুকু দখলে রয়েছে দোকানের চেয়ার-টেবিল ও জিনিসপত্রে এবং চা এর দোকান দিয়ে। এককথায় সড়কটির পুরো অংশই ক্রমেই অবৈধ দখলদারের কবলে চলে যাচ্ছে।

দোকানদাররা জানায়, দোহার পৌরসভার কাউন্সিলর আদিল উদ্দিন সিকদার ও আনোয়ার হোসেনের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে দোকানে  প্রতি ৮/১০ হাজার করে টাকা দিয়ে তারা দোকান ঘর নির্মাণ করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শ্মশান মন্দির সড়কের দুই পাশে দোকান বসানোর অনুমতি চেয়ে একটি আবেদন দিয়েছে দোহার পৌরসভার মেয়র এর কাছে জমা দেয়া হয়।

সে আবেদনটি গত ৩০ মে পৌরসভার মাসিক সভায় উঠানো হলে সেখানে ২৬ ফুট সড়কের ১৫ ফুট রেখে বাকি ১১ ফুটে ভ্রাম্যমান দোকান ও স্ট্যান্ড করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। জানা যায় ২/৩ জনের মতামতের ভিক্তিতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সরকারি সড়ক দখল করে স্থাপনা বসানো কোন আইন না থাকলেও এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয়া দোহার পৌরসভা।

দোহার উপজেলা কেন্দ্রীয় শ্মশান মন্দিরের সভাপতি গৌর চন্দ্র কুন্ডু বলেন, উপজেলা কেন্দ্রীয় শ্মশান মন্দিরের যাবার একটিই সড়ক। যে সড়কটি নির্মাণ ছিল আমাদের প্রাণের দাবি। সরকারি সহায়তা দোহার পৌরসভা সড়কটি নির্মাণ করেছে এতে যেমন আমরা খুশি হয়েছিলাম তার থেকে বেশি কষ্ট হচ্ছে সড়কটি দখল করে দোকান তোলার প্রতিযোগিতা দেখে। যেভাবে দোকানপাট উঠছে শ্মশানে মরদেহ নেবার মতো অবস্থা বোধহয় থাকবেনা। তাছাড়া এই মন্দিরে বছরে ৭/৮টি বার্ষিক উৎসব হয় বৃহৎ আকারে। তখন হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়। সড়কটির দুই পাশে তখন গ্রাম্য মেলা বসে এবং এই মেলাকে কেন্দ্র করে রাস্তার দুই পাশে বসে ভ্র্যামমান  দোকানপাট।  এভাবে দোকানপাট উঠতে থাকলে আমাদের উৎসব করা সম্ভব হবে না। মন্দিরের এ সড়ক দখলমুক্ত করতে আমরা প্রয়োজনে আন্দোলনে করে হলেও আমরা এই রাস্তাটি দখলবাজি থেকে মুক্ত করবো।

ঢাকা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি নির্মল রঞ্জণ গুহ বলেন, উপজেলার কেন্দ্রীয় একটা মন্দিরের সড়ক দখল করে যারা দোকানপাট উঠাচ্ছে তারা সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছে। এটা কোন ভাবেই মেনে নেব না। স্থানীয় প্রশাসনকে বলব এগুলো বন্ধে জরুরী পদক্ষেপ নিন।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত দোহার পৌরসভার কাউন্সিলর আদিল উদ্দিন সিকদার বলেন, সড়কটি হওয়ার আগেও দোকান ছিল এখানে। যাদের দোকান ছিল তাদের পূণঃর্বাসন করা হচ্ছে। তাদের তালিকা পৌরসভায় দেয়া আছে। এখানে দোকানিদের কাছে থেকে শুধু স্ট্যাম্পের টাকা নেয়া হচ্ছে আর কোন টাকা নেয়া হয়নি।

দোহার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, পৌরসভা এখনো দোকানদারদের কাছ থেকে কোন টাকা গ্রহণ করেনি। কেউ টাকা নিয়ে থাকলে দায়ভার তাদের। তবে মিটিং-এ সিদ্ধান্ত হয়েছে ২৬ ফুট সড়কের মধ্যে ১৫ ফুট খালি রেখে ভ্রাম্যমান দোকান বা স্ট্যান্ড দেয়ার বিষয়ে।

দোহার পৌর মেয়র আলহাজ্ব আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, দোকান বসানোর জন্য আমাদের কাছে একটি আবেদন জমা পড়েছে। আমরা মিটিং এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি কিন্তু এখনো কাউকে দোকান উঠানোর অনুমতি দেইনি। অনুমতি ছাড়া দোকান কিভাবে উঠল তা আমাদের জানা নেই।

দোহার উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সালমা খাতুন নিউজ৩৯ কে বলেন, সড়কটি সরকারি জমির উপর। এখানে দোকান  বসানোর অনুমতি দেয়ার বৈধতা পৌরসভার নেই। আমি বিষয়টি জেনেছি। দ্রুত এসব অবৈধ দোকানপাট উচ্ছে করা হবে এবং আমি তাদেরকে ৩ দিন সময় দিয়ে এসেছি দোকান সরানোর জন্য  তখন তাকে জিগাসা করা হলে যে তারা যুদি না দোকান সরায় তকন আপনাদের কি করবেন তখন তিনি বলেন যে আমরা দরকার পরলে বোল্ড়জার দিয়ে ঔ দোকান ভেঙ্গে দিব।

এবেপারে উপজেলা নির্রবাহী অফিসারকে জিগাসা করা হলে তিনিও নিউজ৩৯ কে একই কথা বলে এবং তিনি আরো বলেন যে আমি শুনেছি যে পৌরসভা আর কিছু জায়গা দখল করে ভাড়া দিচ্ছে এবং জয়পাড়া বাজেরের ভিতরেও নাকি তারা বিল্ড়িং উঠিয়ে অবৈধ ভাবে জায়গা দখল করে রেখেছে আমি এই সবগুলো অবৈধ দখল উচ্ছেদ করব।

প্রতিদিনের হাদিস : দাজ্জাল

হাদিস নং ৭২৬৩: আবু খাইসামাহ, যুহায়র ইবনু হারব, মুহাম্মাদ ইবনু মিহরান আর রাযী (রহঃ) ….. নাওওয়াস ইবনু সাম’আন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সকালে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করলেন। আলোচনার সময় তিনি তার ব্যক্তিত্বকে তুচ্ছ করে তুলে ধরেন। পরে অনেক গুরুত্ব সহকারে উপস্থিত করেন যাতে তাকে আমরা ঐ বৃক্ষরাজির নির্দিষ্ট এলাকায় (আবাসস্থল সম্পর্কে) ধারণা করতে লাগলাম। এরপর আমরা সন্ধ্যায় আবার তার কাছে গেলাম। তিনি আমাদের মধ্যে এর প্রভাব দেখতে পেয়ে বললেন, তোমাদের ব্যাপার কি? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি সকালে দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং এতে আপনি কখনো ব্যক্তিত্বকে তুচ্ছ করে তুলে ধরেছেন, আবার কখনো তার ব্যক্তিত্বকে বড় করে তুলে ধরেছেন। ফলে আমরা মনে করেছি যে, দাজ্জাল বুঝি এ বাগার মধ্যেই বিদ্যমান। এ কথা শুনে তিনি বললেন, দাজ্জাল নয়, বরং তোমাদের ব্যাপারে অন্য কিছুর আমি অধিক ভয় করছি। তবে শোন, আমি তোমাদের) মধ্যে বিদ্যমান থাকা অবস্থায় যদি দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয় তবে আমি নিজেই তাকে প্রতিহত করব। তোমাদের প্রয়োজন হবে না। আর যদি আমি তোমাদের মাঝে না থাকাবস্থায় দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয়, তবে প্রত্যেক মুমিন লোক নিজের পক্ষ হতে তাকে প্রতিহত করবে। প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আল্লাহ তা’আলাই হলেন আমার পক্ষ হতে তত্ত্বাবধানকারী।

দাজ্জাল যুবক এবং ঘন চুল বিশিষ্ট হবে, চোখ আঙ্গুরের ন্যায় হবে। আমি তাকে কাফির ‘আবদুল উয্যা ইবনু কাতান এর মতো মনে করছি। তোমাদের যে কেউ দাজ্জালের সময়কাল পাবে সে যেন সূরা আল-কাহফ-এর প্রথমোক্ত আয়াতসমূহ পাঠ করে। সে ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যপথ হতে আবির্ভূত হবে। সে ডানে-বামে দুর্যোগ সৃষ্টি করবে। হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা অটল থাকবে। আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! সে পৃথিবীতে কয়দিন অবস্থান করবে? উত্তরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, চল্লিশদিন পর্যন্ত। এর প্রথম দিনটি এক বছরের সমান, দ্বিতীয় দিন এক মাসের সমান এবং তৃতীয় দিন এক সপ্তাহের সমান হবে। অবশিষ্ট দিনগুলো তোমাদের দিনসমূহের মতই হবে।

আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! যেদিন এক বছরের সমান হবে, সেটাতে এক দিনের সলাতই কি আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে? উত্তরে তিনি বললেন, না, বরং তোমরা এদিন হিসাব করে তোমাদের দিনের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে নিবে। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! দুনিয়াতে দাজ্জালের অগ্রসরতা কি রকম বৃদ্ধি পাবে? তিনি বললেন, বাতাসের প্রবাহ মেঘমালাকে যে রকম হাকিয়ে নিয়ে যায়। সে এক কাওমের কাছে এসে তাদেরকে কুফুরীর দিকে ডাকবে। তারা তার উপর ঈমান আনবে এবং তার আহ্বানে সাড়া দিবে। অতঃপর সে আকাশমণ্ডলীকে আদেশ করবে। আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে এবং ভূমিকে নির্দেশ দিবে, ফলে ভূমি গাছ-পালা ও শস্য উৎপন্ন করবে। তারপর সন্ধ্যায় তাদের গবাদি পশুগুলো পূর্বের চেয়ে বেশি লম্বা কুজ, প্রশস্ত স্তন এবং পেটভর্তি অবস্থায় তাদের কাছে ফিরে আসবে।

তারপর দাজ্জাল অপর এক কাওমেরর কাছে আসবে এবং তাদেরকে কুফুরীর প্রতি ডাকবে। তারা তার কথাকে উপেক্ষা করবে। ফলে সে তাদের নিকট হতে প্রত্যাবর্তন করবে। আমনি তাদের মধ্যে দুর্ভিক্ষ ও পানির অনটন দেখা দিবে এবং তাদের হাতে তাদের ধন-সম্পদ কিছুই থাকবে না। তখন দাজ্জাল এক পতিত স্থান অতিক্রমকালে সেটাকে সম্বোধন করে বলবে, তুমি তোমার গুপ্তধন বের করে দাও। তখন জমিনের ধন-ভাণ্ডার বের হয়ে তার চতুষ্পার্শে একত্রিত হতে থাকবে, যেমন মধু মক্ষিকা তাদের সর্দারের চারপাশে সমবেত হয়।

অতঃপর দাজ্জাল এক যুবক ব্যক্তিকে ডেকে আনবে এবং তাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করে তীরের লক্ষ্যস্থলের ন্যায় দুটুকরো করে ফেলবে। তারপর সে আবার তাকে আহবান করবে। যুবক আলোকময় হাস্যোজ্জল চেহারায় তার সম্মুখে এগিয়ে আসবে। এ সময় আল্লাহ রববুল আলামীন ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) কে প্রেরণ করবেন। তিনি দু’ ফেরেশতার কাঁধের উপর ভর করে ওয়ারস ও জাফরান রং এর জোড়া কাপড় পরিহিত অবস্থায় দামেশক নগরীর পূর্ব দিকের উজ্জ্বল মিনারে অবতরণ করবেন। যখন তিনি তার মাথা ঝুঁকবেন তখন ফোটা ফোটা ঘাম তার শরীর থেকে গড়িয়ে পড়বে। তিনি যে কোন কফিরের কাছে যাবেন সে তার শ্বাসের বাতাসে ধ্বংস হয়ে যাবে। তার দৃষ্টি যতদূর পর্যন্ত যাবে তাঁর শ্বাসও ততদূর পর্যন্ত পৌছবে। তিনি দাজ্জালকে সন্ধান করতে থাকবেন। অবশেষে তাকে বাবে লুদ নামক স্থানে গিয়ে পাকড়াও করবেন এবং তাকে হত্যা করবেন।

অতঃপর ঈসা (আঃ) ঐ সম্প্রদায়ের নিকট যাবেন, যাদেরকে আল্লাহ তা’আলা দাজ্জালের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছেন। ঈসা (আঃ) তাদের কাছে গিয়ে তাদের চেহারায় হাত বুলিয়ে জান্নাতে তাদের স্থানসমূহের ব্যাপারে খবর দিবেন। এমন সময় আল্লাহ তা’আলা ঈসা (আঃ) এর প্রতি এ মর্মে ওয়াহী অবতীর্ণ করবেন যে, আমি আমার এমন বান্দাদের আবির্ভাব ঘটেয়েছি, যাদের সঙ্গে কারোই যুদ্ধ করার ক্ষমতা নেই। অতঃপর তুমি আমার মুমিন বান্দাদেরকে নিয়ে তুর পাহাড়ে চলে যাও। তখন আল্লাহ তা’আলা ইয়াজুজ-মাজুজ কাওমকে পাঠাবেন। তারা ছাড়া পেয়ে পৃথিবীর সব প্রান্তে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। তাদের প্রথম দলটি “বুহাইরায়ে তাবরিয়া”র (ভূমধ্যসাগর) উপকূলে এসে এর সমুদয় পানি পান করে নিঃশেষ করে দিবে। তারপর তাদের সর্বশেষ দলটি এ স্থান দিয়ে যাত্রাকালে বলবে, এ সমুদ্রে কোন সময় পানি ছিল কি?

তারা আল্লাহর নাবী ঈসা (আঃ) এবং তার সাথীদেরকে অবরোধ করে রাখবে। ফলে তাদের নিকট একটি বলদের মাথা বর্তমানে তোমাদের নিকট একশ দীনারের মূল্যের চেয়েও অধিক মূল্যবান প্রতিপন্ন হবে। তখন আল্লাহর নাবী ঈসা (আঃ) এবং তার সঙ্গীগণ আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন। ফলে আল্লাহ তা’আলা ইয়া’জুজ-মা’জুজ সম্প্রদায়ের প্রতি আযাব পাঠাবেন। তাদের ঘাড়ে এক প্রকার পোকা হবে। এতে একজন মানুষের মৃত্যুর মতো তারাও সবাই মরে নিঃশেষ হয়ে যাবে। তারপর ঈসা (আঃ) ও তাঁর সঙ্গীগণ পাহাড় হতে জমিনে বেরিয়ে আসবেন। কিন্তু তারা অর্ধ হাত জায়গাও এমন পাবেন না যথায় তাদের পচা লাশ ও লাশের দুর্গন্ধ নেই। অতঃপর ‘ঈসা (আঃ) এবং তার সঙ্গীগণ পুনরায় আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন। তখন আল্লাহ তা’আলা উটের ঘাড়ের মতো লম্বা এক ধরনের পাখি পাঠাবেন। তারা তাদেরকে বহন করে আল্লাহর ইচ্ছানুসারে কোন স্থানে নিয়ে ফেলবে।

এরপর আল্লাহ এমন মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন যার ফলে কাঁচা-পাকা কোন গৃহই আর অবশিষ্ট থাকবে না। এতে জমিন বিধৌত হয়ে উদ্ভিদ শূন্য মৃত্তিকায় পরিণত হবে। অতঃপর পুনরায় জমিনকে এ মর্মে নির্দেশ দেয়া হবে যে, হে জমিন! তুমি আবার শস্য উৎপন্ন করো এবং তোমার বারাকাত ফিরিয়ে দাও। সেদিন একদল মানুষ একটি ডালিম ভক্ষণ করবে এবং এর বাকলের নীচে লোকেরা ছায়া গ্রহণ করবে। দুধের মধ্যে বারাকাত হবে। ফলে দুগ্ধবতী একটি উটই একদল মানুষের জন্য যথেষ্ট হবে, দুগ্ধবতী একটি গাভী একগোত্রীয় মানুষের জন্য যথেষ্ট হবে এবং যথেষ্ট হবে দুগ্ধবতী একটি বকরী এক দাদার সন্তানদের (একটি ছোট গোত্রের) জন্য। এ সময় আল্লাহ তা’আলা অত্যন্ত আরামদায়ক একটি বায়ু প্রেরণ করবেন। এ বায়ু সকল মুমিন লোকদের বগলে গিয়ে লাগবে এবং সমস্ত মুমিন মুসলিমদের রূহ কবয করে নিয়ে যাবে। তখন একমাত্র মন্দ লোকেরাই এ পৃথিবীতে বাকী থাকবে। তারা গাধার ন্যায় পরস্পর একে অন্যের সাথে প্রকাশ্যে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে। এদের উপরই কিয়ামাত সংঘটিত হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭১০৬. ইসলামিক সেন্টার ৭১৬০)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম

অধ্যায়ঃ বিভিন্ন ফিতনাহ ও কিয়ামাতের লক্ষনসমূহ

পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি

মুকসুদপুর থেকে আরও এক মাদক ব্যবসায়ী আটক

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের  রুইথা হতে মোঃ সজিব নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে শাইনপুকুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ।

পুলিশ সুত্রে জানা যায়,আজকে সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাইনপুকুর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এমারৎ হোসেনের নেতৃত্বে এস আই সংকর চন্দ্র সরকার ও এ এস আই রাহাত সহ একটি বিশেষ টিম রুইথা  এলাকায় অভিজান চালিয়ে  ২৬৫ পুরা হেরোইন সহ তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার কৃত মোঃ সজিব আব্দুর রহিম খানের ছেলে।

পুলিশি ইনচার্জ এমারৎ হোসেন নিউজ৩৯কে জানায়, আসামীর বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ  আইনে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও তার নামে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এই অভিজান চলছে।মাদকের বিরুদ্ধে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

প্রতিদিনের হাদিসঃ সাওম বা রোজা

হাদিস নং ১৯২১: যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সাহরী খাই এরপর তিনি সালাতের জন্য দাঁড়ান। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, আযান ও সাহরীর মাঝে কতটুকু ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, পঞ্চাশ আয়াত (পাঠ করা) পরিমাণ। (৫৭৫)  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৯৬)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ১৯২২: ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটানা সওম পালন করতে থাকলে লোকেরাও একটানা সওম পালন করতে শুরু করে। এ কাজ তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়াল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিষেধ করলেন। তারা বলল, আপনি যে এক নাগাড়ে সওম পালন করছেন? তিনি বললেনঃ আমি তো তোমাদের মত নই। আমাকে খাওয়ানো হয় ও পান করানো হয়। (১৯৬২, মুসলিম ১৩/১১, হাঃ ১১০২, আহমাদ ৬১৩৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ১৭৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ১৭৯৭)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ১৯২৩: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সাহরী খাও, কেননা সাহরীতে বরকত রয়েছে। (মুসলিম ১৩/৯, হাঃ ১০৯৫, আহমাদ ১১৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ১৭৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৯৮)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ১৯২৪:  সালমা ইবনু আকওয়া‘ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ‘আশূরার দিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে এ বলে লোকদের মধ্যে ঘোষণা দেয়ার জন্য পাঠালেন যে, যে ব্যক্তি খেয়ে ফেলেছে সে যেন পূর্ণ করে নেয় অথবা বলেছেন, সে যেন সওম আদায় করে নেয় আর যে এখনো খায়নি সে যেন আর না খায়। (২০০৭, ৭২৬৫, মুসলিম ১৩/২১, হাঃ ১১৩৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৯৯)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ১৯২৫-১৯২৬: আবূ বাকর ইবনু ‘আবদুর রাহমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং আমার পিতা ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) এবং উম্মু সালামাহ (রাযি.)-এর নিকট গেলাম। (অপর বর্ণনায়) আবুল ইয়ামান (রহ.)…মারওয়ান (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) এবং উম্মু সালামাহ (রাযি.) তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, নিজ স্ত্রীর সাথে মিলনজনিত জুনূবী অবস্থায় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফজরের সময় হয়ে যেত। তখন তিনি গোসল করতেন এবং সওম পালন করতেন। মারওয়ান (রহ.) ‘আবদুর রাহমান ইবনু হারিস (রহ.)-কে বললেন, আল্লাহর শপথ করে বলছি, এ হাদীস শুনিয়ে তুমি আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-কে শঙ্কিত করে দিবে। এ সময় মারওয়ান (রহ.) মাদ্বীনার গভর্নর ছিলেন। আবূ বাকর (রহ.) বলেন, মারওয়ান এর কথা ‘আবদুর রাহমান (রহ.) পছন্দ করেননি। রাবী বলেন, এরপর ভাগ্যক্রমে আমরা যুল-হুলাইফাতে একত্রিত হই। সেখানে আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-এর একখন্ড জমি ছিল। ‘আবদুর রাহমান (রহ.) আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-কে বললেন, আমি আপনার নিকট একটি কথা বলতে চাই, মারওয়ান যদি এ বিষয়টি আমাকে কসম দিয়ে না বলতেন, তা হলে আমি তা আপনার সঙ্গে আলোচনা করতাম না। অতঃপর তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) ও উম্মু সালামাহ (রাযি.)-এর বর্ণিত উক্তিটি উল্লেখ করলেন। ফায্ল ইবনু ‘আববাস (রাঃ) অনুরূপ একটি হাদীস আমাকে শুনিয়েছেন এবং এ বিষয়ে তিনি সর্বাধিক অবগত। হাম্মাম (রহ.) এবং ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার সূত্রে আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, এরূপ ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওম পরিত্যাগ করে খাওয়ার হুকুম দিতেন। প্রথমোক্ত হাদীসটি সনদের দিক হতে বিশুদ্ধ। (১৯২৫-১৯৩০, ১৯৩১) (১৯২৬-১৯৩২, মুসলিম ১৩/১৩, হাঃ ১১০৯, আহমাদ ২৬৬৯২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ১৮০০ )

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী

অধ্যায়ঃ সাওম বা রোযা

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন

দুই একদিনের ভিতরেই জয়পাড়া কলেজের পিছনের  খালে অভিযান

দখলদারদের দখল বাজীতে নিজের অস্তিত্ব হারাতে বসেছে দোহারের অন্যতম প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জয়পাড়া কলেজের পিছন দিয়ে প্রবাহিত খালটি। সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে জয়পাড়া কলেজ পর্যন্ত দখল করে নিয়েছে খালের একটা বড় অংশ। ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়ে গেছে খালটি। দোহার পৌরসভার নাকের ডগায় চলে এই অবৈধ দখলদারী তারা দেখেও না দেখার ভান করেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে খালটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসতে উদ্যোগ নিচ্ছেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা। সোমবার নিউজ৩৯ এর প্রতিবেদকের কাছে নিতে অচিরেই এই দখল কারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর কথা জানান।

দুই একদিনের ভিতরেই জয়পাড়া কলেজের পিছনের  খালে অভিযান

দুই একদিনের ভিতরেই জয়পাড়া কলেজের পিছনের  খালে অভিযান

আফরোজা আক্তার রিবা বলেন, দোহারে কোন অবৈধ দখলদারী চলতে দেয়া হবে না। খালটির ব্যাপারে আমাদের নজরে আছে। আমরা অতি দ্রুত এই খালের অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করবো। দোহার উপজেলা এসি ল্যান্ড সালমা খাতুনের উপস্থিতিতে তিনি বলেন, দুই একদিনের ভিতরেই তিনি এই অভিযান পরিচালনা করবেন। এবং দোষীদের ব্যাপারে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নিবেন।

দুই একদিনের ভিতরেই জয়পাড়া কলেজের পিছনের  খালে অভিযান

প্রেমের টানে পলায়নঃ সুন্দরীপাড়ায় এনজিও পরিচালককে গাছের সাথে বেঁধে পিটুনি

ঢাকার দোহারে সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট এন্ড রিহ্যাবনিটেশন প্রোগ্রাম (এইচডিআরপি) এনজিও-এর পরিচালক আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে গাছের সাথে বেঁধে পিটিয়েছে দোহারের কুসুমহাটি ইউনিয়নের সুন্দরীপাড়া গ্রামের একটি পরিবার ও তাদের লোকজন। একই সাথে আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে পারকিয়ার অভিযোগও তুলেছে পরিবারটি। শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আব্দুর রশিদের পক্ষ থেকে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আব্দুর রশিদ দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক পদে আছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোহার উপজেলার সুন্দরীপাড়া এলাকার মো. শহিদ মিয়ার স্ত্রী রাশেদা বেগমের সাথে আব্দুর রশিদের একটি সুসম্পর্ক দীর্ঘ দশ বছর ধরে। গত ছয়মাস আগে হঠাৎ করেই রাশেদা স্বামীর ঘর ছেড়ে রশিদের সাথে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে শহিদ ও তার পরিবারের আন্যান্য সদস্যরা রাশেদাকে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে জানতে পারে তারা নবাবগঞ্জ উপজেলার কাশিমপুর এলাকায় ভাড়া থাকে। গত শুক্রবার সকালে আব্দুর রশিদ নবাবগঞ্জের কাশিমপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা হয়। পথিমধ্যে মো. শহিদ তার লোকজনকে নিয়ে একটি অটোরিক্সায় করে রশিদকে তুলে আনে শহিদের নিজ বাড়িতে। পরে তার জামা খুলে  বাড়ির আমগাছের সাথে বেঁধে  শহিদ মিয়া, তার মেয়ে সাহিদা, ভাই সোহরাব মিয়া, বোন নিলু, স্থানীয় মোকলেছ শিকদার, কুসুমহাটি ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আজিজ বিশ^াস, এমরান ও এলাকার অটোচালক তোফাজ্জল নামে কয়েকজন তাকে বেধরক ভাবে পেটাতে থাকে।

খবর পেয়ে দোহার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আব্দুর রশিদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। থানায় নিয়ে আসা হয় রাশেদাকেও।

এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, রশিদ পেশায় একজন এনজিও কর্মকর্তা। বয়স আনুমানিক ৫২ বছর। বাড়ি দোহারের উত্তর চরজয়পাড়া এলাকায়। নিজের এলাকায় সে চিরকুমার হিসেবে পরিচিত। এর আগেও তার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ রয়েছে। সুন্দরীপাড়া গ্রামেও সে বেশ কয়েকবছর ধরেই যাতায়াত করছে। শহিদের স্ত্রী রাশেদার সাথে তার খুব ভাল সম্পর্ক। রাশেদার দুবাই প্রবাসী ছেলে রাজিব বিদেশে যাওয়ার পর থেকে মায়ের একাউন্টে যে টাকা পাঠাত তা রাশেদা তার স্বামী শহিদের অজান্তে প্রায় সব টাকাই আব্দুর রশিদের কাছে জমা রাখত। এ কথা জানাজানি হলে শহিদকে রাশেদা বলে টাকাগুলো আব্দুর রশিদের কাছে ডিপোজিট রেখেছি। সম্প্রতি রাশেদা কার্তিকপুরে তাদের একটি মার্কেটের পজেশন দোকান সহ বিক্রি করে সে টাকাও আব্দুর রশিদকে দিয়েছে। এ নিয়ে পরিবারে ঝামেলা চলছিল। গত ছয়মাস আগে রাশেদা আব্দুর রশিদের হাত ধরে পালানোর পরে শহিদ তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তাদের খুঁজতে থাকে। পরে গত শুক্রবার ওই ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে আব্দুর রশিদ বলেন, আমি রাশেদাকে গত ৬ মাস আগে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে করেছি। আমরা আলাদা থাকি। তবে রাশেদা কি তার স্বামী শহিদকে ডিভোর্স দিয়েছে কিনা এমন প্রশ্ন করলে এড়িয়ে যায় আব্দুর রশিদ।

দোহার থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম শেখ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আব্দুর রশিদকে উদ্ধার করা হয়েছে। রশিদ জানিয়েছে রাশেদা বেগমকে সে বিয়ে করেছে। তবে বিয়ের কোন ডকুমেন্ট দেখাতে পারেনি। অন্যদিকে রাশেদার স্বামী শহীদকে ডিভোর্স দেয়ার বিষয়ে আমরা কোন কাগজপত্র পাইনি। দুই পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসতে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় আব্দুর রশিদ থানায় একটি অভিযোগ করেছে।

দোহারে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় বিক্ষোভ

ঢাকার দোহার উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মাহমুদপুর হরিচন্ডি জুনিয়র হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং সাবেক শিক্ষক সালাহউদ্দিন রসুকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে মাহমুদপুর এলাকাবাসী।

গত ২৬ মে শনিবার দোহার উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ- সভাপতি সালাহউদ্দিন রসুকে কুপিয়ে জখম করে এলাকার কিছু সন্ত্রাসী ও মাদকসেবী। এ ঘটনায় রসুর বড় বোন আলেয়া আক্তার বাদী হয়ে দোহার থানায় একটি মামলা দায়ের করে। আহত সালাহউদ্দিন রসু এখনো দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলার মাহমুদপুর হাজামবাড়ির মোড় হতে শুরু হয়ে মাহমুদপুর জুনিয়র হাই স্কুল মাঠে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিবাদ সভা করেছে মাহমুদপুর এলাকাবাসি। এসময় রসুর হামলাকারীদের আটকের বিষয়ে দোহার থানা পুলিশের উদাসীনতার কথা উল্লেখ করেণ এলাকাবাসী। দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করলে বৃহৎ আন্দোলনের কথা জানান তারা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মাহমুদপুর জুনিয়র হাই স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোশারফ হোসেন পত্তনদার, মনির পত্তনদার, মাহমুদপুর জুনিয়র হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. কামাল হোসেন, মনির পত্তনদার, যুবলীগ নেতা হুমায়ুন কবির, মাহমুদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক এসএম আক্তার হোসেন, মাসুদ পত্তনদার, সারোয়ার মেম্বার সহ আরো অনেকে।

দোহারে ফুলতলা পুলিশ ফাঁড়ির মাদক বিরোধী অভিযানঃ ৩০০ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার, আটক ১

ক্রাইম রি্পোর্টার,নিউজ৩৯ঃ চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে দোহার থানা পুলিশস্থ ফুলতলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এমারৎ হোসেনের দক্ষতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক সন্ত্রাসী মোশররফ হোসেন মোশা কে গ্রেফতার করেছে শাইনপুকুরতদন্ত কেন্দ্র । পুলিশ ফাঁড়ির সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শাইনপুকুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ বাহিনী দোহারের মুকসুদপুরে সোমবার সন্ধ্যা ৬:৩০ টার দিকে অভিযান চালিয়ে হেরোইন এবং মাদক দ্রব্যসহ কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মোশাররফকে আটক করে। এ সময় তার কাছে থেকে ৩০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। আটক মাদক ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন (মোশা) (২৭) মুকসুদপুর ইউনিয়নের,রুইথা গ্রামের আব্দুর রহিম খাঁনের ছেলে।

এই ব্যাপারে শাইনপুকুর তদন্ত কেন্দ্রের এ এস আই রাহাত হোসেন নিউজ৩৯কে জানান, মুকসুদপুররের মধুরখোলা প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন রাস্তা থেকে সোমবার  সন্ধ্যা ০৬:৩০ টার দিকে মোশাকে ধরা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে তার কাছ থেকে ৩০০ পুরিয়া  হেরোইন পাওয়া যায়। যার বাজার মূল্য প্রায় ৬০,০০০ টাকা।

এই ব্যাপারে শাইনপুকুর তদন্ত কেন্দ্রের অফিসার-ইনচার্জ এমারত হোসেন নিউজ৩৯কে বলেন, মোশারফ (মুসা) দীর্ঘ দিন ধরে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে হেরোইনের ব্যবসা করে আসছিলো। তার নামে থানায় একাধিক মামলা ও রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে  তাকে আটকের পর তার দেহ  তল্লাশি করে হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনেত ১৯(১) ধারার ১(খ) উপধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

প্রতিবেদকঃ গাজী নাদিম মাহমুদ, নিউ৩৯।