একই মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নাজমুল হুদা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার সরকারি বাসভবন গণভবনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সম্মানে এক ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। এসময় বিএনএফ সভাপতি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন এমন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত দলটির প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের একজন নাজমুল হুদা। তবে এই প্রথম তাকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা গেল।

দল পাল্টানো, ভোল পাল্টানো কখনোবা দুর্নীতির কারণে আলোচনায় এসেছেন বিএনপি আমলের যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। দুর্নীতি অভিযোগ ছাড়েনি তার স্ত্রী সিগমা হুদাকেও। স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীরও সাজা হয়েছে দুর্নীতির দায়ে। হুদার বিরুদ্ধে চলা দুর্নীতি মামলার সাজা কমিয়ে চার বছর করেছেন উচ্চ আদালত।

প্রসঙ্গত, দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যকলাপের জন্য ২০১০ সালে তৎকালীন ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে বহিষ্কার করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এরপর তিনি গঠন করেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ)। পরবর্তী সময়ে তাকে বিএনএফ থেকেও বহিষ্কার করা হন।

পরে গত মে মাসে তিনি গঠন করেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স-বিএনএ। তবে তাতেও তেমন সাড়া পাননি।

তিনি সর্বশেষ আলোচনায় আসেন গত ১৮ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়া উপলক্ষে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে উপস্থিত হয়ে। সেখানে তাকে বসে থাকতে এবং কথা বলতে দেখা যায় ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রীদের সাথে।

এনিয়ে ওই সময় ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বলেছিলেন, ‘ডিগবাজি খাওয়ার ইতিহাস আমার নেই। আমি চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত আরও শক্ত করতে।’

‘আমি দল পরিবর্তন করছি না। শুধু জোট পরিবর্তন করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে কথা দিয়েছেন, আমি মনোনয়ন পাবো। তবে দোহার থেকে নয়, আমি এবার লড়বো গুলশান থেকে। আমি বিশ্বাস করি তার (প্রধানমন্ত্রী) দেয়া কথা ভঙ্গ হবে না’ বলেছিলেন তিনি।

বিএনপির প্রতিও ক্ষোভ ঝাড়েন নাজমুল হুদা। তিনি বলেন, ‘২০দলীয় জোটের সাথে থেকে আমি যে সম্মান পাইনি, তা ১৪ দলে থেকে পাবো।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মহাজোটে যুক্ত হবার সাথে আমার বিরুদ্ধে দেয়া দুর্নীতি মামলার রায়ের কোনো সম্পর্ক নেই। ওটা আইনি বিষয়। আর এটা রাজনৈতিক। এই রায় তো এস কে সিনহা (সাবেক প্রধান বিচারপতি) স্বৈরাচারী কায়দায় দিয়েছিলেন আমার বিরুদ্ধে আক্রোশ মেটাতে।’

প্রধানমন্ত্রী ইফতারের আগে বিভিন্ন টেবিল ঘুরে আগত অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। অন্যান্য ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী কোনো বক্তব্য না রাখলেও এদিন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সম্মানে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

এতে উপস্থিত ছিলেন, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

ক্ষমতাসীন জোট ও সমমনা দলের নেতাদের মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ, জাতীয় পার্টির (মঞ্জু) চেয়ারম্যান পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া ।

একজন ভাগ্যবান পলঃ একই সঙ্গে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে

একজন ভাগ্যবান পল
বিএনপির রাজনীতিতে একজন ভাগ্যবান নেতার নাম রেজাউল করিম পল। একটি সাংগঠনিক পদের জন্য দলটির নেতাকর্মীরা যখন রাজপথে প্রাণপাত করছেন তখন চমক দেখিয়েছেন পল। তার একই অঙ্গ তিন রূপ। একইসঙ্গে ঢাকা জেলা বিএনপি, জেলা যুবদল ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের তিনটি পদে আসীন তিনি। ঢাকা জেলা ছাত্রদলের এককালের সভাপতি রেজাউল করিম পল ২০১৬ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি ঘোষিত রাজীব আহসান-আকরামুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পান কেন্দ্রীয় সহসভাপতি পদ। ২০১৬ সালের ২৯শে আগস্ট গঠিত হয় ঢাকা জেলা বিএনপির নিউক্লিয়াস কমিটি।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি পদে থাকা অবস্থায় রেজাউল করিম পল দায়িত্ব পান ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদের। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার পরও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতির পদ ছাড়েননি তিনি। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ১লা জুন ঘোষিত ঢাকা জেলা যুবদলের নতুন কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে এক নেতা একপদ নীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল দলীয় গঠনতন্ত্রে। যার প্রেক্ষিতে অনেক সিনিয়র নেতাও ছেড়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় বা জেলার যেকোনো এক পদ।

সেখানে একজন মহাভাগ্যবান হলেন রেজাউল করিম পল। যিনি একই সঙ্গে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের মতো তিনটি আলাদা সংগঠনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। বিগত ১লা জুন ঢাকা জেলা যুবদলের কমিটি ঘোষণার পর সভাপতি পদে পলের নাম দেখে চোখ কপালে উঠে তার অনেক রাজনৈতিক সহকর্মীর। এ ব্যাপারে যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন বলেন, সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছে বলেই সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব রেজাউল করিম পলকে ঢাকা জেলা যুবদলের সভাপতির পদ দিয়েছেন।

দোহার-নবাবগঞ্জের বিপণি-বিতানে উপচে পড়া ভীড়

ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলায় জমে উঠেছে ঈদ কেনা কাটা। কেনা কাটায় ব্যস্ত তরুন-তরুনী। প্রতিবারের মতো এবারও দোকানীরা দোকানকে বিভিন্ন জলমে আলোর রঙিন আলোকসজ্জায় দোকানকে করে তুলেছে আকর্ষণীয়। এখন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছে দোকানীরা। সেই সাথে সকল বয়সী মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে মার্কেটগুলোতে। ক্রেতাদের উপচে পড়ে ভীড়ে পা ফেলার ঠাঁই নেই। তরুন-তরুনীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী পাঞ্জাবি ও থ্রি পিস সহ নানা রকমের পোশাক কিনছে। সেই সাথে নি¤œ আয়ের মানুষরাও ভীড় করছে মার্কেটসহ বিভিন্ন ফুটপাতে। বিভিন্ন বয়সী মানষের ভীড় বাড়ছে মার্কেটগুলোতে। বেচা কেনা ১০ রমজান থেকে বেড়েছে কয়েক গুন। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে বেচা কেনা। প্রতিদিনই বাড়ছে মানুষের ভীড়। দোকানের চুরি ঠেকাতে এবার দোকানদাররা সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করেছেন বলে জানা যায়। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও উপ¯ি’িত লক্ষ্য করা যায় মার্কেটগুলোতে।

সেই সাথে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে পাইকাররাও। ঢাকা ও বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন আনছে বিভিন্ন নতুন ডিজাইনের পোশাক। শাড়ির দোকান গুলোতে ভীড় করছে শাড়ি ক্রেতারা। শাড়িগুলোর মধ্যে জামদানি ও কাতান শাড়ি বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদের উপচে পড়ে ভীড়ে দোকানের কোন স্থানই ফাঁকা নেই। নবাবগঞ্জের বান্দুরা সিজান মাল্টি শপিং মলের তারিফ নামে এক দোকানীর সাথে কথা হয় তিনি জানান,১০ রমজান থেকে বেড়েছে বেচা কেনা। প্রতিদিন ১ থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বেচা হচ্ছে। সেই সাথে এ বছর সবচেয়ে বেশী বেচা হচ্ছে মেয়েদের কিরণমালা ও পারুল নামের পোশাক। তাছাড়া ছেলেদের পোশাকের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন জিন্স প্যান্ট,পাঞ্জাবি,টি-শার্ট। নবাবগঞ্জের মার্কেট গুলোর মধ্যে রয়েছে বাগমারা,বান্দুরা ,গালিমপুর,বারুয়াখালী ও শিকারীপাড়ায় সবচেয়ে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তরুন –তরুনীর পোশাকের সৌর্ন্দয বৃদ্ধিতে দোকানে বিভিন্ন রঙের জলমলে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করেছে দোকানীরা। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে ক্রেতাদের উপস্থিতি।

বান্দুরা সিজান মাল্টি শপিংমলে কথা হয় বারুয়াখালী থেকে পোশাক কিনতে আসা মো.হাসানের সাথে তিনি বলেন ,“এ বছর অন্যান্য বছরের চেয়ে পোশাকের মূল্য একটু বেশী ”। সরেজমিনে বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়,অন্যান্য বছরের তুলনায় মার্কেটে ভীড় অনেক বেশী। ঈদের আরো বাকি ১৪ দিন তবুও ক্রেতারা যেন আগেই তাদের পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের জন্য জামা কাপড় কিনে নিচ্ছেন।

প্রতিদিনের হাদিস : জান্নাত-জাহান্নাম

হাদিস নং ৭০৭২: যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ….. আনাস (রাযিঃ) এর সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর যে পরিমাণ ইচ্ছা সে পরিমাণ স্থান জান্নাতে শূন্য থাকবে। পরিশেষে আল্লাহ তা’আলা নিজ ইচ্ছানুযায়ী এর জন্য অন্য মাখলুক সৃষ্টি করবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯১৭ ইসলামিক সেন্টার ৬৯৭৪)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৭০৭৩: আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবু কুরায়ব (রহঃ) ….. আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামাতের দিন মৃত্যুকে একটি সাদা মেষের আকৃতিতে উপস্থিত করা হবে। আবু কুরায়ব বর্ধিত বর্ণনা করে বলেন, তারপর তাকে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যস্থলে দাঁড় করানো হবে। এরপর উভয়ই অবশিষ্ট হাদীস একই রকম বর্ণনা করেছেন। তখন বলা হবে, হে জান্নাতীগণ! তোমরা কি একে চিনো? এ কথা শুনে তারা মাথা উঠিয়ে দেখবে এবং বলবে, হ্যাঁ, এ তো মৃত্যু। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর বলা হবে, হে জাহান্নামীগণ! তোমরা কি একে চিনো? তখন তারা মাথা তুলে দেখবে এবং বলবে, হ্যাঁ! এতো মৃত্যু। তারপর নির্দেশ দেয়া হবে এবং সেটাকে যবাহ করা হবে।

বর্ণনাকারী বলেন, এরপর বলা হবে, হে জান্নাতীগণ! মৃত্যু নেই, তোমরা অনন্তকাল এখানে থাকবে। হে জাহান্নামীরা! মৃত্যু নেই, তোমরা অনন্তকাল এখানেই থাকবে। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন, “তুমি তাদেরকে সাবধান করে দাও-অনুশোচনার দিন সম্পর্কে, যখন সকল বিষয়ে ফায়সালা করা হবে। অথচ তারা গাফিলতির মাঝে নিপতিত হয়ে আছে এবং ঈমান গ্রহণ করছে না।” এ সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় হাত দ্বারা দুনিয়ার প্রতি ইশারা করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯১৮, ইসলামিক সেন্টার ৬৯৭৫)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৭০৭৪:  উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ….. আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন জান্নাতী লোকেদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে এবং জাহান্নামী লোকেদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করানো হবে, তখন বলা হবে, হে জান্নাতবাসীগণ! তারপর জারীর (রহঃ) আবু মুআবিয়াহ (রহঃ) এর অবিকল হাদিস উল্লেখ করেন। কিন্তু তাতে ثُمَّ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم এর স্থলে فَذَلِكَ قَوْلُهُ عَزَّ وَجَلَّ কথাটি বর্ণনা করেছেন। আর এতে অতঃপর তিনি স্বীয় হাত দ্বারা পৃথিবীর দিকে ইশারা করেছেন-এ কথাটিও তিনি বর্ণনা করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯১৯, ইসলামিক সেন্টার ৬৯৭৬)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৭০৭৫:  যুহায়র ইবনু হারব, হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) …… আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা জান্নাতবাসীদেরকে জান্নাতে আর জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে দাখিল করানোর পর জনৈক ঘোষণাকারী তাদের মাঝে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করবে, হে জান্নাতবাসীগণ! এখন মৃত্যু নেই, হে জাহান্নামীরা! এখন আর মৃত্যু নেই। প্রত্যেকে চিরকাল নির্ধারিত স্থানে থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯২০, ইসলামিক সেন্টার ৬৯৭৭)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৭০৭৬:  হারূন ইবনু সাঈদ আল আইলী ও হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ….. ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে, তখন মৃত্যুকে আনা হবে এবং তাকে জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে দাঁড় করিয়ে যবেহ্ করে দেয়া হবে। অতঃপর একজন ঘোষক ঘোষণা করবে, হে জান্নাতবাসীগণ! এখানে আর তোমাদের মৃত্যু নেই। অনুরূপভাবে জাহান্নামীদেরকেও বলা হবে, হে জাহান্নামীরা! আর তোমাদের মৃত্যু নেই। এতে জান্নাতীদের আনন্দের সাথে আরো আনন্দ বেড়ে যাবে এবং জাহান্নামীদের শোকের সাথে আরো শোক বহুগুণ বেড়ে যাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯২১, ইসলামিক সেন্টার ৬৯৭৮)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম

অধ্যায়ঃ জান্নাত, জান্নাতের নি’আমাত ও জান্নাতবাসীদের বর্ণনা

পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি

প্রতিদিনের হাদিসঃ ফিতনা

হাদিস নং ৭১২৭: আমর আন্‌ নাকিদ (রহঃ) ….. যাইনাব বিনতু জাহশ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে বললেনঃ “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’-এর নিকট ভবিষ্যতে সংঘটিত ফিতনায় আরবরা ধ্বংস হয়ে যাবে। আজ ইয়া’জুজ-মা’জুজ এর দেয়াল এতটুকু পরিমাণ খুলে গেছে। এ সময় সুফইয়ান নিজ হাত দ্বারা* দশের গিট বানালেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের মাঝে নেক লোক থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ, যখন পাপাচার অধিক পরিমাণে হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৭১, ইসলামিক সেন্টার ৭০২৯)

* নিজ হাতের শাহাদাত ও বৃদ্ধাঙ্গুলির মাথা একত্র করে গোলাকার বানিয়ে দেখালেন।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৭১২৯: হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ….. নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী যাইনাব বিনতু জাহশ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় বের হলেন। তখন তার বারাকাতময় চেহারা লাল বর্ণ ধারণ করলো। তিনি বলছিলেন, লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’। আরব বিশ্বের আগত অকল্যাণের দরুন বড়ই পরিতাপ যা প্রায় ঘনিয়ে আসছে। আজ ইয়া’জুজ মা’জুজ এর প্রাচীর এতটুকু পরিমাণ উন্মুক্ত হয়ে গেছে। এ সময় তিনি তার বৃদ্ধাঙ্গুলি ও শাহাদাত অঙ্গুলির দ্বারা বেড় বানালেন।

আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমাদের মাঝে অনেক সৎ লোক থাকা অবস্থায়ও কি আমরা ধ্বংসপ্রাপ্ত হব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, যখন পাপাচার অধিক পরিমাণে বেড়ে যাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৭৩, ইসলামিক সেন্টার ৭০৩১)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৭১৩২: কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, আবু বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ….. উবাইদুল্লাহ ইবনু কিবতিয়্যাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হারিস ইবনু আবূ রাবী’আহ এবং ‘আবদুল্লাহ ইবনু সুফইয়ান (রহঃ) দু’জনেই উম্মুল মুমিনীন উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) এর কাছে গেলেন। আমিও তাদের সঙ্গে ছিলাম। তারা তাকে ঐ বাহিনী সম্বন্ধে প্রশ্ন করলেন, যারা ভূমিতে ধ্বসে যাবে। তখন ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) এর খিলাফতকাল ছিল। উত্তরে তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জনৈক আশ্রয় গ্রহণকারী বাইতুল্লাহ শরীফে আশ্রয় গ্রহণ করবে। তখন তার বিরুদ্ধে একটি বাহিনী প্রেরণ করা হবে। তারা যখন “বাইদা” নামক এক মাঠে অবস্থান নিবে তখন তারা ভূমিতে ধ্বসে যাবে। এ কথা শুনে আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! ঐ লোকের ব্যাপারে এ কি করে প্রযোজ্য হতে পারে যে অসন্তুষ্ট হৃদয়ে এ অভিযানে শামিল হয়েছে? উত্তরে তিনি বললেন, তাদের সঙ্গে তাকে সহ ধ্বসিয়ে দেয়া হবে। তবে কিয়ামাতের দিন তার উত্থান হবে স্বীয় নিয়াতের ভিত্তিতে। বর্ণনাকারী আবু জাফার (রহঃ) বলেন, এ “বাইদা” হলো মাদীনার নিকটবর্তী স্থান। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৭৬, ইসলামিক সেন্টার ৭০৩৩)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৭১৩৭: আবু বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আমর আন্‌ নাকিদ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ইবনু আবু উমর (রহঃ) …… উসামাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার সুউচ্চ এক অট্টালিকার উপর আরোহী হয়ে বললেন, আমি যা কিছু দেখি তোমরা কি তা দেখছ? আমি তোমাদের ঘরের ভিতরে বৃষ্টিপাতের মতো দুর্যোগ নিপতিত হবার স্থানসমূহ দেখতে পাচ্ছি।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৮১, ইসলামিক সেন্টার ৭০৩৮)

* এটা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিশেষ মু’জিযা। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অদূর ভবিষ্যতে কিয়ামাতের নিকটবর্তী সময়ে এ পৃথিবীতে কি ধরনের, কত প্রকারের ফিতনাহ আসবে তা প্রত্যক্ষ করে সে কথা বলেছেন।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৭১৩৯:  আমর আন নাকিদ, হাসান আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ….. আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অচিরেই এমন ফিতনাহর আত্মপ্রকাশ হবে, যখন উপবিষ্ট ব্যক্তি দণ্ডায়মান ব্যক্তি হতে উত্তম থাকবে। আর দণ্ডায়মান ব্যক্তি তখন চলমান ব্যক্তি হতে উত্তম থাকবে। আর চলমান ব্যক্তি তখন দ্রুতগামী ব্যক্তি হতে ভাল থাকবে। যে ব্যক্তি সে ফিত্নায় যখন জড়িয়ে পড়বে তাকে সে ফিতনাহ ধ্বংস করে দিবে। আর যে ব্যক্তি কোন আশ্রয়স্থল পাবে, তার সেটা দ্বারা আশ্রয় নেয়া বাঞ্ছনীয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৮৩, ইসলামিক সেন্টার ৭০৪০)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম

অধ্যায়ঃ বিভিন্ন ফিতনাহ ও কিয়ামাতের লক্ষনসমূহ

পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি

আসাদুজ্জামান খান আ’লীগের প্রার্থী বিএনপিতে এগিয়ে শাহাব উদ্দিন

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল নিয়ে গঠিত ঢাকা-১২ আসন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ৩৫ ও ৩৬নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ আসনে অস্থায়ী নিু মধ্যবিত্তের পাশাপাশি কর্মজীবী মানুষের বসবাস বেশি।

জাতীয় সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনাও এ আসনে অবস্থিত। নানা শ্রেণী-পেশার ভোটার থাকায় তাদের মন জয় করাও কঠিন হয়ে থাকে প্রার্থীদের।

ফলে ভোটারদের মন জয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। অংশ নিচ্ছেন নানা সামাজিক-রাজনৈতিক-ধর্মীয় অনুষ্ঠানে। বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে ইফতার পার্টিতে হাজির হয়ে জানান দিচ্ছেন নিজেদের অবস্থান।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত। সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমান এমপি আসাদুজ্জামান খান কামাল ফের দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন এটা মোটামুটি নিশ্চিত।

বিএনপিতে একাধিক প্রার্থী থাকলেও এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় অর্থবিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসভাপতি মো. শাহাব উদ্দিন।

এ ছাড়া যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী, যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার দলীয় মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে ঢাকার আসন সংখ্যা বেড়ে যায়। ওই সময় তেজগাঁও ও রমনার আংশিক এলাকা নিয়ে ঢাকা-১১ আসন গঠিত হয়।

ওই আসনে প্রথমবার মনোনয়ন পেয়ে আসাদুজ্জামান খান কামাল বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিনকে পরাজিত করেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে পুনরায় আসন বিন্যাস করা হয়।

ওই সময় তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা, শেরেবাংলা নগর ও রমনার আংশিক এলাকা নিয়ে হয় ঢাকা-১২ আসন। ওই নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান আসাদুজ্জামান খান কামাল। বিজয়ী হয়ে তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পান।

প্রথমে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং পরে একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হন তিনি। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এই প্রার্থী হ্যাটট্রিক জয়ের অপেক্ষায়।

এ আসনের নির্বাচনী ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে এমপি হন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী মেজর (অব.) মান্নানের কাছে হেরে যান।

ষষ্ঠ জাতীয় নির্বাচনে মান্নান দ্বিতীয় মেয়াদে এমপি হলেও সপ্তম সংসদ নির্বাচনে তাকে হারিয়ে দেন আওয়ামী লীগের ডা. এইচবিএম ইকবাল। ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ফের এমপি হন মেজর (অব.) মান্নান।

পরে তিনি বিএনপি ছেড়ে বিকল্পধারায় যোগ দিলে আসনটি শূন্য হয়। উপনির্বাচনে বিকল্পধারার প্রার্থী হিসেবে তিনি অংশ নিলেও বিজয়ী হন বিএনপির মোসাদ্দেক আলী ফালু। ২০০৮ ও ২০১৪ সালের ভোটে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের আসাদুজ্জামান খান কামাল।

আ’লীগ : ঢাকা-১২ আসনে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। এ আসনে তার একচ্ছত্র আধিপত্য। তার পক্ষ থেকে দলের নেতাকর্মীরা ভোট চেয়ে ইতিমধ্যে এলাকায় পোস্টারিং করছেন।

মন্ত্রী নিজেও নিয়মিত গণসংযোগ করেন। অংশ নেন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মসূচিতেও। এ আসনের বেশির ভাগ এলাকা জুড়েই তেজগাঁও। সম্প্রতি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মন্ত্রীর নামে মোড়ে মোড়ে ব্যানারও ঝুলছে।

এমনিতেই সৎ ও সজ্জন হিসেবে এলাকায় জনপ্রিয় তিনি। এলাকার উন্নয়নের দিকেও তার নজর রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকেও নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীদের নিয়মিত সময় দেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের এ নেতা।

গণসংযোগের অংশ হিসেবে প্রায় প্রতি শুক্রবারই এলাকার বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করছেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সুখে-দুঃখে এলাকাবাসীর পাশে থেকে মন জয় করেছেন ভোটারদের।

তার শক্ত ভূমিকার কারণে এককালের অন্যতম অপরাধপ্রবণ এলাকা তেজগাঁওয়ের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো। সেই সঙ্গে নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা হিসেবে ভোটের হিসাবে তার রয়েছে শক্ত অবস্থান।

আসাদুজ্জামান খান কামালের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো সংশয় নেই।

এলাকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, ঢাকা-১২ আসনে আসাদুজ্জামান খান কামালের বিকল্প নেই। কর্মী-সমর্থকসহ সবার জন্য তার দুয়ার খোলা। স্থানীয়দের সমস্যা সমাধানে সব সময়ই তিনি সচেষ্ট।

জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান কামাল যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এলাকার জনগণের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তাদের সুখ-দুঃখে সব সময় তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।

জনগণ তাদের আপনজন হিসেবে পেয়েছেন আমাকে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী নির্বাচনে তারা আমাকে ভোট দিয়ে আবারও তাদের সেবা করার সুযোগ দেবে ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগ সরকারের বিকল্প নেই। শেখ হাসিনার বিকল্প শুধু শেখ হাসিনাই।

আওয়ামী লীগের বিকল্প শুধুই আওয়ামী লীগই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা যুগান্তরকে বলেন, মন্ত্রী হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আসাদুজ্জামান খান কামালেরই এ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার কথা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসাদুজ্জামান খান মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী মাঠ গোছানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়ন পেতে তিনি স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

বিএনপি : এ আসনে বিএনপির প্রার্থী কে? তা নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও মো. শাহাব উদ্দিনই এগিয়ে আছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও দলের কর্মকাণ্ডে সব সময় সক্রিয় তিনি।

বিএনপির হাইকমান্ডের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ভালো। দলে ডোনার হিসেবেও তিনি পরিচিত। তার ব্যক্তি মালিকানাধীন শাহাব উদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেতাকর্মীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দিয়ে সহায়তা করছেন তিনি।

এ ছাড়া এ আসনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নানা সমস্যা সমাধানে আপ্রাণ চেষ্টা করেন তিনি। নেতাকর্মীদের মামলার সব খরচ তিনিই বহন করেন।

মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, দলের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছি। বিনিময়ে দলের হাইকমান্ডও আমাকে অনেক দিয়েছেন। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০০৮ সালের নবম জাতীয় নির্বাচনে আমাকে ধানের শীষ প্রতীক দিয়েছিলেন।

এবারও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে আমি কাজ করে যাওয়ার নির্দেশনা পেয়েছি। সে অনুযায়ী কাজ করছি।

তিনি বলেন, ঢাকা-১২ নির্বাচনী আসনের বিএনপি ও অঙ্গদলগুলোর নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তাদের যে কোনো সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করি। আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলে ধানের শীষের এ আসনটি চেয়ারপারসনকে উপহার দিতে পারব।

যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব এ আসনে মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ছাত্রজীবন থেকেই তেজগাঁওয়ের স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি। ছাত্রদল থেকে যুবদলের মহানগর হয়ে এখন কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ আসন থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন। সাইফুল আলম নীরব যুগান্তরকে বলেন, এ এলাকায় তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। শৈশব-কৈশোর কেটেছে বিজি প্রেস কলোনিতে, পড়েছেন পলিটেকনিক স্কুলে।

মহানগর ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদের পর যুবদলের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। দলের হাইকমান্ড চাইলে তিনি এ আসন থেকে নির্বাচন করবেন।

বিএনপির আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার বলেন, তেজগাঁওয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক মাটি ও মানুষের। দীর্ঘদিন ডিসিসির কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনসেবার অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছি। আগামী নির্বাচনে আমি ঢাকা-১২ আসনে দলের টিকিট প্রত্যাশা করি।

ইছামতী কলেজ ছাত্রলীগের নব গঠিত কমিটির সভাপতিকে নিয়ে বিতর্ক

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ইছামতি ডিগ্রি কলেজের নবগঠিত ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত ৩১ মে বৃহস্পতিবার ঢাকা জেলার সভাপতি মো. গিয়াসউদ্দিন সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এহসান আরাফ অনিক কলেজ শাখা ছাত্রলীগের পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটির অনুমোদন দেন। তবে কমিটি হতে না হতেই কমিটির সভাপতি কাওছার আহমেদ, সহ-সভাপতি মাহাবুব আলম হৃদয় ও সাংগঠনিক সম্পাদক সানাম আহমেদ হৃদয়কে নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। আর কমিটি নিয়ে এমন বিতর্কে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন নবগঠিত কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সিহান প্রমানিক। শুক্রবার জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নিকট পদত্যাগ পত্র পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

কলেজের ছাত্রলীগ নেতাদের অভিযোগ কাওছার, মাহবুব ও সানাম এই তিনজনের ইছামতি ডিগ্রি কলেজের ছাত্রত্ব নেই। আর সভাপতি, সহ-সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক কেউ ইছামতি ডিগ্রি কলেজের ছাত্র না হওয়ায় নব কমিটি নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে কলেজ শাখার ছাত্রলীগের আহবায়ক মো.মিরাজ মোল্লা জানান,ইছামতি ডিগ্রী কলেজে সভাপতি পদে ঢাকা জেলা দক্ষিন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো.গিয়াসউদ্দিন সোহাগ ভাই ও সাধারন-সম্পাদক এহসান আরাফ অনিক ভাই যাকে ঘোষনা দিয়েছেন কাওছার আহম্মেদ আমাদের কলেজের ছাত্র নয়।সে খাহ্রা আদর্শ কলেজের অনার্স কোর্সের ফাইনাল বর্ষের ছাত্র। ফলে কলেজ শাখার ছাত্রলীগের কর্মিরাতো ক্ষোভ প্রকাশ করবেই।

নতুন কমিটির সভাপতি মো. কাওছার আহমেদ নবাবগঞ্জের খাহ্রা আদর্শ মহাবিদ্যালয়ে ছাত্র। তাকে ইছামতি ডিগ্রি কলেজ কমিটির ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। ইছামতি ডিগ্রি কলেজের ছাত্র না হয়েও কিভাবে ছাত্রলীগের সভাপতি হলেন এমন ঘটনায় হতবাক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে ফেসবুকে চলছে সমালোচনার ঝড়।

এ বিষয়ে ইছামতি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ইকবাল হোসেন হাওলাদার জানান, কাওছার আহম্মেদ আমাদের কলেজের প্রাক্তন ছাত্র।

শুধু সভাপতি নয়, কমিটির সহ-সভাপতি মাহাবুব আলম হৃদয় ও সাংগঠনিক সম্পাদক সানাম আহমেদ হৃদয়ও ইছামতি ডিগ্রি কলেজের ছাত্র নয় বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা দক্ষিন শাখা ছাত্রলীগ দক্ষিনের সভাপতি মো.গিয়াসউদ্দিন সোহাগের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান,বিষয়টা তার জানা ছিলো না!নবাবগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের নেতৃবিন্দের অনুরোধে দ্রুত কমিটি করা হয়েছিলো। তবে আগামী রোববার কলেজে বসে কমিটি চুড়ান্ত করা হবে এবং যোগ্যদের হাতে কমিটি হস্তান্তর করা হবে।

ইছামতী কলেজ ছাত্রলীগ

ঢাকা জেলা ছাত্রলীগ দক্ষিনের সাধারণ সম্পাদক এসহান আরাফ অনিক বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ৩ তারিখে ইছামতি ডিগ্রি কলেজে আমি যাব। সিউর না হয়ে ব্যবস্থা নিতে পারছি না। ১০০% কনফার্ম হয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুন জানান,বিষয়টা এইমাত্র জানলাম।প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইছামতী কলেজ ছাত্রলীগের কমি্টি ঘোষনা

নবাবগঞ্জের গালিমপুর ইউনিয়নে অবস্থিত ইছামতী ডিগ্রী কলেজের ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে। ঢাকা জেলা ছাত্রলীগ দক্ষিনের সভাপতি গিয়াসউদ্দিন সোহাগ ও সাধারন সম্পাদক এছলান আরাফ অনিকের সাক্ষরিত ঢাকা জেলা ছাত্রলীগ দক্ষিনের প্যাডে ৫ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি ঘোষনা করা হয়। এই কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কাউছার আহমেদ ও সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন লায়েজ আহমেদ হৃদয়।

এছাড়া সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মাহবুব আলম হৃদয়, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মিজান প্রামানিক ও সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন সালাম আহমেদ হৃদয়।

ইছামতী কলেজ ছাত্রলীগ

প্রতিদিনের হাদিসঃ ফিতনা

হাদিস নং ৪২৪৩: আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসা ছিলাম। তিনি ফিতনা সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করলেন, এমন কি তিনি আহলাস ফিতনা সম্পর্কে বললেন। তখন একজন বললো, ‘আহলাস’ ফিতনা কি? তিনি বললেন, পলায়ন ও লুটতরাজ। অতঃপর আসবে একটি ফিতনা, যা হবে আনন্দদায়ক, এর অন্ধকারাচ্ছন্ন ধুয়া বের হবে, আমার পরিবারের জনৈক ব্যক্তির দু’ পায়ের নীচ থেকে। সে ধারণা করবে যে, সে আমার অন্তর্ভুক্ত, অথচ সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ আমার বন্ধু হচ্ছে আল্লাহভীরু ব্যক্তিগণ। অতঃপর জনগণ এমন ব্যক্তির অধীনে একতাবদ্ধ হবে। সে যেন পাজরের উপর কোমরের হাড় সদৃশ।

অতঃপর তিনি ‘দুহায়মা’ বা ঘন অন্ধকারময় ফিতনা প্রসঙ্গে বলেন, সেই ফিতনা এই উম্মাতের কোনো লোককেই একটি চপেটাঘাত না করে ছাড়বে না। অতঃপর যখন বলা হবে যে, তা শেষ হয়ে গেছে, তখনই তা আরো প্রসারিত হবে। এ সময়ে যে লোকটি সকালে মু‘মিন ছিলো সন্ধ্যায় সে কাফির হয়ে যাবে। অবশেষে সব মানুষ দু’টি শিবিরে বিভক্ত হবে। একটি হবে ঈমানের শিবির, যেখানে মুনাফিকী থাকবে না। আর একটি হবে মুনাফিকীর শিবির, যেখানে ঈমান থাকবে না। যখন তোমাদের এ অবস্থা হবে, তখন দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের অপেক্ষা করবে ঐ দিন বা তার পরের দিন থেকে।[1]

মিশকাত হা/ ৫২৯৩।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৪২৪৪: সুবাই ইবনু খালিদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তুসতার বিজয় হওয়ার পর কিছু খচ্চর ক্রয় করার জন্য আমি কুফায় আসি। আমি একটি মাসজিদে প্রবেশ করে কয়েকজন লোক দেখতে পেলাম এবং মাঝখানে জনৈক ব্যক্তি বসে আছেন। তুমি তাকে দেখেই চিনতে পারবে যে, তিনি হিজাজের অধিবাসী। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, তিনি কে? উপস্থিত জনতা আমার প্রতি অসন্তুষ্টের দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন, তুমি কি তাঁকে চেনো না? তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী হুযাইফাহ ইবনুল ইয়ামেন (রাঃ)। অতঃপর হুযাইফাহ (রাঃ) বলেন, লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কল্যাণ সম্পর্কে প্রশ্ন করতো। আর আমি তাঁকে অকল্যাণ সম্পর্কে প্রশ্ন করতাম। এ কথা শুনে জনতা তা অপছন্দ করতো। নিশ্চয়ই আমি প্রশ্ন করেছি, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি ধারণা করেন যে, মহান আল্লাহ যে কল্যাণ আমাদের দিয়েছেন, এর পরে কি কোনো অকল্যাণ আসবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

আমি বললাম, তাহলে তা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কি? তিনি বললেন, তলোয়ার। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তারপর কি হবে? তিনি বললেনঃ পৃথিবীতে যদি আল্লাহর কোনো খলীফা থাকে, আর সে যদি তোমার পিঠে আঘাত করে এবং তোমার সম্পদ ছিনিয়ে নেয়, তবুও তার আনুগত্য করো, অন্যথায় তুমি বৃক্ষের কান্ড সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে মৃত্যু বরণ করো। আমি বললাম, তারপর কি হবে? তিনি বললেন, তারপর আগুন ও পানির নহর নিয়ে দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করবে। যে ব্যক্তি তার আগুনে পতিত হবে, সে তার প্রতিদান অবশ্যই পাবে এবং তার গুনাহ মাফ করা হবে। আর যে তার নহরে পতিত হবে, তার অপরাধের শাস্তি অবধারিত হবে এবং সওয়াব বরবাদ হবে। তিনি বলেন, আমি বললাম, তারপর কি হবে? তিনি বললেনঃ অতঃপর কিয়ামাত সংঘটিত হবে।

আহমাদ।

হাদিসের মানঃ  হাসান (Hasan)

হাদিস নং ৪২৪৫:  খালিদ ইবনু খালিদ আল-ইয়াশকুরী (রহঃ) সূত্রে উপরের বর্ণিত হাদীসে হুযাইফাহ (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম তরবারির পরে কি হবে? তিনি বলেন, মানুষ আবর্জনা বা ফিতনায় মগ্ন থাকবে এবং ষড়যন্ত্রমূলক সন্ধি করবে। অতঃপর অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, কাতাদাহ একথার দ্বারা আবূ বাকরের যুগের মুরতাদদের ফিতনাকেই বুঝাতেন। আর তিনি أَقْذَاءٍ অর্থ বলতেন, قَذى অর্থ কলঙ্ক هُدْنَةٌ সাময়িক যুদ্ধবিরতি। دَخَنٍ বিদ্বেষ, অপকারেচ্ছা।

হাদিসের মানঃ  হাসান (Hasan)

হাদিস নং ৪২৪৬: নাসর ইবনু আসিম আল-লাইসী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা লাইস গোত্রের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আল-ইয়াশকুরীর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বললেন, আপনারা কোন গোত্রের লোক? আমরা বললাম, আমরা লাইস গোত্রের, আপনার নিকট হুযাইফাহ (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীস জানার জন্য এসেছি। অতএব তিনি সেই হাদীস বর্ণনা করেন। হুযাইফাহ বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এই কল্যাণময় পরিবেশের পর কি অকল্যাণ আসবে? তিনি বললেন, ফিতনা আসবে। তিনি বললেন, হে হুযাইফাহ! তুমি আল্লাহর কিতাব পড়ো এবং তাতে যা আছে তার অনুসরণ করো। একথা তিনি তিনবার বলেন। হুযাইফাহ বলেন, আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল! এই অকল্যাণের পর আবার কল্যাণ আসবে কি? তিনি বললেন, খিয়ানাত ও মুনাফিকীর সঙ্গে সন্ধি করা হবে, আর কপট একটি দল হবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! খিয়ানাতের সঙ্গে সন্ধি বলতে কি বুঝায়? তিনি বললেন, মানুষের অন্তরে যেরূপ ছিলো, সে অবস্থায় আর ফিরে যাবে না। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কল্যাণকর অবস্থার পর কি অকল্যাণ ফিরে আসবে? তিনি বললেন, অন্ধকারাচ্ছন্ন ফিতনা সৃষ্টি হবে, আর সেই সময় ভ্রান্ত ‘আকিদাহ-বিশ্বাসের উপর (জাহান্নামের) আগুনের দিকে একদল লোক আহবান করবে। হে হুযাইফাহ! তখন তুমি যদি বৃক্ষমূল আকড়ে ধরে মরে যেতে পারো তবে তা তোমার জন্য তাদের কাউকে অনুসরণ করার চাইতে উত্তম হবে।

হাদিসের মানঃ  হাসান (Hasan)

হাদিস নং ৪২৪৭: হুযাইফাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি যদি তখন কোনো খলীফাহ (শাসক) না পাও, তবে তুমি মরে যাওয়া পর্যন্ত পলায়ন করতে থাকো। অতঃপর তুমি যদি কোনো বৃক্ষমূল শক্তভাবে আকড়ে ধরে মরে যেতে পারো…। তিনি হাদীসের শেষাংশে বলেন, আমি বললাম, এরপর কি হবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন. কেউ যদি তখন ঘোড়ার বাচ্চা প্রসব করাতে যায় তবে তাপ্রসব করার পূর্বেই কিয়ামাত সংঘটিত হয়ে যাবে।

হাদিসের মানঃ  হাসান (Hasan)

হাদিস নং ৪২৪৮: আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি একজন ইমামের হাতে হাত রেখে অন্তর থেকে তার আনুগত্যের শপথ করে, তাতে যথাসাধ্য তার আনুগত্য করা কর্তব্য। যদি অপর কোনো ব্যক্তি এসে ঐ ইমামের সাথে বিবাদ করে তবে তোমরা তার ঘাড়ে আঘাত করো। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, একথা কি আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে সরাসরি শুনেছেন? তিনি বললেন, আমার দু’টি কান তা শুনেছে এবং আমার অন্তর তা স্মরণ রেখেছে। আমি বললাম, এই যে তিনি আপনার চাচাতো ভাই মুআবিয়াহ, তিনি আমাদেরকে এই এই কাজ করার আদেশ করেন। তিনি বললেন, আল্লাহর আনুগত্যে তোমরা তার আনুগত্য করো আর আল্লাহ নাফরমানীতে তার অবাধ্যচারণ করো।

মুসলিম, ইবনু মাজাহ, আহমাদ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সুনান আবূ দাউদ

অধ্যায়ঃ ফিতনা ও বিপর্যয়

পাবলিশারঃ আল্লামা আলবানী একাডেমী

প্রতিদিনের হাদিসঃ তারাবিহর সালাত

হাদিস নং ২০১৩:  আবূ সালামাহ ইবনু ‘আবদুর রাহমান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করেন যে, রমাযানে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত কিরূপ ছিল? তিনি বললেন, রমাযান মাসে ও রমাযানে ব্যতীত অন্য সময়ে (রাতে) তিনি এগার রাক‘আত হতে বৃদ্ধি করতেন না।[1] তিনি চার রাক‘আত সালাত আদায় করতেন, তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর তিনি চার রাক‘আত পড়েন। তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। এরপর তিন রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। আমি [‘আয়িশাহ (রাযি.)] বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি বিতর আদায়ের আগে ঘুমিয়ে যাবেন? তিনি বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ্! আমার দু’চোখ ঘুমায় বটে কিন্তু আমার কালব নিদ্রাভিভূত হয় না। (১১৪৭)  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৮৩)

[1] তারাবীহর রাক‘আতের সংখ্যা : সহীহ ও নির্ভরযোগ্য হাদীসের মাধ্যমে রসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে তিন ধরনের সংখ্যা বর্ণনা করা হয়েছেঃ (১) ১১ রাক‘আতঃ আয়িশাহ (রাযি.) থেকে বিভিন্ন সনদে ও ভাষা-ভঙ্গিতে বর্ণিত হয়েছে যে, নাবী (সাঃ) রাত্রিকালে ইশার পরের দু’রাক‘আত ও ফাজরের পূর্বের দু’রাক‘আত সুন্নাত বাদে সর্বমোট এগার রাক‘আত সলাত আদায় করতেন। এক বর্ণনায় এসেছে রসূলুল্লাহ (সাঃ) রমাযান ও অন্যান্য মাসেও রাত্রে ১১ রাক‘আতের বেশী নফল সলাত আদায় করতেন না। (বুখারী হাদীস নং- ১১৪৭, ১১৩৯, ৯৯৪, ২০১৩, মুসলিম- সলাতুল্লাইল ওয়াল বিত্র ৬/১৬,১৭,২৭)

(২) ১৩ রাক‘আতঃ ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাত্রিকালে রসূলুল্লাহ (সাঃ) ১৩ রাক‘আত নফল সলাত আদায় করতেন। [বুখারী হাদীস নং ১১৩৮, তিরমিযী (তুহ্ফা সহ) ৪৪০]

ইবনু আববাস (রাঃ)-এর হাদীসে ১১ রাক‘আতের চেয়ে দু’রাক‘আত বৃদ্ধি পাওয়া যায়। এ বর্ধিত ২ রাক‘আত এর ব্যাখ্যা বিভিন্নভাবে পাওয়া যায়। নাসাঈ গ্রন্থে ইবনু আববাসের বর্ণিত হাদীসে- ১৩ রাক‘আতের বর্ণনা এসেছে। ৮ রাক‘আত রাত্রের সলাত, তিন রাক‘আত বিত্র ও দু’রাক‘আত ফজরের পূর্বের সুন্নাত। (নাসাঈ ৩/২৩৭, ফাতহুল বারী ২/৫৬২)

ফাজরের দু’রাক‘আত সুন্নাত ধরে আয়িশাহ (রাযি.)-ও ১৩ রাক‘আতের কথা বর্ণনা করেছেন। দেখুন বুখারী হাদীস নং ১১৪০, মুসলিম- সলাতুল লাইলি ওয়াল বিত্র ৬/১৭-১৮, ফাতহুল বারী ২/৫৬২, বুখারীতে আয়িশাহ (রাযি.)-এর কোন কোন বর্ণনায় ১১ ও দু’রাক‘আতকে পৃথক করে দেখানো হয়েছে; হাদীস নং ৯৯৪, ১১৪০। যে সমস্ত বর্ণনায় ১৩ রাক‘আতের বিস্তারিত বর্ণনা আসেনি, সে সমস্ত বর্ণনায় ফজরের ২ ক‘আত কিংবা ইশার ২ রাক‘আত সুন্নাত উদ্দেশ্য। (ফাতহুল বারী ২/৫৬২ পৃঃ)

কোন কোন বর্ণনায় এসেছে যে, রসূলুল্লাহ (সাঃ) রাত্রের সলাত উদ্বোধন করতেন হালকা করে দু’রাক‘আত সলাত আদায়ের মাধ্যমে। হতে পারে এই ২ রাক‘আত নিয়ে ১৩ রাক‘আত। কিন্তু এই ২ রাক‘আত সলাত বিভিন্ন হাদীসের মাধ্যমে ইশার সুন্নাত বলেই প্রতীয়মান হয়। (আলবানী প্রণীত সলাতুত্ তারাবীহ ১৭ নং টীকা)

(৩) পনের রাক‘আতঃ ইশার পরের ও ফজরের পূর্বের দু’রাক‘আত সুন্নাত সলাত সহ আয়িশাহ (রাঃ) ও ইবনু আববাস উভয়েই ১৫ রাক‘আত বর্ণনা করেছেন। আয়িশাহ (রাযি.)-এর হাদীস নং ১১৬৪, ইবনু আববাস (রাঃ)-এর হাদীস নং ৯৯২।

সহীহ হাদীসসমূহের মাধ্যমে ও পূর্বাপর প্রায় সকল মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহগণের মতে রসূলুল্লাহ (সাঃ) ১১ বা ইশা অথবা ফজরের সুন্নাত মিলিয়ে ১৩ বা উভয় সলাতের সুন্নাত মিলিয়ে ১৫ রাক‘আতের বেশী রাত্রের সলাত পড়েননি। (রমাযান সম্পর্কিত রিসালাহঃ আকরামুজ্জামান বিন আব্দুস সালাম)

কেউ বলতে পারেন যে, যদি ১১ বা ১৩ এর অধিক রাক‘আত তারাবীহ পড়া সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত না হয় বরং সহীহ সাব্যস্ত হাদীসের বিপরীত হয় তবে সঊদী আরবে মাক্কাহ-মাদীনার মাসজিদদ্বয়ে কেন ২০ রাক‘আত পড়ানো হয়? হ্যাঁ- এ কথা সত্য, তবে মাক্কার মাসজিদুল হারাম, মাসজিদে ‘আয়িশাহ সহ দু’চারটি মাসজিদ এবং মাদীনার মাসজিদে নাববী, কূবা ও ক্বিবলাতাইন এবং বিভিন্ন শহরে দু’একটি করে মাসজিদ ব্যতীত সৌদি আরবের হাজার হাজার মাসজিদে লক্ষ লক্ষ ও কোটি মুসলিম সহীহ হাদীস মোতাবেক ১১ রাক‘আত পড়েন। কেউ প্রশ্ন করতে পারেন যদি ২০ রাক‘আত সহীহ হাদীসের বিপরীত হত তবে মাক্কাহ-মাদীনাহ্র মাসজিদে পালন করা হত না। জবাবে বলা হবে, ৮০১ হিজরী থেকে শুরু করে ১৩৪৩ হিজরী পর্যন্ত সর্বমোট ৫৪২ বৎসর ধরে মাক্কার মাসজিদুল হারামে এক সলাত চার জামা‘আতে আদায় করার জঘন্যতম বিদ‘আত যদি এতদিন চলতে পারে তবে তারাবীর ক্ষেত্রে সহীহ হাদীসের বিপরীত আমল চালু থাকা বিচিত্র কিছু নয়। আজ থেকে ৬৯ বৎসর পূর্বে যেমন চার জামা‘আত উঠে গেছে, সহীহ হাদীস মুতাবিক এক জামা‘আতে আদায় করা হচ্ছে তেমনি এক সময় ২০ রাক‘আত উঠে গিয়ে সহীহ হাদীস মোতাবেক ১১ রাক‘আত চালু হওয়া দূরের কোন ব্যাপার নয়।

যে সমস্ত হাদীসের কিতাবে ১১ রাক‘আতের দলীল বিদ্যমান তা উল্লেখ হলো :

(বুখারী ১ম খন্ড ১৫৪,২৬৯ পৃষ্ঠা। মুসলিম ২৫৪ পৃষ্ঠা। আবূ দাঊদ ১ম খন্ড ১৮৯ পৃষ্ঠা। নাসাঈ ১৪৮ পৃষ্ঠা। তিরমিযী ৯৯ পৃষ্ঠা। ইবনু মাজাহ ৯৭-৯৮ পৃষ্ঠা। মুয়াত্তা মালিক ১৩৮ পৃষ্ঠা। সহীহ ইবনু খুযাইমাহ ৩য় খন্ড ৩৪১ পৃষ্ঠা। যাদুল মাআদ ১ম খন্ড ১৯৫ পৃষ্ঠা। বুখারী ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩য় খন্ড হাদীস নং ১৫৯২-১৫৯৭। বুখারী আযিযুল হক ১ম খন্ড হাদীস নং ৬০৮। বুখারী আধুনিক প্রকাশনী ১ম খন্ড হাদীস নং ১০৭৬, ২য় খন্ড হাদীস নং ১৮৭০। মিশকাত নূর মোহাম্মদ আযমী ৩য় খন্ড ও মাদ্রাসা পাঠ্য ২য় খন্ড হাদীস নং ১২২৮। হাদীস শরীফ মাওঃ আব্দুর রহীম ২য় খন্ড ৩৯০ পৃষ্ঠা)

বিশ রাক‘আত তারাবীহ প্রসঙ্গ :

1- حديث ابن عباس : أن النبي كان يصلي في شهر رمضان (في غير جماعة) بعشرين ركعة (والوتر)

ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ রমাযান মাসে (জামাআত ব্যতীতই) বিশ রাক‘আত তারাবীহ পড়তেন। তারপর বিতর পড়তেন।-এটি জাল হাদীস। হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে ইবনে আবি শায়বা ‘মুসান্নাফ’ ২/৯০/২, আব্দ বিন হামিদ ‘মুনতাখাব মিনাল মুসনাদ’, তাবারানী ‘মু’জামুল কাবীর’ ৩/১৪৮/২ ও ‘আওসাত’ ইবনে আদী ‘কামেল’ ১/২৩, খতীব ‘‘মুওয়াজ্জেহ’’ গ্রন্থে ১/২১৯, বাইহাকী ২/৪৯৬ ও অন্যান্যরা। এদের প্রত্যেকেই আবী শায়বার সনদে এটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসের পূর্ণ সনদ নিম্নরূপ-

أبي شيبة إبراهيم بن عثمان عن الحكم عن مقسم عن ابن عباس ………………..

ইমাম তাবারানী বলেন, ইবনে আববাস হতে এই সনদ ব্যতীত অন্য সনদে এটি বর্ণিত হয়নি। ইমাম বাইহাকী বলেন, এটি আবূ শায়বার একক বর্ণনা আর সে হলো যঈফ রাবী। আল্লামা আলবানী (রহঃ) বলেন- ‘‘আর অনুরূপ হাইসামী (রহঃ) বলেছেন যে, এখানে আবূ শায়বা হলো যঈফ’’। হাফিয (রহঃ) বলেন, ইবনে আবি শায়বার সম্পৃক্ততার কারণে সনদটি দুর্বল। হানাফী মাযহাবের বিখ্যাত হাফিযে হাদীস আল্লামা জামালুদ্দীন যায়লায়ী হানাফী (রহঃ)-ও এর সনদকে যঈফ বলেছেন। তিনি হাদীসের মতনকে অস্বীকার করে বলেন, আর এটি আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত বিশুদ্ধ হাদীসের বিপরীত। আয়িশার হাদীসটি হলো-

ما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يزيد في رمضان ولا في غيره على احدى عشرة ركعة (رواه الشيخان)

রসূলুল্লাহ (সাঃ) রমাযানে ও অন্যান্য সময়ে এগারো রাকআতের বেশি পড়তেন না।

অতঃপর দেখুন নাস্বুর রায়া ২/১৫৩, হাফিয ইবনু হাজার (রহঃ)-ও একই কথা বলেছেন। ফকীহ আহমাদ বিন হাজার (রহঃ) ‘ফাতাওয়া কুবরা’ গ্রন্থে বলেন- নিশ্চয় ওটি চরম দুর্বল হাদীস أنه حديث شديد الضعف। ইরওয়াউল গালীল ৪৪৫। এছাড়াও সনদে আবূ শায়বা ইবরাহীম বিন ওসমান সম্পর্কে-

ইমাম নাসাঈ (রহঃ) বলেন- সে পরিত্যক্ত متروك))। ইমাম শু’বা (রহ.) বলেন, সে মিথ্যাবাদী كذاب))। ইমাম দারেমী (রহ.) বলেন, তার বর্ণিত কথা দলিল হিসেবে গণ্য নয়। মিযানুল ঈতিদাল ১ম খন্ড। আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহঃ) বলেন, আমার দৃষ্টিতে তিনটি কারণে হাদীসটি জাল।

(১) হাদীসটি ‘আয়িশাহ (রাযি.) ও জাবির (রাঃ) বর্ণিত হাদীসের বিপরীত।

(২) সনদে আবূ শায়বা দুর্বলতায় চরম যা ইমাম বাইহাকী ও অন্যান্যদের উদ্ধৃতি দ্বারা বুঝা গেছে। তদুপরি তার সম্পর্কে-ইবনে মাঈন বলেছেন, সে নির্ভরযোগ্য নয় ليس بثقة))। জাওযাজানী বলেছেন, সে বর্জিত (ساقط)। শু’বা তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। ইমাম বুখারী (রহ.) বলেছেন- তার ব্যাপারে কেউ মত ব্যক্ত করেননি।

ইমাম বুখারী যখন কারো সম্পর্কে (سكتوا عنه) বলেন, তখন সেই ব্যক্তির অবস্থান হয় নিকৃষ্টতর ও তার নিকট অধিকতর খারাপ।

(৩) আবূ শায়বার হাদীসে বলা হয়েছে যে, নাবী রমাযানে জামাআত ছাড়া নামায পড়েছেন। এটি অনুরূপ জাবির (রাঃ)-এর হাদীসের বিরোধী। ‘আয়িশাহ (রাযি.)-এর অন্য হাদীসে রয়েছে-

أَنَّ رَسُولَ اللهِ r خَرَجَ لَيْلَةً مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ فَصَلَّى فِي الْمَسْجِدِ وَصَلَّى رِجَالٌ بِصَلَاتِهِ فَأَصْبَحَ النَّاسُ فَتَحَدَّثُوا فَاجْتَمَعَ أَكْثَرُ مِنْهُمْ فَصَلَّى فَصَلَّوْا مَعَهُ فَأَصْبَحَ النَّاسُ فَتَحَدَّثُوا فَكَثُرَ أَهْلُ الْمَسْجِدِ مِنْ اللَّيْلَةِ الثَّالِثَةِ فَخَرَجَ رَسُولُ اللهِ r فَصَلَّى فَصَلَّوْا بِصَلَاتِهِ

নিশ্চয় রসূল (সাঃ) এক রাত্রিতে রাতের মধ্যভাগে বের হলেন এবং মাসজিদে সলাত আদায় করলেন। লোকেরাও তাঁর সাথে সলাত আদায় করল। অতঃপর মানুষেরা সকালে উপস্থিত হয়ে বলাবলি করতে লাগল এবং (দ্বিতীয় দিনে) তাদের চেয়েও বেশি লোক জমায়েত হলো এবং তাঁর সাথে সলাত আদায় করল। এরপর লোকেরা সকালে উপনীত হয়ে (সলাতের ব্যাপারে) বলাবলি করতে লাগল। অতঃপর তৃতীয় রাত্রিতে মাসজিদে মুসল্লীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাঃ) বের হয়ে সলাত আদায় করলেন।

হাদীসটি জাবির (রাঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ। আর তাতে রয়েছে যে-

,لكن خشيت أن تفرض عليكم فتعجزوا عنها

বরং আমি ভয় করেছিলাম তোমাদের উপর ফারজ হয়ে যাবার। ফলে তা পালনে তোমরা অপারগ হয়ে পড়বে। সহীহ বুখারী ও মুসলিম। এ সকল দিকগুলোই প্রমাণ করে যে, আবী শায়বার হাদীসটি বানোয়াট। (সিলসিলাতুল আহাদীসিয যঈফা অল-মাওযুআ ৫৬০)

২- حدثنا وكيع عن مالك بن أنس عن يحيى بن سعيد أن عمر بن الخطاب أمر رجلا يصلي بهم عشرين ركعة

ইয়াহইয়া বিন সাঈদ হতে বর্ণিত। নিশ্চয় উমার (রাঃ) এক ব্যক্তিকে তাদের সাথে বিশ রাক‘আত নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

হাদীসটি মুনকাতে‘। ইবনে আবী শায়বা- মুসান্নাফ ২য় খন্ড ১৬৩ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ৭৬৮২, এই বর্ণনাটি মুনকাতি‘।

আল্লামা মুবারাকপুরী ‘তুহফাতুল আহওয়াযী’ গ্রন্থে বলেছেন, আল্লামা নিমভী (রহঃ) ‘আসার আসসুনান’ গ্রন্থে বলেছেন, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আনসারী উমার (রাঃ)-এর সময় পান নাই। আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী বলেন, তার সিদ্ধান্ত নিম্ভী (রহঃ)-এর অনুরূপ। এই আসারটি মুনকাতে‘ যা দলিল গণ্য হবার জন্য শুদ্ধ নয়। তদুপরি এটি উমার (রাঃ) হতে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত প্রতিষ্ঠিত হাদীসের বিপরীত। হাদীসটি হলো-

حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ عَنْ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ أَنَّهُ قَالَ أَمَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ وَتَمِيمًا الدَّارِيَّ أَنْ يَقُومَا لِلنَّاسِ بِإِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً

‘উমার (রাঃ) দু’জন সাহাবী (১) উবাই বিন কা‘ব (২) তামীমদারীকে (রমাযান মাসে) ১১ রাক‘আত নামায পড়ানোর নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। (মুয়াত্তা মালিক হাদীস নং ২৫৩)

হাদীসটি ‘মুয়াত্তা’ মালিক গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। এমনিভাবে ইয়াহইয়া বিন সাঈদের হাদীস রসূলুল্লাহ (সাঃ) হতে প্রমাণিত বিশুদ্ধ হাদীসের বিরোধী। তাছাড়া ইয়াহইয়া বিন সাঈদকে কেউ কেউ মিথ্যাবাদীও বলেছেন। যেমন, ইমাম আবূ হাতিম (রহঃ) বলেন, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ কর্তৃক বর্ণিত কোন কথাই সত্য নয় বরং প্রত্যাখ্যাত। কারণ, সে হলো মিথ্যাবাদী। (জরহে আত্তাদীল ৯ম খন্ড, তাহযীবুত তাহযীব ৬ষ্ঠ খন্ড)

عن أبي الحسناء أن عليا أمر رجلا يصلي بهم في رمضان عشرين ركعة.

আবুল হাসানা বলেন, আলী (রাঃ) এক ব্যক্তিকে বিশ রাক‘আত তারাবীহ পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এ হাদীসের সনদ যঈফ। মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ২য় খন্ড, বাইহাকী ২/৪৯৬, ইমাম বাইহাকী বলেন, এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে। আল্লামা আলবানী (রহঃ) বলেন, এতে আবুল হাসানা ত্রুটি যুক্ত। তার সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেছেন, সে কে তা জানা যায়নি। হাফিয (রহঃ) বলেছেন, সে অজ্ঞাত। আবুল হাসানা কর্তৃক বর্ণিত হাদীস প্রত্যাখ্যাত। মিযানুল ই‘তিদাল ১ম খন্ড, যঈফ সুনানুল কুব্রা ২য় খন্ড, বাইহাকী।

عبد العزيز بن رافع قال : كان عن أبى بن كعب يصلي بالناس في رمضان بالمدينة عشرين ركعة ويوتر بثلاث.

আব্দুল আযীয বিন রাফে‘ বলেন, উবাই বিন কা‘ব রমাযান মাসে মদীনায় লোকদের সাথে বিশ রাক‘আত (তারাবীহ) নামায পড়েছেন এবং বিতর পড়েছেন তিন রাকাআত।

হাদীসটি মুনকাতে‘। মুসান্নাফ আবী শায়বা ২/৯০/১। এখানে আব্দুল আযীয ও উবাই এর মধ্যে ইনকিতা‘ হয়েছে। কেননা, তাদের উভয়ের মৃত্যুর ব্যবধান ১০০ বছর বা তারও অধিক সময়ের। দেখুন- (তাহযীবুত তাহযীব) আর এজন্যই আল্লামা নিম্ভী হিন্দী (রহঃ) বলেছেন যে, আব্দুল আযীয বিন রাফে, উবাই বিন কা‘বের সময় পান নাই। আল্লামা আলবানী বলেন, এখানে উবাই বিন কা‘বের আসারটি মুনকাতে‘। সাথে সাথে এটি উমার (রাঃ) বর্ণিত হাদীসের বিরোধী। (যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে) অনুরূপ এটি উবাই এর সপ্রমাণিত বর্ণনার বিরোধী। বর্ণনাটি হলো-

عن أبي بن كعب أنه صلى في رمضان بنسوة في داره ثمان ركعة

উবাই বিন কা‘ব বলেন, তিনি রমাযান মাসে তার ঘরে মহিলাদের নিয়ে আট রাক‘আত (তারাবীহ) সলাত আদায় করতেন।

অনুরূপ আবূ ইয়ালায় বর্ণিত জাবির (রাঃ)-এর হাদীস- আব্দুল্লাহ বলেন, উবাই বিন কা‘ব রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! রমাযানের রাত্রিতে আমার একটি ব্যাপার ঘটে গেছে। রসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, তা কী হে উবাই! সে বললো, আমার ঘরের নারীরা বলে যে, আমরা কুরআন পাঠ করবো না বরং আপনার সঙ্গে নামায পড়বো? তিনি বললেন, আমি তাদের নিয়ে আট রাক‘আত নামায পড়লাম এবং বিতর পড়লাম। হাইসামী বলেছেন, এর সনদ হাসান, আলবানীর মতও তাই।

أخبرنا أبو طاهر الفقيه حدثنا أبو عثمان البصري حدثنا أبو أحمد محمد بن عبد الوهاب حدثنا خالد بن مخلد حدثنا محمد بن جعفر حدثني يزيد بن خصيفة عن السائب بن يزيد قال : كنا نقوم في زمن عمر بن الخطاب بعشرين ركعة والوتر

সায়িব বিন ইয়াযীদ বলেন, আমরা উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর সময় ২০ রাক‘আত তারাবীহ ও বিতর পড়তাম। (নাস্বুর রায়া- লিআহাদীসে হিদায়া ২য় খন্ড, ৯৯ পৃষ্ঠা)

হাদীসটির সনদ যঈফ। হাদীসের সনদে- (১) আবূ উসমান বাসরী রয়েছে। সে হাদীসের ক্ষেত্রে অস্বীকৃত। (২) খালিদ বিন মুখাল্লাদ রয়েছে। সে যঈফ। তার বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত, তার কোন বর্ণনা দলীল হিসেবে গণ্য নয়। তদুপরি সে ছিল শিয়া ও মিথ্যাবাদী। (তাহ্যীব ২য় খন্ড) (৩) ইয়াযীদ বিন খুসাইফা রয়েছে। তার সকল বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত। (মিযানুল ই’তিদাল, তাহযীবুত্ তাহযীব ২য় খন্ড)

৬- رواية يزيد بن رومان قال : كان الناس يقومون في زمن عمر بن الخطاب في رمضان بثلاثة وعشرين ركعة

ইয়াযীদ বিন রুমান বলেন, উমার (রাঃ)-এর সময় লোকেরা (রমাযানে) ২৩ রাক‘আত নামায পড়তো।

এটির সনদ যঈফ। মালিক ১/১৩৮, ফিরইয়াবী ৭৬/১, অনুরূপ বাইহাকী ‘সুনান’ ২/৪৯৬ এবং ‘‘মা’রেফা’’ গ্রন্থে আর তাতে তিনি হাদীসটিকে এই বলে যঈফ বলেছেন যে, ইয়াযীদ বিন রুমান উমার (রাঃ)-এর যামানা পান নি।

ইমাম যায়লায়ী হানাফী (রহঃ) ও নাস্বুর রায়াহ গ্রন্থে একই কথা বলেছেন- দেখুন নাস্বুর রায়াহ ২/১৫৪। ইমাম নববী (রহঃ)- এটিকে যঈফ বলেছেন, মজমু’ গ্রন্থে। অতঃপর তিনি বলেছেন, হাদীসটি ইমাম বাইহাকী বর্ণনা করেছেন। কিন্তু সেটি মুরসাল। কেননা, ইয়াযিদ বিন রুমান উমার (রাঃ)-এর সময়ে ছিলেন না (فان يزيد بن رومان لم يدرك عمر)

* অনুরূপ আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী (রহঃ) এটিকে যঈফ বলেছেন- ‘উমদাতুল কারী শরহে সহীহ বুখারী (৫/৩০৭) গ্রন্থে এই বলে যে, এর সনদ মুনকাতে‘।

* আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলাবানী (রহঃ)-ও এটিকে যঈফ বলেছেন। (ইরওয়ালিল গালীল ২/১৯২)

তারাবীহর রাক‘আত সম্পর্কে মনীষীদের পর্যালোচনা

* শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী হানাফী (রহঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে ২০ রাকআতের প্রমাণ নেই। ২০ রাকআতের হাদীস দুর্বল সনদে বর্ণিত হয়েছে। যার দুর্বলতার ব্যাপারে সকল হাদীস বিশারদগণ একমত।

* হিদায়া গ্রন্থের ব্যাখ্যাকার আল্লামা ইবনেল হুমাম (রহঃ) বলেন, তাবারানী ও ইবনে আবী শায়বার হাদীস দুর্বল এবং বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত বিশুদ্ধ হাদীসের বিরোধী। ফলে এটি বর্জনীয়।

* আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী (রহঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃ) হতে কেবলমাত্র ৮ রাক‘আত তারাবীহ-এর হাদীসটি সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে। ২০ রাক‘আতের হাদীস যঈফ। এ ব্যাপারে সকলে একমত। খুবই সঠিক কথা স্বীকার করা ছাড়া আমাদের উপায় নেই যে, রসূলুল্লাহর তারাবীহের নামায ছিল ৮ রাক‘আত। (আল-‘উরফুশ শাযী ৩০৯ পৃষ্ঠা)

* মোল্লা আলী কারী হানাফী (রহঃ) বলেন, হানাফী শায়খদের কথার দ্বারা বিশ রাক‘আত তারাবীহ বুঝা যায় বটে কিন্তু দলীল প্রমাণ মতে বিতর সহ ১১ রাক‘আতই সঠিক। (মিরকাত ১ম খন্ড)

* আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ) বলেন,২০ রাক‘আতের হাদীস সহীহ হাদীসের বিরোধী হওয়ায় তা বিনা দ্বিধায় বর্জনীয়।

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন- ইমাম নাসাঈ ‘যুআফা’ গ্রন্থে, আল্লামা আইনী হানাফী উমদাতুল কারী গ্রন্থে, আল্লামা ইবনু আবেদীন ‘হাশিয়া দুররে মুখতার’ গ্রন্থে এবং অন্যান্য বহু মনীষীগণ।

বর্তমান জগতে সর্বশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহ.) তাঁর প্রণীত ‘সলাতুত তারাবীহ’ গ্রন্থে তারাবীহর রাক‘আত সংখ্যা সম্পর্কে বলেন : নাবী (সাঃ) ১১ রাক‘আত তারাবীহ সলাত আদায় করেছেন। যে হাদীসে তাঁর বিশ রাক‘আত পড়ার উল্লেখ রয়েছে তা খুবই দুর্বল। তাই এগার রাক‘আতের বেশি তারাবীহ পড়া জায়িয নয়। কেননা, বৃদ্ধি করাটাই রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কর্মকে বাতিল ও তাঁর কথা অসার করাকে আবশ্যক করে দেয়। আর নাবী (সাঃ)-এর ভাষ্যঃ ‘‘তোমরা আমাকে যেরূপ সলাত আদায় করতে দেখেছ ঠিক সেভাবেই সলাত আদায় করো’’। আর সেজন্যই ফাজরের সুন্নাত ও অন্যান্য সলাতে বৃদ্ধি করা বৈধ নয়।

যখন কারোর জন্য সুন্নাত স্পষ্ট হয় না এবং প্রবৃত্তির অনুসরণও করে না, ১১ রাক‘আতের বেশি তারাবীহ পড়ার কারণে তাদেরকে আমরা বিদ‘আতীও বলি না এবং গোমরাহও বলি না। এ ব্যাপারে চুপ থাকাটাই নিঃসন্দেহে উত্তম। কেননা, নাবী (সাঃ)-এর বাণী হলোঃ ‘‘মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর হিদায়াতই উত্তম হিদায়াত’’।

আর উমার (রাঃ) তারাবীহ সলাতে কোন নতুনত্বই সৃষ্টি করেননি। বস্তুতঃ তিনি এই সুন্নাতে জামা‘আতবদ্ধতা সৃষ্টি করেছেন এবং সুন্নাতী রাক‘আত সংখ্যার (১১) হিফাজত করেছেন। উমার (রাঃ) সম্পর্কে যে উক্তি বর্ণনা করা হয়- তিনি এ তারাবীহর সংখ্যাকে অতিরিক্ত বিশ পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন- এর সনদের কিছুই সহীহ নয়। নিশ্চয় এর সনদের একটি অপরটিকে শক্তিশালী করে না এবং সমার্থতার ভিত্তিতে শক্তিশালী বুঝায় না। ইমাম শাফিয়ী (রহঃ) ও ইমাম তিরমিযী (রহঃ) এটিকে দুর্বল বর্ণনা বলেই নির্দেশনা দিয়েছেন এবং ইমাম নববী (রহঃ), ইমাম যায়লায়ী (রহঃ) সহ অন্যান্যরাও এর কতককে যঈফ সাব্যস্ত করেছেন।

যদি উল্লেখিত অতিরিক্ত করাটা প্রমাণিত হয়ও তথাপিও আজকের যুগে তা আমল করা ওয়াজিব নয়। কেননা, অতিরিক্ত করণটি এমন একটি কারণ যা সহীহ হাদীস থাকার কারণে দূর হয়ে গেছে। এই (২০) সংখ্যার উপর বাড়াবাড়ির ফল এই যে, সলাত আদায়কারীরা তাতে তাড়াহুড়া করে এবং সলাতের একাগ্রতা নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি সলাতের বিশুদ্ধতাও নষ্ট হয়ে যায়।

এ অতিরিক্ত সংখ্যা আমাদের গ্রহণ না করার কারণ ঠিক সেরূপ যেমন ইসলামী আইনে উমারের ব্যক্তিগত অভিমতঃ এক বৈঠকে তিন তালাককে তিন তালাক হিসেবে গ্রহণ না করা। আর এতদুভয়ের মাঝে কোনই পার্থক্য নেই। বরং আমরা গ্রহণ করেছি সেই যিনি [নবী (সাঃ)] তাদের (২০ রাক‘আতপন্থীর) গৃহীত ব্যক্তি হতে উত্তম। এমনকি তাদের গৃহীত ব্যক্তি মুকাল্লিদদের নিকটেও উত্তম।

সাহাবীদের কেউ ২০ রাক‘আত তারাবীহ পড়েছেন- তার প্রমাণ নেই। বরং ইমাম তিরমিযী (রহঃ) আলী (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি দুর্বল হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

নিশ্চয় ২০ রাক‘আতের ব্যাপারে ইজমা সাব্যস্ত হয়নি। তাই সুন্নাত সম্মত (১১) সংখ্যাকে আঁকড়ে ধরাই অবশ্য কর্তব্য যা রসূলুল্লাহ (সাঃ) ও উমার (রাঃ) হতে প্রমাণিত। আর আমরাতো আদিষ্ট হয়েছি নাবী (সাঃ) ও তার খালীফা চতুষ্টয়ের সুন্নাত পালনে যারা ছিলেন সঠিক পথের দিশারী। ইমাম মালিক, ইবনুল আরাবীসহ অন্যান্য উলামা এই অতিরিক্ত (২০) সংখ্যাকে অপছন্দ করেছেন।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী

অধ্যায়ঃ তারাবীহর সালাত

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন