দোহার ও নবাবগঞ্জে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত 

ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় সনাতন ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা শুরু হয়েছে। শনিবার (১৪ জুলাই ) দিনব্যাপী এ উৎসব পালন করা হয়। দুপুরে নবাবগঞ্জের যন্ত্রাইল ইউনিয়নে গোল্লা গোবিন্দপুরে রথে মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টায় উপস্থিত ভক্ত ও পূণ্যার্থীরা রথের রশি টেনে উৎসবের সূচনা করেন। উৎসবকে ঘিরে বসে গ্রাম্য মেলা।

বাংলাদেশ ইসকনের হট্ট সংঘের উদ্যোগে ভক্তি বিনোদ নাম হট্ট সংঘ ও গোল্লা গোবিন্দপুর নাম হট্ট সংঘ এর আয়োজন করে।

ওই সংঘের সভাপতি প্রফুল্ল বর্মন জানান, গোবিন্দপুর ডা. বাড়ি থেকে ইয়ুথ ক্লাব মাঠে গিয়ে শেষ হবে। রোববার (২২ জুলাই) ফিরতি রথের মধ্যে দিয়ে এ বছরের উৎসব সম্পন্ন হবে।

এছাড়া নবাবগঞ্জের বান্দুরা, কলাকোপা, বর্ধনপাড়ায়, চন্দ্রখোলায় রথযাত্রা উৎসব পালন করে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ।

অন্যদিকে, দোহারের জয়পাড়ায় জগৎবন্ধুর আঙ্গিনা থেকে রথযাত্রার সূচনা হয়। পরে উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে লটাখোলায় এসে শেষ হয়।

প্রতিদিনের হাদিস: কোরবানী

0

হাদিস নং ৩১২০: আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ শিংবিশিষ্ট দু’টি ধুসর বর্ণের মেষ কোরবানী করেছিলেন। তিনি (যবেহ করার সময়) বিসমিল্লাহ ও তাকবীর বলেছিলেন। আমি তাঁকে নিজের পা সেটির পাঁজরের উপর রেখে চেপে ধরে স্বহস্তে তা কোরবানী করতে দেখেছি।

সহীহুল বুখারী ১৫৫১, ১৭১২, ৫৫৪৯, ৫৫৫৩, ৫৫৫৪, ৫৫৫৮, ৫৫৬১, ৫৫৬৪, ৫৫৬৫, ৭৩৯৯, মুসলিম ১৯৬২, ১৯৬৬, তিরমিযী ১৪৯৪, নাসায়ী ৪৩৮৫, ৪৩৮৬, ৪৩৮৭, ৪৩৮৮, ৪৪১৫, ৪৪১৬, ৪৪১৭, ৪৪১৮, আবূ দাউদ ২৭৯৩, ২৭৯৪, আহমাদ ১১৫৭৩, ১১৭৩৭, ১১৭৬১, ১২৩২৫, ১২৪১৯, ১২৪৮২, ১২৫৫৬, ১২৭৯০, ১২৮২২, ১২৯১০, ১৩২৬৯, ১৩৩০২, ১৩৪১৯, ১৩৪৬৪, ১৩৫৬০, ১৩৫৮৩, দারেমী ১৯৪৫, ইরওয়া ১১৩৭, ২৫৩৬, সহীহ আবু দাউদ ২৪৯১। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩১২২: আয়েশা (রাঃ) ও আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর ইচ্ছা করলে দু’টি মোটাতাজা, মাংসল, শিংযুক্ত, ধুসর বর্ণের ও ছিন্নমুষ্ক মেষ ক্রয় করতেন। অতঃপর এর একটি নিজ উম্মাতের যারা আল্লাহর একত্বের সাক্ষ্য দেয় এবং তাঁর নবুয়াতের সাক্ষ্য দেয় তাদের পক্ষ থেকে এবং অপরটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গের পক্ষ থেকে কোরবানী করতেন।

আহমাদ ২৫৩১৫, ২৫৩৫৮, ইরওয়া ১১৩৮। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আকীল সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় শিথিল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৫৪৩, ১৬/৭৮ নং পৃষ্ঠা)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩১২৩: আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানী করে না, সে যেন আমাদের ঈদের মাঠের কাছেও না আসে।

আহমাদ ৮০৭৪, তাখরিজুল মুশকিলাতুল ফিকর ১০২, আত-তালীকুর রাগীব ২/১০৩। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী যায়দ ইবনুল হুবাব সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। আলী ইবনুল মাদীনী ও উসমান বিন আবু শায়বাহ তাকে সিকাহ বলেছেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২০৯৫, ১০/৪০ নং পৃষ্ঠা) ২. আবদুল্লাহ বিন আয়্যাশ সম্পর্কে আবুল কাসিম বিন বিশকাওয়াল বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু সাঈদ বিন ইউনুস আল-মিসরী বলেন, তিনি কুফুরী নয় এমন কওলী বা আমালী কোন ফিসক এর সাথে জড়িত। আহমাদ বিন শু’আয়ব আন-নাসায়ী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৪৭২, ১৫/৪১০ নং পৃষ্ঠা)

হাদিসের মানঃ  হাসান (Hasan)

হাদিস নং ৩১২৫: মিখনাফ ইবনে সুলাইম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আরাফাতের ময়দানে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অবস্থানরত ছিলাম। তখন তিনি বলেনঃ হে জনগণ! প্রতিটি পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতি বছর একটি কোরবানী ও একটি আতীরা রয়েছে। তোমরা কি জানো আতীরা কী? তা হলো, যাকে তোমরা রাজাবিয়া বলো।

তিরমিযী ১৫১৮, নাসায়ী ৪২২৪, আবূ দাউদ ২৭৮৮, আহমাদ ১৭৪৩২, সহীহ আবু দাউদ ২৪৮৭। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী আবু রামালাহ সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন, তার মাঝে জাহালাত রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩০৬৬, ১৪/৮৫ নং পৃষ্ঠা)

হাদিসের মানঃ  হাসান (Hasan)

গ্রন্থঃ সুনানে ইবনে মাজাহ

অধ্যায়ঃ কোরবানী

পাবলিশারঃ বাংলা হাদিস

দীর্ঘ কারাভোগের পর মুক্তি পেলো মহানগর উত্তর ছাত্রদল সভাপতি নবাবগঞ্জের রাজ

প্রায় চার মাস কারাভোগের পর জামিন পেয়ে কারামুক্ত হলেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল সভাপতি এবং নবাবগঞ্জের সন্তান এস এম মিজানুর রহমান রাজ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তথ্য জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘শাহবাগ থানার সর্বশেষ মামলায় ১১ জুলাই হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় জামিনে মুক্ত হলে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেয়।’ চলতি বছরের ৮ মার্চ সালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে গ্রেফতার হন রাজ।

জঙ্গল থেকে উদ্ধার হলো নবাবগঞ্জের পুলিশ কর্মকর্তার লাশ

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের সন্তান, ঢাকার এসবি অফিসের পুলিশ কর্মকর্তা মামুন ইমরান খান (৩৮) নিখোঁজ হয়েছিলেন তিন দিন আগে। মঙ্গলবার গাজীপুরের কালীগঞ্জের জঙ্গল থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার বস্তাবন্দি পোড়া লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের রায়েরদীয়া ধলাবাড়ীর টেকের জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। বিকালে ওই কর্মকর্তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহত মামুন ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার রাজরামপুর গ্রামের আজহার আলী খানের ছেলে।

জানা যায়, রোববার বিকালে বনানী চেয়ারম্যানবাড়ী থেকে ওই পুলিশ কর্মকর্তা নিখোঁজ হন।

এলাকাবাসী জানান, জঙ্গলে কয়েজন ছেলে মেয়ে লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে আগুনে পোড়া একটি লাশ দেখেতে পায়। এ সময় তারা বেশ চিৎকার করে। তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দৌড়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুনে পোড়া ওই লাশ দেখতে পায়।

পরে গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ বেশ কয়েকজন পুলিশ নিয়ে লাশ উদ্ধার করেন।

দোহারের আলোচিত মাসুম হত্যার প্রধান আসামী মিঠু গ্রেফতার

ফতুল্লা পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামী তুষার আহম্মেদ মিঠুকে (৪৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ফতুল্লা স্টেশন রোড এলাকা হতে সন্ত্রাসী মিঠুকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত তুষার আহম্মেদ মিঠু ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর এলাকার মৃত গফুর সিদ্দিকীর ছেলে।

ঢাকা দোহার থানার ফুলতলা তিন দোকান এলাকার মৃত মুনসুর আলী ও রহিমা বেগমের ছেলে ফতুল্লা যুবলীগ নেতা মাসুম। ১৯৯৭ সাল থেকে মাসুম ফতুল্লার দাপা এলাকায় স্ত্রী রেখা আক্তারকে নিয়ে বসবাস করে। ২০০১ সালের ১৫ অক্টোবর দুপুর ২টায় ফতুল্লার কুতুবআইল এলাকা থেকে দুর্বৃত্তরা ধরে মাসুমকে দাপা এলাকায় নিয়ে পিটিয়ে হত্যা শেষে বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রহিমা বেগম অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় বিএনপি জোট সরকারের সন্ত্রাসীদের ভয়ে তাৎক্ষণিক ছেলের লাশ নদী থেকে উদ্ধার করতে পারেনি। পরে পুলিশের সহযোগিতায় লাশ উদ্ধার করা হয়।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের জানান, পুলিশের বিশেষ অভিযানে সন্ত্রাস ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার অভিযানে পুলিশের তালিকাভুক্ত ৪২ নম্বর সন্ত্রাসী তুষার আহম্মেদ মিঠুকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ ৯ টি মামলা রয়েছে।

গত বছরের ১৮ মে ফতুল্লায় আলোচিত যুবলীগ নেতা মাসুম হত্যা মামলায় আদালতে ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। চার্জশিটে এ মামলার দায় থেকে একজনকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে। চার্জশিটে অভিযুক্তরা হল- ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর এলাকার হায়দার আলীর ছেলে ইয়াসিন, লালপুর এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে ভোল্ডার সেলিম, দাপা ইদ্রাকপুর এলাকার মৃত গফুর সিদ্দিকীর ছেলে তুষার আহমেদ মিঠু  একই এলাকার আলী নূর বেপারির ছেলে শহীদ হোসেন ওরফে শহীদ ডাকাত ও পিলকুনি এলাকার সামসুল হকের ছেলে ডাকাত শাহীন। তারা প্রত্যেকেই ফতুল্লা থানার তালিকাভুক্ত দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী।

জয় বাংলা এবং আওয়ামী লীগ: সিরাজুল আলম খান মুক্তিযুদ্ধকালীন নিউক্লিয়াস-এর সদস্য

0

সিরাজুল আলম খান বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত ছাত্র নেতা, রাজনীতিবিদ। তিনি বাঙালির ‘জাতীয় রাষ্ট্র’ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষে ১৯৬২ সনে গোপন সংগঠন ‘নিউক্লিয়াস’ গঠন করেন। নিউক্লিয়াস ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ নমেও পরিচিত। এছাড়াও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ গঠন এবং ‘সিপাহী জনতার গণ-অভ্যুত্থান’ এর নেপথ্য পরিকল্পনাকারী ছিলেন সিরাজুল আলম খান।তাকে বাংলাদেশের রাজনীতির রহস্যপুরুষ বলা হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নির্ধারক ভূমিকা পালন করে!
‘জয় বাংলা’ এমন একটি স্লোগান যা বাংলাদেশের সশস্ত্র যুদ্ধের সময় জনগণকে তাঁদের স্বাধীনতার লক্ষ্যে প্রবল উদ্দীপক ও তেজোদীপ্ত করেছিলো। এর আগে বাঙালি আর কখনো এতো তীব্র, সংহত ও তাৎপর্যপূর্ণ স্লোগান দেয়নি, যার একটি পদেই প্রকাশ পেয়েছে রাজনীতি, দেশ, দেশপ্রেম, সংস্কৃতি, ভাষার সৌন্দর্য ও জাতীয় আবেগ। ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ছিলো সশস্ত্র যুদ্ধকালীন সময়ে বাঙালির প্রেরণার উৎস। যুদ্ধে সফল অপারেশন শেষে কিংবা যুদ্ধ জয়ের পর অবধারিতভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা চিৎকার করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে চারপাশের জনগণকে বিজয়ের বার্তা পৌঁছে দিতো।
কখন, কীভাবে কিংবা কী বিশেষ প্রয়োজনে এ ‘জয় বাংলা’ স্লোগানটির উৎপত্তি হয়েছিলো, তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হলো-
সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯। সেদিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের একটি সভা ছিলো। মধুর ক্যান্টিনের সে সভায় ১৭ মার্চ ‘শিক্ষা দিবস’ যৌথভাবে পালনের জন্য কর্মসূচি প্রণয়ন নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা করছিলেন।
সেদিন, সর্বদলীয় ‘ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’র আহূত সভায় আলোচনার এক পর্যায়ে তৎকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে (তৎকালীন জিন্নাহ হল, যা বর্তমানে সূর্যসেন হল) প্রথম বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা আফতাব উদ্দিন আহমেদ এবং দর্শন বিভাগে (ইকবাল হল, যা বর্তমানে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্র ও ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক চিশতি শাহ হেলালুর রহমান (’৭১ সালে শহীদ) ‘জয় বাংলা’ স্লোগানটি উচ্চারণ করেন। সভা চলাকালীন সময়ে অনেকটা আকস্মিকভাবেই সকলকে চমকে দিয়ে চিৎকার করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন ছাত্রলীগ নেতা আফতাব উদ্দিন আহমেদ, পরক্ষণেই সেই স্লোগানের প্রত্যুত্তর দেন তৎকালীন ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক চিশতি শাহ হেলালুর রহমান। সঙ্গে সঙ্গেই আরো সাত-আটজন কর্মী প্রতিধ্বনি দিলো, ‘জয় বাংলা’। সেদিনের সেই সভায় আফতাব বেশ কয়েকবার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানটি দেন এবং শেষের দিকে উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ কর্মীরাও এর প্রত্যুত্তর দেন। এরপর এভাবেই কিছুক্ষণ ওই স্লোগান চললো। বলা হয়ে থাকে সেটাই এ বাংলার বুকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের সর্বপ্রথম উচ্চারণ। আর এ দুই ছাত্রনেতাই ছিলেন ‘নিউক্লিয়াস’ বা ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’-এর সদস্য। যদিও তার বেশ আগেই ১৯৬২ সালে গঠিত গোপন সংগঠন ‘নিউক্লিয়াস’র নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্রলীগকর্মীরা যেকোনো আন্দোলনে স্বকীয়তা আর স্বাধীনতা প্রকাশ করার জন্য এবং আত্মপ্রত্যয় সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘জয় বাংলা’কে প্রতীকী স্লোগান হিসেবে উচ্চারণ করতেন। এছাড়াও ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ তখন হাতে লেখা তিন পাতার একটি পত্রিকায় কয়েকটি সংখ্যা প্রকাশ করে যার নাম ছিলো ‘জয় বাংলা’।
রবিবার, ১১/১৮ জানুয়ারি (তবে নিশ্চিতভাবে ১৮ জানুয়ারি-ই হবে), ১৯৭০। সেদিন, ঢাকা শহরের পল্টনে আওয়ামী লীগের জনসভায় সিরাজুল আলম খান সর্বপ্রথম ‘জয় বাংলা’ স্লোগানটি উচ্চারণ করেছিলেন। স্লোগানটি ছিলো বাংলা শব্দ। জয়+বাংলা= ‘জয় বাংলা’ অর্থাৎ বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার জয়। বাংলার জয়ের কথা বলা হচ্ছে, তাই এ স্লোগান সকলের ভালো লেগেছিলো। সকলেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে গভীর আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেরও এ স্লোগান বেশ মনে ধরে। এরপর ’৭০-এর ৭ জুন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের বিশাল এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ভাষণে প্রথম যুক্ত করেন এ স্লোগানটি এবং উচ্চারণ করেন ‘জয় বাংলা’।
আমাদের অস্তিত্বে ‘জয় বাংলা’ শব্দের / স্লোগানের/ ধ্বনির ব্যবহার ও কার্যকারিতা আরো ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের উৎপত্তি এবং জাতীয় স্লোগানে পরিণত হবার রয়েছে এক ইতিহাস। সংক্ষেপে তা হলো-
‘নিউক্লিয়াস’র পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্লোগান নির্ধারণের জন্য তিনটি ‘সেল’কে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো। এর মধ্যে একটি সেল ‘জিয়ে সিন্ধ’ বা ‘জিও সিন্ধ’ (জয় সিন্ধু)-এর মতো করে ‘জয় বাংলা’ শব্দটি কাজে লাগানো যায় কি না সিরাজুল আলম খান এর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এ ‘সেল’টির মূল দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আফতাব উদ্দীন আহমেদ (পরবর্তীতে ড. আফতাব আহমেদ)। সুবিধা মতো সময়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের বিষয়টি ‘নিউক্লিয়াস’র বিবেচনায় আসে। ‘নিউক্লিয়াস’র সদস্যদের প্রত্যেকেরই ‘ভেটো’ (Veto) দেয়ার সুযোগ ছিলো। এ ‘ভেটো’ (Veto) প্রয়োগের কারণে প্রায় ৮-১০ দিন সময় লাগে ‘জয় বাংলা’কে অনুমোদন দানের ক্ষেত্রে। পাশাপাশি বলে দেয়া হয়েছিলো স্লোগানটিকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করার জন্য। যেন আর দশটা স্লোগানের মতো ‘জয় বাংলা’কে যত্রতত্র ব্যবহার না করা হয়। ‘তুমি কে? আমি কে? বাঙালি-বাঙালি’; ‘তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’; ‘পি-ি না ঢাকা? ঢাকা-ঢাকা’; ‘ছয় দফা-ছয় দফা, না হলে এক-দফা’; এগার দফা-এগার দফা, নাহলে এক-দফা’; ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’; ‘স্বাধীন করো স্বাধীন করো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’। এ স্লোগানগুলো ‘নিউক্লিয়াস সেল’র মাধ্যমে স্লোগান হিসেবে গ্রহণ করা হয়, যা পরবর্তীতে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এসব কোনো সাধারণ স্লোগান নয়, যেন একেকটি ঐশী বাণী। স্বাধীনতাকামী বাঙালির ‘প্রাণের স্পন্দন’, ‘স্বাধীনতার বীজমন্ত্র’, ‘মুক্তি ও বিজয়ের মূলমন্ত্র’, ‘সশস্ত্র যুদ্ধের অনুপ্রেরণা’ এবং এগারোশো বছরের পরাধীনতার শেকল ভেঙে বাঙালির কাক্সিক্ষত ‘স্বাধীনতার স্বপ্ন’ বাস্তবায়নের এক শক্তিশালী অস্ত্র।
‘জয় বাংলা’ স্লোগানের বিষয়ে ছাত্রলীগের দুয়েকজন এবং আওয়ামী লীগের সবাই (বঙ্গবন্ধু ছাড়া) ঘোর আপত্তি করতো। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটিতেও ‘জয় বাংলা’র বিষয়ে আলাপ আলোচনা হয় এবং তাঁরা ‘জয় বাংলা’কে নিয়ে ‘ভারত ঘেঁষা রাজনীতি’ করা হচ্ছে এ যুক্তি তুলে ধরেন। শুধু কমিটিতেই নয়, আওয়ামী লীগ সভার সকলেই ‘জয় বাংলা’র বিরুদ্ধে অবস্থান নেন (তাজউদ্দিন আহমদ ছাড়া)।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের বৃহত্তর অংশই ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের সরাসরি বিরোধিতা করেন এবং তাঁরা এ স্লোগানের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর কাছে অভিযোগও করেন। //এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধুর সরাসরি উত্তর ছিলো, ‘এ বিষয় নিয়ে তোমাদের মাথা ঘামাবার দরকার নেই’। আওয়ামী লীগের বৃহত্তর অংশ এ আবদারমূলক রাজনীতির //প্রতি বঙ্গবন্ধুর কোনো রকম সমর্থন না পেয়ে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছিলো। তাঁরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে ভারতের ‘জয় হিন্দ’ ও সিন্ধুর ‘জিয়ে সিন্ধ’ বা ‘জিও সিন্ধ’ এর সঙ্গে মিশিয়ে এক ধরনের বিদ্রুপ করতো। আর সুযোগ পেলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়া ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর চড়াও হতো।
রবিবার, ৪ জানুয়ারি ১৯৭০। সেদিন, ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন প্রধান অতিথি। অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়া শুরু হলে দু’য়েকজন আপত্তি করেন এবং এ স্লোগানটি বন্ধ করার জন্য সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অনুরোধ জানান। তা সত্ত্বেও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান বারবার উচ্চারিত হতে থাকে।
সৈয়দ নজরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্য প্রদানকালে ‘জয় বাংলা’র পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান পরিষ্কার করলেন না। বিষয়টি বুঝতে পেরে ‘নিউক্লিয়াস’ নেতৃবৃন্দ চার-পাঁচজন মিলে একটি গ্রুপ হয়ে সন্ধ্যার পর থেকে শুরু করে রাত ১২/১টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের হল-হোস্টেলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতো। তখন রাতের অন্ধকারে হাতে লেখা পোস্টার লাগানো হতো ঢাকা শহরের প্রায় সর্বত্র (সে সময়কালে বৃহত্তর ঢাকার লোকসংখ্যা ছিলো দশ লাখের মতো, আজকের ঢাকা দিয়ে সেদিনের ঢাকাকে বোঝা একেবারেই অসম্ভব; বর্তমানে বৃহত্তর ঢাকার লোকসংখ্যা হলো দুই কোটি বিশ লাখ)। তখন ক্ষুদ্রাকার মিছিল করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়া হতো। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত মানুষ আন্দোলিত পুরো ঢাকা শহর। বিষয়টি বঙ্গবন্ধু পর্যন্ত পৌঁছানো হলো। তখন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে কে এম ওবায়দুর রহমানকে বঙ্গবন্ধুর কাছে পাঠানো হয়। কে এম ওবায়দুর রহমান বঙ্গবন্ধুর কাছে ‘জয় বাংলা’কে তুলে ধরেন গুরুতর আপত্তিমূলক স্লোগান হিসেবে। সিরাজুল আলম খান ওই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু তখন কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে পরবর্তীতে বিষয়টি সুরাহা করবেন বলে জানান।
আসলে বিষয়টি ছিলো অত্যন্ত জটিল। তবে স্বাধীনতার প্রশ্নে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের গুরুত্ব বিবেচনায় আসে। এ বিষয়ে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব ‘নিউক্লিয়াস’র পক্ষ থেকে সিরাজুল আলম খানকে দেয়া হয়।
রবিবার, ১১/১৮ জানুয়ারি (তবে নিশ্চিতভাবে ১৮ জানুয়ারি-ই হবে), ১৯৭০। সেদিন, পল্টন ময়দানে আওয়ামী লীগের জনসভা হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই দিনটিতে কৌশলগতভাবে ‘জয় বাংলা’ কে জনগণের কাছে প্রথমবারের মতো তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেয় ‘নিউক্লিয়াস’। গাজী গোলাম মোস্তফাকে (সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা শহর আওয়ামী লীগ) ‘নিউক্লিয়াস’র প্রতি পরোক্ষ একজন সহযোগী হিসেবে অতি নিপুণভাবে গড়ে তোলা হয়েছিলো। সভা উপলক্ষে পল্টনে আওয়ামী লীগের অন্যসব জনসভার চাইতে পাঁচ ফুট উঁচু করে বিশেষভাবে মঞ্চ নির্মাণ করার জন্য গাজী গোলাম মোস্তফাকে অনুরোধ জানানো হয়। ১৯৬৪-৬৫ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন সৈয়দ মজহারুল হক বাকি। ছাত্র রাজনীতির পর তিনি ‘বিজ্ঞাপনী’ নামে একটি বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে ছিলেন, যার অফিস ছিলো জিন্নাহ এভিনিউতে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ)। কামাল আহমেদ ছিলেন যশস্বী খ্যাতিসম্পন্ন একজন অংকন শিল্পী (বর্তমানে তিনি কানাডা প্রবাসী) তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং একই বয়স না হলেও (কামাল আহমেদ ছিলেন সিরাজুল আলম খান-এর চেয়ে ৪-৫ বছরের বড়) সিরাজুল আলম খান-এর সঙ্গে তাঁর সখ্যা ছিলো।
শিল্পী কামাল আহমেদকে আনা হলো ‘বিজ্ঞাপনী’ প্রতিষ্ঠানে। সে সময় রবিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিলো। সৈয়দ মজহারুল হক বাকি ও কামাল আহমেদকে সিরাজুল আলম খান (দৈর্ঘে প্রায় ৪ ফুট লম্বা পাশে ১০ ফুট চওড়া) কাঠের উপরে ‘জয় বাংলা’ শব্দটি লেখার জন্য বলেন। লেখার পর এ কাঠটিকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়। তখন বেলা তিনটে, পাঁচটায় জনসভা শুরু হবে। সে সময়কালে শহর আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য পনর-বিশ জনের বেশি ছিলো না। বাকিরা সবাই খ্যাতিমান এডভোকেট আব্দুস সালাম খান (সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর মামা)’-র নেতৃত্বাধীন ছয় দফার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা পিডিএম (Peoples Democratic Movement-PDM)-এ চলে যায়। সে সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী সকল জনসভায় এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হতো ‘নিউক্লিয়াস’ সদস্যদের। তখনই ‘নিউক্লিয়াস’র রাজনৈতিক উইং হিসেবে বিএলএফ (BLF-Bangladesh Liberation Force) গঠন করা হয়। এসব সময়ে ঢাকা শহরের সব স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তখনকার ঢাকা শহরের অন্তর্ভুক্ত ৪২টি ওয়ার্ডে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠনের পাশাপাশি ‘বিএলএফ’ (BLF)-এর সদস্য সংখ্যা খুব দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেতে থাকে। গোটা বাংলাদেশেও তখন একই অবস্থা। শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই তখন বিএলএফ’র সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন (৩.৫০) হাজার। আর জেলা-থানা (বর্তমানে উপজেলা) পর্যায়ে আড়াই (২.৫) হাজার। এ সংখ্যা গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান এবং সশস্ত্র সংগ্রামকালে বৃদ্ধি পেয়ে সাত (৭) হাজারে উন্নীত হয়।
জনসভাসমূহে লোক সমাগম, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব বিএলএফ (BLF)-’র সদস্যদের উপর দেয়া হয়। মূল দায়িত্বে ছিলেন কাজী আরেফ এবং মনিরুল ইসলাম (মার্শাল মনি)। অন্যান্য জনসভার মতো কবিয়াল শফি আহমেদ এখানেও তাঁর জনপ্রিয় কবিগান প্রায় একঘণ্টা ব্যাপী গেয়ে শুনালেন।
রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ১৯৭০। দিনটি ছিলো স্বাধীনতার লক্ষ্যে পৌঁছানোর এমন এক সন্ধিক্ষণ, যার দায়িত্ব বর্তিয়ে ছিলো ‘নিউক্লিয়াস’র পক্ষ থেকে সিরাজুল আলম খান-এর উপর। সাধারণত সিরাজুল আলম খান সরাসরি কোনো দায়িত্বে থাকতেন না। তিনি যেসব দায়িত্বে থাকতেন তা হলো, রণনীতি ও রণকৌশল প্রণয়ন এবং জটিল বিষয়ে ও ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত দানের ব্যাপারে।
সে দিনের গুরুত্বের কারণেই সিরাজুল আলম খান-এর উপরে এ দায়িত্ব দেয়া হয়। বেলা তিনটের দিকে কাঠের দুই অংশের এক অংশ আগেই বেশ উঁচু করে নির্মাণ করা মঞ্চের মাঝামাঝি জায়গায় শামিয়ানায় আটকানো হার্ডবোর্ডের ওপর লাগিয়ে দেয়া হয়। বাকি অংশ লাগানো হয় পাশাপাশি করে জনসভা শুরু হওয়ার দশ-পনেরো (১০-১৫) মিনিট আগে। ‘জয় বাংলা’ লেখাটি রঙতুলিতে ‘মাস্টারপিস’ (masterpiece) হিসেবে কাঠের খণ্ডে লিখেছিলেন শিল্পী কামাল আহমেদ। বেলা চারটে নাগাদ জনসভায় আগত মানুষের দ্বারা পল্টন ময়দানের আউটার স্টেডিয়াম ছিলো কানায় কানায় ভরপুর। যেসব খুঁটিতে মাইক হর্ণ (সরশব যড়ৎহ) লাগানো হয়েছিলো, প্রত্যেকটি খুঁটির গোড়ায় দু’জন করে বিএলএফ (BLF) সদস্য ছিলেন। আর তাঁদের হাতে দেয়া হয়েছিলো একটি ‘চিরকুট’। নির্দেশ ছিলো সিরাজুল আলম খান যখন মঞ্চ থেকে স্লোগান দেবেন সে মুহূর্তে এ ‘চিরকুট’ খোলা হবে। প্রায় ১০০টি মাইক হর্ণ লাগানো বাঁশের খুঁটির গোড়ায় ছাড়াও গোটা পল্টনের বিশেষ বিশেষ জায়গায়ও ‘বিএলএফ’ (BLF) সদস্যদের দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছিলো। নিচে, মঞ্চের সামনে, পিছনে এবং চারপাশে ‘বিএলএফ’ (BLF) সদস্যরা বিশেষ নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। সেদিন, আওয়ামী লীগের জনসভায় পুরো পল্টন জুড়ে ছিলো প্রচুর জনসমাগম। একমাত্র মসজিদটি ছাড়া তখনকার আউটার স্টেডিয়ামে আর কোনো স্থাপনা ছিলো না। পেছনে ডিআইটির দিকে বাস্কেটবল খেলার জন্য ছোটো ছোটো কাঠের গ্যালারির (স্টেডিয়াম) মতো কয়েকটি স্থাপনা ছিলো মাত্র। সেসময় পল্টন ময়দানে এক লক্ষের মতো লোকসমাগম হতে পারতো। তেমনই লোকে লোকারণ্য অবস্থায় ১৯৭০ সালের ১৮ জানুয়ারির জনসমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সে মুহূর্তে ঢাকা শহরের লাখো মানুষের জনস্রোত যেন মিশে গিয়েছিলো পল্টন ময়দান (আউটার স্টেডিয়াম)।
সভার বক্তৃতা মঞ্চটি ছিলো বিশেষভাবে নির্মিত বেশ কিছুটা উঁচু। মঞ্চের শামিয়ানায় আটকানো হার্ডবোর্ডের ওপর লাগানো কাঠের খণ্ডে উজ্জ্বল লাল রঙের দু’টি শব্দ ‘জয় বাংলা’ জ্বল জ্বল করছিলো। বেশ কিছুটা উঁচু করে মঞ্চ তৈরি করার কারণে দর্শকরা দূর থেকেও তা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলেন। সভার শুরুতে তাজউদ্দীন আহমদ বক্তব্য রাখলেন। সভাপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু।
মঞ্চে উপবিষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশতাক আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও গাজী গোলাম মোস্তফা ছাড়া আর কোনো আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন না। তবে আওয়ামী লীগ করতেন না কিন্তু তৎকালীন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের প্রধান কাজে সদা ব্যস্ত থাকতেন এমন একজন ব্যক্তির সেই মঞ্চে উপস্থিতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আর সেই ব্যক্তিটি ছিলেন সিরাজুল আলম খান। গাজী গোলাম মোস্তফার উপর একটি দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো, যেভাবে হোক ‘বঙ্গবন্ধু’কে স্লোগান দেয়ার জন্য সিরাজুল আলম খানকে অনুরোধ করা। তাজউদ্দীন আহমদের বক্তব্যের পর বঙ্গবন্ধু মঞ্চে বসা অবস্থায় বললেন, ‘সিরাজ স্লোগান দে’। কথাটি বঙ্গবন্ধু দু’বার বললেন। সিরাজুল আলম খানও এ মুহূর্তটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। যেনো অনেকটা যাদু দেখানোর মতো ভঙ্গিতে সিরাজুল আলম খান মাইকের সামনে এলেন। এসে অত্যন্ত আবেগ মিশ্রিত বলিষ্ঠ কণ্ঠে বললেন, আজকের এ দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে বাংলাদেশের জন্য। প্রিয় ভাই-বোনেরা আপনারা দেখছেন ওই উপরে জ্বল জ্বল করছে দু’টি শব্দ ‘জয় বাংলা’। আসুন, সাত কোটি মানুষের পক্ষ হয়ে আমরা সকলকে জানিয়ে দিতে চাই, বাঙালি আমাদের পরিচয়। আসুন, যার কণ্ঠে যতো জোর আছে সবটুকু দিয়ে আমরা একই সঙ্গে বলে উঠি, ‘জয় বাংলা’। আজ থেকে ‘জয় বাংলা’কে আমাদের ভবিষ্যৎ আন্দোলনের স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করা হবে। আসুন, আমরা সবাই কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে আওয়াজ তুলি ‘জয় বাংলা’। তিনি আবারো বললেন, ‘জয় বাংলা’। তখন লক্ষ কণ্ঠের সমস্বরে আকাশ থেকে বাজ পড়ার মতো কানফাটা আওয়াজে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের ধ্বনি পল্টনকে মুখরিত করে তোলে। প্রত্যেক খুঁটির গোড়ায় চিরকুট ইতিমধ্যে খোলা হয়ে গেছে। নির্দেশ ছিলো ‘জয় বাংলা’কে প্রতিধ্বনিত করে ‘জয় বাংলা’ বলা। পল্টনেই শুধু নয়, ফিরে যাবার মুহূর্তেও সকলের মুখে মুখে ধ্বনিত হচ্ছিলো ‘জয় বাংলা’! আত্মপ্রত্যয়ের এক শব্দ ‘জয় বাংলা’, বাঙালি জাতির পরিচয়ের এক শব্দ ‘জয় বাংলা’, যেনো একটি ব্যক্ত আবেগের শব্দ ‘জয় বাংলা’! সেই থেকে বাংলাদেশের জনগণ প্রথম জানালো তাদের আগামী দিনের স্লোগান ‘জয় বাংলা’। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ‘নিউক্লিয়াস’ (স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ)-এর সিদ্ধান্ত অনুসারে আনুষ্ঠানিকভাবে এটাই প্রথম জনসম্মুখে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের উদ্বোধন। তাজউদ্দীন আহমদের পর একে একে বক্তৃতা দিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, খন্দকার মোশতাক আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী। সভাপতি হিসেবে এবার বক্তব্য দিবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাও ঘোষণা করলেন সিরাজুল আলম খান।
আবারো সিরাজুল আলম খান মাইকের সামনে গেলেন। ঘোষণা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে বক্তব্য দেয়ার জন্য আহ্বান জানালেন। এ সিরাজুল আলম খান যেন অতি পরিচিত সিরাজুল আলম খান নয়। নতুন পরিচিতি। নতুন অভিব্যক্তি। নতুন প্রকাশভঙ্গি। নতুন প্রাণশক্তি। নতুন রাজনীতির সূর্যোদয়ের আহ্বান। সিরাজুল আলম খান বঙ্গবন্ধুকে বক্তব্য দেবার আহ্বানের সময় ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি দিলেন। আবারো দিলেন, তখন সভা থেকে লক্ষ কন্ঠের প্রতিধ্বনি অনুরণিত হয়ে আকাশে গর্জনের মতো শোনা গেল। গর্জনের শব্দের তীব্রতা মুহুর্মুহু প্রতিধ্বনি হলো। সে গর্জন শেষ বিকেলের শীতল বাতাস বয়ে নিয়ে গেল গোটা ঢাকা শহরে। লক্ষাধিক বাঙালির বাঁধভাঙ্গা আবেগ আর প্রত্যাশায় এ যেনো এক নবজাগরণের ইঙ্গিত। বঙ্গবন্ধু বক্তৃতা করছেন সে সুযোগে মঞ্চে বসা খন্দকার মোশতাক আহমেদ সিরাজুল আলম খানকে কাছে ডেকে নিয়ে বললেন, “ভাইডি কামডা সাইরে দিসো। তুমি বলেই পারলা। আর কেউ পারতো না! জানো সিরাজ, পৃথিবীর ইতিহাসে আর একজন মানুষ রাশিয়া বিপ্লবের স্লোগান হিসেবে দিয়েছিলো, ‘জমি, রুটি, স্বাধীনতা’! জানো সে লোকটা ক্যাডা? লেনিন, লেনিন।” ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা শেষ। জনসভার লক্ষাধিক মানুষের কণ্ঠে একই শব্দ এবং আওয়াজ ‘জয় বাংলা’। মনে হচ্ছিলো সারা ঢাকা যেন নতুনভাবে জেগেছে। পাখির ডাকে নয়, গগণবিদারী গর্জনের শব্দে। আর সে শব্দ হলো ‘জয় বাংলা’। ‘জয় বাংলা’ কোনো দল বা ব্যক্তির স্লোগান নয়, এ স্লোগান ছিলো বাঙালির আত্মপরিচয়ের স্লোগান, স্বাধীনতাকামী জনগণের ঐক্যের স্লোগান, অর্জিত সাহসের স্লোগান, শত্রুমুক্ত করে স্বাধীন সার্বভৌমত্ব অর্জনের স্লোগান। ‘জয় বাংলা’ শুধু একটি স্লোগান নয়, একটি ইতিহাস সংগ্রাম আর ভবিষ্যতের নাম। এ স্লোগান ’৭১-এ বাঙালি জাতিকে করেছিলো ঐক্যবদ্ধ আর সশস্ত্র যুদ্ধকে করেছিলো ত্বরান্বিত। এ স্লোগান কণ্ঠে নিয়ে বাঙালিরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো সশস্ত্র সংগ্রামে। রণাঙ্গনে বুলেটের চেয়েও শক্তিশালী ছিলো এ ‘জয় বাংলা’।
এগারশ’ বছর ধরে যে বাঙালিদের নিরস্ত্র করে রাখা হয়েছিলো স্বাধীনতা সংগ্রামের শেষ পর্যায়ে সে বাঙালিদের হাতে রাইফেল তুলে নেয়ার জন্যও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ছিলো বীজমন্ত্র। এ বীজমন্ত্রই প্রতিটি সশস্ত্র যোদ্ধা এবং জনগণকে ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’-স্লোগানের মাধ্যমে উজ্জীবিত করেছিলো।
‘জয় বাংলা’ মানে- সে সকল মানুষের জয়, যারা এ বাংলার মাটি ও মানুষকে শোষণ-নির্যাতন থেকে মুক্ত করার প্রত্যয়ে যুগে যুগে লড়াই করে হটিয়ে দিয়েছে- সেন, আর্য, সুলতান, মুঘল, পাঠান, মারাঠি, পর্তুগিজ, দিনেমার, ওলন্দাজ, ফিরিঙ্গি, বর্গি, ইংরেজ, নীলকর, কাবুলিওয়ালা, জমিদার-জোতদার, পাকিস্তানিসহ বিদেশি পরাশক্তিকে। আর বুঝিয়ে দিয়েছে ‘জয় বাংলা’ শুধু সাধারণ একটি স্লোগান নয়, ‘জয় বাংলা’ বাঙালির মটো (motto)। আন্দোলন-সংগ্রাম এমন কি সশস্ত্র যুদ্ধের কোথাও কোনোদিন বাঙালিরা বলেননি ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ কিংবা ‘বাংলাদেশ চিরজীবী হোক’। সময়ের ব্যবধানে সে ‘জয় বাংলা’ আজ ষোল-সতের (১৬/১৭) কোটি মানুষের প্রিয় স্লোগান/ধ্বনি। বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ মার্চের ভাষণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়েই বক্তব্য শেষ করেছিলেন।
আজকাল দুয়েকজন ‘আহাম্মক’ অতি পা-িত্য জাহির করার মধ্য দিয়ে বাঙালি বিরোধী কিছু কথা বলার চেষ্টা করছেন। তা হলো-বঙ্গবন্ধু নাকি ‘জয় বাংলা’ বলার পর ‘জয় পাকিস্তান’ উচ্চারণ করেছিলেন। এরা পঞ্চম বাহিনীর লোক (5th columnist) লোক। এরা পাকিস্তান থাকতে পাকিস্তানিদের দালালি করতো। মার্চ মাসের আগের দিন পর্যন্ত এরা পাকিস্তানি হয়েই কাজ করতো। সর্বশেষ না পেরে এরা ‘বাঙালি বন্ধু’ হয়ে উঠেন।
৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু কেন ‘জয় পাকিস্তান’ শব্দ উচ্চারণ করবেন? ওই সময় গোটা আন্দোলন ছিলো ‘নিউক্লিয়াস-বিএলএফ’-এর হাতে। এ ‘নিউক্লিয়াস-বিএলএফ’-এর মাধ্যমেই গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা হয়েছিলো। বঙ্গবন্ধু ছিলেন স্বাধীনতাকামী জনগণের নেতা। ‘আহাম্মক’রা তাদেরকে যতোই চতুর মনে করুন না কেনো, তারা আসলে সার্কাসের ‘ভাঁড়’।

লেখক: তাত্ত্বিক, রাজনৈতিক গবেষক ও মুক্তিযুদ্ধকালীন নিউক্লিয়াস-এর সদস্য

প্রতিদিনের হাদিস: সালাম দেয়া

0

হাদিস নং ৪৬২৮: আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা আদম (আ.)-কে তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। তাঁর উচ্চতা ছিল ষাট হাত। আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে সৃষ্টি করে বলেন, যাও এবং অবস্থানরত মালায়িকাহ্’র (ফেরেশতাদের) ঐ দলটিকে সালাম করো। আর তাঁরা তোমার সালামের উত্তরে কি বলে তা শ্রবণ করো। তাঁরা যে উত্তর দেবে তা তোমার এবং তোমার সন্তানদের সালামের উত্তর। অতঃপর আদম (আ.) গিয়ে তাঁদের উদ্দেশে বললেনঃ ‘‘আসসালা-মু ‘আলায়কুম’’। অতঃপর মালায়িকাহ্ উত্তর দিলেন, ‘‘আসসালা-মু ‘আলায়কা ওয়া রহমাতুল্ল-হ’’। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তাঁরা (ফেরেশতাগণ) ‘‘ওয়া রহমাতুল্ল-হ’’ অংশটি বৃদ্ধি করেছেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ যে ব্যক্তিই জান্নাতে প্রবেশ করবে সে আদম (আ.)-এর আকৃতিতেই জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং সে উচ্চতায় হবে ষাট হাত। তখন হতে আজ পর্যন্ত সৃষ্টিকুলের উচ্চতা ক্রমাগত হ্রাস পেয়ে আসছে। (বুখারী ও মুসলিম)

[1] সহীহ : বুখারাী ৩৩২৬, ৬২২৭; মুসলিম (২৮৪১)-২৮, আহমাদ ৮১৭১, সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ৭৫৩, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬১৬২, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক ১৯৪৩৫, শু‘আবুল ঈমান ৮৮৬৯, আল জামি‘উস্ সগীর ৫৫৪৫, সহীহুল জামি‘ ৩২৩৩।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৪৬২৯: ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জিজ্ঞেস করল, ইসলামে কোন্ ‘আমলটি উত্তম? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ অপরকে খাবার খাওয়াবে এবং পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দেবে। (বুখারী ও মুসলিম)

[1] সহীহ : বুখারী ১২, ২৮; মুসলিম (৩৯)-৬৩, আহমাদ ৬৫৮১, নাসায়ী ৫০০০, ইবনু মাজাহ ৩২৫৩, আবূ দাঊদ ৫১৯৪, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ৯৪৪, সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ৭৭৯, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫০৫, ‘নাসায়ী’র কুবরা ১১৭৩১, শু‘আবুল ঈমান ৩৩৫৯।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৪৬৩০: আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একজন মু’মিনের ওপর অপর মু’মিনের ছয়টি অধিকার রয়েছে। যথা- ১. যখন কোন মু’মিনের রোগ-ব্যাধি হয়, তখন তার সেবা-শুশ্রূষা করা, ২. কেউ মৃত্যুবরণ করলে, তার জানাযাহ্ ও দাফন-কাফনে উপস্থিত হওয়া, ৩. কেউ দা‘ওয়াত করলে তা গ্রহণ করা অথবা কারো ডাকে সাড়া দেয়া, ৪. সাক্ষাতে সালাম প্রদান করা, ৫. হাঁচি দিলে জবাব দেয়া এবং ৬. উপস্থিত-অনুপস্থিত সকল অবস্থায় মু’মিনের কল্যাণ কামনা করা।

মাসাবীহ গ্রন্থকার বলেনঃ আমি এ হাদীসটি সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে পাইনি এবং হুমায়দীর কিতাবেও পাইনি। তবে জামি‘উল উসূলের গ্রন্থকার নাসায়ী’র বর্ণনা সূত্রে এটা বর্ণনা করেছেন।

[1] সহীহ : নাসায়ী ১৯৩৮, তিরমিযী ২৭৩৭, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৮৩২, আল জামি‘উস্ সগীব ৯৩১৯, সহীহুল জামি‘ ৫১৮৮, আহমাদ ৮২৭১, শু‘আবুল ঈমান ৮৭৫৩, ‘নাসায়ী’র কুবরা ২০৬৫, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর ৭১৯, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ৯৩৪১, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২১৫৭।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৪৬৩১: উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রা (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা ঈমান গ্রহণ করবে। আর ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা পরস্পরকে ভালোবাসবে। আমি কি তোমাদেরকে এমন কথা বলে দেব, যার উপর ‘আমল করলে তোমাদের পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে। (তা হলো) তোমরা পরস্পরের মধ্যে সালামের প্রচলন করবে। (মুসলিম)

সহীহ : মুসলিম (৫৪)-৯৩, আহমাদ ৯০৮৫, আল জামি‘উস্ সগীর ১৩০৩৭, সহীহুল জামি‘ ৭০৮১, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২৬৯৪, তিরমিযী ২৬৮৮, ইবনু মাজাহ ৩৬৯২, আবূ দাঊদ ৫১৯৩, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক ১৯৪৪০, ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২৫৭৪৪, সহীহ ইবনু হিব্বান ২৩৬, শু‘আবুল ঈমান ৬৬১৩, ‘বায়হাক্বী’র কুবরা ২১৫৯৫, আল মুসতাদরাক ৭৩১০।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৪৬৩২: উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রা (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আরোহী ব্যক্তি পায়ে হেঁটে চলা ব্যক্তিকে সালাম দেবে এবং পদব্রজে গমনকারী উপবিষ্টমান ব্যক্তিকে সালাম দেবে এবং অল্পসংখ্যক লোক বেশি সংখ্যক লোককে সালাম দেবে। (বুখারী ও মুসলিম)

সহীহ : বুখারী ৬২৩২, ৬২৩৩; মুসলিম (২১৬০)-১, আহমাদ ১০৬২৪, তিরমিযী ২৭০৩, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ১১৪৫, আবূ দাঊদ ৫১৯৯, সহীহুল জামি‘ ৮০৮৯, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২৭০৪, সহীহ আদাবুল মুফরাদ ৭৬৯, মালিক ৩৫২৪, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক ১৯৪৪৩, ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২৫৮৬৯, শু‘আবুল ঈ‘মান ৮৮৬২, দারিমী ২৬৩৪, ‘বায়হাক্বী’র কুবরা ১৯১৮৯।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ মিশকাতুল মাসাবীহ

অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার

পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি

দোহারে শিশু ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগে একজন আটক

দোহারের চর লটাখোলায় শিশু ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগে এক ভ্যানচালককে আটক করেছে দোহার থানা পুলিশ। আটককৃত হলেন দোহার উপজেলার চর লটাখোলা গ্রামের মৃত ইমান আলীর ছেলে জিয়ন(৬০)।

পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার শেফালীর মার অভিযোগের ভিক্তিতে দোহার থানা পুলিশ অভিযান চালায় এ সময় এই অভিযানে সেই অপরাধী ভ্যানচালককে আটক করা হয়।

গত শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে দোহার উপজেলার চর লটাখোলা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা তিন ছেলে সন্তানের জনক ভ্যানচালক জিয়ন তার প্রতিবেশী ভারাটে আনোয়ার হোসেনের মেয়ে শেফালী(৯)কে কথার জালে ফেলে তার ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক ধর্ষনের চেষ্টা চালায়। এসময় শিশুটির মা বাইরে থেকে বাসায় ফিরে বিষয়টি দেখে ফেললে চিৎকারে এলাকাবাসীকে জড়ো করে। তখন এ ঘটনায়টি এলাকাবাসীরা পুলিশকে জানালে পুলিশ জড়িত ভ্যানচালক জিয়নকে আটক করেন।

দোহার থানার এস আই সিদ্দিক নিউজ৩৯ কে জানায় আসামিকে শিশু নিযর্তন আইনের ধারায় গ্রেফতার করা হয় যাহার মামলা নং ৫ এবং তিনি আরো জানায় যে আসামিকে কোট এ চালান করে দেওয়া হয়েছে।

দোহার ব্লাড ব্যাংকের রক্তের গ্রুপ নির্নয় কর্মসূচি পালিত

‘রক্ত হল স্রষ্টার দান বাঁচাতে পারে স্রষ্টির প্রান’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে দোহারের স্বেচ্ছা রক্তদানকারী সংগঠন দোহার ব্লাড ব্যাংকে’ এর উদ্যোগে “জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ’ প্রাঙ্গণে ‘বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি’ আয়োজন করা হয়। সোববার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এই ক্যাম্পেইন চলে। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে  উপস্থিত ছিলেন জয়পাড়া কলেজ এর অধ্যক্ষ সিদিকুর রহমান । বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মোশারফ হোসেন শান্ত, আওলাদ হোসেন রিয়াদ, কলেজ এর শিক্ষকবৃন্দ।

এই ক্যাম্পিং এ মাধ্যমে পাঁচশত এর বেশী শিক্ষার্থীদের ফ্রি ব্লাড গ্রুপ টেষ্ট করা হয়। এসময় দোহার ব্লাড ব্যাংক এর তাজুয়ার মনির  বলেন, আমরদের দোহার ব্লাড ব্যাংক এদের সবার ডাটা রেখে দিবো যখন রক্তের দরকার হবে তাদের সাথে আমরা কথা বলে তখন আমরা এখান থেকে ডোনার দিয়ে থাকবো তা ছাড়া আমরা দোহারে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন জায়গায় আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে যে কোন মুমূর্ষ রোগীর প্রয়োজনে বিনামূল্যে রক্ত দিয়ে মানুষের জীবন বাচাঁনটাই হচ্ছে দোহার  ব্লাড ব্যাংক এর মূল লক্ষ্য।

কার্তিকপুর বাজারে মোবাইল ফোনের দোকানে চুরি

ঢাকার দোহারের কুসুমহাটি ইউনিয়নের কার্তিকপুর বাজারের এক মোবাইলের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি সংগঠিত হয়েছে। ৩ জুলাই বুধবার গভীর রাতে কার্তিকপুর বাজারের মাহীদ টেলিকম এন্ড ইলেক্ট্রিক হাউস দোকানে এ চুরির ঘটনা ঘটে।

দোকানের মালিক হান্নান মৃধা জানান,প্রতিদিনকার মত বুধবার রাত আনুমানিক ৯ টার পর দোকান বন্ধ করে বাসায় যাই। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে পরেরদিন সকালে ৯টার দোকান খুলে দেখতে পাই ক্যাশবাক্স ভাঙ্গা মোবাইলের বাক্স এলোমেলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরে আছে। টেবিলের উপর বসারটুলটি রাখা, সাথে, সাথে উপর দিকে তাকলে দেখতে পাই মলিবাশের ছিলিং ফাঁক দিয়ে টিনের চাল কেটে চোর ভিতরে প্রবেশ করে দোকানে চুরিঘটিত হয়।

তার বিবরণে মাহিদ টেলিকম এন্ড ইলেক্ট্রিক হাউজ দোকান থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা, ৩০টি দামি মোবাইল ও ১৯০ টি নরমাল মোবাইল চুরি হয়েছে। নগদ টাকা সহ যার আনুমনিক মূল্য প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা।

হান্নান মৃধার মাহীদ টেলিকম এন্ড ইলেক্ট্রিক হাউসের পাশের দোকানদার সুজন মিষ্টান্ন ভান্ডার, পিছনের দোকানদার চন্দন কর্মকার, সাথের দোকান রহমান বেপারী সহ বিভিন্ন দোকানদার ও ব্যবসায়ীরা কার্তিপুর বাজারের দুর্বল কমিটির দিকে আঙ্গুল তুলে অভিযোগ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় গত এক মাস আগে চন্দন কর্মকারের স্বর্ণের দোকানে চুরি সহ প্রতিমাসে একটি করে চুরির অভিযোগ এবং পাহারাদারও রাত ১২ টার পর থাকেন না বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। দুর্বল বাজার কমিটির কারনেই এমনটি হচ্ছে বলে স্থানীয় দোকানদাররা জানান।

এ ব্যাপারে দোকানের মালিক হান্নান মৃধা গত ৪ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে নিজে বাদী হয়ে দোহার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

দোহার থানার অফিসার্স ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম শেখ এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।