মেঘলা বাজারে ডাকাতি; পুলিশের তৎপরতায় রক্ষা পেল ব্যবসায়ীরা

পুলিশের তৎপরতায় দূর্ধর্ষ ডাকাতির হাত থেকে রক্ষা পেল দোহারের মেঘুলা বাজারে ব্যবসায়ীরা। রবিবার মধ্যরাতে সংঘবদ্ধ ডাকাতের হামলা থেকে অন্তত আটটি স্বর্ণালঙ্কার ও পাইকারি চালের দোকানিরা  রক্ষা পেয়েছেন।

বাজার সমিতির সভাপতি মো. রুবেল কাজি জানান, ডাকাতরা গত রোববার রাত দেড়টার দিকে মেঘুলা বাজারের মাত্র ২০০ গজ দূরে ট্রলার থেকে পদ্মাতীরে নামে। এ সময় তারা অস্ত্রের মুখে বাজার ও নদীতীর এলাকায় বাজারের নৈশপ্রহরী ও কয়েক দোকানিকে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে।

এর পর তারা বাজারের স্বর্ণপট্টির আটটি দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। পরে ব্যবসায়ীরা পুলিশে খবর দিলে কর্তব্যরত টহল টিমের ওসি (তদন্ত) মো. ইয়াছিন মুন্সি দ্রুত বাজারে পৌঁছলে ডাকাতরা ট্রলারে পালিয়ে যায়। এ সময় তারা মাখন কর্মকারের স্বর্ণের দোকান থেকে দুই ভরি স্বর্ণ, ২০ ভরি রুপাসহ সাড়ে দশ হাজার টাকা লুটে নেয়।

ডাকাতের কবলে পড়া দোকানগুলো হলো- মোসলেম হাওলাদারের চালের আড়ত, মায়ের আশীর্বাদ স্বর্ণালঙ্কার, লক্ষ্মী সাহা স্বর্ণালঙ্কার, স্বপন রাজবংশী স্বর্ণালঙ্কার, স্বপন ধর স্বর্ণালঙ্কার, ননী রাজবংশী স্বর্ণালঙ্কার ও ডা. বাবু চক্রবর্তীর ফার্মেসি।

নারিশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন দরানী বলেন, নদী ভাঙনের কারণে বর্তমানে পদ্মা নদী বাজারের ২০০ গজের মধ্যে থাকায় আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ ডাকাত দল এর সুবিধা নিয়েছে।

এ বিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, সংবাদ পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থলে পৌঁছানোয় বড় ধরনের কোনো অঘটন হয়নি। তিনি আরও জানান, এ এলাকায় বাজার কমিটি দুর্বল ও নামমাত্র পাহারাদার নিয়োগ দিয়েছে। এ বিষয়ে বাজার কমিটি নিয়ে দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা সভা করা হবে।

দোহারে শুটিং হবে পদ্মপুরানের

রাজশাহী আর পদ্মা সমান্তরাল নাম। এর এই নামের আবহে নির্মিত হতে যাচ্ছে চলচ্চিত্র। আর চলচ্চিত্রের নামের সাথেও উত্তর-পশ্চিম দিয়ে ভারত থেকে প্রবেশ করা নদীর নামটিও যুক্ত রয়েছে। পদ্মাপূরাণ। যার একটি উল্লেখপযোগ্য শুটিং হবে ঢাকার পদ্মাতীরবর্তী দোহার উপজেলায়। ১৩ জুলাই থেকে শুরু হবে সিনেমার দোহারের চিত্রগ্রহন।

পদ্মানদীর ক্রমশ বিবর্তনের ওপর তৈরি চিত্রনাট্যে রুপালি পর্দায় ভাসবেন লাক্স তারকা বিপাশা কবির। নিজেকে প্রতিনিয়মিত নতুন পরিচয়ে উপস্থাপন করার ইচ্ছে বরাবর। আর এই ইছহেটাকে এবার উস্কে দিল ছবিটি। কারণ পদ্মাপূরাণের রয়েছে একটি শক্তিশালী গল্পের প্লট। নিজেকে বৈচিত্রময় যে চরিত্রে দেখতে ঠিক সেরকমই চরিত্রে কাজ করার সুযোগ রয়েছে ছবিটিতে- এমনটাই মনে করেন বিপাশা।

রায়হান শশীর চিত্রনাট্যে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করছেন রাশিদ পলাশ। ইতোমধ্যে রাজশাহীতে পদ্মার ধারেই ৫০শতাংশ চিত্রধারণ সম্পন্ন হয়েছে। একটা সময় আইটেম কন্যা হিসেবে নিজের একটি নাম প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছিলেন ঢাকাই ছবির এই তারকা। এরপর সেই  ট্যাগলাইন’ থেকে বেরিয়ে আসেন। বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

বিপাশার ভাষ্য, গল্পের জন্যও চলচ্চিত্রে কাজ করতে হবে। যে গল্প দর্শকেরা মাথার ভেতর নিয়ে ঘুরবে। বাণিজ্যিক ছবি দর্শকদের বিনোদিত করে। এটাও যেমন দরকার আবার কিছু হৃদয় স্পর্শ করা চিরন্তন গল্পের ছবিতেও কাজ করা দরকার।

তেমনই একটি ছবি পদ্মাপূরাণ।’ জানালেন বিপাশা বললেন,

এখানে আমাকে একজন মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে। সীমান্তবর্তী এলাকায় যে নারী চালিয়ে যান মাদকের ব্যবসা।’ চলচ্চিত্রটিতে গুরুত্বপূর্ণ দুটি চরিত্রে অভিনয় করছেন চম্পা ও শম্পা রেজা।

অভিনেত্রী সাদিয়া মাহির চরিত্রটিকে ঘিরে এগিয়েছে চলচ্চিত্রটির গল্প। এছাড়াও কায়েস চৌধুরী, খলঅভিনেতা শিমুল খানকেও দেখা যাবে দু’টি অন্যরকম চরিত্রে।

অনুমতি ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের কর্মসূচি নিষিদ্ধ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া বহিরাগতরা এখন থেকে ক্যাম্পাসে আর কোনও কর্মসূচি পালন করতে পারবে না বলে নিয়ম জারি করা হয়েছে। প্রভোস্ট কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর একেএম গোলাম রাব্বানী।

এ প্রসঙ্গে সোমবার (৯ জুলাই) প্রক্টর একেএম গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং শিক্ষা কার্যক্রম যাতে বিঘ্নিত না হয় সেজন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ক্যাম্পাসে অবস্থান ও ঘোরাফেরা এবং যেকোনও ধরনের কর্মসূচি পালন করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে বহিরাগতদের।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে এসে সমাবেশ করতে চাইলে আগে থেকেই কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। ক্যাম্পাসের পরিবেশ রক্ষার জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, শুধু বহিরাগতদের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাস সব সময় উন্মুক্ত থাকবে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও মাস্টারদা সূর্যসেন হলের প্রভোস্ট এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘গত বুধবার সন্ধ্যার পর উপাচার্যের বাসভবনে প্রভোস্ট কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অফিসিয়াল প্রক্রিয়ায় এখন তা নোটিশ আকারে সবাইকে জানানো হয়েছে।’

বালুর বস্তা ফেটে বালু নদীতে; মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দোহারের নারিশা

৫০ হাজার জিও ব্যাগ ফেলেও রক্ষা করা যাচ্ছে না নারিশা ইউনিয়নকে। পদ্মার স্রোতে ও নিম্নমানের জিও ব্যাগের কারনে বালু বেড়িয়ে যাচ্ছে বস্তা থেকে। ফলে বস্তা ফেলেও রক্ষা করা যাচ্ছে না দোহারের নারিশা ইউনিয়নকে। ভাঙন ঠেকানোর কাজ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে বালু ফেলেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু তা কোন কাজেই আসেনি। নদীতেই ভেসে গেছে প্রকল্পের টাকা এমন অভিযোগ এলাকাবাসীসহ জনপ্রতিনিধিদের। কর্তৃপক্ষ বলছে, নদীভাঙন ঠেকাতে সাময়িক ব্যবস্থা নেয়া হয়। আর স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রকল্প পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগে।

অন্য দিকে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় দোহারে পদ্মা নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে হাজার ঘরবাড়ি, ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন অবকাঠামো।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১ মাস আগে পদ্মানদীর ভাঙন থেকে দোহার উপজেলায় নারিশাবাসী গ্রামের ঘরবাড়ি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ, কবরস্থান, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামো রক্ষার জন্য প্রায় ৫০ হাজার জিও ব্যগ ফেলা হয়। কিন্তু কিছু দিন না যেতেই বস্তা ফেটে বালু নদীতে ভেসে যায়। বর্ষার আগেই আকস্মিকভাবে নদী ভাঙনে নারিশা পশ্চিম চর, মেঘুলা, নারিশা খালপাড় এলাকার হাজার হাজার ঘরবাড়ি, নারিশা ইউনিয়ন পরিষদ, মেঘুলা বাজার, মাদ্রাসা ও মসজিদ, নারিশা উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়, মালিকান্দা মেঘুলা স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ সরকারি, বেসরকারি স্থাপনা বিলীন হয়ে যাবে। নদী ভাঙন প্রতিরোধে ২০১৬-২০১৭ ও ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে নারিশা পশ্চিমচর এলাকায় অস্থায়ী ভিত্তিতে কিছু কাজ হলেও গত ২০ জুন তারিখে অস্থায়ী কাজের বিভিন্ন স্থানে হঠাৎ পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। দ্রুত নদী ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নেয়ায় জনমনে নতুন করে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কিন্তু এই বালু ফেলার প্রকল্পের খরচ হয়ে গেছে প্রায় দুই কোটি টাকা।

পদ্মানদী ভাঙন কবলিত নারিশা পশ্চিমচর এলাকায় গেলে এলাকাবাসী জানায়, এ বছর বর্ষা শুরু হওয়ার আগ থেকেই তীব্র আকারে ভাঙন শুরু হয়েছে। নারিশায় এখন প্রতিমুহূর্তে সর্বনাশা রাক্ষুসী পদ্মানদী ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে শত শত পরিবারের। এভাবে পদ্মানদী ভাঙতে থাকলে নারিশার ইউনিয়নের অবশিষ্ট গ্রাম পদ্মানদীর করাল গ্রাসে বিলীন হবে। গত কয়েক বছর ধরে সর্বনাশা পদ্মা ভাঙনের শিকার হলেও নারিশা এলাকার রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে স্থায়ী কোন প্রকল্প এখন পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি। অথচ নারিশাবাসী প্রতিনিয়ত তাদের ভিটেমাটি রক্ষার দাবি জানিয়ে আসছে, স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে পদ্মা ভাঙন থেকে দোহারের নারিশা পশ্চিমচরবাসীকে দ্রুত রক্ষা করার জন্য। জানা যায়, একনেকের বৈঠকে নয়াবাড়ি, নারিশা এলাকার ভাঙন রক্ষায় ১১৭ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনের কাজ শেষ না হলেও হঠাৎ তীব্র ভাঙনে নারিশার জনগণ বাঁধ নির্মাণ কাজে রাজনৈতিক বিবেচনায় অর্থ ব্যয় না করে দোহারের বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামের রক্ষায় সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং তত্ত্বাবধানে কাজ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে।

মেঘুলা বাজার ওষুধ ব্যবসায়ী ডা. খালেক একই সুরে অভিযোগ করে বলেন, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে সরকারের টাকা এভাবে লুটপাট হবেই।

নদীর ভাঙনের কবল থেকে এই বাঁধ কোন কাজে আসেনি বলে অভিযোগ করেন নারিশা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন দরানী।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগী প্রকৗশলী মো. মঈনুদ্দিন বলেন, ভাঙন ঠেকাতে জরুরিভাবে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে বাঁধ দেয়া হয়েছে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা হবে।

প্রতিদিনের হাদিস: বিচারকের নীতিমালা

হাদিস নং ৫৩৭৮. কুতায়বা ইবন সাঈদ ও মুহাম্মদ ইবন আদম ইবন সুলায়মান (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, সুবিচারক লোক আল্লাহ তা’আলার নিকট তাঁর ডান হাতের দিকে নূরের মিম্বরের উপর উপবিষ্ট থাকবে। যারা তাদের বিচারকার্যে, পরিবারে ও দায়িত্বভুক্ত বিষয়ে ইনসাফ রক্ষা করে। রাবী মুহাম্মদ (রহঃ) তাঁর হাদীসে বলেনঃ আল্লাহর উভয় হাতই ডান হাত।

তাহক্বীকঃ সহীহ। আত-তা’লীকুর রাগীব ৩/১৩৫।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৫৩৭৯. সুওয়ায়দ ইবন নসর (রহঃ) … আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা কিয়ামতের দিন সাত ব্যক্তিকে তাঁর ছায়ায় স্থান দান করবেন, যে দিন আল্লাহর ছায়া ব্যতীত আর কোন ছায়া থাকবে না। সুবিচারক শাসক; ঐ যুবক যে আল্লাহ্ তা’আলার ইবাদতে বর্ধিত হয়েছে; ঐ ব্যক্তি যে নিভৃতে আল্লাহকে স্মরণ করে অশ্রু বিসর্জন করে; ঐ ব্যক্তি, যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে থাকে; ঐ দুই ব্যক্তি, যারা আল্লাহর জন্য একে অন্যকে ভালবাসে; ঐ ব্যক্তি, যাকে কোন সম্ভ্রান্ত রূপসী নারী নিজের দিকে ডাকে আর সে বলে, আমি আল্লাহ্ তা’আলাকে ভয় করি; আর ঐ ব্যক্তি, যে সাদকা করে এমন গোপনে যে, তার বাম হাত জানে না, তার ডান হাত কী করেছে।

তাহক্বীকঃ সহীহ। সহীহ আত-তিরমিযী ২৫১৩, মুখতাসার মুসলিম ৫৩৭, ইরওয়া ৮৮৭।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৫৩৮১. আমর ইবন মানসূর (রহঃ) … আবু মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার নিকট আশআর গোত্রের কিছু লোক এসে বললো, আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে চল, আমাদের প্রয়োজন রয়েছে। আমি তাদের সাথে গেলাম। তারা বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার কোন কাজে আমাদের সাহায্য গ্রহণ করুন। আবু মূসা (রাঃ) বলেন, তাদের এই আবদার শুনে আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি জানি না তারা আপনার নিকট এই উদ্দেশ্যে আগমন করেছে। তা হলে আমি তাদের সাথে আসতাম না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আপনি সত্যই বলেছেন, আর তিনি আমার ওযর গ্রহণ করলেন এবং তাদেরকে বললেনঃ যে ব্যক্তি কোন পদের প্রার্থী হয়, আমরা তাকে কাজে নিযুক্ত করি না।

তাহক্বীকঃ সহীহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৫৩৮২. মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ’লা (রহঃ) … উসায়দ ইবন হুযায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক আনসার ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললোঃ আপনি আমাকে কোন কাজে নিযুক্ত করেন না, অথচ আপনি অমুক ব্যক্তিকে কাজে নিযুক্ত করেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার পরে তোমরা দেখতে পাবে যে, তোমাদের উপর অন্যদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, তখন তোমরা ধৈর্যধারণ করবে, যতক্ষণ না তোমরা আমার সাথে হাওযে কাওসারে মিলিত হবে।

তাহক্বীকঃ সহীহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সূনান নাসাঈ

অধ্যায়ঃ বিচারকের নীতিমালা

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কবিরুল বাশারের উদ্যোগে দোহারে আড়াই কোটি টাকার মশার কয়েল বিতরন

ঢাকার সর্বদক্ষিনের পদ্মার কুল ঘেষে অবস্থিত দোহারের মালিকান্দার কৃতি সন্তান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দোহারের সন্তান ড. কবিরুল বাশারের উদ্যোগে দোহারে বিতরন করা হয়েছে আড়াই কোটি টাকার মশার কয়েল। এসিআই কোম্পানির সহযোগিতায় এই কয়েল বিতরন করা হয়। ব্যাপক পরিমান এ কয়েল বিতরণের কাজ আজ শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু করল জনকল্যামূলক সামাজিক সংগঠন ‘স্যামস-৯২’। বিতরণ কার্যক্রম চলবে বেশ কয়েকদিন। আর কয়েল নিতে প্রতিটি স্পটে হাজার হাজার মানুষের স্বঃতস্ফূর্ত উপস্থিতি বলে দেয় এর প্রয়োজনীয়তা।

ভাল একটি কাজের শুরুতে পাশে ছিলেন, দোহার উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সালমা খাতুন, দোহার থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম, উদ্যোগী মানুষ ড. কবিরুল বাশার ও স্যামস-৯২ এর সভাপতি ডা. মাহবুব সহ সংগঠনটির সকল পর্যায়ের সদস্যরা। আমার নিজেরও ভাল লাগছে ভাল কাজে সবার সঙ্গে থাকতে পেরে।

ডিএন কলেজ ছাত্রলীগ কমিটি বিলুপ্ত

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দোহার নবাবগঞ্জ কলেজ এর  ছাত্রলীগের সকল কার্যক্রম স্থগিত করেছে ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রলীগ। রবিবার  বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্যাডে ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এহসান আরাফ অনিক সাক্ষরিত এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়।

দোহার-নবাবগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আনোয়ার হোসেনকে টেনেহিঁচড়ে বের করে পিটিয়ে আহত করা কে কেন্দ্র করে এই কমিটি বাতিল করলো ঢাকা জেলা ছাত্রলীগ দক্ষিন। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজে এ ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে অধ্যক্ষের কক্ষে ভাঙচুর করে তাণ্ডব চালায় ছাত্রলীগ।  শিক্ষকের উপর এই অমানবিক অত্যাচারের কারনে কমিটি ভেঙ্গে দেওয়া হয়।

কলেজ থেকে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার কলেজের গভর্নিং বডির সভা ছিল। সভায় উপস্থিত সবার সম্মতিক্রমে আগামী কলেজ ছাত্রসংসদ নির্বাচন সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া  এই সভা শেষে সবাই চলে যাওয়ার পর অধ্যক্ষ মো. আনোয়ার হোসেন তাঁর অফিসকক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় অতর্কিতভাবে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল আলম নাদিমসহ ১৫-২০ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী কক্ষে ঢুকে অধ্যক্ষকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং কক্ষে ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাস থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে রাস্তায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তিনি দৌড়ে কলেজ এর পাশে নবাবগঞ্জ থানায় আশ্রয় নেন। এরপর পুলিশ প্রহরায় তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

মুকসুদপুরে পানিতে ডুবে তরুনের মৃত্যু

পুকুরের জলে ডুবে নিভে গেল পরিবারের একমাত্র আসার প্রদিপ রাসেল। দোহারের মুকসুদপুর ইউনিয়নের ঢালারপাড় সংলগ্ন ইটের ভাটার পুকুরে গোসল করতে গিয়ে প্রাণ হারালো ১৯ বছর বয়সী কিশোর রাসেল।

মৃত রাসেলের বাবা মোঃ জাহাঙ্গীর একজন রিকশা চালক। ছয় সদস্যের যৌথ পরিবারে জন্ম হওয়ার কারনে বাবাকে সাহায্যা করতে অল্প বয়সেই কাজে যোগদান করতে হয় তাকে।তার কাজ করার কারনে এই হত দরিদ্র পরিবারে কিছুটা সুখ ফিরে এলেও তার এই অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও গ্রামে নেমে আসে এক শোকের ছায়া।

স্থানীয় এলাকাবাসী ফরহাদ হোসেন আমাদের কে জানায়, রাসেল খুব ভাল ও কর্মঠ ছেলে ছিল, তার এই মৃত্যু আমরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছিনা, ছেলেটি প্রায় প্রতিদিনি এই পুকুরে গোসল করতে আসতো। কিন্তু কে জানতো আজ সে গোসল করতে গিয়ে না ফেরার দেশে চলে যাবে।এই গোসলই হবে, তার শেষ গোসল।

বখাটেদের আড্ডা ও যৌন হয়রানি রোধে দোহারে অভিযান

দোহার উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে বখাটেদের আড্ডা ও যৌন হয়রানি রোধে গত সোমবার থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলছে। গত সোমবার থেকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুনের নেতৃত্বে এ অভিযান চলছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলার মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে ক্লাস শুরুর আগে, টিফিনের সময় ও ছুটির সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে দল বেঁধে বখাটেদের আড্ডা ও ছাত্রীদের যৌন হয়রানির বিষয়ে অভিভাবকদের কাছ থেকে একাধিক অভিযোগ পাওয়ার ফলে উপজেলা প্রশাসন এ অভিযানের উদ্যোগ নেয়। অভিযানের অংশ হিসেবে গত সোমবার থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জয়পাড়া পাইলট হাই স্কুল, মালিকান্দা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ইসলামাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়, আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয়, নারিশা উচ্চ বিদ্যালয়, নারিশা গার্লস ও কবি নজরুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বখাটেদের উৎপাত ও ছাত্রীদের যৌন হয়রানি রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয়।

থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে অপ্রয়োজনে কাউকে ঘোরাঘুরি অবস্থায় দেখতে পেলে এবং হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেলে ঘোরাঘুরি করতে দেখলে তাকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হবে।

দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষকে পেটালেন ছাত্রলীগ

ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আনোয়ার হোসেনকে টেনেহিঁচড়ে বের করে পিটিয়ে আহত করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজে এ ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে অধ্যক্ষের কক্ষে ভাঙচুর করে তাণ্ডব চালায় ছাত্রলীগ। গতকাল কলেজ ছাত্রসংসদ নির্বাচন সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ছাত্রলীগ।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, গতকাল কলেজের গভর্নিং বডির সভা ছিল। সভায় উপস্থিত সবার সম্মতিক্রমে আগামী কলেজ ছাত্রসংসদ নির্বাচন সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ও ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম, আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য আব্দুল বাতেন মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন ঝিলুসহ কমিটির অন্য সদস্যরা।

সভা শেষে সবাই চলে যাওয়ার পর অধ্যক্ষ মো. আনোয়ার হোসেন তাঁর অফিসকক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় অতর্কিতভাবে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল আলম নাদিমসহ ২০-২৫ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী কক্ষে ঢুকে অধ্যক্ষকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং কক্ষে ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাস থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে রাস্তায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তিনি দৌড়ে স্থানীয় থানায় আশ্রয় নেন। এরপর পুলিশ প্রহরায় তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে আহত মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ‘কলেজে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের বিষয়ে আমার কোনো ভূমিকাই নেই। সামনে জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে সভায় আলোচনার পর নির্বাচন আপাতত না করার সিদ্ধান্ত নেয় গভর্নিং বডি।’

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘ওরা আমার ছাত্র, আজ ওরাই আমাকে মারল, এর চেয়ে আমার জীবনে কষ্টের আর কী হতে পারে।’

তবে কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল আলম নাদিম মারধরের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘তিনি আমার শিক্ষক, তাঁকে মারার প্রশ্নই আসে না। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। নির্বাচন কলেজের শিক্ষার্থীদের দাবি। এখানে আমার কোনো হাত নেই।’

নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘ওই শিক্ষক আহত অবস্থায় আমার থানায় এলে তাঁকে আমি পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠাই। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

দোহার-নবাবগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি সালমা ইসলাম এমপি বলেন, ‘আমি মিটিং শেষ করে চলে আসার পর এ রকম একটা ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে জেনে দারুণ কষ্ট পেয়েছি। ঘটনায় অভিযুক্তদের ডাকা হয়েছে। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’