প্রতিদিনের হাদিস: আন্‌-নওয়াবীর চল্লিশ হাদীস(পর্ব-১০)

0

হাদিস নং ১৯: আবূ আব্বাস আব্দুল্লাহ্ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বর্ণনা করেছেন- একদিন আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পিছনে ছিলাম, তিনি আমাকে বললেন: “হে যুবক! আমি তোমাকে কয়েকটি কথা শেখাবো- আল্লাহকে সংরক্ষণ করবে[1] তো তিনি তোমাকে সংরক্ষণ করবেন, আল্লাহকে স্মরণ করলে তাঁকে তোমার সামনেই পাবে। যখন কিছু চাইবে তো আল্লাহর কাছেই চাইবে; যখন সাহায্য চাইবে তো আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইবে। জেনে রাখ, সমস্ত মানুষ যদি তোমার কোন উপকার করতে চায় তবে আল্লাহ্ তোমার জন্য যা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, তা ব্যতীত আর কোন উপকার করতে পারবে না। আর যদি সমস্ত মানুষ তোমার কোন অনিষ্ট করতে চায় তবে আল্লাহ্ তোমার জন্য যা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন তা ব্যতীত আর কোন অনিষ্ট করতে পারবে না। কলম তুলে নেয়া হয়েছে এবং পৃষ্ঠা শুকিয়ে গেছে।”

[তিরমিযী: ২৫১৬, হাদীসটি সহীহ্ (হাসান) বলেছেন।]

তিরমিযী ছাড়া অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে:

“আল্লাহকে স্মরণ করবে তো তাঁকে তোমার সম্মুখে পাবে, তুমি স্বচ্ছল অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করবে তো তিনি তোমাকে কঠিন অবস্থায় স্মরণ করবেন। মনে রেখো- যা তুমি পেলে না, তা তোমার পাবার ছিল না, আর যা তুমি পেলে তা তুমি না পেয়ে থাকতে না। আরো জেনে রাখো- ধৈর্য্য ধারণের ফলে (আল্লাহর) সাহায্য লাভ করা যায়। কষ্টের পর স্বাচ্ছন্দ আসে। কঠিন অবস্থার পর স্বচ্ছলতা আসে।”

আল্লাহ্‌কে সংরক্ষণ করার অর্থ, আল্লাহ্‌র তাওহীদ ও অধিকার সংরক্ষণ। আল্লাহ্‌র আদেশ নিষেধ ও শরী‘আতের বিধি-বিধানের সীমারেখা সংরক্ষণ।

হাদিসের মানঃ  হাসান (Hasan)

হাদিস নং ২০: আবূ মাসউদ উকবাহ্ ইবনু আমর আল-আনসারী আল-বদরী রাদিয়াল্লাহু হতে বর্ণিত হয়েছে- তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “অতীতের নবীগণের কাছ থেকে মানুষ একথা জানতে পেরেছে- যদি তোমার লজ্জা না থাকে তাহলে যা ইচ্ছা তাই কর।”

[বুখারী: ৩৪৮৩]

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ আন্‌-নওয়াবীর চল্লিশ হাদীস

পাবলিশারঃ ইসলাম হাউস

মোহনীয় লাসভেগাসঃ মায়াজালের নগরী ;পাপের নগরী

0

কেমন হয় যদি এমন কোন শহরে আপনাকে পাঠানো হয় যেখানে আপনি যা ইচ্ছা করতে পারবেন, দেখতে পারবেন, যা খুশি খেতে পারবেন, যেমন খুশি তেমন সাজে ঘুরে বেড়াতে পারবেন? ভাবছেন এমনও কোন শহর পৃথিবীতে আছে নাকি? হ্যাঁ যা খুশি তা করতে পারার এই শহরের নাম হল লাস ভেগাস।

“what happens in Vegas,  stays in Vegas” এই স্লোগানটি আধুনিক পর্যটন ব্যবসায় অন্যতম বিখ্যাত একটি ট্যাগ লাইন, এমন কি হলিউডের অনেক বিখ্যাত সিনেমা কিংবা সিরিজেও এই লাইনটি ব্যবহার করা হয়েছে অনেক বার। শুধুমাত্র এই একটি লাইনের কারণে লক্ষ লক্ষ ভ্রমনপিপাসু মানুষ ছুটে এসেছে ‘সিন সিটি’ বা পাপের শহর নামে পরিচিত এই লাস ভেগাসে। পর্যটক ও লাস ভেগাসের মধ্যে এই টানের প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয় এই শহরের বাতাসে যে স্বাধীনতার স্বাদ পাওয়া যায় সেটা কে। এই শহরে এসে মানুষ সেই রূপ ধারণ করতে পারে যা সে নিজের বাড়ি বা শহরে চাইলেও করতে পারেনা, এই শহর মানুষ কে সেই সব কিছু থেকে মুক্তি দেয় যা থেকে মানুষ নিজ শহরে চাইলেও মুক্ত হতে পারেনা।

নেভাডা অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে ঘনবসতি পূর্ণ আর যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ তম ঘনবসতির শহর এই লাস ভেগাস যা সংক্ষেপে ভেগাস নামেও সমানভাবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক ভাবে খ্যাত এই রিসোর্ট নগরী বিখ্যাত মূলত এর জুয়ার আসর, কেনাকাটার সুবিধা, বহুমুখী বিনোদন ও নৈশ প্রমোদের কারণে। এক কথায় বলতে গেলে পুরো লাস ভেগাস উপত্যকাটি নেভাডা রাজ্যের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সংস্কৃতির কেন্দ্র।

নিজেরাই নিজেদের কে বিশ্বের বিনোদনের রাজধানী হিসেবে দাবিকারী এই ভেগাস।  মস্ত বড় বড় ক্যাসিনো ওয়ালা হোটেলের এই শহরে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বড় বাণিজ্যিক সম্মেলন গুলো অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সংখ্যায় বলতে গেলে এই সম্মেলনের সংখ্যা প্রতিবছর ২২,০০০ এর কম হবেনা।

 লাস ভেগাস।
লাস ভেগাস ম্যাপ
Source: Las Vegas How-To

জুয়ার আসরের জন্য বিখ্যাত এই শহরের লোকজন এতো বেশি জুয়া আসক্ত যে তারা নাকি যেকোনো বিষয় নিয়ে বাজি ধরে বসে থাকে। ১৯৮০ সালে লাস ভেগাস হাসপাতালের বেশ কিছু কর্মী কে চাকরী থেকে বাদ দিতে হয়েছিল কারণ তারা নাকি হাসপাতালের রুগীদের উপর বাজি ধরতো যে কোন রুগী কখন মারা যাবে। এমন কি একজন নার্স নাকি বাজিতে জিতার জন্য একজন রুগীকে হত্যা পর্যন্ত করেছিল।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ২০ টি হোটেলের অর্ধেকেরও বেশি হোটেল শুধু এই এক শহরে অবস্থিত। আর তাছাড়া এখানে মোট যে পরিমাণ হোটেল আছে সেগুলোর সব কয়টিতে মাত্র এক রাত করে থাকতে হলেও একজন মানুষের ২৮৮ বছর লেগে যাবে। হয়তো আন্দাজ করতে পারছেন কত বেশি হোটেল থাকতে পারে একটি শহরে। এমনি এমনিই তো আর ভেগাস অন্যতম প্রধান পর্যটন নগরী তে পরিণত হয়নি।

 লাস ভেগাস
লাস ভেগাস
Source: Lonely Planet

প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদনের নানাবিধ সুযোগ ও উপায়ের ব্যবস্থা এই শহরকে দিয়েছে ‘সিন সিটি’ বা পাপের নগরীর উপনাম। কিন্তু অনেকে এটা জানেই না যে এই পাপের নগরীতেও কিন্তু পতিতাবৃত্তি অবৈধ। কি অবাক হলেন? অবাক হলেও এটাই সত্যি।

জুয়া শব্দটি ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষের কাছে এখনও একটি নেতিবাচক শব্দই। জনসম্মুখে বা খুব ঢাক ঢোল পিটিয়ে জুয়ার আসরে বসা এখনও এখানকার ভদ্র সমাজের চোখে অনেক বেশি দৃষ্টি কটু একটা ব্যাপার। কিন্তু পশ্চিমা দেশ গুলোতে এই রকম কোন ব্যাপার নেই। আমাদের একটা বদ্ধমূল ধারণা যে জুয়া খেললে সর্বস্ব হারাতে হয় এবং এটা অনেকাংশে সত্যিও, হোক সেটা উপমহাদেশে কিংবা পশ্চিমা দেশে। কিন্তু জুয়া খেলে নিজের প্রায় ডুবু ডুবু ভাগ্যতরীকে বাঁচাতে সক্ষম হয়েছিলেন একজন বিখ্যাত ব্যক্তি। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কুরিয়ার কোম্পানি FedEx  এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান ফ্রেদরিখ স্মিথ লাস ভেগাসে এসে জুয়া খেলে বাঁচিয়েছিলেন তাঁর কোম্পানিকে। তিনি কোম্পানির সর্বশেষ ৫,০০০ ডলার নিয়ে সিন সিটি তে আসেন, সেখানে জুয়া খেলে ২৭,০০০ ডলার জিতে যান যার মধ্য থেকে ২৪,০০০ ডলার তিনি কোম্পানির জ্বালানি বিল দেন।

জুয়ার জন্য বিখ্যাত হলেও সবাই যে প্রাথমিক ভাবে জুয়া খেলার উদ্দেশ্যেই এই শহরে আসে বিষয়টা আবার তেমনও না। একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে প্রাথমিক ভাবে মাত্র ১৫% লোক জুয়া খেলার উদ্দেশ্যে আসে ভেগাস, কিন্তু আসার পর প্রায় ৭১% লোক জুয়া খেলে থাকে এই শহরে। হয়তো ফ্রেদরিখ স্মিথের মত ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় এতো মানুষ জুয়া খেলে এখানে আসার পর অথবা যারা জীবনে কখনও জুয়া খেলেনি তারা বড় বড় ক্যাসিনোর রোমাঞ্চকর হাতছানি কে গ্রাহ্য করতে পারেনা এখানে এসে।

অনেক সিনেমা বা সিরিজে দেখায় যে নির্দিষ্ট কোন চরিত্র কে ক্যাসিনো তে ঢুকতে দেয়া হয়না বা ঢুকলেও বের করে দেয়া হয়। অনেকের কাছেই হয়তো মনে হয়েছে যে এটা শুধু সিনেমার গল্পের খাতিরে করা হয়। কিন্তু না, আসলেই ভেগাসের একটি ব্ল্যাক বুক রয়েছে, সেখানে যাদের নাম আছে তারা কখনও ভেগাসের কোন ক্যাসিনো তে প্রবেশ করতে পারবেনা।

ভেগাসের ক্যাসিনো
ভেগাসের ক্যাসিনো
Source: Las Vegas Review-Journal
ভেগাসে ঘুরে বেড়ালে দেখা মিলে অনেক কৃত্রিম ঝর্না ও লেকের। দারুণ মনোমুগ্ধকর দৃশ্য সেগুলো। কিন্তু মজার ব্যাপার হল এইসব ঝর্না বা লেকে যে পানি ব্যবহার করা হয় তাকে বলা হয় গ্রে ওয়াটার বা ধূসর পানি যা তৈরি করা হয় সিঙ্ক, বাথটাব কিংবা গোসলখানার ব্যবহৃত পানিকে রাসায়নিক ভাবে প্রক্রিয়াজাত করে।

নৈশ প্রমোদের জন্য বিখ্যাত এই নগরী কিন্তু আবার পৃথিবীর সবচেয়ে আলোকিত নগরীও। মহাকাশ থেকে দেখলে পৃথিবীর সবচেয়ে আলো চকচকে যে স্থানটি দেখতে পাওয়া যায় সেটি হল এই ভেগাস। মানুষ জন অনেক বেশি না হলেও সারারাত ধরে মিলিয়ন মিলিয়ন বাতি জ্বলে থাকার কারণেই মূলত এই শহর এতো ঝলমলে থাকে। সত্যি কথা বলতে ভেগাসের আসল সৌন্দর্য ফুটে উঠে এই রাতের বেলাতেই। অনেকেই হয়তো ভাবছেন যে এতো বাতি জ্বালানোর ফলে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ শক্তির অপচয় হচ্ছে অপরদিকে তেমন পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। কিন্তু ভাল খবর হল লাস ভেগাসে সকল সরকারি দালান, রাস্তার বাতি, পার্কে পুনঃনবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করা হয়। ‘বুল্ডার সোলার ১’ নামে ভেগাসে ১০০ মেগা ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন একটি সোলার প্ল্যান্ট আছে যেটার যাত্রা শুরু হয় ২০০৮ সালে এবং এতে খরচ হয় প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলার। এই প্ল্যান্টের কারণে ভেগাসে শক্তি অপচয় ৩০% কমে গেছে।

ভেগাসের রাইড
ভেগাসের রাইড
Source: YouTube
পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রাজ্যেও জনসম্মুখে মাতলামি করা অপরাধ বলে বিবেচিত হলেও নেভাডায় প্রকাশ্যে মাতলামি করা কোন অপরাধ নয়। নেভাডা রাজ্যের আইনে মদ্যপান করা, জনসম্মুখে মাতাল হয়ে ঘুরে বেড়ানো কোন প্রকার দণ্ডনীয় অপরাধের আওতায় পড়েনা। ভাবছেন যে তাহলে কিভাবে এতো মাতালের মধ্যে শহরের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকে? মদ্যপান করে যেন কেউ অন্যের অসুবিধার কারণ না হতে পারে সে জন্য আবার কিছু নিয়ম আছে নেভাডা রাজ্যের। যেমন কেউ যদি মদ্যপান করে গাড়ি চালায় বা জনসম্মুখে মূত্রত্যাগ করে, অন্যের শান্তি বিনষ্ট করে কিংবা কোথাও অনুপ্রবেশ করে তাহলে সেগুলো শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে।

খেলনা গাড়ি নিয়ে কম বেশি আমরা সবাই খেলা করি শৈশবে, বড় হয়ে খেলনা গাড়ির জায়গায় আসল গাড়ি চালানোর ভাগ্য অনেকের হলেও বুল্ডুজারের মত বিশালাকার কোন গাড়ি পেশাগত কারণ ছাড়া হয়তো কারো চালানো হয়না। আপনার স্বপ্ন যদি হয় এইরকম বুল্ডুজার কিংবা খননকারী গাড়ি চালানো তাহলে আপনার জন্য ভেগাস একটি উত্তম জায়গা কেননা এখানে একটি হেভি মেটাল প্লে গ্রাউন্ড আছে যেখানে আপনি টাকার বিনিময়ে ৯০ মিনিট থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত বুল্ডুজার চালাতে পারবেন। অবশ্য তার আগে আপনাকে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা ও ছোট্ট ট্রেনিং এর মুখোমুখি হতে হবে। সেইসব পরীক্ষায় আপনি উত্তীর্ণ হলেই কেবল আপনাকে চালাতে দেয়া হবে।

লাস ভেগাস
লাস ভেগাস
Source: Las Vegas Monorail

বর্তমানে ভেগাসে ঘুরতে আসার পিছনে অনেক কারণ থাকলেও ৫০ এর দশকের দিকে মানুষের ভেগাসে ঘুরতে আসার সবচেয়ে প্রধান কারণ ছিল আণবিক বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ দেখা। ভেগাস থেকে ৬৫ মাইল উত্তরপশ্চিমে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি বিভাগ বিভিন্ন আণবিক যন্ত্রের পরীক্ষা চালাতো। প্রথম পরীক্ষামূলক চালনা শুরু হয় ১৯৫১ সালে যখন পর্যটকরা ভেগাস থেকেই বিস্ফোরণের দরুন তৈরি হওয়া মাশরুম আকৃতির ধুঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পেত। এই দৃশ্য তখন পর্যটক দের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পায়, এমন কি কিছু কিছু ক্যাসিনো তো বিশেষ পার্টির ব্যবস্থা করতো বিস্ফোরণ দেখার জন্য। ঐ সময় লাস ভেগাস আণবিক শহর নামে পরিচিতি পায়।

আলো এবং আঁধার হচ্ছে একই মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। অনেক কিছুই তো জানলাম ভেগাস এর আলো ঝকঝকে দিক সম্পর্কে। চলুন এবার জানি মুদ্রার আঁধার পিঠের কিছু কথাও।

মাত্র এক শতাব্দী আগেও লাস ভেগাস ছিল মরুভূমি ঘেরা ছোট্ট একটি রেলপথ সার্ভিস সেন্টার, কিন্তু বিংশ শতাব্দীর শেষে এসে এই লাস ভেগাসই পরিণত হল সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল আর উন্নত এক মহানগরীতে যা সম্ভব হয়েছে বিচক্ষণ উদ্যোক্তা, অতি উন্নত যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থা ও সহনশীল রাজ্য আইন ব্যবস্থার কারণে।

লাস ভেগাস হচ্ছে এমন এক নগরী যেখানে চোখ ধাঁধানো আলো আর মনোমুগ্ধকর স্থাপনা মানুষ কে বিমোহিত করে, যেখানে ঐশ্বর্য যত টা সহজে চোখে পড়ে ঠিক তত টা সতর্কতার সাথেই আড়াল করে রাখা হয়েছে নগরীর দারিদ্র্যকে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কাঁচের তৈরি পিরামিড টি এই শহরের মাঝখানে অবস্থিত, এমন বিশালাকার হোটেল এখানে আছে যেখানে ৫০০০ কক্ষ রয়েছে কিন্তু সেই কক্ষ গুলোতে স্থান হয় শুধুই পয়সাওয়ালা পর্যটক দের। লাস ভেগাসে স্থায়ী বাসিন্দাদের একটি বিশাল অংশ বাস করে ভেগাসের আন্ডার গ্রাউন্ডে। ভেগাস নগরীর নিচে প্রায় ২০০ মাইল লম্বা এই টানেলে রয়েছে অসংখ্য বসতি যেখানে বিছানা আছে, ওয়ারড্রব আছে এমনকি বইয়ের তাকও আছে। এই টানেলে মূলত দরিদ্র, গৃহহীন, অল্প মজুরির দিনমজুর, ভিক্ষুক এবং নেশাগ্রস্তরা বাস করে। এমন কি যুদ্ধ করেছেন কিন্তু যুদ্ধ পরবর্তী ট্রমা কাটিয়ে উঠতে না পারা অনেক মানসিক ভাবে অসুস্থ লোকও বাস করে এখানে। অন্যের ভুল করে ফেলে যাওয়া খাবারের অংশ কিংবা ডাস্টবিনে ফেলা খাবার খেয়ে বেঁচে আছে তারা। এভাবেই নীরবে বছরের পর বছর ধরে গড়ে উঠেছে আন্ডার গ্রাউন্ডের এর সমাজ।

ভেগাসের চকচকে অংশটুকুর বাইরে আর পাঁচটা পশ্চিমা শহরের মত একটি সাধারণ শহর রয়েছে, যেখানে হোটেলের পরিবর্তে স্থায়ী বসতি আছে, গির্জা, শপিং সেন্টার আছে, যেখানে মানুষ ক্যাসিনো কিংবা হোটেলের লোভে পড়ে নয় বরং স্থায়ী ভাবে বসবাস করার জন্য আসে। তবে এই অবিশ্বাস্য অর্থনৈতিক উন্নতির সাথে সাথে কিছু সমস্যাও বাসা বেধেছে এই শহরে। পুরো দেশের মধ্যে ব্যক্তিগত ও সম্পত্তিগত অপরাধ, আত্মহত্যার হার ব্যাপক বৃদ্ধি, মদ্যপান এবং বেআইনি মাদকদ্রব্য ব্যবহারের দিক থেকে লাস ভেগাস সবচেয়ে বেশি এগিয়ে। এছাড়া ক্রমবর্ধমান বায়ু ও পানি দূষণ, ট্রাফিক জ্যাম তো এই শহরের অন্যতম সমস্যা।

আসলে লাস ভেগাস এর ইতিহাস এবং বৈচিত্র্য এত বেশি বিস্তৃত যে সেটা একটি লেখায় শেষ করা সম্ভব না। হয়তো অন্য কোন দিন লিখব লাস ভেগাসের বিচিত্র ইতিহাস, সংস্কৃতি আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে। কেননা লাস ভেগাস একটি মুগ্ধতার নাম যার প্রতি ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে বৈচিত্র্য।

আপনার স্ত্রী আপনার কাছে যা প্রত্যাশা করে

আপনার স্ত্রী আপনার কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে যে বস্তু বা বিষয়ের প্রত্যাশা করেন তা হল, তার প্রতি আপনার নিরবিচ্ছিন্ন ভালোবাসা ও তার কথার প্রতি আপনার অখণ্ড মনোযোগ। তিনি সর্বদাই চান আপনি তার কথাকে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করুন,অখণ্ড মনোযোগের সাথে তার মতামত শুনুন তথা তার সাথে আপনার সম্পর্ককে সর্বদা গুরুত্ব প্রদান করুন। তিনি সর্বদাই নিশ্চিত হতে চান, তার প্রতি আপনার ভালবাসা ও গুরুত্ব প্রদান অব্যাহত আছে কিনা।

আপনার প্রতি আপনার স্ত্রী ভালবাসা অব্যাহত আছে কিনা, আপনার তা কখনোই পরখ করার প্রয়োজন হয়না। কেননা নিজের পিতা-মাতাকে ছেড়ে আপনার সাথে তার অব্যাহত বসবাসই আপনার প্রতি তার আকর্ষণ ও ভালবাসা প্রমাণ করে। এই ভালবাসার প্রেক্ষিতে তার মনে সবসময় প্রশ্ন আসে, সত্যিই কি আপনার প্রতি তার ভালবাসার মতই তার প্রতি আপনার ভালবাসা অব্যাহত আছে কিনা, তার কথায় কি আপনি গুরুত্ব প্রদান করেন কিনা, তার কথা সর্বদা চিন্তা করেন কিনা। এর ফলেই তিনি আপনাকে সবসময় পরখ করতে চান, আপনার কাছ থেকে নিশ্চিত হতে চান, তার প্রতি আপনার গুরুত্ব ও ভালবাসা সম্পর্কে।

অপর একটি বিষয় সম্পর্কেও স্বামীদেরকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হয়। নারীরা সর্বদাই তাদের সৌন্দর্য ও দৃষ্টিগ্রাহ্যতা সম্পর্কে সচেতন এবং তারা অপর নারীর সাথে সবসময়ই তাদের সৌন্দর্যের তুলনা করে। পুরুষদের এ ধরণের কোন সচেতনতা বা অপরের সাথে নিজের সৌন্দর্য তুলনা করার প্রবণতা নেই। কিন্তু নারীরা সকল সময়ই অবচেতন ভাবেও এই তুলনা করতে থাকে। সুতরাং স্ত্রীর সৌন্দর্যের প্রশংসা করার করার মাধ্যমে স্বামী তার স্ত্রীকে এ বিষয়ে নিশ্চিত রাখতে পারে।

স্ত্রীর প্রতি আপনার ভালবাসা ও গুরুত্ব প্রদান অব্যাহত থাকার ব্যাপারে আপনি তাকে নিম্নোক্ত উপায়ে নিশ্চিত করতে পারেন।

প্রথমত, আপনার ব্যবহৃত শব্দ সম্পর্কে সতর্ক হোন। শব্দের ক্ষমতা সম্পর্কে কখনোই অবহেলা করবেন না। শব্দের মাধ্যমে একজনের সাথে আপনার সম্পর্ক যেমন মধুর হতে পারে, তেমনিভাবে শব্দের কারনেই আপনার প্রিয়জনের সাথে সম্পর্ক ভেঙে গিয়ে তিক্ততার জন্ম নিতে পারে।

সাধারণভাবেই আপনার স্ত্রীকে বলুন, আমি তোমাকে ভালবাসি। যদিও এই বাগধারা শুনতে বেখাপ্পা ও ছেলেমানুষী মনে হয়, তথাপি স্ত্রীর ক্ষেত্রে এটি কখনোই পুরাতন ও বেখাপ্পা নয়। তারা তাদের স্বামীর কাছ থেকে এই বাগধারাটি শুনতে সর্বদাই আগ্রহী।

এ সম্পর্কে একটি দুর্বল হাদীস থেকে জানা যায়, রাসূল (সা.) ও আয়েশা (রা.) একদিন বসে খোশগল্প করার সময় আয়েশা (রা.) রাসূল (সা.) প্রশ্ন করেন,

“আপনি আমাকে কিরূপ ভালবাসেন?” প্রত্যুত্তরে রাসূল (সা.) রূপকশোভিত ভাষায় বলেন,

“তোমার প্রতি আমার ভালবাসা এমন শক্তিশালী বন্ধনের মত, যা কখনোই খুলবে না।”

পরবর্তীতে দুজনের মধ্যে এক তর্কের সময় আয়েশা (রা.) প্রশ্ন করলেন, “আপনার বন্ধনটি এখন কেমন?” রাসূল (সা.) হেসে উত্তর দিলেন, “আগের মতই শক্তিশালী।”

সুতরাং, সাধারণ বাক্য আমি তোমাকে ভালবাসি শুধু একটি সাধারণ বাক্যই নয়, বরং এর থেকেও ক্ষমতাধর বস্তু। আপনার স্ত্রীর সাথে আপনার সম্পর্কে বন্ধনের এটিই প্রথম শর্ত।

আপনার স্ত্রীর কাজকে শুধু সমালোচনা বা নীরবে গ্রহণ করবেন না। তিনি যাই করুন, মাঝে মাঝে তার কাজের প্রশংসা করুন। আপনার প্রশংসা আপনাদের মধ্যকার সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী করবে।

তার সৌন্দর্যের প্রশংসা করুন, যখন তিনি আপনার মনোযোগের জন্য বিশেষভাবে সাজসজ্জা করেন। বিবাহ বার্ষিকীর দিনটি সম্পর্কে ভুলে যাওয়া থেকে সর্বদা সতর্কতার সাথে বিরত থাকবেন। দিনটির স্মরণ সম্পর্কে ভুলে যাওয়া আপনাদের সম্পর্কের জন্য বিপজ্জনক। স্ত্রীরা এই দিনটিকে গুরুত্ব প্রদান করেন কেননা, এর মাধ্যমে তার অনুভব করেন তার প্রতি আপনার অব্যাহত আকর্ষণ, অব্যাহত ভালবাসা, অব্যাহত গুরুত্ব প্রদান। অনেক আলেমের মতেই, এ ধরণের বার্ষিকী পালন করা হারাম। তবে, এই দিনটিতে স্ত্রীকে নিয়ে ভ্রমণে বের হওয়া, তার সাথে আপনার সময় কাটানো বা তার জন্য বিশেষ ভোজের আয়োজন করার বিষয়ে যদি শরীয়তের বিশ্লেষণ করা হয়, তবে এ সকল কাজ আপনার জন্য মুস্তাহাব। স্ত্রীর সাথে সময় কাটানো বা তাকে নিয়ে ভ্রমণ বা ভোজে যাওয়ার ব্যাপারে শরীয়ত আপনাকে উৎসাহিত করেছে। এর মাধ্যমেই মূলত তার প্রতি আপনার আকর্ষণ প্রকাশিত হয়।

দ্বিতীয়ত, আপনার স্ত্রীকে পর্যাপ্ত পরিমাণে সময় দিন। স্ত্রী আপনার কাছ থেকে পর্যাপ্ত সময়ের প্রত্যাশা করে। এখানে সময়ের অর্থ সম্পর্কে আপনার অবগত হয়ে নেওয়া প্রয়োজন। সময় বলতে আমরা সাধারণত ঘড়ির সময়কে বুঝলে এক্ষেত্রে তার প্রয়োগ ভিন্নতর। স্ত্রী যখন আপনার কাছে অভিযোগ করে, তুমি আমাকে ঠিকমত সময় দাওনা, তখন ভুলেও ভাববেন না তিনি আপনাকে ঘড়ি ধরা সময়ের কথা নির্দেশ করছেন। স্ত্রীর কাছে সময়ের অর্থ, তার প্রতি আপনার অখন্ড পূর্ণ মনোযোগ। যখনই তিনি আপনার কাছে তাকে সময় দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে, তখন আপনাকে বুঝতে হবে তার সাথে আপনার সময়কে সকল প্রকার জটিলতা থেকে মুক্ত করে পূর্ণভাবে তার কথা ও তার প্রতি মনোযোগ দিতে হবে।

অপর একটি বিষয়, স্ত্রীরা যখন তার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তাদের স্বামীদের কাছে পরামর্শ বা উপদেশের জন্য আসে, তখন স্বামীরা চিন্তা করতে পারে সে আসলেই সমস্যা সমাধানের জন্য এসেছে। তখন সে স্ত্রীর কাজের ভুল ধরে তাকে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া শুরু করে। কিন্তু স্ত্রীরা তার স্বামীর কাছ থেকে কখনোই অভিভাবকসুলভ উপদেশ প্রত্যাশা করেনা। স্ত্রীরা বরং তাদের কথা শোনার জন্য স্বামীকে একজন আগ্রহী ও সহানূভূতিশীল শ্রোতা হিসেবে দেখতে চায়। সে চায়, তার স্বামী তার সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শুনুক, একজন যর্থার্থ সঙ্গী হিসেবে তার প্রতি সহানূভূতিশীলতা প্রদর্শন করুন। তার সমস্যার সমাধান সবসময় জরুরীভাবে তার স্বামীকেই করতে হবে, এমন কোন প্রত্যাশা স্ত্রীরা করেনা।

এটিই মূলত আপনার স্ত্রীকে দেওয়া আপনার পর্যাপ্ত সময়। মূলত এর মাধ্যমেই আপনার স্ত্রী আপনার থেকে নিশ্চিত হয়, তার প্রতি আপনার খেয়াল অব্যাহত আছে, তার প্রতি আপনার গুরুত্ব অব্যাহত আছে।

আপনি যদি তার প্রতি আপনার গুরুত্ব, ভালবাসা ও মনোযোগের প্রশ্নে তাকে নিশ্চয়তা দিতে পারেন, প্রতিদানে তিনিও আপনাকে আপনার মতই গুরুত্ব, ভালবাসা ও মনোযোগ প্রদান করবেন। এর মাধ্যমেই মূলত আপনাদের যুগল জীবন মধুর ও প্রেমময় হয়ে উঠবে।

উৎসঃ   islamibarta

ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ১ জন গ্রেফতার

গাজী নাদিমঃ বৃহস্পতিবার দোহার উপজেলায় পুলিশের অভিযানে ত্রিশ পিছ ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে দোহার থানা পুলিশ। আটককৃত হলেন উপজেলার ইকরাশি গ্রামের মোহন বেপারীর ছেলে আরশেদ বেপারী(৪৭)।  পুলিশ সুত্র জানান,গত শুক্রবার রাত্র সাড়ে ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে উপজেলার ইকরাশি গ্রামের পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী স্বপন বেপারীর বাড়ির বসত ঘরে অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী আরশেদ বেপারীকে আটক করা হয়।

পরে আটককৃত মাদক ব্যবসায়ীর নামে ১৯৯০ সনের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের সংশোধন/০৪ এর ১৯(১) টেবিল ৯(খ) ধারায় মামলা রুজু করে গতকাল শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়। এ বিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.সাজ্জাদ হোসেন জানান,মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।গত পয়ত্রিশ কার্যদিবসে অর্ধশতাধিক পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীকে মাদকসহ আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আশা রাখি অচিরেই দোহারকে মাদকমুক্ত করতে সক্ষম হবো।

দোহারে হেরোইনসহ ২ জন আসামী গ্রেফতার

গাজী নাদিন;নিউজ৩৯: বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে মাদক উদ্ধারের বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে দোহার থানা এলাকার দক্ষিণ চরজয়পাড়া থেকে ২ আসামী গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় সেখান থেকে   আধা পাকা রাস্তার উপর হইতে ৭৫৫ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুত্র জানান,গত শুক্রবার রাত্র সাড়ে ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে উপজেলার ইকরাশি গ্রামের পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী স্বপন বেপারীর বাড়ির বসত ঘরে অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী আরশেদ বেপারীকে আটক করা হয়।এ সময়ে তার দেহ তল্লাশী করে ১০২৫ পুড়িয়া হিরোইন ও ৩০ পিছ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।অপরদিকে একই সময়ে উপজেলার দক্ষিন চর জয়পাড়া গ্রামের জৈনক আইয়ুব আলীর বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার উপর পুলিশের তল্লাশী চলাকালে পুলিশের তালিকাভুক্ত ব্যবসায়ী মিলন হোসেন ও সামিউর রহমান সুজন নামে দুইজনকে আটক করা হয়।এ সময়ে তাদের দেহ তল্লাশী করে ৭৫৫ পুড়িয়া হিরোইন উদ্ধার করা হয়।পরে আটককৃত তিনজন মাদক ব্যবসায়ীর নামে ১৯৯০ সনের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের সংশোধন/০৪ এর ১৯(১) টেবিল ৯(খ) ধারায় মামলা রুজু করে গতকাল শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়। এ বিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.সাজ্জাদ হোসেন জানান,মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।গত পয়ত্রিশ কার্যদিবসে অর্ধশতাধিক পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীকে মাদকসহ আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আশারাখি অচিরেই দোহারকে মাদকমুক্ত করতে সক্ষম হবো।

ঢাকা – ১ আসনে গতবারের তুলনায় ভোটার বেড়েছে ৬১৪১৭ জন

আসন্ন একাদশ সংসদীয় নির্বাচনে দশম সংসদের তুলনায় ঢাকা-১ তথা দোহার-নবাবগঞ্জে ভোটার বেড়েছে প্রায় ৬১৪১৭ জন। দশম সংসদে এই আসনে ভোটার ছিলো ৩৭৮৯৯০জন। আর একাদশ সংসদে বর্তমানে মোট ভোটার ৪৪০৪০৭ জন।

ঢাকা-১: ৪৪০৪০৭, ঢাকা-২: ৪৯৪৩১৩, ঢাকা-৩: ৩১১৬৪৭, ঢাকা-৪: ২৪৫৯০৮, ঢাকা-৫: ৪৫০৭২৫, ঢাকা-৬: ২৬৯২৭৬, ঢাকা-৭: ৩২৮২৬৯, ঢাকা-৮: ২৬৪৮৯৩, ঢাকা-৯: ৪২৫৫৭১, ঢাকা-১০: ৩১৩৭৫৮, ঢাকা-১১: ৪১৫৫৫৫, ঢাকা-১২: ৩৩৯৯৩৮, ঢাকা-১৩: ৩৭২৭৬৯, ঢাকা-১৪: ৪০৬৫৩৪, ঢাকা-১৫: ৩৪০৫২৮, ঢাকা-১৬: ৩৭৪৩৪০, ঢাকা-১৭: ৩১৩৯৯৮, ঢাকা-১৮: ৫৫৫৭১৩, ঢাকা-১৯: ৭৪৭৩০১, ঢাকা-২০: ৩২০১৪৫ জন ভোটার।

আইন অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত ভোটার হওয়া ও স্থানান্তরের সুযোগ আছে। তাই এ সংখ্যাতে আগামীতে কিছু না কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। যদিও এখন নতুন ভোটার করতে ইসির অনীহা রয়েছে। কারণ, এর ফলে নতুন করে আবার ভোটার তালিকা করতে হয়।

আসনভিত্তিক ভোটার তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সব থেকে বেশি ভোটার রয়েছে ঢাকা-১৯ আসনে (আমিন বাজার, তেতুলঝোড়া, ভাকুর্তা, কাউন্দিয়া ইউনিয়ন ব্যতীত সাভার থানা। এই আসনের ভোটার ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৩০১ জন।

অন্যদিকে, সবচেয়ে কম ভোটারের আসন হচ্ছে যশোর-৬ (কেশবপুর)। এই আসনে ভোটার এক লাখ ৭৮ হাজার ৭৮৫ জন। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন আসনের ভোটের ব্যবধান ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৫১৬ ভোট; যা আসনভিত্তিক গড় ভোটার থেকে অনেক বেশি। আসনভিত্তিক গড় ভোটার সাড়ে তিন লাখের থেকে কিছুটা কম।

সালমা ইসলামের বিরুদ্ধে মানহানিকর অভিযোগের প্রতিবাদ জাতীয় যুব সংহতির

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এসকে সিনহা) বিরুদ্ধে করা মামলায় ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা জাতীয় পার্টির অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর অভিযোগ করায় এর প্রতিবাদে সাভার জাতীয় যুব সংহতির এক প্রতিবাদ সভা করেছে।

শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত ওই প্রতিবাদ সভা থেকে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা অভিযোগকারী ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদার প্রতি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান হয়।

এতে ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদার আনিত অভিযোগ অবিলম্বে প্রত্যাহার করে দোহার ও নবাবগঞ্জের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম ও এলাকার সাধরণ জনগনের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানানো হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় যুব সংহতির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য ও সাভার পৌর জাতীয় যুব সংহতির সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য মো. বাহাদুর ইসলাম ইমতিয়াজ, সাভার উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব বাবু তুষার ঘোষ, সাভার পৌর জাতীয় পার্টির সভাপতি কাজী আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল মিয়া, জাতীয় পার্টির নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান, হাজী মো. আলতাফ হোসেন, সভা পরিচালনা করেন পৌর জাতীয় যুব সংহতি সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মো. মাহফুজুল ইসলাম।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- আশুলিয়ার জাতীয় যুব সংহতির আহবায়ক মো. শহিদুল ইসলাম জীবন, আলী আহম্মেদসহ সাভার ও আশুলিয়া জাতীয় যুব সংহতির সব নেত্রীবৃন্দ।

জাতির পিতা প্রথম দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসমূলক কর্মসূচি প্রণয়ন করেছেন – আফরোজা আক্তার রিবা

জোবায়ের শরিফ হাসান/কাজী মারুফঃ ‘কমাতে হলে সম্পদের ক্ষতি, বাড়াতে হবে দুর্যোগের পূর্ব প্রস্তুতি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারা দেশের ন্যায় দোহার-নবাবগঞ্জে পালন করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস।

শনিবার সকাল ১০টায় দোহার উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবার সভাপতিত্বে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। এ সময় সরকারি জয়পাড়া পাইলট মডেল হাইস্কুল ও বেগম আয়েশা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এই র‍্যালীতে অংশ নেয়। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এসব দুর্যোগ বাড়ছে। পাশাপাশি রয়েছে অগ্নিকাণ্ড ও দূষণজনিত মানবসৃষ্ট দুর্যোগ। আর এই প্রভাব বেশি পড়েছে দোহার-নবাবগঞ্জের মতো নদী তীরবর্তী জনগনের উপর। ইতঃমধ্যে আপনারা জানেন, পদ্মা বাধ নির্মাণে ও তীর সংরক্ষণে সরকার অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। সেই কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষম দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসমূলক কর্মসূচি প্রণয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনিই প্রথম মুজিব কিল্লা নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগে জনগণের জানমাল রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি ১৯৭৩ সালে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান `ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)` প্রতিষ্ঠা করেন, যা দুর্যোগ সতর্কবার্তা প্রচার ও সাড়াদান কার্যক্রমে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে ত্রাণ গুদাম নির্মাণ করা হচ্ছে। বন্যাপ্রবণ এলাকায় ২৩০টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র এবং ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকায় ১০০টি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।

এসময় দোহার উপজেলা ফায়ার সার্ভিস একটি মহড়া প্রদর্শন করে। দিবসটি পালন উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে দেশব্যাপী আলোচনা সভা, পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ, ক্রোড়পত্র প্রকাশ, বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে `টকশো`, সড়কদ্বীপ সজ্জা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ইত্যাদি রয়েছে।এছাড়া দিবসটি উদযাপন করতে প্রতিটি উপজেলা প্রশাসনকে ৫০০০(পাচ হাজার) করে টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

কোপার্নিকাস: এক বৈপ্লবিক মতবাদের প্রবর্তক

0

“পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে।” – এই মতবাদের প্রবক্তা ১৬ শতকের অন্যতম জ্যোতির্বিজ্ঞানী নিকোলাস কোপার্নিকাস।

অন্ধকার ও অজ্ঞতার যুগে আলো হয়ে জন্ম নেওয়া এক বিজ্ঞানীর নাম নিকোলাস কোপার্নিকাস। তিনি পর্যবেক্ষণ করে গেছেন আকাশের গ্রহ, তারার গতিবিধি। লিখে গেছেন, সে সময়কালে প্রচলিত ভুল ধারণার বিরুদ্ধে। কিন্তু সে সময়কালের তথাকথিত জ্ঞানীদের বিরুদ্ধে যায় এমন কথা বলা সহজ ছিল না তখন। সে সময় পৃথিবী ও সূর্য সম্বন্ধে ধারণা আজকের মতো ছিল না। সকলে মনে করতো পৃথিবীকে কেন্দ্র করে  সূর্য ও অন্যান্য গ্রহ উপগ্রহ আবর্তিত হয়। কিন্তু কোপার্নিকাস তার পর্যবেক্ষণ থেকে বলেছেন, সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহ উপগ্রহ আবর্তিত হয়। তিনিই প্রথম বলেছিলেন, “পৃথিবী নয়, সূর্যই হলো সৌরজগতের কেন্দ্র। সূর্যই পুরো সৌরজগতকে আলোকিত করে।”

জন্ম

তাকে বলা হয়ে থাকে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের জনক। ১৪৭২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পোল্যান্ডের টোরুন শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জার্মান বংশোদ্ভূত এক ধনী পরিবারের সন্তান। বাবা নিকোলাস কোপার্নিগ ছিলেন একজন প্রভাবশালী বণিক। চার ভাইবোনের মধ্যে কোপার্নিকাস ছিলেন সবার ছোট। মাত্র দশ বছর বয়সে পিতাকে হারান। পিতার মৃত্যুর পর মামার বাড়িতে থেকে পড়াশুনা করেন।

শিক্ষাজীবন

১৪৯১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ক্রাকৌ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান। সেখানে জ্যোতির্বিজ্ঞানে পড়ার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন। গণিতশাস্ত্র ও আলোকবিজ্ঞানও ছিল তার অধ্যয়নের বিষয়। কিন্তু তার মামা চাইলেন আজীবন আর্থিক সচ্ছলতার জন্য ভাগ্নে ফ্রাউয়েনবার্গের গির্জায় যাজকের পদ গ্রহণ করুক। যাজকের পদটি শূন্য না হওয়া পর্যন্ত সময়কালে যেন তিনি সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারেন সেজন্য তাকে ইতালির বোলোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান। চিকিৎসা, আইন ও ধর্মশাস্ত্রে অধ্যয়নের জন্য তিনি সেখানে গেলে পরিচয় হয় প্রখ্যাত দার্শনিক প্লেটো এবং সে সময়ের বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ডোমেনিকোর সাথে। গুণী ব্যক্তির সান্নিধ্যই তাকে উদ্বুদ্ধ করে জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি।

সাড়ে তিন বছর ধরে তিনি গ্রিক ভাষা, গণিতশাস্ত্র ও প্লেটোর রচনাবলী অধ্যয়ন করেন। জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কিত তৎকালীন চিন্তাভাবনার সাথেও পরিচিত হন। বোলোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় তিনি প্রফেসর ডোমেনিকোর সাথে জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণা ও পর্যবেক্ষণের কাজে যুক্ত ছিলেন। সেখানে থাকাকালেই ১৪৯৭ খ্রিষ্টাব্দে  তার প্রথম মহাকাশ পর্যবেক্ষণের কথা লিপিবদ্ধ হয়।

কর্মজীবন

অধ্যয়ন শেষে কোপার্নিকাস স্থায়ীভাবে চলে আসেন তার জন্মভূমিতে। তখন তার বয়স ৩০ বছর। ওয়ার্মিয়াতে তিনি জীবনের বাকি ৪০ বছর কাটিয়েছিলেন। এরপর ১৫১২ সালে মামার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেন। এরপর হন ফ্রুয়েনবার্গ গির্জার একনিষ্ঠ কর্তা।

উচ্চতর শিক্ষা শেষে তিনি রোম বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন। সে সময় তার মনে মহাবিশ্ব সম্বন্ধে টলেমির সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে সন্দেহ জাগে। পৃথিবী এই মহাবিশ্বের মাঝে অবস্থিত, পৃথিবীকে কেন্দ্র করে সূর্য, তারা আর চাঁদ ঘুরছে- এই নিয়মে তিনি কিছু ত্রুটি খুঁজে পান। ক্লাসে যখন ছাত্রদের টলেমির সিদ্ধান্ত পড়াতেন, তখন তার বার বার মনে হতো তিনি ভুল শিক্ষা দিচ্ছেন।

প্রকৃত সত্যকে জানবার জন্য এ বিষয়ে আরো গভীর অধ্যয়ন শুরু করলেন। পরস্পর বিরোধী এসব অভিমতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তার মনে হলো প্রকৃত সত্যকে উদ্ঘাটন করতে হবে। যে বিষয়ে নিজেই সন্দিহান কেমন করে তা ছাত্রদের পড়াবেন? এরই মাঝে এক ছাত্র তাকে প্রশ্ন করে বসলো, “স্যার, আপনি যা বলছেন তা কি বিশ্বাস করেন?” দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়লেন কোপার্নিকাস। মানসিক পীড়ায় শিক্ষকতার চাকরি ছেড়ে দিলেন। এখান থেকে শুরু হলো তার মনে উদ্রেক হওয়া জিজ্ঞাসার উত্তর খোঁজার পালা।

গবেষণা

সে সময় টেলিস্কোপ ছিল না, তাই সাধারণ পর্যবেক্ষণ আর গাণিতিক পদ্ধতি উপর নির্ভর করা ছাড়া উপায় ছিল না। ফ্রুয়েনবার্গ গির্জায় থাকাকালে একাকী তিনি চালিয়ে যান গবেষণা ও অনুসন্ধানের কাজ। এ ক্ষেত্রে কারো কাছ থেকে সহযোগিতা বা পরামর্শ তিনি পাননি। গির্জাটি ছিল একটি পাহাড়ের উপর। এর কাছাকাছি একটি গম্বুজ থেকেই নিকোলাস তার পর্যবেক্ষণ চালাতেন। গির্জার দেওয়ালে একটি উঁচু চূড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি চন্দ্র, সূর্য ও গ্রহরাজির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতেন। খালি চোখেই।

নিজের পর্যবেক্ষণের ফলাফল লিপিবদ্ধ করে রাখতেন এবং সময়ে সময়ে সেগুলো প্রকাশ করতেন। তার ব্যক্তিগত পাঠাগারের বইয়ের পৃষ্ঠাতেও এরকম কিছু মন্তব্য লিপিবদ্ধ পাওয়া গেছে।

কোপার্নিকাস; Source: BLOUIN ARTINFO

উদ্ভাবন

তখন প্রচলিত ছিল টলেমির পদ্ধতি। একনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ থেকে তিনি অনুধাবন করতে পারেন টলেমির ব্যাখ্যায় ত্রুটি আছে। বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর মেলে না টলেমির মডেল থেকে। টলেমির ধারণাকে ফেলে হিসেব করে দেখলেন সূর্যকে কেন্দ্রে রাখলে সকল কিছুর হিসাব মিলে যায়। পৃথিবীকে গায়ের জোরে কেন্দ্রে বসালেই অযথা জটিলতা তৈরি হয়।

পরবর্তীতে তার পথ ধরে ধীরে ধীরে আলোকিত করেছেন টাইকো ব্রাহে, কেপলার, ব্রুনো এবং গ্যালিলিও গ্যালিলিরা। তারা ভুল-ত্রুটি শুধরে নিয়ে সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের ধারণাকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। কোপার্নিকাস বলেন,

“সূর্যের চারিদিকে পৃথিবী ঘোরে বলে ঋতু পরিবর্তন হয়। আর পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর আবর্তিত হয় বলেই দিন—রাত্রি হয়।”

তিনিই প্রথম বলেন, সূর্যই সমগ্র সৌরজগতকে আলোকিত করে।

আবিষ্কৃত কক্ষপথ; Source: WordPress.com

রোষানলের মুখোমুখি

তার গবেষণালব্ধ মতবাদসমূহ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রকাশ করার সাহস করেননি। কারণ তিনি ছিলেন গির্জার যাজক। তার মতবাদ প্রচলিত ধর্মবিশ্বাসের সম্পূর্ণ বিরোধী। তার বিপ্লবাত্মক মতবাদ লিপিবদ্ধ হওয়ার পরেও দীর্ঘ তেরো বছর অপ্রকাশিত রাখতে হয়। ১৫১০ থেকে ১৫১৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত কোপার্নিকাস তার নতুন মতবাদের সংক্ষিপ্তসার হিসাবে একটি পান্ডুলিপি প্রস্তুত করেন। ১৫১৪ খ্রিষ্টাব্দে ব্যক্তিগত পর্যায়ে তিনি তার বন্ধুদের মাঝে প্রচার করেন।

বছর পেরোতে লাগলো, নকশা একেঁ আর গাণিতিক হিসাব করে তিনি তার যুক্তিকে বিকশিত করতে লাগলেন। ১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দে রোমের পোপ সপ্তম ক্লিমেন্টের সামনে এগুলো নিয়ে বক্তৃতাও করলেন এবং তার সমর্থনও লাভ করলেন।

তার মতবাদ প্রকাশের জন্য ১৫৩৬ খ্রিষ্টাব্দে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পেলেন কোপার্নিকাস। তার শিষ্য রেটিকাসের প্রচেষ্টায় রচনা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিলেন।পান্ডুলিপিটি মুদ্রণের জন্য জার্মানির নুরেমবার্গে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি পায় রেটিকাস। মার্টিন লুথার, ফিলিপ মেলান্সথন ও অপরাপর সংস্কারকদের বাঁধার কারণে রেটিকাস নুরেমবার্গ ত্যাগ করে লাইপজিগে গেলেন এবং প্রকাশনার দায়িত্ব আন্দ্রিয়াস ওসিয়ান্ডারের হাতে তুলে দিলেন। সমালোচনার ভয়ে ওসিয়ান্ডার নিজ দায়িত্বে গ্রন্থের সাথে একটা মুখবন্ধ জুড়ে দিলেন। তিনি ভাবলেন, বই প্রকাশিত হলে কোপার্নিকাসের সাথে তাকেও বিপদগ্রস্ত হতে হবে। তাই বইয়ের প্রথমে লিখলেন-

এ বইয়ের বিষয়বস্তু পুরোপুরি সত্য নয়। অনুমানের উপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে।

এ কথাগুলোর মধ্য দিয়ে তিনি সত্য-মিথ্যার একটা সংশয়াচ্ছান্ন ধারণার সৃষ্টি করলেন যাতে প্রয়োজনে বইটিতে উপস্থাপিত তথ্য মিথ্যা বলে চালানো যেতে পারে। শুধু তা-ই নয়, তিনি ইচ্ছেমতো বই থেকে বিভিন্ন নাম তুলে নিলেন। তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল আরিস্টার্কাসের নাম, যিনি প্রথম গভীর বিশ্বাসের সাথে বলেছিলেন, সূর্য স্থির পৃথিবী গতিশীল।

বিপ্লব

পাশ্চাত্যের চিন্তাধারার ক্ষেত্রে এবং আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানকে বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে ১৫৪৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ মে প্রকাশিত হল De revolutionibus orbium coelestium (মহাজাগতিক বস্তুগুলোর ঘূর্ণন)। ছয়খন্ডে রচিত গ্রন্থটি তৃতীয় পোপের সম্মানে উৎসর্গ করে তিনি বলেন, “গণিতশাস্ত্র বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকলে কেউ যেন গ্রন্থটির সমালোচনা না করেন।”

বিশ্বব্রহ্মান্ডের কেন্দ্রীয় অবস্থান থেকে পৃথিবীর সিংহাসনচ্যুতির মতবাদ সৃষ্টি করেছিল প্রচণ্ড আঘাত। পৃথিবীকে আর সৃষ্টির আদি বলে গণ্য করা গেল না। ব্রহ্মাণ্ডের কেন্দ্রে সকল পরিবর্তন ও বিনাশের উৎস হিসেবে পৃথিবী আর পরিগণিত হতে পারল না। প্রাচীন কর্তৃত্বের পুরো ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সফল চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্য দরকার ছিল মহাবিশ্ব সম্পর্কে মানুষের দার্শনিক ধারণার পরিবর্তন। কোপার্নিকাসের তত্ত্ব এনে দিল সেই পরিবর্তন। একে যথার্থই ‘কোপার্নিসীয় বিপ্লব’ বলে অভিহিত করা যায়। মহান জার্মান কবি গ্যেটের ভাষায়-

সকল আবিষ্কার ও অভিমতের মধ্যে আর কোনোটাই মানব মনের উপর এতটা প্রভাব ফেলতে পারেনি, যতটা ফেলেছিল কোপার্নিকাসের মতবাদ।

জীবন সায়াহ্নে

তার বইটি যখন প্রকাশ হয় তখন তিনি ছিলেন পক্ষাঘাত ও মানসিক রোগে আক্রান্ত। বইটি ছাপা অবস্থায় তার কাছে এসে পৌঁছলে তখন তাঁর পড়ে দেখার মতো অবস্থা ছিল না। তিনি শুধু দু’হাতে বইটি কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করলেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই তাঁর মৃত্যু হয়।

তার বইয়ের মধ্যে দিয়ে তিনি যে সত্যের প্রতিষ্ঠা করে গেছেন, তার উপর ভিত্তি করে গ্যালিলিও, কেপলার, নিউটন, আইনস্টাইন জ্যোতির্বিজ্ঞানের নতুন নতুন দিগন্তকে উন্মোচন করেছেন। এ গ্রন্থের মাধ্যমে দেড় হাজার বছরের টলেমির ভূকেন্দ্রিক মতবাদ ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হয়। কোপার্নিকাস তার গ্রন্থে বলেন, পৃথিবী থেকে গ্রহ-নক্ষত্রের গতিপথ অনেক বেশি জটিল হওয়ার কারণ পৃথিবীর নিজের ঘূর্ণন। তাই সূর্য থেকে দেখলে পৃথিবীকে অপেক্ষাকৃত সরল ও একটি সাধারণ গ্রহ বলে মনে হবে।” তিনি আরো বলেন, “ঋতু পরিবর্তন ঘটে সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর আবর্তনের কারণে।”

তার এ মতবাদ প্রচার করার কারণে জিওর্দানো ব্রুনোকে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়।

মৃত্যু

১৫৪৩ সালের ২৪ মে ৭০ বছর বয়সে তিনি মারা যান। পোল্যান্ডের বাল্টিক কোস্টের ফ্রমব্রোক ক্যাথেড্রালের মেঝের নিচে তাকে সমাহিত করা হয়। নাম-পরিচয়হীনভাবে অবহেলার সাথে তাকে সমাধিস্থ করা হয়। সে সময়ের ধর্মযাজকেরা কোপার্নিকাসের নতুন তত্ত্ব মেনে না নিলেও পরে তার গবেষণা সত্য প্রমাণিত করেছেন বিজ্ঞানীরা।

মৃত্যুর ৫০০ বছর পর তাকে পুনরায় বীরের মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। এভাবেই যুগে যুগে বিপ্লব সৃষ্টি করে যাওয়া মানুষেরা স্বীকৃতি পান। সে স্বীকৃতি হতে পারে তাৎক্ষণিক কিংবা কিছুটা  বিলম্বে।

To know that we know what we know, and to know that we do not know what we do, that is true knowledge. -Nicolaus Copernicus.

Featured image: Local-life.com

দোহারে ভোররাতে পদ্মায় প্রশাসনের অভিযানঃ আটক ১৭ জেলে

শুক্রবার দোহারে ভোররাতে ৪টায় পদ্মায় প্রশাসন অভিযান চালিয়েছে। উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) সালমা খাতুনের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় মৈনটে ২০০০মিটার কারেণ্ট জাল পোড়ানো হয়।  প্রশাসন সূত্রে জানা যায়,  দোহার উপজেলায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ ধরার অপরাধে ২২ জনের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট  আফরোজা আক্তার রিবা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালমা খাতুন ভ্রাম্যমাণ আদালতে মোট ২২ জনকে ১৭ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। এছাড়া একজনকে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

এই অভিযান সম্পর্কে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালমা খাতুন  তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, ভোর ৪ টা থেকে শুরু করেছি অভিযান। রোদ বৃষ্টিতে পুড়ে না খেয়ে অভিযান চালাচ্ছি প্রতিনিয়ত। জেলেদের তুলনায় প্রবাসীরা বেশি আছে নদীতে যারা নাকি ছুটিতে দেশে এসেছে মাছ ধরার জন্য। অনেকেই শিক্ষিত। অনেকেই আবার পরিচয় দেয় আমি এই আমি সেই। আর এই লোকদের জন্য তদবির বাজদের সংখ্যা ও কম নয়। কোন নিরীহ জেলের জন্য নয় তদবির আসে অন্য শেণীর জন্য যারা জেনে বুঝে সরকারের আদেশ অমান্য করছে।

তিনি আরো বলেন, সুপ্রিয় দোহারবাসী আসুন আমরা সবাই মিলে মা ইলিশকে রক্ষা করি। একটু ভাবুনতো আপনার মা, আপনার বোন কিংবা আপনার স্ত্রীকে যদি প্রসব কালীন সময়ে অটিতে নিয়ে গলা টিপে মেরে ফেলা হয় তাহলে আপনার কেমন লাগবে? ঠিক এই সময়ে মা ইলিশ তার সন্তানের নিরাপত্তার কথা ভেবে কত পথ পাড়ি দিয়ে লোনা পানি থেকে স্বাদু পানিতে আসে তার বাচ্চার নিরাপত্তার জন্য। আমাদের উচিত এই সময় মা ইলিশকে সুযোগ করে দেয়া। মাত্র কয়েকদিন আমরা আমাদের লোভকে সংবরণ করলে সারা বছর আমরা ইলিশ খেতে পারবো।

আটককৃত মাছ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়