সালমান এফ রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র ক্রয় করলেন দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান

0

তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র কেনার ধুম পড়ে গেছে। তারই ধারাবাহিকতায় ঢাকা-১ আসনের আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা শিল্পপতি সালমান এফ রহমান মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছেন।

শুক্রবার (৯ নভেম্বর) বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে এ মনোনয়ন পত্র কেনা হয়। তার পক্ষ হতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ধানমন্ডি-৩ থেকে মনোনয়নপত্র কিনেছেন তারই ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বাবুল, সাধারন-সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো.জাহাঙ্গীর আলম, সহ-সভাপতি নুরুল হক বেপারী,আওয়ামীলীগের উপ-কমটিরসহ-সম্পাদক সুরুজ আলম সুরুজ, ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি সোহাগ প্রমুখ।

গুলশানের জন্য আওয়ামীলীগ থেকে নাজমুল হুদার মনোনয়ন ফরম ক্রয়

তৃণমূল বিএনপি ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্সের (বিএনএ) সভাপতি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। শুক্রবার (৯ নভেম্বর) ধানমন্ডিতে অবস্থিত আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের নির্বাচনি অফিস থেকে এই ফরম কিনেছেন তিনি।

ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন ফরম কেনার বিষয়ে গণমাধ্যমকে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়েই আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। এজন্য আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি।’

বিকেলে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে তার ব্যাক্তিগত সহকারী আক্কাস খানের মাধ্যমে এই ফরম সংগ্রহ করেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী। ঢাকা-১৭ আসন (ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান, বনানী, ভাষানটেক) নির্বাচন করতে চান তিনি।

নাজমুল হুদা এই আসনটিতে নির্বাচন করতে চান, এই গুঞ্জন আগেই ছিল। এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে গত ঈদে পোস্টারও সাঁটা হয়েছিল গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায়।

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে নাজমুল হুদার সামনে একটি বড় বাধা রয়েছে। দুর্নীতির একটি মামলায় তার চার বছরের কারাদ- হয়েছে। গত বছরের ৮ নভেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া ওই রায়ের কপি এখনো বিচারিক আদালতে পৌঁছেনি। তাই নাজমুল হুদারও আত্মসমর্পণ করার প্রয়োজন হচ্ছে না। তিনি রাজনীতিতেই সরব থাকতে পারছেন।

তবে হাইকোর্টের এই রায়ের কপিটি বিচারিক আদালতে পৌঁছলে সাবেক বিএনপি নেতাকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। আর দণ্ড স্থগিত না হলে তার নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব হবে না।

২০১০ সাল থেকে বিএনপির সঙ্গে নাজমুল হুদার টানাপড়েন শুরু হয়। দল তাকে বহিষ্কার করে। সেই বহিষ্কার আদেশের পরও তিনি বিএনপির পরিচয়েই রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেন। পরে ২০১২ সালের জুনে তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন।

এর দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) নামে নতুন একটি দল গঠন করেন। কিন্তু এটাও বেশিদিন টিকেনি। কয়েক মাসের মধ্যেই ফ্রন্টের আরেক নেতা আবুল কালাম আজাদ তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেন।

দোহার উপজেলা তাঁতী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

0

মোজ্জাফর হোসেন টিটুকে সভাপতি এবং মোঃ শওকত বেপারীকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষনা দেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ তাঁতী লীগের সহ-সভাপতি কে, এম, শহীদূল্লাহ্ সাহেব, ঢাকা জেলা দক্ষিন তাঁতী লীগের সভাপতি ডাঃ রমজান আলী মল্লিক, সাধারণ সম্পাদক মুসফিকুর রহমান পলাশ। আরও উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা তাঁতী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আল মামুন পরশ, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক রমজান এবং প্রচার সম্পাদক পান্নু।

নির্বাচন করতে পারবেন না নাজমুল হুদা

ঘুষ গ্রহণের মামলায় দণ্ডিত ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তার সাজা ও অন্যান্য সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কৌঁসুলি ও বিশেষজ্ঞরা এমনটি জানিয়েছেন।

তারা বলছেন, বিচারিক আদালতে তার আত্মসমর্পণের কোনো বিকল্প নেই। এরপর তাকে রায় স্থগিতের জন্য আবেদন করতে হবে, উচ্চ আদালত রায় স্থগিত করলে তবেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। আজ যদি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়, সেক্ষেত্রে এত অল্প সময়ের মধ্যেই এত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার মামলায় ২০০৭ সালের ২৭ আগস্ট নাজমুল হুদাকে ৭ বছর ও তার স্ত্রী সিগমা হুদাকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। এ রায়ের বিরুদ্ধে তারা হাইকোর্টে আপিল করেন। শুনানি শেষে ২০১১ সালের ২০ মার্চ হাইকোর্ট তাদের খালাস দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক।

আপিল বিভাগ ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্টের রায় বাতিল করে পুনরায় বিচার করার নির্দেশ দেন। পুনঃশুনানি শেষে গত বছরের ৮ নভেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন।

রায়ে নাজমুল হুদাকে চার বছর কারাদণ্ড ও সিগমা হুদাকে তার কারাভোগ কালকে সাজা হিসেবে ঘোষণা করেন। রায়ের কপি পাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে আদালত তাকে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেন। কিন্তু নাজমুল হুদা আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিট করেন। রিটটি গত বছরের ১০ ডিসেম্বর খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।

এরপর তিনি আত্মসমর্পণ ছাড়াই আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। এ বছরের ৭ জানুয়ারি সেই আবেদনও খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। ফলে এ মামলায় নিু আদালতে নাজমুল হুদাকে আত্মসমর্পণ করতেই হচ্ছে। তবে রায় ঘোষণার প্রায় এক বছর হয়ে গেলেও এখনও পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়নি।

আর এ সুযোগ নিয়ে তিনি এখনও রাজনীতিতে সরব রয়েছেন। এ বিষয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, রায় ঘোষণার ছয় মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে; কিন্তু তা সব ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না। তিনি বলেন, রায় ঘোষণার পর কোনো রায় যদি দীর্ঘদিন প্রকাশ না পায় তাহলে এর ফল ও কার্যকারিতা আসে না।

শফিক আহমেদ বলেন, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দেয়া সাজা এখনও বহাল আছে। সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি জাতীয় নির্বাচনে অযোগ্য। তাই আগামী নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ আমি দেখছি না।

জানতে চাইলে দুদকের কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান বলেন, রায়ের অনুলিপি বিচারিক আদালতে পৌঁছার ৪৫ দিনের মধ্যে দণ্ডিত নাজমুল হুদাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি এখনও আমরা পাইনি। তিনি বলেন, হাইকোর্টের রায়ের ফলে নাজমুল হুদার নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদ সাংবিধানিক বাধা হিসেবে কাজ করবে। এ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এবং সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য হবেন না যদি তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন দু’বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তার মুক্তি লাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হয়ে থাকে।’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ল’র পরিচালক ড. শাহদীন মালিক বলেন, হাইকোর্টে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার চার বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী তিনি এখন নির্বাচনে অযোগ্য।

দণ্ডভোগ করার পাঁচ বছর পর তিনি নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন। তিনি বলেন, আত্মসমর্পণের পর হয়ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হবে। ওই আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিু আদালতের রায়ই বহাল থাকবে। ফলে আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বুধবার মোবাইল ফোনে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে দুই দফা কল দেয়া হয়। তবে যুগান্তর প্রতিবেদকের পরিচয় পেয়ে তিনি কোনো কথা বলতে অপারগতা জানান।

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনটি মামলা হয়। একটি জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে, দ্বিতীয়টি এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা হিসেবে ৬ লাখ টাকা অবৈধভাবে নেয়ার অভিযোগে; আর তৃতীয়টি আকতার হোসেন লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর জাহির হোসেনের কাছ থেকে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগে। প্রথম মামলাটিতে নাজমুল হুদাকে ১২ বছর সাজা দেন নিু আদালত। আপিলে হাইকোর্ট প্রথম মামলাটি খারিজ করে তাকে শাস্তি থেকে অব্যাহতি দেন। দ্বিতীয় মামলাটির কার্যক্রম আদালতের আদেশে বন্ধ আছে।

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বিভিন্ন মেয়াদে খাদ্য, তথ্য এবং যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির সঙ্গে টানাপোড়েন শুরু হলে তাকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কার আদেশের পরও বিএনপির পরিচয়েই রাজনীতিতে থাকার চেষ্টা করেন। অবশেষে ২০১২ সালে তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্স (বিএনএ), বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টি (বিএমপি) এবং সর্বশেষ নতুন দল ‘তৃণমূল বিএনপি’ গঠন করেন। সম্প্রতি এ দলটিকে নিবন্ধন দিতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

দোহারে মাদক ও বখাটেপনা ঠেকাতে পুলিশের ব্যাতিক্রমি উদ্যোগ

দোহারে মাদক ও বখাটেপনা ঠেকাতে দোহার থানা পুলিশের এক ব্যতিক্রমি উদ্যোগ গ্রহন করেছে। গত শুক্রবার থেকে সপ্তাহব্যাপি পুলিশের মটরসাইকেল র‌্যালীসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাদক স্পট ও স্কুল কলেজের সামনে ইভটিজিং বিরোধী মতবিনিময় সভা চালাচ্ছে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.সাজ্জাদ হোসেন।

দোহার থানা পুলিশের এই ব্যতিক্রমি প্রচারনায় ও মতবিনিময়ের কারনে এলাকাবাসীসহ শিক্ষার্থীদের অভিভাবক মহলে পুলিশের ভুমিকা প্রশংশনীয় বলে দাবী করেন স্থানীয়রা।স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ পুলিশের এমন উদ্যেগকে স্বাগত জানিয়েছে বলে জানা যায়।

মুকসুদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান বলেন, আমার জানামতে বর্তমানে মাদক ব্যবসায়ী,সেবনকারী ও ইভটিজিংকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও কথা বলতে সাহস পায় না সাধারন মানুষ।সাধারন মানুষের ধারনা করেন মাদক ব্যবসায়ী,সেবনকারী ও ইভটিজিংকারীদের সাথে পুলিশের সখ্যতা রয়েছে।একথাগুলো এলাকার কিছু দালাল শ্রেনীর লোকেরা প্রচার করে থাকেন।কিন্তু সম্প্রতি দোহার থানা পুলিশের এমন ব্যতিক্রমি প্রচারন ও উদ্যোগের ফলে তৃনমুল সাধারন মানুষ মাদক ব্যবসায়ী,সেবনকারী ও বখাটেদের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস যোগাবে।ফলে কিছুটা হলেও মানুষের ভয় দূর হবে।

ইসলামাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের জমিদাতা সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আজিজুর রহমান বলেন, মটরসাইকেলযোগে দোহার থানা পুলিশ মহড়া দিয়ে আমাদের স্কুলে ও সুতারপাড়া,ঝনকি,মালিকান্দা গ্রামে এসে মাদক ও বখাটেদের তালিকা তৈরী করতে কথা বলেছে।এমনটা এই প্রথম দেখলাম।পুলিশের এমন কর্মকান্ডে মাদক ব্যবসায়ী ও বখাটেরা ভয় পাবে।ফলে গ্রামগঞ্জের স্কুলের সামনে থেকে বখাটেদের উৎপাত অনেক কমে আসবে।তাচাড়া বাবা-মা ও অভিভাবকদের মাঝে সন্তানের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মাদক ব্যবসায়ী,সেবনকারী ও বখাটেরা ভিন্ন গ্রহের বাসিন্দা নয়।এরা আমাদের সমাজের কারো না কারোর সন্তান,ভাই কিংবা স্বজন।এদেরকে সুপথে আনার দায়িত্ব প্রত্যেক পরিবারকে নিতে হবে।অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি আরোও বলেন আপনার সন্তান কখন বাড়ি থেকে বের হন এবং কোথায় যায়?কার সাথে মেলামেশা করছে ?এমন খবর প্রতিমুহূর্তে আপনাকে রাখতে হবে।১৮ বছরের নিচে কাউকেও মটরসাইকেল চালাতে দিবেন না এবং কিনেও দিবেন না।মনে রাখবেন আইন দিয়ে সবকিছু হয় না।পারিবারিক সচেতনতা থাকলে মাদকের ব্যবহার ও বখাটেপনা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।তবে এধরনের অপরাধ দমনে আমরা(পুলিশ) জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করবে।আমরা প্রথমে সচেতনতামুলক প্রচার চালাচ্ছি।এরপর মাদক ও বখাটেদের বিরুদ্ধে আরোও কঠোর অভিযান চালাবো।

আসন্ন নির্বাচনে দোহার-নবাবগঞ্জ থেকে আমি নির্বাচন করবো: সালমান এফ রহমান

বুধবার দোহার উপজেলার পদ্মা সরকারি ডিগ্রী কলেজ মাঠে থেকে এই  আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মুকসুদপুর ইউনিয়নের আটটি কেন্দ্রভিত্তিক ভোটারদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং জর্জ মান্নান এর বাসায় গিয়ে শেষ হয়। এ সময় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালমান এফ রহমান বলেন, আসছে জাতীয় নির্বাচনে দোহার-নবাবগঞ্জ ( ঢাকা-১) থেকে আমি নির্বাচন করবো। আপনারা আমাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে এ আসনটি উপহার দিবেন এটা আপনাদের কাছে আমি প্রত্যাশা করি। তাই এখন থেকে আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই। আপনাদের সবাইকে  ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন, দোহার উপজেলা আ’লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল, সাধারন সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার, আনার কুলি পুতুল, বৃথী,রাশেদ চোকদার, গিয়াস উদ্দিন সোহাগ ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

নবাবগঞ্জে আওয়ামীলীগের প্রচারপত্র বিলি

ঢাকার নবাবগঞ্জে আওয়ামীলীগের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারপত্র বিলি করেছেন নেতাকর্মীরা। বুধবার সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর, বারুয়াখালী, চুড়াইন, গালিমপুর, বক্সনগর, বাহ্রা, কলাকোপা ইউনিয়নের পৃথকভাবে প্রচারপত্র বিলি করা হয়। সকাল ১০টা থেকে চুড়াইন বাজার থেকে প্রচারণা শুরু করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলুসহ নেতাকর্মীরা। পরে গোবিন্দপুর বাজার, গালিমপুর, কোমরগঞ্জ, বাহ্রা, দিঘিরপাড়, বাগমারা বাজার হয়ে বিকালে কাসিমপুরে এসে শেষ হয়।

অপরদিকে, বেলা সাড়ে ১০টা থেকে শিকারীপাড়া বাজার থেকে শুরু করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল উদ্দিনসহ নেতাকর্মীরা। পরে জয়কৃষ্ণপুরের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রচারপত্র বিলি করে শেষে বিকালে আজকের মতো শেষ করা হয়। এসব স্থানে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য দেওয়ান আওলাদ হোসেন, সাবেক সহ-সম্পাদক অসীম সরকার, আওয়ামীলীগ নেতা- আলীমুর রহমান খান পিয়ারা, আব্দুল জলিল বেপারী, আবুল হোসেন মোড়ল, আব্দুল বাসেত, আবুল হোসেন, মোতালেব হোসেন, জালাল উদ্দিন রুমি, মো মুন্না, ফরহাদ কবির, মো শহিদ, মো. পলাশ প্রমূখ।

রোহিঙ্গা বিদ্বেষী প্রচারণা বন্ধে ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি দিলো ফেসবুক

ফেসবুকের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা নিধনে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল বহু আগেই। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে আসা সেইসব অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছিল পৃথিবীর সবথেকে জনপ্রিয় ওই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বিদ্বেষী প্রচারণা বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপের অঙ্গীকার করেছিল তারা। তবে এক মার্কিন মানবাধিকার সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, ফেসবুক ব্যবহারের মধ্য দিয়ে বিদ্বেষী প্রচারণা এখনও চলছে, তা থামানো যায়নি। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগও স্বীকার করে নিয়েছে। তারা মেনে নিয়েছে, বিদ্বেষী প্রচারণা বন্ধ করা তাদের দায়িত্বের অন্তর্গত। তবে এ ব্যাপারে তারা কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, অতীতের মতো এবারও তা স্পষ্ট করে বলেনি তারা।

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশের জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকার করে না মিয়ানমার। তাদের ‘বাঙালি মুসলমান’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশের বাসিন্দা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় নেপিদো। ১৯৪৮ সালে মিয়ানমার স্বাধীন হওয়ার পর দেশটির বাসিন্দা হিসেবে রোহিঙ্গাদের যে সবুজ ও গোলাপি পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছিল, তা গুরুত্বহীন হয়ে যায় ৮২ সালের নতুন নাগরিকত্ব আইনে। মিয়ানমারের ইতিহাসে চোখ ফেরালে দেখা যায়, ১৯৮২ সালে তৎকালীন সামরিক জান্তা সরকার নৃগোষ্ঠীভিত্তিক নতুন নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করে। বিতর্কিত ওই বর্ণবাদী নাগরিকত্ব আইনে মিয়ানমারের প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার নাগরিকত্ব অস্বীকার করা হয়। বস্তুত এই আইনটিই জান্তাশাসিত মিয়ানমারে সর্বোচ্চ সেনাবিদ্বেষের শিকার রোহিঙ্গাদের ভাসমান জনগোষ্ঠীতে রূপান্তর করে। সেখানে যুগের পর যুগ ধরে বিদ্বেষী প্রচারণা চালিয়ে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই ঘৃণা উৎপাদনে ফেসবুকের ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। নিরাপত্তা চৌকিতে আরসার হামলাকে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযানের কারণ বলা হলেও অক্টোবর ২০১৭ সালে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিতে এবং তাদের ফেরার সব পথ বন্ধ করতে আরসার হামলার আগে থেকেই রোহিঙ্গাবিদ্বেষী প্রচারণার মধ্য দিয়ে পরিকল্পিত সেনা-অভিযান শুরু হয়েছিল। সে সময় অ্যামনেস্টির এক প্রতিবেদনেও ‘রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের সামরিক প্রচারণা’কে সেখানকার সংকটের জন্য দায়ী করা হয়। চলতি বছর মার্চে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্যানুসন্ধান মিশনের চেয়ারম্যান মারজুকি দারুসমান সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গা নিধনে সামাজিক মাধ্যম ‘নির্ধারণী ভূমিকা’ পালন করেছে। এপ্রিলে দ্য গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানেও দেখা গেছে, রাখাইন সংকটে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণাযুক্ত বক্তব্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে নির্ধারণী ভূমিকা ছিল ফেসবুকের। আগস্টে রয়টার্সের অনুসন্ধানেও রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের নেপথ্যের ঘৃণাবাদী প্রচারণা ঠেকাতে ফেসবুকের ব্যর্থতার কথা উঠে আসে। অক্টোবরে নিজস্ব অনুসন্ধান সূত্রে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাবাহিনীর নিয়োজিত কর্মীরা ফেসবুক ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়েছে।এবার এক মার্কিন মানবাধিকার সংস্থার অনুসন্ধানে জানা গেছে, এখনও ফেসবুক ব্যবহার করে মিয়ামারে বিদ্বেষী প্রচারণা চলছে।

মিয়ানমারে ফেসবুকের প্রায় ২ কোটি ব্যবহারকারী রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা বিএসআর তাদের প্রতিবেদনে অভিযোগ তুলেছে, ফেসবুক মিয়ানমারের জনগণকে ঘৃণা এবং সহিংসতা ছড়ানোর জন্য তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে দিচ্ছে, বিশেষ করে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার আল-জাজিরার খবরে বিজনেস ফর সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি-বিএসআর নামের মানবাধিকার সংস্থাকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, ঘৃণামূলক বক্তব্য ছড়ানো বন্ধে ফেসবুক কার্যকর কোন ভূমিকা রাখছে না। সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক ওই সংস্থা সতর্ক করেছে, সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমটি মিয়ানমারে অপ্রতিরোধ্য সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। তারা বলছে, স্থানীয়ভাবে যারা ফেসবুকের হয়ে কাজ করছেন, তারা হয়তো কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে কাজ করতে সক্ষম। তবে সেক্ষেত্রে তাদের সেনাবাহিনীর তোপের মুখে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে কাজটি সহজ নয়।

বিজনেস ফর সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি আরো বলছে, ফেসবুকের উচিত ২০২০ সালের মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভুল তথ্য ছড়ানো এবং হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের মাধ্যমে যে নতুন সমস্যাগুলো হচ্ছে সেগুলো ঠেকাতে আগে থেকে প্রস্তুতি নেয়া ।

চলতি বছরের এপ্রিলেই মিয়ানমারে জাতিগত নিধনে ফেসবুকের ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগ স্বীকার করেন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সে সময় বলেন, খবরের নামে গুজব ছড়ানোর মধ্য দিয়ে মুসলিম ও রোহিঙ্গাবিদ্বেষী মনোভাবে উসকানি ও প্রণোদনা জোগানোর কাজে ফেসবুককে ব্যবহার করা হয়েছে। গত আগস্টে ফেসবুক কর্তৃপখ।স স্বীকারোক্তি দেয়, রোহিঙ্গা বিদ্বেষী ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রতিরোধ এবং ঘৃণা ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত সদস্যদের আইডি নিষিদ্ধ করায় তাদের ভূমিকা খুবই ধীর ছিল। এবার নতুন করে ওঠা বিএসআর-এর অভিযোগ প্রসঙ্গে ফেসবুকের প্রোডাক্ট পলিসি ম্যানেজার আলেক্স ওয়ারোফকা একটি ব্লগে বলেন, ওই প্রতিবেদনটি এই বছরকে প্রাধান্য দিয়ে করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে আমাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মিয়ানমারে যে জাতিগত বিভেদ এবং সহিংসতা ছড়ানো হচ্ছে তা প্রতিরোধে আমাদের পক্ষ থেকে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।আমরা স্বীকার করছি যে এ নিয়ে আমরা আরও বেশি কিছু করতে পারি এবং আমাদের তাই করা উচিত।

বিজনেস ফর সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি তাদের প্রতিবেদনে মিয়ানমারে এমন সমস্যা সমাধানে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছে। ফেসবুকের কন্টেন্ট পলিসি আরো কঠোর করা, সরকার আর নাগরিক সমাজের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, দেশটিতে ফেসবুকের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে থাকা অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশের সুপারিশ করেছে তারা। এদিকে ফেসবুক দাবি করেছে, প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়বস্তু পর্যালোচনার জন্য মিয়ানমারের ভাষার ওপর বিশেষজ্ঞ জ্ঞানসম্পন্ন ৯৯ জন ভাষাবিদ তাদের সঙ্গে রয়েছেন। তারা জানিয়েছে, এরইমধ্যে মানবতাবিরোধী ও সহিংস বিষয়বস্তু প্রতিরোধে তাদের স্বনিয়ন্ত্রিত টুলস-এর কার্যসীমা বাড়ানো হয়েছে।

প্রতিদিনের হাদিস: আন্‌-নওয়াবীর চল্লিশ হাদীস(পর্ব-১৬)

0

হাদিস নং ৩১: আবূল আব্বাস সাহল ইবনু সা’দ আস্-সা’ইদী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: “এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হয়ে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কাজ বলুন যা করলে আল্লাহ্ আমাকে ভালবাসেন, লোকেরাও আমাকে ভালবাসে।

তখন তিনি বললেন: দুনিয়ার প্রতি অনুরাগী হবে না, তাহলে আল্লাহ্ তোমাকে ভালবাসবেন; আর মানুষের কাছে যা আছে তার ব্যাপারে আগ্রহী হবে না, তাহলে মানুষও তোমাকে ভালবাসবে।”

[ইবনু মাজাহ্: ৪১০২]

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

হাদিস নং ৩২:  আবূ সাঈদ সা’দ ইবনু মালিক ইবনু সিনান আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইওয়াসাল্লাম বলেছেন:

“ক্ষতি করা উচিত নয়, আর ক্ষতির সম্মুখীন হওয়াও উচিত নয়।”

[হাদীসটি হাসান। এটিকে ইবনু মাজাহ (দেখুন হাদীস নং: ২৩৪১), আদ্-দারা-কুতনী (হাদীস নং: ৪/২২৮) এবং অন্যান্যগণ সনদসহ বর্ণনা করেছেন। ইমাম মালেক মুয়াত্তা গ্রন্থে (হাদীস নং: ২/৭৪৬) একে মুরসাল সনদে বর্ণিত হয়েছে। তিনি সনদের মধ্যে যে আমর ইবনু ইয়াহ্ইয়া নিজের পিতা হতে যিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তিনি আবূ সাঈদকে বাদ দিয়েছেন। তবে হাদীসটির আরও বহু বর্ণনায় এসেছে যার কোনো কোনোটি অপর কোনো কোনোটির দ্বারা শক্তিশালী হয়েছে।]

হাদিসের মানঃ  হাসান (Hasan)

গ্রন্থঃ আন্‌-নওয়াবীর চল্লিশ হাদীস

পাবলিশারঃ ইসলাম হাউস

আগামী নির্বাচনে পরিবারের সকলের সহযোগীতা চাইলেন সালমান রহমান

নিউজ৩৯; তারেক রাজীবঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সভানেত্রি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাইলে নৌকা প্রতীক নিয়ে ঢাকা-১ আসন থেকে নির্বাচন করার ঘোষণা দিলেন বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।শনিবার সন্ধ্যায় একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে হোটেল সোনারগাঁয়ে তিনি এই ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘ সবাই আমাকে ধরেছে-আপনাকে এমপি হওয়া দরকার। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, ঠিক আছে এবার আমি দাঁড়াবো। আগামী নির্বাচনে নেত্রী চাইলে আমি আওয়ামী লীগ থেকে দাঁড়াচ্ছি। আসুন সম্মিলিতভাবে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ঢাকা- ১ সিটটা উপহার দেই।’

তিনি আরও বলেন, আমরা এখানে সবাই একই পরিবারের লোক। পরিবারের সদস্য হিসাবে আমি আপনাদের ভালোবাসা, আন্তরিকতা, দোয়া ও সর্বপরি সহযোগীতা চাই। আমি কেন্দ্র বিশেষে ১৭৮টি উঠান বৈঠক করবো, আমি চাই সেসব বৈঠকে আপনাদের সক্রিয় সহযোগীতা। আপনারা প্রত্যেক ভোটারের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাইবেন, আপনাদের সহযোগীতা ছাড়া আমার পক্ষে তা কষ্টসাধ্য। তাই, আপনারা আমাকে জয়ী করে সম্মিলিতভাবে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ঢাকা- ১ সিটটা উপহার দিন।

বাংলাদেশ এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট কোম্পানি বা বেক্সিমকো তাদের যাত্রা শুরু করেছিলো ১৯৭২ সালে । বেক্সিমকোর প্রতিষ্ঠাতা এবং ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান । বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় প্রথমবারের মতো উঠে এসেছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানের নাম। তিনি ১৩০ কোটি ডলারের মালিক।

২০০১ সালের নির্বাচনে সালমান এফ রহমান প্রায় ২৩০০ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান ভাতিজা নাজমুল হুদার কাছে। অবশ্য আওয়ামীলীগের একটি গ্রুপ সে নির্বাচনে সালমানকে প্রত্যক্ষ সমর্থন দেয়া থেকে বিরত থাকে। যেটি তার নির্বাচনে পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ বলেও তিনি নিজে মানেন।আর এবার ভাতিজা নাজমুল হুদা নিজেই তার জন্য নির্বাচনে ঢাকা-১ আসন তথা দোহার-নবাবগঞ্জে প্রচারিভিযানে থাকছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর এক রকম দোহারে অবাঞ্চিত হয়ে পড়েছিলেন সালমান এফ রহমান। দোহারে প্রবেশ নিয়ে তিনি বার বার বাধার সম্মুখীন হয়েছেন, বর্তমান সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুরকে নিয়ে দোহারে প্রবেশ করতে গিয়ে হয়েছেন হামলার শিকার। আর সে সময় বেক্সিমকো গ্রুপও অতিক্রম করে ব্যবসায়িকভাবে সবচেয়ে ক্রান্তিকাল।

২০০৬ সালে শেষ বারের মতো জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে এসেছিলেন দোহারে। তারপর সেনা সমর্থিত মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দীন সরকারের সময় দেশের রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের সাথে তিনিও আটক হন সেনা সমর্থিত সরকারের হাতে। পরে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। ছাড়া পান জেল থেকে। কিছু দিন ব্যবসায় নিয়ে ব্যস্ততার কারণে ও রাজনীতি থেকে দূরে থাকায়; দূরে ছিলেন দোহার থেকেও।

কিন্তু টানা ২য় বারের মতো ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় রাজনীতিতে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসাবে আবির্ভূত হন সালমান এফ রহমান। মনোনীত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উপদেষ্টা প্যানেলে। শেখ হাসিনার বেসরকারী বিনোয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা হিসাবে নিয়োগ পান এই ব্যবসায়ী।

ফলে রাজনৈতিক ভাবে আওয়ামীলীগে সক্রিয় না থাকলেও বঙ্গবন্ধুর জেষ্ঠ্য সন্তান ও প্রধানমন্ত্রীর বড় ভাই শেখ কামালের বন্ধু – সালমান এফ রহমান পরিনত হন বাংলাদেশে সরকারের অন্যতম শীর্ষ প্রভাবশালী এক ব্যক্তিতে। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সাথে তাকে প্রায়ই দেখা যেত রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রামে।

ইতঃমধ্যে পদ্মা বাধ, দোহার রক্ষা বাধ, বিভিন্ন রাস্তা ও স্কুল-কলেজের সংস্কারসহ অবকাঠামো নির্মাণে তিনি প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছেন। এছারা দোহারকে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন হিসাবেও ঘোষণা দেয়া হয়েছে। নিয়মিত তিনি সাধারণ জনগণের সাথে সম্পৃক্ত থাকছেন, দোহার নবাবগঞ্জে পরিদর্শনে আসছেন।