দোহার – নবাবগঞ্জে বর্ণিল্ভাবে বিজয় দিবস উদযাপিত

0

আজ পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্তির দিন, বিজয়ের ৪৭ বছর পূর্তি। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে স্বাধীন হয় লাল-সবুজের দেশ, আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিজয়ের দিনটিকে উদযাপন করছে দোহার-নবাবগঞ্জবাসী। কাগজের জাতীয় পতাকায় সেজেছে ঘর-বাড়ি, পথঘাট। মর্ম স্পর্শ করে মাইকে দেশাত্ববোধক গান বাজছে অলিগলি থেকে শুরু করে রাজপথে। বেজেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ।

এ ছাড়া সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। আগেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনা আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। পথে পথে বিক্রি হচ্ছে পতাকা, বিজয় দিবসের ব্যান্ড, পতাকা রঙের সঙ্গে মেলানো টুপি, গেঞ্জি।

মহান বিজয় দিবস পালনের জন্য জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। রাত ১২টায় দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ থেকে স্কয়ারে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা হয়।

সন্ধ্যায় দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সালমা ইসলামের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য গ্রেফতারের অভিযোগ

0

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১ আসনে মটরগাড়ি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হায়দার আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে দোহার উপজেলার সুতারপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এছাড়া নবাবগঞ্জ উপজেলার কইলাইল, দড়িকান্দাসহ বেশকিছু এলাকায় মটরগাড়ি প্রতীকের ব্যানার-পোস্টার ছিড়ে ফেলেছে ।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা-১ আসনে পুলিশ প্রশাসন নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করছে। বিরোধী পক্ষের প্রচারণায় নানাভাবে বাধা সৃষ্টি এবং নেতাকর্মী ও সমর্থকদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হায়দার আলীকে শুক্রবার গভীর রাতে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করেছে দোহার থানা পুলিশ।

এ বিষয়ে দোহার থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেনের দাবি, নৌকা প্রতীকের প্রচারণায় বাধাসৃষ্টি ও সমর্থকদের মারধর করার মামলায় হায়দার আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ঢাকা জেলার এসপি শাহ মিজান শাফিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আমি শুনেছি-আওয়ামী লীগের এক কর্মীকে মারধর করা হয়েছে।

তবে মটরগাড়ি প্রতীকের পোস্টার কারা ছিড়েছে তা আমরা খতিয়ে দেখব বলে জানান তিনি।

শাফিউর রহমান আরও বলেন, হায়দার আলীকে সুনির্দিষ্ট মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।

তবে মটরগাড়ি প্রতীকের কোনো কর্মী ও সমর্থককে যাতে হয়রানি করা না হয় সে বিষয়ে নজর দেয়া হবে।

এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের পুলিশের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান এসপি।

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমি ঘটনাটা আপনার কাছে শুনলাম। আমি এসপির সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নির্বাচনী প্রচারণায় দোহার থানার ওসির বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ি ও অতিউৎসাহের অভিযোগ উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিআইজি বলেন, এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে খোঁজখবর নেয়া হবে। মাঠ পর্যায় থেকে যদি অভিযোগ আসে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় সাধারণ ভোটাররা যুগান্তরকে জানিয়েছেন, ঢাকা-১ আসনে প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে সরকারি দলের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। মুখে তারা নিরপেক্ষতার কথা বললেও বাস্তবে কাজ করছে উল্টো।

বিশেষ করে দোহার ওসির নেতৃত্বে পুলিশ প্রশাসন নির্লজ্জভাবে নৌকা প্রতীকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

ভোটাররা আরও জানান, এখানে মটরগাড়ি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের বিপুল জনসমর্থন থাকায় তারা ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েছেন।

আর এ কারণেই পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে একটি পক্ষ অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ এজেন্টসহ সক্রিয় কর্মীদের নানাভাবে নাজেহাল করছেন। তারা এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আমার উদ্যোগে দোহার-নবাবগঞ্জে গ্যাস দিতে পাইপ লাইনের কাজ শুরু হয়েছে – সালমান রহমান

নিউজ৩৯ঃ তৌহিদ ইসলামঃ শনিবার, ১৫ই ডিসেম্বর নারিশা ইউনিয়নের প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের অঞ্চলে গণ সংযোগ করেছেন ঢাকা-১ আসনে মহাজোট প্রার্থী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি বিনিয়োগ বিষয়ক উপদ্বেষ্টা সালমান এফ রহমান। এ সময় তিনি সকাল ১০টা থেকে শুরু করে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রায় ৮টি উঠান বৈঠক করেছেন। এ সময় নারিশা ইউনিয়নের পশ্চিম চরের দোহার উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি নুরুল হক ব্যাপারীর বাড়ীতে উঠান বৈঠকে নারিশা ইউনিয়নের নারিশা পশ্চিম চর (০৬ নং ওয়ার্ডে) খোকন বেপারী, মহিউদ্দিন সুমন সহ ৯১ জন নেতা কর্মী বিএনপি থেকে আওয়ামীলীগে যোগদান করে।

তিনি বলেন, দোহার-নবাবগঞ্জে মা-বোনদের দাবী হচ্ছে গ্যাস সরবরাহ। যেটা মানুষের স্বপ্ন ছিল এখন তা বাস্তব। এটা সম্ভব হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বের কারণে। আমি আজ আপনাদের জানিয়ে দিতে চাই, ইতিমধ্যে আমার উদ্যোগে দোহার-নবাবগঞ্জে গ্যাস দিতে কেরাণিগঞ্জে গ্যাস পাইপ লাইনের কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমান পদ্মা সেতুর ৬০% কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে। বাকি কাজও দ্রুত সময় হয়ে যাবে। এটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ নেতৃত্বের কারণে। তাই দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিকল্প নেই।
সালমান এফ রহমান বলেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল। যার প্রমাণ আপনারা পদ্মা সেতুর কাজের মধ্য দিয়েই প্রমাণ পাচ্ছেন।


সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নৌকাকে মানুষ ভোট দেবে কারণ বিগত ১০ বছরে দেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে উন্নয়নের ফলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছে দেশ।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহাপরিদর্শক নিবন্ধন ড. খান মোঃ আব্দুল মান্নান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন, দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল, সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার, সহ-সভাপতি নুরুল হক বেপারী, নারিশা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ডাঃ আবু কালাম বেপারী (আবু কালাম চেয়ারম্যান), নারিশা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন দরানী, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আনার কলি পুতুল, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা হালিমা আক্তার লাবণ্য, ঢাকা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শামীমা ইসলাম বিথী, দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক আলমগির হোসেন, দোহার উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আলমাস উদ্দিন, বিশিষ্ট শিল্পপতি ইঞ্জিনিয়ার মেহবুবসহ আরও অনেকে।

মরবো কিন্তু নির্বাচন থেকে সরবো না – খন্দকার আবু আশফাক

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ রোববার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে এক বিজয় শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে না ফেরার কারণে সেটি দুপুর ১২টার দিকে শুরু হয়।

উক্ত বিজয় শোভাযাত্রা শেষ হলে, ঢাকা-১ আসনের বিএনপি’র প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক বলেন, বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলক আসম আব্দুর রব, সংবিধান রচয়িতা ড. কামাল, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বীর বিক্রম অলি আহমেদ, বীর প্রতীক ইব্রাহীম, বীর উত্তম শহীদ প্রেসিডেণ্ট ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক জিয়াউর রহমানের দলকেই ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে। এই নির্বাচন খালেদা জিয়ার মুক্তির নির্বাচন। মরবো কিন্তু নির্বাচন থেকে সরবো না।

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের এই বিজয় দিবস হওয়া উচিত ছিল আনন্দের, উৎসবের। ৪৮তম এই বিজয় দিবসে আমাদের আনন্দিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আজকে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত, আতঙ্কিত, উৎকণ্ঠিত—এই দেশে গণতন্ত্র টিকে থাকবে কি টিকে থাকবে না। নির্বাচন কমিশন যে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে, সেই নির্বাচন কমিশন নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। নির্বাচনে সব রকমের পক্ষপাতিত্ব শুরু করেছে সরকার। আমরা কখনো এ ধরনের নির্বাচন দেখিনি। নজিরবিহীনভাবে সরকার বিরোধী দলের নেতা-কর্মী এমনকি প্রার্থীদেরও গ্রেপ্তার করছে, মিথ্যা মামলা দিচ্ছে এবং সবভাবে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, এই নির্বাচন দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে সিদ্ধান্ত হবে যে বাংলাদেশের মানুষ স্বৈরতন্ত্রে থাকবে, নাকি গণতন্ত্রে থাকবে। বাংলাদেশের মানুষ তাদের স্বাধীনতার ফল ভোগ করবে কি ভোগ করবে না। বাংলাদেশের মানুষ নির্যাতিত হয়ে একটি ‘স্বৈরতন্ত্রের’ মধ্যে, একটি ‘একদলীয়’ শাসনব্যবস্থার মধ্যে যাবে, নাকি বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের দিকে যাবে; এই বিষয়গুলো আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচনে সিদ্ধান্ত হবে, বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়াকে এই ‘অন্যায়’, ‘অত্যাচার’, ‘অবিচার’ থেকে তাঁকে মুক্ত করা সম্ভব হবে কি না।

ঢাকা-১: জিততে হবে ‘নিজের জোরে: বিডিনিউজ২৪ এর প্রতিবেদন

0

লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নৌকার আবদুল মান্নান খানকে হারিয়ে গতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও এবার জাতীয় পার্টির প্রার্থী নন সালমা ইসলাম। নৌকা প্রতীকে সালমান এফ রহমান ভোটের লড়াইয়ে নামলেও প্রচারে এখনও পাশে পাননি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খানকে। বিএনপির হয়ে প্রথম সংসদ সদস্য হওয়ার লড়াইয়ে নামা খোন্দকার আবু আশফাকের পক্ষেও এখনও প্রচারে নামেননি ধানের শীষের একাধিকবারের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান।

গোটা নবাবগঞ্জ উপজেলা এবং দোহার উপজেলার একাংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-১ আসন ঘুরে বুধবার এই চিত্রের দেখাই মিলেছে। স্থানীয়রা বলছেন, আসনটিতে যেই জিতবে, তাকে নিজের ‘ইমেজ’ দিয়েই বিজয়ী হয়ে আসতে হবে।

ধনাঢ্য দুই প্রার্থীর কারণে ইতোমধ্যে আলোচনায় ঢাকার এই আসনটি; তাদের দুজনের সঙ্গে দুই বারের উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাকও উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। প্রার্থী বেছে নেওয়া নিয়ে ধন্দে রয়েছেন ভোটাররাও।

ঢাকা-১ আসনে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি; প্রতিবারই এমপি হন আব্দুল মান্নান। বরাবর বড় ব্যবধানে জয়ী হলেও ২০০১ সালে তার সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন ব্যবসায়ী নূর আলী।

আসন সীমানা বদলে দোহারের কিছু অংশ যোগ হওয়ার পর ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মান্নান খান আসনটি কব্জায় নিয়েছিলেন ধানের শীষের মান্নানকে হারিয়ে; কিন্তু রাখতে পারেননি।

২০১৪ সালে বিএনপিবিহীন নির্বাচনেও এই আসনটিতে উত্তাপ ছড়িয়েছিল মহাজোটের দুই শরিক আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বিতা। সেবার লাঙ্গলের কাছে হার মানতে হয়েছিল নৌকাকে। ওই হারে দল থেকেও প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছেন মান্নান খান।

সালমা ইসলাম যমুনা গ্রুপের মালিক নুরুল ইসলাম বাবুলের স্ত্রী; যুগান্তর, যমুনা টিভির মালিকানা তাদেরই। জাতীয় পার্টি এবার আসনটি আওয়ামী লীগকে ছেড়ে দিলেও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সালমা হাল ছাড়েননি, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়াইয়ে থেকে গেছেন।

সালমার প্রতিদ্বন্দ্বী সালমান বেক্সিমকো গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার; তার মালিকানায় রয়েছে ইংরেজি দৈনিক দ্য ইনডিপেনডেন্ট ও ইনডিপেনডেন্ট টিভি।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান নৌকা প্রতীকে এর আগেও একবার ভোটের লড়াইয়ে নেমেছিলেন; তবে সেবার তাকে হারতে হয়েছিল।

২০০১ সালের ওই নির্বাচন অবশ্য সালমান করেছিলেন ঢাকা-২ (দোহার) আসন থেকে; এবার তিনি ঢাকা-১ এ এসেছেন, যেখানে বেশিরভাগ এলাকা নবাবগঞ্জ উপজেলার।

চার লাখ ৪০ হাজারের বেশি ভোটারের এ আসনে এবার প্রার্থী আছেন মোট আটজন। তাদের মধ্যে সালমান এফ রহমানের নৌকা আর আবু আশফাকের ধানের শীষের সঙ্গে সালমার মোটরগাড়ি প্রতীক নিয়েই চলছে মূল আলোচনা।

এছাড়া কাস্তে প্রতীক নিয়ে সিপিবির আবিদ হোসেন, হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের কামাল হোসেন, কুলা প্রতীক নিয়ে বিকল্প ধারার জালাল উদ্দিন, গোলাপ ফুল প্রতীক নিয়ে জাকের পার্টির শামসুদ্দিন আহমদ এবং কোদাল প্রতীক নিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সিকান্দার হোসেনও ভোটের লড়াইয়ে থাকছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা ইসলামের মার্কা এবার মোটর গাড়ি

স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা ইসলামের মার্কা এবার মোটর গাড়ি

ভোটের অংক

নবাবগঞ্জের ভোটাররা ১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনেই ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ী করেছেন। প্রতিবারই বিএনপি প্রার্থীরা ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ২০০১ সালে দোহারে বিজয়ী ধানের শীষের প্রার্থীও একই রকম ভোট পেয়েছিলেন।

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবাবগঞ্জ ও দোহার যুক্ত করে ঢাকা-১ আসন গঠিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের প্রার্থী নৌকা প্রতীকে ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। পরের বার অর্থাৎ ২০১৪ সালে বিএনপিবিহীন নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় পার্টির লাঙ্গল পায় ৫২ শতাংশ ভোট।

৩০ ডিসেম্বর কাকে বেছে নেবেন দোহা- নবাবগঞ্জ? এলাকার পুরনো রাজনীতিবিদরা মনে করছেন, উত্তর খুঁজে পাওয়া সহজ হবে না।

দীর্ঘ ২২ বছর দোহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের পর ১৮ বছর ধরে পৌর মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন হাজি আব্দুর রহিম মিয়া। স্থানীয় এই বিএনপি নেতা এখন রাজনীতিতে ততটা সক্রিয় নন, তবে নির্বাচনের খোঁজ খবর রাখছেন।

তার বিচারে, জাতীয় নির্বাচনের প্রচার যতটা জোরালো হওয়ার কথা প্রধান তিন প্রার্থীর কারও ক্ষেত্রে এবার প্রচার ততটা জোরালো হচ্ছে না। বিএনপি বা আওয়ামী লীগের এবারের প্রার্থীরা স্থানীয় প্রবীণ নেতাদের প্রচারে আনতে পারেননি। সেদিক থেকে দেখলে গত পাঁচ বছর সাংসদের দায়িত্বে থাকা সালমা ইসলাম প্রচরে কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন।

আব্দুর রহিমের ধারণা, নির্বাচনের দৌড়ে এই তিন প্রার্থীর কে এগিয়ে আছেন- তা স্পষ্ট হতে শুরু করবে ভোটের সপ্তাহখানেক আগে।

দোহার পৌরসভার আরেক জনপ্রতিনিধি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নৌকা প্রতীকের সালমান সাহেব কিছু ইয়াং নেতাকর্মী নিয়ে প্রচার চালালেও আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মন গলাতে পারেননি। নেতাকর্মীরা সামনে তাকে জেতাতে কাজ করার কথা বললেও সবার মধ্যে সেই আন্তরিকতা সেভাবে নেই।”

সালমান এ সমস্যা কাটাতে না পারলে সালমা কিংবা আশফাক লাভবান হতে পারেন বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত এই জনপ্রতিনিধি।

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মান্নান খান সাহেব কিংবা উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুব সাহেবকে কিন্তু আপনারা নির্বাচনী প্রচারে দেখবেন না। দোহার পৌরসভার ১২ জন কাউন্সিলরের মধ্যে দুইজন মারা গেছেন। বাকি যে ১০ জন আছেন তার মধ্যে দুইজন সক্রিয়ভাবে সালমানের পক্ষে কাজ করছেন। বাকিরা আছেন ধরি মাছ না ছুঁই পানির মত। এবার পরিস্থিতিটা বুঝে নেন।”

সালমান এফ রহমানের পাশাপাশি এবার ঢাকা-১ থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন সাবেক সাংসদ আব্দুল মান্নান খান, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ, আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহ-সম্পাদক নূরে আলম উজ্জ্বলসহ বেশ কয়েকজন। নৌকার বৈঠা সালমানের হাতে যাওয়ায় এখন আর বাকিদের দলীয় প্রচারে দেখা যাচ্ছে না।

একইভাবে ধানের শীষ পেয়ে ভোটে নামা আবু আশফাকও বিএনপির সাবেক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নানকে পাশে পাননি এখনও। মান্নানের মেয়ে মেহনাজ মান্নানও এবার ধানের শীষের দাবিদার ছিলেন।

নবাবগঞ্জ উপজেলার বাগমারা এলাকার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান বলেন, “দোহার-নবাবগঞ্জের মাটি বিএনপির ঘাঁটি- একটা সময় এটা খুব বলা হত। কিন্তু সময়ে সেই পরিস্থিতি বদলে গেছে। নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি এখন দুই ভাগে বিভক্ত। বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশ রয়েছে আব্দুল মান্নানের সঙ্গে, অন্য অংশ গেছে আশফাকের সঙ্গে।”

অবশ্য দলীয় বিভাজনের চেয়ে ‘প্রশাসনের বাধাই’ আশফাকের জ্যন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করেন পৌর মেয়র আব্দুর রহিম মিয়া।

“আওয়ামী লীগ প্রশাসনের অধীনে দুটি নির্বাচনে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়ে আশফাক তার জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেছে ন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনের বাধা ডিঙিয়ে তিনি কতটুকু টিকতে পারবেন সেটাই দেখার বিষয়। আশফাক কোনো কারণে পিছিয়ে পড়লে তার ভোট নৌকায় না গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমার বাক্সে যেতে পারে।”

এবার নৌকার প্রার্থী সালমান

এবার নৌকার প্রার্থী সালমান

ভাবমূর্তি

দোহারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. সিরাজ নৌকার সমর্থক। বড় ব্যবসায়ী হিসেবে সালমান এফ রহমানের ভাবভূর্তি তার কাছে যথেষ্ট উজ্জ্বল। ফলে তার বিবেচনায় সালমানই এগিয়ে থাকছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে সিরাজ বলেন, “এইবার নৌকা মার্কা পাস করবে। সালমান এফ রহমান সারাদেশে একজন পরিচিত মানুষ, তার মত ব্যক্তিকে যদি আমরা পাস করাতে পারি তাহলে এলাকার উন্নয়ন বেশি হবে।”

দোহারের পালামগঞ্জ বাজারে ২৫ বছর ধরে চা বিক্রি করে আসা মিজানুর রহমানও নৌকা নিয়ে আলোচনা দেখছেন বেশ। তবে মানুষের মনের কথা আর মুখের বুলি নিয়ে তার সংশয় আছে। তার ভাষায়, কার মনে কী সেটা ‘ভেতরের ব্যাপার’।

নবাবগঞ্জের বারুলিয়া বাজারের ৮০ বছরের বৃদ্ধ চাঁন মিয়া বলেন, সালমান আগে দোহার থেকে ভোট করে হেরেছিলেন। এবার তিনি তিনি নবাবগঞ্জের ভোটও পাবেন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সালমানের নৌকাই জিতবে বলে তার বিশ্বাস।

আর বারুলিয়া বাজারের পিঠা বিক্রেতা শাবানা বেগম বলেন, “এলাকার মতিগতি কিছু কউন যা না। কে কোন দিক দিয়া নির্বাচিত হয় সেইটা এখন বলা কঠিন। তিন জনের নামই তো শুনি। যেই জিতুক, কোনো গ্যাঞ্জাম ছাড়া নির্বাচিত হোক, এইটা আমরা সবাই চাই।”

ভোট দেওয়া সময় এলাকার উন্নয়নের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাবও ভোটাররা মাথায় রাখবেন বলে মনে করেন নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের উত্তর বালুখণ্ড এলাকার মো. মনির হোসেন।

তিনি বলেন, “আমাদের শোল্লার আটকাহনিয়া, উত্তর বালুখণ্ড, মহিষদিয়া, দত্তখণ্ড ও কুমুল্লি এলাকার রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। চলাচলে এ রাস্তায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আর বর্ষার সময় যে কী দুর্ভোগ, সেটা বলে বোঝানো যাবে না। ভোটের সময় সবাই প্রতিশ্রুতি দেয়। বলে রাস্তা ঠিক করে দেবে, বালুখণ্ড আর পাতিলঝাপে কালিগঙ্গার ওপর সেতু বানিয়ে দেবে। ভোট পার হলে তো আর কেউ প্রতিশ্রুতি রাখে না।”

ধানের শীষের আশফাকের মাথা ব্যথা প্রশাসন

ধানের শীষের আশফাকের মাথা ব্যথা প্রশাসন

প্রার্থীর ভাবনা

আওয়ামী লীগ সভাপতির উপদেষ্টা সালমান তার নির্বাচনী সভাগুলোতে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন দেদার, সেই সঙ্গে গত পাঁচ বছরে এলাকার উন্নয়নের কৃতিত্বও নিজে দাবি করছেন। তবে দলের প্রতীকের চেয়ে ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়েই তিনি ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টায় আছেন।

বুধবার নবাবগঞ্জে এক পথসভায় তিনি বলেন, “আপনারা জানেন যে, আমি একজন সফল ব্যক্তি। আল্লাহ আমাকে অনেক বেশি দিয়েছে। প্রশ্নটা আসছে- আমি কেন এমপি হতে চাই? এটা ঠিক প্রশ্ন। আমি চাইলে আগেই এমপি হতে পারতাম। এখন কেন হতে যাচ্ছি? কেন আপনাদের কাছে ভোট চাচ্ছি?

“শেখ হাসিনার এত উন্নয়নের মধ্যে আমি দোহার-নবাবগঞ্জকে মডেল উপজেলায় পরিণত করতে চাই। এর জন্য প্রধানমন্ত্রী আমাকে চোখ বন্ধ করে টাকা দিয়ে দেবেন। এই সুযোগটা আমি পেয়েছি। উন্নয়ন করে দোহার-নবাবগঞ্জের চেহারা বদলে দিতে পারি।”

বর্তমান সাংসদ সালমা ইসলামও যে দলীয় মার্কার চেয়ে নিজের ভাবমূর্তিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন- সেটা তার ব্যক্তিগত সহকারী ইররানুল হক সুমনের কথায় স্পষ্ট।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে তিনি বলেন, “ব্যক্তি সালমা ইসলাম দলীয় সালমা ইসলামের চেয়ে অনেক বেশি আলোকিত, শক্তিশালী। এবার দলের মনোনয়ন না পেলেও ব্যক্তির কাজ ও পরিচিতির ওপর ভর করেই ভোটে দাঁড়িয়েছেন। দোহার-নবাবগঞ্জে জাতীয় পার্টির সংগঠনটা তার হাতেই গড়া। তাই সালমা ইসলাম স্বতন্ত্র দাঁড়ালেও জাতীয় পার্টির শতভাগ নেতাকর্মী তার সঙ্গে। জয়ের ব্যপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী।”

গত পাঁচ বছর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকায় এলাকার ৭০ হাজার হিন্দু ভোটও সালমার বাক্সে যাবে বলে আশা করেছেন তার সহকারী।

প্রথমবার সংসদ নির্বাচনে আসা আবু আশফাকের দল বিএনপি একটি কঠিন সময়ের মধ্যে যাচ্ছে। পুলিশ বিভিন্ন স্থানে কর্মীদের বাধা দিচ্ছে এবং হয়রানি করছে বলে অভিযোগ ধানের শীষের এই প্রার্থীর।

“তবে আমরা নির্বাচন থেকে দূরে সরব না। যত বাধাই আসুক, আমরা নির্বাচন করব, বিভিন্ন জায়গায় প্রোগ্রামও করব।”

https://m.bdnews24.com/bn/detail/11thparliamentaryelection/1571471?fbclid=IwAR1wHFCWcGc5xYxwNRL9olMMUY9RlfAHXozozw5h_R1-8F2TtutFFCuHqQs

নির্বাচিত হলে দোহার-নবাবগঞ্জ এলাকায় গ্যাস সংযোগের ব্যবস্থা: সালমা ইসলাম

নির্বাচিত হলে দোহার-নবাবগঞ্জ এলাকায় গ্যাস সংযোগের ব্যবস্থা করা হবে, শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মাণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা হবে। এমন লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন ঢাকা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম।

সকালে নবাবগঞ্জে নিজ গ্রাম থেকে প্রচারণা শুরু করেন মোটর গাড়ী প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামা সাবেক প্রতিমন্ত্রী। সালাম ইসলাম এসময় চুড়াইন ইউনিয়নের কিছু এলাকা ও গোবিন্দপুরে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। ঘুরে ঘুরে কথা বলেন ভোটারদের সাথে।

তিনি বলেন, বিগত পাচ বছরে এলাকার উন্নয়নে সচেষ্ট ছিলেন তিনি। আবার নির্বাচিত হলে নবাবগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন করা হবে। তিনি জানান, এলাকার স্বাস্থ্যখাতে অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে, জনগণ তাকে ভোট দিলে, সেই কাজ শেষ করবেন তিনি।

এটা কোন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হতে পারে না – খন্দকার আবু আশফাক

নিউজ৩৯কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ঢাকা-১ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক বলেছেন, “আমাদের কাছে কেন যেন মনে হচ্ছে, নির্বাচনটা ধানের শীষের সঙ্গে সরকারি দল আওয়ামী লীগের নয়; নির্বাচনটা মনে হচ্ছে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পুলিশ, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নামে যারা রয়েছেন তারা। আওয়ামী লীগ নয়, সরকার বিএনপির প্রতিপক্ষ হিসেবে পুলিশকে ব্যবহার করছে।”

তিনি বলেন,“ বুধবার আমাদের শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী শো-ডাউন হয়েছে। আমাদেরকে জয়পাড়া কলেজ মোড়ে বাধা দিলে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল নিয়ে লটাখোলা বাজারে চলে আসি। একই সাথে সমাপনী বক্তব্যের সময় হটাত আমাদেরকে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। আমাদের উপর  আক্রমণের পর আক্রমণ হচ্ছে; যা ইচ্ছে তা করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের প্রটোকল দেওয়া হচ্ছে; নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। আর আমাদের ধরছে, পেটাচ্ছে, গ্রেপ্তার করছে, সভা পণ্ড করা হচ্ছে।

নিউজ৩৯কে তিনি আরও বলেন, আমাদেরকে ছাত্রলীগ-আওয়ামীলীগ-যুবলীগ আক্রমণ করলে তাদেরকে পুলিশ এরেস্ট না করে, আমাদেরকে ধরছে, মামলা দিচ্ছে, রিমান্ডে দিচ্ছে। এটা কোন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হতে পারে না। যেভাবে হামলা করা হচ্ছে, তাতে নির্বাচন করাটা দুরূহ হয়ে যাচ্ছে। কমিশন যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেন, সে আবেদনই নির্বাচন কমিশনের নিকট জানাচ্ছি”

খন্দকার আবু আশফাক আরো বলেন, ভোটের মাঠে সমান সুযোগ নিশ্চিতে এখন থেকে সেনা মোতায়েনের দাবি জানাই। সেই সঙ্গে বিএনপি ও জোটের প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ কে নিরপেক্ষ থেকে জনগণের টাকায় নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের আহবান জানাই।

দোহারে ৭৮টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

দোহার উপজেলার ৭৮টি ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার সরকারি জয়পাড়া পাইলট মডেল স্কুলে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষন কর্মশালা শুরু হয়। এ প্রশিক্ষন কর্মশালায় ৭৮ জন প্রিজাইডিং অফিসার ও ৩৬০ জন সহকারী প্রিজাইডিং ও ৭২০ জন পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষন প্রদান করা হয়।

এইবার ১৭৪ সংসদীয় আসন, ঢাকা-১ এ মোট ভোটার  ৪,৪০,৪০৭, পুরুষ ভোটার ২,১৬,৮০৫ এবং নারী ভোটার ২,২৩,৬০২ জন। বিগত দশম সংসদীয় নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ৩,৭৫,৯৫৮ জন। একাদশ সংসদীয় নির্বাচনে ভোটার বেড়েছে ৬৪,৪৪৯ জন। বিগত নির্বাচনে প্রায় ১,০৩,০০০ ভোট পড়েছিল। ভোট দেয়নি প্রায় ২,৭২,০০০ জন। তাই এই বিশাল ভোট হিসাব সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে তাদের দায়িত্ব, ক্ষমতার ব্যবহার ও ভোটগ্রহণবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেয়া হইয়েছে।

দোহার উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিমা বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা করা যাবে না। এ ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

সালমান এফ রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

0

ঢাকা-১ আসনে সালমান এফ রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।  সালমান এফ রহমান বর্তমানে দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার উন্নয়নে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

  1. দোহার ও নবাবগঞ্জের ধলেশ্বরী,কালিগঙ্গা,ইছামতীর ভাঙ্গন প্রতিরোধ।
  2. পদ্মার তীরে ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা।
  3. টুরিস্ট স্পষ্ট স্থাপন।
  4. এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন।
  5. ইছামতীর পানির প্রবাহ ও নাব্যতা বাস্তবায়ন।
  6. নবাবগঞ্জ উপজেলায় ৭০০/৮০০ একর জায়গায় বড় মাপের অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার মধ্যদিয়ে ।
  7. যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
  8. গ্যাস পাইপ লাইন সংযোগ প্রদান।
  9. নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
  10. আড়িয়াল বিল ও কোঠাবাড়িসহ সর্বত্র কৃষি ও মৎস উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
  11. তাঁতি ও জেলেদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান।
  12. নারী সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ।
  13. শিক্ষা উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
  14. দোহার নবাবগঞ্জ এলাকায় একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা।
  15. স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণ।
  16. মাদক,সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
  17. বাজার এলাকায় যানজট নিরসনে বাইপাস সড়ক বা ফ্লাইওভার নির্মাণ।
  18. নতুন স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা।
  19. যুব সমাজের কর্মসংস্থান।
  20. ধর্মীয় মূল্যবোধের সংরক্ষণ।
  21. ব্রিজ কালভার্টের উন্নয়ন।
  22. সামাজিক হানাহানি প্রতিরোধ এবং দোহার নবাবগঞ্জকে শান্তির জনপদ ও ব্যাপক উন্নয়নশীল এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা ।

ঢাকা-৩ঃ নৌকার প্রচারণায় সরব বিপু, নীরবে ভোট চাইছেন গয়েশ্বর

ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জ) নির্বাচনী আসন। কেরানীগঞ্জের ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে এই আসনের সীমানা। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। তার বিপক্ষে এ আসনে লড়ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দল মিলিয়ে রয়েছে আরো ৪ জন প্রার্থী। এলাকায় প্রবেশ করতেই বোঝা যায় দরজায় কড়া নাড়ছে নির্বাচন। তবে সেটা যেন একটি দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। জিনজিরা, আগানগর, তেঘরিয়া, কোন্ডা, শুভাঢ্যা, কদমতলী ও ইকুরিয়াসহ পুরো এলাকার মধ্যে নৌকা মার্কার পোস্টারে সয়লাব। ধানের শীষের ছিটেফোঁটাও নেই কোথাও।

অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা মার্কা দেখা গেছে শুধু তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনেই। আশপাশের কিছু এলাকায় কয়েকটা হাতপাখার পোস্টারের দেখা মিললেও নেতাকর্মী বা গণসংযোগের কোনো ছায়া পাওয়া যায়নি গত দুইদিনে। কার্যালয়ও বন্ধ পাওয়া গেছে সব সময়। বুধবার জিনজিরা ইউনিয়নের জনি টাওয়ার মোড়, ফেরিঘাট, কাঠুরিয়া, তাওয়া পট্টি ও আগানগর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গোটা এলাকার মহল্লার গলি পথেও সাদা কালো পোস্টারে ছেয়ে ফেলা হয়েছে। অন্য কোনো দলের পোস্টার লাগানোর যেন কোনো জায়গায় নেই। পাশাপাশি বিভিন্ন মোড়ে বড় বড় নৌকা বানিয়ে টানিয়ে রাখা হয়েছে। প্রতিটি মহল্লায় বসানো হয়েছে অস্থায়ী নির্বাচনী অফিস। গতকাল তেঘরিয়া, কোন্ডা, শুভাঢ্যা ও ইকুরিয়া এলাকায় গিয়েও দেখা যায় একই চিত্র। নৌকা ছাড়া অন্য কোনো প্রতীকের দেখা মেলেনি কোথাও। তবে দুই এক জায়গায় হাতপাখার পোস্টার দেখা গেছে। সরজমিনে জিনজিরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিসে গিয়ে দেখা যায়, নেতাকর্মীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। নসরুল হামিদ বিপু প্রতিদিনই বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে নৌকার পক্ষে গণসংযোগ করছেন।

বুধবার তিনি গণসংযোগ করেন জিনজিরা ইউনিয়নের ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়। অন্যদিকে গতকাল তিনি ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রচারণা শুরু করেন। একই সঙ্গে প্রতিদিন তিনি অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার কর্মিসভায়। পুরো ঢাকা-৩ নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা যায় সার্বক্ষণিক নৌকা মার্কার পক্ষে মাইকে প্রচারণা চালাচ্ছেন কর্মীরা। রিকশায় একটি মাইক নিয়ে একাধিক টিমে এ প্রচারণা চলছে। তবে ব্যতিক্রমী পাওয়া গেছে ধানের শীষের প্রচারণা। জিনজিরা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও নির্বাচন সামনে রেখে সার্বক্ষণিক খোলা রাখা হয়েছে। কার্যালয়ের সঙ্গে একটি মাইক দিয়ে সারাদিন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ধানের শীষের পক্ষে চলছে প্রচারণা। এর বাইরে কোথাও প্রচারণার মাইক চোখে পড়েনি। পাওয়া যায়নি কোনো পোস্টার। তবে কার্যালয়ের সামনে কয়েকটি সাদা কালো ফেস্টুন টাঙানো দেখা গেছে।

কার্যালয়ে অবস্থানরত নেতাকর্মীরা মানবজমিনকে জানান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বুধবার জিনজিরা বাজার থেকে ধানের শীষের প্রচারণা শুরু করেন। আগানগর ইউনিয়নের দিকে বহর নিয়ে এগিয়ে যান। রাত পর্যন্ত আগানগর ইউনিয়ন এলাকাতেই প্রচারণা চালাবেন। তবে গতকাল তিনি ঢাকায় দলীয় কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকায় কোনো গণসংযোগ করেননি। এলাকার বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোনো হাঁক ডাক না ছেড়ে ভোটারদে দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বড় ধরনের কোনো জনসমাগম না ঘটিয়েই তিনি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। মোক্তার আলী নামের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক নেতা মানবজমিনকে বলেন, অনেক আগে থেকে নসরুল হামিদ বিপুর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছি।

এলাকার বিভিন্ন ক্লাবে ও মোড়ে কর্মিসভা ও পথসভা করছি। আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে আমরা কয়েকটি টিমে ভাগ হয়ে প্রচারণা চালাচ্ছি। জিনজিরা ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির জয়েন্ট সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম মানবজমিনকে জানান, প্রতিনিয়ত পুলিশ আমাদের নেতাকর্মীদের বাসায় গিয়ে হয়রানি করে। কথায় কথায় মামলা দেয়। গ্রেপ্তার করে। আমরা ঠিক মতো এলাকায় থাকতে পারি না। তারপরও আমরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। কারণ এই নির্বাচনকে আমরা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন হিসেবে দেখছি। এ আসনে হাতপাখার খুব বেশি কার্যক্রম দেখা না গেলেও কেরানীগঞ্জ থানা ইসলামী আন্দোলন কার্যালয় এলাকা গিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাতপাখার প্রার্থী সুলতান আহমদ খান প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা কয়েকটি ভাগ হয়ে বিভিন্ন মসজিদ এলাকা থেকে প্রচারণা শুরু করেন।

সুলতান আহমদ খানের পক্ষে প্রতিদিন হাতপাখা নিয়ে মিছিলও করেছেন কর্মী-সমর্থকরা। এ আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের একক প্রার্থীসহ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন- মই মার্কা নিয়ে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের মজিবুর হাওলাদার, সিংহ মার্কা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আরিফুর রহমান লিটন, জিপগাড়ি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আলী রেজা ও উদীয়মান সূর্য প্রতীক নিয়ে গণফোমের প্রার্থী মোস্তফা মোহসিন মন্টু। যদিও মোস্তফা মোহসিন মন্টু এ আসনে না লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের বাইরে এসব প্রার্থীর কোনো নির্বাচনী প্রচারণা লক্ষ্য করা যায়নি পুরো কেরানীগঞ্জ এলাকায়।