নির্বাচন করতে পারছেন না ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক

উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে সরাসরি নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করার বিধানে আটকে গেছে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও সদ্য সাবেক নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাকের প্রার্থীতা। চেম্বার জজ থেকে তার প্রার্থীতার শুনানী পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে বদলী করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে স্থানান্তর হওয়ার কারনে তার আদেশের শুনানীর দিন ধার্য করা হয়েছে ১০ জানুয়ারী। ফলে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাকের অংশ গ্রহন এক হিসাবে অসম্ভবই হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কুলা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা বিকল্প ধারার জালাল উদ্দিনের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ১৭ ডিসেম্বর সোমবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল খন্দকার আবু আশফাকের মনোনয়ন স্থগিতের এ আদেশ দেন। এর বিরুদ্ধে করা রিভিউএ ২৩ ডিসেম্বর চেম্বার জজ আদালতে উঠার কথা থাকলেও একদিন পিছিয়ে ২৪ ডিসেম্বর সোমবার চেম্বার জজ আদালতে উঠলে তার শুনানীর জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠায় আদালত। এই সময় খন্দকার আবু আশফাকের পক্ষে যুক্তি তর্ক উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ ও ব্যারিস্টার কাজল।

খন্দকার আবু আশফাকের একটি সূত্র জানায়, যেহেতু ১০ তারিখে এই রুলের পূর্ণাঙ্গ শুনানী হবে সেহেতু ৩০ ডিসেম্বর ঢাকা-১ সংসদীয় আসনে নির্বাচন স্থগিত করার জন্য আবেদন করা হতে পারে।

সুতাহীন জালে ধরা পড়ছি আমরা

সকাল ৬ টা

ঘুম ভাঙ্গলো ফেসবুকের নটিফিকেশনে,চোখ মুছতে মুছতে ফেসবুক চালানো  শুরু হল।আজ স্কুল বা প্রাইভেট নেই কারণ আজ শুক্রবার।তাই বলে পড়া যে নেই তা নয়,পড়তে বসব ঠিক করলাম ৯ টায়।ফ্রেশ হয়ে আসার পর ইউটিউব এর নটিফিকেশন পেলাম,সাবস্ক্রাইব করাছিল কোন চ্যানেল তারা নতুন ভিডিও দেওয়ার  কারণে নটিফিকেশন পেলাম।ভিডিও চালু করার পর ঢুকে গেলাম ইউটিউব এর জগতে।একটার পর একটা ভিডিও দেখেই যাচ্ছি। ৯ টার সময় পড়তে বসার কথাছিল কখন যে ৯ টা পার হয়ে দুপুরের খাওয়ার সময় হয়ে গেছে বলতে পারব না।

মূল কথার আসা যাক,রাউটারের মাধ্যমে ওয়াইফাই দিয়ে নেট চালানো এখন সবারই জানা।আগে ঢাকাতে রাউটারের ব্যবহার প্রচুর পরিমানে থাকলেও এখন গ্রামেগঞ্জের মানুষও একটু সাশ্রয় ও বাধাহীনভাবে ইন্টারনেটের দুনিয়ায় বিচরণ করার জন্য এই ওয়াইফাই ব্যবহার করছে।তরুণদের কাছে এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাড়িয়েছে। আগে বিদ্যুৎ চলে গেলে বিরম্বনা বোধ হত কিন্তু এখন বিদ্যুৎ  চলে গেলে আরো বেশি বিরম্বনা হয় কারণ রাউটারটিও বন্ধ থাকে ইচ্ছে হলেই যাওয়া যায় না ইন্টারনেটের দুনিয়ায়।আর যাদের ওয়াই -ফাই এর পাশাপাশি মোবাইল ডাটা থাকে  তাদের কথা আলাদা।বিরতীহীনভাবে ইন্টারনেটের দুনিয়ায় রাজত্ব করা যায়।এই ইন্টারনেট আমরা ব্যবহার করি ফেসবুক, ইউটিউব, মেসেঞ্জার,what’s app ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম চালানোর জন্য।এই ইন্টারনেটে আমারা এতটাই আসক্ত হচ্ছি যা মাদকের থেকেও ভয়াবহ। আমরা ইন্টারনেটকে কেন মাদকের সাথে তুলনা করছি।ইন্টারনেট এমন এক প্রকার জিনিস যা প্রয়োজনের সময় জীবন রক্ষাকারী ঔষধের মত কাজ করে আবার অতিরিক্ত এবং প্রয়োজনহীন ভাবে ব্যবহার করলে বিষাক্ত মাদকের মত কাজ করে।এই কথাগুলো আমাদের সকলের জানা।এর ভয়াবহতা এখন এতটাই যে মানুষ একবেলা না খেয়ে থাকলেও কিছু মনে হয় না,কিন্তু কিছু মূহুর্ত ইন্টারনেট ব্যবহার না করতে পারলে আমাদের মনে হয় আমরা অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত আমরা।

আমাদের এইজন্য ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ করতে হবে এমন কিন্তু না।এই ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনেক তরুণ তাদের রুটিরুজি যোগার করছে,কেউ বিদেশের ক্লাস ও ডিগ্রি নিতে পারছে,কেউ বিশ্বের  কাছে নিজেকে তুলে ধরতে পারছে,আর এই কাজগুলো যারা করতে পারছে না,এই চিন্তাগুলো যাদের মাঝে নেই তারাই হারিয়ে যাচ্ছে  ইন্টারনেট রূপী মাদকে।এর সুষ্ঠু ব্যবহার করার জন্য অনেক সচেতনতা অনেক কার্যক্রম গ্রহণ করার হয়েছে।কিন্তু আসলেও কি আমারা এর যথউপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারছি?পরিবার থেকে যতক্ষণ না পর্যন্ত সচেতনতা বোধ জাগ্রত হবে ততক্ষণ প্রয়োজনীয় ইন্টারনেট ব্যবহার হবে মাদকের মত।সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ  করার জায়গা রয়েছে। কি কি ভাবে এই ইন্টারনেটের যথউপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় তা জনগণসহ তরুণদের মাঝে প্রকাশ করতে হবে।ইউটিউব যে আমাদের কত বড় শিক্ষক, ফেসবুক যে কত বড় বাজার জানাতে হবে।স্বপ্ন দেখাতে হবে এই ইন্টারনেট ব্যবহার করে কীভাবে নিজেদের,সমাজের ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন করা যায়।এর দায়িত্ব কার? উদ্যোগী হতে হবে সবাইকে – নিজেকে,পরিবারকে,শিক্ষককে, সমাজ ও রাষ্ট্রকে।অন্যথায় এর করাল গ্রাসে হারিয়ে যাবে অনেক সম্ভাবনাময় তরুণ।

লেখক: প্রান্ত ঘোষ

ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগ

তেজগাঁও কলেজ,ঢাকা

দোহারে সালমা ইসলামের মঞ্চ ভাংচুরের অভিযোগ

ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের নির্বাচনী মঞ্চ ও মাইক্রোবাস ভাংচুর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের তীর আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের দিকে।

শনিবার বিকালে ঢাকার দোহারের মেঘুলা ধোপাবাড়ি মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম অভিযোগ করেন। সালমা ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁর স্বতন্ত্র প্রতীক মটরগাড়ি’র পক্ষে কেউ প্রচারণা বা গণসংযোগ করলে তাদেরকে এলাকা ছাড়া করা হবে বলে হুমকি দিচ্ছে আওয়ামীলীগের কর্মী-সমর্থকরা। এমনকি মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠানোর হুমকি দিয়েছে তারা।

জানা যায়, শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় দোহারের মেঘুলার ধোপাবাড়ি মাঠে মটরগাড়ি প্রতিকের নির্বাচনী সভা ছিল। কিন্তু বেলা ৩টার দিকে শতাধিক নৌকা প্রতিকের কর্মী-সমর্থকরা ওই নির্বাচনী সভার প্যান্ডেল, চেয়ার ভাংচুর করে। পরে প্যান্ডেলসহ দুই শতাধিক চেয়ার ভেঙ্গে পদ্মানদীতে ফেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন মটরগাড়ি প্রতিকের কর্মী- সমর্থকরা।

জানা যায়, বিকাল ৩টার দিকে পাঁচটি মটর সাইকেলে ১০-১৫ জন যুবক এবং কয়েকটি মাইক্রোবাসে প্রায় শতাধিক নৌকা প্রতিকের সমর্থক মটরগাড়ি প্রতিকের প্যান্ডেল এবং চেয়ার ভাংচুর করে। প্রত্যেকটি গাড়ি এবং মটরসাইকেলে নৌকা প্রতিকের পোস্টার, স্টিকার লাগানো ছিল। এসময় তারা জয়বাংলা, জয়বঙ্গবন্ধু শ্লোগান দেয়। প্যান্ডেল ভাংচুরের সময় নৌকা প্রতিকের ক্যাডারদের হাতে লাঠি-সোটা ছিল। এসময় এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে, বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে দোহার থানার মোড়ে মটরগাড়ি প্রতিকের একটি মাইক্রোবাসে হামলা ও ভাংচুর করেছে নৌকা প্রতিকের নেতাকর্মীরা। প্রত্যক্ষদর্শী হোসেন বলেন, মটরগাড়ি প্রতিকের পোস্টার লাগানো মাইক্রোবাস দোহার থানার মোড়ে আসলে ২০-২৫ জন যুবক নৌকার শ্লোগান দিয়ে মাইক্রোবাসে হামলা চালায়। এসময় তাদের হাতে লাঠি সোটা ছিল। তারা গাড়ি ভাংচুর করে জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু; নৌকার জয় শ্লোগান দিতে দিতে চলে যায়।

এ প্রসঙ্গে দোহার সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মো. মাহবুবুর রহমান বলেন,  মটরগাড়ি প্রতিকের গাড়ি ভাংচুর বা সমর্থকদের হয়রানির বিষয়ে কোন তথ্য আমার জানা নেই। পুলিশের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগও করেনি। অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মটরগাড়ি প্রতিকের প্যান্ডেল এবং মাইক্রোবাস ভাংচুরের ঘটনা জেনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই সময়ে যেভাবে নিরাপদ রাখবেন আপনার ওয়েবসাইট

0

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অনলাইনে টের পাওয়া যাচ্ছে সাইবার ‍যুদ্ধের উত্তাপ। এই উত্তাপের মধ্যে হ্যাকারদের হাত থেকে ওয়েবসাইট নিরাপদে রাখা এখন চ্যালেঞ্জের বিষয় । কোনও ইস্যুকে সামনে রেখে হ্যাকাররা সক্রিয় হয়ে ওঠে অনলাইনে। কোনও সাধারণ সাইট, ব্লগ সাইট বা নিউজ সাইটে মতের আদর্শগত বা অমিল বিষয়ক কোনও তথ্য পেলে হ্যাকাররা সংশ্লিষ্ট সাইট হ্যাক করে এর প্রতিবাদ জানায়। অনেক সময় সাইট তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তাদের পছন্দের কনটেন্ট প্রকাশ করে থাকে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, সাইটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল থাকলে হ্যাকাররা তা সহজেই ভেঙে ফেলে। বেশিরভাগই সময় হ্যাকাররা অনিষ্ট করার জন্য সাইট হ্যাক করে। আবার অনেকে সাইট ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ চেয়ে কৌশলে যোগাযোগ করতে থাকে। হ্যাকারদের দেওয়া জায়গা অনুযায়ী অর্থ পৌঁছে দিলে সাইট ফিরিয়ে দেয়। অনেক সময় হ্যাকাররা তাদের সক্ষমতা দেখাতে সাইট হ্যাক করে ‘সাইট কর্তৃপক্ষ’কে সাইটের নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতাগুলো দেখিয়ে দেয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বর্তমান সময়ে অনিষ্ট করতে এবং সাইট কর্তৃপক্ষকে বিপদে ফেলতেই সাইট হ্যাক করা হতে পারে। ফলে এই সময়ে ওয়েবসাইটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করে তোলার কোনও বিকল্প নেই।

ওয়েব সাইটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সাইট তৈরি করতে ভালো প্ল্যাটফরম ব্যবহার করা, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার একেবারে প্রাথমিক সমাধান। অন্যদিকে, সাধারণ ওয়েবসাইট বা নিউজ সাইট নিরাপদ রাখার কিছু কৌশল বা পদ্ধতি অবলম্বন করা হলে নিরাপদ থাকা যাবে। এরমধ্যে আছে হেল্প টেস্ট, ওয়েবসাইট স্ক্যানিং সিস্টেমের ব্যবহার। হেল্প টেস্ট ও সফটওয়্যার স্ক্যানিং কৌশল প্রয়োগ করলে সাইটের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা যায়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ও সাইবার নিরাপত্তা গবেষক ড. তৌহিদ আই. ভূইয়া বলেন, ‘ওয়েবসাইটে নিরাপত্তা ত্রুটি থাকলে এবং যেখানে সাইটটি হোস্ট করা সে জায়গাটা অনিরাপদ থাকলে হ্যাকাররা সহজে সাইট হ্যাক করতে পারে। এসব দোষে দুষ্ট সাইট হ্যাক করার জন্য হ্যাকার হওয়ার দরকার নেই। সফটওয়্যারের বিভিন্ন টুলস দিয়েই সেসব সাইট হ্যাক করা সম্ভব।’ তিনি ওয়েবসাইটগুলোকে নিয়মিত ‘হেল্প টেস্ট’ করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘হেল্প টেস্ট করা হলে সাইটগুলোর দুর্বলতা চিহ্নিত করে তাতে শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুললে হ্যাকাররা সহজে আর সাইটগুলো হ্যাক করতে পারবে না।’

অন্যদিকে, স্ক্যানিং সফটওয়্যার বিষয়ে রাফু সফটের প্রধান নির্বাহী রাফায়েত হোসেন রাফু বলেন, ওয়েব সাইট স্ক্যান করেও সমস্যা চিহ্নিত করা যায়। এরকম একটি সফটওয়্যার রয়েছে। এই স্ক্যানারটির নাম ওয়েবসাইট স্ক্যানিং অ্যান্ড সিকিউরিটি সলিউশন (ডাব্লিউ ট্রিপল-এস)। এটা দিয়ে যেকোনও সাইট স্ক্যান করলে সাইটের দুর্বলতা,ভালনারিবিলিটি ধরা পড়ে। এসব সমস্যা সাইট ডেভেলপারদের দিয়ে ঠিক করিয়ে নেওয়া যায়। ফলে সাইট হয় সুরক্ষিত।’

সংশ্লিষ্টরা বলেন, ওয়েবসাইটগুলোতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা, পেশাদার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ করা, সার্ভার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা এবং শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে হ্যাকাররা সহজে কোনও সাইট হ্যাক করতে পারে না।

আমি দোহার-নবাবগঞ্জকে বাংলাদেশের মডেল উপজেলা হিসাবে তৈরি করবো: সালমান এফ রহমান

আমি ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলাকে বাংলাদেশের মডেল উপজেলা হিসাবে তৈরি করবো।  এর জন্য প্রয়োজন আপনাদের ভোট। আপনারা আমাকে ভোট দিলে আপনাদের স্বপ্নের দোহার-নবাবগঞ্জ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন সালমান এফ রহমান। শনিবার বিকালে দোহার উপজেলার বিশিষ্ট শিল্পপতি আকতার হোসেন বাবুলের বাড়িতে নির্বাচনী বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী সালমান এফ রহমান বলেন, আপনারা জানেন এবার আমি ঢাকা-১ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছি। নৌকা বিজয়ী হলে দোহার-নবাবগঞ্জে শিল্প কারখানা গড়ে তোলা হবে। আর শিল্প কারখানা হলে স্থানীয় হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। তাই আসন্ন নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিন।

এসময় উপস্থিথ ছিলেন শিল্পপতি আকতার হোসেন বাবুল, দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল, সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক সুরুজ আলম সুরুজ, রাইপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম প্রমূখ।

নৌকার বিজয় আনতে হবেঃ পনিরুজ্জামান তরুন

 

আগামী সংস নির্বাচনে দেশ ও জাতীর সার্থে নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে। সেই সাথে দোহার ও নবাবগঞ্জের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য নৌকার বিজয়ের কোন বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুন। শুক্রবার বিকালে নবাবগঞ্জ উপজেলার বক্সনগর ইউনিয়নে আয়োজিত এক এক উঠান বৈঠকে তিনি এই কথা বলেন।

উঠান বৈঠকে পনিরুজ্জামান তরুন বলেন, দোহার-নবাবগঞ্জের উন্নয়নের জন্য নৌকার বিকল্প নেই। আর এই আসনে নৌকার মাঝি সালমান এফ রহমান। গত নির্বাচনে সালমা ইসলাম এমপি হওয়ার পর এই অঞ্চল অভিভাবক হীন হয়ে পড়ে। ফলে উন্নয়ন হয় নি এই অঞ্চলের। আজ সেই উন্নয়নহীনতার জবাব দেয়ার সময় এসেছে। ৩০ তারিখে জন সাধারন একত্র হয়ে এর জবাব দিবে।

এই সময় উপস্থিত ছিলেন বক্সনগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া, বক্সনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক শাহীন খান, ঢাকা জেলা পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা শোভন শিকদারসহ অনেকে।

ঢাকা-১ এ লড়াই হবে দুই শিল্প গ্রুপের

ঢাকা-১ নির্বাচনী আসনে লড়াই হচ্ছে মূলত দুই শিল্প গ্রুপের। দেশের স্বনামধন্য বেক্সিমকো গ্রুপ ও যমুনা গ্রুপের। বেক্সিমকো গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার সালমান এফ রহমান লড়ছেন নৌকা প্রতীকে আর যমুনা গ্রুপের কর্ণধার নুরুল ইসলাম বাবুলের স্ত্রী সালমা ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মোটরগাড়ি প্রতীকে। বরাবরের মতো, এইবারও এই আসনটি সারাদেশে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এই দুজনের হাতে রয়েছে মিডিয়াও। সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন রয়েছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন এবং ইংরেজি দৈনিক ডেইলি  ইন্ডিপেন্ডেন্ট; অন্যদিকে সালমা ইসলামের রয়েছে যমুনা টেলিভিশন ও দৈনিক যুগান্তর।

সালমান এফ রহমান হলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি বিনিয়োগ বিষয়ক উপদ্বেষ্টা আর সালমা ইসলাম হলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার।

তবে এর বাইরে অন্য দলগুলোর প্রার্থীও রয়েছেন। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কালাম হোসেন ও সিপিবির আবিদ হোসেনের কিছু পোস্টারও চোখে পড়েছে।

লাল রঙের দেয়ালে খোদাই করা মহাকবি কায়কোবাদের ছবি। নবাবগঞ্জের কায়কোবাদ গেট দিয়ে ঢোকার পর প্রথম দেখা গেল, সালমা ইসলাম আর সালমান এফ রহমানের নির্বাচনী পোস্টার। রাস্তার দুই ধারে কেবল এই দুজনের পোস্টারই বলে দেয়, লড়াই হবে সালমা আর সালমানের মধ্যেই। কে হবেন ঢাকা-১ (নবাবগঞ্জ-দোহার) আসনের সাংসদ?

ভোটারের মনঃ শুক্রবার বিকেলে দোহারের চা–দোকানি বাদশা মিয়া চুপচাপ বসেছিলেন। পরিচয় দিয়ে তাঁর কাছে জানতে চাইলাম, ‘ভাই, এখানে ভোটের কী খবর?’

জবাবে বাদশা মিয়া বলেন, ‘ভোটের আর কী খবর হবে, ভাই। এখানে বিএনপির প্রার্থী নেই। তাই লড়াই হবে গাড়ি আর নৌকায়।’

বাদশা মিয়ার সঙ্গে যখন এই আলাপ চলছিল, তখন মোটরগাড়ির আদলে সাজানো একটি ভ্যান চলে যায় সালমার নির্বাচনী গান বাজাতে বাজাতে।

মিনি কক্সবাজার খ্যাত দোহারের মৈনটঘাটের দিকে সালমানের পোস্টার সালমার থেকে বেশি চোখে পড়ে। নবাবগঞ্জ-দোহারের বাজারে বাজারে সালমানের নৌকার নির্বাচনী প্রচার কেন্দ্র দেখা গেল। অবশ্য সালমার নির্বাচনী প্রচার কেন্দ্রও আছে বাজারগুলোতে। সমান তালে চলছে নির্বাচনী প্রচার আর গান।

দোহার ঘুরে এলাম নবাবগঞ্জে। মোসলেম উদ্দিনের চায়ের দোকানে বসে কয়েকজন ভোটার নির্বাচনী আলাপে ব্যস্ত। একজন বলছিলেন, বিএনপির ভোট যার পকেটে বেশি পড়বে, তাঁর জেতার সম্ভাবনা বেশি। চা–দোকানি মোসলেম বললেন, কে জেতে ভাই, আগে থেকে কেউ বলতে পারবে না?

ভোটের দিন যতই কাছে আসছে, ভোটের উত্তাপ ততই বাড়ছে দোহার-নবাবগঞ্জে। ভোটারের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন সালমা আর সালমান। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪০ হাজার ৪০৭। ভোটারের মন জয় করে কে হবেন তাঁদের প্রতিনিধি তা জানার জন্য আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা করতে হবে।

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাব গোপন ব্যালটে দেবেন ভোটাররাঃ সালমা ইসলাম

ঢাকা-১ আসনের (দোহার-নবাবগঞ্জ) স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেছেন, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দোহার-নবাবগঞ্জে নৌকার ক্যাডাররা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর দোহার-নবাবগঞ্জবাসী গোপন ব্যালটের মাধ্যমে এ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সমুচিত জবাব দেবেন।

তিনি বলেন, এ জন্য ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ভোট কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানাই। শনিবার দোহারের ইউসুফ বাজার ও ধোপাবাড়ি মাঠের নির্বাচনী উঠোন বৈঠকে সালমা ইসলাম বলেন, মটরগাড়ি প্রতীকের প্রচার কাজে নৌকা প্রতীকের কর্মীরা নানাভাবে বাধা দিচ্ছে। মটরগাড়ি প্রতীকের প্রচারে নিয়োজিত দুটি গাড়িতে নৌকা প্রতীকের ক্যাডাররা হামলা করেছে।

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, এক সময় দোহার-নবাবগঞ্জ সন্ত্রাসের জনপদ ছিল। পাঁচ বছরে সেসব সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছি। এখন নতুন করে সেসব সন্ত্রাসী আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে জনগণ আমাকে বিজয়ী করলে সন্ত্রাস নির্মূল করে শান্তির জনপদ তৈরি করব। তিনি বলেন, পাঁচ বছর ধরে দোহার-নবাবগঞ্জের মানুষের জন্য কাজ করেছি।

কখনও কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছি এমন কথা কেউ বলতে পারবে না। এলাকার জনগণ যখন কোনো সমস্যার কথা বলেছেন তখন পাশে দাঁড়িয়েছি। এলাকার স্কুল-কলেজ, মসজিদ, মন্দির, গির্জা এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করেছি। সেই দাবি থেকে আবারও আপনাদের সেবা করার সুযোগ চাই। আপনাদের পাশে থাকতে চাই।

সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সালমা ইসলাম বলেন, রাজধানী ঢাকার খুব কাছাকাছি অবস্থান করেও দোহার ও নবাবগঞ্জের বাসিন্দারা গ্যাস সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় পাঁচ বছরে গ্যাস সংযোগ দেয়া সম্ভব হয়নি। আগামীতে আবাসিক ভবনে গ্যাস সংযোগ চালু করা হলে এ এলাকার ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ দেব। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার সুযোগ দিতে তিনি মটরগাড়ি প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।

সালমা ইসলামের মটরগাড়ি প্রতীকের পক্ষে শনিবার নবাবগঞ্জের বান্দুরা বাজার, বাররুয়াখালী, নয়নশ্রীর তাশুল্লা বাঙলা বাজার এলাকায় নির্বাচনী সভা করেন যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, দোহার-নবাবগঞ্জের মানুষ শান্তিপ্রিয়। গোলযোগ এখানকার মানুষ পছন্দ করে না। দেশের অন্যসব আসনে যেমনই ভোট হোক না কেন ঢাকা-১ আসনে ব্যতিক্রমী চিত্র থাকবে।

এ আসনের ভোট বিশ্ববাসীর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। আমরা প্রশাসনের কাছে ন্যায়সঙ্গত আচরণ দেখতে চাই। কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা জনগণ মেনে নেবে না। এখন প্রতিদিনই প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ লক্ষ করা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে কারও কাছে মাথা নত করবেন না। নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান শিল্পপতি নুরুল ইসলাম।

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের স্বামী নুরুল ইসলাম আরও বলেন, দোহার-নবাবগঞ্জে পাঁচ বছরে সালমা ইসলাম অনেক উন্নয়ন কাজ করেছেন। আর এলাকাবাসীকে শান্তিতে রেখেছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকায় হট্টগোল হলেও এ আসনে তেমন কিছুই হয়নি। দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সমান দৃষ্টিতে দেখেছেন। আগামীতেও এলাকার উন্নয়ন ও শান্তির জন্য মটরগাড়ি প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।

দোহার-নবাবগঞ্জে সালমা ইসলামের উন্নয়নযজ্ঞ : ১০ বছরে দোহার-নবাবগঞ্জের দুটি উপজেলায় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছেন অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। স্বাধীনতার পর এ এলাকায় এত উন্নয়ন কাজ আর কখনও হয়নি। অনেকে মন্ত্রী, এমপি হলেও এলাকার উন্নয়ন করেননি, তবে তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঠিকই করেছেন। অপরদিকে সালমা ইসলাম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকাবাসীর পাশে থেকেছেন, এলাকার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করেছেন।

এলাকাবাসী জানান, ১০ বছর আগে ঢাকার সঙ্গে দোহার ও নবাবগঞ্জের ব্যাপক তফাৎ ছিল। কিন্তু অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের উন্নয়নযজ্ঞের ফলে অনেকাংশে বদলে গেছে এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক চিত্র। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও এখন উপার্জনমুখী কাজে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার জন্য এখন আর সব সময় শহরমুখী হতে হয় না। এলাকায় সরকারি স্কুল ও কলেজ হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবার মানও বেড়েছে। এই দুই উপজেলায় কর্মসংস্থান বেড়েছে, কৃষি ক্ষেত্রেও বেশ এগিয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে, আগে যেখানে ধান, পাট ও আখ ছাড়া অন্য কোনো ফসল আবাদ করতেন না কৃষকরা; কৃষি সচেতনতা বাড়ায় এখন অধিকাংশ কৃষক পরিবার বাণিজ্যিকভাবে করলা, শসা, লাউ, কুমড়া, বেগুন উৎপাদন করছে।

গ্রাম্য এলাকায় সড়কসহ নদীতে সেতু নির্মাণ হওয়ায় উৎপাদিত পণ্য উপজেলা সদরসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দ্রুত পাঠাতে পারছেন তারা। ফলে তাদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরেছে। এ জন্য জনগণ মমতাময়ী, জনদরদি, দোহার-নবাবগঞ্জের মাদার তেরেসাখ্যাত অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞা প্রকাশ করেন

জানা গেছে, ১০ বছরে দোহার-নবাবগঞ্জে উচ্চশিক্ষার প্রসার লাভ করেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের প্রচেষ্টায় ৮৫টি স্কুল-কলেজে ভবন নির্মিত হয়েছে। আরও প্রায় অর্ধশত স্কুল-কলেজে ভবন নির্মাণ টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপিত হয়েছে। দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ, নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চবিদ্যালয় এবং জয়পাড়া পাইলট উচ্চবিদ্যালয় সরকারি হয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারীকরণে সালমা ইসলাম ব্যাপক পরিশ্রম করেছেন। এতে করে ছাত্রদের শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কিছুটা হলেও কমতে শুরু করেছে। এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের নিজ এলাকায় উচ্চশিক্ষার পথ প্রসারিত হয়েছে। এসব কারণে সালমা ইসলামের প্রতি এলাকাবাসী কৃতজ্ঞ।

জানা গেছে, প্রবাসী অধ্যুষিত দোহার ও নবাবগঞ্জের অধিবাসীদের মধ্যে শহরকেন্দ্রিক চিকিৎসার প্রবণতা দেখা গেলেও এখন কিছু বিভিন্নতা লক্ষ করা যাচ্ছে। কারণ প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে নবাবগঞ্জ এবং দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আধুনিকীকরণ করা হয়েছে।

নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য দুটি অ্যাম্বুলেন্স কেনা হয়েছে। গ্রাম পর্যায়ে ২২টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন, নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, ডেন্টাল ইউনিট, মুক্তিযোদ্ধা কেবিন ও নতুন পানির পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইসিজি মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন ও জেনারেটর স্থাপন করা হয়েছে।

শত বাধা হুমকি উপেক্ষা করে ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন: সালমা ইসলাম

ঢাকা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেছেন, আমি সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কাউকে ভয় করি না। আপনারাও হুমকি-ধমকিতে ভয় পাবেন না। ভোট আপনার মূল্যবান অধিকার, আগামী ৩০ তারিখে ভয়-ডর উপেক্ষা করে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

আপনার যাকে ভালো লাগে, তাকে ভোট দেবেন। কারও ভয়ে মূল্যবান এ রায় প্রদান থেকে বিরত থাকবেন না। শুক্রবার নবাবগঞ্জের কোমরগঞ্জের ঋষিপাড়া, দোহারের কুসুমহাটি ইউনিয়নে আউলিয়াবাদ ফকিরবাড়ী, নবাবগঞ্জের বান্দুরায় পৃথক গণসংযোগ এবং উঠান বৈঠকে সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছর দোহার-নবাবগঞ্জের উন্নয়নে কাজ করেছি।

এই সময়ে এলাকায় কোনো টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, মাদক ব্যবসা, দুর্নীতি করতে দেয়া হয়নি। দলীয় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অন্য কোনো হয়রানিমূলক আচরণ করিনি কারও প্রতি।

দুই উপজেলার (দোহার-নবাবগঞ্জ) বাসিন্দারা শান্তিতে ছিল। আসন্ন নির্বাচনে আমাকে মটরগাড়ি প্রতীকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠালে এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি এলাকাবাসীর শান্তি ও স্বস্তি নিশ্চিত করব।

এদিকে মটরগাড়ি প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী গণসংযোগ করেছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম। তিনি নবাবগঞ্জের শোল্লা ইউনিয়নের শোলানগর, আবদানী, কৈলাইল ভাঙ্গাভিটা, চুরাইনের পাইকসায় গণসংযোগ ও পথসভার মটরগাড়ি প্রতীকে ভোট চেয়েছেন।

দেশবরেণ্য এ শিল্পপতি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে একটি পক্ষ থেকে ভোটারদের কেন্দ্রে না যেতে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। এটা এই স্বাধীন-সার্বভৌম দেশে হতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার দোহার-নবাবগঞ্জের বাসিন্দাদের অনুরোধ জানাব ভোট কেন্দ্রে গিয়ে আপনারা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

কেননা জনগণ দেশের মালিক, আর এ জনগণই তাদের সঠিক জনপ্রতিনিধি বাছাই করে নেবেন। সে সুযোগ নিশ্চিত করতে আমরা সচেষ্ট রয়েছি, এখানে ভিন্ন কিছু হতে দেয়া হবে না। সারা দেশের ৩০০ আসনে যে রকম নির্বাচন হোক না কেন, দোহার-নবাবগঞ্জের নির্বাচন হবে অন্যরকম

কোমরগঞ্জের ঋষিপাড়ার নির্বাচনী সভায় অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে আগে নানাভাবে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা হতো, তাদের জায়গা-সম্পত্তি দখল করে নিত। আমার সময়ে সেটা সম্ভব হয়নি, আমাকে নির্বাচিত করলে ভবিষ্যতেও সেটা হতে দেয়া হবে না।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও দু’বারের সংসদ সদস্য বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমার দোহার-নবাবগঞ্জের মানুষের জন্য কাজ করেছি। এই সময়ে কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছি- তা কেউ বলতে পারবে না।

এলাকার মানুষ যখনই কোনো সমস্যার কথা বলেছেন, তখনই পাশে দাঁড়িয়েছি। এলাকার স্কুল-কলেজ, মসজিদ, মন্দির, গির্জা এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করেছি। সেই দাবি নিয়ে আবার আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি, সেসব করার সুযোগ চাই। আপনাদের পাশে থাকতে চাই।

দোহারের কুসুমহাটি ইউনিয়নের আউলিয়াবাদের জনসভায় মো. মশিউর রহমান বলেন, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম গত ১০ বছরে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছেন। এছাড়া শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এলাকায় কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হতে দেননি।

এসব কারণে দোহার-নবাবগঞ্জের মানুষের পছন্দের প্রার্থী হচ্ছেন সালমা ইসলাম। মটরগাড়ি প্রতীকে ভোট দিয়ে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামকে ফের বিজয়ী করতে চাই, করতে হবে।

একই নির্বাচনী সভায় মটরগাড়ি প্রতীকের সমর্থক মাসুম হায়দার বলেন, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম দোহার-নবাবগঞ্জে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। এ কারণে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা তার পক্ষে মাঠে নেমেছি। আগামী ৩০ ডিসেম্বর তাকে মটরগাড়ি প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়ী করব।

দোহারের আউলিয়াবাদ ফকিরবাড়ীর সভায় মো. খোকন মিয়া বলেন, যমুনা গ্রুপ বা অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম দোহার-নবাবগঞ্জবাসীকে শুধু দিয়েই যাচ্ছেন। কেননা আল্লাহতায়ালা তাদের অঢেল দিয়েছেন, শুধু আমাদের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য সুখের জীবন ত্যাগ করে আমাদের কাছে বারবার ছুটে আসছেন তারা। পরোপকারী এ মানুষের পাশে বরাবরের মতো এবারও থাকব আমরা।

মটরগাড়ি প্রতীকের পক্ষে আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এলাকার মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু। শীতের সময় আয়েশি জীবন ছেড়ে দোহার-নবাবগঞ্জের মানুষের সেবা করার জন্য ছুটে আসছেন।

শীতবস্ত্র বিতরণ থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রেই তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। তাকে যদি আমরা সমর্থন না করি তাহলে সেটা কোনোভাবেই ন্যায্য হবে না। এলাকার এই অকৃত্রিম বন্ধুকে আমরা প্রতিদান দেবই। বিজয় তার হবেই।

গত ১০ বছরে দোহার-নবাবগঞ্জে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের অবদানের কথা স্মরণ করে অনেকেই মটরগাড়ি প্রতীকে ভোট দেয়ার অঙ্গীকার করেন। তারা বলেন, যমুনা গ্রুপ বা অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম না হলে জিনজিরা-কেরানীগঞ্জ-নবাবগঞ্জ এবং দোহার-শ্রীনগর আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রকল্পের ৪৬৯ কোটি টাকা অনুমোদন সম্ভব ছিল না।

তার সময়ে ১২২টি সড়কের কার্পেটিং কাজ শেষ হওয়া ছাড়াও ৯৫টি ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, পদ্মার ভয়াল ভাঙন রোধে ২১৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন হয়।

এছাড়া স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে অবদানের কথা স্মরণ করে দোহার-নবাবগঞ্জের জনদরদি এই নেত্রীকে পুনরায় নির্বাচিত করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।

মটরগাড়ি প্রতীকের গাড়ি ভাংচুর : শুক্রবার বিকালে দোহার উপজেলার ধোয়াইর ইউনিয়নের ক্বারি সাহেবের মোড়ে মটরগাড়ি প্রতীকে প্রচারে অংশ নেয়া গাড়ি ভাংচুর করেছে নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা।

এছাড়া এলাকার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। মটরগাড়ি প্রতীকের প্রতি গণজোয়ার দেখে নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা মটরগাড়ি প্রতীকের সমর্থকদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।

গাড়ি ভাংচুর প্রসঙ্গে মটরগাড়ি প্রতীকের গাড়িচালক মো. ফিরোজ বলেন, বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে এ সড়ক দিয়ে নৌকা প্রতীকের একটি মিছিল যাচ্ছিল। ওই মিছিলের কারণে আমি গাড়ি একপাশে পার্ক করে রাখি। এ সময় কয়েকজন সমর্থক আমার গাড়ি ভাংচুর করে। তারা মটরগাড়ি প্রতীকের অনেক পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে।

প্রচারে সমান সালমা ও সালমান

সালমা ইসলাম ও সালমান এফ রহমানউচ্চ আদালতের আদেশে বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়নপত্র স্থগিত হওয়ায় এখন ঢাকা-১ আসনে মূল লড়াই হচ্ছে আওয়ামী লীগ এবং এর শরিক দল জাতীয় পার্টির দুই নেতার মধ্যে। এই আসনে সালমান এফ রহমান আওয়ামী লীগের প্রার্থী। তিনি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বর্তমান সাংসদ সালমা ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হেভিওয়েট এই দুই প্রার্থী সমানতালে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সালমা ও সালমান

জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে সালমা ইসলাম দোহার ও নবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাঁর স্বামী যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুলও প্রচারণায় মাঠে আছেন। আর বিএনপির প্রার্থীশূন্য আসনটিতে নৌকার টিকিটে জয়ী হওয়ার জন্য তৎপর সালমান এফ রহমান।

দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে এই আসন। ভোটার ৩ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৬ জন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নৌকার প্রার্থী আবদুল মান্নান খানকে পরাজিত করে সাংসদ নির্বাচিত হন সালমা ইসলাম। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট থেকে তিনি মনোনয়ন না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নেমে পড়েছেন ভোটারদের মন জয় করতে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে মোটরগাড়ি প্রতীকে ভোট চাইছেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার নবাবগঞ্জ উপজেলার বদ্ধনপাড়ায় জনসভা করেন সালমা ইসলাম। এ সময় তিনি সন্ত্রাস, মাদক, ও চাঁদাবাজমুক্ত এলাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ ছাড়া তিনি দোহার-নবাবগঞ্জে গ্যাসলাইন স্থাপন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন।

এরপর সালমা ইসলাম নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী এলাকায় গণসংযোগ করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে আমি পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণ, ঢাকার জিনজিরা থেকে নবাবগঞ্জ, দোহার ও শ্রীনগর পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার রাস্তা দুই লেনের কাজ, দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ সরকারীকরণসহ দোহার-নবাবগঞ্জে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। অসম্পন্ন কাজগুলো সম্পন্ন করতে আবার জনগণের সেবা করার সুযোগ চাই। জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।’

সালমা ও সালমান

এদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট বিপ্লব ঘটানোর জন্য সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথসভা করছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সালমান এফ রহমান। গতকাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ও যন্ত্রাইল ইউনিয়নের প্রায় ১২টি স্থানে নৌকার গণসংযোগ করেন তিনি।

গতকাল দুপুরে নবাবগঞ্জের বাহ্রা ইউনিয়নের কান্দামাত্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উঠান বৈঠক করেন সালমান এফ রহমান। তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘দলে দলে ভাগ হয়ে এলাকায় এলাকায় ভোট চাইবেন। নিরপেক্ষ ও অন্যান্য দল এবং মতের ভোটারদের কাছে গিয়েও ভোট চাইবেন। শুধু আওয়ামী লীগের জন্য শেখ হাসিনা উন্নয়ন করেননি। তিনি দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য উন্নয়ন করেছেন।’ সালমান এফ রহমান বলেন, ঢাকা থেকে দোহার-নবাবগঞ্জে আসতে কেরানীগঞ্জ হয়ে আসতে হয়। ভবিষ্যতে ঢাকা থেকে দোহার-নবাবগঞ্জে আসার নতুন একটি সড়ক তৈরির প্রকল্প নেওয়া হবে।