শোল্লা ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রে আগুন: কাগজপত্র পুড়ে ছাই

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় শোল্লা ইউনিয়ন পরিষদ তথ্য সেবা কেন্দ্রে আগুন লেগে আসবাবপত্র ও সরকারি কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার শোল্লা ইউনিয়ন পরিষদ তথ্য কেন্দ্রে এ অগ্নিকা- ঘটে।

ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা খোকন চন্দ্র ঘোষ জানান, সকাল ৯টায় পরিষদে এসে তথ্য কেন্দ্রে আগুন দেখতে পাই। পরে স্থানীয় লোকজন আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। ততক্ষণে ১০টি চেয়ার, একটি টেবিলসহ সরকারি কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরে শোল্লা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে এ বিষয় জানানো হয়।

শোল্লা ইউনিয়ন

শত্রুতা করে কেউ এ অগ্নিকান্ড ঘটিয়েছে বলে দাবি করে শোল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান তুহিনুর রহমান জানান, তথ্য সেবা কেন্দ্রের বাহিরে পাটকাঠি পোড়ানো কিছু অংশ পাওয়া গেছে। তাছাড়া নৌকার পক্ষে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছি বিধায় এটা অনেকেই মেনে নিতে না পেরে এই আগুন লাগিয়েছে।

নবাবগঞ্জ থানার এএসআই সুজন মিয়া বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নবাবগঞ্জে সাংবাদিকদের হামলা নিয়ে প্রথম আলোর রিপোর্ট; নবাবগঞ্জ থমথমে, হামলা নিয়ে চুপ সবাই

সাংবাদিকদের ওপর হামলার পর নবাবগঞ্জের পরিস্থিতি থমথমে। হামলার খবর জানলেও কে হামলা করেছে, সে সম্পর্কে চুপ করে থাকছেন এলাকাবাসী। এমনকি এ বিষয়ে কথা বলতে চায়নি পুলিশও।

গত সোমবার রাতে স্থানীয় এক গেস্টহাউসে যমুনা টেলিভিশন ও যুগান্তর পত্রিকার সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন সাংবাদিক আহত ও ১৮টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

ঢাকা-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সালমান এফ রহমান। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা ইসলামের স্বামী নুরুল ইসলাম বাবুল দাবি করেছেন, সাংবাদিকদের মাঠ থেকে খেদিয়ে দিয়ে ভোট ডাকাতি করাই ছিল হামলাকারীদের উদ্দেশ্য। নুরুল ইসলাম তাঁর স্ত্রীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক। আর যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশন তাঁরই মালিকানাধীন যমুনা গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠান। গতকাল দুপুরে যুগান্তর পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।

নুরুল ইসলাম বাবুল প্রথম আলোকে বলেন, সালমান এফ রহমানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও দোহার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন তাঁর সাঙ্গপাঙ্গদের দিয়ে হামলা চালিয়েছেন। এ সময় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারে সাংবাদিকদের ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, সাংবাদিকেরা ছিলেন শুধু ঘটনা সম্পর্কে লেখার জন্যই।

এদিকে মো. আলমগীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, অভিযোগ মিথ্যা। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা টাকাপয়সা দিয়ে ভোট কিনছেন। দু–এক দিন টাকা না পৌঁছানোয় ক্ষুব্ধ হয়ে কেউ হামলা চালাতে পারে। মিডিয়ার মনোযোগ পাওয়ার জন্য তাঁরা নিজেরাও হামলার নাটক সাজিয়ে থাকতে পারেন।

গতকাল বিকেলে ভাঙা কাচের স্তূপ মাড়িয়ে তিনতলা গেস্টহাউসের দোতলায় উঠে একজন কর্মচারীকে পাওয়া যায়। নাম না প্রকাশ করার শর্তে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ২৩ ডিসেম্বর রাত দুইটার দিকে যুগান্তর পত্রিকা ও যমুনা টেলিভিশনের ৪১ জন সদস্য গেস্টহাউসে ওঠেন। পরদিন (সোমবার) রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ১৫–২০ জন লাঠিসোঁটা, হকিস্টিক, লোহার পাইপ ও রামদা নিয়ে হইহই করতে করতে গেস্টহাউসে ঢোকে। চিৎকার করে বলতে থাকে, ‘কার নির্বাচন করতে আইছিস তোরা, দেখে নেব।’ ভয়ে সাংবাদিকেরা দরজা বন্ধ করে কক্ষে ঢুকে পড়েন। দুষ্কৃতকারীরা এলোপাতাড়ি দরজা-জানালায় রামদা ও লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। ৩২টি কক্ষেই তারা ভাঙচুর চালায়। তবে গেস্টহাউস কর্তৃপক্ষ মামলা করেনি, করবে কি না, তা–ও বলতে পারেননি ওই কর্মচারী। গেস্টহাউসের মালিক মো. শোয়ায়েব মিয়ার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি ঘুমাচ্ছেন বলে জানান।

গতকালও সাদাপোশাকে পুলিশ গেস্টহাউস কর্তৃপক্ষকে শাসায় বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা গেস্টহাউস ছাড়ার জন্য সাংবাদিকদের আধা ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয়, নইলে গ্রেপ্তার করা হবে বলে হুমকি দেয় বলে দাবি করে ক্ষতিগ্রস্ত একটি সূত্র।

এ নিয়ে জানতে চাইলে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘ওই আলাপ বাদ দেন, অন্যকিছু বলেন।’ বিপন্ন সাংবাদিকেরা তাঁর সাড়া পাননি এবং তাঁরা গেস্টহাউসে গিয়ে শাসিয়েছেন— এমন অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।

গতকাল সালমা ইসলামের বাড়িতে ঢোকার মুখে বক্সনগরে সালমান এফ রহমানের নতুন নির্বাচনী অফিস দেখা যায়। রাস্তার ওপর দাঁড়ানো ট্রাক আর নির্বাচনী অফিস পাল্লা দিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নৌকা প্রতীকের পক্ষে গান বাজাচ্ছিল। সালমান এফ রহমানের পোস্টার বাতাসে দুলতে দেখা গেলেও মুখ থুবড়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে সালমা ইসলামের পোস্টার। সাইরেন বাজিয়ে দুবার সেনাসদস্যদের টহল দিতে দেখা গেল।

বক্সনগরে সালমা ইসলামের বাড়ির সামনে বসে ছিলেন ৯১ বছর বয়সী রমজান আলী ভূঁইয়া। তাঁর একটাই পরিচয়, এখন তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক। কিন্তু চান ভোটটা সুষ্ঠু হোক। মানুষ খুশির সঙ্গে ভোট দিক। এই পোস্টার ছেঁড়া, হামলা-মামলা তাঁর একেবারে পছন্দ নয়।

আমি আপনাদের সন্তান, আপনাদের পাশে থাকতে চাইঃ সালমান এফ রহমান

আওয়ামী লীগ সভাপতির বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সালমান এফ রহমান বলেছেন, অনেকে আমার ব্যাপারে অপপ্রচার করছে- আমার সঙ্গে সহজে কেউ দেখা বা কথা বলতে পারবে না। মাধ্যম ছাড়া আমার সঙ্গে দেখা করা সম্ভব নয়। এটা ভুল ধারণা, আমার সঙ্গে দেখা করতে দোহার ও নবাবগঞ্জের মানুষকে কোনো মাধ্যম ধরতে হবে না। আপনারা সরাসরি আমার কাছে যেকোনো সমস্যা নিয়ে যাবেন। আমি ইনশাআল্লাহ আমার সাধ্যমতো সমাধানের চেষ্টা করবো। দোহার ও নবাবগঞ্জবাসীর জন্য আমার দরজা শুধু নির্বাচনকে সামনে রেখে নয় সব সময় খোলা।

গতকাল ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বাহ্রা ইউনিয়নের কোমরগঞ্জ সিনেমা হল ময়দানে বাহ্রা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সুবেদুজ্জামান সুবেদের সভাপতিত্বে উঠান বৈঠক ও নির্বাচনী সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সালমান এফ রহমান বলেন, আমি গত কয়েক সপ্তাহ নির্বাচনকে সামনে রেখে দোহার-নবাবগঞ্জের সবক’টি কেন্দ্রে উঠান বৈঠক করেছি। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি তা কোনদিন ভুলবো না।

সালমান এফ রহমান বলেন, কোনো ষড়যন্ত্রই দেশের উন্নয়নের বাধা হতে পারবে না। আপনারা দেখেছেন পদ্মা সেতুর জন্য বিশ্ব ব্যাংক অর্থায়ন দিতে চেয়েও দেয়নি ভুয়া অভিযোগ তুলে। প্রধানমন্ত্রী অঙ্গীকার করেছিলেন নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু করা হবে। পদ্মা সেতু আজ দৃশ্যমান। বর্তমান পদ্মা সেতুর ৬০% কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে। বাকি কাজও দ্রুত সময়ে হয়ে যাবে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় না আসলে কিন্তু এসব উন্নয়ন বন্ধ হয়ে যাবে।

সালমান এফ রহমান ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি ঢাকা-১ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী। দোহার ও নবাবগঞ্জ নিয়ে আমার অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। তাই দোহার ও নবাবগঞ্জের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে নৌকায় ভোট দিতে হবে। আমি দোহার-নবাবগঞ্জকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবো।

ইউনিক গ্রুপের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ নুর আলী বলেন, দেশ যেভাবে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এদিকগুলো চিন্তা করে আগামীতেও দোহার-নবাবগঞ্জে এমন উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকা মার্কায় সালমান এফ রহমানকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে হবে। নৌকায় ভোট দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, নির্বাচনের আর বেশি সময় নেই। বিগত দিনগুলোতে যেমনি আপনার এলাকায় কোনো সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি ছিল না। এমনই সুন্দরভাবে বসবাসের জন্য এবং দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে নৌকা মার্কায় ভোট দিন। দেশের উন্নয়নের জন্য নৌকার বিকল্প নেই। দোহার-নবাবগঞ্জকে আধুনিক মডেল উপজেলা করার জন্য সালমান এফ রহমানকে নৌকা মাকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য আবদুল বাতেন মিয়া, নবাবগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন ঝিলু, সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন জালাল, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ, রাজ ওভারসিসের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা কেএস আলম পোখরাজ প্রমুখ।

উন্নয়ন এগিয়ে নিতে সালমা ইসলামকে ভোট দেওয়ার আহ্বান যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যানের

গত ১০ বছরে নবাবগঞ্জবাসীর যে উন্নয়ন হয়েছে তা এগিয়ে নিতে আবারও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি নুরুল ইসলাম।

সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে নবাবগঞ্জের বকসনগর ইউনিয়নের বর্ধমপাড়া, শোল্লা ইউনিয়নের আট কাহানি, উত্তর বালুখণ্ড, দক্ষিণ বালুখণ্ড, বলমন্তচর ও আলগী চরনির্বাচনী প্রচারণার অংশগ্রহণ করে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি নুরুল ইসলাম দোহার-নবাবগঞ্জ নির্বাচনী এলাকায় তার সহধর্মিণীর পক্ষে ভোট চান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এবং যমুনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম ইসলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি নুরুল ইসলাম আট কাহানি, উত্তর বালুখণ্ড ও দক্ষিণ বালুখণ্ড এ তিন দুর্গম এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালান। এ সময় তিনি স্থানীয় ও দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, গত ১০টি বছর কেটেছে বছরের পর বছর গেছে অনেক মন্ত্রী এমপি হয়েছে কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর এই দুর্গম এলাকায় কেউ আসেননি। কিন্তু সালমা ইসলাম এসেছেন।

যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, তিনি বরাবরই ব্যতিক্রম। আপনাদের পাশে থাকতে চান, আপনাদের ভালোবাসতে চান। তাই আপনারা তাকে আবারও সুযোগ দিন যাতে নির্বাচিত হয়ে আপনাদের মাঝেই ফিরে আসতে পারে। সংসদে গিয়ে যাতে আপনাদের জন্য কথা বলতে পারে।

এর আগে এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বকসনগর ইউনিয়নের বর্ধমপাড়ায় নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক সভায় তিনি বলেন, এ এলাকায় ধানের শীষ ও নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী লড়াই হয়ে থাকে। কিন্তু এবার যেহেতু আইনের মারপ্যাঁচে ধানের শীষ প্রার্থী নেই, তাই আপনারা মটরগাড়ি মার্কায় ভোট দিন, অ্যাডভোকেট সালমাকে জয়যুক্ত করুন। এলাকার উন্নয়ন করার সুযোগ দিন। তিনি এলাকার কর্মী-সমর্থক ও তরুণ-ছাত্রদের নির্ভয়ে অবস্থান করতে পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনে যে হামলা অত্যাচার অবিচার হয়েছে তা নিয়ে ভয় পাবেন না। এলাকার জনগণ মটরগাড়ি প্রতীকের সঙ্গে আছে। সমবেতভাবে অবস্থান করলে, ঐক্যবদ্ধ থাকলে আর হামলা ভাঙচুরের সাহস পাবে না। নির্বাচনের দিন ২৪ ঘণ্টাই সতর্ক থাকুন। নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। ভোট উৎসব পালন করবেন এবং বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরবেন। কথা দিচ্ছি এলাকার উন্নয়নে সালমা ইসলাম গত ১০ বছরে যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন তা আগামীতেও অব্যাহত রাখবেন।

নবাবগঞ্জে নৌকার গণসংযোগে সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা

ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের প্রার্থী সালমান এফ রহমানের নৌকা প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ করেছেন নবাবগঞ্জের সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা। সোমবার সকাল ১০টায় দোহার নবাবগঞ্জ কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি শেখ হান্নান উদ্দিনের নেতৃত্বে এই প্রচারনা চালানো হয়।

সোমবার সকাল ১০টার দিকে দোহার নবাবগঞ্জ কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি শেখ হান্নান উদ্দিনের নেতৃত্বে তারা কলাকোপা ইউনিয়নের পোদ্দার বাজার ও কলাকোপা পুরাতন বাজার এলাকায় গণসংযোগ করেন। গণসংযোগকালে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এসময় তারা ভোটারদের হাতে দলীয় প্রার্থী সালমান এফ রহমানের নৌকা মার্কার ছবি সম্বলিত প্রচারপত্র তুলে দেন এবং ভোটারদের কাছে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরে নৌকা মার্কায় ভোট চান। গণসংযোগকালে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা- এজাজ আহমেদ পান্না, স্বপন কুমার সরকার, আরিফুর রহমান আরিফ, গোলাম মোস্তফা, আব্বাস উদ্দিন, শেখ নয়ন আলী, মুরাদ খান প্রমূখ।

ঢাকা-১ সহ ঢাকার ৫ আসনে নির্বাচনী প্রচারে নিষেধাজ্ঞা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন এবং তার আগের দুদিন ও পরের দুদিন (মোট পাঁচ দিন) ঢাকা জেলার পাঁচটি নির্বাচনী এলাকায় মিছিল, সমাবেশ ও শোভাযাত্রায় নিষেদ্ধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই পাঁচটি আসন হল-ঢাকা-১, ২, ৩, ১৯ ও ২০। গতকাল সোমবার ঢাকা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান এমন নির্দেশনা দেন বলে তথ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এতে আরো বলা হয়, কোনো ব্যক্তি ওই নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে তিনি অন্যূন দুই বছর এবং অনধিক সাত বছর সশ্রম কারাদ- এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৭৮ অনুযায়ী-ঢাকা জেলার ৫টি নির্বাচনী এলাকার (১৭৪ ঢাকা-১, ১৭৫ ঢাকা-২, ১৭৬ ঢাকা-৩, ১৯২ ঢাকা-১৯ এবং ১৯৩ ঢাকা-২০) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণ করার পূর্ববর্তী ৪৮ ঘণ্টা অর্থাৎ ২৮ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা অর্থাৎ ১ জানুয়ারি মঙ্গলবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নির্বাচনী এলাকায় কোনো ব্যক্তি জনসভা আহ্বান, অনুষ্ঠান বা তাতে যোগদান করতে এবং কোনো ব্যক্তি কোনো মিছিল বা শোভাযাত্রা সংগঠিত করতে বা তাতে যোগদান করতে পারবেন না।’

এ ছাড়া উল্লিখিত সময়ের মধ্যে কোনো হিংসাত্মকমূলক কাজ বা বিশৃঙ্খলামূলক আচরণ, ভোটার বা নির্বাচনী কাজকর্ম বা দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা কোনো অস্ত্র বা শক্তি প্রদর্শন বা ব্যবহার করা যাবে না বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

কাতারে কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি কিশোর প্রথম

0

কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত ২৫তম শেখ জাসিম বিন মোহাম্মদ বিন থানি হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের কিশোর হাফেজ সাঈদ ইসলাম মোহাম্মদ মাহি প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। কাতারের ধর্মমন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে কাতারের ধর্মমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে প্রথম স্থান অধিকারী বাংলাদেশি কিশোরকে ১ লক্ষ রিয়াল (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ লাখ টাকা) চেক ও আন্তর্জাতিক সনদসহ অন্যান্য পুরস্কারসামগ্রী হাতে তুলে দেন।

সাঈদ সিলেটের সদর উপজেলার লাখাউরার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল ইসলামের ছেলে। তার কৃতিত্ব নিয়ে কাতারের ইংরেজি দৈনিক পেনিন সুলাসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে।

সালমা ইসলামের নির্বাচনী সভা ও ক্যাম্পে ফের হামলা ভাংচুর

টানা তৃতীয় দিনের মতো সোমবারও ঢাকা-১ (নবাবগঞ্জ-দোহার) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের নির্বাচনী জনসভা ও নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা, ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রোববার মধ্যরাত থেকে সোমবার রাত পর্যন্ত নবাবগঞ্জ ও দোহারের বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

একই সঙ্গে এ এলাকায় সালমা ইসলামের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেয়ার কারণে ইউনিয়ন পরিষদের একজন চেয়ারম্যানসহ অনেক নেতাকর্মীকে হুমকি দেয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের পক্ষ থেকেও নানা রকম ভয়ভীতি দেখানো অব্যাহত আছে।

এসব ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে অনতিবিলম্বে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও মটরগাড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম।

জানা যায়, সোমবার দুপুরে দোহার লটাখোলা এলাকায় সালমা ইসলামের নির্বাচনী সভায় ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ করে সন্ত্রাসীরা। দুপুর আড়াইটার দিকে ২০-৩০ জন সন্ত্রাসী সভার মঞ্চ, চেয়ার, টেবিল, মাইকসহ বিভিন্ন উপকরণ ভেঙে ফেলে।

এ সময় সভায় আসা কর্মী ও সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সভাস্থল থেকে বিতাড়িত করে সরকারি দলের নামধারী ক্যাডাররা। বেলা ৩টার দিকে সালমা ইসলাম ঘটনাস্থলে এলে ভোটার ও সমর্থকরা একজোট হয়ে সভাস্থলে পুনরায় ফিরে আসেন। এরপর শুরু হয় সভা।

এ সময় ভোটার ও সমর্থকরা সালমা ইসলামকে সাহস জুগিয়ে বলেন, ‘আপনি আমাদের মা-বোনের মতো। যতই হুমকি-ধমকি, ভাংচুর আর অগ্নিসংযোগ করা হোক না কেন আমরা আপনার পক্ষে আছি। আমরা কাউকে ভয় পাই না। আমরা এ অন্যায়ের জবাব দেব ৩০ ডিসেম্বর মটরগাড়ি মার্কায় ভোট দিয়ে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বেলা আড়াইটার দিকে ২০-২৫ যুবক লাটিসোটা নিয়ে মঞ্চসহ চেয়ার-টেবিল ভেঙে ফেলে। তারা বলেন, কিন্তু যখনই ঘটনাস্থলে আমাদের প্রিয় নেত্রী সালমা ইসলাম এসে উপস্থিত হন তখন আমরা সভাস্থলে হাজির হই।

মটরগাড়ি মার্কার সমর্থক মিলন খান জানান, সন্ত্রাসীদের এমন হামলা ও ভাংচুরেও আমরা শঙ্কিত নই। বরং তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে সালমা ইসলামের ভোট আরও বাড়ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও একজন কর্মী জানান, দোহারের একজন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এসব হামলার ঘটনা ঘটছে। আমরা সব জানি। এর জবাব জনগণ তাকে দেবে।

নবাবগঞ্জের দিঘিরপাড় এলাকায় সালমা ইসলামের দুটি নির্বাচনী ক্যাম্পে রোববার মধ্যরাতে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। তারা নির্বাচনী ক্যাম্পে আগুন দিয়ে পোস্টার ও ব্যানার পুড়িয়ে দেয়। ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা মটরগাড়ি প্রতীকের কর্মী নূর হোসেন এ তথ্য জানিয়ে যুগান্তরকে বলেন, রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা ক্যাম্পে হামলা করে।

এদিকে নয়নশ্রী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিপন মোল্লা অভিযোগ করে প্রতিবেদককে বলেন, ‘শনিবার রাতে পুলিশ সাদা পোশাকে আমার বাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে বলেছে যেন আমি মটরগাড়ি প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ না নেই। পুলিশ আমার বৃদ্ধ বাবাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে। সরকারি দলের কয়েকজন নেতাও তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। এছাড়া বর্ধনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও বিএনপি কর্মী আসলাম অভিযোগ করেন, রোববার রাতে নবাবগঞ্জ থানা থেকে পুলিশ আমার বাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে বলেছে নির্বাচনের আগে যেন আর ঘরে না ফিরি। তাই ভয়ে আমি বাড়িতে যেতে পারছি না।

তিনি আরও জানান, সন্ত্রাসীরা তার ভাই নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ ওসমানী এবং তার স্ত্রীকেও শাসিয়ে গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, অনেকের বিরুদ্ধেই নাশকতার মামলা রয়েছে। এ কারণে পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা করছে। কিন্তু যদি তারা জামিনে থাকেন তাহলে কেন আমরা গ্রেফতার করব। তিনি দাবি করেন, কাউকে হুমকি দেয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।

নবাবগঞ্জে যমুনা টিভি ও যুগান্তরের সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আহত ১০

ঢাকা-১ (নবাবগঞ্জ-দোহার) আসনের নবাবগঞ্জের কলাকোপা পোদ্দার বাজার এলাকায় যমুনা টেলিভিশন ও দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এসময় ১৬ টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নবাবগঞ্জের শামীমা গেস্ট হাউজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হোটেলে অবস্থানরত সাংবাদিকদের প্রায় ঘণ্টাখানেক অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিবেদক সুশান্ত সিনহা। এ ঘটনার পর থেকে যুগান্তরের ধামরাই প্রতিনিধি শামীম খান নিখোঁজ রয়েছেন। তার ব্যবহারকৃত তিনটি মোবাইল নাম্বারই বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ঢাকা-১ আসনে যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম বাবুলের স্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আজ যমুনা টেলিভিশন ও দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার ২৫-৩০ জন সাংবাদিক নির্বাচনি সংবাদ সংগ্রহের জন্য নবাবগঞ্জে আসেন। তারা রাতে শামীমা গেস্ট হাউজের সামনে গাড়ি রেখে সেখানে অবস্থান করছিলেন। এসময় ২০-২৫ জন দুর্বৃত্ত ওই গেস্টহাউজকে অবরুদ্ধ করে লাঠি, ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে ১০ জন সাংবাদিক আহত হন। দুর্বৃত্তরা শামীমা গেস্টহাউজের সামনে রাখা যমুনা টেলিভিশন ও দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার গাড়িসহ ১৬টি গাড়ি ভাঙচুর করে।

হামলায় আহত যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিবেদক সুশান্ত সিনহা বলেন, অতর্কিত ৩০-৩৫ জন সশস্ত্র দূর্বিত্ত্ব আমাদের হোটেলে হামলা চালায়। আমরা থানা নির্বাহী অফিসার, পুলিশের ওসিকে জানালেও কোনো ধরনের সাড়া পাইনি। গণমাধ্যমকর্মীরাই যদি এভাবে আক্রান্ত হন, তাহলে এখানে সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা কোথায়?

এ ঘটনায় যুগান্তররের স্টাফ রিপোর্টার ইয়াসিন জানান, আমরা কয়েকজন চা খাওয়ার জন্য হোটেল থেকে নিচে নামতে যাই। এ সময় সিঁড়ি থেকেই শোনা যায় নিচে হট্টগোলের শব্দ। আমরা প্রথমে মনে করেছি আরও নতুন কোনো সাংবাদিক হয়ত হোটেলে আসছে তাদের জন্যই এই হট্টগোল।

তিনি জানান, কিন্তু একটু নিচে গিয়ে দেখি রড, হকিস্টিক ও দেশীয় অস্ত্রসহ মুখোশপরা কয়েকজন যুবক উপরের দিকে হামলার জন্য আসছে। আমরা তাৎক্ষণাৎ সেখান থেকে দৌঁড়ে উপরে উঠে যায়। এরপর তারা প্রায় ঘণ্টাখানেক হামলা-ভাঙচুর চালায়। এ সময় আমাদের ১০-১২ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নবাবগঞ্জ থানার সাব-ইন্সপেক্টর কামরুল ইসলাম বলেন, হামলাকারীরা যে প্রার্থী বা দলের সমর্থক হোক না কেনো তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একাধিকবার চেষ্টা করেও ওসি’র কাছ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি এমন অভিযোগের জবাবে কামরুল ইসলাম বলেন, তিনি সম্ভবত মিটিংয়ে ছিলেন।

নবাবগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

ঢাকার নবাবগঞ্জে শিমু আক্তার (২৭) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সে উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের বকচর গ্রামের মাসুদ কাজীর স্ত্রী। রবিবার রাত সাড়ে ৯টায় স্বামীর বাড়ি থেকে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বিকালে জমি থেকে ফিরে বাড়ির উঠানে দিন মজুরদের খাওয়াচ্ছিলেন মাসুদ কাজী। শিমু আক্তার ঘরে শিশু সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছিলেন। হঠ্যাৎ সন্তানের কান্নার শব্দ পেয়ে ঘরে যায় মাসুদ কাজী। শিশুটিকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। এসময়ে শিমু আক্তার বিছানা থেকে ইশারায় তাকে হাসপাতালে নিতে বলছিলেন। বাড়ির লোকজন সন্ধ্যার দিকে নবাবগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তারা লাশ বাড়িতে নিয়ে যায়।

 নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক নাজমুল ইসলাম সজীব জানান, খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিহতের স্বামীর বাড়ি থেকে সুরতহাল শেষে লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। লাশের শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সোমবার সকালে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

উপপরিদর্শক নাজমুল ইসলাম সজীব আরও জানান, সোমবার দুপুর পর্যন্ত এঘটনায় থানায় কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।