পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যালের গুদাম সরাতে হবে: সালমান রহমান এমপি

ধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, ‘নিমতলীর ঘটনার পর পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যালের গুদাম সরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যেকোনও কারণে তা হয়নি। এখান থেকে আমাদেরকে সরতে হবে। ব্যবস্থা না নিয়ে ধাক্কা দিয়ে তো বের করে দিতে পারবেন না।’

বুধবার (৬ মার্চ) সকালে নগর ভবনে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ অডিটরিয়ামে ‘পুরনো ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা, সংকট ও সম্ভাবনা : করণীয় ও বর্জনীয়’ বিষয়ে মুক্ত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীদের অর্থনীতিতে অনেক অবদান রয়েছে। ৯ বছর আগে ব্যবসার ধরন যা ছিল এখন আরও বেড়েছে। এটা ঠিক হয়নি। কারণ আমাদের বোঝা উচিত ছিল আমাদেরকে এখান থেকে সরতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, এখন অগ্নিকাণ্ডের জন্য ক্ষতিকর ২৯টি দাহ্য পদার্থের তালিকা করা হয়েছে। প্রয়োজনে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আরও বাড়ানো হবে। কিন্তু এটি ৩২ এর বাইরে যাবে না।

সভাপতির বক্তব্যে মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, ‘পুরান ঢাকার দুর্ঘটনা আমি দেখেছি। এই বিভৎস চিত্র নগর কর্তৃপক্ষ মেনে নিতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী মেনে নিতে পারেননি। আমরা চাই এই টাস্কফোর্স ঝুঁকি নিরসন করে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা দেবে। টাস্কফোর্স যখন গঠন করেছি তখন তার কার্যপরিধি নিশ্চিত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ২৯টি ছাড়াও অনেক দাহ্য পদার্থ আছে। অগ্নিকাণ্ডের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থ অপসারণ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে কোনোভাবেই কোনও ব্যবসায়ীকে হয়রানি বা দাহ্য পদার্থ নয় তার বিরুদ্ধে অভিযান করা হবে না।

অনুষ্ঠানে রাজউক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া প্রমুখ।

দোহার থেকে মনোনয়ন জমা দিলেন আলমগীর হোসেন ও নুরুল ইসলাম ব্যাপারী

আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন ও সাবেক বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম বেপারী।

আসছে ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে দোহার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। তফসিল অনুযায়ী ৪ মার্চ, সোমবার ছিল প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। সকাল থেকে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়ন পত্র জমা দেন প্রার্থীরা। ভাইস চেয়ারম্যান পাঁচজন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

দোহার উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, চেয়ারম্যান পদে দোহারে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের নির্ধারিত দলীয় প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন। সোমবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল ইসলামের কাছে তাঁর মনোনয়ন পত্রটি জমা দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান খোকন এবং প্রত্যেকটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সহ আরও অনেকে।

মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার পর আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচিত হলে বিগত সময়ের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চাই। একইসাথে সালমান এফ রহমান এমপির হাত ধরে আসা দোহারে পদ্মা ভাঙন রক্ষা প্রকল্প ও বাঁধ নির্মাণ কাজটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে চাই। আশা রাখি, যোগ্যতা ও সততার বিচারে জনগন আবারও আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।

এদিকে দোহার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আগারগাঁও ঢাকা জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন নুরুল ইসলাম বেপারী। সোমবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার ফয়সাল কাদেরের হাতে তাঁর মনোনয়ন পত্রটি জমা দেন নুরুল ইসলাম বেপারী।

নুরুল ইসলাম বেপারী বলেন, ইচ্ছে ছিল দোহারে গিয়েই মনোনয়ন জমা দিব। কিন্ত সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে ছিল না। বাধ্য হয়ে ঢাকায় মনোনয়ন জমা দিয়েছি। আমার প্রত্যাশা থাকবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে এবং জনগন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে, দোহারে ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন লায়ন আব্দুস সালাম চৌধুরি, সুজাহার বেপারী, মো. ফিরোজ মিয়া, তৈয়বুর রহমান তরুন ও মাজাহারুল ইসলাম রাকিব। এছাড়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানপদে মনোনয়ন জমা দেন সাজেদা ইসলাম রুনু, ফেরদৌসি বেগম, শামীমা ইসলাম বিথী ও বেগম রাহিমা।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম বলেন, উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আফরোজা আক্তার রিবা বলেন, বিগত জাতীয় নির্বাচনের মতো এবার উপজেলা নির্বাচনেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকবে। সে লক্ষে সব ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, আগামী ৩১ মার্চ দোহার উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন ৪ মার্চ, যাচাই-বাছাই ৬ মার্চ এবং প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৩ মার্চ।

নবাবগঞ্জে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন বাতেন-ঝিলু

news39.net,Nawabgonj: নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন, ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ১৪ জন ও মহিলা ভাইসস চেয়ারম্যান পদে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।

চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী দলের লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য আব্দুল বাতেন মিয়া। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু,  আলালপুরের আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা ও মুসলেমহাটির মোল্লা ফারুক মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৪ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন, বাগমারার স্বপন কুমার সরকার, আগলা মাঝপাড়ার শওকত ওসমান, বড় বাহ্রার পত্তনদার মো. রাকিব, কাশিমপুরের মো. জসীম উদ্দিন, দক্ষিণ শোল্লার নুরুল আলম আতিকী, জালালচরের মো. আনোয়ার হোসেন বিদ্যুৎ, কলাকোপারের শেখ হান্নান উদ্দিন, সাদাপুরের হুমায়ন কবির, কান্দা খানেপুরের সোরহাব হোসেন, হাগ্রাদির আরিফুর রহমান খান, কলাকোপা গকুলনগরের চন্দন মন্ডল, বলমন্তচরের তাবির হোসেন পাভেল, দক্ষিণ চৌকিঘাটার মুশফিকুর রহমান পলাশ ও মুসলেমহাটির শেখ সুমন।

অপরদিকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন  সাতজন প্রার্থী। এরা হলেন বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম মোস্তফা শিমু, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াসমিন আক্তার, নতুন বান্দুরার শাহিদা আক্তার, চরমধুচরিয়ার শিরিন চৌধুরী, ঘোষাইলের রেশমা আক্তার, ছোট বক্সনগরের সোহানা জামান দিপা ও মাধবপুরের প্রিয়াংকা খান মনোনয়ন পত্র জমা দেন।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফারজানা আবেদিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ৬ মার্চ মনোনয়ন বাছাই ও ১৩ মার্চ প্রত্যাহারের শেষ তারিখ। ৩১শে মার্চ অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।

এক কিলোমিটার দৌড়ে ছিনতাইকারীকে ধরলেন দোহারের এসি ল্যান্ড সালমা খাতুন

শনিবার বিকেলে ঢাকার হাতিরঝিলে অন্তত এক কিলোমিটার দৌড়ে ছিনতাইকারী পাকড়াও করে সাহসিকতার স্বাক্ষর রেখেছেন দোহার উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি)  সালমা খাতুন। তাঁর এই সাহসিকতার গল্প ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও।

সালমা খাতুনের সাথে কথা বলে জানা যায়, শনিবার বিকেলে রিক্সায় করে রাজধানীর হাতিরঝিল দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। ওখানে যানজটে বসে থাকার এক মূহুর্তে তাঁর গলায় থাকা লকেট সহ স্বর্ণের ছেইনটি ছিঁড়ে নিয়ে দৌড় দেয় ছিনতাইকারী। তিনি সাহস করে তাকে ধাওয়া করেছিলেন। শাড়ি পরিহিত অবস্থা ছুটতে ছুটতে অন্তত এক কিলোমিটার দৌড়ে ছিনতাইকারীকে ধরে ফেলেন। উদ্ধার করেণ তাঁর চেইনটি। তবে ছিনতাইয়ের সময় লকেট সহ চেইনটি টুকুরো হয়ে যাওয়ায় চেইনের পুরো অংশটি উদ্ধার করতে পারেননি তিনি। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সাহায্য নেন পুলিশের। ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেণ সালমা খাতুন।

সালমা খাতুন বলেন, নারী-পুরুষ ভেদে সাহসিকতার ভিন্ন কোন সংজ্ঞা নেই। যেকোনো অপরাধ সংঘটনের প্রাথমিক পর্যায়ে যদি সাধারণ মানুষ পুলিশ আসার অপেক্ষায় না থেকে সাহস করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে, তাহলে সেটিই বহু সমস্যার আগাম সমাধান দিতে পারে। একজন নারীর সাহসিকতা দেখে দশজন নারী এগিয়ে আসবে। তারাও প্রেরণা পাবে সাহস নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার। আমার এ কর্মকান্ড দেখে সেখানে থাকা আরও ১৫/২০ জন নারী এগিয়ে এসে আমাকে ধন্যবাদ দিয়েছে। আমি মনে করি তারাও প্রেরণা পেয়েছে সাহসের সাথে অপরাধ মোকাবিলা করার।

জয়কুষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির পদত্যাগ

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়কুষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির দীর্ঘ দিনের সভাপতি এ কে বুলবুল খান দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। শারীরিক অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।

গত ১১ ফেব্রুয়ারী নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক বরাবর তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর অনুলিপি ঢাকা জেলা বিএনপির কার্যালয়েও জমা দিয়েছেন বলে জানা যায়। শনিবার সকালে এ কে বুলবুল খান গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন এবং তার পদত্যাগপত্রের কপি তুলে দেন।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের পাওয়া যায়নি। ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক বলেন, বুলবুল খানের পদত্যাগপত্রের অনুলিপি জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আসেনি।

মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডারে সয়লাব দোহার-নবাবগঞ্জ 

একটি সিলিন্ডারের আয়ুষ্কাল সাধারণত ১৫ বছর। অথচ ২৮ বছরের পুরনো সিলিন্ডারেও লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিপণন হচ্ছে। মেয়াদোত্তীর্ণ এসব সিলিন্ডারে গ্যাস বিপণনের কারণে বাড়ছে বিস্ফোরণ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি। আর রংচটা ও জং ধরা এমন মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডারে এখন দোহার ও নবাবগঞ্জের বাজার সয়লাব। রয়েছে, স্থানীয়ভাবে সিলিন্ডারে নিন্মমানের গ্যাস রিফুয়েলিং করার গুরুত্বর অভিযোগও। মাননির্ণয় ছাড়াই এসব সিলিন্ডার গ্রামীণ জনপদের মানুষ ব্যবহার করছে। কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার দোকানে দোকানে বিক্রি হচ্ছে এসব গ্যাস সিলিন্ডার।

ফায়ার সার্ভিসের পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিবছর আশংকাজনক হারে অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটেছে এলপিজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে। এতদিন ধরে মূলত বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে এলপিজির ব্যবহার হয়ে এলেও এখন মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে এলপিজি সিলিন্ডার দিয়ে চালানো হচ্ছে সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। ক্রমাগত গ্যাস সংকট আর সিএনজি ফিলিং স্টেশনের লম্বা লাইন এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এ পথ বেছে নিয়েছেন চালকরা। দোহার ও নবাবগঞ্জ সড়কে চলাচলকারী অটোরিকশাগুলোর পেছনের সিটের পাশে গ্যাস সিলিন্ডার স্থাপন করা হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে যানবাহনে। গ্যাসভর্তি এসব সিলিন্ডার বাজারে সরবরাহ এবং সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে রয়েছে গুরুতর অনিয়ম।

নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি সিলিন্ডার পাঁচ বছর অন্তর পরীক্ষা করে তা নিরাপদভাবে গ্যাস সরবরাহে উপযোগী কিনা তা দেখার কথা। যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে তাৎক্ষণিক সিলিন্ডার বাতিল করতে হবে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এ বিষয়টির প্রতি গুরুত্বই দেয়া হয় না। এলপিজির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় নতুন সিলিন্ডার আনা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তার সঙ্গে যোগ হচ্ছে পুরনোগুলোও।

মূলত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ভোক্তাপর্যায়ে গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার সরবরাহ করে থাকে। এলপিজি শেষ হওয়ার পর ভোক্তা খালি সিলিন্ডার জমা দিয়ে আরেকটি এলপিজি ভরা সিলিন্ডার কেনেন। এভাবে সিলিন্ডারগুলো চক্রাকারে ডিলার পর্যায় থেকে এলপিজি প্লান্টে যায়। সেখান থেকে আবার পুরনো সিলিন্ডারগুলোতেই গ্যাস ভরে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু পুরনো সিলিন্ডারে গ্যাস ভরার পর ভোক্তাপর্যায়ে তা কতটা নিরাপদ এ নিয়ে প্রশ্ন থাকার পরও সিলিন্ডার পরীক্ষায় নেয়া হয় না তেমন কোনো উদ্যোগ। সিলিন্ডারের মান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চরম ঘাটতি থেকেই বিস্ফোরণের মতো দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে দিন দিন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, গ্যাসসংক্রান্ত অগ্নিদুর্ঘটনা আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে সবচেয়ে আশঙ্কার ব্যাপার হচ্ছে, এলপিজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিকা-ের ঘটনা কয়েক গুণ বেড়েছে। ব্যবহারকারীদের অসতর্কতা, সিলিন্ডারে অরিজিনাল ভাল্বের জায়গায় বাজার থেকে কেনা সস্তা ভাল্ব সংযোজন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের সিলিন্ডার ব্যবহার, যেখানে সেখানে এলপিজি ভর্তি সিলিন্ডার থেকে খালি সিলিন্ডারে গ্যাস ভরাসহ বিভিন্ন কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া ট্রাক-লরি-পিকআপে করে ডিলারদের এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করার সময় উঁচু স্থান থেকে গ্যাসভর্তি এলপিজি সিলিন্ডার মাটিতে ফেলার সময়ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে।

বিস্ফোরক আইন ১৮৮৪-এর অধীনে গ্যাস সিলিন্ডার বিধিমালা ২০০৪-এর ৬৯ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া অনধিক ১০টি গ্যাসপূর্ণ সিলেন্ডার মজুদ করা যাবে।

তবে বিধির ৭০ ধারা অনুযায়ী এসব সিলেন্ডার মজুদ করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিমাণে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি এবং আগুন নিয়ন্ত্রক সরঞ্জাম মজুদ রাখতে হবে। সিলিন্ডার গ্যাস স্থাপনা প্রাঙ্গণে দিয়াশলাই বা আগুন লাগতে পারে এমন কোনো বস্তু বা সরঞ্জাম রাখা যাবে না। মজুদ করা স্থানের কাছাকাছি আলো বা তাপের উৎস থাকা যাবে না।

এসব আইনের তোয়াক্কা না করে চা-দোকান থেকে আরম্ভ করে ভ্যারাইটিজ স্টোরেও পাওয়া যায় এ সিলিন্ডার গ্যাসের বোতল।

বর্তমানে দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলাতেই সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। ব্যাপক চাহিদা থাকার কারণে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী নিজেদের মনগড়াভাবে যেখানে সেখানে সিলিন্ডারের বোতল ফেলে রেখে ব্যবসা করছে। এরমধ্যে মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডারের সংখ্যাও কম নয়। ঝুঁকিপূর্ণ এ জ্বালানির যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই এসব দোকানে। বেশিরভাগ দোকানি ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।

প্রতিদিনের হাদিস: ঈমান

হাদিস নং ২৪: আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা ও মুহাম্মাদ ইবনু মূসান্না এবং মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) … আবূ জামরা (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর কথা লোকদের বোঝাবার দায়িত্ব পালন করতাম। একজন স্ত্রীলোক তাঁর কাছে এসে কলসির নাবীয সম্পর্কে জানতে চাইল। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, আবদুল কায়স গোত্রের এক প্রতিনিধি দল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে হাযির হলে, তিনি জিজ্ঞেস করলেন,  প্রতিনিধি দলটি কারা? অথবা বললেন, লোকগুলো কারা? তারা বলল- আমরা রাবী’আ গোত্রের। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের অভ্যর্থনা জানিয়ে বললেন, তোমরা অপমানিত ও লাঞ্ছিত হওয়ার আগেই এসেছ বলে মুবারকবাদ।

রাবী বলেন- তারা বলল, হে আল্লাহর রাসুল আমরা বহু দূর থেকে আপনার খিদমতে হাযির হয়েছি। আমাদের ও আপনার মধ্যে কাফির মুযার গোত্র বিদ্যমান। আমরা শাহরুল হারাম ব্যতীত আপনার কাছে নিরাপদে পৌছতে অপারগ। সুতরাং আপনি আমাদের ইসলামের সূস্পষ্ট বিধান সম্পর্কে নির্দেশ দান করুন, যেন আমরা আমাদের পশ্চাতের লোকজনকে তা অবহিত করতে পারি এবং তদনূযায়ী আমল করে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি।

বর্ণনাকারী বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাদের চারটি বিষয় পালনের নির্দেশ দিলেন এবং চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করলেন। এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিলেন এবং বললেন, তোমরা জানো এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা কী? আরয করলেন, আল্লাহ ও তার রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ বিষয়ে ভাল জানেন।

রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল আর তোমরা সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করবে, যাকাত দিবে, রামাযানের রোযা পালন করবে এবং গনীমত-লব্ধ সামগ্রীর এক-পঞ্চমাংশ দান করবে।

তিনি তাদের চারটি বিষয়ে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। তা হচ্ছে- দুব্বা, হানতাম, মুযাফফাত। চতুর্থটি সমন্ধে শু’বা বলেন, এরপর রাবী কখনো ‘নাকির’ কখনোবা ‘মুকায়্যার’ শব্দ উল্লেখ করেছেন।* রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এসব বিধান হিফাজত করবে এবং যারা আসেনি তাদের তা জানিয়ে দিবে।

আবূ বকর (রহঃ)-এর রিওয়ায়েতে مَنْ وَرَاءَكُمْ (যারা আসেনি) কথাটি রয়েছে কিন্তু الْمُقَيَّرِ শব্দটি নেই।

* আলকাতরা জাতীয় পদার্থের প্রলেপ দেওয়া পাত্র।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ আবূ জামরাহ নাসর ইবনু ‘ইমরান যুবা‘য়ী (রহঃ)

 

হাদিস নং ২৫: উবায়দুল্লাহ ইবনু মু’আয (রহঃ) …. ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে শুবার বর্ণনার অনুরুপ রিওয়ায়েত করেছেন। রাসুল বলেছেন , আমি তোমাদের দুব্বা, হানতাম, মুযাফফাত নামক নাবীয* তৈরির পাত্রের ব্যবহার নিষেধ করছি। ইবনু মু’আয (রহঃ) তাঁর পিতার সুত্রে বর্ণিত রিওয়ায়েতে আরো উল্লেখ করেন যে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল কায়েস গোত্রের ‘আশাজ্জ’ আশাজ্জ্ব আবদুল কায়েসকে বললেন, তোমার দুটি বিশেষ গুন রয়েছে, যা আল্লাহ পছন্দ করেন (তা হলো) সহিষ্ণুতা ও ধীর-স্থিরতা।

* নাবীয – কিসমিস, খেজুর ইত্যাদি গাজিয়ে তৈরি পানীয়।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

বর্ণনাকারী রাবীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)

 

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম

অধ্যায়ঃ কিতাবুল ঈমান

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

জাতীয় পার্টিই হবে মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার ভরসা: সালমা ইসলাম এমপি

সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং দলটির ঢাকা জেলার নবনির্বাচিত সভাপতি অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেছেন, আগামী দিনের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টিই হবে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু।

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টিই হবে এ দেশের মানুষের শেষ ভরসার স্থল। তাই জাতীয় পার্টিকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করতে হবে। নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে এখন থেকেই দল গোছানোর কাজে মনোযোগ দিতে হবে।

রাজধানীর কাকরাইলে পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার অনুষ্ঠিত ঢাকা জেলা জাতীয় পার্টির নবনির্বাচিত কমিটির প্রথম সাধারণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেন, ঢাকা জেলার অন্তর্গত প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা, থানা এবং উপজেলায় সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করতে হবে। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতেই কমিটিতে নেতা নির্বাচন করা হবে।

সালমা ইসলাম বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নয় বছরে দেশের যে উন্নয়ন করেছেন মানুষ তা আজও মনে রেখেছে। আর এ কারণেই তিনি এখনও সবার কাছে জনপ্রিয়। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের এ জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় পার্টিকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করতে হবে। জাতীয় পার্টিকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে হবে। তার (এরশাদের) অবদানের কথা গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, জাতীয় পার্টি শক্তিশালী হলে এরশাদের হাত শক্তিশালী হবে।

ঢাকা জেলার সাধারণ সম্পাদক বাহাদুর ইসলাম ইমতিয়াজের পরিচালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন সিনিয়র সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন খান মিলন, সহ-সভাপতি হাজী রমজান ভুইয়া, আসাদুজ্জামান চৌধুরী রানা, তোফায়েল আহমেদ, জয়নাল আবেদীন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আবদুল হামিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুষার ঘোষ, জাহাঙ্গীর চৌকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম শিকদার, ইউসুফ আলী লস্কর, ইবনে মিজান।

ক্যালকুলাসের প্রথম আবিষ্কারক নিউটন নাকি লিবনিজ?

Zahid Hasan Mithu: বিজ্ঞানের হাজার বছরের ইতিহাসে অনেক তত্ত্বই যুগপৎভাবে আবিষ্কৃত হয়েছে। যেমন- মাইকেল ফ্যারাডে ও জোসেফ হেনরির ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন আবিষ্কার ছিল সমসাময়িক। এরপর চার্লস ডারউইন ও আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস একই সময়ে ‘প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তন’ তত্ত্বের ধারণা প্রদান করেন।

এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। কিন্তু সেগুলোর একটিও আইজ্যাক নিউটন ও গটফ্রেড লিবনিজের ক্যালকুলাস তত্ত্বের মতো বিতর্কিত হয়নি। বর্তমানে নিউটন ও লিবনিজ দুজনকেই ক্যালকুলাসের জনক বলা হয়। কিন্তু একসময় এই তত্ত্ব নিয়ে দুই গণিতবিদ বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। তাদের দুজনের মধ্যে কে সবার আগে ক্যালকুলাস আবিষ্কার করেছেন, সেটি ছিল বিবাদের মূল কারণ। এই বিতর্ককে ঘিরে বেশ কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি হয়েছিল, যেটা বেশ কয়েক বছর চলমান ছিল।

গণিতের বিতর্কিত এক অধ্যায়ের সাথে জড়িয়ে আছে নিউটন ও লিবনিজের নাম; Image Source: Raizde2

ব্যারো নামে আইজ্যাক নিউটনের একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি ক্যালকুলাস সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে কিছু ধারণা প্রদান করেন। কিন্তু তিনি তখন ক্যালকুলাসের তাৎপর্য বুঝতে পারেননি। সেই কারণে তিনি এই বিষয়ে তেমন গুরুত্ব দেননি এবং তার প্রাথমিক ধারণাগুলোও জনসম্মুখে প্রকাশ করেননি। কিন্তু নিউটন যেহেতু ব্যারোর ছাত্র ছিলেন, সেই সূত্রে তিনি তার শিক্ষকের কাছে থেকে ক্যালকুলাসের সামান্য কিছু ধারণা পান। পরবর্তীতে তিনি তার শিক্ষকের দেয়া ধারণাকে কাজে লাগিয়ে ক্যালকুলাসের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব আবিষ্কার করেন।

কিন্তু আইজ্যাক নিউটন প্রথম থেকেই কিছুটা প্রচারবিমুখ ছিলেন। তিনি তার আবিষ্কৃত বিভিন্ন তত্ত্ব জনসম্মুখে প্রকাশ করতে পছন্দ করতেন না। একই কাজ তিনি ক্যালকুলাসের ক্ষেত্রেও করেন। সপ্তদশ শতকের ষাটের দশক থেকে তিনি ক্যালকুলাস নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেন এবং ১৬৬৪-৬৬ সালের মধ্যে তিনি ক্যালকুলাসের মূল বিষয়গুলো আবিষ্কার করতে সক্ষম হন। এরপর নিউটন ১৬৬৯, ১৬৭১ ও ১৬৭৬ সালে ক্যালকুলাস নিয়ে ৩টি আলাদা গবেষণাপত্র লেখেন। কিন্তু তিনি সেগুলোর একটিও সেই সময়ে প্রকাশ করেননি। ১৬৬৯ সালে তিনি যে তত্ত্ব লেখেন, সেটি প্রকাশ হয় ১৭১১ সালে, অর্থাৎ ৪২ বছর পর। দ্বিতীয় গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয় ১৭৩৬ সালে, তার মৃত্যুরও ৯ বছর পর। তবে সর্বশেষ তত্ত্বকোষটি তিনি ১৭০৪ সালে প্রকাশ করেন।

স্যার আইজ্যাক নিউটন; Image Source: openculture.com

অষ্টাদশ শতকের আগে ক্যালকুলাস নিয়ে নিউটনের কোনো তত্ত্বই জনসম্মুখে প্রকাশ হয়নি। তবে ১৬৮৪ সালে লেইপজিগ সাময়িকীতে তিনি ক্যালকুলাস নিয়ে ‘অ্যাক্টা এরুডিটোরাম‘ নামে একটি অসমাপ্ত গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। এছাড়া তিনি তার আবিষ্কৃত তত্ত্বসমূহ গোপনে বন্ধুদের মাঝে চিঠি আকারেও বিলি করতেন। এই চিঠিগুলোর একটি লিবনিজও পেয়েছিলেন। তবে সেই চিঠিতে নিউটন ক্যালকুলাস সম্পর্কে যা লিখেছিলেন, সেটি পুরো অস্পষ্ট ছিল। এছাড়া অনেক বিষয় তিনি ইচ্ছা করে এড়িয়ে যান, যাতে কেউ তার তত্ত্ব চুরি করতে না পারে। অন্যদিকে, সপ্তদশ শতকের সত্তরের দশকের মাঝামাঝিতে লিবনিজও ক্যালকুলাস আবিষ্কার করতে সক্ষম হন। ১৬৭৪ সালে তিনি ক্যালকুলাস নিয়ে তার চিন্তাভাবনাকে প্রকাশ করতে শুরু করেন এবং ১৬৮৪ তিনি এই বিষয়ে লিখিত আকারে তত্ত্ব প্রকাশ করেন। কিন্তু তার ছয় পৃষ্ঠার সেই তত্ত্বটি বেশ অস্পষ্ট এবং অনেকের কাছে বোধগম্য ছিল না। তবে সেই সময়ে  ক্যালকুলাস নিয়ে তার তত্ত্বটি সঠিক ছিল।

গটফ্রেড লিবনিজ Image Source: The Independent

বিতর্কের আদ্যোপান্ত

প্রথমদিকে নিউটন ও লিবনিজ দুজনেই একে অপরকে ক্যালকুলাসের আবিষ্কারক হিসেবে সম্মান করতেন। কিন্তু তাদের একজন বন্ধু বিখ্যাত দুই গণিতবিদকে মুখোমুখি দাঁড় করান। ১৬৯৬ সালে লিবনিজের একজন বন্ধু নিউটনকে তার ক্যালকুলাস তত্ত্ব নিয়ে চ্যালেঞ্জ করে বসেন। তিনি ভেবেছিলেন, নিউটন তার  উত্থাপিত সমস্যার সমাধান করতে পারবেন না। কিন্তু নিউটন ও লিবনিজ উভয়ই সেই সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হন। কিন্তু এই ঘটনার পর লিবনিজ এক প্রবন্ধে নিউটনের এক বন্ধুকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি ক্যালকুলাসের আবিষ্কারক এবং এ বিষয়ে নিউটন তার শিষ্য। নিউটনের বন্ধু বিষয়টি পুরোপুরি হজম করতে পারেননি। তিনি বেশ রাগের সাথে পূর্বে উত্থাপিত সমস্যার বিচার বিশ্লেষণ তুলে ধরেন এবং পরোক্ষভাবে লিবনিজের বিরুদ্ধে নিউটনের লেখা চুরির অভিযোগ করেন।

তিনি প্রমাণ হিসেবে বহু বছর আগে লিবনিজের কাছে ক্যালকুলাস নিয়ে নিউটনের পাঠানো চিঠিকে সামনে আনেন। কিন্তু মূলত সেই চিঠিতে নিউটন ক্যালকুলাস নিয়ে নিজের তত্ত্বের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যাই প্রদান করেননি। এরপর বেশ কয়েক বছর এই বিষয়টি চাপা পড়ে ছিল। কিন্তু ১৭০৫ সালে লিবনিজ নিউটনের ক্যালকুলাস সম্পর্কিত কিছু কাজ রিভিউ করে নিজেদের দুজন বিজ্ঞানীর সাথে তুলনা করেন, যারা উন্নততর কিছু আবিষ্কারের উদ্দেশ্য জুটি বেঁধেছিলেন। কিন্তু নিউটনের একজন বন্ধু লিবনিজের এই বিষয়টিকে লেখা চুরির নতুন ফন্দি হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। সম্ভবত লিবনিজ যে দুজন বিজ্ঞানীর উদাহরণ টেনেছিলেন, তারা একে অপরের তত্ত্ব চুরি করেছিলেন।

লন্ডনের বিখ্যাত রয়্যাল সোসাইটি; Image Source: royalsociety.org

এই ঘটনার কিছুদিন পরেই নিউটনের সেই বন্ধু লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটি থেকে একটি দলিল প্রকাশ করেন এবং সেখানে তিনি নিউটনকে সন্দেহাতীতভাবে ক্যালকুলাসের আবিষ্কারক হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই সাথে তিনি লেখেন, লিবনিজ নিউটনের তত্ত্ব চুরি করেছেন এবং কিছু কাটছাঁট করে নিজের নামে তা প্রকাশ করেছেন। এই বিষয়টি লিবনিজের জন্য ছিল চরম অপমানজনক। তিনি বেশ ক্রুদ্ধ হয়ে রয়্যাল সোসাইটি বরাবর চিঠি লিখে ক্ষমা চাইতে বলেন। কিন্তু ক্ষমা তো দূরে থাক, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে লিবনিজকে প্রতি আক্রমণ করে চিঠি পাঠানো হয় এবং সেখানে তার প্রতি সমস্ত অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। জবাবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চেয়ে লিবনিজ আরো একটি চিঠি পাঠান।

রয়্যাল সোসাইটি লিবনিজের দাবির পক্ষে সাড়া দেয়। তারা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই সময়ে রয়্যাল সোসাইটির সভাপতি ছিলেন আইজ্যাক নিউটন। আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি সেই কমিটির সদস্য হিসেবে না থাকলেও, তদন্ত কমিটি যে  প্রতিবেদন প্রকাশ করে, সেটি পুরোপুরি তার পক্ষে ছিল। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, তদন্ত প্রতিবেদনটি নিউটন নিজ হাতে লিখেছিলেন। সেখানে তিনি নিজেকে ক্যালকুলাসের আবিষ্কারক হিসেবে তুলে ধরেন এবং লিবনিজ তার তত্ত্ব চুরি করেছেন বলে প্রতিবেদনে লেখেন।

এ নিয়ে রয়েছে অনেক রম্য কার্টুন; Image Source: Marek Bennett

লিবনিজ ও তার বন্ধুদের জন্য এটি ছিল অনেক বড় পরাজয়। তারা নিউটনের বিপক্ষে বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করে নিজেদের দাবির পক্ষে লিফলেট প্রকাশ করে প্রচার করেন। এর বেশ কয়েক বছর পরও গণিতশাস্ত্রের অন্যতম সেরা দুই বিজ্ঞানী একে অপরের বিপক্ষে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ অব্যাহত রাখেন এবং পূর্বে প্রকাশিত যুক্তিতর্কগুলো পরিমার্জন করে প্রকাশ করতে থাকেন। এমনকি লিবনিজের মৃত্যুর পরও তার বিরুদ্ধে নিউটনের তত্ত্ব চুরির অভিযোগের উপর বিভিন্ন যুক্তিতর্ক ও প্রমাণ প্রচার করা হয়।

এত বিতর্কের পরও বিংশ শতাব্দীর পূর্ব পর্যন্ত নিউটন ও লিবনিজ উভয়কে ক্যালকুলাসের আবিষ্কারক হিসেবে মানা হতো। কিন্তু গত শতাব্দীতে এসে বিজ্ঞানীরা একমত হন যে, নিউটন সর্বপ্রথম ক্যালকুলাস আবিষ্কার করেছেন। তিনি ১৬৬৫-৬৬ সালে দিকে ক্যালকুলাস আবিষ্কার করেন। তবে লিবনিজ নিউটনের সাথে কোনো যোগাযোগ ব্যতিরেকে নিজ প্রচেষ্টায় ১৬৭৫-৭৬ সালে ক্যালকুলাসের মূল নীতিসমূহ আবিষ্কার করেন।

ক্যালকুলাস বিতর্ক নিয়ে ট্রল; Image Source: YouTube

তবে দিন শেষে প্রকৃত বিজয় হয়েছে লিবনিজেরই। কারণ নিউটন যে ক্যালকুলাস আবিষ্কার করেছিলেন, সেটি ছিল বড্ড সেকেলে। ফলে সেটি ইতোমধ্যে জাদুঘরে স্থান পেয়েছে। তবে লিবনিজের ক্যালকুলাস ছিল বাস্তবভিত্তিক। বর্তমানে স্কুল-কলেজে যে ক্যালকুলাস চর্চা করা হয়, তার শতকরা ১০০ ভাগই লিবনিজের আবিষ্কৃত ক্যালকুলাস। ফলে তিনি ক্যালকুলাসের দ্বিতীয় আবিষ্কারক হলেও তার সৃষ্টিকর্মই স্থায়ীত্ব লাভ করেছে।

https://roar.media/bangla/main/history/who-is-the-inventor-of-calculus-leibniz-or-newton/

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঢাকা জেলায় মনোনয়ন পেলেন যারা

0

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চতুর্থ ধাপে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১২১ উপজেলা দলীয় প্রার্থী চুড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা জেলার ৫ টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকেও নৌকা প্রতীক বরাদ্ধ দেয়া হয়।

এরা হলেন নবাবগঞ্জে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য আবদুল বাতেন মিয়া, দোহারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন, কেরানীগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগেরর আহ্বায়ক মো. শাহীন আহমেদ, ধামরাইয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান মিজান ও সাভারে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীব। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাতে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকার বিষয়টি জানানো হয়।

জানা গেছে, চতুর্থ ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১২১ উপজেলা দলীয় প্রার্থী চুড়ান্ত করা হয়। আগামী ৩১ মার্চ চতুর্থ ধাপের উপজেলা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ১৬ উপজেলায় ইভিএমে ভোট নেয়া হবে।

এছাড়া মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৪ মার্চ, বাছাই ৬ মার্চ। আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৩ মার্চ।
মনোনয়ন পাওয়ার পর স্ব স্ব প্রার্থীর পক্ষে নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছে ।