মুকসুদপুরের ডাকাতি মামলায় ১ ডাকাত আটক

ঢাকার দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের ধীৎপুর গ্রামের আবু সাঈদের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুলাই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ৭/৮ জনের একটি ডাকাতদল ধীৎপুর গ্রামের আবু সাঈদের দোতলা বিল্ডিং এর চিলে কোঠা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে দরজা ভেঙ্গে বাড়ির সবাইকে মারধর করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৪৮ ভরি দুই আনা স্বর্ণালংকার, চারটি স্মার্ট মোবাইল ফোন ও নগদ ১৬ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। যার মূল্য আনুমানিক ৩৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা।

ঘটনার পর আবু সাঈদ বাদি হয়ে ২৮ জুলাই দোহার থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। ঐদিন অভিযান চালিয়ে উপজেলার জামালচর থেকে রনি(২৮) নামের এক ডাকাতকে আটক করে পুলিশ।

দোহার থানার ওসি তদন্ত ইয়াসিন মুন্সী জানান,আবু সাঈদের করা ডাকাতি মামলায় আমরা রনি নামে একজনকে আটক করে আদালতে পাঠাই। বর্তমানে সে ৪ দিনের রিমান্ডে রয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

নবাবগঞ্জের সাদাপুরে খালের ভাঙন দিশেহারা শতাধিক পরিবার

ঢাকার নবাবগঞ্জের সাদাপুর খালের করাল স্রোতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। পদ্মার সঙ্গে ইছামতি নদীর সংযোগ খালটির দুপাড়ের শতাধিক পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। প্রতি বছর বর্ষা এলে খালটিতে ভাঙন দেখা দেয়। এতে গত ৫ বছরে বাসস্থান হারিয়েছে কয়েকশ পরিবার। ভাঙনরোধে দ্রæত ব্যবস্থা না নিলে ভিটে মাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বে পরিবারগুলো।

এলাকাবাসী জানায়, খালটি দোহারের পদ্মা নদী থেকে জয়পাড়া হয়ে সাহেব খালী দিয়ে মূল ইছামতি নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে এ খালে প্রচন্ড স্রোত দেখা যায়। এবারও এর ব্যতিক্রম নয়। বর্ষার শুরু থেকে স্রোতের কারণে ভুমিক্ষয় হয়ে তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি হয়। ১ মাসের ভাঙনে সৈয়দপুর, হযরতপুর, সাদাপুর, আলহাদিপুর, সাহেব খালী গ্রামের কয়েকটি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। স্রোতের তীব্রতায় ভেঙে পড়ছে দুপারের বাড়ি-ঘর, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ ফসলি জমি। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে ওই এলাকার ২ শতাধিক পরিবার আতংকে রয়েছে।

সাদাপুর গ্রামের ভাঙনকবলিত অঞ্জনা সাহা, যাদব সাহা, রনি সূত্রধর, বিদ্যুৎ সূত্রধর ও বিরেণ সূত্রধর বলেন, ‘ভোটের সময় সবাই আহে, ভোট ফুরাইলে আর কেউ খবর নেয় না। আমাগো সবার বাড়ি-ঘর বাইঙ্গা যাই তাছে, কেউ খবর নেয় না।’

মিনতি সাহা বলেন, আমরা সাহায্য চাই না। বসতভিটায় থাকার নিশ্চয়তা চাই।

বান্দুরা ইউপি চেয়ারম্যান মো. হিল্লাল মিয়া বলেন, পদ্মা ও ইছামতির ওই শাখা খাল ভাঙনে প্রতি বছরই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এখনই ভাঙন রোধ করা না গেলে অনেক পরিবারই বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাবে। কর্তৃপক্ষের উচিত ভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম সালাহ উদ্দিন মনজু বলেন, সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন। তারাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

নবাবগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৫ জন হাসপাতালে

সারাদেশের মতো ঢাকার নবাবগঞ্জে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৫ জন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মরত সিনিয়র নার্স হিরামতি রায় জানায়, এসব রোগীর অধিকাংশ বয়সে তরুণ। এদের মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীরা হলেন, মনির হোসেন, মেহেনাজ মোস্তফা রিয়া, সদানন্দ শীল, সালমা আক্তার, রুহুল আমিন, তিথি সুলতানা, অদশা মনী, লিমন, তাসিন, রাহাত হোসেন, গুলেনুর বেগম, তাছির, উজ্জল, মিথিলা আক্তার, তারিফুল ইসলাম। এরা সকলেই নবাবগঞ্জ উপজেলার অধিবাসী।

নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. শহিদুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। আক্রান্ত রোগীদের সকল ধরনের সহযোগিতা আমরা করে যাচ্ছি।

আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার হচ্ছেন ২০০ উপজেলা চেয়ারম্যান

উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করায় বিদ্রোহী ১২৬ উপজেলা চেয়ারম্যানকে আগামী সেপ্টেম্বরে সাংগঠনিকভাবে বহিস্কার করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। একারণে দলীয় পদ-পদবিসহ ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে আসার সুযোগ হারাবেন। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এরইমধ্যে বিদ্রোহী উপজেলা চেয়ারম্যানদের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষ্ফ্ক্রিয় করা হয়েছে। এতে নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন আহমেদ ঝিলু।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে বিদ্রোহী উপজেলা চেয়ারম্যানদের বিষয়ে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিতে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতৃস্থানীয় কয়েকজন নেতা।

তারা জানান, শোকের মাস আগস্টের পর সেপ্টেম্বরে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী এই বিদ্রোহী প্রার্থীদের শোকজ করা হবে। সেইসঙ্গে তাদের দলীয় পদ-পদবিও কেড়ে নেওয়া হবে। বহিষ্কৃতদের কয়েক ধাপে চিঠি দেওয়া হবে।

বৈঠকে উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের তালিকা তৈরির কাজ চূড়ান্ত করতে দলের চার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আট সাংগঠনিক সম্পাদককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা তালিকা তৈরির কাজ অনেকটাই গুছিয়ে এনেছেন। সেই তালিকায় দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বের নাম উঠে এসেছে।

প্রসঙ্গত, পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত ৪৭৩টি উপজেলার নির্বাচনে ১৪৯টিতে চেয়ারম্যান পদে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১৪০ জনই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তাকে দলের বিদ্রোহী হিসেবে ধরে নেয় আওয়ামী লীগ।

বহিস্কার হতে যাওয়া ২০০ নেতার মধ্যে খুলনায় ৪১ জন, রাজশাহীতে ২০ জন, সিলেটে ৩২ জন, রংপুরে ২৬ জন, বরিশালে ১৭ জন, ময়মনসিংহে ২০ জন, ঢাকায় ৪৫ জন এবং চট্টগ্রামে ১৭ জন রয়েছেন।

দোহারে ত্রান বিতরণ করলেন শামীমা শীলা

দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করেছেন দোহার উপজেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কেন্দ্রীয় কমিটি’র সদস্য শামীমা রাহিম শীলা । আজ সকালে বন্যার্তদের মাঝে এ ত্রান সামগ্রী বিতরণ করেন । এ সময় বন্যার্তদের সাথে কথা হয় তার

তখন শামীমা রাহিম শীলা বলেন আমি এই উপজেলার জনপ্রতিনিধি ছিলাম তখনও আপনাদের পাশে ছিলাম এবং এখন জনপ্রতিনিধি নেই তাও আছি । আপনাদের পাশে এসে দাড়ানো এটা আমার দায়িত্ব । আপনাদের ভালবাসায় আজ আমি পরিচিত হয়েছি । তাই আপনাদের অবদান ও ভুলার মত না । আপনার আপনাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছিলেন ।

তাই আপনাদের কাছে আমি চিরঋনী । আপনাদের পাশে আগেও ছিলাম এখন ও থাকবো আপনাদের কাছে শুধু একটু দোয়া চাই দোয়া করবেন

ত্রান বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য শামীমা রাহিম শীলা, দোহার উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল হান্নানসহ স্থানীয় নেতা কর্মীরা

নবাবগঞ্জে বাস চাপায় যুবক নিহত

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস চাপায় সুজন (২৭) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। রবিবার সকাল  সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার দিঘীরপাড় মসজিদ সংলগ্ন মোড় এলাকায় এ দূর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুজন ওই গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। সে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড কোম্পানীতে সেলসম্যানের চাকুরী করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহত সুজনের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়. রোববার সকালে সুজন বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তা পার হতে গেলে ঢাকাগামী দ্রুত পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এসময় স্থানীয়রা ধাওয়া করে গাড়িটি আটক করলেও তাৎক্ষণিক গাড়ি চালক পালিয়ে যায়।

এঘটনায় সড়কে প্রায় দেড়ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।  পরে পুলিশ এসে যান চলাচল স্বাভাবিক করে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

নবাবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্ম গোলাম নবী শেখ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। স্থানীয়রা বাসটি জব্দ করতে পারলেও চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছে।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে পরবর্তি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

দোহার-নবাবগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে স্বেচ্ছাসেবকলীগের পুণঃমিলনী অনুষ্ঠিত

জুবায়ের শরিফ,স্টাফ রিপোর্টার, নিউজ৩৯, ৩০/০৭/২০১৯ঃ দোহার-নবাগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবকলীগের ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এক পুণঃমিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। মংগলবার বিকাল ৪টায় দোহারের নয়াবাড়িতে স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ’র বাড়িতে এই আনন্দমুখর পুণঃমিলনী অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, গত নির্বাচনে আমরা বর্তমান সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমানকে বিজয়ী করেছি, আগামীতেও তার পাশে থেকে আমরা দোহার নবাবগঞ্জের সকল উন্নয়নে অংশীদার হবো। সালমান এফ রহমান আমাদের নেতা, তার হাত ধরেই দোহার নবাবগঞ্জ হবে উন্নয়নের রোল মডেল। যে কোন সেবামূলক কাজে আমরা বংগবন্ধুর আদর্শে উজ্জ্বীবিত হয়ে ঝাপিয়ে পড়বো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আগামীতে আরও এগিয়ে যাবে। আমরা সংগঠিত হলে কেউ আমাদের কিছু করতে পারবে না।প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে শেখ হাসিনার করা সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড এর বার্তা সাধারন মানুষের কাছে পৌছে দিতে হবে।

প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, ঢাকা জেলা স্বেছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দুলু,ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের স্বেছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি বাবু শশাংক চৌধুরি, ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক মনির হোসেন, , দোহার উপজেলা স্বেছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি লুতফর রহমান, নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বেছাসেবকলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক মোঃ পলাশ মিয়া, মোঃ বাপ্পী হোসেন – স্বেছাসেবকলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক দোহার উপজেলা,ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক অনুপম গুহ নয়ন, আসাফো ঢাকা জেলা সাধারণ সম্পাদক শামীম শিপলুসহ ঢাকা জেলা, দোহার-নবাবগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ আওয়ামীলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মিরা।

বেসরকারি হাসপাতালের ডেঙ্গু রোগীর হিসাব অজানা

0

ঢাকা শহরের প্রায় সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে এখন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। এ রকম প্রতিষ্ঠান আছে প্রায় সাড়ে তিন শ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মাত্র ৩৫টি (১০ শতাংশ) প্রতিষ্ঠানে ভর্তি রোগীর তথ্য প্রকাশ করছে।  অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বিপুলসংখ্যক রোগী সরকারের হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

গতকাল প্রথম আলোর সাতজন প্রতিবেদক ২৮টি বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরে ডেঙ্গু রোগীর তথ্য নিয়েছেন। এসব হাসপাতালে ৫৪২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিল।
এর মধ্যে অন্তত ১৬৪টি শিশু। আর সরকারের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গতকাল ঢাকাসহ সারা দেশে ২ হাজার ৯৮১ জন রোগী ভর্তি ছিল।

বিভিন্ন সরকারি–বেসরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগে ও চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে কত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে, সেই হিসাব সরকার বা কারও কাছে নেই। সরকারের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মাত্র ১৫ শতাংশ চিকিৎসা নেয়।

জনস্বাস্থ্যবিদ ও সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বোঝার জন্য সংখ্যাটি খুব জরুরি। এটা ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে। তিনি আরও বলেন, ‘যে প্রকোপ দেখা যাচ্ছে, তাতে জাতীয় জনস্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতি প্রায় তৈরি হয়েছে। এটা জাতীয় দুর্যোগ।’

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘হঠাৎ রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি আমরা মোকাবিলা করছি।’ রোগীর হিসাব সম্পর্কে তিনি বলেন, তথ্য দেওয়ার ব্যাপারে অনেকেই আন্তরিক নয়। অনেকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেয় না, অনেকে ঠিক সময়ে তথ্য দেয় না। তবে প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতালকে তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।

২৮ হাসপাতালের চিত্র
গতকাল প্রথম আলোর পক্ষ থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ২৮টি হাসপাতাল ঘুরে ডেঙ্গু আক্রান্তদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এ হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নেওয়া ডেঙ্গু আক্রান্তদের তথ্য সরকারের হিসাবে নেই। গতকাল বিকেল পর্যন্ত ২৮টি হাসপাতালে মোট ভর্তি ছিল ৫৪২ জন। এদের অন্তত ১৫৪টিই শিশু। জুনের মাঝামাঝি থেকে রোগী আসা শুরু হলেও জুলাইয়ে বেড়ে যায়। প্রতিদিন ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ঢাকার শ্যামলীতে সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর জন্য জরুরি ব্যবস্থা নিতে দেখা গেছে। সেখানে সব স্টাফের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। নিচতলায় বিনা মূল্যে প্রাথমিক সেবা দেওয়া হচ্ছে। অধ্যক্ষের নেতৃত্বে আলাদা টিম করে এখানে কয়েকটি ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ডেঙ্গু রোগীদের। রোগীর চাপ সামলাতে ডাক্তারের চেম্বার, দাপ্তরিক কয়েকটি কক্ষকে নতুন করে ওয়ার্ড বানানো হচ্ছে। বাজার থেকে তৈরি খাট ও তোশক নিয়ে এসে নতুন ২৩টি শয্যা প্রস্তুত করেছে তারা। নিজের কক্ষ ছেড়ে দিয়ে বের হওয়ার সময় অধ্যাপক জলিলুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মানবতার খাতিরে এখন ডেঙ্গু রোগীদের সেবা দেওয়া সবচেয়ে জরুরি দায়িত্ব।

গতকাল বেলা একটায় ধানমন্ডি ৪/এ সড়কের রেনেসাঁ হাসপাতালে ৩০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে ২১টি শিশু। সেখানে ২২ জুলাই সাত বছরের এক শিশু মারা যায়। হাসপাতালটির পরিচালক (প্রশাসন) মমতাজ করিম বলেন, সরকার থেকে তাঁদের কাছে কোনো কিছু জানতে চাওয়া হয়নি এবং তাঁরাও কিছু জানাননি।

ধানমন্ডির নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল ১৫ দিন ধরে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি শুরু করেছে। গতকাল পর্যন্ত এ হাসপাতালে দুটি শিশুসহ ৪২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। মুসা চৌধুরী নামে সাড়ে ছয় বছরের এক শিশু গত শনিবার ভর্তি হয়েছে। তার মা সালমা সুলতানা প্রথম আলোকে বলেন, চারটি হাসপাতাল ঘুরে তাঁরা এই হাসপাতালে ভর্তি করাতে পেরেছেন।

লালমাটিয়ার সিটি হাসপাতালে গতকাল ডেঙ্গু রোগী ছিল ৪২ জন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণকক্ষে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা জানানো হয়। তবে নিয়ন্ত্রণকক্ষের বেসরকারি হাসপাতালের তালিকায় সিটি হাসপাতালের নাম নেই। গত সপ্তাহে এই হাসপাতালে একজন ডেঙ্গু রোগী মারা গেছে।

শিশু রোগীদের জন্য নতুন করে ৩০টি পিআইসিইউ প্রস্তুত করেছে কেয়ার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. পারভীন ফাতেমা প্রথম আলোকে বলেন, শুরুর দিকে কিছু রোগী ফেরত দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ রোগী কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে এখানে ভর্তি হতে আসছে। তাই কোনো রোগী ফেরত না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা হাসপাতালগুলোর মধ্যে আটটি হাসপাতাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নিয়মিত তথ্য দেওয়ার দাবি করেছে। যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেওয়া তালিকায় তাদের নাম নেই। এই আটটি হাসপাতাল হচ্ছে ঢাকা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল, কেয়ার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল, এএমজেড হাসপাতাল, বাড্ডা জেনারেল হাসপাতাল, সিটি হাসপাতাল ও সালাহউদ্দিন স্পেশালাইজড হাসপাতাল। আর নর্দান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাত্র একদিন ফোন করে তথ্য নেওয়া হয়েছিল।

ঢাকা শিশু–নবজাতক ও জেনারেল হাসপাতালে গতকাল ডেঙ্গু আক্রান্ত ৮টি শিশু ভর্তি ছিল। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আমিনুর রহমান বলেন, শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (পিআইসিইউ) পাঁচটি শয্যা আছে। গত দুদিনে বেশ কয়েকটি ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশু পিআইসিইউতে ভর্তির জন্য এসেছিল। শয্যা খালি না থাকায় ফিরিয়ে দিতে হয়েছে। গত সপ্তাহে এই হাসপাতালে রশনী মণ্ডল নামে চার বছর বয়সী এক শিশু ডেঙ্গুতে মারা গেছে।

মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন
গতকাল সংবাদ ব্রিফিংয়ে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক অভিযোগ করেন, তাঁরা হাসপাতাল ঘুরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর যে সংখ্যা পাচ্ছেন, তার সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে ব্যাপক ফারাক। অধিদপ্তর বলছে, এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আটজনের মৃত্যু হয়েছে।

এ ব্যাপারে আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর মারা গেলেও মৃত্যুর কারণ ডেঙ্গু না–ও হতে পারে। আইইডিসিআর সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে পর্যালোচনা শেষে মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করে। তখন সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন কতটি মৃত্যুর ঘটনা পর্যালোচনা করা হয়েছে? মহাপরিচালক বলেন, সভাস্থলে আইইডিসিআরের পরিচালক উপস্থিত না থাকায় এটা বলা সম্ভব নয়।

ব্রিফিং শেষে প্রথম আলোর প্রতিনিধি আইইডিসিআর কার্যালয়ে যান। আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সাব্রিনা ফ্লোরা কতটি মৃত্যুর ঘটনা পর্যালোচনা করা হয়েছে তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান।
প্রথম আলো বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এ পর্যন্ত ৪৬টি মৃত্যুর বিষয়ে জানতে পেরেছে।

সরকারি সংখ্যায় ঘাটতি
হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, গতকাল ঢাকা শহরের ১২টি সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালে ২ হাজার ৬৩৯ জন রোগী ভর্তি ছিল। আর বেসরকারি ৩৫টি হাসপাতালে ভর্তি ছিল ৯২০ জন।

কিন্তু ৩৫টি হাসপাতালের নাম থাকলেও ২২টি হাসপাতালের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। ২২টির মধ্যে গ্রিন লাইফ, ডেল্টাসহ প্রায় সব হাসপাতালেই গতকাল রোগী ছিল।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, বিভিন্ন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মোট ২৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে শিশু হাসপাতালে ১২ জন।
এই তথ্যের প্রতিবাদ করেন উপস্থিত সাংবাদিকেরা। তাঁরা বলেন, রাজধানীর প্রতিটি বড় ও মাঝারি হাসপাতালের আইসিইউতে রোগী আছে। অনেক হাসপাতালের আইসিইউতে শয্যা খালি নেই। সাংবাদিকেরা বলেন, সরকারি তথ্যে ঘাটতির বড় প্রমাণ এই আইসিইউর হিসাব।

সরকারী চাল জব্দ; বিলাশপুর ইউপির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল

ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের গোডাউনে বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল জব্দ ও গোডাউন সিলগালা করেছে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা। রোববার রাত ৯টার দিকে উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের গোডাউন সীলগালা করে চালগুলো জব্দ করা হয়। সোমবার সকালে গোডাউনের সীলগালা খোলা দেখে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানায়, বিলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদে জব্দ ও সীলগালাকৃত চাল হতদরিদ্রদের বিতরনের জন্য মজুদ করা হলেও তাদের ঈদের আগে চাল বিতরণ না করে আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে গোডাউনজাত করেন বিলাশপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লা।

হতদরিদ্রদের চাল বিতরনে চরম অনিয়মের অভিযোগ এনে ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ আবুল হোসেন বলেন, বিলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিডি’র চাল বিতরণের জন্য জুন মাসে ১৮০৬ জনের ৬ টন পাঁচশত দশ কেজি চাল অনুমোদন দেয় উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তর। কিন্তু পরিষদের নির্বাচিত ১২ জন সদস্যদের মতামতকে না নিয়ে একতরফাভাবে মাষ্টাররোল তৈরী করে চাল বিতরণ না করে আত্মসাৎ করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লা।

৩নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ শেখ আয়নাল জানান, রোববার রাতে হঠাৎ গোডাউনে বিপুল পরিমান চাল দেখতে পাই। পরে উপজেলা প্রশাসনকে জানালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা এসে সীলগালা করে রেখে যান। কিন্তু সকালে সেই সীলগালাকৃত গোডাউনের চাল উপজেলা প্রশাসন যাঁচাই না করার আগেই চেয়ারম্যানের লোকজন গোডাউন খুলে দিলে এলাকাবাসী চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে বিক্ষোভ করেন ।

দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানান, সরকারী চাল গরিব মানুষকে না দিয়ে আত্মসাৎ করার জন্য মজুদ করেছেন তিনি। আমরা তদন্তসাপেক্ষে উর্দ্ধতন কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষন করে সুবিচার আশা করছি।

বিলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লা বলেন, এলাকায় বন্যার পানি থাকায় কার্ডধারীদের চাল বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। কিছুদিনের মধ্যে চাল বিতরণ করা হবে।

ধর্ষণের শিকার বলে স্কুলে যেতে পারবে না নবাবগঞ্জের মেয়েটি?

ঢাকার নবাবগঞ্জে ধর্ষণের শিকার একটি মেয়েকে বিদ্যালয়ে যেতে বারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে গতকাল বৃহস্পতিবার মেয়েটির মা স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন। মেয়েটি (১৫) নবাবগঞ্জ উপজেলার বাগমারা উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রী। প্রেমের ফাঁদে ফেলে গত ২০ জুন দোহারের এক তরুণ মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। এ অভিযোগে ওই দিনই মেয়েটির মা দোহার থানায় একটি মামলা করেছেন।

মেয়েটির মা বলেন, ধর্ষণের ওই ঘটনার পর তাঁরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এরপরও তিনি মেয়েকে লেখাপড়া করাতে চান। কারণ, পড়ালেখা করতে পারলেই সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে বলে তাঁর বিশ্বাস। সম্প্রতি বাগমারা উচ্চবিদ্যালয়ে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এ জন্য গত ৯ জুন মেয়ের বকেয়া বেতন, জরিমানা, কোচিং ফি, পরীক্ষার ফিসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য পাওনা তিনি পরিশোধ করে দিয়েছেন। ১১ জুলাই মেয়েটি পরীক্ষা দিতে বিদ্যালয়ে যায়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম তাকে পরীক্ষা দিতে না দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেন। পরে তিনি (মেয়েটির মা) মেয়েকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যান। এ সময় প্রধান শিক্ষক তাঁর কক্ষে তাঁদের ডেকে নিয়ে যান। বলে দেন, এই মেয়েকে আর এই স্কুলে পড়ানো হবে না। সুতরাং, তাকে যেন আর বিদ্যালয়ে না পাঠানো হয়।

তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাগমারা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম। তিনি মুঠোফোনে বলেন, ‘মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েছিল, এমন ঘটনা আমার জানা নেই।’ তাহলে তাকে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হলো না কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এর জবাব আপনাকে দেব না।’

মেয়েটির ঘটনা ইতিমধ্যে জানতে পেরেছে উপজেলা প্রশাসন, থানা-পুলিশ ও উপজেলা শিক্ষা অফিস। নবাবগঞ্জের ইউএনও এইচ এম সালাউদ্দিন মনজুর বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শোনামাত্র উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছি। মেয়েটির লেখাপড়ার ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’