মশা নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণায় দোহারের কবিরুল বাশার

0

মশা বিষয়ে জাপানের কানাজোয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন তিনি। দীর্ঘদিনের গবেষণার ফল হিসেবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এডিস মশার জীবনচক্র। তিনি কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও দেশের প্রথম কীটতত্ত্ব গবেষণাগার আইআরইএসের সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক। তাঁর কাছ থেকে এডিস মশার জীবনচক্র ও বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের উপায় জেনেছেন কালের কণ্ঠের আদীব আরিফ, সৌজন্যে নিউজ৩৯।

প্রাণিজগতের অর্ধেকের বেশিই বিভিন্ন ধরনের পোকা-মাকড়। মজার ব্যাপার, এগুলোর ৯৯ শতাংশই উপকারী। যে এক শতাংশ অপকারী পোকা-মাকড় রয়েছে সেগুলো নিয়ে গবেষণার অন্ত নেই পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে। সেগুলোকে জানার ও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাও চলছে। অন্যদিকে মৌমাছি, রেশম পোকার মতো উপকারী পোকা-মাকড় চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী হচ্ছে অনেক দেশ। তবে সেই এক শতাংশ অপকারী পোকা-মাকড়ের একটি এডিস মশা আমাদের দেশে হয়ে উঠেছে এক আতঙ্কের নাম। ডেঙ্গুর ভাইরাস বহনকারী রহস্যময় ও ‘অভিজাত’ এই মশা নিয়ন্ত্রণ, ডেঙ্গুর লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকার নিয়ে কথা বলেছেন অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার। দীর্ঘদিন ধরে এডিস মশার জীবনচক্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন তিনি। জানালেন, ‘ঢাকায় প্রথম ডেঙ্গুর দেখা মেলে ১৯৬৪ সালে। তখন এই অসুখের নাম ছিল ঢাকা ফিভার। ২০০০ সালে এটির মাত্রা ব্যাপক বেড়ে যায়। তারপর থেকে প্রতিবছরই কমবেশি ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। তবে এ বছর এর মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। এডিস এলবোপিকটাস ও এডিস ইজিপটাই—দুই ধরনের এডিস মশাই ডেঙ্গুর কারণ। তবে এর মধ্যে প্রথম প্রজাতিটিই প্রধান বাহক। ৯৫ শতাংশ ডেঙ্গু ভাইরাস বহন করে এটি।’

এডিস মশার ডিম

ড. বাশার জানালেন, দেশে থাকা মশার ১২৩টি প্রজাতির মধ্যে ঢাকায় আছে ১২টি। এর মধ্যে এখানে এডিস ও কিউলেক্স বেশি প্রভাবশালী। এডিস মশার ডিম ছয় মাস পর্যন্ত শুকনো অবস্থায় ভালো থাকে। এবার ডেঙ্গুর এমন প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কারণ, ১৯৫৩ সালের পর এ বছরই ফেব্রুয়ারি মাসে এত বেশি বৃষ্টি হয়েছে। তাই পানি পেয়ে শুকনো ডিমগুলো এবার আগেভাগেই বংশবিস্তার করেছে। তাই শুধু কোনো নির্দিষ্ট সময়ই নয়, সারা বছরই চারপাশ পরিষ্কার রাখা, ঘরের কোথাও পানি জমতে না দেওয়া দরকার।

লার্ভা

তিনি আরো জানালেন, মশার জীবনচক্র চারটি ধাপে বা দশায় বিভক্ত—ডিম, ডিম ফুটে লার্ভা, লার্ভার পিউপায় রূপান্তর এবং পিউপা থেকে প্রাপ্তবয়স্ক মশা। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন চারটি টুলস—পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা, জৈবিক ব্যবস্থাপনা, রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ (ওষুধ দেওয়া) এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করা। ড. বাশার বলেন, ‘এই চারটি কাজের মধ্যে সিটি করপোরেশন করে মূলত তৃতীয়টি। তবে এডিস মশাকে টার্গেট করে কোনো কীটনাশক বা ওষুধ তৈরি হয় না। এটি বরং অন্য মশাগুলোর চেয়ে দুর্বল। পেটে ডিম এলেই শুধু রক্ত খায়। ২১ দিনের আয়ুষ্কালে একটি এডিস মশা চার থেকে পাঁচজনের রক্ত খেতে ও তাদের শরীরে ডেঙ্গু ছড়াতে পারে। যে ওষুধে কিউলেক্স মশা মরবে, সেই ওষুধে এডিস মশা মরবেই। তবু নতুন কীটনাশক কেনার আগে ঠিকমতো পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।’

পিউপা

ড. বাশার যেখানে গবেষণা করেন, দেশের প্রথম কীটতত্ত্ব গবেষণাগার হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ইনসেক্ট রিয়ারিং অ্যান্ড এক্সপেরিমেন্টাল স্টেশনের (আইআরইএসের) যাত্রা শুরু ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১০, তাঁর ও নিজ বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার হাওলাদারের হাত ধরে। এটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকা ড. বাশার জানালেন, সম্প্রতি ফড়িঙের নিম্ফ দিয়ে মশার শূককীট নিয়ন্ত্রণের একটি সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এখানে। ফড়িঙের নিম্ফ ও মশার শূককীট উভয়ই পানিতে থাকে। তাই ফড়িঙের নিম্ফ দিয়ে বায়োলজিক্যালি মশার শূককীট নিয়ন্ত্রণ খুব ফলপ্রসূ। এই পদ্ধতি ব্যবহারে মশা নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। এ ছাড়া এরই মধ্যে এক ধরনের কেমিক্যাল দিয়ে পূর্ণবয়স্ক মশা নিয়ন্ত্রণের একটি গবেষণা শেষ হয়েছে। কেমিক্যালটির মিশ্রণ যদি রঙের সঙ্গে মিশিয়ে দেয়ালে রং করা হয়, এক বছর ঘরটি মশামুক্ত থাকবে। মশা নিয়ন্ত্রণের আরো কিছু গবেষণা এখন চলছে গবেষণাগারটিতে। এটি ২৪ ঘণ্টাই খোলা। এখানে ড. বাশারের সঙ্গে কাজ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের অর্ধশত শিক্ষার্থী।

মন্তব্য

কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, দোহার ও ধামরাই উপজেলায় বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ

0

রাজধানীর পাশে কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, দোহার ও ধামরাই উপজেলায় বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। সরকারি হিসেবে, গত ৪৮ ঘণ্টায় ঢাকা জেলায় ১০৭ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে কেরানীগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত দুই স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এরা হলো- সৌরভ (১০) ও ফাহিম (১৫)। সৌরভ ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ইস্পাহানী এলাকার বাসিন্দা এবং তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। তার পিতার নাম ফিরোজ হোসেন। ফাহিম দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার শুভাঢ্যা উত্তর পাড়া এলাকার বাসিন্দা ফারুক আহমেদের ছেলে এবং নবম শ্রেণির ছাত্র। সৌরভ গত ৩১শে আগস্ট রাত ১০ টায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের ডেঙ্গু সেল শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
হাসপাতালে উপ-পরিচালক নির্মল কুমার সেন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সৌরভের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অপরদিকে, ফাহিম ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি ছিল। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় ৮ই জুলাই সে মারা যায়। ফাহিমের পিতা ঢাকার ডিসি অফিসের কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ জানান, তার ছেলে পুরান ঢাকার আহমেদ বাওয়ানি স্কুলে প্রভাতি শাখায় ৯ম শ্রেণিতে পড়তো। কেরানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোবারক হোসেন বলেন, কেরানীগঞ্জে এ পর্যন্ত ১২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অপরদিকে, দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ওই উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। তবে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়েছেন, দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন ও নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শহিদুল ইসলাম। দোহার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান জানান, সরকার সিটি করপোরেশনকে যেভাবে সহযোগিতা করে পৌরসভাকে তেমন সহযোগিতা করছে না। আমাদের জনবল, আর্থিক সংকট ও মশা স্প্রে করার যন্ত্রপাতির ঘাটতি রয়েছে। যে কারণে ডেঙ্গু মশা নিধনে কোনো অগ্রগতি নেই। সরজমিনে দেখা যায়, ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা নিধনে তেমন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জের কোথাও চোখে পড়েনি। সংশ্লিষ্ট পৌরসভা সূত্র জানায়, আর্থিক সংকটের কারণে মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না পৌরসভাগুলো। এদিকে, রাজধানী ঢাকার সঙ্গে এসব উপজেলার মানুষের প্রতিদিন যাতায়াত থাকার কারণে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলার মানুষ। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গত ২৪শে জুলাই থেকে ৪ঠা আগস্ট পর্যন্ত নবাবগঞ্জে ৩০ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের দুইজন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং মনির হোসেন নামে রোগীর অবস্থা গুরুতর দেখে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের ৭ জনের নাম জানা গেছে। এরা হলেন, আরিফ হোসেন (১০), রাহাত হোসেন (২০), মো. রুহুল আমিন (৪০), মেহনাজ রিয়া (২২), সদানন্দ (৭৫), আশা মনি (১৮) এবং লিমন (২৬)। নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শহিদুল ইসলাম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের বিষয় নিশ্চিত করেছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, ভর্তিকৃত রোগীরা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি না থাকায় প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে পরীক্ষা করিয়ে ডেঙ্গু নিশ্চিত করতে হয়। তিনি আরো বলেন, সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী কম খরচে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ক্লিনিক গুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রাইভেট ক্লিনিক ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. আবদুস ছালাম বলেন, আমরা প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে ডেঙ্গু নির্ণয়ে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছি না। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যে টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে আমরা সেই নির্দেশনা মেনে চলছি। এ ছাড়া, ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে গতকাল ৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করার পর তাদেরকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। অন্যদিকে, ধামরাইয়ের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল থেকে তিনজন ডেঙ্গু রোগীকে ঢাকাতে রেফার্ড করা হয়েছে। এর আগে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজে পোলট্রি ব্যাবসায়ী জুয়েল ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যান। দ্রুত ঢাকার আশপাশের উপজেলাগুলোতেও পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও বাংলাদেশের একমাত্র মশা গবেষক অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, শুধু সিটিতে ডেঙ্গু মশা নিধনে মনোযোগী হলে হবে না। ঢাকার পার্শ্ববর্তী উপজেলা গুলোতেও গুরুত্ব দিয়ে মশার ওষুধ স্প্রে করার ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে এলাকাবাসীকে স্বউদ্যোগে মশা যেখানে উৎপন্ন হয়, সেসব স্থান ধ্বংস করতে হবে। যেহেতু উপজেলাগুলোতে ডেঙ্গু মশার ব্যাপকতা এখনো বৃদ্ধি পায়নি সেহেতু জনসচেতনতার মাধ্যমে মশা যাতে সৃষ্টি না হতে পারে সেজন্য বেশি বেশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে হবে।

ঈদ উপলক্ষে দোহার – নবাবগঞ্জে পরিবহন সেক্টরে চরম নৈরাজ্যঃ প্রশাসনের কথা শোনে না পরিবহন সেক্টর

0

জোবায়ের শরিফ, তৌহিদ আহমেদ, সজল রহমান; নিউজ৩৯ঃ ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে গণপরিবহনে নৈরাজ্য চলছে। একটি যাত্রীবাহী বাসের সামনে দাঁড়িয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করছে অন্য বাস। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারছে না বাসে যাতায়াতকারী জনসাধারণ।আর যাত্রী সাধারণের দাবী এসবে নির্বিকার প্রশাসন, মাঝে মাঝে তারা অভিযান চালালেও তাদের কথা শোনে না পরিবহন সেক্টর। আর এখন ঈদকে সামনে রেখে তা চরম আকার ধারণ করেছে। ঢাকাগামী বাসগুলো প্রথমে ধীর গতিতে চলে, এরপর তারা তীব্র গতিতে প্রতিযোগিতা করতে করতে যায়, এতে সড়ক দূর্ঘটনার প্রবল ঝুকিতে রয়েছে যাত্রী সাধারণ। আর সামনে ঈদ উপলক্ষে ভাড়া বাড়তে পারে কয়েকগুণ।

ঢাকা থেকে দোহার উপজেলায় দূরত্ব রয়েছে মাত্র ৫৫ কি. মি.। দোহারের মানুষকে শহরে যাতায়াতের জন্য চালু রয়েছে দুটি বাস পরিবহন সার্ভিস। একটি আরাম অন্যটি নগর পরিবহন। এই দুটি পরিবহনের চাপাকলে পিশে মরছে দোহারের শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীগণ।

এতে বাস মালিকদের দৈনিক টার্গেট পূরণ হলেও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার যাত্রী সাধারণ। বিরতিহীন সিটিং সার্ভিসের নামে চলছে ‘চিটিং’ সার্ভিস। আর এসব পরিবহনে নবাবগঞ্জ থেকে রাজধানীর গুলিস্তান পর্যন্ত মাত্র ৩৭ কিলোমিটার রাস্তা যেতে সময় লাগছে প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। কয়েক যুগের এ সমস্যার জন্য পরিবহন মালিকদের খামখেয়ালিপনা ও প্রশাসনের উদাসীনতাকেই দায়ী করছে স্থানীয় যাত্রীরা। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে চায় নবাবগঞ্জবাসী।

সরেজমিনে দেখা যায়, বান্দুরা ও দোহারের মিনি কক্সবাজার থেকে এন মল্লিক পরিবহন, যমুনা সার্ভিস ও দ্রুত পরিবহনের বাসগুলো ছেড়ে আসে। এগুলো পাল্লাপাল্লি করে যানজট তৈরি করে রাখছে। এতে মাত্র ৩৭ কি.মি রাস্তায় সময় লাগছে প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। ফলে যাত্রীরা পড়ছেন ভোগান্তিতে। নির্দিষ্ট সময়ে অফিস বা ব্যবসার কাজে যেতে পারছে না।

ঢাকা-নবাবগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলরত যাত্রীবাহী পরিবহন সংস্থার অনেক গাড়ির সঠিক কাগজপত্র নেই। নেই চালকদের সঠিক প্রশিক্ষণ ও গাড়ির ফিটনেস। যাত্রীসেবার নামে পরিচালিত এসব পরিবহনের কোনো জবাবদিহিতার প্রয়োজন মনে করছে না। ঈদকে সামনে রেখে বাস ভাড়া ৪ গুণ বৃদ্ধি করলেও তাদের কিছু যায়-আসে না। শুধু ভোগান্তির কবলে পড়ে পকেট কাটা যায় সাধারণ যাত্রীদের। প্রশাসন মাঝেমধ্যে লোক দেখানো মোবাইলকোর্ট করে তাদের সতর্ক করে দিলেও পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ আইন মানছে না বলে অভিযোগ আছে। যাত্রীরা জানায়, বান্দুরা ভায়া নবাবগঞ্জ টু ঢাকা নামের এই সড়কটিতে যানবাহন চলাচলের নামে চলছে এক ধরনের অসম প্রতিযোগিতা। পরিবহনগুলো যাত্রী তোলার নামে যানজট সৃষ্টি করে দীর্ঘ সময় ব্যয় করায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে তাদের। সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারছে না বেশিরভাগ ঢাকাগামী বাসযাত্রী।

ঢাকা-নবাবগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে বান্দুরা থেকে এন মল্লিক পরিবহন এবং মৈনট ঘাট থেকে ছেড়ে আসা যমুনা বাস সার্ভিস মাঝিরকান্দা এলাকায় আসার পর কে কার আগে যাবে তা নিয়ে তাদের মধ্যে চলে সড়ক দখলের লড়াই। পরিবহনগুলো পুরো সড়ক দখল করে চলতে থাকে। মাঝিরকান্দা থেকে কেরানীগঞ্জের কদমতলী পর্যন্ত এসব পরিবহন পুরো সড়ক দখলের কারণে পথচারীদের পড়তে হয় নানা সমস্যায়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হতে হয়। এভাবেই দিনভর দাপিয়ে বেড়ায় নবাবগঞ্জ থেকে রাজধানীর গুলিস্তানগামী এসব পরিবহনের বাসগুলো। নিয়মিত ঢাকাগামী যাত্রীদের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের মাসিক মিটিংয়ে এ বিষয়টি নিয়ে অনেকবার আলোচনা হলেও কোনো অগ্রগতি নেই। ফলে নবাবগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন স্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানোর নামে যানজট ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করলেও দেখার কেউ নেই। কৈলাইল এলাকার বাসিন্দা বাসযাত্রী মাসুদ পারভেজ বলেন, বান্দুরা থেকে ঢাকা যেতে প্রায় ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে। টিকিটে ১০০% সিটিং সার্ভিস লেখা থাকলেও এসব পরিবহন যেখানে-সেখানে থেমে থাকেন। এতে করে গুলিস্তান যেতে আমাদের বেশি সময় লাগে। সময়মতো পৌঁছতে না পারায় ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

নবাবগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের সুপারভাইজার পরিবহন শ্রমিক নেতা আবদুল জলিল বলেন, শুধু বাস নয়, যানজটের জন্য ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, অটোরিকশাগুলোও সমানভাবে দায়ী। যাত্রী কম হওয়াতে বাসগুলো বিভিন্ন জায়গায় দেরি করতে পারে।

নবাবগঞ্জের বাসিন্দা আহমেদ সোহেল বলেন, যখন ইছামতি ও ধলেশ্বরী নদীতে ফেরি চলাচল করত ঠিক তখনও যে সময় লাগত এখন তার চেয়ে কম লাগে না। বাস চালকদের রাস্তা আটকে অন্য বাসকে যেতে না দেয়ার প্রবণতাই এ জন্য দায়ী। যাত্রীদের এ সমস্যা নিরসনে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

ঢাকা-নবাবগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলরত এন মল্লিক পরিবহনের চেয়ারম্যান নারগিস মল্লিক বলেন, তার পরিবহনের কোনো সমস্যা নেই। এন মল্লিক যাত্রী ভর্তি থাকলেও যমুনা ও দ্রুত পরিবহন তার গাড়িকে আটকে দিয়ে সময়ক্ষেপণ করায়। এন মল্লিকে কোনো যাত্রী দাঁড়িয়ে নেয়া হয় না।

নবাবগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মুহাম্মদ গোলাম নবী শেখ বলেন, আমাদের পুলিশ সদস্যরা যানজট নিরসনে নিয়মিত কাজ করছে। সমস্যার সমাধানে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। বাস মালিকদের আন্তরিকতা না থাকায় মূলত এ সমস্যা হচ্ছে। নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম সালাউদ্দিন মনজু বলেন, যাত্রীদের ভোগান্তি ও যানজট নিরসনে পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ বিষয়ে যাত্রী, চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

কিছুদিন পূর্বে এ বিষয়ে আলোচনার আয়োজন করে দোহারের শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ কমিটি। উক্ত মিটিংয়ে যে চিহ্নিত কিছু  সমস্যাসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয় তা নিন্মরুপঃ

১। যাত্রী ভাড়া সহনীয় পর্যায় নেই।

২।নিবন্ধনে সিটিং সার্ভিস থাকলেও, বাস্তবে সিটিং সার্ভিস নাই।

৩। নগর পরিবহন আরাম পরিবহনকে আটকিয়ে রাখে,  সাইড দেয় না। এতে সাধারণ মানুষ ভুগান্তির শিকার।

৪। জয়পাড়া থেকে মেঘুলা পর্যন্ত বাস চলে পিঁপড়ার গতিতে। নগর আরামকে পথ দেখিয়ে নেয়, যেন মা তার শিশুকে পথ দেখিয়ে নিচ্ছে!

৫।পর্যাপ্ত পরিমানে পরিবহন ব্যবস্থা নাই।

৬। শিক্ষার্থীদের সাথে ভাড়া নিয়ে দুর্ব্যবহার করে, স্টুডেন্ট ভাড়া দেওয়ায় অপমান ও অসদাচরণ করে।

৭। মহিলা, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের  ব্যবস্থা নাই।

৮। বাসের সিটে অসহনীয় দুর্গন্ধ, পরিষ্কার থাকে না।

৯। ঢাকা যাতায়তে স্টুডেন্টদের জন্য হাপপাশ নেই।

১০। সিডিউল মত বাস পাওয়া যায় না।

১১। বৃহস্পতিবার এবং উৎসবগুলোতে মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া বাড়ায়।

১২। কাউন্টারগুলোতে অযথা লেট করে।

১৩। মহিলা এবং শিক্ষার্থী দেখলে বাস থামাতে চায় না।

এমতাবস্তায় মিটিংয়ে গৃহিত সিদ্ধান্ত ও পরামর্শঃ

১। স্থায়ী ভিত্তিতে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ গঠন করতে হবে।

২। দোহারের প্রতিটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের অবগত করে তাদেরকে সাথে নিয়ে সমস্যা সমাধান করতে হবে।

৩। উপজেলা ভিত্তিক কমিটির মাধ্যমে সবসময় যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ করতে হবে।

৪। প্রতিটি স্কুল ও কলেজে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে হবে।

৫। দোহারের প্রাণকেন্দ্র জয়পাড়াতে ও শ্রীনগরের বালাশুরে শিক্ষার্থী ও যাত্রীদের নিয়ে মানববন্ধন করতে হবে।

৬। যাত্রী অধিকারের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষেকে অবহিত করতে হবে।

৭। উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও ও প্রশাসনকে সাথে নিয়ে,  তাদের সাথে আলোচনা করে পরিবহন সমস্যা সমাধান করবো।

৮। এ বিষয়ে ঢাকা-১( দোহার,নবাবগঞ্জ) আসনের সাংসদ সালমান এফ রহমান, মুন্সিগঞ্জ-১( শ্রীনগর ও সিরাজদিখান) আসনের সাংসদ মাহী বি চৌধুরী, কেরানীগঞ্জের সাংসদ কামরুল ইসলাম ও নসরুল হামিদ বিপুর এবং প্রত্যেকটি উপজেলা চেয়ারম্যানের নিকট স্মারকলিপির অনুলিপি প্রদান করতে হবে।

৯। সালমান এফ রহমানের সহয়তা নিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে বিআরটিসি বাস চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

গাবতলী হাটের সেরা দোহারের টাইগারঃ মূল্য ৩ লাখ টাকা

ছাগলটির গায়ের রঙ সোনালি। আছে সাদা সাদা ছোপ। ওজন ১২৮ কেজি। নাম তার ‘টাইগার’। ঢাকার দোহার উপজেলার সুতারপাড়া গ্রামের অলিউল্লাহ আগামীকাল বৃহস্পতিবার গাবতলীর পশুর হাটে টাইগারকে তুলবেন।

অলিউল্লাহ নিজের পালিত ছাগলটির দাম চাইছেন তিন লাখ টাকা। কয়েক বছর আগেও লাখ টাকার গরু কিনলে মানুষ দেখতে আসত। এখন একটি ছাগলের দাম গরুর দামের চেয়েও বেশি। তাই ছাগলটি দেখতে আসছে স্থানীয়রা।

tiger-(1).jpg

অলিউল্লাহর বাসায় গিয়ে দেখা যায়, বিশাল আকৃতির ছাগলটি দেখতে তার বাসায় ভিড় করছে উৎসুক মানুষ। ছাগলটি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে এলাকাবাসীর মনে।

ছাগলের মালিক অলিউল্লাহ বলেন, তিন বছর ধরে ছাগলটি লালন-পালন করছি। আকর্ষণীয় ছাগলটি দেখতে সোনালী রঙের। উচ্চতা প্রায় চার ফুটের ওপর। ওজন ১২৮ কেজি। অনেক শখ করে ছাগলটির নাম রেখেছি ‘টাইগার’।

tiger-(1).jpg

তিনি বলেন, গত বছর কোরবানির হাটে ছাগলটির দাম লাখ টাকার ওপরে ওঠে। কিন্তু আমি বিক্রি করিনি। ছাগলটি লালন-পালনে আমাকে প্রচুর খরচ করতে হয়েছে। প্রতিদিন আধা কেজি আপেল ও আধা কেজি মালটা ছাড়াও উন্নতমানের খাবার দিতে হয় টাইগারকে। তাই এবার ছাগলটির দাম তিন লাখ টাকা হাঁকাচ্ছি।

tiger-(1).jpg

অলিউল্লাহ আরও বলেন, হাটে ওঠানোর আগে টাইগারকে দেখতে বাসায় প্রতিদিন শত শত লোক ভিড় করছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার গাবতলীর হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে ছাগলটি নিয়ে যাব। এবার গাবতলী হাটের সেরা ছাগল হবে টাইগার। টাইগারকে সঠিক দামে বিক্রি করে বাড়ি ফিরতে চাই আমি।

সূত্রঃ জাগোনিউজ

দোহারে ঈদ সামনে রেখে মোটরসাইকেল চুরির আতংক

জোবায়ের শরিফ,নিউজ৩৯ঃ ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে দোহারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মোটরসাইকেল চোরেরা। ১সপ্তাহের ভিতরে দোহারে ২টি সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ২টি মোটর সাইকেল চুরি হয়। বৃহস্পতিবার জয়পাড়া উপজেলা পরিষদের ভিতর থেকে কুসুমহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন আজাদের এফযেড বাইকটি চোরেরা হাতিয়ে নেয়। এসময় সিসি ফুটেজে চোরকে দেখা গেলেও তাকে সনাক্ত করা যায়নি। (ছবিটি বৃহস্পতিবার আমজাদ হোসেন আজাদের মোটর বাইকটি চুরির সিসি ফুটেজ)

সোমবার উপজেলা পরিষদে মিটিং এ দোহার থানা পুলিশের অফিসার ইন চার্জ (তদন্ত) ইয়াসিন মুন্সী বলেন, আমি চার রাত ঘুমাইনা। দোহার থানা পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে চোর সনাক্তকরণে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণকে এগিয়ে আসতে হবে এদেরকে ধরতে।

এদিকে সোমবার এই সভাচলাকালীন মধ্য দুপুরে সরকারি পদ্মা কলেজের কম্পাউন্ড থেকে উক্ত কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক সেলিম হোসেনের কালো রঙের পালসার-টী চুরি হয়। এই ব্যাপারে দোহার থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।

হাটে দাঁড়িয়েই যেভাবে চিনবেন ইনজেকশন দিয়ে মোটাতাজা করা গরু

জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে ৩ দিন আগেই। আর মাত্র ক’দিন পরে বিশ্বব্যাপী পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা।

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু কোরবানি করা হয়ে থাকে ঈদুল আজহায়। ঈদের সপ্তাহখানেক আগ থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জমে ওঠে গবাদিপশুর হাট।

কোরবানির ঈদ আসলেই অসাধু ব্যবসায়ীরা গবাদিপশু কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর এ ধরনের চিন্তার কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় সাধারণ মানুষের। বেশি দামে পশু বিক্রি করতে নানা ধরনের পন্থা অবলম্বন করে থাকেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। দেখতে আকর্ষণীয় এসব গরু নিয়ে আসা হয় সেসব হাটে।

জানা গেছে, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, ইনজেকশন ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে এসব পশুকে মোটাতাজা করে থাকেন তারা, যা পুরোপুরি স্বাস্থ্যের জন ভয়ানক ক্ষতিকর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজাকরণ গরুর মাংস খেলে মানুষের শরীরে পানি জমে যাওয়া, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, মূত্রনালি ও যকৃতের বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এসব পশু কেনা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।

তাই স্বাস্থ্যবতী গাই বা স্বাস্থ্যবান ষাঁড় দেখলেই তা কোনোরকম পরীক্ষা না করে কেনা উচিত নয়।

হাটে দাঁড়িয়ে চেনা যাবে কোন পশুটিকে কৃত্রিম উপায়ে ইনজেকশন ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে মোটাতাজা করা হয়েছে।

আসুন জেনে নেই যেভাবে চিনবেন ইনজেকশন দেয়া কোরবানির পশু:

আঙুলের চাপ

কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজাকরণ গরুর গায়ে আঙুল দিয়ে চাপ দিলে ওই স্থানের মাংস স্বাভাবিক হতে অনেক সময় লাগে। কিন্তু স্বাভাবিকভাবে মোটা গবাদিপশুর ক্ষেত্রে দ্রুতই মাংস স্বাভাবিক হয়।

দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ

কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজাকরণ গরু দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করে। একটু হাঁটলেই হাঁপায়। খুবই ক্লান্ত দেখায়। ইনজেকশন দেয়া গরুর রানের মাংস নরম হয়। স্বাভাবিকভাবে যেসব গরু মোটা হয় সেগুলোর রানের মাংস শক্ত হয়।

লালা বা ফেনা

যেসব গরুর মুখে কম লালা বা ফেনা থাকে সেই গরু কেনার চেষ্টা করুন। এগুলো কৃত্রিম উপায়ে মোটা করা পশু নয়।

খুব শান্ত

স্টেরয়েড ট্যাবলেট খাওয়ানো বা ইনজেকশন দেয়া গরু হবে খুব শান্ত। ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারবে না। পশুর ঊরুতে অনেক মাংস মনে হবে।

শরীরে পানি জমে

অতিরিক্ত হরমোনের কারণে পুরো শরীরে পানি জমে মোটা দেখাবে। আঙুল দিয়ে গরুর শরীরে চাপ দিলে সেখানে দেবে গিয়ে গর্ত হয়ে থাকবে।

খাবার

গরুর মুখের সামনে খাবার ধরলে যদি নিজ থেকে জিব দিয়ে খাবার টেনে নিয়ে খেতে থাকে তবে বোঝা যাবে গরুটি সুস্থ। যদি অসুস্থ হয়, তবে সে খাবার খেতে চায় না।

নাকের ওপরটা ভেজা

সুস্থ গরুর নাকের ওপরটা ভেজা ভেজা থাকে। সুস্থ গরুর পিঠের কুঁজ মোটা ও টান টান হয়।

পা ও মুখ ফোলা

বিশেষ করে গরুর পা ও মুখ ফোলা, শরীর থলথল করবে, অধিকাংশ সময় গরু ঝিমাবে, সহজে নড়াচড়া করবে না। এসব গরু অসুস্থতার কারণে সব সময় নিরব থাকে। ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারে না। খাবারও খেতে চায় না।

হাটে যাওয়ার পর উশকোখুশকো, চামড়ার ওপর দিয়ে হাড় বেরিয়ে পড়া পশু কিনতে চেষ্টা করুন। এগুলো কোনোরকম কৃত্রিম উপায় ছাড়াই বাজারে সরবরাহ করা হয়। চকচক করা গরু বা ছাগলকে দেয়া হয় ইনজেকশন।

নবাবগঞ্জে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় নিহত ১, পরিবারের প্রশ্ন তারা এখন কিভাবে চলবে?

তৌহিদ,নিউজ৩৯ঃ ঢাকার নবাবগঞ্জে দ্রুতগতির নোয়া গাড়ির ধাক্কায় মহাদেব রায় (৫৫) নামে এক দিনমজুর নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা আহত নবদীপ তালুকদার (৬৫)কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। গতকাল সকাল ৭টার দিকে পাড়াগ্রাম-নবাবগঞ্জ সড়কের চন্দ্রখোলা সেতুর ঢালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মহাদেব ওই এলাকার বেনি মাধব রায়ের ছেলে। নবদীপ তালুকদার একই এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় ও প্রতক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কাজের উদ্দেশ্যে মহাদেব বাড়ি থেকে বের হয়ে তার বাড়ির পাশে চন্দ্রখোলা রাস্তায় এসে দাঁড়ান। এ সময় নবদীপ তালুকদারও তার সঙ্গে ছিলেন। হঠাৎ ঢাকা থেকে দোহারের মৈনটঘাটের দিকে যাওয়া একটি নোয়াহ মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের দুজনকে ধাক্কা দেয়। তারা ছিটকে পড়েন এবং গাড়িটিও খাদে পড়ে যায়।

ঘটনার পর আহত দুজনের মধ্যে মহাদেবের অবস্থা খুব খারাপ দেখে স্বজনরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নবদীপ তালুকদার উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত মহাদেবের বড় বোন লক্ষ্মী মন্ডল বলেন, তার ভাই রোজ আনেন রোজ খান। তার তিন সন্তান। এক মেয়ে, ২ ছেলে। তারা এখন কিভাবে চলবে? এছাড়া এনজিওতে মহাদেবের অনেক ঋণ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

অপহরণের অভিযোগে মেঘুলা বাজার সেক্রেটারি আটক

জুবায়ের শরীফঃ দোহারে এক কিশোরীকে অপহরণের অভিযোগে মেঘুলা বাজার সাধারণ সম্পাদক বাহালুল শিকদারকে আটক করেছে দোহার থানা পুলিশ। শনিবার রাতে এএসআই ইব্রাহিমের নেতৃত্বে তাকে মেঘুলা থেকে আটক করা হয়। নবম শ্রেণির এক কিশোরীকে অপহরণে মদদ দেয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এই ব্যাপারে নিউজ৩৯ এর এই প্রতিবেদককে দোহার থানা পুলিশের এস আই সৌমেন  বলেন, তিনি একজন ওয়ারেণ্টভুক্ত আসামী। তাকে নারী ও শিশু নির্যাতন ৭/৩০ এর ধারায় আটক করা হয়। রবিবার তাকে কোর্টে প্রেরণ করা হবে।

দোহারে ৬ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা মূলের অবৈধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধবংস

তানজিম ইসলাম  ঢাকার দোহার উপজেলায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা মৎস অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযানে ৬ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা মূল্যের অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে তা আগুনে পুড়িয়ে ধবংস করা হয়। এ সময় এক দোকানীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পাগলার স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট আসিফ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ডের একটি বিশেষ দল জয়পাড়া বাজারে অভিযান চালিয়ে ৫টি গোডাউন থেকে ৩৩ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করে। পরে তা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আগুনে পুড়িয়ে ধবংস করা হয়।

এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, আমাদের এ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা মৎস কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান, দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. রাজিব শরীফ প্রমুখ।

নবাবগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় শ্রমিক নিহত

ঢাকার নবাবগঞ্জে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় মহাদেব রায় (৫৫) নামে এক দিনমজুর শ্রমিক নিহত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে পাড়াগ্রাম-নবাবগঞ্জ সড়কের চন্দ্রখোলা সেতুর ঢালে এ দূর্ঘটনা ঘটে। একই দুর্ঘটনায় নবদীপ তালুকদার (৬৫) নামে একজন আহত হয়েছে। নিহত মহাদেব ওই এলাকার বেনি মাধব রায়ের ছেলে। নবদীপ তালুকদারও একই এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় ও প্রতক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে মহাদেব ও নবদীপ তালুকদার চন্দ্র খোলা রাস্তার পাশে দাড়িয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এসময় ঢাকা থেকে দোহারের মৈনটঘাটের দিকে যাওয়া একটি নোয়াগাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের দুজনকে ধাক্কা দিলে তারা ছিটকে পড়েন এবং গাড়িটিও খাদে পড়ে যায়। আহত দুজনের মধ্যে মহাদেবের অবস্থা খারাপ দেখে স্বজনরা তাৎক্ষণিক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এছাড়া আহত নবদীপ তালুকদারকে প্রথমে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলেও অবস্থা অবনতি হওয়ায় চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া হয়েছে। তবে ঘটনার পরই গাড়ির চালক পালিয়ে যায়।

নিহত মহাদেবের  বড় বোন লক্ষি মন্ডল বলেন, তার ভাই রোজ আনে রোজ খায়। তার তিন সন্তান। পরিবারটি অসহায় হয়ে গেল। তারা এখন কিভাবে চলবে। এছাড়া মহাদেব এনজিওতে অনেক ঋন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক কাজী নাসের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘাতক গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালককে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।