নবাবগঞ্জে মাদক কারবারী আটক

ঢাকার নবাবগঞ্জে ইয়াবাসহ ইব্রাহীম (২৫) নামে এক মাদক কারবারীকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার কৈলাইল ভূমি অফিসের পাশে থেকে তাকে আটক করা হয়। ইব্রাহীম ইউনিয়নের দড়িকান্দা গ্রামের আশরাফ হোসেনের ছেলে।

নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আশরাফুল আলম তালুকদার জানান, মঙ্গলবার রাতে কৈলাইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে থেকে ৮টি ইয়াবাসহ আটক করা হয়। রাতেই তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা রুজু করা হয়। বুধবার সকালে আদালতে নেয়া হলে আদালত কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

বাহ্রায় পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে জখম

ঢাকার দোহার উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এলিম মোল্লা (২৩) নামে এক যুবককে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার নয়াবাড়ি ইউনিয়নের বাহ্রা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত এলিম মোল্লা বাহ্রা গ্রামে গেন্দু মোল্লার ছেলে।

স্থানীয় ও আহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এলিম তার বন্ধু পিয়ালকে নিয়ে বাহ্রা একটি চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ ৩০/৪০ জনের একদল যুবক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলিমের উপর হামলা চালায়। এসময় স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় এলিমকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এঘটনায় পিয়াল সামান্য আহত হন।

পিয়াল জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে স্থানীয় সবুজ, রনি, মামুন, শেখ রুমন, ইমরান, শাকিব, আমিনুর সহ আরও ৩০/৪০ জন তাদের উপর হামলা চালায়।

ঘটনার পর আহত এলিম মোল্লার দাদা ফালু মল্লিক দোহার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এবিষয়ে দোহার চর মোহাম্মদপুর পুলিশ ফাড়িঁর এসআই মো. মোজাম্মেল হক জানান, আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর দোহার থানার ওসির নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তবে এসময় অভিযুক্ত কাউকেই খুজেঁ পাওয়া যায়নি।

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য নিতে গেলে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্ত শেখ রুমনের মা বলেন, আমার ছেলে ঘটনাস্থলে ছিল না। তবুও ওর নামে অভিযোগ হয়েছে।

প্রতিষ্ঠান সরকারি শিক্ষক বেসরকারি; বছরের পর বছর আটকে আছে আত্তীকরণ

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী বেসরকারি স্কুল-কলেজ সরকারি করা হলেও এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বেসরকারিই রয়ে গেছেন। পদ সৃজন না হওয়ার কারণে তাদের চাকরি এখনো জাতীয়করণ করা হয়নি। বছরের পর বছর ধরে এই শিক্ষকদের আত্তীকরণ আটকে থাকায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আগের মতোই টিউশন ফিসহ অন্যান্য খাতে অর্থ আদায় চলছেই। এ ছাড়া আটকে আছে প্রতিষ্ঠানের নানা উন্নয়নমূলক কাজও। জানা গেছে, সরকার জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়ার পর এসব স্কুল-কলেজে শিক্ষক-কর্মচারী পদে নিয়োগও বন্ধ রয়েছে। কিন্তু জাতীয়করণের পর এসব প্রতিষ্ঠানে সারা দেশের তিন সহস্রাধিক শিক্ষক অবসরে গেছেন। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে পাঠদান ব্যাহতও হচ্ছে অনেক স্কুল-কলেজে। জাতীয়করণ হওয়া স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা জানান, পদ সৃজনের নামে দীর্ঘসূত্রতায় আটকে আছে তাদের চাকরি সরকারিকরণের কাজ। জাতীয়করণের আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করা হলেও অনেক স্কুল-কলেজ ফের পরিদর্শনের নামে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ- সরকারি ঘোষণা দেওয়ার পরও শিক্ষক আত্তীকরণ না হওয়ায় নামে- বেনামে অর্থ আদায় অব্যাহত রেখেছে শিক্ষকরা। উন্নয়ন ফি,  সেশন ফি, মাসিক পরীক্ষা, অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষার নামে  মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করছে প্রতিষ্ঠানগুলো। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদফতরের কলেজ শাখা সূত্র জানায়, এসব শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণের জন্য অনেক সময়ের প্রয়োজন। শিক্ষক আত্তীকরণের জন্য মাউশি থেকে প্রস্তাবনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেটি যাচাই-বাছাই শেষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যাবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পাঠাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ে। পরে তা আবার আসবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠাবে। এ ছাড়াও বেশ কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয় আত্তীকরণের ক্ষেত্রে। মাউশি সূত্র আরও জানায়, বেসরকারি এই শিক্ষকদের চাকরি সরকারি স্কুল-কলেজে আত্তীকরণের জন্য তাদের অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। পরে তারা (কলেজ শিক্ষকরা) নন ক্যাডার হিসেবে     গেজেটভুক্ত হবেন। জাতীয়করণ হওয়া কলেজ শিক্ষকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদের সভাপতি আতাউর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়ার পর অনেক সময় পেরিয়ে গেছে। অনেক শিক্ষক অবসরে গেছেন। শিক্ষকদের আত্তীকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হোক। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগের                 সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, শিক্ষকদের জাতীয়করণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়। প্রতি শিক্ষকের কাজ আলাদাভাবে আলাদা ফাইলে করতে হয়। তাই নানা দফতরে স্বাক্ষর করতেই বেশ সময় লেগে যায়, এ জন্যই কিছুটা সময় লাগছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় দ্রুত এসব কাজ করে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, প্রতি উপজেলায় একটি করে স্কুল ও কলেজ সরকারি করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর অংশ হিসেবে সারা দেশে ২৯৯ কলেজ ও ৩২৫টি স্কুল সরকারি করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কলেজে প্রায় ১২ হাজার এবং স্কুলে প্রায় আট হাজার শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

দোহারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

ঢাকার দোহার উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে কয়েকজন মোটরসাইকেল চালককে অর্থদণ্ড ও মামলা করেছে। রবিবার উপজেলার বাশতলা মোড়ে এ অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র।

এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এর ১৩৭,১৩৮,১৪১,১৪২ ধারার বিধানমতে, হেলমেট না থাকা, ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা, অপ্রাপ্ত বয়সের চালক, ওভার স্পিড এ ড্রাইভ ও তিন জন করে বিপদজনক ভাবে মোটর সাইকেল রাস্তায় চালানোর অপরাধে ১২টি মামলা এবং ২৭৫০ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এ সময় তাদেরকে সতর্ক নির্দেশ প্রদান করা হয়। ভবিষ্যতেও এ অভিযান চলমান থাকবে।

এক বছরেও সরকারি হয়নি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি

প্রতিষ্ঠান সরকারি হওয়ার পর এক বছর পার হলেও দেশের ৩০১টি কলেজের কমবেশি প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর চাকরি এখনো সরকারি হয়নি। যাচাইয়ের কাজ শেষ না হওয়ার কারণে তাঁরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। দেরি হওয়ায় সুবিধাবঞ্চিত হয়েই অনেক শিক্ষককে অবসরে যেতে হচ্ছে।

সরকারি হওয়া এসব কলেজের শিক্ষকেরা চাচ্ছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন তাঁদের সরকারি করা হয়। অবশ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁরাও সেই চেষ্টা করছেন। কিন্তু যাচাইয়ে দেখা যাচ্ছে, বেসরকারি থেকে সরকারি হওয়া এসব কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি বড় অংশের নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি রয়েছে। শুক্রবার (১৬ আগস্ট) প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন মোশতাক আহমেদ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, অনেক শিক্ষক-কর্মচারী অবসরে যাচ্ছেন এই তথ্য তিনিও পেয়েছেন। এ জন্য যত দ্রুত সম্ভব এসব  কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারি করার কাজটি শেষ করার চেষ্টা চলছে।

দেশের যেসব উপজেলায় কোনো সরকারি কলেজ ছিল না , সেগুলোতে একটি করে কলেজ জাতীয়করণ করা হয়েছে। ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ থেকে প্রক্রিয়া শুরু হলেও চূড়ান্তভাবে গত বছরের ১২ আগস্ট দেশের ২৭১টি বেসরকারি কলেজকে জাতীয়করণ করা হয় । এর আগে-পরে আরও ৩০টি কলেজ জাতীয়করণ হয়। মাউশির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, এসব কলেজে শিক্ষক ও কর্মচারী আছেন কমবেশি প্রায় ১৬ হাজার। এর মধ্যে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষক।

নিয়মানুযায়ী কলেজ সরকারি ঘোষণার পর কলেজে বৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক ও কর্মচারীদের শিক্ষা, জনপ্রশাসন এবং সরকারি কর্ম কমিশনসহ(পিএসসি) সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হয়।

সরকারি করার জন্য এসব কলেজের শিক্ষকদের তথ্য যাচাই করে শিক্ষা মন্তণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর কাজটি করছে মাউশি। অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিদিন তিনটি কলেজ করে মোট ১০০ দিনের মধ্যে সবগুলো  কলেজের তথ্য যাচাইয়ের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ২১ জন কর্মকর্তাকে শুধু এই কাজের জন্য যুক্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১২৬টি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩টির তথ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কাজটি করতে গিয়ে তাঁরা দেখেছেন, প্রায় ২০ শতাংশ শিক্ষক-কর্মচারীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ঘাটতি রয়েছে। এসব কাগজ পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষকে বলা হলেও অনেকে দিতে পারছেন না । এসব কাগজপত্র ছাড়া সরকারি করাও কঠিন।

মাউশির পরিচালক(কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক মো. শাহেদুল খরীর বলেন, তাঁরা চেষ্টা করেছেন মন্ত্রণালয়ে যেন একেবারে নির্ভুলভাবে কাগজগুলো যায়। আশা করছেন তাঁদের পর্যায়ের কাজটি সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হবে।

সরকারি হওয়া কলেজের শিক্ষকদের দাবি, অনেকে ২০-২৫ বছর আগে নিয়োগ পেয়েছেন নিয়ম মেনেই। এই দীর্ঘ সময়ে কিছু কাগজপত্র হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হওয়া অসম্ভব নয়। তাই বাস্তবতা বিবেচনা করে কাজটি দ্রুত শেষ করা উচিত।

নিয়মনুযায়ী চাকরিতে থাকা শিক্ষকেরাই কেবল সরকারি সুবিধা পাবেন। কিন্ত জাতীয়করণ হওয়া এসব কলেজের শিক্ষকরা নিয়মিত অবসরে যাচ্ছেন। গত বছরের আগস্ট থেকে গত জুন পর্যন্ত ৩৩৮ জন শিক্ষক অবসরে গেছেন। আর আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ১৬৯ জন শিক্ষক অবসরে যাবেন। কিন্তু সরকারি না হওয়ায় সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অবশ্য এখন কেবল এসব কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা আগের মতো শুধু মূল বেতনটি পাচ্ছেন।

জাতীয়করণ হওয়া কলেজগুলোর শিক্ষকদের সংগঠন সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি জহুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের এখন একটাই চাওয়া, সমন্বিতভাবে দ্রুত পদ সৃষ্টি করে শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি যেন সরকারি করা হয়।

চলে গেলেন দোহারের আরেক কৃতি সন্তান

0

নিউজ৩৯, সজল তারেকঃ বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) এর সাবেক চেয়ারম্যান ও দোহারের কৃতি সন্তান ডঃ আব্দুল হালিম হাওলাদার আজ ১৩ আগস্ট ২০১৯ সকালে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন ( ইন্না লিল্লাহি ওইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন হৃদরোগে ভূগছিলেন। বিগত ১২ দিন তিনি রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিতসাধীন ছিলেন। তার মৃত্যুতে দোহারে তার নিজ গ্রামে শোকের ছায়া নেমীসেছে। মৃত্যুকালে তিন্নি ৩ সন্তান ও স্ত্রী রেখে গিয়েছেন।  নাগের কান্দা আহলে বাইত জামে মসজিদ ও লটাখোলা নাগের কান্দা দারুস দারুসসালাম জামে মসজদের সভাপতি ছিলেন। মরহুমের নামাজে জানাজা মংগলবার বাদ এশা তার নিজ গ্রামে, ‘লটাখোলা নাগের কান্দা ঈদগাহ মাঠ’ প্রাংগনে অনুষ্ঠিত হয়।

নিউজ৩৯ পক্ষ থেকে আমরা তার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। আল্লাহ মরহুমকে জান্নাত নসীব করুন এবং তার শোকাহত পরিবারকে শোক সইবার শক্তি দান করুন। আমিন

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান- উস্তাদ নোমান আলী খান

0

আমি আপনাদের স্বামী-স্ত্রীর বিষয় নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। স্বামী – স্ত্রীর আয়াতে আল্লাহ তিনটি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছেন, যে উদ্দেশ্যে তিনি স্বামী-স্ত্রী তৈরি করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন – وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ – “আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।” (৩০:২১)

সবার আগে যে ব্যাপারটা তোমাদের জানা দরকার তা হলো, তিনি তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মধ্য থেকে। এর থেকে আমরা কী শিক্ষা গ্রহণ করবো? এর থেকে শিক্ষা হলো – আমাদের সঙ্গিনীরা আমাদের একটি অংশ। হ্যাঁ, আপনার স্ত্রী আপনার অংশ; সে স্বতন্ত্র একজন মানুষ, কিন্তু কিছু অর্থে সে আসলে আপনার সম্প্রসারিত একটি অংশ। তার জন্য যা ভালো তা আসলে আপনার জন্যেও ভালো। আপনার জন্য যা উত্তম তার জন্যেও আসলে তা উত্তম। যা আপনাকে কষ্ট দেয় তা তাকেও কষ্ট দেয়, আর যা তাকে কষ্ট দেয় সেটা আপনাকেও কষ্ট দেয়। এই অর্থে আপনারা দুইজন মিলে একজনে পরিণত হয়েছেন। এটা হলো – ‘মিন আনফুসিকুম’ এর শিক্ষা।

তারপর আল্লাহ বলেছেন – لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا – স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কের উদ্দেশ্য হলো, তুমি যখন তার দিকে ফিরবে তুমি যেন প্রশান্তি, স্বস্তি এবং নিরুদ্বেগ স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করো। আমি বলিনি যে তুমি তার মধ্যে প্রশান্তি পাও; এমনকি তার কথা মনে হলেই তুমি এক ধরণের প্রশান্তি অনুভব করো। এমনকি তার কথা মনে হলেই…. যখন তোমার মন তার ব্যাপারে চিন্তা করতে শুরু করে, তুমি তখন প্রশান্তি অনুভব করো। তোমার জীবনে হয়তো সমস্যার অন্ত নেই, কিন্তু তোমার জীবন সঙ্গীর কারণে সেগুলো ম্যানেজ করা সম্ভব হয়।

তারপর তিনি বলেছেন – وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً – “আর তিনি তোমাদের মধ্যে তীব্র ভালবাসা সৃষ্টি করেছেন।” আপনি আপনার জীবন সঙ্গীর জন্য যে ভালোবাসা অনুভব করেন তা আপনার নিজের কাছ থেকে আসেনি। সেই ভালোবাসা এসেছে আল্লাহর কাছ থেকে। আল্লাহ হলেন সকল ভালোবাসার মালিক। তিনিই স্বামী স্ত্রীর মাঝে এটা দিয়েছেন। খেয়াল করে দেখুন, তিনি কি ভালোবাসার কথা আগে বলেছেন নাকি শান্তির কথা আগে বলেছেন? তিনি শান্তির কথা আগে বলেছেন। ঠিক কিনা?

জানেন? এর মানে কী? আপনি যদি ভালোবাসা বজায় রাখতে চান তাহলে কী ঠিক রাখতে হবে আগে? শান্তি, পারিবারিক শান্তি। এই শান্তি যদি হুমকির সম্মুখীন হয়, আপনাকে সবার আগে এই হুমকি দূর করতে হবে। সারাক্ষণ ঝগড়া করে বলতে পারেন না – ‘বাই দা ওয়ে, আমি এখনো তোমাকে ভালোবাসি।’ এই ভালোবাসা দিন দিন দুর্বল হতে থাকবে এবং একসময় তা হারিয়ে যাবে। এরপর শুধু মৌখিক ভালোবাসা বিরাজমান থাকবে। একমাত্র ভালবাসা তখনি টেকসই হবে যখন এর ভিত্তিপ্রস্তর নির্মিত হবে শান্তির উপর। তথা, স্বামী স্ত্রীর এই সম্পর্কে অশান্তি না থাকা, শান্তি এবং নিরাপত্তা থাকা। এই সমস্ত ব্যাপারগুলো আগে নিশ্চিত করতে হবে, তবেই ভালোবাসা জীবিত থাকবে। এটা হল ভিত্তি।

এরপর তিনি বলেছেন – ‘ওয়া রাহমাহ।’ সবশেষে শুধু ভালোবাসা নয় বরং সেই ভালোবাসার ভিত্তিতে তিনি যত্ন সৃষ্টি করেছেন। এখানে রাহমাহ বলতে কী বোঝায়? আপনাকে এমনভাবে কথা বলতে হবে যেন সে আঘাত না পায়, এমন কাজ করতে হবে যার কারণে সে কষ্ট না পায়, স্বামীকে তার স্বাভাবিক অবস্থার বাইরে গিয়ে নিশ্চিত করতে হবে যেন তার স্ত্রী ভালো থাকে। স্ত্রীকে তার স্বাভাবিক অবস্থার বাইরে গিয়ে নিশ্চিত করতে হবে স্বামীর যেন কোনো অসুবিধা না হয়।

স্বামী স্ত্রী একে অন্যকে নিবিড়ভাবে জানার কারণে তাদের ভালো করেই জানা থাকে কোন কথাটি বা কাজটি তার সঙ্গীকে সবচেয়ে বেশি বিরক্ত করে তুলবে।এই জানা থাকার কারণে কখনো কখনো আপনি এটি ব্যবহার করে থাকেন। ঝগড়ার সময় যে ব্যাপারটা তাকে বেশি আঘাত করবে আপনি ঠিক সেটাই বলে থাকেন। অথবা কোনো একভাবে জেনেছেন আপনার অমুক অমুক ভুলটি আপনার সঙ্গীকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছিলো। কিন্তু আপনি সেটা পরিবর্তনের কোনো তোয়াক্কা করেন না। “তাকে এটা মেনে নিতে হবে। আমি এমনই।” এমন মনোভাব সম্পর্কের মাঝে ‘রাহমার’ (দয়ার, যত্নের) অভাব প্রমাণ করে। ভালবাসা এখনো আছে কিন্তু ‘রাহমাহ’ নেই। বুঝতে পারছেন? সুতরাং, মহান আল্লাহ তায়ালা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মাঝে এই তিনটি ব্যাপার নির্ধারণ করে দিয়েছেন। শান্তি, তীব্র ভালোবাসা এবং সবশেষে যত্ন।

বেপারোয়া ড্রাইভং; পঙ্গুত্বের পথে দুই কিশোর

ঢাকার দোহার উপজেলার চর কুশাইতে মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংর্ঘষে ৫ কিশোর আহত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে ৪ টায় এ ঘটনা ঘটে। আহত পাচ কিশোরের মাঝে দুই জন চিরস্থায়ী পঙ্গুত্বের পথে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহত কিশোরেরা হলো চরকুশাইয়ের সজীব(১৭); পিতা লিটন, রাহাদ(১৫); পিতা শফিউদ্দিন, লিটন(১৯);পিতা কাসেম খান, শামীম(১৬);পিতা শাহিন তালুকদার, মধুরচরের তুষার(১৭);পিতা সারজাহান। এদেরকে গুরুতর অবস্থায় জয়পাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে কত্যর্বরত চিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠিয়ে দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকালে ৪টায় দিকে চরকুশাই এলাকায় এই দূর্ঘটনা ঘটে। তারা জানায় যে কিশোরদের বেপোরোয়া ড্রাইভিং এর কারনেই এই দূর্ঘটনা ঘটেছে। রাস্তায় তাদের আঁকাবাঁকা ড্রাইভিং র কারনে তাদের মটর সাইকেলের নিজেদের নিজেদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। এতে একজনের দেহ থেকে পা ও আরেক জনের দেহ থেকে হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

দোহারে ভ্রাম্যমাণ আদালতে যমুনা ও দ্রুত পরিবহনকে অর্থদন্ড

দোহারে ভ্রাম্যমাণ আদালতে যমুনা ও দ্রুত পরিবহনকে অর্থদন্ড ঢাকার গুলিস্তান থেকে দোহারের মৈনট ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা যমুনা পরিবহনের ২টি ও দ্রুত পরিবহনের একটি বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের।টিকরপুর ভাড়া ৫০ টাকার স্হলে ১৫০ টাকা, নবাবগঞ্জ ৬৫ টাকার স্হলে ২০০ টাকা আদায় করা হয়। এ বিষয়ে যমুনা ডিলাক্স প্রাঃলিঃ এর এমবি চন্দন বাবুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার পক্ষ থেকে কোন নির্দেশ নাই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা। তবে তার তিনি এক বাস মালিকের কাছে উপরোক্ত ভাড়া আদায় করতে আপসে আলোচনা করে নির্দেশ প্রদান করেন। বিষয়টি দোহার উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জোতি বিকাশ চন্দ্রকে জানালে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দোহারের কার্তিকপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসান। পরে বাসে থাকা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।পাশাপাশি আরো একটি বাস এবং দ্রুত পরিবহনের একটি বাসে ও অভিযোগ উঠে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের। পরে বাস ৩টিকে ৫হাজার করে মোট ১৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়। গতকাল শুক্রবার দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বাস ৩টিকে এ অর্থদন্ড প্রদান করেন। এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী হাকিম জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, ঘরমুখো যাত্রীদের সাথে অশুভ আচরণ ও তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারনে ভোক্তা অধিকার আইনে ৩টি বাসকে ৫ হাজার করে ১৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়েছে।

বিএনপির কমিটিতে আসছে বড় পরিবর্তন

0

সংগঠন গোছানোর পাশাপাশি জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। দলীয় চেয়ারপারসনকে কারাগারে রেখে সম্মেলন করার বিষয়ে দলের একটি বড় অংশের আপত্তি থাকলেও এ বছরের শেষ দিকে হতে পারে এ কাউন্সিল। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘অবিশ্বাস্য পরাজয়ের’ পর ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ের অংশ হিসেবে এই কাউন্সিলকে গুরুত্ব দিচ্ছে রাজপথের এ বিরোধী দল।

তবে এবারের কাউন্সিলে শীর্ষ পদগুলোতে বড় চমকের সম্ভাবনা কম। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শীর্ষ পদেও পরিবর্তন হচ্ছে না। স্থায়ী কমিটিতে পরিবর্তন আসবে। অসুস্থদের বাদ দেয়া হবে, শূন্যপদগুলো পূরণ করা হবে। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা পরিষদ, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সম্পাদকীয় পদগুলোতে বড় রকমের পরিবর্তন আসার আভাস পাওয়া গেছে। এসব পদে পদে আসতে পারে নতুন মুখ। যোগ্য, ত্যাগী, তরুণ ও মেধাবীদের নেতৃত্বে আনা হবে।

গত কাউন্সিলে বিএনপির শীর্ষ দুই পদে রাখা হয় দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের দুই উত্তরসূরি খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান। এবারের কাউন্সিলেও দলটির চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানই থাকছেন এটি নিশ্চিত। খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকায় গঠনতন্ত্র সংশোধন করে তাকে (তারেক রহমান) আরও ক্ষমতা দেয়া হতে পারে।

দলের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ মহাসচিব পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম। সবকিছু ঠিক থাকলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই থাকছেন এ পদে।

দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে আসবে পরিবর্তন। এ ক্ষেত্রে কমপক্ষে পাঁচজন নতুন মুখ আসতে পারে। বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা ও যুগ্ম মহাসচিবদের মধ্য থেকে কাউকে কাউকে পদোন্নতি দিয়ে এ পদে আনা হতে পারে।

এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা পরিষদ, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ সম্পাদকীয় পদগুলোতে বড় রকমের পরিবর্তন আসবে। যোগ্য, ত্যাগী এবং তরুণদের এসব পদে পদায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে হাইকমান্ডের।

আগামী কাউন্সিলের আগে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা। এমনটি ধরে নিয়ে ডিসেম্বরে দলের ৭ম জাতীয় কাউন্সিল করার চিন্তা করছে বিএনপি। সে জন্য দ্রুত সাংগঠনিক জেলা শাখা পুনর্গঠনের কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

৮২টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ইতিমধ্যে ৩৩ জেলার নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাকিগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কাজ করে যাচ্ছেন। যেসব জেলায় কোন্দল রয়েছে, সেগুলো নিরসনেও চেষ্টা চলছে। মূল দলের পাশাপাশি কাউন্সিলের আগে ছাত্রদলসহ অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনও পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় নির্বাহী কমিটির তিন বছরের মেয়াদ ১৯ মার্চ শেষ হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে এবার কাউন্সিল করার পরিকল্পনা থাকলেও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ায় সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পরে তৃণমূলের মতামতের ওপর ভিত্তি করে কাউন্সিল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা দলের জাতীয় কাউন্সিলের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। এ লক্ষ্যে আমাদের সাংগঠনিক পুনর্গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে কাউন্সিলের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, নেতৃত্ব নির্বাচন হবে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে। তারা যাকে নেতৃত্বে চাইবেন এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে যারা যোগ্য এবং বিগত সময়ে আন্দোলন সংগ্রামে অবদান রয়েছে, তারাই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসবেন বলে আশা করি।

সূত্র জানায়, সপ্তম কাউন্সিলে শীর্ষ পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। নিয়মমাফিক আনুষ্ঠানিকতা বাদ দিলে খালেদা জিয়াই ফের দলের চেয়ারপারসন হচ্ছেন এটি নিশ্চিত। সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। লন্ডনে অবস্থানরত বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই আসছেন এ পদে।

দলের তৃতীয় শীর্ষ পদেও নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা নেই। মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পুনরায় এ পদে আসছেন এখন পর্যন্ত হাইকমান্ডের ভাবনা এমনই।

তবে দলের একটি অংশ তার মহাসচিব পদ আটকাতে এখন থেকেই মাঠে সক্রিয়। দল পরিচালনায় ব্যর্থসহ তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। হাইকমান্ডের কান ভারী করার চেষ্টা চলছে।

তবে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর হাইকমান্ডের নির্দেশে শপথ না নেয়াসহ সাম্প্রতিক সময়ে দলের চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনায় হাইকমান্ড তার ওপর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে তারেক রহমানেরও খুব আস্থাভাজন মির্জা ফখরুল।

দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তারেক রহমান সব সময় মহাসচিবের পরামর্শ নিচ্ছেন।

তাই সবকিছু ঠিক থাকলে মহাসচিব পদে ফখরুলই আসছেন বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।

সূত্র জানায়, ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটিতে পাঁচটি পদে নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। গতবার কাউন্সিলের পর দলের স্থায়ী কমিটি করা হয় তাতে দুটি পদ খালি রাখা হয়। এর মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, ব্রি. জে. (অব.) আ স ম হান্নান শাহ ও এমকে আনোয়ার মারা গেছেন। ফলে পাঁচটি পদ শূন্য হয়।

সম্প্রতি স্থায়ী কমিটিতে সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরও তিনটি পদ ফাঁকা রয়েছে। এদিকে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার জন্য স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান দলীয় কর্মকাণ্ডে অনুপস্থিত।

প্রবীণ নেতা ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারও শারীরিকভাবে ততটা ফিট নন। অসুস্থতার কারণে তাদের বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনটি পদ ফাঁকা ও আরও কমপক্ষে দুজনের বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে মোট পাঁচ পদে নতুন মুখ আসবে।

এসব পদে তরুণদের মধ্যে কেউ কেউ জায়গা পেতে পারেন। স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পেতে সিনিয়র নেতারা যার যার মতো করে সক্রিয় হয়েছেন।

দলের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, মোহাম্মদ শাহজাহান, বরকতউল্লা বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দীন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের মধ্য থেকে কয়েকজন এ পদে আসতে পারেন।

এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদেও নতুন মুখ আসবে। স্থায়ী কমিটিতে পদোন্নতি হওয়ায় কয়েকটি পদ ফাঁকা হওয়ার পাশাপাশি বিগত সময়ে কয়েকজন মারাও গেছেন। এ ছাড়া বার্ধক্যজনিত কারণে বাদ পড়বেন কয়েকজন।

কাউন্সিলের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করে সরকার পরিবর্তন সম্ভব নয়। এ অবস্থায় একমাত্র রাস্তা গণআন্দোলন। সেই গণআন্দোলন করতে হলে দরকার শক্তিশালী সংগঠন।

এ জন্য দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। কাউন্সিলের মাধ্যমে তৃণমূল থেকে সব পর্যায়ে যোগ্য নেতৃত্ব তুলে আনা হবে। সেই প্রস্তুতি আমরা শুরু করেছি।