দোহারসহ বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ সময়েও ইলিশ ধরতে বেপরোয়া ছিল জেলেরা

ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে ৯ থেকে ৩১ অক্টোবর দেশে ইলিশ ধরা বন্ধ ছিল। শুধু ইলিশ শিকার নয়- ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, কেনাবেচা, মজুত ও বিনিময় নিষিদ্ধ ছিল এ ২২ দিন। ইলিশ ধরা বন্ধে এ সময় স্থানীয় জেলা-উপজেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, র‌্যাব, পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং মৎস্য অধিদফতর সম্মিলিতভাবে মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে ইলিশ অধ্যুষিত প্রায় সব জেলাতেই শতাধিক জেলেকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া জেলেদের কাছ থেকে জব্দ করা অবৈধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ থাকার পরও প্রশাসনের নেওয়া নিরাপত্তা বলয় উপেক্ষা করে অনেক জায়গায় মৌসুমি ইলিশ শিকারীরা ছিল বেপরোয়া। নিষিদ্ধকালীন সময় ইলিশ ধরা বন্ধে তালিকাভুক্ত জেলেদের প্রত্যেককে ২০ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়া হলেও ইলিশ ধরা পুরোপুরি ঠেকানো যায়নি।

মুন্সীগঞ্জ: নিষিদ্ধকালীন ২২ দিনে ২১ টন ৮৯০ কেজি ইলিশ মাছ এবং ৯৫ লাখ ৩৫ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া ৫৬০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান জানান, ইলিশ ধরার অপরাধে ৮৭১টি মামলায় ১১ লাখ ১৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

বাগেরহাট: জেলার ৯টি উপজেলায় ২০৭টি অভিযানে পরিচালনা করা হয়। এ সময় ১ লাখ ৬০ হাজার ৩ শ’ মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে। ৩০টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হলেও কাউকে কারাগারে পাঠানো হয়নি। জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। জেলার ৫ হাজার ১ শ’ ৯৪ জন জেলের মাঝে ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম: ইলিশ ধরার অপরাধে এক লাখ এক হাজার টাকা জরিমানা করেছে চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য অফিস। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মমিনুল হক বলেন, ইলিশ ধরা বন্ধে একশ’টির বেশি অভিযান এবং ১৫ টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি ৯২৮ কেজি মাছ জব্দ করে করা হয়েছে। অভিযানে সাড়ে ৩৪ লাখ টাকার জাল জব্দ করে সেগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

ইলিশ ধরার জাল পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে কুড়িগ্রাম: জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কালিপদ রায় জানান, ১শ’ ৩৫ টি অভিযান ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ১৬টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এক লাখ ৬০ হাজার ৪৬০ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে।

জামালপুর: সরিষাবাড়ী ও দেওয়ানগঞ্জে দুইজনকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। দেওয়ানগঞ্জে ১১ জেলেকে ৫২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জেলায় ৩১ হাজার ২ শত মিটার জাল এবং ১৭৪.৫ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।

দোহার (ঢাকা): ঢাকার দোহারে প্রায় দুই শতাধিক জেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একশ’ ২ জনের সাজা এবং ৯০ জনকে জরিমানা করা হয়। জেলেদের কাছ থেকে প্রায় ১৩ লাখ মিটার কারেন্ট জাল এবং সাড়ে ৩ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া ২ লাখ ৮৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর: মেঘনা নদীর লক্ষ্মীপুর অংশের ৬০ কিলোমিটার এলাকায় ৯০ জন জেলেকে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। ৩৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগের সাজা এবং ৫৭ জনকে মোট দুই লাখ এক চল্লিশ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া প্রায় দেড় লাখ মিটার কারেন্ট জাল এবং ৯ শ’ ৩৫ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়।

মানিকগঞ্জ: জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. মুনিরুজ্জামান জানান, ইলিশ শিকারের দায়ে ৪৯৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৫৭ জনকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯২ জন জেলেকে মোট ৫ লাখ ২২ হাজার ৬ শত টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জেলেদের কাছ থেকে সাড়ে ৩ টন মা ইলিশ জব্দ করা হয়। এছাড়া প্রায় ৫৩ লাখ ঘনমিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। এদিকে যমুনা নদীতে অভিযান পরিচালনার সময় মা ইলিশ শিকারিরা নৌ-পুলিশের ওপর হামলাও করেছে। অভিযানের শেষ দিন বুধবার (৩০ আগস্ট) সকালে শিবালয়ের আলোক দিয়া চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পাবনা: সুজানগর ও আমিনপুরে ইলিশ শিকারের অপরাধে দুই শতাধিক জেলের কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ ইলিশ মাছ ও জাল। আমিনপুরের ঢালার চর, কাজিরহাট, নটাকোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮৯ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ২৮ জনের নামে মৎস্য আইনে সাতটি মামলা দায়ের, ২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা এবং ৩৩ জনের কাছ থেকে এক লাখ ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। অভিযানে জব্দ করা হয় দুই লাখ ৫ মিটার জাল ও ৫ শ’ ৫০ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। একইভাবে সুজানগর উপজেলার পদ্মা নদীর সাতবাড়িয়া, মালিফা, হাসেমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ শ’ ৫০ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১৪ জনের নামে মামলা, ১ শ’ ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা, ৩০ জনের কাছ থেকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। অভিযানে ৬ লাখ ৫৫ হাজার মিটার জাল ও ৭ শ’ ৮৮ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়।

পটুয়াখালী: জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ২৫৮ জন জেলের কাছ থেকে ৭ লাখ ২৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা করে ৩ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ এবং ৩৯ লাখ ৮০ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে।

শরীয়তপুর: পদ্মা ও মেঘনা নদী থেকে ১৯ শ’ ২ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়, অভিযানে ১৮ শ’ ৩৮ টি মামলা করা হয়েছে। ইলিশ ধরার অপরাধে ১৯ শ’ ২ জন জেলেকে আটক করা হয়। ১৫ শ’ ৪২ জন জেলেকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ সময় ৮২টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ৪১ টি স্পিড বোট জব্দ করা হয়। ৭৭ লাখ ২০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জ সদর, কাজীপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলায় ২ শ’ ৭৭ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম সাজা দেওয়া হয়েছে। ৮ থেকে ৯ জনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। প্রায় ২১ লাখ মিটার কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

টাঙ্গাইল: যমুনা নদীর তীরবর্তী টাঙ্গাইল সদর, কালিহাতী, নাগরপুর, ভূয়াপুর ও গোপালপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৩৩ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৭১ হাজার দুইশ’ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, ৪৯০ কেজি ইলিশ ও ৫ লাখ ২০৯ মিটার জাল জব্দ করা হয়।

নাটোর: নাটোরে চারজন জেলেকে জরিমানা ও দুইজনকে জেল দেওয়া হয়। ৪৫ কেজি ইলিশ ও প্রায় ২ লাখ মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে।

ফরিদপুর: ফরিদপুর জেলায় প্রশাসনের অভিযানে ২২৪ জন জেলেকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ৯ হাজার ১৪৫ মিটার কারেন্ট জাল ১ দশমিক ৩ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়। ইলিশ ধরায় ২৩০টি মামলা ও ৯৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। সদরপর উপজেলা মৎস কর্মকর্তা বাতী কুমার দাস জানান, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দণ্ডিত জেলেদের বেশিরভাগই মৌসুমি জেলে যারা শুধু নিষিদ্ধকালীন সময় আইন অমান্য করে ইলিশ ধরে থাকে। প্রকৃত জেলেরা যেহেতু এই অভিযানের সুফল পাচ্ছেন তাই তারা এই সময় মাছ ধরেন না।

খুলনা: ডুমুরিয়ায় ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় দুই জেলেকে সাজা দেওয়া হয়েছে। ডুমুরিয়া মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি বিধান বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, ইলিশ শিকার বন্ধের মধ্যে সরকারি সহায়তা না পেয়ে দুর্ভোগে পড়েছে কার্ডধারী পাঁচ হাজার জেলে। ছোট নদীতে মাছ শিকার করার অপরাধে স্থানীয় এক জেলেকে তিনদিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বটিয়াঘাটার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুল মামুন জানান, অবৈধভাবে মাছ ধরার কারণে গত ২৭ অক্টোবর শৈলমারী নদী থেকে এক জেলেকে জরিমানা করা হয়। এ সময় তার কাছে থাকা ৫০০ মিটার জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়।

ভোলা: জেলার সাতটি উপজেলায় ৬১২টি অভিযান চালিয়ে ৫৭২ জনকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় হয় ১১ লাখ ২৩ হাজার টাকা। জেলা মৎস কর্মকর্তা এসএম আজহারুল ইসলাম জানান, জেলায় তালিকাভুক্ত জেলের সংখ্যা এক লাখ দুই হাজার ২৬০ জন। নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনে ৮৮ হাজার ১১১ জন জেলের জন্য ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ হয়েছে।

দোহারে হেরোইনসহ যুবক গ্রেফতার

ঢাকার দোহারে ১০১১ পুড়িয়া হেরোইনসহ মো. রুবেল (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে দোহার থানা পুলিশ। বুধবার সকালে উপজেলার ইসলামপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আটককৃত রুবেল উপজেলার পূর্ব লটাখোলা আলম হোসেনের ছেলে।

পুলিশ সুত্রে যানা যায়, মাদকের বিরুদ্ধে জিরুটলারেন্স ঘোষনা করে বাংলাদেশ পুলিশ। তারই ধারাবাহিকতায় ঢাকার দোহারের বিভিন্ন যায়গায় মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দোহার থানা ওসি সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে এএসআই শাহিন, জাহিদ ও মনিরুজ্জামানের যৌথ অভিযানে দোহার থানাধীণ ইসলামপুর সাকিনস্থ ইসলামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যা্লয়ের সামনে বাম পাশে পাকা রাস্তার উপর হইতে সকাল ০৬.২০ ঘটিকার সময় রুবেলকে অাটক করে পুলিশ। আটককৃত রুবেল পূর্ব লটাখোলার আলমের ছেলে।

এ বিষয়ে দোহার থানায় একটি মাদক মামলা করে আসামীকে আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

দোহারে আট জুয়াড়িকে ভ্রাম্যমান আদালতে কারাদন্ড

ঢাকার দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের গোড়াবন এলাকা থেকে আট জুয়াড়িকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন, মো. লিটন (২৩), আব্দুল করিম (৩৫), মো.স্বপন (৪৫), মো. রাসেল (৩৩), মো. শরীফ (৩৫), মো. সাগর (২৪), মো. জামাল (৩৫) ও শেখ দুলাল (৩৫)।

আটককৃতদের ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করা হলে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র সাত জুয়াড়ির প্রত্যেককে একমাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড ও জুয়া খেলা দেখার অপরাধে শেখ দুলালকে তিন হাজার টাকার অর্থদন্ড প্রদান করেণ।

এছাড়া গাজা সেবনের অপরাধে নারিশা সাতভিটা এলাকা থেকে মো. অভি নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। তাকেও ভ্রাম্যমান আদালতে একমাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র।

“কবরস্থানের সীমানার ভিতরে পারিবারিক কবরস্থান তৈরি, কমিটি নিশ্চুপ”

ঢাকার দোহার উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের আল-আমিন কবরস্থানের সীমানার ভিতরে পারিবারিক কবরস্থান তৈরির অভিযোগ পাওয়া যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অত্র ইউনিয়নের ডাইয়াগজারিয়া গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি মৃত আদম আলী মুন্সীর বড় ছেলে বিল্লাল মুন্সী এ পারিবারিক কবরস্থান গড়ে তোলার জন্য দেয়াল নির্মানের কাজ শুরু করেন। স্থানীয় এলাকাবাসীর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ফলে পারিবারিক কবরস্থান নির্মানের কাজ সাময়িক বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে আবার কাজ শুরু হওয়ার আশংকা রয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী। জানা যায়, জনাব বিল্লাল মুন্সী কবরস্থানের পাশে জমি ক্রয় করে, পরবর্তীতে সে ক্রয়কৃত জমির কিছু অংশ জানাজার ঘরের জন্য দান করে এবং কিছু অংশে পারিবারিক কবরস্থান নির্মানের কাজ শুরু করে। এলাকাবাসীর দাবি কবরস্থানের ভিতরে পারিবারিক কবরস্থান মোটেও কাম্য নয়। এর সুষ্ঠু সমাধান চায় এলাকাবাসী।

নবাবগঞ্জে আওয়ামীলীগ নেতার মাদক ব্যবসায়ী ছেলেকে কারাদণ্ড

বক্সনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন খানের ভাতিজা জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে তুষারকে (২১) ইয়াবাসহ আটক করেন নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ এস আই সোরহাব। সেসময় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৫ মাসের কারাদণ্ড দেয়। জানা যায় তুষার একজন মাদক ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিত ছিল তার এলাকায়। পুলিশ তার উপর নজরদারি চালায় খবরপেয়ে অভিযান চালিয়ে অবশেষে তাকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। সে সময় এলাকাবাসী জানায় এভাবে সকল মাদক ব্যবসায়ীকে সাজা দিলে হয়তো নবাবগঞ্জ মাদকমুক্ত হবে সে সাথে তারা ধন্যবাদ জানায় নবাবগঞ্জ থানা পুলিশকে।

দোহার উপজেলায় বিজয় ফুল উৎসব অনুষ্ঠিত

বুধবার ঢাকা দোহার উপজেলা সভাকক্ষে বিজয় ফুল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে স্কুল-কলেজের কয়েকশ শিক্ষার্থী বিজয় ফুল তৈরি, চিত্রাঙ্কন, জাতীয় সংগীত ও দেশাত্মবোধক গান প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় সে সময় তিনি বলেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্যই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় মন্ত্রালয় থেকে আর এর মধ্যেমেই তারা মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে বলে এবং সেই লক্ষ্য কাজ করে যেতে পারবে বলে আশাবাদী। এবং আরো সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জ্যােতি বিকাশ চন্দ্র তিনি বলেন এটি গত ২০১৮ সালে থেকে শুরু হয় আজকে এটির তাপর্য্য হল ১৯৭১ সালে যারা শহিদ হয়েছিলেন তাদেরকে নতুন ভাবে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্যই এই আয়োজন করা হয় যাতে করে তারা আমাদের বাংলাদেশে ফুল শাপলা সেটি সম্পর্কে জানতে পারে এবং সে সম্পর্কে সৃজনশীলতা অর্জন করতে পারে। এই বিজয় ফুল কোটি কোটি ছাত্রছাত্রীরা তৈরি করবে সেখান থেকে তাদের প্রিয় ফুল গুলো সৈজন্যমূল্য বা শুভেচ্ছা মূল্য বিক্রি করা হবে সেই বিকৃত অর্থ শহিদ পরিবার ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে বিতরণ করা হবে। আজে যারা দোহার থেকে বিজয় হবে তারা পারার্বতীতে জেলা পর্যায় আংশগ্রহন করবে। সে সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জয়পাড়া টেনিক্যাল স্কুল ও কলেজ প্রতিনিধি বেগম রোকেয়াসহ দোহারের বিভিন্ন স্কুল কলেজ এর শিক্ষক শিক্ষার্থীরা|

 

 

জিমেইলের ব্যতিক্রমী কিছু ফিচার

জিমেইল প্ল্যাটফর্মে কিছুদিন হলো নতুন কিছু ফিচার যুক্ত করেছে গুগল। এগুলোর মাধ্যমে আপনি ব্যতিক্রমধর্মী সুবিধা পাবেন। অনেকে নিয়মিত জিমেইল ব্যবহার করেন। কিন্তু তাদের অনেকেই এসব সুবিধা সম্পর্কে জানেন না। জিমেইলে নতুন কিছু ফিচার যুক্ত করায় আপনার পাঠানো মেইলে নির্দিষ্ট সময়সীমা দিয়ে দিতে পারবেন। এতে ওই সময়ের পর মেইলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিলিট হয়ে যাবে। এমন আরও অনেক সুবিধা এখন জিমেইলে আছে। সেরকম কয়েকটি হলো-

পাঠানো মেইল ফিরিয়ে আনা: আমরা অনেক সময় ভুল করে খসড়া মেইল পাঠিয়ে দিই। কিংবা চাপ লেগে মেইল চলে যেতে পারে। এ ধরনের সমস্যা সমাধানের একটি উপায় যুক্ত করেছে গুগল। ভুল করে কোনও মেইল পাঠানোর পর সেই ভুল শোধরাতে আপনাকে সময় দেওয়া হবে সর্বোচ্চ ৩০ সেকেন্ড। এর মধ্যে ‘আনডু’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এতে আপনার পাঠানো মেইলটি প্রাপকের ইনবক্স থেকে মুছে গিয়ে আপনার ইনবক্সে এসে জমা হবে। ‘আনডু সেন্ড’ নামের এই অপশনটি পাওয়া যাবে জি-মেইলের ভেতর সেটিংস ট্যাবে।

স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাবে মেইল: গত বছর জি-মেইলে ফিচারটি নিয়ে আসে গুগল। এই ফিচারের সাহায্যে ইমেইল পাঠানোর সময় একটি সময় নির্ধারণ করে দিতে পারবেন গ্রাহকরা। নির্ধারিত ওই সময়ের পরে মেইলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাবে। সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পর কোনও প্রাপক চাইলেও সেই মেইলে প্রবেশ করতে পারবেন না। এই ফিচারটি পাওয়া যাবে ই-মেইল কম্পোজের সময় নিচের দিকে লক বা তালা চিহ্নিত অপশনে।

মেইল প্রাপকের কাছে কখন পৌঁছবে তা নির্ধারণ করা: কাজের প্রয়োজনে আপনি বিভিন্ন মেইল করে থাকেন। কিন্তু সেটি কখন গ্রাহকের কাছে পৌঁছবে ওই সময়টিও এখন থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া যাবে। এক্ষেত্রে ই-মেইল পাঠানোর সময় সেন্ড অপশনের পাশে একটি অ্যারো বা তীর চিহ্নিত অপশন দেখতে পাবেন। সেখানে ক্লিক করে ই-মেইলের টাইম ঠিক করে দেওয়া যাবে।

মেইলে এসএমএস পাসকোড যুক্ত করা: মেইলে বাড়তি নিরাপত্তা যোগ করা যায় এসএমএস পাসকোডের মাধ্যমে। মেইল কম্পোজের সময় নিচের দিকে লক বা তালা চিহ্নিত অপশনে এই ফিচারটি পাওয়া যাবে। এটি ব্যবহারের ফলে এসএমএসে যাওয়া পাসকোড ছাড়া মেইল ওপেন করা যাবে না।

অফলাইনে ইমেইল ব্যবহার: বর্তমানে অফলাইনেও ইমেইল ব্যবহার করা যায়। যদিও এর মূল কাজটি অনলাইনেই হয়। তবে জি-মেইলে অফলাইন মোড দেওয়া থাকলে কোনও ব্যবহারকারী ইন্টারনেটে না থাকলেও মেইলে প্রবেশ করতে পারবেন এবং ইমেইল কম্পোজ ও সেভ করে রাখতে পারবেন। অফলাইন মোড অপশনটি পাওয়া যাবে জিমেইলের সেটিংস অপশনে।

জনদূর্ভোগ হলে আরাম-নগর বন্ধ হয়ে যাবে, প্রয়োজনে বিআরটিসি চলবেঃ সালমান এফ রহমান এমপি

0

জুবায়ের শরিফ,নিউজ৩৯: দোহার-নবাবগঞ্জের মাননীয় সাংসদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা জননেতা জনাব সালমান এফ রহমান শনিবার ২৬ অক্টোবর শনিবার দোহার উপজেলা সভাকক্ষে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ চলাকালীন দোহারের পরিবহন ব্যবস্থায় নগর আর আরামের নৌরাজ্য বন্ধের ব্যাপারে নিউজ৩৯ এর লিখিত অভিযোগ, দোহার ছাত্র কল্যাণ পরিষদ, দোহার যাত্রী কল্যাণ পরিষদ, প্রিয়বাংলা পত্রিকা ও জাগ্রত জনতা পত্রিকা অভিযোগ করলে তিনি বলেন, তাদেরকে কথা শুনতে হবে। দোহার থানার ওসিকে নির্দেশ দেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে, আর যদি কথা না শুনে তাহলে এই দু’টি সার্ভিস বন্ধ করে প্রয়োজনে বিআরটিসি চলবে।  এই ব্যাপারে তিনি প্রয়োজনে সড়ক ও সেতু মন্ত্রীর সাথে কথা বলবেন।

উল্ল্যেখ্য এই দুই পরিবহনের বিরুদ্ধে মানুষের অভিযোগ হাজারো। এর মাঝে অন্যতম হলো এরা একে অন্যকে সাইড দেয় না। এক জন আরেকজনকে সাইড তো দেয় না উলটো মাঝে মাঝে রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে থেকে সময়ের অপচয় ও যাত্রীদের দূর্ভোগ সৃষ্টি করে পরিবহন দুটি।

এই দুই পরিবহনের বিরুদ্ধে আরো একটি গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে পরিবহন দুটি ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে বাজে ব্যবহার ও হাফ ভাড়া না নেয়ার অভিযোগ। ২০১৯ সালে হাফ ভাড়া আইন পাশ হলেও এর কোন প্রয়োগ নেই দোহার-নবাবগঞ্জের পরিবহন সেক্টরে। কার্তিকপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া যমুনা ও দ্রুত পরিবহনের বিরুদ্ধে তো হাফ ভাড়া না নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের মারধোর করার অভিযোগ আছে।

আরেকটি গুরুতর অভিযোগ এই দুই পরিবহনের বিরুদ্ধে তার একটি হলো অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন। এর বিরুদ্ধে নেই কোন ব্যবস্থা। মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনের কথা বলা থাকলেও নেই সেটার কোন প্রয়োগ।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক নির্মল গুহ

0

স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক করা হয়েছে সংগঠনটির সিনিয়র সহ সভাপতি র্নিমল রঞ্জন গুহকে। আর সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক গাজী মেসবাউল হোসেন সাচ্চু।

শুক্রবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
এদিকে, ক্যাসিনোকাণ্ডে নাম জড়ানোর পর সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছারকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এর একদিন পরই বৃহস্পতিবার রাতে সম্মেলনের দায়িত্ব থেকে বিরত থাকার র্নিদেশ দেওয়া হয় সাধারণ সম্পাদক পংকজ নাথকে।
ওবায়দুল কাদের জানান, আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব সম্মেলন পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবক লীগের দায়িত্বে থাকবেন।

উল্লেখ্য, নির্মল রঞ্জন গুহ স্কুল জীবনে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক দিয়ে শুরু করে পরবর্তীতে কলেজ, জেলা ও কেন্দ্রীয় ছাত্র রাজনীতিতে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে জননেত্রী শেখ হাসিনার নিজ হাতে গড়া সেবা শান্তি প্রগতির পতাকাবাহী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা জেলার আহব্বায়ক, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও পরবর্তী কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বেচ্ছাসেবক লীগে দায়িত্ব পালন কালে খালেদা -নিজামী জোট সরকার বিরোধী আন্দোলনে একাধিক বার জেল জুলুমের স্বীকার হয়েছেন এই নেতা।

১/১১ এর সময়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দলোনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের পক্ষ থেকে পোস্টর, লিফলেট ছাপার মত গুরু দায়িত্বটিও পালন করেন তিনি। দায়িত্ব পালন কালে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি সফলতার সাথে পালন করে নেতা কর্মীদের মাঝে আলোচনায় ছিলেন তিনি।
মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ক্লিন ইমেজের গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু ১৯৮২ সাল থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৮৫ সাল থেকেই পালন করেছেন বিভিন্ন গুরু দায়িত্ব। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, ১৯৯৬ সালের অসহযোগ আন্দোলন, ১/১১ তে জননেত্রী মুক্তি আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি একবার সিনিয়র সহ সভাপতিসহ দু’বার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে বৃহত্তর ক্যান্টনমেন্ট থানা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের আহবায়ক,  বৃহত্তর ক্যান্টনমেন্ট থানা ছাত্রলীগ দু’বারে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দু’ দফা আওয়ামীলীগ, কেন্দ্রীয় উপকমিটির ত্রাণ ও সমাজকল্যান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হয়ে কলকাতার Peraless Hospital এ ৪৫ দিন চিকিৎসা গ্রহণ করেণ। বারবার কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক থাকার কারণে স্বেচ্ছাসেবকলীগের সারা দেশের নেতা-কর্মীদের সাথেও রয়েছে ভাল যোগাযোগ।

“পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মৎস্য নিধন, চরম বিপাকে মৎস্য চাষী সামছুল”

 গত ২৪ অক্টোবর দোহার উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের মিজান নগর গ্রামে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মৎস্য নিধনের ঘটনা ঘটে। অত্র অঞ্চলের লতিফ মোল্লার পুকুর ভাড়া নিয়ে বিগত কয়েক বছর যাবত মাছ চাষ করে আসছে সামছুল নামের এক মৎস্য চাষী। কিন্তু হঠাৎ করে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে দুষ্কৃতিকারীরা পুকুরের মাছ মেরে ফেলে। এমন জঘন্যতম ঘটনায় চরম বিপাকে পড়েছে মৎস্য চাষী সামছুল। এলাকাবাসী এমন জঘন্যতম ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং প্রকৃতি অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আশা করছে। উল্লেখ আড়িয়াল বিলে হাজারো মৎস্য খামার রয়েছে। এমন অপকর্ম শুরুতেই রোধ করা না গেলে ভবিষ্যতে মৎস্য চাষীগন উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে। এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরদারি আশা করছে এলাকাবাসী।