দোহারে রাইপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটির পরিচিতি সভা

ঢাকার দোহার উপজেলার রাইপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের আহবায়ক কমিটির পরিচিতি সভা ও ৭ এবং ৭ নং ওয়ার্ডের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মংগলবার বিকেল ৪টায় উপজেলার রাইপাড়া ইউনিয়নের পালামগঞ্জ বাজারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
রাইপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীগের আহবায়ক মুজিবুর রহমান বেপারীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা আওয়ামিলীগগের সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার, উপজেলা আওয়ামিলীগের সহ-সভাপতি মোল্লা আবু বেলাল, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনার কলি পুতুল, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সদস্য সুরুজ আলম সুরুজ, ঢাকা জেলা (দক্ষিণ) তাতীলীগের সভাপতি রমজান আলী মল্লিক, সিনিয়র সহ- সভাপতি জামাল উদ্দিন আহমেদ, সাবেক ছাত্রনেতা সুরুজ আলম, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মু. আলমাস উদ্দিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব বেপারী, আওয়ামীলীগ নেতা আলমাস উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজিব শরীফ, রাইপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামিলীগ আহবায়ক কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আমজাদ হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি পাপেল মাহমুদ নিজাম প্রমুখ।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ, আশা নাকি ধোঁয়াশা!

0

কাঙ্ক্ষিত জমির সন্ধানে জাপানি বিশেষজ্ঞদের দৌড় এখনও বন্ধ হয়নি। সরকারের পছন্দের শীর্ষে ছিল শরীয়তপুর জেলার চরজানাজাত, আড়িয়াল বিল। পরে জানানো হলো পদ্মার পাড়েই হবে স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

চলতি বছরের শুরুতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সচিব ওই ঘোষণা দেন। কিন্তু গত সাত-আট মাস এ নিয়ে কোনো কথা নেই। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জাপানি ‘নিপ্পন কই’র সামান্য কার্যক্রম ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এ ধীরগতির কথা মানতে নারাজ। গত শনিবার সকালে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্মাণকাজের প্রক্রিয়া বন্ধ নেই। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান তাদের কাজ শেষ করেছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন বেবিচকের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় তাদের সুবিধা মতো সময়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করবে।

Bangabandhu-Airport-03

তিনি আরও বলেন, এ মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরের সংস্কারকাজের প্রতি মন্ত্রণালয় মনোযোগী। দেশের সবগুলো বিমানবন্দর আধুনিক সুবিধা-সম্বলিত না হলে বড় বিমানবন্দরের কার্যক্রমে স্থবিরতা আসতে পারে।

মফিদুর রহমান বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে বিপুলসংখ্যক যাত্রী চলাচল করেন। এসব রুটের জন্য বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হাব হিসেবে পরিচিতি পাবে। যে কারণে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের আগেই দেশের সব বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন জরুরি।

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতি মিনিটে একটি করে ফ্লাইট ওঠা-নামার সক্ষমতা থাকবে। বছরে কমপক্ষে এক কোটি ২০ লাখ যাত্রী আশা-যাওয়া করতে পারবেন এ বিমানবন্দর দিয়ে। বিমানবন্দর থেকে বের হয়েই মাত্র আধাঘণ্টায় এয়ার এক্সপ্রেসে জিরো পয়েন্টে পৌঁছান যাবে।

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে থাকবে সুবিস্তৃত সংযোগ সড়ক। প্রস্তাবিত বিমানবন্দরে ২৪ ঘণ্টায় ৪০০ যাত্রীবাহী ফ্লাইট ও ২০০ কার্গোবাহী ফ্লাইট অপারেশনের ব্যবস্থা থাকবে। এটি হবে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় একটি বিমানবন্দর। এমন অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় রেখে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সমীক্ষার কাজ চলছে। জাপানের শীর্ষস্থানীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ‘নিপ্পন কই’র দুই ডজন বিশেষজ্ঞ এ কাজের তত্ত্বাবধানে আছেন।

গত এক বছরে নিপ্পনের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান উপযোগী জমি অনুসন্ধানের কাজ মোটামুটি শেষ করেছে। চূড়ান্ত বাছাইয়ের পর চলবে ডিজাইনের কাজ।

Bangabandhu-Airport-03

বেবিচক চেয়ারম্যান আরও জানান, ১২০ কোটি টাকার সমীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে। সিঙ্গাপুর চাঙ্গি এয়ারপোর্ট, দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, হিথ্রো এয়ারপোর্টের মতোই অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রেখেই ড্রয়িং-ডিজাইন তৈরি করা হবে। যাতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শীর্ষ হাব হিসেবে গড়ে তোলা যায় বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দরকে।

এছাড়া আগামী ১০০ বছরে দেশের সম্ভাব্য জনসংখ্যা, যাত্রী পরিসংখ্যান, যাতায়াত ব্যবস্থা বিশেষ করে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর দক্ষিণাঞ্চলে গড়ে ওঠা অন্যান্য যাতায়াত অবকাঠামো সুবিধার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দরের মডেল তৈরির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, প্রস্তাবিত বিমানবন্দরের জন্য যে পরিমাণ জমি দরকার সেটা বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে সহজে পাওয়া যাবে- এর ওপরই নির্ভর করছে সবকিছু।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হবে পদ্মা সেতু কেন্দ্রিক। যাতে ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে ওঠে। আগামী ১০০ কিংবা ৫০ বছরে দেশের উন্নয়ন হবে মূলত দক্ষিণাঞ্চলকেন্দ্রিক। এটা মাথাই রেখে সমীক্ষা করছেন নিপ্পনের হাইড্রোলিক বিশেষজ্ঞরা।

বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর নির্মাণ, আশা নাকি ধোঁয়াশা!ঃজাগোনিউজ

দোহারের পালামগঞ্জ থেকে ৩ জোয়ারি আটক

নিউজ৩৯:দোহার উপজেলার রাইপাড়া ইউনিয়নের পালামগঞ্জ মাছ বাজার থেকে তিন জোয়ারিকে আটক করেছে দোহার থানা পুলিশ। তারা হলেন ইকরাশি গ্রামের জয়নাল বেপারীর ছেলে অাহাদুল(৩৫), হাতুরপাড়া গ্রামের হেলালের ছেলে শহিদুল(১৯), লক্ষিপ্রশাদ গ্রামের হানিফ মোল্লার ছেলে জুলহাস(৩৩)।

৫ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় তাদের অাটক করা হয়। পরে উপজেলা সহকারি কমিশনার ভুমি জ্যোতি বিকাশ চন্দ্রের ভ্রম্যমান অাদালতে ১৮৬৮ সনের ৪ ধারায় তিন জনকে বিনাশ্রম ১০ দিন করে কারাদন্ড দিয়ে অাসামীদের অাদালতে প্রেরন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দোহার থানা এএসঅাই অালী অাকবর ও তার ফোর্স।

দোহারে চলছে মুক্তিযোদ্ধা বাছাই প্রক্রিয়া

আছিফুর রহমান,নিউজ৩৯: মংগলবার থেকে দোহার উপজেলায় চলছে মুক্তিযোদ্ধা বাছাই প্রক্রিয়া। মঙ্গলবার সকালে দোহার উপজেলা সভাকক্ষে এ বাছাই প্রক্রিয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা পরিষদ। মোট মুক্তিযোদ্ধার ৭০ জনের যাচাই বাছায় করে কাগজ পত্র দেখা হয়।

অনুষ্ঠানের সভাপতি দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আক্তার রিবা বলেন, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের দিক নির্দেশনা অনুযায়ি আমরা কাজ করছি। বাছাই প্রক্রিয়া অনুষ্ঠানে দোহারের সাবেক কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সহ উপজেলার বেশির ভাগ মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে এ বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। যে যে রকম সার্টিফিকেট উপস্থাপন করছে আমরা সে রকমই রিপোর্ট দিব মন্ত্রনালয়ে। মুক্তিযোদ্ধাদের সবার মতামত নিয়েই কাজ চলছে। কেউ যদি মনে করে দুর্নীতি হচ্ছে বা হবে বলে সেটা সঠিক নয়।

এই বাছাই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দোহার থানা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রজ্জব মোল্লা, ডা. অাবুল কালাম, হাসান মতিউর রহমান, আ. রউফ মোল্লা,দোহার উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল, দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র সহ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা।

দোহারে তর্কের জেরে সশস্ত্র হামলাঃ গুরুতর আহত ১

জোবায়ের শরীফ,নিউজ৩৯: দোহারের মুকসুদপুরের বানীয়াবাড়ী গ্রামে তর্ক-বিতর্কের জেরে আরিফ গাজী (২৫) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে তাৎক্ষণিক দোহার সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক অবস্থা বিবেচনায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

আহতের ভাই আশীকুল গাজী নিউজ৩৯কে জানান, আমার ভাই তাবলীগের চিল্লায় গিয়েছিলো। সেখানে সামান্য বিষয় নিয়ে এক যুবকের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। পরে সেই একই দ্বন্দ্বের জেরে আজ বানীয়াবাড়ী গ্রামে মেলার অনুষ্ঠানে উক্ত যুবকের সাথে আরিফের কথা কাটাকাটি হয়। এসময় সেই যুবক ও তার বন্ধু বান্ধবেরা আরিফকে দেশীয় দা ও কিরিচ দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। এতে আমার ভাইয়ের মাথা ফেটে মাঝে প্রায় ১ ইঞ্চি গ্যাপ হয়ে যায়। ভাইয়ের চিৎকারে তার স্বজনেরা ছুটে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় দোহার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক অবস্থা বিবেচনায় ভাইকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

ঘটনাস্থলে ফুলতলা পুলিশ ফাড়ি তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শন করেছে। এদিকে আরিফের জরুরী ভিত্তিতে AB+ রক্তের প্রয়োজন।

পান্নু-শান্তর হাতে জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগ

তারেক,নিউজ৩৯: মঙ্গলবার রাতে ঢাকা জেলা ছাত্রলীগ (দক্ষিণ) এর সভাপতি গিয়াস উদ্দিন সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এরফান অনিক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দোহার উপজেলার জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষিত হলো। এতে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান হলো। পান্নু চোকদারকে সভাপতি, শাহাদাত হোসেনকে সহ- সভাপতি, আব্দুর রহমান শান্তকে সাধারণ সম্পাদক ও এমারত হোসেনকে সাংগাঠনিক সম্পাদক করে এই কমিটি ঘোষিত হলো।

দোহারে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান, ১৫২৪ কেজি পলিথিন জব্দ

নিউজ৩৯, জোবায়ের শরীফ: সোমবার দুপুরে পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং এনফোর্সমেন্ট শাখার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কাজী তানজীদ আহমেদের নেতৃত্বে দোহার উপজেলার জয়পাড়া বাজার থেকে ১৫২৪ কেজি  নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ জব্দ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। উক্ত পলিথিনের বাজার মূল্য প্রায় ৩,১০,০০ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন দোকানীকে ১লক্ষ ৫হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বাজার কমিটি অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমেদ বলেন, গোপন সংবাদ ও নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে দোহারে অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানে প্রায় ১.৫ টন পলিথিন জব্দ করি ও ১ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করি।

তিনি আরো বলেন অভিযানের উদ্যেশ্য জরিমানা বা পলিথিন জব্দ করা না। আমাদের মূল উদ্যেশ্য মানুষকে সচেতন করা, পরিবেশ নষ্ট করে যে পলিথিন তা ব্যবহার করা যাবে না।

অভিযানে জয়পাড়া বাজারের পাঁচটি দোকান ও একটি গোডাউন থেকে দেড় টন নিষিদ্ধ পলিথিন উদ্ধার করে তা জব্দ করা হয়। নিষিদ্ধ পলিথিন বিক্রি ও মজুদের অপরাধে বাজারের ব্যবসায়ী মোকছেদ আলী, মো. আলমগীর, গৌর কুন্ডু, আব্দুল জলিল, মদন মোহন বনিক ও মো. মিরাজ কে ভ্রাম্যমান আদালতে মোট এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, দোহার থানা এসআই নাসির উদ্দিন, বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার মাঝি, সাহেদুজ্জামান খন্দকার সহ বাজারের ব্যবসায়ীগণ।

দোহার নবাবগঞ্জের শিক্ষার্থীদের জন্য বাস দিচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) থেকে নবাবগঞ্জ হয়ে দোহার পর্যন্ত বাস চালু করতে যাচ্ছে জবি প্রশাসন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জবির পরিবহন প্রশাসক আবদুল্লাহ্-আল-মাসুদ। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস থেকে ঢাকা-১ আসনের দোহার পর্যন্ত খুব শীঘ্রই বাস চলাচল শুরু করবে।
জবির নতুন যে ১০টি বাস ও ২টি সংস্কারকৃত বাস চালু হতে যাচ্ছে সেগুলো বিআরটিসি বাস গুলোর সাথে ঐ একই রুটে চলাচল করবে। এছাড়া নতুন আরো তিনটি রুটে বাস চালু হচ্ছে। সেগুলো হচ্ছে জবি-হেমায়েতপুর ও পরীক্ষামূলকভাবে জবি-নারায়ণগঞ্জ (চাষাড়া) রুট এবং জবি-কুমিল্লা সদর রুট।

এ বিষয়ে পরিবহণ প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ইতিমধ্যে নতুন বাস গুলোর জন্য ১৫ জন বাস চালক নিয়োগ দেয়া সম্পন্ন হয়েছে, তাদের ৩ নভেম্বর (রবিবার) থেকে কাজে যোগদান করার কথা রয়েছে এবং এই বাসগুলোর হেল্পার শীঘ্রই বাছাই সম্পন্ন হবে। এছাড়াও জবির নিজস্ব অর্থায়নে একটি দোতলা বাস খুব দ্রুতই পরিবহণ পুলে যুক্ত হবে। যার রঙ হবে সিলভার ও নীল। আজ রবিবার বাস পরিচালনা কমিটি আনুষ্ঠানিক সভায় নতুন বাস গুলোর রুট নিয়ে আলোচনা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রকাশ করার কথা রয়েছে। এছাড়া ট্রেজারারের পদ ফাকা থাকায় অনেক প্রক্রিয়া আটকে আছে।

উল্লেখ্য যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পড়ে ও শিক্ষার্থীদের পরিবহন সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখে নতুন ১০টি বাস কেনার ও পুরাতন ২ টি বাস সংস্কার করার ঘোষণা দেয় জবি প্রশাসন। যা বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন রুটে যুক্ত করার পরিকল্পনার পাশাপাশি নতুন কিছু রুটে বাস চালানোর উদ্যোগ নেয়া হয়।

আজ জেলহত্যা দিবস

0

আজ (রবিবার) ৩ নভেম্বর, জেলহত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপদ প্রকোষ্ঠে ঢুকে একদল দুষ্কৃতকারী হত্যা করে জাতীয় চার নেতাকে। পচাঁত্তরের পনেরই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মম হত্যাকাণ্ডের ৮০ দিনের মাথায় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এএইচএম কামরুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলীকে কারাগারের ভেতরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

এর আগে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ঘাতকদের ইচ্ছায় গঠিত মন্ত্রিসভায় যোগদানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এই চার নেতা। যার কারণে বিশ্বাসঘাতক খন্দকার মোশতাক আহমদের শাসনামলে তাদের গ্রেফতার করে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয় এবং একপর্যায়ে তাদের হত্যার জন্য সেখানে ঘাতকদের পাঠানো হয়। তাদের হত্যা করার আগে সেখানে দায়িত্বরত কারারক্ষীরা বাধা দিলে মোশতাকের পক্ষ থেকে নির্দেশ আসে ঘাতকদের কাজে সহায়তা করার জন্য। ঘাতকরা ভেতরে গিয়ে চার নেতাকে একত্র করে গুলি চালিয়ে ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে।

১৫ আগস্টের খুনিচক্রই জেলহত্যাকাণ্ড ঘটায়। তারা খবর পেয়েছিল, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীরই একটি অংশ পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে। জেলহত্যার মতো ঘটনা ঘটিয়ে তারা বিদেশে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। জেলহত্যার ঘটনা তদন্তে একটি বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠিত হলেও সেটি স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারেনি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলাও দায়ের হয়েছিল। এর সবকিছুই কার্যত বাতিল বা বন্ধ হয়ে যায় একই বছরের ৭ নভেম্বর আরেকটি সেনা অভ্যুত্থানের ওপর ভর করে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর।

তিনি বঙ্গবন্ধু ও চার নেতা হত্যার ঘটনার তদন্ত ও বিচারের কোনো উদ্যোগ নেননি। বরং এসময় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ রুদ্ধ করা হয়। চার নেতা হত্যার বিচারে কোনও আইনগত বাধা না থাকলেও সে প্রক্রিয়াও বন্ধ ছিল দীর্ঘ ২১ বছর। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ইনডেমনিটি আদেশ বাতিল হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু ও চার নেতার হত্যার বিচারের পথ সুগম হয়।

২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর নিম্ন আদালত এই মামলার রায়ে তিন জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন। কিন্তু ২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত দুই পলাতক আসামিকে বেকসুর খালাস এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ পাওয়া চার জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

আসামিদের খালাস করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বাতিল এবং বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজা বহাল রাখার আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন। এই দুই আসামি পলাতক থাকায় বিচারের রায় কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।

জেলহত্যায় প্রাণ হারানো চার জাতীয় নেতাকে যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বর্বরোচিত এই কালো অধ্যায়টিকে স্মরণ করবে জাতি। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন ও দল সংগঠনের উদ্যোগে সারাদেশে পালিত হবে শোকাবহ এই দিবস।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলের কন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সর্বত্র দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন এবং কালো ব্যাজ ধারণ। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং ৮টায় বনানী কবরস্থানে জাতীয় তিন নেতার কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত। একইভাবে রাজশাহীতে অপর নেতা কামরুজ্জামানের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়াও বিকাল ৩টায় রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে দলের সব শাখা এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণকে যথাযথ মর্যাদায় জেলহত্যা দিবস পালনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

সদ্য ধরা ইলিশ চিনবেন যেভাবে

0

রাজধানীর বাজারগুলোয় আবার উঠেছে ইলিশ। গত ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত এই ২২ দিন বন্ধ থাকার পর ৩১ অক্টোবর থেকে ইলিশ ধরা শুরু হয়েছে। তবে, ক্রেতাদের অভিযোগ—বাজারে যেসব ইলিশ এখন পাওয়া যাচ্ছে, তার সব তাজা নয়। বেশিরভাগই আগের ধরা মাছ।
জানা গেছে, ৯ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞা জারির আগে ধরা পড়া ইলিশের একটি বড় অংশই রয়ে গেছে অবিক্রিত অবস্থায়। এতদিন সেগুলো সংরক্ষণ করে রাখা ছিল। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো বাজারে ছেড়েছেন ব্যবসায়ীরা। সদ্য ধরা ইলিশের সঙ্গে আগের মাছও বিক্রি হচ্ছে। যারা নতুন-পুরনো ইলিশ চেনেন, তারা হয়তো ঠকছেন না। যাচাই-বাছাই করেই কিনছেন। তবে যারা নতুন-পুরনো চেনেন না, তারা ঠকছেন। সদ্য ধরা ইলিশ মনে করে কিনে নিচ্ছেন বাসি ইলিশ।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পিরোজপুর পাড়েরহাটের ইলিশ ব্যবসায়ী মোকাব্বির হোসেন বলেন, ‘সদ্য ধরা ইলিশ চিনতে হলে ইলিশের রঙ দেখতে হবে। মাছের ফুলকা (কান) দেখতে হবে। চোখ দেখতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘তাজা ইলিশের রঙ হবে চকচকে রুপালি। আর পিঠের কালো অংশ হতে হবে সুরমা রঙের। চোখ থাকবে কালো এবং মাছের ফুলকা থাকবে লাল।’
একই ধরনের মন্তব্য করে বরগুনার পাথরঘাটার ইলিশ ব্যবসায়ী তোবারক হোসেন বলেন, ‘তাজা ইলিশ হবে শক্ত। অনেক সময় তাজা ইলিশ বিক্রেতারা যেভাবে রাখেন, সেখাবেই বাঁকা হয়ে থাকে। এমন ইলিশ দেখলেই বোঝা যাবে, এটি তাজা। অন্যদিকে, তাজা ইলিশের চোখ হবে কালো সুরমা রঙের। ফুলকা থাকবে টকটকে লাল। ইলিশের গায়ে এমন সব চিহ্ন বা লক্ষণ থাকলেই চেনা যাবে তাজা ইলিশ।’
একইভাবে ভোলার তেতুলিয়া নদীতে ইলিশ ধরা জেলে আশরাফ আলী বলেন, ‘বাসি ইলিশ সব সময় নরম থাকে। হাতে ধরলেই দুপাশ দিয়ে ঝুলে পড়ে।’
রাজধানীর কারওয়ানবাজার, কোনাপাড়া বাজার, শান্তিনগর বাজার, খিলগাও বাজার, নিউমার্কেট কাচাবাজার, মোহম্মদপুর কাচাবাজারের পাশাপাশি রাজধানীর প্রায় পাড়ামহল্লায় ফেরি করে ইলিশ মাছ বিক্রি শুরু হয়েছে। তারা এখন সবাই ব্যস্ত সময় পার করছেন। এক কেজি সাইজের তাজা ইলিশের মূল্য এখন হাজার টাকার কিছু ওপরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ীরা।
এছাড়া, এক কেজির নিচে ওজন এমন সাইজের (৭শ থেকে ৮শ গ্রাম) ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮শ টাকা দরে। এর নিচে যেকোনও সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫শ টাকা কেজি দরে।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আড়তেও মাছের দাম আগের মতো দামেই বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের মোকামখ্যাত চাঁদপুর, কক্সবাজার, পিরোজুরের পাড়েরহাট, বরগুনার পাথরঘাটা, বরিশাল, ভোলার আড়তগুলো থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানেও ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পিরোজুরের পাড়েরহাটের ইলিশের ব্যবসায়ী মোকাব্বির হোসেন বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর জেলেরা জাল নিয়ে নদীতে যাচ্ছেন আর নৌকা বা ট্রলার ভরে ইলিশ নিয়ে ফিরছেন।’ প্রচুর মাছ ধরা পড়ছে বলেও তিনি জানান।