তরুনদের ভাবনাঃ দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; দায়িত্ব আমাদেরও আছে

আমি করোনা ভাইরাসকে সহজ ভাবেও নিচ্ছি না আবার অনেক জটিল করেও দেখছি না। কেননা কভিড-১৯ সাধারন জ্বর,সর্দি,কাশির মতই সাধারণ রোগের মতোই।তবে ১-১২ বছরের শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের শারীরিক অন্য কোন সমস্যা আছে তাদের জন্য বিপদজনক। একটি গবেষণায় পড়েছি এই করোনা ভাইরাসটির নতুন রুপই হচ্ছে কভিড- ১৯।দীর্ঘদিন ধরেই এই ভাইরাস মানুষের দেহে বিরাজ করছে যার উপসর্গ হয় জ্বর,সর্দি-কাশি।গবেষণার প্রতিবেদনে আরো বলা হয় পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষেরই একবার হলেও করোনা হয়েছে জ্বর, ঠাণ্ডাগরম, সর্দি-কাশি মাধ্যমে। আর এই ভাইরাসের পরবর্তিত রুপ হল কভিড১৯। যার উপসর্গ জ্বর,সর্দি,কাশি,ঠান্ডা সাথে শ্বাসকষ্ট রয়েছে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা কিছুদিন আগে এক বিবৃতিতে বলেছে হয়ত এই ভাইরাস নির্মূল করা প্রায় অসম্ভব। তাই এই পরিস্থিতির সাথে আমাদের তাল মিলিয়ে চলতে হবে।আর আমাদেরকে অবশ্যই সচেতনতার সাথে চলতে হবে।যত বেশি অসচেতন হবে ততবেশি আমরা আক্রান্ত হবো। তাই পরিস্থিতি মোকাবেলা য় সকলকে নিয়মিত  স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। হ্যা আমাদের পড়াশোনা ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।কিন্তু আমি মনে করি যেখানে টিকে থাকাটাই আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ সেখানে এই ক্ষতি কিছুই নয়।কারন যুগে যুগে ঠিকে থাকার জন্য মানুষকে প্রতিদান দিতে হয়েছে আর মানুষ সেই ক্ষতি পুশিয়ে নিয়েছে। তাই চেষ্টা করলে আমরা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবো।

আমাদের দোহার-নবাবগঞ্জের মানুষের অসচেতনতার জন্য দুই উপজেলার প্রায় ৫ লাখ মানুষ ঝুকিতে আছে। এরই মধ্যে আক্রান্ত প্রায় তিন শতাধিক যা দেশের ৪২ টি জেলার থেকেও বেশি। দায়িত্ব শুধু সরকারের নয় আমাদের নাগরিক হিসেবেও অনেক দায়িত্ব আছে। যা পালন করিনি বলেই আমাদের এই দশা। আশাকরি আমাদের সচেতনতা পারে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে।

মোঃমিথুন হোসেন জয়

সভাপতি

দোহার-নবাবগঞ্জ ছাত্রকল্যাণ পরিষদ,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

দোহারে মাস্ক না পরে বাইরে আসায় ৮ জনকে জরিমানা

করোনা পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটি শেষে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসছে। স্বাস্থ্যবিধি মানা সাপেক্ষে শুরু হয়েছে চলাচল। খুলেছে মার্কেট, দোকান-পাট। কিন্তু সবখানে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি। নাগরিকদের মধ্যে মাস্ক, গ্লাভস পরার প্রবণতাও খুবই কম।
রবিবার (৭ জুন) দোহার উপজেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সামাজিক দুরত্ব বজায় ও স্বাস্থ্য বিধি মানাতে মোবাইল কোর্ট ও জনসচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়। নূন্যতম স্বাস্থ্যবিধি না মান্য করার অপরাধে ৮ জন কে দুই হাজার একশত টাকা অর্থদন্ড প্রদান ও সতর্ক করা হয়।
সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতেই দোহার উপজেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে। এজন্য সবাইকে করোনা সংক্রমণ থেকে বাচঁতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হয়।
সে সময় জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মানুষকে বাঁচাতে এবং সচেতন করতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সে সময় তাকে সহযোগিতা করেন দোহার থানা পুলিশ প্রশাসন।

নবাবগঞ্জের করোনা সনাক্ত নমুনা সংগ্রহকারী দুই টিমের এক টিম করোনা আক্রান্ত

সারাদেশের মতো করোনায় বিপর্যস্ত ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলা। প্রবাসী অধ্যুষিত এই উপজেলায় প্রতিদিনই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। সারা নবাবগঞ্জে করোনা স্যাম্পল সংগ্রহের জন্য নবাবগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুইটি টিম কাজ করতো। এই দুই টিমের মাঝে এক টিম ইতিমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। নবাবগঞ্জ উপজেলা করোনা ইউনিটের ফোকাল পার্সন ডা হরগোবিন্দ সরকার অনুপ নিউজ৩৯ এর কাছে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সারা দেশের ৪০তি জেলাকে করোনা রোগীর সংখ্যায় পিছনে ফেলেছে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা। নবাবগঞ্জ উপজেলা করোনা ইউনিটের ফোকাল পার্সন ডা হরগোবিন্দ সরকার অনুপের পরিচালনায় প্রতিদিনই নবাবগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নমুনা সংগ্রহ করা হত। নবাবগঞ্জ উপজেলায় দুইটা টিম কাজ করতো। এর মাঝে এই দুই টিমের এক টিম করোনায় সংক্রমিত হয়েছে। ফলে আপাত দৃষ্টিতে ১৪ দিনের জন্য করোনা নমুনা সংগ্রহ করা ত্যহেকে বিরত থাকবে এই টিম। একই সাথে অপর তিমের কিছু সদস্য অসুস্থ বোধ করায় তাদের এক দিনের ছুটি দেয়া হয়েছে। ফলে শনিবার দিন নবাবগঞ্জ উপজেলায় নতুন করে কোন নমুনা সংগ্রহ করা হয় নি। ফলে করোনা নমুনা সংগ্রহে নবাবগঞ্জ উপজেলায় সংকট দেখা দিয়েছে।

নবাবগঞ্জে বিয়ে পড়িয়ে দেয়ার কথা বলে গণধর্ষণ সংবাদ নিয়ে শিকারীপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের প্রতিবাদ

৫ জুন ২০২০ তারিখে নিউজ৩৯ এ প্রকাশিত নবাবগঞ্জে বিয়ে পড়িয়ে দেয়ার কথা বলে গণধর্ষণ সংবাদের একাংশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিকারীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলীমোর রহমান খান পিয়ারা।

প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, এই ঘটনার সাথে আমি কোন ভাবেই জরিত না। একজন শহীদ পরিবারের সন্তান হিসাবে, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে, একজন চেয়ারম্যান হিসাবে কোন ধরনের অন্যায় ও অপকর্মের সাথে আমার বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা নেই। এই ঘটনার ব্যাপারে আমি বিন্দুমাত্র কিছু জানি না। আমার কাছে কেউ বিচার চাইতে আসে নি, আমিও কারো বিচারে যাই নি। রিপোর্টের একাংশে  বলা হয়েছে, আমি নাকি এই ঘটনায় জড়িত একজনকে ছাড়িয়ে নিয়ে এসেছি। অথচ যেই ব্যাপারটা সম্পর্কে আমি জানি না, সেখানে আমি আরেকজনকে পুলিশের হাত থেকে ছাড়িয়ে আনতে কেন যাব। আমার ব্যাপারে শিকারীপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কথিত সভাপতি বলেছেন আমি নাকি এই ঘটনার সাথে যারা জরিত তাদের আশ্রয় ও প্রশ্রয় দেই। আমি নাকি তাদের যাবতীয় অপকর্মের মদদদাতা। অথচ আমার বাবা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্থান ক্যাম্পে নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুবরন করেন, আমি মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ি। শিকারীপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসাবে আমি দায়িত্ব পালন কালে আমার বিরুদ্ধে কেউ দুই টাকার দূর্নীতির অভিযোগ আনতে পারে নি অথচ উনি আমাকে কেন্দ্র করে অনেকগুলো মিথ্যা অপবাদ দিয়েছেন। উনি নিজেকে আওয়ামী লীগের দাবি করেন, অথচ বিগত নির্বাচনগুলোতে উনাকে আওয়ামী বিরোধী শিবিরেই বেশি দেখা গেছে। উনি নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করে কিছুদিন আগে বহিস্কৃতও হয়েছিলেন। উনি সাধারন ক্ষমার আওতায় বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সংযুক্ত আছেন। উনি এর আগেও আমার সাথে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন, আমি শিকারীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। গতবার আমি নৌকা প্রতিক নিয়ে উনার বিরুদ্ধে নির্বাচন করে জয়লাভ করি। আমার ব্যক্তি জনপ্রিয়তায় ঈর্ষার শিকার হয়ে তিনি আমার বিরুদ্ধে এই সব কথা বার্তা বলেছেন। আমার সাথে কোন খারাপ লোকের সম্পর্ক নেই, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকার কারনে আমার কাছে সব ধরনের লোকই আসে। আমি যাচাই বাছাই করে তাক্রপর সব ধরনের সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু উনি চলাফেরাই করেন এলাকার বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী এদের সাথে। ফলে এলাকার মানুষের কাছে উনি এমনিতেই অজনপ্রিয় ব্যক্তি। এখন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বলে উনি কিছু সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে চান। যা শিকারীপাড়ার সাধারন মানুষ বুঝে। আর করোনা মহামারীর এই পরিস্থিতিতে উনি আমাকে নিয়ে যে মিথ্যা ও অনৈতিক মন্তব্য করেছেন আমি তার প্রতিবাদ জানাই এবং নবাবগঞ্জে বিয়ে পড়িয়ে দেয়ার কথা বলে গণধর্ষণ  সংবাদে আমাকে জড়িয়ে যে নিউজ করা হয়েছে আমি তার আমার অংশের সংবাদের প্রতিবাদ জানাই।

দোহারের বিদায়ী ইউএনও এর সাথে নিউজ৩৯ এর বিদায়ী সাক্ষাৎ

দোহারের সদ্য বিদায়ী ইউএনও আফরোজা আক্তার রিবার সাথে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছে নিউজ৩৯ পরিবার। আজ দুপুর ১ টার দিকে তার সাথে এই বিদায়ী সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এই সময় দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানায় নিউজ৩৯ পরিবার। এই সময় নিউজ৩৯ এর সম্পাদক ও দোহার নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্টের সভাপতি তারেক রাজিবের নেতৃত্বে নিউজ৩৯ পরিবার তাকে ফুলেল বিদায়ী শুভেচ্ছা জানায়। এই সময় উপস্থিত ছিলেন নিউজ৩৯ এর চিফ রিপোর্টার আছিফুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার শরিফ হাসান, স্টাফ রিপোর্টার তৌহিদুল ইসলাম। এই সময় দোহারে থাকার সময় দোহারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিউজ৩৯ এর সাথে আফরোজা আক্তার রিবার খোলামেলা আলোচনা হয়। এবং করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের যাবতীয় কার্জক্রম বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
উল্লেখ্য; আফরোজা আক্তার রিবা গাজীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (জুন ৪) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারি সচিব এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেন। আফরোজা আক্তার রিবা এর আগে ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হয়েছেন।

করোনায় মারা গেলেন রেমেন্টেন্স যোদ্ধা বিলাশপুরের সোহেল

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের সৌদি প্রবাসী মো সোহেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরন করেছেন। তিনি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের গেদিম নামক স্থানে মারা যান। মৃত সোহেলের বাড়ি  বিলাসপুর ইউনিয়নের রামনাথপুর গ্রামের সিদ্দিক আকনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে সে পাঁচ বছর আগে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিল। কিছুদিন আগে সে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। শুক্রবার (৫ জুন) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টার দিকে সোহেলের মৃত্যু হয়। লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে কিনা এ বিষয়ে সুষ্পষ্ট কিছু জানাতে পারেনি তার পরিবার।

করোনা উপসর্গ নিয়ে নবাবগঞ্জে দুই বৃদ্ধের মৃত্যু

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার বাহ্রা ও শোল্লা ইউনিয়নে করোনা উপসর্গ নিয়ে দুই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলো- নবাবগঞ্জ উপজেলার বাহ্রা ইউনিয়নের বলমন্তচর গ্রামের এক বৃদ্ধ (৬৭)। অপরবৃদ্ধা (৬০) শোল্লা ইউনিয়নের সিংহড়া নয়াবাড়ির বাসিন্দা।

নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য  কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. হরগোবিন্দ সরকার অনুপ মঙ্গলবার রাতে জানান, ওই দুই বৃদ্ধ কয়েকদিন ধরে জ্বর, ঠান্ডা ও কাশি-সহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। বাহ্রা ইউনিয়নের বৃদ্ধ মঙ্গলবার সকালে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত ওই বৃদ্ধের লাশ স্থানীয় কবরস্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিয়মানুযায়ী  লাশ দাফন করা হয়েছে। বাহ্রা ইউনিয়নের নিহত ওই বৃদ্ধের ছেলে করোনায় আক্রান্ত। তাকে তার নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

শোল্লা ইউনিয়নের বৃদ্ধ করোনার উপসর্গ নিয়ে সোমবার রাতে তার নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করে। শোল্লা ইউনিয়নের নিহত ওই বৃদ্ধের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কোনো উপসর্গ দেখা দিলে তাদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। শোল্লায় করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করা ব্যক্তিকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান তুহিনুর রহমান তুহিনের সহযোগিতা দাফন করা হয়েছে।

তরুনদের ভাবনাঃ সচেতনার বিকল্প নেই

covid-19 এর উৎপত্তি স্থান চীনের উহান প্রদেশে ৭৫ দিনের মাথায় লকডাউন তোলে দেওয়া হয়েছিল এবং এখন পর্যন্ত সেই ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে না। নতুন সংক্রামিতের সংখ্যা খুবই নগণ্য। কিন্তু আমাদের রাষ্ট্রের চিত্র বিপরীত ৭৫ তম দিনের পর থেকে রেকর্ড সংখ্যক হারে আক্রান্ত হচ্ছে মৃত্যুর সংখ্যাও খুব বৃদ্ধি পাচ্ছে।এর কারন হিসেবে উল্লেখ্য বাংলাদেশে কখনোই লকডাউন ছিল না।লকডাউন নামে চলছে কিছু বিনোদন। আর বর্তমান অবস্তার কথা বলতে গেলে বলা যায় যে, একটা নৌকায় পানি ভর্তি করে যত্রিদের ভাসিয়ে দেওয়ার পর মাঝ নদিতে যাওয়ার পর বলা হয় যদি এটা একটা এক্সপেরিমেন্ট ছিল।এখন কার অবস্তাও তাই ১৫ দিনের এক্সপেরিমেন্ট পরে যদি আবার লকডাউন করা হয় তখন আর কোন লাভ হবে না বরঞ্চ প্রতি ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে করোনাভাইরাস। অথচ যদি ১ম ২১ দিন কঠিন লকডাউন দেওয়া হতো তাহলে এখন হয়তো বা স্কুলকলেজ গুলা খোলে দেওয়া যেতে পারতো।আমি কাউকে দোষ দিচ্ছি না দোষ দেওয়ার সময়ও এখন নাই শুধু মাত্র নিজেদের যোগ্যতা প্রকাশ হয়ে গেল।একজন তরুণ হিসেবে আমি দোহার-নবাবগঞ্জ নিয়ে বলতে পারি আগামিতে আক্রান্তের সংখ্যা আরো বাড়বে কিন্তু বিচলিত বা আতংকিত হওয়া যাবে না।এখন পর্যন্ত সারাদেশে দৈনিক করোনা রোগীর চাইতে স্ট্রোকের রোগী বেশি মারা যাচ্ছেন।আমরা দেখেছি স্ট্রোক থেকে বাচার জন্য আমারা অনেক অভ্যাস পরিবর্তন করেছি স্বাভাবিক ভাবে পুরাতন অভ্যাস ত্যাগ করতে পারলে নতুন কিছু অভ্যাসের দেখা দেয়।তাই এখন সময় হয়েছে করোনাভাইরাসকে মানিয়ে চলার বিশ্বের বেশ কিছু উন্নত রাষ্ট্র এই কাজটা করছে।এর জন্য শুধু আমাদের দরকার কিছু নতুন অভ্যাস তৈরি করা। যেমন:নিয়মিত হাত ধৌত করা,সামাজিক দূরত্ব বজায় চলা,ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা,অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়া ইত্যাদি।এখন করোনাভাইরাস কে মানিয়ে চলার চাইতে আর কোন পথ আমাদের জানা নাই।বেশি বেশি ঘরে থাকার অভ্যাস গড়ার জন্য বেশি বেশি বই পড়ার অভ্যাস গড়তে হবে।আর এইটা হলো বই পড়ার উত্তম সময়।পাঠ্যবই বাদদিয়েও প্রয়োজনে গল্পের বই পড়তে হবে।কেননা যখন লকডাউনের চলে যাবে তখন আমমাদের অনেকে বিভিন্ন বইএর রিভিও দিবেন।তখন নিজেকে যেন মনে না হয়, আমি কি করলাম? এই জন্য আমি অনুরোধ করব সেই সকল সামাজিক সংগঠন গুলাকে যারা খাদ্যের চাহিদা পূরণের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে ঘরে ঘরে খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা যেন একটা উদ্যোগ গ্রহণ করেন যে ঘরে ঘরে চাহিদা মত বই পৌঁছে দিবেন।প্রয়োজনবোধে বাণিজ্যিক ভাবে বই পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে।কেননা খাদ্য মানুষের দেহকে জীবিত রাখে আর বই মানুষের আত্মাকে জীবিত রাখে।১৯৯৮ সালের বন্যার সময় যখন লক্ষ লক্ষ মানুষ অসহায় হয়ে গিয়েছিল তখন স্বাধীনতাউত্তর শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদ আহমদ ছফা আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে খাদ্যের পাশাপাশি বাচ্চাদের জন্য অস্থায়ী স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন

সভাপতি

রেনেসাঁ (একটি সামাজিক উন্নয়ন মূলক প্রতিষ্ঠান)

করোনার ভয় মাকে সন্তান থেকে আলাদা করতে পারেনি

নম্রতা হালদার। একটি নিষ্পাপ শিশু। আক্রান্ত হওয়ার মাত্র ৪৭ দিন আগে পৃথিবীতে আগমন ঘটে তার। আদর ভালবাসা আর হাসি খুশিতে পিতা রামানন্দ হালদার ও মাতা লিপি হালদারের দিন যাচ্ছিল। এক ছেলে আর এক মেয়েকে নিয়ে পরিবারে সুখের কমতি ছিল না। সবাই আদর সোহাগ করতো মেয়ে নম্রতা হালদারকে। আত্বীয় স্বজন যে দেখে সেই দু’হাত বাড়িয়ে দেয়। মেয়েটিও কোলে উঠে।
মা লিপি বেগম মহামারি করোনার এই সময়ে বাইরের কারো কাছে মা সন্তানকে দিতেন না। কিন্তু কাছের আত্বীয় স্বজন, পরিবারের লোকজনকে তো কেউ বারণ করেনা। পরিবারের চাচা, চাচাতো বোন, চাচাতো ভাই যারাই সময় সুযোগ পেতো তারাই শিশুটিকে কোলে নিতো। এরই মধ্যে চাচা ঠেলা রাম হালদার ডায়বেটিকসের রোগী হওয়ায় অসুস্থ বোধ করেন। কারো সাহায্য ছাড়া বাইরে যেতে পারেন না। করোনা আতংক ভর করে তারমধ্যে। এরই মধ্যে একদিন তাদের এলাকায় করোনা টেস্ট করার জন্য নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মেডিকেল টিম আসে। করোনার উপসর্গ না থাকা স্বত্ত্বেও চাচা ঠেলা রাম সরদার, শিশুটির পিতা, মাতা, ভাই, চাচাতো বোনসহ পরিবারের ১৩ জনকে করোনার টেস্ট করানো হয়। টেস্টে ৩ জনের করোনা পজিটিভ আসে। এরা হলো চাচা ঠেলা রাম হালদার (৬০), শিশুটির চাচাতো বোন সদ্য এসএসসি পাশ করা অথৈ হালদার (১৬) ও শিশু নম্রতা হালদার। এদের মধ্যে ঠেলা রাম হালদার যেহেতু আগে থেকেই ডায়বেটিকস ও বয়স্ক জনিত রোগ ছিল, তাই তাকে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেয়া হয়। বর্তমানে তার অবস্থা কিছুটা ভালো বলে জানা গেছে। এছাড়া, শিশু নম্রতা ও অথৈ হালদার দু’জনেই ভালো আছেন। তাদের মধ্যে আগেও কোনো উপসর্গ ছিল না, এখনো কোনো উপসর্গ নেই। তারা দিব্যি সুস্থ্য আছেন, ভালো আছেন। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে মা বাবা দু’জনের করোনা টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।
পৃথিবীর সব ভালবাসায় খাদ থাকলেও মায়ের ভালবাসায় কোনো খাদ নেই। করোনার ভয়ে পুরো পৃথিবীর মানুষ যখন আতঙ্কিত, শরীরে করোনার উপসর্গও নেই, তারপরেও করোনা সন্দেহে অনেকের রাত কাটে মৃত্যু যন্ত্রনায়। এই যখন পুরো পৃথিবীর মানুষের অবস্থা, তখন ব্যতিক্রমী এক ঘটনা ঘটেছে নবাবগঞ্জ উপজেলা। গত কয়েকদিন আগে করোনায় আক্রান্ত হয় ৪৭ দিনের এই কন্যা শিশু নম্রতা হালদার। শিশুটির যখন করোনা টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসে, তখন শিশুটিকে কীভাবে চিকিৎসা দেয়া যায়, তা ভাবতে শুরু করেন চিকিৎসকরা। পরে সিদ্ধান্ত হয় শিশুটিকে বাসায় রেখে চিকিৎসা দেয়া হবে। কিন্তু ৪৭ দিনের শিশুকে তো আর একা রাখা যায় না। চিকিৎসকদের সামনে এসে, শিশুটির মা দৃঢ় চিত্তে বলেন, কে থাকবে আবার? আমি থাকবো, আমার সন্তানের সঙ্গে। দীর্ঘ দশ মাস সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেছি। আমার রক্ত পান করে ধীরে ধীরে বড় হয়েছে। এরপর আমার কলিজা ছেড়া ধনটি পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হয়েছে। সন্তানই যদি না বাঁচে, তাহলে আমার বেঁচে থেকে লাভ কী? সন্তানকে আমার কাছে রেখেই চিকিৎসা করাবো। এতে যদি আমার করোনা হয়, হবে। সন্তানের জন্য মৃত্যুবরণ করা লাগলে, মৃত্যুবরণ করবো। মায়ের কথা মতো বাসায় মায়ের কাছে রেখেই চলছে শিশুটির চিকিৎসা। শিশুটি আক্রান্ত হলেও পিতা মাতা দুজনে সুস্থ্য থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে নানা কৌতূহল কাজ করছে।
এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা কন্ট্রোল কর্নারের ফোকাল পারর্সন ডা. হরগোবিন্দ্র সরকার অনুপ নিউজ৩৯ কে বলেন, বেশ কয়েকদিন আগে নতুন বান্দুরায় করোনা সন্দেহ ভাজনদের টেস্ট করার জন্য মেডিকেল ক্যাম্প করি। এ সময় ওই পরিবারের ১৩জনসহ এলাকার প্রায় ৪৫ জনের করোনা টেস্ট করা হয়। তিনদিন পর ঢাকা থেকে রিপোর্ট আসে শিশু, শিশুর চাচাতো বোন ও শিশুর চাচাসহ নতুন বান্দুরা এলাকার ২০ জন করোনা আক্রান্ত। শিশুটিকে বাসায় রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বর্তমানে শিশুটির অবস্থা ভালো।

দোহারের মৌড়া স্কুল এখন ধানের আখরা, নানা অনিয়মের অভিযোগ

ঢাকার দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নে অবস্থিত মৌড়া এমদাদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়। করোনা ভাইরাসের কারনে বর্তমানে সারা দেশের দোহারের সকল শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে সাথে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ রয়েছে।
শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও থেমে নেই মৌড়া স্কুলে ধান শিদ্ধ করা, শুকানো সহ নানা ক্ষতিকারক কর্মকান্ড।
জানা যায়, স্কুল পাহাড়া দেওয়ার নাম করে স্কুলের রুমের ভিতরে ধান রাখা শিদ্ধ করা ও শুকানো হচ্ছে। এছাড়াও স্কুলের বিদ্যুৎ অপচয় করে এ ধরনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে স্কুলের পাহাড়াদার তোতা মাঝি। নিজের বাড়ির মত স্কুলেই যাবতীয় কাজ করে যাচ্ছে তিনি। পাহাড়া দেওয়ার নাম করে স্কুলের সম্পদ অপচয় করছে বলে জানায় উক্ত অঞ্চলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি।
স্কুলের এই ধরনের নেতিবাচক কর্মকান্ডের সুষ্ঠু সমাধান চায় এলাকাবাসী।